যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ)

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

Table of Contents

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭৬৭

হাদীস নং ৩৭৬৭

আবু মামার রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন লোকজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ছেড়ে যেতে আরম্ভ করলেও আবু তালহা রা. ঢাল হাতে দাঁড়িয়ে তাকে আড়াল করে রাখলেন। আবু তালহা রা. ছিলেন সুদক্ষ তীরন্দাজ, ধনুক খুব জোরে টেনে তিনি তীর ছুড়তেন।

সেদিন (উহুদ যুদ্ধে) তিনি দুটি অথবা তিনটি ধনুক ভেঙ্গেছিলেন। সেদিন যে কেউ ভরা তীরদানী নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন তাকেই তিনি বলেছেন, তীরগুলো খুলে আবু তালহার সামনে রেখে দাও।

রাবী আনাস রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উচু করে যখনই শত্রু দের প্রতি তাকাতেন, তখনই আবু তালহা রা. বলতেন, আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আপনি মাথা উচু করবেন না।

হঠাৎ তাদের নিক্ষিপ্ত তীর আপনার শরীরে লেগে যেতে পারে। আপনার বক্ষ রক্ষা করার জন্য আমার বক্ষই রয়েছে (অর্থাৎ আপনার জন্য আমার জীবন কুরবান) (আনাস রা. বলেন) সেদিন আমি আয়েশা বিনতে আবু বকর এবং উম্মে সুলাইম রা.-কে দেখেছি, তাঁরা উভয়েই পায়ের কাপড় গুটিয়ে নিয়েছিলেন।

আমি তাদের পায়ের তলা দেখতে পেয়েছি। তারা মশক ভরে পিঠে বহন করে পানি আনতেন এবং (আহত) লোকদের মুখে ঢেলে দিতেন।

আবার চলে যেতেন এবং মশক ভরে পানি এনে লোকদের মুখে ঢেলে দিতেন। সেদিন আবু তালহা রা-এর হাত থেকে দু’বার অথবা তিনবার তরবারিটি পড়ে গিয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৪৬ – উহুদ যুদ্ধ।

হাদীস নং ৩৭৪৬

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের দিন বলেছেন, এই তো জিবরাঈল, তাঁর ঘোড়ার মাথায় হাত রেখে (লাগাম হাতে) এসে পৌঁছেছেন, তাঁর পরিধানে রয়েছে সমরাস্ত্র।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৪৭

হাদীস নং ৩৭৪৭

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাহীম রহ………..উকবা ইবনে আমির রা. থেকে বর্ণি, তিনি বলেন, আট বছর পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের শহীদদের জন্য (কবরস্থানে গিয়ে) এমনভাবে দোয়া করলেন যেমন কোন বিদায় গ্রহণকারী জীবিত ও মৃতদের জন্য দোয়া করেন।

তারপর তিনি (সেখান থেকে ফিরে এসে) মিম্বরে উঠে বললেন, আমি তোমাদের অগ্রে প্রেরিত এবং আমিই তোমাদের সাক্ষীদাতা। এরপর হাউযে কাউসারের পাড়ে তোমাদের সাথে আমার সাক্ষাত হবে।

আমার এ জায়গা থেকেই হাউযে কাউসার দেখতে পাচ্ছি। তোমরা শিরকে লিপ্ত হয়ে যাবে আমি এ আশংকা করি না। তবে আমার আশংকা হয় যে, তোমরা দুনিয়ার আরাম আয়েশে অত্যাধিক আকৃষ্ট হয়ে পড়ব। রাবী বরেন, আমার এ দেখাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শেষবারের মত দেখা।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭৪৮

হাদীস নং ৩৭৪৮

উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা রহ………বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ঐ দিন (উহুদ যুদ্ধের দিন) আমরা মুশরিকদের মুকাবিলায় অবতীর্ণ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ (ইবনে যুবাইর) রা. কে তীরন্দাজ বাহিনীর অধিনায়ক নিযুক্ত করে তাদেরকে (নির্ধারিত এক স্থানে) মোতায়েন করলেন এবং বললেন, যদি তোমরা আমাদেরকে দেখ যে, আমরা তাদের উপর বিজয় লাভ করেছি, তাহলেও তোমরা এখান থেকে সরবে না।

অথবা যদি তোমরা তাদেরকে দেখ যে, তারা আমাদের উপর জয় লাভ করেছে, তাহলেও তোমারা এই স্থান পরিত্যাগ করে আমাদের সহযোগিতার জন্য আসবে না। এরপর আমরা তাদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলে তারা পালাতে আরম্ভ করল। এমনি আমরা দেখতে পেলাম যে, মাহিলাগণ দ্রুত দৌড়ে পাহাড়ে আশ্রয় নিচ্ছে।

তারা বস্ত্র পায়ে গোছা থেকে টেনে তুলেছে, ফলে পায়ের অলংকারগুলো পর্যন্ত বেরিয়ে পড়ছে। এ সময় তারা (তীরন্দাজ বাহিনীর লোকেরা) বলতে লাগলেন এই গনীমত গনীমত ! তখন আবদুল্লাহ (ইবনে যুবাইর) রা. বললেন, তোমরা যেন এ স্থান না ছাড় এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তারা এ কথা অগ্রাহ্য করল। যখন তারা এ কথা অগ্রাহ্য করল, তখন তাদের রেখে ফিরিয়ে দেয়া হল এবং শহীদ হলেন তাদের সত্তর জন্য সাহাবী।

আবু সুফিয়ান একটি উটু স্থানে উঠে বলল, কাওমের মধ্যে মুহাম্মদ জীবিত আছে কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তার কোন উত্তর দিও না। সে আবার বলল, কাওমের মধ্যে ইবনে কুহাফা (আবু বকর) বেঁচে আছে কি?

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তার কোন জবাব দিও না। সে পুনরায় বলল, কাওমের মধ্যে ইবনুল খাত্তাব জীবিত আছে কি? তারপর সে বলল, এরা সকলেই নিহত হয়েছে। বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই জবাব দিত।

সময় উমর রা. নিজেকে সামলাতে না পেরে বললেন, হে আল্লাহর দুশমন, তুমি মিথ্যা কথা বলছ। যে জিনিসে তোমাকে লাঞ্ছিত করবে আল্লাহ বাকী রেখেছেন। আবু সুফিয়ান বলল, হুবালের জয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা তার উত্তর দাও। তারা বললেন, আমরা কি বলব?

তিনি বললেন, তোমরা বল الله أعلى وأجل لنا আল্লাহ সমুন্নত ও মহান। আবু সুফিয়ান বলল, العزى ولا عزى لكم আমাদের উযযা আছে, তোমাদের উযযা নেই।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তার জবাব দাও। তারা বললেন, আমরা কি জবাব দেব? তিনি বললেন, বল الله مولانا ولا مولى لكم আল্লাহ আমাদের অভিভাবক, তোমাদের তো কোন অভিভাবক নেই। পরিশেষে আবু সুফিয়ান বলল, আজকের দিন বদর যুদ্ধের বিনিময়ের দিন।

যুদ্ধ কূপ থেকে পানি উঠানোর পাত্রের মত (অর্থাৎ একবার এক হাতে আরেকবার অন্য হাতে) (যুদ্ধের ময়দানে) তোমরা নাক-কান কাটা কিছু সংখ্যক সাহাবী সকাল বেলা শরাব পান করেছিলেন। এরপর তাঁরা শাহাদত বরণ করেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৪৯

হাদীস নং ৩৭৪৯

আবদান রহ……….সাদ ইবনে ইবরাহীমের পিতা ইবরাহীম রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা.-এর নিকট কিছু খানা আনা হল। তিনি তখন রোযা ছিলেন।

তিনি বললেন, মুসআব ইবনে উমাইর রা. ছিলেন আমার থেকেও উত্তম ব্যক্তি। তিনি শাহাদত বরণ করেছেন। তাকে এমন একটি চাদরে কাফন দেওয়া হয়েছিল যে, তা দিয়ে মাথা ঢাকলে পা বের হয়ে যেত আর পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যেত।

রাবী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলছিলেন যে, হামযা রা. আমার চেয়েও উত্তম লোক ছিলেন। তিনি শাহাদত বরণ করেছেন। এরপর দুনিয়াতে আমাদেরকে যথেষ্ট সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দেয়া হয়েছে অথবা বলেছেন পর্যাপ্ত পরিমাণে দুনিয়ার ধন-সম্পদ দেওয়া হয়েছে।

আমার আশংকা হচ্ছে, হয়তো আমাদের নেকীর বদলা এখানেই (দুনিয়াতে) দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর কাঁদতে লাগলেন, এমনকি আহার্য পরিত্যাগ করলেন।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭৫০

হাদীস নং ৩৭৫০

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আপনি কি মনে করেন, আমি যদি শহীদ হয়ে যাই তাহলে আমি কোথায় অবস্থান করব?

তিনি বললেন, জান্নাতে। তারপর উক্ত ব্যক্তি হাতে খেজুরগুলো ছুড়ে ফেললেন, এরপর তিনি লড়াই করলেন। অবশেষে তিনি শহীদ হয়ে গেলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৫১

হাদীস নং ৩৭৫১

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ………খাব্বাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (মদীনায়) হিজরত করেছিলাম।

ফলে আল্লাহর কাছে আমাদের পুরস্কার সাব্যস্ত গিয়েছে। আমাদের কতক দুনিয়াতে পুরস্কার ভোগ না করেই অতীত হয়ে গিয়েছেন অথবা চলে গিয়েছেন।

মাসআব ইবনে উমাইর রা. তাদের মধ্যে একজন। তিনি উহুদ যুদ্ধে শাহাদত বরণ করেছেন। তিনি একটি ধারাদার পশমী বস্ত্র ব্যতীত আর কিছুই রেখে যাননি। এ দিয়ে আমরা তার মাথা ঢাকলে পা বরে হয়ে যেত এবং পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যেত।

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ কাপড় দিয়ে তার মাথা ঢেকে দাও এবং পায়ের উপর দাও ইযখির অথবা তিনি বলেছেন, ইযখির দ্বারা তার পা আবৃত কর। আমাদের কতক এমনও আছেন, যাদের ফল পেকেছে এবং তিনি এখন তা সংগ্রহ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৫২

হাদীস নং ৩৭৫২

হাসসান ইবনে হাসসান রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, (তিনি বলেছেন) তাঁর চাচা (আনাস ইবনে নযর রা.) বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন।

তিনি (আনাস ইবনে নাযর রা.) বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বপ্রথম যুদ্ধে তাঁর সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে পারিনি।

যদি আল্লাহ তায়ালা আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কোন যুদ্ধে শরীক করেন তাহলে অবশ্যই আল্লাহ দেখবেন, আমি কত প্রাণপণ চেষ্টা করে লড়াই করি। এরপর তিনি উহুদ যুদ্ধের দিন সম্মুখসমরে অবতীর্ণ হওয়ার পর লোকেরা পরাজিত হলে (পরাজিত হয়ে পলায়ন করতে আরম্ভ করলো) তিনি বললেন, হে আল্লাহ !

এ সমস্ত লোক অর্থাৎ মুসলমানগণ যা করলেন, আমি এর জন্য আপনার নিকট ওযরখাহী পেশ করছি এবং মুশরিকগণ যা করল তা থেকে আমি আমার সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করছি।

এরপর তিনি তলোয়ার নিয়ে অগ্রসর হলেন। এ সময় সাদ ইবনে মুআয রা.-এর সাথে তাঁর সাক্ষাত হল। তিনি বললেন, তুমি কোথায় যাচ্ছ হে সাদ? আমি উহুদের অপর প্রান্ত হতে জান্নাতের সুঘ্রাণ পাচ্ছি। এরপর তিনি (বীর বিক্রমে) যুদ্ধ করে শাহাদত বরণ করলেন।

তাকে চেনা যাচ্ছিল না। অবশেষে তাঁর বোন তাঁর শরীরে একটি তিল অথবা অঙ্গুলীর মাথা দেখে তাকে চিনলেন। তাঁর শরীরে আশিটিরও বেশী বর্শা, তরবারি ও তীরের আঘাত ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৫৩

হাদীস নং ৩৭৫৩

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………..যায়েদ ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা কুরআন মজীদকে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করার সময় সূরা আহযাবের একটি আয়াত আমি হারিয়ে ফেলি, যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পাঠ করতে শুনতাম।

তাই আমরা উক্ত আয়াতটি অনুসন্ধান করতে লাগলাম। অবশেষে তা পেলাম খুযায়মা ইবনে সাবিত আনসারী রা. -এর কাছে।

আয়াতটি হল : “মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে, তাদের কেউ কেউ শাহাদত বরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায়”। (৩৩: ২৩) এরপর এ আয়াতটিকে আমরা কুরআন মজীদের ঐ সূরাতে (আহযাবে) সংযুক্ত করে নিলাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৫৪

হাদীস নং ৩৭৫৪

আবুল ওয়ালীদ রহ………..যায়েদ ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলে যারা তাঁর সঙ্গে বের হয়েছিল, তাদের কিছুসংখ্যক লোক ফিরে এলো।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ তাদের সম্পর্কে দুদলে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একদল বললেন, আমরা তাদের সাথে লড়াই করব। অপর দল বললেন, আমরা তাদের সাথে লড়াই করব না।

এ সময় নাযিল হয় (নিম্নবর্ণিত আয়াতখানা) “তোমাদের কী হল যে, তোমরা মুনাফিকদের সম্বন্ধে দু’দল হয়ে গেলে, যখন তাদের কৃতকর্মের দরুন আল্লাহ তাদেরকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন”।

(৪: ৮৮) এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ (মদীনা) পবিত্র স্থান। আগুন যেমন রূপার ময়লা দূর করে দেয়, এমনিভাবে মদীনাও গুনাহকে দূর করে দেয়।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৫৫ – আল্লাহ তায়ালার বাণী: যখন তোমাদের মধ্যে দু’দলের সাহস হারাবার উপক্রম হয়েছিল এবং আল্লাহ উভয়ের সহায়ক ছিলেন। আল্লাহর প্রতিই যেন মুমিনগণ নির্ভর করে।

হাদীস নং ৩৭৫৫

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ…………জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যখন তোমাদের মধ্যে দুদলের সাহস হারাবার উপক্রম হয়েছিল’ আয়াতটি আমাদের সম্পর্কে তথা বনু সালিমা এবং বনু হারিসা সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।

আয়াতটি নাযিল না হোক এ কথা আমি চাইনি। কেননা এ আয়াতেই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আল্লাহ উভয় দলেরই সহায়ক।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭৫৬

হাদীস নং ৩৭৫৬

কুতাইবা রহ………..জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে জাবির ! তুমি বিয়ে করেছে কি?

আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, কেমন, কুমারী না অকুমারী? আমি বললাম, না (কুমারী নয়) অকুমারী। তিনি বললেন, কোন কুমারী মেয়েকে বিয়ে করলে না কেন? সে তো তোমার সাথে আমোদ-প্রমোদ করত। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার আব্বা উহুদের যুদ্ধে শাহাদত বরণ করেছেন।

এবং রেখে গেছেন নয়টি মেয়ে। এখন আমার নয় বোন। এ কারণে আমি তাদের সাথে তাদেরই মত একজন অনভিজ্ঞ মেয়েকে এনে একত্রিত করা পছন্দ করলাম না।

বরং এমন একটি মহিলাকে (বিয়ে করা পছন্দ করলাম) যে তাদের চুল আঁচড়িয়ে দিতে পারবে এবং তাদের দেখাশোনা করতে পারবে। (এ কথা শুনে) তিনি বললেন, ঠিক করেছ।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৫৭

হাদীস নং ৩৭৫৭

আহমদ ইবনে আবু সুরাইজ রহ………….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, উহুদ যুদ্ধের দিন তার পিতা ছয়টি মেয়ে ও কিছু ঋণ তার উপর রেখে শাহাদত বরণ করেন।

এরপর যখন খেজুর কাটার সময় এল তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললাম, আপনি জানেন যে, আমার পিতা উহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন এবং বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা রেখে গেছেন। এখন আমি চাই, ঋণদাতাগণ আপনাকে দেখুক।

তখন তিনি বললেন, তুমি যাও এবং বাগানের এক কোণে সব খেজুর কেটে জমা কর। (জাবির রা. বলেন) আমি তাই করলাম। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ডেকে আনলাম।

যখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন, সে মুহূর্তে যেন তারা আমার উপর আরো ক্ষেপে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের আচরণ দেখে বাগানের বড় গোলাটির চতুষ্পার্শ্বে তিনবার চক্কর দিয়ে এর উপর বসে বললেন, তোমার ঋণদাতাদেরকে ডাক।

(তারা এলে) তিনি তাদেরকে মেপে মেপে দিতে লাগলেন। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা আমার পিতার আমানত আদায় করে দিলেন।

আমিও চাচ্ছিলাম যে, একটি খেজুর নিয়ে আমি আমার বোনদের নিকট না যেতে পারলেও আল্লাহ তায়ালা যেন আমার পিতার আমানত আদায় করে দেন।

অবশ্য আল্লাহ তায়ালা খেজুরের সবকটি গোলাই অবশিষ্ট রাখলেন। এমনকি আমি দেখলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে গোলার উপর বসা ছিলেন তার থেকে যেন একটি খেজুরও কমেনি।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৫৮

হাদীস নং ৩৭৫৮

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমি আরো দুই ব্যক্তিকে দেখলাম, যারা সাদা পোশাক পরিহিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ হয়ে তুমুল লড়াই করছে। আমি তাদেরকে পূর্বেও কোনদিন দেখিনি এবং পরেও কোনদিন দেখিনি।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৫৯

হাদীস নং ৩৭৫৯

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য তাঁর তীরদানী থেকে তীর খুলে দিয়ে বললেন, তোমার জন্য আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক; তুমি তীর নিক্ষেপ করতে থাক।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭৬০

হাদীস নং ৩৭৬০

মুসাদ্দাদ রহ……….সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উদ্দেশ্যে তাঁর পিতা-মাতাকে এক সাথে উল্লেখ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৬১

হাদীস নং ৩৭৬১

কুতাইবা রহ……….সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের দিন আমার জন্য তাঁর পিতা-মাতা উভয়কে একসাথে উল্লেখ করেছেন।

এ কথা বলে তিনি বোঝাতে চান যে, তিনি লড়াই করছিলেন এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন, তোমার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোক।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৬২

হাদীস নং ৩৭৬২

আবু নুআইম রহ………আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাদ রা. ব্যতীত অন্য কারো জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর পিতা-মাতা (কুরবান হোক) এক সাথে উল্লেখ করতে আমি শুনিনি।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৬৩

হাদীস নং ৩৭৬৩

ইয়াসারা ইবনে সাফওয়ান রহ…………আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাদ ইবনে মালিক রা. ব্যতীত অন্য কারো জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর পিতা-মাতা (কুরবান হোক) এক সাথে উল্লেখ করতে আমি শুনিনি।

উহুদ যুদ্ধের দিন আমি তাকে বলতে শুনেছি, হে সাদ ! তুমি তীর নিক্ষেপ কর, আমার পিতা-মাতা তোমার জন্য কুরবান হোক।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৬৪

হাদীস নং ৩৭৬৪

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….আবু উসমান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে দিনগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধ করেছেন তার কোন এক সময়ে তালহা এবং সাদ রা. ব্যতীত (অন্য কেউ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন না। হাদীসটি আবু উসমান রা. তাদের উভয়ের নিকট থেকে শুনে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৬৫

হাদীস নং ৩৭৬৫

আবদুল্লাহ ইবনে আবুল আসওয়াদ রহ………..সায়েব ইবনে ইয়াযীদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুর রহমান ইবনে আউফ, তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ, মিকদাদ এবং সাদ রা.-এর সাহচর্য লাভ করেছি।

তাদের কাউকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনিনি, তবে কেবল তালহা রা.-কে উহুদ যুদ্ধ সম্পর্কে বর্ণনা করতে শুনেছি।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৬৬

হাদীস নং ৩৭৬৬

আবদুল্লাহ ইবনে আবু শায়বা রহ…………কায়েস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তালহা রা.-এর হাত অবশ (অবস্থায়) দেখেছি। উহুদ যুদ্ধের দিন তিনি এ হাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিরক্ষায় ব্যবহার করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৬৮

হাদীস নং ৩৭৬৮

উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ রহ…………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধে মুশরিকরা পরাজিত হয়ে গেলে অভিশপ্ত ইবলীস চীৎকার করে বলল, হে আল্লাহর বান্দারা, তোমাদের পেছন দিকে থেকে আরেকটি দল আসছে।

এ কথা শুনে তারা পেছনের দিকে ফিরে গেল। তখন অগ্রভাগ ও পশ্চাদ ভাগের মধ্যে পরস্পর সংঘর্ষ হল। এ পরিস্থিতিতে হুযায়ফা রা. দেখতে পেলেন যে, তিনি তাঁর পিতা ইয়ামন রা.-এর সাথে লড়াই করছেন।

তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর বান্দাগণ, (ইনি তো) আমার পিতা, আমার পিতা (তাকে আক্রমণ করবেন না)। রাবী বলেন, আল্লাহর কসম, এতে তাঁরা বিরত হলেন না। বরং তাকে হত্যা করে ফেললেন।

তখন হুযায়ফা রা. বললেন, আল্লাহ আপনাদেরকে ক্ষমা করে দিন। উরওয়া রা. বলেন, আল্লাহর কসম, আল্লাহর সাথে মিলনের (মৃত্যুর) পূর্ব পর্যন্ত হুযায়ফা রা.-এর মনে এ ঘটনার অনুতাপ বাকী ছিল।

 

বুখারি হাদিস নং ৩৭৬৯ – আল্লাহর বাণী : যেদিন দু’দল পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিল সেদিন তোমাদের মধ্য হতে যারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল, তাদের… (৩:১৫৫)

হাদীস নং ৩৭৬৯

আবদান রহ…………ইসমান ইবনে মাওহাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তি বায়তুল্লাহ এসে সেখানে একদল লোককে বসা অবস্থায় দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, এসব লোক কারা? তারা বললেন, এরা হচ্ছেন কুরাইশ গোত্রের লোক।

লোকটি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এ বৃদ্ধ লোকটি কে? উপস্থিত সকলেই বললেন, ইনি হচ্ছেন (আবদুল্লাহ) ইবনে উমর রা.। তখন লোকটি তাঁর (ইবনে উমর) কাছে গিয়ে বললেন, আমি আপনাকে কিছু কথা জিজ্ঞাসা করব, আপনি আমাকে বলেন দেবেন কি?

এরপর লোকটি বললেন, আমি আপনাকে এই ঘরের মর্যাদার কসম দিয়ে বলছি, উহুদ যুদ্ধের দিন উসমান ইবনে আফফান রা. পালিয়েছিলেন, এ কথা আপনি কি জানেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। লোকটি বললেন, তিনি বদরের রণাঙ্গনে অনুপস্থিত ছিলেন, যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি— এ কথাও কি আপনি জানেন?

তিনি বললেন, হ্যাঁ। লোকটি পুনরায় বললেন, তিনি বায়আতে রিদওয়ানেও অনুপস্থিত ছিলেন—- এ কথাও কি আপনি জানেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাবী বলেন, লোকটি তখন আল্লাহু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করল।

তখন ইবনে উমর রা. বললেন, এসো এখন আমি তোমাকে সব ব্যাপারে অবহিত করছি এবং তোমার প্রশ্নগুলোর উত্তর খুলে বলছি।

(১) উহুদের রণাঙ্গন থেকে তাঁর পালানোর ব্যাপারে সম্বন্ধে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। (২) বদর যুদ্ধে তাঁর অনুপস্থিত থাকার কারণ হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা (রুকাইয়া) তাঁর স্ত্রী ছিলেন।

তিনি ছিলেন অসুস্থ। তাই তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের মতই তুমি সাওয়াব লাভ করবে এবং গনীমতের অংশ পাবে।

(৩) বায়আতে রিদওয়ান থেকে তাঁর অনুপস্থিত থাকার কারণ হল এই যে, মক্কাবাসীদের নিকট উসমান ইবনে আফফান রা. থেকে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি থাকলে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা পাঠাতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ জন্য উসমান রা.-কে (মক্কা) পাঠালেন।

তাঁর মক্কা গমনের পরই বায়আতে রিদওয়ান সংঘটিত হয়েছিল। তাই (বায়আত গ্রহণের সময়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাতখানা অপর হাতের উপর রেখে বলেছিলেন, এটাই উসামানের হাত।

এরপর তিনি (আবদুল্লাহ ইবনে উমর) বললেন, এই হল উসমান রা.-এর অনুপস্থিতির মূল কারণ। এখন তুমি যাও এবং এ কথাগুলো মনে গেথে রেখ।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭৭০ – মহান আল্লাহর বাণী: স্মরণ কর, তোমরা যখন উপরের দিকে ছুটছিলে এবং পেছন দিকে ফিরে কারো প্রতি লক্ষ্য করছিলে না …

হাদীস নং ৩৭৭০

আমর ইবনে খালিদ রহ……….বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের দিন আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা.-কে পদাতিক বাহিনীর অধিনায়ক নিয়োগ করেছিলেন।

কিন্তু তারা পরাজিত হয়ে (মদীনার দিকে) ছুটে গিয়েছিলেন। এটাই হচ্ছে, রাসূল (সা.) এর তাদেরকে পেছনের দিকে থেকে ডাকা।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৭১ – আল্লাহর বাণী: তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দেবেন, এ বিষয়ে আপনার করণীয় কিছুই নেই। কারণ তারা যালিম।

হাদীস নং ৩৭৭১

ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ সুলামী রহ……….আবদুল্লাহ ইবন উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ফজরের নামাযের শেষ রাকাতে রুকূ থেকে মাথা উত্তোলন করে “সামিআল্লাহু লিমান হামীদা” বলার পর বলতে শুনেছেন,

হে আল্লাহ আপনি অমুক, অমুক এবং অমুকের উপর লানত বর্ষণ করুন, তখন আল্লাহ নাযিল করলেন, তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দেবেন, এ বিষয়ে আপনার করণীয় কিছুই নেই।

কারণ তারা যালিম। হানজালা রহ……..সালিম ইবনে আবদুল্লাহ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া, সুহাইল ইবনে আমর এবং হারিস ইবনে হিশামের জন্য বদদোয়া করতেন।

এ প্রেক্ষিতেই নাযিল হয়েছে নিম্নোক্ত আয়াতখানা। তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দেবেন, এ বিষয়ে আপনার করণীয় কিছুই নেই। কারণ তারা যালিম।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৭২ – উম্মে সালীতের আলোচনা।

হাদীস নং ৩৭৭২

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………….সালাবা ইবনে আবু মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার উমর খাত্তাব রা কতগুলো চাদর মদীনাবাসী মহিলাদের মধ্যে বন্টন করলেন।

পরে একটি সুন্দর চাদর অবশিষ্ট রয়ে গেল। তার নিকট উপস্থিত লোকদের একজন বলে উঠলেন, হে আমীরুল মুমিনীন ! এ চাদরখান আপনার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাতনী আলী রা-এর কন্যা উম্মে কুলসুম রা.-কে দিয়ে দিন।

উমর রা. বললেন, উম্মে সালীত রা. তার চেয়েও অধিক হকদার। উম্মে সালীত রা. আনসারী মহিলা। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছেন। উমর রা. বললেন, উহুদের দিন এ মহিলা আমাদের জন্য মশক ভরে পানি এনেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৭৩ – হামযা রা.-এর শাহাদত।

হাদীস নং ৩৭৭৩

আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..জাফর ইবনে আমর ইবনে উমাইয়া যামরী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উবায়দুল্লাহ ইবনে আদী ইবনে খিয়ার রহ-এর সাথে ভ্রমণে বের হলাম। আমরা যখন হিমস নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন উবায়দুল্লাহ রহ. আমাকে বললেন, ওয়াহশীর কাছে যেতে তোমার ইচ্ছা আছে কি?

আমরা তাকে হাযমা রা.-এর শাহাদত বরণ করার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব। আমি বললাম, হ্যাঁ যাব। ওয়াহশী তখন হিমস শহরে বসবাস করতেন।

আমরা তার সম্পর্কে (লোকদেরকে) জিজ্ঞাসা করলাম। আমাদেরকে বলা হল, ঐ তো তিনি তার প্রাসাদের ছায়ার মধ্যে পশম হীন মশকের মত স্থির হয়ে বসে আছেন। রাবী বলেন, আমরা গিয়ে তার থেকে অল্প কিছু দূরে থামলাম এবং তাকে সালাম করলাম। তিনি আমাদের সালামের উত্তর দিলেন।

জাফর রহ. বর্ণনা করেন, তখন উবায়দুল্লাহ রহ. তার মাথা পাগড়ী দ্বারা এমনভাবে আবৃত করে রেখেছিলেন যে, ওয়াহশী তার দুই চোখ এবং দুই পা ব্যতীত আর কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। এমতাবস্থায় উবায়দুল্লাহ রহ. ওয়াহশীকে লক্ষ্য করে বললেন, হে ওয়াহশী, আপনি আমাকে চিনেন কি?

রাবী বলেন, তিনি তখন তাঁর দিকে তাকালেন এবং এরপর বললেন, না আল্লাহর কসম! আমি আপনাকে চিনি না। তবে আমি এতটুকু জানিযে, আদী ইবনে খিয়ার উম্মে কিতাল বিনতে আবুল ঈসা নামক এক মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন।

মক্কায় তার একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করলে আমি তার দাই খোঁজ করছিলাম, তখন ঐ বাচ্চাকে নিয়ে তার মায়ের সাথে গিয়ে ধাত্রীমাতার কাছে তাকে সোপর্দ করলাম।

সে দিনের সে বাচ্চার পা দুটির মত যেন আপনার পা দুটি দেখতে পাচ্ছি। রাবী বলেন, তখন উবায়দুল্লাহ রহ. তার মুখের পর্দা সরিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হামযা রা.-এর শাহাদত সম্পর্কে আমাদেরকে খবর দেবেন কি?

তিনি বললেন, হ্যাঁ। বদর যুদ্ধে হামযা রা. তুআইমা ইবনে আদী ইবনে খিযারকে হত্যা করেছিলেন। তাই আমার মনিব যুবাইর ইবনে মুতঈম আমাকে বললেন, তুমি যদি আমার চাচার প্রতিশোধস্বরূপ হামযাকে হত্যা করতে পার তাহলে তুমি আযাদ।

রাবী বলেন, যে বছর উহুদ পাহাড় সংলগ্ন আইনাইন পাহাড়ের উপত্যকায় যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল সে যুদ্ধে আমি সকলের সাথে রওয়ানা হয়ে যাই।

এরপর লড়াইয়ের জন্য সকলেই সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালে (কাফির সৈন্যদলের মধ্য থেকে) সিবা নামক এক ব্যক্তি ময়দানে এসে বলল, দ্বন্দ্বযুদ্ধের জন্য কেউ প্রস্তুত আছ কি? ওয়াহশী বলেন, তখন হামযা ইবনে আবদুল মুত্তালিব রা. (বীর বিক্রমে) তার সামনে গিয়ে বললেন, হে মেয়েদের খতনাকারিণী উম্মে আনমারের পুত্র সিবা! তুমি কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে দুশমনী করছ?

রাবী বলেন, এরপর তিনি তার উপর প্রচন্ড আঘাত করলেন, যার ফলে সে অতীত দিনের মত বিলীন হয়ে গেল। ওয়াহশী বলেন, আমি হামযা রা.-কে কতল করার উদ্দেশ্যে একটি পাথরের নিচে আত্মগোপন ককরে ওত পেতে বসেছিলাম।

যখন তিনি আমার নিকটবর্তী হলেন তখন আমি আমার অস্ত্র দ্বারা এমন জোরে আঘাত করলাম যে, তার মূত্রথলি ভেদ করে নিতম্বের মাঝখান দিয়ে তা বেরিয়ে গেল।

ওয়াহশী বলেন, এটাই হল তাঁর শাহাদতের মূল ঘটনা। এরপর সবাই ফিরে এলে আমিও তাদের সাথে ফিরে এসে মক্কায় অবস্থান করতে লাগলাম। এরপর মক্কায় ইসলাম প্রসার লাভ করলে আমি তায়েফ চলে গেলাম।

কিছুদিনের মধ্যে তায়েফবাসীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে দূত প্রেরণের ব্যবস্থা করলে আমাকে বলা হল যে, তিনি দূতের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন না।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

তাই আমি তাদের সাথে রওয়ানা হলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে গিয়ে হাযির হলাম। তিনি আমাকে দেখে বললেন, তুমিই কি ওয়াহশী ?

আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমিই কি হাযমাকে হত্যা করেছিলে? আমি বললাম, আপনার কাছে যে সংবাদ পৌঁছেছে ব্যাপারটি তাই।

তিনি বললেন, আমার সামনে থেকে তোমার চেহারা কি সরিয়ে রাখতে পারে? ওয়াহশী বলেন, তখন আমি চলে আসলাম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ইন্তিকালের পর (নবুওয়াতের মিথ্যাদাবীদার) মুসায়লামাতুল কাযযাব আবির্ভূত হলে আমি বললাম, আমি অবশ্যই মুসায়লামার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হব এবং তাকে হত্যা করে হামযা রা.-কে হত্যা করার ক্ষতিপূরণ করব।

ওয়াহশী বলেন, তাই আমি লোকদের সাথে রওয়ানা করলাম। তার অবস্থা যা হওয়ার তাই হল। তিনি বর্ণনা করেন যে, এক সময় আমি দেখলাম যে, হালকা কালো বর্ণের উটের ন্যায় উস্কখুস্ক চুল বিশিষ্ট এক ব্যক্তি একটি ভাঙ্গা পাচীরের আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে।

তখন সাথে সাথে আমি আমার বর্শা দ্বারা তার উপর আঘাত করলাম। এবং তার বক্ষের উপর এমনভাবে বসিয়ে দিলাম যে, তা দু’কাধের মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে পড়ল।

এরপর আনসারী এক সাহাবী এসে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং তরবারি দ্বারা তার মাথার খুলিতে প্রচন্ড আঘাত করলেন।

আবদুল্লাহ ইবনে ফযল রহ. বর্ণনা করেছেন যে, সুলায়মান ইবনে ইয়াসির রহ. আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-কে বলতে শুনেছেন যে, (মুসায়লামা নিহত হলে) ঘরের ছাদে উঠে একটি বালিকা বলছিল, হায়, হায়, আমীরুল মুমিনীন (মুসায়লামা) কে একজন কালো ক্রীতদাস হত্যা করল।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৭৪ – উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার বর্ণনা।

হাদীস নং ৩৭৭৪

ইসহাক ইবনে নাসর রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর (ভাঙ্গা) দাঁতের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, যে সম্প্রদায় তাদের নবীর সাথে। এরূপ আচরণ করেছে তাদের প্রতি আল্লাহর গযব অত্যন্ত ভয়াবহ এবং যে ব্যক্তিকে আল্লাহর রাসূল আল্লাহর পথে (জিহাদরত অবস্থায়) হত্যা করেছে তার প্রতিও আল্লাহর গযব অত্যন্ত ভয়াবহ।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৭৫

হাদীস নং ৩৭৭৫

মাখলাদ ইবনে মালিক রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পথে হত্যা করেছে, তার জন্য আল্লাহর গযব ভীষণতর। আর যে সম্প্রদায় আল্লাহর নবীর চেহারাকে রক্তে রঞ্জিত করে দিয়েছে তাদের প্রতিও আল্লাহর গযব।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৭৬ – রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহত হওয়া

হাদীস নং ৩৭৭৬

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………….সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহত হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন।

উত্তরে তিনি বলেছেন, আল্লাহর কসম, সে সময় যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জখম ধুয়েছিলেন এবং যিনি পানি ঢালছিলেন তাদেরকে আমি খুব ভালভাবেই চিনি এবং কোন বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছিল এবং সম্পর্কেও আমি অবগত আছি। ঢালে করে পানি এনে ঢালছিলেন।

ফাতিমা রা. যখন দেখলেন যে, পানির দ্বারা রক্ত পড়া বন্ধ না হয়ে কেবল তা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন তিনি একখণ্ড চাটাই নিয়ে তা জ্বালিয়ে তার ছাই জখমের উপর লাগিয়ে দিলেন।

এতে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে গেল। এ ছাড়া সেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডান দিকের একটি দাঁত ভেঙ্গে গিয়েছিল। চেহারা মোবারক জখম হয়েছিল এবং এবং লৌহ শিরস্ত্রাণ ভেঙ্গে গিয়ে মাথায় বিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭৭৭

হাদীস নং ৩৭৭৭

আমর ইবনে আলী রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর গযব অত্যন্ত কঠোর ঐ ব্যক্তির জন্য, যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হত্যা করেছেন এবং যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারাকে রক্তে রঞ্জিত করেছে তার জন্যও আল্লাহর গযব অত্যন্ত ভয়াবহ।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৭৮ – যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছেন।

হাদীস নং ৩৭৭৮

মুহাম্মদ রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি উরওয়া রা.-কে সম্বোধন করে বললেন, হে ভাগ্নে জান? যখম হওয়ার পর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছেন, তাদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে চলে তাদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার।

উক্ত আয়াতটিতে যাদের কথা বলা হয়েছে তাদের মধ্যে তোমার পিতা যুবাইর রা. এবং (তোমার নানা) আবু বকর রা.-ও শামিল আছেন। উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বহু ক্ষয়ক্ষতি এবং দুঃখ-যাতনার সম্মুখীন হয়েছিলেন।

এ অবস্থায় (শত্রুসেনা) মুশরিকগণ চলে গেলে তিনি আশংকা করলেন যে, তারা আবারও ফিরে আসতে পারে। তিনি বললেন, কে আছ যে, তাদের পেছনে ধাওয়া করার জন্য যাবে।

এ আহবানে সত্তরজন সাহাবী সাড়া দিয়ে প্রস্তুত হলেন। উরওয়া রা. বলেন, তাদের মধ্যে আবু বকর ও যুবাইর রা.-ও ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৭৯ – যে সব মুসলমান উহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন হামযা ইবনে আবদুল মুত্তালিব, ইয়ামান, আনাস ইবনে নাসর এবং মুসআব ইবনে উমাইর রা.।

হাদীস নং ৩৭৭৯

আমর ইবনে আলী রহ………..কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন আরবের কোন জনগোষ্ঠীই আনসারদের তুলনায় অধিক সংখ্যক শহীদ এবং অধিক মর্যাদার হকদার হবে বলে আমরা জানি না।

কাতাদা রা. বলেন, আনাস ইবনে মালিক রা. আমাকে বলেছেন, উহুদ যুদ্ধের দিন আনসারদের সত্তর জন শহীদ হয়েছেন, বিরে মাউনার ঘটনায় তাদের সত্তর জন শহীদ হয়েছেন এবং ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন সত্তর জন।

রাবী বলেন যে, বিরে মাউনার ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় এবং ইয়ামামার যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল (মিথ্যা নবী) মুসায়লামাতুল কাযযাবের বিরুদ্ধে আবু বকর রা.-এর খিলাফত কালে।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৮০

হাদীস নং ৩৭৮০

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ…………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধে শহীদের দু’জনকে একই কাপড়ে (একই কবরে) দাফন করেছিলেন।

কাফনে জড়ানোর পর তিনি জিজ্ঞাসা করতেন, এদের মধ্যে কে কুরআন শরীফ সম্বন্ধে অধিক জ্ঞাত? যখন কোন একজনের প্রতি ইঙ্গিত করা হত তখন তিনি তাকেই কবরে আগে নামাতেন এবং বলতেন, কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য সাক্ষ্য হব।

সেদিন তিনি তাদেরকে তাদেরকে রক্তসহ দাফন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাদের জানাযার নামাযও আদায় করা হয়নি এবং তাদেরকে গোসলও দেওয়া হয়নি।

(অন্য সনদে) আবুল ওয়ালী রহ………..জাবির রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমার পিতা শাহাদত বরণ করার পর (তার শোকে) আমি কাঁদতে লাগলাম এবং বারবার তার চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে দিচ্ছিলাম।

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ আমাকে এ থেকে বারণ করছিলেন। তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এ ব্যাপারে) আমাকে নিষেধ করেননি।

অধিকন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবদুল্লাহর ফুফুকে বলেছেন) তোমরা তার জন্য কাঁদছ! অথচ জানাযা না উঠানো পর্যন্ত ফেরেশতারা নিজেদের ডানা দিয়ে তাঁর উপর ছায়া বিস্তার করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৮১

হাদীস নং ৩৭৮১

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ…………আবু মূসা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি একখানা তরবারি নাড়া দিলাম, অমনি এর মধ্যস্থলে ভেঙ্গে গেল।

(আমি বুঝতে পারলাম) এটা উহুদ যুদ্ধে মুমিনদের উপর আগত বিপদেরই প্রতিচ্ছবি ছিল। এরপর আমি তরবারিটিকে পুনারায় নাড়া দিলাম। এতে তার পূর্বের থেকেও অধিক সুন্দর হয়ে গেল।

এর অর্থ হল (পরবর্তীকালে) মুমিনদের বিজয় লাভ ও তাদের একতাবদ্ধ হওয়া এবং স্বপ্নে আমি একটি গরুও দেখেছিলাম। উহুদ যুদ্ধে মুমিনদের শাহাদত বরণ করাই হচ্ছে এর তাবীর। আল্লাহর প্রতিদান অতি উত্তম বা আল্লাহর সকল কাজ কল্যাণময়।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭৮২

হাদীস নং ৩৭৮২

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ………. খাব্বাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হিজরত করেছিলাম। এতে আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা। অতএব আল্লাহর কাছে আমাদের প্রতিদিন নির্ধারিত হয়ে আছে।

আমাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ অতিবাহিত হয়ে গিয়েছেন অথবা (রাবী বলেছেন) কেউ চলে গিয়েছেন। অথচ পার্থিব প্রতিদান থেকে তিনি কিছুই ভোগ করতে পারেননি।

মুসআব ইবনে উমাইর রা. হলেন তাদের মধ্যে একজন। উহুদ যুদ্ধের দিন তিনি শাহাদত বরণ করেছেন। একখান মোটা চাদর ব্যতীত তিনি আর কিছুই রেখে যাননি।

এ দ্বারা আমরা তাঁর মাথা ঢাকলে পা দু’খানা বেরিয়ে যেত এবং পা দু’খানা ঢাকলে মাথা বেরিয়ে যেত। (এ দেখে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, এ কাপড় দ্বারা তার মাথা ঢেকে দাও এবং উভয় পা ইযখির (এক প্রকার ঘাস) দ্বারা আবৃত করে দাও।

অথবা বললেন, (রাবীর সন্দেহ) তাঁর উভয় পায়ের উপর ইযখির দিয়ে দাও। আর আমাদের মধ্যে কেউ এমনও আছেন, যার ফল উত্তমরূপে পেকেছে, এখন তিনি তা সংগ্রহ করছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৮৩ – উহুদ পাহাড় আমাদেরকে ভালবাসে।

হাদীস নং ৩৭৮৩

নাসর ইবনে আলী রহ………..কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস রা.-এর নিকট থেকে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উহুদ পাহাড়ের দিকে ইঙ্গিত করে) বলেছেন, এ পাহাড় আমাদেরকে ভালবাসে এবং আমরাও একে ভালবাসি।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৮৪

হাদীস নং ৩৭৮৪

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে উহুদ পাহাড় পরিলক্ষিত হলে তিনি বললেন, এ পাহাড় আমাদেরকে ভালবাসে এবং আমরাও একে ভালবাসি।

হে আল্লাহ ! ইবরাহীম আ. মক্কাকে হরম শরীফ ঘোষণা দিয়েছেন এবং আমি দুটি কংকরময় স্থানের মধ্যবর্তী জায়গাকে (মদীনাকে) হরম শরীফ ঘোষণা দিচ্ছি।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৮৫

হাদীস নং ৩৭৮৫

আমর ইবনে খালিদ রহ…………উকবা রা. থেকে বর্ণিত যে, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মদীনা থেকে) রেব হয়ে (উহুদ প্রান্তরে গিয়ে) উহুদের শহীদগণের জন্য জানাযার নামাযেরও মত নামায আদায় করলেন।

এরপর মিম্বরের দিকে ফিরে এসে বললেন, আমি তোমাদের অগ্রগামী ব্যক্তি এবং আমিই তোমাদের সাক্ষ্যদাতা। আমি এ মুহূর্তেই আমার হাউয (কাউসার) দেখতে পাচ্ছি।

আমাকে পৃথিবীর ধন ভাণ্ডারের চাবি দেওয়া হয়েছে অথবা বললেন, (রাবীর সন্দেহ) আমাকে পৃথিবীর চাবি দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহর কসম, আমার ইন্তিকালের পর তোমরা শিরকে লিপ্ত হবে— আমার এ ধরণের কোন আশংকা নেই। তবে আমি আশংকা করি যে, তোমরা পৃথিবীর ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে পড়বে।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭৮৬ – রাজী, রিল, যাকওয়ান, বিরে মাউনার যুদ্ধ এবং আযাল, কারাহ, আসিম ইবনে সাবিত, খুবাইব রা.ও তার সঙ্গীদের ঘটনা।

হাদীস নং ৩৭৮৬

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মুশরিকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য) আসিম ইবনে উমর ইবনে খাত্তাব রা.-এর নানা আসিম ইবনে সাবিত আনসারী রা.-এর নেতৃত্বে একটি গোয়েন্দা দল কোথাও প্রেরণ করলেন।

যেতে যেতে তারা উসফান ও মক্কার মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছলে হুযায়ল গোত্রের একটি শাখা বনী লিহইয়ানের নিকট তাদের আগমনের কথা জানিয়ে দেওয়া হল। এ সংবাদ পাওয়ার পর বনী লিহইয়ানের প্রায় একশ তীরন্দাজ সমভিব্যাহারে তাদের প্রতি ধাওয়া করল।

দলটি তাদের (মুসলিম গোয়েন্দা দলের) পদচিহ্ন অনুসরণ করে এমন এক স্থানে গিয়ে পৌঁছল, যে স্থানে অবতরণ করে সাহাবীগণ খেজুর খেয়েছিলেন তারা সেখানে খেজুরের আটি দেখতে পেল যা সাহাবীগণ মদীনা থেকে পাথেয়রূপে এনেছিলেন।

তখন তারা বলল, এগুলো তো ইয়াসরিবের খেজুর (এর আটি)। এরপর তারা পদচিহ্ন ধরে খুজতে খুজতে শেষে পর্যন্ত তাদেরকে ধরে ফেলল।

আসিম ও তাঁর সাথীগণ বুঝতে পেরে ফাদফাদ নামক টিলায় উঠে আশ্রয় নিলেন। এবার শত্রু দল এসে তাদেরকে ঘিরে ফেলল এবং বলল, আমরা তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যদি তোমরা নেমে আস তাহলে আমরা তোমাদের একজনকেও হত্যা করব না।

আসিম রা. বললেন, আমি কোন কাফেরের প্রতিশ্রুতিতে আশ্বস্ত হয়ে এখান থেকে অবতরণ করব না। হে আল্লাহ আমাদের এ সংবাদ আপনার রাসূলের নিকট পৌঁছিয়ে দিন।

এরপর তারা মুসলিম গোয়েন্দা দলে প্রতি আক্রমন করল এবং তীর বর্ষণ করতে শুরু করল। এভঅবে তারা আসম রা.-সহ সাতজনকে তীর নিক্ষেপ করে শহীদ করে দিল। এখন শুধু বাকী রইলেন খুবাইর রা. যায়েদ রা. এবং অপর একজন (আবদুল্লাহ ইবনে তারিক) সাহাবী রা.।

পুনরায় তারা তাদেরকে ওয়াদা দিল। এই ওয়াদায় আশ্বস্ত হয়ে তাঁরা তাদের কাছে নেমে এলেন। এবার তারা তাদেরকে কাবু করে ফেলার পর নিজেদের ধনুকের তার খুলে এর দ্বারা তাদেরকে বেঁধে ফেলল।

এ দেখে তাদের সাথী তৃতীয় সাহাবী (আবদুল্লাহ ইবনে তারিক) রা. বললেন, এটাই প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা। তাই তিনি তাদের সাথে যেতে অস্বীকার করলেন।

তারা তাকে তাদের সাথে নিয়ে যাওয়ার জন্য বহু টানা-হেচড়া করল এবং বহু চেষ্টা করল। কিন্তু তিনি তাতে রাযী হলেন না। অবশেষে কাফেররা তাকে শহীদ করে দিল এবং খুবাইব ও যায়েদ রা.-কে মক্কার বাজারে নিয়ে বিক্রি করে দিল।

বনী হারিস ইবনে আমির ইবনে নাওফল গোত্রের লোকেরা খুবাইব রা.-কে কিনে নিল। কেননা বদর যুদ্ধের দিন খুবাইব রা. হারিসকে হত্যা করেছিলেন।

তাই তিনি তাদের নিকট বেশ কিছু দিনি বন্দী অবস্থায় কাটান। অবশেষে তারা তাকে হত্যা করার দৃঢ় সংকল্প করলে তিনি নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করার জন্য হারিসের এক কন্যার নিকট থেকে একখানা ক্ষুর চাইলেন। সে তাকে তা দিল।

(পরবর্তীকালে মুসলমান হওয়ার পর) হারিসের উক্ত কন্যা বর্ণনা করেছেন যে, আমি আমার একটি শিশু বাচ্চা সম্পর্কে অসাবধান থাকায় সে পায়ে হেটে তাঁর কাছে চলে যায় এবং তিনি তাকে স্বীয় উরুর উপর বসিয়ে রাখেন। এ সময় তাঁর হাতে ছিল সেই ক্ষুর। এ দেখে আমি অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি।

খুবাইব রা. তা বুঝতে পেরে বললেন, তাকে মেরে ফেলব বলে তুমি কি ভয় পাচ্ছ? ইনশা আল্লাহ আমিতা করার নই। সে (হারিসের কন্যা) বলত, আমি খুবাইব রা. থেকে উত্তম বন্দী আর কখনো দেখিনি।

আমি তাকে আঙ্গুরের থোকা থেকে আঙ্গুর থেকে দেখেছি। অথচ তখন মক্কার কোন ফলই ছিল না। অধিকন্তু তিনি তখন লোহার শিকলে আবদ্ধ ছিলেন। এ আঙ্গুর তার জন্য আল্লাহর তরফ থেকে প্রদত্ত রিযিক ব্যতীত আর কিছুই নয়। এরপর তারা তাকে হত্যা করার জন্য হারাম শরীফের বাইরে নিয়ে গেল।

তিনি তাদেরকে বললেন, আমাকে দুরাকাত নামায আদায় করার সুযোগ দাও। (নামায আদায় করে) তিনি তাদের কাছে ফিরে এসে বললেন, আমি মৃত্যুর ভয়ে শংকিত হয়ে পড়েছি, তোমরা যদি এ কথা মনে না করতে তাহলে আমি (নামাযকে) আরো দীর্ঘায়িত করতাম।

হত্যার পূর্বে দু’রাকাআত নামায আদায়ের সুন্নাত প্রবর্তন করেছেন সর্বপ্রথম তিনিই । এরপরতিনি বললেন, হে আল্লাহ, তাদেরকে এক এক কর গুণে রাখুন।

এরপর তিনি দুটি পঙক্তি আবৃত্তি করলেন, “যেহেতু আমি মুসলিম হিসেবে মৃত্যুবরণ করছি তাই আমার কোন শংকা নেই। আল্লাহ সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যেকোন পার্শ্বে আমি ঢলে পড়ি”। আমি যেহেতু আল্লাহর পথেই মৃত্যুবরণ করছি তাই তিনি ইচ্ছা করলে আমার ছিন্নভিন্ন প্রতিটি অঙ্গে বরকত দান করতে পারেন”।

এরপর উকবা ইবনে হারিস তাঁর দিকে এগিয়ে গেল এবং তাকে শহীদ করে দিল। কুরাইশ গোত্রের লোকেরা আসিম রা.-এর শাহাদতের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাঁর মৃতদেহ থেকে কিছু অংশ নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠিয়েছিল।

কারণ আসিম রা. বদর যুদ্ধের দিন তাদের একজন বড় নেতাকে হত্যা করেছিলেন। তখন আল্লাহ মেঘের মত এক ঝাঁক মৌমাছি পাঠিয়ে দিলেন, যা তাদের প্রেরিত লোকদের হাত থেকে আসিম রা.-রক্ষা করল। ফলে তারা তাঁর দেহ থেকে কোন অংশ নিতে সক্ষম হল না।

আরও পড়ুনঃ

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

অসীয়াত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

শর্তাবলী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

সন্ধি অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

শাহাদাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

মন্তব্য করুন