ফিকহুস সুন্নাহ – সূচিপত্র [সাইয়্যেদ সাবেক ]

ফিকহুস্ সুন্নাহ – এই কন্টেন্ট এর বিষয়ে আপনার কোন অভিযোগ থাকলে আমাদের Disclaimer টি আগে পড়ে নিন। কন্টেন্ট শুরু:

ফিকহুস সুন্নাহ -সূচিপত্র [ ১ম খন্ড]

আমাদের কথা [ এই আর্টিকেলের নিচে দেখুন ]
শহীদ ইমাম হাসান আল বান্নার ভূমিকা [ এই আর্টিকেলের নিচে দেখুন ]
গ্রন্থকারের কথা [ [ এই আর্টিকেলের নিচে দেখুন ]

ফিকহুস্ সুন্নাহ - Fiqh al-Sunnah
Fiqh al-Sunnah

ফিকহুস সুন্নাহ – সূচনাপত্র: রিসালাত এবং রিসালাতের সার্বজনীনতা ও উদ্দেশ্য

ফিকহুস সুন্নাহ – প্রথম অধ্যায়: তহারাত (পবিত্রতা অর্জন)

১. পবিত্রতা অর্জনের জন্যে পানি ব্যবহার এবং পানির প্রকারভেদ

২. নাপাকি এবং নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জনের উপায়

৩. প্রকৃতিগত সুন্নতসমূহ

8. অযু

১. অযুর শরয়ী প্রমাণ

২. অযুর মর্যাদা ও গুরুত্ব

৩. অযুর ফরযসমূহ

৪. অযুর সুন্নতসমূহ

৫. অযুর মাকরূহসমূহ

৬. অযু ভংগের কারণসমূহ ৭. যে সমস্ত কারণে অযু ভংগ হয়না

২৮. যেসব কাজে অযু জরুরি

৯. যেসব অবস্থায় অযু করা মুস্তাহাব ১০. অযু সংক্রান্ত কতিপয় জরুরি জ্ঞাতব্য

৫. মোজার উপর মাসেহ করা

১. এর শরয়ী প্রমাণ

২. চামড়ার মোজার উপর মাসেহর বৈধতা

বিষয়

৩. মোজা ইত্যাদির উপর মাসেহর শর্তাবলী

৪. মাসেহ্র স্থান

৫. মাসের মেয়াদ ৬ মাসের নিয়ম

৭. মাসেহ্ যে কারণে বাতিল হয়

গোসল

১. যেসব কারণে গোসল ওয়াজিব হয়

২. জুনুবির জন্যে যেসব কাজ নিষেধ ৩. মুস্তাহাব গোসল

৪. গোসলের আরকান

৫. গোসলের সুন্নতসমূহ ৬. মহিলাদের গোসল

৭. গোসল সংক্রান্ত কতিপয় মাসায়েল

৭. তাইয়াম্মুম

১. তাইয়াম্মুমের সংজ্ঞা

২. শরিয়তে তাইয়াম্মুমের বৈধতা

৩. এটা উম্মতে মুহাম্মদীর একটি বিশেষত্ব ৪. তাইয়াম্মুম শরিয়তে বিধিবদ্ধ হবার কারণ

৫. যে সকল কারণে তাইয়াম্মুম বৈধ ৬. কোন্ মাটি দিয়ে তাইয়াম্মুম করতে হয়?

৭. তাইয়াম্মুমের পদ্ধতি

৮. তাইয়াম্মুম দ্বারা কী কী কাজ করা বৈধ হয়?

৯. তাইয়াম্মুম ভংগের কারণসমূহ ৮. পট্টি বা ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ্

১. পট্টি বা ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ্র বৈধতা

২. মাসেহ্র বিধি

৩. মাসেহ্ করা কখন ওয়াজিব

৪. যেসব কারণে মাসেহ্ বাতিল হয়

যে পবিত্র হবার জন্যে পানি বা মাটি পায়না সে কিভাবে নামায পড়বে?

১০. হায়েয (ঋতুস্রাব)

১. হায়েযের সংজ্ঞা

২. হায়েযের জন্যে বয়সকাল

৩. হায়েযের রক্তের বর্ণ ৪. হায়েযের মুদ্দত

৫. দুই হায়েযের মাঝে পবিত্রাবস্থার মেয়াদ ১১. নিফাস (প্রসবোত্তর রক্তস্রাব)

১. নিফাসের সংজ্ঞা ২. নিফাসের মেয়াদ

১২. ঋতুবর্তী ও নিফাসগ্রস্ত মহিলাদের জন্য যা যা নিষিদ্ধ ১৩. ইস্তেহাযা (রোগজনিত রক্তস্রাব)

 

শহীদ ইমাম হাসান আল বান্নার ভূমিকা

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার। আর সালাত ও সালাম আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর অনুসারীদের ও সাহাবাদের প্রতি।

وما كان المؤمنون لينفروا كافة، فلولا نفر من كل فرقة طائفة منهر ليتفقهوا في الزين، ولينذروا قومهم إذا رجعوا إليمر لعلهم يحذرون.

অর্থ মুমিনদের সকলের এক সাথে বের হওয়া জরুরি ছিলনা। কিন্তু কতোই না ভালো হতো যদি তাদের প্রত্যেক গোষ্ঠী থেকে একটা দল অন্তত বেরিয়ে আসতো, তারা দীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতো এবং ফিরে এসে নিজ নিজ কওমের মানুষকে সতর্ক করতো, যাতে তারা সতর্ক হয়। (সূরা ৯, আত্-তাওবা : আয়াত ১২২)

মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায় হলো ইসলামের জ্ঞান ও দাওয়াতের প্রসার ঘটানো, সেই সাথে ইসলামী বিধিমালা বিশেষত, ফিকহী বিধিমালার প্রসার ঘটানো, যাতে করে সর্বস্তরের জনগণ তাদের ইবাদত ও আমল সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান লাভ করতে পারে। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন :

“আল্লাহ তায়ালা যার কল্যাণ চান, তাকে দীনের গভীর জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেন। শিক্ষার মাধ্যমেই জ্ঞান অর্জন করা যায়। নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) দুনিয়ায় টাকা কড়ি রেখে যাননি, তাঁরা রেখে গেছেন শুধু দীনের জ্ঞান। এই জ্ঞান যে অর্জন করবে তার তা প্রচুর পরিমাণেই অর্জন করা উচিত।”

ইসলামী ফিক্হ, বিশেষত ইবাদত সংক্রান্ত বিধিমালা এবং সর্বস্তরের মুসলমানদের জন্য উপস্থাপিত সাধারণ ইসলামী বিষয়সমূহ অধ্যয়নের সবচেয়ে সরল, উপকারী, হৃদয়গ্রাহী ও মনমগজ আকৃষ্টকারী পদ্ধতি হলো, ফিকহকে নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় ও বিদ্যাগত পরিভাষা ও কল্পিত খুঁটিনাটি বিধিসমূহ থেকে মুক্ত রাখা।

সেই সাথে ফিক্‌হকে যতোদূর সম্ভব সহজভাবে কুরআন ও সুন্নাহর উৎসসমূহের সাথে সম্পৃক্ত করা এবং যতোটা সুযোগ পাওয়া যায় ইসলামের যৌক্তিকতা ও কল্যাণময় দিকগুলো সম্পর্কে পাঠককে সচেতন করা, যাতে করে ফিক্হ অধ্যয়নকারীগণ উপলব্ধি করতে পারেন যে, এই অধ্যয়ন দ্বারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সৃষ্টি হতে যাচ্ছে এবং এতে দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের প্রভূত কল্যাণ সাধিত হবে। ইসলামের অধিকতর জ্ঞান অর্জনে এটা তাদের সবচেয়ে বেশি উৎসাহ যোগাবে।

আল্লাহ তায়ালা বিশিষ্ট প্রবীণ আলেম আল উস্তায সাইয়্যেদ সাবিককে এই পথে পদচারণার প্রেরণা ও তৌফিক দান করেছেন। তাই তিনি উৎসের সহজ ও সাবলীল উল্লেখসহ বিপুল তত্ত্ব ও তথ্য সম্বলিত এই গ্রন্থখানি রচনা করেছেন এবং এতে অতীব সুন্দর পদ্ধতিতে ফিক্‌হী বিধিসমূহ বিশ্লেষণ করেছেন। আল্লাহ চাহেন তো এর দ্বারা তিনি আল্লাহর কাছ থেকে যেমন উত্তম প্রতিদান লাভ করবেন, তেমনি ইসলামকে নিয়ে গর্ববোধকারী সারা বিশ্বের মুসলিম জনতাকেও করতে পারবেন অভিভূত।

দীন ও উম্মতের প্রতি তাঁর এই সুমহান কীর্তি এবং দীনের দাওয়াতে তাঁর এই মূল্যবান অবদানের জন্য আল্লাহ তাঁকে যথোচিতভাবে পুরস্কৃত করুন, তাঁর দ্বারা মানুষকে উপকৃত করুন এবং তাঁর হাত দিয়ে তাঁর নিজের ও জনগণের কল্যাণ সাধন করুন।

আমীন।
হাসান আল বান্না

লেখক, ফিকহুস সুন্নাহ

গ্রন্থকারের কথা

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

আল্লাহর জন্য প্রশংসা। সালাত সালাম আমাদের নেতা মুহাম্মদ সা.-এর প্রতি, যিনি পূর্ব ও প্রজন্মের সমগ্র মানব জাতির নেতা। আর তাঁর অনুসারী সাহাবিদের প্রতি কেয়ামত পর্যন্ত যতো লোক তার আদর্শ অনুসরণ করবে তাদের প্রতি ক্ষমা ও শান্তি বর্ষিত হোক।

বিধিমালা সম্বলিত। সেই সাথে রয়েছে উক্ত বিধিমালার পক্ষে কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত প্রমাণসমূহ, সহীহ হাদিসসমূহ উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তসমূহ। সাথে অত্যন্ত সহজ সাবলীল ভংগিতে বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে মুসলমানদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ। সাধারণভাবে মতভেদ বর্ণনা থেকে বিরত থাকার নীতি অবলম্বন করা হলেও যেখানে সহজবোধ্য মনে হয়েছে, উল্লেখ করা হয়েছে।

এভাবে গ্রন্থখানি সবার সামনে রসূলুল্লাহ সা. আনীত ইসলামী ফিক্‌হের প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরেছে, আল্লাহ তাঁর রসূলের বিধান সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধির পথ মানুষের সামনে উন্মুক্ত করেছে, মাযহাবী বিদ্বেষ কোন্দল নামক জঘন্য বিদ’আতকে পরিহার করেছে এবং ইজতিহাদ (কুরআন সুন্নাহ নিয়ে চিন্তা গবেষণা)-এর দ্বার রুদ্ধ হয়ে গেছে- এই উদ্ভট খণ্ডণ করেছে।

এই প্রচেষ্টা দ্বারা আমাদের দীনের খিদমত করা আমাদের ভাইদের সেবা ও উপকার করাই আমার উদ্দেশ্য। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেনো এ গ্রন্থ দ্বারা যথার্থভাবেই মানুষের উপকার কল্যাণ সাধন করেন এবং আমাদের এ কাজকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিবেদিত হিসেবে কবুল করেন। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম

সাইয়্যেদ সাবেক
১৩৬৫ হিজরী

গ্রন্থাকার, ফিকহুস সুন্নাহ

 

আমাদের কথা [ প্রকাশকের কথা ]

আমাদের স্রষ্টা, প্রতিপালক ও প্রভু মহান আল্লাহই সমস্ত প্রশংসার মালিক। আমাদের প্রতি তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ সীমাহীন অবারিত। সালাত ও সালাম আমাদের নেতা ও পথ প্রদর্শক আখেরি নবী মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ সা.-এর প্রতি।

মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী রিসার্চ একাডেমী আধুনিক কালের প্রখ্যাত ফকীহ্ ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ আল উস্তায সাইয়্যেদ সাবেক প্রণীত ফিকহুস সুন্নাহ গ্রন্থখানি আরবি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ ও সম্পাদনা শেষ করে বাংলাভাষী পাঠকগণের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করতে যাচ্ছে । গ্রন্থটি তিন খণ্ডে প্রকাশিত হবে ইনশাল্লাহ ।

এ গ্রন্থটি ফিক্হ শাস্ত্রের এক অমর কীর্তি। শহীদ হাসানুল বান্নার অনুরোধ, উৎসাহ ও পরামর্শে আল উস্তায সাইয়্যেদ সাবেক গ্রন্থটি প্রণয়ন করেন। গ্রন্থখানি আধুনিক বিশ্বে ইসলামের অনুসারী (practicing muslim) শিক্ষক ও ছাত্রদের গাইড বই।

ফিক্হ শাস্ত্রের ইতিহাসে এ গ্রন্থটি একটি মাইলস্টোন হয়ে থাকবে। এ যাবত সাধারণত মাযহাব ভিত্তিক ফিক্হ গ্রন্থাবলি রচিত হয়ে আসছে। কিন্তু এ গ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য সেসব গ্রন্থ থেকে ভিন্ন এবং উজ্জ্বল। সংক্ষেপে এ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:

০১. এটি কোনো মাযহাব ভিত্তিক ফিক্‌হ গ্রন্থ নয়।
০২. এটি দলিল ভিত্তিক ফিক্‌হ গ্রন্থ।
০৩. শরয়ী বিধি বিধান আলোচনার ক্ষেত্রে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট স্বব্যাখ্যাত আয়াতসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।

০৪. বিধান আলোচনার ক্ষেত্রে দ্বিতীয়ত রসূলুল্লাহ সা.-এর সংশ্লিষ্ট সুন্নাহ উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধৃত করা হয়েছে সে সংক্রান্ত হাদিস সমূহ।

০৫. সাহাবায়ে কিরামের আছার উল্লেখ করা হয়েছে।

০৬. ইজতিহাদ কিয়াস এবং ব্যাখ্যা সাপেক্ষ আয়াত ও হাদিসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাবেয়ী ও তাবে তাবেয়ী মুজতাহিদগণের ব্যাখ্যা ও মতামত উল্লেখ করা হয়েছে।
০৭. পরবর্তীকালের মুজতাহিদ ফকিহগণের মতামত উল্লেখ করা হয়েছে ।

০৮. বিভিন্ন মাযহাবের এবং মাযহাবের ইমামগণের মতামত উল্লেখ করা হয়েছে।
০৯. যেসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ও প্রাপ্ত হয়েছে, বিভিন্ন ইসলামী আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করা হয়েছে।
১০. কোথাও কোথাও অগ্রাধিকারযোগ্য মত ও পথের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

সার্বিক বিবেচনায় এই গ্রন্থখানা সাধারণ মুসলিম, আহলুল হাদিস, আহলুর রায় এবং বিভিন্ন মাযহাবের মুকাল্লিদ (অনুসারী) সকলের অনুসরণযোগ্য এক অসাধারণ গ্রন্থ।

ইসলামী শরিয়তের বিশুদ্ধ ও সঠিক অনুসরণের জন্যে সকল শিক্ষিত মুসলিমেরই গ্রন্থখানা পাঠ করা প্রয়োজন এবং সকলের ঘরে ঘরে থাকা প্রয়োজন মনে করছি।

এ গ্রন্থের অনুবাদ এবং মুদ্রণের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি যদি কারো নযরে আসে, তাহলে প্রকাশকের ঠিকানায় লিখিতভাবে কিংবা ফোন করে জানালে পরবর্তী মুদ্রণে সংশোধন করে নেয়া হবে ইনশাল্লাহ।

গ্রন্থখানি থেকে ইসলামের অনুসারিগণ উপকৃত হলেই সার্থক হবে আমাদের চিন্তা, পরিকল্পনা ও সার্বিক শ্রম। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা কবুল করুন।

আবদুস শহীদ নাসিম
পরিচালক সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী রিসার্চ একাডেমী ঢাকা
তারিখ : জানুয়ারি ১৯, ২০১০ ঈসায়ী

প্রকাশক : ফিকহুস সুন্নাহ

আরও পড়ুন:

সাব্বীর আলীর

 

“ফিকহুস সুন্নাহ – সূচিপত্র [সাইয়্যেদ সাবেক ]”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন