শাহাদাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

শাহাদাত অধ্যায়

শাহাদাত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

Table of Contents

শাহাদাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৯৪ – আসরের পর কসম করা।

হাদীস নং ২৪৯৪

আলী ইবন আবদুল্লাহ (রঃ) ……. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেন, তিন শ্রেণীর ব্যক্তির সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা কথা বলবেন না এবং (করুণার দৃষ্টিতে) তাদের প্রতি তাকাবেন না এবং তাদের পাপ মোচন করবেন না আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

প্রথম শ্রেণীর ব্যক্তি সে, যার কাছে অতিরিক্ত পানি রয়েছে রাস্তার পাশে, আর সে পানি থেকে মুসাফিরকে বঞ্চিত রাখে। আর এক শ্রেণীর ব্যক্তি সে, যে কারো আনুগত্যের বায়আত করে এবং একমাত্র দুনিয়ার গরযেই সে তার করে।

ফলে চাহিদা মাফিক তাকে দিলে সে অনুগত থাকে, আর না দিলে অনুগত থাকে না। আর এক শ্রেণীর ব্যক্তি সে যে আসরের পর কারো সাথে পণ্য নিয়ে দামদর করে এবং আল্লাহর নামে মিথ্যা হলফ করে বলে যে, সে ক্রয় করতে এত মূল্য দিয়েছে আর তা শুনে ক্রেতা কিনে নেয়।

শাহাদাত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৯৫ – যে স্থানে বিবাদীর উপর হলফ ওয়াজিব সেখানেই তাকে হলফ করানো হবে । একস্থান থেকে অন্যস্থানে নেওয়া হবে না।

হাদীস নং ২৪৯৫

মূসা ইবন ইসমাঈল (রঃ) ……. ইবন মাস’উদ (রাঃ) সূত্রে নাবী (সাঃ) . থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে (মিথ্যা) কসম করবে (কিয়ামতের দিন) সে আল্লাহর সংগে সাক্ষাৎ করাবে এমন অবস্থায় যে আল্লাহ তার প্রতি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট থাকবেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৯৬ – কতিপয় লোকজন কে কার আগে হলফ করবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করা।

হাদীস নং ২৪৯৬

ইসহাক ইবন নাসর (রঃ) …….. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদল লোককে নাবী (সাঃ) . হলফ করতে বললেন। তখন (কে কার আগে হলফ করবে এ নিয়ে) তাড়াহুড়া শুরু করে দিল। তখন তিনি কে (আগে) হলফ করবে, তা নির্ধারনের জন্য তাদের নামে লটারী করার নির্দেশ দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৪৯৭ – আল্লাহর বাণী : যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে (৩ : ৭৭)।

হাদীস নং ২৪৯৭

ইসহাক (রঃ) ……… আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক তার মালপত্র বাজারে এনে এবং হলফ করে বলল যে, এগুলো (খরিদ বাবদ) সে এত দিয়েছে, অথচ সে তত দেয়নি। তখন আয়াত নাযিল হলোঃ যারা নগণ্য মূল্যের বিনিময়ে আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং নিজের শপথ বিক্রি করে……..। ইবন আবূ আওফা (রাঃ) বলেন, (দাম চড়ানোর মতলবে) যে ধোকা দেয়, সে মূলতঃ সুদখোর ও খিয়ানতকারী।

বুখারি হাদিস নং ২৪৯৮

হাদীস নং ২৪৯৮

বিশর ইবন খালিদ (রঃ) …….. আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) নাবী (সাঃ) . থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি . বলেছেন, যে ব্যক্তি কারো অথবা তার ভাইয়ের অর্থ আত্মসাতের মতলবে মিথ্যা হলফ করবে, সে (কিয়ামতে) মহান আল্লাহর দেখা পাবে এমন অবস্থায় যে, তিনি তার উপর অত্যন্ত অসন্তুষ্ট।

অতঃপর আল্লাহ্ তা’আলা উক্ত হাদীসের সমর্থনে কুরআনে এই আয়াত নাযিল করলেন ঃ পর্যন্ত। যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে, আখিরাথে তাদের কোন অংশ নেই (৩ঃ৭৭)।

আর আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি (করুণার দৃষ্টিতে) তাকাবেন না এবং তাদেরকে (পাপ থেকে) বিশুদ্ধও করবেন না।

আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। পরে আশআস (রাঃ) আমার সংগে দেখা করে জিজ্ঞাসা করলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) আজ তোমাদের কি হাদীস শুনিয়েছেন? আমি বললাম, এই এই (হাদীস শুনিয়েছেন) তিনি বললেন, আমার ব্যাপারেই আয়াতটি নাযিল হয়েছে।

শাহাদাত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৪৯৯ – কিভাবে হলফ নেওয়া হবে?

হাদীস নং ২৪৯৯

ইসমাঈল ইবন আবদুল্লাহ (রঃ) ……. তালহা ইবন উবাদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) এর নিকট এসে তাকে ইসলাম (এক করণীয়) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লাগল।

তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বললেন, দিনে রাতে পাচ ওয়াক্ত সালাত। সে বলল, আমার উপর আরও কিছু ওয়াজিব আছে? তিনি বললেন, না, নেই। তবে নফল হিসাবে পড়তে পার।

তারপর রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বললেন, আর রমাযন মাসের সিয়াম। সে জিজ্ঞাসা করল, আমর উপর এ ছাড়া আরও কি ওয়াজিব আছে? তিনি বললেন, না, নেই। তবে নফল হিসাবে (সিয়াম) পালন করতে পার।

তারপর রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) তাকে যাকাতের কথাও বললেন; সে জানোতে চাইল, আমার উপর এ ছাড়া আরও কিছু ওয়াজিব আছে? তিনি বললেন, না, নেই; তবে নফল হিসাবে (সাদকা) করতে পার।

তারপর লোকটি এই বলে প্রস্থান করল, আল্লাহর কসম ! এতে আমি কোন কম বেশি করব না। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বললেন সত্য বলে থাকলে সে সফল হয়ে গেল।

বুখারি হাদিস নং ২৫০০

হাদীস নং ২৫০০

মূসা ইবন ইসমাঈল (রঃ) …….. আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাঃ) . বলেছেন, কারও হলফ করতে হলে সে যেন আল্লাহর নামেই হলফ করে, নতুবা চুপ করে থাকে।

বুখারি হাদিস নং ২৫০১ – হফল করার পর বাদী সাক্ষী উপস্থিত করলে।

হাদীস নং ২৫০১

আবদুল্লাহ ইবন মাসলাম (রঃ) …….. উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা আমার কাছে মামলা মোকদ্দমা নিয়ে আস।

আর তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ত প্রতিপক্ষের তুলনায় প্রমাণ (সাক্ষী) পেশ করার ব্যাপারে অধিক বাকপটু। তবে যেনে রেখ, বাকপটুতার কারণে যার অনুকূলে আমি তার ভাইয়ের প্রাপ্য হক ফায়সালা করে দেই, তার জন্য আসলে আমি জাহান্নামের অংশ নির্ধারন করে দেই। কাজেই, সে যেন তা গ্রহন না করে।

শাহাদাত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৫০২ – ওয়াদা পূরণ করার নির্দেশ দান।

হাদীস নং ২৫০২

ইবরাহীম ইবন হামযা (রঃ) ……. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ সুফিয়ান (রাঃ) আমাকে খবর দিয়েছেন যে, (রোম সম্রাট) হেরাক্লিয়াস তাকে বলেছিলেন, তোমাকে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি (নাবী (সাঃ) সাঃ) তোমাদের কি কি আদেশ করেন?

তুমি বললে যে, তিনি তোমাদেরকে সালাতের, সত্যবাদিতার, পবিত্রতার, ওয়াদা পূরণের ও আমানত আদায়ের আদেশ দেন। হিরাক্লিয়াস বললেন, এটাই (অবশ্যই) নাবী (সাঃ) গণের সিফাত (গুণাবলী)

বুখারি হাদিস নং ২৫০৩

হাদীস নং ২৫০৩

কুতায়বা ইবন সাঈদ (রঃ) ……….. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি বলতে গেলে মিথ্যা বলে, আমানত রাখলে (তাতে) খিয়ানত কর, আর ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে।

বুখারি হাদিস নং ২৫০৪

হাদীস নং ২৫০৪

ইবরাহীম ইবন মূসা (রঃ) …… জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) . এর ওয়াতের পর আবূ বকর (রাঃ) এর কাছে (রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ্ সাঃ) কর্তৃক নিয়োগকৃত বাহরাইনের শাসক) আলা ইবন হাযরামীর পক্ষ থেকে মালপত্র এসে পৌছল।

তখন আবূ বরক (রাঃ) ঘোষণা করলেন, নাবী (সাঃ) . এর যিম্মায় কারো কোন ঋন (পাওনা) থাকলে কিংবা তার পক্ষ থেকে কোন ওয়াদা থাকলে সে যেন আমাদের কাছে এসে তা নিয়ে যায়। জাবির (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) আমাকে এরূপ, এরূপ এবং এরূপ দান করার ওয়াদা করেছিলেন।

জাবির (রাঃ) তার দু’হাত তিনবার ছড়িয়ে দেখালেন। জাবির (রাঃ) বলেন, তখন তিনি (আবূ বকর) (রাঃ) আমার দু’হাতে গুণে গুণে পাচ শ দিলেন, আবার পাচ শ দিলেন, আবার পাচ’শ দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৫০৫

হাদীস নং ২৫০৫

মুহাম্মদ ইবন আব্দুর রাহীম (রঃ) ……. সাঈদ ইবন জুবায়র (রঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হীরাতের জনৈক ইয়াহূদী আমাকে প্রশ্ন করল, দুই মুদ্দতের কোনটি মূসা (আঃ) পূর্ণ করেছিলেন? আমি বললাম, আরবের কোন জ্ঞানীর কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা না করে আমি বলতে পারব না। পরে ইবন আব্বাসের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন, মূসা (আঃ) দীর্ঘতর ও উত্তর সীমাই পূর্ণ করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল . যা বলেন, তা করেন।

শাহাদাত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৫০৬ – সাক্ষী ইত্যাদির ক্ষেত্রে মুশরিকদের কিছু জিজ্ঞাসা করা হবে না।

হাদীস নং ২৫০৬

ইয়াহইয়া ইবন বুকায়র (রঃ)………. আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে মুসলিম সমাজ ! কি করে তোমরা আহলে কিতাবদের নিকট জিজ্ঞাসা কর?

অথচ আল্লাহ্ তার নাবী (সাঃ) র উপর যে, কিতাব অবর্তীণ করেছেন, তা আল্লাহ সম্পর্কিত নবতর তথ্য সম্বলিত, যা তোমরা তিলাওয়াত করছ এবং যার মধ্যে মিথ্যার কোন সংমিশ্রন নেই।

তদুপরি আল্লাহ তোমাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, আহলে কিতাবরা আল্লাহ যা লিখে দিয়েছিলেন, তা পরিবর্তন করে ফেলেছেন এবং নিজ হাতে সেই কিতাবের বিকৃতি সাধন করে তা দিয়ে তুচ্ছ মূল্যের উদ্দেশ্যে প্রচার করেছে যে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ।

তোমাদেরকে প্রদত্ত মহাজ্ঞান কি তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করার ব্যাপারে তোমাদের বাধা দিয়ে রাখতে পারে না ? আল্লাহর শপথ ! তাদের একজনকেও আমি কখনো তোমাদের উপর যা নাযিল হয়েছে সে বিষয়ে তোমাদের জিজ্ঞাসা করতে দেখিনি।

বুখারি হাদিস নং ২৫০৭ – জটিল বিষয়ে কুরআর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

হাদীস নং ২৫০৭

উমর ইবন হাফস ইবন গিয়াস (রঃ) …….. নু’মান ইবন বশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) . বলেছেন, আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখার ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করা এবং তা লংঘনকারী ব্যক্তির উপমা হল সেই যাত্রীদল, যারা কুর’আর মাধ্যমে এক নৌযানে নিজেদের স্থান নির্ধারণ করে নিল।

ফলে কারো স্থান হল এর নীচতলায় আর কারও হল উপরতলায়। যারা নীচতলায় ছিল তারা পানিনিয়ে উপর তালা লোকদের কাছ দিয়ে আসত। এতে তারা বিরক্তি প্রকাশ করল।

তখন এক লোক কুড়াল নিয়ে নৌযানের নীচের অংশে ফুটো করতে লেগে গেল। এ দেখে উপর তলার লোকজন তাকে এসে জিজ্ঞাসা করল তোমার হয়েছে কি? সে বলল, আমাদের কারণে তোমরা কষ্ট পেয়েছ।

অথচ আমারও পানি প্রয়োজন আছে। এ মুহুর্তে তারা যদি এর দু’হাত চেপে ধরে তাহলে তাকে যেমন রক্ষা করা হল তেমনি নিজেদেরও রক্ষা হল। আর যদি তাকে ছেড়ে দেয় তবে তাকে ধ্বংস করা হল এবং নিজেদেরও ধ্বংস করা হল।

শাহাদাত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৫০৮

হাদীস নং ২৫০৮

আবুল ইয়ামন (রঃ) …… উম্মুল আলা (রাঃ) নাুী একজন আনসারী মহিলা যিনি নাবী (সাঃ) . এর (হাতে) বায়আত হয়েছিলেন, তিনি বলেন, মুহাজিরদের বাসস্থান দানের জন্য আনসারগণ যখন কুর’আ নিক্ষেপ করলেন, তখন তাদের ভাগে উসমান উব্ন মাযউনের জন্য বাসস্থান দান নির্ধারিত হল।

উম্মুল আলা (রাঃ) বলেন, সেই থেকে উসমান ইবন মাযউন (রাঃ) আমাদের এখানে বসবাস করতে থাকেন। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তার সেবা শুশ্র“ষা করলাম।

পরে তিনি যখন মারা গেলেন এবং আমরা তাকে কাফন পরালাম, তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) আমাদের এখানে আসলেন। আমি (উসমান ইবন মাযউনকে লক্ষ্য করে) বললাম, হে আবূ সায়িব ! তোমার প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

তোমার সম্পর্কে আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ তোমাকে অবশ্য মর্যাদা দান করেছেন। নাবী (সাঃ) . তাকে বললেন, তোমাকে কে জানোাল যে, আল্লাহ তাকে মর্যাদা দান করেছেন।

আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ্ ! আমার পিতা মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আমি জানিনা। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম। উসমানের কাছে তো মৃত্যু এসে গেছে, আমি তো তার জন্য কল্যাণের আশা করি। আল্লাহর কসম ! আমি আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানিনা তার সাথে কি আচরণ করা হবে।

তিনি (উম্মুল আলা) বলেন, আল্লাহর কসম, একথার পরে কখনো আমি কাউকে পূত পবিত্র বর্ণনা করি না। সে কথা আমাকে চিন্তায় ফেলে দিল।

তিনি বলেন, পরে আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, উসমান (ইবন মাযউন রাঃ) এর জন্য একটা প্রস্রবণ প্রবহিত হচ্ছে। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) এর কাছে এসে তাকে সে খবর জানোালাম। তিনি বলেন, সেটা হচ্ছে তার নেক আমল।

বুখারি হাদিস নং ২৫০৯

হাদীস নং ২৫০৯

মুহাম্মদ মুকাতিল (রঃ) …….. আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) সফরের ইরাদা করলে তার স্ত্রীদের মাঝে কুর’আ নিক্ষেপ করতেন, যার নাম বের হত। তাকে সাথে নিয়েই তিনি সফরে বের হতেন।

তিনি স্ত্রীদের প্রত্যেকের জন্যই দিন রাত বন্টন করতেন। তবে সাওদা বিনত যাম’আ (রাঃ) তার ভাগের দিনরাত নাবী (সাঃ) . এর স্ত্রী আয়িশা (রাঃ) কে দান করে দিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) এর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তা করেছিলেন।

শাহাদাত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৫১০

হাদীস নং ২৫১০

ইসমাঈল (রঃ) ……… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেন, আযান ও প্রথম কাতারের মর্যাদা মানুষ যদি জানোত আর (প্রতিযোগিতার কারণে) কুর’আ নিক্ষেপ ছাড়া সে সুযোগ তারা না পেত, তাহলে কুর’আ নিক্ষেপ করত, তেমনি আগেভাগে জামা’আতে শরীক হওয়ার মর্যাদা যদি তারা জানোত তাহলে তারা সেদিকে ছুটে যেত।

অনুরূপভাবে ঈশা ও ফজরের জামা’আতে শরীক হওয়ার মর্যাদা যদি তারা জানোত তা হলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা তাতে হাযির হত।

আরও পড়ুনঃ

অংশীদারিত্ব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

মুকাতাব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

মন্তব্য করুন