সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ২য় পার্ট – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায়

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ২য় পার্ট - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

Table of Contents

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ২য় পার্ট – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩০১৩ – জান্নাতের বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা আর তা সৃষ্টবস্তু।

হাদীস নং ৩০১৩

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মারা যায় তখন সকাল-সন্ধ্যায় তার পরকালের আবাসস্থল তার কাছে পেশ করা হয়।

সে যদি জান্নাতবাসী হয় তবে তাকে জান্নাতবাসীর আবাসস্থল আর যদি সে জাহান্নামবাসী হয় তবে তাকে জাহান্নামবাসীর আবাসস্থল দেখানো হয়।

বুখারি হাদিস নং ৩০১৪

হাদীস নং ৩০১৪

আবুল ওয়ালীদ রহ……….ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি জান্নাতের অধিবাসী সম্পর্কে অবহিত হয়েছি।

আমি জানতে পারলাম, জান্নাতে অধিকাংশ অধিবাসী হবে গরীব লোক। জাহান্নামীদের সম্পর্কে অবহিত হয়েছি, আমি জানতে পারলাম, এর অধিকাংশ অধিবাসী মহিলা।

বুখারি হাদিস নং ৩০১৫

হাদীস নং ৩০১৫

সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নিদ্রিত ছিলাম। দেখলাম আমি জান্নাতে অবস্থিত। হঠাৎ দেখলাম এক মহিলা একটি প্রাসাদের পাশে উযু করছে।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ প্রাসাদটি কার? তারা উত্তরে বললেন, উমরের। তখন তাঁর (উমরের) আত্মমর্যাদাবোধের কথা আমার স্মরণ হল। আমি পেছনের দিকে ফিরে চলে আসলাম।

একথা শুনে উমর রা. কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার সম্মুখে কি আমার মর্যাদাবোধ থাকতে পারে?

বুখারি হাদিস নং ৩০১৬

হাদীস নং ৩০১৬

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (জান্নাতে মুমিনদের জন্য) গুণগত মোতির তাঁবু থাকবে যার উচ্চতার দৈর্ঘ্য ত্রিশ মাইল।

এর প্রতিটি কোনে মুমিনদের জন্য এমন স্ত্রী থাকবে যাদেরকে অন্যরা কখনো দেখেনি। আবু আবদুস সামাদ ও হারিস ইবনে উবায়দ আবু ইমরান রহ. থেকে (ত্রিশ মাইলের স্থলে) ষাট মাইল বলে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩০১৭

হাদীস নং ৩০১৭

হুমাইদী রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেছেন, আমি আমার পূণ্যবান বান্দাদের জন্য এমন জিনিস তৈরী করে রেখেছি, যা কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং যার সম্পর্কে কোন মানুষের মনে ধারণাও জন্মেনি।

তোমরা চাইলে এ আয়াতটি পাঠ করতে পার, “কেউ জানেনা, তাদের জন্য তাদের চোখ জুড়ানো কি জিনিস লুকায়িত রাখা হয়েছে”। (৩২ : ১৩)

বুখারি হাদিস নং ৩০১৮

হাদীস নং ৩০১৮

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে প্রথম প্রবেশকারী দলের আকৃতি পূর্ণিমা রাতের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। তারা সেখানে থুথু ফেলবে না, নাক ঝড়বে না, পায়খানা করবে না।

সেখানে তাদের পাত্র হবে স্বর্ণের ; তাদের চিরুনী হবে স্বর্ণ ও রৌপ্যের, তাদের ধুনুচিত থাকবে সুগন্ধ কাঠ। তাদের গায়ের ঘাম মিসকের ন্যায় সুগন্ধযুক্ত হবে।

তাদের প্রত্যেকের জন্য এমন দুজন স্ত্রী থাকবে যাদের সৌন্দর্যের ফলে গোশত ভেদ করে পায়ের নলার হাড়ের মজ্জা দেখা যাবে।

তাদের মধ্যে কোন মতভেদ থাকবে না; পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। তাদের সকলের অন্তর এক অন্তরের মত থাকবে। তারা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করতে থাকবে।

বুখারি হাদিস নং ৩০১৯

হাদীস নং ৩০১৯

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা পূর্ণিমা রাতে চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল আকৃতি ধারণ করবে আর তাদের পর যারা প্রবেশ করবে তারা অতি উজ্জ্বল তারকার মত রূপ ধারণ করবে।

তাদের অন্তরগুলো এক ব্যক্তির অন্তরের মত হয়ে থাকবে। তাদের মধ্যে কোনরূপ মতভেদ থাকবে না আর পরষ্পর হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। তাদের প্রত্যেকের দু’জন করে স্ত্রী থাকবে। সৌন্দর্যের ফলে গোশত ভেদ করে পায়ের নলাস্থিত মজ্জা দেখা যাবে। তারা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করবে।

তারা অসুস্থ হবে না, নাক ঝাড়বে না, থুথু ফেলবে না। তাদের পাত্রসমূহ হবে স্বর্ণ ও রৌপ্যের আর চিরুনীসমূহ হবে স্বর্ণের। তাদের ধুনুচিতে থাকবে সুগন্ধ কাঠ। আবুল ইয়ামান রহ . বলেন, অর্থাৎ কাঠ।

তাদের গায়ের ঘাম মিসকের ন্যায় সুগন্ধযুক্ত হবে। মুজাহিদ রহ. বলেন, البكار অর্থ উষাকালের প্রথম অংশ العشي অর্থ সূর্য ঢলে পড়ার সময় হতে তার অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত সময়কাল।

বুখারি হাদিস নং ৩০২০

হাদীস নং ৩০২০

মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর মুকাদ্দামী রহ…………সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মাতের সত্তর হাজার লোক অথবা (বলেছেন) সাত লক্ষ লোক একই সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের কেউ আগে পেছনে এভাবে নয় আর তাদের মুখমণ্ডল পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মত উজ্জ্বল থাকবে।

বুখারি হাদিস নং ৩০২১

হাদীস নং ৩০২১

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ জুফী রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি রেশমী জুব্বা হাদীয়া দেয়া হল।

অথচ তিনি রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন; লোকেরা (এর সৌন্দর্যের করণে) তা খুব পছন্দ করল। তখন তিনি বললেন, ঐ সত্তার কসম! যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, অবশ্যই জান্নাতে সাদ ইবনে মুআযের রুমাল এর চেয়েও অধিক সুন্দর হবে।

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ২য় পার্ট - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩০২২

হাদীস নং ৩০২২

মুসাদ্দাদ রহ………..বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একখানা রেশমী কাপড় আনা হল।

লোকজন এর সৌন্দর্য এবং কমনীয়তার কারণে তা খুব পছন্দ করতে লাগল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অবশ্যই জান্নাতে সাদ ইবনে মুআযের রুমাল এর চেয়েও অধিক উত্তম হবে।

বুখারি হাদিস নং ৩০২৩

হাদীস নং ৩০২৩

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে চাবুক পরিমাণ সামান্যতম স্থানও দুনিয়া এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়েও উত্তম।

বুখারি হাদিস নং ৩০২৪

হাদীস নং ৩০২৪

রাওহ ইবনে আবদুল মুমিন রহ………….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে এমন একটি বৃক্ষ আছে, যার ছায়ায় কোন আরোহী একশ বছর পর্যন্ত চললেও তা অতিক্রম করতে পারবে না।

বুখারি হাদিস নং ৩০২৫

হাদীস নং ৩০২৫

মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে এমন একটি বৃক্ষ আছে, যার ছায়ায় কোন আরোহী একশ বছর পর্যন্ত চললে পারবে।

আর তোমরা ইচ্ছা করলে (কুরআনের এ আয়াত) তিলাওয়াত করতে পার وظل ممدود এবং দীর্ঘ ছায়া। আর জান্নাতে তোমাদের কারও একটি ধনুকের পরিমাণ জায়গাও ঐ জায়গার চেয়ে অনেক উত্তম যেখানে সূর্যোদয় হয় এবং সূর্যাস্ত যায় (অর্থাৎ পৃথিবীর চেয়ে)।

বুখারি হাদিস নং ৩০২৬

হাদীস নং ৩০২৬

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা পূর্ণিমা রাতে চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল আকৃতি ধারণ করবে আর তাদের পর যারা প্রবেশ করবে তারা অতি উজ্জ্বল তারকার অধিক হবে।

তাদের অন্তরগুলো এক ব্যক্তির অন্তরের মত হয়ে থাকবে। তাদের মধ্যে থাকবে না কোনরূপ বিদ্বেষ আর থাকবে না কোন হিংসা । তাদের প্রত্যেকের জন্য ডাগর ডাগর চোখ বিশিষ্ট দু’জন করে স্ত্রী এমন থাকবে, যাদের পায়ের নলার মজ্জা হাঁড় ও গোশত ভেদ করে দেখা যাবে।

বুখারি হাদিস নং ৩০২৭

হাদীস নং ৩০২৭

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ……….বারা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এর ছেলে) ইবরাহীম রা. ইন্তিকাল করেন, তখন তিনি বলেন, জান্নাতে এর জন্য একজন ধাত্রী রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩০২৮

হাদীস নং ৩০২৮

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই জান্নাতবাসীগণ তাদের উপরের বালাখানার অধিবাসীদের এমনভাবে দেখতে পাবে, যেমন তোমরা আকাশের পূর্ব অথবা পশ্চিম দিগন্তে উজ্জ্বল দীপ্তমান তারকা দেখতে পাও।

এটা হবে তাদের মধ্যে মর্যাদার ব্যবধানের কারণে। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ তো নবীগণের জায়গা। তাদের ছাড়া অন্যরা তথায় পৌঁছতে পারবে না।

তিনি বললেন, হ্যাঁ, সে সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, যেসব লোক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে এবং রাসূলগণকে সত্য বলে স্বীকার করবে (তারা সেখানে পৌঁছতে পারবে)।

বুখারি হাদিস নং ৩০২৯ – জান্নাতের দরজাসমূহের বিবরণ।

হাদীস নং ৩০২৯

সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ………..সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জান্নাতে আটটি দরজা থাকবে। তন্মধ্যে একটি দরজার নাম হবে রাইয়্যান। একমাত্র রোযাদারগণই এ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবেন।

বুখারি হাদিস নং ৩০৩০ – জাহান্নামের বিবরণ আর তা সৃষ্টবস্তু।

হাদীস নং ৩০৩০

আবুল ওয়ালীদ রহ………..আবু যার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সফরে ছিলেন, তখন (যুহরের সালাতের ওয়াক্ত হল) তিনি বললেন, ঠাণ্ডা হতে দাও।

পুনরায় বললেন, টিলাগুলোর ছায়া নীচে নেমে আসা পর্যন্ত ঠাণ্ডা হতে দাও। আবার বললেন, (যুহরের) সালাত ঠাণ্ডা হলে পরে আদায় করবে। কেননা, গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপ থেকে হয়ে থাকে।

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ২য় পার্ট - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩০৩১

হাদীস নং ৩০৩১

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ………….আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, সালাত (রৌদ্রের উত্তাপ) ঠাণ্ডা হলে পরে আদায় করবে। কেননা, গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপ থেকে হয়ে থাকে।

বুখারি হাদিস নং ৩০৩২

হাদীস নং ৩০৩২

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জাহান্নাম তার রবের নিকট অভিযোগ করে বলেছে, হে রব! আমার এক অংশ অপর অংশকে খেয়ে ফেলেছে।

তখন তিনি তাকে দুটি নিঃশ্বাস ছাড়ার অনুমতি প্রদান করেন। একটি নিঃশ্বাস শীতকালে আর একটি নিঃশ্বাস গ্রীষ্মকালে। অতএব তোমরা যে শীতের তীব্রতা পেয়ে থাক। (তা নিঃশ্বাসের প্রভাব)।

বুখারি হাদিস নং ৩০৩৩

হাদীস নং ৩০৩৩

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………….আবু জামরা যুবায়ী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মক্কায় ইবনে আব্বাস রা.-এর কাছে বসতাম। একবার আমি জ্বরে আক্রান্ত হই।

তখন তিনি আমাকে বললেন, তুমি তোমার গায়ের জ্বর যমযমের পানি দ্বারা শীতল কর। কেননা, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটা দোযখের উত্তাপ হতেই হয়ে থাকে।

অতএব তোমরা তা পানি দ্বারা ঠাণ্ডা কর অথবা বলেছেন, যমযমের পানি দ্বারা ঠাণ্ডা কর। (এর কোনটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন) এ বিষয়ে বর্ণনাকারী হাম্মাম সন্দেহ পোষণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩০৩৪

হাদীস নং ৩০৩৪

আমর ইবনে আব্বাস রহ………..রাফি ইবনে খাদিজ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, জ্বরের উৎপত্তি জাহান্নামের প্রচণ্ড উত্তাপ হতে । অতএব তোমাদের গায়ের সে তাপ পানি দ্বারা ঠাণ্ডা কর।

বুখারি হাদিস নং ৩০৩৬

হাদীস নং ৩০৩৬

মুসাদ্দাদ রহ………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জ্বরের উৎপত্তি জাহান্নামের প্রচণ্ড উত্তাপ হতে । অতএব তোমাদের গায়ের সে তাপ পানি দ্বারা ঠাণ্ডা কর।

বুখারি হাদিস নং ৩০৩৭

হাদীস নং ৩০৩৭

ইসমাঈল রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, তোমাদের (ব্যবহৃত) আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের একভাগ মাত্র।

বলা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জাহান্নামের শাস্তির জন্য দুনিয়ার আগুনই তো যথেষ্ট ছিল। তিনি বললেন, দুনিয়ার আগুনের উপর জাহান্নামের আগুনের তাপ আরো ঊনসত্তর গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, প্রত্যেক অংশে তার সমপরিমাণ উত্তাপ রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩০৩৮

হাদীস নং ৩০৩৮

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ…………ইয়ালা রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বারে আরোহণ করে তিলাওয়াত করতে শুনেছেন, “আর তারা ডাকবে, হে মালিক”। (মালিক জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়কের নাম)।

বুখারি হাদিস নং ৩০৩৯

হাদীস নং ৩০৩৯

আলী রহ………….আবু ওয়াইল রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উসামা রা.-কে বলঅ হল, কত ভাল হত ! যদি আপনি ঐ ব্যক্তির (উসমান রা.-এর কাছে যেতেন এবং তাঁর সঙ্গে (বিদ্রোহ দমনের বিষয়ে) আলোচনা করতেন।

উত্তরে তিনি বললেন, আপনারা মনে করছেন যে, আমি তাঁর সঙ্গে (বিদ্রোহ দমনের ব্যাপারে) আপনাদেরকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলব। অথচ আমি তাঁর সাথে (দাঙ্গা দমনের ব্যাপারে) গোপনে আলোচনা করছি, যেন আমি একটি দ্বার খুল না বসি। (এ বিদ্রোহের) আমি দ্বার উন্মক্ত কারীর প্রথম ব্যক্তি হতে চাইনা।

আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছু শুনেছি, যার পরে আমি কোন ব্যক্তিকে যিনি আমাদের আমীর নির্বাচিত হয়েছেন সেজন্য তিনি আমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তি এ কথা বলতে পারি না।

লোকেরা তাকে বলল, আপনি তাকে কি বলতে শুনেছেন? উসামা রা. বললেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন এক ব্যাক্তিকে আনয়ন করা হবে। এরপর তাকে জাহান্নামে ফেলে দেয়া হবে।

তখন আগুনে পুড়ে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাবে। এ সময় সে এমনভাবে ঘুরতে থাকবে যেমন গাধা তার চাকা নিয়ে তার চারপাশে ঘুরতে থাকে।

তখন জাহান্নামবাসীর তার কাছে একত্রিত হয়ে তাকে বলবে, হে অমুক ব্যক্তি ! তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি না আমাদিগকে সৎকাজের আদেশ করতে আর অন্যায় কাজ হতে নিষেধ করতে?

সে বলবে, আমি তোমাদেরকে সৎকাজে আদেশ করতাম বটে, কিন্তু আমি তা করতাম না আর আমি তোমাদেরকে অন্যায় কাজ হতে নিষেধ করতাম, অথচ আমিই তা করতাম। এ হাদীসটি গুনদার রহ. শুবা রহ. সূত্রে আমাশ রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩০৪০ – ইবলিস ও তার বাহিনীর বর্ণনা।

হাদীস নং ৩০৪০

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যাদু করা হয়েছিল। লায়স রহ. বলেন, আমার নিকট হিশাম পত্র লিখেন, তাঁতে লেখা ছিল যে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে আয়িশা রা. থেকে হাদীস শুনেছেন এবং তা ভাল করে মুখস্থ করেছন।

আয়িশা রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যাদু করা হয়। এমনকি যাদুর প্রভাবে তাঁর খেয়াল হত যে, তিনি স্ত্রীগণের বিষয়ে কোন কাজ করে ফেলেছেন অথচ তিনি তা করেননি।

শেষ পর্যন্ত একদিন তিনি রোগ আরোগ্যর জন্য বারবার দু’আ করলেন, এরপর তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি জান? আল্লাহ আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন, যাতে আমার রোগের আরোগ্য নিহিত আছে? আমার একজন অপরজনকে জিজ্ঞাসা করল, এ ব্যক্তির রোগটা কি? জিজ্ঞাসিত লোকটি জবাব দিল, তাকে যাদু করা হয়েছে।

প্রথম লোকটি বলল, তাকে যাদু কে করল? সে বলল, লবীদ ইবনে আসাম। প্রথম ব্যক্তি বলল, কিসের দ্বারা (যাদু করল) ? দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, তাকে যাদু করা হয়েছে চিরুনি, সুতার তাগা এবং খেজুরের খোসায়। প্রথম ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, এগুলো কোথায় আছে? দ্বিতীয় ব্যক্তি জবাব দিল, যারওয়ার কূপে।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে গেলেন এবং ফিরে আসলেন, এরপর তিনি আয়িশা রা.-কে বললেন, কূপের কাছের খেজুর গাছগুলো যেন এক একটা শয়তানের মুক্ত।

তখন আমি (আয়িশা) জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি সেই যাদু করা জিনিসগুলো বের করতে পেরেছেন? তিনি বলেন, না। তবে আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দিয়েছেন।

আমার আশংকা হয়েছিল এসব জিনিস বের করলে মানুষের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টি হতে পারে। এরপর সেই কূপটি বন্ধ করে দেয়া হল।

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ২য় পার্ট - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩০৪১

হাদীস নং ৩০৪১

ইসমাঈল ইবনে আবী উআইস রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন নিদ্রা যায় তখন শয়তান তার মাথার শেষাংশে তিনটি করে গিরা দিয়ে দেয়।

প্রত্যেক গিরার সময় এ কথা বলে কুমন্ত্রণা দেয় যে, এখনো অধিক রাত রয়ে গেছে, অতএব শুয়ে থাক। এরপর সে লোক যদি জেগে উঠে এবং আল্লাহকে স্মরণ করে তখন একটি খুলে যায়।

(অলসতা দূর হয়) তারপর যদি সে উযু করে তবে দ্বিতীয় গিরাও খুলে যায় (এটা অপবিত্রতার গিরা)। আর যদি সে সালাত আদায় করে তবে সব কয়টি গিরাই খুলে যায়।

আর এ ব্যক্তি খুশীর সাথে পবিত্র মনে ভোর উদযাপন করবে, অন্যথায় সে অপবিত্র মনে অলসতার সাথে ভোর উদযাপন করবে।

বুখারি হাদিস নং ৩০৪২

হাদীস নং ৩০৪২

উসমান ইবনে আবু শাইবা রহ………..আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এমন এক ব্যক্তির সম্পর্কে উল্লেখ করা হল, যে সারা রাত এমনকি ভোর পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিল। তখন তিনি বললেন, সে এমন এক ব্যক্তি যার উভয় কানে অথবা তিনি বললেন, তার কানে শয়তান পেশাব করেছে।

বুখারি হাদিস নং ৩০৪৩

হাদীস নং ৩০৪৩

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দেখ, তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর নিকট আসে, আর তখন বলে, বিসমিল্লাহ।

হে আল্লাহ ! আমাদেরকে শয়তানের প্রভাব হতে দূরে রাখ। আর আমাদেরকে যে সন্তান দান করবে তাকেও শয়তানের প্রভাব হতে বাঁচিয়ে রাখ। এরপর তাদেরকে যে সন্তান দান করা হবে তাকে শয়তান কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

বুখারি হাদিস নং ৩০৪৪

হাদীস নং ৩০৪৪

মুহাম্মদ (ইবনে সালাম) রহ………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন সূর্যের এক কিনারা উদিত হয়, তখন তা পরিষ্কারভাবে উদিত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা সালাত আদায় বন্ধ রাখ।

আবার যখন সূর্যের এক কিনারা অস্ত যাবে তখন তা সম্পূর্ণ অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত তোমরা সালাত আদায় করা বন্ধ রাখ। কেননা তা শয়তানের দু’শিং-এর মাঝখানে দিয়ে উদিত হয়। বর্ণনাকারী বলেন, হিশাম রহ. কি শয়তান বলেছেন না আশ-শয়তান বলেছেন তা আমি জানি না।

 

বুখারি হাদিস নং ৩০৪৫

হাদীস নং ৩০৪৫

আবু মামার রহ…………..আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়ের সময় তোমাদের কারো মুখ দিয়ে যখন কেউ চলাচল করবে তখন সে তাকে অবশ্যই বাঁধা দিবে। সে যদি অমান্য করে তাবে আবারো তাকে বাধা দিবে। এরপরও যদি সে অমান্য করে তবে অবশ্যই তার সাথে লড়াই করবে।

কেননা সে শয়তান। উসমান ইবনে হাইসাম রহ………আবু হুয়রারা রা. থেকে বর্ণিত, বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রমযানের যাকাত (সাদকায়ে ফিতরের) হেফাজতের দায়িত্ব প্রদান করলেন। এরপর আমার নিকট এক আগন্তুক আসল।

সে তার দুহাতের কোষ ভরে খাদ্যশস্য গ্রহণ করতে লাগল। তখন আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম, আমি অবশ্যই তোমাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে যাব। তখন সে একটি হাদীস উল্লেখ করল এবং বলল, যখন তুমি বিছানায় শুতে যাবে, তখন আয়তুল কুরসী পড়বে ।

তাহলে সর্বদা আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য একজন হেফাজতকারী থাকবে এবং ভোর হওয়া পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,সে তোমাকে সত্য বলেছে, অথচ সে মিথ্যাবাদী এবং শয়তান ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩০৪৬

হাদীস নং ৩০৪৬

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারো কাছে শয়তান আসতে পারে এবং সে বলতে পারে, এ বস্তু কে সৃষ্টি করেছে?

ঐ বস্তু কে কে সৃষ্টি করেছে? এরূপ প্রশ্ন করতে করতে শেষ পর্যন্ত বলে বসবে, তোমার প্রতিপালক কে কে সৃষ্টি করেছে? যখন বিষয়টি এ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে তখন সে যেন অবশ্যই আল্লাহর কাছে পানাহ চায় এবং বিরত হয়ে যায়।

 

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ২য় পার্ট - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ডবুখারি হাদিস নং ৩০৪৭

হাদীস নং ৩০৪৭

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন রমযান মাস আরম্ভ হয়, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় আর শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

বুখারি হাদিস নং ৩০৪৮

হাদীস নং ৩০৪৮

হুমাইদী রহ…………উবাই ইবনে কাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, মূসা আ. তাঁর সঙ্গীকে বললেন, আমাদের সকালের খাবার নিয়ে এসো।

সে বলল, আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন পাথরটির কাছে বিশ্রাম করছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? শয়তানই এর কথা বলতে ভুলিয়ে দিয়েছিল (১৮:৬২, ৬৩)।

আল্লাহ তা’আলা মূসা আ.-কে যে স্থানটি সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছিলেন, সে স্থানটি অতিক্রম করা পর্যন্ত তিনি কোনরূপ ক্লান্তিবোধ করেননি।

বুখারি হাদিস নং ৩০৪৯

হাদীস নং ৩০৪৯

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, তিনি পূব দিকে ইশারা করে বলেছেন, সাবধান‍! ফিতনা এখানেই। সাবধান! ফিতনা এখানেই । যেখান হতে শয়তানের শিং উদিত হবে।

বুখারি হাদিস নং ৩০৫০

হাদীস নং ৩০৫০

ইয়াহইয়া ইবনে জাফর রহ………..জাবির রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সূর্যাস্তের পরপরই যখন রাত শুরু হয় অথবা বলেছেন, যখন রাতের অন্ধকার নেমে আসে তখন তোমরা তোমাদের শিশুদেরকে ঘরে আটকে রাখবে।

কেননা এ সময় শয়তানেরা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যখন রাতের কিছু অংশ চলে যাবে তখন তাদের ছেড়ে দিতে পার আর তুমি তোমার ঘরের দরজা বন্ধ করে দাও এবং আল্লাহর নাম স্মরণ কর।

তোমাদের ঘরের বাতি নিভিয়ে দাও এবং আল্লাহর নাম স্মরণ কর। তোমার পানি রাখার পাত্রের মুখ বন্ধ রাখ এবং আল্লাহর নাম স্মরণ কর। তোমার বাসনপত্র ঢেকে রাখ এবং আল্লাহর নাম স্মরণ কর। সামান্য কিছু হলেও তার উপর দিয়ে রেখে দাও।

 

বুখারি হাদিস নং ৩০৫১

হাদীস নং ৩০৫১

মুহাম্মদ ইবনে গায়লান রহ………..সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে নববীতে) ইতিকাফ অবস্থায় ছিলেন। আমি রাতে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসলাম। এরপর তাঁর সাথে কিছু কথাবার্তা বললাম। তারপর আমি ফিরে আসার জন্য দাঁড়ালাম।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও আমাকে পৌঁছে দেয়ার জন্য আমার সাথে উঠে দাঁড়ালেন। আর তাঁর (সাফিয়্যার) বাসস্থান ছিল উসামা ইবনে যায়েদের বাড়ীতে ।

এ সময় দু’জন আনসারী সে স্থান দিয়ে অতিক্রম করল। তারা যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখল তখন তারা তাড়াতাড়ি চলে যেতে লাগল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা একটু অপেক্ষা কর। এ মহিলাটি (আমার স্ত্রী) সফিয়্যা বিনতে হুয়াই।

তারা বললেন, সুবহানাল্লাহ! ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমরা কি আপনার ব্যঅপারে অন্যরূপ ধারণা করতে পারি?) তিনি বললেন, মানুষের শরীরে রক্তধারায় শয়তান প্রবাহমান থাকে। আমি আশংকা করছিলাম, সে তোমাদের মনে কোন খারাপ ধারণা অথবা বললেন, অন্যকিছু সৃষ্টি করে না কি।

বুখারি হাদিস নং ৩০৫২

হাদীস নং ৩০৫২

আবদান রহ………..সুলাইমান ইবনে সুরাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বসা ছিলাম। তখন দু’জন লোক পরস্পর গালমন্দ করছিল।

তাদের একজনের চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিল এবং তার রগগুলো ফুলে গিয়েছিল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এমন একটি দু’আ জানি, যদি এ লোকটি তা পড়ে তবে সে যে রাগ অনুভব করছে তা দূর হয়ে যাবে।

(তিনি বললেন) সে যদি পড়ে: ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তান’- আমি শয়তান হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। তবে তার রাগ চলে যাবে। তখন তাকে বলল, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি যেন আল্লাহর কাছে শয়তান হতে আশ্রয় চাও। সে বলল, আমি কি পাগল হয়েছি?

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ২য় পার্ট - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩০৫৩

হাদীস নং ৩০৫৩

আদম রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর নিকট গমন করে এবং বলে, হে আল্লাহ! আমাকে শয়তান হতে রক্ষা কর আর আমাকে এ দ্বারা যে সন্তান দিবে তাকেও শয়তানের প্রভাব হতে হেফাজত কর।

তাহলে যদি তাদের কোন সন্তান জন্মায়, তবে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না এবং তার উপর কোন কর্তৃত্বও চলবে না। আসমা রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

বুখারি হাদিস নং ৩০৫৪

হাদীস নং ৩০৫৪

মাহমুদ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন। তারপর বলবেন, শয়তান আমার সামনে এসেছিল।

সে আমার সালাত নষ্ট করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আল্লাহ আমাকে তার উপর কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। তারপর পূর্ণাঙ্গ হাদীসটি উল্লেখ করেন।

বুখারি হাদিস নং ৩০৫৫

হাদীস নং ৩০৫৫

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন সালাতের উদ্দেশ্যে আযান দেওয়া হয় তখন শয়তান (আযানের স্থান) সশব্দে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালাতে থাকে। আযান শেষ হলে সামনে এগিয়ে আসে।

আবার যখন (সালাতের জন্য) ইকামত দেওয়া হয় তখন আবার পালাতে থাকে। ইকামত শেষ হলে আবার সামনে আসে এবং মানুষের মনে খটকা সৃষ্টি করতে থাকে আর বলতে থাকে অমুক অমুক বিষয় মনে কর।

এমনকি সে ব্যক্তি আর স্মরণ রাখতে পারে না যে, সে কি তিন রাকআত পড়ল না চার রাকআত পড়ল। এমন যদি কারো হয়ে যায়, সে মনে রাখতে পারে না কি তিন রাকআত পড়েছে না চার রাকআত ? তবে সে যেন দুটি সাহু সিজদা করে।

বুখারি হাদিস নং ৩০৫৬

হাদীস নং ৩০৫৬

আবুল ইয়ামান রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক আদম সন্তানের জন্মের সময় তার পার্শ্বদেশে শয়তান তার উপর আঙ্গুল দ্বারা মারে।

ঈসা ইবনে মারয়াম আ.-এর ব্যতিক্রম। সে তাকে টোকা মারতে গিয়েছিল। (কিন্তু ব্যর্থ হয়) তখন সে পর্দার উপর টোকা মারে।

বুখারি হাদিস নং ৩০৫৭

হাদীস নং ৩০৫৭

মালিক ইবনে ইসমাঈল রহ………..আলকামা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় গমন করলাম, লোকেরা বলেন, ইনি আবু দারদা রা.।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মাঝে কি সে লোক আছে, যাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৌখিক দু’আয় আল্লাহ শয়তান থেকে রক্ষা করেছেন?

বুখারি হাদিস নং ৩০৫৮

হাদীস নং ৩০৫৮

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..মুগীরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাঁর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৌখিক দু’আয় শয়তান থেকে রক্ষা করেছেন, তিনি হলেন, আম্মার রা.।

লায়স রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফেরেশতাগণ মেঘের মধ্যে এমন সব বিষয় আলোচনা করেন, যা পৃথিবীতে ঘটবে।

তখন শয়তানেরা দু’একটি কথা শুনে ফেলে এবং তা গনকদের কানে এমনভাবে ঢেলে দেয় যেমন বোতলে পানি ঢালা হয়। তখন তারা এ সত্য কথার সাথে শত প্রকারের মিথ্যা কথা বাড়িয়ে বলে।

বুখারি হাদিস নং ৩০৫৯

হাদীস নং ৩০৫৯

আসিম ইবনে আলী রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হাই তোলা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। সুতরাং তোমাদের কারো যখন হাই আসবে তখন যথাসম্ভব তা দমন করবে। কেননা তোমাদের কেউ হাই তোলার সময় যখন ‘হা’ বলে, তখন শয়তান হাসতে থাকে।

বুখারি হাদিস নং ৩০৬০

হাদীস নং ৩০৬০

যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের দিন যখন মুশরিকরা পরাজিত হলো, তখন ইবলিস চীৎকার করে বলল, হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা তোমাদের পেছনের লোকদের প্রতি সতর্ক হও। অতএব সামনের লোকেরা পেছনের লোকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।

ফলে উভয় দলের মধ্যে নতুনভাবে সংঘর্ষ শুরু হল। হুযায়ফা রা. হঠাৎ তাঁর পিতা ইয়ামানকে দেখতে পেলেন। (মুসলমানগণ তাঁর উপর আক্রমণ করছে) তখন তিনি (হুযায়ফা) বললেন, হে আল্লাহর বান্দারা ! আমার পিতা! আমার পিতা! (তিনি মুসলিম) কিন্তু আল্লাহর কসম, তারা বিরত হয়নি। শেষ পর্যন্ত তারা তাকে হত্যা করে ফেলল।

তখন হুযায়ফা রা. বললেন, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। উরওয়া রা. বলেন, আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত হুযায়ফা রা. (তাঁর পিতার হত্যাকারীদের জন্য) দু’আ ও ইস্তিগফার করতে থাকেন।

বুখারি হাদিস নং ৩০৬১

হাদীস নং ৩০৬১

হাসান ইবনে রাবী রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতের মধ্যে মানুষের এদিক-ওদিক তাকানোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন, তা হল শয়তানের এক ধরণের ছিনতাই, যা সে তোমাদের একজনের সালাত থেকে ছিনিয়ে নেয়।

বুখারি হাদিস নং ৩০৬২

হাদীস নং ৩০৬২

আবুল মুগীরা ও সুলাইমান ইবনে আবদুর রহমান রহ…………আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সৎ ও ভাল স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে।

আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। অতএব তোমাদের কেউ যখন ভীতিকর মন্দ স্বপ্ন দেখে তখন সে যেন তার বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ করে আর শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে। তাহলে এরূপ স্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

বুখারি হাদিস নং ৩০৬৩

হাদীস নং ৩০৬৩

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি একশ বার এ দু’আটি পড়বে : আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই; বাদশাহী একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র তাঁরই জন্য, আর তিনি সকল বস্তুর উপর সর্বশক্তিমান।

তাহলে দশটি গোলাম আযাদ করার পরিমাণ সাওয়াব তার হবে। তার জন্য একশটি সাওয়াব লেখা হবে এবং একশটি গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হবে। ঐদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে মাহফুজ থাকবে।

কোন লোক তার চেয়ে উত্তম সাওয়াবের কাজ করতে সক্ষম হবেনা। তবে হ্যাঁ, ঐ ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে এর চেয়ে ঐ দু’আটির আমল অধিক পরিমাণ করবে।

বুখারি হাদিস নং ৩০৬৪

হাদীস নং ৩০৬৪

আলী ইবনে আবদুল্লহ রহ………সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একদা উমর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসার অনুমতি চাইলেন।

তখন তাঁর সঙ্গে কয়েকজন কুরাইশ মহিলা কথাবার্তা বলছিল। তারা খুব উচ্চস্বরে কথা বলছিল। এরপর যখন উমর রা. অনুমতি চাইলেন, তারা উঠে দ্রুত পর্দার আড়ালে চরে গেলেন। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি প্রদান করলেন। তখন তিনি মুচকি হাসছিলেন।

তখন উমর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ আপনাকে সর্বদা স্মিতহাস্যে রাখুন। তিনি বললেন, আমার কাছে যে সব মহিলা ছিল তাদের ব্যাপারে আমি আশ্চর্যান্বিত হয়েছি।

তারা যখনই তোমার কণ্ঠস্বর শুনতে পেল তখনই দ্রুত পর্দার আড়ালে চলে গেল। উমর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনাকেই তাদের অধিক ভয় করা উচিত ছিল। এরপর তিনি মহিলাদের লক্ষ্য করে বললেন, হে আত্ম শত্রু মহিলাগণ! তোমরা আমাকে ভয় করছ অথচ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভয় করছ না?

তারা জবাব দিল, হ্যাঁ কারণ তুমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেয়ে অধিক কর্কশ ভাষী ও কঠোর হৃদয় ব্যক্তি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কসম ঐ সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ, তুমি যে পথে গমন কর শয়তান কখনও সে পথে চলে না বরং সে তোমার পথ ছেড়ে অন্য পথে চলে।

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ২য় পার্ট - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩০৬৫

হাদীস নং ৩০৬৫

ইবরাহীম ইবনে হামযা রহ………..আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যখন নিদ্রা থেকে উঠল এবং উযু করল তখন তার নাক তিনবার ঝেড়ে ফেলা উচিত। কেননা, শয়তান তার নাকের ছিদ্রে রাত যাপন করেছে।

বুখারি হাদিস নং ৩০৬৬

হাদীস নং ৩০৬৬

কুতাইবা রহ…………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান রহ.-কে বলেছেন, আমি তোমাকে দেখছি তুমি ছাগপাল ও মরুভূমি পছন্দ করছ।

অতএব, তুমি যখন তোমার ছাগপালসহ মরুভূমিতে অবস্থান করবে, সালাতের সময় হলে আযান দিবে, তখন তুমি উচ্চস্বরে আযান দিবে।

কেননা মুআযযিনের কণ্ঠস্বর জ্বিন, মানুষ ও যে কোন বস্তু শুনে, তারা কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। আবু সাঈদ রা. বলেন, আমি এ হাদীসটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি।

বুখারি হাদিস নং ৩০৬৭ – আল্লাহর বাণী: আর আল্লাহ তথায় (যমীনে) প্রত্যেক প্রকারের প্রাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন।

হাদীস নং ৩০৬৭

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বারের উপর ভাষণ দানকালে বলতে শুনেছেন, সাপ মেরে ফেল। বিশেষ করে মেরে ফেল ঐ সাপ, যার মাথার উপর দু’টো সাদা রেখা আছে এবং লেজ কাটা সাপ।

কেননা, এ দু’ প্রকারের সাপ চোখের জ্যোতি নষ্ট করে দেয় ও গর্ভপাত ঘটায়। আবদুল্লাহ রা. বললেন, একদিন আমি একটি সাপ মারার জন্য তার পেছনে ধাওয়া করছিলাম। এমন সময় আবু লুবাবা রা. আমাকে ডেকে বললেন, সাপটি মেরো না।

তখন আমি বললাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাপ মারার জন্য আদেশ দিয়েছেন। তিনি বললেন, এরপরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সাপ ঘরে বাস করে যাকে ‘আওয়ামিন’ বলা হয় এমন সাপ মারতে নিষেধ করেছেন।

আবদুর রাজ্জাক রহ. মামার রহ. সূত্রে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, আমাকে দেখেছেন আবু লুবাবা অথবা ইবনে খাত্তাব রা. আর অনুসরণ করেছেন মামার রহ.-কে ইউনুস ইবনে উয়াইনা, ইসহাক কালবী ও যুবাইদী রহ. এবং সালিহ, ইবনে আবু হাফসা ও ইবনে মুজাম্মি রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, আমাকে দেখেছেন আবু লুবাবা ও যায়েদ ইবনে খাত্তাব রা.।

বুখারি হাদিস নং ৩০৬৮ – মুসলমানদের সর্বোত্তম সম্পদ ছাগপাল, যা নিয়ে তারা পাহাড়ের চূড়ায় চলে যায়।

হাদীস নং ৩০৬৮

ইসমাঈল রহ…………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সে সময় অতি নিকটে যখন একজন মুসলিমের সর্বোত্তম সম্পদ হবে ছাগপাল। যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় এবং বৃষ্টির এলাকায় চলে যাবে ; সে ফিতনা থেকে স্বীয় দীন রক্ষার্থে পলায়ন করবে।

বুখারি হাদিস নং ৩০৬৯

হাদীস নং ৩০৬৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুফরীর মূল পূর্বদিকে, গর্ব এবং অহংকার ঘোড়া এবং উটের মালিকদের মধ্যে এবং গ্রাম্য কৃষকদের মাঝে, আর শান্তি ছাগপালের মালিকদের মাঝে।

বুখারি হাদিস নং ৩০৭০

হাদীস নং ৩০৭০

মুসাদ্দাদ রহ………..উকবা ইবনে আমর আবু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় হাতের দ্বারা ইয়ামানের দিকে ইশারা করে বললেন, ঈমান এদিকে।

দেখ কঠোরতা এবং অন্তরের কাঠিন্য ঐসব কৃষকদের মধ্যে যারা উটের লেজের কাছে থেকে চিৎকার করে, যেখান থেকে শয়তানের শিং দুটি উদয় হবে অর্থাৎ রাবীয়া ও মুযার গোত্র দ্বয়ের মধ্যে।

বুখারি হাদিস নং ৩০৭১

হাদীস নং ৩০৭১

কুতাইবা রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে তখন তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ চেয়ে দু’আ কর।

কেননা এ মোরগ ফেরেশতাদের দেখে আর যখন গাধার আওয়াজ শুনবে তখন শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইবে, কেননা এ গাধাটি শয়তান দেখেছে।

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ২য় পার্ট - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩০৭২

হাদীস নং ৩০৭২

ইসহাক রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন রাতের আঁধার নেমে আসবে অথবা বলেছেন, যখন সন্ধ্যা হয়ে যাবে তখন তোমরা তোমাদের শিশুদেরকে (ঘরে) আটকিয়ে রাখবে।

কেননা এ সময় শয়তানেরা ছড়িয়ে পড়ে। আর যখন রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হয়ে যাবে তখন তাদেরকে ছেড়ে দিতে পার। তোমরা ঘরের দরজা বন্ধ করবে এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করবে।

কেননা শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারেনা। ইবনে জুরাইজ রহ. বলেন, হাদীসটি আমর ইবনে দীনার রহ……..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে আতা রহ.-এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি “আল্লাহর নাম স্মরণ কর” বলেননি।

বুখারি হাদিস নং ৩০৭৩

হাদীস নং ৩০৭৩

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বনী ইসরাঈলের একদল লোক নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল।

কেউ জানেনা তাদের কি হল আর আমি তাদেরকে ইঁদুর বলেই মনে করি।

কেননা তাদের সামনে যখন উটের দুধ রাখা হয়, তারা তা পান করেনা, আর তাদের সামনে ছাগলের দুধ রাখ হয় তারা তা পান করে (আবু হুরায়রা রা. বলেন) আমি এ হাদীসটি কাবের নিকট বললাম, তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি এটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন?

আমি বললাম, হ্যাঁ। তারপর তিনি কয়েকবার আমাকে একথাটি জিজ্ঞাসা করলেন। তখন আমি বললাম, আমি কি তাওরাত কিতাব পড়ছি?

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ২য় পার্ট - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩০৭৪

হাদীস নং ৩০৭৪

সাঈদ ইবনে উফাইর রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিরগিট বা রক্তচোষা টিকটিকিকে নিকৃষ্টতম ফাসিক বলে অভিহিত করেছেন।

আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একে হত্যা করার আদেশ দিতে শুনেছি। আর সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ

শর্তাবলী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

অসীয়াত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

অংশীদারিত্ব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

জুলুম ও কিসাস অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

হাদিসশাস্ত্র (উলুমুল হাদিস)

মন্তব্য করুন