সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

Table of Contents

সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী ২য় খণ্ড

সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ০৯৮৩ – সূর্যগ্রহণের সময় সালাত।

আমর ইবনে আওন রহ……….আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে ছিলাম, এ সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের চাদর টানতে টানতে মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং আমরাও প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদেরকে নিয়ে সূর্য প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত দু’রাকাআত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি বললেন : কারো মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ দেখবে তখন এ অবস্থা কেটে যাওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে এবং দু’আ করতে থাকবে।

হাদীস নং ৯৮৪

শিহাব ইবনে আব্বাদ রহ……….আবু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন লোকের মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। তাই তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হতে দেখবে, তখন দাঁড়িয়ে যাবে এবং সালাত আদায় করবে।

হাদীস নং ৯৮৫

আসবাগ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, কারো মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। তাই তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হতে দেখবে, তখনই সালাত আদায় করবে।

হাদীস নং ৯৮৬

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……..মুগীরা ইবনে শুবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় যে দিন (তাঁর পুত্র) ইবরাহীম রা. ইন্তিকাল করেন, সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। লোকেরা তখন বলতে লাগল, ইবরাহীম রা. এর মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : কারো মৃত্যুর অথবা জন্মের কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। তাই তোমরা যখন তা দেখবে, তখনই সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর নিকট দু’আ করবে।

বুখারি হাদিস নং ০৯৮৭ – সূর্যগ্রহণের সময় সাদকা করা।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ হল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি দীর্ঘ সময় কিয়াম করেন, এরপর দীর্ঘক্ষণ রুকু করেন। এরপর পুনরায় (সালাতে) তিনি উঠি দাঁড়ান এবং দীর্ঘ কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়াম চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি রুকু করেন এবং এ রুকুও দীর্ঘ করেন। তবে তা প্রথম রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। এরপর তিনি সিজদা করেন এবং সিজদাও দীর্ঘক্ষণ করেন। এরপর তিনি প্রথম রাকাআতে যা করেছিলেন তার অনুরূপ দ্বিতীয় রাকাআতে করেন এবং যখন সূর্য প্রকাশিত হয় তখন সালাত শেষ করেন। এরপর তিনি লোকজনের উদ্দেশ্যে খুতবা দান করেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করেন। এরপর তিনি বলেন : সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা আল্লাহর নিকট দু’আ করবে। তাঁর মহত্ব ঘোষণা করবে এবং সালাত আদায় করবে ও সাদকা প্রদান করবে। এরপর তিনি আরো বললেন : হে উম্মতে মুহাম্মদী ! আল্লাহর কসম, আল্লাহর কোন বান্দা যিনা করলে কিংবা কোন নারী যিনা করলে, আল্লাহর চাইতে বেশী অপছন্দকারী কেউ নেই। হে উম্মতে মুহাম্মাদী ! আল্লাহর কসম, আমি যা জানি তা যাদ তোমরা জানতে তাহলে তোমরা অবশ্যই কম হাসতে এবং বেশী কাঁদতে।

সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ০৯৮৯ – সূর্যগ্রহণের সময় ইমামের খুতবা।

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর ও আহমাদ ইবনে সালিহ রহ…….. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবৎকালে একবার সূর্যগ্রহণ হলো। তিনি মসজিদে গমন করেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকেরা তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হলো। তিনি তাকবীর বললেন। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। এরপর তাবীর বললেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকুতে থাকলেন। এরপর “সামিআল্লাহু লিমান হামীদাহ” বলে দাঁড়ালেন এবং সিজদায় না গিয়েই আবার দীর্ঘক্ষণ কিরাআত পাঠ করলেন। তবে তা প্রথম কিরাআতের চাইতে কম। তারপর তিনি ‘আল্লাহু আকবার’ বললেন এবং দীর্ঘ রুকু করলেন, তবে তা প্রথম রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী। তারপর তিনি বললেন : “সামিআল্লাহু লিমান হামীদাহ, রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ”। এরপর সিজদায় গেলেন। তারপর তিনি পরবর্তী রাকাআতেও অনুরূপ করলেন এবং এভাবে চার সিজদার সাথে চার রাকাআত পূর্ণ করলেন। তাঁর সালাত শেষ করার পূর্বেই সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন এবং বললেন : সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন মাত্র। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখনই তোমরা গ্রহণ হতে দেখবে, তখনই ভীত হয়ে সালাতের দিকে গমন করবে। রাবী বর্ণনা করেন, কাসীর ইবনে আব্বাস রহ. বলতেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে আয়িশা রা. থেকে উরওয়া রহ. বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাই আমি উরওয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনার ভাই (আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর) তো মদীনায় যেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, সেদিন ফজরের সালাতের ন্যায় দু’রাকাআত সালাত আদায়ের অতিরিক্ত কিছু করেননি। তিনি বললেন, তা ঠিক, তবে তিনি নিয়ম অনুসারে ভুল করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ০৯৯০ – ‘কাসাফাতিশ শামসু’ বলবে, না ‘খাসাফাতিশ শামসু’ বলবে ? আল্লাহ তা’আলা বলেছেন , ‘ওয়া খাসাফাল কামারু’।

সাঈদ ইবনে উফাইর রহ……… নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিনী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় সালাত আদায় করেন। তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন। এরপর দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করেন। তারপর তিনি দীর্ঘ রুকু করলেন। এরপর মাথা তুললেন, আর “সামিআল্লাহু লিমান হামীদাহ” বলে আগের মতই দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিরাআত পাফ করলেন। তবে তা প্রথম কিরাআতের চাইতে কম। তারপর তিনি আবার রুকু করলেন, তবে তা প্রথম রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী। তারপর তিনি দীর্ঘ সিজদায় গেলেন। তারপর তিনি পরবর্তী রাকাআতেও অনুরূপ করলেন এবং সালাম ফিরালেন। তখন সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। এরপর তিনি লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন। খুতবায় তিনি সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে বললেন : সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন মাত্র। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখনই তোমরা গ্রহণ হতে দেখবে, তখনই ভীত হয়ে সালাতের দিকে গমন করবে।

বুখারি হাদিস নং ০৯৯১ – নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি : আল্লাহ তা’আলা সূর্যগ্রহণ দিয়ে তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন।

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন মাত্র। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। আল্লাহ তা’আলা সূর্যগ্রহণ দিয়ে তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন।

ইমাম বুখারী রহ. বলেন, আবদুল্লাহ ওয়ারিস, শুআইব, খালিদ ইবনে আবদুল্লাহ, হাম্মাদ ইবনে সালাম রহ .ইউনুস রহ. থেকে ‘এ দিয়ে আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন’ বাক্যটি বর্ণনা করেননি; আর মূসা রহ. মুবারক রহ. স্থলে হাসান রহ. থেকে ইউনুস রহ. এর অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেন, আমাকে আবু বাকরা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ এ দিয়ে তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন। আশআস রহ. হাসান রহ. থেকে ইউনুস রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ০৯৯২ – সূর্যগ্রহণের সময় কবর আযাব থেকে পানাহ চাওয়া।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……… নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, এক ইয়াহুদী মহিলা তাঁর নিকট কিছু জিজ্ঞাসা করতে এলো। সে আয়িশা রা.-কে বলল, আল্লাহ তা’আলা আপনাকে কবর আযাব থেকে রক্ষা করুন। এরপর আয়িশা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেন, কবরে কি মানুষকে আযাব দেওয়া হবে ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। পরে কোন এক সকালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি সূর্যোদয় ও দুপুরের মাঝামাঝি সময় ফিরে আসেন এবং কামরাগুলোর মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করেন। এরপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং লোকেরা তাঁর পিছনে দাঁড়াল। তিনি দীর্ঘ সময় কিয়াম করেন, এরপর দীর্ঘক্ষণ রুকু করেন। এরপর পুনরায় মাথা তুলে দীর্ঘ কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়াম চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকু করেন। তবে তা প্রথম রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। এরপর তিনি মাথা তুললেন এবং সিজদায় গেলেন। এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর দীর্ঘ রুকু করলেন। এ রুকু প্রথম রাকাআতের রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর তিনি মাথা উঠালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন এবং এ কিয়াম আগের কিয়ামের চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর আবার রুকু করলেন এবং তা প্রথম রাকআতের রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। পরে মাথা তুললেন এবং সিজদায় গেলেন। এরপর সালাত শেষ করলেন। আল্লাহর যা ইচ্ছা তিনি তা বললেন এবং কবরের আযাব থেকে পানাহ চাওয়ার জন্য উপস্থিত লোকদের নির্দেশ দেন।

সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ০৯৯৩ – সূর্যগ্রহণের সালাতে দীর্ঘ সিজদা করা।

আবু নুআইম রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় যখন সূর্যগ্রহণ হয় তখন ‘আস-সালাতু জামিয়াতুন’ বলে ঘোষণা দেয়া হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন এক রাকাআতে দু’বার রুকু করেন, এরপর দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকাআতেও দু’বার রুকু করেন এরপর বসেন আর এতক্ষণে সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে যায়। বর্ণনাকারী বলেন, আয়িশা রা. বলেছেন, এ সালাত ব্যতীত এত দীর্ঘ সিজদা আমি কখনও করিনি।

বুখারি হাদিস নং ০৯৯৪ – সূর্যগ্রহণ-এর সালাত জামাআতে আদায় করা।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলাম রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সালাত আদায় করেন এবং তিনি সূরা বাকারা পাঠ করতে যত সময় লাগে সে পরিমাণ দীর্ঘ কিয়াম করেন। এরপর দীর্ঘক্ষণ রুকু করেন। এরপর পুনরায় মাথা তুলে দীর্ঘ কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়াম চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকু করেন। তবে তা প্রথম রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। এরপর সিজদায় গেলেন। এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর দীর্ঘ রুকু করলেন। এ রুকু প্রথম রাকাআতের রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর তিনি মাথা উঠালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন এবং এ কিয়াম আগের কিয়ামের চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর আবার রুকু করলেন এবং তা প্রথম রাকআতের রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। পরে মাথা তুললেন এবং সিজদায় গেলেন। এরপর সালাত শেষ করলেন। তখন সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন : নিঃসন্দেহে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন মাত্র। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখনই তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করবে।। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা দেখলাম, আপনি নিজের জায়গা থেকে কি যেন ধরছেন, আবার দেখলাম, আপনি যেন পিছনে সরে এলেন। তিনি বললেন : আমি তো জান্নাত দেখেছিলাম এবং এক গুচ্ছ আঙ্গুরের প্রতি হাত বাড়িয়েছিলাম। আমি তা পেয়ে গেলে, দুনিয়া কায়েম থাকা পর্যন্ত অবশ্য তোমরা তা খেতে পারতে। এরপর আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়, আমি আজকের মত ভয়াবহ দৃশ্য কখনো দেখিনি। আর আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ বাসিন্দা স্ত্রীলোক। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! কী কারণে ? তিনি বললেন : তাদের কুফরীর কারণে। জিজ্ঞাসা করা হল, তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরী করে ? তিনি জবাব দিলেন, তারা স্বামীর অবাধ্য থাকে এবং ইহসান অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো প্রতি সারা জীবন সদাচরণ কর, এরপর সে তোমার থেকে (যদি) সামান্য ত্রুটি পায়, তাহলে বলে ফেলে, তোমার থেকে কখনো ভাল ব্যবহার পেলাম না।

বুখারি হাদিস নং ০৯৯৫ – সূর্যগ্রহণের সময় পুরুষদের সংগে মহিলাদের সালাত।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আসমা বিনতে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূর্যগ্রহণের সময় আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী আয়িশা রা. -এর নিকট গেলাম। তখন লোকজন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিল। তখন আয়িশা রা. ও সালাতে দাঁড়িয়েছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, লোকদের কী হয়েছে ? তখন তিনি হাত দিয়ে আসমানের দিকে ইশারা করলেন এবং ‘সুবহানাল্লাহ’ বললেন। আমি বললাম, এ কি কোন নিদর্শন ? তখন তিনি ইশারায় বললেন, হ্যাঁ। আসমা রা. বলেন, আমিও দাঁড়িয়ে গেলাম। এমন কি (দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানোর ফলে) আমি প্রায় বেহুঁশ হয়ে পড়লাম এবং মাথায় পানি ঢালতে লাগলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করলেন, তখন আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করলেন। তারপর তিনি বললেন : আমি এ স্থান থেকে দেখতে পেলাম যা এর আগে দেখিনি, এমন কি জান্নাত এবং জাহান্নাম। আর আমার নিকট ওহী পাঠান হয়েছে যে, নিশ্চয়ই তোমাদেরকে কবরের মধ্যে দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় অথবা বলেছেন তার কাছাকাছি ফিতনায় লিপ্ত করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, (মিসলা ও কারীবান) দুটির মধ্যে কোনটি আসমারা. বলেছিলেন, তা আমার মনে নেই। তোমাদের এক একজনকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে প্রশ্ন করা হবে, এ ব্যক্তি সম্পর্কে কি জান ? তখন মু’মিন (ঈমানদার) অথবা মু’কীন (বিশ্বাসী) বলবেন- বর্ণনাকারী বলেন যে, আসমা রা. ‘মু’মিন’ শব্দ বলেছিলেন, না ‘মু’কীন’ তা আমার স্মরণ নেই, তিনি হলেন, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্ট দলীল ও হিদায়েত নিয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন এবং আমরা এতে সাড়া দিয়ে ঈমান এনেছি ও তাঁর অনুসরণ করেছি। এরপর তাকে বলা হবে, তুমি নেককার বান্দা হিসেবে ঘুমিয়ে থাক। আমরা অবশ্যই জানতাম যে, নিশ্চিতই তুমি দৃঢ়বিশ্বাস স্থাপনকারী ছিলে। আর মুনাফিক কিংবা সন্দেহ কারী বর্ণনাকারী বলেন, আসমা রা. ‘মুনাফিক’ না ‘সন্দেহ কারী’ বলেছিলেন তা আমার মনে নেই, সে শুধু বলবে, আমি কিছুই জানি না। আমি মানুষকে কিছু বলতে শুনেছি এবং আমিও তাই বলেছি।

বুখারি হাদিস নং ০৯৯৬ – সূর্যগ্রহণের সময় গোলাম আযাদ করা পছন্দনীয়।

রাবী ইবনে ইয়াহইয়া রহ………আসমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ০৯৯৭ – মসজিদে সূর্যগ্রহণের সালাত।

ইসমাঈল রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, এক ইয়াহুদী মহিলা তাঁর নিকট কিছু জিজ্ঞাসা করতে এল। মহিলাটি বলল, আল্লাহ তা’আলা আপনাকে কবর আযাব থেকে রক্ষা করুন। এরপর আয়িশা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেন, কবরে কি মানুষকে আযাব দেওয়া হবে ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি আল্লাহর কাছে পানাহ চাই কবরের আযাব থেকে। পরে কোন এক সকালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি সূর্যোদয় ও দুপুরের মাঝামাঝি সময় ফিরে আসেন এবং কামরাগুলোর মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করেন। এরপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং লোকেরা তাঁর পিছনে দাঁড়াল। তিনি দীর্ঘ সময় কিয়াম করেন, এরপর দীর্ঘক্ষণ রুকু করেন। এরপর পুনরায় মাথা তুলে দীর্ঘ কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়াম চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকু করেন। তবে তা প্রথম রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। এরপর তিনি মাথা তুললেন এবং সিজদায় গেলেন। এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর দীর্ঘ রুকু করলেন। এ রুকু প্রথম রাকাআতের রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর তিনি মাথা উঠালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন এবং এ কিয়াম আগের কিয়ামের চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর আবার রুকু করলেন এবং তা প্রথম রাকআতের রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। পরে মাথা তুললেন এবং সিজদায় গেলেন। এরপর সালাত শেষ করলেন। আল্লাহর যা ইচ্ছা তিনি তা বললেন। পরিশেষে তিনি সবাইকে কবরের আযাব থেকে পানাহ চাওয়ার লোকদের নির্দেশ দেন।

সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ০৯৯৮ – কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ হয় না।

মুসাদ্দাদ রহ………আবু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন মাত্র। কাজেই যখনই তোমরা গ্রহণ হতে দেখবে, তখন সালাত আদায় করবে।

হাদীস নং ৯৯৯

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ হল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি কিরাত দীর্ঘ করলেন, এরপর দীর্ঘক্ষণ রুকু করেন। এরপর পুনরায় তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ কিরাত পড়লেন। অবশ্য তা প্রথম কিরাতের চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি রুকু করেন এবং এ রুকুও দীর্ঘ করেন। তবে তা প্রথম রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। এরপর তিনি মাথা তুললেন এবং দুটি সিজদা করলেন। এরপর তিনি দাঁড়ালেন প্রথম রাকাআতে যা করেছিলেন তার অনুরূপ দ্বিতীয় রাকাআতে করলেন। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে বললেন : কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন ; যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দেখিয়ে থাকেন। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় সালাতের দিকে গমন করবে।

বুখারি হাদিস নং ১০০০ – সূর্যগ্রহণের সময় আল্লাহর যিকির।

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ……….আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার সূর্যগ্রহণ হল, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় উঠলেন এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আশংকা করছিলেন। এরপর তিনি মসজিদে আসেন এবং এর আগে আমি তাকে যেমন করতে দেখেছি, তার চাইতে দীর্ঘ সময় ধরে কিয়াম, রুকু ও সিজদা সহকারে সালাত আদায় করলেন। আর তিনি বললেন : এগুলো হল নিদর্শন যা আল্লাহ পাঠিয়ে থাকেন, তা কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। বরং আল্লাহ তা’আলা এর দ্বারা তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। কাজেই যখন তোমরা এর কিছু দেখতে পাবে, তখন ভীত বিহবল অবস্থায় আল্লাহর যিকির, দু’আ এবং ইস্তিগফারের দিকে অগ্রসর হবে।

বুখারি হাদিস নং ১০০১ – সূর্যগ্রহণের সময় দু’আ।

আবুল ওয়ালীদ রহ…….মুগীরা ইবনে শুবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -(এর পুত্র)) ইবারাহীম রা. যে দিন ইন্তিকাল করেন, সে দিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। লোকেরা বলল, ইবরাহীম রা.-এর মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন : নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে এ দুটোর গ্রহণণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা এদের গ্রহণ হতে দেখবে, তখন তাদের গ্রহণ মুক্ত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর নিকট দু’আ করবে এবং সালাত আদায় করতে থাকবে।

বুখারি হাদিস নং ১০০২ – সূর্যগ্রহণের সালাত।

মাহমুদ রহ……….আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। তখন তিনি দু’রাকাআত সালাত আদায় করলেন।

হাদীস নং ১০০৩

আবু মামার রহ……….আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। তিনি বের হয়ে তাঁর চাদর টেনে টেনে মসজিদে পৌঁছলেন এবং লোকজনও তাঁর কাছে একত্রিত হল। তারপর তিনি তাদের নিয়ে দু’রাকাআত সালাত আদায় করেন। এরপর সূর্যগ্রহণ মুক্ত হলে তিনি বললেন : ও চন্দ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে এ দুটোর গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা এদের গ্রহণ হতে দেখবে, তখন তাদের গ্রহণ মুক্ত হওয়া পর্যন্ত এবং সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর নিকট দু’আ করতে থাকবে। এ কথা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কারণেই বলেছেন যে, সেদিন তাঁর পুত্র ইবরাহীম রা.-এর ওফাত হয়েছিল এবং লোকেরা সে ব্যাপারে বলাবলি করছিল।

সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১০০৪ – সূর্যগ্রহণের সালাতে প্রথম রাকাআত হবে দীর্ঘতর।

মাহমুদ ইবনে গাইলান রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় লোকদের নিয়ে দু’রাকাআতে চার রুকু সহ সালাত আদায় করেন। প্রথমটি (রাকাআত দ্বিতীয়টির চাইতে) দীর্ঘস্থায়ী ছিল।

বুখারি হাদিস নং ১০০৫ – সূর্যগ্রহণের সালাতে সশব্দে কিরাআত পাঠ।

মুহাম্মদ ইবনে মিনরান রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সালাতে তাঁর কিরাআত সশব্দে পাঠ করেন। কিরাআত সমাপ্ত করার পর তাকবীর বলে রুকু করেন। যখন রুকু থেকে তুললেন, তখন বললেন : ‘সামিআল্লাহু লিমান হামীদাহ, রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’ । তারপর এ গ্রহণ-এর সালতেই তিনি আবার কিরাআত পাঠ করেন এবং চার রুকু ও চার সিজদাসহ দু’রাকাআত সালাত আদায় করেন। বর্ণনাকারী আওযায়ী রহ. ও অন্যান্য রাবীগণ বলেন, যহরী রহ. কে উরওয়া রহ. এর মাধ্যমে আয়িশা রা. থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি একজনকে ‘আস-সালাতু জামিয়াতুন’ বলে ঘোষণা দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেন। তারপর তিনি অগ্রসর হন এবং চার রুকু ও চার সিজদাসহ দু’রাকাআত সালাত আদায় করেন। ওয়ালীদ রহ. বলেন, আমাকে আবদুর রহমান ইবনে নামির আরো বলেন যে, তিনি ইবনে শিহাব রহ. থেকে অনুরূপ শুনেছেন যুহরী রহ. বলেন, যে, আমি উরওয়াকে রহ. বললাম, তোমার ভাই আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রহ. এরূপ করেন নি। তিনি যখন মদীনায় গ্রহণ -এর সালাত আদায় করেন, তখন ফজরের সালাতের ন্যায় দু’রাকআত সালাত আদায় করেন। উরওয়া রহ. বললেন, হ্যাঁ, তিনি নিয়ম অনুসরণে ভুল করেছেন। সুলাইমান ইবনে কাসীর রহ .যুহরী রহ. থেকে সশব্দে কিরাআতের ব্যাপারে ইবনে কাসীর রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৯৮৮ – সালাতুল কুসুফের জন্য ‘আস-সালাতু জামিয়াতুন’ বলে আহবান।

ইসহাক রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় যখন সূর্যগ্রহণ হল, তখন (সালাতে সমবেত হওয়ার জন্য) ‘আস-সালাতু জামিয়াতুন’ বলে আহবান জানানো হল।

সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

মন্তব্য করুন