হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায়

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

Table of Contents

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪২৬ – হাদিয়া পাঠিয়ে কিংবা পাঠানোর ওয়াদা করে তা পৌছানোর আগেই মারা গেলে।

হাদীস নং ২৪২৬

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত ,তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, বাহরাইন থেকে মাল এসে পৌঁছলে তোমাকে আমি এভাবে তিনবার দিব, কিন্তু বাহরাইনের মাল আসার পূর্বেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হল।

পরে আবু বকর রা.-এর নির্দেশে জনৈক ঘোষক ঘোষণা দিল; নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে কারো জন্য কোন প্রতিশ্রুতি থাকলে কিংবা কারো কোন ঋণ থাকলে সে যেন আমার কাছে আসে।

এ ঘোষণা শুনে আমি তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, আমাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বাহরাইনের সম্পদ এলে কিছু) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তখন তিনি আমাকে অঞ্জলী ভরে তিনবার দান করলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪২৮ – হাদিয়া পাঠালে অপরজন গ্রহণ করলাম (একথা) না বলেই যদি তা নিজ অধিকারে নিয়ে নেয়।

হাদীস নং ২৪২৮

মুহাম্মদ ইবনে মাহবুব রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল এবং বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তা কি? সে বলল, রমাযানে (দিবাভাগে) আমি স্ত্রী সহবাস করেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি কোন গোলামের ব্যবস্থা করতে পারবে ?

সে বলল, না, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি একাধারে দু’মাস সিয়াম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে তুমি কি ষাটজন মিসকিনকে খাওয়াতে পারবে? সে বলল, না। বর্ণনাকারী বলেন, ইতিমধ্যে জনৈক আনসারী এক আরক খেজুর নিয়ে হাযির হল।

আরক হল নির্দিষ্ট মাপের খেজুর পাত্র। তখন তিনি বললেন, যাও, এটা নিয়ে গিয়ে সাদকা করে দাও। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাদের চেয়ে অধিক অভাবগ্রস্ত কাউকে সাদকা করে দিব?

যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, তাঁর কসম কংকরময় মরুভূমির মধ্যবর্তী স্থানে আমাদের চেয়ে অভাবগ্রস্ত কোন ঘর নেই । শেষে তিনি বললেন, আচ্ছা, যাও এবং তা তোমার পরিবার-পরিজনদের খাওয়াও।

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪২৯ – এক ব্যক্তির কাছে প্রাপ্য ঋণ অন্যকে দান করে দেওয়া।

হাদীস নং ২৪২৯

আবদান রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধে তাঁর পিতা শহীদ হলেন। পাওনাদাররা তাদের পাওনা আদায়ের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করল।

তখন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে হাযির হয়ে তাকে এ বিষয়ে বললাম। তখন তিনি তাদেরকে আমার বাগানের খেজুর নিয়ে আমার পিতাকে অব্যাহতি দিতে বললেন।

কিন্তু তারা অস্বীকার করল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বাগান তাদের দিলেন না এবং তাদের ফল কাটতেও দিলেন না। বরং তিনি বললেন, আগামীকাল ভোরে আমি তোমাদের কাছে যাব।

জারিব রা. বলেন, পরদিন ভোরে তিনি আমাদের কাছে আগমন করলেন এবং খেজুর বাগানে ঘুরে ঘুরে ফলের বরকতের জন্য দু’আ করলেন। এরপর আমি ফল কেটে এনে তাদের পাওনা পরিশোধ করলাম। তারপরও সেই ফলের কিছু অংশ রয়ে গেল।

পরে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হয়ে তাকে সে সম্পর্কে অবহিত করলাম। তখন তিনি বসা ছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরকে বললেন, শোন হে উমর ! তখন তিনিও সেখানে বসা ছিলেন।

উমর রা. বললেন, আমরা কি আগে থেকেই জানিনা যে, আপনি আল্লাহর রাসূল ? আল্লাহর কসম, নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল।

বুখারি হাদিস নং ২৪৪২

হাদীস নং ২৪৪২

আবু নুমান রহ……..আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (কোন এক সফরে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমরা একশ ত্রিশজন লোক ছিলাম।

সে সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন , তোমাদের কারো সাথে কি খাবার আছে ? দেখা গেল, এক ব্যক্তির সঙ্গে এক সা’ কিংবা তার কমবেশী পরিমাণ খাদ্য আছে। সে আটা গোলানো হল। তারপর দীর্ঘ দেহী এলোমেলো চুল বিশিষ্ট এক মুশরিক এক পাল বকরী হাকিয়ে নিয়ে এল।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, বিক্রি করবে, না উপতার দিবে? সে বলল, না, বরং বিক্রি করব। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছ থেকে একটা বকরী কিনে নিলেন।

সেটাকে যবেহ করা হল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরীর কলিজা ভুনা করার আদেশ দিলেন। আল্লাহর কসম ! একশ ত্রিশ জনের প্রত্যেককে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই কলিজার কিছু কিছু করে দিলেন।

যে উপস্থিত ছিল, তাকে হাতে দিলেন; আর যে অনুপস্থিত ছিল তার জন্য তুলে রাখলেন। তারপর দুটি পাত্রে তিনি গোশত ভাগ করে রাখলেন। সবাই তৃপ্তির সাথে খেলেন। আর উভয় পাত্রে কিছু উদ্ধৃত্ত থেকে গেল। সেগুলো আমরা উটের পিঠে উঠিয়ে নিলাম। অথবা রাবী যা বললেন।

বুখারি হাদিস নং ২৩৯৬ – হেবা ও তার ফযীলত এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান।

হাদীস নং ২৩৯৬

আসিম ইবনে আলী রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে মুসলিম মহিলাগণ ! কোন মহিলা প্রতিবেশীনী যেন অপর মহিলা প্রতিবেশীনী (প্রদত্ত হাদীয়া) তুচ্ছ মনে না করে, এমন কি তা স্বপ্ল গোশত বিশিষ্ট বকরীর হাড় হলেও।

বুখারি হাদিস নং ২৩৯৭

হাদীস নং ২৩৯৭

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ উওয়াসী রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি একবার উরওয়া রা.-কে লক্ষ্য করে বললেন, বোনপো। আমরা (মাসের) নতুন চাঁদ দেখতাম, আবার নতুন চাঁদ দেখতাম।

এভাবে দু’মাসে তিনটি নতুন চাঁদ দেখতাম। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন ঘরেই আগুন জ্বালানো হতো না। (উরওয়া রহ. বলেন) আমি জিজ্ঞাসা করলাম, খালা।

আপনারা তাহলে বেচে থাকতেন কিভাবে? তিনি বললেন, দুটি কালো জিনিস অর্থাৎ খেজুর আর পানিই শুধু আমাদের বাঁচিয়ে রাখত।

অবশ্য কয়েক ঘর আনসার পরিবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিবেশী ছিল। তাদের কিছু দুধালো উটনী ও বকরী ছিল। তাঁরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য দুধ হাদিয়া পাঠাত। তিনি আমাদের তা পান করতে দিতেন।

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৯৮ – সামান্য পরিমাণ হেবা করা।

হাদীস নং ২৩৯৮

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যদি আমকে হালাল পশুর পায়া বা হাতা খেতে আহবান করা হয়, তবু তা আমি গ্রহণ করব আর যদি আমকে পায়া বা হাতা হাদিয়া দেওয়া হয়, তবে আমি তা গ্রহণ করব।

বুখারি হাদিস নং ২৩৯৯ – কেউ যদি তার সাথীদের কাছে কোন কিছু চায়।

হাদীস নং ২৩৯৯

ইবনে আবু মারয়াম রহ………..সাহল রা. থেকে বর্ণিত যে, এক মুহাজির মহিলার কাছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোক পাঠালেন। তাঁর এক গোলাম ছিল কাঠমিস্ত্রী।

তিনি তাকে বললেন, তুমি তোমার গোলামকে বল, সে যেন আমদের জন্য একটা কাঠের মিম্বর বানিয়ে দেয়। তিনি তার গোলামকে নির্দেশ দিলেন।

সে গিয়ে এক প্রকার গাছ কেটে এনে মিম্বর তৈরী করল। কাজ শেষ হলে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে লোক পাঠায়ে জানালেন যে, গোলাম তার কাজ শেষ করেছে।

তিনি বললেন, সেটা আমার কাছে পাঠিয়ে দাও। তখন লোকেরা সেটা নিয়ে এল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটা বহন করে সেখানে স্থাপন করলেন, যেখানে তোমরা (এখন) দেখতে পাচ্ছ।

বুখারি হাদিস নং ২৪০০ – কেউ যদি তার সাথীদের কাছে কোন কিছু চায়।

হাদীস নং ২৪০০

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ…….আবু কাতাদা সালামী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি মক্কার পথে কোন এক মনযিলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কয়েকজন সাহাবীর সংগে বসা ছিলাম।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অগ্রবর্তী কোন যমীনে অবস্থান করেছিলেন। সবাই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। আমি শুধু ইহরাম ছাড়া ছিলাম।

তাঁরা একটি বন্য গাধা দেখতে পেলেন। আমি তখন আমার জুতা মেরামত করছিলাম। তাঁরা আমাকে সে সম্পর্কে অবহিত করেননি। অথচ সেটি আমার নযরে পড়ুক তাঁরা তা চাচ্ছিলেন। আমি হঠাৎ সেদিকে তাকালাম, সেটা আমার নযরে পড়ল। তখন আমি উঠে ঘোড়ার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং জীন লাগিয়ে তাতে সাওয়ার হলাম।

কিন্তু চাবুক ও বর্শা নিতে ভুলে গেলাম। তখন তাদের বললাম, চাবুক আর বর্শাটা আমাকে তুলে দাও। কিন্তু তাঁরা বললেন, আল্লাহর কসম । গাধা শিকার করার ব্যাপারে আমরা তোমাকে কোন সাহায্যই করব না। আমি তখন রাগ করে নেমে এলাম এবং সে দুটি তুলে নিয়ে সাওয়ার হলাম। আর গাধাটা আক্রমণ করে যখম করলাম।

এতে সেটি মারা গেল। এরপর সেটাকে নিয়ে আসলাম। (পাকানোর পর) তারা সেই গাধার গোশত খেতে লাগলেন। পরে তাদের মনে ইহরাম অবস্থায় তা খাওয়া নিয়ে সন্দেহ দেখা দিল।

কিছু সময় পর আমরা যাত্রা শুরু করলাম। এক ফাকে আমি আমার কাছে গাধার একটি হাতা লুকিয়ে রেখেছিলাম। (পথে) আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষাত পেয়ে সেই গোশত সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন, তোমাদের সাথে সেটার গোশতের কিছু আছ কি? আমি বললাম, হ্যা, আছে। এরপর হাতাখানা তাকে দিলে তিনি ইহরাম অবস্থায় তার সবটুকু খেলেন। এ হাদীসটি যায়েদ ইবনে আসলাম রা.। আতা ইবনে ইয়াসার রহ.-এর মাধ্যমে আবু কাতাদা রা. থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪০১ – পানি চাওয়া।

হাদীস নং ২৪০১

খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ……..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এই ঘরে আগমন করেন এবং কিছু পান করতে চাইলেন।

আমরা আমাদের একটা বকরীর দুধ দোহন করে তাতে আমাদের এই কুয়ার পানি মিশালাম। তারপর তা সম্মুখে পেশ করলাম। এ সময় আবু বকর রা. ছিলেন তাঁর বামে, উমর রা. ছিলেন তাঁর সম্মুখে, আর এক বেদুঈন ছিলেন তাঁর ডানে।

তিনি যখন পান শেষ করলেন, তখন উমর রা. বললেন, ইনি আবু বকর রা. (তাকে দিন) কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেদুঈনকে তার অবশিষ্ট পানি দান করলেন।

এরপর বললেন, ডান দিকের লোকদেরই (অগ্রাধিকার) ডান দিকের লোকদের (অগ্রাধিকার) শোন ! ডান দিক থেকেই শুরু করবে। আনাস রা. বলেন, এই সুন্নাত। এই সুন্নাত, তিনবার বললেন।

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪০২ – শিকারের গোশত হাদিয়া স্বরূপ গ্রহণ কর।

হাদীস নং ২৪০২

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মক্কার অদূরে) মাররায যাহারান নামক স্থানে আমরা একটি খরগোশ তাড়া করলাম। লোকেরা সেটার পিছনে ধাওয়া করে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। অবশেষে আমি সেটাকে নাগালে পেয়ে ধরে আবু তালহা রা.-এর কাছে নিয়ে গেলাম।

তিনি সেটাকে যবেহ করে তার পাছা অথবা রাবী বলেন, দু’উরু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে পাঠালেন। শুবা রহ. বলেন দুটি উরুই পাঠিয়ে ছিলেন, এ শব্দের বর্ণনায় কোন সন্দেহ নেই ।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করেছিলেন। রাবী বলেন, আমি শুবা রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি কি তা খেয়েছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, খেয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪০৩

হাদীস নং ২৪০৩

ইসমাঈল রহ……….সাআব ইবনে জাসসামা রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি বন্য গাধা হাদিয়া পাঠালেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আবওয়া কিংবা ওয়াদ্দান নামক স্থানে ছিলেন। তিনি হাদিয়া তাকে ফেরত পাঠালেন।

পরে তার মুখমণ্ডলের বিষণ্ণতা লক্ষ্য করে বললেন, শোন ! আমরা ইহরাম অবস্থায় আছি, তা নাহলে তোমার হাদিয়া ফেরত দিতাম না।

বুখারি হাদিস নং ২৪০৪ – হাদিয়া গ্রহণ করা।

হাদীস নং ২৪০৪

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, লোকেরা তাদের হাদিয়া পাঠাবার জন্য আয়িশা রা. -এর নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করত। এতে তারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করত।

বুখারি হাদিস নং ২৪০৫

হাদীস নং ২৪০৫

আদম ইবনে আবু ইয়াস রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে আব্বাসের খালা উম্মু হুফায়দ রা. একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে পনীর ঘি ও গুইসাপ হাদিয়া পাঠালেন।

কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু পনীর ও ঘি খেলেন আর গুইসাপ রুচি বিরুদ্ধ হওয়ার কারণে রেখে দিলেন।

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দস্তরখানে (গু-সাপ) খাওয়া হয়েছে। যদি তা হারাম হতো তাহলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দস্তরখানে তা খাওয়া হত না।

বুখারি হাদিস নং ২৪০৬

হাদীস নং ২৪০৬

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে কোন খাবার আনা হলে তিনি জানতে চাইতেন , এটা হাদিয়া না সাদকা? যদি বলা হত, সাদকা তাহলে সাহাবীদের তিনি বলতেন, তোমরা খাও।

কিন্তু তিনি খেতেন না। আর যদি বলা হত হাদিয়া। তাহলে তিনিও হাত বাড়াতেন এবং তাদের সাথে খাওয়ায় শরীক হতেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪০৭

হাদীস নং ২৪০৭

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে কিছু গোশত আনা হল এবং বলা হল যে, এটা আসলে বারীরার কাছে সাদকারূপে এসেছিল । তখন তিনি বললেন, এটা তার জন্য সাদকা আর আমাদের জন্য হাদিয়া।

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪০৮

হাদীস নং ২৪০৮

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি বারীরা রা.-কে (আযাদ করার উদ্দেশ্যে) খরিদ করার ইচ্ছা করলে তার মালিক পক্ষ ওয়ালার শর্তারোপ করল।

তখন বিষয়টি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে আলাচিত হল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তাকে খরিদ করে আযাদ করে দাও। কেননা যে আযাদ করবে, সেই ওয়ালা লাভ করবে। আয়িশা রা.-এর জন্য কিছু গোশত হাদিয়া পাঠানো হল।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হল যে, এ গোশত বারীরাকে সাদকা করা হয়েছিল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা তার জন্য সাদকা আর আমাদের জন্য হাদিয়া।

তাকে ইখতিয়ার দেওয়া হল। (রাবী) আবদুর রাহমান রহ. বলেন, তার স্বামী তখন আযাদ কিংবা গোলাম ছিল? শুবা রহ. বলেন, পরে আমি আবদুর রাহমান রহ.-কে তার স্বামী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি জানি না, সে আযাদ ছিল না গোলাম ছিল।

বুখারি হাদিস নং ২৪০৯

হাদীস নং ২৪০৯

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল আবুল হাসান রহ………..উম্মু আতিয়্যা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা রা. -এর ঘরে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের কাছে খাবার কিচু আছে কি ?

তিনি বললেন, না, তবে সে বকরীর কিছু গোশত উম্মু আতিয়্যা পাঠিয়েছেন, যা আপনি তাকে সাদকা স্বরূপ পাঠিয়েছিলেন। তিনি বললেন, সাদকা তো যথাস্থানে পৌছে গিয়েছে (অর্থাৎ এটা তাকে সাদকা স্বরূপ পাঠিয়েছিলেন।

তিনি বললেন, সাদকা তো যথাস্থানে পৌছে গিয়েছে (অর্থাৎ এটা এখন তার মালিকানায়, সুতরাং আমাদের জন্য সেটা সাদকা নয় হাদিয়া।

বুখারি হাদিস নং ২৪১০ – সঙ্গীকে হাদিয়া দিতে গিয়ে তার কোন স্ত্রীর জন্য নির্ধারিত দিনে অপেক্ষা করা।

হাদীস নং ২৪১০

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা তাদের হাদিয়া পাঠাবার বিষয় আমার জন্য নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করত। উম্মু সালামা রা. বলেন, আমার সতিনগণ (এ বিষয় নিয়ে আমার ঘরে) একত্রিত হলেন। ফলে উম্মু সালামা রা. বিষয়টি তাঁর কাছে উত্থাপন করল, কিন্তু তিনি জাওয়াব দিলেন না।

বুখারি হাদিস নং ২৪১১

হাদীস নং ২৪১১

ইসমাঈল রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ দুদলে বিভক্ত ছিলেন। একদলে ছিলেন আয়িশা, হাফসা, সাফিয়্যা ও সাওদা রা. অপর দলে ছিলেন উম্মু সালামা রা. সহ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যান্য স্ত্রীগণ ।

আয়িশা রা.-এর প্রতি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশেষ ভালোবাসার কথা সাহাবীগণ জানতেন। তাই তাদের মধ্যে কেউ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু হাদিয়া পাঠাতে চাইলে তা বিলম্বিত করতেন।

যেদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা রা.-এর ঘরে অবস্থান করতেন সেদিন হাদিয়া দানকারী ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আয়িশা রা.-এর ঘরে তা পাঠিয়ে দিতেন। উম্মু সালামা রা.-এর দল তা নিয়ে আলোচনা করলেন।

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

উম্মু সালামা রা.-কে তাঁরা বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (এ বিষয়ে) আপনি আলাপ করুন। তিনি যেন লোকদের বলে দেন যে, যারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হাদিয়া পাঠাতে চান, তারা যেন তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেন, যে স্ত্রীর ঘরেই তিনি থাকুননা কেন।

উম্মু সালামা রা. তাদের প্রস্তাব নিয়ে তাঁর সাথে আলাপ করলেন। কিন্তু তিনি তাকে কোন জওয়াব দিলেন না। পরে সবাই তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তিনি আমাকে কোন জবাব দিলেন না।

তখন তাঁরা তাকে বললেন, আপনি তার সাথে আবার আলাপ করুন। (আয়িশা) বলেন, যেদিন তিনি তাঁর (উম্মু সালামার) ঘরে গেলেন, সেদিন তিনি আবার তাঁর কাছে আলাপ তুললেন। সেদিনও তিনি তাকে কিছু বললেন না। তারপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তিনি বললেন, আমাকে তিনি কিছুই বলেননি।

তখন তাঁরা বললেন, তিনি কোন জওয়াব না দেওয়া পর্যন্ত আপনি বলতে থাকুন। তিনি তার ঘরে গেলে আবার তিনি তাঁর কাছে সে প্রসঙ্গ তুললেন। এবার তিনি তাকে বললেন, আয়িশা রা.-এর ব্যাপার নিয়ে আমাকে কষ্ট দিও না।

মনে রেখ, আয়িশা রা. ছাড়া আর কোন স্ত্রীর বস্ত্রাচ্ছাদনে থাকা অবস্থায় আমার উপর ওহী নাযিল হয়নি। (আয়িশা রা.) বলেন, একথা শুনে তিনি (উম্মু সালামা রা.) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনাকে কষ্ট দেওয়ার (অপরাধ) থেকে আমি আল্লাহর কাছে তাওবা করছি।

তারপর সকলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা রা.-এক এনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা সম্পর্কে ইনসাফের আবেদন জানাচ্ছেন। (ফাতিমা রা.) তাঁর কাছে বিষয়টি তুলে ধরলেন।

তখন তিনি বললেন, প্রিয় কন্যা !আমি যা পছন্দ করি, তাই কি তুমি পছন্দ কর না? তিনি বললেন, অবশ্যই করি। তারপর তাদের কাছে গিয়ে তাদেরকে অবহিত করলেন। তাঁরা তাকে বললেন, তুমি আবার যাও। কিন্তু এবার তিনি যেতে অস্বীকার করলেন।

তখন তারা যায়নাব বিনতে জাহাশ রা.-কে পাঠালেন তিনি তাঁর কাছে গিয়ে কঠোর ভাষা ব্যবহার করলেন, এবং বললেন, আপনার স্ত্রীগণ! আল্লাহর দোহাই দিয়ে ইবনে আবু কুহাফার (আবু বকর রা.)-এর কন্যা সম্পর্কে ইনসাফের আবেদন জানাচ্ছেন। এরপর তিনি গলার স্বর উচু করলেন।

এমনকি আয়িশা রা.-কে জড়িয়েও কিছু বললেন। আয়িশা রা. সেখানে বসা ছিলেন। শেষ পর্যন্ত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা রা.-এর দিকে তাকিয়ে দেখছিলেন। তিনি কিছু বলেন কিনা।

(রাবী উরওয়া রা.) বলেন, আয়িশা রা. যায়নাব রা.-এর কথার প্রস্তুতি বাদে কথা বলতে শুরু করলেন এবং তাকে চুপ করে দিলেন। আয়িশা রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আয়িশা রা.-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, এ হচ্ছে আবু বকর রা. -এর কন্যা।

আবু মারওয়ান গাসসনী রা. হিশাম এর সূত্রে উরওয়া রহ. থেকে বলেন, লোকেরা তাদের হাদিয়াসমূহ নিয়ে আয়িশা রা.-এর জন্য নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করত।

অন্য সনদে হিশাম রহ. মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাহমান ইবনে হারিস ইবনে হিশাম রহ. থেকে বর্ণিত, আয়িশা রা. বলেছেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম, এমন সময় ফাতিমা রা. অনুমতি চাইলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪১২ – যে সব হাদিয়া ফিরিয়ে দিতে নেই ।

হাদীস নং ২৪১২

আবু মামার রহ……….আযরা ইবনে সাবিত আনসারী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন ছুমামা ইবনে আবদুল্লাহ রহ.-এর কাছে গেলাম, তিনি আমাকে সুগন্ধি দিলেন এবং বললেন, আনাস রা. কখনো সুগন্ধি দ্রব্য ফিরিয়ে দিতেন না ।

তিনি আরো বলেন, আর আনাস রা. বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুগন্ধি ফিরিয়ে দিতেন না।

বুখারি হাদিস নং ২৪১৩ – যে বস্তু কাছে নেই তা হেবা করা যিনি জায়েয মনে করেন।

হাদীস নং ২৪১৩

সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ……….মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. ও মারওয়ান রা. থেকে বর্ণিত যে, তারা বলেন, হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দল যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলেন। তখন তিনি লোকদের সামনে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে আল্লাহ পাকের যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন।

এরপর বললেন, তোমাদের ভাইয়েরা আমদের কাছে তাওবা করে (মুসলমান হয়ে) এসেছে। আমি তাদেরকে ফেরত দিয়ে তাদের যুদ্ধবন্দীদের দেওয়া সংগত মনে করছি। কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে করতে চায় তারা যেন তা করে।

আর যে নিজের অংশ রেখে দিতে চায়, এভাবে প্রথম যে ফায় আল্লাহ আমাদের দান করবেন সেখান থেকে তার হিসসা আদায় করে দিব। (সে যেন তা করে) তখন সকলেই বললেন, আমরা আপনার সন্তুষ্টির জন্য তা করলাম।

 

বুখারি হাদিস নং ২৪১৪ – হেবার প্রতিদান দেওয়া।

হাদীস নং ২৪১৪

মুসাদ্দাদ রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিয়া কবুল করতেন এবং তার প্রতিদানও দিতেন। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, ওয়াকী ও মুহাযির রহ. হিশাম তার পিতা সূত্রে আয়িশা রা. থেকে উল্লেখ করেননি।

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪১৫ – সন্তানকে কোন কিছু দান করা।

হাদীস নং ২৪১৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….নুমান ইবনে বাশীর রা. থেকে বর্ণিত যে, তার পিতা তাকে নিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলেন এবং বললেন, আমি আমার এই ছেলেকে একটি গোলাম দান করেছি।

তখন (তিনি) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সব ছেলেকেই কি তুমি এরূপ দান করেছ। তিনি বললেন, না (তা করিনি) তিনি বললেন, তবে তুমি তা ফেরত নাও।

বুখারি হাদিস নং ২৪১৬ – হেবার ক্ষেত্রে সাক্ষী রাখা।

হাদীস নং ২৪১৬

হামীদ ইবনে উমর রহ……..আমির রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নুমান ইবনে বশীর রা.-কে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি যে, আমার পিতা আমাকে কিছু দান করেছিলেন।

তখন (আমার মাতা) আমরা বিনতে রাওয়াহা রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সাক্ষী রাখা ছাড়া (এ দানে) সম্মত নই। তখন তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হাযির হয়ে আরয করলেন, আমরা বিনতে রাওয়াহার গর্ভজাত আমার পুত্রকে কিছু দান করেছি।

কিন্তু ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে আমকে বলেছে, আপনাকে সাক্ষী রাখতে। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সব ছেলেকেই কি এ ধরনের দান করেছ? তিনি বললেন, না।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে আল্লাহকে ভয় কর এবং আপন সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষা কর (নুমান রা.) বলেন, এরপর তিনি ফিরে এসে তার দান প্রত্যাহার করলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪১৭ – স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে এবং স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে দান করা।

হাদীস নং ২৪১৭

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তার কষ্ট বেড়ে গেল। তখন তিনি তাঁর স্ত্রীগণের কাছে আমার ঘরে সেবা-শুশ্রূষা লাভের ইচ্ছা প্রকাশ করলেন।

তারা তাকে সম্মতি দিলেন। তারপর একদিন দু’ব্যক্তির উপর ভর করে বের হলেন, তখন তার উভয় কদম মুবারক মাটি স্পর্শ করছিল । তিনি আব্বাস রা. ও আরেক ব্যক্তির মাঝে ভর দিয়ে চলছিলেন।

উবায়দুল্লাহ রহ. বলেন, আয়িশা রা. যা বললেন, তা আমি ইবনে আব্বাস রা. -এর কাছে আরয করলাম, তিনি তখন আমাকে বললেন, জানো, আয়িশা রা. যার নাম উল্লেখ করলেন, না তিনি কে ? আমি বললাম, না, (জানিনা) তিনি বললেন, তিনি হলেন আলী ইবনে আবু তালিব রা.।

বুখারি হাদিস নং ২৪১৮

হাদীস নং ২৪১৮

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে তার দান ফেরত নেয়, সে ঐ কুকুরের ন্যায় যে বমি করে এরপর পুনরায় খায়।

 

বুখারি হাদিস নং ২৪১৯ – মহিলার জন্য স্বামী থাকা অবস্থায় স্বামী ছাড়া অন্য কাউকে দান করা বা গোলাম আযাদ করা; যদি সে নির্বোধ না হয় তবে জায়িয, আর নির্বোধ হলে জায়িয নয়।

হাদীস নং ২৪১৯

আবু আসিম রহ………আসমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যুবায়ের রা. আমার কাছে যে ধন-সম্পদ রাখেন, সেগুলো ছাড়া আমার নিজস্ব কোন ধন-সম্পদ নেই।

এমতাবস্থায় আমি কি (তা থেকে) সাদকা করব ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, সাদকা করতে পার। লুকিয়ে রাখবে না। তাহলে তোমার ক্ষেত্রে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) লুকিয়ে রাখা হবে।

 

বুখারি হাদিস নং ২৪২০

হাদীস নং ২৪২০

উবায়দুল্লাহ ইবনে সঈদ রহ………..আসমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : (আল্লাহর পথে) খরচ কর, আর হিসাব করতে যেওনা, তাহলে আল্লাহ তোমার বেলায় হিসাব করে দিবেন। লুকিয়ে রাখবে না, তবে আল্লাহও তোমার লুকিয়ে রাখবেন।

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪২১

হাদীস নং ২৪২১

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….মায়মূনা বিনতে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুমতি না নিয়ে তিনি আপন বাদীকে আযাদ করে দিলেন।

তারপর তার ঘরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থানের দিন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি জানেন আমি আমার বাদী আযাদ করে দিয়েছি? তিনি বললেন, তুমি কি তা করেছ? মায়মূনা রা. বললেন, হ্যাঁ।

তিনি বললেন, শুনো! তুমি যদি তোমার মামাদেরকে এটা দান করতে তাহলে তোমার জন্য তা অধিক পুণ্যের হত। অন্য সনদে বাকর ইবনে মুযার রহ………কুরায়ব রহ. থেকে বর্ণিত যে, মায়মূনা রা. গোলাম আযাদ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪২২

হাদীস নং ২৪২২

হিব্বান ইবনে মূসা রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরের ইচ্ছা করলে স্ত্রীদের মাঝে কুরআর প্রক্রিয়া গ্রহণ করতেন ।

যার নাম আসত তিনি তাকে নিয়েই সফরে বের হতেন। এছাড়া প্রত্যেক স্ত্রীর জন্য একদিন একদিন এক রাত নির্ধারিত করে দিতেন।

তবে সাওদা বিনতে যামআ রা. নিজের অংশের দিন ও রাত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশা রা.-কে দান করেছিলেন। এর দ্বারা তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্তুষ্টি কামনা করতেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪২৩ – হাদিয়া দানের ক্ষেত্রে কাকে প্রথমে দিবে?

হাদীস নং ২৪২৩

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার দু’জন প্রতিবেশী আছে। এ দু’জনের কাকে আমি হাদিয়া দিব? তিনি বললেন, এ দুয়ের মাঝে যার দরজা তোমার অধিক নিকটবর্তী।

বুখারি হাদিস নং ২৪২৪ – কোন কারণে হাদিয়া গ্রহণ না করা।

হাদীস নং ২৪২৪

আবুল ইয়ামান রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী সাআব ইবনে জাছছামা লাইছী রা.-কে বলতে শুনেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনি একটি বন্য গাধা হাদিয়া দিয়েছিলেন।

তিনি তখন ইহরাম অবস্থায় আবওয়াহ কিংবা ওয়াদ্দান নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। তাই তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন।

সাআব রা. বলেন, যখন তিনি আমার চেহারায় ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি বললেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় আছি। এ কারণ ব্যতীত তোমার হাদিয়া ফিরিয়ে দেওয়ার কোন কারণ নেই।

বুখারি হাদিস নং ২৪২৫

হাদীস নং ২৪২৫

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু হুমাইদ সাঈদী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযদ গোত্রের ইবনে উতবিয়া নামক এক ব্যক্তিকে সাদকা সংগ্রহের কাজে নিয়োগ করেছিলেন।

তিনি ফিরে এসে বললেন, এগুলো আপনাদের (অর্থাৎ সাদকার মাল) আর এগুলো আমাকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে তার বাবার ঘরে কিংবা তার মায়ের ঘরে কেন বসে থাকল না?

তখন সে দেখত, তাকে কেউ হাদিয়া দেয় কিনা? যার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার কসম, সাদকার মাল থেকে সামান্য পরিমাণও যে আত্মসাৎ করবে, সে তার কাধে করে কিয়ামতের দিন হাযির হবে।

সে মাল যদি উট হয় তাহলে তা তরা আওয়াজে, আর যদি গাভী হয় তাহলে হাম্বা হাম্বা করে আর যদি বকরী হয় তাহলে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে (আওয়াজ করতে থাকবে)।

তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দু’হাত এতটুকু উত্তোলন করলেন যে, আমরা তাঁর উভয় বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তিনি তিনবার বললেন, হে আল্লাহ ! আমি কি পৌছে দিয়েছি? হে আল্লাহ আমি কি পৌছে দিয়েছি?

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪২৭ – গোলাম বা অন্যান্য সামগ্রী কিভাবে আনা যায়।

হাদীস নং ২৪২৭

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ…………মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কিছু কবা (পোষাক বিশেষ) বন্টন করলেন। কিন্তু মাখরামাকে তা থেকে একটিও দিলেন না।

মাখরামা রা. তখন (ছেলেকে) বললেন, প্রিয় বৎস ! আমাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে নিয়ে চল।

(মিসওয়ার রা. বলেন) আমি তার সঙ্গে গেলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, যাও, ভেতরে গিয়ে তাকে আমার জন্য আহবান জানাও। (মিসওয়ার রা.) বলেন, এরপর আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আহবান জানালাম। তিনি বেরিয়ে এলেন। তখন তাঁর কাছে একটি করা ছিল।

তিনি বললেন, এটা আমি তোমার জন্য হিফাযত করে রেখে দিয়েছিলাম। মাখরামা রা. সেটি তাকিয়ে দেখলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মাখরামা খুশী হয়ে গেছে।

বুখারি হাদিস নং ২৪৩০ – একজন কর্তৃক এক দলকে দান করা।

হাদীস নং ২৪৩০

ইয়াহইয়া ইবনে কাযআ রহ………..সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু পানীয় হাযির করা হল। সেখান থেকে কিছু তিনি নিজে পান করলেন। তাঁর ডান পার্শ্বে ছিল এক যুবক আর বাম পার্শ্বে ছিলেন বয়োবৃদ্ধগণ।

তখন তিনি যুবককে বললেন, তুমি আমাকে অনুমতি দিলে এদেরকে আমি দিতে পারি। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনার (বরকত) থেকে আমার প্রাপ্য হিসসার ব্যাপারে আমি অন্য কাউকে অগ্রাধিকার দিতে পারি না। তখন তিনি তার হাতে পাত্রটি সজোরে রেখে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৩১ – দখলকৃত বা দখল করা হয়নি এবং বণ্টনকৃত বা বন্টন করা হয়নি এমন সম্পদ দান করা।

হাদীস নং ২৪৩১

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একটা উট বিক্রি করলাম।

মদীনায় ফিরে এসে তিনি আমাকে বললেন, মসজিদে আস, দু’রাকআত সালাত আদায় কর। তারপর তিনি (উটের মূল্য) ওযন করে দিলেন রাবী শুবা রহ. বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, তারপর তিনি আমাকে ওযন করে (উটের মূল্য) দিলেন এবং বলেন, তিনি ওযনে প্রাপ্যের অধিক দিলেন।

হাররা যুদ্ধের সময় সিরিয়াবাসীরা ছিনিয়ে নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমার কাছে ঐ মালের কিছু না কিছু অবশিষ্ট ছিল।

বুখারি হাদিস নং ২৪৩২

হাদীস নং ২৪৩২

কুতাইবা রহ……….সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু পানীয় হাযির করা হল। তখন তাঁর ডানপাশে ছিল এক যুবক বামপাশে ছিল কতিপয় বৃদ্ধ লোক।

তিনি যুবককে বললেন, তুমি কি আমাকে এই পানীয় এদের দেওয়ার অনুমতি দিবে? যুবক বলল, না, আল্লাহর কসম ! আপনার (বরকত) থেকে আমার প্রাপ্য অংশের ব্যাপারে আমি কাউকে অগ্রাধিকার দিব না। তখন তিনি পান পাত্র তার হাতে সজোরে রেখে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৩৩

হাদীস নং ২৪৩৩

আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে জাবালা রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক ব্যক্তির কিছু ঋণ পাওনা ছিল।

সাহাবীগণ তাকে কিছু করতে চাইলেন। তিনি তাদের বললেন, তাকে ছেড়ে দাও, পাওনাদারের কিছু বলার অধিকার আছে। তিনি তাদের আরও বললেন, তাকে এক বছর বয়সী একটি উট খরিদ করে দাও। সাহাবীগণ বললেন, আমরা তো তার দেওয়া এক বছর বয়সী উটের মত পাচ্ছি না, বরং তার চেয়ে ভালো উট পাচ্ছি।

তিনি বললেন, তবে তাই কিনে তাকে দিয়ে দাও। কেননা,যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে, সে তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তিদের অন্তর্ভূক্ত। কিংবা তিনি বলেছেন সে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৩৪ – একদল অপর দলকে অথবা এক ব্যক্তি এক দলকে দান করলে তা জায়িয ।

হাদীস নং ২৪৩৪

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………মারওয়ার ইবনে হাকাম রহ. ও মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণের পর প্রতিনিধি হিসাবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল এবং তাদের সম্পদ ও যুদ্ধবন্দী ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানাল।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন, তোমরা দেখতে পাচ্ছ আমার সঙ্গে আরো লোক আছে। আমার নিকট সত্য কথা হল অধিক প্রিয়।

তোমরা যুদ্ধবন্দী অথবা সম্পদ এ দুয়ের একটি বেছে নাও। আমি তো তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। (রাবী বলেন) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফ থেকে ফিরে প্রায় দশ রাত তাদের জন্য অপেক্ষা করেছিলাম।

যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটির যে কোন একটিই শুধু তাদের ফিরিয়ে দিবেন, তখন তারা বলল, তবে তো আমরা আমাদের বন্দী (স্বজন)-দেরই যে কোন পছন্দ করব। তারপর তিনি মুসলিমদের সামনে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করে বললেন, আম্মাবাদ।

তোমাদের এই ভায়েরা তাওবা করে আমাদের কাছে এসেছে, আর আমি তাদেরকে তাদের বন্দী (স্বজনদের) ফিরিয়ে দেওয়া সংগত মনে করছি, কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে এ সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া পছন্দ করে, তারা যেন তা করে।

আর যারা নিজেদের হিসসা পেতে পসন্দ করে এরূপভাবে যে, আল্লাহ আমাকে প্রথমে যে, ফায় সম্পদ দান করবেন, তা থেকে তাদের প্রাপ্য অংশ আদায় করে দিব, তারা যেন তা করে। সকলেই তখন বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা সন্তুষ্টচিত্তে তা মেনে নিলাম।

তিনি তাদের বললেন, তোমরা ফিরে যাও। তোমাদের নেতারা তোমাদের মতামত আমার কাছে পেশ করবে। তারপর লোকেরা ফিরে গেল এবং তাদের নেতারা তাদের সাথে আলোচনা করল।

পরে তারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে এসে তাকে জানাল যে, সন্তুষ্টচিত্তে অনুমতি দিয়েছি। হাওয়াযিনের বন্দী যুহরী রহ.-এর বক্তব্য।

বুখারি হাদিস নং ২৪৩৫ – সঙ্গীদের মাঝে কাউকে হাদিয়া করা হলে সেই এর হকদার।

হাদীস নং ২৪৩৫

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট বয়সের একটি উট ধার নিয়েছিলেন। কিছুদিন পর উটের মালিক এসে তাগাদা দিল।

সাহাবীগণও তাকে কি বললেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পাওনাদারদের কিছু বলার অধিকার আছে। তারপর তিনি তাকে তার (দেওয়া) উটের চেয়ে উত্তম উট পরিশোধ করলেন এবং বললেন, ভালভাবে ঋণ পরিশোধকারী ব্যক্তিই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।

বুখারি হাদিস নং ২৪৩৬

হাদীস নং ২৪৩৬

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন এবং তখন তিনি (ইবনে উমর) উমর রা. -এর একটি অবাধ্য উটে সাওয়ার ছিলেন। উটটি বারবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগে যাচ্ছিল।

আর তা পিতা উমর রা. তাকে বলছিলেন, হে আবদুল্লাহ ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগে আগে চলা কারো জন্য উচিত নয়।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, এটা আমার কছে বিক্রি কর। উমর রা. বললেন, এটাতো আপনার । তখন তিনি সেটা খরিদ করে বললেন, হে আবদুল্লাহ ! এটা (এখন থেকে) তোমার। কাজেই এটা দিয়ে তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার।

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৩৭ – এমন কিছু হাদিয়া করা, যা পরিধান করা অপছন্দনীয়।

হাদীস নং ২৪৩৭

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. মসজিদের দ্বারা প্রান্তে একজোড়া রেশমী বস্ত্র (বিক্রি হতে) দেখে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এটা যদি আপনি খরিদ করে নেন এবং তা জুমআর দিনে ও প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ে পরিধান করতেন।

তখন তিনি বললেন, এ তো সেই পরিধান করে, আখিরাতে যার কোন হিসসা নেই। পরে (কোন এক সময়) কিছু রেশমী জোড়া আসলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে উমর রা.-কে এক জোড়া দান করলেন।

তখন উমর রা. বললেন, আপনি এটা আমাকে পরিধান করতে দিলেন অথচ (কয়েক দিন আগে) রেশমী কাপড় সম্পর্কে আপনি যা বলার বলেছিলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তো এটা তোমাকে পরিধান করার জন্য দেইনি। তখন উমর রা. তা মক্কায় বসবাসকারী তার এক মুশরিক ভাইকে দিয়ে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৩৮

হাদীস নং ২৪৩৮

মুহাম্মদ ইবনে জাফর রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ফাতিমার ঘরে গেলেন। কিন্তু ভিতরে প্রবেশ না করে (ফিরে এলে) আলী রা. ঘরে এলে তিনি তাকে ঘটনা জানালেন।

তিনি আবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বিষয়টি আরয করলেন। তখন তিনি বললেন, আমি তার দরজায় নকশা করা পর্দা ঝুলতে দেখেছি।

দুনিয়ার চাকচিক্যের সঙ্গে আমার কি সম্পর্ক? আলী রা.-এর কাছে এসে ঘটনা খুলে বললেন। (সব শুনে) ফাতিমা রা. বললেন, তিনি আমাকে এ সম্পর্কে যা ইচ্ছা নির্দেশ দিন।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অমুক পরিবারের অমুকের কাছে এটা পাঠিয়ে দাও, তাদের বেশ প্রয়োজন আছে।

আরও পড়ুনঃ

অংশীদারিত্ব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

জুলুম ও কিসাস অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

কলহ-বিবাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বর্গাচাষ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

পানি সিঞ্চন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

 

মন্তব্য করুন