সহি বুখারী শরীফ হাদিস সূচি

সহি বুখারী শরীফ হাদিস সূচি তে স্বগত। এই আর্টিকেলটির সাথ ক্রমানুসারে সহি বুখারী শরীফ এর সকল হাদিস লিংক করা হবে।বুখারী শরীফ হচ্ছে বিশুদ্ধতম হাদীস সংকলন। মহানবী (সা)-এর পবিত্র মুখনিঃসৃত বাণী, তাঁর কর্ম এবং মৌন সমর্থন ও অনুমােদন হচ্ছে হাদীস বা সুন্নাহ। পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা এবং শরীয়তের বিভিন্ন হুকুম-আহকাম ও দিকনির্দেশনার জন্য সুন্নাহ হচ্ছে দ্বিতীয় উৎস। প্রকৃতপক্ষে পবিত্র কুরআন ও হাদীস উভয়ই ওহী দ্বারা প্রাপ্ত। কুরআন হচ্ছে আল্লাহর কালাম আর হাদীস হচ্ছে মহানবীর বাণী ও অভিব্যক্তি।

সহি বুখারী শরীফ হাদিস সূচি

সহীহ বুখারী (আরবি: صحيح البخاري‎‎) একটি প্রসিদ্ধ হাদীস বিষয়ক গ্রন্থ। এর আসল নাম, الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول اللّٰه صلى اللّٰه عليه و سلم وسننه وأيامه আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মতে, এটি কুতুব আস-সিত্তাহ অর্থাৎ হাদীস বিষয়ক প্রধান ছয়টি গ্রন্থের অন্যতম। ইমাম বুখারি মুহাম্মাদের বাণীসংবলিত এই গ্রন্থটি সংকলন করেছেন। এই গ্রন্থটিকে ইসলামী বিধি-বিধান বিষয়ে কোরআনের পরে সবচাইতে নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মহানবী (সা)-এর আমলে এবং তার তিরােধানের অব্যবহিত পরে মুসলিম দিগ্বিজয়ীগণ ইসলামের দাওয়াত নিয়ে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েন। এ সময় দুর্গম পথের অমানুষিক কষ্ট স্বীকার করে যে কয়জন অসাধারণ মেধাসম্পন্ন ব্যক্তি হাদীস সংকলন ও সংরক্ষণের জন্য কঠোর সাধনা করেছেন তাঁদের মধ্যে সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ইমাম আবু আবদুল্লাহ্ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আলবুখারী। তিনি জামে সহীহ’ নামে প্রায় সাত হাজার হাদীস-সম্বলিত একটি সংকলন প্রস্তুত করেন, যা তার জন্মস্থানের নামে বুখারী শরীফ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামের প্রায় প্রতিটি দিক নিয়েই বিভিন্ন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদে সুবিন্যস্ত এ গ্রন্থটি ইসলামী জ্ঞানের এক প্রামাণ্য ভাণ্ডার।

বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলােতে এটি একটি অপরিহার্য পাঠ্যগ্রন্থ। পবিত্র কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান অর্জন সকল মুসলমানের জন্যই অপরিহার্য। এ বাস্তবতা থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সিহাহ্ সিত্তাহ্ ও অন্যান্য বিখ্যাত এবং প্রামাণ্য হাদীস সংকলন অনুবাদ ও তা প্রকাশ করে চলেছে।

বিজ্ঞ অনুবাদকমণ্ডলী ও যােগ্য সম্পাদনা পরিষদের মাধ্যমে এর কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এর অনুবাদ হয়ে উঠেছে বিশুদ্ধ, প্রাঞ্জল ও সহজবােধ্য। ১৯৮৯ সালে বুখারী শরীফের প্রথম খণ্ডের অনুবাদ প্রকাশিত হবার পর থেকেই ছাত্র-শিক্ষক, গবেষক ও সর্বস্তরের সচেতন পাঠকমহল তা বিপুল আগ্রহের সাথে গ্রহণ করে। পরবর্তীতে এর প্রতিটি খণ্ড প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে প্রিয় পাঠকমহলের কাছে সমাদৃত হয়।

তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

সহি বুখারী শরীফ হাদিস সংগ্রাহের ইতিহাস

ইমাম বুখারী স্বীয় শিক্ষক ইসহাক্ব বিন রাহওয়াইহ থেকে এই গ্রন্থ রচনার প্রেরণা লাভ করেন। একদিন তিনি একটি এমন গ্রন্থের আশা ব্যক্ত করেন যাতে শুধু সহীহ হাদীস লিপিবদ্ধ থাকবে। তাঁর ছাত্রদের মাঝে ইমাম বুখারী তখন এই কঠিন কাজে অগ্রসর হন।[৩] ২১৭ হিজরী সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি মক্কা শহরের হারাম শরীফে এই গ্রন্থের জন্য হাদীস সংকলন শুরু করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২৩৩ হিজরী সনে এর সংকলনের কাজ সমাপ্ত হয়।

বুখারী শরীফের জন্য হাদীস সংকলনকালে তিনি প্রতিদিন রোজা রাখতেন এবং প্রতিটি হাদীস পাণ্ডুলিপিতে সন্নিবেশনের পূর্বে গোসল করে দু’ রাকাত নফল নামাজ আদায় করে মুরাকাবা ও ধ্যানের মাধ্যমে হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতেন। এ গ্রন্থে তিনি কেবল ‘‘সহিহ হাদীস’’ সংকলন করেননি, বরং সহিহ হাদীসের মধ্যে যেগুলো তার নির্ধারিত শর্ত উত্তীর্ণ হয়েছে কেবল সেগুলো গ্রহণ করেছেন। তিনি স্বয়ং বলেছেন, “আমি জা’মে কিতাবে সহিহ হাদিস ব্যতীত অন্য কোন হাদিস বর্ণনা করিনি। তবে কলেবর বড় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক সহিহ হাদিসকে বাদ দিয়েছি। তিনি আরও বলেছেন, ‘‘আমি আমার কিতাবে প্রতিটি হাদিস লেখার পূর্বেই গোসল করেছি এবং দু রাকা‘আত সলাত আদায় করে নিয়েছি।’’

অপর বর্ণনা হতে জানা যায় যে, ইমাম বুখারী তার স্বীয় কিতাবের শিরোনামসমূহ রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর এবং মসজিদে নববীর মধ্যস্থলে বসে লিখেছিলেন। এ সময় তিনি প্রতিটি শিরোনামের জন্য দু’ রাকা‘আত নফল সলাত আদায় করতেন।

আবুল ফজল মোহাম্মদ বিন তাহেরের বর্ণনা মতে, ‘‘ইমাম বুখারী তার হাদীস গ্রন্থ কাজ বুখারাতে বসে শেষ করেছেন। এক বর্ণনায় বসরা শহরের কথা আছে।

তবে উল্লিখিত সকল বর্ণনা নির্ভুল। কেননা হাদীস সংকলন কালে তিনি উল্লিখিত সকল নগরীতে অবস্থান করেছেন।

ইমাম বুখারী স্বয়ং বলেছেন, ‘‘আমি আমার সহিহ বুখারি সঙ্গে নিয়ে বসরা শহরে ৫ বছর অবস্থান করেছি এবং আমার কিতাব প্রণয়ের কাজ শেষ করি। আর প্রতি বছরই হজ্ব পালন করি এবং মক্কা হতে বসরাতে ফিরে আসি।’’

আচার-ব্যবহার অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-৪।

সহি বুখারী শরীফ হাদিস এর খন্ড বা কিতাব

বুখারী শরীফের পুরো নাম হলোঃ আল-জামি আল-মুসনাদ আল-সহীহ মিন উমুরি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি। ইমাম বুখারীর প্রায় ৬ লাখ হাদীস মুখস্থ ছিল। তিনি ৬ লাখ হাদিস হতে যাচাই বাছাই করে সর্বসাকুলে ১৬ বছর নিরলস সাধনা করে এ প্রসিদ্ধ গ্রন্থখানি প্রণয়ন করেন।

ইবনে আল সালাহ-এর হিসাব মতে: “দ্বিরুক্তি সহ বুখারী শরীফে হাদীসের সংখ্যা ৭২৭৫। বলা হয়েছে যে মাত্র একবার বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ২,২৩০।

এটি মুসনাদ হাদিসকে বোঝানো হয়েছে। মুসনাদ অর্থ যার সনদ রাবি থেকে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মিলিত এবং কোথাও বিচ্ছেদ ঘটেনি। ‏مسْنَدُ‏ কর্মবাচক বিশেষ্য, অর্থ সম্পৃক্ত ও মিলিত বস্তু। إسناد ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য থেকে উদ্‌গত। إسناد الشيء إلى الشيء অর্থ এক বস্তুকে অপর বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত করা। এ থেকে রাবি বা গ্রন্থকার থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মিলিত হাদিসকে ‘মুসনাদ’ বলা হয়।

স্ট্যান্ডার্ড আরবি সংস্করণ [ Standard Arabic edition ] এ ৯৭ অধ্যায়ে পুরো বুখারী শরীফ ভাগ করা হয়েছে।

USC-MSA : ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ওয়েব ইংলিশ রেফারেন্স নম্বরিং স্কিমের অধীনে, আল-বুখারির সংগ্রহ ৯৩টি অধ্যায়ে ভাগ করা হয়েছে।

 

সহি বুখারী শরীফ হাদিস এর ব্যাখ্যাকারী গ্রন্থ:

সহীহ বুখারী রচনার পর থেকে এ পর্যন্ত তার বহু ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখা হয়েছে। এর মাঝে অন্যতম হলো আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রচিত ফাতহুল বারী এবং ইমাম বদরুদ্দীন আল-আইনি রচিত উমদাতুল ক্বারী। নিচে সহীহ বুখারীর উল্লেখযোগ্য ব্যাখ্যা গ্রন্থসমূহের একটি তালিকা দেয়া হলো:

  • আল-কিরমানী রচিত আল-কাউয়াকিব আল-দারারী ফী শারহি সাহীহ্ আল-বুখারী
  • হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রচিত ফাত্‌হ আল-বারী ফী শারহি সাহীহ্ আল-বুখারী
  • ইবনে বাত্তাল রচিত একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে ফাতহুল বারী নামে।
  • ইমাম বদরুদ্দীন আইনি রচিত উ’মদাতুল ক্বারী ফী শারহি সাহীহ্ আল-বুখারী
  • আল্লামা শিহাবুদ্দীন আল কাসতালানী রচিত ইরশাদ আল-সারী লি শারহি সাহীহ্ আল-বুখারী
  • আলাউদ্দীন মুগলতায়ী রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ
  • আনোয়ার শাহ কাশ্মিরির রচিত ফয়জুল বারী শরহে সহীহিল বুখারী (বদরে আলম মিরাটি সংকলিত)
  • শাব্বির আহমদ উসমানির ফয়জুল বারি শরহে সহিহুল বুখারী (আজিজুল হক সংকলিত)
  • আহমদ রেজা খান বেরেলভীর তা’লিকুর রাজবী আলা সহীহীল বুখারী।

সহি বুখারী শরীফ হাদিস এর ব্যখ্যাকারী উর্দু গ্রন্থ:

উর্দুভাষায় অনেকেই বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

ইনআমুল বারী – তাকি উসমানি
নে’মাতুল বারী ফি শরহে সহীহিল বুখারী- শায়খুল হাদীস আল্লামা গোলাম রসূল সাঈদী
কাশফুল বারী শরহে সহীহিল বুখারী- ইদরীস কাসেমী
নাসরুল বারী- মুহাম্মাদ উসমান গনি

পাণ্ডুলিপি

প্রাচ্যবিদ মানজানা 1936 সালে কেমব্রিজে বলেছিলেন যে এই বিন্দু পর্যন্ত তিনি যে প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপিটি পেয়েছিলেন তা 984 সিই/370 হিজরিতে লেখা হয়েছিল, আল-ফারবারি থেকে আল-মিরওয়াজির বর্ণনা অনুসারে এটি সবচেয়ে পুরানো সম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি যা ISAM দ্বারা মুদ্রিত হয়েছিল। 1155/550 হিজরি থেকে।

সুবিধার জন্য বুখারীর সংগ্রহ বইয়ে আবদ্ধ ছিল। স্ট্যান্ডার্ড আরবি সংস্করণ E.J দ্বারা প্রকাশিত হয়েছিল। 1862 থেকে 1908 পর্যন্ত 4টি খণ্ডে Brill, সম্পাদক Ludolf Krehl & Theodor Juynboll, এবং যেখান থেকে ইংরেজি স্ট্যান্ডার্ড রেফারেন্সিং এসেছে।

ডাউনলোড করুন বুখারী শরীফ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) পিডিএফ ভার্সন। এখানে আপনি বিনামূল্যে সম্পূর্ণ (এক থেকে দশ খন্ড) হাদীছ গ্রন্থটি ডাউনলোড করতে পারবেন।

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন