সাহাবাগণের ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

সাহাবাগণের ফযীলত অধ্যায়

 সাহাবাগণের ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

Table of Contents

সাহাবাগণের ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৩৮৭ – রাসূল (সা.) এর সাহাবা কেরামের ফযীলত। মুসলমানদের মধ্য থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য পেয়েছেন অথবা তাকে যিনি দেখেছেন তিনি তাঁর সাহাবী।

হাদীস নং ৩৩৮৭

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জনগণের উপর এমন এক সময় আসবে যখন তাদের বিরাট সৈন্যবাহিনী জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হবে।

তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি যিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহচর্য লাভ করেছেন? (অর্থাৎ সাহাবী) তাঁরা বললেন, হ্যাঁ আছেন। তখন (ঐ সাহাবীর বরকতে) তাদেরকে জয়ী করা হবে।

তারপর জনগণের উপর পুনরায় এমন এক সময় আসবে যখন তাদের বিরাট বাহিনী যুদ্ধে লিপ্ত থাকবে। তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভে ধন্য কিংবা কোন ব্যক্তির (সাহাবীর) সাহচার্য লাভ করেছেন?

(অর্থাৎ তাবেয়ী) তখন তারা বলবেন, হ্যাঁ, আছেন। তখন (ঐ তাবেয়ীর বরকতে) তাদেরকে জয়ী করা হবে। এরপর লোকদের উপর এমন এক সময় আসবে তাদের বিরাট বাহিনী জিহাদে অংশগ্রহণ করবে।

তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের সাহচার্য লাভকারী কোন ব্যক্তির (তাবেয়ীর) সাহচার্য লাভ করেছেন?

(অর্থাৎ তাবে-তাবেয়ী) বলা হবে আছেন। তখন তাদেরকে (ঐ তাবে-তাবেয়ীর বরকতে) জয়ী করা হবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৮৮

হাদীস নং ৩৩৮৮

ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ রহ…………ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ আমার (সাহাবীগণের) যুগ। এরপর তৎ-সংলগ্ন যুগ (তাবেয়ীদের যুগ)।

এরপর তৎসংলগ্ন (তাবে-তাবেয়ীদের যুগ)। ইমরান রা. বলেন, তিনি তাঁর যুগের পর দুযুগ অথবা তিন যুগ বলছেন তা আমার স্মরণ নেই। তারপর (তোমাদের যুগের পর) এমন লোকের আগমন ঘটবে যারা সাক্ষ্য প্রদানে আগ্রহী হবে অথচ তাদের নিকট সাক্ষ্য চাওয়া হবে না।

বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে তাদেরকে কেউ বিশ্বাস করবে না। তারা মান্নত করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে না। পার্থিব ভোগ বিলাসের কারণে তাদের মাঝে চর্বিযুক্ত স্থলদেহ প্রকাশ পাবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৮৯

হাদীস নং ৩৩৮৯

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের সর্বোত্তম মানুষ আমার যুগের মানুষ (সাহাবীগণ)।

এরপর তৎসংলগ্ন যুগ। তারপর তৎসংলগ্ন যুগ। তারপর এমন লোকদের আগমন হবে যাদের কেউ কেউ সাক্ষ্য প্রদানের পূর্বে কসম এবং কসমের পূর্বে সাক্ষ্য প্রদান করবে।

(মিথ্যাকে প্রমাণিত করার জন্য সাক্ষ্য, হলফ ইত্যাদি নির্দ্বিধায় করতে থাকবে) ইবরাহীম (নাখয়ী; রাবী) বলেন, ছোট বেলায় আমাদের মুরুব্বীগণ আল্লাহর নামে কসম করে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য এবং ওয়াদা-অঙ্গীকার করার কারণে আমাদেরকে মারধর করতেন।

 সাহাবাগণের ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৩৯০ – মুহাজিরগণের মর্যাদা ও ফযীলত তাদের মধ্য থেকে আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে আবু কুহাফা তায়মী রা.।

হাদীস নং ৩৩৯০

আবদুল্লাহ ইবনে রাজা রহ…………বারা (ইবনে আযিব) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর রা. আযিব রা.-এর নিকট থেকে তের দিরহাম মূল্যের একটি হাওদা ক্রয় করলেন। আবু বকর রা. আযিবকে বললেন, তোমার ছেলে বারাকে হাওদাটি আমার কাছে পৌঁছে দিতে বল।

আযিব রা. বললেন, আমি বারাকে বলব না যতক্ষণ আপনি আমাদেরকে (হিজরতের ঘটনা) সবিস্তার বর্ণনা করে শুনাবেন যে আপনি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি করছিলেন যখন আপনারা (হিজরতের উদ্দেশ্যে) মক্কা থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন?

আর মক্কার মুশরীকগণ আপনাদের পিছু ধাওয়া করেছিল। আবু বকর রা. বললেন, আমরা মক্কা থেকে বেরিয়ে সারারাত এবং পরের দিন দুপুর পর্যন্ত অবিরাম চললাম।

যখন ঠিক দুপুর হয়ে গেল, এবং উত্তাপ তীব্রতর হল আমি চারদিকে চেয়ে দেখলাম কোথাও কোন ছায়া দেখা যায় কিনা, যেন আমরা সেখানে বিশ্রাম নিতে পারি। তখন একটি বৃহদাকার পাথর নযরে পড়ল।

এই পাথরটির পাশে কিছু ছায়াও আছে। আমি সেখানে আসলাম এবং ঐ ছায়াবিশিষ্ট স্থানটি সমতল করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য বিছানা করে দিলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর নবী, আপনি এখানে শুয়ে পড়ুন, তিনি শুয়ে পড়লেন।

আমি চতুর্দিকের‌ অবস্থা পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়লাম, আমাদের তালাশে কেউ আসছে কিনা? ঐ সময় আমি দেখতে পেলাম, একজন মেষ রাখাল তার ভেড়া ছাগল হাঁকিয়ে ঐ পাথরের দিকে আসছে।

সেও আমাদের মত ছায়া তালাশ করছে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে যুবক, তুমি কার রাখাল? সে একজন কুরাঈশের নাম বলল, আমি তাকে চিনতে পারলাম।

আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তোমার বকরীর পালে দুগ্ধবতী বকরী আছে কি? সে বলল, হ্যাঁ, আছে। আমি বললাম, তুমি কি আমাদেরকে দুধ দোহন করে দিবে?

সে বলল, হ্যাঁ, দিব। আমি তাকে তা দিতে বললাম তৎক্ষণাৎ সে বকরীর পাল থেকে একটি বকরী ধরে নিয়ে এল। এবং পিছনের পা দুটি বেঁধে নিল। আমি তাকে বললাম, বকরীর স্তন দুটি ঝেড়ে মুছে ধূলাবালি থেকে পরিষ্কার করে নেও এবং তোমার হাত দুটি পরিষ্কার কর।

তিনি এক হাত অন্য হাতের উপর মেরে (পরিষ্কারের পদ্ধতিটিও) দেখালেন। এরপর সে আমাদিগকে পাত্রভরে দুধ এনে দিল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য এমন একটি চামড়ার পাত্র সাথে রেখে ছিলাম যার মুখ কাপড় দ্বারা বাঁধা ছিল।

আমি দুধের মধ্যে সামান্য পানি মিশিয়ে দিলাম যেন দুধের নিম্নভাগও ঠান্ডা হয়ে যায়। এরপর আমি দুধ নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে হাযির হয়ে দেখলাম তিনি জেগেছেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি দুধ পান করুন। তিনি দুধ পান করলেন; আমি খুশী হলাম।

তারপর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের রওয়ানা হয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, হয়েছে। আমরা রওয়ানা হয়ে পড়লাম। মক্কাবাসী মুশরিকরা আমাদের অনুসন্ধানে ছুটাছুটি করছে।

কিন্তু সুরাকা ইবনে মালিক ইবনে জশাম ব্যতীত আমাদের সন্ধান তাদের অন্য কেউ পায়নি। সে ঘোড়ায় চড়ে আসছিল। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অনুসন্ধানকারী আমাদের নিকটবর্তী। তিনি বললেন, চিন্তা করনা, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৯১

হাদীস নং ৩৩৯১

মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ………..আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন (সাওর) গুহায় আত্মগোপন করেছিলাম। তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, যদি কাফেরগণ তাদের পায়ের নীচের দিকে দৃষ্টিপাত করে তবে আমাদেরকে দেখে ফেলবে। তিনি বললেন, হে আবু বকর ! ঐ দুই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কি ধারণা স্বয়ং আল্লাহ যাদের তৃতীয় জন।

 সাহাবাগণের ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৩৯২ – রাসূল (সা.) এর উক্তি: আবু বকর রা. এর দরজা ব্যতীত সব দরজা বন্ধ করে দাও।

হাদীস নং ৩৩৯২

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সাহাবীদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদানকালে বললেন, আল্লাহ তাঁর এক প্রিয় বান্দাকে পার্থিব ভোগ বিলাস এবং তাঁর নিকট রক্ষিত নিয়ামতসমূহ এ দুয়ের মধ্যে যে কোন একটি গ্রহণ করার ইখতিয়ার দান করেছেন এবং ঐ বান্দা আল্লাহর নিকট রক্ষিত নিয়ামতসমূহ গ্রহণ করেছে।

রাবী বলেন তখন আবু বকর রা. কাঁদতে লাগলেন। তাঁর কান্না দেখে আমরা আশ্চর্যান্বিত হলাম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বান্দার খবর দিচ্ছেন যাকে এভাবে ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। (তাতে কান্নার কি কারণ থাকতে পারে?) কিন্তু পরে আমরা বুঝতে পারলাম, ঐ বান্দা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন এবং আবু বকর রা. আমাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি তার ধন-সম্পদ দিয়ে, তার সাহচার্য দিয়ে আমার উপর সর্বাধিক ইহসান করেছে সে ব্যক্তি হল আবু বকর রা.। আমি যদি আমার রব ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু রূপে গ্রহণ করতাম, তবে অবশ্যই আবু বকরকে করতাম।

তবে তার সাথে আমার দীনি ভ্রাতৃত্ব, আন্তরিক মুহাব্বত রয়েছে। মসজিদের দিকে আবু বকরের দরজা ব্যতীত অন্য কোন দরজা খোলা রাখা যাবে না।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৯৩ – রাসূলে আকরাম (সা.) এর পরেই আবু বকরের মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৩৯৩

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় সাহাবীগণের পরস্পরের মধ্যে মর্যাদা নিরূপণ করতাম। আমরা সর্বাপেক্ষা মর্যাদা দিতাম আবু বকর রা.-কে তারপর উমর ইবনে খাত্তাব রা.-কে তারপর উসমান ইবনে ইবনে আফফান রা.-কে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৯৪ – রাসূল (সা.) এর উক্তি: আমি যদি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু রূপে গ্রহণ করতাম।

হাদীস নং ৩৩৯৪

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি আমার উম্মতের কাউকে যদি অন্তরঙ্গ বন্ধু রূপে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বকরকেই গ্রহণ করতাম। তবে তিনি আমার (দীনি) ভাই ও সাহাবী।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৯৫

হাদীস নং ৩৩৯৫

মুআল্লা ইবনে আসাদ ও মূসা ইবনে সাঈদ রহ………আইয়্যূব রহ. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি কাউকে যদি অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তবে তাকেই (আবু বকরকেই) গ্রহণ করতাম। কিন্তু ইসলামী ভ্রাতৃত্বই সর্বোত্তম। কুতাইবা রহ……….আইয়্যূব থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৯৬

হাদীস নং ৩৩৯৬

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আবু মুলাইকা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুফাবাসীগণ দাদার (মিরাস) সম্পর্কে জানতে চেয়ে ইবনে যুবাইরের নিকট পত্র পাঠালেন, তিনি বললেন, ঐ মহান ব্যক্তি যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এ উম্মতের কাউকে যদি অন্তরঙ্গ বন্ধু রূপে গ্রহণ করতাম, তবে তাকেই করতাম।

(অর্থাৎ আবু বকর রা.) তিনি দাদাকে মিরাসের ক্ষেত্রে পিতার সমপর্যায়ভুক্ত করেছেন।

 সাহাবাগণের ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৩৯৭ – পরিচ্ছেদ ২০৮৪

হাদীস নং ৩৩৯৭

হুমাইদী ও মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ রহ………যুবাইর ইবনে মুতঈম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে এল।

(আলোচনা শেষে যাওয়ার সময়) তিনি তাকে আবার আসার জন্য বললেন। মহিলা বলল, আমি এসে যদি আপনাকে না পাই তবে কি করব?

একথা দ্বারা মহিলাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের প্রতি ইঙ্গিত করেছিল। তিনি বললেন, যদি আমাকে না পাও তবে আবু বকরের নিকট আসবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৯৮

হাদীস নং ৩৩৯৮

আহমদ ইবনে আবু তৈয়্যেব রহ…………আম্মার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন অবস্থায় দেখেছি যে তাঁর সাথে মাত্র পাঁচজন গোলাম, (বিলাল, যায়েদ ইবনে হারিসা, আমির ইবনে ফুহাইরা, আবু ফুকীহা ও আম্মারের পিতা ইয়াসির) দুজন মহিলা (খাদীজা ও সুমাইয়া) এবং আবু বকর রা. ব্যতীত অন্য কেউ ছিল না।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৯৯

হাদীস নং ৩৩৯৯

হিশাম ইবনে আম্মার রহ……….আবু দারদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় আবু বকর রা. পরিহিত কাপড়ের একপাশ এমনভাবে ধরে রেখে আসলেন যে তার উভয় হাটু বেরিয়ে পড়ছিল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের এ সাথী এইমাত্র কারো সাথে ঝগড়া করে আসছে। (এমন সময় আবু বকর রা. মজলিসে উপস্থিত হয়ে) তিনি সালাম করলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার এবং উমর ইবনে খাত্তাবের মাঝে একটি ক্ষমা চেয়েছি।

কিন্তু তিনি ক্ষমা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এখন আম আপনার খেদমতে হাযির হয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন, হে আবু বকর রা.। একথাটি তিনি তিনবার বললেন।

এরপর উমর রা. লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আবু বকর রা.-এর বাড়ীতে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, আবু বকর কি বাড়ীতে আছেন? তারা বলল, না। তখন উমর রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে চলে আসলেন। (তাকে দেখে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল।

আবু বকর রা. ভীত হয়ে নতজানু হয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমিই প্রথম অন্যায় করেছি। একথাটি দুবার বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ যখন আমাকে তোমাদের নিকট রাসূল রূপে প্রেরণ করেছেন তখন তোমরা সবাই বলেছ, তুমি মিথ্যা বলছ আর আবু বকর বলেছে, আপনি সত্য বলছেন।

তাঁর জান মাল সর্বস্ব দিয়ে আমার প্রতি যে সহানুভূতি দেখিয়েছে তা নযীরবিহীন। তোমরা কি আমার খাতিরে আমার সাথীকে অব্যাহিত প্রদান করবে? এ কথাটি তিনি দুবার বলেছেন। এরপর আবু বকর রা.-কে আর কখনও কষ্ট দেয়া হয়নি।

বুখারি হাদিস নং ৩৪০০

হাদীস নং ৩৪০০

মুআল্লা ইবনে আসাদ রহ………আমর ইবনে আস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যাতুস সালাসিল যুদ্ধের সেনানায়ক করে পাঠিয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর খেদমতে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, মানুষের মধ্যে কে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয়?

তিনি বললেন, আয়েশা। আমি বললাম, পুরুষদের মধ্যে কে ? তিনি বললেন, আয়েশার পিতা (আবু বকর) আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তারপর কোন লোকটি? তিনি বললেন, উমর ইবনে খাত্তাব তারপর আরো কয়েকজনের নাম উল্লেখ করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪০১

হাদীস নং ৩৪০১

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, একদা একজন রাখাল তার বকরীর পালের কাছে ছিল।

এমতাবস্থায় একটি নেকড়ে বাঘ আক্রমণ করে পাল থেকে একটি বকরী নিয়ে গেল। রাখাল নেকড়ে বাঘের পিছনে ধাওয়া করে বকরীটি ছিনিয়ে আনল।

তখন বাঘটি তাকে লক্ষ্য করে বলল, তুমি বকরীটি ছিনিয়ে নিলে? হিংস্র জন্তুর আক্রমণের দিকে কে তাকে রক্ষা করবে, যেদিন তার জন্য আমি ব্যতীত অন্য কোন রাখাল থাকবে না। একদা এক ব্যক্তি একটি গাভীর পিঠে আরোহণ করে সেটিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।

তখন গাভীটি তাকে লক্ষ্য করে বলল, আমি এ কাজের জন্য সৃষ্ট হয়নি। বরং আমি কৃষি কাজের জন্য সৃষ্ট হয়েছি।

একথা শুনে সকলেই বিস্ময়ের সাথে বলতে লাগল “সুবহানাল্লাহ” (কি আশ্চর্য গাভী কথা বলে! বাগ কথা বলে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আবু বকর এবং উমর ইবনে খাত্তাব এ কথা বিশ্বাস করি (ঐ সময়ে তাঁরা দুজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।­)

 সাহাবাগণের ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪০২

হাদীস নং ৩৪০২

আবদান রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, একদা আমি ঘুমিয়ে ছিলেন।

স্বপ্নে আমি আমাকে এমন একটি কূপের কিনারায় দেখতে পেলাম যেখানে বালতিও রয়েছে, আমি কূপ থেকে পানি উঠালাম যে পরিমাণ আল্লাহ ইচ্ছা করলেন। তারপর বালতিটি ইবনে আবু কুহাফা (আবু বকর) নিলেন এবং এক বা দু’বালতি পানি উঠালেন। তার উঠানোতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল।

আল্লাহ তার দুর্বলতাকে ক্ষমা করে দিবেন। তারপর উমর ইবনে খাত্তাব বালতিটি তার হাতে নিলেন। তার হাতে বালতিটির আয়তন বেড়ে গেল। আমি কোন দক্ষ, শক্তিশালী বাহাদুর ব্যক্তিকে উমরের ন্যায় পানি উঠাতে দেখিনি। অবশেষে মানুষ (তৃপ্ত হয়ে) নিজ নিজ আবাসে অবস্থান নিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৪০৩

হাদীস নং ৩৪০৩

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি গর্বের সাথে পরিহিত কাপড় টাখনুর নিম্নভাগে ঝুলিয়ে চলাফিরা করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার প্রতি রহমতের নযর করবেন না।

এ শুনে আবু বকর রা. বললেন, আমার অজ্ঞাতসারে কাপড়ের একপাশ কোন কোন সময় নীচে নেমে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তো গর্বের সাথে তা করছ না।

মূসা রা. বলেন, আমি সালিমকে জিজ্ঞাসা করলাম, আবদুল্লাহ রা. কি যে ব্যক্তি তার লুঙ্গী ঝুলিয়ে চলল, বলেছেন? সালিম রহ. বললেন, আমি তাকে শুধু কাপড়ের কথা উল্লেখ করতে শুনেছি।

বুখারি হাদিস নং ৩৪০৪

হাদীস নং ৩৪০৪

আবুল ইয়ামান রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন জিনিসের জোড়া জোড়া আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে।

(পরকালে) তাকে জান্নাতে প্রবেশের জন্য সকল দরজা থেকে আহবান করা হবে। বলা হবে, হে আল্লাহর বান্দা, এ দরজাই উত্তম। যে ব্যক্তি (অধিক নফল) সালাত আদায়কারী হবে তাকে সালাতের দরজা দিয়ে প্রবেশের আহবান জানানো হবে। যে ব্যক্তি জিহাদকারী হবে তাকে জিহাদের দরজা থেকে আহবান করা হবে।

যে ব্যক্তি (অধিক নফল) সাদকাদানকারী হবে, তাকে সাদকার দরজা দিয়ে ডাকা হবে। যে ব্যক্তি (অধিক নফল) সাওম আদায়কারী হবে তাকে সাওমের দরজা বাবুর রাইয়ান থেকে আহবান করা হবে।

আবু বকর রা. বললেন, কোন ব্যক্তিকে সকল দরজা দিয়ে ডাকা হবে এমনতো অবশ্য জরুরী নয়, তবে কি এরূপ কাউকে ডাকা হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, আছে। আমি আশা করছি তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হবে, হে আবু বকর।

 সাহাবাগণের ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪০৫

হাদীস নং ৩৪০৫

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………নবী সহধর্মিণী আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যখন ওফাত হয়, তখন আবু বকর রা. (স্বীয় বাসগৃহ) সুনহ-এ ছিলেন। ইসমাঈল (রাবী) বলেন, সুনহ মদীনার উচু এলাকার একটি স্থানের নাম।

(ওফাতের সংবাদ শুনার সাথে সাথে) উমর রা. দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন, আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হয় নাই। আয়েশা রা. বলেন, উমর রা. বললেন, আল্লাহর কসম, তখন আমার অন্তরে এ বিশ্বাসই ছিল (তাঁর ওফাত হয় নাই) আল্লাহ অবশ্যই তাকে পুনরায় জীবিত করবেন।

এবং তিনি কিছু সংখ্যক লোকের (মুনাফিকের) হাত-পা কেটে ফেলবেন। তারপর আবু বকর রা. এলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা মোবারক থেকে আবরণ সরিয়ে তাঁর ললাটে চুমু খেলেন এবং বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান।

আপনি জীবনে মরণে পূত পবিত্র। ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহ আপানাকে কখনও দুবার মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করাবেন না। তারপর তিনি বেরিয়ে আসলেন এবং (উমর রা.-কে লক্ষ্য করে বললেন) হে হলফকারী, ধৈর্যধারণ কর।

আবু বকর রা. যখন কথা বলতে লাগলেন, তখন উমর রা. বসে পড়লেন।আবু বকর রা. আল্লাহ পাকের হামদ ও সানা বর্ণনা করে বললেন, যারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেছেন। আর যারা আল্লাহর ইবাদত করতে তারা নিশ্চিতই জেনে রাখ আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি অমর।

তারপর আবু রা. এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন: নিশ্চয়ই আপনি মরণশীল আর তারা সকলেইও মরণশীল। (৩৯:৩০) আরো তিলাওয়াত করলেন: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন রাসূল মাত্র। তাঁর পূর্বে বহু রাসূল গত হয়েছেন। তাই যদি তিনি মারা যান অথবা তিনি নিহত হন তবে কি তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে?

কেউ পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলে সে কখনো আল্লাহর ক্ষতি করতে পারবে না। (৩: ১৪৪) আল্লাহ তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দাদেরকে পুরস্কৃত করবেন।

রাবী বলেন, আবু বকর রা.-এর এ কথাগুলি শুনে সকলই ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন। রাবী বলেন আনসারগণ সাকীফা বনূ সায়িদায়ে সাদ ইবনে উবাদইদা রা.-এর নিকট সমবেত হলেন এবং বলতে লাগলেন, আমাদের (আনসারদের) মধ্য হতে একজন আমীর হবেন এবং তোমাদের (মুহাজিরদে) মধ্য হতে একজন আমীর হবেন।

আবু বকর রা. উমর ইবনে খাত্তাব, আবু উবাদইদা ইবনে জাররাহ রা.-এ তিনজন আনসারদের নিকট গমন করলেন। উমর রা. কথা বলতে চাইলে, আবু বকর রা. তাকে থামিয়ে দিলেন।

উমর রা. বলেন, আল্লাহর কসম, আমি বক্তব্য রাখতে চেয়েছিলাম এই জন্য যে, আমি আনসারদের মাহফিলে বলার জন্য চিন্তা-ভাবনা করে এমন কিছু চমৎকার ও যুক্তিপূর্ণ কথা তৈরী করেছিলাম। যার প্রেক্ষিতে আমার ধারণা ছিল হয়ত: আবু বকর রা.-এর চিন্তা ভাবনা এতটা গভীরে নাও পৌঁছতে পারে।

কিন্তু আবু বকর রা. অত্যন্ত জোরাল ও যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য পেশ করলেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বললেন, আমীর আমাদের (মুহাজিরদের) মধ্য থেকে একজন হবেন এবং তোমাদের মধ্য হতে (আনসারদের) হবেন উযীর। তখন হুবাব ইবনে মুনযির (আনসারী) রহ. বললেন, আল্লাহর কসম! আমরা এরূপ করব না।

বরং আমাদের মধ্যে একজন ও আপনাদের মধ্যে একজন আমীর হবেন। আবু বকর রা. বললেন, না, এমন হয় না। আমাদের মধ্য হতে খলীফা এবং তোমাদের মধ্য হতে উযীর হবেন। কেননা কুরাইশ গোত্র অবস্থানের (মক্কা) দিক দিয়ে যেমন আরবের মধ্যস্থানে, বংশ ও রক্তের দিকে থেকেও তারা তেমনি শ্রেষ্ঠ।

তাঁরা নেতৃত্বের জন্য যোগ্যতায় সবার শীর্ষে। তোমরা উমর রা. অথবা আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রা.-এর হাতে বায়আত করে নাও। উমর রা. বলে উঠলেন, আমরা কিন্তু আপনার হাতেই বায়আত করব। আপনিই আমাদের নেতা। আপনিই আমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।

আমাদের মাঝে আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয়তম ব্যক্তি। এ বলে উমর আ. তাঁর হাত ধরে বায়আত করে নিলেন।

সাথে সাথে উপস্থিত সকলেই বায়আত করলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি বলে উঠলেন, আপনারা সাদ ইবনে উবাইদা রা.-কে মেরে ফেললেন? উমর রা. বললেন, আল্লাহ তাকে মেরে ফেলেছেন।

আবদুল্লাহ ইবনে সালিম……..আয়েশা রা. বলেন, ওফাতের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চোখ দুটি বার বার উপর দিকে উঠছিল এবং তিনি বার বার বলছিলেন, (হে আল্লাহ) সর্বোচচ বন্ধুর (আল্লাহর) সাক্ষাতের আমি আগ্রহী।

আয়েশা রা. বলেন, আবু বকর ও উমর রা.-এর খুতবা দ্বারা আল্লাহ তা’আলা এ চরম মূহুর্তে উম্মতকে রক্ষা করেছেন। উমর রা. জনগণকে পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এমন কিছু মানুষ আছে যাদের অন্তরে কপটতা রয়েছে আল্লাহ তাদের ফাঁদ থেকে উম্মতকে রক্ষা করেছেন।

এবং আবু বকর রা. লোকদিগকে সত্য সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন। হক ও ন্যায়ের পথ নির্দেশ করেছেন, তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

তারপর সাহাবা কেরাম এ আয়াত পড়তে পড়তে প্রস্থান করলেন: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন রাসূল মাত্র। তাঁর পূর্বে বহু রাসূলগণ গত হয়েছেন………কৃতজ্ঞ বান্দাদের।(৩: ১৪৪)

 সাহাবাগণের ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪০৬

হাদীস নং ৩৪০৬

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ………..মুহাম্মদ ইবনে হানাফীয়া রা. বলেন, আমি আমার পিতা আলী রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ কে? তিনি বললেন, আবু বকর রা.।

আমি বললাম, এরপর কে? তিনি বললেন, উমর রা.। আমার আশংকা হল যে, এরপর তিনি উসমান রা.-এর নাম বললেন, তাই (তাকে জিজ্ঞাসা না করে) আমি বললাম, তারপর আপনি? তিনি বললেন, না, আমি তো মুসলিমদের একজন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪০৭

হাদীস নং ৩৪০৭

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ…………. আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে এক যুদ্ধ সফরে গিয়েছিলাম। আমরা যখন বায়দা অথবা যাতুল জায়েশ নামক স্থানে গিয়েছিলাম, তখন আমার হারটি গলা থেকে ছিড়ে যায়।

হার তালাশ করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে অবস্থান করেন। এজন্য সাহবীগণও তার সঙ্গে সেখানে অবস্থান করেন। যেখানে পানি ছিল না এবং তাদের সাথেও পানি ছিল না। তাই সাহবীগণ আবু বকর রা.-এর নিকট এসে বললেন, আপনি কি দেখছেন না, আয়েশা রা. কি করলেন?

তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সঙ্গে সাহবীগণকে এমন স্থানে অবস্থান করালেন যেখানে পানি নেই এবং তাদের সাথেও পানি নেই। তখন আবু বকর রা. আমার নিকট আসলেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উরুর উপর মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন।

তিনি (আবু বকর রা.) আমাকে বলতে লাগলেন, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এবং সাহাবীগণকে এমন এক স্থানে আটকিয়ে রেখেছ, যেখানে পানি নেই এবং তাদের সাথেও পানি নেই। আয়েশা রা. বলেন, তিনি আমাকে অনেক ভৎর্সনা করলেন।

এক পর্যায়ে তিনি হাত দ্বারা আমার কোমরে খোঁচা মারতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উরুর উপর মাথা রেখে শুয়ে থাকার কারণে আমি নড়াচড়াও করতে পারছিলাম না। এরূপ পানি না থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোর পর্যন্ত ঘুমিয়ে রইলেন।

(ফজরের সালাতের সময় হল অথচ পানির কোন ব্যবস্থা নেই) তখন আল্লাহ পাক তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করলেন এবং সকলেই তায়াম্মুম করলেন।

উসাইদ ইবনে হুযাইর রা. বলেন, হে আবু বকর রা.-এর পরিবারবর্গ, এটা আপনাদের প্রথম (একমাত্র) বরকত নয়; (ইতিপূর্বেও আমরা এ পরিবার দ্বারা আরো বরকত পেয়েছি) আয়েশা রা. বলেন, এরপর আমরা সে উটটিকে উঠাইলাম যে উটের উপর আমি সাওয়ার ছিলাম। তখন হারটি তার নীচে পাওয়া গেল।

বুখারি হাদিস নং ৩৪০৮

হাদীস নং ৩৪০৮

আদম ইবনে আবু ইয়াস রহ…………..আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর উম্মতকে লক্ষ্য করে) বলেছেন, তোমরা আমার সাহাবীগণকে গালমন্দ করো না।

তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় সমান স্বর্ণ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর, তবে তাদের একমুদ বা অর্ধ মুদ-এর সমপরিমাণ সাওয়াব হবে না। জরীর আবদুল্লাহ ইবনে দাউদ, আবু মুয়াবিয়া ও মুহাযির রহ. আমাশ রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় শুবা রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪০৯

হাদীস নং ৩৪০৯

মুহাম্মদ ইবনে মিসকীন রহ……….আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদিন ঘরে অজু করে বের হলেন এবং (মনে মনে স্থির করলেন) আমি আজ সারাদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কাটাব, তার থেকে পৃথক হব না। তিনি মসজিদে গিয়ে র-এর খবর নিলেন, সাহাবীগণ বললেন, তিনি এদিকে বেরিয়ে গেছেন।

আমিও ঐ পথ ধরে তাঁর অনুগমন করলাম। তাঁর খুজে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকলাম। তিনি শেষ পর্যন্ত আরীস কূপের নিকট গিয়ে পৌঁছলেন।

আমি (কূপে প্রবেশের) দরজার নিকট বসে পড়লাম। দরজাটি খেজুরের শাখা দিয়ে তৈরী ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর প্রয়োজন (ইস্তিনজা) সেরে অজু করলেন। তখন আমি তাঁর নিকটে দাঁড়ালাম এবং দেখতে পেলাম তিনি আরীস কূপের কিনারার বাঁধের মাঝখঅনে বসে হাঁটু পর্যন্ত দুটি খুলে কূপের ভিতরে ঝুলিয়ে রেখেছেন, আমি তাকে সালাম করলাম।

এবং ফিরে এসে দরজায় বসে রইলাম এবং মনে মনে স্থির করে আবু বকর রা. এসে দরজায় ধাক্কা দিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কে ? তিনি বললেন, আবু বকর ! আমি বললাম, থামুন, (আমি আপনার জন্য অনুমতি নিয়ে আসি) আমি গিয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবু বকর রা. ভিতরে আসার অনুমতি চাচ্ছেন।

তিনি বললেন, ভিতরে আসার অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি ফিরে এসে আবু বকর রা. কে বললাম, ভিতরে আসুন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন। আবু বকর রা. ভিতরে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডানপাশে কূপের কিনারায় বসে দুপায়ের কাপড় হাঁটু পর্যন্ত উঠায়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ন্যায় কূপের ভিতর ভাগে পা ঝুলিয়ে দিয়ে বসে পড়েন।

আমি ফিরে এসে (দরজার পাশে) বসে পড়লাম। আমি (ঘর হতে বের হওয়ার সময়) আমার ভাইকে অযু করছে অবস্থায় রেখে এসেছিলাম। তারও আমার সাথে মিলিত হওয়ার কথা ছিল তাই আমি (মনে মনে) বলতে লাগলাম, আল্লাহ যদি তার (ভাইয়ের) মঙ্গল চান তবে তাকে নিয়ে আসেন।

এমন সময় এক ব্যক্তি দরজা নাড়তে লাগল। আমি বললাম, কে? তিনি বললেন, আমি উমর ইবনে খাত্তাব। আমি বললাম, অপেক্ষা করুন। (আমি আপনার জন্য অনুমতি নিয়ে আসি) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে সালাম পেশ করে আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! উমর ইবনে খাত্তাব (ভিতরে আসার) অনুমতি চাচ্ছেন।

তিনি বললেন, তাকে ভিতরে আসার অনুমতি এবং জান্নাতের সুসংবাদ জানিয়ে দাও। আমি এসে তাকে বললাম, ভিতরে আসুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন।

তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বামপাশে হাটু পর্যন্ত কাপড় উঠিয়ে কূপের ভিতরের দিকে পা ঝুলিয়ে বসে গেলেন। আমি আবার ফিরে আসলাম এবং বলতে থাকলাম আল্লাহ যদি আমার ভাইয়ের মঙ্গল চান, তবে যেন তাকে নিয়ে আসনে।

এরপর আর এক ব্যক্তি এসে দরজা নাড়তে লাগল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কে ? তিনি বললেন, আমি উসমান ইবনে আফফান। আমি বললাম, থামুন (আমি অনুমতি নিয়ে আসছি) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে গিয়ে জানালাম। তিনি বললেন, তাকে ভিতরে আসতে বল এবং তাকেও জান্নাতের সুসংবাদ দাও।

তবে (দুনিয়াতে তার উপর) কঠিন পরীক্ষা হবে। আমি এসে বললাম, ভিতরে আসুন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন; তবে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখে হয়ে।

তিনি ভিতরে এসে দেখলেন, কূপের কিনারায় খালি জায়গা নাই। তাই তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে অপর এক স্থানে বসে পড়লেন। শরীক রহ. বলেন, সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব রহ. বলেছেন, আমি এর দ্বারা (পরবর্তী কালে) তাদের কবর এরূপ হবে এই অর্থ করেছি।

 সাহাবাগণের ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪১০

হাদীস নং ৩৪১০

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, (একবার) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর, উমর, উসমান রা. উহুদ পাহাড়ে আরোহণ করেন।

পাহাড়টি (তাদেরকে ধারণ করে আনন্দে) নড়ে উঠল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উহুদ স্থির হও। তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দীক ও দুজন শহীদ রয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৪১১

হাদীস নং ৩৪১১

আহমদ ইবনে সাঈদ আবু আবদুল্লাহ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একদা (স্বপ্নে দেখতে পেলাম যে) আমি একটি কূপ থেকে (বালতি দিয়ে) পানি টেনে তুলছি। তখন আবু বকর ও উমর রা. আসলেন।

আবু বকর রা. আমার হাত থেকে বালতি তার হাতে নিয়ে এক বালতি কি দু’বালতি পানি টেনে তুললেন। তার উঠানোতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন।

তারপর (উমর) ইবনে খাত্তাব রা. বালতিটি আবু বকরের হাত থেকে নিলেন, তার হাতে যাওয়ার সাথে সাথে বালতিটি বৃহদাকার হয়ে গেল।

কোন শক্তিশালী বাহাদুরকে তার মত পানি উঠাতে আমি দেখিনি। লোকজন তাদের উটগুলিকে তৃপ্তি ভরে পানি পান করিয়ে উটশালায় নিয়ে গেল। ওয়াহাব (রাবী) বলেন, ‘আত্বনুন’ উটশালা। এমনকি উটগুলি পানি পানে তৃপ্ত হয়ে বসে পড়ল।

বুখারি হাদিস নং ৩৪১২

হাদীস নং ৩৪১২

অলীদ ইবনে সালিহ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমিও ঐ দলের সাথে দুআয় রত ছিলাম, যারা উমর ইবনে খাত্তাবের জন্য দুআ করেছিল। তখন তাঁর মরদেহটি খাটের উপর রাখা ছিল।

এমন সময় এক ব্যক্তি হঠাৎ আমার পিছন দিকে থেকে তার কনুই আমার কাঁধের উপর রেখে উমর রা.-কে লক্ষ্য করে বলল, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আমি অবশ্য এ আশা পোষণ করি যে, আল্লাহ আপনাকে আপনার উভয় সঙ্গীর সাথেই রাখবেন।

কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বহুবার বলতে শুনেছি, আমি এবং আবু ও উমর এক সাথে ছিলাম, আমি এবং আবু বকর ও উমর এ কাজ করেছি।

আমি ও আবু বকর এবং উমর (একসাথে) চলেছি। আমি এ আশাই পোষণ করি যে, আল্লাহ তা’আলা আপনাকে তাদের উভয়ের সঙ্গেই রাখবেন। আমি পেছনে তাকিয়ে দেখলাম, তিনি হলেন, আলী ইবনে আবু তালিব রা.।

 সাহাবাগণের ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪১৩

হাদীস নং ৩৪১৩

মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ কুফী রহ……….উরওয়া ইবনে যুবাইর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, মক্কার মুশরিকরা র-এর সাথে সর্বাধিক কঠোর আচরণ কি করেছিল?

তিনি বললেন, আমি উকবা ইবনে আবু মুআইতকে দেখেছি; সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসল যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন।

সে নিজের চাদর দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গলদেশে জড়িয়ে শক্তভাবে চেপে ধরল। আবু বকর রা. এসে উকবাকে সরিয়ে দিলেন এবং বললেন, তোমরা কি এমন ব্যক্তিকে হত্যা করতে চাও যিনি বলেন, একমাত্র আল্লাহই আমার রব।

যিনি তাঁর দাবীর সত্যতার স্বপক্ষে তোমাদের রবের নিকট থেকে সুস্পস্ট প্রমাণাদি (মুজিযা) সঙ্গে নিয়ে এসেছেন?

বুখারি হাদিস নং ৩৪১৪ – উমর ইবনে খাত্তাব আবু হাফস কুরাইশী-আদবী রা.-এর ফযীলত ও মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৪১৪

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ…………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি স্বপ্নে আমাকে দেখতে পেলাম যে, আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি। হঠাৎ আবু তালহা রা.-এর স্ত্রী রুমায়সাকে দেখতে পেলাম এবং আমি পদচারণার শব্দও শুনতে পেলাম।

তখন আমি বললাম, এই ব্যক্তি কে? এক ব্যক্তি বলল, তিনি বিলাল রা.। আমি একটি প্রাসাদও দেখতে পেলাম যার আঙ্গিনায় এক মহিলা রয়েছে। আমি বললাম, ঐ প্রাসাদটি কার?

এক ব্যক্তি বলল, প্রাসাদটি উমর ইবনে খাত্তাব রা. এর। আমি প্রাসাদটিতে প্রবেশ করে (সব কিছু) দেখার ইচ্ছা করলাম। তখন তোমার ( উমর রা.) সূক্ষ্ম মর্যাদাবোধের কথা স্মরণ করলাম।

উমর রা. (এ কথা শুনে) বললেন, আমার বাপ-মা আপনার উপর কুরবান, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার কাছেও কি মর্যাদাবোধ প্রকাশ করতে পানি?

বুখারি হাদিস নং ৩৪১৫

হাদীস নং ৩৪১৫

সাঈদ ইবনে আবু মারইয়াম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সময় আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, একবার আমি ঘুমিয়েছিলাম।

স্বপ্নে আমি নিজেকে জান্নাতে দেখতে পেলাম। আমি দেখলাম, একজন মহিলা একটি প্রাসাদের আঙ্গিনায় (বসে) অযু করছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ প্রাসাদটি কার?

ফেরেশতাগণ বললেন, তা উমর রা.-এর । আমি উমর রা. সূক্ষ্ম মর্যাদা বোধের স্মরণ করে ফিরে এলাম। উমর রা. (তা শুনে) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, আপনার কাছে কি মর্যাদাবোধ দেখাব ইয়া রাসূলাল্লাহ?

বুখারি হাদিস নং ৩৪১৬

হাদীস নং ৩৪১৬

মুহাম্মদ ইবনে সালত আবু জাফর-কুফী রহ………..হামযা রহ.-এর পিতা (আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম (স্বপ্নে) দুধ পান করতে দেখলাম যে তৃপ্তির চিহ্ন যেন আমার নখগুলির মধ্যে প্রবাহিত হচ্ছিল।

তারপর দুধ (পান করার জন্য) উমর রা.-কে দিলাম। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি ব্যাখ্যা দিচ্ছেন? তিনি বললেন, ইলম।

বুখারি হাদিস নং ৩৪১৭

হাদীস নং ৩৪১৭

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ……….. ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, একটি কূপের পাড়ে বড় বালতি দিয়ে পানি তুলছি।

তখন আবু বকর রা. এসে এক বালতি পানি তুললেন। তবে পানি তোলার মধ্যে তাঁর দুর্বলতা ছিল আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। তারপর উমর ইবনে খাত্তাব রা. এলেন। বালতিটি তাঁর হাতে গিয়ে বৃহদাকারে পরিণত হল। তাঁর মত এমন বলিষ্ঠভাবে পানি উঠাতে আমি কোন বাহাদুরকেও দেখিনি।

এমনকি লোকেরা পরিতৃপ্তির সঙ্গে পানি পান করে আবাসে বিশ্রাম নিল। ইবনে যুবাইর রহ. বলেন, العبقرى হল উন্নত মানের সুন্দর বিছানা। ইয়াহইয়া রহ. বলেন, الزاربى হল মখমলের সূক্ষ্ম সূতার তৈরী বিছানা।مبثوثة অর্থ প্রসারিত। العبقرى আর হল গোত্র নেতা।

বুখারি হাদিস নং ৩৪১৮

হাদীস নং ৩৪১৮

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ ও আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার উমর ইবনে খাত্তাব রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসার অনুমতি চাইলেন।

তখন তাঁর সঙ্গে কুরাইশের কতিপয় মহিলা কথা বলছিলেন এবং তাঁরা বেশী পরিমাণ দাবী দাওয়া করতে গিয়ে তাঁর আওয়াজের চেয়ে তাদের আওয়াজ উচ্চকণ্ঠ ছিল। যখন উমর ইবনে খাত্তাব প্রবেশের অনুমতি চাইলেন তখন তাঁরা (মহিলাগণ) উঠে দ্রুত পর্দার অন্তরালে চলে গেলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন। আর উমর রা. ঘরে প্রবেশ করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসছিলেন।

উমর রা. বললেন, আল্লাহ আপনাকে সদা হাস্য রাখুন ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মহিলাদের কান্ড দেখে আমি অবাক হচ্ছি, তাঁরা আমার কাছে ছিল, অথচ তোমার আওয়াজ শুনা মাত্র তারা সব দ্রুত পর্দার অন্তরালে চলে গেল।

উমর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনাকেই-ত অধিক ভয় করা উচিৎ। তারপর উমর রা. ঐ মহিলাগণকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে নিজ ক্ষতিসাধনকারী মহিলাগণ, তোমরা আমাকে ভয় কর, অথচ আল্লাহর রাসূলকে ভয় কর না?

তারা উত্তরে বললেন, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক রূঢ় ভাষী ও কঠিন হৃদয়ের। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, ঠিকই হে ইবনে খাত্তাব!

যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম, শয়তান যখনই কোন পথে কোন তোমাকে দেখতে পায় সে তখনই তোমার ভয়ে এ পথ ছেড়ে অন্যপথে চলে যায়।

বুখারি হাদিস নং ৩৪১৯

হাদীস নং ৩৪১৯

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……….আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যেদিন উমর রা. ইসলাম গ্রহণ করেন, সেদিন থেকে আমরা অতিশয় বলবান ও মর্যাদাশীল হয়ে আসছি।

 সাহাবাগণের ফযীলত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৪২০

হাদীস নং ৩৪২০

আবদান রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা.-এর লাশ খাটের উপর রাখা হল। খাটটি কাঁধে তোলে নেয়ার পূর্বক্ষণ পর্যন্ত লোকজন তা ঘিরে দুআ পাঠ করছিল। আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম। হঠাৎ একজন আমার কাঁধের উপরে হাত রাখায় আমি চমকে উঠলাম।

চেয়ে দেখলাম, তিনি আলী রা.। তিনি উমর রা.-এর জন্য আল্লাহর অশেষ রহমতের দুআ করছিলেন। তিনি বলছিলেন, হে উমর , আমার জন্য আপনার চেয়ে অধিক প্রিয় এমন কোন ব্যক্তি আপন রেখে যাননি, যার আমলের অনুসরণ করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করব।

আল্লাহর কসম, আমার এ বিশ্বাস যে আল্লাহ আপনাকে (জান্নাতে) আপনার সঙ্গীদ্বয়ের সাথে রাখবেন। আমার মনে আছে, আমি বহুবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমি আবু বকর ও উমর গেলাম।

আমি, আবু বকর ও উমর প্রবেশ করলাম এবং আমি, আবু বকর ও উমর বের হলাম ইত্যাদি।

আরও পড়ুনঃ

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

মন্তব্য করুন