হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৩ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৩

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৩ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

Table of Contents

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৩ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬৩৩

হাদীস নং ১৬৩৩

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় অবস্থানকালে বললেন : তোমরা কি জান, এটি কোন দিন ? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচাইতে বেশী জানেন।

তিনি বললেন : এটি সম্মানিত দিন। (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : তোমরা কি জান এটি কোন শহর ? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচাইতে বেশী জানেন। তিনি বললেন : এটি সম্মানিত শহর।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা কি জান এটি কোন মাস ? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন : এটি সম্মানিত মাস।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এ মাসে, এ শহরে, এ দিনটি তোমাদের জন্য যেমন সম্মানিত, তেমনিভাবে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের ইযযত-আবরুকে তোমাদের পরস্পরের জন্য সম্মানিত করে দিয়েছেন।

হিশাম ইবনে গায রহ. নাফি রহ.-এর মাধ্যমে ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হজ্জ আদায়কালে কুরবানীর দিন জামারাতের মধ্যবর্তী স্থলে দাঁড়িয়ে এ কথাগুলো বলেছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন যে, এটি হল হজ্জে আকবরের দিন।

এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে লাগলেন : ইয়া আল্লাহ ! তুমি সাক্ষী থাক। এরপর তিনি সাহাবীগণকে বিদায় জানালেন। তখন সাহাবীগণ বললেন, এ-ই বিদায় হজ্জ।

বুখারি হাদিস নং ১৬৩৪ – পানি পান করানোর ব্যবস্থা কারীদের ও অন্যান্য লোকদের মিনার রাতগুলোতে মক্কায় অবস্থান করা।

হাদীস নং ১৬৩৪

মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে মায়মুন, ইয়াহইয়া ইবনে মূসা ও মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, আব্বাস রা. পানি পান করানোর জন্য মিনার রাতগুলোতে মক্কায় অবস্থানের ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুমতি চাইলেন।

তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। আবু উসামা, উকবা ইবনে খালিদ ও আবু যামরা রহ. এ হাদীস বর্ণনায় মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইরের অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৩৫ – কংকর মারা।

হাদীস নং ১৬৩৫

আবু নুআইম রহ………ওবারা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, কখন কংকর মারব ? তিনি বললেন, তোমার ইমাম যখন কংকর মারবে, তখন তুমিও মারবে।

আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, আমরা সময়ের অপেক্ষা করতাম, যখন সূর্য ঢলে যেত তখনই আমরা কংকর মারতাম।

বুখারি হাদিস নং ১৬৩৬ – বাতনে ওয়াদী থেকে কংকর মারা।

হাদীস নং ১৬৩৬

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ………আবদুর রাহমান ইবনে ইয়াযীদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ রা. বাতনে ওয়াদী থেকে কংকর মারেন। তখন আমি তাকে বললাম, হে আবু আবদুর রহমান ! লোকেরা তো এর উচ্চস্থান থেকে কংকর মারে। তিনি বললেন, সে সত্তার কসম !

যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এটা সে স্থান, যেখানে সূরা বাকারা নাযিল হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে ওয়ালীদ রহ……..আমাশ রহ. থেকে এরূপ বর্ণনা করেন।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৩ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬৩৭ – জামরায় সাতটি কংকর মারা।

হাদীস নং ১৬৩৭

হাফস ইবনে উমর রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি বড় জামরার কাছে গিয়ে বায়তুল্লাহকে বামে ও মিনাকে ডানে রেখে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন। আর বলেন, যার প্রতি সূরা বাকারা নাযিল হয়েছে তিনিও এরূপ কংকর মেরেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৩৮ – বায়তুল্লাহকে বাম দিকে রেখে জামরয়ে আকাবায় কংকর মারা।

হাদীস নং ১৬৩৮

আদম রহ………আবদুর রহমান ইবনে ইয়াযিদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে মাসউদ রা.-এর সঙ্গে হজ্জ আদায় করলেন। তখন তিনি বায়তুল্লাহকে নিজের বামে রেখে এবং মিনাকে ডানে রেখে বড় জামরাকে সাতটি কংকর মারতে দেখেছেন। এরপর তিনি বললেন, এ তাঁর দাঁড়াবার স্থান যার প্রতি সূরা বাকারা নাযিল হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ১৬৩৯ – প্রতিটি কংকরের সাথে তাকবীর বলা।

হাদীস নং ১৬৩৯

মুসাদ্দাদ রহ……..আমাশ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাজ্জাজকে মিম্বরের উপর এরূপ বলতে শুনেছি, যে সূরার মধ্যে বাকারার উল্লেখ রয়েছে, যে সূরার মধ্যে আলে ইমরানের উল্লেখ রয়েছে এবং যে সূরার মধ্যে নিসা-এর উল্লেখ রয়েছে অর্থাৎ সে সূরা বাকারা, সূরা আলে ইমরান ও সূরা নিসা বলা পছন্দ করত না।

বর্ণনাকারী আমাশ রহ. বলেন, এ ব্যাপারটি আমি ইবরাহীম রহ.-কে বললাম। তিনি বললেন, আমার কাছে আবদুর রাহমান ইবনে ইয়াযীদ রা. বর্ণনা করেছেন যে, জামরায়ে আকাবাতে কংকর মারার সময় তিনি ইবনে মাসউদ রা.-এর সঙ্গে ছিলেন।

ইবনে মাসউদ রা. বাতনে ওয়াদীতে গাছটির বরাবর এসে জামরাকে সামনে রেখে দাঁড়ালেন এবং তাকবীর সহকারে কংকর মারলেন।

এরপর বললেন, সে সত্তার কসম যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, এ স্থানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি, যার উপর নাযিল হয়েছে সূরা বাকারা (অর্থাৎ সূরা বাকারা বলা বৈধ।

বুখারি হাদিস নং ১৬৪০ – অপর দুই জামরায় কংকর মেরে সমতল জায়গায় গিয়ে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ান।

হাদীস নং ১৬৪০

উসমান ইবনে আবু শাইবা রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি প্রথম জামরায় সাতটি কংকর নিক্ষেপ করতেন এবং প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সাথে তাকবীর বলতেন।

তারপর সামনে অগ্রসর হয়ে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াতেন এবং তাঁর উভয় হাত তুলে দু’আ করতেন। তারপর মধ্যবর্তী জামরায় কংকর মারতেন এবং একটু বাঁ দিকে চলে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী দাঁড়িয়ে তাঁর উভয় হাত উঠিয়ে দু’আ করতেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন।

এরপর বাতনে ওয়াদী থেকে জামরায়ে আকাবায় কংকর মারতেন। এর কাছে তিনি বিলম্ব না করে ফিরে আসতেন এবং বলতেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ করতে দেখেছি।

বুখারি হাদিস নং ১৬৪১ – নিকটবর্তী এবং মধ্যবর্তী জামরার কাছে উভয় হাত তোলা।

হাদীস নং ১৬৪১

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ………সালিম ইবনে আবদুল্লাহ রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. নিকটবর্তী জামরায় সাতটি কংকর মারতেন এবং প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সাথে তাকবীর বলতেন।

এরপর সামনে এগিয়ে গিয়ে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং উভয় হাত উঠিয়ে দু’আ করতেন। তারপর মধ্যবর্তী জামরায় অনুরূপভাবে কংকর মারতেন।

এরপর বাঁ দিক হয়ে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াতেন এবং উভয় হাত উঠিয়ে দু’আ করতেন।

তারপর বাতনে ওয়াদী থেকে জামরায়ে আকাবায় কংকর মারতেন এবং এর কাছে তিনি দেরী করতেন না। তিনি বলতেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি অনুরূপ করতে দেখেছি।

বুখারি হাদিস নং ১৬৪২ – দুই জামরার কাছে দু’আ করা।

হাদীস নং ১৬৪২

মুহাম্মদ রহ……….যুহরী রহ. থেকে বর্ণিত যে, মসজিদে মিনার দিক থেকে প্রথমে অবস্থিত জামরায় যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কংকর মারতেন, সাতটি কংকর মারতেন এবং প্রত্যেকটি কংকর মারার সময় তিনি তাকবীর বলতেন।

এরপর সামনে এগিয়ে সামনে গিয়ে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে উভয় হাত উঠিয়ে দু’আ করতেন এবং এখানে অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন। তারপর দ্বিতীয় জামরায় এসে সাতটি কংকর মারতেন এবং প্রতিটি কংকর মারার সময় তিনি তাকবীর বলতেন।

তারপর বাঁ দিকে মোড় নিয়ে ওয়াদীর কাছে এসে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াতেন এবং উভয় হাত উঠিয়ে দু’আ করতেন। অবশেষে আকাবার কাছের জামরায় এসে তিনি সাতটি কংকর মারতেন এবং প্রতিটি কংকর মারার সময় তাকবীর বলতেন।

এরপর ফিরে যেতেন, এখানে বিলম্ব করতেন ন। যুহরী রহ. বলেন, সালিম ইবনে আবদুল্লাহ রহ.-কে তাঁর পিতার মাধ্যমে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি। (রাবী বলেন) ইবনে উমর রা.-ও তাই করতেন।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৩ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬৪৩ – কংকর মারার পর খুশবু লাগনো এবং তাওয়াফে যিয়ারতের আগে মাথা কামানো।

হাদীস নং ১৬৪৩

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার এ দু’ হাত দিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খুশবু লাগিয়েছি, যখন তিনি ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা করেছেন এবং তাওয়াফে যিয়ারতের পূর্বে যখন তিনি ইহরাম খুলে হালাল হয়েছেন। এ কথা বলে তিনি তাঁর উভয় হাত প্রসারিত করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৪৪ – বিদায়ী তাওয়াফ।

হাদীস নং ১৬৪৪

মুসাদ্দাদ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকদের নির্দেশ দেওয়া হয় যে, তাদের শেষ কাজ যেন হয় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ। তবে এ হুকুম ঋতুবতী মহিলাদের জন্য শিথিল করা হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ১৬৪৫

হাদীস নং ১৬৪৫

আসবাগ ইবনে ফারজ রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সালাত আদায় করে উপত্যকায় কিছুক্ষণ শুয়ে থাকেন।

তারপর সাওয়ারীতে আরোহণ করে বায়তুল্লাহর দিকে এসে তিনি বায়তুল্লাহ দিকে এসে তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন। লায়স রহ………আনাস ইবনে মালিক রা.-এর মাধ্যমে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীস বর্ণনায় আমর ইবেন হারিস রহ-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৪৬ – তাওয়াফে যিয়ারতের পর যদি কোন মহিলার হায়েয আসে।

হাদীস নং ১৬৪৬

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই রা. হায়েযা হলেন এবং পরে এ কথাটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবগত করানো হয়।

তখন তিনি বললেন : সে কি আমাদের আটকিয়ে রাখবে ? তারা বললেন, তিনি তো তাওয়াফে যিয়ারত সমাধা করে নিয়েছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাহলে তো আর বাধা নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৬৪৭

হাদীস নং ১৬৪৭

আবু নুমান রহ………ইকরিমা রহ. থেকে বর্ণিত যে, তাওয়াফে যিয়ারতের পর হায়েয এসেছে এমন মহিলা সম্পর্কে মদীনাবাসী ইবনে আব্বাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাদের বললেন, সে রওয়ানা হয়ে যাবে।

তার বললেন, আমরা আপনার কথা গ্রহণ করব না এবং যায়েদের কথাও বর্জন করব না। তিনি বললেন, তোমরা মদীনায় ফিরে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে নেব।

তাঁরা মদীনায় এসে জিজ্ঞাসা করলেন। যাদের কাছে তাঁরা জিজ্ঞাসা করেছিলেন তাদের মধ্যে উম্মে সুলাইম রা.-ও ছিলেন। তিনি তাদের সাফিয়্যা (উম্মুল মু’মিনীন) রা.-এর ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। হাদীসটি খালিদ ও কাতাদা রহ. ইকরিমা রহ. থেকে বর্ণনা করেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৪৮

হাদীস নং ১৬৪৮

মুসলিম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করার পর ঋতুবতী মহিলাকে রওনা হয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে।

বর্ণনাকারী বলেন, আমি ইবনে উমর রা.-কে বলতে শুনেছি যে, সে মহিলা রওয়ানা হতে পারবে না। পরবর্তীতে তাকে এ কথাও বলতে শুনেছি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে অনুমতি দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৪৯

হাদীস নং ১৬৪৯

আবু নুমান রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বের হলাম। হজ্জই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় পৌছে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করলেন। তবে ইহরাম ফেলেননি। তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল।

তাঁর সহধর্মিণী ও সাহাবীগণের মধ্যে যারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁরাও তাওয়াফ করলেন। তবে যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল না, তাঁরা হালাল হয়ে গেলেন। এরপর আয়িশা রা. ঋতুবতী হয়ে পড়লেও আমরা হজ্জের সমুদয় হুকুম-আহকাম আদায় করলাম। এরপর যখন লায়লাতুল-হাসবা অর্থাৎ রওয়ানা হওয়ার রাত হল, তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

আমি ব্যতীত আপনার সকল সাহাবী তো হজ্জ ও উমরা করে ফিরছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমরা যে রাতে এসেছি সে রাতে তুমি কি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করনি ?

আমি বললাম, না। তারপর তিনি বললেন : তুমি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে তানঈম (নামক স্থানে) চলে যাও এবং সেখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে নাও। আর অমুক অমুক স্থানে তোমার সঙ্গে সাক্ষাতের ওয়াদা থাকল। আয়িশা রা. বলেন, এরপর আমি আবদুর রাহমান রা.-এর সঙ্গে তানঈমের দিকে গেলাম এবং উমরার ইহরাম বাঁধলাম।

আর সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই রা.-এর ঋতু দেখা দিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বিরক্ত হয়ে বলেন। তুমি তো আমাদেরকে আটকিয়ে ফেললে।

তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করছিলে ? তিনি বললেন : হ্যাঁ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাহলে কোন বাঁধা নেই, রওয়ানা হও। (আয়িশা রা. বলেন) আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মিলিত হলাম।

এমতাবস্থায় যে, তিনি মক্কার উপরের দিকে উঠছিলেন, আর আমি নিচের দিকে নামছিলাম। অথবা আমি উঠছিলাম আর তিনি নামছিলেন। মুসাদ্দাদ রহ.-এর বর্ণনায় এ হাদীসে (হ্যাঁ)-এর পরিবর্তে ‘লা’ (না) রয়েছে। রাবী জারীর রহ. মনসূর রহ. থেকে এ হাদীস বর্ণনায় মুসাদ্দাদ রহ.-এর অনুরূপ ‘লা’ (না) বর্ণনা করেছেন।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৩ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬৫০ – (মিনা থেকে) প্রত্যাবর্তনের দিন আবতাহ নামক স্থানে আসরের সালাত আদায় করা।

হাদীস নং ১৬৫০

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……..আবদুল আযীয ইবনে রুফায় রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক রা.-কে বললাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মনে রেখেছেন আমন কিছু কথা আমাকে বলুন।

তারবিয়ার দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত আদায় করেছেন ? তিনি বললেন, মিনাতে। আমি বললাম, প্রত্যাবর্তনের দিন আসরের সালাত কোথায় আদায় করেছেন ? তিনি বললেন, আবতাহ নামক স্থানে। (তারপর বললেন) তুমি তাই কর যেভাবে তোমার শাসক গণ করেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৫১

হাদীস নং ১৬৫১

আবদুল মুতাআলী ইবনে তালিব রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সালাত আদায়ের পর মুহাসসাবে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকেন, পরে সাওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহর দিকে গেলেন এবং বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৫২ – মুহাসসাব।

হাদীস নং ১৬৫২

আবু নুআইম রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তা হল একটি মানযিল মাত্র, যেখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করতেন, যাতে বেরিয়ে যাওয়া সহজতর হয় অর্থাৎ আবতাহ।

বুখারি হাদিস নং ১৬৫৩

হাদীস নং ১৬৫৩

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাসসাবে অবতরণ করা (হজ্জের) কিছুই নয়। এ তো শুধু একটি মানযিল, যেখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৫৪ – মক্কায় প্রবেশের আগে যু-তুয়াতে অবতরণ এবং মক্কা থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় যুল-হুলাইফার বাতহাতে অবতরণ।

হাদীস নং ১৬৫৪

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ……….নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, তিন বলেন, ইবনে উমর রা. দু’ পাহাড়ের মধ্যস্থিত যু-তুয়া নামক স্থানে রাত যাপন করতেন। এরপর মক্কার উচু গিরিপথের দিক থেকে প্রবেশ করতেন।

হজ্জ বা উমরা আদায়ের জন্য মক্কা আসলে তিনি মসজিদে হারামের দরজার সামনে ব্যতীত কোথাও উট বসাতেন না। তারপর মসজিদে প্রবেশ করে হজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন এবং সেখান থেকে তাওয়াফ আরম্ভ করতেন এবং সাত চক্কর তাওয়াফ করতেন।

তিনবার দ্রুতবেগে আর চারবার স্বাভাবিক গতিতে। এরপর ফিরে এসে দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন এবং নিজের মনযিলে ফিরে যাওয়ার আগে সাফ-মারওয়ার মধ্যে সায়ী করতেন।

আর যখন হজ্জ বা উমরা থেকে ফিরতেন তখন যুল-হুলাইফা উপত্যকার বাতহা নামক স্থানে অবতরণ করতেন, যেখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৫৫

হাদীস নং ১৬৫৫

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব রহ………..খালিদ ইবনে হারিস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন উবায়দুল্লাহ রহ.-কে মুহাসসাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি নাফি রহ. থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করলেন যে, তিনি বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর ও ইবনে উমর রা. সেখানে অবতরণ করেছেন।

নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, রয়েছে যে, ইবনে উমর রা. মুহাসসাবে যুহর ও আসরের সালাত আদায় করতেন। আমার মনে হচ্ছে, তিনি মাগরিবের কথাও বলেছেন।

খালিদ রা. বলেন, ইশা সম্পর্কে আমার কোন সন্দেহ নেই এবং তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নিদ্রা যেতেন। এ কথা ইবনে উমর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেই বর্ণনা করতেন।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৩ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬৫৬ – (হজ্জের) মৌসুমে ব্যবসা করা এবং জাহিলী যুগের বাজারে বেচা-কেনা।

হাদীস নং ১৬৫৬

উসমান ইবনে হায়সাম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলী যুগে যল-মাজায ও উকায লোকদের ব্যবসা কেন্দ্র ছিল।

ইসলাম আসার পর মুসলিমগণ যেন তা অপছন্দ করতে লাগল, অবশেষে এ আয়াত নাযিল হয় : “তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই হজ্জের মৌসুমে” (২ : ১৯৮)।

বুখারি হাদিস নং ১৬৫৭ – মুহাসসাব থেকে শেষ রাতে রওয়ানা হওয়া।

হাদীস নং ১৬৫৭

উমর ইবসে হাফস রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রত্যাবর্তনের দিন সাফিয়্যা রা.-এর ঋতু দেখা দিলে তিনি বললেন, আমার মনে হচ্ছে আমি তোমাদেরকে আটকিয়ে ফেললাম।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে ‘আকরা’ ‘হালকা’ বলে বিরক্তি প্রকাশ করলেন এবং বললেন : সে কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছে ?

বলা হল, হ্যাঁ। তিনি বললেন : তবে চল। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখালি রহ.) অন্য সূত্রে বর্ণনা করেন, মুহাম্মদ ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম।

হজ্জ আদায় করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা (মক্কায়) আসলাম, তখন আমাদের হালাল হওয়ার নির্দেশ দেন।

তারপর প্রত্যাবর্তনের রাত এলে সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই রা..-এর ঋতু আরম্ভ হল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘হালকা’ ‘আকরা’ বলে বিরক্তি প্রকাশ করে বললেন : আমার ধারণা, সে তোমাদের আটকিয়েই ফেলবে।

তারপর বললেন, তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করছিলে ? সাফিয়্যা রা. বললেন, হ্যাঁ। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তবে চল। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

আমি তো (উমরা আদায় করে) হালাল হইনি। তিনি বললেন : তাহলে এখন তুমি তানঈম থেকে উমরা আদায় করে নাও। তারপর তাঁর সঙ্গে তাঁর ভাই (আবদুর রাহমান ইবনে আবু বকর রা.) গেলেন।

আয়িশা রা. বলেন, (উমরা আদায় করার পর) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাক্ষাত হয়, যখন তিনি শেষ রাতে (বিদায়ী তাওয়াফের জন্য) যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন : অমুক স্থানে তোমরা সাক্ষাত করবে।

বুখারি হাদিস নং ১৬৫৮ – উমরা ওয়াজিব হওয়া এবং তার ফজিলত।

হাদীস নং ১৬৫৮

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : এক উমরার পর আর এক উমরা উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের (গুনাহের) জন্য কাফফারা। আর জান্নাতই হল হজ্জে মাবরূরের প্রতিদান।

বুখারি হাদিস নং ১৬৫৯ – যে ব্যক্তি হজ্জের আগে উমরা আদায় করল।

হাদীস নং ১৬৫৯

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….ইকরিমা ইবনে খালিদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে উমর রা.-কে হজ্জের আগে উমরা আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন।

তিনি বললেন, এতে কোন দোষ নেই। ইকরিমা রহ. বলেন, ইবনে উমর রা. বলেছেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের আগে উমরা আদায় করেছেন।

ইবরাহীম ইবেন সাদ রা. ইবনে ইসহাক রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, ইকরিমা ইবনে খালিদ রহ. বলেছেন, আমি ইবনে উমর রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম। পরবর্তী অংশ উক্ত হাদীসের অনুরূপ।

বুখারি হাদিস নং ১৬৬০

হাদীস নং ১৬৬০

আমর ইবনে আলী রহ……….ইকরিমা ইবনে খালিদ রহ. বলেন, আমি ইবনে উমর রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম। অবশিষ্ট অংশে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

বুখারি হাদিস নং ১৬৬২

হাদীস নং ১৬৬২

আবু আসিম রহ………উরওয়া ইবনে যুবাইর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রা. -কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাসে কখনো উমরা আদায় করেননি।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৩ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬৬৩

হাদীস নং ১৬৬৩

হাসসান ইবনে হাসসান রহ……..কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত যে, আমি আনাস রা. -কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার উমরা আদায় করেছেন ?

তিনি বললেন, চারবার। তন্মধ্যে হুদায়বিয়ার উমরা যুল-কাদা মাসে যখন মুশরিকরা তাকে মক্কা প্রবেশ করতে বাঁধা দিয়েছিল।

পরবর্তী বছরের যুল-কাদা মাসের উমরা, যখন মুশরিকদের সাথে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল জীরানার উমরা, যেখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমতের মাল, সম্ভবতঃ হুনায়নের যুদ্ধে বন্টন করেন। আমি বললাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার হজ্জ করেছেন ? তিনি বললেন, একবার।

বুখারি হাদিস নং ১৬৬৪

হাদীস নং ১৬৬৪

আবুল ওয়ালীদ হিশাম ইবনে আবদুল মালিক রহ……….কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত যে, আমি আনাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার উমরা করেছেন যখন তাকে মুশরিকরা ফিরিয়ে দিয়েছিল।

তার পরবর্তী বছর ছিল হুদায়বিয়ার (চুক্তি অনুযায়ী) উমরা, (তৃতীয়) উমরা (জীরানা) যুল-কাদা মাসে আর হজ্জের মাসে অপর একটি উমরা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৬৫

হাদীস নং ১৬৬৫

হুদবা ইবনে খালিদ রহ………হাম্মাম রহ. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি উমরা করেছেন। তন্মধ্যে হজ্জের মাসে যে উমরা করেছেন তা ছাড়া বাকী সব উমরাই যুল-কুদা মাসে করেছেন।

অর্থাৎ হুদায়বিয়ার উমরা, পরবর্তী বছরের উমরা, জীরানার উমরা, যেখানে তিনি হুনায়নের মালে গনীমত বন্টন করেছিলেন এবং হজ্জের মাসে আদায়কৃত উমরা।

বুখারি হাদিস নং ১৬৬৬

হাদীস নং ১৬৬৬

আহমদ ইবনে উসমান রহ………আবু ইসহাক রহ. বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মাসরূক, আতা এবং মুজাহিদ রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, তাঁরা বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-কাদা মাসে হজ্জের আগে উমরা করেছেন।

রাবী বলেন, আমি বারা ইবনে আযিব রা.-কে বলতে শুনেছি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ করার আগে দু’বার যুল-কাদা মাসে উমরা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৬৭ – রমযান মাসে উমরা আদায় করা।

হাদীস নং ১৬৬৭

মুসাদ্দাদ রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনাসারী মহিলাকে বললেন : আমাদের সঙ্গে হজ্জ করতে তোমার বাঁধা কিসের ?

ইবনে আব্বাস রা. মহিলার নাম বলেছিলেন কিন্তু আমি ভুলে গিয়েছি। মহিলা বলল, আমাদের একটি পানি বহনকারী উট ছিল। কিন্তু তাতেই অমুকের পিতা ও তার পুত্র (অর্থাৎ মহিলার স্বামী ও ছেলে) আরোহণ করে চলে গেছেন।

আর আমাদের জন্য রেখে গেছেন পানি বহনকারী আরেকটি উট যার দ্বারা আমরা পানি বহন করে থাকি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আচ্ছা, রমযান এলে তখন উমরা করে নিও ।

কেননা, রমযানের একটি উমরা একটি হজ্জের সমতুল্য। অথবা সেরূপ কোন কথা তিনি বলেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৬৮ – মুহাসসাবের রাতে ও অন্য সময়ে উমরা করা।

হাদীস নং ১৬৬৮

মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম যখন যিলহজ্জ আগতপ্রায়। তখন তিনি আমাদের বললেন : তোমাদের মধ্যে যে হজ্জের ইহরাম বাঁধতে চায়, সে যেন হজ্জের ইহরাম বেঁধে নেয়।

আর যে উমরার ইহরাম বাঁধতে চায় সে যেন উমরার ইহরাম বেঁধে নেয়। আমি যদি কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে না আনতাম তাহলে অবশ্যই আমি উমরার ইহরাম বাঁধতাম ।

আয়িশা রা. বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ উমরার ইহরাম বাঁধলেন, আবার কেউ হজ্জের । যারা উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন, আমি তাদের একজন। আরাফার দিন এল, তখন আমি ঋতুবতী ছিলাম।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তা জানালাম। তিনি বললেন : উমরা ছেড়ে দাও এবং মাথার বেণী খুলে মাথা আচড়িয়ে নাও। তারপর হজ্জের ইহরাম বাঁধ।

যখন মুহাসসাবের রাত হল, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সঙ্গে (আমার ভাই) আবদুর রাহমানকে তানঈমে পাঠালেন এবং আমি ছেড়ে দেওয়া উমরার স্থলে নতুনভাবে উমরার ইহরাম বাঁধলাম।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৩ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬৬৯ – তানঈম থেকে উমরা করা।

হাদীস নং ১৬৬৯

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..আবদুর রাহমান ইবনে আবু বাকর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তাঁর সাওয়ারীর পিঠে আয়িশা রা. -কে বসিয়ে তানঈম থেকে উমরা করানোর নির্দেশ দেন। রাবী সুফিয়ান রহ. একবার বলেন, এ হাদীস আমি আমরের কাছে বহুবার শুনেছি।

বুখারি হাদিস নং ১৬৭০

হাদীস নং ১৬৭০

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……….জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ হজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তালহা রা. ছাড়া কারো সাথে কুরবানীর পশু ছিল না। আর আলী রা. ইয়ামান থেকে এলেন এবং তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। তিনি বলেছিলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিষয়ের ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও তার ইহরাম বাঁধলাম।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ইহরামকে উমরায় পরিণত করতে এবং তাওয়াফ করে এরপরে মাথার চুল ছোট করে হালাল হয়ে যেতে নির্দেশ দিলেন। তবে যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু রয়েছে।

(তারা হালাল হবে না)। তাঁরা বললেন, আমরা মীনার দিকে রওয়ানা হব এমতাবস্থায় আমাদের কেউ স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এসেছে। এ সংবাদ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌছলে তিনি বললেন : যদি আমি এ কুরবানীর পশু আমার সঙ্গে না থাকত অবশ্যই আমি হালাল হয়ে যেতাম।

আর (একবার) আয়িশা রা.-এর ঋতু দেখা দিল। তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হজ্জের সব কাজই সম্পন্ন করে নিলেন। রাবী বলেন, এরপর যখন তিনি পাক হলেন এবং তাওয়াফ করলেন, তখন বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

আপনারা তো হজ্জ এবং উমরা উভয়টি পালন করে ফিরেছেন, আমি কি শুধু হজ্জ করেই ফিরব? তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রাহমান ইবনে আবু বকর রা.-কে নির্দেশ দিলেন তাকে সঙ্গে নিয়ে তানঈমে যায়।

তারপর যিলহজ্জ মাসেই হজ্জ আদায়ের পর আয়িশা রা. উমরা আদায় করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জামরাতুল আকাবায় কংকর মারছিলেন তখন সুরাকা ইবনে মালিক ইবনে জুশুম রা.-এর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাক্ষাত হয়।

তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এ হজ্জের মাসে উমরা আদায় করা কি আপনাদের জন্য খাস ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : না, এতো চিরদিনের জন্য।

বুখারি হাদিস নং ১৬৭১ – হজ্জের পর উমরা আদায় করাতে কুরবানী ওয়াজিব হয় না।

হাদীস নং ১৬৭১

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন যিলহজ্জ মাস আগত প্রায়, তখন আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা দিলাম।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যে ব্যক্তি উমরার ইহরাম বাঁধতে চায়, সে যেন উমরার ইহরাম বেঁধে নেয়। আমি যদি কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে না আনতাম তাহলে অবশ্যই আমি উমরার ইহরাম বাঁধতাম। তাই তাদের কেউ উমরার ইহরাম বাঁধলেন আর কেউ হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন।

যারা উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন, আমি তাদের মধ্যে একজন। এরপর মক্কা পৌছার আগেই আমার ঋতু দেখা দিল। আরাফার দিবস চলে এল, আর আমি ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম।

তারপর আমার এ অসুবিধার কথা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট বললাম। তিনি বললেন : উমরা ছেড়ে দাও। আর বেণী খুলে মাথা আচড়িয়ে নাও। তারপর হজ্জের ইহরাম বেঁধে নাও।

আমি তাই করলাম। মুহাসসাবের রাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে আবদুর রামহমানকে তানঈম পাঠালেন। (রাবী বলেন) আবদুর রাহমান রা. তাকে সাওয়ারীতে নিজের পেছনে বসিয়ে নিলেন।

তারপর আয়িশা রা. আগের উমরার স্থলে নতুন উমরার ইহরাম বাঁধলেন। এমনিভাবেই আল্লাহ তা’আলা তাঁর হজ্জ এবং উমরা উভয়টিই পুরা করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এর কোন ক্ষেত্রেই কুরবানী বা সাদকা দিতে কিংবা সিয়াম পালন করতে হয়নি।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৩ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬৭২ – কষ্ট অনুপাতে উমরার সাওয়াব।

হাদীস নং ১৬৭২

মুসাদ্দাদ রহ……….আসওয়াদ রহ. থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সাহাবীগণ ফিরেছেন দুটি নুসুক (অর্থাৎ হজ্জ এবং উমরা) পালন করে আর আমি ফিরছি একটি নুসুক (শুধু হজ্জ) আদায় করে।

তাকে বলা হল, অপেক্ষা কর। পরে যখন তুমি পবিত্র হবে তখন তানঈমে গিয়ে ইহরাম বাঁধবে এরপর অমুক স্থানে আমাদের কাছে আসবে। এ উমরা (এর সাওয়াব) হবে তোমার খরচ বা কষ্ট অনুপাতে।

বুখারি হাদিস নং ১৬৭৩ – উমরা আদায়কারী উমরার তাওয়াফ করে রওয়ানা হলে, তা কি তার জন্য বিদায়ী তাওয়াফের পরিবর্তে যথেষ্ট হবে ?

হাদীস নং ১৬৭৩

আবু নাআইম রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হজ্জের ইহরাম বেঁধে বের হলাম, হজ্জের মাসে এবং হজ্জের অনুষ্ঠানাদি পালনের উদ্দেশ্যে।

যখন সারিফ নামক স্থানে অবতরণ করলাম, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবাগণকে বললেন : যার সাথে কুরবানীর পশু নেই এবং সে এই ইহরামকে উমরায় পরিণত করতে চায়, সে যেন তা করে নেয় (অর্থাৎ উমরা করে হালাল হয়)।

আর যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার আছে সে এরূপ করবে না। (অর্থাৎ হালাল হতে পারবে না)। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর কয়েকজন সমর্থ সাহাবীর নিকট কুরবানীর জানোয়ার ছিল তাদের উমরা হয়নি।

(আয়িশা রা. বললেন) আমি কাঁদছিলাম, এমতাবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এসে বললেন : তুমি কাঁদছ কেন ? আমি বললাম, আপনি আপনার সাহাবীগণকে যা বলেছেন, আমি তা শুনেছি। আমি তো উমরা থেকে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে গেছি।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমার কি অবস্থা ? আমি বললাম, আমি তো সালাত আদায় করছি না। তিনি বললেন : এতে তোমার ক্ষতি হবে না।

তুমি তো একজন আদম কন্যাই। তাদের অদৃষ্টে যা লেখা ছিল তোমার জন্যও তা লিখিত হয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার হজ্জ আদায় কর। সম্ভবত : আল্লাহ তা’আলা তোমাকে উমরাও দান করবেন।

আয়িশা রা. বলেন, আমি এ অবস্থায়ই থেকে গেলাম এবং পরে মিনা থেকে প্রত্যাবর্তন করে মুহাসসাবে অবতরণ করলাম। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রাহমান রা.-কে ডেকে বললেন : তুমি তোমার বোনকে হারামের বাইরে নিয়ে যাও। সেখান থেকে যেন সে উমরার ইহরাম বাঁধে ।

তারপর তোমরা তাওয়াফ করে নিবে। আমি তোমাদের জন্য এখানে অপেক্ষা করব। আমরা মধ্যরাত এলাম। তিনি বললেন : তোমরা কি তাওয়াফ সমাধা করেছ ? আমি বললাম, হ্যাঁ।

এ সময় তিনি সাহাবীগণকে রওয়ানা হওয়ার ঘোষণা দিলেন। তাই লোকজন এবং যারা ফজরের পূর্বে তাওয়াফ করেছিলেন তাঁরা রওয়ানা হলেন। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা অভিমুখে রওয়ানা হলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৭৪ – হজ্জে যে কাজ করা হয় উমরাতেও তাই করবে।

হাদীস নং ১৬৭৪

আবু নুআইম রহ……..ইয়ালা ইবনে উমায়্যা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিররানাতে ছিলেন। এ সময় জুব্বা পরিহিত একব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললেন, আপনি উমরাতে আমাকে কি কাজ করার নির্দেশ দেন ?

লোকটির জুব্বাতে খালূক বা হলদে রঙের দাগ ছিল। এ সময় আল্লাহ তা’আলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর ওহী নাযিল করলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কাপড় দিয়ে আচ্ছাদিত করে দেওয়া হল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি উমর রা.-কে বললাম, আল্লাহ তাঁর নবীর প্রতি ওহী নাযিল করছেন, এমতাবস্থায় আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে চাই।

উমর রা. বললেন, এসো, আল্লাহ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওহী নাযিল করছেন, এমতাবস্থায় তুমি কি তাকে দেখতে আগ্রহী ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তারপর উমর রা. কাপড়ের একটি কোণ উচু করে ধরলেন। আমি তাঁর দিকে নজর করলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আওয়াজ করছেন।

বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলছিলেন, উটের আওয়াজের মত আওয়াজ।

এ অবস্থা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দূরীভূত হলে তিনি বললেন : উমরা সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায় ? তিনি বললেন : তুমি তোমার থেকে জুব্বাটি খুলে ফেল, খালূকের চিহ্ন ধুয়ে ফেল এবং হলদে রং পরিষ্কার করে নাও। আর তোমার হজ্জে যা করেছ উমরাতে তুমি তাই করবে।

বুখারি হাদিস নং ১৬৭৫

হাদীস নং ১৬৭৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বাল্যকালে একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা রা.-কে বললাম, আল্লাহর বাণী : সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কাবাগৃহের হজ্জ কিংবা উমরা সম্পন্ন করে এ দুটির মধ্যে সায়ী করে, তার কোন পাপ নেই।

(২ : ১৫৮) তাই সাফা-মারওয়ার সায়ী না করা আমি কারো পক্ষে অপরাধ মনে করি না। আয়িশা রা. বলেন, বিষয়টি এমন নয়। কেননা, তুমি যেমন বলছ, ব্যাপারটি তেমন হলে আয়াতটি অবশ্যই এমন হত অর্থাৎ এ দুটির মাঝে তাওয়াফ না করলে কোন পাপ নেই। এ আয়াত তো আনসাদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।

কেননা তারা মানাতের জন্য ইহরাম বাঁধত। আর মানাত কুদায়দের সামনে ছিল। তাই আনসাররা সাফা-মারওয়া তাওয়াফ করতে দ্বিধাবোধ করত।

এরপর ইসলামের আবির্ভাবের পর তারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন : সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম।

সুতরাং যে কাবাগৃহের হজ্জ কিংবা উমরা সম্পন্ন করে এ দুটির মধ্যে সায়ী করে, তার কোন পাপ নেই। সুফিয়ান ও আবু মুআবিয়া রহ. আবু মুআবিয়া রা. হিশাম রহ. থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ না করলে আল্লাহ কারো হজ্জ এবং উমরাকে পূর্ণাঙ্গ গণ্য করেন না।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৩ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬৭৬ – উমরা আদায়কারী কখন হালাল হবে।

হাদীস নং ১৬৭৬

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরা করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে উমরা করলাম। তিনি মক্কা প্রবেশ করে তাওয়াফ করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে তাওয়াফ করলাম। এরপর তিনি সাফা-মারওয়ায় সায়ী করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে সায়ী করলাম।

আর আমরা তাকে মক্কাবাসীদের থেকে লুকিয়ে রাখছিলাম যাতে কোন মুশরিক তাঁর প্রতি কোন কিছু নিক্ষেপ করতে না পারে।

বর্ণনাকারী বলেন, আমার এক সাথী তাকে বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কাবা শরীফে প্রবেশ করেছিলেন ? তিনি বললেন, না।

প্রশ্নকারী তাকে বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজা রা. সম্বন্ধে কি বলেছেন ? তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : খাদীজাকে বেহেশতের মাঝে একটি মোতি দিয়ে নির্মিত এমন একটি ঘরের সুসংবাদ দাও যেখানে কোন শোরগোল থাকবে না এবং কোন প্রকার কষ্ট ক্লেশ থাকবে না।

বুখারি হাদিস নং ১৬৭৭

হাদীস নং ১৬৭৭

হুমায়দী রহ………আমর ইবনে দীনার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

উমরার মাঝে বায়তুল্লাহর তাওয়াফের পর সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ না করে যে স্ত্রীর নিকট গমন করে, এমন ব্যক্তি সম্পর্কে আমরা ইবনে উমর রা.-কে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কায়) এসে বায়তুল্লাহর সাতবার তাওয়াফ করে মাকামে ইবরাহীমের পাশে দু’ রাকআত সালাত আদায় করেছেন।

এরপর সাতবার সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ী করেছেন। আর তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ তো রয়েছে আল্লাহর রাসূলের মাঝেই। (রাবী) আমর ইবনে দীনার রহ. বলেন, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা.-কেও আমরা জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বলেছেন, সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ না করা কেউ তার স্ত্রীর নিকট অবশ্যই যাবে না।

বুখারি হাদিস নং ১৬৭৮

হাদীস নং ১৬৭৮

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……..আবু মূসা আল-আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার বাতহায় অবতরণ করলে আমি তাঁর নিকট গেলাম। তিনি বললেন, তুমি কি হজ্জ করেছ ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন : তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছিলে ?

আমি বললাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইহরামের মত আমিও ইহরামের তালবিয়া পাঠ করেছি। তিনি বলেলেন : ভাল করেছ।

এখন বায়তুল্লাহ এবং সাফা-মারওয়ার সায়ী করে হালাল হয়ে যাও। তারপর আমি বায়তুল্লাহ এবং সাফা-মারওয়ার সায়ী করে কায়স গোত্রের এক মহিলার কাছে গেলাম। সে আমার মাথার উকুন বেছে দিল। এরপর আমি হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম এবং উমর রা.-এর খিলাফত পর্যন্ত আমি এভাবেই ফতোয়া দিতে থাকি।

উমর রা. বললেন, যদি আমরা আল্লাহর কিতাব গ্রহণ করি তা তো আমাদের পূর্ণ করার নির্দেশ দেয়। আর যদি আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী গ্রহণ করি তাহলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর জানোয়ার তার স্থানে পৌছার পূর্ব পর্যন্ত হালাল হননি।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৩ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬৭৯

হাদীস নং ১৬৭৯

আহমদ রহ…….আবুল আসওয়াদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর রা.-এর কন্যা আসমা রা.-এর আযাদকৃত গোলাম আবদুল্লাহ রা. তাঁর বর্ণনা করেছেন,

যখনই আসমা রা. হাজ্জুন এলাকা দিয়ে গমন করতেন তখনই তাকে বলতে শুনেছেন (সাল্লাল্লাহু আলা রাসূলিহী) আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি রহমত নাযিল করুন, এ স্থানে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে অবতরণ করেছিলাম।

তখন আমাদের বোঝা ছিল খুব অল্প, যানবাহন ছিল একেবারে নগণ্য এবং সম্বল ছিল খুবই কম। আমি, আমার বোন আয়িশা রা. যুবাইর রা. এবং অমুক অমুক উমরা আদায় করলাম।

তারপর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে আমরা সকলেই হালাল হয়ে গেলাম এবং সন্ধ্যাকালে হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম।

আরও পড়ুনঃ

ওহীর সূচনা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

ঈমান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)-১ম খণ্ড

বুখারি হাদিস -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)-১ম খণ্ড

উযূ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)-১ম খণ্ড

গোসল অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

হাদীছের তত্ত্ব ও ইতিহাস

মন্তব্য করুন