হায়য অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

Table of Contents

হায়য অধ্যায় -সহিহ বুখারী ১

হায়য অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড
হায়য অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

হাদিস নং ২৯০

আলী ইবনে আবদুল্লাহ্ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমরা হজ্জের উদ্দেশ্যেই (মদীনা থেকে বের হলাম। ‘সারিফ’ নামক স্থানে যাওয়ার পর আমার হায়য আসলো। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং বললেন : কি হলো তোমার ? তোমার হায়য এসেছে ? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন : এ তো আল্লাহ্ তা’আলা আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং তুমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হজ্জের বাকী সব কাজ করে যাও। আয়িশা রা. বলেন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীগণের পক্ষ থেকে গাভী কুরবানী করলেন।

হাদিস ২৯১

আবদুল্লাহ্ ইবনে ইউসুফ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি হায়য অবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথা আঁচড়িয়ে দিতাম।

হাদিস ২৯২

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ……..উরওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তাকে (উরওয়াকে) প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, ঋতুবতী স্ত্রী কি স্বামীর খিদমত করতে পারে ? অথবা গোসল ফরয হওয়ার অবস্থায় কি স্ত্রী স্বামীর নিকটবর্তী হতে পারে ? উরওয়া রহ. জওয়াব দিলেন, এ সবই আমার কাছে সহজ। এ ধরণের সকর মহিলাই স্বামীর খিদমত করতে পারে। এ ব্যাপারে কারো অসুবিধা থাকার কথা নয়। আমাকে আয়িশা রা. বলেছেন যে, তিনি হায়যের অবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুল আঁচড়িয়ে দিতেন। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু’তাকিফ অবস্থায় মসজিদ থেকে তাঁর (আয়িশার) হুজরার দিকে তাঁর কাছে মাথাটা বাড়িয়ে দিতেন। তখন তিনি মাথার চুল আঁচ‌ড়াতেন অথচ তিনি ছিলেন ঋতুবতী।

হাদিস ২৯৩ – স্ত্রী হায়য অবস্থায় তার কোলে মাথা রেখে কুরআন তিলাওয়াত করা

আবু নু’আয়ম রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কোলে হেলান দিয়ে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতেন । আর তখন আমি হায়যের অবস্থায় ছিলাম।

হাদিস ২৯৪

মক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ……..উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে একই চাদরের নীচে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমার হায়য দেখা দিলে আমি চুপি চুপি বেরিয়ে গিয়ে হায়যের কাপড় পরে নিলাম। তিনি বললেন : তোমার কি নিফাস দেখা দিয়েছে? আমি বললাম, হাঁ। তখন তিনি আমাকে ডাকলেন । আমি তাঁর সঙ্গে চাদরের ভেতর শুয়ে পড়লাম।

হাদিস ২৯৫

কাবীসা রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাত অবস্থায় একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম এবং তিনি আমাকে নির্দেশ দিলে আমি ইযার পরে নিতাম, আর আমার হায়য অবস্থায় তিনি আমার সাথে মিশামিশি করে শুইতাম। তাছাড়া তিনি ই’তিকাফ অবস্থায় মাথা বের করে দিতেন , আর আমি হায়য অবস্থায় মাথা ধুয়ে দিতাম।

হাদিস ২৯৬

ইসমাঈল ইবনে খলীল রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমাদের কেউ হায়য অবস্থায় থাকলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে মিশামিশি করতে চাইলে তাকে প্রবল হায়যে ইযার পরার নির্দেশ দিতেন। তারপর তার সাথে মিশামিশি করতেন । তিনি (আয়িশা রা.) বলেন : তোমাদের মধ্যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মত কাম-প্রবৃত্তি দমন করার শক্তি রাখে কে ? খালিদ ও জারীর রহ. আশ-শায়বানী রহ. থেকে এই হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

হায়য অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড
হায়য অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

হাদিস ২৯৭

আবু নু’মান রহ……….মায়মূনা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন স্ত্রীর সাথে হায়য অবস্থায় মিশামিশি করতে চাইলে ইযার পরতে বলতেন। শায়বানী রহ. থেকে সুফিয়ান রহ. এ বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ২৯৮

সা’ঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ……..আবু সা’ঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, একবার ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়ের আদায়ের জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন : হে মহিলা সমাজ ! তোমরা সাদকা করতে থাক। কারণ আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমারই অধিক। তাঁরা আরয করলেন : কী কারণে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ‍? তিনি বললেন : তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর না-শোকরী করে থাক। বুদ্ধি ও দীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চাইতে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি। তারা বললেন : আমাদের দীন ও বুদ্ধির ত্রুটি কোথায়, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ? তিনি বললেন : একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয় ? তারা উত্তর দিলেন, ‘হাঁ’। তখন তিনি বললেন : এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ত্রুটি। আর হায়য অবস্থায় তারা কি সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকে না ? তারা বললেন, ‘হাঁ’। তিনি বললেন : এ হচ্ছে তাদের দীনের ত্রুটি।

হাদিস ২৯৯

আবু নু’আয়ম রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হজ্জের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলাম। আমরা সারিফ নামক স্থানে যাওয়ার পর আমি ঋতুবতী হই। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন : তুমি কাঁদছ কেন ? আমি বললাম : আল্লাহর শপথ ! এ বছর হজ্জ না করাই আমার জন্য পসন্দনীয়। তিনি বললেন : সম্ভবত তুমি ঋতুবতী হয়েছ। আমি বললাম, ‘হাঁ’। তিনি বললেন :এ তো আদম-কন্যাদের জন্য আল্লাহ্ নির্ধারিত করেছেন। তুমি পাক হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য হাজীদের মত সমস্ত কাজ করে যাও, কেবল কা’বার তাওয়াফ করবে না।

হাদিস ৩০০

আবদুল্লাহ্ ইবনে ইউসুফ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়শ রা. রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! আমি কখনও পবিত্র হই না। এমতাবস্থায় আমি কি সালাত ছেড়ে দেব ? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এ হলো এক ধরনের বিশেষ রক্ত, হায়যের রক্ত নয়। যখন তোমার হায়য শুরু হয় তখন তুমি সালাত ছেড়ে দাও। আর হায়য শেষ হলে রক্ত ধুয়ে সালাত আদায় কর।

হাদিস ৩০১

আবদুল্লাহ্ ইবনে ইউসুফ রহ………আসমা বিনতে আবু বকর সিদ্দীক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলো : ইয়া রাসূলুল্লাহ্ ! আমাদের কারো কাপড়ে হায়যের রক্ত লাগলে কি করবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমাদের কারো কাপড়ে হায়যের রক্ত লাগলে সে তা রগড়িয়ে, তারপর পানিতে ধুয়ে নেবে এবং সে কাপড়ে সালাত আদায় করবে।

হাদিস ৩০২

আসবাগ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমাদের কারো হায়য হলে, পাক হওয়ার পর রক্ত রগড়িয়ে কাপড় পানি দিয়ে ধুয়ে সেই কাপড়ে তিনি সালাত আদায় করতেন ।

হাদিস ৩০৩

ইসহাক ইবনে শাহীন রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তাঁর কোন এক স্ত্রী ইস্তিহাযার অবস্থায় ই’তিকাফ করেন। তিনি রক্ত দেখতেন এবং স্রাবের কারণে প্রায়ই তাঁর নীচে একটি পাত্র রাখতেন। রাবী বলেন : আয়িশা রা. হলুদ রঙের পানি দেখে বলেছেন, এ যেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অমুক স্ত্রীর ইস্তিহাযার রক্ত।

হায়য অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড
হায়য অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

হাদিস ৩০৪

কুতায়বা রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তাঁর কোন একজন স্ত্রী ই’তিকাফ করেছিলেন। তিনি রক্ত ও হলদে পানি বের হতে দেখতেন আর তাঁর নীচে একটা পাত্র বসিয়ে রাখতেন এবং সে অবস্থায় সালাত আদায় করতেন।

হাদিস ৩০৫

মুসাদ্দাদ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, উম্মুল মু’মিনীনের একজন ইস্তিহাযা অবস্থায় ই’তিকাফ করেছিলেন।

হাদিস ৩০৬

আবু নু’আয়ম রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমাদের কারো একটির বেশী কাপড় ছিল না। তিনি হায়য অবস্থায়ও এই কাপড় খানিই ব্যবহার করতেন, তাতে রক্ত লাগলে থুথু দিয়ে ভিজিয়ে নখ দ্বারা রগড়িয়ে নিতেন।

হাদিস ৩০৭

আবদুল্লাহ্ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব রহ………উম্মে আতিয়্যা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : কোন মৃত ব্যক্তির জন্য আমাদের তিন দিনের বেশী শোখ পালন করা থেকে নিষেধ করা হতো। কিন্তু স্বামীর ক্ষেত্রে চার মাস দশদিন (শোক পালনের অনুমতি ছিল)। আমরা তখন সুরমা লাগাতাম না, সুগন্ধি ব্যবহার করতাম না, ইয়েমেনের তৈরী রঙিন কাপড় ছাড়া অন্য কোন রঙিন কাপড় পরতাম না। তবে হায়য থেকে পবিত্রতার গোসলে আজফারের খুশবু মিশ্রিত বস্ত্রখন্ড ব্যবহারের অনুমতি ছিল। আর আমাদের জানাযার পেছনে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। এই বর্ণনা হিশাম ইবনে হাসসান রহ. হাফসা রা. থেকে, তিনি উম্মে আতিয়্যা রা. থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিবৃত করেছেন।

হাদিস ৩০৮

ইয়াহইয়া রা………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হায়যের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাকে গোসলের নিয়ম বলে দিলেন যে, এক টুকরা কস্তুরী লাগনো নেকড়া নিয়ে পবিত্রতা হাসিল কর। মহিলা বললেন : কিভাবে পবিত্রতা হাসিল করব? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তা দিয়ে পবিত্রতা হাসিল কর। মহিলা (তৃতীয়বার) বললেন : কিভাবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : সুবহানাল্লাহ্! তা দিয়ে তুমি পবিত্রতা হাসিল কর । আয়িশা রা. বলেন : তখন আমি তাকে টেনে আমার কাছে নিয়ে আসলাম এবং বললাম : তা দিয়ে রক্তের চিহ্ন বিশেষভাবে মুছে ফেল।

হাদিস ৩০৯ – হায়যের গোসলের বিবরণ

মুসলিম রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, একজন আনসারী মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন : আমি কিভাবে হায়যের গোসল করবো ? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এক টুকরো কস্তুরীযুক্ত নেকড়া লও এবং তিনবার ধুয়ে নাও। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরপর লজ্জাবশত অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন : তা দিয়ে তুমি পবিত্র হও। আয়িশা রা. বলেন : আমি তাকে নিজের দিকে টেনে নিলাম। তারপর তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার মর্ম বুঝিয়ে দিলাম।

হাদিস ৩১০ – হায়যের গোসলের সময় চুল আঁচড়ানো

মূসা ইবনে ইসমা’ঈল রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বিদায় হজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলাম। আমিও তাদেরই একজন ছিলাম যারা তামাত্তুর নিয়্যত করেছিল এবং সঙ্গে কুরবানীর পশু নেয়নি। তিনি বলেন : তাঁর হায়য শুরু হয় আর আরাফার রাত পর্যন্ত তিনি পাক হন নি। আয়িশা রা. বলেন : আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! আজ তো আরাফার রাত, আর আমি হজ্জের সঙ্গে উমরারও নিয়্যত করেছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন : মাথার বেণী খুলে ফেল, চুল আঁচড়াও আর উমরা থেকে বিরত থাক। আমি তা-ই করলাম। হজ্জ সমাধা করার পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান রা. কে হাসবায় অবস্থানের রাতে (আমাকে উমরা করানোর) নির্দেশ দিলেন। তিনি তান’ঈম থেকে আমাকে উমরা করালেন, যেখান থেকে আমি উমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম।

হাদিস ৩১১

হায়য অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড
হায়য অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

ইবায়দ ইবনে ইসমা’ঈল রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমরা যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার সময় নিকটবর্তী হলে বেরিয়ে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যে উমরার ইহরাম বাঁধতে চায় সে তা করতে পারে। কারণ, আমি সাথে কুরবানীর পশু না আনলে উমরার ইহরামই বাঁধতে চায় সে তা করতে পারে। কারণ, আমি সাথে কুরবানীর পশু না আনলে উমরার ইহরামই বাঁধতাম। তারপর কেউ উমরার ইহরাম বাঁধলেন, আর কেউ হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। আমি ছিলাম উমরার ইহরামকারীদের মধ্যে। আরাফার দিনে আমি ঋতুবতী ছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আমার অসুবিধার কথা বললাম। তিনি বললেন : তোমার উমরা ছেড়ে দাও, মাথার বেনী খুলে চুল আঁচড়াও, আর হজ্জের ইহরাম বাঁধ। আমি তাই করলাম। হাসবা নামক স্থানে অবস্থানের রাতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে আমার ভাই আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রা. কে পাঠালেন। আমি তান’ঈমের দিকে বের হলাম। সেখানে পূর্বের উমরার পরিবর্তে ইহরাম বাঁধলাম। হিশাম রহ. বলেন : এসব কারণে কোন দম (কুরবানী) সওম বা সদকা দিতে হয় নি।

হাদিস ৩১২

মুসাদ্দাদ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আল্লাহ্ তা’আলা মাতৃগর্ভের জন্য একজন ফিরিশতা নির্ধারণ করেছেন। তিনি (পর্যায়ক্রমে) বলতে থাকেন, হে রব! এখন বীর্য-আকৃতিতে আছে। হে রব! এখন জমাট রক্তে পরিণত হয়েছে। হে রব! এখন মাংসপিন্ডে পরিণত হয়েছে। এরপর আল্লাহ্ তা’আলা যখন তার সৃষ্টি পূর্ণ করতে চান, তখন জিজ্ঞাসা করেন : পুরুষ , না স্ত্রী? ভাগ্যবান, না দুর্ভাগা ? রিযক ও বয়ষ কত ? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তার মাতৃগর্ভে থাকতেই তা লিখে দেওয়া হয়।

হাদিস ৩১৩ – ঋতুবতী কিভাবে হজ্জ ও উমরার ইহরাম বাঁধবে?

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বিদায় হজ্জের সময় বের হয়েছিলাম। আমাদের কেউ ইহরাম বেঁধেছিল আর কেউ বেঁধেছিল হজ্জের। আমরা মক্কায় এসে পোছলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যারা উমরার ইহরাম বেঁধেছে কিন্তু কুরবানীর পশু সাথে আনেনি, তারা যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আর যারা হজ্জের ইহরাম বেঁধেছে তারা যেন হজ্জ পূর্ণ করে। আয়িশা রা. বলেন : এরপর আমার হায়য শুরু হয় এবং আরাফার দিনেও তা বহাল থাকে। আমি শুধু উমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মাথার বেণী খোলার , চুল আঁচড়িয়ে নেওয়ার এবং উমরার ইহরাম ছেড়ে হজ্জের ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিলেন। আমি তাই করলাম। পরে হজ্জ সমাধা করলাম। এরপর আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রা. কে আমার সাথে পাঠালেন। তিনি আমাকে তানঈম থেকে আমার আগের পরিত্যক্ত উমরার পরিবর্তে উমরা করতে নির্দেশ দিলেন।

হাদিস ৩১৪

আবদুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মদ রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ফাতিমা বিনতে আবু হুবাইশ রা. এর ইস্তিহাযা হতো। তিনি এ বিষয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এ হচ্ছে রগের রক্ত, হায়যের রক্ত নয়। সুতরাং হায়য শুরু হলে সালাত ছেড়ে দেবে। আর হায়য শেষ হলে গোসল করে সালাত আদায় করবে।

হাদিস ৩১৫

মূসা ইবনে ইসমা’ঈল রহ…….মু’আয রা. থেকে বর্ণিত, এক মহিলা আয়িশা রা.কে বললেন : আমাদের জন্য হায়যকালীন কাযা সালাত পবিত্র হওয়ার পর আদায় করলে বলবে কি না? আয়িশা রা. বললেন : তুমি কি হারূরিয়্যা ? আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে ঋতুবতী হতাম কিন্তু তিনি আমাদের সালাত কাযার নির্দেশ দিতেন না। অথবা তিনি (আয়িশা রা.) বলেন : আমরা তা কাযা করতাম না।

হাদিস ৩১৬

সা’দ ইবনে হাফস রহ……..উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে একই চাদরের নীচে শায়িত অবস্থায় আমার হায়য দেখা দিল। তখন আমি চুপিসারে বেরিয়ে এসে হায়যের কাপড় পরে নিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন : তোমার কি হায়য শুরু হয়েছে ? আমি বললাম : হাঁ । তখন তিনি আমাকে ডেকে নিয়ে তাঁর চাদরের নীচে স্থান দিলেন। বর্ণনাকারী যয়নাব রা. বলেন : আমাকে উম্মে সালামা রা. এও বলেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে জানাবাতের গোসল করতাম।

হাদিস ৩১৭

মু’আয ইবনে ফাযালা রহ……..উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : এক সময় আমি ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই চাদরের নীচে শুয়েছিলাম। আমার হায়য শুরু হলো। তখন আমি চুপিসারে বেরিয়ে গিয়ে হায়যের কাপড় পরে নিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন : তোমার কি হায়য আরম্ভ হয়েছে ? আমি বললাম, হাঁ । তিনি আমাকে ডেকে নিলেন এবং আমি তাঁর সঙ্গে একই চাদরের নীচে শুয়ে পড়লাম।

হাদিস ৩১৮

মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ………হাফসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমরা আমাদের যুবতীদের ঈদের সালাতে বের হতে নিষেধ করতাম। এক মহিলা বনূ খালাফের মহলে এসে পৌঁছলেন এবং তিনি তাঁর বোন থেকে বর্ণনা করলেন। তাঁর ভগ্নীপতি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বারটি গাযওয়ায় অংশ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন : আমার বোনও তাঁর সঙ্গে ছয়টি গাযওয়ায় শরীক ছিলেন। সেই বোন বলেন : আমরা আহতদের পরিচর্যা ও অসুস্থদের সেবা করতাম। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন : আমাদের কারো ওড়না না থাকার কারণে বের না হলে কোন অসুবিধা আছি কি ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেলন : তার সাথীর ওড়না তাকে পরিয়ে দেবে যাতে সে ভাল মজলিস ও মু’মিনদের দু’আয় শরীক হতে পারে। যখন উম্মে আতিয়্যা রা. আসলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম : আপনি কি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ শুনেছেন ? উত্তরে তিনি বললেন : আমার পিতা তাঁর জন্য কুরবান হোক। হাঁ, তিনি এরূপ বলেছিলেন। নবীর কথা আলোচিত হলেই তিনি বলতেন , আমার পিতা তাঁর জন্য কুরবান হোক। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, যুবতী পর্দানশীন ও ঋতুবতী মহিলারা বের হবে এবং ভাল স্থানে ও মু’মিনদের দু’আয় অংশগ্রহণ করবে। অবশ্য ঋতুবতী মহিলা ঈদগাহ থেকে দূরে থাকবে। হাফসা রা. বলেন : আমি জিজ্ঞাসা করলাম : ঋতুবতীও কি বেরুবে ? তিনি বললেন : সে কি আরাফাতে ও অমুক স্থানে উপস্থিত হবে না।

হাদিস ৩১৯

আহমদ ইবনে আবু রাজা রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়শ রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন : আমার ইস্তিহাযা হয়েছে এবং পবিত্র হচ্ছি না। আমি কি সালাত ছেড়ে দেব ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : না, এ হলো রগ-নির্গত রক্ত। তবে এরূপ হওয়ার আগে যতদিন হায়য হতো সে কয়দিন সালাত অবশ্যই ছেড়ে দাও। তারপর গোসল করে নিবে ও সালাত আদায় করবে।

হাদিস ৩২০ – হায়যের দিনগুলো ছাড়া হলুদ এবং মেটে রঙ দেখা

কুতায়বা ইব্‌ন সাঈদ (র.)…উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা মেটে ও হলুদ রঙ হায়যের মধ্যে গণ্য করতাম না।

হাদিস ৩২১

ইবরাহীম ইবনে মুনযির আল-হিযামী রহ…….. নবী পত্নী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : উম্মে হাবীবা রা. সাত বছর পর্যন্ত ইস্তিহাযাগ্রস্তা ছিলেন । তিনি এ ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাকে গোসলের নির্দেশ দিলেন এবং বললেন : এ শিরা-নির্গত রক্ত। এরপর উম্মে হাবীবা রা. প্রতি সালাতের জন্য গোসল করতেন।

হাদিস ৩২২

আবদুল্লাহ্ ইবনে ইউসুফ রহ…….. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্নী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! সাফিয়্যা বিনতে হুয়াইয়ের হায়য শুরু হয়েছে। তিনি বললেন : সে তো আমাদেরকে আটকিয়ে রাখবে। সে কি তোমাদের সংগে তাওয়াফে যিয়ারত করেনি ? তারা জবাবে দিলেন, হাঁ, করেছেন। তিনি বললেন : তাহলে বের হও।

হাদিস ৩২৩

মু’আল্লা ইবনে আসাদ রহ……..আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : (তাওয়াফে যিয়ারতের পর) মহিলার হায়য হলে তার চলে যাওয়ার অনুমতি রয়েছ। এর আগে হযরত ইবনে উমর রা. বলতেন : সে যেতে পারবে না। তারপর তাকে বলতে শুনেছি যে, সে যেতে পারে। কারণ, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য (যাওয়ার) অনুমতি দিয়েছিলেন।

হাদিস ৩২৪

আহমদ ইবনে ইউনুস রা. আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : হায়য দেখা দিলে সালাত ছেড়ে দাও আর হায়যের সময় শেষ হয়ে গেলে রক্ত ধুয়ে নাও এবং আদায় কর।

হাদিস ৩২৫

আহমদ ইবনে সুরায়জ রহ….. সামুরা ইবনে জুনদুব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : একজন প্রসূতি মহিলা মারা গেলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযা পড়লেন। সালাতে তিনি মহিলার দেহের মাঝ বরাবর দাঁড়িয়েছিলেন।

হাদিস ৩২৬

হাসান ইবনে মুদরিক রহ………আবদুল্লাহ্ ইবনে শাদ্দাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি আমার খালা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের সিজদার জায়গায় সোজাসুজি শুয়ে থাকতেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাটাইয়ে সালাত আদায় করতেন। সিজদা করার সময় তাঁর কাপড়ের অংশ আমার (মায়মূনার) গায়ে লাগতো।

হায়য অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড
হায়য অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

মন্তব্য করুন