হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৪ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৪

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৪ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

Table of Contents

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৪ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬৮০ – হজ্জ, উমরা ও জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন করে কি (দু’আ) বলবে।

হাদীস নং ১৬৮০

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোন জিহাদ, বা হজ্জ অথবা উমরা থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন তখন তিনি প্রত্যেক উচু ভূমিতে তিনবার তাকবীর বলতেন এবং পরে বলতেন : আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। সর্বময় ক্ষমতা এবং সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই।

তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। আমরা প্রত্যাবর্তনকারী ও তাওবাকারী, ইবাদতকারী, আমাদের প্রভূর উদ্দেশ্যে সিজদাকারী ও প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, নিজ বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সকল শত্রু দলকে পরাজিত করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৮১ – আগমনকারী হাজীদের খোশ-আমদেদ জানান এবং একই বাহনে তিনজন একত্রে সাওয়ার হওয়া।

হাদীস নং ১৬৮১

মুআল্লা ইবনে আসাদ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় এলে আবদুল মুত্তালিব গোত্রীয় কয়েকজন তরুণ তাকে খোশ-আমদেদ জানায়। তিনি একজনকে তাঁর সাওয়ারীর সামনে ও অন্যজনকে পেছনে তুলে নেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৮২ – সকালে বাড়ি পৌঁছা।

হাদীস নং ১৬৮২

আহমদ ইবনে হাজ্জজ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মসজিদে শাজারাতে সালাত আদায় করতেন। আর যখন ফিরতেন, যুল-হুলাইফার বাতনুল ওয়াদীতে সালাত আদায় করতেন এবং এখানে সকাল পর্যন্ত রাত যাপন করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৮৩ – বিকালে বাড়িতে প্রবেশ করা।

হাদীস নং ১৬৮৩

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে কখনো পরিবারের কাছে প্রবেশ করতেন না। তিনি সকালে কিংবা বিকালে ছাড়া পরিবারের কাছে প্রবেশ করতেন না।

বুখারি হাদিস নং ১৬৮৪ – শহরে পৌছে রাতের বেলা পরিবারের কাছে প্রবেশ করবে না।

হাদীস নং ১৬৮৪

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ……..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা পরিবারের কাছে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৮৫ – মদীনা পৌছে যে ব্যক্তি তার উটনী দ্রুত চালায়।

হাদীস নং ১৬৮৫

সাঈদ ইবনে মারইয়াম রহ……..হুমাইদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস রা.-কে বলতে শুনেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর থেকে ফিরে যখন মদীনার উচু রাস্তাগুলো দেখতেন তখন তিনি তাঁর উটনী দ্রুতগতিতে চালাতেন আর বাহন অন্য জানোয়ার হলে তিনি তাকে তাড়া দিতেন।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৪ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬৮৬

হাদীস নং ১৬৮৬

কুতাইবা রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (উচু রাস্তা) এর পরিবর্তে (দেয়ালগুলো) শব্দ বলেছেন।

হারিস ইবনে উমরার রহ. ইসমাঈল রহ.-এর অনুরূপ বর্ণনা করেন। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, হারিস ইবনে উমায়র হুমায়দ রহ. সূত্রে তাঁর বর্ণনায় আরো বাড়িয়ে বলেছেন, মদীনার মুহব্বাতে তিনি বাহনকে দ্রুত চালিত করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৮৭ – মহান আল্লাহর বাণী : তোমরা দরজা দিয়ে প্রবেশ কর।

হাদীস নং ১৬৮৭

আবুল ওয়ালিদ রহ……..আবু ইসহাক রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি বারা রা.-কে বলতে শুনেছি, এ আয়াতটি আমাদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল। হজ্জ করে এসে আনসারগণ তাদের বাড়িতে সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেন।

এক আনসার ফিরে এসে তার বাড়ির সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে তাকে এ জন্য লজ্জা দেওয়া হয়। তখনই নাযিল হয় : পশ্চাৎ দিক দিয়ে তোমাদের গৃহ-প্রবেশ করাতে কোন কল্যাণ নেই। বরং কল্যাণ আছে যে তাকওয়া অবলম্বন করে।

সুতরাং তোমরা (সামনের) দরজা দিয়ে গৃহে প্রবেশ কর। (২ : ১৮৯)

বুখারি হাদিস নং ১৬৮৮ – সফর অযাবের একটি অংশ ।

হাদীস নং ১৬৮৮

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সফর আযাবের অংশ বিশেষ।

তা তোমাদের যথাসময় পানাহার ও নিদ্রায় বাঁধা সৃষ্টি করে। তাই প্রত্যেকেই যেন নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অবিলম্বে আপন পরিজনের কাছে ফিরে যায়।

বুখারি হাদিস নং ১৬৮৯ – মুসাফিরের সফর দ্রুত করা ও করে শীঘ্র বাড়ি ফেরা।

হাদীস নং ১৬৮৯

সাঈদ ইবনে আবু মারইয়াম রহ………আসলাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কার পথে আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর সঙ্গে ছিলাম। সাফিয়্যা বিনতে আবু উবায়দ রা.-এর গুরুতর অসুস্থ হওয়ার সংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছল।

তখন তিনি গতি বাড়িয়ে দিলেন। (পশ্চিম আকোশের) লালিমা অদৃশ্য হবার পর সাওয়ারী থেকে নেমে মাগরিব ও ইশা একসাথে আদায় করেন।

তারপর বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি, সফরে দ্রুত চলার প্রয়োজন হলে তিনি মাগরিবকে বিলম্ব করে মাগরিব ও ইশা একসাথে আদায় করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৯০ – উমরা আদায়কারী ব্যক্তি যদি অবরুদ্ধ হয়ে যায়।

হাদীস নং ১৬৯০

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, হাঙ্গামা চলাকালে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. উমরার নিয়ত করে মক্কায় রওয়ানা হওয়ার পর বললেন, বায়তুল্লাহর পথে বাঁধাগ্রস্ত হলে, তাই করব যা করেছিলাম আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ।

তাই তিনি উমরার ইহরাম বাঁধলেন। কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও হুদায়বিয়ার বছর উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৯১

হাদীস নং ১৬৯১

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসমা রহ………নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ও সালিম ইবনে আবদুল্লাহ রহ. উভয়ই তাকে সংবাদ দিয়েছেন, যে বছর হাজ্জাজ (ইবনে ইউসুফ) বাহিনী ইবনে যুবায়র রা.-এর বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, সে সময়ে তাঁরা উভয়ে কয়েকদিন পর্যন্ত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-কে বুঝালেন।

তাঁরা বললেন, এ বছর হজ্জ না করলে আপনার কোন ক্ষতি হবে না। আমরা আশংকা করিছি, আপনার ও বায়তুল্লাহর মাঝে বাধা সৃষি।ট হতে পারে। তিনি বললেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রওয়ানা হয়েছিলাম।

কিন্তু বায়তুল্লাহর পথে কাফির কুরাইশরা আমাদের বাঁধা হয়ে দাঁড়াল । তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর পশু যবেহ করে মাথা মুড়িয়ে নিয়েছিলেন। এখন আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আমার নিজের জন্য উমরা ওয়াজিব করে নিয়েছি। আল্লাহ চাহেন তো আমি এখন রওয়ানা হয়ে যাব।

যদি আমার এবং বায়তুল্লাহর মাঝে বাধা না আসে তাহলে আমি তাওয়াফ করে নিব। কিন্তু যদি আমার এবং বায়তুল্লাহর মাঝে বাধা সৃষ্টি করা হয় তাহলে আমি তখনই সেরূপ করব যেরূপ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন আর আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম।

তারপর তিনি যুল-হুলাইফা থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে কিছুক্ষণ চললেন, এরপরে বললেন, হজ্জ এবং উমরার ব্যাপার তো একই। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, নিশ্চয়ই আমি আমার উমরার সাথে হজ্জও নিজের জন্য ওয়াজিব করে নিলাম।

তাই তিনি হজ্জ ও উমরা কোনটি থেকেই হালাল হননি। অবশেষে কুরবানীর দিন কুরবানী করলেন এবং হালাল হলেন। তিনি বসতেন, আমরা হালাল হব না যতক্ষণ পর্যন্ত না মক্কায় প্রবেশ করে একটি তাওয়াফ করে নিই।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৪ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬৯২

হাদীস নং ১৬৯২

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ রা.-এর কোন এক ছেলে তাঁর পিতাকে বললেন, যদি আপনি এ বছর বাড়িতে অবস্থান করতেন (তাহলে আপনার জন্য কতই না কল্যাণকর হত)।

বুখারি হাদিস নং ১৬৯৩ – উমরা আদায়কারী ব্যক্তি যদি অবরুদ্ধ হয়ে যায়।

হাদীস নং ১৬৯৩

মুহাম্মদ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হুদায়বিয়াতে বাঁধাপ্রাপ্ত হন। তাই তিনি মাথা কামিয়ে নেন। স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হন এবং প্রেরিত জানোয়ার কুরবানী করেন। অবশেষে পরবর্তী বছর উমরা আদায় করেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৯৪ – হজ্জে বাঁধাপ্রাপ্ত হওয়া।

হাদীস নং ১৬৯৪

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ…….সালিম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে উমর রা. বলতেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নতই কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয় ?

তোমাদের কেউ যদি হজ্জ করতে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় সে যেন (উমরার জন্য) বায়তুল্লাহর ও সাফা-মারওয়ার মধ্যে তাওয়াফ করে সব কিছু থেকে হালাল হয়ে যায়। অবশেষে পরবর্তী বছর হজ্জ আদায় করে নেয়।

তখন সে কুরবানী করবে আর যদি কুরবানী দিতে না পারে তবে সিয়াম পালন করবে। আবদুল্লাহ রহ……..ইবেন উমর রা. থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন ।

বুখারি হাদিস নং ১৬৯৫ – বাঁধাপ্রাপ্ত হলে মাথা কামানোর আগে কুরবানী করা।

হাদীস নং ১৬৯৫

মাহমুদ রহ………মিসওয়ার রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা কামানোর আগেই কুরবানী করেন এবং সাহাবাদের অনুরূপ করার নির্দেশ দেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৯৬

হাদীস নং ১৬৯৬

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহীম রহ……..নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ এবং সালিম রহ. উভয়ই আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন,

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে উমরার নিয়ত করে আমরা রওয়ানা হলে যখন কুরাইশের কাফিররা বায়তুল্লাহর অনতিদূরে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উট কুরবানী করেন এবং মাথা কামিয়ে ফেলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৯৭ – যার মতে বাঁধাপ্রাপ্ত ব্যাক্তির উপর কাযা ওয়াজিব নয়।

হাদীস নং ১৬৯৭

ইসমাঈল রহ……..নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, (মক্কা মুকাররামায়) গোলযোগ চলাকালে উমরার নিয়ত করে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. যখন মক্কার দিকে রওয়ানা হলেন, তখন বললেন, বায়তুল্লাহ থেকে যদি আমি বাঁধাপ্রাপ্ত হই তাহলে তাই করব যা করেছিলাম আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে।

তাই তিনি উমরার ইহরাম বাঁধলেন। কারণ, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও হুদায়বিয়ার বছর উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন।

তারপর আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. নিজের ব্যাপারে ভেবেচিন্তে বললেন, উভয়টিই (হজ্জ ও উমরা) এক রকম। এরপর তিনি তাঁর সাথীদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, উভয়টি তো একই রকম।

আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, আমি আমার উপর উমরার সাথে হজ্জকে ওয়াজিব করে নিলাম। তিনি উভয়টির জন্য একই তাওয়াফ করলেন এবং এটাই তাঁর পক্ষ থেকে যথেষ্ট মনে করেন, আর তিনি কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়েছিলেন।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৪ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬৯৮ – মহান আল্লাহর বাণী : তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় কিংবা মাথায় ক্লেশ থাকে তবে সিয়াম কিংবা সাদকা অথবা কুরবানীর দ্বারা তার ফিদয়া দিবে। এ ব্যাপারে তাকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। তবে সিয়াম পালন করলে তিন দিন করবে।

হাদীস নং ১৬৯৮

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..কাব ইবনে উজরা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বোধ হয় তোমার এই কীটেরা (উকুন) তোমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে ?

তিনি বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি মাথা মাথা মুড়িয়ে ফেল এবং তিন দিন সিয়াম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকিনকে আহার করাও কিংবা একটি বকরী কুরবানী কর।

বুখারি হাদিস নং ১৬৯৯ – আল্লাহ তা’আলার বাণী : অথবা সাদকা অর্থাৎ ছয়জন মিসকীনকে খাওয়ানো।

হাদীস নং ১৬৯৯

আবু নুআইম রহ………কাব ইবনে উজরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে দাঁড়ালেন। এ সময় আমার মাথা থেকে উকুন ঝরে পড়ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন : তোমার এই কীটগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে ?

আমি বললাম, হ্যাঁ, তিনি বললেন : মাথা মুড়িয়ে নাও অথবা বললেন, মুড়িয়ে নাও। কাব ইবনে উজরা রা. বলেন, আমার সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে এই আয়াতটি : তোমাদের মধ্যে কেউ যদি পীড়িত হয় কিংবা মাথায় ক্লেশ থাকে……..(২ : ১৯৬)।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তুমি তিনদিন সিয়াম পালন কর কিংবা ফরক (তিন সা’ পরিমাণ) ছয়জন মিসকীনের মধ্যে সাদকা কর, অথবা কুরবানী কর যা তোমার জন্য সহজসাধ্য।

বুখারি হাদিস নং ১৭০০ – ফিদায়ার দেয়া খাদ্য অর্ধ সা’ পরিমাণ ।

হাদীস নং ১৭০০

আবুল ওয়ালীদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে মাকিল রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কাব ইবনে উজরা রা.-এর পাশে বসে তাকে ফিদয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এ আয়াত বিশেষভাবে আমার সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে।

তবে এ হুকুম সাধারণভাবে তোমাদের সকলের জন্যই । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আমাকে নিয়ে যাওয়া হল। তখন আমার চেহারায় উকুন বেয়ে পড়ছে।

তিনি বললেন : তোমার কষ্ট বা পীড়া যে পর্যায়ে পৌছেছে দেখতে পাচ্ছি, আমার তো আগে এ ধারণা ছিল না। তুমি কি একটি বকরীর ব্যবস্থা করতে পারবে ?

আমি বললাম, না। তিনি বললেন : তাহলে তুমি তিন দিন সিয়াম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীনকে অর্ধ সা’ করে খাওয়াও।

বুখারি হাদিস নং ১৭০১ – নুসুক হল বকরী কুরবানী।

হাদীস নং ১৭০১

ইসহাক রহ………কাব ইবনে উজরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চেহারায় উকুন ঝরে পড়তে দেখে তাকে বললেন : এই কীটগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মাথা কামিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন।

এ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ায় ছিলেন। এখানেই তাদের হালাল হয়ে যেতে হবে এ বিষয়টি তখনও তাদের কাছে স্পষ্ট হয়নি। তাঁরা মক্কায় প্রবেশের আশা করছিলাম।

তখন আল্লাহ তা’আলা ফিদয়ার হুকুম নাযিল করলেন এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এক ফরক খাদ্যশস্য ছয়জন মিসকীনের মধ্যে দিতে কিংবা একটি বকরী কুরবানী করতে অথবা তিনদিন সিয়াম পালনের নির্দেশ দিলেন।

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ…….কাব ইবনে উজরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এমতাবস্থায় দেখলেন যে, তাঁর চেহারার উপর উকুন পড়ছে। এর বাকি অংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ।

বুখারি হাদিস নং ১৭০২ – মহান আল্লাহর বাণী : স্ত্রী সম্ভোগ নেই।

হাদীস নং ১৭০২

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এ ঘরের হজ্জ আদায় করল এবং স্ত্রী সহবাস করল না এবং অন্যায় আচরণও করল না, সে প্রত্যাবর্তন করবে মাতৃগর্ভে থেকে সদ্য প্রসূত শিশুর মত হয়ে।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৪ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭০৩ – মহান আল্লাহর বাণী : হজ্জের সময়ে অন্যায় আচরণ ও ঝগড়া-বিবাদ নেই।

হাদীস নং ১৭০৩

মুহাম্মদ ইনবে ইউসুফ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি এ ঘরের হজ্জ আদায় করল, অশ্লীলতায় লিপ্ত না এবং আল্লাহর নাফরমানী করল না, সে মাতৃগর্ভ থেকে সদ্য প্রসূত শিশুর মত হয়ে (হজ্জ থেকে)) প্রত্যাবর্তন করবে।

বুখারি হাদিস নং ১৭০৫ – মুহরিম ব্যাক্তিগণ শিকার জন্তু দেখে হাসাহাসি করার ফলে যদি ইহরামবিহীন ব্যাক্তিরা তা বুঝে ফেলে।

হাদীস নং ১৭০৫

সাঈদ ইবেন রাবী রহ……….আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার বছর আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যাত্রা করলাম। তাঁর সকল সাহাবীই ইহরাম বেঁধেছিলেন কিন্তু আমি ইহরাম বাঁধিনি।

এরপর আমাদেরকে গায়কা নামক স্থানে শত্রুরা উপস্থিতি সম্পর্কে খবর দেয়া হলে আমরা শত্রুর অভিমুখে রওয়ানা হলাম। আমার সঙ্গী সাহাবীগণ একটি বন্য গাধা দেখতে পেয়ে একে অন্যের দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগলেন। আমি সেদিকে তাকাতেই তাকে দেখে ফেললাম।

সাথে সাথে আমি ঘোড়ার পিঠে চড়ে বর্শা দিয়ে গাধাটিকে আঘাত করে ঐ জায়গাতেই ফেলে দিলাম। তারপর তাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করলে তাঁরা সকলেই সাহায্য করতে অসম্মতি প্রকাশ করলেন।

তবে আমরা সবাই এর গোশত খেলাম। এরপর গিয়ে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মিলিত হলাম। (এর পূর্বে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশংকাবোধ করছিলাম। তাই আমি আমার ঘোড়াটি কখনো দ্রুতগতিতে আবার কখনো স্বাভাবিক গতিতে চালিয়ে যাচ্ছিলাম।

মধ্যরাতে গিয়ে গিফার গোত্রীয় এক লোকের সাথে সাক্ষাত হলে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোথায় রেখে এসেছেন ?

তিনি বললেন, আমি তাহিন নামক স্থানে তাকে রেখে এসেছি। তিনি এখন সুকয়া নামক স্থানে বিশ্রাম করছেন। এরপর আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মিলিত হলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রাসূল !

আপনার সাহাবীগণ আপনার প্রতি সালাম পাঠিয়েছেন এবং রহমতের দু’আ করেছেন। শত্রুরা আপনার থেকে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে এ ভয়ে তাঁরা আতংকিত হয়ে পড়েছিলেন।

সুতরাং আপনি তাদের জন্য অপেক্ষ করুন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই করলেন। অতঃপর আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল ! আমরা একটি জংলী গাধা শিকার করেছি।

এর অবশিষ্ট কিছু অংশ এখনও আমাদের নিকট আছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন : তোমরা খাও। অথচ তাঁরা ছিলেন ইহরাম অবস্থায়।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৪ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭০৬ – শিকার জন্তু হত্যা করার ব্যাপারে মুহরিম কোন হালাল ব্যাক্তিকে সাহায্য করবে না।

হাদীস নং ১৭০৬

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ. ও আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..আবু কাতাদা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনা থেকে তিন মারহালা দূরে অবস্থিত কাহা নামক স্থানে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আমাদের কেউ ইহরামধারী ছিলেন আর কেউ ছিলেন ইহরামবিহীন। এ সময় আমি আমার সাথী সাহাবীদেরকে দেখলাম তাঁরা একে অন্যকে কিছু দেখাচ্ছেন। আমি তাকাতেই একটি জংগী গাধা দেখতে পেলাম। (রাবী বলেন) এ সময় তার চাবুকটি পড়ের গেল।

(তিনি আনিয়ে দেওয়ার কথা বললে) সকলেই বললেন, আমরা মুহরিম। তাই এ কাজে আমরা তোমাকে সাহায্য করতে পারব না। অবশেষে আমি নিজেই তা উঠিয়ে নিলাম এরপর টিলার পিছনদিক থেকে গাধাটির কাছে এসে তা শিকার করে সাহবীদের কাছে নিয়ে আসলাম।

তাদের কেউ বললেন, খাও আবার কেউ বললেন, খেয়ো না। সুতরাং গাধাটি আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট নিয়ে আসলাম । তিনি আমাদের সকলের আগে ছিলেন।

আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন : খাও, এতো হালাল। সুফিয়ান রহ. বলেন, আমাদেরকে আমর ইবনে দীনার বললেন, তোমরা সালিহ রহ. এবং অন্যান্যের নিকট গিয়ে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা কর। তিনি আমাদের এখানে আগমন করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৭০৭ – ইহরামধারী ব্যক্তি শিকার জন্তুর প্রতি ইশারা করবে না, যার ফলে ইহরামবিহীন ব্যক্তি শিকার করে নেয়।

হাদীস নং ১৭০৭

মূসা ইবেন ইসমাঈল রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তাকে তাঁর পিতা বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জে যাত্রা করলে তাঁরাও সকলে যাত্রা করলেন।

তাদের থেকে একটি দলকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য পথে পাঠিয়ে দেন। তাদের মধ্যে আবু কাতাদা রা.-ও ছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা সমুদ্র তীরের রাস্তা ধরে অগ্রসর হবে আমাদের পরস্পর সাক্ষাত হওয়া পর্যন্ত।

তাই তাঁরা সকলেই সমুদ্র তীরের পথ ধরে চলতে থাকেন। ফিরার পথে তাঁরা সবাই ইহরাম বাঁধলেন কিন্তু আবু কাতাদা রা. ইহরাম বাঁধলেন না। পথ চলতে চলতে হঠাৎ তাঁরা কতগুলো বন্য গাধা দেখতে পেলেন।

আবু কাতাদা রা. গাধাগুলোর উপর হামলা করে একটি মাদী গাধাকে হত্যা করে ফেললেন। এরপর এক স্থানে অবতরণ করে তাঁরা সকলেই এর গোশত খেলেন। তারপর বললেন, আমরা তো মুহরিম, এ অবস্থায় আমরা কি শিকার জন্তুর গোশত খেতে পারি ? তাই আমরা গাধাটির অবশিষ্ট গোশত উঠিয়ে নিলাম।

তাঁরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌছে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা ইহরাম বেঁধেছিলাম কিন্তু আবু কাতাদা রা. ইহরাম বাঁধেননি।

এ সময় আমরা কতগুলো বন্য গাধা দেখতে পেলাম। আবু কাতাদা রা. এগুলোর উপর আক্রমণ করে একটি মাদী গাধা হত্যা করে ফেললেন । এক স্থানে অবতরণ করে আমরা সকলেই এর গোশত খেয়ে নিই।

এরপর বললাম, আমরা কি শিকারকৃত জানোয়ারের গোশত খেতে পারি ? এখন আমরা এর অবশিষ্ট গোশত নিয়ে এসেছি।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমাদের কেউ কি এর উপর আক্রমণ করতে তাকে আদেশ বা ইশারা করেছে ? তাঁরা বললেন, না, আমরা তা করিনি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাহলে বাকী গোশত তোমরা খেয়ে নাও।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৪ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭০৮ – মুহরিম ব্যক্তিকে জীবিত জংলী গাধা হাদিয়া দিলে সে তা কবুল করবে না।

হাদীস নং ১৭০৮

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..সাব ইবনে জাসসামা লায়সী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আবওয়া বা ওয়াদ্দান নামক স্থানে অবস্থানকালে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে একটি জংলী গাধা হাদিয়া দিলে তিনি তা ফিরিয়ে দেন।

এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চেহারায় মলিনতা লক্ষ্য করে বললেন : তা আমি কখনো তোমার নিকট ফিরিয়ে দিতাম না যদি আমি মুহরিম না হতাম।

বুখারি হাদিস নং ১৭০৯ – মুহরিম ইহরাম অবস্থায় কি কি প্রাণী বধ করতে পারে।

হাদীস নং ১৭০৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : পাঁচ প্রকার প্রাণী হত্যা করা মুহরিমের জন্য দূষণীয় নয়।

আবদুল্লাহ ইবনে দীনার ও মুসাদ্দাদ রহ……..ইবনে উমর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীগণের একজন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, মুহরিম ব্যক্তি (নির্দিষ্ট) প্রাণী হত্যা করতে পারবে ।

আসবাগ ইবনে ফারাজ রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর সুত্রে হাফসা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পাঁচ প্রকার প্রাণী হত্যা করাতে তার কোন দোষ নেই। (যেমন) কাক, চিল, ইঁদুর, বিচ্ছু ও পাগলা কুকুর।

বুখারি হাদিস নং ১৭১০

হাদীস নং ১৭১০

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পাঁচ প্রকার প্রাণী এত ক্ষতিকর যে, এগুলোকে হারম শরীফেও হত্যা করা যেতে পারে। (যেমন) কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর ও পাগলা কুকুর।

বুখারি হাদিস নং ১৭১১

হাদীস নং ১৭১১

উমর ইবেন হাফস ইবেন গিয়াস রহ……..আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মিনাতে পাহাড়ের কোন এক গুহায় আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। এমতাবস্থায় নাযিল হল তাঁর উপর সূরা ওয়াল মুরসালাত। তিনি সূরাটি তিলাওয়াত করছিলেন।

আর আমি তাঁর পবিত্র মুখ থেকে গ্রহণ করছিলাম। তাঁর মুখ (তিলাওয়াতের ফলে) সিক্ত ছিল। এমতাবস্থায় আমাদের সামনে একটি সাপ লাফিয়ে পড়ল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : একে মেরে ফেল।

আমরা দৌড়িয়ে গেলে সাপটি চলে গেল। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : রক্ষা পেল সাপটি তোমাদের অনিষ্ট থেকে যেমন তোমরা রক্ষা পেলে এর অনিষ্ট থেকে।

আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, এ হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, মিনা হারম শরীফের অন্তর্ভূক্ত এবং তাঁরা সাপ মারাকে দোষ মনে করতেন না।

বুখারি হাদিস নং ১৭১২

হাদীস নং ১৭১২

ইসমাঈল রহ……….. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা রা. থেকে বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাকলাসকে ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু একে হত্যা করার আদেশ দিতে আমি তাকে শুনিনি।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৪ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭১৩ – হেরম শরীফের কোন গাছ কাটা যাবে না।

হাদীস নং ১৭১৩

কুতাইবা রহ…….আবু শুরায়হ আদাবী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি আমর ইবনে সাঈদ রহ.-কে বললেন, যখন আমর মক্কায় সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন, হে আমীর ! আমাকে অনুমতি দিন।

আমি আপনাকে এমন কথা শুনাব যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের পরের দিন ইরশাদ করেছিলেন। আমার দুটি কান ঐ কথাগুলো শুনেছে, হৃদয় সেগুলোকে স্মৃতিতে একে রেখেছে এবং আমার চোখ দুটো তা প্রত্যক্ষ করেছে।

যখন তিনি কথাগুলো বলেছিলেন, তখন তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করার পর বললেন : আল্লাহ তা’আলা মক্কাকে মহাসম্মানিত করেছেন। কোন মানুষ তাকে মহাসম্মানিত করেনি।

সুতরাং আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মানুষের জন্য মক্কায় রক্তপাত করা বা এর কোন গাছ কাটা বৈধ নয়। আল্লাহর রাসূল কর্তৃক লড়াই পরিচালনার কারণে যদি কেউ যুদ্ধ করার অনুমতি দেয় তাহলে তাকে তোমরা বলে দিও, আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তো অনুমতি দিয়েছিলেন।

তোমাদেরকে তো আর তিনি অনুমতি দেননি। আর এ অনুমতিও কেবল শুধু আমাকে দিনের কিছু সময়ের জন্য দেওয়া হয়েছিল। আজ পুনরায় তার নিষিদ্ধতা পুনর্বহাল করা হয়েছে দেয়।

আবু শুরায়হ রা.-কে জিজ্ঞাসা করা হল, আপনাকে আমর কি জবাব দিয়েছিলেন ? তিনি বললেন, আমর বলেছিলেন, হে আবু শুরায়হ ! এর বিষয়টি আমি তোমার থেকে ভাল জানি।

হারম কোন অপরাধীকে, হত্যা করে পলাতক ব্যক্তিকে এবং চুরি করে পলায়নকারী ব্যক্তিকে আশ্রয় দেয় না। আবু আবদুল্লাহ রহ. خربة বলেন, শব্দের অর্থ হল بلية বা ফিতনা-ফাসাদ।

বুখারি হাদিস নং ১৭১৪ – হারমের কোন শিকার জন্তুকে তাড়ান যাবে না।

হাদীস নং ১৭১৪

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আল্লাহ তা’আলা মক্কাকে সম্মানিত করেছেন।

সুতরাং তা আমার পূর্বে কারো জন্য হালাল ছিল না এবং আমার পরেও কারো জন্য হালাল হবে না। তবে আমার জন্য কেবল দিনের কিছু সময়ের জন্য হালাল করে দেওয়া হয়েছিল। তাই এখানকার ঘাস, লতাপাতা কাটা যাবে না ও গাছ কাটা যাবে না।

কোন শিকার জন্তুকে তাড়ান যাবে না এবং কোন হারানো বস্তুকেও হস্তগত করা যাবে না। অবশ্য ঘোষণাকারী ব্যক্তি এ নিয়মের ব্যতিক্রম। আব্বাস রা. বললেন : হ্যাঁ, ইযখিরকে বাদ দিয়েই।

খালিদ রহ. ইকরিমা রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, হারমের শিকার জানোয়ারকে তাড়ান যাবে না, এর অর্থ তুমি কি জান ? এর অর্থ হল ছায়া থেকে তাকে তাড়িয়ে তার স্থানে অবতরণ করা।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৪ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭১৫ – মক্কাতে লড়াই করা অবৈধ।

হাদীস নং ১৭১৫

উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন : এখন থেকে আর হিজরত নেই , রয়েছে কেবল জিহাদ এবং নিয়ত। সুতরাং যখন তোমাদেরকে জিহাদের জন্য ডাকা হবে, এ ডাকে তোমরা সাড়া দিবে।

আসমান-যমীন দিন থেকেই আল্লাহ তা’আলা এ শহরকে মহাসম্মানিত করে দিয়েছেন। আল্লাহ কর্তৃক সম্মানিত করার কারণেই কিয়ামত পর্যন্ত এ শহর থাকবে মহাসম্মানিত হিসেবে।

এ শহরে লড়াই করা আমার পূর্বেও কারো জন্য বৈধ ছিল না এবং আমর জন্যও দিনের কিছু অংশ ব্যতীত বৈধ হয়নি। আল্লাহ কর্তৃক সম্মানিত করার কারণে তা থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত মহাসম্মানিত হিসেবে।

এর কাটা উপড়িয়ে ফেলা যাবে না, তাড়ান যাবে না এর শিকার জানোয়ারকে, ঘোষণা করার উদ্দেশ্য ছাড়া কেউ এ স্থানে পড়ে থাকা কোন বস্তুকে উঠিয়ে নিতে পারবে না এবং কর্তন করা যাবে না এখানকার কাঁচা ঘাস ও তরুলতাগুলোকে।

আব্বাস রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ! ইযখির বাদ দিয়ে কেননা, এতো তাদের কর্মকারদের জন্য এবং তাদের ঘরে ব্যবহারের জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হ্যাঁ, ইযখির বাদ দিয়ে।

বুখারি হাদিস নং ১৭১৬ – মুহরিমের জন্য সিংগা লাগনো।

হাদীস নং ১৭১৬

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় সিংগা লাগিয়েছিলেন।

অপর এক সূত্রে সুফিয়ান রহ. ইবনে আব্বাস রা. থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, এ হাদীসটি আমর রহ. আতা রহ. এবং তাউস রহ. উভয় থেকে শুনেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৭১৭

হাদীস নং ১৭১৭

খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ……..ইবনে বুহায়না রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় লাহইয়ে জামাল নামক স্থানে তাঁর মাথার মধ্যখানে সিংগা লাগিয়েছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৭১৮ – ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করা।

হাদীস নং ১৭১৮

আবুল মুগীরা আবদুল কুদ্দুস ইবনে হাজ্জাজ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মায়মুনা রা.-কে বিবাহ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৭১৯ – মুহরিম পুরুষ ও মহিলার জন্য নিষিদ্ধ সুগন্ধি সমূহ।

হাদীস নং ১৭১৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ! ইহরাম অবস্থায় আপনি আমাদেরকে কী ধরনের কাপড় পরতে আদেশ করেন ?

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : জামা, পায়জামা, পাগড়ি ও টুপি পরিধান করবে না। তবে কারো যদি জুতা না থাকে তাহলে সে যেন মোজা পরিধান করে তার গিরার নিচের অংশটুকু কেটে নেয়। তোমরা জাফরান এবং ওয়ারস লাগানো কোন কাপড় পরিধান করবে না।

মুহরিম মহিলাগণ মুখে নেকাব এবং হাতে হাত মোজা লাগাবে না। মূসা ইবনে উকবা, ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম ইবনে উকবা, জুওয়ায়রিয়া, ইবনে ইসহাক রহ. নেকাব এবং হাত মোজার বর্ণনায় লায়স রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

উবায়দুল্লাহ রহ. এর স্থলে বলেছেন এবং তিনি বলতেন , ইহরাম বাঁধা মেয়েরা নেকাব ও হাত মোজা ব্যবহার করবে না।

মালিক রহ. নাফি রহ. এর মাধ্যমে ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইহরাম বাঁধা মেয়েরা নেকাব ব্যবহার করবে না। লায়স ইবনে আবু সুলাইমান রহ. এ ক্ষেত্রে মালিক রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৭২০

হাদীস নং ১৭২০

কুতাইবা রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মুহরিম ব্যক্তিকে তার উষ্ট্রী ফেলে দেয়, ফলে তার ঘাড় ভেঙ্গে যায় এবং মারা যায়।

তাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আনা হয়। তিনি বললেন : তোমরা তাকে গোসল করাও এবং কাফন পরাও। তবে তার মাথা ঢেকে দিওনা এবং সুগন্ধি লাগিও না । তাকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় কিয়ামতের ময়দানে উঠানো হবে।

বুখারি হাদিস নং ১৭২১ – মুহরিম ব্যাক্তির গোসল করা। ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, মুহরিম ব্যক্তি গোসলখানায় প্রবেশ করতে পারবে।

হাদীস নং ১৭২১

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে হুনায়ন রহ. তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবওয়া নামক স্থানে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. এবং মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা.-এর মধ্যে মতানৈক্য হল। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বললেন, মুহরিম ব্যক্তি তার মাথা ধৌত করতে পারবে আর মিসওয়ার রহ. বললেন, মুহরিম তার মাথা ধৌত করতে পারবে না।

এরপর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. আমাকে আবু আয়্যূব আনসারী রা.-এর নিকট পাঠালেন। আমি তাকে সালাম করলাম ।

তিনি বললেন, কে ? বললাম, আমি আবদুল্লাহ ইবনে হুনায়ান। মুহরিম অবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে তাঁর মাথা ধৌত করতেন, এ বিষয়টি জিজ্ঞাসা করার জন্য আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. আপনার নিকট পাঠিয়েছেন।

এ কথা শুনে আবু আয়্যূব রা. তাঁর হাতটি কাপড়ের উপর রাখলেন এবং কাপড়টি নিচু করে দিলেন। ফলে তাঁর মাথাটি আমি পরিষ্কারভাবে দেখতে পেলাম। তারপর তিনি এক ব্যক্তিকে, যে তার মাথায় পানি ঢালছিল, বললেন, পানি ঢাল।

সে তাঁর মাথায় পানি ঢালতে থাকল। তারপর তিনি দু’ হাত দ্বারা মাথা নাড়া দিয়ে হাত দু’ খানা একবার সামনে আনলেন আবার পেছনের দিকে টেনে নিলেন। এরপর বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ করতে দেখেছি।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৪ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭২২ – চপ্পল না থাকা অবস্থায় মুহরিম ব্যক্তির জন্য মোজা পরিধান করা।

হাদীস নং ১৭২২

আবুল ওয়ালীদ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুহরিমদের উদ্দেশ্যে আরাফাতে ভাষণ দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন : যার চপ্পল নেই সে মোজা পরিধান করবে আর যার লুঙ্গি নেই সে পায়জামা পরিধান করবে।

বুখারি হাদিস নং ১৭২৩

হাদীস নং ১৭২৩

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ…….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, মুহরিম ব্যক্তি কী কাপড় পরিধান করবে এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন : মুহরিম ব্যক্তি জামা, পাগড়ি, পায়জামা, টুপি এবং জাফরান কিংবা ওয়ারস দ্বারা রঞ্জিত কাপড় ব্যবহার করতে পারবে না।

যদি তার চপ্পল না থাকে তাহলে মোজা পরবে, তবে মোজা দুটি পায়ের গিরার নিচ থেকে কেটে নিবে।

বুখারি হাদিস নং ১৭২৪ – লুঙ্গি না পেলে (মুহরিম ব্যক্তি) পায়জামা পরিধান করবে।

হাদীস নং ১৭২৪

আদম রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফার ময়দানে আমাদেরকে লক্ষ্য করে তাঁর ভাষণে বললেন : (মুহরিম অবস্থায়) যার লুঙ্গি নেই সে যেন পায়জামা পরিধান করে এবং যার চপ্পল নেই সে যেন মোজা পরিধান করে।

বুখারি হাদিস নং ১৭২৫ – মুহরিম ব্যক্তির অস্ত্রধারণ করা।

হাদীস নং ১৭২৫

উবায়দুল্লাহ রহ………বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল- কাদা মাসে উমরা আদায় করার নিয়তে রওয়ানা হলে মক্কাবাসী লোকেরা তাকে মক্কা প্রবেশ করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

অবশেষে তিনি তাদের সাথে এই শর্তে চুক্তি করেন যে, সশস্ত্র অবস্থায় নয় বরং তলোয়ার কোষবদ্ধ অবস্থায় তিনি মক্কা প্রবেশ করবেন।

বুখারি হাদিস নং ১৭২৬ – মক্কা ও হেরেম শরীফে ইহরাম ব্যতীত প্রবেশ করা।

হাদীস নং ১৭২৬

মুসলিম রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাবাসীদের জন্য যুল-হুলাইফা, নজদবাসীদের জন্য কারনুল মানাযিল এবং ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম নামক স্থানকে ইহরামের জন্য মীকাত নির্ধারণ করেছেন।

এ স্থানগুলোর অধিবাসীদের জন্য এবং হজ্জ ও উমরার সংকল্প করে বাইরে থেকে আগত যাত্রী, যারা এ স্থান দিয়ে অতিক্রম করবে, তাদের জন্য এ স্থানগুলো মীকাত হিসাবে গণ্য হবে।

আর মীকাতের অভ্যন্তরে অবস্থানকারী লোকদের জন্য তারা যেখান থেকে যাত্রা করবে সেটাই তাদের ইহরাম বাঁধার জায়গা। এমন কি মক্কাবাসী লোকেরা মক্কা থেকেই ইহরাম বাঁধবে।

বুখারি হাদিস নং ১৭২৭

হাদীস নং ১৭২৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লৌহ শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় (মক্কা) প্রবেশ করেছিলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিরস্ত্রাণটি মাথা থেকে খোলার পর এক ব্যক্তি এসে তাকে বললেন, ইবনে খাতাল কাবার গিলাফ ধরে আছে। তিনি বললেন : তাকে তোমরা হত্যা কর।

বুখারি হাদিস নং ১৭২৮ – অজ্ঞতাবশত যদি কেউ জামা পরে ইহরাম বাঁধে।

হাদীস নং ১৭২৮

আবুল ওয়ালীদ রহ……..ইবেন ইয়ালা রা. তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম।

এমতাবস্থায় হলুদ বা অনুরূপ রংগের চিহ্ন বিশিষ্ট জামা পরিহিত এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন। আর উমর রা. আমাকে বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি যখন ওহী নাযিল হয় সে মুহূর্তে তুমি কি তাকে দেখতে চাও ?

এরপর (ঐ সময়ে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওহী নাযিল হল। তারপর এ অবস্থা পরিবর্তন হলে তিনি (প্রশ্নকারীকে) বললেন : হজ্জে তুমি যা কর উমরাতেও তাই কর।

এক ব্যক্তি অন্য একজনের হাত কামড়িয়ে ধরলে তার সামনের দুটি দাঁত উৎপাটিত হয়ে যায়, এ সংক্রান্ত নালিশ তিনি বাতিল করে দেন।

বুখারি হাদিস নং ১৭২৯ – মুহরিম ব্যক্তির আরাফাতে মৃত্যু হলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পক্ষ হতে হজ্জের বাকী রুকনগুলো আদায় করার জন্য আদেশ প্রদান করেননি।

হাদীস নং ১৭২৯

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরাফাত ময়দানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে উকুক (অবস্থায়) করছিলেন।

হঠাৎ তিনি তাঁর সাওয়ারী থেকে পড়ে যান এবং তাঁর ঘাড় ভেংগে যায় অথবা সাওয়ারীটি তাঁর ঘাড় ভেংগে দেয়। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাকে কুলগাছের পাতা দিয়ে সিদ্ধ পানি দ্বারা গোসল করাও এবং দুই কাপড়ে অথবা বলেন তার পরিধেয় দুটি কাপড়ে কাফন দাও।

তবে তার মাথা ঢেকে দিও না এবং হানুত নামক সুগন্ধিও ব্যবহার কর না। কেননা আল্লাহ তা’আলা তাকে কিয়ামতের দিনে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠাবেন।

বুখারি হাদিস নং ১৭৩০

হাদীস নং ১৭৩০

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরাফাত ময়দানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে উকুক (অবস্থায়) করছিলেন।

হঠাৎ তিনি তাঁর সাওয়ারী থেকে পড়ে যান এবং তাঁর ঘাড় ভেংগে যায় অথবা সাওয়ারীটি তাঁর ঘাড় ভেংগে দেয়।

এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাকে কুলগাছের পাতা দিয়ে সিদ্ধ পানি দ্বারা গোসল করাও এবং দুই কাপড়ে অথবা বলেন তার পরিধেয় দুটি কাপড়ে কাফন দাও।

তবে তার শরীরে সুগন্ধি ব্যবহার করবে না তার মাথা ঢাকবে না এবং হানুতও লাগাবে না । কেননা আল্লাহ তা’আলা তাকে কিয়ামতের দিনে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠাবেন।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৪ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৩১ – ইহরাম অবস্থায় মৃত্যু হলে তার বিধান ।

হাদীস নং ১৭৩১

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইহরাম অবস্থায় এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন। হঠাৎ তাঁর সাওয়ারী তাঁর ঘাড় ভেংগে দেয় । ফলে তিনি মারা যান।

এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা তাকে কুলগাছের পাতা দিয়ে সিদ্ধ পানি দ্বারা গোসল করাও এবং দুই কাপড়ে কাফন দাও।

তবে তার শরীরে সুগন্ধি ব্যবহার করবে না এবং তার মাথা ঢাকবে না। কেননা আল্লাহ তা’আলা তাকে কিয়ামতের দিনে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে।

আরও পড়ুনঃ

জুমু’আ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

দু’ঈদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বিতর অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

কুরআন তিলাওয়াতের সিজ্‌দা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হজ্জ

মন্তব্য করুন