সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায়

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

Table of Contents

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩০৩৫

হাদীস নং ৩০৩৫

মালিক ইবনে ইসমাঈল রহ………….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জ্বরের উৎপত্তি জাহান্নামের প্রচণ্ড উত্তাপ হতে । অতএব তোমাদের গায়ের সে তাপ পানি দ্বারা ঠাণ্ডা কর।

বুখারি হাদিস নং ২৯৬৪ – মহান আল্লাহর বাণী: আর তিনিই সত্তা, যিনি সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন, আবার তিনিই তা সৃষ্টি করবেন পুনর্বার ; আর তা তাঁর জন্য অতি সহজ।

হাদীস নং ২৯৬৪

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ………ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বানু তামীমের একদল লোক রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে এল, তখন তিনি তাদের বললেন, হে তামীম সম্প্রদায়! সুসংবাদ গ্রহণ কর। তখন তারা বলল, আপনি তো সুসংবাদ জানিয়েছেন, এবার আমাদের দান করুন।

এতে তাঁর মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে গেল। এ সময় তাঁর কাছে ইয়ামানের লোকজন আসল। তখন তিনি বললেন, হে ইয়ামানবাসী! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। কেনা তামীম সম্প্রদায়ের লোকেরা তা গ্রহণ করেনি।

তারা বলল, আমরা গ্রহণ করলাম। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টির সূচনা এবং আরশ সম্পর্কে বর্ণনা করেন। এর মধ্যে একজন লোক এসে বলল, হে ইমরান! তোমার উটনীটি পালিয়ে গেছে। হায়! আমি যদি উঠে না চলে যেতাম।

বুখারি হাদিস নং ২৯৬৫

হাদীস নং ২৯৬৫

উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস রহ……….ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার উটনীটি দরজার সাথে বেঁধে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমত উপস্থিত হলাম। তখন তাঁর কাছে তারা বলল, আপনি তো আমাদের সুসংবাদ দিয়েছেন, এবার আমাদের কিছু দান করুন।

একথা দু’বার বলল। এরপর তাঁর কাছে ইয়ামানের কিছু লোক আসল। তিনি তাদের বললেন, ইয়া ইয়ামানবাসী ! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। কারণ বানু তামীমগণ তা গ্রহণ করে নাই।

তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তা গ্রহণ করলাম। তারা আরো বলল, আমরা দীন সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করার জন্য আপনার খেদমতে এসেছিলাম। তখন তিনি বললেন, একমাত্র আল্লাহই ছিলেন, আর তিনি ব্যতীত আর কোন কিছুই ছিলনা। তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে।

এরপর তিনি লাওহে মাহফুজে সবকিছু লিপিবদ্ধ করলেন এবং আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। এ সময় জনৈক ঘোষণাকারী ঘোষণা করল, হে ইবনে হুসাইন!

আপনার উটনী পালিয়ে গেছে। তখন আমি এর তালাশে চলে গেলাম। দেখলাম তা এত দূরে চলে গেছে যে, তার এবং আমার মধ্যে মরীচিকাময় ময়দান ব্যবধান হয়ে পড়েছে। আল্লাহর কসম! আমি তখন উটনীটিকে একেবারে ছেড়ে দেয়ার ইচ্ছা করলাম।

ঈসা রহ………..তারিক ইবনে শিহাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর রা. -কে বলতে শুনেছি, একদা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে দাঁড়ালেন।

এরপর তিনি আমাদের সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে অবহিত করলেন। অবশেষে তিনি জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসী তাদের নিজ নিজ নির্ধারিত স্থানে প্রবেশ করার কথাও উল্লেখ করলেন। যে ব্যক্তি এ কথাটি স্মরণ রাখতে পেরেছে, সে স্মরণ রেখেছে আর যে ভুলে যাবার সে ভুলে গেছে।

বুখারি হাদিস নং ২৯৬৬

হাদীস নং ২৯৬৬

আবদুল্লাহ ইবনে আবু শাইবা রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন, আদম সন্তান আমাকে গালমন্দ করে অথচ আমাকে গালমন্দ করা তার উচিত নয়।

আর সে আমাকে অস্বীকার করে অথচ তার তা উচিত নয়। আমাকে গালমন্দ করা হচ্ছে, তার এ উক্তি যে, আমার সন্তান আছে। আর তা অস্বীকার করা হচ্ছে, তার এ উক্তি, যেভাবে আল্লাহ আমাকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন, সেভাবে কখনও তিনি আমাকে পুন: সৃষ্টি করবেন না।

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯৬৭

হাদীস নং ২৯৬৭

কুতাইবা রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ যখন সৃষ্টি কার্য সমাধা করলেন, তখন তিনি তাঁর কিতাব লাওহে মাহফুজে লিখেন, যা আরশের উপর তাঁর কাছে বিদ্যমান। নিশ্চয়ই আমার করুণা আমার ক্রোধের চেয়ে প্রবল।

বুখারি হাদিস নং ২৯৬৮ – সাত যমীন।

হাদীস নং ২৯৬৮

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………আবু সালামা ইবনে আবদুর রাহমান রা. থেকে বর্ণিত , (তিনি বলেন) কয়েকজন লোকের সাথে একটি জমি নিয়ে তাঁর বিবাদ ছিল। আয়িশা রা.-এর কাছে এসে তা ব্যক্ত করল।

তিনি বললেন, হে আবু সালমা! জমা-জমির ঝামেলা থেকে দূরে থাক। কেননা, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণ অন্যের জমি জুলুম করে আত্মসাৎ করেছে, কিয়ামতের দিন সাত তবক যমীনের হার তার গলায় পরানো হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৯৬৯

হাদীস নং ২৯৬৯

বিশর ইবনে মুহাম্মদ রহ……….সালিম রা.-এর পিতা (ইবনে উমর রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো জমির সামান্যতম অংশও আত্মসাৎ করে, কিয়ামতের দিন সাত তবক যমীনের নীচে তাকে ধ্বসে দেওয়া হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৯৭০

হাদীস নং ২৯৭০

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……….আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিন বলেন, আল্লাহ যে দিন আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, সে দিন থেকে সময় যেরূপে আবর্তিত হচ্ছিল আজও তা সেরূপে আবর্তিত হচ্ছে।

বারো মাসে এক বছর। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত । যুল-কাদাহ, যুল-হিজ্জাহ ও মুহাররাম। তিনটি মাস পরপর রয়েছে। আর এক মাস হল রজব ই-মুযার যা জুমাদা ও শাবান মাসের মধ্যে অবস্থিত।

বুখারি হাদিস নং ২৯৭১

হাদীস নং ২৯৭১

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ………..সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল রা. থেকে বর্ণিত, ‘আরওয়া’ নামক জনৈক মহিলা এক সাহাবীর বিরুদ্ধে মারওয়ানের নিকট (জমি সংক্রান্ত বিষয়ে) তার ঐ পাওনা সম্পর্কে মামলা দায়ের করল, যা তার (মহিলাটির) ধারণায় তিনি (সাঈদ) নষ্ট করেছেন।

ব্যপার শুনে সাঈদ রা. বললেন, আমি কি তার (মহিলাটির) সামান্য হকও নষ্ট করতে পারি? আমি তো সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জুলুম করে অন্যের এক বিঘত যমীনও আত্মসাৎ করে, কিয়ামতের দিন সাত তবক যমীনের শৃংখল তার গলায় পরিয়ে দেয়া হবে।

ইবনে আবুয যিনাদ রহ. হিশাম রহ. থেকে তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, তিনি (হিশামের পিতা উরওয়া) রা. বলেন, সাঈদ ইবনে যায়েদ রা. আমাকে বলেছেন, আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলাম (তখন তিনি এ হাদীস বর্ণনা করেন)।

বুখারি হাদিস নং ২৯৭২ – সূর্য ও চন্দ্র উভয়ে নির্ধারিত কক্ষপথে আবর্তন করে।

হাদীস নং ২৯৭২

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবু যার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় আবু যার রা.-কে বললেন, তুমি কি জান, সূর্য কোথায়? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, তা যেতে যেতে আরশের নীচে গিয়ে সিজদায় পড়ে যায়।

এরপর সে পুন: উদিত হওয়ার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেয়া হয়। আর অচিরেই এমন সময় আসবে যে, সিজদা করবে কিন্তু তা কবুল হবে না এবং সে অনুমতি চাইবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেওয়া হবে না।

তাকে বলা হবে, যে পথে এসেছ সে পথে ফিরে যাও। তখন সে পশ্চিম দিক হতে উদিত হবে। এটাই মর্ম হল মহান আল্লাহর বাণী: আর সূর্য গমন করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এটাই পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।(৩৬:৩৮)

বুখারি হাদিস নং ২৯৭৩

হাদীস নং ২৯৭৩

মুসাদ্দাদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন সূর্য ও চন্দ্র উভয়কে লেপটিয়ে দেওয়া হবে।

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯৭৪

হাদীস নং ২৯৭৪

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কারো মৃত্যু এবং জন্মের কারণে সূর্য গ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না, এ দুটো আল্লাহর নিদর্শনাবলির মধ্যে দুটি নিদর্শন মাত্র। অতএব যখন তোমরা তা সংঘটিত হতে দেখবে তখন সালাত আদায় করবে।

বুখারি হাদিস নং ২৯৭৫

হাদীস নং ২৯৭৫

ইসমাঈল ইবনে আবু উওয়াইস রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সূর্য এবং চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনাবলির মধ্যে দুটি নিদর্শন মাত্র।

কারো মৃত্যু এবং জন্মের কারণে সূর্য গ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। অতএব যখন তোমরা তা সংঘটিত হতে দেখবে তখন যিকির করবে।

বুখারি হাদিস নং ২৯৭৬

হাদীস নং ২৯৭৬

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, যেদিন সূর্যগ্রহণ হল, সেদিন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন। তারপর তাকবীর বললেন, এবং দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন।

তারপর দীর্ঘ রুকু করলেন এরপর তিনি মাথা উঠালেন এবং বললেন, ‘সামিআল্লাহু লিমান হামীদা’ এবং তিনি পূর্বের ন্যায় দাঁড়ালেন। আর দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন কিন্তু তা প্রথম কিরাআত থেকে কম ছিল। এরপর তিনি দীর্ঘক্ষণ রুকু করলেন কিন্তু তা প্রথম রাকআতের তুলনায় কম ছিল।

তারপর তিনি দীর্ঘ সিজদা করলেন। তিনি শেষ রাকআতেও অনুরূপই করলেন, পরে সালাম ফিরালেন। এ সময় সূর্য উজ্জ্বল হয়ে গিয়েছে। তখন তিনি লোকজনকে লক্ষ্য করে খুতবা দিলেন।

তিনি সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে বললেন, অবশ্য এ দুটো আল্লাহর নিদর্শনাবলির মধ্যে দুটি নিদর্শন মাত্র। কারো মৃত্যু এবং জন্মের কারণে সূর্য গ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না, অতএব যখন তোমরা তা সংঘটিত হতে দেখবে তখনই সালাতে ভয়-ভীতি নিয়ে ধাবিত হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৯৭৭

হাদীস নং ২৯৭৭

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………আবু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, সূর্য গ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কারো মৃত্যু এবং জন্মের কারণে হয় না বরং উভয়টি আল্লাহর নিদর্শনাবলির মধ্যে দুটি নিদর্শন মাত্র। অতএব যখন তোমরা তা সংঘটিত হতে দেখবে তখন সালাত আদায় করবে।

বুখারি হাদিস নং ২৯৭৮ – আল্লাহ তা’আলার বাণী: তিনিই আপন অনুগ্রহের পূর্বে সুসংবাদবাহী রূপে বায় প্রেরণ করেন( ২৫: ৪৮)।

হাদীস নং ২৯৭৮

আদম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পূবালী বায়ু দ্বারা আমাকে সাহায্য করা হয়েছে, আর পশ্চিমের বায়ু দ্বারা আদ জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২৯৭৯

হাদীস নং ২৯৭৯

মাক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আকাশে মেঘ দেখতেন, তখন একবার সামনে অগ্রসর হতেন, আবার পেছনে সরে যেতেন।

আবার কখনও ঘরে প্রবেশ করতেন, আবার বের হয়ে যেতেন আর তাঁর মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে যেত। পরে যখন আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করত তখন তাঁর এ অবস্থা কেটে যেত।

আয়িশা রা.-এর কারণ জানতে চাইলে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি জানিনা, এ মেঘ ঐ মেঘও হতে পারে যা দেখে আদ জাতি যেমন বলেছিল: এরপর যখন তারা তাদের উপত্যকার অভিমুখে উক্ত মেঘমালা অগ্রসর হতে দেখল।(৪৬:২৪)

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯৮০ – ফেরেশতার বিবরণ।

হাদীস নং ২৯৮০

হুদবা ইবনে খালিদ ও খলীফা (ইবনে খাইয়াত) রহ………..মালিক ইবনে সাসাআ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি কাবা ঘরের নিকট নিদ্রা ও জাগরণ-এ দু’অবস্থায় মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলাম।

এরপর তিনি দু’ব্যক্তির মাঝে অপর এক ব্যক্তি অর্থাৎ নিজের অবস্থা উল্লেখ করে বললেন, আমার নিকট স্বর্ণের একটি তশতরী নিয়ে আসা হল-যা হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ ছিল।

তারপর আমার বুক থেকে পেটের নীচ পর্যন্ত বিদীর্ণ করা হল। এরপর আমার পেট যমযমের পানি দ্বারা ধুয়ে ফেলা হল। তারপর তা হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ করা হল এবং আমার নিকট সাদা চতুষ্পদ জন্তু আনা, যা খচ্চর হতে ছোট আর গাধা থেকে বড় অর্থাৎ বুরাক।

এরপর তাতে আরোহণ করে আমি জিবরাঈল আ.. সহ চলতে চলতে পৃথিবীর নিকটতম আসমানে গিয়ে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা হল, এ কে? উত্তরে বলা হল, জিবরাঈল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে আর কে? উত্তর দেয়া হল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ।

প্রশ্ন করা হল তাকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাকে ধন্যবাদ, তাঁর শুভাগমণ কতই না উত্তম। তারপর আমি আমি আদম আ.-এর কাছে গেলাম। তাকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, পুত্র ও নবী ! তোমার প্রতি ধন্যবাদ।

এরপর আমরা দ্বিতীয় আসমানে, গেলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? তিনি বললেন, আমি জিবরাঈল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে আর কে?

তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। প্রশ্ন করা হল, তাকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাকে ধন্যবাদ আর তাঁর শুভাগমন কতইনা উত্তম। তারপর আমি ঈসা ও ইয়াহইয়া আ.-এর নিকট আসলাম। তাঁরা উভয়ে বললেন, ভাই ও নবী!

আপনার প্রতি ধন্যবাদ। তারপর আমরা তৃতীয় আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? উত্তরে বলা হল, আমি জিবরাঈল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম । প্রশ্ন করা হল, তাকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে?

তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাকে ধন্যবাদ আর তাঁর শুভাগমন কতইনা উত্তম। তারপর আমি ইউসুফ আ.-এর কাছে গেলাম। তাকে আমি করলাম। তিনি বললেন, ভাই ও নবী! আপনার প্রতি ধন্যবাদ। এরপর আমরা চতুর্থ আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে?

উত্তরে বলা হল, আমি জিবরাঈল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম । প্রশ্ন করা হল, তাকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাকে ধন্যবাদ আর তাঁর শুভাগমন কতইনা উত্তম। তারপর ইদ্রীছ আ.-এর কাছে গেলাম।

আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, ভাই ও নবী ! আপনাকে ধন্যবাদ। এরপর আমরা পঞ্চম আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? উত্তরে বলা হল, আমি জিবরাঈল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ।

প্রশ্ন করা হল, তাকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাকে ধন্যবাদ আর তাঁর শুভাগমন কতইনা উত্তম। তারপর আমরা হারুন আ.-এর কাছে গেলাম। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, ভাই ও নবী! আপনাকে ধন্যবাদ। তারপর আমরা ষষ্ঠ আসমানে পৌঁছলাম।

জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? উত্তরে বলা হল, আমি জিবরাঈল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম । প্রশ্ন করা হল, তাকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাকে ধন্যবাদ আর তাঁর শুভাগমন কতইনা উত্তম।

তারপর আমরা মূসা আ.-এর কাছে গেলাম। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, ভাই ও নবী ! আপনাকে ধন্যবাদ। তারপর যখন তাঁর কাছ দিয়ে অতিক্রম করলাম, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। তাকে বলা হল আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, হে রব! এ ব্যক্তি যে আমার পরে প্রেরিত, তাঁর উম্মাম আমার উম্মাতের চেয়ে অধিক পরিমাণে বেহশতে যাবে।

এরপর আমরা সপ্তম আকাশে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? উত্তরে বলা হল, আমি জিবরাঈল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বলা হল, তাকে ধন্যবাদ আর তাঁর শুভাগমন কতইনা উত্তম। তারপর আমি ইবরাহীম আ.-এর কাছে গেলাম। তাকে সালাম করলাম।

তিনি বললেন, হে পুত্র ও নবী! আপনাকে ধন্যবাদ। এরপর বায়তুল মামূরকেআমার সামনে প্রকাশ করা হল। আমি জিবরাঈল আ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, এটি বায়তুল মামূর। প্রতিদিন এখানে সত্তর হাজার ফেরেশতা সালাত আদায় করেন। এরা এখান থেকে একবারে বের হলে দ্বিতীয়বার ফিরে আসেন না।

এটাই তাদের শেষ প্রবেশ। তারপর আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা দেখানো দেখানো হল। দেখলাম, এর ফল যেন, হাজারা নামক স্থানের মটকার ন্যায়। আর তার পাতা যেন হাতীর কান। তার মূলদেশে চারটি ঝরণা প্রবাহিত। দুটি অভ্যন্তরে আর দুটি বাইরে। এ সম্পর্কে আমি জিবরাঈলকে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন, অভ্যন্তরের দুটি জান্নাতে অবস্থিত। আর বাইরের দুটির একটি হল ফুরাত আর অপরটি হল নীল নদ। তারপর আমার প্রতি পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়। আমি তা গ্রহণ করে মূসা আ.-এর কাছে ফিরে এলাম।

তিনি বললেন, কি করে এলেন? আমি বললাম, আমার প্রতি পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়েছে। তিনি বললেন, আমি আপনার চেয়ে মানুষ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত আছি। আমি বনী ইসরাঈলের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছি আর আপনার উম্মাত এত (সালাত আদায়ে) সমর্থ হবে না।

অতএব আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং তা কমানোর অনুরোধ করুন। আমি ফিরে গেলাম এবং তাঁর নিকট আবেদন করলাম। তিনি সালাত চল্লিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। পুনরায় অনুরূপ ঘটল। আর সালাতও ত্রিশ ওয়াক্ত করে দেয়া হল। পুনরায় অনুরূপ ঘটলে তিনি সালাত বিশ ওয়াক্ত করে দিলেন।

আবার অনুরূপ হল। তিনি সালাতকে দশ ওয়াক্ত করে দিলেন। এরপর আমি মূসা-এর কাছে আসলাম। তিনি পূর্বের ন্যায় বললেন, এবার আল্লাহ সালাতকে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয করে দিলেন। আমি মূসার নিকট আসলাম। তিনি বললেন, কি করে আসলেন? আমি বললাম, আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত ফরয করে দিয়েছেন।

এবারও তিনি পূর্বের ন্যায় বললেন, আমি বললাম, আমি তা মেনে নিয়েছি। তখন আওয়াজ এল, আমি আমার ফরয জারি করে দিয়েছি। আর আমার বান্দাদের থেকে হালকা করে দিয়েছি।

আর আমি প্রতিটি পূণ্যের জন্য দশগুণ সওয়াব দিব। আর বায়তুল মামূর সম্পর্কে হাম্মাম রহ……..আবু হুরায়রা রা. সূত্রে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

 

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯৮১

হাদীস নং ২৯৮১

হাসান ইবনে রাবী রহ……….যায়েদ ইবনে ওহাব রা. থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ রা. বলেন, সত্যবাদীরূপে স্বীকৃত রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, নিশ্চয় তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপকরণ নিজ নিজ মাতৃগর্ভে চল্লিশ দিন পর্যন্ত বীর্য রূপে অবস্থান করে, এরপর তা জমাট বাঁধা রক্তে পরিণত হয়।

অনুরূপভাবে চল্লিশ দিন অবস্থান করে। তারপর তা মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়ে (আগের ন্যায় চল্লিশ দিন) থাকে। এরপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন। আর তাকে চারটি বিষয় নির্দেশ দেওয়া হয়।

তাকে (ফেরেশতাকে) লিপিবদ্ধ করতে বলা হয়, তার আমল, তার রিযক, তার জীবনকাল এবং সে কি পাপী হবে না পূণ্যবান হবে। এরপর তার মধ্যে আত্ম ফুঁকে দেওয়া হয়। কাজেই তোমাদের কোন ব্যক্তি আমল করতে করতে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, তার এবং জান্নাতের মাঝে মাত্র একহাত ব্যবধান থাকে।

এমন সময় তার আমলনামা তার উপর অগ্রগামী হয়। তখন সে জাহান্নামবাসীর মত আমল করে আর একজন আমল করতে করতে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, তার এবং জাহান্নমের মাঝে মাত্র একহাত ব্যবধান থাকে, এমন সময় তার আমলনামা তার উপর অগ্রগামী হয়। ফলে সে জান্নাতবাসীর মত আমল করে।

বুখারি হাদিস নং ২৯৮২

হাদীস নং ২৯৮২

মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন তখন তিনি জিবরাঈল আ.-কে ডেকে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুক বান্দাহকে ভালবাসেন, অতএব তুমিও তাকে ভালবাস।

তখন জিবরাঈল আ.-ও তাকে ভালবাসেন এবং জিবরাঈল আ. আকাশবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন।

কাজেই তোমরা তাকে ভালবাস। তখন আকাশবাসী তাকে ভালবাসতে থাকে। এরপর পৃথিবীতেও তাকে গ্রহণ করার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

বুখারি হাদিস নং ২৯৮৩

হাদীস নং ২৯৮৩

মুহাম্মদ (ইবনে ইয়াহইয়া) রহ…………নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, ফেরেশতাগণ মেঘমালার আড়ালে অবতরণ করেন এবং আকাশে (আল্লাহর) মিমাংসা কৃত বিধান আলোচনা করেন।

তখন শয়তানেরা তা চুরি করে শোনার চেষ্টা করে এবং তার কিছু শোনেও ফেলে। এরপর তারা তা গণকের কাছে পৌঁছিয়ে দেয় এবং তারা তার সেই শোনা কথার সাথে নিজেদের পক্ষ থেকে শত মিথ্যা মিলিয়ে (মানুষের কাছে) বলে থাকে।

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯৮৪

হাদীস নং ২৯৮৪

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জুমুআর দিন হয় তখন মসজিদের প্রতিটি দরজায় ফেরেশতা এসে দাঁড়িয়ে যায় এবং যে ব্যক্তি প্রথম মসজিদে প্রবেশ করে, তার নাম লিখে নেয়।

তারপর পরবর্তীদের পর্যায়ক্রমে নাম। ইমাম যখন (মিম্বারে) বসে পড়েন তখন তারা এসব লিখিত পুস্তিকা বন্ধ করে দেন এবং তাঁরা মসজিদে এসে যিকর (খুতবা) শুনতে থাকেন।

বুখারি হাদিস নং ২৯৮৫

হাদীস নং ২৯৮৫

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা উমর রা. মসজিদে নববীতে আগমন করেন, তখন হাসসান ইবনে সাবিত রা. কবিতা আবৃত্তি করছিলেন।

(উমর রা. তাকে বাঁধা দিলেন) তখন তিনি বললেন, এখানে আপনার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি (রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপস্থিতিতেও আমি কবিতা আবৃত্তি করতাম।

তারপর তিনি আবু হুরায়রা রা.-এর দিকে তাকালেন এবং বললেন, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি; আপনি কি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, তুমি আমার পক্ষ থেকে জবাব দাও। হে আল্লাহ ! আপনি তাকে রুহুল কুদুস (জিবরাঈল আ.) দ্বারা সাহায্য করুন। তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ।

বুখারি হাদিস নং ২৯৮৬

হাদীস নং ২৯৮৬

হাফস ইবনে উমর রহ…………বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসসান রা.-কে বলেছেন, তুমি তাদের (কাফিরদের) কুৎসা বর্ণনা কর অথবা তাদের কুৎসার উত্তর দাও। তোমরা সাথে (সাহায্যার্থে) জিবরাঈল আ. আছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৯৮৭

হাদীস নং ২৯৮৭

ইসহাক রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যেন বানু গানমের গলিতে উর্ধ্বে উত্থিত ধূলা স্বয়ং দেখতে পাচ্ছি আর (রাবী) মূসা এতটুকু বাড়িয়ে বলেছেন, জিবরাঈলের বাহনের পদচালনা করান।

বুখারি হাদিস নং ২৯৮৮

হাদীস নং ২৯৮৮

ফারওয়াহ রহ…………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, হারিস ইবনে হিশাম রা. রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার নিকট ওহী কিরূপে আসে? তিনি বললেন, এর সব ধরনের ওহী নিয়ে ফেরেশতা আসেন।

কোন কোন সময় ঘন্টার আওয়াজের ন্যায় শব্দ করে (আসে) যখন ওহী আমার নিকট আসা শেষ হয়ে যায়, তখন তিনি যা বলেছেন আমি তা মুখস্থ করে ফেলি।

আর এরূপ শব্দ করে ওহী আসাটা আমার নিকট কঠিন মনে হয়। আর কখনও কখনও ফেরেশতা আমার কাছে মানুষের আকৃতিতে আসেন এবং আমার সাথে কথা বলেন। তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নেই।

বুখারি হাদিস নং ২৯৮৯

হাদীস নং ২৯৮৯

আদম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন কিছু জোড়ায় জোড়ায় দান করবে, তাকে জান্নাতের তত্ত্বাবধায়কগণ ডাকতে থাকবে, হে অমুক ব্যক্তি! এ দিকে আস।

তখন আবু বকর রা. বললেন, এমন ব্যক্তি সে তো এমন ব্যক্তি যার কোন ধ্বংস নেই। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আশা করি, তুমি তাদের একজন হবে।

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯৯০

হাদীস নং ২৯৯০

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, হে আয়িশা! এই যে জিবরাঈল আ. তোমাকে সালাম দিচ্ছেন।

তখন তিনি বললেন, তাঁর প্রতি সালাম আল্লাহর রহমত এবং তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আপনি তো এমন কিছু দেখেন যা আমি দেখতে পাই না।

বুখারি হাদিস নং ২৯৯১

হাদীস নং ২৯৯১

আবু নুআইম রহ. ও ইয়াহইয়া ইবনে জাফর রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈল আ.-কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি আমার নিকট যতবার আসেন তার চেয়ে বেশী আমার সাথে কেন দেখা করেন না?

রাবী বলেন, তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় : আর আমরা আপনার রবের নির্দেশ ব্যতীত আসতে পারি না। আমাদের সামনে এবং আমাদের পেছনে যা কিছু আছে সবই তাঁর নিয়ন্ত্রণে।

বুখারি হাদিস নং ২৯৯২

হাদীস নং ২৯৯২

ইসমাঈল রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জিবরাঈল আ. আমাকে এক আঞ্চলিক ভাষায় কুরআন পাঠ করে শুনিয়েছেন। কিন্তু আমি সর্বদা তাঁর নিকট অধিক ভাষায় পাঠ করে শুনাতে চাইতাম। অবশেষে তা সাতটি আঞ্চলিক ভাষায় সমাপ্ত হয়।

বুখারি হাদিস নং ২৯৯৩

হাদীস নং ২৯৯৩

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ…………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা দানশীল ছিলেন আর রমযান মাসে যখন জিবরাঈল আ. তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি আরো বেশী দানশীল হয়ে যেতেন।

জিবরাঈল আ. রমযানের প্রত্যেক রাতে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কুরআন পাঠ করে শুনাতেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে যখন জিবরাঈল আ. দেখা করতেন, তখন তিনি মানুষের কল্যাণে প্রেরিত বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল হতেন।

আবদুল্লাহ রহ. হতে বর্ণিত। মামার রহ. এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন আর আবু হুরায়রা রা. এবং ফাতিমা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে فيدارسه القرآن এর স্থলে أن جبريل كان يعارضه القرآن বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৯৯৪

হাদীস নং ২৯৯৪

কুতাইবা রহ……….ইবনে শিহাব রহ. থেকে বর্ণিত, একবার উমর ইবনে আবদুল আযীয রহ. আসরের সালাত কিছুটা দেরী করে আদায় করলেন। তখন তাকে উরওয়া রা. বললেন, একবার জিবরাঈল আ. আসলেন এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইমাম হয়ে সালাত আদায় করলেন।

তা শুনে উমর ইবনে আবদুল আযীয রহ. বললেন, হে উরওয়া ! কি বলছ, চিন্তা কর। উত্তরে তিনি বললেন, আমি বশীর ইবনে আবু মাসউদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, একবার জিবরাঈল আ. আসলেন, এরপর তিনি আমার ইমামতী করলেন এবং তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলাম।

এরপর আমি তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলাম। তারপরও আমি তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলাম। তারপরও আমি তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলাম। এ সময় তিনি তাঁর আঙ্গুলে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত গুনছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৯৯৫

হাদীস নং ২৯৯৫

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..আবু যার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একবার জিবরাঈল আ. আমাকে বললেন, আপনার উম্মাত থেকে যদি এমন ব্যক্তি মারা যায়, যে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করে নাই, তবে সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে কিংবা তিনি বলেছেন, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদিও সে যিনা করে এবং চুরি করে। জিবরাঈল আ. বললেন, যদিও (সে যিনা করে ও চুরি করে তবুও)।

বুখারি হাদিস নং ২৯৯৬

হাদীস নং ২৯৯৬

আবুল ইয়ামান রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফেরেশতাগণ একদলের পেছনে আর একদল আগমন করেন।

একদল ফেরেশতা রাতে আসেন আর একদল ফেরেশতা দিনে আগমন করেন। তাঁরা ফজর ও আসর সালাতে একত্রিত হয়ে থাকেন। তারপর যারা তোমাদের কাছে রাত্রি যাপন করেছিল তারা আল্লাহর কাছে উর্ধ্বে চলে যান। তখন তিনি তাদেরকে মানুষের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন।

অথচ তিনি তাদের চেয়ে এ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশী অবহিত আছেন। তখন তিনি বলেন, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কি অবস্থায় ছেড়ে এসেছ? উত্তরে তাঁরা বলেন, আমরা তাদের সালাতের অবস্থায় ছেড়ে এসেছি। আর আমরা তাদের কাছে সালাতের অবস্থাতেই পৌঁছেছিলাম।

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯৯৭ – যখন তোমাদের কেউ আমীন বলে, আর আসমানের ফেরেশতাগণ আমীন বলেন এবং একের আমীন অন্যের আমীনের সাথে উচ্চারিত হয়, তখন সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়।

হাদীস নং ২৯৯৭

মুহাম্মদ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য প্রাণীর ছবিযুক্ত মাঝখানে দাঁড়ালেন এবং তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল।

তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার কি অপরাধ হয়েছে? তিনি বললেন, এ বালিশটি কেন? আমি বললাম, এ বালিশটি আপনি এর উপর ঠেস দিয়ে বসতে পারেন আমি সে জন্য তৈরী করেছি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (হে আয়িশা রা.) তুমি কি জাননা?

যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে সেখানে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করেন না? আর যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি আঁকে তাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে? তাকে (আল্লাহ) বলবেন, তুমি যে প্রাণীর ছবি বানিয়েছ, এখন তাকে প্রাণ দান কর।

বুখারি হাদিস নং ২৯৯৮

হাদীস নং ২৯৯৮

ইবনে মুকাতিল রহ………আবু তালহা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ঘরে কুকুর থাকে আর প্রাণীর ছবি থাকে সে ঘরে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করেন না।

বুখারি হাদিস নং ২৯৯৯

হাদীস নং ২৯৯৯

আহমদ রহ……….আবু তালহা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে সে ঘরে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। বুসুর রহ. বলেন, এরপর যায়েদ ইবনে খালিদ রা. অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমরা তাঁর শুশ্রূষার জন্য গেলাম।

তখন আমরা তাঁর ঘরে একটি পর্দায় কিছু ছবি দেখতে পেলাম। তখন আমি (বুসুর) ওবায়দুল্লাহ খাওলানী রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কি আমাদের নিকট ছবি সম্পর্কীয় হাদীস বর্ণনা করেননি?

তখন তিনি বললেন, তিনি বলেছেন, প্রাণীর (ছবি নিষিদ্ধ) তবে কাপড়ের মধ্যে কিছু অংকন করা নিষিদ্ধ নয়, তুমি কি তা শুননি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি তা বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩০০০

হাদীস নং ৩০০০

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ……….সালিম রা. তাঁর পিতার নিকট হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, জিবরাঈল আ. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (সাক্ষাতের) ওয়াদা দিয়েছিলেন।

(কিন্তু তিনি সময় মত আসেননি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেন, আমরা ঐ ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে ছবি এবং কুকুর থাকে।

বুখারি হাদিস নং ৩০০১

হাদীস নং ৩০০১

ইসমাঈল রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইমাম যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামীদা’ বলবে তখন তোমরা বলবে ‘আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদু’। কেননা, যার এ উক্তি ফেরেশতাগণের উক্তির অনুরূপ হবে, তাঁর পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেয় হবে।

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩০০২

হাদীস নং ৩০০২

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতে রত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতাগণ এ বলে দু’আ করতে থাকে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করে দিন ; হে আল্লাহ! তার প্রতি রহম করুন। যতক্ষণ পর্যন্ত লোকটি সালাত ছেড়ে না দাঁড়াবে অথবা তার উযু ভঙ্গ না হবে।

বুখারি হাদিস নং ৩০০৩

হাদীস নং ৩০০৩

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..সাফওয়ান ইবনে ইয়ালা রা. তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বারে উঠে এ আয়াত তিলাওয়াত করতে শুনেছি “আর তারা ডাকল, হে মালিক!) (মালিক জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতার নাম) সুফিয়ান রহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর نادوا مالك ক্বিরাআতে স্থলে نادوا يا مال রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩০০৪

হাদীস নং ৩০০৪

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, একবার তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন, উহুদের দিনে চাইতে কঠিন কোন দিন কি আপনার উপর এসেছিল?

তিনি বললেন, আমি তোমার কওম থেকে যে বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, তা তো হয়েছি। তাদের থেকে সবচেয়ে বেশী কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, আকাবার দিন আম নিজেকে ইবনে আবদে ইয়ালীল ইবনে আবদের কলালের নিকট পেশ করেছিলাম। আমি যা চেয়েছিলাম, সে তার জবাব দেয়নি।

তখন আমি এমনভাবে বিষণ্ন চেহারা নিয়ে ফিরে এলাম যে, কারনুস সাআলিবে পৌঁছা পর্যন্ত আমার চিন্তা লাঘব হয়নি। তখন আমি মাথা উপরে উঠাইলাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম এক টুকরো মেঘ আমাকে ছায়া দিচ্ছে। আমি সে দিকে দৃষ্টি দিলাম। তার মধ্যে ছিলেন জিবরাঈল আ.।

তিনি আমাকে ডেকে বললেন, আপনার কওম আপনাকে যা বলেছে এবং তারা প্রতি উত্তরে যা বলেছে তা সবই আল্লাহ শুনছেন। তিনি আপনার কাছে পাহাড়ের ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন। এদের সম্পর্ক আপনার যা ইচ্ছে আপনি তাকে হুকুম দিতে পারেন। তখন পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে ডাকলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন।

তারপর বললেন, হে মুহাম্মদ! এসব ব্যাপার আপনার ইচ্ছাধীন। আপনি যদি চান, তাহলে আমি তাদের উপর আখশাবাইনক চাপিয়ে দিব।

উত্তরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বরং আমি আশা করি মহান আল্লাহ তাদের বংশ থেকে এমন সন্তান জন্ম দেবেন যে, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে আর তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না।

বুখারি হাদিস নং ৩০০৫

হাদীস নং ৩০০৫

কুতাইবা রহ……….আবু ইসহাক শায়বানী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যির ইবনে হুবাইস রা.-কে মহান আল্লাহর এ বাণী : “ফলে তাদের মধ্যে দু’ধনুকের পরিমাণ বা তার চেয়েও কম ব্যবধান রইল।

তখন আল্লাহ তার বান্দার প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন”। এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ইবনে মাসউদ রা. আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈল আ.-কে দেখেছেন। তাঁর ছয়শটি ডানা ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩০০৬

হাদীস নং ৩০০৬

হাফস ইবনে উমর রহ………..আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এ আয়াত : “নিশ্চয়ই তিনি তাঁর রবের মহান নিদর্শনাবলি দেখেছেন” এর মর্মার্থে বলেন, তিনি সবুজ বর্ণের রফরফ দেখেছেন, যা আকাশের দিগন্তকে ঢেকে রেখেছিল।

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩০০৭

হাদীস নং ৩০০৭

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইসমাঈল রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মনে করবে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবকে দেখেছেন, সে ব্যক্তি বিরাট ভুল করবে। বরং তিনি জিবরাঈল আ.-কে তাঁর আসল আকৃতি এবং অবয়বে দেখেছেন। তিনি আকাশের দিগন্ত জুড়ে অবস্থান করছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩০০৮

হাদীস নং ৩০০৮

মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ রহ……….মাসরূক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রা.কে আল্লাহর বাণী : “এরপর তিনি তার নিকটবর্তী হলেন, অতি নিকটবর্তী। ফলে তাদের মধ্যে দু’ধনুকের ব্যবধান অথবা তার চেয়েও কম”-এর মর্মার্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন, তিনি জিবরাঈল আ. ছিলেন। তিনি স্বভাবত মানুষের আকৃতিতে তাঁর কাছে আসতেন। কিন্তু এবার তিনি কাছে এসেছিলেন তাঁর মূল আকৃতি ধারণ করে। তখন তিনি আকাশের সম্পূর্ণ দিগন্ত ঢেকেছিলেন।

 

বুখারি হাদিস নং ৩০০৯

হাদীস নং ৩০০৯

মূসা রহ……….সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আজ রাতে আমি দেখেছি, দু’ব্যক্তি আমার কাছে এসেছে। তারা বলল, যে অগ্নি প্রজ্ব্বলিত করছিল সে হল, দোযখের দারোগা মালিক আর আমি হলাম জিবরাঈল এবং ইনি হলেন মীকাঈল।

বুখারি হাদিস নং ৩০১০

হাদীস নং ৩০১০

মুসাদ্দাদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তি যদি স্বীয় স্ত্রীকে নিজ বিছানায় আসতে ডাকেন আর সে অস্বীকার করে এবং সে ব্যক্তি স্ত্রীর উপর ক্ষোভ নিয়ে রাত যাপন করে, তবে ফেরেশতাগণ এমন স্ত্রীর উপর ভোর পর্যন্ত লানত দিতে থাকে।

শুবা, আবু হামযা, ইবনে দাউদ ও আবু মুআবিয়া রহ. আমাশ রহ থেকে হাদীস বর্ণনায় আবু আওয়ানা রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩০১১

হাদীস নং ৩০১১

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি (হেরা গুহায় ওহী নাযিলের পর) আমার থেকে কিছু দিনের জন্য ওহী বন্ধ হয়ে গেল।

(একদিন) আমি পথ চলতে ছিলাম। এরই মধ্যে আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। তখন আমি আকাশের প্রতি দৃষ্টি উঠাইলাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম, হেরা পর্বতের গুহায় আমার কাছে যে ফেরেশতা এসেছিলেন, তিনি আকাশ ও যমীনের মাঝখানে একটি কুরসীর উপর বসে আছেন।

আমি তাতে ভয় পেয়ে গেলাম, এমনকি মাটিতে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলাম। তারপর আমি পরিবার-পরিজনের কাছে আসলাম এবং বললাম, আমাকে কম্বল দ্বারা আবৃত কর, আমাকে কম্বল দ্বারা আবৃত কর।

তখন মহান আল্লাহর তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেন : يا أيها المدثر “হে বস্ত্রাচ্ছাদিত। উঠ, সতর্কবাণী প্রচার কর………অপবিত্রতা থেকে দূরে থাক। (৭৪: ১-৫) আবু সালামা রা. বলেন, অত্র আয়াতে الرجز দ্বারা প্রতিমা বুঝানো হয়েছে।

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩০১২

হাদীস নং ৩০১২

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার ও খলীফা রহ……… নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মিরাজের রাত্রিতে আমি মূসা আ.-কে দেখেছি। তিনি গোধুম বর্ণের পুরুষ ছিলেন ; দেহের গঠন ছিল লম্বা।

মাথার চুল ছিল কুঞ্চিত। যেন তিনি শানূআ গোত্রের একজন লোক। আমি ঈসা আ.-কে দেখতে পাই। তিনি ছিলেন মধ্যম গঠনের লোক। তাঁর দেহবর্ণ ছিল সাদা লালে মিশ্রিত।

তিনি ছিলেন মধ্যম অবয়ব বিশিষ্ট। মাথার চুল ছিল অকুঞ্চিত। জাহান্নামের খাজাঞ্চি মালিক এবং দাজ্জালকেও আমি দেখেছি। (সে রাতে) আল্লাহ তা’আলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিশেষ করে যে সকল নিদর্শনাবলি দেখিয়েছেন তন্মধ্যে এগুলোও ছিল।

সুতরাং তাঁর সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে তুমি সন্দেহ পোষণ করবে না। আনাস এবং আবু বকরা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, ফেরেশতাগণ মদীনাকে দাজ্জাল থেকে পাহারা দিয়ে রাখবেন।

আরও পড়ুনঃ

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

শাহাদাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

শাহাদাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

সন্ধি অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

মন্তব্য করুন