যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ)

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

Table of Contents

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭৮৭

হাদীস নং ৩৭৮৭

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খুবাইব রা.-এর হত্যাকারী হল আবু সিরওয়া (উকবা ইবনে হারিস)।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৮৮

হাদীস নং ৩৭৮৮

আবু মামার রহ………….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক প্রয়োজনে সত্তরজন সাহাবীকে (এক জায়গায়) পাঠালেন, যাদের ক্বারী বলা হত।

বনী সুলাইম গোত্রের দুটি শাখা–রিল ও যাকওয়ান বিরে মাউনা নামক একটি কূপের নিকট তাদেরকে আক্রমণ করলে তাঁর বললেন, আল্লাহর কসম, আমরা তোমাদের সাথে লড়াই করার উদ্দেশ্যে আসিনি।

আমরা তো কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশীত একটি কাজের জন্য এ পথ দিয়ে যাচ্ছি। এতদসত্ত্বেও তারা তাদেরকে হত্যা করে দিল। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস পর্যন্ত ফজরের নামাযে তাদের জন্য বদদোয়া করলেন। এভাবেই কুনুত পড়া আরম্ভ হয়।

(রাবী বলেন : এর পূর্বে আমরা) কখনো আর কুনুত (এ নাযিলা) পড়িনি। আবদুল আযীয রহ. বলেন, এক ব্যক্তি আনাস রা. -কে জিজ্ঞাসা করলেন, কুনুত কি রুকুর পর পড়তে হবে না কিরাত শেষ করে পড়তে হবে? উত্তরে তিনি বললেন না কিরাত শেষ করে পড়তে হবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৮৯

হাদীস নং ৩৭৮৯

মুসলিম রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবের কয়েকটি গোত্রের প্রতি বদদোয়া করার জন্য নামাযে রুকুর পর কুনুত পাঠ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৯০

হাদীস নং ৩৭৯০

আবদুল আলা ইবনে হাম্মাদ রহ………….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, রিল, যাওয়অন উসায়্যা ও বনূ লিহইয়ানের লোকেরা শত্রু র মুকাবিলা কারার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলে সত্তরজন আনসারী সাহাবী পাঠিয়ে তিনি তাদেরকে সাহায্য করলেন।

সেকালে আমরা তাদেরকে ক্বারী নামে অভিহিত করতাম। তারা দিনের বেলা লাকড়ি কুড়াতেন এবং রাতের বেলা নামাযে কাটাতেন। যেতে যেতে তাঁরা বিরে মাউনার নিকট পৌঁছলে তারা (আমির ইবনে তোফায়লের আহবানে ঐ গোত্র চতুষ্টয়ের লোকেরা) তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং তাদেরকে শহীদ করে দেয়।

এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি এক মাস পর্যন্ত ফজরের নামাযে আরবের কতিপয় গোত্র তথা রিল, যাকওয়ান, উসায়্যা এবং বনূ লিহইয়ানের প্রতি বদদোয়া করে কুনূত পাঠ করেন। আনাস রা. বর্ণনা করেছেন যে, তাদের সম্পর্কি কিছু আয়াত পাঠ করতাম।

অবশ্য পরে এর তিলাওয়াত রহিত হয়ে যায়। (একটি আয়াত ছিল) অর্থাৎ “আমাদের কাওমের লোকদেরকে জানিয়ে দাও। আমরা আমাদের প্রভুর সান্নিধ্যে পৌঁছে গিয়েছি।

তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমাদেরকেও সন্তুষ্ট করেছেন”। কাতাদা রা. আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাকে বলেছেন, আল্লাহর নবী হযরত মুহাম্মদ সা. এক মাস পর্যন্ত ফজরের নামাযে আরবের কতিপয় গোত্র —তথা রিল, যাকওয়ান, উসায়্যা এবং বনূ লিহইয়ানের প্রতি বদদোয়া করে কুনুত পাঠ করেছেন।

(ইমাম বুখারী রহ.-এর উস্তাদ) খলীফা রহ. এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে যুরাই রহ. সাঈদ ও কাতাদা রা.-এর মাধ্যমে আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, যে ,তাঁরা ৭০ জন সকলেই ছিলেন আনসার।

তাদেরকে বিরে মাউনা নামক স্থানে শহীদ করা হয়েছিল। (ইমাম বুখারী রহ.) বলেন, এখানে “কুরআন” শব্দটি কিতাব বা অনুরূপ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭৯১

হাদীস নং ৩৭৯১

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী ৱসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মামা উম্মে সুলাইমানের (আনাসের মা) ভাই (হারাম ইবনে মিলহান রা.) কে সত্তরজন অশ্বারোহীসহ (আমির ইবনে তুফায়েলের নিকট) পাঠালেন।

মুশরিকদের দলপতি আমির ইবনে তুফায়েল (পূর্বে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনটি বিষয়ের যেকোন একটি গ্রহণ করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। সে বলেছিল, পল্লী এলাকায় আপনার কর্তৃত্ব থাকবে এবং শহর এলাকায় আমার কর্তৃত্ব থাকবে।

অথবা আমি আপনার খলীফা হব বা গাতফান গোত্রের দুই হাজার সৈন্য নিয়ে আমি আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। এরপর আমির উম্মে ফুলানের গৃহে মহামারিতে আক্রান্ত হল। সে বলল, অমুক গোত্রের মহিলার বাড়িতে উটের যেমন ফোড়া হয় আমরাও তেমন ফোঁড়া আক্রান্ত হল।

সে বলল, অমুক গোত্রের মহিলার বাড়িতে উটের যেমন ফোড়া হয় আমারও তেমন ফোঁড়া হয়েছে। তোমরা আমার ঘোড়া নিয়ে আস। তারপর (ঘোড়ায় আরোহণ করে) অশ্বপৃষ্ঠেই সে মৃত্যুবরণ করে। উম্মে সুলাইম রা.-এর ভাই হারাম (ইবনে মিলহান রা.) এক খোঁড়া ব্যক্তি ও কোন এক গোত্রের অপর এক ব্যক্তি সহ সে এলাকার দিকে রওয়ানা করলেন।

(হারাম ইবনে মিলহান রা.) তার দুই সাথীকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা নিকটেই অবস্থান কর। আমিই তাদের নিকট যাচ্ছি। তারা যদি আমাকে নিরাপত্তা দেয়, তাহলে তোমরা এখানেই থাকবে। আর যদি তারা আমাকে শহীদ করে দেয় তাহলে তোমরা তোমাদের নিজেদের সাথীদের কাছে চলে যাবে।

এরপর তিনি (তাদের নিকট গিয়ে) বললেন, তোমরা (আমাকে) নিরাপত্তা দিবে কি? দিলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি পয়গাম তোমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিতাম।

তিনি তাদের সাথে এ ধরনের আলাপ-আলোচনা করছিলেন। এমতাবস্থায় তারা এক ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করলে সে পেছন দিক থেকে এসে তাকে বর্শা দ্বারা আঘাত করল। হাম্মাদ রহ. বলেন, আমাম মনে হয় আমার শায়খ (ইসহাক রহ.) বলেছিলেন যে, বর্শা দ্বারা আঘাত করে এপার ওপার করে দিয়েছিল।

(আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে) হারাম ইবনে মিলহান রা. বললেন, আল্লাহ আকবার, কাবার প্রভুর শপথ! আমি সফলকাম হয়েছি। এরপর উক্ত (হারামের সঙ্গী) লোকটি (অপেক্ষমান সাথীদের সাথে) মিলিত হলেন।

তারা হারামের সঙ্গীদের উপর আক্রমণ করলে খোঁড়া ব্যক্তি ব্যতীত সকলেই নিহত হলেন। খোঁড়া লোকটি ছিলেন পাহাড়ের চুড়ায়। এরপর আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রতি (একখানা) আয়াত নাযিল করলেন যা পরে মানসুখ হয়ে যায়। আয়াতটি ছিল এই “আমরা আমাদের প্রতিপালকের সান্নিধ্যে পৌঁছে গিয়েছি।

তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমাদেরকেও সন্তুষ্ট করেছে”। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ত্রিশ দিন পর্যন্ত ফজরের নামাযে রিল, যাকওয়ান, বনূ লিহইয়ান এবং উসায়্যা গোত্রের জন্য বদদোয়া করেছেন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৯২

হাদীস নং ৩৭৯২

হিব্বান রহ……….. আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর মামা হারাম ইবনে মিলহান রা.-কে বিরে মাউনার দিন বর্শা বিদ্ধ করা হলে তিনি এভাবে দুহাতে রক্ত নিয়ে নিজের চেহারা ও মাথায় মেখে বললেন, কাবার প্রভুর কসম, আমি সফলকাম হয়েছি।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭৯৩

হাদীস নং ৩৭৯৩

উবায়দ ইবনে ইসমাঈল রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মক্কার কাফেরদের) অত্যাচার চরম আকার ধারণ করলে আবু বকর রা. (মক্কা থেকে) বেরিয়ে যাওয়ার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি তাকে বললেন, (আরো কিছুদিন) অবস্থান কর।

তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি কি আশা করেন যে, আপনাকে অনুমতি দেওয়া হোক? তিনি বললেন, আমি তো তাই আশা করি। আয়েশা রা. বলেন, আবু বকর রা. এর জন্য অপেক্ষা করলেন।

একদিন যুহরের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তাকে ডেকে বললেন, তোমার কাছে যারা আছে তাদেরকে সরিয়ে দাও। তখন আবু বকর রা. বললেন, এরা তো আমার দু’মেয়ে (আয়েশা ও আসমা)।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি জান আমকে চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে? আবু বকর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি কি আপনার সাথে যেতে পারব? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ আমার সাথে যেতে পারবে। আবু বকর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার কাছে দুটি উটনী আছে।

এখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্যই এ দুটিকে আমি প্রস্তুত করে রেখেছি। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুটি উটের একটি উট প্রদান করলেন। এ উটটি ছিল কান-নাক কাটা। তাঁরা উভয়ে সওয়ার হয়ে রওয়ানা হলেন এবং গারে সাওরে পৌঁছে সেখানে আত্মগোপন করলেন।

আয়েশা রা.- এর বৈমাত্রেয় ভাই আমির ইবনে ফুহায়রা ছিলেন আবদুল্লহ ইবনে তুফায়ল ইবনে সাখবারার গোলাম। আবু বকর রা.-এর একটি দুধের গাভী ছিল।

তিনি (আমি ইবনে ফুহায়রা) সেটিকে সন্ধ্যাবেলা চরাতে নিয়ে গিয়ে রাতের অন্ধকারে তাদের (মক্কার কাফেরদের) কাছে নিয়ে যেতেন এবং ভোরবেলা তাদের উভয়ের কাছে নিয়ে যেতেন।

কোন রাখালই এ বিষয়টি বুঝতে পারত না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকর রা. গারে সাওর থেকে বের হলে তিনিও তাদের সাথে রওয়ানা হলেন। তাঁরা মদীনা পৌঁছে যান।

আমির ইবনে ফুহায়রা পরবর্তীকালে বিরে মাউনার দুর্ঘটনায় শাহাদত বরণ করেন। (অন্য সনদে) আবু উসামা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হিশাম ইবনে উরওয়ান রহ. বলেন, আমার পিতা (উরওয়া রা.) আমাকে বলেছেন, বিরে মাউনার যুদ্ধে শাহাদতবরণকারীগণ শহীদ হলে আমর ইবনে উমাইয়া যামরী বন্দী হলেন।

তাকে আমির ইবনে তুফায়েল নিহত আমির ইবনে ফুহায়রা। তখন সে (আমির ইবনে তুফায়েল) বলল, আমি দেখলাম, নিহত হওয়ার পর তার লাশ আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে।

এমনকি আমি তার লাশ আসমান যমীনের মাঝে দেখেছি। এরপর তা রেখে দেয়া হল। (যমিনের উপর)। এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি সাহাবীগণকে তাদের শাহাদতের সংবাদ জানিয়ে বললেন, তোমাদের সাথীদেরকে হত্যা করা হয়েছে।

মৃত্যুর পূর্বে তারা তাদের প্রতিপালকের প্রার্থনা করে বলেছিলেন, হে আমাদের প্রতি পালক! আমরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট এবং আপনিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট —এ সংবাদ আমাদের ভাইদের কাছে পৌঁছে দিন।

তাই মহান আল্লাহ তাদের এ সংবাদ মুসলমানদের কাছে পৌঁছিয়ে দিলেন। ঐ দিনের নিহতদের মধ্যে উরওয়া ইবনে আসমা ইবনে সাল্লাত রা.-ও ছিলেন।

তাই এ নামেই উরওরা (ইবনে যুবাইরের) এর নামকরণ করা হয়েছে। আর মুনযির ইবনে আমর রা.-ও এ দিন শাহাদত বরণ করেছিলেন। তাই এ নামেই মুনযির-এর নামকরণ করা হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৯৪

হাদীস নং ৩৭৯৪

মুহাম্মদ রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস পর্যন্ত নামাযে রুকুর পরে কুনুত পাঠ করেছেন। এতে তিনি রিল, যাকওয়ান গোত্রের জন্য বদদোয়া করেছেন। তিনি বলেন, উসায়্যা গোত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করেছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৯৫

হাদীস নং ৩৭৯৫

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যারা বিরে মাউনার নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণকে শহীদ করেছিল সে হত্যাকারী রিল, যাকওয়ান, বনী লিহইয়ান এবং উসায়্যা গোত্রের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ত্রিশদিন পর্যন্ত ফজরের নামাযে বদদোয়া করেছেন।

তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করেছে। আনাস রা. বর্ণনা করেছেন যে, বিরে মাউনা নামক স্থানে যারা শাহাদতবরণ করেছেন তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাঁর নবীর প্রতি আয়াত নাযিল করেছিলেন। আমরা তা পাঠ করতাম।

অবশ্য পরে এর তিলাওয়াত রহিত হয়ে গিয়েছে। (আয়াতটি হল) অর্থাৎ “ আমাদের কাওমের কাছে এ সংবাদ পৌঁছিয়ে দাও যে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের সান্নিধ্যে পৌঁছে গিয়েছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছি।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭৯৬

হাদীস নং ৩৭৯৬

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………..আসিমুল আহওয়াল রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক রা.-কে নামাযে (দোয়া) কুনুত পড়তে হবে কি না–এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর তিনি বললেন, হ্যাঁ, পড়তে হবে। আমি বললাম, রুকুর আগে পড়তে হবে, না পরে? তিনি বললেন, রুকুর আগে।

আমি বললাম, অমুক ব্যক্তি আপনার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আপনি রুকুর পর কুনুত পাঠ করার কথা বলেছেন। তিনি বললেন, সে মিথ্যা বলেছে।

কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাত্র একমাস পর্যন্ত রুকুর পর পাঠ করেছেন। এর কারণ ছিল এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্তরজন কারীর একটি দলকে মুশরিকদের নিকট কোন এক কাজে পাঠিয়েছিলেন।

এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাদের মধ্যে চুক্তি ছিল। তারা (আক্রমণ করে সাহাবীগণের উপর) বিজয়ী হল। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রতি বদদোয়া করে নামাযে রুকুর পর এক মাস পর্যন্ত কুনুত পাঠ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৯৭ – খন্দকের যুদ্ধ। এ যুদ্ধকে আহযাবের যুদ্ধও বলা হয়।

হাদীস নং ৩৭৯৭

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, উহুদ যুদ্ধের দিন তিনি (ইবনে উমর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য) নিজেকে পেশ করার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দেননি। তখন তাঁর বয়স ছিল চৌদ্দ বছর।

তবে খন্দক যুদ্ধের দিন তিনি (যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য) নিজেকে পেশ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন। তখন তাঁর বয়স পনের বছর।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৯৮

হাদীস নং ৩৭৯৮

কুতাইবা রহ………….সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, পরিখা খননের কাজে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছিলাম।

তাঁরা পরিখা খনন করেছিলেন আর আমরা কাঁধে করে মাটি বহন করছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাদের জন্য দোয়া করে) বলছিলেন, হে আল্লাহ, আখিরাতের শাস্তিই প্রকৃত শাস্তি। আপনি মুহাজির এবং আনসারদেরকে ক্ষমা করে দিন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৯৯

হাদীস নং ৩৭৯৯

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে পরিখা খননের স্থানে উপস্থিত হন। এ সময় মুহাজির এবং আনসারগণ ভোরে তীব্র শীতের মধ্যে পরিখা খনন করছিলাম।

তাদের কোন গোলাম ছিল না যারা তাদের পক্ষ হতে এ কাজ আঞ্জাম দিবে। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অনাহার ও কষ্ট ক্লেশ দেখতে পান, তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ ! আখিরাতের শাস্তিই প্রকৃত শাস্তি, তাই আপনি আনসার ও মুহাজিরদেরকে ক্ষমা করে দিন।

সাহাবীগণ এর উত্তরে বললেন, “আমরা সে সব লোক, যারা জিহাদে আত্মনিয়োগ করার ব্যাপারে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছি, যতদিন আমরা জীবিত থাকি ততদিন পর্যন্ত”।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮০০

হাদীস নং ৩৮০০

আবু মামার রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসার ও মুহাজিরগণ মদীনার চারপাশে পরিখা খনন করছিলেন এবং নিজ নিজ পিঠে মাটি বহন করছিলেন।

আর (আনন্দ কণ্ঠে) আবৃত্তি করছিলেন, “আমরা তো সে সব লোক যারা ইসলামের ব্যাপারে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছি, যতদিন আমরা জীবিত থাকি ততদিনের জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এ কথার উত্তরে বলতেন, হে আল্লাহ !

আখিরাতের কল্যাণ ব্যতীত আর কোন কল্যাণ নেই, তাই আনসার ও মুহাজিরদের কাজে বরকত দান করুন। বর্ণনাকারী (আনাস রা.) বর্ণনা করছেন যে, (পরিখা খননের সময়) তাদেরকে এক মুষ্টি ভরে যব দেওয়া হত।

তা বাসি, স্বাদবিকৃত চর্বিতে মিশিয়ে খানা পাকিয়ে ক্ষুধার্ত কাওমের সামনে পরিবেশন করা হত। অথচ এ খাদ্য ছিল একেবারে স্বাদহীন ও ভীষণ দুর্গন্ধময়।

বুখারি হাদিস নং ৩৮০১

হাদীস নং ৩৮০১

খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া রহ………….আয়মান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবির রা.-এর নিকট গেলে তিনি বললেন, খন্দক যুদ্ধের দিন আমরা পরিখা খনন করছিলাম।

এ সময় একখণ্ড কঠিন পাথর বেরিয়ে আসলে (যা ভাঙ্গা যাচ্ছিল না) সকলেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ এসে বললেন, খন্দকের মাঝে একখণ্ড শক্ত পাথর বেরিয়েছে (আমরা তা ভাংতে পারছি না)। এ কথা শুনে তিনি বললেন, আমি নিজে খন্দকে অবতরণ করব।

এরপর তিনি দাঁড়ালেন। এ সময় তাঁর পেটে একটি পাথর বাঁধা ছিল। আর আমরাও তিন দিন পর্যন্ত অনাহারী ছিলাম। কোন কিছুর স্বাদও গ্রহণ করিনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একখানা কোদাল হাতে নিয়ে প্রস্তরখণ্ডে আঘাত করলেন।

ফলে তৎক্ষণাৎ তা চূর্ণ হয়ে বালুকারাশিতে পরিণত হল। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাকে বাড়ি যাওয়ার জন্য অনুমতি দিন। (তিনি অনুমতি দিলে বাড়ি পৌঁছে) আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে আমি এমন কিছু দেখলাম যা আমি সহ্য করতে পারছি না।

তোমার নিকট কোন খাবার আছে কি? সে বলল, আমার কাছে কিছু যব ও একটি বকরীর বাচ্চা আছে। তখন বকরীর বাচ্চাটি আমি যবেহ করলাম। এবং সে (আমার স্ত্রী) যব পিষে দিল। এরপর গোশত ডেকচিতে দিয়ে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম।

এ সময় আটা খামির হচ্ছিল এবং ডেকটি চুলার উপর ছিল ও গোশত প্রায় রান্না হয়ে আসছিল। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার (বাড়িতে) সামান্য কিছু খাবার আছে। আপনি একজন বা দুইজন সাথে নিয়ে চলুন। তিনি বললেন, কি পরিমাণ খাবার আছে? আমি তার নিকট সব খুলে বললে তিনি বললেন, এ তো অনেক ও উত্তম।

এরপর আমাকে বললেন, তুমি তোমার স্ত্রীকে গিয়ে বল, সে যেন আমি না আসা পর্যন্ত উনান থেকে ডেকচি ও রুটি না নামায়। এরপর তিনি বললেন, উঠ ! (জাবির তোমাদেরকে খাবার দাওয়াত দিয়েছে) মুহাজিরগণ উঠলেন (এবং চলতে লাগলেন) জাবির রা. তার স্ত্রীর নিকট গিয়ে বললেন, তোমার সর্বনাশ হোক !

(এখন কি হবে?) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো মুহাজির, আনসার এবং তাদের অন্য সাথীদের নিয়ে চলে আসছেন। (জাবিরের স্ত্রী) বললেন, তিনি কি আপনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন?

আমি বললাম, হ্যাঁ। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উপস্থিত হয়ে) বললেন, তোমরা সকলেই প্রবেশ কর এবং ভিড় করো না। এ বলে তিনি রুটি টুকরো করে এর উপর গোশত দিয়ে সাহাবীগণের নিকট তা বিতরণ করতে শুরু করলেন।

(এগুলো পরিবেশন করার সময়) তিনি ডেকচি এবং উনান ঢেকে রেখেছিলেন। এমনি করে তিনি রুটি টুকরো করে হাত ভরে বিতরণ করতে লাগলেন।

এতে সকলে পেচ ভরে খাবার পরেও কিছু বাকী রয়ে গেল। তাই তিনি (জাবিরের স্ত্রীকে) বললেন, এ তুমি খাও এবং অন্যকে হাদিয়া দাও। কেননা লোকদেরও ক্ষুধা পেয়েছে।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮০২

হাদীস নং ৩৮০২

আমর ইবনে আলী রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন পরিখা খনন করা হচ্ছিল তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভীষণ ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখতে পেলাম। তখন আমার স্ত্রীর কাছে ফিরে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, তোমার কাছে কোন কিছু আছে কি?

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দারুণ ক্ষুধার্ত দেখেছি। (এ কথা শুনে) তিনি একটি চামড়ার পাত্র এনে তা থেকে এক সা পরিমাণ যব বের করে দিলেন।আমাদের গৃহপালিত একটি বকরীর বাচ্চা ছিল। আমি সেটি যবেহ করলাম এবং গোশত কেটে কেটে ডেকচিতে ভরলাম।

আর সে (আমার স্ত্রী) যব পিয়ে দিল। আমি আমার কাজ শেষ করার সাথে সাথে সেও তার কাজ শেষ করল। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে চললাম। তখন সে বলল, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের নিকট লজ্জিত করবেন না।

এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট চুপে চুপে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ ! আমরা আমাদের একটি বকরীর বাচ্চা যবেহ করেছি এবং আমাদের ঘরে এক সা যব ছিল। তা আমার স্ত্রী পিষে দিয়েছে। আপনি আরো কয়েকজনকে সাথে নিয়ে আসুন।

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চ স্বরে সবাইকে বললেন, হে পরিখা খননকারিগণ ! জাবির খানার ব্যবস্থা করেছে। এসো, তোমরা সকলেই চল।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার আসার পূর্বে তোমাদের ডেকচি নামাবে না এবং খামির থেকে রুটিও তৈরী করবে না। আমি (বাড়ীতে) আসলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামসহ তাশরীফ আনলেন। এরপর আমি আমার স্ত্রীর নিকট আসলে সে বলল, আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুন।

(তুমি এ কি করলে? এতগুলো লোক নিয়ে আসলে? অথচ খাদ্য একেবারে নগণ্য) আমি বললাম, তুমি যা বলেছ আমি তাই করেছি। এরপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে আটার খামির বের করে দিলে তিনি তাতে মুখের লালা মিশিয়ে দিলেন এবং বরকতের দোয়া করলেন।

এরপর তিনি ডেকচির দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাতে মুখের লালা মিশিয়ে এর জন্য বরকতের দোয়া করলেন। তারপর বললেন, (হে জাবির) রুটি প্রস্তুতকারিণীকে ডাক। সে আমার কাছে বসে রুটি প্রস্তুত করুক এবং ডেকচি থেকে পেয়ালা ভরে গোশত পরিবেশন করুক।

তবে (চুলা থেকে) ডেকচি নামাবে না। তাঁরা (আগন্তুক সাবাহায়ে কেরাম) ছিলেন সংখ্যায় এক হাজার। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, তাঁরা সকলেই তৃপ্তিসহকারে খেয়ে অবশিষ্ট খাদ্য রেখে চলে গেলেন।

অথচ আমাদের ডেকচি পূর্বের ন্যায় তখনও টগবগ করছিল এবং আমাদের আটার খামির থেকেও পূর্বের মত রুটি তৈরী হচ্ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৮০৩

হাদীস নং ৩৮০৩

উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সমাগত হয়েছিল উচু অঞ্চল ও নীচু অঞ্চল হতে এবং তোমাদের চক্ষু বিস্ফারিত হয়েছিল……..(৩৩: ১০) তিনি বলেন, এ আয়াতখানা খন্দকের যুদ্ধে নাযিল হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৮০৪

হাদীস নং ৩৮০৪

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ…………বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দক যুদ্ধের দিন মাটি বহন করেছিলেন। এমনকি মাটি তাঁর পেট ঢেকে ফেলেছিল অথবা (রাবী সন্দেহ) তাঁর পেট ধূলায় আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল।

এ সময় তিনি বলছিলেন, আল্লাহর কসম! আল্লাহ হেদায়েত না করলে আমরা হেদায়েত পেতাম না, দান সদকা করতাম না, এবং নামাযও আদায় করতাম না।

সুতরাং (হে আল্লাহ!) আমাদের প্রতি রহমত নাযিল করুন এবং আমাদেরকে শত্রুর সাথে মুকাবিলা করার সময় দৃঢ় পদ রাখুন। নিশ্চয়ই মক্কাবাসীরা আমাদের প্রতি বিদ্রোহ করেছে।

যখনই তারা ফিতনার প্রয়াস পেয়েছে তখনই আমরা উপেক্ষা করেছি। শেষের কথাগুলো বলার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চ স্বরে “উপেক্ষা করেছি” “উপেক্ষা করেছি” বলে উঠেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮০৫

হাদীস নং ৩৮০৫

মুসাদ্দাদ রহ…………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে পূবালি বায়ূ দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে, আর আদ জাতিকে পশ্চিমা বায়ূ দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৮০৬

হাদীস নং ৩৮০৬

আহমদ ইবনে উসমান রহ…………..বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহযাব (খন্দক) যুদ্ধের সময় র পরিখা খনন করেছেন। আমি তাকে খন্দকের মাটি বহন করতে দেখেছি।

এমনকি ধূলাবালি পড়ার কারণে তার পেটের চামড়া ঢাকা পড়ে গিয়েছে। তিনি অধিক পশম বিশিষ্ট ছিলেন। সে সময় আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাটি বহন করা অবস্থায় ইবনে রাওয়াহার কবিতা আবৃত্তি করতে শুনেছি।

তিনি বলছিলেন, হে আল্লাহ ! আপনি যদি হেদায়েত না করতেন তাহলে আমরা হেদায়েত পেতাম না, আমরা সদকা করতাম না এবং আমরা নামাযও আদায় করতাম না। সুতরাং আমাদের প্রতি আপনার রহমত নাযিল করুন এবং দুশমনের মুকাবিলা করার সময় আমাদেরকে দৃঢ় পদ রাখুন।

অবশ্য মক্কাবাসীরাই আমাদের প্রতি ভীতি প্রদর্শন করেছে। তারা ফিতনা বিস্তার করতে চাইলে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি। রাবী (বারা) বলেন, শেষ পঙক্তিটি আবৃত্তি করার সময় তিনি তা প্রলম্বিত করে পড়তেন।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮০৭

হাদীস নং ৩৮০৭

আবদা ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রথম আমি যে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি তা ছিল খন্দকের যুদ্ধ।

বুখারি হাদিস নং ৩৮০৮

হাদীস নং ৩৮০৮

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ…………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি হাফসা রা.-এর নিকট গেলাম। সে সময় তাঁর চুলের বেণি থেকে ফোটা ফোটা পানি ঝরছিল।

আমি তাকে বললাম, আপনি তে দেখছেন, নেতৃত্বের ব্যাপারে লোকজন কি কাণ্ড করছে। ইমারত ও নেতৃত্বের কিছুই আমাকে দেওয়া হয়নি। তখন তিনি বললেন, আপনি গিয়ে তাদের সাথে যোগ দিন।

কেননা তাঁরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। আপনি তাদের থেকে দূরে সরে থাকার কারণে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আমি আশংকা করছি। হাফসা রা. তাকে (এ কথা) বলতে থাকেন। (অবশেষে) তিনি (সেখানে) গেলেন।

এরপর লোকজন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে মুআবিয়া রা. বক্তৃতা দিয়ে বললেন, ইমারত ও খিলাফতের ব্যাপারে কারো কিছু বলার ইচ্ছা থাকলে সে আমাদের সামনে মাথা উচু করুক। এ ব্যাপারে আমরাই তাঁর ও তাঁর পিতার চাইতে অধিক হকদার। তখন হাবীব ইবনে মাসলামা রহ. তাকে বললেন, আপনি এ কথার জবাব দেননি কেন?

তখন আবদুল্লাহ (ইবনে উমর) বললেন, আমি তখন আমার গায়ের চাদর ঠিক করলাম এবং এ কথা বলার ইচ্ছা করলাম যে, এ বিষয়ে ঐ ব্যক্তিই অধিক হকদার যে ইসলামের জন্য আপনার ও আপনার পিতার সাথে লড়াই করেছেন।

তবে আমার এ কথায় (মুসলমানদের মাঝে) অনৈক্য সৃষ্টি হবে, অযথা রক্তপাত হবে এবং আমার ও কথার অপব্যাখ্যা করা হবে এ আশংকায় এবং আল্লাহ জান্নাতে যে নিয়ামত তৈরী করে রেখেছেন তার কথা স্মরণ করে আমি উক্ত কথা বলা থেকে বিরত থাকি।

তখন হাবীব রহ. বললেন, এভাবেই আপনি (ফিতনা থেকে) রক্ষা পেয়েছেন এবং বেঁচে গিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮০৯

হাদীস নং ৩৮০৯

আবু নুআইম রহ………….সুলাইমান ইবনে সুরাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দক যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, এখন থেকে আমরাই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব, তারা আর আমাদের প্রতি আক্রমণ করতে পারবে না।

বুখারি হাদিস নং ৩৮১০

হাদীস নং ৩৮১০

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….সুলাইমান ইবনে সুরাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধের দিন কাফেরদের সম্মিলিত বাহিনী মদীনা ছেড়ে ফিরে যেতে বাধ্য হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি যে, এখন থেকে আমরাই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।

তারা আমাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করতে পারবে না। আর আমরা তাদের এলাকায় গিয়েই আক্রমণ করব।

বুখারি হাদিস নং ৩৮১১

হাদীস নং ৩৮১১

ইসহাক রহ………….আলী রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি খন্দকের যুদ্ধের দিন (কাফের মুশরিকদের প্রতি) বদদোয়া করে বলেছেন, আল্লাহ তাদের ঘরবাড়ি ও কবর আগুন দ্বারা ভরপুর করে দিন।

কেননা তারা আমাদেরকে (যুদ্ধে ব্যস্ত করে) মধ্যবর্তী নামায থেকে বিরত রেখেছে, এমনকি সূর্য অস্ত গিয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৮১২

হাদীস নং ৩৮১২

মক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ…………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, খন্দক যুদ্ধের দিন সূর্যাস্তের পর উমর ইবনে খাত্তাব রা. এসে কুরাইশ কাফেরদের গালি দিতে আরম্ভ করলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! (আজ) সূর্যাস্তের পূর্বে আমি (আসর) নামায আদায় করতে পারিনি।

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম! আমিও আজ এ নামায আদায় করতে পারিনি। (জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন) এরপর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বুতহান উপত্যকায় গেলাম।

এরপর তিনি নামাযের জন্য ওযু করলেন। আমরাও নামাযের জন্য ওযু করলাম। এরপর তিনি সূর্যাস্তের পর প্রথমে আসরের নামায এবং পরে মাগরিবের নামায আদায় করলেন।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮১৩

হাদীস নং ৩৮১৩

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ…………জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কুরাইশ কাফেরদের কবর আমাদের নিকট এনে দিতে পারবে কে?

যুবাইর রা. বললেন, আমি পারব। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেন, কুরাইশদের খবর আমাদের নিকট কে এনে দিতে পারবে? তখনও যুবাইর রা. বললেন, আমি পারব।

তিনি পুনরায় বললেন, কুরাইশদের সংবাদ আমাদের নিকট কে এনে দিতে পারবে? এবারও যুবাইর রা. বললেন, আমি পারব। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রত্যেক নবীরই হাওয়ারী (বিশেষ সাহাস্যকারী) ছিল। আমার হাওয়ারী হল যুবাইর।

বুখারি হাদিস নং ৩৮১৪

হাদীস নং ৩৮১৪

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খন্দকের যুদ্ধের সময়) বলতেন, এক আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই।

তিনিই তাঁর বাহিণীকে মর্যদা দিয়েছেন। তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই শত্রু দল সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেছেন। তারপর আর কিছুই থাকবে না অথবা এরপর আর ভয়ের কোন কারণ নেই।

বুখারি হাদিস নং ৩৮১৫

হাদীস নং ৩৮১৫

মুহাম্মদ (ইবনে সালাম) রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফেরদের সম্মিলিত বাহিনীর প্রতি বদদোয়া করে বলেছেন, কিতাবে নাযিলকারী ও হিসেব গ্রহণে তৎপর হে আল্লাহ ! আপনি কাফেরদের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করুন। হে আল্লাহ ! তাদেরকে পরাজিত এবং ভীত ও কম্পিত করে দিন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮১৬

হাদীস নং ৩৮১৬

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ………….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধ, হজ্জ বা উমরা থেকে ফিরে এসে প্রথমে তিনবার তাকবীর বলতেন।

এরপর বলতেন, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব এবং প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। সব বিষয়ে তিনিই সর্বশক্তিমান। আমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তনকারী, তাঁরই কাছে তওবাকারী, তাঁর ইবাদতকারী।

আমরা আমাদের প্রভুর দরবারেই সিজদা নিবেদনকারী, তাঁরই প্রশংসা বর্ণনাকারী। আল্লাহ তাঁর ওয়াদা পূরণ করেছেন। তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই কাফেরদের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮১৭ – আহযাব যুদ্ধ থেকে নবী (সা.)-এর প্রত্যাবর্তন এবং বনূ কুরায়যার প্রতি তাঁর অভিযান ও তাদের অবরোধ।

হাদীস নং ৩৮১৭

আবদুল্লাহ ইবনে আবু শায়বা রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দক যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করে সমরাস্ত্র রেখে গোসল করেছেন মাত্র।

এমতাবস্থায় তাঁর কাছে জিবরাঈল আ. এসে বললেন, আপনি তো অস্ত্রশস্ত্র (খুলে) রেখে দিয়েছেন। আল্লাহর কসম ! আমরা এখনো তা খুলিনি। চলুন তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, কোথায় যেতে হবে? তিনি বনূ কুরায়যা গোত্রের প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, ঐদিকে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে রওয়ানা হলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮১৮

হাদীস নং ৩৮১৮

মূসা রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বনূ কুরায়যার মহল্লার দিকে যাচ্ছিলেন তখন (জিবরাঈল আ.-এর অধীন) ফেরেশতা বাহিনীও তাঁর সঙ্গে যাচ্ছিলেন এমনকি (পথিমধ্যে) বনূ গানম গোত্রের গলিতে জিবরাঈল বাহিনীর গমনে উত্থিত ধূলারাশি এখনো যেন আমি দেখতে পাচ্ছি।

বুখারি হাদিস নং ৩৮১৯

হাদীস নং ৩৮১৯

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসমা রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহযাব যুদ্ধের দিন (যুদ্ধ সমাপ্তির পর) বলেছেন, বনূ কুরায়যার মহল্লায় না পৌঁছে কেউ যেন আসরের নামায আদায় না করে।

পথিমধ্যে আসরের নামাযের সময় হয়ে গেলে কেউ কেউ বললেন, আমরা সেখানে পৌঁছার পূর্বে নামায আদায় করব না। আবার কেউ কেউ বললেন, আমরা এখনই নামায আদায় করব, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিষেধাজ্ঞার অর্থ এই নয় যে, রাস্তায় নামাযের সময় হয়ে গেলেও তা আদায় করা যাবে না।

বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উত্থাপন করা হলে তিনি তাদের কোন দলের প্রতিই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেননি।

বুখারি হাদিস নং ৩৮২০

হাদীস নং ৩৮২০

ইবনে আবুল আসওয়াদ ও খলীফা রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (ব্যয় নির্বাহের জন্য) লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খেজুর বৃক্ষ হাদিয়া দিতেন।

অবশেষে তিনি বনী নাযীর এবং বনী কুরায়যার উপর জয়লাভ করলে আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে আদেশ করল, যেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তাদের দেয়া সবগুলো খেজুর গাছ অথবা কিছু সংখ্যক খেজুর গাছ তাঁর নিকট থেকে ফেরত আনার জন্য আবেদন করি।

অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ গাছগুলো উম্মে আয়মান রা.-কে দান করে দিয়েছিলেন। এ সময় উম্মে আয়মান রা. আসলেন এবং আমার গলায় কাপড় লাগিয়ে বললেন, এ কখনো হতে পারে না। সেই আল্লাহর কসম, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিনি ঐ বৃক্ষগুলো তোমাকে আর দেবেন না।

তিনি তো এগুলো আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) যেমন তিনি বলেছেন। এদিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, তুমি ঐ গাছগুলোর পরিবর্তে আমার নিকট থেকে এই এই পাবে।

কিন্তু উম্মে আয়মান রা. বলছিলেন, আল্লাহর কসম ! এ কখনো হতে পারে না। অবশেষে নবী রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (অনেক বেশি) দিলেন।

রাবী আনাস রা. বলেন, আমার মনে হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (উম্মে আয়মান রা.-কে) বলেছেন, এর দশগুণ অথবা যেমন তিনি বলেছেন।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮২১

হাদীস নং ৩৮২১

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাদ ইবনে মুআয রা.-এর ফয়সালা মেনে নিয়ে বনী কুরায়যা গোত্রের লোকেরা দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদকে আনার জন্য লোক পাঠালেন।

এরপর তিনি গাধার পিঠে চড়ে আসলেন। তিনি মসজিদে নববীর নিকটবর্তী হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসার সাহাবীগণকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা তোমাদের নেতা বা সর্বোত্তম ব্যক্তিকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে যাও।

(তিনি আসলে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে বললেন, এরা তোমার ফয়সালা মেনে নিয়ে দুর্গ থেকে নিচে নেমে এসেছে। তখন তিনি বললেন, তাদের যোদ্ধদেরকে হত্যা করা হবে এবং তাদের সন্তানদেরকে বন্দী করা হবে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে সাদ ! তুমি আল্লাহর হুকুম মুতাবিক ফয়সালা করেছ। কোন কোন সময় তিনি বলেছেন, তুমি রাজধিরাজ আল্লাহর বিধান মুতাবিক ফয়সালা করেছ।

বুখারি হাদিস নং ৩৮২২

হাদীস নং ৩৮২২

যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধে সাদ রা. আহত হয়েছিলেন। কুরাইশ গোত্রের হিব্বান ইবনে ইরকা নামক এক ব্যক্তি তাঁর উভয় বাহুর মধ্যবর্তী রগে তীর বিদ্ধ করেছিল।

কাছে থেকে তার শুশ্রুষা করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে একটি খিমা তৈরী করেছিলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দাকের যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করে যখন হাতিয়ার রেখে গোসল সমাপন করলেন তখন জিবরাঈল আ. তাঁর মাথার ধূলোবালি ঝাড়তে ঝাড়তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপস্থিত হলেন এবং বললেন, আপনি তো হাতিয়ার রেখে দিয়েছেন, কিন্তু আল্লাহর কসম ! আমি এখনো তা রেখে দেইনি।

চলুন তাদের প্রতি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন কোথায়? তিনি বনী কুরায়যা গোত্রের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ কুরায়যার মহল্লায় এলেন।

পরিশেষে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফয়সালা মেনে নিয়ে দুর্গ থেকে নিচে নেমে এল। কিন্তু তিনি ফয়সালার ভার সাদ রা.-এর উপর অর্পণ করলেন।

তখন সাদ রা. বললেন, তাদের ব্যাপারে আমি এই রায় দিচ্ছি যে, তাদের যোদ্ধাদেরকে হত্যা করা হবে, নারী ও সন্তানদেরকে বন্দী করা হবে এবং তাদের ধন-সম্পদ (মুসলমানদের মধ্যে) বন্টন করে দেওয়া হবে।

রাবী হিশাম রহ. বলেন, আমার পিতা (উরওয়া রা.) আয়েশা রা. থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, সাদ রা. (বনূ কুরায়যার ঘটনার পর) আল্লাহর কাছে এ বলে দোয়া করেছিলেন, হে আল্লাহ !

আপনি তো জানেন, যে সম্প্রদায় আপনার রাসূলকে মিথ্যাবাদী বলেছে এবং দেশ থেকে বের করে দিয়েছে আপনার সন্তুষ্টির জন্য তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার চেয়ে কোন কিছু আমার কাছে অধিক প্রিয় নয়।

হে আল্লাহ ! আমি মনে করি (খন্দক যুদ্ধের পর) আপনি তো আমাদের ও তাদের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন তবে এখনো যদি কুরাইশদের বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধ বাকী থেকে থঅকে তাহলে আমাকে সে জন্য বাঁচিয়ে রাখুন, যেন আমি আপনার রাস্তায় তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে পারি।

আর যদি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে থাকেন তাহলে ক্ষতস্থান থেকে রক্ত প্রবাহিত করুন এবং এতেই আমার মৃত্যু ঘটান। এরপর তাঁর ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ হয়ে তা প্রবাহিত হতে লাগল।

মসজিদে বনী গিফার গোত্রের একটি তাঁবু ছিল। তাদেরদিকে রক্ত প্রবাহিত হয়ে আসতে দেখে তারা ভীত হয়ে বললেন, হে তাঁবুবাসিগণ আপনাদের দিক থেকে এসব কি আমাদের দিকে বয়ে আসছে?

পরে তাঁরা দেখলেন যে, সাদ রা.-এর ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অবশেষে এ জখমের কারণেই তিনি মারা যান।

বুখারি হাদিস নং ৩৮২৩

হাদীস নং ৩৮২৩

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ………..আদী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বারা রা.-কে বলতে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসসান রা.-কে বলেছেন, কবিতার মাধ্যমে তাদের (কাফেরদে) দোষত্রুটি বর্ণনা কর অথবা (রাবীর সন্দেহ) তাদের দোষত্রুটি বর্ণনা করার জবাব দাও।

(তোমার সাহায্যার্থে) জিবরাঈল আ. তোমার সাথে থাকবেন। (অন্য এক সনদে) ইবরাহীম ইবনে তাহমান রহ……….বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী কুরায়যার সাথে যুদ্ধ করার দিন হাসসান ইবনে সাবিত রা.-কে বলেছিলেন (কবিতার মাধ্যমে) মুশরিকদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা কর।

এ ব্যাপারে জিবরাঈল আ. তোমার সাথে থাকবেন।

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮২৪ – যাতুর রিকার যুদ্ধ।

হাদীস নং ৩৮২৪

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ…………আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক যুদ্ধে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রওয়ানা করলাম। আমরা ছিলাম ছয়জন।

আমাদের একটি মাত্র উট ছিল। পালাক্রমে আমরা এর পিঠে আরোহণ করতাম। (হেটে হেটে) আমাদের পা ফেটে যায়। আমার পা দু’খানাও ফেটে গেল, খসে পড়ল নখগুলে। এ কারণে আমরা আমাদের পায়ে নেকড়া জড়িয়ে বাঁধলাম। এ জন্য এ যুদ্ধকে যাতুর রিকা যুদ্ধ বলা হয়।

কেননা এ যুদ্ধে আমরা আমাদের পায়ে নেকড়া দ্বারা পট্রি বেঁধেছিলাম। আবু মূসা রা. উক্ত ঘটনা বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীতে তিনি এ ঘটনা বর্ণনা করাকে অপছন্দ করেন।

তিনি বলেন, আমি এভাবে বর্ণনা করাকে ভাল মনে করি না। সম্ভবত তিনি তার কোন আমল প্রকাশ করাকে অপছন্দ করতেন।

আরও পড়ুনঃ

শাহাদাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

মুকাতাব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

 

মন্তব্য করুন