সাওম অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

সাওম অধ্যায় পার্ট ২

সাওম অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

Table of Contents

সাওম অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮২৬ – রমযানের কাযা কখন আদায় করা হবে?

হাদীস নং ১৮২৬

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার উপর রমযানের যে কাযা থেকে যেত তা পরবর্তী শাবান ছাড়া আমি আদায় করতে পারতাম না।

ইয়াহইয়া রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ব্যস্ততার কারণে কিংবা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ব্যস্ততার কারণে।

বুখারি হাদিস নং ১৮২৭ – ঋতুবতী মহিলা সালাত ও সাওম উভয়ই ত্যাগ করবে।

হাদীস নং ১৮২৭

ইবনে আবু মারইয়াম রহ………আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : এ কথা ঠিক নয় যে, হায়য শুরু হলে মেয়েরা সালাত আদায় করে না এবং সাওমও পালন করে না। এ হল তাদের দীনেরই ত্রুটি।

বুখারি হাদিস নং ১৮২৮ – সাওমের কাযা যিম্মায় রেখে যার মৃত্যু হয়।

হাদীস নং ১৮২৮

মুহাম্মদ ইবনে খালিদ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সাওমের কাযা যিম্মায় রেখে যদি কোন ব্যক্তি মারা যায় তাহলে তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে সাওম আদায় করবে। ইবনে ওয়াহব রহ. আমর রহ. থেকে উক্ত হাদীসটি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে আইয়্যূব রহ……ইবনে আবু জাফর রহ. থেকেও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮২৯

হাদীস নং ১৮২৯

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাহীম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

আমার মা এক মাসের সাওম যিম্মায় রেখে মারা গেছেন, আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে এ সাওম কাযা করতে পারি ? তিনি বলেন : হ্যাঁ, আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করাই হল অধিক যোগ্য।

সুলাইমান রহ. বলেন, হাকাম রহ. এবং সালামা রহ. বলেছেন, মুসলিম রহ. এ হাদীস বর্ণনা করার সময় আমরা সকলেই একসাথে উপবিষ্ট ছিলাম। তাঁরা উভয়ই বলেছেন যে, ইবনে আব্বাস রা. বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন মহিলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলল, আমার বোন মারা গেছে।

ইয়াহইয়া রহ. ও আবু মুআবিয়া…… ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, এক মহিলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, আমার মা মারা গেছেন।

উবায়দুল্লাহ রহ……ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, এক মহিলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, আমার মা মারা গেছে, অথচ তার যিম্মায় মানতের সাওম রয়েছে।

আবু হারীয রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, এক মহিলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, আমার মা মারা গেছে, অথচ তার যিম্মায় পনের দিনের সাওম রয়ে গেছে।

সাওম অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮৩০ – সায়িমের জন্য কখন ইফতার করা হালাল।

হাদীস নং ১৮৩০

হুমাইদী রহ……..উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যখন রাত্র সে দিক থেকে ঘনিয়ে আসে ও দিন এ দিক থেকে চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখন সায়িম ইফতার করবে।

বুখারি হাদিস নং ১৮৩১

হাদীস নং ১৮৩১

ইসহাক ওয়াসিতী রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম।

আর তিনি ছিলেন সায়িম। যখন সূর্য ডুবে গেল তখন তিনি দলের কাউকে বললেন : হে অমুক ! উঠ। আমাদের জন্য জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সন্ধ্যা হলে ভাল হতো। তিনি বললেন : নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সন্ধ্যা হলে ভাল হতো।

তিনি বললেন : নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সে বলল, দিন তো আপনার এখনো রয়েছে। তিনি বললেন : তুমি নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন।

তারপর সে নামল এবং তাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আনল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পান করলেন, তারপর বললেন : যখন তোমরা দেখবে, রাত একদিক থেকে ঘনিয়ে আসছে, তখন সায়িম ইফতার করবে।

বুখারি হাদিস নং ১৮৩২ – পানি বা সহজলভ্য অন্য কিছু দিয়ে ইফতার করবে।

হাদীস নং ১৮৩২

মুসাদ্দাদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা দিলাম এবং তিনি রোযাদার ছিলেন।

সূর্য অস্ত যেতেই তিনি বললেন : তুমি সওয়ারী থেকে নেমে আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সন্ধ্যা হলে ভাল হতো। তিনি বললেন : নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন।

সে বলল, দিন তো আপনার এখনো রয়েছে। তিনি বললেন : তুমি নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। তারপর সে নামলেন এবং তাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আনলেন।

এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙ্গুল দ্বারা পূর্বদিকে ইশারা করে বললেন : যখন তোমরা দেখবে যে, রাত এদিক থেকে আসছে, তখনই রোযাদারের ইফতারের সময় হয়ে গেল।

বুখারি হাদিস নং ১৮৩৩ – ইফতার ত্বরান্বিত করা।

হাদীস নং ১৮৩৩

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : লোকেরা যতদিন যাবত ওয়াক্ত হওয়ামাত্র ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে।

সাওম অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮৩৪

হাদীস নং ১৮৩৪

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ………ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত সাওম পালন করেন।

এরপর এক ব্যাক্তিকে বললেন : সওয়ারী হতে নেমে ছাতু গুলিয়ে আন। লোকটি বলল, আপনি যদি (পূর্ণ সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত) অপেক্ষা করতেন। তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুনরায় বললেন : নেমে আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন।

(তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ) যখন তুমি এদিক (পূর্বদিক) হতে রাত্রির আগমন দেখতে পাবে তখন রোযাদার ইফতার করবে।

বুখারি হাদিস নং ১৮৩৬ – বাচ্চাদের সাওম পালন করা।

হাদীস নং ১৮৩৬

মুসাদ্দাদ রহ……….রুবায়্যি বিনতে মুআব্বিয রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আশুরার সকালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের সকল পল্লীতে এ নির্দেশ দিলেন : যে ব্যক্তি সাওম পালন করেনি সে যেন দিনে বাকি অংশ না খেয়ে থাকে, আর যার সাওম অবস্থায় সকাল হয়েছে, সে যেন সাওম পূর্ণ করে।

তিনি (রুবায়্যি) রা. বলেন, পরবর্তীতে আমরা ঐ দিন রোযা রাখতাম এবং আমাদের শিশুদের রোযা রাখতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরী করে দিতাম।

তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে ঐ খেলনা দিয়ে ইফতার পর্যন্ত ভুলিয়ে রাখতাম। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, (ইহনুন) পশম।

বুখারি হাদিস নং ১৮৩৭ – সাওমে বেসাল (বিরতিহীন সাওম)।

হাদীস নং ১৮৩৭

মুসাদ্দাদ রহ………আনাস রা. থেকে বর্নিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা সাওমে বেসাল পালন করবে না। লোকেরা বলল, আপনি যে সাওমে বেসাল করেন ?

তিনি বললেন : আমি তোমাদের মত নই। আমাকে পানাহার করানো হয় (অথবা বললেন) আমি পানাহার অবস্থায় রাত অতিবাহিত করি।

বুখারি হাদিস নং ১৮৩৮

হাদীস নং ১৮৩৮

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওমে বেসাল হতে নিষেধ করলেন। লোকেরা বলল, আপনি যে সাওমে বেসাল পালন করেন ! তিনি বললেন : আমি তোমাদের মত নই, আমাকে পানাহার করানো হয়।

বুখারি হাদিস নং ১৮৩৯

হাদীস নং ১৮৩৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছে যে, তোমরা সাওমে বেসাল পালন করবে না।

তোমাদের কেউ সাওমে বেসাল করতে চাইলে সে যেন সাহরীর সময় পর্যন্ত করে। লোকেরা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি যে সাওমে বেসাল পালন করেন ?

তিনি বললেন : আমি তোমাদের মত নই, আমি রাত্রি যাপন করি এরূপ অবস্থায় যে, আমার জন্য একজন খাদ্য পরিবেশনকারী থাকেন যিনি আহার করান এবং একজন পানীয় পরিবেশনকারী আমাকে পান করান।

বুখারি হাদিস নং ১৮৪০

হাদীস নং ১৮৪০

উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ. ও মুহাম্মদ রহ……. আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের উপর দয়াপরবশ হয়ে তাদেরকে সাওমে বেসাল হতে নিষেধ করলে তারা বলল, আপনি যে সাওমে বেসাল করে থাকেন।

তিনি বললেন : আমি তোমাদের মত নই, আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করান। আবু আবদুল্লাহ বুখারী রহ. বলেন, রাবী উসামন রহ. ‘তাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে’ কথাটি উল্লেখ করেননি।

সাওম অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮৪১ – যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে সাওমে বেসাল পালন করে তাকে শান্তি প্রদান।

হাদীস নং ১৮৪১

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি যে বিরতিহীন সাওম পালন করেন ? তিনি বললেন : তোমাদের মধ্যে আমার মত কে আছ ? আমি এমনভাবে রাত যাপন করি যে, আমার প্রতিপালাক আমাকে পানাহার করান।

এরপর যখন লোকেরা সাওমে বেসাল করা হতে বিরত থাকল না তখন তিনি তাদেরকে নিয়ে দিনের পর দিন সাওমে বেসাল করতে থাকলেন।

এরপর লোকেরা যখন চাঁদ দেখতে পেল তখন তিনি বললেন : যদি চাঁদ উঠতে আরো দেরী হত তবে আমি তোমাদেরকে নিয়ে আরো বেশী দিন সাওমে বেসাল করতাম। এ কথা তিনি তাদেরকে শাস্তি প্রদান স্বরূপ বলেছিলেন, যখন তারা বিরত থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ১৮৪২ – যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে সাওমে বেসাল পালন করে তাকে শান্তি প্রদান।

হাদীস নং ১৮৪২

ইয়াহইয়া রহ…….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : তোমরা সাওমে বেসাল পালন করা হতে বিরত থাক (বাক্যটি তিনি) দু’ বার বললেন ।

তাকে বলা হল, আপনি তে সাওমে বেসাল করেন। তিনি বললেন : আমি এভাবে রাত যাপন করি যে, আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করিয়ে থাকেন। তোমরা তোমাদের সাধ্যানুযায়ী আমল করার দায়িত্ব গ্রহণ করো।

বুখারি হাদিস নং ১৮৪৩ – সাহরীর সময় পর্যন্ত সাওমে বেসাল পালন করা।

হাদীস নং ১৮৪৩

ইবরাহীম ইবনে হামযা রহ………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, তোমরা সাওমে বেসাল করবে না।

তোমাদের কেউ যদি সাওমে বেসাল করতে চায়, তবে যেন সাহরীর সময় পর্যন্ত করে। সাহাবাগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি তো সাওমে বেসাল পালন করেন ?

তিনি বললেন : আমি তোমাদের মত নই। আমি এভাবে রাত যাপন করি যে, আমার জন্য একজন আহার দাতা রয়েছেন যিনি আমাকে আহার করান, একজন পানীয় দানকারী আছেন যিনি আমাকে পান করান।

বুখারি হাদিস নং ১৮৪৪ – কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের নফল সাওম ভঙ্গের জন্য কসম দিলে এবং তার জন্য এ সাওমের কাযা ওয়াজিব মনে না করলে, যখন সাওম পালন না করা তার জন্য উত্তম হয়।

হাদীস নং ১৮৪৪

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……..আবু জুহায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান রা. ও আবুদ দারদা রা.-এর মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন করে দেন। (একবার) সালমান রা. আবুদ দারদা রা.-এর সাথে সাক্ষাত করতে এসে উম্মুদ দারদা রা.-কে মলিন কাপড় পরিহিত দেখতে পান ।

তিনি এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে উম্মদ দারদা রা. বললেন, আপনার ভাই আবুদ দারদার পার্থিব কোন কিছুর প্রতি মোহ নেই । কিছুক্ষণ পরে আবুদ দারদা রা. এলেন। তারপর তিনি সালমান রা.-এর জ্য আহার্য প্রস্তুত করান এবং বলেন, আপনি খেয়ে নিন, আমি সাওম পালন করছি। সালমান রা. বললেন, আপনি না খেলে আমি খাবো না।

এরপর আবুদ দারদা রা. সালমান রা.–এর সঙ্গে খেলেন। রাত হলে আবুদ দারদা রা. (সালাত আদায়ে) দাঁড়াতে গেলেন। সালমান রা. বললেন, এখন ঘুমিয়ে যান। আবুদ দারদা রা. ঘুমিয়ে পড়লেন।

কিছুক্ষণ পরে আবুদ দারদা রা. আবার সালাতে দাঁড়াতে উদ্যত হলেন, সালমান রা. বললেন, ঘুমিয়ে যান। যখন রাতের শেষ ভাগ হল, সালমান রা. আবুদ দারদা রা.-কে বললেন, এখন দাঁড়ান।

এরপর তাঁরা দু’ জনে সালাত আদায় করলেন। পরে সালমান রা. তাকে বললেন, আপনার প্রতিপালকের হক আপনার উপর আছে। আপনার নিজেরও হক আপনার উপর রয়েছে।

 

আবার আপনার পরিবারেরও হক রয়েছে। প্রত্যেক হকদারকে তার হক প্রদান করুন। এরপর আবুদ দারদা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ঘটনা বর্ণনা করলেন। (সব শুনে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : সালমান ঠিকই বলেছে।

সাওম অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮৪৫ – শা’বান (মাসের) সাওম।

হাদীস নং ১৮৪৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে (এত বেশী) সাওম পালন করতেন যে, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর সাওম পরিত্যাগ করবেন না।

(আবার কখনো এত বেশী) সাওম পালন না করা অবস্থায় একাধারে কাটাতেন যে, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর (নফল) সাওম পান করবেন না।

আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে রমযান ব্যতীত কোন পুরা মাসের সাওম পালন করতে দেখিনি এবং শা’বান মাসের চেয়ে কোন মাসে বেশী (নফল) সাওম পালন করতে দেখিনি।

বুখারি হাদিস নং ১৮৪৬

হাদীস নং ১৮৪৬

মুআয ইবনে ফাযালা রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শা’বান মাসের চেয়ে বেশী (নফল) সাওম কোন মাসে পালন করতেন না।

তিনি (প্রায়) পুরা শা’বান মাসই সাওম পালন করতেন এবং তিনি বলতেন : তোমাদের সাধ্যে যতটুকু কুলায় ততটুকু (নফল) আমল কর, কারণ তোমরা (আমল করতে করতে) ক্লান্ত হয়ে না পড়া পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা (সাওয়াব দান) বন্ধ করেন না।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয় সালাত ছিল তাই-যা যথাযথ নিয়মে সর্বদা আদায় করা হত, যদিও তা পরিমাণে কম হত এবং তিনি যখন কোন (নফল) সালাত আদায় করতেন পরবর্তীতে তা অব্যাহত রাখতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮৪৭ – হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাওম পালন করা ও না করার বর্ণনা।

হাদীস নং ১৮৪৭

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান ব্যতীত কোন মাসে পুরা মাসের সাওম পালন করেন নাই।

তিনি এমনভাবে (নফল) সাওম পালন করতেন যে, কেউ বলতে চাইলে বলতে পারতো, আল্লাহর কসম ! তিনি আর সাওম পালন পরিত্যাগ করবেন না। আবার এমনভাবে (নফল) সাওম ছেড়ে দিতেন যে, কেউ বলতে চাইলে বলতে পারতো আল্লাহর কসম ! তিনি আর সাওম পালন করবেন না।

বুখারি হাদিস নং ১৮৪৮

হাদীস নং ১৮৪৮

আবদুল আযীয আবদুল্লাহ রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন মাসে এভাবে সাওম ছেড়ে দিতেন যে, আমরা মনে করতাম, তিনি এ মাসে আর সাওম পালন করবেন না।

আবার কোন মাসে এভাবে সাওম পালন করতেন যে, আমরা মনে করতাম তিনি এ মাসে আরমা সাওম ছাড়বেন না।

আর তুমি যদি তাকে রাতে সালাত আদায়রত অবস্থায় দেখতে চাইতে তবে তা দেখতে পেতে, আবার যদি তুমি তাকে ঘুমন্ত দেখতে চাইতে তবে তাও দেখতে পেতে। সুলাইমান রহ. হুমায়দ রহ. সূত্রে বলেন, যে, তিনি আনাস রা.-কে সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮৪৯

হাদীস নং ১৮৪৯

মুহাম্মদ রহ………হুমাইদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস রা.-কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর (নফল) সাওমের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, যে কোন মাসে আমি তাকে সাওম পালনরত অবস্থায় দেখতে চেয়েছি, তাকে সে অবস্থায় দেখেছি, আবার তাকে সাওম পালন না করা অবস্থায় দেখতে চাইলে তাও দেখতে পেয়েছি।

রাতে যদি তাকে সালাত আদায়রত অবস্থায় দেখতে চেয়েছি, তা প্রত্যক্ষ করেছি। আবার ঘুমন্ত দেখতে চাইলে তাও দেখতে পেয়েছি। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত মুবারক হতে নরম কোন পশমী বা রেশমী কাপড় স্পর্শ করি নাই। আর আমি তাঁর (শরীরের) ঘ্রাণ হতে অধিক সুগন্ধযুক্ত কোন মিশক বা আম্বর পাইনি।

বুখারি হাদিস নং ১৮৫০ – (নফল) সাওমের ব্যাপারে মেহমানের হক।

হাদীস নং ১৮৫০

ইসহাক রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন। এরপর তিনি হাদীসটি বর্ণনা করেন অর্থাৎ “তোমাদের উপর মেহমানের হক আছে, তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হক আছে”। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, সাওমে দাউদ আ. কি ? তিনি বললেন : “অর্ধেক বছর” (-এর সাওম পালন করা)।

সাওম অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮৫১ – নফল সাওমে শরীরের হক।

হাদীস নং ১৮৫১

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন : হে আবদুল্লাহ ! আমি এ সংবাদ পেয়েছি যে, তুমি প্রতিদিন সাওম পালন কর এবং সারারাত সালাত আদায় করে থাক।

আমি বললাম, ঠিক (শুনেছেন) ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তিনি বললেন : এরূপ করবে না (বরং মাঝে মাঝে) সাওম পালন কর আবার সাওম ছেড়েও দাও।

(রাতে) সালাত আদায় কর আবার ঘুমাও। কেননা তোমার উপর তোমার শরীরের হক রয়েছে, তোমার চোখের হক রয়েছে, তোমার উপর তোমার স্ত্রী হক আছে, তোমার মেহমানের হক আছে।

তোমার জন্য যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন কর। কেননা নেক আমলের বদলে তোমার জন্য রয়েছে দশগুণ নেকী। এভাবে সারা বছরের সাওম হয়ে যায়।

আমি (বললাম) আমি এর চেয়েও কঠোর আমল করতে সক্ষম। তখন এভাবে সারা বছরের সাওম হয়ে যায়। আমি (বললাম) আমি এর চেয়েও কঠোর আমল করতে সক্ষম। তখন আমাকে আরও কঠিন আমলের অনুমতি দেওয়া হল। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি আরো বেশী শক্তি রাখি।

তিনি বললেন : তবে আল্লাহর নবী দাউদ আ.-এর সাওম পালন কর, এর থেকে বেশী করতে যেয়ো না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর নবী দাউদ আ.-এর সাওম কেমন ? তিনি বললেন : অর্ধেক বছর।

রাবী বলেন, আবদুল্লাহ রা. বৃদ্ধ বয়সে বলতেন, আহা ! আমি যদি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত রুখসত (সহজতর বিধান) কবুল করে নিতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮৫২ – পুরা বছর সাওম পালন করা।

হাদীস নং ১৮৫২

আবুল ইয়ামান রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আমার সম্পর্কে এ কথা পৌছে যায় যে, আমি বলেছি, আল্লাহর কসম ! আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন সাওম পালন করব এবং রাতভর সালাত আদায় করব।

তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করায় আমি বললাম, আপনার উপর আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক ! আমি এ কথা বলেছি । তিনি বললেন : তুমি তো এরূপ করতে সক্ষম হবে না।

বরং তুমি সাওম পালন কর ও ছেড়েও দাও, (রাতে) সালাত আদায় কর ও নিদ্রা যাও। তুমি মাসে তিন দিন করে সাওম পালন কর, কারণ নেক কাজের ফল তার দশগুণ; এভাবেই সারা বছরের সাওম পালন হয়ে যাবে।

আমি বললাম, আমি এর থেকে বেশী করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন : তাহলে একদিন সাওম পালন কর এবং একদিন সাওম পালন কর আর একদিন ছেড়ে দাও।

এই হল দাউদ আ.-এর সাওম এবং এই হল সর্বোত্তম (সাওম) আমি বললাম, আমি এর চেয়ে বেশী করার সামর্থ্য রাখি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এর চেয়ে উত্তম সাওম (রাখার পদ্ধতি) আর নেই।

সাওম অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮৫৩ – সাওম পালনের ব্যাপারে পরিজনের হক।

হাদীস নং ১৮৫৩

আমর ইবনে আলী রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ সংবাদ পৌছে যে, আমি একটানা সাওম পালন করি এবং রাতভর সালাত আদায় করি। এরপর হয়ত তিনি আমার কাছে লোক পাঠালেন অথবা আমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করলাম।

তিনি বললেন : আমি কি এ কথা ঠিক শুনি নাই যে, তুমি সাওম পালন করতে থাক আর ছাড় না এবং তুমি (রাতভর) সালাত আদায় করতে থাক আর ঘুমাও না ? (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন) তুমি সাওম পালন কর এবং মাঝে মাঝে তা ছেড়েও দাও। রাতে সালাত আদায় কর এবং নিদ্রাও যাও।

কেননা তোমার উপর তোমার চোখের হক রয়েছে এবং তোমার নিজের শরীরের ও তোমার পরিবারের হক তোমার উপর আছে। আবদুল্লাহ রা. বললেন, আমি এর চেয়ে বেশী শক্তি রাখি। তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : তাহলে তুমি দাউদ আ.-এর সিয়াম পালন কর।

রাবী বলেন, আবদুল্লাহ রা. বললেন, তা কিভাবে ? তিনি বললেন : দাউদ আ. একদিন সাওম পালন করতেন, একদিন ছেড়ে দিতেন এবং তিনি (শত্রুর) সম্মুখীন হলে পলায়ন করতেন না।

আবদুল্লাহ রা. বললেন : হে আল্লাহর নবী ! আমাকে এ শক্তি কে যোগাবে ? বর্ণনাকারী আতা রহ. বলেন, (এই হাদীসে) কি ভাবে সব সময়ের সিয়ামের প্রসঙ্গ আসে সে কথাটুকু আমার মনে নেই (অবশ্য) এতটুকু মনে আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ বার এ কথাটি বলেছেন, সব সময়ের সাওম কোন সাওম নয়।

বুখারি হাদিস নং ১৮৫৪ – একদিন সাওম পালন করা ও একদিন ছেড়ে দেওয়া।

হাদীস নং ১৮৫৪

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : তুমি প্রতি মাসে তিন দিন সাওম পালন কর।

আবদুল্লাহ রা. বললেন, আমি এর চাইতে বেশী করার শক্তি রাখি। এভাবে তিনি বৃদ্ধির আবেদন করতে লাগলেন যে, অবশেষে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : একদিন সাওম পালন কর আর একদিন ছেড়ে দাও এবং আরো বললেন : প্রতি মাসে (এক খতম) কুরআন পাঠ কর। তিনি বললেন, আমি এর চেয়ে বেশী শক্তি রাখি।

এভাবে বলতে লাগলেন, অবশেষে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাহলে তিন দিনে (পাঠ কর)।

বুখারি হাদিস নং ১৮৫৫ – দাউদ আ.-এর সাওম।

হাদীস নং ১৮৫৫

আদম রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন : তুমি কি সব সময় সাওম পালন কর এবং রাতভর সালাত আদায় করে থাক? আমি বললাম, জী হ্যাঁ। তিনি বললেন : তুমি এরূপ করলে চোখ বসে যাবে এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে।

যে সারা বছর সাওম পালন করে সে যেন সাওম পালন করে না। মাসে তিন দিন করে সাওম পালন করা সারা বছর সাওম পালনের সমতুল্য। আমি বললাম, আমি এর চেয়ে বেশী করার সামর্থ্য রাখি।

তিনি বললেন : তাহলে তুমি দাউদী সাওম পালন কর, তিনি একদিন সাওম পালন করতেন আর একদিন ছেড়ে দিতেন এবং যখন শত্রুর সম্মুখীন হতেন তখন পলায়ন করতেন না।

সাওম অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮৫৬

হাদীস নং ১৮৫৬

ইসহাক ওয়াসিতী রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আমার সাওমের আলোচনা করায় তিনি আমার এখানে আগমন করেন। আমি তাঁর জন্য খেজুরের গাছের ছালে পরিপূর্ণ চামড়ার বালিশ (হেলান দিয়ে বসার জন্য) পেশ করলাম।

তিনি মাটিতে বসে পড়লেন। বালিশটি তাঁর ও আমার মাঝে পড়ে থাকল। তিনি বললেন : প্রতি মাসে তুমি তিন দিন রোযা রাখলে হয় না ? আবদুল্লাহ রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! (আরো)।

তিনি বললেন : সাত দিন । আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! (আরো)। তিনি বললেন : নয় দিন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! (আরো) । তিনি বললেন : এগারো দিন।

এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : দাউদ আ.-এর সাওমের চেয়ে উত্তম সাওম আর হয় না- অর্ধেক বছর, একদিন সাওম পালন কর ও একদিন ছেড়ে দাও।

বুখারি হাদিস নং ১৮৫৭ – সিয়ামুল বীয ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ (-এর সাওম)

হাদীস নং ১৮৫৭

আবু মামার রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতি মাসে তিন দিন করে সাওম পালন করা এবং দু’রাকআত সালাতুয-যুহা এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর সালাত আদায় করা।

বুখারি হাদিস নং ১৮৬০ – মাসের শেষভাগে সাওম পালন করা।

হাদীস নং ১৮৬০

সালত ইবনে মুহাম্মদ রহ……..ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অথবা (রাবী বলেন) অন্য এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেন এবং ইমরান রা. তা শুনছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হে অমুকের পিতা !

তুমি কি এ মাসের শেষভাগে সাওম পালন করনি ? (রাবী) বলেন, আমার মনে হয় (আমার ওস্তাদ) বলেছেন, অর্থাৎ রমযান। লোকটি উত্তর দিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! না। তিনি বললেন : যখন সাওম পালন শেষ করবে তখন দুদিন সাওম পালন করে নিবে।

আমার মনে হয় সালত রহ. রমযান শব্দটি বর্ণনা করেননি। সাবিত রহ. ইমরান সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শা’বানের শেষভাগে বলে উল্লেখ করেছেন । আবু আবদুল্লাহ বুখারী রহ. বলেন, শা’বান শব্দটি অধিকতর সহীহ।

বুখারি হাদিস নং ১৮৬১ – জুমুআর দিনে সাওম পালন করা।

হাদীস নং ১৮৬১

আবু আসিম রহ…….মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি জুমুআর দিনে (নফল) সাওম পালন করতে নিষেধ করেছেন ?

উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবু আসিম রহ. ব্যতীত অন্যেরা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, পৃথকভাবে জুমুআর দিনের সাওম পালন (-কে নিষেধ করেছেন)।

সাওম অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮৬২

হাদীস নং ১৮৬২

উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের কেউ যেন শুধু জুমুআর দিনে সাওম পালন না করে কিন্তু তার আগে একদিন অথবা পরের দিন (যদি পালন করে তবে জুমুআর দিনে সাওম পালন করা যায়)।

বুখারি হাদিস নং ১৮৬৩

হাদীস নং ১৮৬৩

মুসাদ্দাদ ও মুহাম্মদ রহ………জুয়াইরিয়া বিনতে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআর দিনে তাঁর নিকট প্রবেশ করেন তখন তিনি সাওম পালনরত ছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন : তুমি কি গতকাল সাওম পালন করেছিলে ?

তিনি বললেন, না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন : তুমি কি আগামীকাল সাওম পালনের ইচ্ছা রাখ? তিনি বললেন, না।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাহলে সাওম ভেঙ্গে ফেল। হাম্মাদ ইবনুল জাদ রহ. স্বীয় সূত্রে জুয়াইরিয়া রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আদেশ দেন এবং তিনি সাওম ভঙ্গ করেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮৬৪ – সাওম পালনের (উদ্দেশ্যে) কোন দিন কি নির্দিষ্ট করা যায়?

হাদীস নং ১৮৬৪

মুসাদ্দাদ রহ…….আলকামা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কোন দিন কোন কাজের জন্য নির্দিষ্ট করে নিতেন ?

উত্তরে তিনি বললেন, না, বরং তাঁর আমল স্থায়ী হত এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব আমল করার শক্তি-সামর্থ্য রাখতেন তোমাদের মধ্যে কে আছে যে সবের সামর্থ্য রাখে ?

বুখারি হাদিস নং ১৮৬৫ – আরাফাতের দিনে সাওম পালন করা।

হাদীস নং ১৮৬৫

মুসাদ্দাদ রহ. ও আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..উম্মুল ফাযল বিনতে হারিস রা. সূত্রে বর্ণনা করেন যে, কিছুসংখ্যক লোক আরাফাতের দিনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাওম পালন সম্পর্কে তাঁর কাছে সন্দেহ প্রকাশ করে।

তাদের কেউ বলল, তিনি সাওম পালন করেছেন। আর কেউ বলল, না, তিনি করেন নাই।

এতে উম্মুল ফাযল রা. এক পেয়ালা দুধ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন এবং তিনি তা পান করে নিলেন। এ সময় তিনি উটের পিঠে উকুফ অবস্থায় ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮৬৬

হাদীস নং ১৮৬৬

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………মায়মূনা রা. থেকে বর্ণিত যে, কিছু সংখ্যক লোক আরাফাতের দিনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাওম পালন সম্পর্কে

সন্দেহ প্রকাশ করলে তিনি স্বল্প পরিমাণ দুধ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঠিয়ে দিলে তিনি তা পান করলেন ও লোকেরা তা প্রত্যক্ষ করছিল। তখন তিনি (আরাফাতের) অবস্থান স্থলে ওকুফ করছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮৬৭ – ঈদুল ফিতরের দিনে সাওম পালন করা।

হাদীস নং ১৮৬৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………বনূ আযহারের আযাদকৃত গোলাম আবু উবায়দ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার ঈদে উমর ইবনুল খাত্তাব রা.-এর সঙ্গে ছিলাম, তখন তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই দিনে সাওম পালন করতে নিষেধ করেছেন।

যে দিন তোমরা তোমাদের সাওম ছেড়ে দাও। আরেক দিন, যেদিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর গোশত খাও। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, ইবনে উয়ায়না রহ. বলেন, যিনি ইবনে আযহারের মাওলা বলে উল্লেখ করেছেন, তিনি ঠিক বর্ণনা করেছেন; আর যিনি আবদুর রাহমান ইবনে আওফা রা.-এর মাওলা বলেছেন, তিনিও ঠিক বর্ণনা করেছেন।

সাওম অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮৬৮

হাদীস নং ১৮৬৮

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন এবং কুরবানীর ঈদের দিন সাওম পালন করা থেকে,

সাম্মা ধরনের কাপড় পরিধান করতে, এক কাপড় পরিধানরত অবস্থায় দুই হাঁটু তুলে নিতম্বের উপর বসতে (কেননা এতে সতর প্রকাশ পাওয়ার আশংকা রয়েছে) এবং ফজর ও আসরের পরে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮৬৯ – কুরবানীর দিন সাওম পালন।

হাদীস নং ১৮৬৯

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দু’ (দিনের) সাওম ও দু’ (প্রকারের) ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করা হয়েছে, ঈদুল ফিতর ও কুরবানীর (দিনের) সাওম এবং মুলামাসা ও মুনাবাযা (পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয়) হতে।

বুখারি হাদিস নং ১৮৭০

হাদীস নং ১৮৭০

মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না রহ…….যিয়াদ ইবনে জুবাইর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি এসে (আবদুল্লাহ) ইবনে উমর রা.-কে বলল যে, এক ব্যক্তি কোন এক দিনের সাওম পালন করার মানত করেছে, আমার মনে হয় সে সোমবারের কথা বলেছিল।

ঘটনাক্রমে ঐ দিন ঈদের দিন পড়ে যায়। ইবনে উমর রা. বললেন, আল্লাহ তা’আলা মানত পুরা করার নির্দেশ দিয়েছেন আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই (ঈদের) দিনে সাওম পালন করতে নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮৭১

হাদীস নং ১৮৭১

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, যিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বারটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে চারটি কথা শুনেছি, যা আমার খুব ভালো লেগেছে।

তিনি বলেছেন, স্বামী অথবা মাহরাম পুরুষ ছাড়া কোন নারী যেন দুই দিনের দূরত্বের সফর না করে। ঈদুল ফিতর ও কুরবানীর দিনে সাওম নেই। ফজরের সালাতের পরে সূর্যোদয় এবং আসরের সালাতের পরে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন সালাত নেই।

মসজিদে হারাম, মসজিদে আকসা ও আমার এই মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদের উদ্দেশ্যে যেন সফর না করে।

বুখারি হাদিস নং ১৮৭২ – আইয়্যমে তাশরীকে সাওম পালন করা।

হাদীস নং ১৮৭২

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……..আয়িশা রা. ও ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন, যার নিকট কুরবানীর পশু নেই তিনি ছাড়া অন্য কারোও জন্য আইয়্যামে তাশরীকে সাওম পালন করার অনুমতি দেওয়া হয় নাই।

বুখারি হাদিস নং ১৮৭৩

হাদীস নং ১৮৭৩

আবদুল্লাহ ইবেন ইউসুফ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি একই সঙ্গে হজ্জ ও উমরা পালনের সুযোগ পালন করল সে আরাফাত দিবস পর্যন্ত সাওম পালন করবে।

সে যদি কুরাবনী না করতে পারে এবং সাওম পালন না করে থাকে তবে মিনার দিনগুলোতে সাওম পালন করবে। ইবনে শিহাব রহ…….আয়িশা রা. থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবরাহীম ইবনে সাদ রহ. ইবনে শিহাব রহ. থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮৭৪ – আশুরার দিনে সাওম পালন করা।

হাদীস নং ১৮৭৪

আবু আসিম রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আশুরার দিনে কেউ চাইলে সাওম পালন করতে পারে।

বুখারি হাদিস নং ১৮৭৬

হাদীস নং ১৮৭৬

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলিয়্যাতের যুগে কুরাইশগণ আশুরার সাওম পালন করত এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও এ সাওম পালন করতেন।

যখন তিনি মদীনায় আগমন করেন তখনও এ সাওম পালন করেন এবং তা পালনের নির্দেশ দেন। যখন রমযানের সাওম ফরয করা হল তখন আশুরার সাওম ছেড়ে দেয়া হল, ইচ্ছা সে পালন করবে আর যার ইচ্ছা পালন করবে না।

বুখারি হাদিস নং ১৮৭৭

হাদীস নং ১৮৭৭

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………হুমায়দ ইবনে আবদুর রাহমান রহ. থেকে বর্ণিত, যে বছর মুআবিয়া রা. হজ্জ করেন সে বছর আশুরার দিনে (মসজিদে নববীর) মিম্বরে তিনি (রাবী) তাকে বলতে শুনেছেন যে, হে মদীনাবাসীগণ!

তোমাদের আলিমগণ কোথায় ? আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আজকে আশুরার দিন, আল্লাহ তা’আলা এর সাওম তোমাদের উপর ফরয করেননি বটে, তবে আমি (আজ) সাওম পালন করছি।

যার ইচ্ছা সে সাওম পালন করুক যার ইচ্ছা সে পালন না করুক।

বুখারি হাদিস নং ১৮৭৮

হাদীস নং ১৮৭৮

আবু মামার রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে, ইয়াহুদীগণ আশুরার দিনে সাওম পালন করে।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন : কি ব্যাপার ? (তোমরা এ দিনে সাওম পালন কর কেন ?) তারা বলল, এ অতি উত্তম দিন, এ দিনে আল্লাহ তা’আলা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল হতে নাজাত দান করেন, ফলে এ দিনে মূসা আ. সাওম পালন করেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি তোমাদের অপেক্ষা মূসার অধিক নিকটবর্তী, এরপর তিনি এ দিনে সাওম পালন করেন এবং সাওম পালনের নির্দেশ দেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮৭৯

হাদীস নং ১৮৭৯

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ…….আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আশুরার দিনকে ইয়াহুদীগণ ঈদ মনে করত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাহাবীগণকে) বললেন : তোমরাও এ দিনের সাওম পালন কর।

সাওম অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮৮০

হাদীস নং ১৮৮০

উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আশুরার দিনের সাওমের উপরে অন্য কোন দিনের সাওমকে প্রাধান্য প্রদান করতে দেখি নাই এবং এ মাস অর্থাৎ রমযান মাস (এর উপর অন্য মাসের গুরুত্ব প্রদান করতেও দেখি নাই)।

বুখারি হাদিস নং ১৮৮১

হাদীস নং ১৮৮১

মক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ…….সালামা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে লোকজনের মধ্যে এ মর্মে ঘোষণা দিতে আদেশ করলেন যে, যে ব্যক্তি খেয়েছে, সে যেন দিনের বাকি অংশে সাওম পালন করে আর যে খায় নাই, সে যেন সাওম পালন করে। কেননা, আজকের দিন আশুরার দিন।

আরও পড়ুনঃ

সূর্যগ্রহণ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বিতর অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

দু’ঈদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

জুমু’আ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদিসশাস্ত্র (উলুমুল হাদিস)

মন্তব্য করুন