যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ)

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

Table of Contents

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯২৩ – খায়বার অধিবাসীদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রশাসক নিয়োগ।

হাদীস নং ৩৯২৩

ইসমাঈল রহ………..আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার অধিবাসীদের জন্য (সাওয়াদ ইবনে গাযিয়া নামক) এক ব্যক্তিকে প্রশাসক নিযুক্ত করলেন।

এরপর এক সময়ে তিনি (প্রশাসক) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উন্নত জাতের কিছু খেজুর নিয়ে উপস্থিত হলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, খায়বারের সব খেজুরই কি এরূপ হয়ে থাকে?

প্রশাসক উত্তর করলেন, জী, না, আল্লাহর কসম ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তবে আমরা এরূপ খেজুরের এক সা’ সাধারণ খেজুরের দু’সা-এর বিনিময়ে কিংবা এ প্রকারের খেজুরের দু’সা সাধারণ খেজুরের তিন সার বিনিময়ে সংগ্রহ করে থাকি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এরূপ করো না। দিরহামের বিনিময়ে সব খেজুর বিক্রয় করে ফেলবে। তারপর দিরহাম দিয়ে উত্তম খেজুর খরিদ করবে।

আবদুল আযীয ইবনে মুহাম্মদ রহ………..সাঈদ রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা রা. তাকে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের বনী আদী গোত্রের এক ব্যক্তিকে খায়বার পাঠিয়েছেন এবং তাকে খায়বার অধিবাসীদের জন্য প্রশাসক নিযুক্ত করে দিয়েছেন।

অন্য সনদে আবদুল মাজীদ-আবু সালিহ সাম্মান রহ. আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ রা. থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯২৪ – রাসূলে আকরাম (সা.) কর্তৃক খায়বারবাসীদের কৃষি ভূমির বন্দোবস্ত প্রদান।

হাদীস নং ৩৯২৪

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………….আবদুল্লাহ (ইবনে উমর) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের কৃষিভূমি সেখানকার অধিবাসী ইহুদীদেরকে এ চুক্তিতে প্রদান করেছিলেন যে, তারা ভূমি চাষ করবে এবং ফসল উৎপাদন করবে। বিনিময়ে তার উৎপন্ন ফসরের অর্ধেক তারা লাভ করবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৯২৫ – খায়বারে অবস্থানকালে নবী (সা.) এর জন্য বিষ মেশানো বকরীর বর্ণনা।

হাদীস নং ৩৯২৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, যখন খায়বার বিজয় হযে গেল তখন (ইহুদীদের পক্ষ থেকে) একটি বকরী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাদিয়া দেওয়া হয়। সেই বকরীটি বিষ মেশানো ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৯২৬ – হযরত যায়েদ ইবনে হারিসা রা.-এর অভিযান।

হাদীস নং ৩৯২৬

মুসাদ্দাদ রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামা (ইবনে যায়েদ) রা.-কে একটি বাহিনীর আমীর নিযুক্ত করেছিলেন।

লোকজন তাঁর আমীর নিযুক্ত হওয়ার উপর সমালোচনা শুরু করলে তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আজ তোমরা তার আমীর নিযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে সমালোচনা শুরু করলে, অবশ্য ইতিপূর্বে তোমরা তার পিতার আমীর নিযুক্ত হওয়ার ব্যাপারেও সমালোচনা করেছিলে।

আল্লাহর কসম, তিনি (উসামার পিতা যায়েদ ইবনে হারিসা) ছিলেন আমীর হওয়ার জন্য যথাযোগ্য এবং আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। তার মৃত্যুর পর এ (উসামা ইবনে যায়েদ) আমার নিকট বেশি প্রিয় ব্যক্তি।

বুখারি হাদিস নং ৩৯২৭ – উমরাতুল কাযার বর্ণনা।

হাদীস নং ৩৯২৭

উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা রহ………….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলকাদা মাসে উমরা আদায করার ইচ্ছায় মক্কা অভিমুখে রওয়ানা করেন। মক্কাবাসীরা তাকে নগরীতে প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানালো।

অবশেষে তিনি তাদের সঙ্গে এ কথার উপর সন্ধি-চুক্তি সম্পাদন করেন যে, (আগামী বছর উমরা পালন করতে এসে) তিনি মাত্র তিনদিন মক্কায় অবস্থান করবেন। মুসলিমগণ সন্ধিপত্র লেখার সময় এভাবে লিখেছিলেন, আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ আমাদের সঙ্গে এ চুক্তি সম্পাদন করেছেন।

ফলে তারা (কথাটির উপর আপত্তি উঠিয়ে) বলল, আমরা তো এ কথা (মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল) স্বীকার করিনি। যদি আমরা আপনাকে আল্লাহর রাসূল বলে স্বীকারই করতাম তাহলে মক্কা প্রবেশে মোটেই বাধা দিতাম না।

বরং আপনি তো মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ। তখন তিনি বললেন, আমি আল্লারহ রাসূল এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ (উভয়টিই)।

তারপর তিনি আলী রা.-কে বললেন, রাসূলুল্লাহ শব্দটি মুছে ফেল। আলী রা. উত্তর করলেন, আল্লাহর কসম, আমি কখনো এ কথা মুছতে পারব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন নিজেই চুক্তিপত্রটি হাতে নিলেন।

তিনি (আক্ষরিকভাবে) লিখতে জানতেন না, তবুও তিনি (তার এক মুজিযা হিসেবে) লিখে দিলেন যে, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ এ চুক্তিপত্র সম্পাদন করে দিয়েছে যে, তিনি কোষবদ্ধ তরবারি ব্যতীত অন্য কোন অস্ত্র নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করবেন না।

মক্কার অধিবাসীদের কেউ তাঁর সাথে যেতে চাইলেও তিনি তাকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন না। তাঁর সাথীদের কেউ মক্কায় (পুনরায়) অবস্থান করতে চাইলে তিনি তাকে বাধা দেবেন না।

(পরবর্তী বছর সন্ধি অনুসারে) যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ অতিক্রম হল তখন মুশরিকরা আলীর কাছে এসে বলল, আপনার সাথী (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলুন যে, নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে।

তাই তিনি যেন আমাদের নিকট থেকে চলে যান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে মতে প্রত্যাবর্তন করলেন। এ সময়ে হাযমা রা.-এর কন্যা চাচা চাচা বলে ডাকতে ডাকতে তার পেছনে ছুটলো। আলী রা. তার হাত ধরে তুলে নিয়ে ফাতিমা রা.-কে দিয়ে বললেন, তোমার চাচার কন্যাকে নাও।

ফাতিমা রা. বাচ্চাটিকে তুলে নিলেন। (কাফেলা মদীনা পৌঁছার পর) বাচ্চাটি নিয়ে আলী, যায়েদ (ইবনে হারিসা) ও জাফর (ইবনে আবু তালিব রা.)-এর মধ্যে ঝগড়া আরম্ভ হয়ে গেল।

আলী রা. বললেন, আমি তাকে (প্রথমে) কোলে নিয়েছি এবং সে আমার চাচার কন্যা (তাই সে আমার কাছে থাকবে) জাফর দাবি করলেন, সে আমার চাচার কন্যা এবং তার খালা হল আমার স্ত্রী।

যায়েদ (ইবনে হারিসা রা.) বললেন, সে ভাইয়ের কন্যা (অর্থাৎ সবাই নিজ নিজ সম্পর্কের ভিত্তিতে নিজের কাছে রাখার অধিকার পেশ করল)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেয়েটিকে তার খালার জন্য (অর্থাৎ জাফরের পক্ষে) ফায়সালা দিয়ে বললেন, (আদর ও লালন-পালনের ব্যাপারে) খালা মায়ের সমপর্যায়ের।

এরপর তিনি আলীর দিকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি আমার এবং আমি তোমার। জাফর রা.-কে বললেন, তুমি দৈহিক গঠন এবং চারিত্রিক গুণে আমার মতো।

আর যায়েদ রা.-কে বললেন, তুমি আমাদের ঈমানী ভাই ও আযাদকৃত গোলাম। আলী রা. (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বললেন, আপনি হামযার মেয়েটিকে বিয়ে করছেন না কেন?

তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তরে বললেন, সে আমার দুধ-ভাই (হামযা)-এর মেয়ে।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯২৮

হাদীস নং ৩৯২৮

মুহাম্মদ ইবনে রাফি ও মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন ইবনে ইবরাহীম রহ…………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, উমরা পালনের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা অভিমুখে) রওয়ানা করলে কুরাইশী কাফেররা তাঁর এবং বায়তুল্লাহর মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ালো।

কাজেই তিনি হুদায়বিয়া নামক স্থানেই কুরবানীর জন্তু যবেহ করলেন এবং মাথা মুণ্ডন করলেন (হালাল হয়ে গেলেন) আর তিনি তাদের সঙ্গে এই মর্মে চুক্তি সম্পাদন করলেন যে, আগামী বছর তিনি উমরা পালনের জন্য আসবেন।

কিন্তু তরবারি ব্যতীত অন্য কোন অস্ত্র সাথে আনবেন না এবং মক্কাবাসীরা যে ক’দিন ইচ্ছা করবে এর বেশি দিন তিনি সেখানে অবস্থান করবেন না।

সে মতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পরবর্তী বছর উমরা পালন করতে আসলে) সম্পাদিত চুক্তিনামা অনুসারে তিনি মক্কায় প্রবেশ করলেন। তারপর তিনদিন অবস্থান করলে মক্কাবাসীরা তাকে চলে যেতে বলল। তাই তিনি (মক্কা থেকে) চলে গেলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯২৯

হাদীস নং ৩৯২৯

উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ………….মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি এবং উরওয়া ইবনে যুবাইর রা. মসজিদে নববীতে প্রবেশ করেই দেখলাম আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. আয়েশা রা.-এর হুজরার কিনারেই বসে আছে।

উরওয়া রা. তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক’টি উমরা আদায় করেছিলেন? উত্তরে তিনি বললেন, চারটি। এ সময় আমরা (ঘরের ভিতরে) আয়েশা রা.-এর মিসওয়াক করার আওয়াজ শুনতে পেলাম।

উরওয়া রা. বললেন, হে উম্মুল মুমিনীন ! আবু আবদুর রহমান (ইবনে উমর রা.) কি বলছেন, তা আপনি শুনেছেন কি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি উমরা করেছেন?

আয়েশা রা. উত্তর দিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ক’টি উমরা আদায় করেছিলেন তার সবটিতেই তিনি (ইবনে উমর) তাঁর সাথে ছিলেন। (তাই ইবনে উমর রা. ঠিকই বলবেন) তবে তিনি রজব মাসে কখনো উমরা আদায় করেননি।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৩০

হাদীস নং ৩৯৩০

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………..ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন উমরাতুল কাযা আদায় করছিলেন তখন আমরা তাকে মুশরিক ও তাদের যুবকদের থেকে (তাঁর চতুর্দিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে) আড়াল করে রেখেছিলাম যেন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন প্রকার কষ্ট বা আঘাত দিতে না পারে।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৩১

হাদীস নং ৩৯৩১

সুলাইমান ইবনে হারব রহ…………….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (উমরাতুল কাযা আদায়ের উদ্দেশ্যে মক্কা) আগমন করলে মুশরিকরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগল যে, তোমাদের সামনে এমন একদল লোক আসছে, ইয়াসরিবের জ্বর যাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে।

এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে প্রথম তিন সাওত বা চক্করে দেহ হেলিয়ে দুলিয়ে চলার জন্য এবং দু’রুকনের মধ্যবর্তী স্থানে স্বাভাবিকভাবে চলতে নির্দেশ দেন। অবশ্য তিনি তাদেরকে সবকটি চক্করেই হেলে দুলে চলার আদেশ করতেন। কিন্তু তাদের প্রতি তাঁর অনুভূতিই কেবল তাকে এ হুকুম দেওয়া থেকে বিরত রেখেছিল।

অন্য এক সনদে ইবনে সালমা রহ. আইয়্যূব ও সাঈদ ইবনে যুবাইর রা.-এর মাধ্যমে ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেছে যে, সন্ধি সম্পাদনের মাধ্যমে নিরাপত্তা লাভের পরবর্তী বছর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলেন তখন মুশরিকরা যেন সাহাবীদের দৈহিক-বল অবলোকন করতে পারে এজন্য তিনি তাদের বলেছেন, তোমরা হেলেদুলে তাওয়াফ করো।

এ সময় মুশরিকরা কুআয়কিআন পাহাড়ের দিক থেকে মুসলমানদেরকে দেখছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৩২

হাদীস নং ৩৯৩২

মুহাম্মদ রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বায়তুল্লাহ এবং সাফা ও মারওয়া-এর মধ্যখানে এ জন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সায়ী করেছিলেন, যেন মুশরিকদেরকে তাঁর শৌর্য-বীর্য অবলোকন করাতে পারেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৩৩

হাদীস নং ৩৯৩৩

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মায়মূনা রা.-কে বিয়ে করেছেন এবং (ইহরাম খোলার পরে) হালাল অবস্থায় তিনি তাঁর সাথে বাসর যাপন করেন। মায়মূনা রা. (মক্কায় নিকটেই) সারিফ নামক স্থানে ইন্তিকাল করেছেন।

(ইমাম বুখারী রহ. বলেন) অপর একটি সনদে ইবনে ইসহাক ইবনে আবু নাজীহ ও আবান ইবনে সালিহ-আতা ও মুহাজিদ রহ. ইবনে আব্বাস রা. থেকে অতিরিক্ত এতটুকু বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাতুল কাযা আদায়ের সফরে মায়মূনা রা.-কে বিয়ে করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৩৪ – সিরিয়ায় সংঘটিত মূতার যুদ্ধের বর্ণনা।

হাদীস নং ৩৯৩৪

আহমদ রহ…………আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, সেদিন (মূতার যুদ্ধের দিন) তিনি শাহাদত প্রাপ্ত জাফর ইবনে আবু তালিব রা.-এর লাশের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

(তিনি বলেন) আমি জাফর রা.-এর দেহে তখন বর্শা ও তরবারির পঞ্চাশটি আঘাতের চিহ্ন গুণেছি। আর তন্মধ্যে কোনটাই তাঁর পশ্চাৎ দিকে ছিল না।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯৩৫

হাদীস নং ৩৯৩৫

আহমদ ইবনে আবু বকর রহ……………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন, মূতার যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদ ইবনে হারিসা রা.-কে সেনাপতি নিযুক্ত করে বলেছিলেন, যদি যায়েদ রা. শহীদ হয়ে যায় তাহলে জাফর ইবনে আবু তালিব রা. সেনাপতি হবে।

যদি জাফর রা.-ও শহীদ হয়ে যায় তাহলে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. সেনাপতি হবে। আবদুল্লাহ (ইবনে উমর রা.) বলেন, ঐ যুদ্ধে তাদের সাথে আমিও ছিলাম।

যুদ্ধ শেষে আমরা জাফর ইবনে আবু তালিব রা.-কে তালাশ করলে তাকে শহীদগণের মধ্যে পেলাম।তখন আমরা তার দেহে তরবারি ও বর্শার নব্বইটিরও অধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৩৬

হাদীস নং ৩৯৩৬

আহমদ ইবনে ওয়াকিদ রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট (মূতার) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে খবর এসে পৌঁছার পূর্বেই তিনি উপস্থিত মুসলমানদেরকে যায়েদ, জাফর ও ইবনে রাওয়াহা রা.-এর শাহাদতের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন,যায়েদ রা. পতাকা হাতে অগ্রসর হলে তাকে শহীদ করা হয়। তখন জাফর রা. পতাকা হাতে অগ্রসর হল, তাকেও শহীদ করে ফেলা হয়।

তারপর ইবনে রাওয়াহা রা. পতাকা হাতে নিল। এবার তাকেও শহীদ করে দেয়া হল। এ সময়ে তাঁর দু’চোখ থেকে অশ্রুধারা প্রবাহিত হচ্ছিল।

(তারপর তিনি বললেন) অবশেষে সাইফুল্লাহদের মধ্যে এক সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) হাতে পতাকা ধারণ করেছে। ফলত আল্লাহ তাদের উপর (আমাদের) বিজয় দান করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৩৭

হাদীস নং ৩৯৩৭

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ…………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যায়েদ ইবনে হারিসা রা. জাফর ইবনে আবু তালিব ও আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.-এর শাহাদতের সংবাদ এসে পৌঁছলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে পড়লেন। তাঁর চেহারায় শোকের চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।

আয়েশা রা. বলেন, আমি তখন দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে তাকিয়ে দেখলাম, জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! জাফর রা.-এর পরিবারের মেয়েরা কান্নাকাটি করছে। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মেয়েদেরকে বারণ করার জন্য লোকটিকে হুকুম করলেন।

তারপর আবার এসে বলল, আমি তাদেরকে নিষেধ করেছি। কিন্তু তারা তা শোনেনি। আয়েশা রা. বলেন, এবারও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পুনঃ হুকুম করলেন।

লোকটি সেখানে গেল কিন্তু পুনরায় এসে বলল, আল্লাহর কসম, তারা আমার কথা মানছে না। আয়েশা রা. বলেন, (তারপর) সম্ভবত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন, তাহলে তাদের মুখের উপর মাটি ছুঁড়ে মার।

আয়েশা রা. বলেন, আমি লোকটিকে বললাম, আল্লাহ তোমার নাককে অপমানিত করুক। আল্লাহর শপথ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে যে কাজ করতে বলেছেন তাতে তুমি সক্ষম নও অথচ তুমি তাকে বিরক্ত করা পরিত্যাগ করছ না।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৩৮

হাদীস নং ৩৯৩৮

মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর রহ………….আমির রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে উমর রা.-এর নিয়ম ছিল যে, যখনই তিনি জাফর ইবনে আবু তালিব রা.-এর পুত্র (আবদুল্লাহ)-কে সালাম দিতেন তখনই তিনি বলতেন, তোমার প্রতি সালাম, হে দু’ডানাওয়ালা পুত্র।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৩৯

হাদীস নং ৩৯৪০

আবু নুআইম রহ………….কায়েস ইবনে আবু হাযিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রা. থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেন, মূতার যুদ্ধে আমার হাতে নয়টি তরবারি ভেঙ্গে গিয়েছিল। পরিশেষে আমার হাতে একটি প্রশস্ত ইয়ামানী তরবারি ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৪০

হাদীস নং ৩৯৪০

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……………কায়েস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রা. থেকে শুনেছি, তিনি বলছেন, মূতার যুদ্ধে আমার হাতে নয়খানা তরবারি ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হয়ে গিয়েছিল। (পরিশেষে) আমার হাতে আমার একটি প্রশস্ত ইয়ামানী তরবারিই টিকেছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৪১

হাদীস নং ৩৯৪১

ইমরান ইবনে মায়সারা রহ………..নুমান ইবনে বাশীর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সময় আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. (কোন কারণে) সংজ্ঞাহীন হয়ে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর বোন আমরা (বিনতে রাওয়াহা রা.) হায়, হায় পাহাড়ের মত্যে আমার ভাই, হায়রে অমুকের মত, তমুকের মত ইত্যাদি গুণ উল্লেখ করে কান্নাকাটি শুরু করল।

এরপর সংজ্ঞা ফিরে পেয়ে তিনি তাঁর বোনকে বললেন, তুমি যেসব কথা বলে কান্নাকাটি করেছিলে সেসব কথা সম্পর্কে আমাকে (বিদ্রূপাত্মকভাবে) জিজ্ঞাসা করে বলা হয়েছে, তুমি কি সত্যই এরূপ?

বুখারি হাদিস নং ৩৯৪২

হাদীস নং ৩৯৪২

কুতাইবা রহ………….নুমান ইবনে বাশীর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সময় আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. বেহুঁশ হয়ে পড়লেন………….যেভাবে উপরোক্ত হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে।

(তারপর তিনি বলেছেন) এরপর তিনি (আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.) যখন (মূতার লড়াইয়ে) শহীদ হন তখন তাঁর বোন মোটেই কান্নাকাটি করেনি।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯৪৩ – জুহায়না গোত্রের শাখা ‘হুরুকাত’ উপগোত্রের বিরুদ্ধে নবী (সা.)-এর উসামা ইবনে যায়েদ রা.-কে প্রেরণ করা।

হাদীস নং ৩৯৪৩

আমর ইবনে মুহাম্মদ রহ……… উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে হুরকা গোত্রের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন।

আমরা প্রত্যুষে গোত্রটির উপর আক্রমণ করি এবং তাদেরকে পরাজিত করে দেই। এ সময়ে আনসারদের এক ব্যক্তি ও আমি তাদের (হুরকাদের) একজনের পিছু ধাওয়া করলাম।

আমরা যখন তাকে ঘিরে ফেললাম তখন সে বলে উঠলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এ বাক্য শুনে আনসারী তার অস্ত্র সামলে নিলেন। কিন্তু আমি তাকে আমার বর্শা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে ফেললেন। আমরা মদীনা প্রত্যাবর্তন করার পর এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কান পর্যন্ত পৌঁছলে তিনি বললেন, হে উসামা।

‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পরেও তুমি তাকে হত্যা করেছ? আমি বললাম, সে তো আত্মরক্ষার জন্য কালেমা পড়েছিল। এরপরেও তিনি এ কথাটি হে উসামা ! লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার পরেও তুমি তাকে হত্যা করেছ, বারবার বলতে থাকলেন।

এতে আমার মন চাচ্ছিল যে, হায় যদি সেই দিনটির পূর্বে আমি ইসলামই গ্রহণ করতাম ! (তাহলে কতই ভাল হত, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এহেন অনুতাপের কারণ হতে হত না।)

বুখারি হাদিস নং ৩৯৪৪

হাদীস নং ৩৯৪৪

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..সালমা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আর তিনি যেসব অভিযান (বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দিকে) পাঠিয়েছিলেন তন্মধ্যে নয়টি অভিযানে আমি অংশ নিয়েছি।

এসব অভিযানে একবার আবু বকর রা. আমাদের সেনাপতি থাকতেন, আরেকবার উসামা রা. আমাদের সেনাপতি থাকতেন।

উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস রহ. অপর একটি হাদীসে তাঁর পিতা ইয়াযীদ ইবনে আবী উবায়দা রা.-এর মাধ্যমে সালমা ইবনুল আকওয়া রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি।

আর তিনি (বিভিন্ন দিকে) যেসব সেনাদল পাঠিয়েছিলেন এর নয়টি সেনাদলে অংশ নিয়েছি। এ সব সেনাদলে একবার আবু বকর রা. আমাদের সেনাপতি থাকতেন। আরেকবার উসামা রা. আমাদের সেনাপতি থাকতেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৪৫

হাদীস নং ৩৯৪৫

আবু আসিম দাহহাক ইবনে মাখলাদ রহ………..সালমা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং যায়েদ ইবনে হারিসা রা.-এর সাথেও যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (যায়েকে) আমাদের সেনাপতি নিযুক্ত করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৪৬

হাদীস নং ৩৯৪৬

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..সালমা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি।

এতে তিনি খায়বার, হুদায়বিয়া, হুনায়ন ও যিকারাদের যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন। রাবী ইয়াযীদ রহ. বলেন, অবশিষ্ট যুদ্ধগুলোর নাম আমি ভুলে গিয়েছি।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৪৭

হাদীস নং ৩৯৪৭

কুতাইবা রহ……………..আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে এবং যুবাইর ও মিকদাদ রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলে পাঠালেন যে, তোমরা রওয়ানা হয়ে রাওযায়ে খাখ নামক স্থানে চলে যাও, সেখানে সাওয়ারীর পিঠে হাওদার আরোহিণী জনৈক মহিলার কাছে একখানা পত্র আছে।

তোমরা ঐ পত্রটি সেই মহিলা থেকে কেড়ে আনবে। আলী রা. বলেন, আমরা রওয়ানা হলাম। আর আমাদের অশ্বগুলো আমাদেরকে নিয়ে খুব দ্রুত ছুটে চলল। অবশেষে আমরা রাওযায়ে খাখ পর্যন্ত পৌঁছে গেলাম। গিয়েই আমরা হাওদায় আরোহিণী মহিলাটিকে দেখতে পেলাম।

আমরা (তাকে) বললাম, পত্রটি বের করে। সে উত্তর দিল: আমার কাছে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম অবশ্যই তোমাকে পত্রটি বের করতে হবে, অন্যথায় আমরা তোমার কাপড়-চোপড় খুলে তালাশ করব। রাবী বলেন, মহিলাটি তখন তার চুলের খোপা থেকে পত্রটি বের করল।

আমরা পত্রটি নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আসলাম। দেখা গেল এটি হাতিব ইবনে আবু বালতাআ রা.-এর পক্ষ থেকে মক্কার কতিপয় মুশরিকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিনি এতে মক্কার কাফেরদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গৃহীত কিছু গোপন তৎপরতার সংবাদ ফাঁস করে দিয়েছেন । তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে হাতিব! এ কি কাজ করেছ? তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! (অনুগ্রহ পূর্বক) আমার ব্যাপারে তাড়াতাড়ি কোন সিন্ধান্ত গ্রহণ করবেন না।

আমি কুরাইশদের স্বগোত্রীয় কেউ ছিলাম না বরং তাদের বন্ধু অর্থাৎ তাদের মিত্র গোত্রের একজন ছিলাম। আপনার সঙ্গে যেসব মুহাজির আছেন কুরাইশ গোত্রে তাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন। যারা এদের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদের হিফাজত করছে।

আর কুরাইশ গোত্রে যখন আমার বংশগত কোন সম্পর্ক নেই তাই আমি ভাবলাম যদি আমি তাদের কোন উপকার করে দেই তাহরে তারা আমার পরিবার পরিজনের হিফাজতে এগিয়ে আসবে।

কখনো আমি আমার দীন পরিত্যাগ করা কিংবা ইসলাম গ্রহণের পর কুফরকে গ্রহণ করার জন্য এ কাজ করিনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, সে (হাতিব) তোমাদের কাছে সত্য কথাই বলেছে।

উমর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেবো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দেখ, সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে।

তুমি তো জান না, হয়তো আল্লাহ তায়ালা বদরে অংশগ্রহণকারীরদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে বলে দিয়েছেন, তোমরা যা খুশী করতে থাক, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তখন আল্লাহ তায়ালা এ সূরা অবতীর্ণ করেন : হে মুমিনীগণ ! আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না।

তোমরা কি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করছ অথচ তারা তোমাদের কাছে যে সত্য এসেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। রাসূলকে এবং তোমাদেরকে (স্বদেশ থেকে) বহিষ্কার করেছে এ কারণে যে তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে বিশ্বাস কর।

যদি তোমরা আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য আমার পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে থাক তবে কেন তোমরা ওদের সাথে গোপনে বন্ধুত্ব করছ?

তোমরা যা গোপন কর এবং যা প্রকাশ কর তা আমি সম্যক অবগত আছি। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ কাজ করে সে তো বিচ্যুত হয়ে যায় সরল পথ থেকে (৬০:১)।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

 

বুখারি হাদিস নং ৩৯৪৮ – মক্কা বিজয়ের যুদ্ধ।

হাদীস নং ৩৯৪৮

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি জানিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে মক্কা বিজয়ের যুদ্ধ করেছেন।রাবী যুহরী রহ. বলেন, আমি সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব রহ.-কেও অনুরূপ বর্ণনা করেতে শুনেছি।

আরেকটি সূত্র দিয়ে তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ রহ.-এর মাধ্যমে ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, (মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হয়ে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা পালন করছিলেন।

অবশেষে তিনি যখন কুদায়দ এবং উসফান নামক স্থানদ্বয়ের মধ্যবর্তী কাদীদ নাম স্থানে ঝরনাটির কাছে পৌঁছেন তখন তিনি ইফাতার করেন। এরপর রমযান মাস খতম হওয়া পর্যন্ত তিনি আর রোযা পালন করেননি।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৪৯

হাদীস নং ৩৯৪৯

মাহমূদ রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে মদীনা থেকে (মক্কা অভিযানে) রওয়ানা হন।

তাঁর সঙ্গে ছিল দশ হাজার সাহাবী। তখন (মক্কা থেকে) হিজরত করে মদীনা চলে আসার সাড়ে আট বছর অতিক্রম হয়ে গিয়েছিল। তিনি ও তাঁর সঙ্গী মুসলিমগণ রোযা অবস্থায়ই মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হন।

অবশেষে তিনি যখন উসফান ও কুদায়দ স্থানদ্বয়ের মধ্যবর্তী কাদীদ নামক জায়গার ঝরনার নিকট পৌঁছলেন তখন তিনি ও সঙ্গী মুসলিমগণ ইফতার করলেন।

যুহরী রহ. বলেছেন: (উম্মতের জীবযাত্রায়) ফাতওয়া হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাজকর্মের শেষোক্ত আমলটিকেই চূড়ান্ত দলীল হিসেবে গণ্য করা হবে। (কেননা শেষোক্ত আমলের পূর্ববর্তী আমলকে রহিত করে দেয়)।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৫০

হাদীস নং ৩৯৫০

আইয়াশ ইবনে ওয়ালীদ রহ………….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে হুনায়নের দিকে রওয়ানা হয়েছিলেন।

সঙ্গী মুসলিমদের অবস্থা ছিল ভিন্ন ভিন্ন। কেউ ছিলেন রোযাদার। আবার কেউ রোযাবিহীন অবস্থায়। তাই তিনি যখন সাওয়ারীর উপর বসলেন তখন তিনি একপাত্র দুধ কিংবা পানি আনতে বললেন। তারপর তিনি পাত্রটি হাতের উপর কিংবা সাওয়ারীর উপর রেখে (সমবেত) লোকজনের দিকে তাকালেন।

এ অবস্থা দেখে রোযাবিহীন লোকেরা রোযাদার লোকদেরকে ডেকে বললেন: তোমরা রোযা ভেঙ্গে ফেল। আবদুর রাজ্জাক, মামার, আইয়্যূব, ইকরিমা রহ. সূত্রে ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, মক্কা বিজয়ের বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিযানে বের হয়েছিল।

এভাবে হাম্মাদ ইবনে যায়েদ আইয়্যূব ইকরিমা রহ. ইবনে আব্বাস রা. সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও বিষয়টি বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৫১

হাদীস নং ৩৯৫১

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে রোযা অবস্থায় (মক্কা অভিমুখে) সফর করেছেন।

অবশেষে তিনি উসফান নামক স্থানে উপনীত হলে একপাত্র পানি দিতে বললেন, তারপর দিনের বেলাই তিনি সে পানি পান করলেন যেন তিনি লোকজনকে তাঁর রোযাবিহীন অবস্থা দেখাতে পারেন। এরপর মক্কা পৌঁছা পর্যন্ত তিনি আর রোযা পালন করেননি।

রাবী বলেছেন, পরবর্তীকালে ইবনে আব্বাস রা. বলতেন সফরে কোন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা পালন করতেন আবার কোন কোন সময় তিনি রোযাবিহীন অবস্থায়ও ছিলেন।

তাই সফরে (তোমাদের) যার ইচ্ছা সে রোযা পালন করতে পার আর যার ইচ্ছা সে রোযাবিহীন অবস্থায়ও থাকতে পার। (সফর শেষে আবাসে তা আদায় করে নেবে)।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৫২ – মক্কা বিজয়ের দিন নবী (সা.) কোথায় ঝাণ্ডা স্থাপন করেছিলেন।

হাদীস নং ৩৯৬৬ – মক্কা বিজয়ের দিন নবী (সা.) কোথায় ঝাণ্ডা স্থাপন করেছিলেন।

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ………….হিশামের পিতা (উরওয়া ইবনে যুবাইর রা.) থেকে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা অভিমুখে) রওয়ানা করেছেন।

এ সংবাদ কুরাইশদের কাছে পৌঁছলে আবু সুফিয়ান ইবনে হারব, হাকীম ইবনে হিযাম এবং বুদাইল ইবনে ওয়ারকা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য বেরিয়ে এল।

তারা রাতের বেলা সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে (মক্কার অদূরে) মাররুয জাহরান নামক স্থান পর্যন্ত এসে পৌঁছলে আরাফার ময়দানে প্রজ্বলিত আলোর মত অসংখ্য আগুন দেখতে পেল। আবু সুফিয়ান (আশ্চর্যানিত হয়ে) বলে উঠল এ সব কিসের আলো? ঠিক যেন আমর গোত্রের (চুলার) আলো।

আবু সুফিয়ান বলল, আমর গোত্রের সংখ্যা এ অপেক্ষা অনেক কম। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর কয়েকজন সামরিক প্রহরী তাদেরকে দেখে ফেলল এবং কাছে গিয়ে তাদেরকে পাকড়াও করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে এল।

এ সময় আবু সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ করল। এরপর তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন (সেনাবাহিনী সহ মক্কা নগরীর দিকে) রওয়ানা হলেন তখন আব্বাস রা.-কে বললেন, আবু সুফিয়ানকে পথের একটি সংকীর্ণ জায়গায় (পাহাড়ের কোণে) দাঁড় করাবে, যেন সে মুসলমানদের সমগ্র সেনাদলটি দেখতে পায়।

তাই আব্বাস রা. তাকে যথাস্থানে থামিয়ে রাখলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আগমনকারী বিভিন্ন গোত্রের লোকজন আলাদা আলাদাভাবে খণ্ডদল হয়ে আবু সুফিয়ানের সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করে যেতে লাগল।

প্রথমে একটি দল অতিক্রম করে গেল। আবু সুফিয়ান বললেন, হে আব্বাস রা. এরা কারা? আব্বাস রা. বললেন, এরা গিফার গোত্রের লোক।

আবু সুফিয়ান বললেন, আমার এবং গিফার গোত্রের মধ্যে কোন যুদ্ধ-বিগ্রহ ছিলনা। এরপর জুহায়না গোত্রের লোকেরা অতিক্রম করে গেলেন, আবু সুফিয়ান অনুরূপ বললেন। তারপর সাদ ইবনে হুযায়ম গোত্র অতিক্রম করল, তখনো আবু সুফিয়ান অনুরূপ বললেন, তারপর সুলাইম গোত্র অতিক্রম করলেও আবু সুফিয়ান অনুরূপ বললেন।

অবশেষে একটি বিরাট বাহিনী তার সামনে এল যে, এত বিরাট বাহিনী এ সময় তিনি আর দেখেননি। তাই (আশ্চর্য হয়ে) জিজ্ঞাসা করলেন, এরা কারা? আব্বাস রা. উত্তর দিলেন, এরাই (মদীনার) আনসারবৃন্দ। সাদ ইবনে উবাদা রা. তাদের দলপতি। তাঁর হাতেই রয়েছে তাদের পতাকা।

(অতিক্রমকালে) সাদ ইবনে উবাদা রা. বললেন, হে আবু সুফিয়ান ! আজকের দিন রক্তপাতের দিন, আজকের দিন কাবার অভ্যন্তরে রক্তপাত হালাল হওয়ার দিন। আবু সুফিয়ান বললেন, হে আব্বাস ! আজ হারাম ও তার অধিবাসীদের প্রতি তোমাদের করুণা প্রদর্শণেরও কত উত্তম দিন।

তারপর আরেকটি সেনাদল আসল। সংখ্যাগত দিক থেকে এটি ছিল সবচেয়ে ছোট দল। আর এদের মধ্যেই ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ।

যুবাইর ইবনে আওয়াম রা.-এর হাতে ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঝাণ্ডা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আবু সুফিয়ানের সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন আবু সুফিয়ান বললেন, সাদ ইবনে উবাদা কি বলছে আপনি কি তা জানেন?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে কি বলেছে? আবু সুফিয়ান বললেন, সে এ রকম এ রকম বলেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে কি বলেছে?

বরং আজ এমন একটি দিন যেদিন আল্লাহ কাবাকে মর্যাদায় সুমুন্নত করবেন। আজকের দিনে কাবাকে গিলাফে আচ্ছাদিত করা হবে। রাবী বলেন, (মক্কা নগরীতে পৌঁছে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজুন নামক স্থানে তাঁর পতাকা স্থাপনের নির্দেশ দেন।

রাবী উরওয়া নাফি যুবাইর ইবনে মুতঈম আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যুবাইর ইবনে আওয়াম রা.-কে (মক্কা বিজয়ের পর একদা) বললেন, হে আবু আবদুল্লাহ ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপানাকে এ জায়গাই পতাকা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

উরওয়া রা. আরো বলেন, যে দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদ ইবনে ওয়ালীদকে মক্কার উচু এলাকা কাদার দিকে থেকে প্রবেশ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নিম্ন এলাকা) কুদার দিকে থেকে প্রবেশ করেছিলেন। সেদিন খালিদ ইবনে ওয়ালীদের অশ্বারোহী সৈন্যদের মধ্য থেকে হুবায়শ ইবনুল আশআর এবং করয ইবনে জাবির ফিহরী রা.-এ দুজন শহীদ হয়েছিলেন।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯৫৩

 

হাদীস নং ৩৯৫৩

আবুল ওয়ালীদ রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর উটনীর উপর দেখেছি, তিনি তারজী করে সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করছেন।

রাবী মুআবিয়া ইবনে কুররা রহ. বলেন, যদি আমার চতুষ্পার্শ্বে লোকজন জমায়েত হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, তাহলে আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তিলাওয়াত বর্ণনা করতে যেভাবে তারজী করেছিলেন আমিও ঠিক সে রকমে তারজী করে তিলাওয়াত করতাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৫৪

হাদীস নং ৩৯৫৪

সুলাইমান ইবনে আবদুর রহমান রহ………..উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি মক্কা বিজয়ের কালে (বিজয়ের একদিন পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগামীকাল আপনি কোথায় অবস্থান করবেন?

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আকীল কী আমাদের জন্য কোন বাড়ি অবশিষ্ট রেখে গিয়েছে? এরপর তিনি বললেন, মুমিন ব্যক্তি কাফেরের ওয়ারিশ হয় না, আর কাফেরও মুমিন ব্যক্তির ওয়ারিশ হয় না।

(পরবর্তীকালে) যুহরী রহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আবু তালিবের ওয়ারিশ কে হয়েছিল? তিনি বলেছেন, আকীল এবং তালিব তার ওয়ারিশ হয়েছিল।

মামার রহ. যুহরী রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আপনি আগামীকাল কোথায় অবস্থান করবেন কথাটি (উসামা ইবনে যায়েদ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার হজ্জের সফরে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।

কিন্তু ইউনুস রহ. তাঁর হাদীসে মক্কা বিজয়ের সময় বা হজ্জের সফর কোনটিই উল্লেখ করেননি।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৫৫

হাদীস নং ৩৯৫৫

আবুল ইয়ামান রহ………….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মক্কা বিজয়ের পূর্বে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ আমাদেরকে বিজয় দান করলে ইনশাআল্লাহ খাইফ হবে আমাদের অবস্থানস্থল, যেখানে কাফেররা কুফরীর উপর পরস্পরে শপথ গ্রহণ করেছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৫৬

হাদীস নং ৩৯৫৬

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়নের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে বললেন, বনী কিনানার খাইফ নামক স্থানেই হবে আমাদের আগামী কালের অবস্থানস্থল, যেখানে কাফেররা কুফরের উপর পরস্পর শপথ গ্রহণ করেছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৫৭

হাদীস নং ৩৯৫৭

ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ………….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথায় লোহার টুপি পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেছেন।

তিনি সবেমাত্র টুপি খুলেছেন এ সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, ইবনে খাতাল কাবার গিলাফ ধরে দাঁড়িয়ে আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে হত্যা কর।

ইমাম মালিক রহ. বলেছেন, আমাদের ধারণামতে সেদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় ছিলেন না। তবে আল্লাহ আমাদের চেয়ে ভাল জানেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৫৮

হাদীস নং ৩৯৫৮

সাদাকা ইবনে ফাযল রহ…………আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন, তখন বায়তুল্লাহর চারপাশে ঘিরে তিনশত ষাটটি প্রতিমা স্থাপিত ছিল।

তিনি হাতে একটি লাঠি নিয়ে (বায়তুল্লাহ অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন এবং ) প্রতিমাগুলেকে আঘাত করতে থাকলেন আর (মুখে) বলতে থাকলেন, হক এসেছে, বাতিল অপসৃত হয়েছে। হক এসেছে বাতিলের আর উদ্ভব ও পুনরুদ্ভব ঘটবে না।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৫৯

হাদীস নং ৩৯৫৯

ইসহাক রহ…………….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আগমন করার পর তৎক্ষণাৎ বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে প্রবেশ করা থেকে বিরত রইলেন, কারণ সে সময় বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে অনেক প্রতিমা স্থাপিত ছিল।

তিনি এগুলোকে বের করে ফেলার জন্য আদেশ দিলেন। প্রতিমাগুলো বের করা হল। তখন (ঐগুলোর সাথে) ইবরাহীম ও ইসমাঈল আ.-এর মূর্তিও বেরিয়ে আসল।

তাদের উভয়ের হাতে ছিল মুশরিকদের ভাগ্য নির্ণয়ের কয়েকটি তীর। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুক। তারা অবশ্যই জানত যে, ইবরাহীম আ. ও ইসমাঈল আ. কখনো তীর দিয়ে ভাগ্য নির্ণয়ের কাজ করেননি।

এরপর তিনি বায়তুল্লাহর ভিতরে প্রবেশ করলেন। আর প্রত্যেক কোণায় কোণায় গিয়ে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিলেন এবং বেরিয়ে আসলেন। আর সেখানে নামায আদায় করেননি।

মামার রহ. আইয়্যূব রহ. সূত্রে এবং ওহায়ব রহ. আইয়্যূব রহ.-এর মাধ্যমে ইকরামা রা. সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯৬০

হাদীস নং ৩৯৬০

হায়সাম ইবনে খারিজা রহ…………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উচু এলাকা ‘কাদা’-এর দিক দিয়ে প্রবেশ করেছেন।

আবু উসামা এবং ওহায়ব রহ. ‘কাদা’-এর দিক দিয়ে প্রবেশ করার বর্ণনায় হাবস ইবনে মায়সারা রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৬১

হাদীস নং ৩৯৬১

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ……………..হিশামের পিতা থেকে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উচু এলাকা অর্থাৎ ‘কাদা’ নামক স্থান দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৬২ – মক্কা বিজয়ের দিন নবী (সা.)-এর অবস্থানস্থল।

হাদীস নং ৩৯৬২ – মক্কা বিজয়ের দিন নবী (সা.)-এর অবস্থানস্থল।

আবুল ওয়ালীদ রহ……….ইবনে আবী লায়লা রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চাশতের নামায আদায় করতে দেখেছে—-এ কথাটি একমাত্র উম্মে হানী রা. ছাড়া অন্য কেউ আমাদের কাছে বর্ণনা করেননি।

তিনি বলেছেন যে, মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাড়িতে গোসল করেছিলেন, এরপর তিনি আট রাকাত নামায আদায় করেছেন।

উম্মে হানী রা. বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ নামায অপেক্ষা হালকাভাবে অন্য কোন নামায আদায় করতে দেখিনি। তবে তিনি রুকু, সিজদা পুরোপুরিই আদায় করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৬৩ – পরিচ্ছেদ ২২১৫

হাদীস নং ৩৯৬৩ – পরিচ্ছেদ ২২১৫

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নামাযের রুকু ও সিজদায় পড়তেন, সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকাল্লাহুম্মা ইগফির লী অর্থাৎ অতি পবিত্র হে আল্লাহ ! হে আমাদের প্রভু ! আমি তোমারই প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ ! আমাকে ক্ষমা করে দাও।

উপলব্ধি করিনি।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৬৪

হাদীস নং ৩৯৬৩

আবু নুমান রহ…………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. তাঁর (পরামর্শ মজলিসে) বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বর্ষীয়ান সাহাবাদের সঙ্গে আমাকেও শামিল করতেন।

তাই তাদের কেউ কেউ বললেন, আপনি এ তরুণকে কেন আমাদের সাথে মজলিসে শামিল করেন। তার মত সন্তান তো আমাদেরও আছে। তখন উমর রা. বললেন, ইবনে আব্বাস রা. ঐ সব মানুষের একজন যাদের (মর্যাদা ও জ্ঞানের গভীরতা) সম্পর্কে আপনারা অবহিত আছেন।

ইবনে আব্বাস বলেন, একদিন তিনি (উমর) তাদেরকে পরামর্শ মজলিসে আহবান করলেন এবং তাদের সাথে তিনি আমাকেও ডাকলেন।

তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেন, আমার মনে হয় সেদিন তিনি তাদেরকে আমার ইলমের গভীরতা দেখানোর জন্যই ডেকেছিলেন।

উমর বলেন, إذا جاء نصر الله والفتح ورايت الناس يدخولون في دين الله أفواجا এভাবে সূরাটি শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ সূরা সম্পর্কে আপনাদের কি বক্তব্য? তখন তাদের মধ্যে কেউ বেউ বললেন, এখানে আমদেরকে আদেশ করা হয়েছে যে, যখন আমাদেরকে সাহায্য করা হবে এবং বিজয় দান করা হবে তখন যেন আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।

আর কেউ কেউ বললেন, আমরা অবগত নই। আবার কেউ কেউ উত্তরই করেননি। এ সময় উমর রা. আমাকে বললেন, ওহে ইবনে আব্বাস ! তুমি কি এ রকমই মনে কর?

আমি বললাম, জ্বী, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি কি রকম মনে কর? আমি বললাম, এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের সংবাদ।

আল্লাহ তাকে তা জানিয়ে দিয়েছেন। ‘যখন আল্লাহর সাহায্য এবং বিজয় আসবে’ অর্থাৎ মক্কা বিজয়। সেটিই হবে আপনার ওফাতের পূর্বাভাস। সুতরাং এ সময় আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করবেন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।

অবশ্যই তিনি তাওবা কবুলকারী। এ কথা শুনে উমর রা. বললেন, এ সূরা থেকে তুমি যা যা উপলব্ধি করেছ আমি ঐটি ছাড়া অন্য কিছু উপলব্ধি করিনি।

আরও পড়ুনঃ

মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

মন্তব্য করুন