সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ২ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ২ অধ্যায়

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ২ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

Table of Contents

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ২ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪২১

হাদীস নং ৩৪২১

মুসাদ্দাদ রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ পাহাড়ের উপর আরোহণ করলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আবু বকর উমর ও উসমান রা. তাদেরকে (ধারণা করতে পেরে) নিয়ে পাহাড়টি নিয়ে পাহাড়টি (আনন্দে) নেচে উঠল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাহাড়কে পায়ে আঘাত করে বললেন, হে উহুদ, স্থির হও। তোমার উপর নবী, সিদ্দীক ও শহীদ ব্যতীত অন্য কেউ নেই।

বুখারি হাদিস নং ৩৪২২

হাদীস নং ৩৪২২

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………..আসলাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে উমর রা. আমাকে উমর রা.-এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আমি তাকে সে সম্পর্কে অবহিত করলাম, তখন তিনি (ইবনে উমর রা.) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা-এর ইন্তিকালের পরে কাউকে (এ সব গুণের অধিকারী) আমি দেখি নি।

তিনি (উমর রা.) অত্যন্ত দৃঢ়চিত্ত দানশীল ছিলেন। এসব গুণাবলী যেন উমর রা. পর্যন্ত শেষ হয়ে গেছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৪২৩

হাদীস নং ৩৪২৩

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করল, কিয়ামত কখন হবে?

তিনি বললেন, তুমি কিয়ামতের জন্য কি (পাথেয়) সংগ্রহ করেছ। সে বলল, কোন কিছুই সংগ্রহ করতে পারিনি, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে (আন্তরিকভাবে) মুহাব্বত করি।

তখন তিনি বললেন, তুমি (কিয়ামতের দিন) তাদের সাথেই থাকবে যাদেরকে তুমি মুহাব্বত কর। আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথা দ্বারা আমরা এত আনন্দিত হয়েছি যে, অন্য কোন কথায় এত আনন্দিত হইনি।

আনাস রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুহাব্বত করি এবং আবু বকর ও উমর রা.-কেও। আশা করি তাদেরকে আমার মুহব্বতের কারণে তাদের সাথে জান্নাতে বসবাস করতে পারব; যদিও তাদের আমালের মত আমল করতে পারিনি।

বুখারি হাদিস নং ৩৪২৪

হাদীস নং ৩৪২৪

ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের মধ্যে অনেক মুহাদ্দাস (যার অন্তরে সত্য কথা অবতীর্ণ হয়) ব্যক্তি ছিলেন।

আমার উম্মতের মধ্যে যদি কেউ মুহাদ্দাস হন তবে সে ব্যক্তি উমর । যাকারিয়া রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী বনী ইসরাঈলের মধ্যে এমন কতিপয় লোক ছিলেন, যারা নবী ছিলেন না বটে তবে ফেরেশতাগণ তাদের সাথে কথা বলতেন।

আমার উম্মতে এমন কোন লোক হলে সে হবে উমর রা.। ইবনে আব্বাস রা. (কুরআনের আয়াতে) ولا محدث অতিরিক্ত বলেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪২৫

হাদীস নং ৩৪২৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একদিন এক রাখাল তার বকরীর পালের সাথে ছিল।

হঠাৎ একটি নেকড়ে বাঘ পাল আক্রমণ করে একটি বকরী নিয়ে গেল। রাখাল বাঘের পিছনে ধাওয়া করে বকরীকে উদ্ধার করে আনল। তখন বাঘ রাখালকে বলল, যখন আমি ছাড়া অন্য কেউ থাকবেনা তখন হিংস্র জন্তুদের আক্রমণ থেকে তাদেরকে কে রক্ষা করবে?

(তা শুনে) সাহাবীগণ বললেন, সুবহানাল্লাহ! (বাঘ কথা বলে) তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তা বিশ্বাস করি এবং আবু বকর ও উমরও বিশ্বাস করে। অথচ তাঁরা কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ২ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪২৬

হাদীস নং ৩৪২৬

ইয়াহইয়া ইব বুকাইর রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, একদিন আমি ঘুমিয়ে ছিলাম।

(স্বপ্নে) দেখতে পেলাম, অনেক লোককে আমার সামনে উপস্থিত করা হল। তাদের গায়ে (বিভিন্ন রকমের) জামা ছিল। কারো কারো জামা এত ছোট ছিল যে, কোন প্রকারে বুক পর্যন্ত পৌঁছেছে। আবার কারো জামা এর চেয়ে ছোট ছিল।

আর উমর রা.-কেও আমার সামনে পেশ করা হল। তাঁর শরীরে এত লম্বা জামা ছিল যে, সে জামাটি হেঁচড়াইয়া চলতেছিল। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি এ স্বপ্নের কি তাবীর (ব্যাখ্যা) করলেন। তিনি বললেন, দ্বীনদারী (ধর্মপরায়ণতা)।

বুখারি হাদিস নং ৩৪২৭

হাদীস নং ৩৪২৭

সালত ইবনে মুহাম্মদ রহ………..মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন উমর রা. (আবু লুলু গোলামের খঞ্জরের আঘাতে) আহত হলেন, তখন তিনি বেদনা অনুভব করছিলেন।

তখন তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলতে লাগলেন, হে আমীরুল মুমিনীন, এ আঘাত জনিত কারণে (আল্লাহ না করুন) যদি আপনার কিছু (মৃত্যু) ঘঠে (তাঁতে চিন্তা-ভাবনা) বা দুঃখের কোন কারণ নেই) আপনি তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর সাহচর্যের হক উত্তমরূপে আদায় করেছেন।

এরপর (তাঁর থেকে) আপনি এ অবস্থায় পৃথক হয়েছেন, তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। তারপর আপনি আবু বকর রা.-এর সাহচর্য লাভ করেন এবং এর হকও উত্তমরূপে আদায় করেন।

এরপর (তাঁর থেকে) আপনি এ অবস্থায় পৃথক হয়েছেন যে, তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। তারপর আপনি (খলীফা মনোনীত হয়ে) সাহাবা কেরামের সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাদের হকও উত্তমরূপে আদায় করেছেন।

যদি আপনি তাদের থেকে পৃথক হয়ে পড়েন তবে আপনি অবশ্যই তাদের থেকে এমন অবস্থায় পৃথক হবেন যে তাঁরাও আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। উমর রা. বললেন, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য ও সন্তুষ্টি লাভ সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছ, তাতো আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ যা তিনি আমার প্রতি করেছেন।

এবং আবু বকর রা. এর সাহচর্য ও সন্তুষ্টি লাভের ব্যাপারে যা তুমি উল্লেখ করেছ তাও একমাত্র মহান আল্লাহর অনুগ্রহ যা তিনি আমার উপর করেছেন।

আর আমার যে অস্থিরতা তুমি দেখছ তা তোমার এবং তোমার সাথীদের কারণেই। আল্লাহর কসম, আমার নিকট যদি দুনিয়া ভর্তি স্বর্ণ থাকত তবে আল্লাহর আযাব দেখার পূর্বেই তা হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য ফিদয়া হিসাবে এসব বিলিয়ে দিতাম।

হাম্মাদ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর রা.-এর কাছে প্রবেশ করলাম………।

বুখারি হাদিস নং ৩৪২৮

হাদীস নং ৩৪২৮

ইউসুফ ইবনে মূসা রহ………..আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনা কোন একটি বাগানের ভিতর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম।

তখন এক ব্যক্তি এসে বাগানের দরজা খুলে দেওয়ার জন্য বলল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।

আমি তার জন্য দরজা খুলে দিয়ে দেখলাম যে, তিনি আবু বকর রা. তাকে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত সুসংবাদ দিলাম। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন। এরপর আরেক ব্যক্তি এসে দরজা খোলার জন্য বলল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।

আমি তার জন্য দরজা খুলে দিয়ে দেখলাম যে, তিনি উমর রা.। তাকে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত সুসংবাদ দিলাম। তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন।

এরপর আর একজন দরজা খোলার জন্য বলল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।

কিন্তু তার উপর কঠিন বিপদ আসবে। (তার জন্য দরজা খুলে দিয়ে) দেখলাম যে, তিনি উসমান রা.। তাকে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত সুসংবাদ দিলাম। তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন আর বললেন, আল্লাহই সাহায্যকারী।

বুখারি হাদিস নং ৩৪২৯

হাদীস নং ৩৪২৯

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর ইবনে খাত্তাব রা.-এর হাত ধরা অবস্থায় ছিলেন।

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ২ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪৩০ – উসমান ইবনে আফফান আবু আমর কুরাইশী রা.-এর ফযীলত ও মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪৩০

সুলাইমান ইবনে হারব রহ…………আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি প্রবেশ করলেন এবং বাগানের দরজা পাহাড়া দেওয়ার জন্য আমাকে আদেশ করলেন। তখন এক ব্যক্তি এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে আসতে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।

আমি (দরজা খুলে) দেখলাম যে, তিনি আবু বকর রা.। তারপর আরেকজন এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে আসতে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।

আমি (দরজা খুলে) দেখলাম যে, তিনি উমর রা.। তারপর আরেকজন এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, তাকে আসতে দাও এবং অচিরেই তাঁর উপর বিপদ আসবে এ কথাটির সাথে তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।

আমি (দরজা খুলে) দেখলাম যে, তিনি উসমান ইবনে আফফান রা.। হাম্মাদ রহ………..আবু মূসা রা. থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

আসিম রহ. (একজন রাবী) উক্ত বর্ণনায় আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাগানের এমন এক জায়গায় বসা ছিলেন যেখানে পানি ছিল এবং তাঁর হাঁটু অথবা এক হাঁটুর উপর অতিরিক্ত ছিলনা। যখন উসমান রা. আসলেন তখন হাঁটু কাপড় দিয়ে ঢেকে ফেললেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৩২

হাদীস নং ৩৪৩২

মুহাম্মদ ইবনে হাতিম ইবনে বাযী রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় (মর্যাদায়) আবু বকর রা.-এর সমকক্ষ কাউকে মনে করতাম না, তারপর উমর রা.-কে তারপর উসমান রা.-কে (মর্যাদা দিতাম) তারপর সাহাবগণের মধ্যে কাউকে কারও উপর প্রাধান্য দিতাম না।

আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ রহ. আবদুল আযীয রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় শাযান রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৩৩

হাদীস নং ৩৪৩৩

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….উসমান ইবনে মাওহাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক মিসরবাসী মক্কায় এসে হজ্জ সম্পাদন করে দেখতে পেল যে, কিছু সংখ্যক লোক একত্রে বসে আছে। সে বলল, এ লোকজন কারা ? তাকে জানানো হল এর কুরাইশ বংশের লোকজন।

সে বলল, তাদের মধ্যে ঐ শায়েখ ব্যক্তিটি কে ? তারা বললেন, ইনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.। সে ব্যক্তি (তাঁর নিকট এসে) বলল, হে আবদুল্লাহ ইবনে উমর আমি আপনাকে একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব; আপনি আমাকে বলুন, ১. আপনি কি এটা জানেন যে, উসমান রা. উহুদ যুদ্ধ (চলাকালে) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গিয়েছিলন।

তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। ২. সে বলল, আপনি জানেন কি উসমান রা. বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন? ইবনে উমর রা. উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। ৩. আপনি জানেন কি বায়আতে রিযওয়ানে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন? ইবনে উমর রা. বললেন, হ্যাঁ। লোকটি বলে উঠল, আল্লাহ আকবার।

ইবনে উমর রা. তাকে বললেন, এসে তোমাকে প্রকৃত ঘটনা বলে দেই। উসমান রা.-এর উহুদ যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যাওয়া সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাকে মাফ করে দিয়েছেন ও ক্ষমা করে দিয়েছেন।

(কুরআনে কারীমে এ বিষয়ে উল্লেখ আছে) আর তিনি বদর যুদ্ধে এজন্য অনুপস্থিত ছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা তাঁর স্ত্রী (রুকাইয়া রা.) রোগগ্রস্ত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, বদরের অংশ গ্রহণকারী ব্যক্তির সমপরিমাণ সাওয়াব ও গনীমতের অংশ মিলবে।

আর বায়আত রিযওয়ান থেকে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ হল, মক্কার বুকে তাঁর (উসমান রা.) চেয়ে সম্ভ্রান্ত অন্য কেউ যদি থাকতো তবে তাকেই তিনি উসমানের পরিবর্তে পাঠাতেন।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কায় প্রেরণ করেন। এবং তাঁর চলে যাওয়ার পর বায়আতে রিযওয়ান অনুষ্ঠিত হয়।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাতের প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, এটি উসমানের হাত। তারপর ডান হাত বাম হাতে স্থাপন করে বললেন যে, এ হল উসমানের বায়আত। ইবনে উমর রা. ঐ (মিসরীয়) লোকটিকে বললেন, তুমি এস এই জবাব নিয়ে যাও।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৩৪

হাদীস নং ৩৪৩৪

মুসাদ্দাদ রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ পাহাড়ে আরোহণ করলেন। তাঁর সাথে ছিলেন আবু বকর, উমর ও উসমান রা. তাদেরকে পেয়ে পাহাড়টি (আনন্দে) কেঁপে উঠল।

তিনি বললেন, হে উহুদ স্থির হও। (আনাস রা. বলেন) আমার মনে হয় তিনি পা দিয়ে পাহাড়কে আঘাত করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার উপর একজন নবী ও একজন সিদ্দীক ও দু’জন শহীদ ব্যতীত আর কেউ নেই।

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ২ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪৩৫ – উসমান ইবনে আফফান রা.-এর প্রতি বায়আত ও তাঁর উপর (জনগণের) ঐক্যমত হওয়ার ঘটনা এবং এতে উমর ইবনে খাত্তাব রা.- শাহাদাতের বর্ণনা।

হাদীস নং ৩৪৩৫

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ…………আমর ইবনে মায়মূন রহ. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর ইবনে খাত্তাব রা.-কে আহত হওয়ার কিছুদিন পূর্বে মদীনায় দেখেছি যে, তিনি হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান রা. ও উসমান ইবনে হুনায়ফ রহ.-এর নিকট দাঁড়িয়ে তাদেরকে লক্ষ্য করে বলছেন, (ইরাকবাসীর উপর কর ধার্যের ব্যাপারে) তোমরা এটা কি করলে?

তোমরা কী আশংকা করছ যে তোমরা ইরাক ভূমির উপর যে কর ধার্য করেছ তা বহনে ঐ ভূখন্ড অক্ষম? তারা বললেন, আমরা যে পরিমাণ কর ধার্য করেছি, ঐ ভূ-খন্ড তা বহনে সক্ষম। এতে অতিরিক্ত কোন বোঝা চাপান হয়নি। তখন উমর রা. বললেন, তোমরা পুনঃ চিন্তা করে দেখ যে তোমরা এ ভূখণ্ডের উপর যে কর আরোপ করেছ তা বহনে সক্ষম নয়?

বর্ণনাকারী বলেন, তাঁরা বললেন, না (সাধ্যাতীত কর আরোপ করা হয়নি) এরপর উমর রা. বললেন, আল্লাহ যদি আমাকে সুস্থ রাখের তবে ইরাকের বিধবাগণকে এমন অবস্থায় রেখে যাব যে তারা আমার পরে কখনো অন্য কারো মুখাপেক্ষী না হয়। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর চতুর্থ দিন তিনি (ঘাতকের আঘাতে) আহত হলেন।

যেদিন প্রত্যুষে তিনি আহত হন, আমি তাঁর কাছে দাঁড়িয়েছিলাম এবং তাঁর ও আমার মাঝে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. ব্যতীত অন্য কেউ ছিল না। উমর রা. (সালাত শুরু করার প্রাক্কালে) দু’কাতারের মধ্য দিয়ে চলার সময় বলতেন, কাতার সোজা করে নাও। যখন দেখতেন কাতারে কোন ত্রু টি নেই তখন তাকবীর বলতেন।

তিনি অধিকাংশ সময় সূরা ইউসুফ, সূরা নাহল অথবা এ ধরণের (দীর্ঘ) সূরা (ফজরের) প্রথম রাকআতে তিলাওয়াত করতেন, যেন অধিক পরিমাণে লোক প্রথম রাকআতে শরীক হতে পারেন।

(সেদিন) তাকবীর বলার পরেই আমি তাকে বলতে শুনলাম, একটি কুকুর আমাকে আঘাত করেছে অথবা বলেন, আমাকে আক্রমণ করেছেন। ঘাতক ‘ইলজ’ দ্রুত পলায়নের সময় দু’ধারী খজ্ঞর দিয়ে ডানে বামে আঘাত করে চলছে। এভাবে তের জনকে আহত কর। এদের মধ্যে সাতজন শহীদ হলেন।

এ অবস্থা দৃষ্টে এক মুসলিম তার লম্বা চাদরটি ঘাতকের উপর ফেলে দিলেন। ঘাতক যখন বুঝতে পারল সে ধরা পড়ে যাবে তখন সে আত্মহত্যা করল। উমর রা. আবদুর রাহমান ইবনে আউফ রা.-এর হাত ধরে আগে এগিয়ে দিলেন। উমর রা.-এর নিকটবর্তী যারা ছিল শুধুমাত্র তারাই ব্যাপরটি দেখতে পেল।

আর মসজিদের প্রান্তে যারা ছিল তারা ব্যাপারটি এর বেশী বুঝতে পারল না যে উমর রা. -এর কণ্ঠস্বর শুনা যাচ্ছে না। তাই তারা ‘সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ’ বলতে লাগলেন।

আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. তাদেরকে নিয়ে সংক্ষেপে সালাত আদায় করলেন। যখন মুসল্লীগণ চলে গেলেন, তখন উমর রা. বললেন, হে ইবনে আব্বাস রা. দেখ তো কে আমাকে আঘাত করল। তিনি কিছুক্ষণ অনুসন্ধান করে এসে বললেন, মুগীরা ইবনে শুবা রা.-এর গোলাম (আবু লুলু) উমর রা. জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ কারীগর গোলামটি ?

তিনি বললেন, হ্যাঁ। উমর রা. বললেন, আল্লাহ তার সর্বনাশ করুন। আমি তার সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমার মৃত্যু ইসলামের দারীদার কোন ব্যক্তির হাতে ঘটাননি। হে ইবনে আব্বাস রা. তুমি এবং তোমার পিতা মদীনায় কাফির গোলামের সংখ্যা বৃদ্ধি পছন্দ করতে।

আব্বাস রা.-এ নিকট অনেক অমুসলিম গোলাম ছিল। ইবনে আব্বাস রা. বললেন, যদি আপনি চান তবে আমি কাজ করে ফেলি অর্থাৎ আম তাদেরকে হত্যা করে ফেলি।

উমর রা. বললেন, তুমি ভুল বলছ। (তুমি তা করতে পার না) কেননা তারা তেমাদের ভাষায় কথা বলে তোমাদের কিবলামুখী হয়ে সালাত আদায় করে, তোমাদের ন্যায় হজ্জ করে। তারপর তাকে তাঁর ঘরে নেয়া হল। আমরা তাঁর সাথে চললাম। মানুষের অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছিল, ইতিপূর্বে তাদের উপর এতবড় মসীবত আর আসেনি।

কেউ কেউ বলছিলেন, ভয়ের কিছু নেই। আবার কেউ বলছিলেন, আমি তাঁর সম্পর্কে আশংকাবোধ করছি। তারপর খেজুরের শরবত আনা হল তিনি তা পান করলেন। কিন্তু তা তার পেট থেকে বেরিয়ে পড়ল। এরপর দুধ আনা হল, তিনি তা পান করলেন; তাও তার পেট থেকে বেরিয়ে পড়ল। তখন সকলই বুঝতে পারলেন মৃত্যু তাঁর অবশ্যম্ভাবী।

আমরা তাঁল নিকট উপস্থিত হলাম। অন্যান্য লোকজনও আসতে শুরু করল। সকলেই তার প্রশংসা করতে লাগল। তখন যুবক বয়সী একটি লোক এসে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন।

আপনার জন্য আল্লাহর সুসংবাদ রয়েছে; আপনি তা গ্রহণ করুন। আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এ সাহচর্য গ্রহণ করেছেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগেই আপনি তা গ্রহণ করেছেন, যে, সম্পর্কে আপনি নিজেই অবগত আছেন তারপর আপনি খলীফা হয়ে ন্যায় বিচার করেছেন।

তারপর আপনি শাহাদাত লাভ করেছেন। উমর রা. বললেন, আমি পছন্দ করি যে তা আমার জন্য ক্ষতিকর বা লাভজনক না হয়ে সমান সমান হয়ে যাক। যখন যুবকটি চলে যেতে উদ্যত হল তখন তার (পরিহিত) লুঙ্গিটি মাটি ছুয়ে যাচ্ছিল। (এ দেখে) উমর রা. বললেন, যুবকটকে আমার নিকট ডেকে আন।

(ছেলেটি আসল) তিনি বললেন, হে ভাতিজা, তোমার কাপড়টি উঠিয়ে নাও। এটা তোমার কাপড়ের পরিচ্ছন্নতার উপর এবং তোমার রবের নিকটও পছন্দীয়। (তারপর তিনি বললেন) হে আবদুল্লাহ ইবনে উমর তুমি হিসাব করে দেখ আমার ঋণের পরিমাণ কত। তাঁরা হিসাব করে দেখতে পেলেন ছিয়াশি হাজার (দিরহাম) বা এর কাছাকাছি।

তিনি বললেন, যদি উমরের পরিবার পরিজনের মাল দ্বারা তা পরিশোধ হয়ে যায়, তবে তা দিয়ে পরিশোধ করে দাও। অন্যথায় আদি ইবনে কাব এর বংশধরদের নিকট থেকে সাহায্য গ্রহণ কর। তাদের মাল দিয়েও যদি ঋণ পরিশোধ না হয় তবে কুরাইশ কবিলা থেকে সাহায্য গ্রহণ করবে এর বাহিরে কারো সাহায্য গ্রহণ করবে না।

আমার পক্ষ থেকে তাড়াতাড়ি ঋণ আদায় করে দাও। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা.-এর খেদমতে তুমি যাও এবং বল উমর আপনাকে সালাম পাঠিয়েছে। আমীরুল মুমিনীন, শব্দটি বলবে না।

কেননা এখন আমি মুমিনগণের আমীর নই। তাকে বল উমর ইবনে খাত্তাব তাঁর সাথীদ্বয়ের পাশে দাফন হওয়ার অনুমতি চাচ্ছেন। ইবনে উমর রা. আয়েশা রা.-এর খেদমতে গিয়ে সালাম জানিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন, প্রবেশ কর, তিনি দেখলেন, আয়েশা রা. বসে বসে কাঁদছেন।

তিনি গিয়ে বললেন, উমর ইবনে খাত্তাব রা. আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন এবং তাঁর সাথীদ্বয়ের পাশে দাফন হওয়ার জন্য আপনার অনুমতি চেয়েছেন। আয়েশা রা. বললেন, তা আমার আকাঙ্খা ছিল। কিন্তু আজ আমি এ ব্যাপারে আমার উপরে তাকে অগ্রাধিকার প্রদান করছি।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. যখন ফিরে আসছেন তখন বলা হল, এই যে আবদুল্লাহ ফিরে আসছে। তিনি বললেন, আমাকে উঠিয়ে বসাও। তখন এক ব্যক্তি তাকে ঠেস দিয়ে বসিয়ে ধরে রাখলেন। উমর রা. জিজ্ঞাসা করলেন, কি সংবাদ ? তিনি বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আপনি যা আকাঙ্খা করেছেন, তাই হয়েছে, তিনি অনুমতি দিয়েছেন।

উমর রা. বললেন, আলহামদুলিল্লাহ। এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় আমার নিকট ছিলনা। যখন আমার ওফাত হয়ে যাবে তখন আমাকে উঠিয়ে নিয়ে তাকে (আয়েশা রা.) আমার সালাম জানিয়ে বলবে, উমর ইবনে খাত্তাব রা. আপনার অনুমতি চাচ্ছেন।

যদি তিনি অনুমতি দেন তবে আমাকে প্রবেশ করাবে আর যদি তিনি অনুমতি না দেন তবে আমাকে সাধারণ মুসলমানদের গোরস্থানে নিয়ে যাবে। এ সময় উম্মুল মুমিনীন হাফসা রা.-কে কতিপয় মহিলাসহ আসতে দেখে আমরা উঠে পড়লাম। হাফসা রা. তাঁর কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ কাঁদলেন।

তারপর পুরুষগণ এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলে, তিনি ঘরের ভিতর চলে (গেলেন) ঘরের ভেতর হতেও আমরা তাঁর কান্নার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। তাঁরা (সাহাবীগণ) বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি ওয়াসিয়্যাত করুন এবং খলীফা মনোনীত করুন।

উমর রা. বললেন, খিলাফতের জন্য এ কয়েকজন ব্যতীত অন্য কাউকে আমি যোগ্যতম পাচ্ছি না, যাদের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইন্তিকালের সময় রাযী ও খুশী ছিলেন। তারপর তিনি তাদের নাম বললেন, আলী, উসমান, যুবাইর, তালহা, সাদ ও আবদুর রাহমান ইবনে আউফ রা. এবং বললেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. তোমাদের সাথে থাকবে।

কিন্তু সে খিলাফত লাভ করতে পারবে না। তা ছিল শুধু সান্ত্বনা হিসাবে। যদি খিলাফতের দায়িত্ব সাদ রা.-এর উপর ন্যস্ত করা হয় তবে তিনি এর জন্য যোগ্যতম ব্যক্তি।

আর যদি তোমাদের মধ্যে অন্য কেউ খলীফা নির্বাচিত হন তবে তিনি যেন সর্ব বিষয়ে তাদের সাহায্য ও পরামর্শ গ্রহণ করেন। আমি তাকে (কুফার গভর্নরের পদ থেকে) অযোগ্যতা বা খিয়ানতের কারণে অপসারণ করিনি।

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ২ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

আমার পরে (নির্বাচিত) খলীফাকে আমি ওয়াসিয়্যাত করছি, তিনি যেন প্রথম যুগের মুহাজিরগণের হক সম্পর্কে সচেতন থাকেন, তাদের মান-সম্মান রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন।

এবং আমি তাকে আনসার সাহাবীগণের যারা মুহাজিরগণের আগমনের পূর্বে এই নগরীতে বসবাস করে আসছিলেন এবং ঈমান এনেছেন তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার ওয়সিয়্যাত করছি, যে, তাদের মধ্যে নেককারগণের ওযর আপত্তি যেন গ্রহণ করা হয় এবং তাদের মধ্যে কারোর বিভিন্ন শহরের আধিবাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করেন।

কেননা তাঁরাও ইসলামের হেফাযতকারী। এবং তারাই ধন-সম্পদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ যাকাত আদায় করা হয়। আমি তাকে পল্লীবাসীদের সহিত সদ্ব্যবহার করারও ওয়সিয়্যাত করছি।

কেননা তারাই আরবের ভিত্তি এবং ইসলামের মূল শক্তি। তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ এনে তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দেয় হয়। আমি তাঁতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জিম্মিদের (অর্থাৎ সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়) বিষয়ে ওয়াসিয়্যাত করছি যে, তাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার যেন পুরা করা হয়।

(তারা কোন শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে) তাদের পক্ষাবলম্বনে যেন যুদ্ধ করা হয়, তাদের শক্তি সামর্থ্যের অধিক জিযিয়া (কর) যেন চাপানো না হয়। উমর রা.-এর ইন্তিকাল হয়ে গেলে আমরা তাঁর লাশ নিয়ে পায়ে হেঁটে চললাম। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. আয়েশা রা.-কে সালাম করলেন এবং বললেন, উমর ইবনে খাত্তাব রা. অনুমতি চাচ্ছেন।

তিনি বললেন, তাকে প্রবেশ করাও। এরপর তাকে প্রবেশ করান হল এবং তাঁর সঙ্গীদ্বয়ের পার্শ্বে দাফন করা হল। যখন তাঁর দাফন কার্য সম্পন্ন হল, তখন ঐ ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হলেন।

তখন আবদুর রাহমান রা. বললেন, তোমরা তোমাদের বিষয়টি তোমাদের মধ্যে থেকে তিনজনের উপর ছেড়েও দাও। তখন যুবাইর রা. বললেন, আমি আমরা বিষয়টি আলী রা.-এর উপর অর্পণ করলাম। তালহা রা. বললেন, আমার বিষয়টি উসমান রা.-এর উপর ন্যস্ত করলাম।

সাদ রা. বললন, আমার বিষয়টি আবদুর রাহমা ইবনে আউফ রা.-এর উপর ন্যস্ত করলাম। তারপর আবদুর রাহমান রা. উসমান ও আলী রা-কে বললেন,আপনাদের দুজনের মধ্য থেকে কে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে ইচ্ছা করেন? (একজন অব্যাহতি দিলে) এ দায়িত্ব অপর জনের উপর অর্পণ করব।

আল্লাহ ইসলামের হক আদায় করা তাঁর অন্যতম দায়িত্ব হবে। কে অধিকতর যোগ্য সে সম্পর্কে দুজনেরই চিন্ত করা উচিৎ। ব্যক্তিদ্বয় (উসমান ও আলী রা.) নীরব থাকলেন। তখন আবদুর রাহমান রা. নিজেই বললেন, আপনারা এ দায়িত্ব আমার উপর ন্যস্ত করতে পারেন কি?

আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আপনাদের মধ্যকার যোগ্যতম ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে একটুও ত্রু টি করব না। তাঁরা উভয়ে বললেন, হ্যাঁ। তাদের একজনের (আলী রা.-এর) হাত ধরে বললেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আপনার যে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা এবং ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামিতা রয়েছে তা আপনিও ভালভাবে জানেন।

আল্লাহর ওয়াস্তে এটা আপনার জন্য জরুরী হবে যে যদি আপনাকে খলীফা মনোনীত করি তাহলে আপনি ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন।

আর যদি উসমান রা.-কে মনোনীত করি তবে আপনি তাঁর কথা শুনবেন এবং তাঁর প্রতি অনুগত থাকবেন। তারপর তিনি অপরজনের (উসমানের রা.-এর) সঙ্গে একান্তে অনুরূপ কথা বললেন।

এভাবে অঙ্গীকার গ্রহণ করে তিনি বললেন, হে উসমান রা. আপনার হাত বাড়িয়ে দিন। তিনি (আবদুর রাহমান রা. তাঁর হাতে বায়আত করলেন।

তারপর আলী রা. তাঁর (উসমান রা.-এর বায়আত করলেন)। এরপর মদীনাবাসীগ অগ্রসর হয়ে সকলেই বায়আত করলেন।

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ২ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪৩৬ – আবুল হাসান আলী ইবনে আবু তালিব কুরাইশী হাশিমী রা.-এর মর্যদা।

হাদীস নং ৩৪৩৬

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……….সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি আগমীকাল এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা দিব যার হাতে আল্লাহ বিজয় দান করবেন। রাবী বলেন, তারা এই আগ্রহ ভরে রাত্রি যাপন করলেন যে, কাকে ঐ পতাকা দেয়া হবে।

যখন সকাল হল তখন সকলেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে হাযির হলেন। তাদের প্রত্যেকেই এ আশা পোষণ করছিলেন যে পতাকা তাকে দেয়া।

হবে। তারপর তিনি বললেন, আলী ইবনে আবু তালিব কোথায়? তাঁরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তিনি চক্ষু রোগে আক্রান্ত। তিনি বললেন, কাউকে পাঠিয়ে তাকে আমার কাছে নিয়ে এস।

যখন তিনি এলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুচোখে থুথু লাগিয়ে দিলেন এবং তাঁর জন্য দু’আও করলেন। এতে তিনি এমন সুস্থ হয়ে গেলেন যেন তাঁর চোখে কোন রোগই ছিলনা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পতাকাটি দিলেন।

আলী রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মত না হয়ে যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি কি তাদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাব। তিনি বললেন, তুমি সোজা অগ্রসর হতে থাক এবং তাদের আঙ্গিনায় উপনীত হয়ে তাদেরকে জানিয়ে দাও।

আল্লাহর কসম, তোমার দ্বারা যদি একটি মানুষও হিদায়েত প্রাপ্ত হয়, তা হবে তোমার জন্য লাল রঙ্গের উট প্রাপ্তির চেয়েও অধিক উত্তম।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৩৭

হাদীস নং ৩৪৩৭

কুতাইবা রহ………..সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খায়বার যুদ্ধে যাননি। কেননা তাঁর চোখে অসুখ ছিল।

এতে তিনি (মনে মনে) বললেন, আমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (জিহাদে) যাব না? তারপর তিনি বেড়িয়ে পড়লেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মিলিত হলেন।

যেদিন সকালে আল্লাহ বিজয় দান করলেন, তার পূর্ব রাত্রে (সন্ধ্যায়) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আগামীকাল সকালে আমি এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা প্রদান করব, অথবা বলেছিলেন যে, এমন এক ব্যক্তি ঝান্ডা গ্রহণ করবে যাকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভালবাসেন, অথবা বলেছিলেন, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসে।

তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা বিজয় দান করবেন। তারপর আমরা দেখতে পেলাম তিনি হলেন আলী রা. অথচ আমরা তাঁর সম্পর্কে এমনটি আশা করিনি। তাই সকলেই বলে উঠলেন, এই যে আলী রা. ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেই (পতাকা) দিলেন এবং তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ তা’আলা বিজয় দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৩৮

হাদীস নং ৩৪৩৮

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলাম রহ………..আবু হাযিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি সাহল ইবনে সাদ রা.-এর খেদমতে হাযির হয়ে বললেন, মদীনার অমুক আমীর মিম্বরের নিকট বসে আলী রা. সম্পর্কে অপ্রিয় কথা বলছে।

তিনি বললেন, সে কি বলছে? সে বলল, সে তাকে আবু তুরাব রা. বলে উল্লেখ করছে। সাহল রা. (একথা শুনে) হেসে দিলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম, তাঁর এ নাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই রেখে ছিলেন। এ নাম অপেক্ষা তাঁর নিকট অধিক প্রিয় আর কোন নাম ছিল না।

আমি (নাম রাখার) ঘটনাটি জানার জন্য সাহল রা. -এর নিকট আগ্রহ প্রকাশ করলাম এবং তাকে বললাম, হে আবু আব্বা, এটা কিভাবে হয়েছিল।

তিনি বললেন, (একদিন) আলী রা. ফাতিমা রা. এর নিকট গেলেন এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে সমজিদে শুয়ে রইলেন। (অল্পক্ষণ পর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার চাচাত ভাই (আলী) কোথায়?

তিনি বললেন, মসজিদে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন। পরে তিনি তাকে এমন অবস্থায় পেলেন যে তাঁর চাদর পিঠ থেকে সরে গিয়েছে।

তাঁর পিঠে ধুলো-বালি লেগে গেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পিঠ থেকে ধূলা-বালি ঝাড়তে ঝাড়তে বলতে লাগলেন, উঠে বস হে আবু তুরাব। এ কথাটি তিনি দু’বার বলেছিলেন।

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ২ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪৩৯

হাদীস নং ৩৪৩৯

মুহাম্মদ ইবনে রাফি রহ…………সাদ ইবনে উবাদইদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে উমর রা.-এর নিকট এসে উসমান রা.-এর সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করল।

তিনি উসমান রা.-এর কতিপয় ভাল গুণ বর্ণনা করলেন। ইবনে উমর রা. ঐ ব্যক্তিকে বললেন,মনে হয় এটা তোমাদের কাছে খারাপ লাগছে। সে বলল, হ্যাঁ।

ইবনে উমর রা. বললেন, আল্লাহ (তোমাকে) অপমানিত করুন! তারপর সে ব্যক্তি আলী রা.-এর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি তাঁরও কতিপয় ভাল গুণ বর্ণনা করলেন এবং বললেন, ঐ দেখ।

তাঁর ঘরটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরগুলোর মধ্যে অবস্থিত এরপর তিনি বললেন, মেন হয় এসব কথা শুনতে তোমার খারাপ লাগছে। সে বলল, হ্যাঁ। ইবনে উমর রা. বললন, আল্লাহ তোমাকে লাঞ্ছিত করুন। যাও, আমার বিরুদ্ধে তোমার শক্তি ব্যয় কর।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৪০

হাদীস নং ৩৪৪০

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ…………আলী রা. থেকে বর্ণিত যে, ফাতিমা রা. যাতা চলানোর কষ্ট সম্পর্কে একদিন (আমার নিকট) অভিযোগ প্রকাশ করলেন।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দী আসল। ফাতিমা রা. (একজন গোলাম পাওয়ার আশা নিয়ে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেদমতে গেলেন।

কিন্তু তাকে না পেয়ে, আয়েশা রা.-এর কাছে তাঁর কথা বলে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘরে আসলেন তখন ফাতিমা রা. এর আগমন ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আয়েশা রা. তাকে অবহিত করলেন।

(আলী রা.) বলেন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এখানে আসলেন, যখন আমরা বিছানায় শুয়ে পড়েছিলাম। তাকে দেখে আমি উঠে বসতে চাইলাম। কিন্তু তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় থাক এবং তিনি আমাদের মাঝখানে এমনভাবে বসে পড়লেন যে আমি তাঁর পদদ্বয়ের শীতলতা আমার বক্ষে অনুভব করলাম।

তিনি বললেন, আমি কি তোমরা যা চেয়েছিলে তার চেয়েও উত্তম জিনিস শিক্ষা দিব না? (তা হল) তোমরা যখন ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বিছানায় যাবে তখন চৌত্রিশ বার ‘আল্লাহু আকবার’ তেত্রিশবার ‘সুবহানাল্লাহ’ তেত্রিশবার ‘আল হামদুলিল্লাহ’ পড়ে নিবে। এটা খাদিম (যা তোমরা চেয়েছিলে) অপেক্ষা অনেক উত্তম।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৪১

হাদীস নং ৩৪৪১

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবুক যুদ্ধের প্রাক্কালে) আলী রা.-কে বলেছিলেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যেভাবে হারূন আ. মূসা আ. এর প্রতিনিধিত্বের মর্যাদা লাভ করেছিলেন, তুমিও আমার নিকট সেই মর্যাদা লাভ কর।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৪২

হাদীস নং ৩৪৪২

আলী ইবনে জাদ রহ…………আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা পূর্বে থেকে যেভাবে ফয়সালা করে আসছে সেভাবেই কর কেননা পারস্পারিক বিবাদ আমি অপছন্দ করি।

যেন সকল লোক একদল ভুক্ত হয়ে থাকে। অথবা আমি এমতাবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় হই যেভাবে আমার সাথীগণ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন।

(মুহাম্মদ) ইবনে সীরীন রহ. এ ধারণা পোষণ করতেন যে, আলী রা.-এর (প্রথম খলীফা হওয়া সম্পর্কে) যে সব কথা তার থেকে (রাফেযী সম্প্রদায় কর্তৃক) বর্ণিত তার অধিকাংশই ভিত্তিহীন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৪৩ – জাফর ইবনে আবু তালিব হাশিমী রা. এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪৪৩

আহমদ ইবনে আবু রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, লোকজন (অভিযোগের সুরে) বলে থাকেন যে, আবু হুরায়রা রা. অনেক বেশী হাদীস বর্ণনা করে থাকেন।

বস্তুতঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে আত্মতৃপ্তি নিয়ে পড়ে থাকতাম। ঐ সময় আমি সুস্বাদু রুটি ভক্ষণ করিনি, দামী বস্ত্র পরিধান করিনি। তখন কেউ আমার খেদমত করত না। এবং আমি ক্ষুধার জ্বালায় পাথরময় যমিনের সাথে পেট চেপে ধরতাম।

কোন কোন সময় কুরআনে কারীমের আয়াত বিশেষ, আমার জানা থাকা সত্ত্বেও অন্যদেরকে জিজ্ঞাসা করতাম যেন, তারা আমাকে তাদের বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে কিছু আহারের ব্যবস্থা করেন।

গরীব মিসকিনদের জন্য সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যক্তি ছিলেন জাফর ইবনে আবু তালিব রা.। তিনি প্রায়ই আমাকে নিজ ঘরে নিয়ে যেতেন এবং যা ঘরে থাকত তাই আমাকে আহার করিয়ে দিতেন।

(কোন সময় এমন হত যে তাঁর ঘরে কিছুই থাকেনা) ঘিয়ের শূন্য পাত্র এনে তিনি আমাদের সামনে তা ভেঙ্গে দিতেন আর তা চেটে খেতাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৪৪

হাদীস নং ৩৪৪৪

আমর ইবনে আলী রহ……….শাবী রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. যখন জাফর রা.-এর ছেলে (আবদুল্লাহ) কে সালাম করতেন তখন বলতেন, হে দু’বাহু বিশিষ্ট ব্যক্তির পুত্র।

আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) রহ. বলেন, বলা হয় كن في جناحى অর্থ তুমি আমার পাশে থাক। প্রত্যেক বস্তুর দু’পাশকে দু’বাহু বলা হয়।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৪৫ – আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রা. এর আলোচনা।

হাদীস নং ৩৪৪৫

হাসান ইবনে মুহাম্মদ রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, উমর রা. (এর খিলাফত কালে) অনাবৃষ্টির কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রা.।

এর ওয়াসিলা নিয়ে বৃষ্টি বর্ষণের দু’আ করতেন। তিনি বলতেন, হে আল্লাহ ! আমরা অনাবৃষ্টি দেখা দিলে আমাদের নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াসিলা নিয়ে দু’আ করতাম তুমি (আমাদের দু’আ কবূল করে) বৃষ্টি বর্ষণ করতে, এখন আমরা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা আব্বাস রা.-এর ওয়াসিলায় বৃষ্টি বর্ষণের দু’আ করছি।

তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর। তখন বৃষ্টি হত।

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ২ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪৪৬ – রাসূল (সা.) এর নিকট আত্মীয়দের মর্যাদা এবং ফাতিমা বিনতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪৪৬

আবুল ইয়ামান রহ………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর রা. এর নিকট ফাতিমা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত অংশ দাবী করলেন যা আল্লাহ তা’আলা তাকে বিনাযুদ্ধে দান করেছিলেন, যা তিনি সাদকা স্বরূপ মদীনা, ফাদাকে রেখে গিয়েছিলেন এবং খায়বারের এক-পঞ্চমাংশ হতে যে অবশিষ্ট ছিল তাও।

আবু বকর রা. (তার উত্তরে) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের (নবীগণের মালের ওয়ারিস হয় না। আমরা যা কিছু রেখে যাই তা সবই সাদকা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পরিবারবর্গ এ মাল থেকে অর্থাৎ আল্লাহর মাল থেকে খেতে পারবে।

তবে (আহারের জন্য) প্রয়োজনের অধিক নিতে পারবে না। আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তা করব যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে গেছেন।

এরপর আলী রা. শাহাদত (হামদ-সানা) পাঠ করে বললেন, হে আবু বকর ! আমরা আপনার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবহিত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাদের যে আত্মীয়তা ঘনিষ্ঠতা রয়েছে তা এবং তাদের অধিকারের কথাও উল্লেখ করলেন।

আবু বকর রা. ও এ বিষয়ে উল্লেখ করে বললেন, আল্লাহর কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, আমার আত্মীয়দের সাথে সদাচারণ করার চেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়দের সাথে সদাচরণ করা আমি অধিক পছন্দ করি।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৪৭

হাদীস নং ৩৪৪৭

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব রহ………..আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারবর্গের প্রতি তোমরা অধিক সম্মান দেখাবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৪৮

হাদীস নং ৩৪৪৮

আবু ওয়ালিদ রহ……….মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ফাতিমা আমার (দেহের) টুকরা। যে তাকে কষ্ট দিবে, সে যেন আমাকে কষ্ট দিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৪৪৯

হাদীস নং ৩৪৪৯

ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাতের সময় যে রোগে আক্রান্ত হন তখন তাঁর কন্যা ফাতিমা রা.-কে ডেকে পাঠালেন।

(তিনি আসলে) চুপিচুপি কি যেন তাকে বললেন, তিনি এতে কাঁদতে লাগলেন। তাপর তিনি তাকে ডেকে পুনরায় চুপিচুপি কি যেন বললেন, এবারে তিনি হাসতে লাগলেন।

আমি তাকে (হাসি-কান্নার) কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জানালেন যে, তিনি এ রোগে ওফাত লাভ করবেন, এতে আমি কাঁদতে শুরু করি।

এরপর তিনি চুপেচুপে বললেন, আমি তাঁর পরিবার বর্গের মধ্যে সর্বপ্রথম তাঁর সাথে মিলিত হব, তখন আমি হাসতে শুরু করি।

সাহাবাগণের ফযীলত পার্ট ২ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪৫০ – যুবাইর ইবনে আওয়াম রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪৫০

খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ………মারওয়ান ইবনে হাকাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উসমান রা. কঠিন নাকের পীড়ায় (নাক দিয়ে রক্তপাত) আক্রান্ত হলেন (একত্রিশ হিজরী) সনে যে সনকে নাকের পীড়ার সন বলা এ কারণে তিনি ঐ বছর হজ্জ পালন করতে পারলেন না এবং ওসিয়ত করলেন।

ঐ সময় কুরাইশের এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল, আপনি কাউকে আপনার খলীফা মনোনীত করুন। উসমান রা. জিজ্ঞাসা করলেন, জনগণ কি একথা চলেছে?

সে বলল, হ্যাঁ, উসমান রা. বললেন, বলতো কাকে (মনোনীত করব?) রাবী বলেন তখন সে ব্যক্তি নীরব হয়ে গেল। তারপর অপর এক ব্যক্তি আসল, (রাবী বলেন) আমার ধারণা সে হারিস (ইবনে হাকাম মারওয়ানের ভাই) ছিল।

সেও বলল, আপনি খলীফা মনোনীত করুন। উসমান রা. জিজ্ঞাসা করলেন, জনগণ কি চায়? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কাকে? রাবী বলেন, সে নীরব হয়ে গেল।

উসমান রা. বললেন, সম্ভবতঃ তারা যুবাইর রা.-এর নাম প্রস্তাব করেছে। সে বলল, হ্যাঁ।

উসমান রা. বললেন, ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, আমার জানামতে তিনিই সর্বোত্তম ব্যক্তি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বাধিক প্রিয়পাত্র ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৩ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৪ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৫ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

সহিহ বুখারী

মন্তব্য করুন