হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৫ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৫

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৫ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

Table of Contents

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৫ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৩২ – মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে হজ্জ বা মান্নত আদায় করা।

হাদীস নং ১৭৩২

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জুহায়না গোত্রের একজন মহিলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, আমার আম্মা হজ্জের মান্নত করেছিলেন তবে তিনি হজ্জ আদায় না করেই ইন্তিকাল করেছেন।

আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ করতে পানি ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তার পক্ষ হতে তুমি হজ্জ আদায় কর।

তুমি কি মনে কর যদি তোমার আম্মার উপর ঋণ থাকত তা হলে কি তুমি তা আদায় করতে না? সুতরাং আল্লাহর হক আদায় করে দাও। কেননা, আল্লাহর হকই সবচাইতে অধিক আদায়যোগ্য।

বুখারি হাদিস নং ১৭৩৩ – যে ব্যক্তি সাওয়ারীতে বসে থাকতে সক্ষম নয় তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করা।

হাদীস নং ১৭৩৩

আবু আসিম রহ………ফাযল ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন মহিলা বললেন, (অপর সূত্রে) মূসা ইবনে ইসমাঈর রহ……..ইবনে আব্বস রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, বিদায় হজ্জের বছর খাসআম গোত্রের একজন মহিলা এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল !

আল্লাহর তরফ থেকে বান্দার উপর যে হজ্জ ফরয হয়েছে তা আমার বৃদ্ধ পিতার উপর এমন সময় ফরয হয়েছে যখন তিনি সওয়ারীর উপর ঠিকভাবে বসে থাকতে সক্ষম নন।

আমি তার পক্ষ হতে হজ্জ আদায় করলে তার হজ্জ আদায় হবে কি ? তিনি বললেন : (নিশ্চয়ই আদায় হবে)।

বুখারি হাদিস নং ১৭৩৪ – পুরুষের পক্ষ হতে মহিলার হজ্জ আদায় করা।

হাদীস নং ১৭৩৪

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ফযল (ইবনে আব্বাস) রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাওয়ারীতে তাঁর পেছনে বসা ছিলেন।

এমতাবস্থায় খাসআম গোত্রের এক মহিলা আসলেন। ফযল রা. মহিলার দিকে তাকাতে লাগলেন এবং মহিলাও তার দিকে তাকাতে লাগলেন। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযল রা.-এর মুখটি অন্যদিকে ফিরিয়ে দিতে লাগলেন।

এ সময় মহিলাটি বললেন, আমার পিতার বৃদ্ধ অবস্থায় আল্লাহর পক্ষ থেকে তার উপর হজ্জ ফরয হয়েছে এমন সময়. যখন তিনি সওয়ারীর উপর বসে থাকতে পারছেন না। আমি কি তার পক্ষ হতে হজ্জ আদায় করতে পানি ? তিনি বললেন : হ্যাঁ। এ ছিল বিদায় হজ্জের সময়কার ঘটনা।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৫ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৩৫ – বালকদের হজ্জ আদায় করা।

হাদীস নং ১৭৩৫

আবুন নুমান রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মালপত্রের সাথে মুযদালিফা থেকে রাত্রিকালে প্রেরণ করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৭৩৬

হাদীস নং ১৭৩৬

ইসহাক রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার গাধীর পিঠে আরোহণ করে (মিনায়) আগমন করলাম। তখন আমি সাবালক হওয়ার নিকটবর্তী ছিলাম।

ঐ সময়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আমি চলতে চলতে প্রথম কাতারে কিছু অংশ অতিক্রম করে চলে যাই।

এরপর সাওয়ারী থেকে নিচে অবতরণ করি। গাধীটি চরে খেতে লাগল। আর আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে লোকদের সাথে কাতারে শামিল হয়ে যাই। ইউসুফ রহ. ইবনে শিহাব রহ. সূত্রে তাঁর বর্ণনায় মিনা শব্দের পর বিদায় হজ্জের সময় কথাটি বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৭৩৭

হাদীস নং ১৭৩৭

আবদুর রাহমান ইবনে ইউনুস রহ……….সায়িব ইবনে ইয়াযীদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার সাত বছর বয়সে আমাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হজ্জ করানো হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৩৮

হাদীস নং ১৭৩৮

আমর ইবনে যুরারা রহ…….উমর ইবনে আবদুল আযীয রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি সায়িব ইবনে ইয়াযীদ সম্পর্কে বলতেন, সায়িবকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সফর সামগ্রীর কাছে বসিয়ে হজ্জ করানো হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৩৯ – মহিলাদের হজ্জ।

হাদীস নং ১৭৩৯

মুসাদ্দাদ রহ………উম্মুল মুমিনীন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম : হে আল্লাহর রাসূল ! আমরা কি আপনার সঙ্গে যুদ্ধ ও জিহাদে অংশগ্রহণ করব না ?

তিনি বললেন, তোমাদের জন্য উত্তম জিহাদ হল মাকবুল হজ্জ। আয়িশা রা. বললেন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ কথা শোনার পর আমি আর কখনো হজ্জ ছাড়ব না।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৫ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৪০

হাদীস নং ১৭৪০

আবু নুমান রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : মেয়েরা মাহরাম (যার বিবাহ নিষিদ্ধ) ব্যতীত অন্য কারো সাথে সফর করবে না। মাহরাম কাছে নেই এমতাবস্থায় কোন পুরুষ কোন মহিলার নিকট গমন করতে পারবে না।

এ সময় এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ! আমি অমুক অমুক সেনাদলের সাথে জিহাদ করার জন্য যেতে চাচ্ছি। কিন্তু আমার স্ত্রী হজ্জ করতে যেতে যাচ্ছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তুমি তার সাথেই যাও।

বুখারি হাদিস নং ১৭৪১

হাদীস নং ১৭৪১

আবদান রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ থেকে ফিরে এসে উম্মে সিনান রা. নামক এক আনসারী মহিলাকে বললেন : হজ্জ আদায় করাতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?

তিনি বললেন, অমুকের আব্বা অর্থাৎ তাঁর স্বামী, কারণ পানি টানার জন্য আমাদের মাত্র দুটি উট আছে। একটিতে সাওয়ার হয়ে তিনি হজ্জ আদায় করতে গিয়েছেন।

আর অন্যটি আমাদের জমিতে পানি সিঞ্চনের কাজ করছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : রমযান মাসে একটি উমরা আদায় করা একটি ফরয হজ্জ আদায় করার সমান অথবা বলেছেন : আমার সাথে একটি হজ্জ আদায় করার সমান।

হাদীসটি ইবনে জুরায়জ রহ…….আতা রহ. ও ইবনে আব্বাস রা.-এর সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং উবায়দুল্লাহ রহ. জাবির রা.-এর সূত্রে এ হাদীসটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৭৪২

হাদীস নং ১৭৪২

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……..যিয়াদের আযাতকৃত গোলাম কাযাআ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

আমি আবু সাঈদ রা.-কে যিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বারটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, বলতে শুনেছি, চারটি বিষয় যা আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি (অথবা) তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতেন।

আবু সাঈদ রা. বলেন, এ বিষয়গুলো আমাকে আশ্চর্যাম্বিত করে দিয়েছে এবং চমত্কৃত করে ফেলেছ। (তা হল এই,) স্বামী কিংবা মাহরাম ব্যতীত কোন মহিলা দুই দিনের পথ সফর করবে না।

ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা-এ দুই দিন কেউ কোন সালাত আদায় করবে না। মসজিদে হারাম, আমার মসজিদ এবং মসজিদে আকসা-এ তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদের জন্য সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে না।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৫ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

 

বুখারি হাদিস নং ১৭৪৩ – যে ব্যক্তি পায়ে হেটে কাবার যিয়ারত করার মানত করে।

হাদীস নং ১৭৪৩

মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে তার দুই ছেলের উপর ভর করে হেটে যেতে দেখে বললেন : তার কি হয়েছে ?

তারা বললেন, তিনি পায়ে হেটে হজ্জ করার মানত করেছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : লোকটি নিজেকে কষ্ট দিক আল্লাহ তা’আলার এর কোন প্রয়োজন নেই । তাই তিনি তাকে সওয়াব হয়ে চলার জন্য আদেশ করলেন।

 

বুখারি হাদিস নং ১৭৪৪

হাদীস নং ১৭৪৪

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………উকবা ইবনে আমির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার বোন পায়ে হেটে হজ্জ করার মানত করেছিল।

আমাকে এ বিষয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ফতোয়া আনার নির্দেশ করলে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন : পায়ে হেঁটেও চলুক, সওয়ারও হোক। ইয়াযীদ ইবনে আবু হাবীব রহ. বলেন, আবুল খায়ের রহ. উকবা রা. থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হতেন না।

বুখারি হাদিস নং ১৭৪৫

হাদীস নং ১৭৪৫

আবু আসিম রহ………উকবা রা. থেকেও এ হাদীস বর্ণিত রয়েছে।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৫ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস ১৬০০ – যে ব্যক্তি রাস্তা থেকে কুরবানীর পশু খরিদ করে ও তার গলায় কিলাদা বাঁধে।

হাদীস ১৬০০

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে যুবাইরের খিলাফতকালে খারিজীদের হজ্জ আদায়ের বছর ইবনে উমর রা. হজ্জ পালন করার ইচ্ছা করেন। তখন তাকে বলা হল, লোকদের মাঝে পরস্পর লড়াই সংঘটিত হতে যাচ্ছে, আর তারা আপনাকে বাঁধা দিতে পারে বলে আমরা আশংকা করি।

ইবনে উমর রা. বললেন, (আল্লাহ তা’আলা বলেছেন) নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যেই রয়েছে উত্তম আর্দশ। কাজেই আমি সেরূপ করব যেরূপ করেছিলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, আমি আমার উপর উমরা ওয়াজিব করে ফেলেছি।

এরপর বায়দার উপকণ্ঠে পৌছে তিনি বললেন, হজ্জ এবং উমরার ব্যাপার তো একই। আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, উমরার সাথে আমি হজ্জকেও একত্রিত করলাম।

এরপর তিনি কিলাদা পরিহিত কুরবানীর পশু নিয়ে চললেন, যেটি তিনি আসার পথে কিনেছিলেন। তারপর তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করলেন।

তাছাড়া অতিরিক্ত কিছু করেননি এবং সে সব বিষয় থেকে হালাল হননি যেসব বিষয় তাঁর উপর হারাম ছিল-কুরবানীর দিন পর্যন্ত।

তখন তিনি মাথা মুড়ালেন এবং কুরবানী করলেন। তাঁর মতে প্রথম তাওয়াফ দ্বারা হজ্জ ও উমরার তাওয়াফ সম্পন্ন হয়েছে। এ সব করার পর তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই করেছেন।

আরও পড়ুনঃ

সালাতে কসর করা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড

আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

ইসলামের নবি ও রাসুল

মন্তব্য করুন