সালাতে কসর করা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

Table of Contents

সালাতে কসর করা অধ্যায় -সহিহ বুখারী ২য় খণ্ড

সালাতে কসর করা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সালাতে কসর করা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১০১৯ – কসর সম্পর্কে বর্ণনা এবং কতদিন অবস্থান পর্যন্ত কসর করবে।

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….ইবনে আব্বাস রা, থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সফরে উনিশ দিন পর্যন্ত অবস্থান করেন এবং সালাতে কসর করেন। কাজেই (কোথাও) আমরা উনিশ দিনের সফরে থাকলে কসর করি এবং এর চাইতে বেশী হলে পুরোপুরি সালাত আদায় করি।

হাদীস নং ১০২০

আবু মামার রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে মক্কা থেকে মদীনায় গমন করি, আমরা মদীনা ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি দু’রাকাআত, দুরাকাআত সালাত আদায় করেছেন। (রাবী বলেন) আমি (আনাস রা.-কে বললাম, আপনারা মক্কায় কত দিন ছিলেন তিনি বললেন, আমরা সেখানে দশ দিন ছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ১০২১ – মিনায় সালাত।

মুসাদ্দাদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর এবং উমর রা. -এর সংগে মিনায় দু’রাকাআত সালাত আদায় করেছি। উসমান রা.-এর সঙ্গেও তাঁর খিলাফতের প্রথম দিকে দু’রাকাআত আদায় করেছি। তারপর তিনি পূর্ণ সালাত আদায় করেতে লাগলেন।

হাদীস নং ১০২২

আবুল ওয়ালীদ রহ………হারিসা ইবনে ওয়াহব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরাপদ অবস্থায় আমাদেরকে নিয়ে মিনায় দু’রাকাআত সালাত আদায় করেন।

সালাতে কসর করা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সালাতে কসর করা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদীস নং ১০২৩

কুতাইবা রহ……..ইবরাহীম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ রহ.-কে বলতে শুনেছি, উসমান ইবনে আফফান রহ. আমাদেরকে নিয়ে মিনায় চার রাকাআত সালাত আদায় করেছেন। তারপর এ সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. -কে বলা হল, তিনি প্রথমে ‘ইন্না লিল্লাহ’ পড়লেন। এরপর বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মিনায় দু’রাকাআত পড়েছি, হযরত আবু বকর রা. -এর সংগে মিনায় দু’রাকাআত পড়েছি এবং উমর ইবনে খাত্তাব রা.-এর সংগে মিনায় দু’রাকাআত পড়েছি। কতই না ভাল হত যদি চার রাকআতের পরিবর্তে দু’রাকাআত মাকবুল সালাত হত।

বুখারি হাদিস নং ১০২৪ – নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে কত দিন অবস্থান করেছিলেন ?

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (যিল হজ্জের) ৪র্থ তারিখ সকালে (মক্কায়) আগমন করেন এবং তাঁরা হজ্জের জন্য তালবীয়া পাঠ করতে থাকেন। তারপর তিনি তাদের হজ্জকে উমরায় রূপান্তরিত করার নির্দেশ দিলেন। তবে যাদের সঙ্গে কুরবানীর জানোয়ার ছিল তাঁরা এ নির্দেশের অন্তর্ভূক্ত নন। হাদীস বর্ণনায় আতা রহ. আবুল আলিয়াহ রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১০২৫ – কত দিনের সফরে সালাত কসর করবে

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন মহিলাই যেন মাহরাম পুরুষকে সঙ্গে নিয়ে তিন দিনের সফর না করে।

হাদীস নং ১০২৬

মুসাদ্দাদ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন মহিলার সাথে কোন মাহরাম পুরুষ না থাকলে, সে যেন তিন দিনের সফর না করে। আহমাদ রহ……ইবনে উমর রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনায় উবাইদুল্লাহ রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

হাদীস নং ১০২৭

আদম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে মহিলা আল্লাহ এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে কোন মাহরাম পুরুষকে সাথে না নিয়ে এক দিন ও এক রাত্রির পথ সফর করা জায়েয নয়। ইয়াহইয়া ইবনে আবু কাসীর সুহাইল ও মালিক রহ…….হাদীস বর্ণনায় ইবনে আবু যিব রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১০২৮ – যখন নিজ আবাসস্থল থেকে বের হবে তখন থেকেই কসর করবে।

আবু নুআইম রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে মদীনায় যুহরের সালাত চার রাকাআত আদায় করেছি এবং যুল-হুলাইফায় আসরের সালাত দু’রাকাআত আদায় করেছি।

হাদীস নং ১০২৯

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রথম অবস্থায় সালাত দু’রাকাআত করে ফরয করা হয় তারপর সফরে সালাত সে ভাবেই স্থায়ী থাকে এবং মুকীম অবস্থায় সালাত পূর্ণ (চার রাকআত) করা হয়েছে। যুহরী রহ. বলেন, আমি উরওয়া রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (মিনায়) আয়িশা রা. কোন সালাত পূর্ণ আদায় করতেন ? তিনি বললেন, উসমান রা. যে ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছেন, আয়িশা রা. তা গ্রহণ করেছেন।

সালাতে কসর করা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সালাতে কসর করা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১০৩০ – সফরে মাগরিবের সালাত তিন রাকাআত আদায় করা।

আবুল ইয়ামান রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি, সফরে যখনই তাঁর ব্যস্ততার কারণ ঘটেছে, তখন তিনি মাগরিবের সালাত বিলম্বিত করেছেন, এমন কি মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. সফরের ব্যস্ততার সময় অনুরূপ করতেন। অপর এক সূত্রে সালিম রহ. বলেন, ইবনে উমর রা. মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। সালিম রহ. আরও বলেন, ইবনে উমর রা. তাঁর স্ত্রী সাফিয়্যা বিনতে আবু উবাইদ -এর দুঃসংবাদ পেয়ে মদীনা প্রত্যাবর্তনকালে মাগরিবের সালাত বিলম্বিত করেন। আমি তাকে বললাম, সালাতের সময় হয়ে গেছে। তিনি বললেন, চলতে থাক। আমি আবার বললাম , সালাত ? তিনি বললেন, চলতে থাক। এমন কি (এ ভাবে) দু’ বা তিন মাইল অগ্রসর হলেন। এরপর নেমে সালাত আদায় করলেন। পরে বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সফরের ব্যস্ততার সময় এরূপভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি। আবদুল্লাহ রা. আরো বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, সফরে যখনই তাঁর ব্যস্ততার কারণ ঘটেছে, তখন তিনি মাগরিবের সালাত (দেরি করে) আদায় করেছেন এবং তা তিন রাকাআতই আদায় করেছেন। মাগরিবের সালাম ফিরিয়ে কিছু বিলম্ব করেই ইশার ইকামত দেওয়া হত এবং দু’রাকাআত আদায় করে সালাম ফিরাতেন। কিন্তু ইশার পরে গভীর রাত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন না।

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আমির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি, তাঁর সাওয়ারী যে দিকেই ফিরেছে, তিনি সে দিকেই সালাত আদায় করেছেন।

হাদীস নং ১০৩২

আবু নুআইম রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়ার থাকাবস্থায় কিবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে নফল সালাত আদায় করেছেন।

হাদীস নং ১০৩৩

আবদুল আলা ইবনে হাম্মাদ রহ…………নাফি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে উমর রা. তাঁর সাওয়ারীর উপর (নফল) সালাত আদায় করতেন এবং এর উপর বিতরও আদায় করতেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১০৩৪ – জন্তুর উপর ইশারায় সালাত আদায় করা।

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবদুল্লাহ ইবনে দীনার রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. সফরে সাওয়ারী যে দিকেই ফিরেছে সে দিকেই মুখ ফিরে ইশারায় সালাত আদায় করতেন এবং আবদুল্লাহ রা. বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১০৩৫ – ফরয সালাতের জন্য সাওয়ারী থেকে অবতরণ করা।

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………আমির ইবনে রাবীআ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি, তিনি সাওয়ারীর উপর উপবিষ্ট অবস্থায় মাথা দিয়ে ইশারা করে সে দিকেই সালাত আদায় করতেন যে দিকে সাওয়ারী ফিরত। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয সালাতে এরূপ করতেন না। লাইস রহ………সালিম রহ. থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ রা. সফরকালে রাতের বেলায় সাওয়ারীর উপর থাকা অবস্থায় সালাত আদায় করতেন, কোন দিকে তাঁর মুখ রয়েছে সে দিকে লক্ষ্য করতেন না এবং ইবনে উমর রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়ারীর উপর নফল সালাত আদায় করেছেন, সাওয়ারী যে দিকে মুখ ফিরিয়েছে সে দিকেই এবং তার উপর বিতরও আদায় করেছেন। কিন্তু সাওয়ারীর উপর ফরয সালাত আদায় করতেন না।

হাদীস নং ১০৩৬

মুআয ইবনে ফাযালা রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়ারীর উপর থাকা অবস্থায় পূর্ব দিকে ফিরেও সালাত আদায় করেছেন। কিন্তু যখন তিনি ফরয সালাত আদায় করার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি সাওয়ারী থেকে নেমে যেতেন এবং কিবলামুখী হতেন।

বুখারি হাদিস নং ১০৩৭ – গাধার উপর নফল সালাত আদায় করা।

আহমদ ইবনে সাঈদ রহ………আনাস ইবনে সীরীন রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক রা. যখন শাম (সিরিয়া) থেকে ফিরে আসছিলেন, তখন আমরা তাঁর সাক্ষাৎ পেলাম। তখন আমি তাকে দেখলাম গাধার পিঠে (আরোহী অবস্থায়) সামনের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছেন। অর্থাৎ কিবলার বাম দিকে মুখ করে। তখন তাকে আমি প্রশ্ন করলাম, আপনাকে তো দেখলাম কিবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছেন ? তিনি বললেন, যদি আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এরূপ করতে না দেখতাম, তাবে আমিও তা করতাম না।

বুখারি হাদিস নং ১০৩৮ – সফরকালে ফরয সালাতের আগে ও পরে নফল সালাত আদায় না করা।

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………হাফস ইবনে আসিম রা. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর রা. একবার সফর করেন এবং বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহচর্যে থেকেছি, সফরে তাকে নফল সালাত আদায় করতে দেখিনি এবং আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন : “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ”। (সূরা আহযাব : ২১১)

বুখারি হাদিস নং ১০৩৯ – সফরকালে ফরয সালাতের আগে ও পরে নফল সালাত আদায় না করা।

মুসাদ্দাদ রহ………হাফস ইবনে আসিম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে উমর রা. -কে বলতে শুনেছি যে, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহচর্যে থেকেছি, তিনি সফরে দু’রাকাআতের অধিক নফল আদায় করতেন না। আবু বকর, উমর ও উসমান রা.-এর এ রীতি ছিল।

বুখারি হাদিস নং ১০৪০ – সফরে ফরয সালাতের আগে ও পরে নফল আদায় করা। সফরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’রাকাআত (সুন্নাত) আদায় করেছেন ।

হাফস ইবনে উমর রহ………..ইবনে আবু লায়লা রহ. থেকে বর্ণিত, উম্মে হানী রা. ব্যতীত অন্য কেউ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাতুয যুহা (পূর্বাহ্ন এর সালাত) আদায় করতে দেখেছেন বলে আমাদের জানান নি। তিনি (উম্মে হানী রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন তাঁর ঘরে গোসল করার পর আট রাকাআত সালাত আদায় করেছেন। আমি তাকে এর চাইতে সংক্ষিপ্ত কোন সালাত আদায় করতে দেখিনি, তবে তিনি রুকু ও সিজদা পূর্ণভাবে আদায় করেছিলেন। লায়স রহ. আমির (ইবনে রাবীআ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে রাতের বেলা সফরে বাহনের পিঠে বাহনের গতি মুখী হয়ে নফল সালাত আদায় করতে দেখেছেন।

হাদীস নং ১০৪১

আবুল ইয়ামান রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সফরে) তাঁর বাহনের পিঠে এর গতি মুখী হয়ে মাথার দ্বারা ইশারা করে নফল সালাত আদায় করতেন। আর ইবনে উমর রা.ও তা করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১০৪২ – সফরে মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করা।

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দ্রুত সফর করতেন, তখন মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। ইবরাহীম ইবনে তাহমান রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সফরে দ্রুত চলার সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও আসরের সালাত একত্রে আদায় করতেন আর মাগরিব ইশা একত্রে আদায় করতেন। আর হুসাইন রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরকালে মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করতেন এবং আলী ইবনে মুবারক ও হারব রহ………..আনাস রা. থেকে হাদীস বর্ণনায় হুসাইন রহ.-এর অনুসরণ করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একত্রে আদায় করেছেন।

সালাতে কসর করা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সালাতে কসর করা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১০৪৩ – মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করলে আযান দিবে, না ইকামত ?

আবুল ইয়ামান রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি যখন সফরে তকে দ্রুত পথ অতিক্রম করতে হত, তখন মাগরিবের সালাত এত বিলম্বিত করতেন যে মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। সালিম রহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.ও দ্রুত সফরকালে অনুরূপ করতেন। তখন ইকামতের পর মাগরিব তিন রাকাআত আদায় করতেন এবং সালাম ফিরাতেন। তারপর অল্প সময় অপেক্ষা করেই ইশার ইকামত দিয়ে তা দু’রাকাআত আদায় করে সালাম ফিরাতেন। এ দুয়ের মাঝে কোন নফল সালাত আদায় করতেন না এবং ইশার পরেও না। অবশেষে মধ্যরাতে (তাহাজ্জুদের জন্য) উঠতেন।

হাদীস নং ১০৪৪

ইসহাক রহ……..আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে এ দু’ সালাত একত্রে আদায় করতেন অর্থাৎ মাগরিব ও ইশা।

বুখারি হাদিস নং ১০৪৫ – সূর্য ঢলে পড়ার আগে সফরে রওয়ানা হলে যুহরের সালাত আসরের সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করা।

হাসসান ওয়াসেতী রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলে পড়ার আগে সফর শুরু করলে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত (পূর্ব পর্যন্ত) যুহর বিলম্বিত করতেন এবং উভয় সালাত একত্রে আদায় করতেন। আর (সফর শুরু করার আগেই) সূর্য ঢলে গেলে যুহর আদায় করে নিতেন। এরপর (সফরের উদ্দেশ্যে) আরোহণ করতেন।

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলে পড়ার আগে সফর শুরু করলে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত যুহরের সলাত বিলম্বিত করতেন। তারপর অবতরণ করে দু’ সালাত একসাথে আদায় করতেন। আর যদি সফর শুরু করার আগেই সূর্য ঢলে পড়তো তাহলে যুহরের সালাত আদায় করে নিতেন। তারপর বাহনে আরোহণ করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১০৪৭ – উপবিষ্ট ব্যক্তির সালাত ।

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে সালাত আদায় করলেন, তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাই তিনি বসে বসে সালাত আদায় করছিলেন এবং এক দল সাহাবী তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন তিনি বসে পড়ার জন্য তাদের প্রতি ইশারা করলেন। তারপর সালাত শেষ করে তিনি বললেন : ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাকে অনুসরণ করার উদ্দেশ্যে। কাজেই তিনি রুকু করলে তোমরা রুকু করবে এবং তিনি তিনি মাথা উঠালে তোমরাও মাথা উঠাবে।

হাদীস নং ১০৪৮

আবু নুআইম রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া থেকে পড়ে গেলেন। এতে আঘাত গেলে তাঁর ডান পাশের চামড়া ছিলে গেল আমরা তাঁর রোগের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য তাঁর কাছে গেলাম। ইতিমধ্যে সালাতের সময় হলে তিনি বসে সালাত আদায় করলেন। আমরাও বসে সালাত আদায় করলাম। পরে তিনি বললেন : ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাকে অনুসরণ করার জন্য। কাজেই তিনি তাকবীর বললে, তোমরাও তাকবীর বলবে, রুকু করলে তোমরাও রুকু করবে, তিনি মাথা উঠালে তোমরাও মাথা উঠাবে। তিনি যখন “সামিআল্লাহু লিমান হামীদাহ” বলবে তখন তোমরা বলবে “রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ”।

হাদীস নং ১০৪৯

ইসহাক ইবনে মানসুর ও ইসহাক (ইবনে ইবরাহীম) রহ……….ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি ছিলেন অর্শরোগী, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বসে সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন : যদি কেউ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে তবে তা-ই উত্তম। আর যে ব্যক্তি বসে সালাত আদায় করবে, তার জন্য দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সাওয়াব আর যে শুয়ে আদায় করবে তার জন্য বসে আদায়কারীর অর্ধেক সাওয়াব।

বুখারি হাদিস নং ১০৫০ – উপবিষ্ট ব্যক্তির ইশারায় সালাত আদায়।

আবু মামার রহ……ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি ছিলেন অর্শরোগী, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বসে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন : যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে তবে তা-ই উত্তম। আর যে ব্যক্তি বসে সালাত আদায় করবে, তার জন্য দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সাওয়াব আর যে শুয়ে আদায় করবে তার জন্য বসে আদায়কারীর অর্ধেক সাওয়াব।। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, আমার মতে এ হাদীসে (নিদ্রিত) এর দ্বারা (শুয়া) অবস্থা বুঝানো হয়েছে।

আবদান রহ………ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার অর্শরোগ ছিল। তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে সালাত সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম, তিনি বললেন : দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, তাঁতে সামর্থ না হলে বসে, যদি তাতেও সক্ষম না হও তাহলে কাত হয়ে শুয়ে।

বুখারি হাদিস নং ১০৫২ – বসে সালাত আদায় করা অবস্থায় সুস্থ হয়ে গেলে কিংবা একটু হালকাবোধ করলে, বাকী সালাত (দাঁড়িয়ে) পূর্ণভাবে আদায় করবে।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অধিক বয়সে পৌঁছার আগে কখনো রাতের সালাত বসে আদায় করতে দেখেননি। (বার্ধক্যের) পরে তিনি বসে কিরাআত পাঠ করতেন। যখন তিনি রুকু করার ইচ্ছা করতেন, তখন দাঁড়িয়ে যেতেন এবং প্রায় ত্রিশ কিংবা চল্লিশ আয়াত তিলাওয়াত করে রুকু করতেন।

হাদীস নং ১০৫৩

আবদুল্লাহ ইবেন ইউসুফ রহ………উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে সালাত আদায় করতেন। বসেই তিনি কিরাআত পাঠ করতেন। যখন তাঁর কিরাআতের প্রায় ত্রিশ বা চল্লিশ আয়াত বাকী থাকত, তখন তিনি দাঁড়িয়ে তা তিলাওয়াত করতেন, তারপর রুকু করতেন, পরে সিজদা করতেন। দ্বিতীয় রাকআতেও অনুরূপ করতেন। সালাত শেষ করে তিনি লক্ষ্য করতেন, আমি জাগ্রত থাকলে আমার সাথে বাক্যলাপ করতেন আর ঘুমিয়ে থাকলে তিনিও শুয়ে পড়তেন।

সালাতে কসর করা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সালাতে কসর করা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

মন্তব্য করুন