সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ৩ অধ্যায়

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

Table of Contents

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪৫১

হাদীস নং ৩৪৫১

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ…………মারওয়ান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উসমান রা.-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে তাকে বলল, আপনি খলীফা মনোনীত করুন।

তিনি বললেন, তা কি বলাবলী হচ্ছে? সে বলল, হ্যাঁ, তিনি হচ্ছেন যুবাইর রা. এই শুনে তিনি বললেন, আল্লাহর কসম তোমরা নিশ্চয়ই জান যে যুবাইর রা. তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি। একথাটি তিনি তিনবার বললেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৫২

হাদীস নং ৩৪৫২

মালিক ইবনে ইসমাঈল রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক নবীরই হাওয়ারী (বিশেষ সাহায্যকারী) ছিলেন। আর আমার হাওয়ারী হলেন যুবাইর রা.।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৫৩

হাদীস নং ৩৪৫৩

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দক যুদ্ধ চলাকালে আমি এবং উমর ইবনে আবু সালামা (স্বল্প বয়সের কারণে) মহিলাদের দলে চলছিলাম।

হঠাৎ (আমার পিতা) যুবাইরকে দেখতে পেলাম যে, তিনি অশ্বারোহণ করে বনী কুরায়যা গোত্রের দিকে দুবার অথাবা তিনবার আসা যাওয়া করছেন।

যখন ফিরে আসলাম, তখন বললাম, হে আব্বা আমি আপনাকে (বনী কুরায়যার দিকে) কয়েকবার যাতায়াত করতে দেখেছি। তিনি বললেন, হে প্রিয় পুত্র, তুমি কি আমাকে দেখতে পেয়েছিলে? আমি বললাম, হ্যাঁ।

তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন কে বনী কুরায়যা গোত্রের নিকট গিয়ে তাদের খবরা-খবর জেনে আসবে? তখন (সে কাজে) আমিই গিয়ে ছিলাম।

(সংবাদ নিয়ে) যখন আমি ফিরে আসলাম তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য তাঁর মাত-পিতার একত্র করে বললেন, আমার মাতাপিতা তোমার জন্য কুরবান হোক।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৫৪

হাদীস নং ৩৪৫৪

আলী ইবনে হাফস রহ…………উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, ইয়ারমুক যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদগণ যুবাইরকে বললেন, আপনি কি আক্রমণ কঠোরতর করবেন না?

তাহলে আমরাও আপনার সাথে (সর্বশক্তি নিয়ে) আক্রমণ করব। এবার তিনি ভীষণভাবে আক্রমণ করলেন। শত্রু রা তাঁর কাঁধে দুটি আঘাত করল।

ক্ষতদ্বয়ের মধ্যে আরো একট ক্ষতের চিহ্ন ছিল যা বদর যুদ্ধে হয়েছিল। উরওয়া রহ. বলেন, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন ঐ ক্ষতস্থানগুলিতে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে খেলা করতাম।

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪৫৫ – তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪৫৫

মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর মুকাদ্দামী রহ…………আবু উসমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যেসব যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং অংশগ্রহণ করেছিলেন, তার মধ্য থেকে এক যুদ্ধে (উহুদ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কোন এক সময় তালহা ও সাদ রা. ব্যতীত অন্য কেউ ছিলেন না। আবু উসমান রা. তাদের উভয় থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৫৬

হাদীস নং ৩৪৫৬

মুসাদ্দাদ রহ……….কায়েস ইবনে আবু হাযিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তালহা রা.-এর ঐ হাতকে অবশ অবস্থায় দেখেছি, যে হাত দিয়ে (উহুদ যুদ্ধে শত্রুদের আক্রমণ হতে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হিফাযত করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৫৭ – সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস যুহরীর রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪৫৭

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………..সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাতা-পিতাকে একত্র করে (বলে) ছিলেন, (তোমার উপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হউক।

 

বুখারি হাদিস নং ৩৪৫৮

হাদীস নং ৩৪৫৮

মাক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ……….সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমাকে খুব ভালভাবে জানি, ইসলাম গ্রহণে আমি ছিলাম তৃতীয় ব্যক্তি (পুরুষদের মধ্যে)।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৫৯

হাদীস নং ৩৪৫৯

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ…………..সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (আমার জানা মতে) যে দিন আমি ইসলাম গ্রহণ করি সেদিন (এর পূর্বে খাদীজা রা. ও আবু বকর রা. ব্যতীত) অন্য কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। আমি সাতদিন এমনিভাবে অতিবাহিত করেছি যে আমি ইসলাম গ্রহণে তৃতীয় ব্যক্তি ছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৬০

হাদীস নং ৩৪৬০

আমর ইবনে আওন রহ……….কায়েস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাদ রা. -কে বলতে শুনেছি যে, আরবদের মধ্যে আমিই সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর রাস্তায় প্রথম তীর নিক্ষেপ করেছে।

আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে থেকে লড়াই করেছি। তখন গাছের পাতা ব্যতীত আমাদের কোন আহার্য ছিল না এমনকি আমাদেরকে (কোষ্ঠকাঠিন্য হেতু) উট অথবা ছাগলের ন্যায় বাড়ির মত মল ত্যাগ করতে হত। আর যখন (এ অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে,) বনু আসাদ আমাকে ইসলামের ব্যাপারে লজ্জা দিচ্ছে।

আমি তখন অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হব এবং আমার আমলসমূহ বৃথা যাবে। বনূ আসাদ উমর রা. এর নিকট সাদ রা.-এর বিরুদ্ধে যথা নিয়মে সালাত আদায় না করার অভিযোগ করছেন।

আবু আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী রহ. বলেন, ইসলামের তৃতীয় ব্যক্তি একথা দ্বারা তিনি বলতে চান যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে যারা প্রথমে ইসলাম এনেছিল আমি এদের তিনজনের তৃতীয়।

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪৬১ – রাসূল (সা.) এর জামাতা সম্পর্কে বর্ণনা।

হাদীস নং ৩৪৬১

আবুল ইয়ামান রহ……….মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু জেহেলের কন্যাকে আলী রা. বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে পাঠালেন। ফাতিমা রা. এই সংবাদ শুনতে পেরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে এস বললেন, আপনার গোত্রের লোকজন মনে করে যে, আপনি আপনার মেয়েদের খাতিরে রাগান্বিত হন না।

আলী তো আবু জেহেলের কন্যাকে বিবাহ করতে প্রস্তুত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এ শুনে) খুতবা দিতে প্রস্তুত হলেন। (মিসওয়ার বলেন) তিনি যখন হামদ ও সানা পাঠ করেন, তখন আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, আমি আবুল আস ইবনে রাবির নিকট আমার মেয়েকে শাদী দিয়েছিলাম।

সে আমার সাথে যা বলেছেন সত্যই বলেছে। আর (শোন) ফাতিমা আ. (স্নেহের) টুকরা; তাঁর কোন কষ্ট হোক তা আমি কখনও পছন্দ করি না। আল্লাহর কস, আল্লাহর রাসূলের মেয়ে এবং আল্লাহর চরম দুশমনের মেয়ে একই ব্যক্তির কাছে একত্রিত হতে পারে না।

(একথা শুনে) আলী রা. তাঁর বিবাহের প্রস্তাব প্রত্যাহার করলেন। মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হালহালা রহ………..মিসওয়ার রহ. থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বনী আবদে শামস গোত্রে তাঁর এক জামাত সম্পর্কে অত্যন্ত প্রশংসা করতে শুনেছি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে আমাকে যা বলেছে- সত্য বলেছে। যা অঙ্গীকার করেছে, তা পূরণ করেছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৬২ – রাসূল (সা.) এর মাওলা (আযাদকৃত গোলাম) যায়েদ ইবনে হারিসা রা.-এর মর্যদা।

হাদীস নং ৩৪৬২

খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মৃত্যু রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর) একটি সেনাবাহিনী প্রেরণের জন্য উদ্যেগ গ্রহণ করেন, এবং উসামা ইবনে যায়েদ রা. কে উক্ত বাহিনীর অধিনায়ক মনোনীত করেন।

কিছু সংখ্যক লোক তাঁর অধিনায়কত্বের উপর মন্তব্য প্রকাশ করতে লাগল। (ইহা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার নেতৃত্বের প্রতি তোমাদের সমালোচনা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

কেননা, এর পূর্বে তার পিতার (যায়েদের) নেতৃত্বের প্রতিও তোমরা সমালোচনা করেছ। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই সে (যায়েদ) নেতৃত্বের জন্য যোগ্যতম ব্যক্তি ছিল এবং আমার প্রিয়জদের মধ্যে একজন ছিল। তারপর তার পুত্র (উসামা) আমার প্রিয়তম ব্যক্তিদের অন্যতম।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৬৩

হাদীস নং ৩৪৬৩

ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা জনৈক কায়িফ (রেখা চিহ্ন বিশেষজ্ঞ) আসে, সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন।

উসামা রা. ও তাঁর পিতা (পা বাইরে রেখে উভয়ই একটি চাদরে শরীর আবৃত করে) শুয়ে ছিলেন। কায়িফ (তাদের শুধু পা দেখে বলে উঠল, এ পাগুলো একটি অন্যটির অংশ।

রাবী বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে (কায়িফের মন্তব্যটি) আয়েশা রা. কেও অবহিত করলেন।

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪৬৪ – উসামা ইবনে যায়েদ রা.-এর আলোচনা।

হাদীস নং ৩৪৬৪

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, মাখযুম গোত্রের এক মহিলার চুরির ঘটনায় কুরাইগণ ভীষণভাবে চিন্তিত হয়ে পড়ল।

তারা পরস্পরে বলাবলি করতে লাগল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয় পাত্র উসামা ইবনে যায়েদ রা. ব্যতীত কে আর তাঁর নিকট (সুপারিশ করার) সাহস করবে?

বুখারি হাদিস নং ৩৪৬৫

হাদীস নং ৩৪৬৫

আলী রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মাখযুম গোত্রের জনৈক মহিলা চুরি করেছিল। তখন তারা বলল, দেখত, এ ব্যাপারে কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কথা বলতে পারবে? কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ-ই কথা বলার সাহস করল না।

উসামা রা. এ ব্যাপারে তাঁর সাথে আলোচনা করলেন। তখন তিনি বললেন, বনী ইসরাইল তাদের সম্ভ্রান্ত পরিবারের কেউ চুরি করলে তাকে (বিচার না করে) ছেড়ে দিত।

এবং দুর্বল কেউ চুরি করলে তারা তার হাত কেটে দিত। (আমার কন্যা) ফাতিমা রা. (চুরির অপরাধে দোষনীয়) হলেও (আল্লাহ তাঁর হিফাযত করুন) তবে অবশ্যই আমি তাঁর হাত কেটে ফেলতাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৬৬

হাদীস নং ৩৪৬৬

হাসান ইবনে মুহাম্মদ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে দিনার রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন যে, মসজিদের এক কোণে তার কাপড় টেনে নিচ্ছে, তিনি বললেন, দেখতো, লোকটি কে?

সে যদি আমার নিকট থাকত (তবে আমি তাকে সদুপদেশ দান করতাম) তখন একজন তাকে বলল, হে আবু আবদুর রাহমান, আপনি কি তাকে চিনতে পেরেছেন।

তিনি উসামা রা.-এর পুত্র মুহাম্মদ। এ কথা শুনে ইবনে উমর রা. মাথা নীচু করে দু’হাত দিয়ে মাটি আছড়াতে লাগলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখলে নিশ্চয়ই আদর করতেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৬৭

হাদীস নং ৩৪৬৭

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………..উসামা ইবনে যায়েদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এবং হাসান রা.-কে এক সাথে (কোলে) তুলে নিতেন এবং বলতেন, হে আল্লাহ! তুমি এদেরকে ভালবাস। আমিও এদেরকে ভালবাসি। মুআইয রহ. উসামা রা.-এর আযাদকৃত গোলাম।

(হারমালা) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন সে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর সঙ্গে ছিল। তখন (উসামা রা. এর বৈপিত্রেয়) ভাই হাজ্জাজ ইবনে আয়মান (মসজিদে) প্রবেশ করল, এবং সালাতে রুকু ও সিজদা পূর্ণভাবে আদায় করেনি। ইবনে উমর রা. তাকে বললেন, সালাত পুনারায় আদায় কর।

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪৬৮ – আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে খাত্তাব রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪৬৮

ইসহাক ইবনে নাসর রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনকালে কেউ কোন স্বপ্ন দেখলে, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিটক বর্ণনা করতেন।

আমিও স্বপ্ন দেখার জন্য আকাঙ্খা করতাম এ উদ্দেশ্যে যে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করব। আমি ছিলাম অবিবাহিত একজন তরুণ যুবক।

তাই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মসজিদেই ঘুমাতাম। এক রাতে স্বপ্নে দেখতে পেলাম যে, যেন দু’জন ফেরেশতা আমাকে ধরে জাহান্নামের নিকট নিয়ে গেলেন।

আমি দেখতে পেলাম যে কূপের ন্যায় তার দুটি উচু পাড়ও রয়েছে। তাতেই এমন এমন মানুষও রয়েছে যাদেরকে আমি চিনতে পারলাম। তখন আমি ‘জাহান্নামের আগুন থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি’ বার বার পাঠ করতে লাগলাম।

তখন তৃতীয় একজন ফেরেশতা তাদের দু’জনের সাথে সাক্ষাত করলেন এবং তিনি আমাকে বললেন, ভয় করোনা (এরপর আমি জেগে গেলাম) স্বপ্নটি (আমার বো) হাফসা রা.-এর কিটন বললাম।

তিনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করেন। তিনি বললেন, আবদুল্লাহ অত্যন্ত ভাল মানুষ। যদি সে শেষ রাতে (তাহাজ্জুদের) সালাত আদায় করত (তবে আরও ভাল হত) (তাঁর পুত্র (সালিম রহ. বলেন, এরপর আবদুল্লাহ রা. রাতে অতি অল্প সময়ই ঘুমাতেন।

 

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪৬৯

হাদীস নং ৩৪৬৯

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………হাফসা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট বলেছেন যে, আবদুল্লাহ অত্যন্ত নেক ব্যক্তি।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৭০ – আম্মার ও হুযায়ফা রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪৭০

মালিক ইবনে ইসমাঈল……………আলকামা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় গমন করলাম (সেখানে পৌঁছে) দু’রাকআত (নফল) সালাত আদায় করে দু’আ করলাম, হে আল্লাহ ! আপনি আমাকে একজন নেককার সাথী মিলিয়ে দিন। তারপর আমি একটি জামাতের নিকট এসে তাদের নিকট বসলাম।

তখন একজন বৃদ্ধ লোক এসে আমার পাশেই বসলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে? তারা উত্তরে বললেন, ইনি আবু দারদা রা.। আমি তখন তাকে বললাম, একজন নেককার সাথীর জন্য আমি আল্লাহর নিকট দু’আ করিছিলাম।

আল্লাহ আপনাকে মিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন, তুমি কোথাকার বাসিন্দা? আমি বললাম, আমি কুফার বাসিন্দা। তিনি বললেন, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) জুতা, বালিশ এবং অজুর পাত্র বহনকারী সর্বক্ষণের সহচর ইবনে উম্মে আবদ রা. কি তোমাদের ওখানে নেই?

তোমাদের মাঝে কি ঐ ব্যক্তি নেই যাকে আল্লাহ শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিয়েছেন? (অর্থাৎ আম্মার ইবনে ইয়াসির রা. তোমাদের মধ্যে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন তথ্য অভিজ্ঞ লোকটি নেই?

যিনি ব্যতীত অন্য কেউ এসব রহস্য জানেন না (অর্থাৎ হুযায়ফা রা.) তারপর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. সূরা والليل কি ভাবে পাঠ করতেন?

তখন আমি তাকে সূরাটি পড়ে শুনালাম : والليل إذا يغشى والنهار إذا تجلى والذكر والأثى তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সূরাটি সরাসরি এ ভাবেই শিক্ষা দিয়েছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৭১

হাদীস নং ৩৪৭১

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….ইবরাহীম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলকামা রহ. একবার সিরিয়ায় গেলেন। যখন মসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি দু’আ করলেন, হে আল্লাহ, আমাকে একজন নেককার সাথী মিলিয়ে দিন।

তখন তিনি আবু দারদা রা.-এর নিকট গিয়ে বসলেন, তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোথাকার বাসিন্দা। আমি বললাম, কুফার বাসিন্দা। তিনি বললেন, তোমাদের মাঝে কি ঐ ব্যক্তিটি নেই যাকে আল্লাহ তাঁর রাসূল-এর জবানীতে শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিয়েছেন।

অর্থাৎ আম্মার (ইবনে ইয়াসির) রা.। আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন তথ্যাভিজ্ঞ ব্যক্তিটি কি নেই যিনি ব্যতীত অন্য কেউ এ সব গোপন রহস্যাদি জানেন না?

অর্থাৎ হুযায়ফা রা.। আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিসওয়াক ও সামান বহনকারী (নিত্য সহচর আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.) নেই?

আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন আবদুল্লাহ والليل কিভাবে পাঠ করেন। আমি বললাম, والذكر والأثى পড়েন।

তখন তিনি বললেন, (এভাবে পড়ার কারণে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যেভাবে শুনেছিলাম এরা (সিরিয়াবাসী) তা থেকে আমাকে সরিয়ে দেয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৭২ – আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪৭২

আমর ইবনে আলী রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন আমীন (অত্যন্ত বিশ্বস্ত) ব্যক্তি থাকেন আর আমাদের এই উম্মতের মধ্যে আমীন ব্যক্তি হচ্ছে আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রা.।

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪৭৩

হাদীস নং ৩৪৭৩

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ……….হুযায়ফা রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজরানবাসীকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, আমি (তোমাদের ওখানে) এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাব যিনি হবেন অত্যন্ত আমীন ও বিশ্বস্ত। এ কথা শুনে সাহাবায়ে কেরাম আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করতে লাগলেন। পরে তিনি আবু উবাইদা রা.-কে পাঠালেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৭৪ – হাসান ও হুসাইন রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪৭৪

সাদাকা (ইবনে ফাযল) রহ………..আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি, ঐ সময় হাসান রা. তাঁর পাশে ছিলেন।

তিনি একবার উপস্থিত লোকদের দিকে আবার হাসান রা.-এর দিকে তাকালেন এবং বললেন, আমার এ সন্তান (পৌত্র) সায়্যেদ (নেতা) আল্লাহ তা’আলা তাঁর মাধ্যমে বিবাদমান দু’দল মুসলামানের মধ্যে আপোষ মিমাংসা করিয়ে দিবেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৭৫

হাদীস নং ৩৪৭৫

মুসাদ্দাদ রহ…………উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এবং হাসান রা.-কে এক সাথে কোলে তুলে নিয়ে বলতেন, হে আল্লাহ ! আমি এদের দু’জনকে মুহাব্বত করি, আপনিও এদেরকে মুহাব্বাত করুন। অথবা এরূপ কিছু বলেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৭৬

হাদীস নং ৩৪৭৬

মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন ইবনে ইবরাহীম রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদের সম্মুখে হুসাইন রা.-এর (বিচ্ছেদ কৃত) মস্তক আনা হল এবং একটি বড় পাত্রে তা রাখা হল।

তখন ইবনে যিয়াদ তাঁর (নাকে মুখে) খোঁচাতে লাগল এবং তাঁর রূপ লাবণ্য সম্পর্কে কটূক্তি করল। আনাস রা. বলেন, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার বর্গের মধ্যে) হুসাইন রা. গঠন ও আকৃতিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবয়বের সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন।

(শাহাদত বরণ কালে) তাঁর চুল ও দাঁড়িতে ওয়াসমা (এক প্রকার পাতার রস) দ্বারা কলপ লাগানো ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৭৭

হাদীস নং ৩৪৭৭

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ………….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাসানকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাঁধের উপর দেখেছি। তখন তিনি বলেছিলেন, হে আল্লাহ ! আমি একে ভালবাসি, তুমিও তাকে ভালবাস।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৭৮

হাদীস নং ৩৪৭৮

আবদান রহ……….উকবা ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু বকর রা.-কে দেখলাম, তিনি হাসান রা.-কে কোন তুলে নিলেন এবং বলতে লাগলেন, এত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সদৃশ, আলীর সদৃশ নয়। তখন আলী রা.(নিকটেই দাঁড়িয়ে) হাসছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৭৯

হাদীস নং ৩৪৭৯

ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন ও সাদাকা রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর রা. বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্তুষ্টি তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্জন কর।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৮০

হাদীস নং ৩৪৮০

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারে হাসান ইবনে আলী রা.-এর চেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ আর কেউ ছিলেন না। আবদুর রাজ্জাক রহ……….আনাস রা. থেকে অনুরূপ বর্ণিত।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৮১

হাদীস নং ৩৪৮১

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, তাকে ইরাকের জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ইহরামের অবস্থায় মশা-মাছি মারা জায়েয আছে কি?

তিনি বললেন, ইরাকবাসী মশা-মাছি মারা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে অথচ তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাতীকে হত্যা করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, হাসান ও হুসাইন রা আমার কাছে দুনিয়ার দুটি পুষ্প বিশেষ।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৮২ – আবু বকর রা.-এর মাওলা (আযাদকৃত গোলাম) বিলাল ইবনে রাবাহ রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪৮২

আবু নুআঈম রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. বলতেন, আবু বকর রা. আমাদের নেতা এবং মুক্ত করেছেন আমাদের একজন নেতা বিলাল রা.-কে।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৮৩

হাদীস নং ৩৪৮৩

ইবনে নুমাইর রহ………..কায়েস রা. থেকে বর্ণিত যে, বিলাল রা. আবু বকর রা.-কে বললেন, আপনি যদি আপনার ব্যক্তিগত কাজের জন্য আমাকে ক্রয় করে থাকেন তবে আপনার খেদমতেই আমাকে রাখুন আর যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের (আযাদ করার) আশায় আমাকে ক্রয় করে থাকেন, তাহলে আমাকে আল্লাহ তা’আলার ইবাদত বন্দেগী করার সুযোগ দান করুন।

 

বুখারি হাদিস নং ৩৪৮৪ – (আবদুল্লাহ) ইবনে আব্বাস রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪৮৪

মুসাদ্দাদ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ, তাকে হিকমত শিক্ষা দান করুন।

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪৮৫

হাদীস নং ৩৪৮৫

আবু মামার রহ………..আবদুল ওয়ারিস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটিও বলেছিলেন) ইয়া আল্লাহ, তাকে কিতাবের (কুরআনের) জ্ঞান দান করুন।

মূসা রহ……….খালিদ রহ. থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী রহ. বলেন, ‘আল-হিকমাতু’ নবুওয়াতের বিষয় ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছা।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৮৬ – খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪৮৬

আহমদ ইবনে ওয়াকিদ রহ………..আনাস রা. থেকৈ বর্ণি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মূতা যুদ্ধে শাহাদত বরণকারী যায়েদ (ইবনে হারিসা) জাফর (ইবনে আবু তালিব) ও (আবদুল্লাহ) ইবনে রাওয়াহা রা.-এর মৃত্যু সংবাদ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সংবাদ আসার পূর্বেই আমাদিগকে শুনিয়ে ছিলেন।

তিনি বলছিলেন, যায়ে রা. পতাকা ধারণ করে শাহাদত বরণ করেছেন। তারপর জাফর রা. পতাকা ধারণ করে শাহাদতের মর্যাদা লাভ করলেন। এরপর আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. পতাকা হাতে নিয়ে শাহাদত বরণ করলেন।

তিনি যখন এ কথাগুলি বলছিলেন। তখন তাঁর উভয় চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। (এরপর বললেন) আল্লাহ তা’আলা অন্যতম বিশিষ্ট তরবারী (খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রা.) পতাকা উঠিয়েছেন অবশেষে আল্লাহ মুসলমানগণকে বিজয় দান করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৮৭ – আবু হুযায়ফা রা.-এর মাওলা (আযাদকৃত গোলাম) সালিম রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪৮৭

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….মাসরূক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা.-এর মজলিসে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর আলোচনা হলে তিনি বললেন,

আমি এই ব্যক্তিকে ঐদিন থেকে অত্যন্ত ভালবাসি যেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমরা চার ব্যক্তি থেকে কুরআন শিক্ষা কর, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ সর্বপ্রথম তাঁর নাম উল্লেখ করলেন, আবু হুযায়ফা রা.-এর আযাদকৃত গোলাম সালিম, উবাই ইবনে কাব রা. ও মুআয ইবনে জাবাল রা. থেকে।

শেষোক্ত দুজনের মধ্যে কার নাম আগে উল্লেখ করছিলেন শুধু এ কথাটুকু আমার স্মরণ নেই।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৮৮ – আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪৮৮

হাফস ইবনে উমর রহ…………মাসরূক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগতভাবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অশ্লীল ভাষী ছিলেন না ; তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আমার সর্বাধিক প্রিয় যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।

তিনি আরো বলেছেন, তোমারা চার ব্যক্তির নিকট হতে কুরআন শিক্ষা কর, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, সালিম মাওলা আবু হুযায়ফা, উবাই ইবনে কাব ও মুআয ইবনে জাবাল রা.।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৮৯

হাদীস নং ৩৪৮৯

মূসা রহ………….আলকামা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সিরিয়া গেলাম, মসজিদে দু’রাকআত (নফল) সালাত আদায় করে দু’আ করলাম, হে আল্লাহ! আমাকে একজন সৎ সাথী মিলিয়ে দিন।

তখন আমি একজন বৃদ্ধকে আসতে দেখলাম। তিনি ছিলেন আবু দারদা রা.। তিনি যখন আমার কাছে আসলেন, তখন আমি বললাম, আশা করি আমার দু’আ কবুল হয়েছে। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোন স্থানে বাসিন্দা? আমি বললাম, আমার ঠিকানা কুফায়।

তোমাদের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জুতা, বালিস ও অজুর পাত্র বহনকারী (আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.) কি বিদ্যমান নেই? তোমাদের মাঝে ঐ ব্যক্তি কি নেই, যাকে শয়তান থেকে নিরাপদ করে দেয়া হয়েছে?

(অর্থাৎ আম্মার রা.)। তোমাদের মাঝে কি গোপন তথ্যাভিজ্ঞ ব্যক্তিটি (হুযায়ফা রা.) নেই, যিনি ব্যতীত এসব গোপন রহস্য অন্য কেউ জানে না। (আমি বললাম, আছেন) তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইবনে মাসউদ রা. সূরা والليل কি ভাবে পাঠ করেন?

আমি সূরাটি পড়লাম: والليل إذا يغشى والنهار إذا تجلى والذكر والأثى এভাবে পড়েন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সূরাটি সরাসরি এ ভাবেই শিক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু এসব লোক বার বার বলে আমাকে এ থেকে বিচ্যুতি ঘটানোর উপক্রম করেছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৯০

হাদীস নং ৩৪৯০

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..আবদুর রাহমান ইবনে ইয়াযীদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হুযায়ফা রা.-কে এমন এক ব্যক্তির সন্ধান দিতে অনুরোধ করলাম যার আকার আকৃতি, চাল-চলন, আচার-ব্যবহার এবং স্বভাব-চরিত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্য আছে, আমরা তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করব।

হুযায়ফা রা. বললেন, আকার-আকৃতি, চাল-চলন, আচার-ব্যবহার এবং স্বভাব-চরিত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্য রাখেন এমন ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. ব্যতীত অন্য কাউকে আমি জানি না।

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪৯১

হাদীস নং ৩৪৯১

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ……….আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু মূসা আশআরী রা.-কে বলতে শুনেছি যে, আমি এবং আমার ভাই ইয়ামান থেকে মদীনায় আগমন করি এবং বেশ কিছুদিন মদীনায় অবস্থান করি।

তখন আমরা মনে করতাম যে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারেরই একজন সদস্য। কেননা আমরা তাকে এবং তাঁর মাকে অহরহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে যাতায়াত করতে দেখতাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৯২ – মুআবিয়া রা.-এর আলোচনা।

হাদীস নং ৩৪৯২

হাসান ইবনে বিশর রহ………..ইবনে আবু মুলায়কা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার মুআবিয়া রা. ইশার সালাতের পর এক রাকআত মিলিয়ে বিতরের সালাত আদায় করেন।

তখন তাঁর নিকট ইবনে আব্বাসের আযাদকৃত গোলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি ইবনে আব্বাস রা.-এর নিকট ঘটনাটি বর্ণনা করেন, তখন ইবনে আব্বাস রা. বললেন, তাকে কিছু বলোনা, কেননা, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভে ধন্য হয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৯৩

হাদীস নং ৩৪৯৩

ইবনে আবু মারইয়াম রহ………ইবনে আবু মুলাইকা রহ. থেকে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস রা. কে বলা হল, আপনি আমীরুল মুমিনীন মুআবিয়া রা.-এর সাথে এ বিষয় আলাপ করবেন কি?

যেহেতু তিনি বিতর সালাত এক রাকআত মিলিয়ে আদায় করেছেন। ইবনে আব্বাস রা. বললেন, তিনি (তাঁর দৃষ্টিতে) ঠিকই করেছেন, কেননা তিনি নিজেই একজন ফকীহ।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৯৪

হাদীস নং ৩৪৯৪

আমর ইবনে আব্বাস রহ………… মুআবিয়া রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, তোমরা এমন এক সালাত আদায় কর, আমরা (দীর্ঘদিন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করেছি আমরা তাকে তা আদায় করতে দেখিনি বরং তিনি এ দু’রাকআত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ আসরের পর দু’রাকআত (নফল)।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৯৫ – ফাতিমা রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪৯৫

আবুল ওয়ালীদ রহ………মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফাতিমা আমার (দেহের) অংশ। যে তাকে অসন্তুষ্ট করল সে আমাকেই অসন্তুষ্ট করল।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৯৬

হাদীস নং ৩৪৯৬

ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে রোগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত লাভ করেন সে সময়ে তাঁর কন্যা ফাতিমা রা.-কে ডেকে আনলেন এবং তার সাথে চুপে চুপে কিছু বললেন। এতে ফাতিমারা. কেঁদে দিলেন।

এরপর আবার কাছে ডেকে এনে তার সাথে চুপে চুপে কিছু বললেন। এতে তিনি হেসে দিলেন। আয়েশা রা. বলেন, আমি এ ব্যাপারে ফাতিমা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম।

তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে চুপে চুপে অবহিত করলেন যে তিনি এ রোগে ওফাত লাভ করবেন। এতে আমি কেঁদে ছিলাম।

তারপর আবার আমাকে চুপে চুপে জানালেন যে আমি তাঁর পরিবার পরিজনের প্রথম ব্যক্তি যে তাঁর সাথে মিলিত হব। এতে আমি হেসে ছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৯৭ – আয়েশা রা.-এর ফযীলত।

হাদীস নং ৩৪৯৭

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদিন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আয়েশা, জিবরাঈল আ. তোমাকে সালাম বলেছেন।

আমি উত্তরে বললাম, ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আপনি যে দেখতে পান (জিবরাঈলকে) আমি তা দেখতে পাই না। এ কথা দ্বারা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বুঝিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৯৮

হাদীস নং ৩৪৯৮

আদম ও আমর রহ……….আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষদের মধ্যে অনেকেই কামিল হয়েছে, কিন্তু মহিলাদের মধ্যে মারইয়াম বিনতে ইমরান (ঈসা আলাইহিস সালামের মাতা) ও ফিরাউনের স্ত্রী আসিয়া রা. ব্যতীত অন্য কেউ তাদের মত কামিল হননি।

আর আয়েশা রা.-এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অন্যান্য মহিলাদের উপর এমন যেমন যেমন সারীদ (গোশত এবং রুটি দ্বারা তৈরী খাদ্য বিশেষ) এর শ্রেষ্ঠত্ব অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর উপর।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৯৯

হাদীস নং ৩৫০০

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি, আয়েশা রা.-এর মহিলাদের উপর এমন যেমন যেমন সারীদের মর্যাদা অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর উপর।

বুখারি হাদিস নং ৩৫০১

হাদীস নং ৩৫০১

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবু ওয়াইল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী রা.-এর স্বপক্ষে জিহাদে সাহায্য করার জন্য লোক সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আম্মার ও হাসান রা.-কে কুফায় প্রেরণ করেন।

আম্মার রা. তাঁর ভাষণে একদিন বললেন, এ কথা আমি ভালভাবেই জানি যে, আয়েশা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুনিয়া ও আখিরাতের সম্মানিত সহধর্মিণী।

কিন্তু এখন আল্লাহ তোমাদেরকে পরীক্ষা করছেন যে তোমরা কি আলী রা.-এর আনুগত্য করবে না, আয়েশা রা.-এর আনুগত্য করবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৫০২

হাদীস নং ৩৫০২

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি (তাঁর বোন) আসমা রা.-এর নিকট থেকে একটি হার চেয়ে নিয়েছিলেন। পরে হারটি হারিয়ে যায়।

এর অনুসন্ধানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সংখ্যক সাহাবীকে পাঠালেন। ইতিমধ্যে সালাতের সময় হয়ে গেলে তাঁরা পানির অভাবে অযু ছাড়াই সালাত আদায় করলেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে এই বিষয়ে অভিযোগ পেশ করলেন।

তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হল। উসাইদ ইবনে হুযাইর রা. বললেন, (হে আয়েশা) আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদানে পুরস্কৃত করুন। আল্লাহর কসম!

যখনই আপনি কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তখনই আল্লাহ তা’আলা এর সমাধান করে দিয়েছেন এবং মুসলমানদের জন্য এর মধ্যে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫০৩

হাদীস নং ৩৫০৩

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ……….উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত্যু রোগে আক্রান্ত তখন (পূর্বরীতি অনুযায়ী) সহধর্মিণীগণের ঘরে ঘরে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান করতে থাকেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রা.-এর ঘরে অবস্থানের আগ্রহে এ কথাটি বলতেন, আগামীকাল আমি কার ঘরে থাকব? আগামীকাল আমি কার ঘরে থাকব?

আয়েশা রা. বলেন, আমার ঘরে অবস্থানের নির্ধারিত দিনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন।

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫০৪

হাদীস নং ৩৫০৪

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব রহ………..উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাদীয়া প্রদানের জন্য আয়েশা রা.-এর গ্রহে তাঁর অবস্থানের দিন তালাশ করতেন। আয়েশা রা. বলেন, একদিন আমার সতীনগণ উম্মে সালামা রা.-এর নিকট সমবেত হয়ে বললেন, হে উম্মে সালামা।

আল্লাহর কসম, লোকজন তাদের হাদীয়াসমূহ প্রেরণের জন্য আয়েশা রা.-এর গৃহে অবস্থানের দিন তালাশ করেন। আয়েশা রা.-এর ন্যায় আমরাও কল্যাণ আকাঙ্খা করি।

আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলুন, তিনি যেন লোকদের বলে দেন, তারা যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেদিন যেখানেই অবস্থান করেন সেখানেই তারা হাদীয়া পাঠিয়ে দেন।

উম্মে সালামা রা. বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করলেন। উম্মে সালামা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কথা শুনে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।

পরে আমার গৃহে অবস্থানের জন্য পুনরায় আসলে আমি ঐ কথা তাকে বলি। এবারও তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তৃতীয়বারেও আমি ঐ কথা তাকে বললাম, তিনি বললেন, হে উম্মে সালামা! আয়েশা রা.-এর ব্যাপারে তোমরা আমাকে কষ্ট দিবে না।

আল্লাহর কসম, তোমাদের মধ্যে আয়েশা রা. ব্যতীত অন্য কারো শয্যায় শায়িত অবস্থায় আমার উপর ওহী নাযিল হয়নি।

আরও পড়ুনঃ

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ১ম পার্ট- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ২য় পার্ট- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ১ম পার্ট – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ২য় পার্ট – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

সহিহ বুখারী

মন্তব্য করুন