শাহাদাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

শাহাদাত অধ্যায়

শাহাদাত অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

Table of Contents

শাহাদাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৬১ – কেউ যদি কারো সততা প্রমাণের উদ্দেশ্যে বলে, একে তো ভালো বলেই জানি অথবা বলে যে, এর সম্পর্কে তো ভালো ছাড়া কিছু জানি না।

হাদীস নং ২৪৬১

হাজ্জাজ রহ………ইবনে শিহাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট আয়িশা রা.-এর ঘটনা সম্পর্কে উরওয়া, ইবনে মুসায়্যাব, আলকামা, ইবনে ওয়াক্কাস এবং উবায়দুল্লাহ রা. আয়িশা রা. সম্পর্কে রটনা করেছিল।

এদিকে ওয়াহী অবতরণ বিলম্বিত হল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ও উসামা রা.-কে স্বীয় সহধর্মিণীকে পৃথক রাখার ব্যাপারে পরামর্শের জন্য ডেকে পাঠালেন।

উসামা রা. তখন বললেন, আপনার স্ত্রী সম্পর্কে ভাল ছাড়া কিছুই আমরা জানি না। আর বারীরা রা. বললেন, তার সম্পর্কে একটি মাত্র কথাই আমি জানি, তা এই যে, অল্প বয়স হওয়ার কারণে পরিবারের লোকদের জন্য আটা খামির করার সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েন আর সেই ফাঁকে বকরী এসে তা খেয়ে ফেলে।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কে আমাকে সাহায্য করবে ; যার জ্বালাতন আমার পারিবারিক ব্যাপারে আমাকে আঘাত হেনেছে?

আল্লাহর কসম আমার সহধর্মিণী সম্পর্কে আমি ভাল ছাড়া অন্য কিছু জানি না। আর এমন এক ব্যক্তির কথা তারা বলে, যার সম্পর্কে আমি ভাল ছাড়া অন্য কিছু জানি না।

বুখারি হাদিস নং ২৪৬২ – অন্তরালে অবস্থানকারী ব্যক্তির সাক্ষ্যদান।

হাদীস নং ২৪৬২

আবুল ইয়ামান রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও উবাই ইবনে কাব আনসারী রা. সেই খেজুর বাগানের উদ্দেশ্যে বাগানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন, যেখানে ইবনে সাইয়াদ থাকত।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (বাগানে) প্রবেশ করলেন, তখন তিনি সতর্কতার সাথে খেজুর শাখার আড়ালে আড়ালে চললেন। তিনি চাচ্ছিলেন, ইবনে সাইয়াদ তাকে দেখে ফেলার আগেই তিনি তার কোন কথা শুনে নিবেন। ইবনে সাইয়াদ তখন চাদর মুড়ি দিয়ে বিছানায় শায়িত ছিল।

আর গুন গুন বা (রাবী বলেছেন) গুমগুমভাবে কিছু বলছিল। এ সময় ইবনে সাইয়াদের মা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খেজুর শাখার আড়ালে আড়ালে সতর্কতার সাথে আসতে দেখে ইবনে সাইয়াদকে বলল, হে সাফ‍! (নামের সংক্ষেপ) এই যে মুহাম্মদ ! তখন ইবনে সাইয়াদ চুপ হয়ে গেল।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে (তার মা) যদি (কিছু না বলে) তাকে নিজের অবস্থায় ছেড়ে দিত, তাহলে (তার প্রকৃত অবস্থা আমাদের সামনে) প্রকাশ পেয়ে যেত।

শাহাদাত অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৬৩

হাদীস নং ২৪৬৩

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রিফাআ কুরাযীর স্ত্রী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, আমি রিফাআর স্ত্রী ছিলাম।

কিন্তু সে আমাকে বায়েন তালাক দিয়ে দিল। পরে আমি আবদুর রহমান ইবনে যুবাইর কে বিয়ে করলাম।

কিন্তু তার সাথে রয়েছে কাপড়ের আচলের মত নরম কিছু (অর্থাৎ সে পুরুষত্বহীন) তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে কি তুমি রিফাআর কাছে ফিরে যেতে চাও? না , তা হয় না, যতক্ষণ না তুমি তার মধুর স্বাদ গ্রহণ করবে আর সে তোমার মধুর স্বাদ গ্রহণ করবে।

আবু বকর রা. তখন তাঁর কাছে বসা ছিলেন। আর খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনে আস রা. দ্বারপ্রান্তে প্রবেশের অনুমতির অপেক্ষায় ছিলেন।

তিনি বললেন, হে আবু বকর ! মহিলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে উচ্চস্বরে যা বলছে, তা কি আপনি শুনতে পাচ্ছেন না?

বুখারি হাদিস নং ২৪৬৪ – এক বা একাধিক ব্যক্তি কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিলে আর অন্যরা বলে যে, আমরা এ বিষয়ে জানি না সেক্ষেত্রে সাক্ষ্যদাতার বক্তব্য মুতাবিক ফায়সালা করা হবে।

হাদীস নং ২৪৬৪

হিববান রহ……..উকবা ইবনে হারিছ রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু ইহাব ইবনে আযীযের কন্যাকে বিয়ে করলেন। পরে জনৈক মহিলা এসে বলল, আমি তো উকবা এবং যাকে সে বিয়ে করেছে দু’জনকেই দুধ পান করিয়েছি।

উকবা রা. তাকে বললেন, এটা তো আমার জানা নেই যে, আপনি আমাকে দুধ পান করিয়েছেন আর আপনিও এ বিষয়ে আমাকে অবহিত করেননি।

এরপর আবু ইহাব পরিবারের কাছে লোক পাঠিয়ে তিনি তাদের কাছে ( এ সম্পর্কে) জানতে চাইলেন। তারা বলল, সে আমাদের মেয়েকে দুধ পান করিয়েছে বলে তো আমাদের জানা নেই। তখন তিনি মদীনার উদ্দেশ্যে সাওয়ার হলেন এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন এরূপ বলা হয়েছে তখন এটা কিভাবে সম্ভব? তখন উকবা রা. তাকে ত্যাগ করলেন। আর সে অন্য জনকে বিয়ে করল।

বুখারি হাদিস নং ২৪৬৫ – ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ২৪৬৫

হাকাম ইবনে নাফি রহ………..উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় কিছু লোককে ওয়াহীর ভিত্তিতে পাকড়াও করা হত।

এখন যেহেতু ওয়াহী বন্ধ হয়ে গেছে, সেহেতু এখন আমাদের সামনে তোমাদের যে ধরনের আমল প্রকাশ পাবে, সেগুলোর ভিত্তিতেই আমরা তোমাদের বিচার করব। কাজেই যে ব্যক্তি আমাদের সামনে ভাল প্রকাশ করবে তাকে আমরা নিরাপত্তা দান করব এবং কাছে টানব, তার অন্তরের বিষয়ে আমাদের কিছু করণীয় নেই।

আল্লাহরই তার অন্তরের বিষয়ে হিসাব নিবেন। আর যে ব্যক্তি আমাদের সামনে মন্দ আমল প্রকাশ করবে, তার প্রতি আমরা তাদের নিরাপত্তা প্রদান করব না এবং সত্যবাদী বলে গ্রহণও করব না, যদিও সে বলে যে, তার অন্তর ভাল।

শাহাদাত অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৬৬ – কারো সততা প্রমাণের ক্ষেত্রে কজনের সাক্ষ্য প্রয়োজন।

হাদীস নং ২৪৬৬

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখ দিয়ে এক জানাযা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লোকটি সম্পর্কে সবাই প্রশংসা করছিলেন।

তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। পরে আরেকটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লোকেরা তার সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করল কিংবা বর্ণনাকারী অন্য কোন শব্দ বলেছেন। তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে।

তখন বলা হল ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এ ব্যক্তি সম্পর্কে বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে আবার ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। তিনি বললেন, মানুষের সাক্ষ্য (গ্রহণযোগ্য) আর মুমিনগণ হলেন পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষ্যদাতা।

বুখারি হাদিস নং ২৪৬৭

হাদীস নং ২৪৬৭

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবুল আসওয়াদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি মদীনায় আসলাম, সেখানে তখন মহামারী দেখা দিয়েছিল। এতে ব্যাপক হারে লোক মারা যাচ্ছিল।

আমি উমর রা.-এর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় একটি জানাযা অতিক্রম করল এবং তার সম্পর্কে ভাল ধরনের মন্তব্য করা হল। তা শুনে উমর রা. বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। এরপর আরেকটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং তার সম্পর্কেও ভাল মন্তব্য করা হল। তা শুনে তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে।

এরপর তৃতীয় জানাযা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং তার সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করা হল। এবারও তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কি ওয়াজিব হয়ে গেছে, হে আমীরুল মুমিনীন! তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন বলেছিলেন, আমিও তেমন বললাম।

(তিনি বলেছিলেন) কোন মুসলমান সম্পর্কে চার জন লোক ভালে সাক্ষ্য দিলে আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, আর তিনজন সাক্ষ্য দিল ?

তিনি বললেন, তিনজন সাক্ষ্য দিলেও। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, দু’জন সাক্ষ্য দিলে ? তিনি বললেন, দু’জন সাক্ষ্য দিলেও। এরপর আমরা একজনের সাক্ষ্য সম্পর্কে তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করিনি।

বুখারি হাদিস নং ২৪৬৮ – বংশধারা সর্ব অবহিত দুধপান ও পূর্বের মৃত্যু সম্পর্কে সাক্ষ্য দান।

হাদীস নং ২৪৬৮

আদম রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, আফলাহ রা. আমার সাক্ষাতের অনুমতি চাইলেন। আমি অনুমতি না দেওয়ায় তিনি বললেন, আমি তোমার চাচা, অথচ তুমি আমার সাথে পর্দা করছ? আমি বললাম তা কিভাবে?

তিনি বললেন, আমার ভাইয়ের স্ত্রী, আমার ভাইয়ের দুধ (ভাইয়ের কারণে তার স্তনে হওয়া দুধ) তোমাকে পান করিয়েছে। আয়িশা রা. বলেন, এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আফলাহ রা. ঠিক কথাই বলেছে। তাকে (সাক্ষাতের) অনুমতি দিও।

বুখারি হাদিস নং ২৪৬৯

হাদীস নং ২৪৬৯

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামযার কন্যা সম্পর্কে বলেছেন, সে আমার জন্য হালাল নয়। কেননা বংশ সম্পর্কের কারণে যা হারাম হয়, দুধ পানের সম্পর্কের কারণেও তা হারাম হয়, আর সে আমার দুধ ভাইয়ের কন্যা।

শাহাদাত অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৭০

হাদীস নং ২৪৭০

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় তিনি একজন লোকের আওয়াজ শুনতে পেলেন।

সে হাফসা রা.-এর ঘরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করছে। আয়িশা রা. বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এই যে একজন লোক আপনার ঘরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করছে।

তিনি বলেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে হাফসার অমুক দুধ চাচা বলে মনে হচ্ছে। তখন আয়িশা রা. বললেন, আচ্ছা আমার অমুক দুধ চাচা যদি জীবিত থাকত তাহলে সে কি আমার ঘরে প্রবেশ করতে পারত?

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, পারত। কেননা, জন্ম সূত্রে যা হারাম, দুধ পানেও তা হারাম হয়ে যায়।

 

বুখারি হাদিস নং ২৪৭১

হাদীস নং ২৪৭১

মুহাম্মদ ইবনে কাছীর রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট তাশরীফ আনলেন, তখন আমর কাছে একজন লোক ছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হে আয়িশা ! এ কে ? আমি বললাম, আমার দুধ ভাই। তিনি বললেন, হে আয়িশা ?

কে তোমার সত্যিকার দুধ ভাই তা যাচাই করে দেখ নিও। কেননা, ক্ষুধার কারণে (অর্থাৎ শিশু বয়সে শরীআত অনুমোদিত মুদ্দতে) দুধ পানের ফলেই শুধু সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ইবনে মাহদী রহ. সুফিয়ান রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় মুহাম্মদ ইবনে কাছীর রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৭২ – ব্যভিচারের অপবাদ দাতা, চোর ও ব্যভিচারীর সাক্ষ্য।

হাদীস নং ২৪৭২

ইসমাঈল রহ………উরওয়া ইবনে যুবাইর রর. থেকে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের সময় জনৈক মহিলা চুরি করলে তাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হাযির করা হল, তারপর তিনি তার সম্পর্কে নির্দেশ জারি করলে তার হাত কাটা হল।

আয়িশা রা. বলেন, এরপর খাটি তাওবা করল এবং বিয়ে করল। তারপর সে (মাঝে মাঝে আমার কাছে) আসলে আমি তার প্রয়োজন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে পেশ করতাম।

বুখারি হাদিস নং ২৪৭৩

হাদীস নং ২৪৭৩

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………যায়েদ ইবনে খালিদ রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবিবাহিত ব্যভিচারী সম্পর্কে একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসনের দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৭৪ – অন্যায়ের পক্ষে সাক্ষী করা হলেও সাক্ষ্য দিবে না।

হাদীস নং ২৪৭৪

আবদান রহ………নুমান ইবনে বাশীর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার মাতা আমার পিতাকে তার মালের কিছু অংশ আমাকে দান করতে বললেন।

পরেতাকে দেওয়া ভাল মনে করলে আমাকে তা দান করেন। তিনি (আমার মাতা) তখন বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাক্ষী করা ছাড়া আমি রাযী নাই। এরপর তিনি (আমার পিতা) আমার হাত ধরে আমাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে গেলেন, আমি তখন বালক মাত্র।

তিনি বললেন, এর মা বিনতে রাওয়াহা এ-কে কিছু দান করার জন্য আমার কাছে আবদার জানিয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, সে ছাড়া তোমার আর কোন ছেলে আছে?

তিনি বললেন, হ্যাঁ, আছে। নুমান রা. বলেন, আমার মনে পড়ে তিনি বলেছিলেন, আমাকে অন্যায় কাজে সাক্ষী করবেন না। আর আবু হারিয রহ. ইমাম শাবী রহ. সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আমি অন্যায় কাজে সাক্ষী হতে পারি না।

 

বুখারি হাদিস নং ২৪৭৫

হাদীস নং ২৪৭৫

আদম রহ……….ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার যুগের লোকেরাই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।

তারপর তাদের নিকটবর্তী যুগের লোকেরা, এরপর তাদের নিকটবর্তী যুগের লোকেরা। ইমরান রা. বলেন, আমি বলতে পারছি না, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর যুগের) পরে দুই যুগের কথা বলছিলেন, না তিন যুগের কথা।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পর এমন লোকদের আগমন ঘটবে, যারা খিয়ানত করবে, আমানতদারী রক্ষা করবে না। সাক্ষ্য দিতে না ডাকলেও তারা সাক্ষ্য দিবে। তারা মান্নত করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে না। তাদের মধ্যে মেদ বৃদ্ধি পাবে।

শাহাদাত অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৭৬

হাদীস নং ২৪৭৬

মুহাম্মদ ইবনে কাছীর রহ…….আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার যুগের লোকেরাই হচ্ছে সর্বোত্তম লোক, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, এরপর যার তাদের নিকটবর্তী যুগের।

এরপরে এমন সব লোক আসবে যারা কসম করার আগেই সাক্ষ্য দিবে, আবার সাক্ষ্য দেওয়ার আগে কসম করে বসবে। ইবরাহীম (নাখঈ) রহ. বলেন, আমাদেরকে সাক্ষ্য দিলে ও অঙ্গীকার করলে মারতেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৭৭ – মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ২৪৭৭

আবদুল্লাহ ইবনে মুনীর রহ……..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, (সেগুলো হচ্ছে) আল্লাহর সাথে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।

গুনদার, আবু আমির, বাহয ও আবদুস সামাদ রহ. শুবা রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় ওয়াহাব রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৭৮

হাদীস নং ২৪৭৮

মুসাদ্দাদ রহ……..আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তিনবার বললেন, আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহগুলো সম্পর্কে অবিহিত করব না? সকলে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! অবশ্য বলুন।

তিনি বললেন, (সেগুলো হচ্ছে) আল্লাহর সাথে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া। তিনি হেলান দিয়ে বসেছিলেন; এবার সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, শুনে রাখ, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, এ কথাটি তিনি বার বার বলতে থাকলেন।

এমনকি আমরা বলতে লাগলাম, আর যদি তিনি না বলতেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৭৯ – অন্ধের সাক্ষ্যদান, কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত দান, নিজে বিয়ে করা, কাউকে বিয়ে দেওয়া, ক্রয়-বিক্রয় করা, আযান দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে তাকে গ্রহণ করা আওয়াজে পরিচয় করা।

হাদীস নং ২৪৭৯

মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে মায়মূন রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে মসজিদে (কুরআন) পড়তে শুনলেন।

তিনি বললেন, আল্লাহ তাকে রহম করুন। সে আমাকে অমুক অমুক সূরার অমুক অমুক আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, যা আমি ভুলে গিয়েছিলাম।

আব্বাদ ইবনে আবদুল্লাহ রহ. আয়িশা রা. থেকে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করলেন।

সে সময় তিনি মসজিদে সালাত রত আব্বাদের আওয়াজ শুনতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আয়িশা ! এটা কি আব্বাদের কণ্ঠস্বর? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ আব্বাদকে রহম করুন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৮০

হাদীস নং ২৪৮০

মালিক ইবনে ইসমাঈল রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিলাল রা. রাত থাকতেই আযান দিয়ে থাকে।

সুতরাং ইবেন উম্মু মাকতুম রা. আযান দেওয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার করতে পার। অথবা তিনি বলেন, ইবনে উম্মু মাকতুমের আযান শোনা পর্যন্ত। ইবনে উম্মে মাকতুম রা. অন্ধ ছিলেন, ফলে ভোর হয়ে যাচ্ছে, লোকেরা একথা তাকে না বলা পর্যন্ত তিনি আযান দিতেন না।

বুখারি হাদিস নং ২৪৮১

হাদীস নং ২৪৮১

যিয়াদ ইবনে ইয়াহইয়া রহ……….মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে কিছু ‘কাবা’ (পোশাক বিশেষ) আসল।

আমার পিতা মাখরামা রা. তা শুনে আমাকে বললেন, আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে চল। সেখান থেকে তিনি আমাদের কিছু দিতেও পারেন। আমার পিতা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কণ্ঠস্বর চিনতে পারলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন একটি ‘কাবা’ সাথে করে বেরিয়ে এলেন, তিনি তার সৌন্দর্য বর্ণনা করছিলেন এবং বলছিলেন, আমি এটা তোমার জন্য লুকিয়ে রেখেছিলাম। আমি এটা তোমার জন্য লুকিয়ে রেখে ছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ২৪৮২ – মহিলাদের সাক্ষ্যদান।

হাদীস নং ২৪৮২

ইবনে আবু মারয়াম রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহিলাদের সাক্ষ্য কি পুরুষদের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? তারা (উপস্থিত মহিলারা) বলল, তাতো অবশ্যই অর্ধেক। তিনি বলেন, এটা মহিলাদের জ্ঞানের ত্রুটির কারণেই।

 

শাহাদাত অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৮৩ – গোলাম ও বাদীর সাক্ষ্য।

হাদীস নং ২৪৮৩

আবু আসিম রহ. ও আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….উকবা ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি উম্মু ইয়াহইয়া বিনতে আবু ইহাবকে বিয়ে করলেন। তিনি বলেন, তখন কালো বর্ণের এক দাসী এসে বলল, আমি তো তোমাদের দু’জনকে দুধপান করিয়েছি।

সে কথা আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উত্থাপন করলে তিনি আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।

আমি সরে গেলাম। পরে এসে বিষয়টি (আবার) তার কাছে উত্থাপন করলাম। তিনি তখন বললেন, (এ বিয়ে হতে পারে) কি ভাবে ? সে তো দাবী করছে যে, তোমাদের দু’জনকেই সে দুধ পান করিয়েছে। এরপর তিনি তাকে (উকবাকে) তার (উম্মু ইহাবের) সাথে বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করতে বললেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৮৪ – দুগ্ধদায়িনীর সাক্ষ্য।

হাদীস নং ২৪৮৪

আবু আসিম রহ………উকবা ইবনে হারিছ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলাকে আমি বিয়ে করলাম। কিন্তু আরেক মহিলা এসে বলল, আমি তো তোমাদের দু’জনকে দুগ্ধপান করিয়েছি, তখন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে (বিষয়টি) উল্লেখ করলাম।

তিনি বললেন, এমন কথা যখন বলা হয়েছে তখন আর তা (বিয়ে) কিভাবে সম্ভব ? তাকে তুমি পরিত্যাগ কর। অথবা তিনি অনুরূপ কিছু বললেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৮৫ – এক মহিলা অপর মহিলার সততা সম্পর্কে সাক্ষ্য দান।

হাদীস নং ২৪৮৫

আবু রাবী সুলাইমান ইবনে দাউদ রহ……… নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা রা.থেকে বর্ণিত, মিথ্যা অপবাদকারীরা যখন তাঁর সম্পর্কে অপবাদ রটনা করল এবং আল্লাহ তা থেকে তাঁর পরিত্রতা ঘোষণা করলেন।

রাবীগণ বলেন, আয়িশা রা. বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে বের হওয়ার ইচ্ছা করলে স্বীয় সহধর্মিণীদের মধ্যে কুরআ ঢালার মাধ্যমে সফর সঙ্গীণী নির্বাচন করতেন। তাদের মধ্যে যার নাম বেরিয়ে আসত তাকেই তিনি নিজের সঙ্গে নিয়ে যেতেন।

এক যুদ্ধে যাওয়ার সময় তিনি আমাদের মধ্যে কুরআ ঢাললেন, তাঁতে আমার নাম বেরিয়ে এল। তাই আমি তাঁর সঙ্গে (সফরে) বের হলাম। এটা পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পরের ঘটনা। আমাকে হাওদার ভিতরে সাওয়ারীতে উঠানো হত, আবার হাওদার ভিতরে (থাকা অবস্থায়) নামানো হত।

এভাবেই আমরা সফর করতে থাকলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ যুদ্ধ শেষ করে যখন প্রত্যাবর্তন করলেন এবং আমরা মদীনার কাছে পৌছে গেলাম তখন এক রাতে তিনি (কাফেলাকে) মনযিল ত্যাগ করার ঘোষণা দিলেন। উক্ত ঘোষণা দেওয়ার সময় আমি উঠে সেনাদলকে অতিক্রম করে গেলাম এবং নিজের প্রয়োজন সেরে হাওদায় ফিরে এলাম।

তখন বুকে হাত দিয়ে দেখি আযফার দেশীয় সাদা কালো পাথরের তৈরী আমার একটা মালা ছিড়ে পড়ে গেছে। তখন আমি আমার মালার সন্ধানে ফিরে গেলাম, এবং সন্ধান কার্য আমাকে দেরি করিয়ে দিল। ওদিকে যারা আমার হাওদা উঠিয়ে দিত তারা তা উঠিয়ে যে উটে আমি সাওয়ার হতাম, তার পিঠে রেখে দিল।

তাদের ধারণা ছিল যে, আমি হাওদাতেই আছি। তখনকার মেয়েরা হালকা পাতলা হত, মোটাসোটা হতা না। কেননা, খুব সামান্য খাবার তারা খেতে পেত। তাই হাওদায় উঠতে গিয়ে তার ভার তাদের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হল না। তদুপরি সে সময় আমি অল্প বয়স্ক কিশোরী ছিলাম এবং তখন তারা হাওদা উঠিয়ে উট হাঁকিয়ে রওনা হয়ে গেলো।

এদিকে সেনাদল চলে যাওয়ার পর আমি আমার মালা পেয়ে গেলাম, কিন্তু তাদের জায়গায় ফিরে এসে দেখি, সেখানে কেউ নেই। তখন আমি আমার জায়গায় এসে বসে থাকাই মনস্থ করলাম। আমার ধারণা ছিল যে, আমাকে না পেয়ে আবার এখানে তারা ফিরে আসবে। বসে থাকা অবস্থায় আমার দু’চোখে ঘুম নেমে এলে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।

সাফওয়ান ইবনে মুআত্তাল, যিনি প্রথমে সুলামী এবং পরে যাকওয়ানী হিসাবে পরিচিত ছিলেন, সেনাদলের পিছনে থেকে গিয়েছিলন। সকালের দিকে আমার অবস্থান স্থলের কাছাকাছি এসে পৌঁছলেন এবং একজন ঘুমন্ত মানুষের অবয়ব দেখতে পেয়ে আমার দিকে এগিয়ে এলেন।

পর্দার বিধান নাযিলের আগে তিনি আমাকে দেখিছিলেন। যে সময় তিনি উট বসাচ্ছিলেন, সে সময় তার ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ শব্দে আমি জেগে গেলাম। তিনি উটের সামনের পা চেপে ধরলে আমি তাঁতে সাওয়ার হলাম। আর তিনি আমাকে নিয়ে সাওয়ারী হাকিয়ে চললেন।

সেনাদল ঠিক দুপুরে যখন বিশ্রাম করছিল, তখন আমরা সেনাদলে পৌঁছলাম। সে সময় যারা ধ্বংস হওয়ার, তারা ধ্বংস হল। অপবাদ রটনায় যে নেতৃত্ব দিয়েছিল, সে হল (মুনাফিকের সরদার) আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল। আমরা মদীনায় উপনীত হলাম এবং আমি এসেই একমাস অসুস্থতায় ভুগলাম।

এদিকে কিছু লোক অপবাদ রটনাকারীদেরই রটনা নিয়ে চর্চা করতে থাকল। আমার অসুস্থার সময় এ বিষয়টি আমাকে সন্দিহান করে তুলল যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরফ থেকে সেই স্নেহ আমি অনুভব করছিলাম না, যা আমার অসুস্থতার সময় সচারাচর আমি অনুভব করতাম। তিনি শুধু ঘরে প্রবেশ করে সালাম দিয়ে বলতেন কেমন আছ?

 

শাহাদাত অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

আমি সে বিষয়ের কিছুই জানতাম না। শেষ পর্যন্ত খুব দুর্বল হয়ে পড়লাম। (একরাতে) আমি ও উম্মু মিসতাহ প্রয়োজন সারার উদ্দেশ্যে ময়দান বের হলাম। আমরা রাতেই শুধু সে দিকে যেতাম। এ আমাদের ঘরগুলোর নিকটবর্তী স্থানে পায়খানা বানানোর আগের নিয়ম। জঙ্গলে কিংবা দূরবর্তী স্থানে প্রয়োজন সারার ব্যাপারে আমাদের অবস্থাটা প্রথম যুগের আরবদের মতই ছিল।

যাই হোক, আমি এবং উম্মু মিসতাহ বিনতে আবু রূহম হেটে চলছিলাম। ইত্যবসরে সে তার চাদরে পা জড়িয়ে হোচট খেল এবং (পড়ে গিয়ে) বলল মিসতাহ এর জন্য দুর্ভোগ। আমি তাকে বললাম, তুমি খুব খারাপ কথা বলেছ। বদর যুদ্ধে শরীক হয়েছে, এমন এক লোককে তুমি অভিসাপ দিচ্ছ ! সে বলল, হে সরলমনা !

(তোমার সম্পর্কে) যে সব কথা তারা উঠিয়েছে, তা কি তুমি শুনোনি? এরপর অপবাদ রটনাকারীদেরই সব রটনা সম্পর্কে সে আমাকে অবহিত করল। তখন আমার রোগের উপর রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পেল। আমি ঘরে ফিরে আসার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, কেমন আছো?

আমি বললাম, আমাকে আমার পিতা-মাতার কাছে যাওয়অর অনুমতি দিন। তিনি (আয়িশা রা.) বলেন, আমি তখন তাদের (পিতা-মাতার) কাছ থেকে এ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাচ্ছিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অনুমতি দিলেন। আমি আমার পিতা-মাতার কাছে গেলাম।

তারপর আমি মাকে বললাম, লোকেরা কি বলাবলি করে? তিনি বললেন, বেটি ব্যাপারটাকে নিজের জন্য হালকাভাবেই গ্রহণ কর। আল্লাহর কসম ! এমন সুন্দরী নারী খুব কমই আছে, যাকে তার স্বামী ভালোবাসে আর তার একাধিক সতীনও আছে ; অথচ ওরা তাকে উত্ত্যক্ত করে না। আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ !

লোকেরা সত্যি তবে এসব কথা রটিয়েছে? তিনি বলেন, ভোর পর্যন্ত সে রাত আমার এমনভাবে ভোর হল। পরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহীর বিলম্ব দেখে আপন স্ত্রীকে বর্জনের ব্যাপারে ইবনে আবু তালিব ও উসামা ইবনে যায়েদকে ডেকে পাঠালেন।

যাই হোক ; উসামা পরিবারের জন্য তাঁর ভালোবাসার প্রতি লক্ষ্য করে পরামর্শ দিতে গিয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আল্লাহর কসম (তাঁর সম্পর্কে) ভালো ছাড়া অন্য কিছু আমরা জানি না, আর আলী ইবনে আবু তালিব রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! কিছুতেই আল্লাহ আপনার পথ সংকীর্ণ করেননি।

তাকে ছাড়া আরো অনেক মহিলা আছে। আপনি না হয় বাদীকে জিজ্ঞাসা করুন সে আপনাকে সত্য কথা বলবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বারীরাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন। হে বারীরা ! তুমি কি তার মধ্যে সন্দেহজনক কিছু দেখতে পেয়েছ?

বারীরা বলল, আপনাকে যিনি সত্যসহ পাঠিয়েছেন, তাঁর কসম করে বলছি, না তেমন কিছু দেখিনি, এই একটি অবস্থায়ই দেখেছি যে, তিনি অল্পবয়স্কা কিশোরী। আর তাই আটা-খামীর করতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

সেই ফাঁকে বকরী এসে তা খেয়ে ফেলে। সে দিনই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুলের ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচার উপায় জিজ্ঞাসা করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার পরিবারকে কেন্দ্র করে যে লোক আমাকে জ্বালাতন করেছে, তার মুকাবিলায় কে প্রতিকার করবে?

আল্লাহর কসম, আমি তো আমার স্ত্রী সম্পর্কে ভালো ছাড়া অন্য কিছু জানি না। আর এমন ব্যক্তিকে জড়িয়ে তারা কথা তুলেছে, যার সম্পর্কে ভালো ছাড়া অন্য কিছু আমি জানি না আর সে তো আমার সাথে ছাড়া আমার ঘরে কখনও প্রবেশ করত না।

তখন সাদ (ইবনে মুআয রা.) দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আল্লাহর কসম ! আমি তার প্রতিকার করব। যদি সে আউস গোত্রের কেউ হয়ে থাকে, তাহলে তার গর্দান উড়িয়ে দিব; আর যদি সে আমাদের খাযরাজ গোত্রীয় ভাইদের কেউ হয়, তাহলে আপনি তার ব্যাপারে আমাদের নির্দেশ দিবেন, আমরা আপনার নির্দেশ পালন করব।

খাযরাজ গোত্রপতি সাদ ইবনে উবাদা রা. তখন দাঁড়িয়ে গেলেন। এর আগে তিনি ভালো লোকই ছিলেন। আসলে গোত্রপ্রীতির তাকে পেয়ে বসেছিল। তিনি বললেন, তুমি মিথ্যা বলছ।

আল্লাহর কসম ! তুমি তাকে হত্যা করতে পারবে না, সে শক্তি তোমার নেই। তখনি উসায়িদ ইবনুল হুযাইর রা. দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, তুমিই মিথ্যা বলছ। আল্লাহর কসম ! আমরা অবশ্যই তাকে হত্যা করে ছাড়ব। আসলে তুমি একজন মুনাফিক। তাই মুনাফিকদের পক্ষ হয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়েছ।

এরপর আউস ও খাজরাজ উভয় গোত্রই উত্তেজিত হয়ে উঠল। এমনকি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে থাকা অবস্থায়ই তারা উদ্যত হল। তখন তিনি নেমে তাদের চুপ করালেন। এতে সবাই শান্ত হল আর তিনিও নীরবতা অবলম্বন করলেন।

আয়িশা রা. বলেন, সেদিন সারাক্ষণ আমি কাঁদলাম, চোখের পানি আমর শুকালাম এবং ঘুমের সামান্য পরশও পেলাম না। আমার পিতা-মাতা আমার পাশে পাশেই থাকলেন। পুরো রাত দিন আমি কেঁদেই কাটালাম। আমার মনে হল, কান্না বুঝি আমার কলিজা বিদীর্ণ করে দিবে।

তিনি বলেন, তারা (পিতা-মাতা) উভয়ে আমার কাছেই বসা ছিলেন, আর আমি কাঁদছিলাম। ইতিমধ্যে এক আনাসারী মহিলা ভিতরে আসার অনুমতি চাইল। আমি তাকে অনুমতি দিলাম। সেও আমার সঙ্গে বসে কাঁদতে শুরু করল।

আমরা এ অবস্থায় থাকতেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করে (আমার কাছে) বসলেন, অথচ যে দিন থেকে আমার সম্পর্কে অপবাদ রটানো হয়েছে। সেদিন থেকে তিনি আমার কাছে বসেননি। এর মধ্যে একমাস কেটে গিয়েছিল। অথচ আমার সম্পর্কে তার কাছে কোন ওয়াহী নাযিল হল না।

তিনি বলেন, এরপর হামদ ও সানা পাঠ করে তিনি বললেন, হে আয়িশা ! তোমার সম্পর্কে এ ধরনের কথা আমার কাছে পৌছেছে। তুমি নির্দোষ হলে আল্লাহ অবশ্যই তোমার নির্দোষিতার ঘোষণা করবেন। আর যদি তুমি কোন গুনাহ জড়িয়ে গিয়ে থাক, তাহলে আল্লাহর কাছে তাওবা ও ইসতিগফার কর।

কেননা, বান্দা নিজের পাপ স্বীকার করে তাওবা করলে আল্লাহ তাওবা কবুল করেন। তিনি যখন তাঁর বক্তব্য শেষ করলেন, তখন আমর অশ্রু বন্ধ হয়ে গেল। এমনকি এক বিন্দু অশ্রুও আমি অনুভব করলাম না। আমার পিতাকে বললাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার তরফ থেকে জওয়াব দিন।

তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, আমি বুঝে উঠতে পারি না, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কি বলব? আমি তখন অল্প বয়স্কা কিশোরী। কুরআনও খুব বেশী পড়িনি।

তবুও আমি বললাম, আল্লাহর কসম ! আমার জানতে বাকী নেই যে, লোকেরা যা রটাচ্ছে, তা আপনারা শুনতে পেয়েছেন এবং আপনাদের মনে তা বসে গেছে, ফলে আপনারা তা বিশ্বাস করে নিয়েছেন। এখন যদি আমি আপনাদের বলি যে, আমি নিষ্পাপ আর আল্লাহ জানেন, আমি অবশ্যই নিষ্পাপ, তবু আপনারা আমার সে কথা বিশ্বাস করবেন না।

আর যদি আপনাদের কাছে কোন বিষয় আমি স্বীকার করি, অথচ আল্লাহ জানেন আমি নিষ্পাপ তাহলে অবশ্যই আপনারা আমাকে বিশ্বাস করে নিবেন। আল্লাহর কসম, ইউসুফ আ.-এর পিতার ঘটনা ছাড়া আমি আপনাদের জন্য কোন দৃষ্টান্ত খুজে পাচ্ছি না।

যখন তিনি বলেছিলেন, পূর্ণ ধৈর্য ধারণই আমার জন্য শ্রেয়। আর তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্যকারী। এরপর আমি আমার বিছানায় পার্শ্ব পরিবর্তন করে নিলাম। এটা আমি অবশ্যই আশা করছিলাম যে, আল্লাহ আমাকে নির্দোষ ঘোষণা করবেন।

কিন্তু আল্লাহর কসম ! এ আমি ভাবিনি যে, আমার ব্যাপারে কোন ওয়াহী নাযিল হবে। কুরআনে আমার ব্যাপারে কোন কথা বলা হবে, এ বিষয়ে আমি নিজেকে উপযুক্ত মনে করি না। তবে আমি আশা করছিলাম যে, নিদ্রায় আল্লাহর রাসূল এমন কোন স্বপ্ন দেখবেন, যা আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করবে।

কিন্তু আল্লাহর কসম ! তিনি তাঁর আসন ছেড়ে তখনও উঠে যাননি এবং ঘরের কেউ বেরিয়েও যায়নি, এরই মধ্যে তাঁর উপর ওয়াহী নাযিল হওয়া শুরু হয়ে গেল এবং তিনি যে রূপ কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হতেন, সেরূপ অবস্থার সম্মুখীন হন। এমনকি সে মুহূর্তে শীতের দিনেও তার শরীর থেকে মুক্তার ন্যায় ফোটা ফোটা ঘাম ঝরে পড়ত।

যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ওয়াহীর সে অবস্থা কেটে গেল, তখন তিনি হাসছিলেন। আর প্রথমে যে বাক্যটি তিনি উচ্চারণ করলেন, তা ছিল এই যে, আমাকে বললেন, হে আয়িশা ! আল্লাহর প্রশংসা কর। কেননা, তিনি তোমাকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন।

আমার মাতা তখন আমাকে বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যাও। (কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর) আমি বললাম, না আল্লাহর কসম ! আমি তাঁর কাছে যাব না এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো প্রশংসাও করব না।

আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেন, যখন আমার সাফাই সম্পর্কে নাযিল হল তখন আবু বকর রা. সিদ্দীক রা. বললেন, আল্লাহর কসম ! নিকটাত্মীয়ার কারণে মিসতাহ ইবনে উসাসার জন্য তিনি যা খরচ করতেন, আয়িশা রা. সম্পর্কে এ ধরনের কথা বলার পর মিসতার জন্য আমি আর কখনও খরচ করব না।

তখন আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করলেন : তোমাদের মধ্যে যারা নিয়ামতপ্রাপ্ত ও স্বচ্ছল, তারা যেন দান না করার কসম না করে…………আল্লাহ ক্ষমাশীল ও মেহেরবান। তখন আবু বকর রা. বললেন, আল্লাহর কসম ! আমি অবশ্যই চাই আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন। এরপর তিনি মিসতাহ-কে যা দিতেন, তা পুনরায় দিতে লাগলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়নাব বিনতে জাহাশকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি বললেন, হে যায়নাব ! (আয়িশা সম্পর্কে) তুমি কি জান? তুমি কি জান ? তুমি কি দেখছ?

তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি আমার কান, আমি আমার চোখের হিফাজত করতে চাই । আল্লাহর কসম তার সম্পর্কে ভালো ছাড়া অন্য কিছু আমি জানি না।

আয়িশা রা. বলেন, অথচ তিনিই আমার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন। কিন্তু পরহেযগারীর কারণে আল্লাহ তাঁর হিফাযত করেছেন। আবু রাবী রহ…..আয়িশা ও আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণানা করেছেন। ফুলাইছ রহ……..কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর রা. থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

শাহাদাত অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৮৬ – কারো নির্দোষ প্রমাণের জন্য একজনের সাক্ষীই যথেষ্ট।

হাদীস নং ২৪৮৬

মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ………..আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির প্রশংসা করল। তখন তিনি বললেন, তোমার জন্য আফসোস। তুমি তো তোমার সাথীর গর্দান কেটে ফেললে, তুমি তো তোমার সাথীর গর্দান কেটে ফেললে।

তিনি একথা কয়েকবার বললেন, এরপর তিনি বললেন, তোমাদের কেউ যদি তার (মুসলমান) ভাইয়ের প্রশংসা করতেই চায় তাহলে তার (এভাবে) বলা উচিত, অমুককে আমি এরূপ মনে করি, তবে আল্লাহই তার সম্পর্কে অধিক জানেন।

আর আল্লাহর প্রতি সোপর্দ না করে আমি কারো সাফাই পেশ করি না। তার সম্পর্কে ভালো কিছু জানা থাকলে বলবে, আমি তাকে এরূপ মনে করি।

বুখারি হাদিস নং ২৪৮৭ – প্রশংসার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন অপছন্দনীয়। যা জনে সে যেন তাই বলে।

হাদীস নং ২৪৮৭

মুহাম্মদ ইবনে সাব্বাহ রহ……..আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির প্রশংসা করতে শুনে বললেন, তোমরা তাকে ধ্বংস করে দিলে কিংবা (বারীর সন্দেহ) বলেছেন, তোমরা লোকটির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে ফেললে।

বুখারি হাদিস নং ২৪৮৮ – বাচ্চাদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া এবং সাক্ষ্যদান।

হাদীস নং ২৪৮৮

উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রঃ) …….. ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) এর কাছে তাকে (ইবন উমরকে) পেশ করলেন, তখন তিনি চৌদ্দ বছরের বালক।

(ইবন উমর বলেন) তখন তিনি আমাকে (যুদ্ধে গমনের) অনুমতি দেননি। পরে খন্দকের যুদ্ধে তিনি আমাকে পেশ করলেন এবং অনুমতি দিলেন। তখন আমি পনের বছরের যুবক।

নাফি (রঃ) বলেন, আমি খলীফা উমর ইবন আবদুল আযীযের কাছে গিয়ে এ হাদীস শোনালাম। (হাদীস শুনে) তিনি বললেন, এটাই হচ্ছে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত বয়সের সীমারেখা।

এরপর তিনি তার গভর্নরদেরকে লিখিত নির্দেশ পাঠালেন যে, (সেনাবাহিনীতে) যাদের বয়স পনেরতে উপনীত হয়েছে তাদের জন্য যেন ভাতা নির্ধারণ করেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৮৯

হাদীস নং ২৪৮৯

আলী ইবন আবদুল্লাহ (রঃ) ………. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাঃ) . বলেছেন, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের উপর জুমু’আ দিবসের গোসল কর্তব্য।

বুখারি হাদিস নং ২৪৯০ – শপথ করানোর পূর্বে বিচারক কর্তৃক বাদীকে জিজ্ঞাসা করা যে, তোমার কি কোন প্রমাণ আছে ?

হাদীস নং ২৪৯০

মুহাম্মদ (রঃ) ……. আবদুল্লাহ (ইবন মাস’উদ) (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের সম্পদ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মিথ্যা শপথ করবে, (কিয়ামতের দিন) সে আল্লাহর সংগে সাক্ষাৎ করবে এমন অবস্থায় যে আল্লাহ তার উপর অত্যন্ত অসন্তুষ্ট।

রাবী বলেন, তখন আশআস ইবন কায়স (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম। এ বর্ণনা আমার ব্যাপারেই। একখন্ড জমি নিয়ে (জনৈক) ইয়াহূদী ব্যক্তির সাথে আমার বিবাদ ছিল।

সে আমাকে অস্বীকার করলে আমি তাকে নাবী (সাঃ) . এর কাছে হাযির করলাম। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) আমাকে বললেন, তোমার কি কোন প্রমাণ আছে ! আসআস (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, না (কোন প্রমাণ নেই।) তখন তিনি (উক্ত ইয়াহূদীকে) বললেন, তুমি কসম কর।

আশআস (রাঃ) বলেন, (একথা শুনে) আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ্ ! তবে তো সে (মিথ্যা) কসম করে আমার সম্পদ আত্মসাত করে ফেলবে।

আশআস (রাঃ) বলেন, তখন আল্লাহ তা’আলা আয়াত নাযিল করেনঃ যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং নিজের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে….. (৩:৭৭)

বুখারি হাদিস নং ২৪৯১ – অর্থ-সম্পদ ও হদ্দের বেলায় বিবাদীর কসম করা।

হাদীস নং ২৪৯১

আবূ নু’আই (রঃ) ……. ইবন আবূ মূলায়কা (রঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবন আব্বাস (রাঃ) আমাকে লিখে জানিয়েছেন, নাবী (সাঃ) . ফায়াসালা দিয়েছেন যে, বিবাদীকে কসম করতে হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৪৯২ – পরিচ্ছেদ ১৬৬২

হাদীস নং ২৪৯২

উসমান ইবন আবূ শায়বা (রঃ) ….. আবদুল্লাহ (ইবন মাস’উদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে এমন (মিথ্যা) কসম করে, যা দ্বারা মাল প্রাপ্ত হয়।

সে (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর সংগে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট, তারপর আল্লাহ্ তা’আলা উক্ত বর্ণনার সমর্থনে আয়াত নাযিল করেনঃ যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে……… তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক (আযাব)।

(৩:৭৭) এরপর আশআস ইবন কায়স (রাঃ) আমাদের কাছে বেরিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, আবূ আবদুর রাহমান (রঃ) তোমাদের কি হাদীস শুনিয়েছেন আমরা তার বর্ণিত হাদীসটি তাকে শোনালাম। তিনি বললেন, তিনি (ইবন মাসউদ) ঠিকই বলেছেন। আমার ব্যাপারেই আয়াতটি নাযিল হয়েছে।

কিছু একটা নিয়ে আমার সাথে এক (ইয়াহূদী) ব্যক্তির বিবাদ ছিল। আমরা উভয়ে নাবী (সাঃ) . এর নিকট আমাদের বিবাদ উত্থাপন করলাম। তখন আমি বললাম, তবে তো সে মিথ্যা কসম করতে কোন দ্বিধা করবে না।

তখন নাবী (সাঃ) . বললেন, কেউ যদি এমন কসম করে, যার দ্বারা মাল প্রাপ্ত হয় এবং সে যদি উক্ত ব্যাপারে মিথ্যাবাদী হয়, তা হলে (কিয়ামতের দিন) সে আল্লাহর সংগে সাক্ষাৎ করবে এমন অবস্থায়, আল্লাহ তার উপরে অসন্তুষ্ট।

এরপর আল্লাহ তা’আলা এ বর্ণনার সমর্থনে আয়াত আয়াত নাযিল করেন। একথা বলে তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন।

শাহাদাত অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৯৩ – কেউ কোন দাবী করলে কিংবা (কারো প্রতি) কোন মিথ্যা আরোপ করলে তাকেই প্রমাণ করতে হবে এবং প্রমাণ সন্ধানের জন্য বের হতে হবে।

হাদীস নং ২৪৯৩

মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রঃ) ……. ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, হিলাল ইবন ইমাইয়া নাবী (সাঃ) . এর কাছে তার স্ত্রী বিরুদ্ধে শারীক ইবন সাহমা এর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ করলে নাবী (সাঃ) . বললেন, হয় তুমি প্রমাণ (সাক্ষী) পেশ করবে, নয় তোমার পিঠে (বেত্রাঘাতের) দন্ড আপতিত হবে।

সে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ্ আমাদের কেউ কি আপন স্ত্রী উপর অপর কোন পুুরুষকে দেখে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ছুটে যাবে? কিন্তু নাবী (সাঃ) . একই কথা (বার বার) বলতে থাকলেন, হয় প্রমাণ পেশ করবে, নয় তোমার পিঠে বেত্রাঘাতের দন্ড আপতিত হবে। তারপর তিনি লি’আন সংক্রান্ত হাদীস বর্ণনা করলেন।

আরও পড়ুনঃ

মদীনার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

সাওম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

সাওম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

তারাবীহর সালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

বন্ধক অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

 

মন্তব্য করুন