হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

Table of Contents

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৫৩১

হাদীস নং ১৫৩১

হাসান ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবদুল আযীয ইবনে রূফায়ই রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা.-কে ফজরের সালাতের পর তাওয়াফ করতে এবং দু’ রাকআত সালাত আদায় করতে দেখেছি।

আবদুল আযীয রহ. আরও বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রহ.-কে আসরের সালাতের পর দু’ রাকআত সালাত আদায় করতে দেখেছি এবং তিনি বলেছেন আয়িশা রা. তাকে বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আসরের সালাতের পরের) এই দু’ রাকআত সালাত আদায় করা ব্যতীত তাঁর ঘরে প্রবেশ করতেন না।

বুখারি হাদিস নং ১৫৩২ – অসুস্থ ব্যক্তির সাওয়ার হয়ে তাওয়াফ করা।

হাদীস নং ১৫৩২

ইসহাক ওয়াসিতী রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পিঠে সাওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন, যখনই তিনি হজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন তখন তাঁর হাতের বস্তু (লাঠি) দিয়ে তার দিকে ইশারা করতেন ও তাকবীর বলতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৩৩

হাদীস নং ১৫৩৩

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ…….উম্মে সালামা রাপ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমার অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেন : তুমি সাওয়ার হয়ে লোকদের পিছন দিক দিয়ে তাওয়াফ করে নাও। তাই আমি তাওয়াফ করছিলাম এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার পাশে সালাত আদায় করছিলেন ও সূরা والطور وكتاب مسطور তিলাওয়াত করছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৩৪ – হাজীদের পানি পান করানো।

হাদীস নং ১৫৩৪

আবদুল্লাহ ইবনে আবুল আসওয়াদ রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পানি পান করানোর উদ্দেশ্যে মিনায় অবস্থানের রাতগুলো মক্কায় কাটানোর অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৩৫

হাদীস নং ১৫৩৫

ইসহাক ইবনে শাহীন রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি পান করার স্থানে এসে পানি চাইলেন, আব্বাস রা. বললেন, হে ফাযল ! তোমার মার নিকট যাও। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য তার নিকট থেকে পানীয় নিয়ে এস।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এখান থেকেই পান করান। আব্বাস রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! লোকেরা এই পানিতে হাতে রাখে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এখান থেকেই দিন এবং এই পানি থেকেই পান করলেন। এরপর যমযম কূপের নিকট এলেন।

লোকেরা পানি তুলে (হাজীদের) পান করচ্ছিল, তখন তিনি বললেন : তোমরা কাজ করে যাও। তেমরা নেক কাজে রত আছ। এরপর তিনি বললেন : তোমরা পরাভূত হয়ে যাবে এ আশংকা না থাকলে আমি নিজেই নেমে (বালতির) রজ্জু এখানে নিতাম; এ বলে তিনি আপন কাঁধের প্রতি ইশারা করেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৩৬ – যমযম প্রসঙ্গ।

হাদীস নং ১৫৩৬

মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যমযমের পানি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেশ করলাম। তিনি তা দাঁড়িয়ে পান করলেন। (রাবী) আসিম বলেন, ইকরিমা রা. হলফ করে বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উটের পিঠে আরোহী অবস্থায়ই ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৩৭ – হজ্জে কিরানকারীর তাওয়াফ।

হাদীস নং ১৫৩৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজ্জে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বের হলাম এবং উমরার ইহরাম বাঁধলাম। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যার সাথে হাদী-এর জানোয়ার আছে সে যেন হজ্জ ও উমরা উভয়ের ইহরাম বেঁধে নেয়।

তারপর উভয় কাজ সমাপ্ত না করা পর্যন্ত সে হালাল হবে না। আমি মক্কায় উপনীত হয়ে ঋতুবতী হলাম। যখন আমরা হজ্জ সমাপ্ত করলাম, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রাহমান রা.-এর সঙ্গে আমাকে তানঈম প্রেরণ করলেন। এরপর আমি উমরা পালন করলাম।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এ হল তোমার পূর্ববর্তী উমরার স্থলবর্তী। ঐ হজ্জের সময় যারা (কেবল) উমরার নিয়্যাতে ইহরাম বেঁধে এসেছিলেন, তারা তাওয়াফ করে হালাল হয়ে গেলেন। এরপর তাঁরা মিনা হতে প্রত্যাবর্তন করে দ্বিতীয়বার তাওয়াফ করেন। আর যারা একসাথে উমরা ও হজ্জের নিয়ত করেছিলেন, তাঁরা একবার তাওয়াফ করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৩৮

হাদীস নং ১৫৩৮

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ……..নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর রা. তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ-এর নিকট গেলেন, যখন তাঁর বাহন প্রস্তুত, তখন তাঁর ছেলে বললেন, আমার আশংকা হয় এ বছর মানুষের মধ্যে লড়াই হবে, তারা আপনাকে কাবায় যেতে বাঁধা দিবে। কাজেই এবার নিবৃত্ত হওয়াটাই উত্তম।

তখন ইবনে উমর রা. বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএকবার রওনা হয়েছিলেন, কুরাইশ কাফিররা তাকে বায়তুল্লাহয় যেতে বাঁধা দিয়েছিল।

আমাকেও যদি বায়তুল্লাহয় বাঁধা দেওয়া হয়, তবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছিলেন, আমিও তাই করব। কেননা, আমি উমরার সাথে হজ্জ-এর সংকল্প করছি। (রাবী) নাফি রহ. বলেন, তিনি মক্কায় উপনীত হয়ে উভয়টির জন্য মাত্র একটি তাওয়াফ করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৩৯

হাদীস নং ১৫৩৯

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, যে বছর হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা.-এর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য মক্কায় আসেন, ঐ বছর ইবনে উমর রা. হজ্জের এরাদা করেন। তখন তাকে বলা হল, মানুষের মধ্যে যুদ্ধ হতে পারে। আমাদের আশংকা হচ্ছে যে, আপনাকে তারা বাঁধা দিবে।

তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। কাজেই এমন কিছু হলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছিলেন আমিও তাই করব। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি উমরার সংকল্প করলাম।

এরপর তিনি বের হলেন এবং বায়দার উচু অঞ্চলে পৌছার পর তিনি বললেন, হজ্জ ও উমরার বিধান একই, তোমরা সাক্ষী থেকো, আমি উমরার সঙ্গে হজ্জেরও নিয়্যাত করলাম এবং তিনি কুদায়দ থেকে ক্রয় করা একটি হাদী পাঠালেন, এর অতিরিক্ত কিছু করেন নি।

এরপর তিনি কুরবানী করেন নি এবং ইহরামও ত্যাগ করেননি এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাটা কোনটাই করেননি। অবশেষে কুরবানীর দিন এলে তিনি কুরবানী করলেন, মাথা মুণ্ডালেন। তাঁর অভিমত হল, প্রথম তাওয়াফের মাধ্যমেই তিনি হজ্জ ও উমরার উভয়ের তাওয়াফ সেরে নিয়েছেন। ইবনে উমর রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনই করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৪০ – উযূসহ তাওয়াফ করা।

হাদীস নং ১৫৪০

আহমদ ইবনে ঈসা রহ………মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে নাওফাল কুরাশী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি উরওয়া ইবনে যুবাইর রহ.-কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হজ্জ সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।

তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হজ্জ-এর বিষয়টি আয়িশা রা. আমাকে এইরূপে বর্ণনা দিয়েছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম উযূ করে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন। তা উমরার তাওয়াফ ছিল না।

পরে আবু বকর রা. হজ্জ করেছেন, তিনিও হজ্জের প্রথম কাজ বায়তুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতেন, তা উমরার তাওয়াফ ছিল না। তারপর উমর রা.-ও অনুরূপ করতেন। এরপর উসমান রা. হজ্জ করেন। আমি তাকেও বায়তুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতে দেখেছি, তাঁর এই তাওয়াফও উমরার তাওয়াফ ছিল না।

মুআবিয়া এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. (অনুরূপ করেন)। এরপর আমি আমার পিতা যুবাইর ইবনে আওয়াম রা.-এর সঙ্গে হজ্জ করলাম। তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ থেকেই শুরু করেন, আর তাঁর এ তাওয়াফ উমরার তাওয়াফ ছিল না। মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ রা.-কে আমি এরূপ করতে দেখেছি। তাদের সে তাওয়াফও উমরার তাওয়াফ ছিল না।

সবশেষে আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-কেও অনুরূপ করতে দেখেছি। তিনিও সে তাওয়া উমরার তাওয়াফ হিসাবে করেননি। ইবনে উমর রা. তো তাদের নিকটেই আছেন তাঁর কাছে জেনে নিন না কেন ?

সাহাবীগণের মধ্যে যারা অতীত হয়ে গেছেন তাদের কেউই মসজিদে হারামে প্রবেশ করে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ সমাধা করার পূর্বে অন্য কোন কাজ করতেন না এবং তাওয়াফ করে ইহরাম ভঙ্গ করতেন না।

আমার মা ও খালা রা.কে দেখেছি। তাঁরা উভয়ে মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম তাওয়াফ সমাধা করেন, কিন্তু তাওয়াফ করে ইহরাম ভঙ্গ করেন নি।

আমার মা আমাকে বলেছেন যে, তিনি তাঁর বোন (আয়িশা রা. ও (আমার পিতা) যুবাইর রা. এবং অমুক অমুক উমরার নিয়্যাতে ইহরাম বাঁধেন। এরপর তাওয়াফ শেষে হালাল হয়ে যান।

বুখারি হাদিস নং ১৫৪১ – সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সায়ী করা ওয়াজিব এবং একে আল্লাহর নিদর্শন বানানো হয়েছে।

হাদীস নং ১৫৪১

আবুল ইয়ামান রহ……….উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, মহান আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কি ? (অনুবাদ) সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্যতম। কাজেই যে কেউ কাবাঘরে হজ্জ বা উমরা সম্পন্ন করে, এ দুটির মাঝে যাতায়াতে করলে তার কোন দোষ নেই।

(২ : ১৫৮) (আমার ধারণা যে,) সাফা-মারওয়ার মাঝে কেউ সায়ী না করলে তার কোন দোষ নেই। তখন তিনি (আয়িশা রা.) বললেন, হে ভাতিজা ! তুমি যা বললে, তা ঠিক নয়।

কেননা, যা তুমি তাফসীর করলে, যদি আয়াতের মর্ম তাই হত, তাহলে আয়াতের শব্দবিন্যাস এভাবে لا جناح عليه أن لا يتطوف بهما হত দুটোর মাঝে সায়ী না করায় কোন দোষ নেই।

কিন্তু আয়াতটি আনসারদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মুশাল্লাল নামক স্থানে স্থাপিত মানাত নামের মূর্তির পূজা করত, তার নামেই তারা ইহরাম বাঁধত।

সে মূর্তির নামে যারা ইহরাম বাঁধত তার সাফা-মারওয়া সায়ী করাকে দোষ মনে করত। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! পূর্বে আমরা সাফা ও মারওয়া সায়ী করাকে দূষণীয় মনে করতাম। (এখন কি করব ?)

 

এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ পাক إن الصفا والمروة من شعائر الله الآية অবতীর্ণ করেন। আয়িশা রা. বলেন, (সাফা ও মারওয়ার মাঝে) উভয় পাহাড়ের মাঝে সায়ী করা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিধান দিয়েছেন। কাজেই কারো পক্ষে এ দুয়ের সায়ী পরিত্যাগ করা ঠিক নয়। (রাবী বলেন) এ বছর আবু বকর ইবনে আবদুর রাহমান রা.-কে ঘটনাটি জানালাম।

তখন তিনি বললেন, আমি তো এ কথা শুনিনি, তবে আয়িশা রা. ব্যতীত বহু আলিমকে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, মানাতের নামে যার ইহরাম বাঁধত তার সকলেই সাফা মাওয়া সায়ী করত, যখন আল্লাহ কুরআনে বায়তুল্লাহ তাওয়াফের কথা উল্লেখ করলেন, কিন্তু সাফা ও মারওয়ার আলোচনা তাঁতে হল না, তখন সাহাবাগণ বলতে লাগলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

আমরা সাফা ও মারওয়া সায়ী করতাম, এখন দেখি আল্লাহ কেবল বায়তুল্লাহ তাওয়াফের কথা অবতীর্ণ করেছেন, সাফার উল্লেখ করেননি। কাজেই সাফা ও মারওয়া মাঝে সায়ী করলে আমাদের দোষ হবে কি ?

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক إن الصفا والمروة من شعائر الله الآية অবতীর্ণ করেন আবু বকর রা. আরো বলেন, আমি শুনতে পেয়েছি, আয়াতটি দু’ প্রকার লোকদের উভয়ের প্রতি লক্ষ্য করেই অবতীর্ণ হয়েছে, অর্থাৎ যারা জাহিলী যুগে সাফা ও মারওয়া সায়ী করা হতে বিরত থাকতেন, আর যারা তৎকালে সায়ী করত বটে, কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর সায়ী করার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

তাদের দ্বিধার কারণ ছিল আল্লাহ বায়তুল্লাহ তাওয়াফের নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু সাফা ও মারওয়ার কথা উল্লেখ করেননি ? অবশেষে বায়তুল্লাহ তাওয়াফের কথা আলোচনা করার পর আল্লাহ সাফা ও মারওয়া সায়ী করার কথা উল্লেখ করেন।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৫৪২ – সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করা।

হাদীস নং ১৫৪২

মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফে কুদূমের সময় প্রথম তিন চক্করে রমল করতেন ও পরবর্তী চার চক্কর স্বাভাবিক গতিতে হেটে চলতেন এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ীর সময় বাতনে মসীরে দ্রুত চলতেন।

আমি (উবাইদুল্লাহ) নাফি কে বললাম, আবদুল্লাহ রা. কি রুকন ইয়ামানীতে পৌছে হেটে চলতেন ? তিনি বললেন, না । তবে হজরে আসওয়াদের নিকট ভীড় হলে (একটুখানি মন্থর গতিতে চলতেন) কারণ তিনি তা চুম্বন না করে সরে যেতেন না।

বুখারি হাদিস নং ১৫৪৩

হাদীস নং ১৫৪৩

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আমর ইবনে দীনার রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবনে উমর রা.-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, কোন ব্যক্তি যদি উমরা করতে গিয়ে শুধু বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে, আর সাফা ও মারওয়া সায়ী না করে, তার পক্ষে কি স্ত্রী সহবাস বৈধ হবে ?

তখন তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কায়) উপনীত হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ সাত চক্করে সমাধা করে মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু’ রাকআত সালাত আদায় করলেন, এরপরে সাত চক্করে সাফা ও মারওয়া সায়ী করলেন।

(এতটুকু বলে ইবনে উমর রা. বলেন) তেমাদের জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। আমরা জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা.-কে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, সাফা ও মারওয়ার সায়ী করার পূর্বে কারো পক্ষে স্ত্রী সহবাস করা মোটেই বৈধ হবে না।

বুখারি হাদিস নং ১৫৪৪

হাদীস নং ১৫৪৪

মক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় উপনীত হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করলেন। এরপর দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। এরপর সাফা ও মারওয়া সায়ী করলেন। এরপর তিনি (ইবনে উমর) তিলাওয়াত করলেন : “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ”।

বুখারি হাদিস নং ১৫৪৫

হাদীস নং ১৫৪৫

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ………আসিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক রা.-কে বললাম, আপনার কি সাফা ও মারওয়া সায়ী করতে অপছন্দ করতেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। কেননা তা ছিল জাহিলী যুগের নিদর্শন। অবশেষে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেন : “নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন। কাজই হজ্জ বা উমরাকারীদের জন্য এ দুইয়ের মধ্যে সায়ী করায় কোন দোষ নেই”। (২ : ১৫৮)

বুখারি হাদিস নং ১৫৪৬

হাদীস নং ১৫৪৬

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের নিজ শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহর তাওয়াফে ও সাফা ও মারওয়ার মধ্যকার সায়ীতে দ্রুত চলে ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৪৭ – ঋতুবতী নারীর পক্ষে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হজ্জের অন্য সকল কার্য সম্পন্ন করা এবং বিনা উযুতে সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সায়ী করা।

হাদীস নং ১৫৪৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মক্কায় আসার পর ঋতুবতী হওয়ার কারণে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা ও মারওয়া সায়ী করতে পারিনি। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অসুবিধার কথা জানালে তিনি বললেন : পবিত্র হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত অন্য সকল কাজ অপর হাজীদের ন্যায় সম্পন্ন করে নাও।

বুখারি হাদিস নং ১৫৪৮

হাদীস নং ১৫৪৮

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না ও খলীফা রহ…….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ হজ্জ-এর ইহরাম বাঁধেন, তাদের মাঝে কেবল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তালহা রা. ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিলনা, আলী রা. ইয়ামান থেকে আগমন করেন, তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল।

তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও সেরূপ ইহরাম বেঁধেছি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের মধ্যে যাদের নিকট কুরবানীর পশু ছিলনা, তাদের ইহরামকে উমরায় পরিণত করার নির্দেশ দিলেন, তারা যেন তাওয়াফ করে, চুল ছেটে অথবা মাথা মুণ্ডিয়ে হালাল হয়ে যায়।

তাঁরা বলাবলি করতে লাগলেন, (যদি হালাল হয়ে যাই তাহলে) স্ত্রীর সাথে মিলনের পরপরই আমাদের পক্ষে মিনায় যাওয়াটা কেমন হবে ! তা অবগত হয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি পরে যা জানতে পেরেছি তা যদি আগে জানতে পারতাম, তাহলে কুরবানীর পশু সাথে আনতাম না।

আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে অবশ্যই ইহরাম ভঙ্গ করতাম। (হজ্জের সফরে) আয়িশা রা. ঋতুবতী হওয়ার কারণে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হজ্জের জন্য অন্য সকল কাজ সম্পন্ন করে নেন। পবিত্র হওয়ার পর তাওয়াফ আদায় করেন, (ফিরার পথে) আয়িশা রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

সকলেই হজ্জ ও উমরা উভয়টি আদায় করে ফিরছে, আর আমি কেবল হজ্জ আদায় করে ফিরছি, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রা.-কে নির্দেশ দিলেন, যেন আয়িশা রা.-কে নিয়ে তানঈমে চলে যান, (যেখানে যেয়ে উমরার ইহরাম বাঁধবেন) আয়িশা রা. হজ্জের পর উমরা আদায় করে নিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৪৯

হাদীস নং ১৫৪৯

মুআম্মাল ইবনে হিশাম রহ………হাফসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আমাদের যুবতীদেরকে বের হতে নিষেধ করতাম। এক মহিলা বনূ খালীফা-এর দুর্গে এলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, তাঁর বোন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক সাহাবী সহধর্মিণী ছিলেন

। যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বারটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, ছয়টি যুদ্ধে আমার আমার বোনও স্বামীর সঙ্গে ছিলেন। তাঁর বোন বলেন, আমরা আহত যোদ্ধা ও অসুস্থ সৈনিকদের সেবা করতাম। আমার বোন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমাদের মধ্যে যার চাদর নেই, সে বের না হলে অন্যায় হবে কি ?

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমাদের একজন অপরজনকে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাদরটি দিয়ে দেওয়া উচিত এবং কল্যাণমূলক কাজে ও মুমিনদের দু’আয় বের হওয়া উচিত।

উম্মে আতিয়্যা রা. আসলে এ বিষয়ে তাঁর নিকট আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক কথা (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আমার পিতা উৎসর্গ হউন) ব্যতীত কখনও উচ্চারণ করতেন না। আমি তাকে বললাম, আপনি কি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বলতে শুনেছেন ?

তিনি বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। আমার পিতা উৎসর্গ হউন। তিনি বললেন : যুবতী ও পর্দানশিন মহিলাদেরও বের হওয়া উচিত। অথবা বললেন : পর্দানশিন যুবতী ও ঋতুবতীদেরও বের হওয়া উচিত।

তারা কল্যাণমূলক কাজে এবং মুসলমানদের দু’আয় যথাস্থানে উপস্থিত হবে। তবে ঋতুবতী মহিলাগণ সালাতের স্থানে উপস্থিত হবে না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ঋতুবতী মহিলাও কি ? তিনি বললেন : (কেন উপস্থিত হবে না?) তারা কি আরাফার ময়দানে এবং অমুক অমুক স্থানে উপস্থিত হবে না ?

বুখারি হাদিস নং ১৫৫০ – যিলহজ্জ মাসের আট তারিখ হাজী কোথায় যুহরের সালাত আদায় করবে ?

হাদীস নং ১৫৫০

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……..আবদুল আযীয ইবনে রুফাইয় রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আপনি যা উত্তমরূপে স্মরণ রেখেছেন তার কিছুটা বলুন। বলুন, যিলহজ্জ মাসের আট তারিখ যুহর ও আসরের সালাত তিনি কোথায় আদায় করতেন ?

তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম, মিনা থেকে ফিরারদিন আসলের সালাত তিনি কোথায় আদায় করেছেন ? তিনি বললেন, মুহাসসাবে। এরপর আনাস রা. বললেন, তোমাদের আমীরগণ যেরূপ করবে, তোমরাও অনুরূপ কর।

বুখারি হাদিস নং ১৫৫১

হাদীস নং ১৫৫১

আলী ও ইসমাঈল ইবনে আবান রহ………আবদুল আযীয রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যিলহজ্জ মাসের আট তারিখ মিনার দিকে বের হলাম তখন আনাস রা.-এর সাক্ষাত লাভ করি, তিনি গাধার পিঠে আরোহণ করে যাচ্ছিলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এ দিনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় যুহরের সালাত আদায় করেছিলেন ?

তিনি বললেন, তুমি লক্ষ্য রাখবে যেখানে তোমার আমীরগণ সালাত আদায় করবে, তুমিও সেখানেই সালাত আদায় করবে।

বুখারি হাদিস নং ১৫৫২ – মিনায় সালাত আদায় করা।

হাদীস নং ১৫৫২

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় দু’ রাকআত সালাত আদায় করেছেন, এবং আবু বকর উমর রা.ও । আর উসমান রা. তাঁর খিলাফতের প্রথম ভাগেও দু’ রাকআত আদায় করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৫৩

হাদীস নং ১৫৫৩

আদম রহ……..হারিসা ইবনে ওয়াহব খুযায় রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে মিনাতে দু’ রাকআত সালাত আদায় করেছেন। এ সময় আমরা আগের তুলনায় সংখ্যায় বেশী ছিলাম এবং অতি নিরাপদে ছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ১৫৫৪

হাদীস নং ১৫৫৪

কাবীসা ইবনে উকরা রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (মিনায়) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে দু’ রাকআত সালাত আদায় করেছি।

আবু বকর রা.-এর সাথে দু’ রাকআত এবং উমর -এর সাথেও দু’ রাকআত আদায় করেছি। এরপর তোমাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে (অর্থাৎ উসমান রা.-এর সময় থেকে চার রাকআত সালাত আদায় করা শুরু হয়েছে) হায় ! যদি চার রাকআতের পরিবর্তে মকবুল দু’ রাকআতই আমার ভাগ্যে জুটত।

বুখারি হাদিস নং ১৫৫৫ – আরাফার দিনে সাওম।

হাদীস নং ১৫৫৫

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..উম্মে ফাযল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আরাফার দিনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাওমের ব্যাপারে লোকজন সন্দেহ করতে লাগলেন। তাই আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শরবত পাঠিয়ে দিলাম। তিনি তা পান করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৫৬ – সকালে মিনা থেকে আরাফা যাওয়ার সময় তালবিয়া ও তাকবীর বলা।

হাদীস নং ১৫৫৬

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আশ-শামী রহ………মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সাকাফী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস ইবনে মালিক রা.-কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তাঁরা উভয়ে সকাল বেলায় মিনা থেকে আরাফার দিকে যাচ্ছিলেন, আপনারা এ দিনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে থেকে কিরূপ করতেন ?

তিনি বললেন, আমাদের মধ্যে যারা তালবিয়া পড়তে চাইত তারা পড়ত, তাঁতে বাঁধা দেয়া হত না এবং তাকবীর পড়তে চাইত তারা তাকবীর পড়ত, এতেও বাঁধা দেয়া হত না।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৫৫৭ – আরাফার দিনে দুপুরে যাওয়া।

হাদীস নং ১৫৫৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আশ-শামী রহ………সালিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল মালিক (মক্কার গভর্নর) হাজ্জাজের নিকট লিখে পাঠালেন যে, হজ্জের ব্যাপারে ইবনে উমরের বিরোধিতা করবে না। আরাফার দিনে সূর্য ঢলে যাবার পর ইবনে উমর রা. হাজ্জাজের তাঁবুর কাছে গিয়ে উচ্চস্বরে ডাকলেন।

আমি তখন তাঁর সাথেই ছিলাম, হাজ্জাজ হলুদ রঙের চাদর পরিহিত অবস্থায় বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন, কি ব্যাপার, হে আবু আবদুর রাহমান ? ইবনে উমর রা. বললেন, যদি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চাও তাহলে চল। হাজ্জাজ জিজ্ঞাসা করলেন, এ মুহূর্তেই ? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

হাজ্জাজ বললেন, সামান্য অবকাশ দিন, মাথায় পানি ঢেলে বের হয়ে আসি। তখন তিনি তার সওয়ারী থেকে নেমে পড়লেন। অবশেষে হাজ্জাজ বেরিয়ে এলেন।

এরপর হাজ্জাজ চলতে লাগলেন, আমি ও আমার পিতার মাঝে তিনি চললেন, আমি তাকে বললাম, যদি আপনি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চান তাহলে খুতবা সংক্ষিপ্ত করবেন এবং উকুফে জলদি করবেন। হাজ্জাজ আবদুল্লাহর দিকে তাকাতে লাগলেন। আবদুল্লাহ রা. যখন তাকে দেখলেন তখন বললেন, সে ঠিকই বলছে।

বুখারি হাদিস নং ১৫৫৮ – আরাফায় সওয়ারীর উপর ওকুফ করা।

হাদীস নং ১৫৫৮

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……..উম্মে ফাযল বিনতে হারিস রা. থেকে বর্ণিত যে, লোকজন তাঁর সামনে আরাফার দিনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাওম সম্পর্কে মতভেদ করছিলেন। কেউ বলছিলেন তিনি সায়িম আবার কেউ বলছিলেন তিনি সায়িম নন। তারপর আমি তাঁর কাছে এক পিয়ালা দুধ পাঠিয়ে দিলাম, তিনি তখন উটের উপর ছিলেন, তিনি তা পান করে নিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৬০ – আরাফায় ওকুফ করা।

হাদীস নং ১৫৬০

আলী ইবনে আবদুল্লাহ ও মুসাদ্দাদ রহ………যুবাইর ইবনে মুতঈম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার একটি উট হারিয়ে আরাফার দিনে তা তালাশ করতে লাগলাম। তখন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আরাফায় ওকুফ করতে দেখলাম এবং বললাম, আল্লাহর কসম ! তিনি তো কুরাইশ বংশীয়। এখানে তিনি কি করছেন ?

বুখারি হাদিস নং ১৫৬১

হাদীস নং ১৫৬১

ফারওয়া ইবনে আবু মাগরা রহ………উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত যে, জাহিলী যুগে হুমস ব্যতীত অন্য লোকেরা উলঙ্গ অবস্থায় (বায়তুল্লাহর) তাওয়াফ করত। আর হুমস হল কুরাইশ এবং তাদের ঔরসজাত সন্তান-সন্তুতি। হুমসরা লোকদের সেবা করে সাওয়াবের আশায় পুরুষ পুরুষকে কাপড় দিত এবং সে তা পরে তাওয়াফ করত।

আর স্ত্রীলোক স্ত্রীলোককে কাপড় দিত এবং কাপড়ে সে তাওয়াফ করত। হুমসরা যাকে কাপড় না দিত সে উলঙ্গ অবস্থায় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করত। সব লোক আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তন করত আর হুমসরা প্রত্যাবর্তন করত মুযদালিফা থেকে।

রাবী হিশাম রহ .বলেন, আমার পিতা আমার নিকট আয়িশা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এই আয়াতটি হুমস সম্পর্কে নযিল হয়েছে : “এরপর যেখান থেকে অন্য লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে” রাবী বলেন, তারা মুযদালিফা থেকে প্রত্যাবর্তন করত, এতে তাদের আরাফা পর্যন্ত যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল।

বুখারি হাদিস নং ১৫৬২ – আরাফা থেকে ফিরার পথে চলার গতি।

হাদীস নং ১৫৬২

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উসামা রা. কে জিজ্ঞাসা করা হল, তখন আমিও সেখানে বসা ছিলাম, বিদায় হজ্জের সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আরাফা থেকে ফিরতেন তখন তাঁর চলার গতি কি ছিল ? তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুতগতিতে চলতেন এবং যখন পথ মুক্ত পেতেন তখন তার চাইতেও দ্রুতগতিতে চলতেন।

রাবী হিশাম রহ. বলেন, عنق থেকেও দ্রুতগতির ভ্রমণকে نص বলা হয়। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, فجوة অর্থ متسع খোলা পথ, এর বহুবচন হল فجوات ও فجاء- ركوة ও ركاء শব্দদ্বয়ও অনুরূপ। (কুরআনে বর্ণিত) ولات حين مناص এর অর্থ হল, পরিত্রাণের কোন উপায়-অবকাশ নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৫৬৩ – আরাফা ও মুযদলিফার মধ্যবর্তী স্থানে অবতরণ।

হাদীস নং ১৫৬৩

মুসাদ্দাদ রহ………উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন তখন তিনি একটি গিরিপথের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন মিটিয়ে উযূ করলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি সালাত আদায় করবেন ? তিনি বললেন : সালাত তোমার আরো সামনে।

বুখারি হাদিস নং ১৫৬৪

হাদীস নং ১৫৬৪

মূসা ইবেন ইসমাঈল রহ…….নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লহ ইবনে উমর রা. মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশার সালাত এক সাথে আদায় করতেন।

এ ছাড়া তিনি সেই গিরিপথ দিয়ে অতিক্রম করতেন যে দিকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিয়েছিলেন। আর সেখানে প্রবেশ করে তিনি ইসতিনজা করতেন এবং উযূ করতেন কিন্তু সালাত আদায় করতেন না। অবশেষে তিনি মুযদালিফায় পৌছে সালাত আদায় করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৬৫

হাদীস নং ১৫৬৫

কুতাইবা রহ………উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরাফা থেকে সওয়ারীতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পেছনে আরোহণ করলাম। মুযদালিফার নিকটবর্তী বামপার্শ্বের গিরিপথে পৌঁছলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটটি বসালেন।

এরপর পেশাব করে আসলেন। আমি তাকে উযূর পানি ঢেলে দিলাম। আর তিনি হাল্কাভাবে উযূ করে নিলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সালাত ? তিনি বললেন : সালাত তোমার আরো সামনে।

এ কথা বলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে আরোহণ করে মুযদালিফা আসলেন এবং সালাত আদায় করলেন। মুযদালিফার ভোরে ফযল (ইবনে আব্বাস রা.) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে আরোহণ করলেন।

কুরাইব রহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. ফযল রা. থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায় পৌছা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকেন।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৫৬৬ – (আরাফা থেকে) প্রত্যাবর্তনের সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধীরে চলার নির্দেশ দিতেন এবং তাদের প্রতি চাবুকের সাহায্যে ইশারা করতেন।

হাদীস নং ১৫৬৬

সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি আরাফার দিনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ফিরে আসছিলেন।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছনের দিকে খুব হাকডাক ও উট পেটানোর শব্দ শুনতে উট দ্রুত হাকানোর মধ্যে কোন কল্যাণ নেই (হাদীসে উল্লেখিত إيضاع এর প্রসঙ্গে ইমাম বুখারী রহ. কুরআনে উদ্ধৃত কয়েকটি শব্দের মর্মার্থ দেন) (কুরআনে উদ্ধৃত) أوضعوا তারা দ্রুত চলত। خلالكم তোমাদের ফাঁকে ঢুকে فجرنا خلالهما উভয়টির মধ্যে প্রবাহিত করেছি।

বুখারি হাদিস নং ১৫৬৭ – মুযদালিফায় দু’ ওয়াক্ত সালাত একসাথে আদায় করা।

হাদীস নং ১৫৬৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফা থেকে ফেরার সময় গিরিপথে অবতরণ করে পেশাব করলেন এবং উযু করলেন। তবে পূর্ণাঙ্গ উযু করলেন না। আমি তাকে বললাম সালাত ? তিনি বললেন : সালাত তো তোমার সামনে।

তারপর তিনি মুযদালিফায় এসে উযু করলেন এবং পূর্ণাঙ্গ উযু করলেন। তারপর সালাতের ইকামত হলে তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন।

এরপর প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে নিজ নিজ উট দাঁড় করিয়ে রাখার পর সালাতের ইকামত দেওয়া হল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত আদায় করলেন। ইশা ও মাগরিবের মধ্যে তিনি আর কোন সালাত পড়েননি।

বুখারি হাদিস নং ১৫৬৮ – দু’ ওয়াক্ত সালাত একসাথে আদায় করা এবং এ দুয়ের মাঝে কোন নফল সালাত আদায় না করা।

হাদীস নং ১৫৬৮

আদম রহ……..উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশা একসাথে আদায় করেন। প্রত্যেকটির জন্য আলাদা ইকামত দেওয়া হয়। তবে উভয়ের মধ্যে বা পরে তিনি কোন নফল সালাত আদায় করেননি।

বুখারি হাদিস নং ১৫৬৯

হাদীস নং ১৫৬৯

খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ………আবু আইয়্যূব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জের সময় মুযদালিফায় মাগরিব এবং ইশা একত্রে আদায় করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৭০ – মাগরিব এবং ইশা উভয় সালাতের জন্য আযান ও ইকামত দেওয়া।

হাদীস নং ১৫৭০

আমর ইবনে খালিদ রহ………আবদুর ইবনে ইয়াযিদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ রা. হজ্জ আদায় করলেন। তখন ইশার আযানের সময় বা তার কাছাকাছি সময় আমরা মুযদালিফা পৌঁছলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে আদেশ দিলেন। সে আযান দিল এবং ইকামত বলল। তিনি মাগরিব আদায় করলেন এবং এরপর আরো দু’ রাকআত আদায় করলেন।

তারপর তিনি রাতের খাবার আনলেন এবং তা খেয়ে নিলেন। (রাবী বলেন) তারপর তিনি একজনকে আদেশ দিলেন। আমার মনে হয়, লোকটি আযান দিল এবং ইকামত বলল। আমর রহ. বলেন, আমার বিশ্বাস এ সন্দেহ যুহাইর রহ. থেকেই হয়েছে। তারপর তিনি দু’ রাকআত ইশার সালাত আদায় করলেন।

ফজর হওয়া মাত্রই তিনি বললেন : এ সময়, এ দিনে, এ স্থানে, এ সালাত ব্যতীত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কোন সালাত আদায় করেননি। আবদুল্লাহ রা. বলেন, এ দুটি সালাত তাদের প্রচলিত ওয়াক্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তাই লোকেরা মুযদালিফা পৌঁছার পর মাগরিব আদায় করেন এবং ফজরের সময় হওয়া মাত্রই ফজরের সালাত আদায় করেন। আবদুল্লাহ রা. বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এইরূপ করতে দেখেছি।

বুখারি হাদিস নং ১৫৭১ – যারা পরিবারের দুর্বল লোদের রাতে আগে পাঠিয়ে দিয়ে মুযদালিফায় ওকুফ করে ও দু’আ করে এবং চাঁদ ডুবে যাওয়ার পর আগে পাঠাবে।

হাদীস নং ১৫৭১

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………সালিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. তাঁর পরিবারের দুর্বল লোকদের আগেই পাঠিয়ে দিয়ে রাতে মুযদালিফাতে মাশআরে হারামের নিকট ওকুফ করতেন এবং সাধ্যমত আল্লাহর যিকির করতেন। তারপর ইমাম ওকুফ করার ও রওয়ানা হওয়ার আগেই তাঁরা (মিনায়) ফিরে যেতেন।

তাদের থেকে কেউ মিনাতে আগমন করতেন ফজরের সালাতের সময় আর কেউ এরপরে আসতেন, মিনাতে এসে তাঁরা কংকর মারতেন। ইবনে উমর রা. বলতেন, তাদের জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এ ব্যাপারে কড়াকড়ি শিথিল করে সহজ করে দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৭২

হাদীস নং ১৫৭২

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রাতে মুযদালিফা থেকে পাঠিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৭৩

হাদীস নং ১৫৭৩

আলী রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফার রাতে তাঁর পরিবারের যে সব লোককে এখানে পাঠিয়েছিলেন, আমি তাদের একজন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৭৪

হাদীস নং ১৫৭৪

মুসাদ্দাদ রহ……….আসমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি মুযদালিফার রাতে মুযদালিফার কাছেকাছি স্থানে পৌছে সালাতে দাঁড়ালেন এবং কিছুক্ষণ সালাত আদায় করেন। তারপর বলেন, হে বৎস ! চাঁদ কি অস্তমিত হয়েছে ? আমি বললাম, না। তিনি আরো কিছুক্ষণ সালাত আদায় করলেন। তারপর বললেন, হে বৎস ! চাঁদ কি ডুবেছে ?

আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, চল। আমরা রওয়ানা হলাম এবং চললাম। পরিশেষে তিনি জামরায় কংকর মারলেন এবং ফিরে এসে নিজের অবস্থানের জায়গায় ফজরের সালাত আদায় করলেন। তারপর আমি তাকে বললাম, হে ! আমার মনে হয়, আমরা বেশী অন্ধকার থাকতেই আদায় করে ফেলেছি। তিনি বললেন, বৎস ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের জন্য এর অনুমতি দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৭৫

হাদীস নং ১৫৭৫

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাওদা রা. মুযদালিফার রাতে (মিনা যাওয়ার জন্য) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুমতি চাইলেন, তিনি তাকে অনুমতি দেন। সাওদা রা. ছিলেন ভারী ও ধীরগতি মহিলা।

বুখারি হাদিস নং ১৫৭৬

হাদীস নং ১৫৭৬

আবু নুআইম রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মুযদালিফায় অবতরণ করলাম। মানুষের ভিড়ের আগেই রওয়ানা হওয়ার জন্য সাওদা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুমতি চাইলেন। আর তিনি ছিলেন ধীরগতি মহিলা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন।

তাই তিনি লোকের ভিড়ের আগেই রওয়ানা হলেন। আর আমরা সকাল পর্যন্ত সেখানেই থেকে গেলাম। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওয়ানা হলেন, আমরা তাঁর সঙ্গে রওয়ানা হলাম।

সাওদার মত আমিও যদি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট অনুমতি চেয়ে নিতাম তাহলে তা আমার জন্য যে কোন খুশির কারণ থেকে অধিক সন্তুষ্টির ব্যাপার হত।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৫৭৭ – মুযদালিফায় ফজরের সালাত কোন সময় আদায় করবে?

হাদীস নং ১৫৭৭

আমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দুটি সালাত ছাড়া কোন সালাত তার নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত আদায় করতে দেখিনি। তিনি মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করেছেন এবং ফজরের সালাত তার (নিয়মিত) ওয়াক্তের আগে আদায় করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৭৮

হাদীস নং ১৫৭৮

আবদুল্লাহ ইবনে রাজা রহ………..আবদুর রাহমান ইবনে ইয়াযীদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ রা.-এর সঙ্গে মক্কা রওয়ানা হলাম। এরপর আমরা মুযদালিফায় পৌঁছলাম। তখন তিনি পৃথক পৃথক আযান ও ইকামতের সাথে উভয় সালাত আদায় করলেন এবং এই দু’ সালাতের মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নিলেন।

তারপর ফজর হতেই তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন। কেউ কেউ বলছিল যে, ফজরের সময় হয়ে গেছে, আবার কেউ বলছিল যে, এখনো ফজরের সময় আসেনি। এরপর আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এ দু’ সালাত অর্থাৎ মাগরিব ও ইশা এ স্থানে তাদের নিজ সময় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তাই ইশার ওয়াক্তের আগে কেউ যেন মুযদালিফায় না আসে। আর ফজরের সালাত এই মুহূর্তে। এরপর তিনি ফর্সা হওয়া পর্যন্ত সেখানে ওকুফ করেন।

এরপর বললেন, আমীরুল মু’মিনীন যদি এখন রওয়ানা হন তাহলে তিনি সুন্নাত মুতাবিক কাজ করলেন। (রাবী বলেন) আমার জানা নেই, তাঁর কথা দ্রুত ছিল, না উসমান রা-এর রওয়ানা হওয়াটা। এরপর তিনি তালবিয়া পাঠ করতে থাকলেন, কুরবানীর দিন জামরায়ে আকাবাতে কংকর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত।

বুখারি হাদিস নং ১৫৭৯ – মুযদালিফা হতে কখন রওয়ানা হবে ?

হাদীস নং ১৫৭৯

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ………আমর ইবনে মায়মুন রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর রা.-এর সাথে ছিলাম। তিনি মুযদালিফাতে ফজরের সালাত আদায় করে (মাশআরে হারামে) উকুফ করলেন এবং তিনি বললেন, মুশরিকরা সূর্য না উঠা পর্যন্ত রওয়ানা হত না। তারা বলত, হে সাবীর ! আলোকিত হও। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিপরীত করলেন এবং তিনি সূর্য উঠার আগেই রওয়ানা হলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৮০ – কুরবানীর দিন সকালে জামরায়ে আকাবাতে কংকর নিক্ষেপের সময় তাকবীর ও তালবিয়া বলা এবং চলার পথে কাউকে সওয়ারীতে পেছনে বসানো।

হাদীস নং ১৫৮০

আবু আসিম যাহহাক ইবনে মাখলাদ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযল রা.-কে তাঁর সওয়ারীর পেছনে বসিয়েছিলেন। সেই ফযল রা. বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায় পৌছে কংকর নিক্ষেপ না করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৮১

হাদীস নং ১৫৮১

যুহাইর ইবনে হারব রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, আরাফা থেকে মুযদালিফা আসার পথে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সওয়ারীর পেছনে উসামা রা. বসা ছিলেন।

এরপর মুযদালিফা থেকে মিনার পথে তিনি ফযলকে সওয়ারীর পেছনে বসালেন। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, তারা উভয়ই বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায়ে আকাবতে কংকর না মারা পর্যন্ত অনবরত তালবিয়া পাঠ করছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৮২ – (আল্লাহর বাণী) তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজ্জের প্রাক্কালে উমরা দ্বারা লাভবান হতে চায়, সে সহজলভ্য কুরবানী করবে, ……হারামের বাসিন্দা নয়।

হাদীস নং ১৫৮২

ইসহাক ইবনে মানসূর রহ………..আবু জামরা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস রা.-কে তামাত্তু হজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে তা আদায় করতে আদেশ দিলেন। এরপর আমি তাকে কুরবানী সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন, তামাত্তুর কুরবানী হল একটি উট, গরু বা বকরী অথবা এক কুরবানীর পশুর মধ্যে শরীকানা এক অংশ। আবু জামরা রহ. বলেন, লোকেরা তামাত্তু হজ্জকে যেন অপছন্দ করত। একবার আমি ঘুমালাম তখন দেখলাম, একটি লোক যেন (আমাকে লক্ষ্য করে) ঘোষণা দিচ্ছে, উত্তম হজ্জ এবং মাকবুল তামাত্তু।

এরপর আমি ইবনে আব্বাস রা.- এর কাছে এসে স্বপ্নের কথা বললাম। তিনি আল্লাহ আকবার উচ্চারণ করে বললেন, এটাই তো আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত। আদম, ওয়াহাব ইবনে জারীর এবং গুনদর রহ. শুবা রহ. থেকে মাকবুল উমরা এবং উত্তম এবং উত্তম হজ্জ বলে উল্লেখ করেছেন।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৫৮৩ – কুরবানীর উটের পিঠে সাওয়ার হওয়া।

হাদীস নং ১৫৮৩

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে কুরবানীর উট হাকিয়ে নিতে দেখে বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর।

সে বলল, এ তো কুরবানীর উট। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর পিঠে সওয়ার হয়ে চল। এবারও লোকটি বলল, এতো কুরবানীর উট। এরপরও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর, তোমার সর্বনাশ ! এ কথাটি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারে বলেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৮৪

হাদীস নং ১৫৮৪

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে কুরবানীর উট হাকিয়ে নিতে দেখে বললেন, এর উপর সাওয়ার হয়ে যাও। সে বলল, এ তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন, এর উপর সাওয়ার হয়ে যাও। লোকটি এ তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন, এর উপর সাওয়ার হয়ে যাও। এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৮৫ – যে ব্যক্তি কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে নিয়ে যায়।

হাদীস নং ১৫৮৫

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ ও উমরা একসাথে পালন করেছেন।

তিনি হাদী পাঠান অর্থাৎ যুল-হুলাইফা থেকে কুরবানীর জানোয়ার সাথে নিয়ে নেন। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে উমরার ইহরাম বাঁধেন, এরপর হজ্জের ইহরাম বাঁধেন সাহাবীগণ তাঁর সঙ্গে উমরার ও হজ্জের নিয়্যাতে তামাত্তু করলেন।

সাহাবীগণের কতেক হাদী সাথে নিয়ে চললেন, আর কেউ কেউ হাদী সাথে নেননি। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা পৌছে সাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করে বললেন : তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে এসেছ, তাদের জন্য হজ্জ সমাপ্ত করা পর্যন্ত কোন নিষিদ্ধ জিনিস হালাল হবে না।

আর তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে আসনি, তারা বায়তুল্লাহর এবং সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ করে চুল কেটে হালাল হয়ে যাবে। এরপর হজ্জের ইহরাম বাঁধবে। তবে যারা কুরবানী করতে পারবে না তারা হজ্জের সময় তিনদিন এবং বাড়িতে ফিরে গিয়ে সাতদিন সাওম পালন করবে।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা পৌঁছেই তাওয়াফ করলেন। প্রথমে হজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং তিন চক্কর রমল করে আর চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেটে তাওয়াফ করলেন।

বায়তুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করে তিনি মাকামে ইবরাহীমের নিকট দু’ রাকআত সালাত আদায় করলেন, সালাম ফিরিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফায় আসলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর সায়ী করলেন। হজ্জ সমাধা করা পর্যন্ত তিনি যা কিছু হারাম ছিল তা থেকে হালাল হননি।

তিনি কুরবানীর দিনে হাদী কুরবানী করলেন, সেখান থেকে এসে তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। তারপর তাঁর উপর যা হারাম ছিল সে সবকিছু থেকে তিনি হালাল হয়ে গেলেন।

সাহাবীগণের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা সেরূপ করলেন, যেরূপ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন। উরওয়া রহ. আয়িশা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের সাথে উমরা পালন করেন এবং তাঁর সঙ্গে সাহাবীগণও তামাত্তু করেন, যেমনি বর্ণনা করেছেন সালিম রহ .ইবনে উমর রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৫৮৬ – রাস্তা থেকে কুরবানীর পশু খরিদ করা।

হাদীস নং ১৫৮৬

আবু নুমান রহ……..নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর পুত্র আবদুল্লাহ রা. তাঁর পিতাকে বললেন, আপনি (এবার বাড়িতেই) অবস্থান করুন। কেননা, বায়তুল্লাহ থেকে আপনার বাঁধাপ্রাপ্ত হওয়ার ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। আবদুল্লাহ রা. বললেন, তাহলে আমি তাই করব যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন।

তিনি আরা বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ। সুতরাং আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, (এবার) উমরা আদায় করা আমি আমার উপর ওয়াজিব করে নিয়েছি।

তাই তিনি উমরার জন্য ইহরাম বাঁধলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি রওয়ানা হলেন, যখন বায়দা নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন তিনি হজ্জ এবং উমরা উভয়টির জন্য ইহরাম বেঁধে বললেন, হজ্জে এবং উমরার ব্যাপার তো একই।

এরপর তিনি কুদাইদ নামক স্থান থেকে কুরবানীর জানোয়ার কিনলেন এবং মক্কা পৌছে (হজ্জ ও উমরা) উভয়টির জন্য একটি তাওয়াফ করলেন। উভয়ের সব কাজ শেষ করা পর্যন্ত তিনি ইহরাম খুললেন না।

বুখারি হাদিস নং ১৫৮৭ – যে ব্যক্তি যুল-হুলাইফা থেকে ইশআর এবং কিলাদা করে পরে ইহরাম বাঁধে।

হাদীস নং ১৫৮৭

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ………মিসওয়ার ইবনে মাখরামা ও মারওয়ান রহ. থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ই বলেছেন, হুদাইবিয়ার সন্ধির পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাজারেরও অধিক সাহাবী নিয়ে মদীনা থেকে বের হয়ে যুল-হুলাইফা পৌছে কুরবানীর পশুটিকে কিলাদা পরালেন এবং ইশআর করলেন। এরপর তিনি উমরার ইহরাম বাঁধলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৮৮

হাদীস নং ১৫৮৮

আবু নুআইম রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নিজ হাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি। এরপর তিনি তাকে কিলাদা পরিয়ে ইশআর করার পর পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর যা হালাল ছিল এতে তা হারাম হয়নি।

বুখারি হাদিস নং ১৫৮৯ – উট এবং গুরুর জন্য কিলাদ পাকান।

হাদীস নং ১৫৮৯

মুসাদ্দাদ রহ……….হাফসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! লোকদের কি হল তারা হালাল হয়ে গেল আর আপনি হালাল হলেন না? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি তো আমার মাথার তালবিদ করেছি এবং আমার কুরবানীর জানোয়ারকে কিলাদা পরিয়ে দিয়েছি, তাই হজ্জ সমাধা না করা পর্যন্ত আমি হালাল হতে পারি না।

বুখারি হাদিস নং ১৫৯০

হাদীস নং ১৫৯০

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা থেকে কুরবানীর পশু পাঠাতেন, আমি তার গলায় কিলাদার মালা পাকিয়ে দিতাম। এরপর মুহরিম যে কাজ বর্জন করে, তিনি তার কিছু বর্জন করতেন না।

বুখারি হাদিস নং ১৫৯১ – কুরবানীর পশু ইশআর করা।

হাদীস নং ১৫৯১

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রা……… আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিলাম। এরপর তিনি তার ইশআর করলেন এবং তাকে কিলাদা পরিয়ে দিলেন অথবা আমি একে কিলাদা পরিয়ে দিলাম। এরপর তিনি তা বায়তুল্লাহর দিকে পাঠালেন এবং নিজে মদীনায় থাকলেন এবং তাঁর জন্য যা হালাল ছিল তা থেকে কিছুই তাঁর জন্য হারাম হয়নি।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৫৯২ – যে নিজ হাতে কিলাদা বাঁধে।

হাদীস নং ১৫৯২

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…….যিয়াদ ইবনে আবু সুফিয়ান রহ. থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশা রা.-এর নিকট পত্র লিখলেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরবানীর পশু (মক্কা) পাঠায় তা যবেহ না করা পর্যন্ত তার জন্য ঐ সমস্ত কাজ হারাম হয়ে যায়, যা হাজীদের জন্য হারাম।

(বর্ণনাকারিণী) আমরা রহ. বলেন, আয়িশা রা. বললেন, ইবনে আব্বাস রা. যেমন বলেছেন, ব্যাপারে তেমন নয়। আমি নিজ হাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি আর তিনি নিজ হাতে তাকে কিলাদা পরিয়ে দিন। এরপর আমার পিতার সংগে তা পাঠান।

সে জানোয়ার যবেহ করা পর্যন্ত আল্লাহ কর্তৃক হালাল করা কোন বস্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি হারাম হয়নি।

বুখারি হাদিস নং ১৫৯৩ – বকরীর গলায় কিলাদা পরানো।

হাদীস নং ১৫৯৩

আবু নুআইম রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর জন্য বকরী পাঠান।

বুখারি হাদিস নং ১৫৯৪

হাদীস নং ১৫৯৪

আবু নুমান রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (কুরবানীর পশুর) কিলাদাগুলো পাকিয়ে দিতাম আর তিনি তা বকরীর গলায় পরিয়ে দিতেন। এরপর তিনি নিজ পরিবারে হালাল অবস্থায় থেকে যেতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৯৫

হাদীস নং ১৫৯৫

আবু নুমান রহ. ও মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বকরীর কিলাদা পাকিয়ে দিতাম আর তিনি সেগুলো পাঠিয়ে দিয়ে হালাল অবস্থায় থেকে যেতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৫৯৬

হাদীস নং ১৫৯৬

আবু নুআইম রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি, তাঁর ইহরাম বাঁধার আগে।

বুখারি হাদিস নং ১৫৯৭ – পশমের তৈরী কিলাদা।

হাদীস নং ১৫৯৭

আমর ইবনে আলী রহ………উম্মুল মু’মিনীন (আয়িশা রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে যে পশম ছিল আমি তা দিয়ে কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি।

বুখারি হাদিস নং ১৫৯৮ – জুতার কিলাদা ঝুলান।

হাদীস নং ১৫৯৮

মুহাম্মদ রহ…….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটি কুরবানীর উট হাকিয়ে নিতে দেখে বললেন : এর উপর সাওয়ার হয়ে যাও। লোকটি বলল, এটি কুরবানীর উট। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এর উপর সাওয়ার হয়ে যাও।

বর্ণনাকারী বলেন, আমি লোকটিকে দেখেছি যে, সে ঐ পশুটির পিঠি চড়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাথে চলছিল আর পশুটির গলায় জুতার মালা ঝুলান ছিল।

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ. এ বর্ণনার অনুসরণ করেছেন। উসমান ইবনে উমর রহ……….আবু হুরায়রা রা. সুত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৫৯৯ – কুরবানীর উটের পিঠি আবরণ পরানো।

হাদীস নং ১৫৯৯

কাবীসা রহ………আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যবেহকৃত কুরবানীর উটের পৃষ্ঠের আবরণ এবং তার চামড়া সাদকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬০১ – স্ত্রীদের পক্ষ থেকে তাদের নির্দেশ ছাড়া স্বামী কর্তৃক কুরবানী করা

হাদীস নং ১৬০১

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যিল-কাদাহ মাসের পাঁচ দিন বাকী থাকতে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম।

হজ্জ আদায় ছাড়া আমাদের অন্য কোন ইচ্ছা ছিল না। যখন আমরা মক্কার কাছাকাছি পৌঁছলাম, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলেন : যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই সে যেন বায়তুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার সায়ী করে হালাল হয়ে যায়।

আয়িশা রা. বলেন, কুরবানীর দিন আমাদের কাছে গুরুর গোশত আনা হলে আমি বললাম, উক্ত হাদীসখানা কাসিমের নিকট আলোচনা করলে তিনি বললেন, সঠিকভাবেই তিনি হাদীসটি তোমার কাছে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬০২ – মিনাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কুরবানী করার স্থানে কুরবানী করা।

হাদীস নং ১৬০২

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ………..নাফি রহ .থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ রা. কুরবানীর স্থানে কুরবানী করতেন। উবায়দুল্লাহ রহ. বলেন, (অর্থাৎ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর স্থানে।

বুখারি হাদিস নং ১৬০৩

হাদীস নং ১৬০৩

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………..নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর রা. মুযদালিফা থেকে শেষ রাতের দিকে হাজীদের সাথে, যাদের মধ্যে আযাদ ও ক্রীতদাস থাকত, নিজ কুরবানীর জানোয়ার পাঠিয়ে দিতেন, যাতে তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর স্থানে পৌছে যায়।

বুখারি হাদিস নং ১৬০৪ – যে ব্যক্তি নিজ হাতে কুরবানী করে।

হাদীস নং ১৬০৪

সাহল ইবনে বাক্কার রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে সাতটি উট দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কুরবানী করেন এবং মদীনাতেও হৃষ্টপুষ্ট শিং বিশিষ্ট সুন্দর দুটি দুম্বা তিনি কুরবানী করেছেন। এখানে হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ১৬০৫ – উট বাঁধা অবস্থায় কুরবানী করা।

হাদীস নং ১৬০৫

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………যিয়াদ ইবনে যুবাইর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর রা. কে দেখেছি যে, তিনি আসলেন এমন এক ব্যক্তির নিকট, যে তার নিজের উটটিকে নহর করার জন্য বসিয়ে রেখেছিল।

ইবনে উমর রা. বললেন, সেটি উঠিয়ে দাঁড়ান অবস্থায় বেঁধে নাও। (এ) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত । (ইমাম বুখারী রহ. বলেন) শুবা রহ. ইউনুস সুত্রে যিয়াদ রহ. থেকে হাদীসটি (আখবারানী) শব্দ দিয়ে বর্ণনা করেন।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬০৬ – উট দাঁড় করিয়ে কুরবানী করা।

হাদীস নং ১৬০৬

সাহল ইবনে বাক্কার রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাতে যুহর চার রাকআত এবং যুল হুলাইফাতে আসর দু’ রাকআত আদায় করলেন এবং এখানেই রাত যাপন করলেন। ভোর হলে তিনি সাওয়ারীতে আরোহণ করে তাহলীল ও তাসবীহ পাঠ করতে লাগলেন।

এরপর বায়দায় যাওয়ার পর তিনি হজ্জ ও উমরা উভয়ের জন্য তালবিয়া পাঠ করেন এবং মক্কায় প্রবেশ করে তিনি সাহাবাদের ইহরাম খুলে ফেলার নির্দেশ দেন।

আর (সে হজ্জে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি উট দাঁড় করিয়ে নিজ হাতে কুরবানী করেন আর মদীনাতে হৃষ্টপুষ্ট শিং বিশিষ্ট সুন্দর দুটি মেষ কুরবানী দেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬০৭

হাদীস নং ১৬০৭

মুসাদ্দাদ রহ……..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাতে যুহর চার রাকআত এবং যুল হুলাইফাতে আসর দু’ রাকআত আদায় করলেন আয়্যূব রহ. এক ব্যক্তির মাধ্যমে আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণনা করেন, এরপর এখানেই রাত যাপন করলেন।

ভোর হলে তিনি ফজরের সালাত আদায় করার পর সাওয়ারীতে আরোহণ করেন। এরপর বায়দায় পৌঁছলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ ও উমরা উভয়ের জন্য তালবিয়া পাঠ করেন ।

বুখারি হাদিস নং ১৬০৮ – কুরবানীর জানোয়ারের কোন কিছুই কসাইকে দেওয়া যাবে না।

হাদীস নং ১৬০৮

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ………আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠালেন, আমি কুরবানীর পশুর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম, তারপর তিনি আমাকে আদেশ করলেন।

আমি এর পিঠের আবরণ এবং চামড়াগুলোও বিতরণ করে দিলাম। সুফিয়ান রহ. আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ করলেন কুরবানীর পশুর পাশে দাঁড়াতে এবং এর থেকে পারিশ্রমিক হিসাবে কাসাইকে কিছু না দিতে।

বুখারি হাদিস নং ১৬০৯ – কুরবানীর পশুর চামড়া সাদকা করা।

হাদীস নং ১৬০৯

মুসাদ্দাদ রহ………আলী রা. থেকে বর্ণিত যে, তাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের কুরবানীর জানোয়ারের পাশে দাঁড়াতে আর এগুলোর সমুদয় গোশত, চামড়া এবং পিঠের আবরণ সমূহ বিতরণ করতে নির্দেশ দেন এবং এর থেকে যেন কসাইকে পারিশ্রমিক হিসাবে কিছুই না দেওয়া হয়।

বুখারি হাদিস নং ১৬১০ – কুরবানীর জানোয়ারের পিঠে আবরণ সাদকা করা।

হাদীস নং ১৬১০

আবু নুআইম রহ……..আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর একশ উট পাঠান এবং আমাকে গোশত সম্বন্ধে নির্দেশ দিলেন।

আমি তা বন্টন করে দিলাম। এরপর তিনি তার পিঠের আবরণ সম্বন্ধে আমাকে নির্দেশ দিলেন, আমি তা বন্টন করে দিলাম। তারপর তিনি আমাকে চামড়া সম্বন্ধে নির্দেশ দেন, আমি তা বন্টন করে দিলাম।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬১১ – (আল্লাহর বাণী) এবং স্মরণ করুন আমি ইবরাহীমের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম সে ঘরের স্থান……।

হাদীস নং ১৬১১

মুসাদ্দাদ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আমাদের কুরবানীর গোশত মিনার তিন দিনের বেশি খেতাম না।

এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অনুমতি দিলেন এবং বললেন : খাও এবং সঞ্চয় করে রাখ। তাই আমরা খেলাম এবং সঞ্চয়ও করলাম। রাবী বলেন, আমি আতা রহ.-কে বললাম, জাবির রা. কি বলেছেন আমরা মদীনায় আসা পর্যন্ত ? তিনি বললেন, না।

বুখারি হাদিস নং ১৬১২

হাদীস নং ১৬১২

খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যুল-কুদার পাঁচ দিন অবশিষ্ট থাকতে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম।

হজ্জ ছাড়া আমরা অন্য কিছু উদ্দেশ্য করিনি, অবশেষে আমরা যখন মক্কার নিকটে পৌঁছলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলেন : যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই সে যেন বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে হালাল হয়ে যায়। আয়িশা রা. বলেন, এরপর কুরবানীর দিন আমাদের কাছে গুরুর গোশত পাঠানো হল। আমি বললাম, এ কি ?

বলা হয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের তরফ থেকে কুরবানী করেছেন। ইয়াহইয়া রহ. বলেন, আমি কাসিম রহ.-এর নিকট হাদীসটি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, আমরা রহ. হাদীসটি ঠিকভাবেই তোমার নিকট বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬১৩ – মাথা কামানোর আগে কুরবানী করা।

হাদীস নং ১৬১৩

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাওশাব রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সে ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, যে মাথা কামানোর আগে কুরবানী অথবা অনুরূপ কোন কাজ করেছে। তিনি বললেন : এতে কোন দোষ নেই, এত কোন দোষ নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৬১৪

হাদীস নং ১৬১৪

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক বাহাবী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আমি কংকর মারার আগেই তাওয়াফে যিয়ারত করে ফেলেছি। তিনি বললেন : কোন দোষ নেই। সাহাবী পুনরায় বললেন, আমি যবেহ করার আগেই মাথা কামিয়ে ফেলেছি।

তিনি বললেন : কোন দোষ নেই। সাহাবী আবারও বললেন, আমি কংকর মারার আগেই কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি বললেন : কোন দোষ নেই।

আবদুর রহীম ইবনে সুলাইমান রাযী, কাসিম ইবনে ইয়াইইয়া ও আফফান রহ………ইবনে আব্বাস রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। হাম্মাদ রহ…….জাবির রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬১৫

হাদীস নং ১৬১৫

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হল, সন্ধ্যার পর আমি কংকর মেরেছি। তিনি বললেন : কোন দোষ নেই। সে আবার বলল, কুরবানী করার আগেই আমি মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেন : এতে কোন দোষ নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৬১৬

হাদীস নং ১৬১৬

আবদান রহ………আবূ মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বাতহা নামক স্থানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম। তিনি বললেন : হজ্জ সমাধা করেছ ? আমি বললাম, হ্যাঁ।

তিনি বললেন : কিসের জন্য ইহরাম বেঁধেছিলে ? আমি বললাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মত ইহরাম বেঁধে আমি তালবিয়া পাঠ করেছি। তিনি বললেন : ভালই করেছ। যাও বায়তুল্লাহর তাওয়াফ কর এবং সাফা-মারওয়ার সায়ী কর। এরপর আমি বনূ কায়স গোত্রের এক মহিলার নিকট এলাম। তিনি আমার মাথার উকুন বেছে দিলেন।

তারপর আমি হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। (তখন থেকে) উমর রা.-এর খিলাফতকালে পর্যন্ত এ ভাবেই আমি লোকদের (হজ্জ এবং উমরা সম্পর্কে) ফতোয়া দিতাম।

তারপর তাঁর সঙ্গে আমি এ বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি বললেন, আমরা যদি আল্লাহর কিতাবকে অনুসরণ করি তাহলে তা তো আমাদের পূর্ণ করার নির্দেশ দেয়। আর যদি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের অনুসরণ করি তাহলে তো (দেখি যে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর পশু যথাস্থানে পৌঁছার আগে হালাল হননি।

বুখারি হাদিস নং ১৬১৭ – ইহরামের সময় মাথায় আঠালো বস্তু লাগান ও মাথা কামানো।

হাদীস নং ১৬১৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………হাফসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! লোকদের কি হল যে, তারা উমরা করে হালাল হয়ে গেল অথচ আপনি উমরা থেকে হালাল হননি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি তো আমার মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি এবং পশুর গলায় কিলাদা ঝুলিয়েছি। তাই কুরবানী না করে আমি হালাল হতে পারিনা।

বুখারি হাদিস নং ১৬১৮ – হালাল হওয়ার সময় মাথার চুল কামানো ও ছোট করা।

হাদীস নং ১৬১৮

আবুল ইয়ামান রহ…….নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর রা. বলতেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের সময় তাঁর মাথা কামিয়েছিলেন।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬১৯

হাদীস নং ১৬১৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ইয়া আল্লাহ ! মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি রহম করুন।

সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! যারা মাথার চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ইয়া আল্লাহ ! মাথা মুণ্ডন কারীদের প্রতি রহম করুন। সাহবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও।

এবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। লায়স রহ. বলেন, আমাকে নাফি রহ. বলেছেন, আল্লাহ মাথামুণ্ডনকারীদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, এ কথাটি তিনি একবার অথবা দু’ বার বলেছেন।

রাবী বলেন, উবাদুল্লাহ রহ. নাফি রহ. থেকে বর্ণনা করেন, চতুর্থবার বলেছেন : চুল যারা ছোট করেছে তাদের প্রতিও।

বুখারি হাদিস নং ১৬২০

হাদীস নং ১৬২০

আয়্যাশ ইবনে ওয়ালীদ রহ……আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ইয়া আল্লাহ ! মাথা মুণ্ডন কারীদের ক্ষমা করুন।

সাহাবীগণ বললেন, যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ইয়া আল্লাহ ! মাথা মুণ্ডন কারীদের ক্ষমা করুন। সাহাবীগণ বললেন, যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাটি তিনবার বলেন, এরপর বললেন : যারা চুল ছোট করেছে তাদেরকেও।

বুখারি হাদিস নং ১৬২১

হাদীস নং ১৬২১

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসমা রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা কামালেন এবং সাহাবীদের এক দলও। আর অন্য একটি দল চুল ছোট করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬২২

হাদীস নং ১৬২২

আবু আসিম রহ………ইবনে আব্বাস রা. ও মুআবিয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একটি কাঁচি দিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুল ছোট করে দিয়েছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ১৬২৩ – উমরা আদায়ের পর তামাত্তু কারীর চুল ছাটা।

হাদীস নং ১৬২৩

মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় এসে সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন, তারা যেন বায়তুল্লাহ এবং সাফা ও মারওয়ার তাওয়াফ করে। এরপর মাথার চুল মুড়িয়ে বা চুল ছেটে হালাল হয়ে যায়।

বুখারি হাদিস নং ১৬২৪ – কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারত করা।

হাদীস নং ১৬২৪

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে হজ্জ আদায় করে কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারত করলাম।

এ সময় সাফিয়্যা রা.-এর হায়েয দেখা দিল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে তা ইচ্ছা করছিলেন যা একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সঙ্গে ইচ্ছা করে থাকে।

আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তিনি তো হায়েযা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তবে তো সে আমাদের আটকিয়ে ফেলবে। তারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

সাফিয়্যা রা. তো কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারত করে নিয়েছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তবে রওয়ানা হও। কাসিম, উরওয়া ও আসাদ রহ. সূত্রে আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, সাফিয়্যা কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬২৫ – ভুলক্রমে বা অজ্ঞতাবশত কেউ যদি সন্ধ্যার পর কংকর মারে অথবা কুরবানী করার আগে মাথা কামিয়ে ফেলে।

হাদীস নং ১৬২৫

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যবেহ করা, মাথা কামান ও কংকর মারা এবং (এ কাজগুলো) আগে-পিছে করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন : কোন দোষ নেই।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬২৬

হাদীস নং ১৬২৬

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিনাতে কুরবানীর দিন জিজ্ঞাসা করা হত, তখন তিনি বলতেন : কোন দোষ নেই। তাকে এক সাহাবী জিজ্ঞাসা করে বললেন, আমি যবেহ করার আগেই মাথা কামিয়ে ফেলেছি।

তিনি বললেন : যবেহ করে নাও, এতে দোষ নেই। সাহাবী আরো বললেন, আমি সন্ধ্যার পর কংকর মেরেছি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : কোন দোষ নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৬২৭ – জামরার নিকট সাওয়ারীতে আরোহণ অবস্থায় ফতোয়া দেওয়া।

হাদীস নং ১৬২৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত যে, বিদায় হজ্জের সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাওয়ারীতে) অবস্থান করছিলেন, তখন সাহাবীগণ তাকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন : একজন জিজ্ঞাসা করলেন, আমি জানতাম না, তাই কুরবানী করার আগেই (মাথা) কামিয়ে ফেলেছি।

তিনি ইরশাদ করলেন : তুমি কুরবানী করে নাও, কোন দোষ নেই। তারপর অপর একজন এসে বললেন, আমি না জেনে কংকর মারার পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি ইরশাদ করলেন : কংকর মেরে নাও, কোন দোষ নেই। সেদিন যে কোন কাজ আগে পিছে করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, করে নাও, কোন দোষ নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৬২৮

হাদীস নং ১৬২৮

সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা. থেকে বর্ণিত যে, কুরবানীর দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর খুতবা দেওয়ার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তখন এক সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন, আমার ধারণা ছিল অমুক কাজের আগে অমুক কাজ।

এরপর অপর এক সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন, আর আমার ধারণা ছিল অমুক কাজের আগে অমুক কাজ, আমি কুরবানী করার আগে মাথা কামিয়ে ফেলেছি। আর কংকর মারার আগে কুরবানী করে ফেলেছি।

এরূপ অনেক কথা জিজ্ঞাসা করা হয়। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : করে নাও, কোন দোষ নেই। সব কটির জবাবে তিনি এ কথাই বললেন। সেদিন তাকে যা-ই জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, উত্তরে তিনি বলেন, করে নাও, কোন দোষ নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৬২৯

হাদীস নং ১৬২৯

ইসহাক ইবনে মানসুর রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটনীর উপর অবস্থান করছিলেন। তারপর হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন। যুহরী রহ. থেকে এ হাদীস বর্ণনায় মামার রহ. সালেহ রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৬৩০ – মিনার দিনগুলোতে খুতবা প্রদান।

হাদীস নং ১৬৩০

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন লোকদের উদ্দেশ্যে একটি খুতবা দিলেন। তিনি বললেন : হে লোক সকল ! আজকের এ দিনটি কোন দিন ? সকলেই বললেন, সম্মানিত দিন। তারপর তিনি বললেন : এ শহরটি কোন শহর? তাঁরা বললেন, সম্মানিত শহর।

তারপর তিনি বললেন : এ মাসটি কোন মাস ? তারা বললেন : সম্মানিত মাস। তিনি বললেন : তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ, তোমাদের ইযযত-হুরমত তোমাদের জন্য তেমনি সম্মানিত, যেমন সম্মানিত তোমাদের এ দিনটি, তোমাদের এ শহরে এবং তোমাদের এ মাসে । এ কথাটি তিনি কয়েকবার বললেন।

পরে মাথা উঠিয়ে বললেন : ইয়া আল্লাহ ! আমি ক (আপনার পয়গাম) পৌঁছিয়েছি ? হে আল্লাহ ! আমি কি পৌঁছিয়েছি ? ইবনে আব্বাস রা. বলেন, সে সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই এ কথাগুলো ছিল তার উম্মতের জন্য অসিয়ত।

(নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেন) উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছিয়ে দেয়। আমার পরে তোমরা কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করবে না যে, পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করবে।

বুখারি হাদিস নং ১৬৩১

হাদীস নং ১৬৩১

হাফস ইবনে উমর রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আরাফার ময়দানে খুতবা দিতে শুনেছি। ইবনে উয়াইনা রহ. আমর রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় শুবা রহ. -এর অনুসরণ করেছেন।

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৬৩২

হাদীস নং ১৬৩২

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরবানীর দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের খুতবা দিলেন এবং বললেন : তোমরা কি জান আজ কোন দিন ? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচাইতে বেশী জানেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব হয়ে গেলেন। আমরা ধারণা করলাম সম্ভবত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম পাল্টিয়ে অন্য নামে নামকরণ করবেন। তিনি বললেন : এটা কি কুরবানীর দিন নয় ? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই সব চাইতে বেশী জানেন।

তিনি নীরব হয়ে গেলেন। আমরা মনে করতে লাগলাম, হয়ত তিনি এর নাম পাল্টিয়ে অন্য কোন নামে নামকরণ করবেন। তিনি বললেন : এ কি যিলহজ্জের মাস নয় ?

আমরা বললাম, হ্যাঁ। তারপর তিনি বললেন : এটি কোন শহর ? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই সবচাইতে বেশী জানেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব হয়ে গেলেন। ফলে আমরা ভাবতে লাগলাম, হয়ত তিনি এর নাম বদলিয়ে অন্য নামকরণ করবেন।

তিনি বললেন : এ কি সম্মানিত শহর নয় ? আমরা বললাম, নিশ্চয়ই।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমাদের জান এবং তোমাদের মাল তোমাদের জন্য তোমাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত এমন সম্মানিত যেমন সম্মান রয়েছে তোমাদের এ দিনের, তোমাদের এ মাসে এবং তোমাদের শহরে

। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের লক্ষ্য করে বললেন : শোন ! আমি পৌঁছিয়েছি তোমাদের কাছে ? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ (ইয়া রাসূলাল্লাহ !) তারপর তিনি বললেন : প্রত্যেক উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে (আমার দাওয়াত) পৌঁছিয়ে দেয়।

কেননা, কোন কোন মুবাল্লাগ শ্রবণকারী থেকে কখনো কখনো অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে। তোমরা আমার পরে কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করো না যে, পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করবে।

আরও পড়ুনঃ

ফিকহুস সুন্নাহ – সূচিপত্র [সাইয়্যেদ সাবেক ]

সূচনাপত্র: রিসালাত এবং রিসালাতের গুরুত্ব সার্বজনীনতা ও উদ্দেশ্য

পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে পানি, Water [ পানির প্রকারভেদ ও ব্যবহার ]

নাপাকি এবং নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জনের উপায়

০১. ওহীর সূচনা অধ্যায় – ১ম খণ্ড – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

হাদীছের তত্ত্ব ও ইতিহাস

মন্তব্য করুন