যুদ্ধাভিযান পার্ট ৮ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৮ (অবশিষ্ট অংশ)

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৮ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

Table of Contents

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৮ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯৯৪

হাদীস নং ৩৯৯৪

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ…………..আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ ইবন আসিম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইনের দিবসে আল্লাহ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে গনীমতের সম্পদ দান করলেন তখন তিনি ঐগুলো সেসব মানুষের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন যাদের হৃদয়কে ঈমানের উপর সুদৃঢ় করার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেছিলেন।

আর আনসারগণকে কিছুই তিনি দেননি। ফলে তাঁরা যেন নাখোশ হয়ে গেলেন। কেননা অন্যান্য লোক যা পেয়েছে তাঁরা তা পান নি। অথবা তিনি বলেছেন : তাঁরা যেন দুঃখিত হয়ে গেলেন।

কেননা অন্যান্য লোক যা পেয়েছে তারা তা পাননি। কাজেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন, হে আনসারগণ ! আমি কি তোমাদেরকে গুমরাহীর মধ্যে লিপ্ত পাইনি, যার পরে আল্লাহ আমার দ্বারা তোমাদেরকে হেদায়েত দান করেছেন? তোমরা ছিলে পরস্পর বিচ্ছিন্ন, যার পর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরকে জুড়ে দিয়েছেন।

তোমরা ছিলে রিক্তহস্ত, যার পরে আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদেরকে অভাবমুক্ত করেছেন। এভাবে যখনই তিনি কোন কথা বলেছেন তখন আনসারগণ জবাবে বলতেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই আমাদের উপর অধিক ইহসানকারী।

তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূলের জবাব দিতে তোমাদেরকে বাধা দিচ্ছে কিসে? তাঁরা তখনও তিনি যা কিছু বলছেন তার উত্তরে বলে গেলেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই আমাদের উপর অধিক ইহসানকারী।

তিনি বললেন, তোমরা ইচ্ছা করলে বলতে পার যে, আপনি আমাদের কাছে এমন এমন (সংকটময়) সময়ে এসেছিলেন (যেগুলোকে আমরা বিদূরিত করেছি এবং আপনাকে সাহায্য করেছি) কিন্তু তোমরা কি এ কথায় সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোক বকরী ও উট নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা তোমাদের বাড়ি ফিরে যাবে আল্লাহর নবীকে সাথে নিয়ে।

যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাকে হিজরত করানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত না থাকত তাহলে আমি আনসারদের মধ্যকারই একজন থাকতাম। যদি লোকজন কোন উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়ে চলে তাহলে আমি আনসারদের উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়েই চলব।

আনাসরগণ হল (নববী) দেহ সংযুক্ত গেঞ্জি আর অন্যান্য লোক হল উপরের জামা। আমার বিদায়ের পর অচিরেই তোমরা দেখতে পাবে অন্যদের অগ্রাধিকার। তখন ধৈর্যধারণ করবে (দীনের উপর টিকে থাকবে) অবশেষে তোমরা হাউজে কাউসারে আমার সঙ্গে সাক্ষাত করবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৯৫

হাদীস নং ৩৯৯৫

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাওয়াযিন গোত্রের সম্পদ থেকে গনীমত হিসেবে যতটুকু দান করতে চেয়েছেন দান করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় লোককে এক একশ করে উট দান করতে লাগলেন।

(এ অবস্থা দেখে) আনসারদের কিছুসংখ্যক লোক বলে ফেললেন, আল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদেরকে বাদ দিয়ে কুরাইশদেরকে (গনীমতের মাল) দিচ্ছেন।

অথচ আমাদের তরবারি থেকে এখনো তাদের তাজা রক্ত টপকাচ্ছে। আনাস রা বলেন, তাদের এ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বর্ণনা করা হলে তিনি আনসারদের কাছে সংবাদ পাঠালেন এবং তাদেরকে একটি চামড়ার তৈরী তাবুতে জমায়েত করলেন।

এবং তাঁরা ব্যতীত অন্য কাউকে এখানে উপস্থিত থাকতে অনুমতি দেননি। এরপর তাঁরা সবাই জমায়েত হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেন, তোমাদের কাছ থেকে কি কথা আমার নিকট পৌঁছলো?

আনসারদের বিজ্ঞ উলামাবৃন্দ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাদের নেতৃস্থানীয় কেউ তো কিছু বলেনি, তবে আমাদের কতিপয় কমবয়সী লোকেরা বলেছে যে, আল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদেরকে বাদ দিয়ে কুরাইশদেরকে (গনীমতের মাল) দিচ্ছেন।

অথচ আমাদের তরবারিগুলো থেকে এখনো তাদের তাজা রক্ত টপকাচ্ছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি অবশ্য এমন কিছু লোককে (গনীমতের মাল) দিচ্ছি যারা সবেমাত্র কুফর ত্যাগ করে ইসলামে প্রবেশ করেছে।

আর তা এ জন্য যেন তাদের মনকে আমি ঈমানের উপর সুদৃঘ করতে পারি। তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোক ফিরে যাবে ধন-সম্পদ নিয়ে আর তোমরা বাড়ি ফিরে যাবে (আল্লাহর) নবীকে সঙ্গে নিয়ে?

আল্লাহর কসম, তোমরা যে জিনিস নিয়ে ফিরে যাবে তা অনেক উত্তম ঐ ধন-সম্পদ অপেক্ষা, যা নিয়ে তারা ফিরে যাচ্ছে। আনসারগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা এতে সন্তুষ্ট থাকলাম।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, অচিরেই তোমরা (নিজেদের উপর) অন্যদের প্রাধান্য প্রবলভাবে অনুভব করতে থাকবে।

অতএব, আমার মৃত্যুর পর আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সঙ্গে সাক্ষাত করা পর্যন্ত তোমরা সবর করে থাকবে। আমি হাউযে কাউসারের নিকট থাকব। আনাস রা. বলেন, কিন্তু তাঁরা (আনসাররা) সবর করেননি।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৮ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯৯৬

হাদীস নং ৩৯৯৬

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………….আনাস (ইবনে মালিক) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের মধ্যে গনীমতের মাল বণ্টন করে দিলেন।

এতে আনসারগণ নাখোশ হয়ে গেলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট না যে, লোকজন পার্থিব সম্পদ নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে ফিরবে?

তাঁরা উত্তর দিলেন, অবশ্যই (সন্তুষ্ট থাকব)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি লোকজন কোন উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়ে অতিক্রম করে তাহলে আমি আনসারদের উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়ে অতিক্রম করব।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৯৭

হাদীস নং ৩৯৯৭

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইনের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাওয়াযিন গোত্রের মুখোমুখি হলেন।

তাঁর সঙ্গে ছিল দশ হাজার (মুহাজির ও আনসার সৈনিক) এবং (মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণকারী) নও-মুসলিমগণ। যুদ্ধে এরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল। এ মুহূর্তে তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ওহে আনসার সকল ! তাঁরা জওয়াব দিলেন, আমরা হাযির, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনার সাহায্য করতে আমরা প্রস্তুত এবং আপনার সামনেই আমরা উপস্থিত।

(অবস্থা আরো তীব্র আকার ধারণ করলে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাওয়ারী থেকে নেমে পড়লেন আর বলতে থাকলেন, আমি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল।

(শেষ পর্যন্ত) মুশরিকরাই পরাজিত হলো। (যুদ্ধশেষে) তিনি নও-মুসলিম এবং মুহাজিরদেরকে (গনীমতের সম্পূর্ণ সম্পদ) বণ্টন করে দিলেন। আর আনসারদেরকে কিছুই দিলেন না।

এতে তারা নিজেদের মধ্যে সে কথা বলাবলি করছিল। তখন তিনি তাদেরকে ডেকে এনে একটি তাঁবুর ভিতর একত্রিত করলেন এবং বললেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট থাকবে না যে, লোকজন তো বকরী ও উট নিয়ে চলে যাবে আর তোমরা চলে যাবে আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে।

এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেন, যদি লোকজন একটি উপত্যকা দিয়ে গমন করে আর আনসারগণ একটি গিরিপথ দিয়ে গমন করে তাহলে আমি আমার জন্য আনসারদের গিরিপথকেই গ্রহণ করব।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৯৮

হাদীস নং ৩৯৯৮

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের লোকজনকে জমায়েত করে বললেন, কুরাইশরা অতি সাম্প্রতিকালের জাহিলিয়াত বর্জনকারী (নও-মুসলিম) এবং দুর্দশাগ্রস্ত।

তাই আমি তাদেরকে অনুদান দিয়ে তাদের মন জয় করার ইচ্ছা করেছি। তোমরা কি সন্তুষ্ট থাকবে না যে, অন্যান্য লোক পার্থিব ধন-সম্পদ নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা তোমাদের ঘরে ফিরে যাবে আল্লাহর রাসুলকে নিয়ে।

তারা বললেন, অবশ্যই (সন্তুষ্ট থাকবে)। তিনি আরো বললেন, যদি লোকজন একটি উপত্যকা দিয়ে অতিক্রম করে আর আনসারগণ একটি গিরিপথ দিয়ে অতিক্রম করে যায়, তাহলে আমি আনসারদের গিরিপথ অথবা তিনি বলেছেন, আনসারদের উপত্যকা দিয়েই অতিক্রম করে যাব।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৯৯

হাদীস নং ৩৯৯৯

কাবীসা রহ…………আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের গনীমত বণ্টন করে দিলেন, তখন আনসারদের এক ব্যক্তি বলে ফেলল যে, এই বণ্টনের এবং তাকে কথাটি জানিয়ে দিলাম।

তখন তাঁর চেহারার রং পরিবর্তিত হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ, মূসা আ.-এর উপর রহমত বর্ষণ করুন। তাকে এর চেয়েও অধিক কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সবর করেছিলেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৮ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০০০

হাদীস নং ৪০০০

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……….আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইনের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন লোককে (গনীমতের মাল) বেশি বেশি করে দিয়েছিলেন।

যেমন আকরাকে একশ উট দিয়েছিলেন। উয়ায়নাকে অনুরূপ (একশ উট) দিয়েছিলেন। এভাবে আরো কয়েকজনকে দিয়েছেন। এতে এক ব্যক্তি বলে উঠলো, এ বণ্টন পদ্ধতিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্য রাখা হয়নি।

(রাবী বলেন) আমি বললাম, অবশ্যই আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা জানিয়ে দিব। এরপর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাটি শুনে) বললেন, আল্লাহ মূসা আ.-এর উপর করুণা বর্ষণ করুন। তাকে এর চেয়েও অধিক কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৪০০১

হাদীস নং ৪০০১

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইনের দিন হাওয়াযিন, গাতফান ইত্যাদি গোত্র নিজেদের গৃহপালিত চতুষ্পদ প্রাণী ও সন্তান-সন্ততিসহ যুদ্ধক্ষেত্রে এল।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিল দশ হাজার তুলাকা সৈনিক। যুদ্ধে তারা সবাই তাঁর পাশ থেকে পিছনে সরে গেল। ফলে তিনি একাকী রয়ে যান। সেই সংকট মুহূর্তে তিনি আলাদা আলাদাভাবে দুটি ডক দিয়েছিলেন, তিনি ডান দিক ফিরে বলেছিলেন, ওহে আনসারসকল।

তাঁরা সবাই উত্তর করলেন, আমরা হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি সুসংবাদ নিন, আমরা আপনার সঙ্গেই আছি। এরপর তিনি বাম দিকে ফিরে বলেছিলেন, ওহে আনসারসকল।

তাঁরা সবাই উত্তর করলেন, আমরা হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি সুসংবাদ নিন, আমরা আপনার সঙ্গেই আছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাদা রঙের খচ্চরটির পিঠে ছিলেন। (অবস্থা আরো তীব্র হলে) তিনি নিচে নেমে পড়লেন এবং বললেন, আমি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল।

(শেষ পর্যন্ত) মুশরিক দলই পরাজিত হল। সে যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ গনীমত হস্তগত হল। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেসব সম্পদ মুহাজির এবং নও-মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।

আর আনসারদেরকে তার কিছুই দেননি। তখন আনসারদের (কেউ কেউ) বললেন, কঠিন মুহূর্তে আসলে আমাদেরকে ডাকা হয় আর গনীমত অন্যদেরকে দেওয়া হয়।

কথাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে গেল। তাই তিনি তাদেরকে একটি তাঁবুতে জমায়েত করে বললেন, হে আনসারগণ ! একি কথা আমার কাছে পৌঁছল?

তাঁরা চুপ করে থাকলেন। তিনি বললেন, হে আনসারগণ ! তোমরা কি খুশি থাকবে না যে, লোকজন দুনিয়ার ধন-সম্পদ নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা (বাড়ি) ফিরে যাবে আল্লাহর রাসূলকে সঙ্গে নিয়ে?

তাঁরা বললেন: অবশ্যই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি লোকজন একটি উপত্যকা দিয়ে চলে আর আনসারগণ একটি গিরিপথ দিয়ে চলে তাহলে আমি আনসারদের গিরিপথকেই গ্রহণ করে নেব।

রাবী হিশাম রহ. বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবু হামযা (আনাস ইবনে মালিক) আপনি কি এ ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন? উত্তরে তিনি বললেন, আমি তাঁর কাছ থেকে আলাদা থাকতাম বা কখন? (যে আমি তখন সেখানে থাকব না)।

বুখারি হাদিস নং ৪০০২ – নাজদের দিকে প্রেরিত অভিযান।

হাদীস নং ৪০০২ – নাজদের দিকে প্রেরিত অভিযান।

আবু নুমান রহ………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে একটি সৈন্যদল পাঠিয়েছিলেন, তাতে আমিও ছিলাম।

(এ যুদ্ধে প্রাপ্ত গনীমতের অংশে) আমাদের সবার ভাগে বারোটি করে উট পৌঁছল। উপরন্তু আমাদেরকে একটি করে উট বেশিও দেওয়া হল। কাজেই আমরা সকলে তেরোটি করে উট নিয়ে ফিরে আসলাম।

বুখারি হাদিস নং ৪০০৩ – মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রা.-কে জাযিমার দিকে প্রেরণ।

হাদীস নং ৪০০৩ – মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রা.-কে জাযিমার দিকে প্রেরণ।

মাহমূদ (ইবনে গায়লান) ও নুআইম রহ………….সালিমের পিতা (আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রা.-কে বনী জাযিমার বিরুদ্ধে এক অভিযানে পাঠিয়েছিলেন।

(সেখানে পৌঁছে) খালিদ রা. তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। (তারা দাওয়াত কবূল করেছিল) কিন্তু আমরা ইসলাম কবূল করলাম, এ কথাটি বুঝিয়ে বলতে পারছিল না।

তাই তারা বলতে লাগল, আমরা স্বধর্ম ত্যাগ করলাম, আমরা স্বধর্ম ত্যাগ করলাম। খালিদ তাদেরকে হত্যা ও বন্দী করতে থাকলেন। এবং আমাদের প্রত্যেকের কাছে বন্দীদেরকে সোপর্দ করতে থাকলেন। অবশেষে একদিন তিনি আদেশ দিলেন আমাদের সবাই যেন নিজ নিজ বন্দীকে হত্যা করে ফেলি।

আমি বললাম, আল্লাহর কসম, আমি আমার বন্দীকে হত্যা করব না। আর আমার সাথীদের কেউই তার বন্দীকে হত্যা করবে না (কারণ ব্যাপারটি সন্দেহযুক্ত)।

অবশেষে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে আসলাম। আমরা তাঁর কাছে এ ব্যাপারটি উল্লেখ করলাম।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দুহাত তুলে বললেন, হে আল্লাহ ! খালিদ যা করেছে আমি তার দায় থেকে মুক্ত (আমি এর সাথে জড়িত নই)। এ কথাটি তিনি দু’বার বলেছেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৮ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০০৪ – আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা সাহমী এবং আলকামা ইবনে মুযাযবিল মুদাল্লিজীর সৈন্যবাহিনী, যাকে আনসারদের সৈন্যবাহিনীও বলা হয়।

হাদীস নং ৪০০৪ – আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা সাহমী এবং আলকামা ইবনে মুযাযবিল মুদাল্লিজীর সৈন্যবাহিনী, যাকে আনসারদের সৈন্যবাহিনীও বলা হয়।

মুসাদ্দাদ রহ………….আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক অভিযানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সৈন্যবাহিনী পাঠিয়েছিলেন। এবং আনসারদের এক ব্যক্তিকে তার সেনাপতি নিযুক্ত করে তিনি তাদেরকে তাঁর (সেনাপতির) আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

(পরে কোন কারণে) আমীর ক্রুদ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে আমার আনুগত্য করতে নির্দেশ দেননি?

তাঁরা বলল, অবশ্যই। তিনি বললেন, তাহলে তোমরা আমার জন্য কিছু কাঠ সংগ্রহ কর। তাঁরা কাঠ সংগ্রহ করলেন। তিনি বললেন, এগুলোতে আগুন লাগিয়ে দাও। তাঁরা আগুন লাগালেন।

তখন তিনি বললেন, এবার তোমরা সকলে এ আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়। (আদেশ মত) তাঁরা ঝাঁপ দেয়ার সংকল্পও করে ফেললেন।

কিন্তু তাদের কয়েকজন বাধা দিয়ে বলতে লাগলেন, আগুন থেকেই তো আমরা পালিয়ে গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলাম।

(অথচ এখানে সেই আগুনেই ঝাঁপ দেয়াররই আদেশ) এভাবে জ্বলতে জ্বলতে অবশেষে আগুন নিভে গেল এবং তার ক্রোধও থেমে গেল।

এরপর এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, যদি তারা আগুনে ঝাঁপ দিত তাহলে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত আর এ আগুন থেকে বের হতে পারত না। কেননা আনুগত্য কেবল সৎ কাজের।

বুখারি হাদিস নং ৪০০৫ – বিদায় হজ্জের পূর্বে আবু মূসা আশআরী রা. এবং মুআয (ইবনে জাবাল) কে ইয়ামানের উদ্দেশ্যে প্রেরণ।

হাদীস নং ৪০০৫ – বিদায় হজ্জের পূর্বে আবু মূসা আশআরী রা. এবং মুআয (ইবনে জাবাল) কে ইয়ামানের উদ্দেশ্যে প্রেরণ।

মূসা রহ………….আবু বুরদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু মূসা এবং মুআয ইবনে জাবাল রা-কে ইয়ামানের উদ্দেশ্য পাঠালেন।

রাবী বলেন, তৎকালে ইয়ামানে দুটি প্রদেশ ছিল। তিনি তাদের প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশে পাঠিয়ে বলে দিলেন, তোমরা (এলাকাবাসীদের সাথে) কোমল আচরণ করবে, কঠিন আচরণ করবে না। এলাকাবাসীদের মনে সুসংবাদের মাধ্যমে উৎসাহ সৃষ্টি করবে, অনীহা সৃষ্টি হতে দেবে না।

এরপর তাঁরা দুজনে নিজ নিজ শাসন এলাকায় চলে গেলেন। আবু বুরদা রা. বললেন, তাদের প্রত্যেকেই যখন নিজ নিজ এলাকায় সফর করতেন এবং অন্যজনের কাছাকাছি স্থানে পৌঁছে যেতেন তখন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হলে তাদের সালাম বিনিময় করতেন।

এভাবে মুআয রা. একবার তাঁর এলাকায় এমন স্থানে সফর করছিলেন, যে স্থানটি তাঁর সাথী আবু মূসা রা.-এর এলাকার নিকটবর্তী ছিল। সুযোগ পেয়ে তিনি খচ্চরের পিঠে চড়ে (আবু মূসার এলাকায়) পৌঁছে গেলেন। তখন তিনি দেখলেন যে আবু মূসা রা. বসে আছেন আর তাঁর চারপাশে অনেক লোক জমায়েত হয়ে রয়েছে।

আরো দেখলেন, পাশে এক লোককে তার গলার সাথে উভয় হাত বেঁধে রাখা হয়েছে। মুআয রা. তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস ! এ লোকটি কে?

তিনি উত্তর দিলেন, এ লোকটি ইসলাম গ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে গেছে। মুআয রা. বলেন, তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি সাওয়ারী থেকে অবতরণ করব না। আবু মূসা রা. বললেন, এ উদ্দেশ্যেই তাকে এখানে আনা হয়েছে। সুতরাং আপনি অবতরণ করুন। তিনি বললেন, না তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি নামব না।

ফলে আবু মূসা রা. হুকুম করলেন এবং লোকটিকে হত্যা করা হল। এরপর মুআয রা. অবতরণ করলেন। মুআয রা. বললেন, হে আবদুল্লাহ ! আপনি কিভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন?

তিনি বললেন, আমি (রাত-দিনের সব সময়ই) কিছুক্ষণ পরপর কিছু অংশ কর তিলাওয়াত করে থাকি। তিনি বললেন, আর আপনি কিভাবে তিলাওয়াত করেন, হে মুআয ! উত্তরে তিনি বললেন, আমি রাতের প্রথম ভাগে শুয়ে পড়ি এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিদ্রা যাওয়ার পর আমি উঠে পড়ি।

এরপর আল্লাহ আমাকে যতটুকু তাওফীক দান করেন তিলাওয়াত করতে থাকি। এ পদ্ধতি অবলম্বন করার জন্য আমি আমার নিদ্রার অংশকেও সাওয়াবের বিষয় বলে মনে করি, যেভাবে আমি আমার তিলাওয়াতকে সাওয়াবের বিষয় বলে মনে করে থাকি।

বুখারি হাদিস নং ৪০০৬

হাদীস নং ৪০০৬

ইসহাক রহ…………আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (আবু মূসাকে গভর্নর নিযুক্ত করে) ইয়ামানে পাঠিয়েছেন।

তখন তিনি ইয়ামানে তৈরী করা হয় এমন কতিপয় শরাব সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললন, ঐগুলো কি কি?

আবু মূসা রা. বললেন, তাহল বিতউ ও মিযর শরাব। রাবী সাঈদ রহ. বলেন, (কথার ফাকেঁ) আমি আবু বুরদাকে জিজ্ঞাসা করলাম, বিতউ কি? তিনি বললেন, বিতউ হলো মধু থেকে গ্যাজানো রস আর মিযর হল যবের গ্যাজানো রস।

(সাঈদ বলেন) তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সকল নেশা উৎপাদক বস্তুই হারাম। হাদীসটি জারীর এবং আবদুল ওয়াহিদ শায়বানী রহ.-এর মাধ্যমে আবু বুরদা রা. সূত্রেও বর্ণনা করেছেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৮ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০০৭

হাদীস নং ৪০০৭

মুসলিম রহ…………..আবু বুরদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তার দাদা আবু মূসা ও মুআয রা-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (গভর্নর হিসেবে) ইয়ামানে পাঠালেন।

এ সময় তিনি (উপদেশস্বরূপ) বলে দিয়েছিলেন, তোমরা লোকজনের সাথে কোমল আচরণ করবে। কখনো কঠিন আচরণ করব না। মানুষের মনে সুসংবাদের মাধ্যমে উৎসাহ সৃষ্টি করবে। কখনো তাদের মনে অনীহা আসতে দিবে না এবং একে অপরকে মেনে চলবে।

আবু মূসা বললেন, হে আল্লাহর নবী ! আমাদের এলাকায় মিযর নামের এক প্রকার শরাব যব থেকে তৈরী করা হয় আর বিতউ নামের এক প্রকার শরাব মধু থেকে তৈরী করা হয় (অতএব এগুলোর হুকুম কি?) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নেশা উৎপাদনকারী সকল বস্তুই হারাম।

এরপর দুজনেই চলে গেলেন। মুআয আবু মূসাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কিভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি উত্তর দিলেন, দাঁড়িয়ে, বসে সাওয়ারীর পিঠে সাওয়ার অবস্থায় এবং কিছুক্ষণ পরপরই তিলাওয়াত করি।

তিনি বললেন, তবে আমি রাতের প্রথমদিকে ঘুমিয়ে পড়ি তারপর (শেষ ভাগে তিলাওয়াতের জন্য নামাযে) দাঁড়িয়ে যাই। এ রকমে আমি আমার নিদ্রার সময়কেও সাওয়াবের অন্তর্ভূক্ত মনে করি যেভাবে আমি আমার নামাযে দাঁড়ানোকে সাওয়াবের বিষয় মনে করে থাকি।

এরপর (প্রত্যেকেই নিজ নিজ শাসন এলাকায় কার্যপরিচালনার জন্য) তাঁবু খাটালেন। এবং পরস্পরের সাক্ষাৎ বজায় রেখে চললেন।

(সে মতে এক সময়) মুআয রা. আবু মূসা রা.-এর সাক্ষাতে এসে দেখলেন সেখানে এক ব্যক্তি হাতপা বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ লোকটি কে?

আবু মূসা রা. বললেন, লোকটি ইহুদী ছিল, ইসলাম গ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে গেছে। মুআয রা. বললেন, আমি ওর গর্দান উড়িয়ে দেব। শুবা (ইবনুল হাজ্জাজ) থেকে আফাদী এবং ওয়াহাব অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আর ওকী রহ. নযর ও আবু দাউদ রহ. এ হাদীসের সনদে শুবা রহ.- সাঈদ-সাঈদের পিতা-সাঈদের দাদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাদীসটি জারীর ইবনে আবদুল হামীদ রহ. শায়বানী রহ.-এর মাধ্যমে আবু বুরদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৮ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০০৮

হাদীস নং ৪০০৮

আব্বাস ইবনে ওয়ালীদ রহ…………আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আমার গোত্রের এলাকায় (গভর্নর নিযুক্ত করে) পাঠালেন।

(আমি সেখানেই রয়ে গেলেম। এরপর বিদায় হজ্জের বছর আমিও হজ্জ করার জন্য আসলাম) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবতাহ নামক স্থানে অবস্থান করার সময় আমি তাঁর সাক্ষাতে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস, তুমি ইহরাম বেঁধেছ কি?

আমি বললাম, জী হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তিনি বললেন, (তালবিয়া) কিরূপে বলেছিলে? আমি উত্তর দিলাম, আমি তালবিয়া এরূপ বলেছি যে, হে আল্লাহ ! আমি হাযির হয়েছি এবং আপনার (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) ইহরামের মত ইহরাম বাঁধলাম।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আচ্ছা, তুমি কি তোমার সঙ্গে কুরবানীর পশু এনেছ? আমি জবাব দিলাম, আনিনি। তিনি বললেন, (ঠিক আছে) বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করো এবং সাফা ও মারওয়ার সায়ী আদায় করো, তারপর হালাল হয়ে যাও।

আমি সে রকমই করলাম। এমন কি বনী কাইসের জনৈক মহিলা আমার চুল পর্যন্ত আঁচড়িয়ে দিয়েছিল। আমি উমর রা. -এর খিলাফত আমল পর্যন্ত এ রকম আমলকেই অব্যাহত রেখেছি।

বুখারি হাদিস নং ৪০০৯

হাদীস নং ৪০০৯

হিব্বান রহ………….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয ইবনে জাবালকে (গভর্নর বানিয়ে) ইয়ামানে পাঠানোর সময় তাকে বললেন, অচিরেই তুমি আহলে কিতাবের এক গোত্রের কাছে যাচ্ছ।

যখন তুমি তাদের কাছে গিয়ে পৌঁছবে তখন তাদেরকে এ দাওয়াত দেবে তারা যেন সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, এরপর তারা যদি তোমার এ কথা মেনে নেয়, তখন তাদেরকে এ কথা জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তোমাদের উপর দিনে ও রাতে পাঁচবার নামায ফরয করে দিয়েছেন।

তারা তোমার এ কথা মেনে নিলে তুমি তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তোমাদের উপর যাকাত ফরয করে দিয়েছেন, যা তাদের (মুসলমানদের) সম্পদশালীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের অভাবগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তাহলে (তাদের সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণ করার সময়) তাদের মালের উৎকৃষ্টতম অংশ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে।

মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করবে, কেননা মজলুমের বদদোয়া এবং আল্লাহর মাঝখানে কোন পর্দার আড়াল থাকেনা। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) রহ. বলেন, طاعت , طوعت এবং اطاعت সমার্থবোধক শব্দ এবং طُعت, طِعت এবং اطعتُ এর অর্থ একই।

বুখারি হাদিস নং ৪০১০

হাদীস নং ৪০০৯

সুলামইমান ইবনে হারব রহ………..আমর ইবনে মায়মুন রা. থেকে বর্ণিত যে, মুআয (ইবনে জাবাল) রা. ইয়ামানে পৌঁছার পর লোকজনকে নিয়ে ফজরের নামায আদায় করতে গিয়ে তিনি (এই আয়াত) “আল্লাহ ইবরাহীমকে বন্ধু বানিয়ে নিলেন” তিলাওয়াত করলেন।

তখন কাওমের এক ব্যক্তি বলে উঠল, ইবরাহীমের মায়ের চোখ ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। মুআয (ইবনে মুআয বাসরী), শুবা-হাবীব-সাঈদ রহ.-আমর রা. থেকে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয (ইবনে জাবাল) রা.-কে ইয়ামানে পাঠালেন।

(সেখানে পৌঁছে) মুআয রা. ফজরের নামাযে সূরা নিসা তিলাওয়াত করলেন। যখন তিনি (তিলাওয়াত করতে করতে) (এই আয়াত) “আল্লাহ ইবরাহীমকে বন্ধু বানিয়ে নিলেন” পড়লেন তখন তাঁর পেছন থেকে জনৈক ব্যক্তি বলে, উঠল, ইবরাহীমের মায়ের চোখ ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।

বুখারি হাদিস নং ৪০১১ – হাজ্জাতুল বিদা-এর পূর্বে আলী ইবনে আবু তালিব এবং খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রা.-কে ইয়ামানে প্রেরণ।

হাদীস নং ৪০১১ – হাজ্জাতুল বিদা-এর পূর্বে আলী ইবনে আবু তালিব এবং খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রা.-কে ইয়ামানে প্রেরণ।

আহমদ ইবনে উসমান রহ……….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রহ.-এর সঙ্গে ইয়ামানে পাঠালেন।

বারা রা. বলেন, তারপর কিছু দিন পরেই তিনি খালিদ রা.-এর স্থলে আলী রা.-কে পাঠিয়ে বলে দিয়েছেন যে, খালিদ রা.-এর সাথীদেরকে বলবে, তাদের মধ্যে যে তোমার সাথে (ইয়ামানের দিকে) যেতে ইচ্ছা করে সে যেন তোমার সাথে চলে যায়, আর যে (মদীনায়) ফিরে যেতে চায় সে যেন ফিরে যায়।

(রাবী বলেন) তখন আমি আলী রা.-এর সাথে ইয়ামানগামীদের মধ্যে থাকতাম। ফলে আমি গনীমত হিসেবে অনেক পরিমাণ আওকিয়া লাভ করলাম।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৮ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০১২

হাদীস নং ৪০১২

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………….বুরাইদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রা.-কে খুমুস নিয়ে আসার জন্য খালিদ রা.-এর কাছে পাঠালেন।

(বারী বুরায়দা বলেন, কোন কারণে) আমি আলী রা.-এর প্রতি নারাজ ছিলাম, আর তিনি গোসলও করেছেন। (রাবী বলেন) তাই আমি খালিদ রা.-কে বললাম, আপনি কি তার দিকে দেখছেন না?

এরপর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে আসলে আমি তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন, হে বুবায়দা ! তুমি কি আলীর প্রতি অসন্তুষ্ট ?

আমি উত্তর করলাম, জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার উপর অসন্তুষ্ট থেকো না। কারণ খুমসের ভিতরে তার প্রাপ্য অধিকার এ অপেক্ষাও বেশি রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৪০১৩

হাদীস নং ৪০১৩

কুতাইবা রহ………..আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী ইবনে আবু তালিব রা. ইয়ামান থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সিলম বৃক্ষের পাতা দ্বারা পরিশোধিত এক প্রকার (রঙিন) চামড়ার থলে করে সামান্য কিছু তাজা স্বর্ণ পাঠিয়েছিলেন।

তখনও এগুলো থেকে সংযুক্ত খনিজ মাটিও পরিষ্কার করা হয়নি। আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার ব্যক্তির মধ্যে স্বর্ণ খণ্ডটি বণ্টন করে দিলেন।

তারা হলেন, ইয়ায়না ইবনে বাদর, আকরা ইবনে হারিস, যায়েদ আল-খায়ল এবং চতুর্থ জন আলকামা কিংবা আমির ইবনে তুফাইল রা.। তখন সাহাবীগণের মধ্য থেকে একজন বললেন, এ স্বর্ণের ব্যাপারে তাদের অপেক্ষা আমরাই অধিক হকদার ছিলাম।

(রাবী বলেন, কথাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছল। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি আমার উপর আস্থা রাখ না অথচ আমি আসমান অধিবাসীদের আস্থাভাজন, সকাল-বিকাল আমার কাছে আসমানের সংবাদ আসছে।

এমন সময়ে এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল। লোকটির চোখ দুটি ছিল কোটরাগত, চোয়ালের হাড় যেন বেরিয়ে পড়ছে, উচু কলাপধারী, তার দাড়ি ছিল অতিশয় ঘন, মাথাটি ন্যাড়া, পরনের লুঙ্গী ছিল উপরের দিকে উঠান।

সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আল্লাহকে ভয় করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার জন্য আফসোস ! আল্লাহকে ভয় করার ব্যাপারে দুনিয়াবাসিদের মধ্যে আমি কি বেশি হকদার নই?

আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন, লোকটি (এ কথা বলে) চলে যেতে লাগলে খালিদ বিন ওয়ালীদ রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি কি লোকটির গর্দান উড়িয়ে দেব না?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, হতে পারে সে নামায আদায় করে। (বাহ্যত মুসলমান)। খালিদ রা. বললেন, অনেক নামায আদায়কারী এমন আছে যারা মুখে এমন এমন কথা উচ্চারণ করে যা তাদের অন্তরে নেই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকে মানুষের দিল ছিদ্র করে, পেট ফেঁড়ে (ঈমানের উপস্থিতি) দেখার জন্য বলা হয়নি।

তারপর তিনি লোকটির দিকে তাকিয়ে দেখলেন। তখন লোকটি পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। তিনি বললেন, এ ব্যক্তির বংশ থেকে এমন এক জাতির উদ্ভব ঘটবে যারা শ্রুতিমধুর কণ্ঠে আল্লাহর কিতাবে তিলাওয়াত করবে অথচ আল্লাহর বাণী তাদের গলদেশের নিচে নামবে না।

তারা দীন থেকে এভাবে বেরিয়ে যাবে যেভাবে নিক্ষেপ কৃত জন্তুর দেহ থেকে তীর বেরিয়ে যায়। (রাবী বলেন) আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছেন, যদি আমি তাদেরকে হাতে পাই তাহলে অবশ্যই আমি তাদের সামুদ জাতির মত হত্যা করে দেব।

বুখারি হাদিস নং ৪০১৪

হাদীস নং ৪০১৪

মাক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ………….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রা.-কে তাঁর কৃত ইহরামের উপর কায়েম থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মুহাম্মদ ইবনে বকর ইবনে জুরাজজ -আতা রহ.-জাবির রা. সূত্রে আরও বর্ণনা করেন যে, জাবির রা. বলেছেন, আলী ইবনে আবু তালিব রা. আদায়কৃত কর খুমুস নিয়ে (মক্কায়) আসলেন।

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, হে আলী ! তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? তিনি উত্তর করলেন, নবী যেটির ইহরাম বেঁধেছেন (আমিও সেটির ইহরাম বেঁধেছি) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললন, তাহলে তুমি কুরবানীর পশু পাঠিয়ে দাও এবং এখন যেভাবে আছ সেভাবে ইহরাম বাঁধা অবস্থায় অবস্থান করতে থাক।

রাবী বলেন, সে সময় আলী রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কুরবানীর পশু পাঠিয়েছিলেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৮ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০১৫

হাদীস নং ৪০১৫

মুসাদ্দাদ রহ………..বকর রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর রা.-এর কাছে এ কথা উল্লেখ করা হল, আনাস রা. লোকদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ এবং উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন।

তখন ইবনে উমর রা. বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের জন্য ইহরাম বেঁধেছেন, তাঁর সাথে আমরাও হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধি।

যখন আমরা মক্কায় উপনীত হই তিনি বললেন, তোমাদের যার সঙ্গে কুরবানীর পশু নেই সে যেন তার হজ্জের ইহরাম উমরার ইহরামে পরিণত করে ফেলে।

অবশ্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। এরপর আলী ইবনে আবু তালিব রা. হজ্জের উদ্দেশ্যে ইয়ামান থেকে আসলেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাকে) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? কারণ আমাদের সাথে তোমার স্ত্রী (ফাতিমা) রয়েছে।

তিনি উত্তর দিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেটির ইহরাম বেঁধেছেন আমি সেটিরই ইহরাম বেঁধেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে এ অবস্থায়ই থাক, কারণ আমাদের কাছে কুরবানীর জন্তু আছে।

বুখারি হাদিস নং ৪০১৬ – যুল খালাসার যুদ্ধ।

হাদীস নং ৪০১৬ – যুল খালাসার যুদ্ধ।

মুসাদ্দাদ রহ………..জারীর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলিয়্যাতের যুগে একটি (নকল তীর্থ) ঘর ছিল যাকে ‘যুল খালাসা’ ইয়ামানী কাবা এবং সিরীয় কাবা বলা হত।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি কি যুল-খালাসার পেরেশানী থেকে আমাকে স্বস্তি দেবে না? এ কথা শুনে আমি একশ’ পঞ্চাশজন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে ছুটে চললাম।

আর এ ঘরটি ভেঙ্গে টুকরা টুকরা করে দিলাম এবং সেখানে যাদেরকে পেলাম তাদের হত্যা করে ফেললাম। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে এসে তাকে এ সংবাদ জানালে তিনি আমাদের জন্য এবং (আমাদের গোত্র) আহমাসের জন্য দোয়া করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৪০১৭

হাদীস নং ৪০১৭

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………….কায়েস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণিত, জারীর রা. আমাকে বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কি আমাকে যুল খালাসা থেকে স্বস্তি দেবে না? যুল খালাসা ছিল খাসআম গোত্রের একটি (বানোয়াট তীর্থ) ঘর, যাকে বলা হত ইয়ামনী কাবা।

এ কথা শুনে আমি আহমাস গোত্র থেকে একশ পঞ্চাশজন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে চললাম। তাদের সকলেই অশ্ব পরিচালনায় পারদর্শী ছিল।

আর আমি তখন ঘোড়ার পিঠে শক্তভাবে বসতে পারছিলাম না। কাজেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুকের উপর হাত দিয়ে আঘাত করলেন। এমন কি আমি আমার বুকের উপর তার আঙ্গুলগুলোর ছাপ পর্যন্ত দেখতে পেলাম।

(এ অবস্থায়) তিনি দোয়া করলেন, হে আল্লাহ ! একে (ঘোড়ার পিঠে) শক্তভাবে বসে থাকতে দিন এবং তাকে হেদায়েত দানকারী ও হেদায়েত লাভকারী বানিয়ে দিন।

এরপর জারীর রা. সেখানে গেলেন এবং ঘরটি ভেঙ্গে দিয়ে তা জ্বালিয়ে ফেললেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে দূত পাঠালেন।

তখন জারীরের দূত (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বলল, সেই মহান সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য বাণী দিয়ে পাঠিয়েছেন, আমি ঘরটিকে খুজলি-পাঁচড়া আক্রান্ত কাল উটের মত রেখে আপনার কাছে এসেছি।

রাবী বলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহমাস গোত্রের অশ্বারোহী ও পদাতিক সৈনিকদের জন্য পাঁচবার বরকতের দোয়া করলেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৮ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০১৮

হাদীস নং ৪০১৮

ইউসুফ ইবনে মূসা রহ………….জারীর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি আমাকে যুল খালাসার পেরেশানী থেকে স্বস্তি দেবে না?

আমি বললাম, অবশ্যই। এরপর আমি (আমাদের) আহমাস গোত্র থেকে একশ’ পঞ্চাশজন অশ্বারোহী সৈনিক নিয়ে চললাম। তাদের সবাই ছিল অশ্ব পরিচালায় অভিজ্ঞ।

কিন্তু আমি তখনো ঘোড়ার উপর স্থির হয়ে বসতে পারতাম না। তাই ব্যাপারটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালাম। তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার বুকের উপর আঘাত করলেন।

এমনকি আমি আমার বুকে তাঁর হাতের চিহ্ন পর্যন্ত দেখতে পেলাম। তিনি দোয়া করলেন : হে আল্লাহ ! একে স্থির হয়ে বসে থাকতে দিন এবং তাকে হেদায়েতদানকারী ও হেদায়েত লাভকারী বানিয়ে দিন। জারীর রা. বলেন, এরপরে আর কখনো আমি আমার ঘোড়া থেকে পড়ে যাইনি।

তিনি আরো বলেছেন যে, যুল খালাসা ছিল ইয়ামানের অন্তর্গত খাসআম ও বাজীলা গোত্রের একটি (তীর্থ) ঘর। সেখানে কতগুলো মূর্তি স্থাপিত ছিল।

লোকেরা এগুলোর পূজা করত এবং এ ঘরটিকে বলা হত কাবা। রাবী বলেন, এরপর তিনি সেখানে গেলেন এবং ঘরটি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন আর এর ভিটামাটিও চুরমান করে দিলেন।

রাবী আরো বলেন, আর যখন জারীর রা. ইয়ামানে গিয়ে উঠলেন তখন সেখানে এক লোক থাকত, সে তীরের সাহায্য ভাগ্য নির্ণয় করত; তাকে বলা হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিনিধি এখানে আছেন, তিনি যদি তোমাকে পাকড়াও করার সুযোগ পান তাহলে তোমার গর্দান উড়িয়ে দেবেন।

রাবী বলেন, এরপর একদা সে ভাগ্য নির্ণয়ের কাজে লিপ্ত ছিল, সেই মুহূর্তে জারীর রা. সেখানে পৌঁছে গেলেন। তিনি বললেন, তীরগুলো ভেঙ্গে ফেল এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই—এ কথার সাক্ষ্য দাও, অন্যথায় তোমার গর্দান উড়িয়ে দেব।

লোকটি তখন তীরগুলো ভেঙ্গে ফেলল এবং (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এ কথার) সাক্ষ্য দিল। এরপর জারীর রা. আবু আরতাত নামক আহমাস গোত্রের এক ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে পাঠালেন খোশখবরী শোনানোর জন্য।

লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সে সত্তার কসম করে বলছি, যিনি আপনাকে সত্য বাণী দিয়ে পাঠিয়েছেন, ঘরটিকে ঠিক খুজলি-পাঁচড়া আক্রান্ত উটের মত কালো করে রেখে আমি এসেছি।

রাবী বলেন, এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহমাস গোত্রে অশ্বারোহী এবং পদাতিক সৈনিকদের সার্বিক কল্যাণ ও বরকতের জন্য পাঁচবার দোয়া করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৪০১৯ – যাতুল সালাসিল যুদ্ধ।

হাদীস নং ৪০১৯ – যাতুল সালাসিল যুদ্ধ।

ইসহাক রহ………..আবু উসমান রহ. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনুল আস রা. কে (সেনাপতি নিযুক্ত করে) যাতুস সালাসিল বাহিনীর বিরুদ্ধে পাঠিয়েছেন।

আমর ইবনুল আস বলেন : (যুদ্ধ শেষ করে) আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার কাছে কোন লোকটি অধিকতর প্রিয় ? তিনি উত্তর দিলেন, আয়েশা রা.।

আমি বললাম, পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, তার (আয়েশার) পিতা। আমি বললাম, তারপর কে? তিনি বললেন, উমর রা. এভাবে তিনি (আমার প্রশ্নের জবাবে) একের পর এক আরো কয়েকজনের নাম বললেন।

আমি চুপ হয়ে গেলাম এ আশংকায় যে, আমাকে না তিনি সকলের শেষে স্থাপন করে বসেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৮ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০২০ – জারীর রা.-এর ইয়ামান গমন।

হাদীস নং ৪০২০ – জারীর রা.-এর ইয়ামান গমন।

আবদুল্লাহ ইবনে আবু শায়বা আবসী রহ…………জারীর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইয়ামানে ছিলাম। এ সময়ে একদা যুকালা ও যু’আমর নামে ইয়ামানের দু’ব্যক্তির সাথে আমার সাক্ষাত হল।

আমি তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস শোনাতে লাগলাম। (রাবী বলেন) এমন সময়ে যুআমর রাবী জারীর রা.-কে বললেন, তুমি যা বর্ণনা করছ তা যদি তোমার সাথীরই (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) কথা হয়ে থাকে তাহলে মনে রেখো যে, তিন দিন আগে তিনি ইন্তিকাল করে গেছেন।

(জারীর বলেন, কথাটি শুনে আমি মদীনা অভিমুখে ছুটলাম) তারা দুজনেও আমার সাথে সম্মুখের দিকে চললেন। অবশেষে আমরা একটি রাস্তার ধারে পৌঁছলে মদীনার দিক থেকে আসা একদল সাওয়ারীর সাক্ষাৎ পেলাম।

আমরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হয়ে গেছে। মুসলমানদের সম্মতিক্রমে আবু বকর রা. খলীফা নির্বাচিত হয়েছেন।

তারপর তারা দু’জন (আমাকে) বলল, (তুমি মদীনায় পৌঁছলে) তোমার সাথী (আবু বকর) রা. কে বলবে যে, আমরা কিছুদূর পর্যন্ত এসেছিলাম। সম্ভবত আবার আসব ইনশাআল্লাহ, এ কথা বলে তারা দু’জনে ইয়ামানের দিকে ফিরে গেল। এরপর আমি আবু বকর রা.-কে তাদরে কথা জানালাম।

তিনি (আমাকে) বললেন, তাদেরকে তুমি নিয়ে আসলে না কেন? পরে আরেক সময় (যুআমরের সাথে সাক্ষাৎ হলে০ তিনি আমাকে বললেন, হে জারীর ! তুমি আমার চেয়ে অধিক সম্মানী।

তবুও আমি তোমাকে একটি কথা জানিয়ে দিচ্ছি যে, তোমরা আরব জাতি ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণ ও সাফল্যের মধ্যে অবস্থান করতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা একজন আমীর মারা গেলে অপরজনকে (পরামর্শের মাধ্যমে) আমীর বানিয়ে নেবে।

আর তা যদি তরবারির জোরে ফায়সালা হয় তাহলে তোমাদের আমীরগণ (জাগতিক) অন্যান্য রাজা বাদশাদের মতোই হয়ে যাবে। তারা রাজাসুলভ ক্রোধ, রাজাসুলভ সন্তুষ্টি প্রকাশ করবে। (খলীফা ও খিলাফত আর অবশিষ্ট থাকবে না)।

আরও পড়ুনঃ

মুকাতাব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বন্ধক অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

অংশীদারিত্ব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

জুলুম ও কিসাস অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

সহিহ বুখারী

মন্তব্য করুন