সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

Table of Contents

সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায় -সহিহ বুখারী ২য় খণ্ড

সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদিস ৪৯৭

আব্দুল্লাহইবন মাসলামা (র.)…….ইবন শিহাব (র.) থেকে বর্ণিত,উমর ই্বন আবদুল আযীয (র.) একদিন কোন এক সালাত আদায়ে বিলম্ব করলেন। তখন উরওয়া ইব্ন যুবাইর (রা.) তাঁর কাছে গেলেন এবং তাঁর কাছে বর্ণনা করলেন যে, ইরাকে অবস্বানকালে মুগীরা ইব্ন শু’বা (রা.) একনিন এক সালাত আদায়ে বিলম্ব করেছিলেন। ফলে আবু মাসঊন আনসারী (রা.) তাঁর নিকট গিয়ে বললেন, হে মুগীরা ! একি ? তুমি কি অবগত নও যে, জিব্রাঈল (আ.) অবতরন করে সালাত আদায় করলেন, আর রাসূলুল্লাহ(সা.) ও সালাত আদায় করলেন। আবার তিনি সালাত আদায় করলেন। রাসূলুল্লাহ(সা.) ও সালাত আদায় করলেন। পুনরায় তিনি সালাত আদায় করলেন এবং রাসূলুল্লাহ(সা.) ও সালাত আদায় করলেন। আবার তিনি সালাত আদায় করলেন। রাসূলুল্লাহ(সা.) ও সালাত আদায় করলেন। পুনরায় তিনি সালাত আদায় করলেন এবং রাসূলুল্লাহ(সা.) ও সালাত আদায় করলেন। তারপর জিব্রাঈল (আ.) বললেন, এরই জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। উমর (ইব্ন আবদুল আযীয) (র.) উরওয়া (র.)- কে বললেন, “তুমি যা রিওয়ায়াত করছ তা একটু ভেবে দেখ। জিব্রাঈলই (আ.) কি রাসূলুল্লাহ(সা.) এর জন্য সালাতের ওয়াক্ত নিধারন করে দিয়েছিলেন ?” উরওয়া (র.) বলেনঃ অবশ্য আয়িশা (রা.) আমার কাছে বর্ননা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) এমন মুহূর্তে আসরের সালাত আদায় করতেন যে, সূর্যরশ্মি তখনও তাঁর হুজরার মধ্যে বিরাজমান থাকত। তবে তা উপরের দিকে উঠে যাওয়ার আগেই।

হাদিস ৪৯৮

কুতাইবা ইব্ন সায়ীদ (র.)……ইব্ন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আবদুল কায়স গোএের একটি দল রাসূলুল্লাহ্(সা.) – এর দরবারে এসে বলল, আপনার ও আমাদের মাঝে সে ‘রাবীআ’ গোএ থাকায় শাহ্রে হারাম (নিষিদ্ধ মাসসমূহ) ছাড়া অন্য কোন সময় আমারা আপনার নিকট আসতে পারি না। কাজেই আপনি আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন যা আমরা নিজেরাও গ্রহণ করব এবং যারা পিছনে রয়েগেছে তাদের প্রতিও আহবান জানাব। রাসূলুল্লাহ্(সা.) বললেনঃ আমি তোমাদের চারটি বিষয়ে নির্দেশ দিচ্ছি, আর চারটি বিষয় থেকে তোমাদের নিষেধ করছি। নির্দেশিত বিষয়ের মাঝে একটি হল ‘ঈমান বিল্লাহ্’ (আল্লাহর প্রতি বিশাস স্থাপন করা)। তারপর তিনি তাদেরকে ব্যাখ্যা করে বুঝালেন যে, ‘ঈমান বিল্লাহ্র’ আর্থ হল, এ কথার সাক্ষ্য স্থাপন করা যে, এক আল্লাহ্ব্যতীত অন্য কোন ইলাহেই আর আমি আল্লাহর রাসূল (সা); সালাত কায়েম করা, য়াকাত দেওয়া, আর গনীমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ দান করা। আর তোমাদের নিষেধ করছি কদুর পাএ, সবুজ রঙের মাটির পাএ, বিশেষ ধরনের তৈলাক্ত পাএ ও গাছের গুড়ি খোদাই করে তৈরী পাত্র ব্যবহার করতে।

হাদিস ৫০০

মুসাদ্দাদ (র.)……হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা উমর (রা.) – এর কাছে বসা ছিলাম। তছন তিনি বললেন, ফিত্না সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ্(সা.) – এর বক্তব্য তোমাদের মধ্যে কে স্মরণ রেখেছ? হযরত হুযাইফা (রা.) বললেন, ‘যেমনি তিনি বলেছিলেন হুবহু তেমনিই আমি মনে রেখেছি’। উমর (রা.) বললেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) – এর বাণী স্মরণ রাখার ব্যপারে তুমি খুব দৃঢ়তার পরিচয় দিচ্ছ। আমি বললাম, (রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছিলেন) মানুষ নিজের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পাড়া-প্রতিবেশীদের ব্যাপারে যে ফেত্নায় পতিত হয়-সালাত, সিয়াম, সাদাকা, (ন্যায়ের) আদেশ ও (অন্যায়ের) নিষেধ তা দূরীভূত করে দেয়। হযরত উমর(রা.) বললেন, তা আমার উদ্দেশ্যে নয়। বরং আমি সেই ফিত্নার কথা বলছি, যা সমুদ্র তরঙ্গের ন্যায় ভয়াল হবে। হুযাইফা (রা.) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! সে ব্যাপারে আপনার ভয়ের কোন কারন নেই। কেননা, আপনার ও সে ফিত্নার মাঝখানে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। হযরত উমর (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, সে দরজাটি ভেঙ্গে ফেলা হবে, না খুলে দওয়া হবে? হুযাইফা (রা.) বললেন, ভেঙ্গে ফেলা হবে। উমর (রা.) বললেন, তাহলে তো আর কোন দিন তা বন্ধ করা যাবে না। [হুযাইফা (রা.) – এর ছাএ শাকীক (র.) বললেন], আমরা জিজ্ঞাসা করতে আমার ভয় পাছিলাম। তাই, আমরা মাসরূক (র.) – কে বললাম এবং তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, দরজাটি উমর (রা.) নিজেই।

হাদিস ৫০১

কুতাইবা (র.)……আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি জনৈক মহিলাকে চুম্বন করে বসে। পরে সে রাসূলুল্লাহ্(সা.)- এর আছে এসে বিষয়টি তাঁর গোচরীভূত করে। তখন আল্লাহ্তা’আলা আয়াত নাযিল করেনঃ “দিনের দু’প্রান্তে-সকাল ও সন্ধ্যায় এবং রাতের প্রথম অংশে সালাত কায়েম কর। নিশ্চয়ই ভাল কাজ পাপাচারকে মিটিয়ে দেয়”। লোকটি জিজ্ঞাস করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ্(সা.)! এ কি শুধু আমার বেলায়? রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ আমার সকল উম্মাতের জন্যই।

হাদিস ৫০২

আবুল ওয়ালীদ হেশাম ইব্ন আবদুল মালেক (র.)…..আবূ আমর শাবানী (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ্ইব্ন মাসঊদ (রা.)- এর বাড়ীর দেকে ইশারা করে বলেন, এ বাড়ীর মালিক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্(সা.)- কে জিজ্ঞাস করলাম, কোন্আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন, ‘যথাসময়ে সালাত আদায় করা। ইবন্মাসঊদ (রা.) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোন্টি? তিনি বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। ইবন্মাসঊদ (রা.) আবার জিজ্ঞাস করলেন, এরপর কোন্টি? রাসূলুল্লাহ্(সা.) বললেন, এরপর জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ্(আল্লাহর পথে জিহাদ)। ইব্ন মাসঊদ (রা.) বলেন, এগুলো তো রাসূলুল্লাহ্(সা.) আমাকে বলেছেনই, যদি আমি আরও বেশী জানতে চাইতাম, তাহলে তিনি আরও বলতেন।

হাদিস ৫০৩

ইব্রাহীম ইব্ন হামযা (র.) …… আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্(সা.) – কে বলতে শুনেছেন, “বলত যদি তোমাদের কারো বাড়ীর সামনে একটি নদী থাকে, আর সে তাতে প্রত্যহ পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তার দেহে কোন ময়লা থাকবে?” তারা বললেন, তার দেহে কোনরূপ ময়লা বাকী থাকবে না। রাসূলুল্লাহ্(সা.) বললেনঃ এ হল পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদাহরণ। এর মাধ্যমে আল্লাহ্তা’আলা (বান্দার) গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেন।

হাদিস ৫০৪

মূসা ইব্ন ইসমায়ীল (র.)…..আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আজকাল কোন জিনিসই সে অবস্থায় পাই না, যেমন নবী (সা.) – এর যুগে ছিল। প্রশ্ন করা হল, সালাতও কি? তিনি বললেন, সে ক্ষেএেও যা হক নষ্ট করার তা-কি তোমরা করনি?

হাদিস ৫০৫

আমর ইবনে যুরারা (র.)……যুহরী (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দামেশ্কে আনাস ইব্ন মালিক (রা.)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, তিনি তখন কাঁদছিলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.)-এর যুগে যা কেছু পেয়েছি তার মধ্যে কেবলমাএ সালাত ছাড়া আর কিছুই বহাল নেই। কিন্তু সালাতকেও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বাক্র (র.) বলেন, আমার কাছে মুহাম্মাদ ইব্ন বক্র বুরসানী (র.) উসমান ইবন্আবূ রাওওয়াদ (র.) সূএে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৫০৬

মুসলিম ইবন্ইব্রাহীম (র.) ……আনাস ইব্ন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে তার প্রতিপালকের সঙ্গে গোপনে কথা বলে। কাজেই, সে যেন ডানদিকে থুথু না ফেলে, তবে (প্রয়োজনে) বাম পায়ের নীচে ফেলতে পারে। তবে সায়ীদ (র.) কাতাদা (র.) থেকে বর্ণনা করেছেন, সে যেণ সামনের দিকে থুথু না ফেলে, কিন্তু বামদিকে অথবা পায়ের নীচে ফেলতে পারে। আর শু’বা (র.) বলেন, সে যেন কিব্লার দিকে অথবা ডান দিকে থুথু না ফেলে, কিন্তু বামদিকে অথবা পায়ের নীচে ফেলতে পারে। আর হুমাইদ (র.) আনাস (রা.) সূএে নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, সে যেন কিব্লার দিকে বা ডানদিকে থুথু না ফেলে, কিন্তু বামদিকে অথবা পায়ের নীচে ফেলতে পারে।

সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদিস ৫০৭

হাফ্সা ইব্ন উমর (র.)……আনাস ইব্ন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেনঃ তোমরা সিজদায় মধ্যপন্থা অবলম্বন কর। তোমাদের কেউ যেন তার বাহুদ্বয় বিছিয়ে না দেয় কুকুরের মত। আর যদি থুথু ফেলতে হয়, তাহলে সে যেন সমনে বা ডানে না ফেলে। কেননা, সে তখন তার প্রতিপালকের সঙ্গে গোপন কথায় লিপ্ত থাকে।

হাদিস ৫০৮

আয়্যূব ইব্ন সুলাইমান (র.)……আবূ হুরায়রা ও আবদুল্লাহ্ইব্ন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ যখন গরমের প্রচণ্ডতা বৃদ্ধি পায়, তখন গরম কমলে সালাত আদায় করবে। কেননা, গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের অংশ।

হাদিস ৫০৯

মুহাম্মদ ইব্ন বাশা্শার (র.)…… আবূ যার্র (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) – এর মুআয্যিন আযান দিলে তিনি বললেনঃ ঠান্ডা হতে দাও। আথবা তিনি বললেন, অপেক্ষা কর, অপেক্ষা কর। তিনি আরও বলেন, গরমের প্রণ্ডতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের ফলেই সৃষ্টি হয়। কাজেই গরম যখন বেড়ে যায় তখন গরম কমলেই সালাত আদায় করবে। এমনকি (বিলম্ব করতে করতে বেলা এতটুকু গড়িয়ে গিয়েছিল যে) আমরা টিলাগুলোর ছায়া দেখতে পেলাম।

হাদিস ৫১০

আলী ইব্ন আবদুল্লাহ্মাদীনী (র.)……আবূ হূরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেনঃ যখন গরম বৃদ্ধি পায় তখন তোমরা তা কমে এলে (যুহরের) সালাত আদায় করো। কেননা, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উওাপের অংশ। (তারপর তিনি বলেন), জাহান্নাম তার প্রতিপালকের কাছে এ বলে নালিশ করেছিল, হে আমার প্রতিপালক! (দহনের প্রচণ্ডতায়) আমার এক অংশ আর এক অংশকে হ্রাস করে ফলেছে। ফলে আল্লাহ্তা’আলা তাকে দু’টি শ্বাস ফেলার অনুমতি দিলেন, একটি শীতকালে আর একটি গ্রীষ্মকালে। আর সে দু’টি হলো, তোমরা গ্রীষ্মকালে যে প্রচণ্ঠ উত্তাপ এবং শীতকালে যে প্রচণ্ড থান্ডা অনুভব কর তাই।

হাদিস ৫১১

উমর ইব্‌ন হাফস (র.)……আবূ সায়ীদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ যুহরের সালাত গরম কমলে আদায় কর। কেননা, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ থেকে। সুফিয়ান, ইয়াহ্ইয়া এবং আবূ আওয়ানা (র.) আ’মাশ (র.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৫১২

আদম ইব্‌ন আবূ ইয়াস (র.)……আবূ যার্র (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ্(সা.)- এর সঙ্গে ছিলাম। এক সময় মুয়ায্যিন যুহরের আযান দিতে চেয়েছিল। তখন নবী (সা.) বললেনঃ গরম কমতে দাও। কিছুক্ষন পর আবার মুয়ায্যিন আযান দিতে চাইলে নবী (সা.) (পুনরায়) বললেনঃ গরম কমতে দাও। এভাবে তিনি (সালাত আদায়ে) এত বিলম্ব করলেন যে, আমার টিলাগুলোর ছায়া দেখতে পেলাম। তারপ্র নবী (সা.) বললেনঃ গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ থেকে। কাজেই গরম প্রচন্ড হলে উত্তাপ কমার পর সালাত আদায় করো। ইব্‌ন আব্বাস (রা.) বলেন, হাদীসে শব্দটি ঝুঁকে পড়া, গড়িয়ে পড়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

হাদিস ৫১৩

আবুল ইয়ামান (র.)……আনাস ইবন্মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন সূয ঢলে পড়লে রাসূলুল্লাহ্(সা.) বেরিয়ে এলেন এবং যুহরের সালাত আদায় করলেন। তারপর মিম্বরে দাঁড়িয়ে কিয়ামত সম্বন্ধে আলোচনা করেন এবং বলেন যে, কেয়ামতে বহু ভয়াঙ্ক ঘটনা ঘটবে। এরপর তিনি বলেন, আমাকে কেউ কোন বিষয়ে প্রশ্ন করতে চাইলে করতে পারে। আমি যতক্ষন এ বৈঠকে আছি, এর মধ্যে তোমরা আমাকে যা কিছু জিজ্ঞাসা করবে আমি তা জানিয়ে দিব। এ শুনে লোকেরা খুব কাঁদতে শুরু করল। আর তিনি বলতে থাকলেনঃ আমাকে প্রশ্ন কর, আমাকে প্রশ্ন কর। এ সময় আব্দুল্লাহ্ইব্‌ন হুযাইফা সাহমী (রা.) দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার পিতা কে? রাসূলুল্লাহ্(সা.) বললেন, তোমার পিতা ‘হুযাইফা’। এরপর তিনি অনেকবার বললেনঃ আমাকে প্রশ্ন কর। তখন হযরত উমর (রা.) নতজানু হয়ে বসে বললেন, “আমরা আল্লাহ্কে প্রতিপালক হিসাবে। ইসলামকে দীন হিসাবে এবং মুহাম্মদ (সা.) – কে নবী হিসাবে হ্রহণ করে সন্তুষ্ট। এরপর নবী (সা.) নীরব থাকলেন। কিছুক্ষণ পর বললেনঃ এক্ষনি এ দেওয়ালের পাশে জান্নাত ও জাহান্নাম আমার সামনে তুলে ধরা হয়েছিল; এত উত্তম ও এত নিকৃষ্টের মত কিছু আমি আর দেখিনি।

হাদিস ৫১৪

হাফ্সা ইব্‌ন উম্র (র)……আবূ বারযা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) এমন সময় ফজরের সালাত আদায় করতেন, যখন আমাদের একজন তার পাশব্বতী আপরজনকে চিনতে পারত। আর এ সালাতে তিনি ষাট থেকে একশ’ আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং যুহরের সালাত আদায় করতেন যখন সূর্য পশিম দিকে ঢলে পড়ত। তিনি আসরের সালাত আদায় করতেন এমন সময় যে, আমাদের কেউ মদীনার শেষ প্রান্তে পৌছে আবার ফেরে আসতে পারত, তখনও সূর্য সতেজ থাকত। রাবী বলেন, মাগরিব সম্পর্কে তিনি [আবূ বারযা (রা.] কী বলেছিলেন,আমি তা ভুলে গেছি। আর ইশার সালাত রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পিছিয়ে নিতে তিনি কোনরূপ দ্ধিধাবোধ করতেন না। তারপর রাবী বলেন, রাতের অর্ধাংশ পর্যন্ত পিছিয়ে নিতে অসুবিধা বোধ করতেন না। আর মু’আয (র.) বর্ণনা করেন যে, শু’বা (র.) বলেছেন, পরে আবুল মিনহালের (র.) সংগে সাক্ষাত হয়েছিল, সে সময় তিনি বলেছেন, রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বলম্ব করতে অসুবিধা বোধ করতেন না।

হাদিস ৫১৫

মুহাম্মদ ইব্‌ন মুকাতিল (র.)……আনাস ইব্‌ন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ্(সা.) – এর পিছনে গরমের সময় সালাত আদায় করতাম, তখন উত্তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কাপড়ের উপর সিজদা করতাম।

হাদিস ৫১৬

আবূ নু’মান (র.)……ইব্‌ন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) মদীনা শরীফে অবস্থানকালে (একবার) যুহর ও আসরের আট রাকাআত এবং মাগরিব ও ইশার সাত রাকাআত একএে মিলেয়ে আদায় করেন। আয়্যূব (র.) বলেন, সম্ভবত এটা বৃষ্টির রাতে হয়েছিল। জাবির (র.) বললেন, সম্ভবত তাই।

হাদিস ৫১৭

ইব্রাহীম ইব্‌ন মুনযির (র.)…… আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতেন যে, তখনো সূর্যরশ্মি ঘরের বাইরে যায়নি।

হাদিস ৫১৮

কুতাইবা (র.)…..আয়িশা (রা.) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) এমন সময় আসরের সালাত আদায় করেছেন যে, সূর্যরশ্মি তখনো তাঁর ঘরের মধ্যে ছিল, আর ছায়া তখনো তাঁর ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েনি।

হাদিস ৫১৯

আবূ নু’আইম (র.)……আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) আসরের সালাত আদায় করতেন, আর সূর্যকিরণ তখনো আমার ঘরে থাকত। সালাত আদায় করার পড়ও পশ্চিমের ছায়া ঘরে দৃষ্টিগোচর হত না। আবূ আবদুল্লাহ্[ইমাম বুখারী (র.)] বলেন, ইমাম মালিক, ইয়াহ্ইয়া ইব্‌ন সাঈদ, শুআইব ও ইব্‌ন আবূ হাফস্(র.) উক্ত সনদে এ হাদীসটির বর্ণনায়’ সূর্যরশ্মি আমার ঘরের ভিতরে থাকত, ঘরের মেঝে ছায়া নেমে আসেনি’ এরূপ বলেছেন।

সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদিস ৫২০

মুহাম্মদ ইব্‌ন মুকাতিল (র.)…..সায়্যার ইব্‌ন সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি ও আমার পিতা আবূ বারযা আসলামী (রা.) – কাছে গেলাম। আমার পিতা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) ফরয সালাতসমূহ কিভাবে আদায় করতেন? তিনি বললেন, আল-হাজীর, যাকে তোমরা আল-উলা বা যুহর বলে থাক, তা তিনি আদায় করতেন যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ত। আর আসরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, তারপর আমাদের কেউ মদীনার শেষ প্রন্তে তার ঘরে ফিরে যেতো সূর্য তখনও সতেজ থাকতো। মাগরিব সম্পর্কে তিনি কি বলেছিলেন তা আমি ভুলে গেছি। আর ইশার সালাত যাকে তোমরা ‘আতামা’ বলে থাক, তা তিনি বিলম্বে আদায় করা পসন্দ করতেন। আর তিনি ইশার সালাতের আগে নিদ্রা যাওয়া এবং পরে কথাবার্তা বলা অপসন্দ করতেন। তিনি ফজরের সালাত এমন সময় সমাপ্ত করতেন যখন প্রত্যেকে তার পাশ্ববর্তী ব্যক্তিকে চিনতে পারত। এ সালাতে তিনি ষাট থেকে একশ’ আয়াত তেলাওয়াত করতেন।

হাদিস ৫২১

আবদুল্লাহ্ইব্‌ন মাসলামা (র.)……আনাস ইব্‌ন মালিক(রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্(সা.)- এর সঙ্গে আসরের সালাত আদায় করতাম। সালাতের পর লোকেরা আওফ গোএের মহল্লায় গিয়ে তাদেরকে সালাত আদায় করা অবস্থায় পেত।

হাদিস ৫২২

মুহাম্মদ ইব্‌ন মুকাতিল (র.)……আবূ উমামা(রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমারা উমর ইব্‌ন আযীয (র.)-এর সঙ্গে যুহরের সালাত আদায় করলাম। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে আনাস ইব্‌ন মালিক(রা.)- এর কাছে গেলাম। আমরা গিয়ে তাঁকে আসরের সালাত আদায়ে রত পেলাম। আমি তাঁকে বললাম চাচা ! এ কোন সালাত যা আপনি আদায় করলেন? তিনি বললেন, আসরের সালাত আর এ হলো রাসূলুল্লাহ্(সা.)-এর সালাত, যা আমরা তাঁর সাথে আদায় করতাম।

হাদিস ৫২৩

আবলুল্লাহ্ইব্‌ন ইউসুফ (র.)……আনাস ইব্‌ন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,আমরা আসরের সালাত আদায় করতাম, তারপর আমাদের কোন গমনকারী কুবার দিকে যেত এবং সূর্য যথেষ্ট উপরে থাকতেই সে তাদের কাছে পৌঁছে যেত।

হাদিস ৫২৪

আবুল ইয়ামান (র.)……আনাস ইব্‌ন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) আসরের সালাত আদায় করতেন, আর সূর্য তখনও যথেষ্ট উপরে উজ্জ্বল অবস্থায় বিরাজমান থাকত। সালাতের পর কোন গমনকারী ‘আওয়ালী’র’ দিকে রওয়ানা হয়ে তাদের কাছে পৌঁছে যেত, আর তখনও সূর্য উপরে থাকত। আওয়ালীর কোন কোন অংশ ছিল মদীনা থেকে চার মেইল বা তার কাছাকাছি দূরত্বে।

হাদিস ৫২৫

আব্দুল্ললাহ্ইব্‌ন ইউসুফ (র.)……আবদুল্লাহ্ইব্‌ন উমর(রা.) থেকে বর্ণিত, সাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তির আসরের সালাত ছুটে যায়, তাহলে যেন তার পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পদ সব কিছুই ধ্বংস হয়ে গেল। আবূ আবদুল্লাহ্(ইমাম বুখারী বলেন, (আরবী পরিভাষায়)) বাক্যটি ব্যবহার করা হয় যখন কেউ কাউকে হত্যা করে অথবা মাল-সম্পদ ছিনিয়ে নেয়।

হাদিস ৫২৬

মুসলিম ইব্‌ন ইব্রাহীম (র.)……আবূ মালীহ্(রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা হযরত বুরাইদা (রা.) – এর সঙ্গে ছিলাম। দিনটি ছিল মেঘাচ্ছন্ন। তাই বুরাইদা (রা.) বলেন, শীঘ্র আসরের সালাত আদায় করে নাও। কারণ নবী (সা.) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আসরের সালাত ছেড়ে দেয় তার আমল বিনষ্ট হয়ে যায়।

হাদিস ৫২৭

হুমাইদী (র.)……জরীর ইব্‌ন আবদুল্লাহ্(রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা নবী (সা.) – এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি রাতে (পূর্ণিমার) চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ ঐ চাঁদকে তোমরা যেমন দেখছ, ঠিক তেমনি অচিরেই তোমাদের প্রতিপালককে তোমরা দেখতে পাবে। তাঁকে দেখতে তোমরা কোন ভীড়ের সম্মুখীন হবে না। কাজেই সূর্য উদয়ের এবং অস্ত যাওয়ার আগের সালাত (শয়তানের প্রভাবমুক্ত হয়ে) আদায় করতে পারলে তোমরা তাই করবে। তারপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করলেন, “কাজেই তোমার প্রতিপালকের প্রশ্নংসার তাসবীহ্পাঠ কর সূর্য উদয়ের আগে ও অস্ত যওয়ার আগে।” ইসমাঈল (র.) বলেন, এর অর্থ হল – এমনভাবে আদায় করার চেষ্টা করবে যেন কখনো ছুটে না যায়।

হাদিস ৫২৮

আবদুল্লাহ্ইব্‌ন ইউসুফ (র.)……আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, সাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ ফিরিশ্তাগণ পালা বদল করে তোমাদের মাঝে আগমন করেন; একদল দিনে, একদল রাতে। আসর ও ফজরের সালাতে উভয় দল একএ হন। তারপর তোমাদের মাঝে রাত যাপনকারী দলটি উঠে যান। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের জিজ্ঞাসা করেন, আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে আসলে? অবশ্য তিনি নিজেই তাদের ব্যাপারে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত। উত্তরে তাঁরা বলেন; আমারা তাদের সালাতে রেখে এসেছি, আর আমরা যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম তখনও তারা সালাতে রত ছিলেন।

হাদিস ৫২৯

আবূ ন’আইম (র.)……আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে আসরের সালাতের এক সিজ্দা পায়, তাহলে সে যেন সালাত পূর্ণ করে নেয়। আর যদি সূর্য উদিত হওয়ার আগে ফজরের সালাতের এক সিজ্দা পায়, তাহলে সে যেন সালাত পূর্ণ করে নেয়।

হাদিস ৫৩০

আবদুল আযীয ইব্‌ন আবদুল্লাহ্(র.)…..সালিম ইব্‌ন আবদুল্লাহ্(র.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি সাসূলুল্লাহ্(সা.) – কে বলতে শুনেছেন যে, পুর্বেকার উম্মাতের স্থায়িত্বের তুলনায় তোমাদের স্থায়িত্ব হল আসর থেকে নিয়ে সূর্য অস্ত যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের অনুরূপ। তাওরাত অনুসারীদেরকে তাওরাত দেওয়া হয়েছিল। তারা তদনুসারে কাজ করতে লাগল; যখন দুপুর হলো, তখন তারা অপারগ হয়ে পড়ল। তাদের এক এক ‘কীরাত’ করে পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়। তারপর ইন্জীল অনুসারীদেরকে ইন্জীল দেওয়া হল। তারা আসরের সালাত পর্যন্ত কাজ করে অপারগ হয়ে পড়ল। তাদেরকে এক এক ‘কীরাত’ করে পারিশ্রমিক দেওয়া হল। তারপর আমাদেরকে কুরাআন দেওয়া হল। আমারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাজ করলাম। আমদের দুই দুই ‘কীরাত’ করে দেওয়া হল। এতে উভয় কিতাবী সম্প্রদায় বলল, হে আমাদেরে প্রতিপাল্ক! তাদের দুই দুই ‘কীরাত’ করে দান করেছেন, আর আমাদেরে দিয়েছেন এক এক কীরাত করে; অথচ আমলের দিক দিয়ে আমরাই বেশী। আল্লাহ্তা’আলা বলেলেনঃ তোমাদের পারিশ্রমিকের ব্যাবারে আমি কি তোমাদের প্রতি কোনরূপ যুলুম করেছি? তারা বলল, না। তখন আল্লাহ্তা’আলা বললেনঃ এ হলো, আমার অনুগ্রহ যাকে ইচ্ছা তাকে দেই।

হাদিস ৫৩১

আবূ কুরাইব (র.)……আবূ মূসা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, মুসলিম, ইয়াহূদী ও নাসারাদের উদাহারণ হল এরূপ, এক ব্যক্তি একদল লোককে কাজে নিয়োগ করল, তারা তার জন্য রাত পর্যন্ত কাজ করবে। কিন্তু অর্ধদিবস পর্যন্ত কাজ করার পর তারা বলল, আপনার পারিশ্রমিকের আমাদের কোন প্রয়োজন নেই। সে ব্যক্তি অন্য আরেক দল লোককে কাজে নিয়োগ করল এবং বলল, তোমরা দিনের বাকী অংশ কাজ কর, তোমরা আমার নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাবে। তারা কাজ করতে শুরু করলে। যখন আসরের সালাতের সময় হল, তখন তারা বলল, আমরা যা কাজ করেছি তা আপনার জন্য রেখে গেলাম। তারপর সে ব্যক্তি আরেক দল লোককে কাজে নিয়োগ করল। তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনের বাকী অংশ কাজ করল এবং সে দুই দলের পূর্ণ পারিশ্রমিক হাসিল করে নিল।

হাদিস ৫৩২

মুহাম্মদ ইব্‌ন মিহারান (র.)……রাফি’ ইব্‌ন খাদীজ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী (সা.) – এর সঙ্গে মাগরিবের সালাত আদায় করে এমন সময় ফিরে আসতাম যে, আমাদের কেউ (তীর নিক্ষেপ করলে) নিক্ষিপ্ত তীর পতিত হওয়ার স্থান দেখতে পেত।

হাদিস ৫৩৩

মুহাম্মদ ইব্‌ন বাশ্শার (র.)…..মুহাম্মদ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন হাসান ইব্‌ন আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, মুহাম্মদ ইব্‌ন আমর(র.) বলেন, হাজ্জাজ (ইব্‌ন ইউসুফ) (মদীনা শরীফে) এলে আমরা জাবির ইব্‌ন আব্দুল্লাহ্(রা.)-কে সালাতের ওয়াক্ত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম, (কেননা, হাজ্জাজ ইব্‌ন ইউসুফ বিলম্ব করে সালাত আদায় করতেন)। তিনি বললেন, নবী (সা.) যুহরের সালাত প্রচণ্ড গরমের সময় আদায় করতেন। আর আসরের সালাত সূর্য উজ্জল থাকতে আদায় করতেন, মাগরিবের সালাত সূর্য অস্ত যেতেই আর ইশার সালাত বিভিন্ন সময়ে আদায় করতেন। যদি দেখতেন, সবাই সমবেত হয়েছেন, তাহলে সাকাল সকাল আদয় করতেন। আর যদি দেখতেন, লোকজন আসতে দেরী করছে, তাহলে বিলম্বে আদায় করতেন। আর ফজরের সালাত তাঁরা কিংবা রাসূলুল্লাহ্(সা.) অন্ধকার থাকতে আদায় করতেন।

হাদিস ৫৩৪

মাক্কী ইবনে ইব্রাহীম (র.)……সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূর্য পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আমরা নবী (সা.) – এর সঙ্গে মাগরিবের সালাত আদায় করতাম।

হাদিস ৫৩৫

আদম (র.)…..ইব্‌ন আব্বাস (রা.) বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) (মাগরিব ও ইশার) সাত রাকআত ও (যুহর ও আসরের) আট রাকাআত একসাথে আদায় করেছেন।

হাদিস ৫৩৬

আবু মা’মার আবদুল্লাহ্ইব্‌ন আমর (র.)……আবদুল্লাহ্মুযানী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ বেদুঈনরা মাগরিবের সালাতের নামের ব্যাপারে তোমাদের উপর যেন প্রভাব বিস্তার না করে। রাবী (আবদুল্লাহ্মুযানী (রা.)) বলেন, বেদুঈনরা মাগরিবকে ইশা বলে থাকে।

হাদিস ৫৩৭

আবদান (র.)……আবদুল্লাহ্(রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ্(সা.) আমাদের নিয়ে ইশার সালাত আদায় করেন, যে সালাতকে লোকেরা ‘আতামা’ বলে থাকে। তারপর তিনি ফিরে আমাদের দিকে মুখ করে বললেন, আজকের এ রাত সম্পর্কে তোমারা জান কি? এ রাত থেকে নিয়ে একশ’ বছরের শেষ মাথায় আজ যারা ভূপৃষ্ঠে আছে তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।

হাদিস ৫৩৮

মুসলিম ইব্‌ন ইব্রাহীম (র.)……মুহাম্মাদ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন হাসান ইব্‌ন আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্(রা.)-কে নবী (সা.)-এর সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, মধ্যাহ্ন গড়ালেই নবী (সা.) যুহরের সালাত আদায় করতেন এবং সূর্য সতেজ থাকতেই আসর আদায় করতেন, আর সূর্য আস্ত গেলেই মাগরিব আদায় করতেন, আর লোক বেশী হয়ে গেলে ইশার সালাত তাড়াতাড়ি আদায় করতেন এবং লোক কম হলয়ে দেরী করতেন, আর ফজরের সালাত অন্ধকার থাকতেই আদায় করতেন।

হাদিস ৫৩৯

ইয়াহ্ইয়া ইব্‌ন বুকাইর (র.)…..আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ্ (সা.) ইশার সালাত আদায় করতে বিলম্ব করলেন। এ হলো ব্যাপকভাবে ইসলাম প্রসারের আগের কথা। (সালাতের জন্য) তিনি বেরিয়ে আসেননি, এমন কি উমর (রা.) বললেন, মহিলা ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে।এরপর তিনি বেরিয়ে এলেন এবং মসজিদের লোকদের লক্ষ্য করে বললেনঃ “তোমারা ব্যতীত যমীনের অধিবাসীদের কেউ ইশার সালাতের জন্য অপেক্ষায় নেই।”

হাদিস ৫৪০

মুহাম্মদ ইব্‌ন আলা (র.)……আবূ মূসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও আমার সংগীরা-যারা (আবিসিনিয়া থেকে) জাহাজ যোগে আমার সংগে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন- বাকী’য়ে বুতহানের একটি মুক্ত এলাকায় বসবাসরত ছিলাম। তখন নবী (সা.) থাকতেন মদীনায়। বুতহানের অধিবাসীরা পালাক্রমে একদল করে প্রতি রাতে এশার সালাতের সময় রাসূলুল্লাহ্(সা.) – এর খিদমতে আসতেন। পালাক্রমে ইশার সালাতের সময় আমি ও আমার কতিপয় সঙ্গী নবী (সা.) – এর কাছে হাযির হলাম। তখন তিনি কোন কাজে খুব ব্যস্ত ছিলেন, ফলে সালাত আদায়ে বিলম্ব করলেন। এমন কি রাত অর্ধেক হয়ে গেল। তারপর নবী (সা.) বেরিয়ে এলেন এবং সবাইকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদেরকে বললেনঃ প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে বসে যাও। তোমাদের সুসংবাদ দিছি যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য এটি এক নিয়ামত যে, তোমরা ব্যতীত মানুষের মধ্যে কেউ এ মুহূর্তে সালাত আদায় করছে না। কিংবা তিনি বলেছিলেনঃ তোমরা ব্যতীত কোন উম্মাত এ সময় সালাত আদায় করেনি। রাসূলুল্লাহ্(সা.) কোন বাক্যটি বলেছিলেন বর্ণনাকারী তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। হযরত আবূ মূসা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) – এর এ কথা শুনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত মনে বাড়ী ফিরলাম।

সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদিস ৫৪১

মুহাম্মদ ইব্‌ন সালাম (র.)……আবূ বারযা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) ইশার পূর্বে নিদ্রা যাওয়া এবং পরে কথাবার্তা বলা অপসন্দ করতেন।

হাদিস ৫৪২

আয়্যূব ইব্‌ন সুলাইমান (র.)……আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্(সা.) ইশার সালাত আদায় করতে দেরী করলেন। উমর (রা.) তাঁকে বললেন, আস্সালাত। নারী ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। তারপর তিনি বেরিয়ে আসলেন এবং বললেনঃ তোমরা ব্যতীত পৃথিবীর আর কেউ এ সালাতের জন্য অপেক্ষা করছে না। (রাবী বলেন) তখন মদীনা ব্যতীত অন্য কোথাও সালাত আদায় করা হত না। (তিনি আরও বলেন যে) পশ্চিম আকাশের ‘শাফাক’ অন্তর্হিত হওয়ার পর থেকে রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে তাঁরা ইশার সালাত আদায় করতেন।

হাদিস ৫৪৩

মাহমূদ (র.)……আব্দুল্লাহ্ইব্‌ন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, এক রাতে কর্মব্যস্ততার কারণে রাসূলুল্লাহ্(সা.) ইশার সালাত আদায়ে দেরী করলেন, এমন কি আমরা মসজিদে ঘুমিয়ে পড়লাম। তারপর জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। এরপর আবার জেগে উঠলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্(সা.) আমাদের কাছে এলেন, তারপর বললেনঃ তোমরা ব্যতীত পৃথিবীর আর কেউ এ সালাতের জন্য অপেক্ষা করছে না। ঘুম প্রবল হওয়ার কারণে এশার সালাত বিনষ্ট হওয়ার আশংকা না থাকলে ইব্‌ন উমর (রা.) তা আগেভাগে বা বিলম্ব করে আদায় করতে দ্বিধা করতেন না। কখনও কখনও তিনি ইশার আগে নিদ্রাও যেতেন। ইব্‌ন জুরাইজ (র.) বলেন, এ বিষয়ে আমি আতা (র.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমি ইব্‌ন আব্বাস (রা.)-কে বলতে শুনেছি যে, এক রাতে রাসূলুল্লাহ্(সা.) ইশার সালাত আদায় করতে দেরী করেছিলেন, এমন কি লোকজন একবার ঘুমিয়ে জেগে উঠল, আবার ঘুমিয়ে পড়ে জাগ্রত হল। তখন উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রা.) উঠে গিয়ে রাসূলুল্লাহ্(সা.)-কে বললেন, ‘আস-সালাত’। আতা(র.) বলেন যে, ইব্‌ন আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, তারপর আল্লাহর নবী (সা.) বেরিয়ে এলেন-যেন এখনো আমি তাঁকে দেখছি- তাঁর মাথা থেকে পানি টপ্কে পড়ছিল এবং তাঁর হাত মাথার উপর ছিল।

তিনি এসে বললেনঃ যদি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম, তাহলে তাদেরকে এভাবে (বিলম্ব করে) ইশার সালাত আদায় করার নির্দেশ দিতাম। ইব্‌ন জুরাইজ (র.) বলেন, ইব্‌ন আব্বাস (রা.) – এর বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ্(সা.) যে মাথায় হাত রেখেছিলেন তা কিভাবে রেখেছিলেন, বিষয়টি সুস্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করার জন্য আতা (র.)-কে বললাম। আতা (র.) তাঁর আঙ্গুলগুলো সামান্য ফাঁকা করলেন, তারপর সেগুলোর অগ্রভাগ সম্মুখ দিক থেকে (চুলের অভ্যন্তরে) প্রবেশ করালেন। তারপর আঙ্গুলীগুলো একএিত করে মাথার উপর দিয়ে এভাবে টেনে নিলেন যে, তার বৃদ্ধাঙ্গুলী কানের সে পার্শবকে স্পর্শ করে গেল যা মুখমন্ডল সংলগ্ন চোয়ালের হাড্ডির উপর শ্মশ্রুর পাশে অবস্থিত। তিনি নবী (সা.) চুলের পানি ঝরাতে কিংবা চুল চাপড়াতে এরূপই করতেন। এবং তিনি বলেছিলেনঃ যদি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম, তাহলে তাদেরকে এভাবেই (বিলম্ব করে) সালাত আদায় করার নির্দেশ দিতাম।

হাদিস ৫৪৪

আবদুর রহীম মুহারিবী (র.)…….আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একরাতে নবী (সা.) ইশার সালাত অর্ধেক রাত পর্যন্ত বিলম্ব করলেন। তারপর সালাত আদায় করে তিনি বললেন। লোকেরা সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। শোন! তোমরা যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় ছিলে ততক্ষণ তোমরা সালাতেই ছিলে। ইব্‌ন আবূ মারইয়াম (র.)-এর বর্ণনায় আরও আছে, তিনি বলেন, ইয়াহ্ইয়া ইব্‌ন আইউব (র.) হুমাইদ (র.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (হুমাইদ) আনাস (রা.)-কে বলতে শুনেছেন, সে রাতে রাসূলুল্লাহ্(সা.)-এর আংটির উজ্জবলতা আমি যেন এখনও দেখতে পাচ্ছি।

হাদিস ৫৪৫

মুসাদ্দাদ (র.)……জারীর ইব্‌ন আব্দুল্লাহ্(রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে নবী (সা.) – এর নিকট ছিলাম। হঠাৎ তিনি পূর্ণিমা রাতের চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, শোন! এটি যেমন দেখতে পাছ – তোমাদের প্রতিপালককেও তোমরা তেমনি দেখতে পাবে। তাঁকে দেখতে তোমরা ভিড়ের সম্মুখীন হবে না। কাজেই তোমারা যদি সূর্য উঠার আগের সালাত ও সূর্য ডুবার আগের সালাত আদায়ে সমর্থ হও, তাহলে তাই কর। তারপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ “সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসার তাসবীহ্পাঠ করুন।” আবূ আব্দুল্লাহ্(ইমাম বুখারী (র.) বলেন, ইব্‌ন শিহাব (র.)……জারীর (রা.) থেকে আরো বলেন, নবী (সা.) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে খালি চোখে দেখতে পাবে।

হাদিস ৫৪৬

হুদবা ইব্‌ন খালিদ (র.)……আবূ বক্র ইব্‌ন আবূ মূসা (রা.) থেকে তাঁর পিতার সূএে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুই শীতের (ফজর ও আসরের) সালাত আদায় করবে, সে জান্নাতে দাখিল হবে। ইব্‌ন রাজা (র.) বলেন, হাম্মাম (র.) আবূ জামরা (র.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবূ বক্র ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন কায়স (র.) তাঁর নিকট এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৫৪৭

ইস্‌হাক (র.)…আবদুল্লাহ্‌ (রা.) সূত্রে নবী (সাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৫৪৮

আম্‌র ইব্‌ন আসিম (র.)……যায়িদ ইব্‌ন সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁরা নবী (সা.) – এর সাঙ্গে সাহরী খেয়েছেন, তারপর ফজরের সালাতে দাঁড়িয়েছেন। আনাস (রা.) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ দু’য়ের মাঝে কতটুকু সময়ের ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ বা ষাট আয়াত তিলাওয়াত করা যায়, এরূপ সময়ের ব্যবধান ছিল।

হাদিস ৫৪৯

হাসান ইব্‌ন সাব্বাহ্(র.)……আনাস ইব্‌ন মালিক(রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর নবী (সা.) ও যায়িদ ইব্‌ন সাবিত (রা.) একসাথে সাহরী খাচ্ছিলেন, যখন তাঁদের খাওয়া হয়ে গেল – আল্লাহর নবী (সা.) (ফজরের) সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। কাতাদা (র.) বলেন, আমরা আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, তাঁদের সাহরী খওয়া থেকে অবসর হয়ে সালাত শুরু করার মধ্যে কতটুকু সময় ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, একজন লোক পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারে এতটুকু সময়।

হাদিস ৫৫০

ইসমায়ীল ইব্‌ন আবূ উওয়াইস (র.)……সাহ্ল ইব্‌ন সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পরিবার-পরিজনের সাথে সাহরী খেতাম। খাওয়ার পরে রাসূলুল্লাহ্(সা.) – এর সঙ্গে ফজরের সালাত পাওয়ার জন্য আমাকে খুব তাড়াহুড়া করতে হত।

হাদিস ৫৫১

ইয়াহ্ইয়া ইব্‌ন বুকাইর (র.)……আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, মুসলিম মহিলাগণ সর্বাঙ্গ চাদরে ঢেকে রাসূলুল্লাহ্(সা.) – এর সঙ্গে ফজরের জামা’আতে হাযির হতেন। তারপর সালাত আদায় করে তারা যার যার ঘরে ফিরে যেতেন। আবছা আঁধারে কেউ তাঁদের চিনতে পারত না।

হাদিস ৫৫২

আব্দুল্লাহ্ইব্‌ন মাসলামা (র.)……আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্য উঠার আগে ফজরের সালাতের এক রাকআত পায়, সে ফজরের সালাত পেল। আর যে ব্যক্তি সূর্য ডুবার আগে আসরের সালাতের এক রাকাআত পেল সে আসরের সালাত পেল।

হাদিস ৫৫৩

আবদুল্লাহ্ইব্‌ন ইউসুফ(র.)……আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন সালাতের এক রাকআত পায়, সে সালাত পেল।

হাদিস ৫৫৪

হাফস ইব্‌ন উমর (র.)……ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কয়েক জন আস্থাভাজন ব্যক্তি আমার কাছে – যাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন উমর (রা.) আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্(সা.) ফজরের পর সূর্য উজ্জ্বল হয়ে না উঠা পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

হাদিস ৫৫৫

মুসাদ্দাদ (র.)……ইব্‌ন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট কয়েক ব্যক্তি এরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৫৫৬

মুসাদ্দাদ (র.)…..ইব্‌ন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায়ের ইচ্ছা করো না। উরওয়া (র.) বলেন, ইব্‌ন উমর (রা.) আমাকে আরও বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ যদি সূর্যের একাংশ প্রকাশ পেয়ে যায়, তাহলে পূর্ণরূপে উদিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায়ে বিলম্ব করো। আর যদি তার একাংশ ডুবে যায় তাহলে সম্পূর্ণরূপে অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায়ে বিলম্ব করো। আবদাও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৫৫৭

উবায়দ ইব্‌ন ইসমায়ীল (র.)……আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্(সা.) দু’ধরণের বেচা-কেনা করতে, দু’ভাবে পোষাক পরিধান করতে এবং দু’সময়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ফজরের পর সূর্য পূর্ণরূপে উদিত না হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোন সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। আর পুরো শরীর জড়িয়ে কাপড় পরতে এবং এক কাপড়ে (যেমন লুঙ্গি ইত্যাদি পরে) হাঁটু খাড়া করে এমনভাবে বসতে যাতে লজ্জাস্থান উপরের দিকে খুলে যায় – নিষেধ করেছেন। আর মুনাবাযা ও মুলামাসা (এর পন্থায় বেচা-কেনা) নিষেধ করেছেন।
মুনাবাযাঃ বিভিন্ন দরের একাধিক পণ্যদ্রব্য একস্থানে রেখে মূল্য হিসেবে একটি অংক নির্ধারণ করে এ শর্তে বিক্রি করা যে, ক্রেতা নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্ব থেকে পাথর নিক্ষেপ করে যে পণ্যের গায়ে লাগাতে পারবে, উল্লেখিত মূল্যে তাকে তা বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ করতে হবে। এ পন্থার বেচা-কেনা “মুনাবাযা” বলে অভিহিত।
মুলামাসাঃ একাধিক পণ্যের প্রত্যেকটির ভিন্ন ভিন্নভাবে মূল্য নির্ধারণ করে এভাবে বিক্রি কারা যে, ক্রেতা যেটি স্পর্শ করবে, পূর্ব নির্ধারিত মূল্যে তাকে অবশ্যই তা গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের বেচাকেনা শরয়ী পরিভাষায় ‘মুলামাসা’ বলে অভিহিত। যেহেতু এতে পসন্দ অপসন্দের স্বাধীনতা থাকে না, তাই শরীয়াত এ দু’টো পন্থাকে নিষিদ্ধ করেছে।

হাদিস ৫৫৮

আবদুল্লাহ্ইব্‌ন ইউসুফ (র.)……ইব্‌ন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন সর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায়ের উদ্যোগ না নেয়।

হাদিস ৫৫৯

আবদুল আযীয ইব্‌ন আবদুল্লাহ্(র.)……আবূ সায়ীদ খুদ্রী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্(সা.) – কে বলতে শুনেছি যে, ফজরের পর সূর্য উদিত হয়ে (একটু) উপরে না উঠা পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত কোন সালাত নেই।

হাদিস ৫৬০

মুহাম্মদ ইব্‌ন আবান (র.)……মু’আবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা এমন এক সালাত আদায় করে থাক – রাসূলুল্লাহ্(সা.) – এর সাহচর্য লাভ সত্ত্বেও আমরা তাঁকে কখনও তা আদায় করতে দেখিনি। বরং তিনি তা থেকে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ আসরের পর দু’রাকাআত আদায় করতে।

সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদিস ৫৬১

মুহাম্মদ ইব্‌ন সালাম (র.)……আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) দু’ সময়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ফজরের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত।

হাদিস ৫৬২

আবু নু’মান (র.)…ইব্‌ন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার সঙ্গীদের যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি সেভাবেই আমি সালাত আদায় করি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ে সালাতের ইচ্ছা করা ব্যতীত রাতে বা দিনে যে কোন সময় কেউ সালাত আদায় করতে চাইলে আমি নিষেধ করি না।

হাদিস ৫৬৩

আবূ নু’আইম (র.)…….আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সে মাহান সত্তার শপথ, যিনি তাঁকে (নবী (সা.) – কে) উঠিয়ে নিয়েছেন, আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি দু’রাকাআত সালাত কখনই ছাড়েননি। আর সালাতে দাঁড়ানো যখন তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি, তখন তিনি আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেছেন। তিনি তাঁর এ সালাত অধিকাংশ সময় বসে বসেই আদায় করতেন। আয়িশা (রা.) এ সালাত দ্বারা আসরের পরবর্তী দু’রাকাআতের কথা বুঝিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ্(সা.) এ দু’রাকাআত সালাত আদায় করতেন, তবে উম্মাতের উপর বোঝা হয়ে পড়ার আশংকায় তা মসজিদে আদায় করতেন না। কেননা, উম্মাতের জন্য যা সহজ হয় তাই তাঁর কাম্য ছিল।

হাদিস ৫৬৪

মুসাদ্দাদ (র.)…….আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে ভাগিনে! নবী (সা.) আমার কাছে উপস্থিত থাকার কালে আসরের পরবর্তী দু’রাকাআত কখনও ছাড়েননি।

হাদিস ৫৬৫

মূসা ইব্‌ন ইসমায়ীল (র.)…….আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দু’রাকাআত সালাত রাসূলুল্লাহ্(সা.) প্রকাশ্যে বা গোপনে কোন অবস্থাতেই ছাড়তেন না। তা হল ফজরের সালাতের আগের দু’রাকাআত ও আসরের পরের দু’রাকাআত।

হাদিস ৫৬৬

মুহাম্মদ ইব্‌ন আর’আরা (র.)……আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) যে দিনই আসরের পর আমার কাছে আসতেন সে দিনই দু’রাকাআত সালাত আদায় করতেন।

হাদিস ৫৬৭

মু’আয ইব্‌ন ফাযালা (র.)…….আবূ মালীহ্(রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মেঘলা দিনে আমরা বুরাইদা (রা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেন, শীঘ্র সালাত আদায় করে নাও। কেননা, নবী (সা.) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আসরের সালাত ছেড়ে দেয় তার সমস্ত আমল বিনষ্ট হয়ে যায়।

হাদিস ৫৬৮

ইমরান ইব্‌ন মাইসারা (র.) আবূ কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ্(সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। যাএী দলের কেউ কেউ বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! (সা.) রাতের এ শেষ প্রহরে আমাদের নিয়ে যদি একটু বিশ্রাম নিতেন। রাসূলুল্লাহ্(সা.) বললেনঃ আমার ভয় হচ্ছে সালাতের সময়ও তোমরা ঘুমিয়ে থাকবে। বিলাল (রা.) বললেন, আমি আপনাদের জাগিয়ে দিব। কাজেই সবাই শুয়ে পড়লেন। এ দিকে বিলাল (রা.) তাঁর হাওদার গায়ে একটু হেলান দিয়ে বসলেন। এতে তাঁর দু’চোখ মূদে আসল। ফলে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। সূর্য কেবল উঠতে শুরু করেছে, এমন সময় রাসূলুল্লাহ্(সা.) জাগ্রত হলেন এবং বিলাল (রা.)-কে ডেকে বললেন, হে বিলাল! তোমার কথা গেল কোথায়? বিলাল (রা.) বললেন, আমার এত অধিক ঘুম আর কখনও পায়নি। রাসূলুল্লাহ্(সা.) বললেনঃ আল্লাহ্তা’আলা যখন ইচ্ছা করেছেন তখন তোমাদের রূহ্কব্য করে নিয়েছেন; আবার যখন ইচ্ছা করেছেন তখন তা তোমাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। হে বিলাল! উঠ, লোকদের জন্য সালাতের আযান দাও। তারপর তিনি উযূ করলেন এবং সূর্য যখন উপরে উঠল এবং উজ্জ্বল হলো তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন।

হাদিস ৫৬৯

মু’আয ইব্‌ন ফাযালা (র.)……জাবির ইব্‌ন আব্দুল্লাহ্(রা.) থেকে বর্ণিত যে, খন্দকের দিন সূর্য অস্ত যাওয়ার পর উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রা.) এসে কুরাইশ গোএীয় কাফিরদের ভর্ৎসনা করতে লাগলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! (সা.) আমি এখনও আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি, এমন কি সূর্য অস্ত যায় যায়। নবী (সা.) বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমিও তা আদায় করিনি। তারপর আমরা উঠে বুতহানের দিকে গেলাম। সেখানে তিনি সালাতের জন্য উযূ করলেন এবং আমরাও উযূ করলাম; এরপর সূর্য ডুবে গেলে আসরের সালাত আদায় করেন, তারপর মাগরিবের সালাত আদায় করেন।

হাদিস ৫৭০

আবূ নু’আইম ও মূসা ইব্‌ন ইসমায়ীল (র.)……আনাস ইব্‌ন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ যদি কেউ কোন সালাতের কথা ভুলে যায়, তাহলে যখনই স্মরণ হবে, তখন তাকে তা আদায় করতে হবে। এ ব্যতীত সে সালাতের অন্য কোন কাফ্ফারা নেই। (কেননা, আল্লাহ্তা’আলা ইরশাদ করেছেন) “আমাকে স্মরণের উদ্দেশ্যে সালাত কায়েম কর”। মুসা (র.) বলেন, হাম্মাম (র.) বলেছেন যে, আমি তাকে (কাতাদা (র.)) পরে বলতে শুনেছি, “আমাকে স্মরণের উদ্দেশ্যে সালাত কায়েম কর।” হাব্বান (র.) আনাস (রা.) –এর সূএে রাসূলুল্লাহ্(সা.) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।

হাদিস ৫৭১

মুসাদ্দাদ (র.)…….জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধকালে এক সময় উমর (রা.) কুরাইশ কাফিরদের ভর্ৎসনা করতে লাগলেন এবং বললেন, সূর্যাস্তের পূর্বে আমি আসরের সালাত আদায় করতে পরিনি, (জাবির (রা.) বলেন) তারপর আমার বুতহান উপত্যকায় উপস্থিত হলাম। সেখানে তিনি সূর্যাস্তের পর সে সালাত আদায় করলেন, তারপরে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন।

হাদিস ৫৭২

মুসাদ্দাদ (র.)……আবূ মিনহাল (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে আবূ বারযা আসলামী (রা.)-এর নিকট গেলাম। আমার পিতা তাঁকে জিজ্ঞাস করলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) ফরয সালাতসমূহ কোন সময় আদায় করতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) – যুহরের সালাত যাকে তোমরা প্রথম সালাত বলে থাক, সূর্য ঢলে পড়লে আদায় করতেন। আর আসরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, আমাদের কেউ সূর্য সজীব থাকতেই মদীনার শেষ প্রান্তে নিজ পরিজনের কাছে ফিরে আসতে পারত। মাগরিব সম্পর্কে তিনি কি বলেছিলেন, তা আমি ভুলে গেছি। তারপর আবূ বারযা (রা.) বলেন, ইশার সালত একটু বিলম্বে আদায় করাকে তিনি পসন্দ করতেন। আর ইশার আগে ঘুমানো এবং পরে কথাবার্তা বাল তিনি অপসন্দ করতেন। আর এমন মুগূর্তে তিনি ফজরের সালাত শেষ করতেন যে, আমাদের যে কেউ তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিকে চিনতে পারত। এ সালাতে তিনি ষাট থেকে একশ’ আয়াত তিলাওয়াত করতেন।

হাদিস ৫৭৩

আব্দুল্লাহ্ইব্‌ন সাব্বাহ্(র.)……কুর্রা ইব্‌ন খালিদ (র.) থকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা হাসান (বসরী (র.)) – এর অপেক্ষায় ছিলাম। তিনি এত বিলম্বে আসলেন যে, নিয়মিত সালাত শেষে চলে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসল। এরপর তিনি এসে বললেন, আমাদের এ প্রতিবেশীগণ আমাদের ডেকেছিলেন। তারপর তিনি বললেন, আনাস ইব্‌ন মালিক (রা.) বর্ণনা করেছেন, এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ্(সা.)-এর অপেক্ষায় ছিলাম। এমন কি প্রায় অর্ধেক রাত হয়ে গেল, তখন এসে তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এরপর আমাদের সম্বোধন করে তিনি বললেনঃ জেনে রাখ! লোকেরা সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে, তবে তোমরা যতক্ষন সালাতের অপেক্ষায় ছিলে ততক্ষন সালাতেই রত ছিলে। হাসন (বসরী (র.)) বলেন, মানুষ যতক্ষন কল্যাণের অপেক্ষায় থাকে, ততক্ষন তারা কল্যাণেই নিরত থাকে। কুর্রা (র.) বলেন, এ উক্তি আনাস (রা.) কর্তৃক বর্ণিত রাসূলুল্লাহ্(সা.) এর হাদিসেরই অংশ।

হাদিস ৫৭৪

আবুল ইয়ামান (র.)……আব্দুল্লাহ্ইব্‌ন উমর (রা.) থকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্(সা.) একবার তাঁর শেষ জীবনে ইশার সালাত আদায় করে সালাম ফিরাবার পর বললেনঃ আজকের এ রাত সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কি? আজ থেকে নিয়ে একশ’ বছরের মাথায় আজ যারা ভূ-পৃষ্ঠে আছে তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। কিন্তু সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ্(সা.)-এর ‘একশ’ বছরের’ এ উক্তি সম্পর্কে নানাবিধ জল্পনা-কল্পনা করতে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ আজকে যারা জীবিত আছে তাদের কেউ ভূ-পৃষ্ঠে থাকবে না। এর দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, এ শতাব্দী ঐ যুগের পরিসমাপ্তি ঘটাবে।

হাদিস ৫৭৫

মাহমূদ (র.)…….আবদুর-রাহমান ইব্‌ন আবূ বকর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আসহাবে সুফ্ফা ছিলেন খুবই দরিদ্র । (একদা) নবী (সা.) বললেনঃ যার কাছে দু’জনের আহার আছে সে যেন (তাঁদের থেকে) তৃতীয় জনকে সঙ্গে করে নিয়ে যায়। আর যার কাছে চারজনের আহারের সংস্থান আছে, সে যেন পঞ্চম বা ষষ্ঠজন সঙ্গে নিয়ে যায়। আবূ বকর (রা.) তিনজন সাথে নিয়ে আসেন এবং রাসূলুল্লাহ্(সা.) দশজন নিয়ে আসেন। আবদুর রাহমান (রা.) বলেন, আমাদের ঘরে এবং আবূ বাকরের ঘরে আমি, আমার পিতা ও মাতা (এই নিত জন সদস্য) ছিলাম। রাবী বলেন, আমি জানি না, তিনি আমার স্ত্রী এবং খাদিম একথা বলেছিলেন কি না? আবূ বাকর (রা.) রাসূলুল্লাহ্(সা.)-এর ঘরেই রাতের আহার করেন এবং ইশার সালাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। ইশার সালাতের পর তিনি আবার (রাসূলুল্লাহ্(সা.) এর ঘরে) ফিরে আসেন এবং রাসূলুল্লাহ্(সা.) – এর রাতের আহার শেষ করা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। আল্লাহর ইচ্ছায় কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর বাড়ী ফিরলে তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, মেহমানদের কাছে আসতে কিসে আপনাকে ব্যস্ত রেখেছিল? কিংবা তিনি বলেছিলেন, (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) মেহমান থেকে। আবূ বকর (রা.) বললেন, এখনও তাদের খাবার দাওনি? তিনি বললেন, আপনি না আসা পর্যন্ত তারা খেতে অস্বীকার করেন। তাদের সামনে হাযির করা হয়েছিল, তবে তারা খেতে সম্মত হননি। তিনি (রাগান্বিত হয়ে) বললেন, ওরে বোকা এবং ভর্ৎসনা করলেন। আর (মেহমানদের) বললেন, খেয়ে নিন।

আপনারা অস্বস্তিতে ছিলেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি এ কখনই খাব না। আবদুর রাহমান (র.) বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা লুক্মা উঠিয়ে নিতেই নীচ থেকে তা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাচ্ছিল। তিনি বলেন, সকলেই পেট ভরে খেলেন। অথচ আগের চাইতে অধিক খাবার রয়ে গেল। আবূ বকর (রা.) খাবারের দিকে তাকিয়ে দেখেতে পেলেন তা আগের সমপরিমাণ কিংবা তার চাইতেও বেশী। তিনি তাঁর স্ত্রীকে বললেন, হে বনূ ফিরাসের বোন। এ কি? তিনি বললেন, আমার চোখের প্রশান্তির কসম! এতো এখন আগের চাইতে তিনগুন বেশী! আবূ বকর (রা.)-ও তা থেকে আহার করলেন এবং বললেন, আমার সে শপথ শয়তানের পক্ষ থেকেই হয়েছিল। এরপর তিনি আরও লুক্মা মুখে দিলেন এবং অবশিষ্ট খাবার নবী (সা.)-এর দরবারে নিয়ে গেলেন। ভোর পর্যন্ত সে খাদ্য রাসূলুল্লাহ্(সা.)-এর সেখানেই ছিল। এদিকে আমাদের ও অন্য একটি গোএের মাঝে সে সন্ধি ছিল তার সময়সীমা পূর্ন হয়ে যায়। (এবং তারা মদীনায় আসে) আমরা তাদের বারজনের নেতৃত্বে ভাগ করে দেই। তাদের প্রত্যকের সংগেই কিছু কিছু লোক ছিল। তবে প্রত্যকের সঙ্গে কতজন ছিল তা আল্লাহই জানেন। তারা সকলেই সেই খাদ্য থেকে আহার করেন। (রাবী বলেন) কিংবা আবদুর রাহমান (রা.) যে ভাবে বর্ণনা করেছেন।

৪৯৯

মুহাম্মাদ ইবনুল মছান্না (র.)……জারীর ইব্ন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্(সা.) – এর নিকট সালাত আদায়, যাকাত প্রদান এবং প্রত্যেক মুসলমানকে নসীহত করার বায়’আত গ্রহন করেছি।

সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

মন্তব্য করুন