যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ)

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

Table of Contents

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮৪৩

হাদীস নং ৩৮৪৩

সাঈদ ইবনে রাবী রহ…………আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার যুদ্ধের বছর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা করেছিলাম। এ সময় তাঁর সাহাবীগণ ইহরাম বেঁধেছিলেন কিন্তু আমি ইহরাম বাঁধিনি।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৪৪

হাদীস নং ৩৮৪৪

উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা রহ…………বারা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, মক্কা বিজয়কে তোমরা মৌল বিজয় বলে মনে করছ। অথচ মক্কা বিজয়ও একটি বিজয়। কিন্তু হুদায়বিয়ার দিনে অনুষ্ঠিত বায়আতে রিদওয়ানকে আমরা মৌল বিজয় বলে মনে করি।

সে সময় আমরা চৌদ্দশ সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ছিলাম। হুদায়বিয়া একটি কূপ। আমরা তা থেকে পানি উঠাতে উঠাতে তার মধ্যে এক বিন্দুও অবশিষ্ট রাখিনি।

আর এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে পৌঁছলে তিনি এসে সে কূপের পাড়ে বসলেন। এরপর এক পাত্র পানি আনিয়ে ওযু করলেন এবং কুল্লি করলেন।

পরিশেষে দোয়া করে অবশিষ্ট পানি কূপের মধ্যে ফেলে দিলেন। আমরা অল্প কিছুক্ষণ পর্যন্ত কূপের পানি উঠানো বন্ধ রাখলাম। এরপর আমরা আমাদের নিজেদের ও আরোহী পশুর জন্য প্রচুর পানি কূপ থেকে বের করলাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৪৫

হাদীস নং ৩৮৪৫

ফাযল ইবনে ইয়াকুব রহ………….আবু ইসহাক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে বারা ইবনে আযিব রা. সংবাদ দিয়েছেন যে, হুদায়বিয়ার যুদ্ধের দিন তাঁরা চৌদ্দশ কিংবা তার চেয়েও অধিক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন।

তখন তারা একটি কূপের পার্শ্বে অবতরণ করেন এবং তা থেকে পানি উত্তোলন করতে থাকেন। (এতে সব পানি নিঃশেষ হয়ে যায়) তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম­-এর কাছে এসে এ সংবাদ জানালেন।

তখন তিনি কূপটির কাছে এসে এর পাড়ে বসলেন। এরপর বললেন, আমার কাছে এই কূপের এক বালতি পানি নিয়ে আস। তখন তা নিয়ে দেয়া হল। তিনি এতে থুথু ফেললেন এবং দোয়া করলেন।

এরপর তিনি বললেন, এ থেকে কিছুক্ষণের জন্য তোমরা পানি উঠানো বন্ধ রাখ। এরপর সকলেই নিজেদের ও আরোহী জীবসমূহের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি সংগ্রহ করলেন এবং পরে চলে গেলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৪৬

হাদীস নং ৩৮৪৬

ইউসুফ ইবনে ঈসা রহ…………জাবির রা. থেকে বর্ণিত ,তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার দিন লোকেরা পিপাসার্ত হয়ে পড়লেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি চর্ম পাত্র ভর্তি পানি ছিল মাত্র।

তিনি তা দিয়ে ওযু করলেন। তখন লোকেরা তাঁর প্রতি এগিয়ে আসলে তিনি তাদেরকে বললেন, কি হয়েছে তোমাদের ? তারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনার চর্ম পাত্রের পানি ব্যতীত আমাদের কাছে এমন কোন পানি নেই যার দ্বারা আমরা ওযু করব এবং যা আমরা পান করব।

রাবী জাবির রা. বলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুবারক হাতখানা ঐ চর্ম পাত্রে রাখলেন। অমনি তার আঙ্গুগুলোর মধ্যস্থল থেকে ঝরনাধারর মত পানি উথলিতে উঠতে লাগল।

জাবির রা. বলেন, আমরা সে পানি পান করলাম এবং তা দিয়ে ওযু করলাম। (সালিম রহ. বলেন) আমি জাবির রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা সেদিন কত জন লোক ছিলেন?

তিনি বললেন, আমাদের সংখ্যা এক লাখ হলেও এ পানিই আমাদের জন্য যথেষ্ট হত। আমরা ছিলাম তখন পনেরশ লোক মাত্র।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮৪৭

হাদীস নং ৩৮৪৭

সালত ইবনে মুহাম্মদ রহ…………কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব রা.-কে বললাম, আমি শুনতে পেয়েছি যে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা বলতেন, তাঁরা (হুদায়বিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবাদের সংখ্যা) চৌদ্দশ ছিল।

সাঈদ রা. আমাকে বললেন, জাবির রা. আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, হুদায়বিয়ার যুদ্ধে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন, তাদের সংখ্যা ছিল পনেরশ।

আবু দাউদ কুররা রহ.-এর মাধ্যমে কাতাদা রহ. থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ.-ও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ রহ. (অন্য সনদে) শুবা রহ. থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৪৮

হাদীস নং ৩৮৪৮

আলী রহ………….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার যুদ্ধের দিন আমাদেরকে বলেছেন, পৃথিবীবাসীদের মধ্যে তোমরাই সর্বোত্তম।

সেদিন আমরা ছিলাম চৌদ্দশ। আজ আমি যদি দেখতাম, তাহলে আমি তোমাদেরকে সে বৃক্ষ-স্থানটি দেখিয়ে দিতাম। আমাশ রহ. হাদীসটি সালিম রা.-এর মাধ্যমে জাবির রা. থেকে সুফয়ান রহ.-এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ হুদায়বিয়ার সন্ধির দিন সাহাবীদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দশ।

উবায়দুল্লাহ ইবনে মুআয রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে আবু আউফারহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, গাছের নিচে বায়আত গ্রহণকারীদের সংখ্যা ছিল তেরশ। সৈন্যদের মধ্যে আসলাম গোত্রের সাহাবীগণের সংখ্যা ছিল মুহাজিরগণের মোট সংখ্যার-এ অষ্টমাংশ।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৪৯

হাদীস নং ৩৮৪৯

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ…………কায়েস রহ. থেকে বর্ণিত যে, তিনি হুদায়বিয়ার সন্ধির দিন বৃক্ষের নিচে বায়আত গ্রহণকারী সাহাবী মিরদাস আসলামীকে বলতে শুনেছে যে, পূণ্যবান লোকদেরকে একের পর এক উঠিয়ে নেওয়া হবে।

এরপর অবশিষ্ট থাকবে খেজুর ও যবের ছালের মত কতিপয় নিম্নস্তরের লোক, যাদের কোন পরোয়া আল্লাহ করবেন না।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৫০

হাদীস নং ৩৮৫০

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………মারওয়ান এবং মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ই বলেছেন যে, হুদায়বিয়ার বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এব হাজারেরও অধিক সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে মদীনা থেকে যাত্রা করলেন।

যুল-হুলায়ফা নামক স্থানে পৌঁছে তিনি কুরবানীর পশুর গলায় কিলাদা বাঁধলেন, (কুরবানীর পশুর) কুজ কাটলেন এবং সেখান থেকে ইহরাম বাঁধলেন।

(রাবী) বলেন, এ হাদীস সুফিয়ান থেকে কতবার শুনেছি তার সংখ্যা আমি নির্ণয় করতে পারছি না। পরিশেষে তাকে বলতে শুনেছি, যুহরীথেকে কুরবানীর পশুর গলায় কিলাদা বাঁধা এবং ইশআর করার কথা আমার স্মরণ নেই।

রাবী আলী ইবনে আবদুল্লাহ বলেন, সুফিয়ান এ কথা বলে কি বোঝাতে চেয়েছে তা আমি জানি না। তিনি কি এ কথা বলতে চেয়েছেন যে, যুহরী থেকে ইশআর ও কিলাদা কথা তাঁর স্মরণ নেই, না পুরা হাদীসটি স্মরণ না থাকার কথা বলতে চেয়েছেন?

বুখারি হাদিস নং ৩৮৫১

হাদীস নং ৩৮৫১

হাসান ইবনে খালীফ রহ………..কাব ইবনে উজরা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এমতাবস্থায় দেখলেন যে, উকুন (তার মাথা থেকে) মুখমণ্ডলে ঝরে পড়ছে।

তখন তিনি বললেন, কীটগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ায় অবস্থানকালে তাঁর মাথা মুণ্ডিয়ে ফেলার জন্য নির্দেশ দেন।

তখন সাহাবীগণ মক্কা প্রবেশ করার জন্য খুবই উদগ্রীব হয়ে উঠেছিলেন। হুদায়বিয়াতেই তাদেরকে হালাল হয়ে যেতে হবে এ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে বর্ণনা করেননি।

তাই আল্লাহ ফিদইয়ার হুকুম নাযিল করলেন। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ছয়জন মিসকীনকে এক ফারাক (প্রায় বারো সের) খাদ্য খাওয়ানোর অথবা একটি বকরী কুরবানী করার অথবা তিন দিন রোযা পালন করার নির্দেশ দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৫২

হাদীস নং ৩৮৫২

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………..আসলাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি উমর ইবনে খাত্তাব রা.-এর সঙ্গে বাজারে বের হলাম।

সেখানে একজন যুবতী মহিলা তাঁর সাথে সাক্ষাত করে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন, আমার স্বামী ছোট ছোট বাচ্চা রেখে ইন্তিকাল করেছেন। আল্লাহর কসম, তাদের আহারের জন্য পাকানোর মত কোন বকরীর খুরাও নেই এবং নেই কোন ফসলের ব্যবস্থা ও দুধেল উট, বকরী।

পোকা তাদেরকে খেয়ে ফেলবে বলে আমর আশংকা হচ্ছে অথচ আমি হলাম খুফাফ ইবনে আয়মা গিফারীর কন্যা। আমার পিতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হুদায়বিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

এ কথা শুনে উমর রা. তাকে অতিক্রম না করে পার্শ্বে দাঁড়ালেন। এরপর বললেন, তোমার গোত্রকে ধন্যবাদ। তাঁরা তো আমার খুব নিকটেরই মানুষ ।

এরপর তিনি বাড়িতে এসে আস্তাবল বাঁধা উটের থেকে একটি মোটা তাজা উট এনে দুই বস্তা খাদ্য এবং এর মধ্যে কিছু নগদ অর্থ ও বস্ত্র রেখে এগুলো উক্ত উটের পৃষ্ঠে উঠিয়ে দিয়ে মহিলার হাতে এর লাগাম দিয়ে বললেন, তুমি এটি টেনে নিয়ে যাও। এগুলো শেষ হওয়ার পুর্বেই হয়তো আল্লাহ তোমাদের জন্য এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করবেন।

তখন এক ব্যক্তি বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি তাকে খুব বেশী দিলেন। উমর রা. বললেন, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক।

আল্লাহর কসম, আমি দেখেছি এ মহিলার আব্বা ও ভাই দীর্ঘদিন পর্যন্ত একটি দুর্গ অবরোধ করে রেখেছিলেন এবং পরে তা জয়ও করেছিলেন।

এরপর ঐ দুর্গ থেকে অর্জিত তাদের অংশ থেকে আমরাও যুদ্ধলব্ধ সম্পদের দাবি করি (এবং কিছু অংশ আমরা নিজেরা গ্রহণ করি এবং কিছু অংশ তাদেরকে দেই)।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৫৩

হাদীস নং ৩৮৫৩

মুহাম্মদ ইবনে রাফি রহ…………..মুসায়্যিব (ইবনে হুযন) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (যে বৃক্ষের নিচে বায়আত গ্রহণ করা হয়েছিল) আমি সে বৃক্ষটি দেখেছিলাম।

কিন্তু এরপর যখন সেখানে আসলাম তখন আর তা চিনতে পারলাম না। মাহমুদ রহ. বলেন, (মুসায়্যিব ইবনে হুযন বলেছেন) পরে তা আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮৫৪

হাদীস নং ৩৮৫৪

মাহমূদ রহ…………….তারিক ইবনে আবদুর রহমান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হজ্জ করতে যাওয়ার পথে নামাযরত এক কাওমের নিকট দিয়ে রাস্তা অতিক্রম করার সময় তাদেরকে বললাম, এ জায়গাটি কিরূপ নামাযের স্থান?

তাঁরা বললেন, এটা সেই বৃক্ষ যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়আতে রিদওয়ান গ্রহণ করেছিলেন। এরপর আমি সাঈদ ইবনে মুসায়িব্য রহ-এর কাছে গেলাম এবং এ ব্যাপারে তাকে সংবাদ দিলাম। এ ব্যাপারে তাকে সংবাদ দিলাম।

তখন সাঈদ (ইবনে মুসায়্যিব) রহ. বললেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, বৃক্ষটির নিচে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। মুসায়্যিব রা. বলেছেন, পরবর্তী বছর আমরা যখন সেখানে গেলাম তখন আমরা আর ঐ বৃক্ষটিকে নির্দিষ্ট করতে পারলাম না।

আমাদেরকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সাঈদ রহ. বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ (এখানে উপস্থিত হয়ে বায়আত গ্রহণ করা সত্ত্বেও) তা চিনতে পারলেন না আর তোমরা তা চিনে ফেলেছ? তাহলে তোমরা কি তাদের চেয়েও অধিক বিজ্ঞ?

বুখারি হাদিস নং ৩৮৫৫

হাদীস নং ৩৮৫৫

মূসা রহ………..মুসায়্যিব রা. থেকে বর্ণিত, বৃক্ষের নিচে যারা বায়আত গ্রহণ করেছিলেন তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। তিনি বলেন, পরবর্তী বছর আমরা আবার সে গাছের স্থানে উপস্থিত হলে আমরা গাছটিকে চিনতে পারলাম না। গাছটি আমাদের কাছে সন্দেহপূর্ণ হয়ে গেল।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৫৬

হাদীস নং ৩৮৫৬

কাবীসা রহ……….তারিক রহ. থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব রা.-এর কাছে সে গাছটির কথা উল্লেখ করা হলে তিনি হেসে বললেন, আমার পিতা আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি বৃক্ষের নিচে বায়আতে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৫৭

হাদীস নং ৩৮৫৭

আদম ইবনে আবু ইয়াস রহ………..আমর ইবনে মুররা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বৃক্ষের নিচে বায়আতকারী সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আবু আউফাকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বর্ণনা করেছেন, কোন কাওম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সাদকার অর্থ নিয়ে আসলে তিনি তাদের জন্য দোয়া করে বলতেন, ‘হে আল্লাহ আপনি তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন’।

এ সময় আমার পিতা তাঁর কাছে সাদকার অর্থ নিয়ে আসলে তিনি বললেন, হে আল্লাহ ! আপনি আবু আউফার বংশধরদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৫৮

হাদীস নং ৩৮৫৮

ইসমাঈল রহ………….আব্বাদ ইবনে তামীম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাররার ঘটনার দিন যখন লোকজন আবদুল্লাহ ইবনে হানযালা রা.-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করছিলেন, তখন ইবনে যায়েদ রা. জিজ্ঞাসা করলেন, ইবনে হানযালা রা. লোকদেরকে কিসের উপর বায়আত গ্রহণ করেছেন?

তখন তাকে বলা হল, মৃত্যুর উপর বায়আত গ্রহণ করেছেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে এ ব্যাপারে আমি আর কারো উপর বায়আত গ্রহণ করব না। তিনি হুদায়বিয়ার সন্ধিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮৫৯

হাদীস নং ৩৮৫৯

ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ালা মুহারিবী রহ………….ইয়াস ইবনে সালামা ইবনে আকওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বৃক্ষের নিচে অনুষ্ঠিত বায়আতে অংশগ্রহণকারী আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে জুমআর নামায আদায় করে যখন বাড়ি ফিরতাম তখনও প্রাচীরের নিচে ছায়া পড়ত না, যার ছায়ায় বসে আরাম করা যায়।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৬০

হাদীস নং ৩৮৬০

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..ইয়াযীদ ইবনে আবু উবাইদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সালামা ইবনে আকওয়া রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, হুদায়বিয়ার দিন আপনারা কিসের উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়আত করেছিলেন। তিনি বললেন, মৃত্যুর উপর।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৬১

হাদীস নং ৩৮৬১

আহমদ ইবনে আশকা রহ……….মুসায়্যিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি বারা ইবনে আযিব রা.-এর সাথে সাক্ষাত করে তাকে বললাম, আপনার জন্য সুসংবাদ, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং বৃক্ষের নিচে তাঁর হাতে বায়আতও করেছেন।

তখন তিনি বললেন, ভাতিজা তুমি তো জান না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর আমরা কি করেছি।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৬২

হাদীস নং ৩৮৬২

ইসহাক রহ…………..আবু কিলাবা রহ. থেকে বর্ণিত যে, সাবিত ইবনে দাহহাক রা. তাকে জানিয়েছেন, তিনি গাছের নিচে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়আত করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৬৩

হাদীস নং ৩৮৬৩

আহমদ ইবনে ইসহাক রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়”। তিনি বলেন, এ আয়াতটিতে ‘সুস্পষ্ট বিজয়’ বলে হুদায়বিয়ার সন্ধিকেই বোঝানো হয়েছে।

(আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ বললেন, (আপনার জন্য তো) এটা খুশী ও আনন্দের ব্যাপার। কিন্তু আমাদের জন্য কিছু আছে কি? তখন আল্লাহ তায়ালা নাযিল করলেন, “এটা এ জন্য যে, তিনি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীগণকে দাখিল করবেন জান্নাতে”।

শুবা রহ. বলেন, এরপর আমি কুফায় পৌঁছলাম এবং কাতাদা থেকে হাদীসটির সবটুকু বর্ণনা করলাম, এরপর কুফা থেকে ফিরে সে কাতাদাকে সবকিছু জানালে তিনি বললেন, إنا فتحنا لك (এর অর্থ হুদায়বিয়ায় অনুষ্ঠিত বায়আতে রিদওয়ান) আয়াতখানা আনাস থেকে বর্ণিত। আর هنيئا مريئا কথাটি ইকরামা রা. থেকে বর্ণিত।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৬৪

হাদীস নং ৩৮৬৪

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..মাজযা ইবনে যাহির আসলামী রহ.-এর পিতা “যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে হুদায়বিয়ার গাছের নিচে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন” তাঁর থেকে বর্ণিত,

তিনি বলেন, একদা আমি ডেকচিতে করে গাধার গোশত পাকাতে ছিলাম, এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে তাঁর মুনাদী (ঘোষক আবু তালহা) ঘোষণা দিয়ে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

(অন্য এক সনদে) মাজযা রহ……… অপর এক ব্যক্তি থেকে অর্থাৎ বৃক্ষের নিচে অনুষ্ঠিত বায়আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী সাহাবী উহবান ইবনে আউস রা. থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

তাঁর (উহবান ইবনে আউস রা.) এর হাঁটুতে আঘাত লেগেছিল। তাই তিনি নামায আদায় করার সময় হাঁটুর নিচে বালিশ রাখতেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৬৫

হাদীস নং ৩৮৬৫

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………….গাছের নিচে অনুষ্ঠিত বায়আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী সাবাহী সুওয়াইদ ইবনে নুমান রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের জন্য ছাতু আনা হত।

তাঁরা পানিতে গুলিয়ে তা খেয়ে নিতেন। মুআয রহ. শুবা রহ. থেকে ইবনে আবু আদী রহ. বর্ণিত, হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৬৬

হাদীস নং ৩৮৬৬

মুহাম্মদ ইবনে হাতিম ইবনে বাযী রহ………..আবু জামরা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, গাছের নিচে অনুষ্ঠিত বায়আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী আয়েয ইবনে আমর রা.-কে আম জিজ্ঞাসা করলাম, বিতর নামায কি দ্বিতীয়বার আদায় করা যাবে?

তিনি বললেন, রাতের প্রথম একবার বিতর আদায় করে থাকলে দ্বিতীয়বার রাতের শেষে আর আদায় করবে না।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৬৭

হাদীস নং ৩৮৬৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………আসলাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন এক সফরে রাত্রিকালে চলছিলেন।

এ সফরে উমর রা.-ও তাঁর সাথে চলছিলেন। এক সময় উমর ইবনে খাত্তাব রা. তাকে কোন এক বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন উত্তর করলেন না। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, তবুও তিনি তাকে কোন জবাব দিলেন না। এরপর আবার তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এবারও তার কোন উত্তর দিলেন না।

তখন উমর ইবনে খাত্তাব রা. নিজেকে লক্ষ্য করে মনে মনে বললেন, হে উমর ! তোমাকে তোমায় মা হারিয়ে ফেলুক। তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনবার পীড়াপীড়ি করলে।

কিন্তু কোন বারই তিনি তোমাকে উত্তর দেননি। উমর রা. বললেন, এরপর আমি আমার উটকে তাড়া দিয়ে মুসলমানদের সামনে চলে যাই। কারণ আমি আশংকা করছিলাম যে, হয়তো আমার সম্পর্কে কুরআন শরীফের কোন আয়াত অবতীর্ণ হতে পারে।

এ কথা বলে আমি বেশী দেরি করিনি এমতাবস্থায় শুনতে পেলাম এক ব্যক্তি চীৎকার করে আমাকে ডাকতে শুরু করলেন। উমর রা. বলেন, আমি বললাম, আমার সম্পর্কে হয়তো কুরআন নাযিল হয়েছে। এ মনে করে আমি ভীত হয়ে পড়লাম।

এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাকে সালাম করলাম। তখন তিনি বললেন, আজ রাতে আমার প্রতি এমন একটি সূরা নাযিল হয়েছে যা আমার কাছে সূর্য উদিত পৃথিবী থেকেও অধিক প্রিয়।

তারপর তিনি “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি” তিলাওয়াত করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৬৮

হাদীস নং ৩৮৬৮

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..মিসওয়ার ইবনে মাখরামা ও মারওয়ান ইবনে হাকাম রা. থেকে বর্ণিত, তাঁরা একে অন্যের চেয়ে অধিক বর্ণনা করেছেন।

তারা উভয়ে বলেন, হুদায়বিয়ার বছর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাজারের অধিক সাহাবী সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। তাঁরা যুল হুলায়ফা পৌঁছে কুরবানীর পশুর গলায় কিলাদা বাঁধলেন, ইশআর করলেন।

সেখান থেকে উমরার জন্য ইহরাম বাঁধলেন, এবং খুযাআ গোত্রের এক ব্যক্তিকে গোয়েন্দা হিসেবে পাঠালেন। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও সেদিকে রওয়ানা হলেন।

যেতে যেতে গাদীরুল আশতাত নামক স্থানে পৌঁছার পর প্রেরিত গোয়েন্দা এসে তাকে বলল, কুরাইশরা বিরাট সৈন্যদল নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে প্রস্তুত হয়ে আছে।

তারা আপনার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বিভিন্ন গোত্র থেকে এসে আশতাত নামক স্থানে জমায়েত হয়েছে। তারা আপনার বিরুদ্ধে লড়াই করবে এবং বায়তুল্লাহর যিয়ারতে বাঁধা দিবে ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।

তখন তিনি বললেন, হে লোক সকল, তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও এবং বল, যারা আমাদেরকে বায়তুল্লাহর যিয়ারতে বাঁধা দেয়ার ইচ্ছা করছে, আমি কি তাদের পরিবারবর্গ এবং সন্তান-সন্তুতিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ব?

তারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সংকল্প করে থাকলে আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবেন, যিনি মুশরিকদের থেকে একজন গোয়েন্দাকে নিরাপদে ফিরিয়ে এনেছেন। আর যদি তারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই না করে তাহলে আমরা তাদের পরিবার এবং অর্থ-সম্পদ থেকে বিরত থাকব এবং তাদেরকে তাদের পরিবার ও অর্থ সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেব।

তখন আবু বকর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি তো বায়তুল্লাহর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে এখানে এসেছেন, কাউকে হত্যা করা এবং কারো সাথে লড়াই করার উদ্দেশ্যে তো এখানে আসেননি।

তাই বায়তুল্লাহর দিকে অগ্রসর হোন। যে আমাদেরকে তা থেকে বাঁধা দিবে আমরা তার সাথে লড়াই করব। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (ঠিক আছে) চলো আল্লাহর নামে।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮৬৯

হাদীস নং ৩৮৬৯

ইসহাক রহ…………..উরওয়া ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি মারওয়ান ইবনে হাকাম এবং মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. উভয়ের থেকে হুদায়বিয়ায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উমরা আদায় করার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছেন।

তাদের থেকে উরওয়া রা. আমার নিকট যা বর্ণনা করেছেনত তা হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুহায়ল ইবনে আমরকে হুদায়বিয়ার দিন সন্ধিনামায় যা লিখিয়েছিলেন তার মধ্যে সুহায়ল ইবনে আমরের আরোপিত শর্তসমূহের মধ্যে একটি শর্ত এই : আমাদের থেকে যদি কেউ আপনার কাছে চলে আসে তবে সে আপনার দীনে বিশ্বাসী হলেও তাকে আমাদের কাছে ফেরত দিয়ে দিতে হবে এবং তার ও আমাদের মধ্যে আপনি কোন বাঁধা সৃষ্টি করতে পারবে না।

এ শর্ত মেনে না নিলে সুহায়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সন্ধি করতেই অস্বীকৃতি প্রকাশ করে। এ শর্তটিকে মুমিনগণ অপছন্দ করলেন এবং এতে তারা অত্যন্ত মনক্ষুন্ন হলেন ও এর বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করলেন।

কিন্তু যখন সুহায়ল এ শর্ত ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে চুক্তি সম্পাদনে অস্বীকৃতি জানাল তখন এ শর্তের উপরই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সন্ধিপত্র লেখালেন। এবং আবু জানদাল ইবনে সুহায়ল রা.-কে এ মুহূর্তেই তার পিতা সুহায়ল ইবনে আমরের কাছে ফিরিয়ে দিলেন।

সন্ধির মেয়াদকালে পুরুষদের মধ্যে যারাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে চলে আসতেন, মুসলমান হলেও তিনি তাদেরকে ফিরিয়ে দিতেন। এ সময় কিছুসংখ্যক মুসলিম মহিলা হিজরত করে চলে আসেন। উম্মে কুলছুম বিনতে উকবা আবু মুআইত রা. ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি হিজরতকারীনী একজন যুবতী মহিলা।

তিনি হিজরত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে পৌঁছলে তার পরিবারের লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানালো। এসময় আল্লাহ পাক মুমিন মহিলাদের সম্পর্কে যা নাযিল করার তা নাযিল করলেন।

বর্ণনাকারী ইবনে শিহাব রহ………… বলেন, আমাকে উরওয়া ইবনে যুবাইর রা বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা রা. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিন্মেক্ত আয়াতের নির্দেশ অনুযায়ী হিজরতকারিণী মুমিন মহিলাদেরকে পরীক্ষা করতেন। আয়াতটি হল এই : হে নবী !

মুমিন মহিলাগণ যখন আপনার নিকট আসে………(শেষ পর্যন্ত (৬০ : ১২) (অন্য সনদে) ইবনে শিহাব রহ. তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে এ বিবরণও পৌঁছেছে যে, যখন আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুশরিক স্বামীর তরফ থেকে হিজরতকারী মুসলমান স্ত্রীকে দেওয়া মুহারানা মুশরিক স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

আর আবু বাসীর রা.-এর ঘটনা সম্বলিত হাদীসও আমাদের নিকট পৌঁছেছে। এরপর তিনি আবু বাসীর রা.-এর ঘটনা সম্বলিত হাদীসটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৭০

হাদীস নং ৩৮৭০

কুতাইবা রহ…………….নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, ফিতনার যমানায় (হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের মক্কা আক্রমণের সময়) আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. উমরা পালন করার নিয়তে রওয়ানা হয়ে বললেন, যদি আমাকে বায়তুল্লাহর যিয়ারতে বাঁধা প্রদান করা হয় তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমরা যা করেছিলাম এ ক্ষেত্রেও আমরা তাই করব।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু হুদায়বিয়ার বছর উমরার ইহরাম বেঁধে যাত্রা করেছিলেন তাই তিনিও উমরার ইহরাম বেঁধে যাত্রা করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৭১

হাদীস নং ৩৮৭১

মুসাদ্দাদ রহ………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, ফিতনার বছর তিনি (উমরার) ইহরাম বেঁধে বললেন, যদি আমার আর তার (যিয়ারতে বায়তুল্লাহর) মধ্যে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় তাহলে কুরাইশ কাফেররা বায়তুল্লাহর যিয়ারতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছিলেন আমিও ঠিক তাই করব।

এবং তিনি তিলাওয়াত করলেন, “তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ”।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮৭২

হাদীস নং ৩৮৭২

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসমা ও মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ রা.-এর কোন ছেলে তাকে লক্ষ্য করে বলেন, এ বছর আপনি মক্কা শরীফ যাওয়া স্থগিত রাখলেই উত্তম হত। কারণ আমি আশংকা করছি যে, আপনি বায়তুল্লাহ শরীফ যেতে পারবেনা না।

তখন আবদুল্লাহ রা. বললেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা হয়েছিলাম। পথে কুরাইশ কাফেররা বায়তুল্লাহর যিয়ারতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কুরবানীর পশুগুলো যবেহ করে মাথা কামিয়ে ফেললেন। সাহাবীগণ চুল ছাঁটলেন।

(এরপর তিনি বললেন,) আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমার জন্য উমরা আদায় করা আমি ওয়াজিব করে নিয়েছি। যদি আমার ও বায়তুল্লাহর মধ্যে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা না হয় তাহলে আমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করব।

আর যদি আমার ও বায়তুল্লাহর মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন আমি তাই করব।

এরপর তিনি কিছুক্ষণ পথ চলে বললেন, আমি হজ্জ এবং উমরার বিষয়টি একই মনে করি। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আমার হজ্জকেও উমরার সাথে আমার জন্য ওয়াজিব করে নিয়েছি।

এরপর তিনি উভয়ের জন্য একই তাওয়াফ এবং একই সায়ী করলেন এবং হজ্জ ও উমরার ইহরাম খুলে ফেললেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৭৩

হাদীস নং ৩৮৭৩

শুজা ইবনে ওয়ালীদ রহ………..নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকজন বলে থাকে যে, ইবনে উমর রা. উমর রা.-এর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। অথচ ব্যাপারটি এমন নয়।

তবে (মূল ঘটনা ছিল এই যে) হুদায়বিয়ার দিন উমর রা. (তাঁর পুত্র) আবদুল্লাহ রা.-কে এক আনসারী সাহাবার কাছে রাখা তাঁর ঘোড়াটি আনার জন্য পাঠিয়েছিলেন, যাতে তিনি এর উপর আরোহণ করে লড়াই করতে পারেন। এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃক্ষের কাছে (লোকদের) বায়আত গ্রহণ করছিলেন।

বিষয়টি উমর রা. জানতেন না। আবদুল্লাহ রা. তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। এ সময় উমর রা. যুদ্ধের পোশাক পরিধান করছিলেন।তখন আবদুল্লাহ রা. তাকে জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাছের নিচে বায়আত গ্রহণ করছেন।

রাবী বলেন, তখন উমর রা. (আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.) সাথে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করলেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতেই লোকেরা এ কথা বলাবলি করছে যে, ইবনে উমর রা. উমর রা.-এর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

(অন্য সনদে) হিশাম ইবনে আম্মার রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, হুদায়বিয়ার সন্ধির দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঘিরে দাঁড়ালে উমর রা. তার পুত্র আবদুল্লাহ রা.-কে বললেন, হে আবদুল্লাহ !

দেখতো মানুষের কি হয়েছে? তাঁরা এভাবে ভিড় করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে কেন? ইবনে উমর রা. দেখতে পেলেন যে, তাঁরা বায়আত গ্রহণ করছেন।

তাই তিনিও বায়আত গ্রহণ করলেন। এরপর উমর রা.-এর কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, তিনিও রওয়ানা করে এসে বায়আত গ্রহণ করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৭৪

হাদীস নং ৩৮৭৪

ইবনে নুমাইর রহ…………..আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন উমরাতুল কাযা আদায় করেন, তখন আমরাও তাঁর সাথে ছিলাম।

তিনি তাওয়াফ করলেন আমরাও তাঁর সঙ্গে তাওয়াফ করলাম। তিনি নামায আদায় করলে আমরাও তাঁর সঙ্গে নামায আদায় করলাম।

তিনি সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ী করলেন। মক্কাবাসীদের কেউ যাতে কোন কিছুর দ্বারা তাকে আঘাত করতে না পারে সেজন্য সর্বদা আমরা তাকে আড়াল করে রাখতাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৭৫

হাদীস নং ৩৮৭৫

হাসান ইবনে ইসহাক রহ…………..আবু হাসীন রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু ওয়াইল রহ. বলেছেন যে, সাহল ইবনে হুনাইফ রা. যখন সিফফীন যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন তখন যুদ্ধের খবরাখবর জানার জন্য আমরা তাঁর কাছে আসলে তিনি বললেন, নিজেদের মতামতকে সন্দেহযুক্ত মনে করবে।

আবু জানদাল রা.-এর ঘটনার দিন আমি আমাকে (আল্লাহর পথে) দেখতে পেয়েছিলাম। সেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ আমি উপক্ষো করতে পারলে উপেক্ষা করতাম।

কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক জ্ঞাত। আর কোন দুঃসাধ্য কাজের জন্য আমরা যখন তরবারি হাতে নিয়েছি তখন তা আমাদের জন্য অত্যন্ত সহজবোধ্য হয়ে গিয়েছে।

এ যুদ্ধের পূর্বে আমরা যত যুদ্ধ করেছি তার সবগুলোকে আমরা নিজেদের জন্য কল্যাণকর মনে করেছি। কিন্তু এ যুদ্ধের অবস্থা এই যে, আমরা একটি সমস্যা সামাল দিতে না দিতেই আরেকটি নতুন সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু কোন সমাধানের পথ আমাদের জানা নেই।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮৭৬

হাদীস নং ৩৮৭৬

সুলাইমান ইবনে হারব রহ…………কাব ইবনে উজরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার সন্ধিকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলেন।

সে সময় আমার মাথার চুল থেকে উকুন ঝরে ঝরে আমার মুখমণ্ডলে পড়ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার মাথার এ উকুন তোমাকে কি কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তুমি মাথা মুণ্ডিয়ে ফেল।

আর এ জন্য তিন দিন রোযা পালন কর অথবা ছয়জন মিসকিনকে খানা খাওয়াও অথবা একটি পশু কুরবানী কর। আইয়্যূব রহ. বলেন, এ তিনটির থেকে কোনটির কথা আগে বলেছিলেন তা আমি জানি না।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৭৭

হাদীস নং ৩৮৭৭

মুহাম্মদ ইবনে হিশাম আবু আবদুল্লাহ রহ………..কাব ইবনে উজরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুদায়বিয়ায় অবস্থানকালে মুহরিম অবস্থায় আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম।

মুশরিকরা আমাদেরকে আটকে রেখেছিল। কাব ইবনে উজরা রা. বলেন, আমার কান পর্যন্ত মাথায় বাবরী চুল ছিল। (মাথার চুল থেকে) উকুনগুলো আমার মুখমণ্ডলের উপর ঝরে ঝরে পড়ছিল। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।

তখন তিনি বললেন, তোমরা মাথার এ উকুনগুলো তোমাকে কি কষ্ট দিচ্ছে ? আমি বললাম, হ্যাঁ। কাব ইবনে উজরা রা. বলেন, এরপর আয়াত নাযিল হল, তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় কিংবা তার মাথায় ক্লেশ থাকে তবে রোযা কিংবা সাদকা অথবা কুরবানীর দ্বারা তার ফিদইয়া আদায় করবে। (২: ১৯৬)

বুখারি হাদিস নং ৩৮৭৮ – উকল ও উরায়না গোত্রের ঘটনা।

হাদীস নং ৩৮৭৮

আবদুল আলা ইবনে হাম্মদ রহ………….কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত যে, আনাস রা. তাদেরকে বলেছেন, উকল এবং উরায়না গোত্রের কতিপয় লোক মদীনাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে কালেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করল। এরপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, হে আল্লাহর নবী !

আমরা দুগ্ধপানে অভ্যস্ত লোক, আমরা কৃষক নই। তারা মদীনার আবহাওয়া তাদের নিজেদের জন্য অনুকূল বলে মনে করল না। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে একজন রাখালসহ কতগুলো উট দিয়ে মদীনার বাইরে মাঠে চলে যেতে এবং ঐগুলোর দুধ ও পেশাব পান করার নির্দেশ দিলেন।

তারা যেতে যেতে হাররা নামক স্থানে পৌঁছে ইসলাম ত্যাগ করে পুনরায় কাফের হয়ে যায়। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাখাল (ইয়াসার)-কে হত্যা করে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে যায়।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ সংবাদ পৌঁছলে তিনি তাদের অনুসন্ধানে তাদের পিছনে লোক পাঠিয়ে দেন। (তাদের পাকড়াও করে আনা হলে) তিনি তাদের প্রতি কঠিন দণ্ডাদেশ প্রদান করলেন।

সাহাবীগণ লৌহ শলাকা দিয়ে তাদের চক্ষু উৎপাটিত করে দিলেন এবং তাদের হাত কেটে দিলেন। এরপর হাররা এলাকার এক প্রান্তে তাদেরকে ফেলে রাখা হল। অবশেষে তাদের এ অবস্থায়ই তারা মারা গেল। কাতাদা রা. বলেন, এ ঘটনার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই লোকজনকে সাদকা প্রদান করার জন্য উৎসাহিত করতেন এবং মুসলা থেকে বিরত রাখতেন।

শুবা, আবান এবং হাম্মাদ রহ. কাতাদা রা. থেকে উরায়না গোত্রের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে আবু কাসীর ও আইয়্যূব রহ. আবু কিলাবা রহ.-এর মাধ্যমে আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উকল গোত্রের কতিপয় লোক নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসেছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৭৯

হাদীস নং ৩৮৭৯

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহীম রহ………….উমর ইবনে আবদুল আযীয রহ. থেকে বর্ণিত যে, একদিন তিনি লোকদের কাছে কাসমাত সম্পর্কে পরামর্শ জানতে চেয়ে বললেন, তোমরা এ কাসামা সম্পর্কে কি বল? তাঁরা বললেন, এটা সত্য এবং হক।

আপনার পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খলীফাগণ সকলেই কাসামাতের নির্দেশ দিয়েছেন। রাবী বলেন, এ সময় আবু কিলাবা র. উমর ইবনে আবদুল্লাহ রহ.-এর পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন।

তখন আম্বাসা ইবনে সাঈদ রহ. বললেন, উরায়না গোত্র সম্পর্কে আনাস রা.-এর হাদীসটি কোথায় এবং কে জান? তখন আবু কিলাবা রহ . বলেন, হাদীসটি আমার জানা আছে।

আনাস ইবনে মালিক রা. আমার কাছেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবদুল আযীয ইবনে সুহাইব রহ. আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আনাস ইবনে মালিক রা. উরায়না গোত্রের কিছু লোক কথা উল্লেখ করেছেন।

আর আবু কিলাবা রহ. আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে উকল গোত্রের কথা উল্লেখ করে ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৮০ – যাতুল কারাদের যুদ্ধ।

হাদীস নং ৩৮৮০

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ…………সালমা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) আমি ফজরের নামাযের আযানের পূর্বে (মদীনার বাইরে মাঠের দিকে) বের হলাম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুগ্ববতী উটগুলোকে যি-কারাদ নামক স্থানে চরানো হতো। সালমা রা. বলেন, তখন আমার সাথে আবদুর রাহমান ইবনে আউফ রা.-এর গোলামের সাক্ষাত হল। সে বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুগ্ধবতী উটগুলো লুণ্ঠিত হয়েছে।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কে ওগুলো লুণ্ঠন করেছে? সে বলল, গাতফানের লোকজন। তিনি বলেন, তখন আমি ইয়া সাবাহা বলে তিনবার উচ্চস্বরে চীৎকার দিলাম। আর মদীনার উভয় পর্বতের মধ্যবর্তী সকল অধিবাসীর কানে আমার এ চীৎকার শুনিয়ে দিলাম।

তারপর দ্রুতপদে সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে তাদের (শত্রুদের) কাছে পৌঁছে গেলাম। এ সময় তারা উটগুলোকে পানি পান করাতে আরম্ভ করেছিল।

আমি ছিলাম একজন দক্ষ তীরন্দাজ, তাই তখন তাদের দিকে তীর নিক্ষেপ করছিলাম আর বলছিলাম, আমি হলাম আকওয়া-এর পুত্র, আজকের দিনটি তোদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট। এভাবে শেষ পর্যন্ত আমি তাদের কাছ থেকে উটগুলোকে কেড়ে নিলাম এবং সে সঙ্গে তাদের ত্রিশখানা চাদরও কেড়ে নিলাম।

তিনি বললেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও অন্যান্য লোক সেখানে পৌঁছলে আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী ! কাফেলাটি পিপাসার্ত ছিল, আমি তাদেরকে পানি পান করতেও দেইনি।

আপনি এখনই এদের পিছু ধাওয়া করার জন্য সৈন্য প্রেরণ করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ইবনুল আকওয়া ! তুমি (তাদেরকে তাড়িয়ে দিতে) সক্ষম হয়েছ, এখন একটু শান্ত হও।

সালমা রা. বলেন, এরপর আমরা (মদীনার দিকে) ফিরে আসলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর উটনীর পেছনে বসালেন এবং এ অবস্থায় আমরা মদীনায় প্রবেশ করলাম।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮৮১ – খায়বারের যুদ্ধ।

হাদীস নং ৩৮৮১

আবদুল্লাহ ইবনে মাসালামা রহ…………সুওয়াইদ ইবনে নুমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি (সুওয়াইদ ইবনে নুমান) খায়বারের বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খায়বার অভিযানে বেরিয়েছিলেন।

(সুওয়াইদ রা. বলেন) যখন আমরা খায়বারের ঢালু এলাকার ‘সাহবা’ নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামায আদায় করলেন।

তারপর সাথে করে আনা খাবার পরিবেশন করতে হুকুম দিলেন। কিন্তু ছাতু ব্যতীত আর কিছুই দেওয়া সম্ভব হল না। তাই তিনি ছাতুগুলোকে গুলতে বললেন। ছাতুগুলোকে গুলানো হল।

এরপর (তা থেকে) তিনিও খেলেন, আমরাও খেলাম। তারপর তিনি মাগরিবের নামাযের জন্য উঠে পড়লেন এবং কুল্লি করলেন। আমরাও কুল্লি করলাম। তারপর তিনি নতুন ওযু না করেই নামায আদায় করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৮২

হাদীস নং ৩৮৮২

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ…………….সালমা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খায়বার অভিযানে বের হলাম।

আমরা রাতের বেলা পথ অতিক্রম করছিলাম, এমন সময় কাফেলার জনৈক ব্যক্তি আমির রা.-কে লক্ষ্য করে বলল, হে আমির ! তোমার সমর সঙ্গীত থেকে আমাদেরকে কিছু শোনাবে না কি? আমির রা. ছিলেন একজন কবি। তখন তিনি সাওয়ারী থেকে নেমে গেলেন এবং সঙ্গীতের তালে গোটা কাফেলা হাঁকিয়ে চললেন।

সঙ্গীতে তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আপনার তাওফীক না হলে আমরা হেদায়েত লাভ করতাম না, সাদকা দিতাম না আর নামায আদায় করতাম না।

তাই আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন। যতদিন আমরা বেঁচে থাকব ততদিন আপনার জন্য সমর্পিত-প্রাণ হয়ে থাকব। আর আমরা যখন শত্রুর মুকাবিলায় যাব তখন আপনি আমাদেরকে দৃঢ়পধ রাখুন এবং আমাদের উপর ‘সাকিনা’ (শান্তি) বর্ষণ করুন। আমাদেরকে যখন (কুফরের দিকে) সজোরে আওয়াজে ডাকা হয় আমরা তখন তা প্রত্যাখ্যান করি।

আর এ কারণে তারা চীৎকার দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে লোক জমা করে। (কবিতাগুলো শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাকে রহম করুন।

কাফেলার একজন বলল, হে আল্লাহর নবী ! তার জন্য (শাহাদত) নিশ্চিত হয়ে গেল। (আহ) আমাদেরকে যদি তার কাছ থেকে আরো উপকার হাসিল করার সুযোগ দিতেন। এরপর আমরা এসে খায়বার পৌঁছলাম এবং তাদেরকে অবরোধ করলাম। অবশেষে এক পর্যায়ে আমাদেরকে কঠিন ক্ষুধার জ্বালাও বরণ করতে হল।

কিন্তু পরেই মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাদের উপর বিজয় দান করলেন। বিজয়ের দিন সন্ধ্যায় মুসলমানগণ (রান্নাবান্নার জন্য) অনেক আগুন জ্বালালেন। (তা দেখে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, এ সব কিসের আগুন? তোমরা কি পাকাচ্ছ? তারা জানালেন, গোশত পাকাচ্ছি।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কিসের গোশত ? লোকজন উত্তর করলেন, গৃহপালিত গাধার গোশত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এগুলি ঢেলে দাও এবং ডেকচিগুলো ভেঙ্গে ফেল। একজন বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! গোশতগুলো ঢেলে দিয়ে যদি পাত্রগুলো ধুয়ে নেই তাতে যথেষ্ট হবে কি?

তিনি বললেন, তাও করতে পার। এরপর যখন সবাই যুদ্ধের জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গেলেন, আর আমির ইবনুল আকওয়া রা.-এর তরবানীখানা ছিল খাটো, তা দিযে তিনি জনৈক ইহূদীর পায়ের গোছায় আঘাত করলে তরবারীর তীক্ষ্ণ ভাগ ঘুরে গিয়ে তাঁর নিজের ঠিক হাঁটুতে লেগে পড়ে।

তিনি এ আঘাতের কারণে মারা যান। সালামা ইবনে আকওয়া রা. বলেন, তারপর সব লোক খায়বার থেকে প্রত্যাবর্তন শুরু করলে এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখে আমার হাত ধরে বললেন, কি খবর?

আমি বললাম, আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক। লোকজন ধারণা করছে যে, (স্বীয় হস্তের আঘাতে মারা যাওয়ার কারণে) আমির রা. -এর আমল বাতিল হয়ে গিয়েছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ কথা যে বলেছে সে ভুল বলেছে। র তাঁর দুটি আঙ্গুল একত্রিত করে সেদিকে ইঙ্গিত করে বললেন, বরং আমিরের রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।

অবশ্যই সে একজন কর্মতত্পর ব্যক্তি ও আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদ । তাঁর মত গুণসম্পন্ন আরবী খুব কমই আছে।

আরও পড়ুনঃ

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

পানি সিঞ্চন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বর্গাচাষ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ওয়াকালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

যামিন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

মন্তব্য করুন