যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ)

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

Table of Contents

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০২১ – সীফুল বাহরের যুদ্ধ।

হাদীস নং ৪০২১ – সীফুল বাহরের যুদ্ধ।

ইসমাঈল রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমুদ্র সৈকতের দিকে একটি সৈন্যবাহিনী পাঠালেন। আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে তাদের আমীর নিযুক্ত করে দিলেন। তাঁরা সংখ্যায় ছিলেন তিনশ।

(তন্মধ্যে আমিও ছিলাম) আমরা যুদ্ধের জন্য বেরিয়ে পড়লাম। আমরা এক রাস্তা দিয়ে পথ চলছিলাম, তখন আমাদের রসদপত্র নিঃশেষ হয়ে গেল, তাই আবু উবায়দা রা. আদেশ দিলেন সমগ্র সেনাদলের অবশিষ্ট পাথেয় একত্রিত করতে। অতএব সব একত্রিত করা হল। দেখা গেল মাত্র দুথলে খেজুর রয়েছে।

এরপর তিনি অল্প অল্প করে আমাদের মাঝে খাদ্য সরবরাহ করতে লাগলেন। পরিশেষে তাও শেষ হয়ে গেল এবং কেবল তখন একটি মাত্র খেজুর আমাদের মিলত।

(রাবী বলেন) আমি জাবির রা. -কে বললাম, একটি করে খেজুর খেয়ে আপনাদের কতটুকু ক্ষুধা নিবারণ হত? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, একটি খেজুর পাওয়াও বন্ধ হয়ে গেলে আমরা একটির কদরও অনুভব করতে লাগলাম। সমগ্র বাহিনী আঠারো দিন পর্যন্ত তা খেল।

তারপর আবু উবায়দা রা. মাছটির পাঁজরের দুটি হাড় আনতে হুকুম দিলেন। (দুটি হাড় আনা হল) সেগুলো দাঁড় করান হল। এরপর তিনি একটি সাওয়ারী তৈয়ার করতে বললেন। সাওয়ারী তৈয়ার হল এবং হাড় দুটির নিচে দিয়ে সাওয়ারীটি অতিক্রম করান হল। কিন্তু হাড় দুটিতে কোন স্পর্শ লাগল না।

বুখারি হাদিস নং ৪০২২

হাদীস নং ৪০২৩

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তিনশ’ সাওয়ারীর একটি সৈন্যবাহিনীকে কুরাইশের একটি কাফেলার উপর সুযোগমত আক্রমণ চালানোর জন্য পাঠিয়েছিলেন।

আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা. ছিলেন আমাদের সেনাপতি। আমরা অর্ধমাস পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতে অবস্থান করলাম। (ইতিমধ্যে রসদপত্র নিঃশেষ হয়ে গেল) আমরা ভীষণ ক্ষুধার শিকার হয়ে গেলাম।

অবশেষে ক্ষুধার যন্ত্রণায় গাছের পাতা পর্যন্ত খেতে থাকলাম। এ জন্যইএ সৈন্যবাহিনীর নাম রাখা হয়েছে জায়গুল খাবাত অর্থাৎ পাতাওয়ালা সেনাদল।

এরপর সমুদ্র আমাদের জন্য আম্বর নামক একটি প্রাণী নিক্ষেপ করল। আমরা অর্ধমাস ধরে তা থেকে খেলাম। এর চর্বি শরীরে লাগালাম। ফলে আমাদের শরীর পূর্বের ন্যায় হৃষ্টপুষ্ট হয়ে গেল।

এরপর আবু উবায়দা রা. আম্বরটির শরীর থেকে একটি পাঁজর ধরে খাড়া করালেন। এরপর তাঁর সাথীদের মধ্যকার সবচেয়ে লম্বা লোকটিকে আসতে বললেন। সুফিয়ান রা. আরেক বর্ণনায় বলেছেন, আবু উবায়দা রা. আম্বরটির পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্য থেকে একটি হাড় ধরে খাড়া করালেন।

এবং (ঐ) লোকটিকে উটের পিঠে বসিয়ে এর নিচে দিয়ে অতিক্রম করালেন। জাবির রা. বলেন, সেনাদলের এক ব্যক্তি (খাদ্যের অভাব দেখে) প্রথমে তিনটি উট যবেহ করেছিলেন, তারপর আরো তিনটি উট যবেহ করেছিলেন, তারপর আরো তিনটি উট যবেহ করেছিলেন।

এরপর আবু উবায়দা রা. তাকে (উট যবেহ করতে) নিষেধ করলেন। আমর ইবনে দীনার রা. বলতেন, আবু সালিহ রহ. আমাদের জানিয়েছেন যে, কায়েস ইবনে সাদ রা. তাঁর পিতার কাছে বর্ণনা করছিলেন যে, সেনাদলে আমিও ছিলাম, এক সময়ে সমগ্র সেনাদল ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ল, সাদ বললেন, এমতাবস্থায় তুমি উট যবেহ করে দিতে।

কায়েস বললেন, (হ্যাঁ) আমি উট যবেহ করেছি। তিনি বললেন, তারপর আবার সবাই ক্ষুধার্ত হয়ে গেল। এবারো তার পিতা বললেন, তুমি যবেহ করতে। তিনি বললেন, (হ্যাঁ) যবেহ করেছি।

তিনি বললেন, তারপর আবার সবাই ক্ষুধার্ত হল। সাদ বললেন, এবারো উট যবেহ করতে। তিনি বললেন, (হ্যাঁ) যবেহ করেছি। তিনি বললেন, এরপরও আবার সবাই ক্ষুধার্ত হল। সাদ রা. বললেন, উট যবেহ করতে। তখন কায়েস ইবনে সাদ রা. বললেন, এবার আমাকে (যবেহ করতে) নিষেধ করা হয়েছে।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০২৩

হাদীস নং ৪০২৪

মুসাদ্দাদ রহ………….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা জায়শূল খাবাতের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম, আর আবু উবায়দা রা.-কে আমাদের সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়েছিল। পথে আমরা ভীষণ ক্ষুধায় আক্রান্ত হয়ে পড়ি। তখন সমুদ্র আমাদের জন্য আম্বর নামের একটি মরা মাছ তীরে নিক্ষেপ করে দিল।

এত বড় মাছ আমরা আর কখনো দেখিনি। এরপর মাছটি থেকে আমরা অর্ধ মাস আহার করলাম। একবার আবু উবায়দা রা. মাছটির একটি হাড় তুলে ধরলেন আর সাওয়ারীর পিঠে চড়ে একজন হাড়টির নিচ দিয়ে অতিক্রম করল (হাড়ে স্পর্শও লাগেনি)।

(ইবনে জুরাইজ বলেন) আবু যুবাইর রহ. আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি জাবির রা. থেকে শুনেছেন, জাবির রা. বলেন, ঐ সময় আবু উবায়দা রা. বললেন, তোমরা মাছটি আহার কর।

এরপর আমরা মদীনা ফিরে আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বিষয়টি অবগত করলাম। তিনি বললেন, খাও। এটি তোমাদের জন্য রিযক, আল্লাহ পাঠিয়ে দিয়েছেন।

আর তোমাদের কাছে কিছু অবশিষ্ট থাকলে আমাদেরকেও স্বাদ গ্রহণ করতে দাও। একজন মাছটির কিছু অংশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এনে দিলে তিনি তা খেলেন।

বুখারি হাদিস নং ৪০২৫

হাদীস নং ৪০২৬

আবদুল্লাহ ইবনে রাজা রহ…………বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সর্বশেষে যে সূরাটি পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় অবতীর্ণ হয়েছিল তা ছিল সূরা বারাআত।

আর সর্বশেষ যে সূরার আয়াতটি সমাপ্তি রূপে অবতীর্ণ হয়েছিল সেটি ছিল সূরা নিসার এ আয়াত : ইয়াসতাফতূনাকা কুলিল্লাহু ইয়ুফতীকুম ফিল কালালা”।

অর্থাৎ লোকেরা আপনার কাছে সমাধান জানতে চায়, বলুন, পিতা-মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তোমাদিগকে আল্লাহ সমাধান জানাচ্ছেন, (কোন পুরুষ মারা গেলে সে যদি সন্তানহীন হয় এবং তার এক বোন থাকে তাহলে বোনের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ হবে) । (৪: ১৭৬)

বুখারি হাদিস নং ৪০২৬ – বনী তামীমের প্রতিনিধি দল।

হাদীস নং ৪০২৭ – বনী তামীমের প্রতিনিধি দল।

আবু নুআইম রহ…………ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনী তামীমের একটি প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে আসলে তিনি তাদেরকে বললেন, হে বনী তামীম ! খোশ খবরী গ্রহণ কর।

তারা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি খোশ-খবরী দিয়ে থাকেন, এবার আমাদেরকে কিছু (অর্থ-সম্পদ) দিন। কথাটি শুনে তাঁর চেহারায় অসন্তোষের ভাব প্রকাশ পেল।

এপর ইয়ামানের একটি প্রতিনিধি দল আসলে তিনি তাদেরকে বললেন, বনী তামীম যখন খোশ-খবরী গ্রহণ করলোই না তখন তোমরা গ্রহণ কর। তারা বললেন, আমরা তা গ্রহণ করলাম ইয়া রাসূলাল্লাহ !

বুখারি হাদিস নং ৪০২৭ – বনী তামীমের উপগোত্র বনী আম্বরের বিরুদ্ধে উয়াইনা ইবনে হিসন ইবনে হুযাইফা ইবনে বদরের যুদ্ধ।

হাদীস নং ৪০২৮ – বনী তামীমের উপগোত্র বনী আম্বরের বিরুদ্ধে উয়াইনা ইবনে হিসন ইবনে হুযাইফা ইবনে বদরের যুদ্ধ।

যুবাইর ইবনে হারব রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী তামীমের পক্ষে তিনটি কথা বলেছেন।

এগুলো শুনার পর থেকেই আমি বনী তামীমকে ভালবাসতে থাকি। (তিনি বলেছেন) তারা আমার উম্মতের মধ্যে দাজ্জালের বিরোধিতায় সবচেয়ে বেশি কঠোর থাকবে। তাদের গোত্রের একটি বাঁদী আয়েশা রা.-এর কাছে ছিল।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একে আযাদ করে দাও, কারণ সে ইসমাঈল আ.-এর বংশধর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাদের সাদকার অর্থ-সম্পদ আসলে তিনি বললেন, এটি একটি কাওমের সাদকা বা তিনি বলেন, এটি আমার কাওমের সাদকা।

বুখারি হাদিস নং ৪০২৮

হাদীস নং ৪০২৯

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত যে, বনী তামীম গোত্র থেকে একটি অশ্বারোহী দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে আসল।

(তাঁরা তাদের একজনকে সেনাপতি নিযুক্ত করার প্রার্থনা জানালে) আবু বকর রা. প্রস্তাব দিলেন, কাকা ইবনে মাবাদ ইবনে যারারা রা.-কে এদের আমীর নিযুক্ত করে দিন। উমর রা. বললেন, বরং আকরা ইবনে হাবিস রা.-কে আমীর বানিয়ে দিন। আবু বকর রা. বললেন, তুমি কেবল আমার বিরোধিতাই করতে চাও।

উমর রা. বললেন, আপনার বিরোধিতা করার ইচ্ছা আমি কখনো করি না। এর উপর দুজনের বাক-বিতণ্ডা চলতে চলতে শেষ পর্যায়ে উভয়ের আওয়াজ উচ্চতর হল।

ফলে এ সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল হল, হে মুমিনগণ ! আল্লাহ এবং তার রাসূলের সামনে তোমরা কোন ব্যাপারে অগ্রণী হয়ো না। বরং আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উচু করো না। এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বল তাঁর সাথে সেরূপ উচ্চস্বরে কথা বলো না। কারণ এতে তোমাদের আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে তোমাদের অজ্ঞাতসারে। (৪৯: ১-২)

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০৩০

হাদীস নং ৪০৩০

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..আবু জামরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস রা. থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আবদুল কায়েস গোত্রের একটি প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা অর্থাৎ এই ছোট দল রাবীআর গোত্র।

আমাদের এবং আপনার মাঝখানে প্রতিবন্ধক হয়ে আছে মুদার গোত্রের মুশরিকরা। কাজেই আমরা নিষিদ্ধ মাসগুলো ছাড়া অন্য সময়ে আপনার কাছে আসতে পারি না।

এ জন্য আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বিষয়ের নির্দেশ দিয়ে দিন যেগুলোর উপর আমরা আমল করতে থাকব এবং যারা আমাদের পেছনে রয়েছে তাদেরকেও সেইদিকে আহবান জানাব। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে চারটি জিনিস পালন করার নির্দেশ দিচ্ছি।

আর চারটি জিনিস থেকে বিরত থাকতে বলছি। (আমি তোমাদেরকে) আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া। কথাটি বলে তিনি আঙ্গুলের সাহায্য এক গুণেছেন।

আর নামায আদায় করা, যাকাত এবং তোমরা যে গনীমত লাভ করবে তার এক -পঞ্চমাংশ (বায়তুল মালে) জমা দেওয়া। আর আমি তোমাদেরকে লাউয়ের পাত্র, নাকীর নামক খোদাইকৃত কাঠের পাত্র, সবুজ কলসী এবং মুযাফফাত নামক তৈল মাখানো পাত্র ব্যবহার থেকে নিষেধ করছি।

বুখারি হাদিস নং ৪০৩১

হাদীস নং ৪০৩১

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান ও বকর ইবনে মুদার রহ………..বুকাইর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস রা. -এর আযাদকৃত গোলাম কুরাইব রহ. তাকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আব্বাস আবদুর রহমান ইবনে আযহার এবং মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. (এ তিনজনে) আমাকে আয়েশা রা. -এর কাছ পাঠিয়ে বললেন, তাকে আমাদের সবার পক্ষ থেকে সালাম জানাবে।

এবং তাকে আসরের পরের দু’রাকআত নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। কারণ আমরা অবহিত হয়েছি যে, আপনি নাকি এই দ’রাকআত নামায আদায় করেন অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’রাকআত নামায আদায় করত নিষেধ করেছেন—এ হাদীসও আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি উমর রা. সহ এ দু’রাকআত নামায আদায়কারী লোকজদেরকে প্রহার করতাম। কুরাইব রহ. বলেন, আমি তাঁর (আয়েশা রা.) কাছে গেলাম এবং তারা আমাকে যে ব্যাপারে পাঠিয়েছেন তা জানালাম। তিনি বললেন, বিষয়টি উম্মে সালমা রা.-এর কাছে জিজ্ঞাসা কর।

এরপর আমি তাদেরকে (আয়েশা রা.-এর জবাবের কথা) জানালে তাঁরা আবার আমাকে উম্মে সালামা রা.-এর কাছে পাঠালেন এবং আয়েশা রা.-এর কাছে যা বলতে বলেছিলেন সেসব কথা তাঁর কাছেও গিয়ে বলতে বললেন।

তখন উম্মে সালমা রা. বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি যে, তিনি দু’রাকআত নামায আদায় করা থেকে নিষেধ করেছেন। কিন্তু একদিন তিনি আসরের নামায আদায় করে আমার ঘরে প্রবেশ করলেন।

এ সময় আমার কাছে ছিল আনসারদের বনী হারাম গোত্রের কতিপয় মহিলা। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’রাকআত নামায আদায় করলেন।

আমি তা দেখে খাদীমা-কে পাঠিয়ে বললাম, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে গিয়ে দাঁড়াবে এবং বলবে উম্মে সালমা রা. আপনাকে এ কথা বলছেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি কি আপনাকে এ দু’রাকআত আদায় করা থেকে নিষেধ করতে শুনিনি?

অথচ দেখতে পাচ্ছি আপনি সেই দু’রাকআত আদায় করছেন। এরপর যদি তিনি হাত দিয়ে ইশারা করেন তাহলে পিছনে সরে যাবে। খাদীমা গিয়ে (সেভাবে কথাটি) বলল। তিনি হাত দিয়ে ইশারা করলেন। খাদীমা পেছনের দিকে সরে গেল।

এরপর নামায সেরে তিনি বললেন, হে আবু উমাইয়ার কন্যা ! (উম্মে সালমা) তুমি আমাকে আসরের পরের দু’রাকআত নামাযের কথা জিজ্ঞাসা করছ।

আসলে আজ আবদুল কায়েস গোত্র থেকে তাদের কয়েকজন লোক আমার কাছে ইসলাম গ্রহণ করতে এসেছিল।

তাঁরা আমাকে ব্যস্ত রাখার কারণে যুহরের পরের দু’রাকআত নামায আদায় করার সুযোগ আমার হয়নি। আর সেই দু’রাকআত হল এ দু’রাকআত নামায।

বুখারি হাদিস নং ৪০৩২

হাদীস নং ৪০৩২

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ জুফী রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে জুমআর নামায জারী করার পরে সর্বপ্রথম যে মসজিদে জুমআর নামায জারী করা হয়েছিল তাহল বাহরাইনের জুয়াসা এলাকার আবদুল কায়েস গোত্রের মসজিদ।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০৩৪

হাদীস নং ৪০৩৪

আবুল ইয়ামান রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে একবার মিথ্যুক মুসায়লামা (মদীনায়) এসেছিল।

সে বলতে লাগল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি আমাকে তাঁর পরবর্তীতে নিয়োগ করে যায় তাহলে আমি তাঁর অনুগত হয়ে যাব।

সে তার গোত্রের বহু লোকজনসহ এসেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে সাম্মাসকে সাথে নিয়ে তার দিকে অগ্রসর হলেন।

সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে ছিল একটি খেজুরের ডাল। মুসায়লামা তার সাথীদের মধ্যে ছিল, এমতাবস্থায় তিনি তার কাছে গিয়ে পৌঁছলেন। তিনি বললেন, যদি তুমি আমার কাছে এ তুচ্ছ ডালটিও চাও তবে এটিও আমি তোমাকে দেব না।

তোমার ব্যাপারে আল্লাহর ফায়সালা লঙ্ঘিত হতে পারে না। যদি তুমি আমার আনুগত্য থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন কর তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করে দিবেন।

আমি তোমাকে ঠিক তেমনই দেখতে পাচ্ছি যেমনটি আমাকে (স্বপ্নযোগে) দেখানো হয়েছে। এই সাবিত আমার পক্ষ থেকে তোমাকে জবাব দেবে। এরপর তিনি তার কাছ থেকে চলে আসলেন।

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি ‘আমি তোমাকে তেমনই দেখতে পাচ্ছি যেমনটি আমাকে দেখানো হয়েছিল’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আবু হুরায়রা রা আমাকে জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একদিন আমি ঘুমাচ্ছিলাম তখন স্বপ্নে দেখলাম, আমার দু’হাতে স্বর্ণের দুটি খাড়ু।

খাড়ু দুটি আমাকে ঘাবড়িয়ে দিল (পুরুষের জন্য স্বর্ণের খাড়ু অবৈধ) তখন ঘুমের মধ্যেই আমার প্রতি নির্দেশ দেয়া হল, খাড়ু দুটির উপর ফু দাও। আমি সে দুটির উপর ফু দিলে তা উড়ে গেল।

এরপর আমি এর ব্যাখ্যা করেছি দু’জন মিথ্যাবাদী (নবী) বলে যারা আমার পরে বের হবে। এদের একজন আনসী আর অপরজন মুসায়লামা।

বুখারি হাদিস নং ৪০৩৫

হাদীস নং ৪০৩৫

ইসহাক ইবনে নাসর রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি ঘুমাচ্ছিলাম এমতাবস্থায় (স্বপ্নে) আমার নিকট যমীনের সমুদয় সম্পদ উপস্থাপন করা হল এবং আমার হাতে দুটি সোনার খাড়ু রাখা হল।

ফলে আমার মনে ব্যাপারটি গুরুতর অনুভূত হলে আমাকে ওহীর মাধ্যমে জানানো হল যে, এগুলোর উপর ফু দাও। আমি ফু দিলাম খাড়ু দুটি উধাও হয়ে গেল।

এরপর আমি এ দুটির ব্যাখ্যা করলাম যে, এরা সেই সে দু’ মিথ্যাবাদী (নবী) যাদের মাঝখানে আমি অবস্থান করছি। অর্থাৎ সানআ শহরের অধিবাসী (আসওয়াদ আনসী) এবং ইয়ামামা শহরের অধিবাসী ((মুসায়লামাতুল কাযযাব)।

বুখারি হাদিস নং ৪০৩৬

হাদীস নং ৪০৩৬

সালত ইবনে মুহাম্মদ রহ………….আবু রাজা উতারিদী রহ. বলেন যে, (ইসলাম গ্রহণ করার পূর্বে) আমরা একটি পাথরের পূজা করতাম।

যখন এ অপেক্ষা উত্তম কোন পাথর পেতাম তখন এটিকে নিক্ষেপ করে দিয়ে অপরটির পূজা আরম্ভ করতাম আর কখনো যদি আমরা কোন পাথর না পেতাম তাহলে কিছু মাটি একত্রিত করে স্তুপ বানিয়ে নিতাম।

তারপর একটি বকরী এনে সেই স্তুপের উপর দোহন করতাম (যেনো কৃত্রিমভাবে তা পাথরের মত দেখায়) তারপর এর চারপাশে তাওয়াফ করতাম।

আর রজব মাস আসলে আমরা বলতাম, এটা তীর থেকে ফলা বিচ্ছিন্ন করার মাস। কাজেই আমরা রজব মাসে তীক্ষ্ণতা যুক্ত সব কটি তীর ও বর্শা থেকে এর তীক্ষ্ণ অংশ খুলে আলাদা করে রেখে দিতাম।

রাবী (মাহদী) রহ. বলেন, আমি আমাদের উট চরাতাম। তারপর যখন আমরা শুনলাম যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের কাওমের উপর অভিযান চালিয়েছেন (এবং মক্কা জয় করে ফেলছেন) তখন আমরা পালিয়ে এলাম জাহান্নামের দিকে অর্থাৎ মিথ্যাবাদী (নবী) মুসায়লামার দিকে।

বুখারি হাদিস নং ৪০৩৭ – আসওয়াদ আনসীর ঘটনা।

হাদীস নং ৪০৩৭ – আসওয়াদ আনসীর ঘটনা।

সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ জারমী রহ………..উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা রহ. বলেন, আমাদের কাছে এ খবর পৌঁছে যে, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায়) মিথ্যাবাদী মুসায়লামা একবার মদীনায় এসে হারিসের কন্যার ঘরে অবস্থান করেছিল।

হারিস ইবনে কুরায়যের কন্যা তথা আবদুল্লাহ ইবনে আমিরের মা ছিল তার স্ত্রী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন। তখন তার সঙ্গে ছিলেন সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শাম্মাস রা. তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খতীব বলা হত।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে ছিল একটি খেজুরের ডাল। তিনি তার কাছে গিয়ে তার সাথে কথাবার্তা রাখলেন।। মুসায়লামা তাকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বলল, আপনি ইচ্ছা করলে আমার এবং আপনার মাঝে কর্তৃত্বের বাধা এভাবে তুলে দিতে পারেন যে, আপনার পরে তা আমার জন্য নির্দিষ্ট করে দেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি যদি এ ডালটিও আমার কাছে চাও, তাও আমি তোমাকে দেব না। আমি তোমাকে ঠিক তেমনই দেখতে পাচ্ছি যেমনটি আমাকে দেখানো হয়েছে। এই সাবিত ইবনে কায়েস এখানে রইল সে আমার সাথে যেমনটি আমাকে (স্বপ্নযোগে) দেখানো হয়েছে।

এই সাবিত ইবনে কায়েস এখানে রইল সে আমার পক্ষ থেকে তোমার জবাব দেবে। এ কথা বল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে গেলেন। উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ রহ. বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উল্লেখিত স্বপ্ন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।

তখন ইবনে আব্বাস রা. বললেন, (আবু হুরায়রা রা. কর্তৃক) আমাকে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি ঘুমাচ্ছিলাম এমতাবস্থায় আমাকে দেখানো হল যে, আমার দুহাতে দুটি সোনার খাড়ু রাখা হয়েছে।

এতে আমি ঘাবড়ে গেলাম এবং তা অপছন্দ করলাম। তখন আমাকে (ফুঁ দিতে) বলা হল। আমি এ দুটির উপর ফুঁ দিলে সে দুটি উড়ে গেল। আমি এ দুটির ব্যাখ্যা করলাম যে, দুজন মিথ্যাবাদী (নবী) আবির্ভূত হবে।

উবায়দুল্লাহ রহ. বলেন, এ দু’জনের একজন হল আসওয়াদ আল আনসী, যাকে ফায়রুয নামক এক ব্যক্তি ইয়ামান এলাকায় হত্যা করেছে আর অপর জন হল মুসায়লামা।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০৩৮ – নাজরান অধিবাসীদের ঘটনা।

হাদীস নং ৪০৩৮ – নাজরান অধিবাসীদের ঘটনা।

আব্বাস ইবনে হুসাইন রহ………..হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাজরান এলাকার দু’জন সরদার আকিব এবং সাইয়িদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তাঁর সাথে মুবাহালা করতে চেয়েছিল।

রাবী হুযায়ফা রা. বলেন, তখন তাদের একজন অপরজনকে বলল, এরূপ করো না। কারণ আল্লাহর কসম, তিনি যদি নবী হয়ে থাকেন আর আমরা তাঁর সাথে মুবাহালা করি তাহলে আমরা এবং আমাদের পরবর্তী সন্তান-সন্ততি (কেউ) রক্ষা পাবে না।

তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বলল যে, আপনি আমাদের কাছ থেকে যা চাবেন আপনাকে আমরা তা-ই দেব। তবে এর জন্য আপনি আমাদের সাথে একজন আমানতদার ব্যক্তিকে পাঠিয়ে দিন। আমানতদার ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তিকে আমাদের সাথে পাঠাবেন না।

তিনি বললেন, আমি তোমাদের সাথে অবশ্যই একজন পুরা আমানতদার ব্যক্তিকেই পাঠাবো, এ দায়িত্ব গ্রহণের নিমিত্তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ আগ্রহ প্রকাশ করলেন।

তখন তিনি বললেন, হে আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ তুমি উঠে দাঁড়াও। তিনি যখন দাঁড়ালেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ হচ্ছে এই উম্মতের আমানতদার।

বুখারি হাদিস নং ৪০৩৯

হাদীস নং ৪০৩৯

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাজরান অধিবাসীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আমাদের এলাকার জন্য একজন আমানতদার ব্যক্তি পাঠিয়ে দিন।

তিনি বললেন, তোমাদের কাছে আমি একজন আমানতদার ব্যক্তিকেই পাঠাবো যিনি সত্যিই আমানতদার। কথাটি শুনে লোকজন সবাই আগ্রহভরে তাকিয়ে রইল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে পাঠালেন।

বুখারি হাদিস নং ৪০৪০

হাদীস নং ৪০৪০

আবুল ওয়ালীদ রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি সূত্রে নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রত্যেক উম্মতের একজন আমানতদার রয়েছে। আর এ উম্মতের সেই আমানতদার হল আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ।

বুখারি হাদিস নং ৪০৪১ – ওমান ও বাহরাইনের ঘটনা।

হাদীস নং ৪০৪১ – ওমান ও বাহরাইনের ঘটনা।

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, বাহরাইনের অর্থ সম্পদ (জিযিয়া) আসলে তোমাকে এতো পরিমাণ এতো পরিমাণ এতো পরিমাণ দেব। তিনবার বললেন। এরপর বাহরাইন থেকে আর কোন অর্থ সম্পদ আসেনি।

অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হয়ে গেল। এরপর আবু বাকরের যুগে যখন সেই অর্থ সম্পদ আসল তখন তিনি একজন ঘোষণাকারীকে নির্দেশ দিলেন।

সে ঘোষণা করল: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যার ঋণ প্রাপ্য রয়েছে কিংবা কোন ওয়াদা অপূরণ রয়ে গেছে সে যেন আমার কাছে আসে (এবং তা নিয়ে নেয়) জাবির রা. বলেন, আমি আবু বকর রা.-এর কাছে এসে তাকে জানালাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছিলেন, যদি বাহরাইন থেকে অর্থ-সম্পদ আসে তাহলে তোমাকে আমি এতো পরিমাণ এতো পরিমাণ দেব।

(এতো পরিমাণ কথাটি) তিনবার বললেন। জাবরি রা. বলেন, তখন আবু বকর রা. আমাকে অর্থ-সম্পদ দিলেন। জাবির রা. বলেন, এর কিছুদিন পর আমি আবু বকর রা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। এবং তার কাছে মাল চাইলাম।

কিন্তু তিনি আমাকে কিছুই দিলেন না। এরপর আমি তাঁর কাছে দ্বিতীয়বার আসি, তিনি আমাকে কিছুই দেননি। এরপর আমি তাঁর কাছে তৃতীয়বার এলাম। তখনো তিনি আমাকে কিছুই দিলেন না। কাজেই আমি তাকে বললাম, আমি আপনার কাছে এসেছিলাম কিন্তু আপনি আমাকে দেননি।

তারপর (আবার) এসেছিলাম তখনো দেননি। এরপরেও এসেছিলাম তখনো আমাকে আপনি দেননি। কাজেই এখন হয়তো আপনি আমাকে সম্পদ দিবেন নয়তো আমি মনে করব: আপনি আমার ব্যাপারে কৃপণতা অবলম্বন করেছেন।

তখন তিনি বললেন, এ কি বলছ তুমি ‘আমার ব্যাপারে কৃপণতা করছেন’ (তিনি বললেন) কৃপণতা থেকে মারাত্মক ব্যাধি আর কি হতে পারে। কথাটি তিনি তিনবার বললেন।

(এরপর তিনি বললেন) যতবারই আমি তোমাকে সম্পদ দেয়া থেকে বিরত রয়েছি ততবারই আমার ইচ্ছা ছিল যে, (অন্য কোথাও থেকে) তোমাকে দেব।

আমর (ইবনে দীনার রহ.) মুহাম্মদ ইবনে আলী রা.-এর মাধ্যমে জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু বকর রা.-এর কাছে আসলে তিনি আমাকে বললেন, এ (আশরাফী) গুলো গুণ, আমি ঐগুলো গুণে দেখলাম এখানে পাঁচ শ’ রয়েছে। তিনি বললেন, (ওখান থেকে) এ পরিমাণ আরো দু’বার তুলে নাও।

বুখারি হাদিস নং ৪০৪২ – আশআরী ও ইয়ামানবাসীদের আগমন।

হাদীস নং ৪০৪২ – আশআরী ও ইয়ামানবাসীদের আগমন।

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ এবং ইসহাক ইবনে নাসর রহ…………আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং আমার ভাই ইয়ামান থেকে এসে অনেক দিন পর্যন্ত অবস্থান করেছি।

এ সময়ে তাঁর। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খিদমতে ইবনে মাসউদ রা. ও তাঁর আম্মার অধিক আসাযাওয়া ও ঘনিষ্ঠতার কারণে আমরা তাদেরকে তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরিবারেরই অন্তর্ভূক্ত মনে করেছিলাম।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০৪৩

হাদীস নং ৪০৪৩

আবু নুআইম রহ………….যাহদাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু মূসা রা. এ এলাকায় এসে জারম গোত্রের লোকদেরকে মর্যাদাবান করেছেন। একদা আমরা তাঁর কাছে বসা ছিলাম। এ সময়ে তিনি মুরগীর গোশত দিয়ে দুপুরের খানা খাচ্ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে এক ব্যক্তি বসা ছিল।

তিনি তাকে খানা খেতে ডাকলেন। সে বলল, আমি মুরগীটিকে একটি (খারাপ) জিনিস খেতে দেখেছি। এ জন্য খেতে আমার অরুচি লাগছে। তিনি বললেন, এসো। কেননা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুরগী খেতে দেখেছি। সে বলল, আমি শপথ করে ফেলছি যে, এটি খাবো না।

তিনি বললেন, এসে পড়। তোমার শপথ সম্বন্ধে আমি তোমাকে জানাচ্ছি যে, আমরা আশআরীদের একটি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে তার কাছে সাওয়ারী চেয়েছিলাম। তিনি আমাদেরকে সাওয়ারী দিতে অস্বীকার করলেন। এরপর আমরা (পুনরায়) তাঁর কাছে সাওয়ারী চাইলাম।

তিনি তখন শপথ করে ফেললেন যে, আমাদেরকে তিনি সাওয়ারী দেবেন না। কিছুক্ষণ পরেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গনীমতের কিছু উট আনা হল। তিনি আমাদেরকে পাঁচটি করে উট দেয়ার আদেশ দিলেন।

উটগুলো হাতে নেয়ার পর আমরা পরস্পর বললাম, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর শপথ থেকে অমনোযোগী করে ফেলছি এমন অবস্থায় কখনো আমরা কামিয়াব হতে পারব না।

কাজেই আমি তাঁর কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি শপথ করেছিলেন যে, আমাদের সাওয়ারী দেবেন না। এখন তো আপনি আমাদের সাওয়ারী দিলেন।

তিনি বললেন, নিশ্চয়ই। তবে আমার নিয়ম হল, আমি যদি কোন ব্যাপারে শপথ করি আর এর বিপরীত কোনটিকে এ অপেক্ষা উত্তম মনে করি তাহলে (শপথ কৃত ব্যাপার ত্যাগ করি) উত্তমটিকেই গ্রহণ করে নেই।

বুখারি হাদিস নং ৪০৪৩ – বনী হানীফার প্রতিনিধি দল এবং সুমামা ইবনে উসাল রা.-এর ঘটনা

হাদীস নং ৪০৪৩ – বনী হানীফার প্রতিনিধি দল এবং সুমামা ইবনে উসাল রা.-এর ঘটনা

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল অশ্বারোহী সৈন্য নজদের দিকে পাঠিয়েছিলেন।

(সেখানে গিয়ে) তারা সুমামা ইবনে উসাল নামক বনূ হানীফার এক ব্যক্তিকে ধরে আনলেন এবং মসজিদে নববীর একটি খুঁটির সাথে তাকে বেঁধে রাখলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এসে বললেন, ওহে সুমামা ! তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে ? সে উত্তর দিল, হে মুহাম্মদ ! আমার কাছে তো ভালই মনে হচ্ছে।

(কারণ আপনি মানুষের উপর কখনো জুলুম করেন না বরং অনুগ্রহই করে থাকেন) যদি আমাকে হত্যা করেন তাহলে আপনি একজন খুনীকে হত্যা করবেন। আর যদি আপনি অনুগ্রহ দান করেন তাহলে একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তিকে অনুগ্রহ দান করবেন।

আর যদি আপনি (এর বিনিময়ে) অর্থ সম্পদ চান তাহলে যতটা খুশী দাবী করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেই অবস্থার উপর রেখে দিলেন। এভাবে পরের দিন আসল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার তাকে বললেন, ওহে সুমামা ! তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে ?

সে বলল, আমার কাছে সেটিই মনে হচ্ছে যা (গতকাল) আমি আপনাকে বলেছিলাম যে, যদি আপনি অনুগ্রহ প্রদর্শন করেন তাহলে একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তির উপর অনুগ্রহ করবেন।

তিনি তাকে সেই অবস্থায় রেখে দিলেন। এভাবে এর পরের দিনও আসল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হে সুমামা ! তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে ? সে বলল, আমার কাছে তা-ই মনে হচ্ছে যা আমি পূর্বেই বলেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা সুমামার বন্ধন ছেড়ে দাও।

এবার (মুক্তি পেয়ে) সুমামা মসজিদে নববীর নিকটস্থ একটি খেজুরের বাগানে গেল এবং গোসল করল এরপর ফিরে এসে মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।

(তিনি আরো বললেন) হে মুহাম্মদ ‍! আল্লাহর কসম, ইতিপূর্বে আমার কাছে যমীনের বুকে আপনার চেহারার চাইতে অধিক অপছন্দনীয় আর কোন চেহারা ছিল না।

কিন্তু এখন আপনার চোহারাই আমার কাছে সকল চেহারা অপেক্ষা অধিক প্রিয়। আল্লাহর কসম, আমার কাছে আপনার দীন অপেক্ষা অধিক ঘৃণ্য অপর কোন দীন ছিল না। কিন্তু এখন আপনার দীনই আমার কাছে অধিক সমাদৃত। আল্লাহর কসম, আমার মনে আপনার শহরের চেয়ে বেশি খারাপ শহর অন্য কোনটি ছিলনা।

কিন্তু এখন আপনার শহরটিই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়। আপনার অশ্বারোহী সৈনিকগণ আমাকে ধরে এনেছে, সে সময় আমি উমরার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে ছিলাম।

তাই এখন আপনি আমাকে কি কাজ করার হুকুম করেন? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (দুনিয়া ও আখিরাতের) সু-সংবাদ প্রদান করলেন এবং উমরা আদায়ের জন্য নির্দেশ দিলেন।

এরপর তিনি যখন মক্কায় আসলেন তখন জনৈক ব্যক্তি তাকে বলল, তুমি নাকি নিজের দীন ছেড়ে দিয়ে অন্য দীন গ্রহণ করেছ? তিনি উত্তর করলেন না, (বেদীন হয়নি? কুফর শিরক তো কোন দীনই নয়) বরং আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ইসলাম গ্রহণ করেছি।

আর আল্লাহর কসম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিনানুমতিতে তোমাদের কাছে ইমামা থেকে গমের একটি দানাও আসবে না।

বুখারি হাদিস নং ৪০৪৪

হাদীস নং ৪০৪৪

আমর ইবনে আলী রহ…………ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনী তামীমের লোকজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলে তিনি তাদেরকে বললেন, হে বনী তামীম ! খোশ-খবরী গ্রহণ কর।

তারা বলল, আপনি খোশ-খবরী তো দিলেন, কিন্তু এখন আমাদেরকে (কিছু আর্থিক সাহায্য) দান করুন। কথাটি শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল।

এমন সময়ে ইয়ামানী কিছু লোক আসল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বনী তামীম যখন খোশ-খবর গ্রহণ করল না, তাহলে তোমরাই তা গ্রহণ কর। তাঁরা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা তা কবূল করলাম।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০৪৫

হাদীস নং ৪০৪৫

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-জুফী রহ…………আবু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানের দিকে তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে বলেছেন, ঈমান হল ওখানে।

আর কঠোরতা ও হৃদয় হীনতা হল রাবীয়া ও মুদার গোত্রদ্বয়ের সেসব মানুষের মধ্যে যারা উটের লেজের কাছে দাঁড়িয়ে চীৎকার দেয়, যেখান থেকে উদিত হয়ে থাকে শয়তানের উভয় শিং।

বুখারি হাদিস নং ৪০৪৬

হাদীস নং ৪০৪৬

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়ামানবাসীরা তোমাদের কাছে এসেছে।

তাঁরা অন্তরের দিক থেকে অত্যন্ত কোমল ও দরদী। ঈমান হল ইয়ামানীদের, হিকমত হল ইয়ামানীদের, আত্মরিতা ও অহংকার রয়েছে উট-ওয়ালাদের মধ্যে, বকরী পালকদের মধ্যে আছে প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য।

গুনদর রহ. এ হাদীসটি শুবা-সুলাইমান-যাকওয়ান রহ. আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৪০৪৭

হাদীস নং ৪০৪৭

ইসমাঈল রহ………….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈমান হল ইয়ামানীদের। আর ফিতনা (বিপর্যয়ের) গোড়া হল ওখানে, যেখানে উদিত হয় শয়তানের শিং।

বুখারি হাদিস নং ৪০৪৮

হাদীস নং ৪০৪৮

আবুল ইয়ামান রহ…………আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়ামানবাসীরা তোমাদের কাছে এসেছে। তাঁরা অন্তরের দিক থেকে অত্যন্ত কোমল। আর মনের দিক থেকে অত্যন্ত দয়ার্দ্র। ফিকাহ হল ইয়ামানীদের আর হিকমত হল ইয়ামানীদের।

বুখারি হাদিস নং ৪০৪৯

হাদীস নং ৪০৪৯

আবদান রহ…………….আলকামা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবনে মাসউদ রা.-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন সেখানে খাব্বাব রা. এসে বললেন, হে আবু আবদুর রাহমান (ইবনে মাসউদ) ! এসব তরুণ কি আপনার তিলাওয়াতের মত তিলাওয়াত করতে পারে ?

তিনি বললেন, আপনি যদি চান তাহলে একজনকে হুকুম দেই যে, সে আপনাকে তিলাওয়াত করে শুনাবে। তি বললেন, অবশ্যই। ইবনে মাসউদ রা. বললেন, ওহে আলকামা, পড় তো।

তখন যিয়াদ ইবনে হুদায়রের ভাই যায়েদ ইবনে হুদায়র বলল, আপনি আলকামাকে পড়তে হুকুম করেছেন, অথচ সে তো আমাদের মধ্যে ভাল তিলাওয়াতকারী নয়।

ইবনে মাসউদ রা. বললেন, যদি তুমি চাও তাহলে আমি তোমার গোত্র ও তার গোত্র সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেছেন তা জানিয়ে দিতে পারি ।

(আলকামা বলেন) এরপর আমি সূরায়ে মারইয়াম থেকে পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করলাম। আবদুল্লাহ রা. বললেন, আপনার কেমন মনে হয়? তিনি বললেন, বেশ ভালই পড়েছে। আবদুল্লাহ রা. বললেন, আমি যা কিছু পড়ি তার সবই সে পড়ে নেয়। এরপর তিনি খাব্বাবের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন, তার হাতে একটি সোনার আংটি।

তিনি বললেন, এখনো কি এ আংটি খুলে ফেলার সময় হয়নি? খাব্বাব রা. বললেন, ঠিক আছে, আজকের পর আর এটি আমার হাতে দেখতে পাবেন না। এ কথা বলে তিনি আংটিটি ফেলে দিলেন। হাদীসটি গুনদূর রহ. শুবা রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৪০৫০ – দাউস গোত্র এবং তুফায়েল ইবনে আমর দাউসীর ঘটনা।

হাদীস নং ৪০৫০ – দাউস গোত্র এবং তুফায়েল ইবনে আমর দাউসীর ঘটনা।

আবু নুআইম রহ……………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তুফায়েল ইবনে আমর রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, দাওস গোত্র হালাক হয়ে গেছে।

তারা নাফরমানী করেছে এবং (দীনের দাওয়াত) গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। সুতরাং আপনি তাদের প্রতি বদদোয়া করুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ ! দাওস গোত্রকে হিদায়েত দান করুন এবং (দীনের দিকে) নিয়ে আসুন।

বুখারি হাদিস নং ৪০৫১

হাদীস নং ৪০৫১

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ……………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসার জন্য রওয়ানা হয়ে রাস্তার মধ্যে বলেছিলাম, হে সুদীর্ঘ ও চরম পরিশ্রমের রাত ! (তবে) এ রাত আমাকে দারুল কুফর থেকে মুক্তি দিয়েছে।

(এটিই আমার পরম পাওয়া) আমার একটি গোলাম ছিল। আসার পথে সে পালিয়ে গেল। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বায়আত করলাম।

এরপর একদিন আমি তাঁর খেদমতে বসা ছিলাম। এমন সময় গোলামটি এসে হাযির। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে আবু হুরায়রা ! এই যে তোমার গোলাম (নিয়ে যাও)। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সে আযাদ –এই বলে আমি তাকে আযাদ করে দিলাম।

বুখারি হাদিস নং ৪০৫২- তায়ী গোত্রের প্রতিনিধি দল এবং আদী ইবনে হাতিমের ঘটনা।

হাদীস নং ৪০৫২- তায়ী গোত্রের প্রতিনিধি দল এবং আদী ইবনে হাতিমের ঘটনা।

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ…………….আলী ইবনে হাতিম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একটি প্রতিনিধি দলসহ উমর রা.-এর দরবারে আসলাম। তিনি প্রত্যেকের নাম নিয়ে একজন একজন করে ডাকতে শুরু করলেন।

তাই আমি বললাম , হে আমীরুল মুমিনীন ! আপনি কি আমাকে চিনেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ চিনি। লোকজন যখন ইসলামকে অস্বীকার করেছিল তখন তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছ।

লোকজন যখন পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল তখন তুমি সম্মুখে অগ্রসর হয়েছ। লোকেরা যখন বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল তুমি তখন ইসলামের ওয়াদা পূরণ করেছ।

লোকরা যখন দীনের সত্যতা অস্বীকার করেছিল তুমি তখন দীনকে হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করেছ। এ কথা শুনে আদী রা. বললেন, তাহল এখন আমার কোন চিন্তা নেই।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০৫৩ – বিদায় হজ্জ।

হাদীস নং ৪০৫৩ – বিদায় হজ্জ।

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বিদায় হজ্জে (মক্কার পথে) রওয়ানা হই।

তখন আমরা উমরার ইহরাম বাঁধি। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা দিলেন, যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু রয়েছে, তারা যেন হজ্জ ও উমরা উভয়ের একসাথে ইহরামের নিয়ত করে এবং হজ্জ ও উমরার অনুষ্ঠানাদি সমাধা করার পূর্বে হালাল না হয়।

এভাবে তাঁর সঙ্গে আমি মক্কায় পৌঁছি এবং ঋতুবতী হয়ে পড়ি। এ কারণে আমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফের সাফা ও মারওয়ার সায়ী করতে পারলাম না।

এ খবর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন, তুমি তোমার মাথার চুল ছেড়ে দাও এবং মাথা (চিরুনি দ্বারা) আঁচড়াও আর কেবল হজ্জের ইহরাম বাঁধ ও উমরা ছেড়ে দাও। আমি তাই করলাম।

এরপর আমরা যখন হজ্জের কাজসমূহ সম্পন্ন করলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আবু বকর রা. সিদ্দীক রা.-এর পুত্র (আমার ভাই) আবদুর রাহমান রা.-এর সাথে তানঈম স্থানে পাঠিয়ে দিলেন। সেখান থেকে (ইহরাম বেঁধে) উমরা আদায় করলাম।

তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এই উমরা তোমার পূর্বের কাযা উমরার পরিপূরক হল। আয়েশা রা. বলেন, যারা উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন তারা বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে এবং সাফা ও মারওয়ার সায়ী করার পর হালাল হয়ে যান এবং পরে মিনা থেকে প্রত্যাবর্তন করার পর আর এক তাওয়াফ আদায় করেন।

আর যারা হজ্জ ও উমরার ইহরাম এক সাথে বাঁধেন (হজ্জে কিরানে) তাঁরা কেবল এক তাওয়াফ আদায় করেন।

বুখারি হাদিস নং ৪০৫৪

হাদীস নং ৪০৫৪

আমর ইবনে আলী রহ……………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, মুহরিম ব্যক্তি যখন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করল তখন সে তাঁরইহরাম থেকে হালাল হয়ে গেল।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম যে, ইবনে আব্বাস রা. এ কথা কি করে বলতে পারেন? রাবী আতা রহ. উত্তরে বলেন, আল্লাহ তায়ালার এই কালামের দলীল থেকে যে, এরপর তার হালাল হওয়ার স্থল হচ্ছে বায়তুল্লাহ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর সাহাবীদের হুজ্জাতুল বিদায় হালাল হয়ে যাওয়ার হুকুম দেওয়ার ঘটনা থেকে।

আমি বললাম, এ হুকুম তো আরাফা-এ উকূফ করার পর প্রযোজ্য। তখন আতা রহ. বললেন, ইবনে আব্বাস রা.-এর মতে উকূফে আরাফার পূর্বে ও পরে উভয় অবস্থায়ই এ হুকুম প্রযোজ্য।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০৫৫

হাদীস নং ৪০৫৫

বায়ান রহ…………..আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (বিদায় হজ্জে) মক্কার বাতহা নামক স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মিলিত হলাম।

তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি হজ্জের ইহরাম বেঁধেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন প্রকার হজ্জের ইহরামের নিয়ত করেছ?

আমি বললাম, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইহরামের মত ইহরামের নিয়ত করে তালবিয়া পড়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বায়তুল্লাহ তাওয়াফ কর এবং সাফা ও মারওয়া সায়ী কর।

এরপর হালার হয়ে যাও। তখন আমি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলাম ও সাফা এবং মারওয়া সায়ী করলাম। এরপর আমি কায়েস গোত্রের এক মহিলার কাচে গেলাম, সে আমার চুল আঁচড়ে (দিয়ে ইহরাম থেকে মুক্ত করে) দিল।

আরও পড়ুনঃ

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

মন্তব্য করুন