যুদ্ধাভিযান পার্ট ৭ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৭ (অবশিষ্ট অংশ)

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৭ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

Table of Contents

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৭ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯৬৫

হাদীস নং ৩৯৬৫

সাঈদ ইবনে শুরাহবীল রহ…………আবু শুরায়হিল আদাবী রা. থেকে বর্ণিত যে, (মদীনার শাসনকর্তা) আমর ইবনে সাঈদ যে সময় মক্কা অভিমুখে সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করছিলেন তখন আবু শুরয়হিল আদাবী রা. তাকে বলেছিলেন, হে আমাদের আমীর !

আপনি আমাকে একটু অনুমতি দিন, আমি আপনাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি বাণী শোনাবো, যেটি তিনি মক্কা বিজয়ের পরের দিন বলেছিলেন। সেই বাণীটি আমার দু’কান শুনেছে। আমার হৃদয় তা হিফাজত করে রেখেছে ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সে কথাটি বলছিলেন তখন আমার দুচোখ তাকে অবলোকন করেছে। প্রথমে তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং সানা পাঠ করেন। এর পর তিনি বলেন, আল্লাহ নিজে মক্কাকে হারাম ঘোষণা দিয়েছেন।

কোন মানুষ এ ঘোষণা দেয়নি। কাজেই যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং কিয়ামত দিবসের উপর ঈমান এনেছে তার পক্ষে (অন্যায়ভাবে) সেখানে রক্তপাত করা কিংবা এখানকার গাছপালা কর্তন করা কিছু্তেই হালাল নয়।

আর আল্লাহর রাসূলের সে স্থানে লড়াইয়ের কথা বলে যদি কেউ নিজের জন্যও সুযোগ করে নিতে চায় তবে তোমরা তাকে বলে দিও আল্লাহ তাঁর রাসূলের ক্ষেত্রে (বিশেষভাবে) অনুমতি দিয়েছিলেন, তোমাদের জন্য কোন অনুমতি দেননি।

আর আমার ক্ষেত্রেও তা একদিনের কিছু নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই কেবল অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এরপর সেদিনই তা পুনরায় সেরূপ হারাম হয়ে গেছে যেরূপে তা একদিন পূর্বে হারাম ছিল।

উপস্থিত লোকজন (এ কথাটি) অনুপস্থিত লোকদের কাছে পৌঁছিয়ে দেবে। (রাবী বলেন) পরবর্তী সময় আবু শুরায়হ রা.-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, (হাদীসটি শোনার পর) আমর ইবনে সাঈদ আপনাকে কি উত্তর করেছিলেন?

তিনি বললেন, আমর আমাকে বললেন, হে আবু শুরায়হ ! হাদীসটির বিষয়ে আমি তোমার চেয়ে অধিক অবগত আছি। (কথা ঠিক) কিন্তু, হারামে মক্কা কোন অপরাধী বা খুন থেকে পলায়নকারী কিংবা কোন চোর বা বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে আশ্রয় দেয় না।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৬৬

হাদীস নং ৩৯৬৬

কুতাইবা রহ………….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কায় অবস্থানকালে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল মদের বেচাকেনা হারাম ঘোষণা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৬৭

হাদীস নং ৩৯৬৭

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মক্কা বিজয়ের সময়ে) সফরে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ঊনিশ দিন (মক্কায়) অবস্থান করেছিলাম।

এ সময়ে আমরা নামাযে কসর করেছিলাম। ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, আমরা সফরে ঊনিশ দিন পর্যন্ত কসর করতাম। এর চাইতে অধিক দিন অবস্থান করলে আমরা পূর্ণ নামায আদায় করতাম। (অর্থাৎ চার রাকআত আদায় করতাম)।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৬৭ – মক্কা বিজয়ের সময়ে নবী (সা.)-এর মক্কা নগরীতে অবস্থান।

হাদীস নং ৩৯৬৭ – মক্কা বিজয়ের সময়ে নবী (সা.)-এর মক্কা নগরীতে অবস্থান।

আবু নুআইম ও কাবীসা রহ…………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (মক্কায়) দশ দিন অবস্থান করেছিলাম। এ সময়ে আমরা নামাযের কসম করতাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৬৮

হাদীস নং ৩৯৬৮

আবদান রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মক্কা বিজয়ের সময়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় ঊনিশ দিন অবস্থান করেছিলেন, এ সময়ে তিনি দু’রাকআত নামায আদায় করতেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৭ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯৭০ – মক্কা বিজয়ের বছর নবী (সা.) তাঁর মুখমণ্ডল মাসাহ করে দিয়েছিলেন।

হাদীস নং ৩৯৭০ – লায়স রহ. বলেছেন, ইউনুস আমার কাছে ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে সালাবা ইবনে সুআইর রা. আমাকে বর্ণনা করেছেন, আর মক্কা বিজয়ের বছর নবী (সা.) তাঁর মুখমণ্ডল মাসাহ করে দিয়েছিলেন।

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………….যুহরী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সুনাইন আবু জামিলা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যুহরী রহ. বলেন, আমরা (সাঈদ) ইবনে মুসায়্যাব রহ.-এর সাথে উপস্থিত ছিলাম।

এ সময় আবু জামিলা রা. দাবি করেন য, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষাত পেয়েছেন এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মক্কা বিজয়ের বছর (যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য) বের হয়েছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৭১

হাদীস নং ৩৯৭১

সুলামইমান ইবনে হারব রহ………….আমর ইবনে সালিমা রা. থেকে বর্ণিত, আইয়্যূব রহ. বলেছেন, আবু কিলাবা আমাকে বললেন, তুমি আমরা ইবনে সালিমার সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা কর না কেন?

আবু কিলাবা রহ. বলেন, এরপর আমি আমর ইবনে সালিমার সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।

উত্তরে তিনি বললেন, আমরা (আমাদের গোত্র) পথিকদের যাতায়াত পথের পাশে একটি ঝরনার নিকট বাস করতাম। আমাদের পাশ ঘেষে অতিক্রম করে যেতো অনেক কাফেলা। তখন আমরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতাম, (মক্কার) লোকজনের কি অবস্থা? মক্কার লোকজনের কি অবস্থা?

আর ঐ লোকটিরই কি অবস্থা? তারা বলত, সে ব্যক্তি তো দাবি করেন যে, আল্লাহ তাকে রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছেন। তাঁর প্রতি ওহী অবতীর্ণ করেছেন।

(কুরআনের কিছু অংশ পাঠ করে বললেন,) তাঁর কাছে আল্লাহ এ রকম ওহী নাযিল করেছেন। (আমর ইবনে সালিমা বলেন) তখন (পথিকদের মুখ থেকে শুনে) আমি সে বাণীগুলো মুখস্থ করে ফেলতাম যেন তা আজ আমার হৃদয়ে গেথে রয়েছে।

সমগ্র আরবাসী ইসলাম গ্রহণের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিজয়ের অপেক্ষা করছিল। তারা বলত, তাকে তাঁর স্বগোত্রীয় লোকদের সঙ্গে (প্রথমে) বোঝাপড়া করতে দাও।

কেননা তিনি যদি তাদের উপর বিজয় লাভ করেন তাহলে তিনি সত্য সত্যই নবী । এরপর মক্কা বিজয়ের ঘটনা সংঘটিত হল। এবার সব গোত্রই তাড়াহুড়া করে ইসলামে দীক্ষিত হতে শুরু করল।

আমাদের কাওমের ইসলাম গ্রহণ করার ব্যাপারে আমার পিতা বেশ তাড়াহুড়া করলেন। যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করে বাড়ী ফিরলেন তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ আমি সত্য নবীর দরবার থেকে তোমাদের কাছে এসেছি। তিনি বলে দিয়েছেন যে, অমুক সময়ে তোমরা অমুক নামায এবং অমুক সময় অমুক নামায আদায় করবে।

এভাবে নামাযের ওয়াক্ত হলে তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে কুরআন বেশি মুখস্থ করেছে সে নামাযের ইমামতি করবে।

(এরপর নামায আদায় করার সময় হল) সবাই এ রকম একজন লোককে খুঁজতে লাগল। কিন্তু আমার চেয়ে অধিক কুরআন মুখস্থকারী অন্য কাউকে পাওয়া গেল না। কেননা আমি কাফেলার লোকদের থেকে শুনে (কুরআন) মুখস্থ করতাম। কাজেই সকলে আমাকেই (নামায আদায়ের জন্য) তাদের সামনে এগিয়ে দিল।

অথচ তখনো আমি ছয় কিংবা সাত বছরের বালক। আমার একটি চাদর ছিল, যখন আমি সিজদায় যেতাম তখন চাদরটি আমার গায়ের সঙ্গে জড়িয়ে উপরের দিকে উঠে যেত।

(ফলে পেছনের অংশ অনাবৃত হয়ে পড়ত) তখন গোত্রের জনৈক মহিলা বলল, তোমরা তোমাদের ইমামের পেছনের অংশ আবৃত করে দাও না কেন?

তাই সবাই মিলে কাপড় খরিদ করে আমাকে একটি জামা তৈরী করে দিল। এ জামা পেয়ে আমি এত আনন্দিত হয়েছিলাম যে, কখনো অন্য কিছুতে এত আনন্দিত হইনি।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৭২

হাদীস নং ৩৯৭২

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………….আয়েশা রা. সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, অন্য সনদে লায়েস রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উতবা ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. তার ভাই সাদ (ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা.)কে ওয়াসিয়াত করে গিয়েছিল যে, সে যেন যামআর বাঁদীর সন্তানটি তাঁর নিজের কাছে নিয়ে নেয়।

উতবা বলেছিল, পুত্রটি আমার ঔরসজাত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা বিজয়কালে সেখানে আগমন করলেন (সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাসও তাঁর সাথে মক্কায় আসেন।

সুযোগ পেয়ে) তখন তিনি যামআর বাঁদীর সন্তানটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপস্থিত করলেন। তাঁর সাথে আবদ ইবনে যামআ (যামআর পুত্র) ও আসলেন। সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস দাবি উত্থাপন করে বললেন, সন্তানটি তো আমার ভাতিজা।

আমার ভাই আমাকে বলে গিয়েছেন যে, এ সন্তান তার ঔরসজাত কিন্তু আবদ ইবনে যামআ তার দাবি পেশ করে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এ আমার ভাই, এ যামআর সন্তান, তাঁর বিছানায় এর জন্ম হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন যামআর ক্রীতদাসীর সন্তানের প্রতি নযর দিয়ে দেখলেন যে, সন্তানটি দৈহিক আকৃতিগত দিক থেকে উতবা ইবনে আবু ওয়াক্কাসের সাথেই বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবদ ইবনে যামআ ! সন্তানটি তুমি নিয়ে নাও। সে তোমার ভাই। কেননা সে তার (তোমার পিতা যামআর) বিছানায় জন্মগ্রহণ করেছে।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সন্তানটির দৈহিক আকৃতি উতবা ইবনে আবী ওয়াক্কাসের আকৃতির সাদৃশ্য দেখার কারণে (তাঁর স্ত্রী) সাওদা বিনতে যামআর রা.-কে বললেন, হে সাওদা ! তুমি তার (বিতর্কিত সন্তানটির) থেকে পর্দা করবে।

ইবনে শিহাব যুহরী রহ. বলেন, আয়েশা রা. বলেছেন যে, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সন্তানের (আইনগত) পিতৃত্ব স্বামীর।

আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর। ইবনে শিহাব যুহরী বলেছেন, আবু হুরায়রা রা.-এর নিয়ম ছিল যে তিনি এ কথাটি উচ্চস্বরে বলতেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৭ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯৭৩

হাদীস নং ৩৯৭৩

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ…………..উরওয়া ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় (মক্কা) বিজয় অভিযানের সময়ে জনৈক মহিলা চুরি করেছিল।

তাই তার গোত্রের লোকজন আতংকিত হয়ে গেল এবং উসামা ইবনে যায়েদ রা.-এর কাছে এসে (উক্ত মহিলার ব্যাপারে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সুপারিশ করার জন্য অনুরোধ করল।

উরওয়া রা. বলেন, উসামা রা. এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যখনি কথা বললেন, তখন তাঁর চেহারার রং পরিবর্তিত হয়ে গেল। তিনি উসামা রা.-কে বললেন, তুমি কি নির্ধারিত একটি হুকুম (হাদ) প্রয়োগ করার ব্যাপারে আমার কাছে সুপারিশ করছ?

উসামা রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। এরপর সন্ধ্যা হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিতে দাঁড়ালেন।

যথাযথভাবে আল্লাহর হামদ ও প্রশংসা পাঠ করে বললেন, ‘আম্মা বাদ’ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতরা এ কারণে ধ্বংস হয়েছিল যে, তারা তাদের মধ্যকার অভিজাত শ্রেণীর কোন লোক চুরি করলে তার উপর শরীয়ত নির্ধারিত দণ্ড প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকত।

পক্ষান্তরে কোন দুর্বল লোক চুরি করলে তার উপর দণ্ড প্রয়োগ করত। যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তাঁর শপথ, যদি মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত তাহলে আমি তার হাত কেটে দিতাম।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই মহিলাটির হাত কেটে দিতে আদেশ দিলেন। ফলে তার হাত কেটে দেওয়া হল।

অবশ্য পরবর্তীকালে সে উত্তম তাওবার অধিকারিণী হয়েছিল এবং (বানু সুলামের গোতের এক ব্যক্তির সঙ্গে) তার বিয়ে হয়েছিল। আয়েশা রা. বলেন, এ ঘটনার পর সে আমার কাছে প্রায়ই আসত।

আমি তার বিভিন্ন প্রয়োজন ও সমস্যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে পেশ করতাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৭৪

হাদীস নং ৩৯৭৪

আমর ইবনে খালিদ রহ………..মুজাশি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের পর আমি আমার ভাই (মুজালিদ) -কে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি আমার ভাইকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছি যেন আপনি তার কাছ থেকে হিজরত করার ব্যাপারে বায়আত গ্রহণ করেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হিজরতকারিগণ (মক্কা বিজয়ের পূর্বে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতকারিগণ) হিজরতের সমুদয় মর্যাদা ও বরকত পেয়ে গেছেন।

(এখন আর হিজরতের অবকাশ নেই) আমি বললাম, আমি তাঁর কাছে থেকে বায়আত গ্রহণ করব ইসলাম, ঈমান ও জিহাদের উপর (রাবী আবু উসমান রা. বলেছেন) পরে আমি আবু মাবাদ রা.-এর সাথে সাক্ষাত করলাম।

তিনি ছিলেন তাদের দু’ভাইয়ের মধ্যে বড়। আমি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, মুজাশি’ রা. ঠিকই বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৭৫

হাদীস নং ৩৯৭৫

মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর রহ………….মুজাশি ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি বলেন, আমি আবু মাবাদ রা. (মুজালিদ)-কে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলাম, যেন তিনি তাঁর কাছ থেকে হিজরতের জন্য বায়আত গ্রহণ করেন।

তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হিজরতের মর্যাদা (মক্কা বিজয়ের পূর্বেকার) হিজরতকারীদের দ্বারা সমাপ্ত হয়ে গেছে।

আমি তার কাছে থেকে ইসলাম ও জিহাদের জন্য বায়আত গ্রহণ করব। (বর্ণনাকারী আবু উসমান নাহদী রহ. বলেন) এরপরে আমি আবু মাবাদ রা-এর সাথে সাক্ষাত করে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন, মুজাশি রা. সত্যই বলেছেন। অন্য সনদে খালিদ রহ. আবু উসমান রহ. আবু উসমান রহ. মুজাশি রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি তার ভাই মুজালিদ রা.-কে নিয়ে এসেছিলেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৭ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯৭৬

হাদীস নং ৩৯৭৬

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর রা.-কে বললাম, আমি সিরিয়া দেশে হিজরত করার ইচ্ছা করেছি।

তিনি বললেন, এখন হিজরতের কোন প্রয়োজন নেই, বরং প্রয়োজন আছে জিহাদের। সুতরাং যাও, নিজ অন্তরের সাথে বোঝাপড়া করে দেখ যদি,জিহাদের সাহস খুঁজে পাও (তবে ভাল, গিয়ে জিহাদে অংশগ্রহণ কর)। অন্যথায় হিজরতের ইচ্ছা থেকে ফিরে আস।

অন্য সনদে নাযর (ইবনে শুমাইল রহ.) মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত, (তিনি বলেছেন) আমি ইবনে উমর রা.-কে (এ কথা) বললে তিনি উত্তর করলেন, বর্তমানে হিজরতের কোন প্রয়োজন নেই, অথবা তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর হিজরতের কোন প্রয়োজন নেই। এরপর তিনি উপরোল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৭৭

হাদীস নং ৩৯৭৭

ইসহাক ইবনে ইয়াযীদ রহ………..মুজাহিদ ইবন জাবর আল-মাক্কী রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলতেন: মক্কা বিজয়ের পর হিজরতের কোন প্রয়োজন অবশিষ্ট নেই।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৭৮

হাদীস নং ৩৯৭৮

ইসহাক ইবনে ইয়াযীদ রহ………..আতা ইবনে আবু রাবাহ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উবাইদ ইবনে উমায়র রহ. সহ আয়েশা রা.-এর সাক্ষাতে গিয়েছিলাম।

সে সময় উবাইদ রহ. তাকে হিজরত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, বর্তমানে হিজরতের কোন প্রয়োজন নেই। পূর্বে মুমিন ব্যক্তির এ অবস্থা ছিল যে, সে তার দীনকে ফিতনার হাত থেকে হিফাজত করতে হলে তাকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে (মদীনার দিকে) পালিয়ে যেতে হতো।

কিন্তু বর্তমানে (মক্কা বিজয়ের পর) আল্লাহ ইসলামকে বিজয় দান করেছেন। তাই এখন মুমিন যেখানে যেভাবে চায় আল্লাহর ইবাদত করতে পারে। তবে বর্তমানে জিহাদ এবং হিজরতের সাওয়াবের নিয়্যাত রাখা যেতে পারে।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৭৯

হাদীস নং ৩৯৭৯

ইসহাক রহ…………মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবার জন্য দাঁড়িয়ে বললেন, যেদিন আল্লাহ সমূদয় আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, সেই দিন থেকেই তিনি মক্কা নগরীকে সম্মান দান করেছেন।

তাই আল্লাহ কর্তৃক এ সম্মান প্রদানের কারণে এটি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত সম্মানিত থাকবে। আমার পূর্বেকার কারো জন্য তা (কখনো) হালাল করা হয়নি, আমার পরবর্তী কারো জন্যও তা হালাল করা হবে না। আর আমার জন্যও মাত্র একদিনের সামান্য অংশের জন্যই তা হালাল করা হয়েছিল।

এখানে অবস্থিত শিকারকে তাড়ানো যাবে না, কাঁটাযুক্ত বৃক্ষের কাটাতেও কাস্তে ব্যবহার করা যাবে না। ঘাস কাটা যাবে না। রাস্তায় পড়ে থাকা কোন জিনিসকে মালিকের হাতে পৌঁছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে হারানো প্রাপ্তি সংবাদ প্রচারকারী ব্যতীত অন্য কেউ তুলতে পারবে না।

এ ঘোষণা শুনে আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! ইযখির ঘাস ব্যতীত। কেননা, ইযখির ঘাস আমাদের কর্মকার ও বাড়ির (ঘরের ছাউনির) কাজে প্রয়োজন হয়।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকলেন। এর কিছুক্ষণ পরে বললেন, ইযখির ব্যতীত। ইযখির ঘাস কাটা জায়েয।

অন্য সনদে ইবনে যুবাইর রহ…………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তাছাড়া এ হাদীস আবু হুরায়রা রা. ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৮০ – আল্লাহর বাণী: (৯: ২৫-২৭)

হাদীস নং ৩৯৮০ – আল্লাহর বাণী: এবং হুনায়নের যুদ্ধের দিনে যখন তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল তোমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, কিন্তু তা তোমাদের কোন কাজে আসেনি এবং বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী তোমাদের জন্য সংকুচিত হয়ে গিয়েছিল শেষে তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলেন……………..(৯: ২৫-২৭)।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর রহ………..ইসমাঈল রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবু আউফা রা.-এর হাতে একটি আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। (আঘাতের ব্যাপারে) তিনি বলেছেন, হুনাইনের (যুদ্ধের) দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে থাকা অবস্থায় আমাকে এ আঘাত করা হয়েছিল।

আমি বললাম, আপনি কি হুনাইন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন? তিনি বললেন, এর পূর্বের যুদ্ধগুলোতেও অংশগ্রহণ করেছি।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৮১

হাদীস নং ৩৯৮১

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ………..আবু ইসহাক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি বারা ইবনে আযিব রা.-কে বলতে শুনেছি যে, এক ব্যক্তি এসে তাকে জিজ্ঞাসা করল, হে আবু উমর ! হুনাইনের যুদ্ধের দিন আপনি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিলেন কি?

তখন তিনি বলেন যে, আমি তো নিজেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেননি। তবে মুজাহিদদের অগ্রবর্তী যোদ্ধা গণ (গনীমত কুড়ানোর কাজে) তাড়াহুড়া করলে হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করতে থাকে।

এ সময় আবু সুফিয়ান ইবনুল হারিস রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাদা খচ্চরটির মাথা ধরে দাঁড়িয়েছিলেন।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলছিলেন, আমি যে আল্লাহর নবী তাঁতে কোন মিথ্যা নেই, আমি তো (কুরাইশ নেতা) মুত্তালিবের সন্তান।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৭ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯৮২

হাদীস নং ৩৯৮২

আবুল ওয়ালীদ রহ………….আবু ইসহাক রহ. থেকে বর্ণিত, আমি শুনলাম যে, বারা ইবনে আযিব রা.-কে জিজ্ঞাসা করা হল, হুনাইন যুদ্ধের দিন আপনারা কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিলেন?

তিনি বললেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেনি। তবে তারা (হাওয়াযিন গোত্রেরে লোকেরা) ছিল দক্ষ তীরন্দাজ, (এ কারণে তারা তীর বর্ষণ আরম্ভ করলে সবাইকে পেছনে হেটে যেতে হয়েছে তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছনে হটেননি) তিনি (অটলভাবে দাঁড়িয়ে) বলছিলেন, আমি যে আল্লাহর নবী এতে কোন মিথ্যা নেই।

আমি (তো কুরাইশ নেতা) আবদুল মুত্তালিবের সন্তান।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৮৩

হাদীস নং ৩৯৮৩

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………….আবু ইসহাক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বারা রা.-কে বলতে শুনেছেন যে, তাকে কায়েস গোত্রের জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেছিল যে, হুনাইন যুদ্ধের দিন আপনারা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে পালিয়েছিলেন?

তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালান নি। তবে হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা ছিল সুদক্ষ তীরন্দাজ।

আমরা যখন তাদের উপর আক্রমণ চালালাম তখন তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালতে আরম্ভ করে। আমরা গনীমত তুলতে শুরু করলাম ঠিক সেই মুহূর্তে আমরা (অতর্কিতভাবে) তাদের তীরন্দাজ বাহিনীর হাতে আক্রান্ত হলাম। তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সাদা রংয়ের খচ্চরটির পিঠে আরোহণ অবস্থায় দেখেছি।

আর আবু সুফিয়ান রা. তাঁর খচ্চরের লাগাম ধরেছিলেন, তিনি বলছিলেন, আমি আল্লাহর নবী, এতে কোন মিথ্যা নেই। রাবী ইসরাঈল এবং যুহাইর রহ. বলেছেন যে, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খচ্চরটির (পিঠ থেকে) নীচে অবতরণ করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৮৪

হাদীস নং ৩৯৮৪

সাঈদ ইবনে উফাইর ও ইসহাক রহ……….মারওয়ান এবং মিওয়ার ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণিত যে, হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধিগণ যখন ইসলাম গ্রহণ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে এল এবং তাদের (যুদ্ধ লুণ্ঠিত) সম্পদ ও বন্দীদেরকে ফের দেওয়ার প্রার্থনা জানালো তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং তাদের বললেন, আমার সঙ্গে যারা আছে (সাহাবাগণ) তাদের অবস্থা তো তোমরা দেখতে পাচ্ছ।

সত্য কথাই আমার কাছে বেশি প্রিয়। কাজেই তোমরা যুদ্ধবন্দী অথবা সম্পদের যে কোন একটিকে গ্রহণ করতে পার। আমি তোমাদের জন্য (পথেই) অপেক্ষা করছিলাম।

বস্তুত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফ থেকে প্রত্যাবর্তন করার পথে (জিরানা জায়গায়) দশ রাতেরও অধিক সময় পর্যন্ত তাদের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন।

(রাবী বলেন) হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধিদের কাছে যখন এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এ দুটির মধ্যে একটির বেশি ফেরত দিতে সম্মত নন তখন তারা বললেন, আমরা আমাদের বন্দীদেরকে গ্রহণ করতে চাই।

তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের সম্মুখে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর যথাযোগ্য হামদ ও সানা পাঠ করে বললেন, আম্মা বায়াদ তোমাদের (হাওয়াযিন গোত্রের মুসলিম) ভাইয়েরা তাওবা করে আমাদের কাছে এসেছে, আমি তাদের বন্দীদেরকে তাদের নিকট ফেরত দেওয়ার সিন্ধান্ত করেছি।

অতএব তোমাদের মধ্যে যে আমার এ সিদ্ধান্তকে খুশি মনে গ্রহণ করে নেবে সে (তার অংশের বন্দীকে) ফেরত দাও। আর তোমাদের মধ্যে যে তার অংশের অধিকারকে অবশিষ্ট রেখে তা এভাবে ফেরত দিতে চাইবে যে, ফাইয়ের সম্পদ থেকে (আগামীতে) আল্লাহ আমাকে সর্বপ্রথম যা দান করবেন তা দিয়ে আমি তার এ বন্দীর মূল পরিশোধ করব, তবে সেই তাই কর।

তখন সকল লোক উত্তর করল: ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা আপনার প্রথম সিদ্ধান্ত খুশিমনে গ্রহণ করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমদের মধ্যে এ ব্যাপারে কে খুশিমনে অনুমতি দিয়েছে আর কে খুশিমনে অনুমতি দেয়নি আমি তা বুঝতে পারিনি।

তাই তোমরা ফিরে যাও এবং তোমাদের মধ্যকার বিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে আলাপ কর। তাঁরা আমার কাছে বিষয়টি পেশ করবে। সবাই ফিরে গেল।

পরে তাদের বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ তাদের সাথে (আলাদা আলাদাভাবে) আলাপ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট ফিরে এসে জানাল যে, সবাই তাঁর (প্রথম) সিন্ধান্তকেই খুশি মনে মেনে নিয়েছে এবং (ফেরত দেয়া) অনুমতি দিয়েছে।

(ইমাম ইবনে শিহাব যুহরী রহ. বলেন,) হাওয়াযিন গোত্রের বন্দীদের বিষয়ে এ হাদীসটিই আমি অবহিত হয়েছি।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৮৫

হাদীস নং ৩৯৮৫

আবু নুমান রহ………….নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, উমর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ !……..! হাদীসটি অন্য সনদে মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হুনায়নের যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করার কালে উমর রা .নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জাহিলিয়্যাতের যুগে মানত করা তাঁর একটি ইতিকাফ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেটি পূরণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কেউ কেউ বলেছেন হাদীসটি হাম্মাদ-আইয়ূব-নাফে রহ. ইবনে উমর রা. সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

তাছাড়া জারীর ইবনে হাযিম এবং হাম্মাদ ইবনে সালামা রহ.-ও এ হাদীসটি আইয়ূব, নাফে রহ. ইবনে উমর রা. সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৭ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

 যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) (৩৭৪৬-৪১২১)

বুখারি হাদিস নং ৩৯৮৬

হাদীস নং ৩৯৮৬

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বলেন, হুনায়নের বছর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। আমরা যখন (যুদ্ধের জন্য) শত্রুদের মুখোমুখি হলাম তখন মুসলিমদের মধ্যে বিশৃংখলা দেখা দিল।

এ সময় আমি মুশরিকদের এক ব্যক্তিকে দেখলাম সে মুসলিমদের এক ব্যক্তিকে পরাভূত কের ফেলেছে। তাই আমি কফের লোকটির পশ্চাৎ দিকে গিয়ে তরবারি দিয়ে তার কাঁধ ও ঘাড়ের মধ্যবর্তী শক্ত শিরার উপর আঘাত হানলাম এবং লোকটির পরিহিত লৌহ বর্মটি কেটে ফেললাম।

এ সময় সে আমার উপর আক্রমণ করে বসলো এবং আমাকে এত জোরে চাপ দিয়ে জড়িয়ে ধরল যে, আমি আমার মৃত্যুর গন্ধ অনুভব করতে লাগলাম।

এরপর লোকটিই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো আর আমাকে ছেড়ে দিল। এরপর আমি উমর রা.-এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, লোকজনের কি হল? তিনি বললেন, মহান ও শক্তিশালী আল্লাহর ইচ্ছা।

এরপর সবাই (আবার) ফিরে এল (এবং মুশরিকদের উপর হামলা চালিয়ে যুদ্ধে জয়ী হল) যুদ্ধের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এক স্থানে) বসলেন এবং ঘোষণা দিলেন, যে ব্যক্তি কোন মুশরিক যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং তার কাছে এর প্রমাণ রয়েছে তাকে তার (নিহত ব্যক্তির) পরিত্যক্ত সব সম্পদ প্রদান করা হবে।

এ ঘোষণা শুনে আমি (দাঁড়িয়ে সবাইকে লক্ষ্য করে) বললাম, আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার মত কেউ আছে কি? (কিন্তু কোন জবাব না পেয়ে) আমি বসে পড়লাম।

আবু কাতাদা রা. বলেন, (তারপর) আবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপ ঘোষণা দিলেন। আমি দাঁড়িয়ে বললাম, আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার মত কেউ আছে কি?

কিন্তু (এবারও কোন সাড়া না পেয়ে) আমি বসে পড়লাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারপর অনুরূপ ঘোষণা দিলে আমি দাঁড়ালাম। আমাকে দেখে তিনি বললেন, আবু কাতাদা ! তোমার কি হয়েছে? আমি তাকে ব্যাপারটি জানালাম। এ সময়ে এক ব্যক্তি বলল, আবু কাতাদা রা. ঠিকই বলেছেন, তবে নিহত ব্যক্তির পরিত্যক্ত দ্রব্যগুলো আমার কাছে আছে।

সুতরাং সেগুলো আমাকে দিয়ে দেওয়ার জন্য আপনি তাকে সম্মত করে দিন। তখন আবু বকর রা. বললেন, না, আল্লাহর শপথ, তা হতে পারে না।

আল্লার সিংহদের এক সিংহ যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করেছে তার যুদ্ধলব্ধ দ্রব্যাদি তোমাকে দিয়ে দেয়ার ইচ্ছা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতে পারেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু বকর রা. ঠিকই বলছে।

সুতরাং এসব দ্রব্য তুমি তাকে (আবু কাতাদা) দিয়ে দাও। (আবু কাতাদা রা. বলেন) তখন সে আমাকে পরিত্যক্ত দ্রব্যগুলো দিয়ে দিল। এ দ্রব্যগুলোর বিনিময়ে আমি বনী সালিমার এলাকায় একটি বাগান খরিদ করলাম।

আর ইসলাম কবুল করার পর এটিই ছিল প্রথম উপার্জিত মাল যা দিয়ে আমি আমার অর্থের বুনিয়াদ রেখেছি। অপর সনদে লাইস রহ…………আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইন যুদ্ধের দিন আমি দেখতে পেলাম যে, একজন মুসলিম এক মুশরিকের সাথে লড়াই করছে।

অপর এক মুশরিক মুসলিম ব্যক্তির পেছন দিকে থেকে তাকে হত্যা করার জন্য আক্রমণ করছে। আমি আক্রমণকারীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। সে আমাকে আঘাত করার জন্য তার হাত উঠাল। আমি তার হাতের উপর আঘাত করলাম এবং তা কেটে ফেললাম।

সে আমাকে ধরে সজোরে চাপ দিল। এমনকি আমি (মৃত্যুর) ভয় পেয়ে গেলাম। এরপর সে আমাকে ছেড়ে দিল ও সে দুর্বল হয়ে পড়ল। আমি তাকে আক্রমণ করে মেরে ফেললাম। মুসলিমগণ পালাতে লাগলেন। আমিও তাদের সাথে পালালাম।

হঠাৎ লোকদের মাঝে উমর ইবনুল খাত্তাব রা.-কে দেখতে পেয়ে আমি তাকে বললাম, লোকজনের অবস্থা কি? তিনি বললেন, আল্লাহর যা ইচ্ছা তাই হয়েছে।

এরপর লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে এলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যে মুসলিম ব্যক্তি (শত্রু দলের) কাউকে হত্যা করেছে বলে প্রমাণ পেশ করতে পারবে নিহত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদ সে-ই পাবে।

আমি যে একজনকে হত্যা করেছি সে ব্যাপারে আমি দাঁড়িয়ে সাক্ষী খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার কাউকে পেলাম না। তখন আমি বসে পড়লাম। এরপর আমি ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বর্ণনা করলাম।

তখন তাঁর সঙ্গীদের একজন বললেন, উল্লিখিত নিহত ব্যক্তির (পরিত্যক্ত) হাতিয়ার আমার কাছে আছে। তা আমাকে দিয়ে দেওয়ার জন্য আপনি তাকে সম্মত করে দিন।

তখন আবু বকর রা. বললেন, না, তা হতে পারে না। আল্লাহর সিংহদের এক সিংহ যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করেছে তাকে না দিয়ে এ কুরাইশী দুর্বল ব্যক্তিকে তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিতে পারেন না।

রাবী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং আমাকে তা দিয়ে দিলেন। আমি এর দ্বারা একটি বাগান খরিদ করলাম। আর ইসলাম কবুল করার পর এটিই ছিল প্রথম উপার্জিত মাল, যা দিয়ে আমি আমার অর্থের বুনিয়াদ রেখেছি।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৭ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯৮৭ – আওতাসের যুদ্ধ।

হাদীস নং ৩৯৮৭ – আওতাসের যুদ্ধ।

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ………….আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইন যুদ্ধ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবসর হওয়ার পর তিনি আবু আমির রা.-কে একটি সৈন্যবাহিনীর আমীর নিযুক্ত করে আওতাস গোত্রের প্রতি পাঠালেন।

যুদ্ধে তিনি (আবু আমির) দুরায়দ ইবন সিম্মার সাথে মুকাবিলা করলে দুরাইদ নিহত হয় এবং আল্লাহ তার সহযোগী যোদ্ধাদেরকেও পরাজিত করেন। আবু মূসা রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু আমির রা.-এর সাথে আমাকেও পাঠিয়েছিলেন।

এ যুদ্ধে আবু আমির রা.-এর হাঁটুতে একটি তীর নিক্ষিপ্ত হয়। জুশাম গোত্রের এক লোক তীরটি নিক্ষেপ করে তাঁর হাঁটুর মধ্যে বসিয়ে দিয়েছিল।

তখন আমি তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, চাচাজান ! কে আপনার উপর তীর ছুঁড়েছে? তখন তিনি আবু মূসা রা.-কে ইশারার মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়ে বললেন, ঐ যে, ঐ ব্যক্তি আমাকে তীর মেরেছে।

আমাকে হত্যা করেছে। আমি লোকটিকে লক্ষ্য করে তার কাছে গিয়ে পৌঁছলাম আর সে আমাকে দেখামাত্র ভাগতে শুরু করল। আমি এ কথা বলতে বলতে তার পশ্চাদ্ধাবন করলাম, (পালাচ্ছো কেন) বেহায়া দাঁড়াও না, দাঁড়াও।

লোকটি থেমে গেল। এবার আমরা দুজনে তরবারি দিয়ে পরস্পরকে আক্রমণ করলাম এবং শেষ পর্যন্ত আমি ওকে হত্যা করে ফেললাম।

তারপর আমি আবু আমির রা-কে বললাম, আল্লাহ আপনার আঘাতকারীকে হত্যা করেছেন। তিনি বললেন, (ঠিক আছে, এবার তুমি আমার হাঁটু থেকে) তীরটি বের করে দাও।

আমি তীরটি বের করে দিলাম। তখন ক্ষতস্থান থেকে কিছু পানিও বেরিয়ে আসল। তিনি আমাকে বললেন, হে জাতিজা ! (আমি হয়তো বাঁচাব না) তাই তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার সালাম জানাবে এবং আমার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে বলবে।

আবু আমির রা. তাঁর স্থলে আমাকে সেনাবাহিনীর আমীর নিযুক্ত করলেন। এরপর তিনি কিছুক্ষণ বেঁচেছিলেন, তারপর ইন্তিকাল করলেন। (যুদ্ধ শেষে) আমি ফিরে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাড়ি প্রবেশ করলাম। তিনি তখন পাকানো দড়ির তৈরী একটি খাটিয়ায় শায়িত ছিলেন।

খাটিয়ার উপর (নামেমাত্র) একটি বিছানা ছিল। কাজেই তাঁর পিঠে এবং পার্শ্ব দেশে পাকানো দড়ির দাগ পড়ে গিয়েছিল। আমি তাকে আমাদের এবং আবু আমির রা.-এর সংবাদ জানালাম।

(তাকে এ কথাও বললাম যে,) তিনি (মৃত্যুর পূর্বে) বলে গিয়েছেন, তাকে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) আমার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে বলবে।

এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনাতে বললেন এবং ওযু করলেন। তারপর তাঁর দুহাত উপরে তুলে তিনি দোয়া করে বললেন, হে আল্লাহ ! তোমার প্রিয় বান্দা আবু আমিরকে মাগফিরাত দান কর।

(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়ার মুহূর্তে হাতদ্বয় এত উপরে তুললেন যে) আমি তাঁর বগলদ্বয়ের শুভ্রাংশ পর্যন্ত দেখতে পেয়েছি।

তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ ! কিয়ামত দিবসে তুমি তাকে তোমার অনেক মাখলুকের উপর, অনেক মানুষের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করো।

আমি বললাম, আমার জন্যও (দোয়া করুন)। তিনি দোয়া করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ ! আবদুল্লাহ ইবনে কায়সের গুনাহ ক্ষমা করে দাও এবং কিয়ামত দিবসে তুমি তাকে সম্মানিত স্থানে প্রবেশ করাও।

রাবী আবু বুরদা রা. বলেন, দুটি দোয়ার একটি ছিল আবু আমির রা.-এর জন্য আর অপরটি ছিল আবু মূসা (আশআরী) রা.-এর জন্য।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৮৮ – তায়েফের যুদ্ধ।

হাদীস নং ৩৯৮৮ – তায়েফের যুদ্ধ।

হুমাইদী রহ…………উম্মে সালমা রা. থেকে থেকে বর্ণিত যে, আমার কাছে এক হিজড়া ব্যক্তি বসা ছিল, এমন সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন।

আমি শুনলাম, সে (হিজড়া ব্যক্তি) আবদুল্লাহ ইবনে আবু উমাইয়া রা.-কে বলছে, হে আবদুল্লাহ ! কি বলো, আগামীকাল যদি আল্লাহ তোমাদেরকে তায়েফের উপর বিজয় দান করেন তাহলে গায়লানের কন্যাকে অবশ্যই তুমি লুফে নেবে।

কেননা সে (এতই স্থুল দেহ ও কোমল যে) সামনের দিকে আসার সময়ে তার পিঠে চারটি ভাঁজ পড়ে আবার পিঠ ফিরালে সেখানে আটটি ভাঁজ পড়ে।

(উম্মে সালামা রা. বলেন) তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এদেরকে (হিজড়াদেরকে) তোমাদের কাছে প্রবেশ করতে দিও না। ইবনে উয়াইনা রা. বর্ণনা করেন যে, ইবনে জুরাইজ রা. বলেছেন, হিজড়া লোকটির নাম ছিল হীত।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৭ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯৮৯

হাদীস নং ৩৯৮৯

মাহমুদ রহ…………হিশাম রহ. থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি এ হাদীসে এতটুকু বৃদ্ধি করেছেন যে, সেদিন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তায়েফ অবরোধ করা অবস্থায় ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৯০

হাদীস নং ৩৯৯০

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফ অবরোধ করলেন। (এবং দীর্ঘ পনেরোরও অধিক দিন পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে গেলেন) কিন্তু তাদের কাছ থেকে কিছুই হাসিল করতে পারেননি।

তাই তিনি বললেন, ইনশা আল্লাহ আমরা (অবরোধ উঠিয়ে মদীনার দিকে) ফিরে যাব। কথাটি সাহাবীদের মনে ভারী অনুভূত হল। তাঁরা বললেন, আমরা চলে যাব, তায়েফ বিজয় করব না?

রাবী একবার কাফিলুন শব্দের স্থলে নাকফুলো (অর্থাৎ আমরা যুদ্ধবিহীন ফিরে যাব) বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঠিক আছে, সকালে গিয়ে লড়াই করো।

তাঁরা (পরদিন) সকালে লড়াই করতে গেলেন, এতে তাদের অনেকেই আহত হলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইনশা আল্লাহ আমরা আগামীকাল ফিরে চলে যাব।

তখন সাহাবাদের কাছে কথাটি মনঃপূত হল। এ অবস্থা দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। রাবী সুফিয়ান রহ. একবার বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুচকি হাসি হেসেছেন।

হুমাইদী রহ. বলেন, সুফিয়ান আমাদিগকে এ হাদীসের পূর্ণ সূত্রটিতে ‘খবর’ শব্দ প্রয়োগ করে বর্ণনা করেছেন (অর্থাৎ কোথাও ‘আন’ শব্দ প্রয়োগ করেন নি)।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৯১

হাদীস নং ৩৯৯১

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………….আবু উসমান (নাহদী রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাদীসটি শুনেছি সাদ থেকে, যিনি আল্লাহর পথে গিয়ে সর্বপ্রথম তীর নিক্ষেপ করেছিলেন এবং আবু বকর রা. থেকেও শুনেছি যিনি (তায়েফ অবরোধক) সেখানকার স্থানীয় কয়েকজনসহ তায়েফের পাঁচিলের উপ চড়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসেছিলেন।

তাঁরা দু’জনই বলেছেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি তার জানা থাকা সত্ত্বেও অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবি করে, তার জন্য জান্নাত হারাম।

হিশাম রহ. বলেন, মামার রহ. আমাদের কাছে আসিম-আবুল আলিয়া রহ. অথবা আবু উসমান নাহদী রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমি সাদ এবং আবু বকর রা.-এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি শুনেছি।

আসিম রহ. বলেন, আমি (আবুল আলিয়া অথবা আবু উসমান) রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নিশ্চয় আপনাকে হাদীসটি এমন দু’জন রাবী বর্ণনা করেছেন।

যাদেরকে আপনি আপনার নিশ্চয়তার জন্য যথেষ্ট মনে করেন। তিনি উত্তরে বললেন, অবশ্যই, কেননা তাদের একজন হলেন সেই ব্যক্তি যিনি আল্লাহর রাস্তায় সর্বপ্রথম তীর নিক্ষেপ করেছিলেন।

আর অপর জন হলেন যিনি তায়েফের (নগরপাচিঁল টপকিয়ে) এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাৎকারী তেইশ জনের একজন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৭ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯৯২

হাদীস নং ৩৯৯২

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ…………আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল রা-সহ মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী জিরানা নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন।

তখন আমি তাঁর কাছে ছিলাম। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক বেদুঈন এসে বলল, আপনি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন তা পূরণ করবেন না?

তিনি তাকে বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ করো। সে বলল, সুসংবাদ গ্রহণ কর কথাটি তো আপনি আমাকে অনেকবারই বলেছেন। তখন তিনি আবু মূসা ও বিলাল রা.-এর দিকে ফিরে সক্রোধে বললেন, লোকটি সুসংবাদ ফিরেয়ে দিয়েছে।

তোমরা দু’জন তা গ্রহণ কর। তাঁরা উভয়ে বললেন, আমরা তা গ্রহণ করলাম। এরপর তিনি পানি ভরে একটি পাত্র আনতে বললেন। (পানি আনা হলো) তিনি এর মধ্যে নিজের উভয় হাত ও মুখমণ্ডল ধুয়ে কুল্লি করলেন।

তারপর (আবু মূসা ও বিলাল রা.-কে) বললেন, তোমরা উভয়ে এ থেকে পানি পান কর এবং নিজেদের মুখমণ্ডল ও বুকে ছিটিয়ে দাও। আর সুসংবাদ গ্রহণ কর। তাঁরা উভয়ে পাত্রটি তুলে নিয়ে যথা নির্দেশ কাজ করলেন।

এমন সময় উম্মে সালামা রা. পর্দার আড়াল থেকে ডেকে বললেন, তোমাদের মায়ের জন্যও কিছু অবশিষ্ট রেখে দিও। অতএব তাঁরা এ থেকে অবশিষ্ট কিছু উম্মে সালমা রা.-এর জন্য রেখে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯৯৩

হাদীস নং ৩৯৯৩

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ……………সাফওয়ান ইবনে ইয়ালা ইবনে উমাইয়া রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইয়ালা রা. (অনেক সময়) বলতেন যে, আহা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর ওহী অবতীর্ণ হওয়ার মুহূর্তে যদি তাকে দেখতে পেতাম।

ইয়ালা রা. বলেন, এরই মধ্যে একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিরানা নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। তাঁর (মাথার) উপর একটি কাপড় টানিয়ে ছায়া করে দেয়া হয়েছিল।

আর সেখানে তাঁর সঙ্গে সাহাবীদের কয়েকজনও উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় তাঁর কাছে এক বেদুঈন আসল। তার গায়ে খুশবু মাখানো ছিল এবং পরনে ছিল একটি জোব্বা।

সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি কী মনে করেন যে গায়ে খুশবু মাখানোর পর জোব্বা পরিধান করা অবস্থায় উমরা আদায়ের জন্য ইহরাম বেঁধেছে?

(প্রশ্নকারীর জবাব দেয়ার পূর্বেই উমর রা. দেখলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় ওহী অবতীর্ণ হওয়ার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে) তাই উমর রা. হাত দিয়ে ইশারা করে ইয়ালা রা.-কে আসতে বললেন। ইয়ালা রা. এলে উমর রা. তাঁর মাথাটি (ছায়ার নিচে) ঢুকিয়ে দিলেন।

তখন তিনি (ইয়ালা) দেখতে পেলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা লাল বর্ণ হয়ে রয়েছে। আর ভিতরে শ্বাস দ্রুত যাতায়াত করছে। এ অবস্থা কিছুক্ষণ পর্যন্ত ছিল, তারপর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এল।

তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে লোকটি কোথায়, কিছুক্ষণ আগে যে আমাকে উমরার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল।

এরপর লোকটি খুঁজে আনা হলে তিনি বললেন, তোমার গায়ে যে খুশবু রয়েছে তা তুমি তিনবার ধুয়ে ফেল এবং জোব্বাটি খুলে ফেল। তারপর হজ্জ আদায়ে যা কিছু করে থাক উমরাতেও সেগুলোই পালন কর।

আরও পড়ুনঃ

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

কলহ বিবাদ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

পানি সিঞ্চন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বর্গাচাষ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ইসলামের ইতিহাস

মন্তব্য করুন