হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায়

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

Table of Contents

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৩৯

হাদীস নং ২৪৩৯

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ………আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একজোড়া রেশমী কাপড় দিলেন। আমি তা পরিধান করলাম। তাঁর মুখমণ্ডলে অসন্তুষ্টির ভাব দেখতে পেয়ে আমি আমার (আত্মীয়) মহিলাদের মাঝে তা ভাগ করে দিয়ে দিলাম।

বুখারি হাদিস নং ২৪৪০ – মুশরিকদের হাদিয়া গ্রহণ করা।

হাদীস নং ২৪৪০

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে একটি রেশমী জুব্বা হাদিয়া দেওয়া হল। অথচ তিনি রেশমী কাপড় ব্যবহারে নিষেধ করতেন। এতে সাহাবীগণ খুশী হলেন।

তখন তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, জান্নাতে সাদ ইবনে মুআযের রুমালগুলো এর চেয়ে উৎকৃষ্ট।

সাঈদ রহ. কাতাদা রহ.-এর মাধ্যমে আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেন যে দুমার উকাইদর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাদিয়া দিয়েছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৪১

হাদীস নং ২৪৪১

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহাব রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ইয়াহুদী মহিলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে বিষ মিশানো বকরী নিয়ে এল।

সেখান থেকে কিছু অংশ তিনি খেলেন এবং মহিলাকে হাযির করা হল। তখন বলা হল, আপনি কি একে হত্যার আদেশ দিবেন না? তিনি বললেন, না।

আনাস রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (মুখ গহবরের) তালুতে আমি বরাবরই বিষক্রিয়ার আলামত দেখতে পেতাম।

বুখারি হাদিস নং ২৪৪৩ – মুশরিকদেরকে হাদিয়া দেওয়া।

হাদীস নং ২৪৪৩

খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. জনৈক ব্যক্তিকে রেশমী কাপড় বিক্রি করতে দেখে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, এ জোড়াটি খরিদ করে নিন।

জুমুআর দিন এবং যখন আপনার খিদমতে কোন প্রতিনিধি দল আসে, তখন তা পরিধান করবেন। তিনি বললেন, এসব তো তারই পরিধান করে, যাদের আখিরাতে কোন হিসসা নেই।

পরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কয়েক জোড়া রেশমী কাপড় এল। সেগুলো থেকে একটি জোড়া তিনি উমর রা.-এর কাছে পাঠালেন। তখন উমর রা. বলেন, এটা আমি কিভাবে পরিধান করব।

অথচ এ সম্পর্কে আপনি যা বলার বলেছেন। এতে তিনি বললেন, এটা তোমাকে আমি পরিধান করার জন্য দেইনি। হয় এটা বিক্রি করে দিবে, নয় কাউকে দিয়ে দিবে। তখন উমর রা. সেটা মক্কায় বসবাসকারী তাঁর এক (দুধ) ভাইকে ইসলাম গ্রহণের আগে হাদিয়া পাঠালেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৪৪

হাদীস নং ২৪৪৪

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ……..আসমা বিনতে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় আমার আম্মা মুশরিক অবস্থায় আমার কাছে এলেন।

আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে ফাতওয়া চেয়ে বললাম তিনি আমার প্রতি খুবই আকৃষ্ট, এমতাবস্থায় আমি কি তার সাথে সদাচরণ করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি তোমার মায়ের সঙ্গে সদাচরণ করবে।

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৪৫ – দান বা সাদকা করার পর তা ফিরিয়ে নেওয়া কারো জন্য বৈধ নয়।

হাদীস নং ২৪৪৫

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : দান করার পর যে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ ব্যক্তির মতই, যে বমি করে তা আবার খায়।

বুখারি হাদিস নং ২৪৪৬

হাদীস নং ২৪৪৬

আবদুর রহমান ইবনে মুবারক রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : নিকৃষ্ট উপমা দেওয়া আমাদের জন্য শোভনীয় (তবু বলতে হয়) যে দান করে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ কুকুরের মত, যে বমি করে তা আবার খায়।

বুখারি হাদিস নং ২৪৪৭

হাদীস নং ২৪৪৭

ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ………উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তিকে আমি আমার একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় আরোহণের জন্য দান করলাম। ঘোড়াটি যার কাছে ছিল, সে তার চরম অযত্ন করল।

তাই সেটা আমি তার কাছ থেকে কিনে নিতে চাইলাম। আমার ধারণা ছিল যে, সে তা কম দামে বিক্রি করবে।

এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এক দিরহামের বিনিময়েও যদি সে তোমাকে তা দিতে রাযী হয় তবু তুমি তা কিনবে না। কেননা, সাদকা করার পর যে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ কুকুরের মত, যে বমি করে আবার তা খায়।

বুখারি হাদিস নং ২৪৪৮ – পরিচ্ছেদ ১৬৩৫

হাদীস নং ২৪৪৮

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবু মুলায়কা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে জুদআনের আযাদকৃত গোলাম সুহাইবের সন্তান দুটি ঘর ও একটি কামরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুহাইব রা.-কে দান করেছিলেন বলে দাবী জানান।

(মদীনার গভর্নর মারওয়ান রহ. তখন বললেন, এ ব্যাপারে তোমাদের পক্ষে কে সাক্ষী দিবে? তারা বলল, ইবনে উমর রা. (আমাদের হয়ে সাক্ষী দিবেন) মারওয়ান রহ. তখন ইবনে উমর রা.-কে ডেকে পাঠালেন।

তিনি এ মর্মে সাক্ষী দিলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুহাইব রা.-কে দুটি ঘর ও একটি কামরা দান করেছিলেন। তাদের স্বপক্ষে ইবনে উমরের সাক্ষী অনুযায়ী মারওয়ান ফায়সালা করলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৪৯ – উমরা ও রুকবা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

হাদীস নং ২৪৪৯

আবু নুআঈম রহ……….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরা (বস্তু) সম্পর্কে ফায়সালা দিয়েছেন যে, যাকে দান করা হয়েছে সেই- মালিক হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৪৫০

হাদীস নং ২৪৫০

হাফস ইবনে উমর রা. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : উমরা জায়েয। আতা রহ. বলেন, জাবির রা. আমাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস শুনিয়েছেন।

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৫১ – কারো কাছ থেকে ঘোড়া, চতুষ্পদ জন্তু বা অন্য কোন কিছু ধার নেওয়া।

হাদীস নং ২৪৫১

আমদ রহ………কাতাদা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস রা.-কে বলতে শুনেছি, মদীনায় একবার শত্রুর আক্রমণের ভয় ছড়িয়ে পড়ল।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আবু তালহা রা.-এর কাছ থেকে একটি ঘোড়া ধার নিলেন এবং তাঁতে সাওয়ার হলেন। ঘোড়াটির নাম ছিল মানূদব।

তারপর (মদীনা টহল দিয়ে) ফিরে এসে তিনি বললেন, কিছুই তো দেখতে পেলাম না, তবে এই ঘোড়াটিকে আমি সমুদ্রের তরঙ্গের মত পেয়েছি।

বুখারি হাদিস নং ২৪৫২ – বাসর সজ্জার সময় নব দম্পতির জন্য কো কিছু ধার করা।

হাদীস নং ২৪৫২

আবু নুআঈম রহ……….আয়মান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়িশা রা.-এর নিকট আমি হাযির হলাম। তাঁর গায়ে তখন পাঁচ দিরহাম মূল্যের মোটা কাপড়ের কামিজ ছিল।

তিনি আমাকে বললেন, আমার এ বাদীটার দিকে চোখ তুলে একটু তাকাও, ঘরের ভিতরে এটা পরতে সে অপছন্দ করে। অথচ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় মদীনার মেয়েদের মধ্যে আমারই শুধু কামিজ ছিল।

মদীনায় কোন মেয়েকে বিয়ের সাজে সাজাতে গেলেই আমার কাছে কাউকে পাঠিয়ে ঐ কামিজটি চেয়ে নিত (সাময়িক ব্যবহারের জন্য)।

বুখারি হাদিস নং ২৪৫৩ – মানীহা অর্থাৎ দুধ পানের জন্য উট বা বকরী দেওয়ার ফজিলত।

হাদীস নং ২৪৫৩

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মানীহা হিসাবে অধিক দুধেল উটনী ও অধিক দুধেল বকরী কতইনা উত্তম, যা সকালে বিকালে, পাত্র ভর্তি দুধ দেয়।

বুখারি হাদিস নং ২৪৫৪

হাদীস নং ২৪৫৪

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ও ইসমাঈল রহ. হাদীসটি মালিক রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন, এতে তিনি বলেন, সাদকা হিসাবে কতইনা উত্তম (দুধেল উটনী, যা মানীহা হিসাবে দেওয়া হয়)।

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৫৫

হাদীস নং ২৪৫৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের সময় মুহাজিরদের হাতে কোন কিছু ছিল না। অন্য দিকে আনসারগণ ছিলেন জমি ও ভূসম্পত্তির অধিকারী।

তাই আনসারগণ এই শর্তে মুহাজিরদের সাথে ভাগাভাগি করে নিলেন যে, প্রতি বছর তারা এর উৎপন্ন ফল ও ফসলের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ তাদের (আনসারদের) দিবেন আর তারা এ কাজে শ্রম দিবে ও দায়দায়িত্ব নিবে।

আনাসের মা উম্মু সুলাইম রা. ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে আবু তালহার মা। আনাসের মা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (ফল ভোগ করার জন্য) কয়েকটি খেজুর গাছ দিয়ে ছিলেন।

আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলো তাঁর আযাদকৃত বাদী উসামা ইবনে যায়েদের মা উম্মু আয়মানকে দান করে দিয়েছিলেন।

ইবনে শিহাব রহ. বলেন, আনাস রা. আমাকে বলেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারে ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষে মদীনায় ফিরে এলে মুহাজিরগণ আনসারদেরকে তাদের অস্থায়ী দানের সম্পত্তি ফিরিয়ে দিলেন, যেগুলো ফল ও ফসল ভোগ করার জন্য তারা মুহাজিরদের দান করেছিলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর (আনাসের) মাকে তার খেজুর গাছগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তারপর র উম্মু আয়মানকে ঐ গাছগুলোর পরিবর্তে নিজ বাগানের কিছু অংশ দান করলেন।

আহমদ ইবনে শাবীব রহ. বলেন, আমার পিতা আমাদেরকে ইউনুসের সূত্রে এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এবং حائطه এর স্থলে خالصه বলেছেন, যার অর্থ নিজ ভূমি থেকে।

বুখারি হাদিস নং ২৪৫৬

হাদীস নং ২৪৫৬

মুসাদ্দাদ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : চল্লিশটি স্বভাবের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হল দুধ পান করার জন্য কাউকে বকরী দেওয়া।

কোন বান্দা যদি সাওয়াবের আশায় এবং পুরস্কার দানের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস রেখে উক্ত চল্লিশ স্বভাবের যে কোন একটির উপরে আমল করে তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

হাসসান রহ. বলেন, দুধেল বকরী মানীহা দেওয়া ছাড়া আর যে কয়টি স্বভাব আমরা গণনা করলাম, সেগুলো হল সালামরে উত্তর দেওয়া, হাঁচি দাতার হাঁচির উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা, (চলাচলের) পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ইত্যাদি। কিন্তু আমরা পনেরটি স্বভাবের বেশী গণনা করতে সক্ষম হলাম না।

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৫৭

হাদীস নং ২৪৫৭

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কিছু লোকের অতিরিক্ত ভূসম্পত্তি ছিল। তারা পরষ্পর পরামর্শ করে ঠিক করল যে এগুলো আমরা তিন ভাগের এক ভাগ, চার ভাগের এক ভাগ বা অর্ধেক হিসাবে ইজারা দিবে।

একথা শুনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কারো অতিরিক্ত জমি থাকলে হয় সে নিজেই চাষ করবে, কিংবা তার ভাইকে তা (চাষ করতে( দিবে। আর তা না করতে চাইলে তা নিজের কাছেই রেখে দিবে।

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ…….আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে হিজরত সম্পর্কে জানতে চাইল ।

তিনি তাকে বললেন, থাম ! হিজরতের ব্যাপারে সুকঠিন। (তার চেয়ে বরং বল) তোমার কি উট আছে? সে বলল, হ্যাঁ আছে। তিনি বললেন, তুমি কি এর সাদকা (যাকাত) আদায় করে থাক?

সে বলল, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি দুধ পানের জন্য এগুলো মানীহা হিসাবে দিয়ে থাক সে বলল, হ্যাঁ। আবার তিনি প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা ! পানি পান করানোর (ঘাটে সমবেত অভাবী লোকদের মাঝে বিতরণের জন্য) উটগুলো দোহন করো কি ?

সে বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি ইরশাদ করলেন, এ যদি হয় তাহলে সাগরের ওপারে হলেও অর্থাৎ তুমি যেখানে থাক আমল করতে থাক। আল্লাহ তোমার আমলের প্রতিদানে কম করবেন না।

বুখারি হাদিস নং ২৪৫৮

হাদীস নং ২৪৫৮

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….ইবনে আব্বসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক জমিতে গেলেন, ফসলগুলো আন্দোলিত হচ্ছিল ।

তিনি জানতে চাইলেন, কার (ফসলের) জমি? লোকেরা বলল, (অমুক ব্যক্তির কাছে থেকে) অমুক ব্যক্তি এটি ইজারা নিয়েছে। তিনি বললেন, জমিটার নির্দিষ্ট ভাড়া গ্রহণ না করে সে যদি তাকে সাময়িকভাবে তা দিয়ে দিত তবে সেটাই হতো তার জন্য উত্তম।

 হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৫৯ – প্রচলিত অর্থে কেউ যদি কাউকে বলে এই বাদীটি তোমার সেবার জন্য দান করছি, তাহলে তা জায়েজ।

হাদীস নং ২৪৫৯

আবুল ইয়ামান রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণিত গ্রন্থ হতে বলেছেন, ইবরাহীম আ.(স্ত্রী) সারাকে সাথে নিয়ে হিজরত করলেন।

(পথে এক জনপদের) লোকেরা সারার উদ্দেশ্যে হাজিরকে হাদিয়া দিলেন। তিনি ফিরে এসে (ইবরাহীমকে) বললেন, আপনি কি জেনেছেন; কাফিরকে আল্লাহ পরাস্ত করেছেন এবং সেবার জন্য একটি বালিকা দান করেছেন।

ইবনে সীরীন রহ. আবু হুরায়রা রা.-এর সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তারপর (সেই কাফির) সারার সেবার উদ্দেশ্যে হাজেরাকে দান করল।

বুখারি হাদিস নং ২৪৬০ – কেউ কাউকে আরোহণের জন্য ঘোড়া দান করলে তা উমরা ও সাদকা বলেই গণ্য হবে।

হাদীস নং ২৪৬০

হুমাইদী রহ……..উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি একটি লোককে আল্লাহর পথে বাহন হিসাবে একটি ঘোড়া দিলাম।

কিন্তু পরে তা বিক্রি হতে দেখে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বলেন, এটা খরিদ করো না এবং সাদকাকৃত মাল ফিরিয়ে নিও না।

আরও পড়ুনঃ

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

মন্তব্য করুন