হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায়

 

Table of Contents

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬৬১ – রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার উমরা করেছেন।

হাদীস নং ১৬৬১

কুতাইবা রহ………..মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং উরওয়া ইবনে যুবাইর রহ. মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. আয়িশা রা.-এর হুজরার পাশে বসে আছেন। ইতিমধ্যে কিছু লোক মসজিদে সালাতুদ্দোহা আদায় করতে লাগল। আমরা তাকে এদের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, এটা বিদআত। এরপর উরওয়া ইবনে যুবাইর রহ. তাকে বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার উমরা আদায় করেছেন ? তিনি বললেন, চারবার। এর মধ্যে একটি রজব মাসে। আমরা তাঁর কথা রদ করা পছন্দ করলাম না। আমরা উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রা.-এর হুজরার ভিতর থেকে তাঁর মিসওয়াক করার আওয়াজ শুনতে পেলাম। তখন উরওয়া রা. বললেন, হে আম্মাজন, হে মুমিনীন ! আবু আবদুর রাহমান কি বলছেন, আপনি কি শুনেননি ? আয়িশা রা. বললেন, তিনি কি বলছেন ? উরওয়া রহ বললেন, তিনি বলছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারবার উমরা আদায় করেছেন। এর মধ্যে একটি রজব মাসে। আয়িশা রা. বললেন, আবু আবদুর রাহমানের প্রতি আল্লাহর রহম করুন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোন উমরা আদায় করেননি, যে তিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন না। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাসে কখনো উমরা আদায় করেননি।

বুখারি হাদিস নং ১৫৫৯ – আরাফায় খুতবা সংক্ষিপ্ত করা।

হাদীস নং ১৫৫৯

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….সালিম ইবনে আবদুল্লাহ রহ. থেকে বর্ণিত যে, (খলীফা) আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান হাজ্জাজকে লিখে পাঠালেন, তিনি যেন হজ্জের ব্যাপারে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-কে অনুসরণ করেন। যখন আরাফার দিন হল, তখন সূর্য হেলে যাওয়ার পর ইবনে উমর রা. আসলেন এবং আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। তিনি তাঁর তাঁবুর কাছে এসে উচ্চস্বরে ডাকলেন, ও কোথায় ? হাজ্জাজ বেরিয়ে আসলেন। ইবনে উমর রা. বললেন, চল। হাজ্জাজ বললেন, এখনই ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। হাজ্জাজ বললেন, আমাকে সামান্য অবকাশ দিন, মাথায় পানি ঢেলে বের হয়ে আসি। তখন তিনি তার সওয়ারী থেকে নেমে পড়লেন। অবশেষে হাজ্জাজ বেরিয়ে এলেন। এরপর হাজ্জাজ চলতে লাগলেন, আমি ও আমার পিতার মাঝে তিনি চললেন, আমি তাকে বললাম, যদি আপনি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চান তাহলে খুতবা সংক্ষিপ্ত করবেন এবং উকুফে জলদি করবেন। ইবনে উমর রা. বললেন, সে (সালিম) ঠিকই বলেছে।

বুখারি হাদিস নং ১৪২৬ – মহান আল্লাহর বাণী : তারা তোমার নিকট আসবে পায়ে হেটে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উটগুলোর পিঠে, তারা আসবে দূর-দূরান্তর পথ অতিক্রম করে যাতে তারা তাদের কল্যাণময় উপস্থিত হতে পারে।

হাদীস নং ১৪২৬

আহমদ ইবনে ঈসা রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দেখেছি, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুযাইফা নামক স্থানে তাঁর বাহনের উপর আরোহণ করেন, বাহনটি সোজা হয়ে দাঁড়াতেই তিনি তালবিয়া উচ্চারণ করতে থাকেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪২৭

হাদীস নং ১৪২৭

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তালবিয়া পাঠ যুল-হুলাইফা থেকে শুরু হত যখন তাঁর বাহন তাকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াত। হাদীসটি আনাস ও ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেছেন অর্থাৎ ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ.-এর বর্ণিত হাদীসটি।

বুখারি হাদিস নং ১৪২৮ – উটের হাওদায় আরোহণ করে হজ্জে গমন।

হাদীস নং ১৪২৮

আমর ইবনে আলী রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনারা উমরা করলেন, আর আমি উমরা করতে পারলাম না । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হে আবদুর রহমান ! তোমার বোন (আয়িশা)-কে সাথে নিয়ে তানঈম থেকে গিয়ে উমরা করিয়ে নিয়ে এসো। তিনি আয়িশাকে উটের পিঠে ছোট একটি হাওদার পশ্চাদ্ভাগে বসিয়ে দেন এবং তিনি উমরা সমাপন করেন।

হজ্জ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৪২৯ – হজ্জে মাবরূর -এর ফজিলত।

হাদীস নং ১৪২৯

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হল, সর্বোত্তম আমল কোনটি ? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা। জিজ্ঞাসা করা হল, তারপর কোনটি ? তিনি বললেন : আল্লাহর পথে জিহাদ করা। জিজ্ঞাসা করা হল, তারপর কোনটি ? তিনি বললেন : হজ্জ-ই মাবরূর (মাকবুল হজ্জ)।

বুখারি হাদিস নং ১৪৩০ – হজ্জে মাবরূর -এর ফজিলত।

হাদীস নং ১৪৩০

আবদুর রহমান ইবনে মুবারক রহ………উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! জিহাদকে আমরা সর্বোত্তম আমল মনে করি। কাজেই আমরা কি জিহাদ করব না ? তিনি বললেন : না, বরং তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আমল হল, হজ্জে মাবরূর।

বুখারি হাদিস নং ১৪৩১

হাদীস নং ১৪৩১

আদম রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি : যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ করল এবং অশালীন কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে বিরত রইল, সে নবজাতক শিশু, যাকে তার মা এ মুহূর্তেই প্রসব করেছে, তার ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরবে।

বুখারি হাদিস নং ১৪৩২ – হজ্জ ও উমরার মীকাত নির্ধারণ।

হাদীস নং ১৪৩২

মালিক ইবনে ইসমাঈল রহ………যায়েদ ইবনে জুবাইর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর কাছে তাঁর অবস্থান স্থলে যান, তখন তাঁর জন্য তাঁবু ও চাদওয়া টানানো হয়েছিল। (যায়েদ রা. বলেন) আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন স্থান থেকে উমরার ইহরাম বাঁধা জায়িজ হবে ? তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদবাসীদের জন্য কারন, মদীনাবাসীদের জন্য যুল-হুলাইফা ও সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা (ইহরামের মীকাত) নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৩৩ – মহান আল্লাহর বাণী : তোমরা পাথেয়র ব্যবস্থা কর। আত্মসংযম ই শ্রেষ্ঠ পাথেয়।

হাদীস নং ১৪৩৩

ইয়াহইয়া ইবনে বিশর রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়ামানের অধিবাসীগণ হজ্জে গমনকালে পাথেয় সংগে নিয়ে যেত না এবং তারা বলছিল, আমরা আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীল। কিন্তু মক্কায় উপনীত হয়ে তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচনা করে বেড়াত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ অবতীর্ণ করেন : তোমরা পাথেয়র ব্যবস্থা করা, আত্মসংযম ই শ্রেষ্ঠ পাথেয়। হাদীসটি ইবনে উয়ায়না রহ. আমর রহ. সূত্রে ইকরিমা রহ. থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৩৪ – মক্কাবাসীদের জন্য হজ্জ ও উমরার ইহরাম বাঁধার স্থান।

হাদীস নং ১৪৩৪

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম বাঁধার স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন, মদীনাবাসীদের জন্য যুল- হুলাইফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা, নজদবাসীদের জন্য কারনুল মানাযিল, ইয়ামানবাসীদের জজন্য ইয়ালামলাম। হজ্জ ও উমরা নিয়্যাতকারী সেই অঞ্চলের অধিবাসী এবং ঐ সীমারেখা দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসী সকলের জন্য উক্ত স্থানগুলো মীকাতরূপে গণ্য এবং যারা এ সব মীকাতের ভিতরে (অর্থাৎ মক্কার নিকটবর্তী) স্থানের অধিবাসী, তারা যেখান হতে হজ্জের নিয়্যাত করে বের হবে (সেখান হতে ইহরাম বাঁধবে) এমনকি মক্কাবাসী মক্কা থেকেই (হজ্জের) ইহরাম বাঁধবে।

বুখারি হাদিস নং ১৪৩৫ – মদীনাবাসীদের মীকাত ও তারা যুল-হুলায়ফা পৌছার পূর্বে ইহরাম বাঁধবে না।

হাদীস নং ১৪৩৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : মদীনাবাসীগণ যুল-হুলাইফা থেকে, সিরিয়াবাসীগণ জুহফা থেকে ও নজদবাসীগণ কারন থেকে ইহরাম বাঁধবে। আবদুল্লাহ রা. বলেন, আমি (অন্যের মাধ্যমে) জানতে পেরেছি, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ইয়ামানবাসীগণ ইয়ালামলাম থেকে ইহরাম বাঁধবে।

বুখারি হাদিস নং ১৪৩৬

হাদীস নং ১৪৩৬

মুসাদ্দাদ রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম বাঁধার স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন, মদীনাবাসীদের জন্য যুল-হুলাইফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা, নজদবাসীদের জন্য কারনুল-মানাযিল, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম। উল্লিখিত স্থানসমূহ হজ্জ ও উমরার নিয়্যাতকারী সেই অঞ্চলের অধিবাসী এবং ঐ সীমারেখা দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য ইহরাম বাঁধার স্থান এবং মীকাতের ভিতরে স্থানের লোকেরা নিজ বাড়ি থেকে ইহরাম বাঁধবে। এমনকি মক্কাবাসীগণ মক্কা থেকেই ইহরাম বাঁধবে।

বুখারি হাদিস নং ১৪৩৭ – নজদবাসীদের ইহরাম বাঁধার স্থান।

হাদীস নং ১৪৩৭

আলী ও আহমদ রহ………..আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মীকাতের সীমা নির্ধারিত করেছেন। তিনি বলেন, মদীনাবাসীদের মীকাত হল যুল-হুলাইফা, সিরিয়াবাসীদের মীকাত হল মাহয়াআ যার অপর নাম জুহফা এবং নজদবাসীদের মীকাত হল কারন। ইবনে উমর রা. বলেন, আমি শুনিনি, তবে লোকেরা বলে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ইয়ামনবাসীদের মীকাত হল ইয়ালামলাম।

হজ্জ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৪৩৮ – মীকাতের ভিতরের অধিবাসীদের ইহরাম বাঁধার স্থান।

হাদীস নং ১৪৩৮

কুতাইবা রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাবাসীদের জন্য মীকাত নির্ধারণ করেন যুল-হুলাইফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম, নজদবাসীদের জন্য কারন। উল্লিখিত স্থানসমূহ হজ্জ ও উমরার নিয়্যাতকারী সেই অঞ্চলের অধিবাসী এবং ঐ সীমারেখা দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য ইহরাম বাঁধার স্থান। আর যে মীকাতের ভিতরের অধিবাসী সে নিজ বাড়ি থেকে ইহরাম বাঁধবে। এমনকি মক্কাবাসীগণ মক্কা থেকেই ইহরাম বাঁধবে।

বুখারি হাদিস নং ১৪৩৯ – ইয়ামানবাসীদের ইহরাম বাঁধার স্থান।

হাদীস নং ১৪৩৯

মুআল্লা ইবনে আসাদ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাবাসীদের জন্য মীকাত নির্ধারণ করেন যুল-হুলাইফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম, নজদবাসীদের জন্য কারন। উল্লিখিত স্থানসমূহ হজ্জ ও উমরার নিয়্যাতকারী সেই অঞ্চলের অধিবাসী এবং ঐ সীমারেখা দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য ইহরাম বাঁধার স্থান। এ ছাড়াও যারা মীকাতের ভিতরের অধিবাসী তারা সেখান থেকেই (ইহরাম আরম্ভ করবে) এমনকি মক্কাবাসীগণ মক্কা থেকেই (ইহরাম বাঁধবে)।

বুখারি হাদিস নং ১৪৪০ – যাতু’ইরক ইরাকবাসীদের মীকাত।

হাদীস নং ১৪৪০

আলী ইবনে মুসলিম রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ শহর দুটি (কুফা ও বসরা) বিজিত হল, তখন সে স্থানের লোকগণ উমর রা.-এর নিকট এসে নিবেদন করল, হে আমীরুল মু’মিনীন ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নজদবাসীদের জন্য (মীকাত হিসাবে) সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন কারন, কিন্তু তা আমাদের পথ থেকে দূরে। কাজেই আমরা কারন-সীমায় অতিক্রম করতে চাইলে তা হবে আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। উমর রা. বললেন, তাহলে তোমরা লক্ষ্য করা তোমাদের পথে কারন-এর সম দূরত্ব-রেখা কোন স্থানটি ? তারপর তিনি যাতু’ইরক মীকাতরূপে নির্ধারণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৪১ – যুল-হুলাইফায় সালাত।

হাদীস নং ১৪৪১

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবদুল্লাহ ইবেন উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফার বাতহা নামক উপত্যকায় উট বসিয়ে সালাত আদায় করেন। (রাবী নাফি বলেন) ইবনে উমর রা.ও তাই করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৪২ – “শাজারা”-এর রাস্তা দিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গমন।

হাদীস নং ১৪৪২

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হজ্জের সফরে) শাজারা নামক পথ দিয়ে গমন করতেন এবং মুআররাস নামক পথ দিয়ে (মদীনায়) প্রবেশ করতেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার দিকে সফর করতেন, মসজিদুশ-শাজারায় সালাত আদায় করতেন ও ফিরার পথে যুল-হুলাইফার বাতনুল-ওয়াদীতে সালাত আদায় করতেন এবং সেখানে সকাল পর্যন্ত রাত যাপন করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৪৩ – নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী : আকীক বরকতময় উপত্যকা।

হাদীস নং ১৪৪৩

হুমায়দী রহ……….উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আকীক উপত্যকায় অবস্থানকালে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি : আজ রাতে আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক আমার নিকট এসে বললেন, আপনি এই বরকতময় উপত্যকায় সালাত আদায় করুন এবং বলুন, (আমার এ ইহরাম) হজ্জের সাথে উমরারও।

বুখারি হাদিস নং ১৪৪৪

হাদীস নং ১৪৪৪

মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, যুল-হুলাইফার (আকীক) উপত্যকায় রাত যাপনকালে তাকে স্বপ্নযোগে বলা হয়, আপনি বরকতময় উপত্যকায় অবস্থান করছেন। (রাবী মূসা ইবনে উকরা রা. বলেন) সালিম রহ. আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে উট বসিয়ে ঐ উট বসাবার স্থানটির সন্ধান চালান, যেখানে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. উট বসিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রাত যাপনের স্থানটি সন্ধান করতেন। সে স্থানটি উপত্যকায় মসজিদের নীচু জায়গায় অবতরণকারীদের ও রাস্তার একেবারে মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

বুখারি হাদিস নং ১৪৪৫ – কাপড়ে খালুক লেগে থাকলে তিনবার ধোয়া।

হাদীস নং ১৪৪৫

মুহাম্মদ ……..সাফওয়ান ইবনে ইয়ালা রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইয়ালা রা. উমর রা. -কে বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর ওহী অবতরণ মুহূর্তটি আমাকে দেখাবেন। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “জি’রানা” নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন, তাঁর সংগে কিছু সংখ্যক সাহাবী ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! কোন ব্যক্তি সুগন্ধিযুক্ত পোশাক পরে উমরার ইহরাম বাঁধলে তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কি ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। এরপর তাঁর নিকট ওহী আসল। উমর রা. ইয়ালা রা.-কে ইঙ্গিত করায় তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। তখন একখণ্ড কাপড় দিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপর ছায়া করা হয়েছিল, ইয়ালা রা. মাথা পবেশ করিয়ে দেখতে পেলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখমণ্ডল লাল বর্ণ, তিনি সজোরে শ্বাস গ্রহণ করছেন। এরপর সে অবস্থা দূর হল। তিনি বললেন : উমরা সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায় ? প্রশ্নকারীকে উপস্থিত করা হলে তিনি বললেন : তোমার শরীরের সুগন্ধি তিনবার ধুয়ে ফেল ও জুব্বাটি খুলে ফেল এবং হজ্জে যা করে থাক উমরাতেও তাই কর। (রাবী ইবনে জুরাইজ বলেন) আমি আতা রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনবার ধোয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি কি উত্তমরূপে পরিষ্কার করা বুঝিয়েছেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাই।

বুখারি হাদিস নং ১৪৪৬ – ইহরাম বাঁধাকালে সুগন্ধি ব্যবহার ও কি প্রকার কাপড় পরে ইহরাম বাঁধবে এবং চুল দাঁড়ি আচঁড়াবে ও তেল লাগাবে।

হাদীস নং ১৪৪৬

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ……….সাঈদ ইবনে জুবাইর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে উমর রা .(ইহরাম বাঁধা অবস্থায়) যায়তুন তেল ব্যবহার করতেন। (রাবী মানসুর বলেন) এ বিষয় আমি ইবরাহীম রহ.-এর কাছে করলে তিনি বললেন, তাঁর কথায় তোমার কি দরকার ! আমাকে তো আসওয়াদ রহ. আয়িশা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, ইহরাম বাঁধা অবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সিথিতে যে সুগন্ধি তেল চকচক করছিল তা যেন আজও আমি দেখতে পাচ্ছি।

বুখারি হাদিস নং ১৪৪৭

হাদীস নং ১৪৪৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………নবী সহধর্মিনী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইহরাম বাঁধঅর সময় আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গায়ে সুগন্ধি মেখে দিতাম এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফের পূর্বে ইহরাম খোলার সময়ও।

বুখারি হাদিস নং ১৪৪৮ – যে চুলে আঠালো দ্রব্য লাগিয়ে ইহরাম বাঁধে।

হাদীস নং ১৪৪৮

আসবাগ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চুলে আঠালো দ্রব্য লাগিয়ে ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি।

বুখারি হাদিস নং ১৪৪৯ – যুল-হুলাইফার মসজিদের নিকট থেকে ইহরাম বাঁধা।

হাদীস নং ১৪৪৯

আলী ইবনে আবদুল্লাহ ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফার মসজিদের নিকট থেকে ইহরাম বেঁধেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৫০ – মুহরিম ব্যক্তি যে প্রকার কাপড় পরবে না।

হাদীস নং ১৪৫০

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! মুহরিম ব্যক্তি কি প্রকারের কাপড় পড়বে ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : সে জামা, পাগড়ী, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরিধান করবে না। তবে কারো জুতা না থাকলে সে টাখনুর নিচ পর্যন্ত মোজা কেটে (জুতার ন্যায়) পরবে। তোমরা জাফরান বা ওয়ারস (এক প্রকার খুশবু) রঞ্জিত কোন কাপড় পরবে না। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, মুহরিম ব্যক্তি মাথা ধুতে পারবে। চুল আচড়াবে না, শরীর চুলকাবে না। মাথা ও শরীর থেকে উকুন যমীনে ফেলে দিবে।

বুখারি হাদিস নং ১৪৫১ – হজ্জের সফরে বাহনে একাকী আরোহণ করা ও অপরের সাথে আরোহণ করা।

হাদীস নং ১৪৫১

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, আরাফা থেকে মযদালিফা পর্যন্ত একই বাহনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে উসামা ইবনে যায়েদ রা. উপবিষ্ট ছিলেন। এরপর মুযদালিফা থেকে মিনা পর্যন্ত ফযল (ইবনে আব্বাস রা.)-কে তাঁর পিছনে আরোহণ করান। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, তাঁরা উভয়ই বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরা আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৫২ – মুহরিম ব্যক্তি কি প্রকার কাপড়, চাদর ও লুঙ্গি পরবে।

হাদীস নং ১৪৫২

মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর মুকাদ্দামী রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ চুল আচড়িয়ে, তেল মেখে, লুঙ্গি ও চাদর পরে (হজ্জের উদ্দেশ্যে) মদীনা থেকে রওয়ানা হন। তিনি কোন প্রকার চাদর বা লুঙ্গি পরতে নিষেধ করেননি, তবে শরীরের চামড়া রঞ্জিত হয়ে যেতে পারে এরূপ জাফরানী রঙ্গের কাপড় পরতে নিষেধ করছেন। যুল-হুলাইফা থেকে সাওয়ারীতে আরোহণ করে বায়দা নামক স্থানে পৌছে তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ তালবিয়া পাঠ করেন এবং কুরবানীর উটের গলায় মালা ঝুলিয়ে দেন, তখন যুলকাদা মাসের পাঁচদিন অবশিষ্ট ছিল। যিলহজ্জ মাসের চতুর্থ দিনে মক্কায় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম কাবাঘরের তাওয়াফ করে সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করেন। তাঁর কুরবানীর উটের গলায় মালা পরিয়েছেন বলে তিনি ইহরাম খুলেননি। তারপর মক্কার উটু ভূমিতে হাজূন নামক স্থানের নিকটে অবস্থান করেন, তখন তিনি হজ্জের ইহরামের অবস্থায় ছিলেন। (প্রথমবার) তাওয়াফ করার পর আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তন করার পূর্বে আর কাবার নিকটবর্তী হন নি। অবশ্য তিনি সাহাবাগণকে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সায়ী সম্পাদনা করে মাথার চুল ছেটে হালাল হতে নির্দেশ দেন। কেননা যাদের সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই, এ বিধানটি কেবল তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । আর যার সাথে তার স্ত্রী রয়েছে তার জন্য স্ত্রী-সহবাস, সুগন্ধি ব্যবহার ও যে কোন ধরনের কাপড় পরা বৈধ।

হজ্জ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৪৫৩ – ভোর পর্যন্ত যুল-হুলাইফায় রাত যাপন করা

হাদীস নং ১৪৫৩

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় চার রাকআত ও যুল-হুলাইফায় পৌছে দু’ রাকআত সালাত আদায় করেন। তারপর ভোর পর্যন্ত সেখানে রাত যাপন করেন। এরপর যখন তিনি সওয়ারীতে আরোহণ করেন এবং তা তাকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায় তখন তিনি তালবিয়া পাঠ করেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৫৪

হাদীস নং ১৪৫৪

কুতাইবা রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় যোহরের সালাত চার রাকআত আদায় করেন এবং যুল-হুলাইফায় পৌছে আসরের সালাত দু’ রাকআত আদায় করেন। রাবী বলেন, আমার ধারণা যে, তিনি ভোর পর্যন্ত সেখানে রাত যাপন করেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৫৫ – উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা।

হাদীস নং ১৪৫৫

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত মদীনায় চার রাকআত আদায় করলেন এবং আসরের সালাত যুল-হুলাইফায় দু’ রাকআত আদায় করেন। আমি শুনতে পেলাম তাঁরা সকলে উচ্চস্বরে হজ্জ ও উমরার তালবিয়া পাঠ করছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৫৬ – তালবিয়া-এর শব্দসমূহ।

হাদীস নং ১৪৫৬

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তালবিয়া নিম্নরূপ : আমি হাযির হে আল্লাহ, আমি হাযির, আপনার কোন অংশীদার নেই, আমি হাযির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও সকল নিয়ামত আপনার এবং কর্তৃত্ব আপনারই, আপনার কোন অংশীদার নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৪৫৭ –

হাদীস নং ১৪৫৭

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে তালবিয়া পাঠ করতেন তা আমি ভালোরূপে অবগত (তাঁর তালবিয়া ছিল) আমি হাযির হে আল্লাহ ! আমি হাযির, আমি হাযির, আপনার কোন অংশীদার নেই, আমি হাযির, সকর প্রশংসা ও সকল নিয়ামত আপনারই। আবু মুআবিয়া রহ. আমাশ রহ. থেকে বর্ণনায় সফিয়া রহ.-এর অনুসরণ করেছেন। শুবা রহ…..আবু আতিয়্যা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রা. থেকে শুনেছি।

বুখারি হাদিস নং ১৪৫৮ – তালবিয়া পাঠ করার পূর্বে সাওয়ারীতে আরোহণকালে তাহমীদ, তাসবীহ ও তাকবীর পাঠ করা।

হাদীস নং ১৪৫৮

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে মদীনায় যুহরের সালাত আদায় করেন চার রাকআত এবং যুল-হুলাইফায় (পৌছে) আসরের সালাত আদায় করলেন দু’ রাকআত। এরপর সেখানেই ভোর পর্যন্ত রাত কাটালেন। সকালে সাওয়ারীতে আরোহণ করে বায়দা নামক স্থানে উপনীত হলেন। তখন তিনি আল্লাহর হামদ, তাসবীহ ও তাকবীর পাঠ করছিলেন। এরপর তিনি হজ্জ ও উমরার তালবিয়া পাঠ করলেন। সাহাবীগণও উভয়ের তালবিয়া পাঠ করলেন। যখন আমরা (মক্কার উপকণ্ঠে) পৌছলাম তখন তিনি সাহাবীগণকে (উমরা শেষ করে) হালাল হওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তাঁরা হালাল হয়ে গেলেন। অবশেষে যিলহজ্জ মাসের আট তারিখে তাঁরা হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। রাবী বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে কিছুসংখ্যক দাঁড়ানো উট নহর করলেন। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় সাদা কাল মিশ্রিত রং-এর দুটি মেষ যবেহ করেছিলেন। আবু আবদুল্লাহ (বুখারী) রহ. বলেন, কোন কোন রাবী হাদীসটি আইয়্যূব রহ. সূত্রে জনৈক রাবীর মাধ্যমে আনাস রা. থেকে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৫৯ – সাওয়ারী আরোহীকে নিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে গেলে তালবিয়া পাঠ করা।

হাদীস নং ১৪৫৯

আবু আসিম রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে তাঁর সাওয়ারী সোজা দাঁড়িয়ে গেলে তিনি তালবিয়া পাঠ করেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৬০ – কিবলামুখী হয়ে তালবিয়া পাঠ করা।

হাদীস নং ১৪৬০

সুলাইমান ইবনে দাউদ আবু রবী রহ……নাফি রহ. থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, ইবনে উমর রা. মক্কা গমনের ইচ্ছা করলে দেহে সুগন্ধিহীন তেল লাগাতেন। তারপর যুল-হুলাইফার মসজিদে পৌছে সালাত আদায় করে সাওয়ারীতে আরোহণ করতেন। তাকে নিয়ে সাওয়ারী সোজা দাঁড়িয়ে গেলে তিনি ইহরাম বাঁধতেন। এরপর তিনি (ইবনে উমর রা. ) বলতেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এরূপ করতে দেখেছি।

বুখারি হাদিস নং ১৪৬১ – নীচু ভূমিতে অবতরণকালে তালবিয়া পাঠ করা।

হাদীস নং ১৪৬১

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ…….মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবনে আব্বাস রা. -এর নিকটে ছিলাম, লোকেরা দাজ্জালের আলোচনা করে বলল যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তার দু’ চোখের মাঝে (কপালে) কা-ফি-র লেখা থাকবে। রাবী বলেন, ইবনে আব্বাস রা. বললেন, এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছু শুনিনি । অবশ্য তিনি বলেছেন : আমি যেন দেখছি মূসা আ. নীচু ভূমিতে অবতরণকালে তালবিয়া পাঠ করছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৬২ – হায়েয ও নিফাস অবস্থায় মহিলাগণ কিরূপে ইহরাম বাঁধবে ?

হাদীস নং ১৪৬২

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজ্জের সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হয়ে উমরার নিয়্যাতে ইহরাম বাঁধি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যার সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে সে যেন উমরার সাথে হজ্জের ইহরামও বেঁধে নেয়। তারপর সে উমরা ও হজ্জ উভয়টি সম্পন্ন না করা পর্যন্ত হালাল হতে পারবে না। (আয়িশা রা. বলেন) এরপর আমি মক্কায় ঋতুবতী অবস্থায় পৌঁছলাম। কাজেই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সায়ী কোনটিই আদায় করতে সমর্থ হলাম না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার অসুবিধার কথা জানালে তিনি বললেন : মাথার চুল খুলে নাও এবং তা আচড়িয়ে নাও এবং হজ্জের ইহরাম বহাল রাখ এবং উমরা ছেড়ে দাও। আমি তাই করলাম, হজ্জ সম্পন্ন করার পর আমাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রা.-এর সঙ্গে তানঈম-এ প্রেরণ করেন। সেখান থেকে আমি উমরার ইহরাম বাঁধি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : এ তোমার (ছেড়ে দেওয়া) উমরার স্থলবর্তী। আয়িশা রা. বলেন, যারা উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন, তাঁরা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী সমাপ্ত করে হালাল হয়ে যান এবং মিনা থেকে ফিরে আসার পর দ্বিতীয়বার তাওয়াফ করেন আর যারা হজ্জ ও উমরা উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিলেন তাঁরা একবার তাওয়াফ করেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৬৩ – নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনকালে তাঁর ইহরামের অনুরূপ যিনি ইহরাম বেঁধেছেন।

হাদীস নং ১৪৬৩

মক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রা-কে ইহরাম বহাল রাখার আদেশ দিলেন, এরপর জাবির রা. সুরাকা রা.-এর উক্তি বর্ণনা করেন। মুহাম্মদ ইবনে বকর রহ. ইবনে জুরাইজ রহ. থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন ; নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রা.-কে বললেন : হে আলী ! তুমি কোন প্রকার ইহরাম বেঁধেছ ? আলী রা. বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইহরামের অনুরূপ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাহলে কুরবানীর পশু প্রেরণ কর এবং ইহরাম অবস্থায় যেভাবে আছ সে ভাবেই থাক।

বুখারি হাদিস নং ১৪৬৪

হাদীস নং ১৪৬৪

হাসান ইবনে আলী খাল্লাল হুযালী রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী রা. ইয়ামান থেকে এসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি প্রশ্ন করলেন : তুমি কী প্রকার ইহরাম বেঁধেছ ? আলী রা. বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুরূপ । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমার সঙ্গে কুরবানীর পশু না হলে আমি হয়ে যেতাম।

বুখারি হাদিস নং ১৪৬৫

হাদীস নং ১৪৬৫

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবু মূসা (আশআরী) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামানে আমার গোত্রের নিকট পাঠিয়েছিলেন; তিনি (হজ্জের সফরে) বাতহা নামক স্থানে অবস্থানকালে আমি (ফিরে এসে) তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে বললেন : তুমি কোন প্রকার ইহরাম বেঁধেছ ? আমি বললাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুরূপ আমি ইহরাম বেঁধেছি। তিনি বললেন : তোমার সংগে কুরবানীর পশু আছে কি ? আমি বললাম, নেই। তিনি আমাকে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে আদেশ করলেন। আমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সায়ী করলাম। পরে তিনি আদেশ করলে আমি হালাল হয়ে গেলাম। তারপর আমি আমার গোত্রীয় এক মহিলার নিকট আসলাম। সে আমার মাথা আঁচড়িয়ে দিল অথবা বলেছেন, আমার মাথা ধুয়ে দিল। এরপর উমর রা. তাঁর খিলাফতকালে এক উপলক্ষে আসলেন। (আমরা তাকে বিষয়টি জানালে) তিনি বললেন : কুরআনের নির্দেশ পালন কর। কুরআন তো আমাদেরকে হজ্জ ও উমরা পৃথক পৃথকভাবে যথাসময়ে পূর্ণরূপে আদায় করার নির্দেশ দান করে। আল্লাহ বলেন : “তোমরা হজ্জ ও উমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে পূর্ণ কর”(২ : ১৯৬)। আর যদি আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাতকে অনুসরণ করি, তিনি তো কুরবানীর পশু যবেহ করার আগে হালাল হননি।

বুখারি হাদিস নং ১৪৬৬ – মহান আল্লাহর বাণী : “হজ্জ হয় সুবিদিত মাসগুলোতে। তারপর যে কেউ এ মাসগুলোতে হজ্জ করা স্থির করে, তার জন্য হজ্জের সময়ে স্ত্রী সম্ভোগ, অন্যায় আচরণ ও কলহ বিবাদ বিধেয় নয়”। (২ : ১৯৭)এবং “নতুন চাঁদ সম্পর্কে লোকেরা আপনাকে প্রশ্ন করে, বলুন, তা মানুষ এবং হজ্জের জন্য সময় নির্দেশ”। (২ : ১৮৯)।

হাদীস নং ১৪৬৬

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজ্জের মাসে, হজ্জের দিনগুলোতে, হজ্জের মৌসুমে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হয়ে সারিফ নামক স্থানে আমরা অবতরণ করলাম। আয়িশা রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণের কাছে বেরিয়ে ঘোষণা করলেন : যার সাথে কুরবানীর পশু নেই এবং যে এ ইহরাম উমরার ইহরামে পরিণত করতে আগ্রহী, সে তা করতে পারবে। আর যার সাথে কুরবানীর পশু আছে সে তা পারবে না। আয়িশা রা. বলেন, কয়েকজন সাহাবী উমরা করলেন, আর কয়েকজন তা করলেন না। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর কয়েকজন সাহাবী (দীর্ঘ ইহরাম রাখতে) সক্ষম ছিলেন এবং তাদের সাথে কুরবানীর পশুও ছিল। তাই তাঁরা (শুধু) উমরা করতে (ও পরে হালাল হয়ে যেতে) সক্ষম হলেন না। তিনি আরো বলেন, আমি কাঁদছিলাম, এমন সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন : ওহে কাঁদছ কেন ? আমি বললাম, আপনি সাহাবাদের যা বলেছেন, আমি তা শুনেছি, কিন্তু আমার পক্ষে উমরা করা সম্ভব নয়। তিনি বললেন : তোমার কি হয়েছে ? আমি বললাম, আমি আদম-সন্তানের এক মহিলা। সকর নারীর জন্য আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন, তোমার জন্যও তাই নির্ধারণ করেছেন। কাজেই তুমি হজ্জের ইহরাম অবস্থায় থাক। আল্লাহ তোমাকে উমরা করার সুযোগও দিতে পারেন। তিনি বলেন, আমরা হজ্জের জন্য বের হয়ে মিনায় পৌঁছলাম। সে সময় আমি পবিত্র হলাম। পরে মিনা থেকে ফিরে (বায়তুল্লাহ পৌছে) তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করি। আয়িশা রা. বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সর্বশেষ দলে বের হলাম। তিনি মহাসসাব নামক স্থানে অবতরণ করেন, আমি তাঁর সাথে অবতরণ করলাম। এখানে এসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রা. কে ডেকে বললেন : তোমার বোন (আয়িশা)-কে নিয়ে হরম সীমারেখা হতে বেরিয়ে যাও। সেখান থেকে সে উমরার ইহরাম বেঁধে মক্কা থেকে উমরা সমাধা করলে তাকে নিয়ে এখানে ফিরে আসবে। আমি তোমাদের আগমন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকব। আয়িশা রা. বলেন, আমরা বের হয়ে গেলাম এবং আমি ও আমার ভাই তাওয়াফ সমাধা করে ফিরে এসে প্রভাত হওয়ার আগেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌছে গেলাম। তিনি বললেন : কাজ সমাধা করেছ কি ? আমি বললাম, জী হ্যাঁ। তখন তিনি রওয়ানা হওয়ার ঘোষণা দিলেন। সকলেই মদীনার দিকে রওয়ানা করলেন। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) রহ. বলেন, يضير শব্দটি ضيرا – يضير – ضار (ক্ষতিকর) শব্দ হতে উদগত এমনই ভাবে ضرورا – يضور – ضار ও ضرا – يضر – ضر একই অর্থ বোঝায়।

হজ্জ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৪৬৭ – তামাত্তু, কিরান ও ইফরাদ হজ্জ করা এবং যার সাথে কুরবানীর পশু নেই তার জন্য হজ্জের ইহরাম ছেড়ে দেওয়া।

হাদীস নং ১৪৬৭

উসমান রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বের হলাম এবং একে হজ্জের সফর বলেই আমরা জানতাম। আমরা যখন (মক্কায়) পৌছে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলাম তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন : যারা কুরবানীর পশু সংগে নিয়ে আসেনি তারা যেন ইহরাম ছেড়ে দেয়। তাই যিনি কুরবানীর পশু সংগে আনেননি তিনি ইহরাম ছেড়ে দেন। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীগণ তাঁরা ইহরাম ছেড়ে দিলেন। আয়িশা রা. বলেন, আমি ঋতুবতী হয়েছিলাম বিধায় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারিনি। (ফিরতি পথে) মুহাসসাব নামক স্থানে রাত যাপনকালে আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সকলেই উমরা ও হজ্জ উভয়টি সমাধা করে ফিরছে আর আমি কেবল হজ্জ করে ফিরছি। তিনি বললেন : মক্কা পৌঁছলে তুমি কি সে দিনগুলোতে তাওয়াফ করনি ? আমি বললাম, জী-না। তিনি বললেন : তোমার ভাই-এর সাথে তানঈম চলে যাও, সেখান থেকে উমরার ইহরাম বাঁধবে। তারপর অমুক স্থানে তোমার সাথে সাক্ষাত ঘটবে। সাফিয়্যা রা. বললেন, আমার মনে হয় আমি আপনাদেরকে আটকে রাখার কারণ হয়ে যাচ্ছি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : কি বললে ! তুমি কি কুরবানীর দিনগুলোতে তাওয়াফ করনি। আমি বললাম, হ্যাঁ, করেছি। তিনি বললেন : তবে কোন অসুবিধা নেই, তুমি চল। আয়িশা রা. বলেন, এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এমতাবস্থায় আমার সাক্ষাত হল যখন তিনি মক্কা ছেড়ে উপরের দিকে উঠছি ও তিনি অবতরণ করছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৬৮

হাদীস নং ১৪৬৮

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজ্জাতুল বিদার বছর আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বের হই। আমাদের মধ্যে কেউ কেবল উমরার ইহরাম বাঁধলেন, আর কেউ হজ্জ ও উমরা উভয়টির ইহরাম বাঁধলেন। আর কেউ শুধু হজ্জ-এর ইহরাম বাঁধলেন এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ-এর ইহরাম বাঁধলেন। যারা কেবল হজ্জ বা এক সংগে হজ্জ ও উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন তাদের একজনও কুরবানী দিনের পূর্বে ইহরাম খোলেন নি।

বুখারি হাদিস নং ১৪৬৯

হাদীস নং ১৪৬৯

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….মারওয়ান ইবনে হাকাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উসমান ও আলী রা.-কে দেখেছি, উসমান রা. তামাত্তু ও হজ্জ ও উমরা একত্রে আদায় করতে নিষেধ করতেন। আলী রা. এ অবস্থা দেখে হজ্জ ও উমরার ইহরাম একত্রে বেঁধে তালবিয়া পাঠ করেন “হে আল্লাহ ! আমি উমরা ও হজ্জ-এর ইহরাম বেঁধে হাযির হলাম) এবং বললেন, কারো কথায় আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত বর্জন করতে পারব না।

বুখারি হাদিস নং ১৪৭০

হাদীস নং ১৪৭০

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা হজ্জ-এর মাসগুলোতে উমরা করাকে দুনিয়ার সবচেয়ে ঘৃণ্য পাপের কাজ বলে মনে করত। তারা মুহাররম মাসের স্থলে সফর মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ মনে করত। তারা বলত, উটের পিঠের যখম ভাল হলে, রাস্তার মুসাফিরের পদচিহ্ন মুছে গেলে এবং সফর মাস অতিক্রান্ত হলে উমরা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি উমরা করতে পারবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ হজ্জ-এর ইহরাম বেঁধে চার তারিখ সকালে (মক্কায়) উপনীত হন। তখন তিনি তাদের এই ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করার নির্দেশ দেন। তাঁরা এ কাজকে কঠিন মনে করলেন (উমরা শেষ করে) তাঁরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাদের জন্য কি কি জিনিস হালাল ? তিনি বললেন : সবকিছু হালাল (ইহরামের পূর্বে যা হালাল ছিল তার সব কিছু এখন হালাল)।

বুখারি হাদিস নং ১৪৭১

হাদীস নং ১৪৭১

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……….আবু মূসা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি আমাকে (ইহরাম ভঙ্গ করে) হালাল হয়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৭২

হাদীস নং ১৪৭২

ইসমাঈল ও আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..নবী সহধর্মিণী হাফসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! লোকদের কি হল, তারা উমরা শেষ করে হালাল হয়ে গেল, অথচ আপনি আপনার উমরা থেকে হালাল হচ্ছেন না ? তিনি বললেন : আমি মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি এবং কুরবানীর পশুর গলায় মালা ঝুলিয়েছি। কাজেই কুরবানী করার পূর্বে হালাল হতে পারিনা।

বুখারি হাদিস নং ১৪৭৩

হাদীস নং ১৪৭৩

আদম রহ………আবু জামরা নাসর ইবনে ইমরান যুবায়ী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তামাত্তু হজ্জ করতে ইচ্ছা করলে কিছু লোক আমাকে নিষেধ করল । আমি তখন ইবনে আব্বাস রা.-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলে তিনি তা করতে আমাকে নির্দেশ দেন। এরপর আমি স্বপ্নে দেখলাম, যেন এক ব্যক্তি আমাকে বলছে, উত্তম হজ্জ ও মাকবুল উমরা। ইবনে আব্বাস রা.-এর নিকট স্বপ্নটি বললাম। তিনি বললেন, তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত । এরপর আমাকে বললেন, তুমি আমার কাছে থাক, তোমাকে আমার মালের কিছু অংশ দিব। রাবী শুবা রহ. বলেন, আমি (আবু জামরাকে) বললাম, তা কেন ? তিনি বললেন, আমি যে স্বপ্ন দেখেছি সে জন্য।

বুখারি হাদিস নং ১৪৭৪

হাদীস নং ১৪৭৪

আবু নুআইম রহ…….আবু শিহাব রহ. থেকে বর্ণনা করে বলেন, আমি উমরার ইহরাম বেঁধে হজ্জে তামাত্তুর নিয়্যাতে তারবিয়্যা দিবস (আট তারিখ)-এর তিন দিন পূর্বে মক্কায় প্রবেশ করলাম, মক্কাবাসী কিছু লোক আমাকে বললেন, এখন তোমার হজ্জের কাজ মক্কা থেকে শুরু হবে। আমি বিষয়টি জানার জন্য আতা রহ.-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. আমাকে বলেছেন, যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর উট সংগে নিয়ে হজ্জে আসেন তখন তাঁর সঙ্গে ছিলেন। সাহাবীগণ ইফরাদ হজ্জ-এর নিয়্যাতে শুধু হজ্জের ইহরাম বাঁধেন। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কায় পৌছে) তাদেরকে বললন : বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী সমাধা করে তোমরা ইহরাম ভঙ্গ করে হালাল হয়ে যাও এবং চুল ছোট কর। এরপর হালাল অবস্থায় থাক। যখন যিলহজ্জ মাসের আট তারিখ হবে তখন তোমরা হজ্জ-এর ইহরাম বেঁধে নিবে, আর যে ইহরাম বেঁধে এসেছ তা তামাত্তু হজ্জের উমরা বানিয়ে নিবে। সাহাবীগণ বললেন, এই ইহরামকে আমরা কিরূপে উমরার ইহরাম বানাব ? আমরা হজ্জ-এর নাম নিয়ে ইহরাম বেঁধেছি। তখন তিনি বললেন : আমি তোমাদেরকে যা আদেশ করেছি তাই কর। কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়ে না আসলে তোমাদেরকে যা করতে বলছি, আমিও সেরূপ করতাম। কিন্তু কুরবানী করার পূর্বে (ইহরামের কারণে) নিষিদ্ধ কাজ (আমার জন্য) হালাল নয়। সাহাবীগণ সেরূপ পশু যবেহ করলেন। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) বহ. বলেন, আবু শিহাব রহ. থেকে মারফু বর্ণনা মাত্র এই একটিই পাওয়া যায়।

বুখারি হাদিস নং ১৪৭৫

হাদীস নং ১৪৭৫

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উসফান নামক স্থানে অবস্থানকালে আলী ও উসমান রা. -এর মধ্যে হজ্জে তামাত্তু করা সম্পর্কে পরস্পরে দ্বিমত সৃষ্টি হয়। আলী রা. উসমান রা.-কে লক্ষ্য করে বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাজ করেছেন, আপনি কি তা থেকে বারণ করতে চান ? উসমান রা. বললেন, আমাকে আমার অবস্থায় থাকতে দিন। আলী রা. এ অবস্থা দেখে তিনি হজ্জ ও উমরা উভয়ের ইহরাম বাঁধেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৭৬ – হজ্জের নাম উল্লেখ করে যে তালবিয়া পাঠ করে।

হাদীস নং ১৪৭৬

মুসাদ্দাদ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমরা হজ্জের তালবিয়া পাঠ করতে করতে (মক্কায়) উপনীত হলাম। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিলেন, আমরা হজ্জকে উমরায় পরিণত করলাম।

হজ্জ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৪৭৭ – নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হজ্জে তামাত্তু।

হাদীস নং ১৪৭৭

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে হজ্জে তামাত্তু করেছি, কুরআনেও তার বিধান নাযিল হয়েছে অথচ এক ব্যক্তি তার ইচ্ছামত অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৭৮ – মক্কা প্রবেশের সময় গোসল করা।

হাদীস নং ১৪৭৮

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ………নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে উমর রা. হারামের নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছলে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিতেন। তারপর যী-তুয়া নামক স্থানে রাত যাপন করতেন। এরপর সেখানে ফজরের সালাত আদায় করতেন ও গোসল করতেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৭৯ – দিনে ও রাতে মক্কায় প্রবেশ করা।

হাদীস নং ১৪৭৯

মুসাদ্দাদ রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোর পর্যন্ত যা-তুয়ায় রাত যাপন করেন, তারপর মক্কায় প্রবেশ করেন। (রাবী নাফি বলেন) ইবনে উমর রা.-ও এরূপ করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৮০ – কোন দিক দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করবে।

হাদীস নং ১৪৮০

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ…….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সানিয়্যা উলয়া (হরমের উত্তর-পূর্বদিকে কাদা নামক স্থান দিয়ে) মক্কায় প্রবেশ করতেন এবং সানিয়্যা সুফলা (হরমের দক্ষিণ-পশ্চিমদিকে কুদা নামক স্থান) দিয়ে বের হতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৮১ – কোন দিক দিয়ে মক্কা থেকে বের হবে।

হাদীস নং ১৪৮১

মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ বাসরী রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাতহায় অবস্থিত সানিয়্যা উলয়ার কাদা নাম স্থান দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করেন এবং সানিয়্যা সুফলার দিক দিয়ে বের হন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৮২

হাদীস নং ১৪৮২

হুমাইদী রহ. ও মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় আসেন তখন এর উচ্চ স্থান দিয়ে প্রবেশ করেন এবং নীচু স্থান দিয়ে ফিরার পথে বের হন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৮৩

হাদীস নং ১৪৮৩

মাহমুদ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর কাদা-র পথে (মক্কায়) প্রবেশ করেন এবং বের হন কুদা-র পথে যা মক্কার উচু স্থানে অবস্থিত।

বুখারি হাদিস নং ১৪৮৪

হাদীস নং ১৪৮৪

আহমদ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর কাদা নামক স্থান দিয়ে মক্কায় উচু ভূমির দিক থেকে প্রবেশ করেন। রাবী হিশাম রহ. বলেন, (আমার পিতা) উরওয়া রা. কাদা ও কুদা উভয় স্থান দিয়ে (মক্কায়) প্রবেশ করতেন। তবে অধিকাংশ সময় কুদা দিয়ে প্রবেশ করতেন, কেননা, তাঁর বাড়ি এ পথে অধিক নিকটবর্তী ছিল।

বুখারি হাদিস নং ১৪৮৫

হাদীস নং ১৪৮৫

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওহহাব রহ……উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর মক্কার উচু ভূমি কাদা দিয়ে (মক্কায়) প্রবেশ করেন। (রাবী হিশাম রহ. বলেন) উরওয়া রহ. অধিকাংশ সময় কুদা-র পথে প্রবেশ করতেন, কেননা তাঁর বাড়ি এ পথের অধিক নিকটবর্তী ছিল।

বুখারি হাদিস নং ১৪৮৬

হাদীস নং ১৪৮৬

মূসা রহ………উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর কাদা-র পথে মক্কায় প্রবেশ করেন। (রাবী হিশাম রহ. বলেন) উরওয়া রহ. উভয় পথেই প্রবেশ করতেন, তবে কুদা-র পথে তাঁর বাড়ি নিকটবর্তী হওয়ার কারণে সে পথেই অধিকাংশ সময় প্রবেশ করতেন। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী রহ.) বলেন, কাদা ও কুদা দুটি স্থানের নাম।

বুখারি হাদিস নং ১৪৮৭ – মক্কা ও তার ঘরবাড়ির ফজিলত।

হাদীস নং ১৪৮৭

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কাবা ঘর পুনঃনির্মাণের সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আব্বাস রা. পাথর বহন করছিলেন। আব্বাস রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, তোমার লুঙ্গিটি কাঁধের উপর নাও। তিনি তা করলে মাটিতে পড়ে গেলেন এবং তাঁর উভয় চোখ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকল। তখন তিনি বললেন : আমার লুঙ্গি দাও এবং তা বেঁধে নিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৮৮

হাদীস নং ১৪৮৮

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলাম রহ. আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন : তুমি কি জান না ! তোমার সম্প্রদায় যখন কাবা ঘরের পুনঃ নির্মাণ করেছিল তখন ইবরাহীম আ. কর্তৃক কাবা ঘরের মূল ভিত্তি থেকে তা সংকুচিত করেছিল। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি কি একে ইবরাহীমী ভিত্তির উপর পুনঃস্থাপন করবেন না ? তিনি বললেন : যদি তোমার সম্প্রদায়ের যুগ কুফরীর নিকটবর্তী না হত তাহলে অবশ্য আমি তা করতাম। আবদুল্লাহ (ইবনে উমর রা. বলেন, যদি আয়িশা রা. নিশ্চিতরূপে তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনে থাকেন, তাহলে আমার মনে হয় যে, বায়তুল্লাহ হাতীমের দিক দিয়ে সম্পূর্ণ ইবরাহীমী ভিত্তির উপর নির্মিত না হওয়ার কারণেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাওয়াফের সময়) হাতীম সংলগ্ন দুটি কোণ স্পর্শ করতেন ন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৮৯

হাদীস নং ১৪৮৯

মুসাদ্দাদ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলাম, (হাতীমের) দেয়াল কি বায়তুল্লাহর অন্তর্ভূক্ত, তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, তাহলে তারা বায়তুল্লাহর অন্তর্ভূক্ত করল না কেন ? তিনি বললেন : তোমার গোত্রের সময় অর্থ নিঃশেষ হয়ে যায়। আমি বললাম, কাবার দরজা এত উচু হওয়ার কারণ কি ? তিনি বললেন : তোমার কওম তা এ জন্য করেছে যে, তারা যাকে ইচ্ছা তাকে ঢুকতে দিবে এবং যাকে ইচ্ছা নিষেধ করবে। যদি তোমার কওমের যুগ জাহিলিয়্যাতের নিকটবর্তী না হত এবং আশংকা না হত যে, তারা একে ভাল মনে করবে না, তাহলে আমি দেয়ালকে বায়তুল্লাহর অন্তর্ভূক্ত করে দিতাম এবং তার দরজা ভূমি বরাবর করে দিতাম।

বুখারি হাদিস নং ১৪৯০

হাদীস নং ১৪৯০

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন : যদি তোমার গোত্রের যুগ কুফরীর নিকটবর্তী না হত তাহলে অবশ্যই কাবাঘর ভেঙ্গে ইবরাহীম আ.-এর ভিত্তির উপর তা পুনঃ নির্মাণ করতাম । কেননা কুরাইশগণ এর ভিত্তি সংকুচিত করে দিয়েছে। আর আমি আরো একটি দরজা করে দিতাম। আবু মুআবিয়া রহ. বলেন, হিশাম রহ. বলেছেন “খালফান” অর্থ দরজা।

হজ্জ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৪৯১

হাদীস নং ১৪৯১

বায়ান ইবনে আমর রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন : হে আয়িশা ! যদি তোমার কওমের যুগ জাহিলিয়াতের নিকটবর্তী না হত তাহলে আমি কাবা ঘর সম্পর্কে নির্দেশ দিতাম এবং তা ভেঙ্গে ফেলা হত। তারপর বাদ দেওয়া অংশটুকু আমি ঘরের অন্তর্ভূক্ত করে দিতাম এবং তা ভূমি বরাবর করে দিতাম ও পূর্ব-পশ্চিমে এর দুটি দরজা করে দিতাম। এভাবে কাবাকে ইবরাহীম আ. নির্মিত ভিত্তিতে সম্পন্ন করতাম। (বর্ণনাকারী বলেন) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ উক্তি কাবাঘর ভাঙ্গতে (আবদুল্লাহ) ইবনে যুবাইর রা.-কে অনুপ্রাণিত করেছে। (রাবী) ইয়াযীদ বলেন, আমি ইবনে যুবাইর রা.-কে দেখেছি তিনি যখন কাবা ঘর ভেঙ্গে তা পুনঃ নির্মাণ করেন এবং বাদ দেওয়া অংশটুকু (হাতীম) তার সাথে সংযোজিত করেন এবং ইবরাহীম আ.-এর নির্মিত ভিত্তির পাথরগুলো উটের কুঁজের ন্যায় আমি দেখতে পেয়েছি। (রাবী) জারীর রহ. বলেন, আমি তাকে বললাম, কোথায় সেই ভিত্তিমূলের স্থান ? তিনি বললেন, এখনই আমি তোমাকে দেখিয়ে দিব। আমি তাঁর সাথে বাদ দেওয়া দেয়াল বেষ্টনীতে (হাতীমে) প্রবেশ করলাম। তখন তিনি একটি স্থানের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, এই খানে। জারীর রহ. বলেন, দেওয়াল বেষ্টিত স্থানটুকু পরিমাপ করে দেখলাম ছয় হাত বা তার কাছাকাছি।

বুখারি হাদিস নং ১৪৯২ – হারামের ফজিলত।

হাদীস নং ১৪৯২

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এ শহরকে আল্লাহ সম্মানিত করেছেন, এর একটি কাটাও কর্তন করা যাবে না, এতে বিচরণকারী শিকারকে তাড়া করা যাবে না, এখানে মুআরিফ ব্যতীত পড়ে থাকা কোন বস্তু কেউ তুলে নিবে না ।

বুখারি হাদিস নং ১৪৯৩ – কাউকে মক্কায় অবস্থিত বাড়ির উত্তরাধিকার বানান, তার ক্রয়-বিক্রয় এবং বিশেষভাবে মসজিদুল হারামে সকল মানুষের সমঅধিকার।

হাদীস নং ১৪৯৩

আসবাগ রহ…….উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি মক্কায় অবস্থিত আপনার বাড়ির কোন স্থানে অবস্থান করবেন ? তিনি বললেন : আকীল কি কোন সম্পত্তি বা ঘর-বাড়ি অবশিষ্ট রেখে গেছে ? আকীল এবং তালিব আবু তালিবের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হযেছিলেন, জাফর ও আলী রা. হন নি। কেননা তাঁরা দুজন ছিলেন মুসলমান। আকীল ও তালিব ছিল কাফির। এ জন্যই উমর ইবনে খাত্তাব রা. বলতেন, মু’মিন কাফিরের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় না। ইবনে শিহাব রহ. বলেন, (পূর্ববর্তী গণ নিম্ন উদ্ধৃত আয়াতে উক্ত বিলায়াতকে উত্তরাধিকার বলে) এই তাফসীর করতেন। আল্লাহ বলেন : যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের জানমাল নিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আর যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে এবং সাহায্য করেছে, তারা একে অপরের ওলী হবে (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। (৮ : ৭২)।

বুখারি হাদিস নং ১৪৯৪ – রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কায় অবতরণ ।

হাদীস নং ১৪৯৪

আবুল ইয়ামান রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মিনা থেকে ফিরে) যখন মক্কা প্রবেশের ইচ্ছা করলেন তখন বললেন : আগামীকাল খায়ফ বনী কেনানায় (মুহাসসাবে) ইনশাআল্লাহ আমাদের অবস্থানস্থল হবে যেখানে তার (বনূ খায়ফ ও কুরাইশগণ) কুফরীর উপর শপথ নিয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ১৪৯৫

হাদীস নং ১৪৯৫

হুমাইদী রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরবানীর দিনে মিনায় অবস্থানকালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমরা আগামীকাল (ইনশাআল্লাহ) খায়ফ বনী কিনানায় অবতরণ করব, যেখানে তারা কুফরীর উপরে শপথ নিয়েছিল। (রাবী বলেন) খায়ফ বনী কিনানাই হল মুহাসসাব। কুরাইশ ও কিনানা গোত্র বনূ হাশিম ও বনূ আবদুল মুত্তালিবের বিরুদ্ধে এই বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল, যে পর্যন্ত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাদের হাতে সমর্পণ করবে না সে পর্যন্ত তাদের সাথে বিয়ে-শাদী ও বেচা-কেনা বন্ধ থাকবে। সালাম রহ. উকাইল রহ. সূত্রে এবং ইয়াহইয়া ইবনে যাহহাক রহ. আওযায়ী রহ. সূত্রে ইবনে শিহাব যুহরী রহ. থেকে বর্ণিত, এবং তাঁরা উভয়ে বনূ হাশিম ও বনূ মুত্তালিব বলে উল্লেখ করেছেন। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) রহ. বলেন, বনূ মুত্তালিব হওয়াই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বুখারি হাদিস নং ১৪৯৬ – মহান আল্লাহর বাণী : স্মরণ করুন যখন ইবরাহীম বললেন, হে আমার রব ! এই নগরীকে আপনি নিরাপদ করুন আর আমাকে ও আমার সন্তানগণকে প্রতিমা পূজা থেকে দূরে রাখুন হে আমার প্রতিপালক ! এই সব প্রতিমা বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে……যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে……….পর্যন্ত। (১৪ : ৩৫-৩৭)

হাদীস নং ১৪৯৬

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন : হাবশার অধিবাসী পায়ের সরু নলা বিশিষ্ট লোকেরা কাবাঘর ধ্বংস করবে।

বুখারি হাদিস নং ১৪৯৭

হাদীস নং ১৪৯৭

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর এবং মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমযানের সাওম ফরয হওয়ার পূর্বে মুসলিমগণ আশুরার সাওম পালন করতেন। সে দিনই কাবাঘর (গিলাফে) আবৃত করা হত। তারপর আল্লাহ যখন রমযানের সাওম ফরয করলেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আশুরার সাওম যার ইচ্ছা পালন করবে আর যার ইচ্ছা সে ছেড়ে দিবে।

বুখারি হাদিস নং ১৪৯৮

হাদীস নং ১৪৯৮

আহমদ ইবনে হাফস রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়াজুজ ও মাজুজ বের হওয়ার পরও বায়তুল্লাহর হজ্জ ও উমরা পালিত হবে । আবান ও ইমরান রহ. কাতাদা রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় হাজ্জাজ ইবনে হাজ্জাজের অনুসরণ করেছেন। আবদুর রহমান রহ. শুবা রহ. থেকে বর্ণনা করেন, বায়তুল্লাহর হজ্জ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। প্রথম রিওয়ায়াতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) রহ. বলেন, কাতাদা রহ. রিওয়ায়েতটি আবদুল্লাহ রহ. থেকে এবং আবদুল্লাহ রহ. আবু সাঈদ রা. থেকে শুনেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪৯৯ – কাবাঘরের গিলাফ পরানো।

হাদীস নং ১৪৯৯

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব এবং কাবীসা রহ………..আবু ওয়াইল রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কাবার সামনে আমি শায়বার সাথে কুরসীতে বসলাম। তখন তিনি বললেন, উমর রা. এখানে বসেই বলেছিলেন, আমি কাবাঘরে রক্ষিত সোনা ও রূপা বন্টন করে দেওয়ার ইচ্ছা করেছি। (শায়বা বলেন) আমি বললাম, আপনার উভয় সঙ্গী (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকর রা.) তো এরূপ করেননি। তিনি বললেন, তাঁরা এমন দু’ ব্যক্তিত্ব যাদের অনুসরণ আমি করব।

বুখারি হাদিস নং ১৫০০ – কাবাঘর ধ্বংস করে দেওয়া।

হাদীস নং ১৫০০

আমর ইবনে আলী রহ…………ইবনে আব্বাস রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি যেন দেখতে পাচ্ছি কাল বর্ণের বাঁকা পা বিশিষ্ট লোকেরা (কাবাঘরের) একটি একটি করে পাথর খুলে এর মূল উৎপাটন করে দিচ্ছে।

বুখারি হাদিস নং ১৫০১

হাদীস নং ১৫০১

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : হাবশার অধিবাসী পায়ের সরু নলা বিশিষ্ট লোকেরা কাবাঘর ধ্বংস করবে।

হজ্জ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৫০২ – হজরে আসওয়াদ সম্পর্কে আলোচনা।

হাদীস নং ১৫০২

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……….উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে এসে তা চুম্বন করে বললেন, আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একখানা পাথর মাত্র, তুমি কারো কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে কখনো আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।

বুখারি হাদিস নং ১৫০৩ – কাবাঘরের দরজা বন্ধ করা এবং কাবাঘরের ভিতর যে কোণে ইচ্ছা সালাত আদায় করা।

হাদীস নং ১৫০৩

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উসামা ইবনে যায়েদ, বিলাল ও উসমান ইবনে তালহা রা. বায়তুল্লাহর ভিতরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিলেন। যখন খুলে দিলেন তখন প্রথম আমিই প্রবেশ করলাম এবং বিলালের সাক্ষাত পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কাবার ভিতরে সালাত আদায় করেছেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, ইয়ামানের দিকের দুটি স্তম্ভের মাঝখানে।

বুখারি হাদিস নং ১৫০৪ – কাবার ভিতরে সালাত আদায় করা।

হাদীস নং ১৫০৪

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ…….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, যখন তিনি কাবা ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতেন, তখন দরজা পিছনে রেখে সোজা সম্মুখের দিকে চলে যেতেন, এতদূর অগ্রসর হতেন যে, সম্মুখের দেওয়ালটি মাত্র তিন হাত পরিমাণ দূরে থাকত এবং বিলাল রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে সালাত আদায় করেছেন বলে বর্ণনা করেছেন, সেখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে তিনি সালাত আদায় করতেন। অবশ্য কাবার ভিতরে যে কোন স্থানে সালাত আদায় করাতে কোন দোষ নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৫০৫ – কাবার ভিতরে যে প্রবেশ করেনি।

হাদীস নং ১৫০৫

মুসাদ্দাদ রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরা করতে গিয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন ও মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু’ রাকআত সালাত আদায় করলেন এবং তাঁর সাথে ঐ সকল সাহাবী ছিলেন যারা তাকে লোকদের থেকে আড়াল করে ছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার ভিতরে প্রবেশ করেছিলেন কি না — জনৈক ব্যক্তি আবু আওফা রা.-এর নিকট তা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, না।

বুখারি হাদিস নং ১৫০৬ – কাবাঘরের ভিতরে চারদিকে তাকবীর বলা।

হাদীস নং ১৫০৬

আবু মামার রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (মক্কা) এলেন, তখন কাবাঘরে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানান। কেননা কাবাঘরের ভিতরে মূর্তি ছিল। তিনি নির্দেশ দিলেন এবং মূর্তিগুলো বের করে ফেলা হল। (এক পর্যায়ে) ইবরাহীম ও ইসমাঈল আ.-এর প্রতিকৃতি বের করে আনা হয়-তাদের উভয়ের হাতে জুয়া খেলার তীর ছিল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আল্লাহ ! (মুশরিকদের) ধ্বংস করুন। আল্লাহর কসম ! অবশ্যই তারা জানে যে, (ইবরাহীম ও ইসমাঈল আ.) তীর দিয়ে অংশ নির্ধারণের ভাগ্য পরীক্ষা কখনো করেননি। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবাঘরে প্রবেশ করেন এবং ঘরের চারদিকে তাকবীর বলেন। কিন্তু ঘরের ভিতরে সালাত আদায় করেননি।

বুখারি হাদিস নং ১৫০৭ – রমলের সূচনা কীভাবে হয়।

হাদীস নং ১৫০৭

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাগণকে নিয়ে মক্কা আগমন করলে মুশরিকরা মন্তব্য করল, এমন একদল লোক আসছে যাদেরকে ইয়াসরিব-এর জ্বর দূর্বল করে দিয়েছে (এ কথা শুনে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাগণকে তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল করতে (উভয় কাঁধ হেলেদুলে জোর কদমে চলতে) এবং উভয় রুকনের মধ্যবর্তী স্থানটুকু স্বাভাবিক গতিতে চলতে নির্দেশ দিলেন, সাহাবাদের প্রতি দয়াবশত সব কয়টি চক্করে রমল করতে আদেশ করেননি।

বুখারি হাদিস নং ১৫০৮ – মক্কায় উপনীত হয়ে তাওয়াফের শুরুতে হজরে আসওয়াদ ইস্তিলাম করা এবং তিন চক্করে রমল করা।

হাদীস নং ১৫০৮

আসবাগ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মক্কায় উপনীত হয়ে তাওয়াফের শুরুতে হজরে আসওয়াদ ইস্তিলাম করতে এবং সাত চক্করের মধ্যে প্রথম তিন চক্করে রমল করতে দেখেছি।

বুখারি হাদিস নং ১৫০৯

হাদীস নং ১৫০৯

মুহাম্মদ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ এবং উমরার তাওয়াফে (প্রথম) তিন চক্করে রমল করেছেন, অবশিষ্ট চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে চলেছেন। লাইস রহ. হাদীস বর্ণনায় সুরাইজ ইবনে নুমান রহ.-এর অনুসরণ করে বলেন, কাসীর ইবনে ফারকাদ রহ……….ইবনে উমর রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫১০

হাদীস নং ১৫১০

সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ…….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনে খাত্তাব রা. হাজরে আসওয়াদকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে ! আল্লাহর কসম ! আমি নিশ্চিত রূপে জানি তুমি একটি পাথর, তুমি কারও কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না। এরপর তিনি চুম্বন করলেন। পরে বললেন, আমাদের রমল করার উদ্দেশ্যে কি ছিল? আমরা তো রমল করে মুশরিকদেরকে আমাদের শক্তি প্রদর্শন করেছিলাম। আল্লাহ এখন তাদের ধ্বংস করে দিয়েছেন। এরপর বললেন, যেহেতু এই (রমল) কাজটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন, তাই তা পরিত্যাগ করা পছন্দ করি না।

বুখারি হাদিস নং ১৫১১ – হজ্জ ও উমরায় রমল করা।

হাদীস নং ১৫১১

মুসাদ্দাদ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (তাওয়াফ করার সময়) এ দুটি রুকন ইস্তিলাম করতে দেখেছি, তখন থেকে ভীড় থাকুক বা নাই থাকুক কোন অবস্থাতেই এ দুইয়ের ইস্তিলাম করা বাদ দেইনি। (রাবী উবায়দুল্লাহ রহ. বলেন) আমি নাফিকে রহ. জিজ্ঞাসা করলাম, ইবনে উমর রা. কি ঐ রুকনের মধ্যবর্তী স্থানে স্বাভাবিক গতিতে চলতেন ? তিনি বললেন, সহজে ইস্তিলাম করার উদ্দেশ্যে তিনি (এতদূভয়ের মাঝে) স্বাভাবিকভাবে চলতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫১২ – ছড়ির মাধ্যমে হাজরে আসওয়াদ ইস্তিলাম করা।

হাদীস নং ১৫১২

আহমদ ইবনে সালিহ ও ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পিঠে আরোহণ করে তাওয়াফ করার সময় ছড়ির মাধ্যমে হাজরে আসওয়াদ ইস্তিলাম করেন। দারাওয়ার্দী রহ. হাদীস বর্ণনায় ইউনুস রহ.-এর অনুসরণ করে ইবনে আবিয যুহরী রহ. সূত্রে তার চাচা (যুহরী) রহ. থেকে রিওয়ায়েত করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫১৩ – যে কেবল দুই ইয়ামানী রুকনকে ইস্তিলাম করে।

হাদীস নং ১৫১৩

আবুল ওয়ালীদ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কেবল ইয়ামানী দু’ রুকনকে ইস্তিলাম করতে দেখেছি।

বুখারি হাদিস নং ১৫১৪ – হজরে আসওয়াদ চুম্বন করা।

হাদীস নং ১৫১৪

আহমদ ইবনে সিনান রহ……….আসলাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর ইবনে খাত্তাব রা.-কে হজরে আসওয়াদ চুম্বন করতে দেখেছি। আর তিনি বললেন, যদি আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখতাম তাহলে আমিও তোমায় চুম্বন করতাম ন।

বুখারি হাদিস নং ১৫১৫

হাদীস নং ১৫১৫

মুসাদ্দাদ রহ…….যুবাইর ইবনে আরাবী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি হজরে আসওয়াদ সম্পর্কে ইবনে উমর রা.-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। সে ব্যক্তি বলল, যদি ভীড়ে আটকে যাই বা অপারগ হই তাহলে আপনার অভিমত কি ? তিনি বললেন, আপনার অভিমত কি ? এ কথাটি ইয়ামনে রেখে দাও। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ফেরেবরী রহ. বলেন, আমি আবু জাফর রহ.-এর কিতাবে পেয়েছি তিনি বলেছেন, আবু আবদুল্লাহ যুবাইর ইবনে আদী রহ. তিনি হলেন কুফী আর যাবাইর ইবনে আরাবী রহ .তিনি হলেন বসরী।

বুখারি হাদিস নং ১৫১৬ – হজরে আসওয়াদের কাছে পৌছে তার দিকে ইশারা করা।

হাদীস নং ১৫১৬

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পিঠে (আরোহণ করে) বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন, যখনই তিনি হজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন তখনই কোন কিছু দিয়ে তার প্রতি ইশারা করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫১৭ – হজরে আসওয়াদের কাছে তাকবীর বলা।

হাদীস নং ১৫১৭

মুসাদ্দাদ রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পিঠে আরোহণ করে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন, যখনই তিনি হজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন তখনই কোন কিছু দিয়ে তার প্রতি ইশারা করতেন। ইবরাহীম ইবনে তাহমান রহ. খালিদ হাযযা রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

হজ্জ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৫১৮ – মক্কায় উপনীত হয়ে বাড়ি ফিরার পূর্বে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করা। তারপর দু’ রাকআত সালাত আদায় করে সাফার দিকে যাওয়া।

হাদীস নং ১৫১৮

আসবাগ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম উযূ করে তাওয়াফ সম্পন্ন করেন। (রাবী) উরওয়া রহ. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই তাওয়াফটি উমরার তাওয়াফ ছিল না। তারপর আবু বকর ও উমর রা. অনুরূপভাবে হজ্জ করেছেন। এরপর আমার পিতা যুবাইর রা.-এর সাথে আমি হজ্জ করেছি তাতেও দেখেছি যে, সর্বপ্রথম তিনি তাওয়াফ করেছেন। এরপর মুহাজির, আনসার সকল সাহাবা রা. খে এরূপ করতে দেখেছি। আমার মা আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি তাঁর বোন এবং যুবাইর ও অমুক অমুক ব্যক্তি উমরার ইহরাম বেঁধেছেন, যখন তাঁরা তাওয়াফ সমাধা করেছেন, হালাল হয়ে গেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫১৯

হাদীস নং ১৫১৯

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় উপনীত হয়ে হজ্জ বা উমরা উভয় অবস্থায় সর্বপ্রথম যে তাওয়াফ করতেন, তাঁর প্রথম তিন চক্করে রমল করতেন এবং পরবর্তী চার চক্করে স্বাভাবিকভাবে হেটে চলতেন। তাওয়াফ শেষে দু’ রাকআত সালাত আদায় করে সাফা ও মারওয়ায় সায়ী করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫২০

হাদীস নং ১৫২০

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহ পৌছে প্রথম তাওয়াফ করার সময় প্রথম তিন চক্করে রমল করতেন এবং পরবর্তী চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে হেটে চলতেন। সাফা ও মারওয়ায় সায়ী করার সময় উভয় টিলার মধ্যবর্তী নিচু স্থানটুকু দ্রুতগতিতে চলতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫২১ – পুরুষের সাথে মহিলাদের তাওয়াফ করা।

হাদীস নং ১৫২১

ইসমাঈল রহ…….নবী সহধর্মিণী উম্মু সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেন : বাহনে আরোহণ করে মানুষের পেছনে পেছনে থেকে তাওয়াফ কর। আমি মানুষের পেছনে পেছনে থেকে তাওয়াফ করছিলাম, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবাঘরের পার্শ্বে সালাত আদায় করছিলেন এবং তাঁতে তিনি والطور وكتاب مسطور এই (সূরাটি) তিলাওয়াত করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫২২ – তাওয়াফ করার সময় কথা বলা।

হাদীস নং ১৫২২

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর তাওয়াফের সময় এক ব্যাক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, সে চামড়ার ফিতা বা সূতা অথবা অন্য কিছু দ্বারা আপন হাত অপর এক ব্যক্তির সাথে বেঁধে দিয়েছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে তার বাঁধন ছিন্ন করে দিয়ে বললেন : হাত ধরে টেনে নাও।

বুখারি হাদিস নং ১৫২৩ – তাওয়াফের সময় রজ্জু দিয়ে কাউকে টানতে দেখলে বা অশোভনীয় কোন কিছু দেখলে তা থেকে বাঁধা দিবে।

হাদীস নং ১৫২৩

আবু আসিম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে কাবাঘর তাওয়াফ করতে দেখতে পেলেন এ অবস্থায় যে, চাবুকের ফিতা বা অন্য কিছু দিয়ে তখন তিনি তা ছিন্ন করে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫২৪ – বিবস্ত্র হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করবে না এবং কোন মুশরিক হজ্জ করবে না।

হাদীস নং ১৫২৪

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের পূর্বে যে হজ্জে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর রা.-কে আমীর নিযুক্ত করেন, সে হজ্জে কুরবানীর দিন (আবু বকর রা.) আমাকে একদল লোকের সঙ্গে পাঠালেন, যারা লোকদের কাছে ঘোষণা করবে যে, এ বছরের পর থেকে কোন মুশরিক হজ্জ করবে না এবং বিবস্ত্র হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করবে না।

বুখারি হাদিস নং ১৫২৫ – নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফের সাত চক্কর পূর্ণ করে দু’ রাকআত সালাত আদায় করেছেন।

হাদীস নং ১৫২৫

কুতাইবা রহ………আমর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবনে উমর রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, উমরাকারীর জন্য সাফা ও মারওয়া সায়ী করার পূর্বে স্ত্রী সহবাস বৈধ হবে কি ? তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় উপনীত হয়ে সাত চক্করে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ সমাপ্ত করে মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু’ রাকআত সালাত আদায় করেন, তারপর সাফা ও মারওয়া সায়ী করেন। এরপর ইবনে উমর রা. তিলাওয়াত করেন, “তোমাদের জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে”। (রাবী) আমর রহ. বলেন, আমি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, সাফা ও মারওয়া সায়ী করার পূর্বে স্ত্রী সহবাস বৈধ নয়।

বুখারি হাদিস নং ১৫২৬ – প্রথম তাওয়াফ (তাওয়াফে কুদুম)-এর পর আরাফায় গিয়ে তথা হতে ফিরে আসার পূর্বে পর্যন্ত বায়তুল্লাহর নিকটবর্তী না হওয়া।

হাদীস নং ১৫২৬

মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় উপনীত হয়ে সাত চক্করে তাওয়াফ করে, সাফা ও মারওয়া সায়ী করেন, এরপর (প্রথম) তাওয়াফের পরে আরাফা থেকে ফিরে আসার পূর্ব পর্যন্ত বায়তুল্লাহর নিকটবর্তী হন নি (তাওয়াফ করেননি)।

বুখারি হাদিস নং ১৫২৭ – তাওয়াফের দু’ রাকআত সালাত মসজিদুল হারামের বাইরে আদায় করা।

হাদীস নং ১৫২৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..উম্মু সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট অসুস্থতার কথা জানালাম, অন্য সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে হারব রহ……..নবী সহধর্মিণী উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্ক থেকে প্রস্থান করার ইচ্ছা করলে উম্মে সালামা রা.-ও মক্কা ত্যাগের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন, অথচ তিনি তখনও বায়তুল্লাহ তওয়াফ করতে পারেননি। (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন তাকে বললেন : যখন ফজরের সালাতের ইকামত দেওয়া হবে আর লোকেরা সালাত আদায় করতে থাকবে, তখন তোমার উটে আরোহণ করে তুমি তাওয়াফ আদায় করে নিবে। তিনি তাই করলেন। এরপর সালাত আদায় করার পূর্বেই মক্কা ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫২৮ – তাওয়াফের দু’ রাকআত সালাত মাকামে ইবরাহীমের পিছনে আদায় করা।

হাদীস নং ১৫২৮

আদম রহ…..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় উপনীত হয়ে সাত চক্করে তাওয়াফ সম্পন্ন করে মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু’ রাকআত সালাত আদায় করলেন। তারপর সাফার দিকে বেরিয়ে গেলেন। (ইবনে উমর রা. বলেন) মহান আল্লাহ বলেছেন : “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ”।

বুখারি হাদিস নং ১৫২৯ – ফজর ও আসরের পর তাওয়াফ করা।

হাদীস নং ১৫২৯

হাসান ইবনে উমর বাসরী রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, কিছু লোক ফজরের সালাতের পর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করল। তারপর তার নসীহতকারীর (নসীহত শোনার জন্য) বসে গেল। অবশেষে সূর্যোদয় হলে তারা দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করল। তখন আয়িশা রা. বললেন, তারা বসে রইল আর যে সময়টিতে সালাত আদায় করা মাকরূহ তখন তারা সালাতে দাঁড়িয়ে গেল।

হজ্জ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৫৩০

হাদীস নং ১৫৩০

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ……..আবদুল্লাহ (ইবনে উমর) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি, তিনি সূর্যোদয়ের সময় এবং সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ

জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

সালাতে কসর করা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

কুরআন তিলাওয়াতের সিজ্‌দা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

মন্তব্য করুন