সাওম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

সাওম অধ্যায়

 সাওম অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

Table of Contents

সাওম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮১৩ – রমযানে রোযাদার অবস্থায় যে ব্যক্তি স্ত্রী সহবাস করেছে সে ব্যক্তি কি কাফফারা থেকে তার অভাবগ্রস্ত পরিবারকে খাওয়াতে পারবে ?

 

হাদীস নং ১৮১৩

উসামান ইবনে আবু শায়বা রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, এই হতভাগা স্ত্রী সহবাস করেছে রমযানে। তিনি বলেলেন : তুমি কি একটি গোলাম আযাদ করতে পারবে ? লোকটি বলল, না।

তিনি বললেন : তুমি কি ক্রমাগত দু’ মাস সিয়াম পালন করতে পারবে ? লোকটি বলর, না। তুমি কি ষাটজন মিসকীন খাওয়াতে পারবে ? সে বলল, না।

এমতাবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক আরাক অর্থাৎ এক ঝুড়ি খেজুর এল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এগুলো তোমার তরফ থেকে লোকদেরকে আহার করাও।

লোকটি বলল, আমার চাইতেও অধিক অভাবগ্রস্ত কে ? অথচ মদীনার উভয় লাবার অর্থাৎ হাররার মধ্যবর্তী স্থলে আমার পরিবারের চাইতে অধিক অভাবগ্রস্ত কেউ নেই। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাহলে তোমার পরিবারকেই খাওয়াও।

বুখারি হাদিস নং ১৮৩৫ – রমযানে ইফতারের পরে যদি সূর্য দেখা যায়।

হাদীস নং ১৮৩৫

আবদুল্লাহ ইবনে আবু শায়বা রহ……….আসমা বিনতে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে একবার মেঘাচ্ছন্ন দিনে আমরা ইফতার করলাম, এরপর সূর্য দেখা যায় ।

বর্ণনাকারী হিশামকে জিজ্ঞাসা করা হল, তাদের কি কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল? হিশাম রহ. বললেন, কাযা ছাড়া উপায় কি ? (অপর বর্ণনাকারী) মামার রহ. বলেন, আমি হিশামকে বলতে শুনেছি, তাঁরা কাযা করেছিলেন কি না তা আমি জানিনা।

 সাওম অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮৫৮ – কারো সাথে সাক্ষাত করতে গিয়ে (নফল) সাওম ভঙ্গ না করা।

হাদীস নং ১৮৫৮

মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার মাতা) উম্মে সুলাইম রা.-এর ঘরে আগমন করলেন। তিনি তাঁর সামনে খেজুর ও ঘি পেশ করলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমাদের ঘি মশকে এবং খেজুর তার বরতনে রেখে দাও। কারণ আমি রোযাদার। এরপর ঘরের এক পাশে গিয়ে নফল সালাত আদায় করলেন এবং উম্মে সুলাইম রা. ও তাঁর পরিজনের জন্য দু’আ করলেন।

উম্মে সুলাইম রা. আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার একটি ছোট ছেলে আছে। তিনি বললেন : কে সে ? উম্মে সুলাইম রা. বললেন, আপনার খাদেম আনাস ।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণের দু’আ করলেন। তিনি বললেন : হে আল্লাহ ! তুমি তাকে মাল ও সন্তান-সন্ততি দান কর এবং তাকে বরকত দাও।

আনাস রা. বলেন, আমি আনসারগণের মধ্যে অধিক সম্পদশালীদের একজন এবং আমার কন্যা উমায়না আমাকে জানিয়েছে যে, হাজ্জাজ (ইবনে ইউসুফ) -এর বসরায় আগমনের পূর্ব পর্যন্ত একশত বিশের অধিক আমার নিজের সন্তান মারা গেছে।

বুখারি হাদিস নং ১৮৫৯

হাদীস নং ১৮৫৯

ইবনে আবু মারইয়াম রহ……….হুমায়দ রহ. আনাস রা.-কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮৭৫

হাদীস নং ১৮৭৫

আবুল ইয়ামান রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে আশুরার দিনে সাওম পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন, পরে যখন রমযানের সাওম ফরয করা হল তখন যার ইচ্ছা (আশুরার) সাওম পালন করত আর যার ইচ্ছা করত না।

বুখারি হাদিস নং ১৭৭০ – রমযানের সাওম ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ১৭৭০

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ…….তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, এলোমেলো চুলসহ একজন গ্রাম্য আরব নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলেন ।

তারপর বললেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাকে বলুন, আল্লাহ তা’আলা আমার উপর কত সালাত ফরয করেছেন ? তিনি বললেন : পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাত; তবে তুমি যদি কিছু নফল আদায় কর তা স্বতন্ত্র কথা। এরপর তিনি বললেন :বলুন, আমার উপর কত সিয়াম আল্লাহ তা’আলা ফরয করেছেন?

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : রমযান মাসের সাওম; তবে তুমি যদি কিছু নফল সিয়াম আদায় করা তা হল স্বতন্ত্র কথা। এরপর তিনি বললেন : বলুন, আল্লাহ আমার উপর কি পরিমাণ যাকাত ফরয করেছেন ?

রাবী বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইসলামের বিধান জানিয়ে দিলেন।

এরপর তিনি বললেন : ঐ সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে সম্মানিত করেছেন, আল্লাহ আমার উপর যা ফরয করেছেন, আমি এর মাঝে কিছু বাড়াব না এবং কমাবও না।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : সে সত্য বলে থাকলে সফলতা লাভ করল কিংবা বলেছেন, সে সত্য বলে থাকলে জান্নাত লাভ করল।

 সাওম অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৭১

হাদীস নং ১৭৭১

মুসাদ্দাদ রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার দিন সিয়াম পালন করেছেন এবং এ সিয়ামের জন্য আদেশও করেছেন।

পরে যখন রমযানের সিয়াম ফরয হল তখন তা ছেড়ে দেওয়া হয়। আব্দুল্লাহ রহ. এ সিয়াম পালন করতেন না, তবে মাসের যে দিনগুলোতে সাধারণ সিয়াম পালন করতেন, তার সাথে মিল হলে করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৭৭২

হাদীস নং ১৭৭২

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, জাহিলী যুগে কুরাইশগণ আশুরার দিন সাওম পালন করত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও পরে এ সাওম পালনের নির্দেশ দেন।

অবশেষে রমযানের সিয়াম ফরয হলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যার ইচ্ছা আশুরার সিয়াম পালন করবে এবং যার ইচ্ছা সে সাওম পালন করবে না।

বুখারি হাদিস নং ১৭৭৩ – সাওমের ফজিলত।

হাদীস নং ১৭৭৩

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলাম রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মত কাজ করবে না।

যদি কেউ তার সাথে ঝগড়া করতে চায়, তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুইবার বলে, আমি সাওম পালন করছি।

ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই সাওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের গন্ধের চাইতেও উৎকৃষ্ট, সে আমার জন্য আহার, পান ও কামাচার পরিত্যাগ করে।

সিয়াম আমারই জন্য। তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময়ে দশ গুণ।

বুখারি হাদিস নং ১৭৭৪ – সাওম (গোনাহের কাফফারা)।

হাদীস নং ১৭৭৪

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন উমর রা. বললেন, ফিতনা সম্পকির্ত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসটি কার মুখস্থ আছে ?

হুযায়ফা রা. বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, পরিবার, ধন-সম্পদ এবং প্রতিবেশীই মানুষের জন্য ফিতনা।

সালাত, সিয়াম এবং সাদকা এর কাফফারা হয়ে যায়। উমর রা. বললেন, এ ফিতনা সম্পর্কে আমি জিজ্ঞাসা করছি না, আমি তে জিজ্ঞাসা করেছি ঐ ফিতনা সম্পর্কে যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মত আন্দোলিত হতে থাকবে।

হুযায়ফা রা. বললেন, এ ফিতনার সামনে বন্ধ দরজা আছে। উমর রা. বললেন, এ দরজা কি খুলে যাবে, না ভেঙ্গে যাবে ? হুযায়ফা রা. বললেন ভেঙ্গে যাবে।

উমর রা. বললেন, তাহলে তো তা কিয়ামত পর্যন্ত বন্ধ হবে না। আমরা মাসরূক রহ.কে বললাম, বললাম, হুযায়ফা রা.-কে জিজ্ঞাসা করুন, উমর রা. কি জানতেন, কে সেই দরজা ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি এরূপ জানতেন যে রূপ কালকের দিনের পূর্বে আজকের রাত।

 সাওম অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৭৫ – সাওম পালনকারীর জন্য রায়্যান।

হাদীস নং ১৭৭৫

খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ………সাহল রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : জান্নাতে রায়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন সাওম পালনকারীরাই প্রবেশ করবে।

তাদের ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেওয়া হবে, সাওম পালনকারীরা কোথায় ? তখন তারা দাঁড়াবে।

তারা ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যাতে এ দরজাটি দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৭৬

হাদীস নং ১৭৭৬

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে কেউ আল্লাহর পথে জোড়া জোড়া ব্যয় করবে তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে ডাকা হবে, হে আল্লাহর বান্দা ! এটাই উত্তম।

অতএব যে সালাত আদায়কারী, তাকে সালাতের দরজা থেকে ডাকা হবে। যে মুজাহিদ তাকে জিহাদের দরজা থেকে ডাকা হবে। যে সিয়াম পালনকারী, তাকে রায়্যান দরজা থেকে ডাকা হবে।

যে সাদকা দানকারী, তাকে সাদকার দরজা থেকে ডাকা হবে। এরপর আবু বকর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান, সকল দরজা থেকে কাউকে ডাকার কোন প্রয়োজন নেই, তবে কি কাউকে সব দরজা থেকে ডাকা হবে ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , হ্যাঁ। আমি আশা করি তুমি তাদের মধ্যে হবে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৭৭ – রমযান বলা হবে, না রমযান মাস বলা হবে ? আর যাদের মতে উভয়টি বলা যায়।

হাদীস নং ১৭৭৭

কুতাইবা রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়।

বুখারি হাদিস নং ১৭৭৮

হাদীস নং ১৭৭৮

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : রমযান আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় আর শৃংখলিত করে দেয়া হয় শয়তানগুলোকে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৭৯ – চাঁদ দেখা।

হাদীস নং ১৭৭৯

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা তা দেখবে তখন সাওম পালন করবে, আবার যখন তা দেখবে তখন ইফতার করবে।

আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে তার সময় হিসাব করে (ত্রিশ দিন) পূর্ণ করবে।

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ. ব্যতীত অন্যরা লায়স রহ. থেকে উকাইল এবং ইউনুস রহ. সূত্রে বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাটি বলেছেন রমযানের চাঁদ সম্পর্কে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৮০ – যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় নিয়তসহ সিয়াম পালন করবে।

হাদীস নং ১৭৮০

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তার পিছনের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করা হবে।

আর যে ব্যক্তি ঈমানসহ সাওয়াবের আশায় রমযানে সিয়াম পালন করবে, তারও অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে।

 সাওম অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৮১ – রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে সর্বাধিক দান করতেন।

হাদীস নং ১৭৮১

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধন-সম্পদ ব্যয় করার ব্যাপারে সকলের চেয়ে দানশীল ছিলেন।

রমযানে জিবরাঈল আ. যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করতেন, তখন তিনি আরো অধিক দান করতেন। রমযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাতেই জিবরাঈল তাঁর সঙ্গে একবার সাক্ষাত করতেন।

আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কুরআন শোনাতেন। জিবরাঈল যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করতেন তখন তিনি রহমতসহ প্রেরিত বায়ুর চেয়ে অধিক ধন-সম্পদ দান করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৭৮২ – সাওম পালনের সময় মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল বর্জন না করা।সাওম পালনের সময় মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল বর্জন না করা।

হাদীস নং ১৭৮২

আদম ইবনে আবু ইয়াস রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল বর্জন করেনি, তার এ পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৭৮৩ – কাউকে গালি দেওয়া হলে সে কি বলবে, আমি তো সাওম পালনকারী ?

হাদীস নং ১৭৮৩

ইবরাহীম ইবেন মূসা রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, সাওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য।

তাই আমিই এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে।

যদি কেউ তাকে গালি দেয় তার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি একজন সায়িম। যার কবজায় মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর শপথ ! অবশ্যই সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের গন্ধের চাইতেও সুগন্ধি।

সায়িমের জন্য রয়েছে দুটি খুশী যা তাকে খুশী করে। যখন সে ইফতার করে, সে খুশী হয় এবং যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাত করবে, তখন সাওমের বিনিময়ে আনন্দিত হবে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৮৪ – অবিবাহিত ব্যক্তি যে নিজের উপর আশংকা করে, তার জন্য সাওম।

হাদীস নং ১৭৮৪

আবদান রহ………আলকামা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ রা.-এর সঙ্গে চলতে ছিলাম, তখন তিনি বললেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম, তিনি বললেন : যে ব্যক্তির সামর্থ্য আছে, সে যেন বিবাহ করে দেয় ।

কেননা বিবাহ চোখকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন সাওম পালন করে। সাওম তার প্রবৃত্তিকে দমন করে। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, البائة শব্দের অর্থ বিবাহ।

বুখারি হাদিস নং ১৭৮৫ – হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী : যখন তোমরা চাঁদ দেখবে তখন সাওম শুরু করবে আবার যখন চাঁদ দেখবে তখন ইফতার করবে।

হাদীস নং ১৭৮৫

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের কথা আলোচনা করে বললেন : চাঁদ না দেখে তোমরা সাওম পালন করবে না এবং চাঁদ না দেখে ইফতার করবে না। যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে তার সময় (ত্রিশ দিন) পরিমাণ পূর্ণ করবে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৮৬

হাদীস নং ১৭৮৬

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মাস ঊনত্রিশ রাত বিশিষ্ট হয়। তাই তোমরা চাঁদ না দেখে সাওম শুরু করবে না। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে তোমরা ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৮৭

হাদীস নং ১৭৮৭

আবুল ওয়ালীদ রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু’হাতের অঙ্গুলী তুলে ইশারা করে) বলেন : মাস এত এত দিন হয় এবং তৃতীয়বার বৃদ্ধাঙ্গুলিটি বন্ধ করে নিলেন।

 সাওম অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৮৮

হাদীস নং ১৭৮৮

আদম রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অথবা বললেন,

আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম আরম্ভ করবে এবং চাঁদ দেখে ইফতার করবে। আকাশ যদি মেঘে ঢাকা থাকে তাহলে শাবানের গণনা ত্রিশ দিন পুরা করবে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৮৯

হাদীস নং ১৭৮৯

আবু আসিম রহ………উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাসের জন্য তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে ঈলা করলেন।

ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সকালে বা সন্ধ্যায় তিনি তাদের নিকট গেলেন। তাকে প্রশ্ন করা হল, আপনি তো এক মাস পর্যন্ত না আসার শপথ করেছিলেন ? তিনি বললেন : মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৯০

হাদীস নং ১৭৯০

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে ঈলা করলেন। এ সময় তাঁর পা মচকে গিয়েছিল।

তখন তিনি উপরের কামরায় ঊনত্রিশ রাত অবস্থান করেন। এরপর অবতরণ করলে সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি তো এক মাসের জন্য ঈলা করেছিলেন। তিনি বললেন : মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৯১ – ঈদের দুই মাস কম হয় না।

হাদীস নং ১৭৯১

মুসাদ্দাদ রহ…..আবু বকরা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুটি মাস কম হয়না। তা হল ঈদের দু’মাস রমযানের মাস ও যুলহজ্জের মাস।

আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেছেন, আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. বলেন, রমযান ঘাটতি হলে যুলহজ্জ পূর্ণ হবে। আর যুলহজ্জ ঘাটতি হলে রমযান পূর্ণ হবে।

আবুল হাসান রহ. বলেন, ইসহাক ইবনে রাহওয়াই রহ. বলেন, ফজিলতের দিক থেকে এ দুই মাসে কোন ঘাটতি নেই, মাস ঊনত্রিশ দিনে হোক বা ত্রিশ দিনে হোক।

বুখারি হাদিস নং ১৭৯২ – হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: আমরা লিখি না এবং হিসাবও করিনা।

হাদীস নং ১৭৯২

আদম রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আমরা উম্মী জাতি । আমরা লিখি না এবং হিসাবও করি না। মাস এরূপ অর্থাৎ কখনও ঊনত্রিশ দিনের আবার কখনো ত্রিশ দিনের হয়ে থাকে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৯৩ – রমযানের একদিন বা দুদিন আগে সাওম শুরু করবে না।

হাদীস নং ১৭৯৩

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা কেউ রমযানের একদিন কিংবা দুই দিন আগে থেকে সাওম শুরু করবে না। তবে কেউ যদি এ সময় সিয়াম পালনে অভ্যস্ত থাকে তাহলে সে সেদিন সাওম করতে পারবে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৯৪ – আল্লাহর বাণী : সিয়ামের রাতে তোমাদের স্ত্রী সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে……..(২ : ১৮৭)

হাদীস নং ১৭৯৪

উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা রহ……..বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের অবস্থা এই ছিল যে, যদি তাদের কেউ সাওম পালন করতেন ইফতারের সময় হলে ইফতার না করে ঘুমিয়ে গেলে সে রাতে এবং পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুই খেতেন না।

কায়স ইবনে সিরমা আনসারী রা. সাওম পালন করেছিলেন। ইফতারের সময় তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার নিকট কিছু খাবার আছে কি ?

তিনি বললেন, না, তবে আমি যাচ্ছি, দেখি আপনার জন্য কিছু তালাশ করে আনি। তিনি দিনে কাজে রত থাকতেন। তাই ঘুমে তাঁর দুচোখ বুজে গেল। এরপর তাঁর স্ত্রী এসে যখন তাকে দেখলেন, তখন তাকে বললেন, হায়, তুমি বঞ্চিত হয়ে গেলে ! পরদিন দুপুরে হলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন।

এ ঘটনাটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উল্লেখ করা হলে কুরআনের এ আয়াত নাযিল হয় : সিয়ামের রাত্রে তোমাদের স্ত্রী সম্ভোগ হালাল করা হয়েছে। (২ : ১৮৭)-এর হুকুম সম্বন্ধে অবহিত হয়ে সাহাবীগণ খুবই আনন্দিত হলেন।

এরপর নাযিল হল : তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কাল রেখা হতে (ভোরের) সাদা রেখা স্পষ্টভাবে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। (২ : ১৮৭)

বুখারি হাদিস নং ১৭৯৫ – আল্লাহর বাণী : তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ কাল রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। তারপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর (২ : ১৮৭)।

হাদীস নং ১৭৯৫

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ………আদী ইবনে হাতিম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হল : “তোমরা পানাহার করা (রাতের) কাল রেখা হতে (ভোরের) সাদা রেখা যতক্ষণ স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়” তখন আমি একটি কাল এবং একটি সাদা রশি নিলাম এবং উভয়টিকে আমার বালিশের নিচে রেখে দিলাম।

রাতে আমি এগুলোর দিকে বারবার তাকাতে থাকি। কিন্তু আমার নিকট পার্থক্য প্রকাশিত হল না। তাই সকালেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে এ বিষয় বললাম। তিনি বললেন : এতো রাতের আধার এবং দিনের আলো।

 সাওম অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৯৬

হাদীস নং ১৭৯৬

সাঈদ ইবনে আবু মারইয়াম রহ………সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হল : “তোমরা পানাহার করা (রাতের) কাল রেখা হতে (ভোরের) সাদা রেখা যতক্ষণ স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়”।

কিন্তু তখনো من الفجر কথাটি নাযিল হয়নি। তখন সাওম পালন করতে ইচ্ছুক লোকেরা নিজেদের দুই পায়ে একটি কাল এবং একটি সাদা সুতলি বেঁধে নিতেন এবং সাদা কাল এই দুটির মধ্যে পার্থক্য না দেখা পর্যন্ত না দেখা পর্যন্ত তাঁরা পানাহার করতে থাকতেন।

এরপর আল্লাহ তা’আলা من الفجر শব্দটি নাযিল করলে সকলেই বুঝতে পারলেন যে, এ দ্বারা উদ্দেশ্য হল রাত (-এর আঁধার) এবং দিন (-এর আলো)।

বুখারি হাদিস নং ১৭৯৭ – মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: বিলালের আযান যেন তোমাদের সাহরী থেকে বিরত না রাখে।

হাদীস নং ১৭৯৭

উবায়দ ইবনে ইসমাঈল রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে এবং কাসিম ইবনে মুহাম্মদ রহ……আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিলাল রা. রাতে আযান দিতেন।

তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : ইবনে উম্মে মাকতুম রা. আযান না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার কর। কেননা ফজর না হওয়া পর্যন্ত সে আযান দেয় না।

কাসিম রহ. বলেন, এদের উভয়ের আযানের মাঝে শুধু এতটুকু ব্যবধান ছিল যে, একজন নামতেন এবং অন্যজন উঠতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৭৯৮ – সাহরী খাওয়ায় তাড়া তাড়ি করা।

হাদীস নং ১৭৯৮

মুহাম্মদ ইবনে উবায়দুল্লাহ রহ……..সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পরিবার-পরিজনের মধ্যে সাহরী খেতাম। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাতে শরীক হওয়ার জন্য তাড়া তাড়ি করতাম।

বুখারি হাদিস নং ১৭৯৯ – সাহরী ও ফজরের সালাতের মাঝে ব্যবধানের পরিমাণ।

হাদীস নং ১৭৯৯

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………যায়েদ ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাহরী খাই এরপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়ান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আযান ও সাহরীর মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল ? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত (পাঠ করা) পরিমাণ।

বুখারি হাদিস নং ১৮০০ – সাহরীতে রয়েছে বরকত কিন্তু তা ওয়াজিব নয়।

হাদীস নং ১৮০০

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটানা সাওম পালন করতে থাকলে লোকেরাও একটানা সাওম পালন করতে শুরু করে।

এ কাজ তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়াল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিষেধ করলেন। তারা বলল, আপনি যে একনাগাড়ে সাওম পালন করছেন ? তিনি বললেন : আমি তো তোমাদের মত নই । আমাকে খাওয়ানো হয় ও পান করানো হয়।

বুখারি হাদিস নং ১৮০১ – সাহরীতে রয়েছে বরকত কিন্তু তা ওয়াজিব নয়।

হাদীস নং ১৮০১

আদম ইবনে আবু ইয়াস রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা সাহরী খাও, কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে।

 সাওম অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮০২ – যদি কেউ দিনের বেলা সাওমের নিয়ত করে।

হাদীস নং ১৮০২

আবু আসিম রহ……..সালমা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত যে, আশুরার দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে এ বলে লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেওয়ার জন্য পাঠালেন যে, যে ব্যক্তি খেয়ে ফেলেছে সে যেন পূর্ণ করে নেয় অথবা বলেছেন, সে যেন সাওম আদায় করে নেয় আর যে এখনো খায়নি সে যেন আর না খায়।

বুখারি হাদিস নং ১৮০৩ – জুনুবী অবস্থায় সাওম পালনকারীর ভোর হওয়া।

হাদীস নং ১৮০৩

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……..আবু বকর ইবনে আবদুর রাহমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং আমার পিতা আয়িশা রা. এবং উম্মে সালামা রা.-এর নিকট গেলাম।

(অপর বর্ণনায়) আবুল ইয়ামান রহ………মারওয়ান রহ. থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা রা. এবং উম্মে সালামা রা. তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নিজ নিজ স্ত্রীর সাথে মিলনজনিত জুনুবী অবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফজরের সময় হয়ে যেত। তখন তিনি গোসল করতেন এবং সাওম পালন করতেন।

মারওয়ান রহ. আবদুর রাহমান ইবনে হারিস রহ.-কে বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, এ হাদীস শুনিয়ে তুমি আবু হুরায়রা রা. কে শংকিত করে দিবে। এ সময় মারওয়ান রহ. মদীনার গভর্নর ছিলেন।

আবু বকর রহ. বলেন, মারওয়ান রা.-এর কথা আবদুর রাহমান রহ. পছন্দ করেন নি। রাবী বলেন, এরপর ভাগ্যক্রমে আমরা যুল-হুলাইফাতে একত্রিত হয়ে যাই। সেখানে আবু হুরায়রা রা.-এর একখণ্ড জমি ছিল।

আবদুর রাহমান রহ. আবু হুরায়রা রা. কে বললেন, আমি আপনার নিকট একটি কথা বলতে চাই, মারওয়ান যদি এ বিষয়টি আমাকে কসম দিয়ে না বলতেন, তাহলে আমি তা আপনার সঙ্গে আলোচনা করতাম না।

তারপর তিনি আয়িশা রা. ও উম্মে সালামা রা.-এর বর্ণিত উক্তিটি উল্লেখ করলেন, ফাযল ইবনে আব্বাস রা. অনুরূপ একটি হাদীস আমাকে শুনিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তিনি সর্বাধিক অবহিত।

হাম্মাম রহ. এবং ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. সূত্রে আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, এরূপ ক্ষেত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওম ত্যাগ করে খাওয়ার হুকুম দিতেন। প্রথমোক্ত হাদীসটি সনদের দিক থেকে বিশুদ্ধ।

বুখারি হাদিস নং ১৮০৪ – সায়িম কর্তৃক স্ত্রী স্পর্শ করা।

হাদীস নং ১৮০৪

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওমের অবস্থায় চুমু খেতেন এবং গায়ে গা লাগাতেন।

তবে তিনি তাঁর প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে তোমাদের চাইতে অধিক সক্ষম চিলেন। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, إرب মানে হাজত বা চাহিদা। তাউস রহ. বলেন, غير أولى الأربة মানে বোধহীন, যার মেয়েদের প্রতি কোন খাহিশ নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৮০৫ – সায়িমের চুমু খাওয়া।

হাদীস নং ১৮০৫

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সায়িম অবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন কোন স্ত্রীকে চুমু খেতেন। (এ কথা বলে) আয়িশা রা. হেসে দিলেন।

 

 সাওম অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮০৬

হাদীস নং ১৮০৬

মুসাদ্দাদ রহ……..উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে একই চাদরে আমি ছিলাম। এমন সময় আমার হায়য শুরু হল।

তখন আমি আমার হায়যের কাপড় পরিধান করলাম। তিনি বললেন : তোমার কি হল ? তোমার কি হায়য দেখা দিয়েছে ? আমি বললাম, হ্যাঁ, তারপর আমি আবার তাঁর সঙ্গে চাদরের ভিতর ঢুকে পড়লাম।

তিনি এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে গোসল করতেন এবং সায়িম অবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চুমু দিতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮০৭ – সাওম পালনকারীর গোসল করা।

হাদীস নং ১৮০৭

আহমদ ইবনে সালিহ রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমযান মাসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভোর হত ইহতিলাম ব্যতীত (জুনুবী অবস্থায়) তখন তিনি গোসল করতেন এবং সাওম পালন করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮০৮

হাদীস নং ১৮০৮

ইসমাঈল রহ……….আবু বকর ইবনে আবদুর রাহমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে রওয়ানা হয়ে আয়িশা রা.-এর নিকট পৌঁছলাম।

তিনি বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি ইহতিলাম ছাড়া স্ত্রী সহবাসের কারণে জুনুবী অবস্থায় সকাল পর্যন্ত থেকেছেন এবং এরপর সাওম পালন করেছেন। তারপর আমরা উম্মে সালামা রা.-এর নিকট গেলাম। তিনিও অনুরূপ কথাই বললেন।

আবু জাফর বলেন, আবদুল্লাহ রহ.-কে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কোন ব্যক্তি সাওম ভঙ্গ করলে সে কি স্ত্রী সহবাসকারীর মত কাফফারা আদায় করবে ? তিনি বললেন, না, তুমি কি সে হাদীসগুলো সম্পর্কে জান না যাতে বর্ণিত আছে যে, যুগ যুগ ধরে সাওম পালন করলেও তার কাযা আদায় হবে না।

বুখারি হাদিস নং ১৮০৯ – সাওম পালনকারী যদি ভুলবশত আহার করে বা পান করে ফেলে

হাদীস নং ১৮০৯

আবদান রহ……..আবু হুরায়রা. রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : রোযাদার ভুলক্রমে যদি আহার করে বা পান করে ফেলে, তাহলে সে যেন তার সাওম পুরা করে নেয়। কেননা আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮১০ – সায়িমের জন্য কাঁচা বা শুকনো মিসওয়াক ব্যবহার করা।

হাদীস নং ১৮১০

আবদান রহ………হুমরান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উসমান রা.-কে উযু করতে দেখেছি। তিনি তিনবার হাতের উপর পানি ঢাললেন। এরপর তিনি কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন।

তারপর তিনবার চেহারা (মুখমণ্ডল) ধুইলেন। এরপর ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুইলেন এবং বামহাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুইলেন।

এরপর তিনি মাথা মাসেহ করলেন। তারপর ডান পা তিনবার ধুইলেন তারপর বাম পা তিনবার ধুইলেন। এরপর বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উযূ করতে দেখেছি আমার এ উযুর মতই।

এরপর তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার এ উযূর মত উযূ করে দু’রাকআত সালাত আদায় করবে এবং এতে মনে মনে কোন কিছুর চিন্তা-ভাবনায় লিপ্ত হবে না, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

বুখারি হাদিস নং ১৮১১ – রমযানে সহবাস করা।

হাদীস নং ১৮১১

আবদুল্লাহ ইবনে মুনীর রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, সে তা জ্বলে গেছে। তিনি বললেন : তোমার কি হয়েছে ?

লোকটি বলল, রমযানে আমি স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছি। এ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে (খেজুর ভর্তি) ঝুড়ি এল, যাকে আরাক (১৫ সা’ পরিমাণ) বলা হয়।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : অগ্নিদগ্ধ লোকটি কোথায় ? লোকটি বলল, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এগুলো সাদকা করে দাও।

বুখারি হাদিস নং ১৮১২ – যদি রমযানে স্ত্রী সংগম করে এবং তার নিকট কিছু না থাকে এবং তাকে সাদকা দেওয়া হয়, তাহলে সে যেন তা কাফফারা স্বরূপ দিয়ে দেয়।

হাদীস নং ১৮১২

আবুল ইয়ামান রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসাছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমার কি হয়েছে ?

সে বলল, আমি সায়িম অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আযাদ করার মত কোন ক্রীতদাস তুমি পাবে কি ? সে বলল, না।

তিনি বললেন : তুমি কি একধারে দুমাস সাওম পালন করতে পারবে ? সে বলল, না। এরপর তিনি বললেন : ষাটজন মিসকিন খাওয়াতে পারবে কি ? সে বলল, না।

রাবী বলেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেমে থেমে গেলেন, আমরাও এ অবস্থায় ছিলাম। এ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এক আরাক পেশ করা হল যাতে খেজুর ছিল।

আরাক হল ঝুড়ি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : প্রশ্নকারী কোথায় ? সে বলল, আমি। তিনি বললেন : এগুলে নিয়ে সাদকা করে দাও। তখন লোকটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

আমার চাইতেও বেশী অভাবগ্রস্তকে সাদকা করব ? আল্লাহর শপথ, মদীনার উভয় লোকটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার চাইতেও বেশী অভাবগ্রস্ত সাদকা করব ?

আল্লাহর শপথ, মদীনার উভয় লাবা অর্থাৎ উভয় প্রান্তের মধ্যে আমার পরিবারের চাইতে অভাবগ্রস্ত কেউ নেই। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে উঠলেন এবং তাঁর দাঁত দেখা গেল। এরপর তিনি বললেন : এগুলো তোমার পরিবারকে খাওয়াও।

বুখারি হাদিস নং ১৮১৪ – সাওম পালনকারীর শিংগা লাগানো বা বমি করা।

হাদীস নং ১৮১৪

মুআল্লা ইবনে আসাদ রহ……ইবনে আব্বস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিম অবস্থায় শিংগা লাগিয়েছেন এবং সায়িম অবস্থায়ও শিংগা লাগিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮১৫

হাদীস নং ১৮১৫

আবু মামার রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সায়িম অবস্থায় শিংগা লাগিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮১৬

হাদীস নং ১৮১৬

আদম ইবনে আবু ইয়াস রহ………সাবিত আল-বুনানী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক রা.-কে প্রশ্ন করা হল, আপনার কি সায়িমের শিংগা লাগানো অপছন্দ করতেন ? তিনি বললেন, না।

তবে দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে অপছন্দ করতাম। শাবাবা রহ. শুবা রহ. থেকে ‘নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে’ কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।

 সাওম অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮১৭ – সফরে সাওম পালন করা ও না করা।

হাদীস নং ১৮১৭

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেন : সওয়ারী থেকে নেমে আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন।

সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সূর্য এখনো অস্ত যায়নি। তিনি বললেন : সওয়ারী থেকে নেমে আমার জন্য জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সূর্য এখনো ডুবেনি। তিনি বললেন : সওয়ারী থেকে নামো এবং আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন।

যখন দেখবে সে সওয়ারী থেকে নেমে ছাতু গুলিয়ে আনলে তিনি তা পান করলেন এবং হাতের ইশারায় বললেন : যখন দেখবে রাত এদিক থেকে ঘনিয়ে আসছে তখন বুঝবে, সাওম পালনকারী ব্যক্তির ইফতারের সময় হয়েছে।

জারীর রা. এবং আবু বকর ইবনে আইয়াশ রা…….ইবনে আবু আওফা রা. থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ১৮১৮

হাদীস নং ১৮১৮

মুসাদ্দাদ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, হামযা ইবনে আমর আসলামী রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি ক্রমাগত সিয়াম পালন করছি।

বুখারি হাদিস নং ১৮১৯

হাদীস নং ১৮১৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, হামযা ইবনে আমর আসলামী রা. অধিক সাওম পালনে অভ্যস্ত ছিলেন।

তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আমি সফরেও কি সাওম পালন করতে পারি ? তিনি বললেন : ইচ্ছা করলে তুমি সাওম পালন করতে পার, আবার ইচ্ছা করলে নাও করতে পার।

বুখারি হাদিস নং ১৮২০ – রমযানের কয়েকদিন সাওম পালন করে যদি কেউ সফর আরম্ভ করে।

হাদীস নং ১৮২০

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওমের অবস্থায় কোন এক রমযানে মক্কার পথে যাত্রা করলেন।

কাদীদ নামক পৌঁছার পর তিনি সাওম ভঙ্গ করে ফেললে লোকেরা সকলেই সাওম ভঙ্গ করলেন। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, উসফাস ও কদায়দ নামক দুই স্থানের মধ্যে কাদীদ একটি ঝর্ণা।

বুখারি হাদিস নং ১৮২১

হাদীস নং ১৮২১

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবুদ দারদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সফরে প্রচণ্ড গরমের দিনে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম।

গরম এত প্রচণ্ড ছিল যে, প্রত্যেকেই নিজ নিজ হাত মাথার উপর তুলে ধরেছিলেন। এ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ইবনে রাওয়াহা রা. ছাড়া আমাদের কেউই সায়িম ছিলনা।

বুখারি হাদিস নং ১৮২২ – প্রচণ্ড গরমের কারণে যে ব্যক্তির উপর ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে তাঁর সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী : সফরে সাওম পালন করায় নেকী নেই।

হাদীস নং ১৮২২

আদম রহ……..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ছিলেন, হঠাৎ তিনি লোকেরা জটলা এবং ছায়ার নিচে এক ব্যক্তিকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন : এর কী হয়েছে ?

লোকেরা বলল, সে সায়িম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : সফরে সাওম পালনে কোন নেকী নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৮২৩ – সিয়াম পালন করা ও না করার ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করতেন না।

হাদীস নং ১৮২৩

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলাম রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সফরে যেতাম। সায়িম ব্যক্তি গায়ের সায়িমকে (যে সাওম পালন করছে না) এবং গায়ের সায়িম ব্যক্তি সায়িমকে দোষারোপ করত না।

 সাওম অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮২৪ – সফর অবস্থায় সাওম ভঙ্গ করা, যাতে লোকেরা দেখতে পায়।

হাদীস নং ১৮২৪

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা থেকে মক্কায় রওয়ানা হলেন। তখন তিনি সাওম পালন করছিলেন।

উসফানে পৌঁছার পর তিনি পানি আনার জন্য আদেশ করলেন। তারপর তিনি লোকদেরকে দেখানোর জন্য পানি হাতের উপর উচু করে ধরে সাওম ভঙ্গ করলেন এবং এ অবস্থায় মক্কায় পৌঁছলেন।

এ ছিল রমযান মাসে। তাই ইবনে আব্বাস রা. বলতেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওম পালন করেছেন এবং সাওম ভঙ্গও করেছেন। যার ইচ্ছা সাওম পালন করতে পারে আর যার ইচ্ছা সাওম ভঙ্গ করতে পারে।

বুখারি হাদিস নং ১৮২৫ – এ (রোযা) যাদেরকে অতিশয় কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদয়া একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করা।

হাদীস নং ১৮২৫

আইয়াশ রহ……ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি فدية طعام مسكين আয়াতটি পড়ে বলেছেন যে, ইহা রহিত ।

আরও পড়ুনঃ

যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড

জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

সালাতে কসর করা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

কুরআন তিলাওয়াতের সিজ্‌দা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

মন্তব্য করুন