যুদ্ধাভিযান পার্ট ৫ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৫ (অবশিষ্ট অংশ)

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৫ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

Table of Contents

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৫ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮৮৩

হাদীস নং ৩৮৮৩

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রিতে খায়বারে পৌঁছলেন।

আর তাঁর নিয়ম ছিল, তিনি যদি (কোন অভিযানে) কোন গোত্রের এলাকায় রাত্রিকালে গিয়ে পৌঁছতেন, তাহলে ভোর না হওয়া পর্যন্ত তাদের উপর আক্রমণ পরিচালনা করতেন না (বরং অপেক্ষা করতেন)।

ভোর হলে ইহুদীরা তাদের কৃষি সরঞ্জামাদি ও টুকরি নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসল, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখন (সসৈন্য) দেখতে পেল, তখন তারা (ভীত হয়ে) বলতে লাগল, মুহাম্মদ, আল্লাহর কসম, মুহাম্মদ তার সেনাদলসহ এসে পড়েছে।

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, খায়বার ধ্বংস হয়েছে। আমরা যখনই কোন গোত্রের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পৌঁছি তখন সেই সতর্ককৃত গোত্রেরে রাত পোহায় অশুভভাবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৮৪

হাদীস নং ৩৮৮৪

সাদাকা ইবনে ফাযল রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা প্রত্যুষে খায়বার এলাকায় গিয়ে পৌঁছলাম।

তখন সেখানকার অধিবাসীরা কৃষি সরঞ্জামাদি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। তারা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেল তখন বলতে শুরু করল, মুহাম্মদ, আল্লাহর কসম, মুহাম্মদ তার সেনাদলসহ এসে পড়েছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এ কথা শুনে) আল্লাহ আকবার ধ্বনি উচ্চরণ করে বললেন, খায়বার ধ্বংস হয়েছে। আমরা যখনই কোন গোত্রের এলাকায় গিয়ে পৌঁছি, তখন সেই সতর্ককৃত গোত্রের রাত পোহায় অশুভভাবে।

(আনাস রা. বলেন) এ যুদ্ধে আমরা (গনীমত হিসেবে) গাধার গোশত লাভ করেছিলাম (আর তা পাকানোও হচ্ছিল) এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে জনৈক ঘোষণাকারী ঘোষণা করলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদিকে গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। কেননা তা নাপাক।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৮৫

হাদীস নং ৩৮৮৫

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একজন আগন্তুক এসে বলল, (গনীমতের) গাধাগুলো খেয়ে ফেলা হচ্ছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ রইলেন। এরপর লোকটি দ্বিতীয়বার এসে বলল, গাধাগুলো খেয়ে ফেলা হচ্ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ রইলেন। লোকটি তৃতীয়বার এসে বলল, গৃহপালিত গাধাগুলো খতম করে দেওয়া হচ্ছে।

তখন তিনি একজন ঘোষণাকারীকে হুকুম দিলেন, সে লোকজনের সামনে গিয়ে ঘোষনা দিল, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

(ঘোষণা শুনে) ডেকচিগুলো উল্টিয়ে দেয়া হল। অথচ ডেকচিগুলোতে গাধার গোশত তখন টগবগ করে ফুটছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৮৬

হাদীস নং ৩৮৮৬

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের নিকটবর্তী এক স্থানে প্রত্যুষে সামান্য অন্ধকার থাকতেই ফজরের নামায আদায় করলেন। তারপর আল্লাহু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করে বললেন, খায়বার ধ্বংস হয়েছে।

আমরা যখন কোন গোত্রের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পৌঁছি তখনই সতর্ককৃত সেই গোত্রের সকাল হয় অশুভ রূপ নিয়ে। এ সময় খায়বার অধিবাসীরা (ভয়ে) বিভিন্ন অলি-গলিতে গিয়ে আশ্রয় নিতে আরম্ভ করল।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মধ্যকার যুদ্ধে সক্ষম লোকদেরকে হত্যা করলেন। আর শিশু (ও মহিলা)-দেরকে বন্দী করলেন।

বন্দীদের মধ্যে ছিলেন সাফিয়্যা (বিনতে হুইয়াই রা.) প্রথমে তিনি দাহইয়াতুল কালবীর অংশে এবং পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অংশে বণ্টিত হন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আযাদ করত এই আযাদীকে মোহর ধার্য করেন (এবং বিবাহ করে নেন)।

আবদুল আযীয ইবনে সুহাইব রহ. সাবিত রহ.-কে বললেন, হে আবু মুহাম্মদ ! আপনি কি আনাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মোহর কি ধার্য করেছিলেন? তখন সাবিত রা. হাঁ-সূচক ইঙ্গিত করে মাথা নাড়ালেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৮৭

হাদীস নং ৩৮৮৭

আদম রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (খায়বারের যুদ্ধে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যা রা.-কে (প্রথমত) বন্দী করেছিলেন।

পরে তিনি তাকে আযাদ করে বিয়ে করেছিলেন। সাবিত রা. আনাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মোহর কত ধার্য করেছিলেন? আনাস রা. বললেন, স্বয়ং সাফিয়্যা রা.-কেই মোহর ধার্য করেছিলেন এবং তাকে আযাদ করে দিয়েছিলেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৫ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮৮৮

হাদীস নং ৩৮৮৮

কুতাইবা রহ………….সাহল ইবনে সাদ সাঈদী রা. থেকে বর্ণিত যে, (খায়বার যুদ্ধ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুশরিকরা মুখোমুখি হলেন। পরস্পরের মধ্যে তুমুল লড়াই হল।

(দিনের শেষে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সেনা ছাউনিতে ফিরে আসলেন আর অন্যরাও (মুশরিকরা) তাদের ছাউনিতে ফিরে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল, যে তার তরবারি থেকে একাকী কিংবা দলবদ্ধ কোন শত্রু সৈন্যকেই রেহাই দেয়নি।

বরং পিছু ধাওয়া করে তাকে তরবারির আঘাতে হত্যা করেছে। (সাহাবাগণের মধ্যে তার আলোচনা উঠল) তাদের কেউ বললেন, অমুক ব্যক্তি আজ যা করেছে আমাদের মধ্যে আর অন্য কেউ এমনটি করতে সক্ষম হয়নি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (ব্যাপারটি) দেখার জন্য আমি তার সঙ্গী হব।

সাহল ইবনে সাদ সাঈদী রা. বলেন, পরে তিনি ঐ লোকটির সাথে বের হলেন, লোকটি যখন থেমে যেতো তিনিও তার সাথে থেমে যেতেন, আর যখন লোকটি দ্রুত চলতো তিনিও তার সাথে দ্রুত চলতেন।

রাবী বলেন, এক সময়ে লোকটি মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হল এবং (যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে) সে দ্রুত মৃত্যু কামনা করল। তাই সে (এক পর্যায়ে) তার তরবারির গোড়ার অংশ মাটিতে রেখে এর তীক্ষ্ণ ভাগ বুকের বরাবরে রাখল। এরপর সে তরবারির উপর নিজেকে সজোরে চেপে ধরে আত্মহত্যা করল।

এ অবস্থা দেখে অনুসরণকারী সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছুটে এসে বললেন, আমি সাক্ষী দিচ্ছি, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কি ব্যাপার?

তিনি বললেন, একটু পূর্বে আপনি যে, লোকটির ব্যাপারে মন্তব্য করেছিলেন যে, লোকটি জাহান্নামী, আর তার সম্পর্কে এরূপ কথা সকলের কাছে আশ্চর্যকর অনুভূত হয়েছিল।

তখন আমি তাদেরকে বলেছিলাম, আমি লোকটির অনুসরণ করে ব্যাপারটি দেখব। কাজেই আমি ব্যাপারটির অনুসন্ধানে বেরিয়ে পড়লাম। এরপর (এক সময়ে দেখলাম) লোকটি মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হল এবং দ্রুত মৃত্যু কামনা করল, তাই সে নিজের তরবারির হাতলের দিক মাটিতে বসিয়ে এর তীক্ষ্ণ ভাগ নিজের বুকের বরাবরে রাখল।

এরপর তরবারির উপর নিজেকে সজোড়ে চেপে ধরে আত্মহত্যা করল। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অনেক সময় মানুষ (বাহ্যত) জান্নাতীদের ন্যায় আমল করতে থাকে, যা দেখে অন্যরা তাকে জান্নাতীই মনে করে।

অথচ প্রকৃতপক্ষে সে জাহান্নামী। আবার অনেক সময় মানুষ (বাহ্যত) জাহান্নামীদের মত আমল করতে থাকে যা দেখে লোকজনও সেইরূপই মনে করে থাকে, অথচ প্রকৃতপক্ষে সে জান্নাতী।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৮৯

হাদীস নং ৩৮৮৯

আবুল ইয়ামান রহ…………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর সঙ্গীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি যে মুসলমান বলে দাবি করত, তার সম্পর্কে বললেন, লোকটি জাহান্নামী।

এরপর যুদ্ধ আরম্ভ হলে লোকটি ভীষণভাবে যুদ্ধ চালিয়ে গেল, এমনকি তার দেহের অনেক স্থান ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল। এতে কারো কারো (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর ভবিষ্যতবাণীর উপর) সন্দেহের উপক্রম হল।

(কিন্তু তারপরেই দেখা গেল) লোকটি আঘাতের যন্ত্রণায় অসহ্য হয়ে তূণীরের ভিতর হাত ঢুকিয়ে দিয়ে সেখান থেকে তীর বের করে আনল।

আর তীরটি নিজের বক্ষদেশে ঢুকিয়ে আত্মহত্যা করল। তা দেখে কতিপয় মুসলমান দ্রুত ছুটে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আল্লাহ আপনার কথাকে সত্য প্রমাণিত করেছেন। ঐ লোকটি নিজেই নিজের বক্ষে আঘাত করে আত্মহত্যা করেছে। তখন তিনি বললেন, হে অমুক ! দাঁড়াও এবং ঘোষণা দাও যে, মুমিন ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

অবশ্য আল্লাহ (কখনো কখনো) ফাসিক ব্যক্তি দ্বারাও দীনের সাহায্য করে থাকেন। মামার রহ. যুহরী রহ. থেকে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনায় শুআইব রহ.-এর সাথে খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলাম…….।

(আবদুল্লাহ) ইবনে মুবারক হাদীসটি ইউনুস-যুহরী-সাঈদ (ইবনে মুসাইয়্যাব রহ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

সালিহ রহ. যুহরী রহ. থেকে ইবনে মুবারক রা. এর মতোই বর্ণনা করেছেন। আর যুবায়দী রহ. হাদীসটি যুহরী আবদুর রহমান ইবনে কাব, উবায়দুল্লাহ ইবনে কাব রহ. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খায়বারে অংশগ্রহণকারী জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন।

(যুবায়দী আরো বলেন) যুহরী রহ. এ হাদীসটিতে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ এবং সাঈদ (ইবনুল মুসাইয়্যাব) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৯০

হাদীস নং ৩৮৯০

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………..আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বার যুদ্ধের জন্য বের হলেন কিংবা রাবী বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বার অভিমুখে যাত্রা করলেন, তখন সাথী লোকজন একটি উপত্যকায় পৌঁছে এই বলে উচ্চস্বরে তাকবীর দিতে শুরু করলে—আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও। কারণ তোমরা এমন কোন সত্তাকে ডাকছ না যিনি বধির বা অনুপস্থিত। বরং তোমরা তো ডাকছ সেই সত্তাকে যিনি শ্রবণকারী ও অতি নিকটে অবস্থানকারী, যিনি তোমাদের সাথেই রয়েছেন।

(আবু মূসা আশআরী রা. বলেন) আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাওয়ারীর পেছনে ছিলাম। তিনি আমাকে লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ বলতে শুনে বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস।

আমি বললাম, আমি হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তিনি বললেন, আমি তোমাকে এমন একটি কথা শিখিয়ে দেব কি যা জান্নাতের ডাণ্ডারসমূহের মধ্যে একটি ভাণ্ডার? আমি বললাম, হ্যাঁ।

ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কথাটি হল লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৫ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮৯২

হাদীস নং ৩৮৯২

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………..সাহল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুশরিকরা মুখোমুখি হলেন।

পরস্পরের মধ্যে তুমুল লড়াই হল। (শেষে) সকলেই নিজ নিজ সেনা ছাউনিতে ফিরে গেল। মুসলিম সৈন্যদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল, যে মুশরিকের কোন একাকী কিংবা দলবদ্ধ কো শত্রুকেই তার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে দেয়নি বরং সবাইকেই তাড়া করে তার তরবারির আঘাতে হত্যা করেছে।

তখন (তার ব্যাপারে) বলা হল; হে আল্লাহর রাসূল ! অমুক ব্যক্তি আজ যে পরিমাণ আমল করেছে অন্য কেউ আজ সে পরিমাণ করতে পারেনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে ব্যক্তি তো জাহান্নামী। তারা বলল, তাহলে আমাদের মধ্যে আর কে জান্নাতবাসী হতে পারবে যদি এ ব্যক্তিই জাহান্নামী হয়?

তখন কাফেলার মধ্যে থেকে একজন বলল, অবশ্যই আমি তাকে অনুসরণ করে দেখব, লোকটি যখন দ্রুত চলতো আর ধীরে চলতো সর্বাবস্থায়ই আমি তার সাথে থাকতাম।

পরিশেষে, লোকটি আঘাতপ্রাপ্ত হলে আর(আঘাতের যন্ত্রণায়) সে দ্রুত মৃত্যু কামনা করে তার তরবারির বাট মাটিতে স্থাপন করল এবং ধারালো ভাগ নিজের বুকের বরাবর রেখে এর উপর সজোড়ে ঝুঁকে পড়ে আত্মহত্যা করল।

তখন সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন, কি ব্যাপার? তিনি তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সব ঘটনা জানালেন।

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কেউ কেউ (দৃশ্যত) জান্নাতবাসীদের মত আমল করতে থাকে আর লোকজন তাকে অনুরূপই মনে করে থাকে অথচ প্রকৃতপক্ষে সে জাহান্নামী।

আবার কেউ কেউ জাহান্নামীর মত আমল করে থাকে আর লোকজনও তাকে তাই মনে করে অথচ সে জান্নাতী।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৯৩

হাদীস নং ৩৮৯৩

মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ খুযাঈ রহ…………….আবু ইমরান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক জুমুআর দিনে আনাস রা. লোকজনের দিকে দিকে তাকিয়ে দেখলেন তাদের (মাথায়) তায়ালিসা চাদর। তখন তিনি বললেন, এ মুহূর্তে এদেরকে যেন খায়বারের ইহুদীতের মত দেখাচ্ছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৯৪

হাদীস নং ৩৮৯৪

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………….সালমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, চক্ষু রোগে আক্রান্ত থাকার দরুন আলী রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর থেকে খায়বার অভিযানে পেছনে ছিলেন।

(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রওয়ানা হয়ে এসে পড়লে) আলী রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (যুদ্ধে অংশগ্রহন না করে) আমি পেছনে বসে থাকব !

সুতরাং তিনি গিয়ে তাঁর সাথে মিলিত হলেন। (সালমা রা. বলেন) খায়বার বিজিত হওয়ার পূর্ব রাতে তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আগামী কাল সকালে আমি এমন ব্যক্তির হাতে ঝাণ্ডা অর্পণ করব অথবা তিনি বলেছেন, আগামীকাল সকালে এমন এক ব্যক্তি ঝাণ্ডা গ্রহণ করবে যাকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভালবাসেন।

আর তাঁর হাতেই খায়বার বিজিত হবে। কাজেই আমরা সবাই তা পাওয়ার আকাঙ্খা করছিলাম। তখন বলা হল, ইনি তো আলী। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ঝাণ্ডা প্রদান করলেন এবং তাঁর হাতেই খায়বার বিজিত হল।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৯৫

হাদীস নং ৩৮৯৫

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……….সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, খায়বারের একদা রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, আগামীকাল সকালে আমি এমন এক ব্যক্তির হাতে ঝাণ্ডা অর্পণ করব যার হাতে আল্লাহ খায়বারে বিজয় দান করবেন এবং যাকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভালবাসেন আর সেও আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে ভালবাসে।

সাহল রা. বলেন, (ঘোষণাটি শুনে) মুসলমানগণ এ জল্পনা-কল্পনা মধ্যেই রাত কাটালো যে, তাদের মধ্যে কাকে অর্পণ করা হবে এ ঝাণ্ডা। সকাল হল, সবাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন, আর প্রত্যেকেই মনে মনে এ ঝাণ্ডা লাভ করার আকাঙ্খা পোষণ করছিলেন।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আলী ইবনে আবু তালিব রা. কোথায়? সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তিনি তো চক্ষুরোগে আক্রান্ত অবস্থায় আছেন।

তিনি বললেন, তাকে লোক পাঠিয়ে সংবাদ দাও। সে মতে তাকে আনা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় চোখে থুথু লাগিয়ে তাঁর জন্য দোয়া করলেন। ফলে চোখ এরূপ সুস্থ হয়ে গেল যে, যেন কখনো চোখে কোন রোগেই ছিল না। এরপর তিনি তাঁর হাতে ঝাণ্ডা অর্পণ করলেন।

তখন আলী রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তারা আমাদের মত (মুসলমান) না হওয়া পর্যন্ত আমি তাদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাব।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বর্তমান অবস্থায়ই তাদের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে উপনীত হও, এরপর তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহবান করো (যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে) ইসলামী বিধানে ওদের উপর যেসব হক বর্তায় সেসব সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করে দিও।

কারণ আল্লাহর কসম! তোমরা দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ যদি মাত্র একজন মানুষকেও হেদায়েত দেন তাহলে তা তোমার জন্য লোহিত বর্ণের (মূল্যবান) উটের মালিক হওয়া অপেক্ষাও অনেক উত্তম।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৯৬

হাদীস নং ৩৮৯৬

আবদুল গাফফার ইবনে দাউদ ও আহমদ রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা খায়বারে এসে পৌঁছলাম। এরপর যখন আল্লাহ তাকে খায়বার দুর্গের বিজয় দান করলেন তখন তাঁর কাছে (ইহুদী দলপতি) হুয়াই ইবনে আখতাবের কন্যা সাফিয়্যা রা.-এর সৌন্দর্যের কথা আলোচনা করা হল।

তার স্বামী (কেননা ইবনুর রাবী এ যুদ্ধে) নিহত হয়। সে ছিল নববধু। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিজের জন্য মনোনীত করেন এবং তাকে সঙ্গে করে (খায়বার থেকে) রওয়ানা হন।

এরপর আমরা যখন সাদ্দুস সাহবা নামক স্থানে পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছলাম তখন সাফিয়্যা রা. তাঁর মাসিক ঋতুস্রাব থেকে পবিত্রতা লাভ করলেন।

এ সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে বাসঘরে সাক্ষাত করলেন। তারপর একটি ছোট দস্তরখানে (খেজুর ঘি ও ছাতু মেশানো এক প্রকার) হায়স নামক খানা সাজিয়ে আমাকে বললেন, তোমার আশেপাশে যারা আছে সবাইকে ডাক। আর এটিই ছিল সাফিয়্যা রা.-এর সাথে বিয়ের ওয়ালীমা।

তারপর আমরা মদীনার দিকে রওয়ানা হলাম, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর পেছনে (সাওয়ারীর পিঠে) সাফিয়্যা রা.-এর জন্য একটি চাদর বিছাতে দেখেছি।

এরপর তিনি তাঁর সাওয়ারীর উপর হাঁটুদ্বয় মেলে বসতেন আর সাফিয়্যা রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাঁটুর উপর পা রেখে সাওয়ারীতে আরোহণ করতেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৫ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৮৯৭

হাদীস নং ৩৮৯৭

ইসমাঈল রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার থেকে প্রত্যাবর্তন করার পথে সাফিয়্যা রা. বিনতে হুয়াঈ -এর কাছে তিনদিন অবস্থান করে তাঁর সাথে বাসর যাপন করেছেন।

আর সাফিয়্যা রা. ছিলেন সে সব মহিলাদের একজন যাদের জন্য পর্দার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৯৮

হাদীস নং ৩৮৯৮

সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার ও মদীনার মধ্যবর্তী এক জায়গায় তিনদিন অবস্থান করেছিলেন আর এ সময় তিনি সাফিয়্যা রা.-এর সঙ্গে বাসর যাপন করেছেন। আমি মুসলমানগণকে তাঁর ওয়ালীমার জন্য দাওয়াত দিলাম।

অবশ্য এ ওয়ালীমাতে গোশত রুটির ব্যবস্থা ছিল না, কেবল এতটুকু ছিল যে, তিনি বিলাল রা.-কে দস্তরখান বিছাতে বললেন। দস্তরখান বিছানো হল। এরপর তাতে কিছু খেজুর, পনির ও ঘি রাখা হল।

এ অবস্থা দেখে মুসলিমগণ পরস্পর বলাবলি করতে লাগল যে, তিনি (সাফিয়্যা রা.) কি উম্মাহাতুল মুমিনীনেরই একজন, না ক্রীতদাসীদের একজন? তাঁরা (আরো) বললেন, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য পর্দার ব্যবস্থা করেন তাহলে তিনি উম্মাহাতুল মুমিনীনেরই একজন বোঝা যাবে।

আর পর্দার ব্যবস্থা না করলে ক্রীতদাসী হিসেবেই বুঝতে হবে। এরপর যখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রওয়ানা হলেন তখন তিনি নিজের পেছনে সাফিয়্যা রা.-এর জন্য বসার জায়গা করে দিয়ে পর্দা টানিয়ে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৮৯৯

হাদীস নং ৩৮৯৯

আবুল ওয়ালীদ ও আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ…………..আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা খায়বারের দুর্গ অবরোধ করে রাখলাম, এমন সময়ে এক ব্যক্তি একটি থলে নিক্ষেপ করল।

তাতে ছিল কিছু চর্বি। আমি সেটি কুড়িয়ে নেয়ার জন্য দ্রুত এগিয়ে আসলাম, হঠাৎ পেছনে ফিরে তাকাতেই দেখলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার দিকে তাকিয়ে আছেন) তাই আমি লজ্জিত হয়ে গেলাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৯০০

হাদীস নং ৩৯০০

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, খায়বার যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রসুন ও গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

তিনি রসুর খেতে নিষেধ করেছেন কথাটি কেবল নাফি, থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন কথাটি সালিম (ইবনে আবদুল্লাহ) রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৯০১

হাদীস নং ৩৯০১

ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ…………..আলী ইবনে আবু তালিব রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার যুদ্ধের দিন মহিলাদের মুতআ (মেয়াদী বিয়ে) করা থেকে এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯০২

হাদীস নং ৩৯০২

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯০৩

হাদীস নং ৩৯০৩

ইসহাক ইবনে নাসর রহ………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯০৪

হাদীস নং ৩৯০৪

সুলাইমান ইবনে হারব রহ…………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধের দিন (গৃহপালিত) গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশত খেতে অনুমতি দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯০৫

হাদীস নং ৩৯০৫

সাঈদ ইবনে সুলাইমান রহ…………ইবনে আবী আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধে আমরা অত্যন্ত ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছিলাম, আর তখন আমাদের ডেকচিগুলোতে (গাধার গোশত) টগবগ করে ফুটছিল।

রাবী বলেন, কোন কোন ডেকচির গোশত পাকানো হয়ে গিয়েছিল এমন সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পক্ষে থেকে এক ঘোষণাকারী এসে ঘোষণা দিলেন, তোমরা (গৃহপালিত) গাধার গোশত থেকে সামান্য পরিমাণও খাবে না এবং তা ঢেলে দেবে।

ইবনে আবী আওফা রা. বলেন, ঘোষণা শুনে আমরা পরস্পর বলাবলি করলাম যেহেতু গাধাগুলো থেকে খুমুছ আদায় করা হয়নি এ কারণেই তিনি সেগুলো খেতে নিষেধ করেছেন।

আর কেউ কেউ মন্তব্য করলেন, না, তিনি চিরদিনের জন্যই গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। কেননা গাধা অপবিত্র জিনিস খেয়ে থাকে।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৫ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯০৬

হাদীস নং ৩৯০৬

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ…………..বারা এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত যে, (খায়বার যুদ্ধে) তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন।

(খায়বারের জন্য তাঁরা) গাধার গোশত পেলেন। তাঁরা তা রান্না করলেন। এমন সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করলেন, ডেকচিগুলো সব উল্টিয়ে ফেল।

বুখারি হাদিস নং ৩৯০৭

হাদীস নং ৩৯০৭

ইসহাক রহ………..আদী ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত যে, (তিনি বলেন,) আমি বারা এবং ইবনে আবু আওফা রা.-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, খায়বারের দিন তাঁরা গাধার গোশত পাকানোর জন্য ডেকচি বসিয়েছিলেন, এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ডেকচিগুলো উল্টিয়ে ফেল।

বুখারি হাদিস নং ৩৯০৮

হাদীস নং ৩৯০৮

মুসলিম রহ………….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খায়বারে অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলাম………। পরে তিনি উপরোল্লিখিত বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯০৯

হাদীস নং ৩৯০৯

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ…………..বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কাঁচা ও রান্না করা সকল প্রকারের গৃহপালিত গাধার গোশত ঢেলে দিতে হুকুম করেছেন। এরপরে আর কখনো তা খেতে অনুমতি দেননি।

বুখারি হাদিস নং ৩৯১০

হাদীস নং ৩৯১০

মুহাম্মদ ইবনে আবুল হুসায়ন রহ…………….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

আমি ঠিক জানিনা যে, গৃহপালিত গাধাগুলো মানুষের মাল-সমান আনা-নেয়ার কাজে ব্যবহার হতো, কাজেই এর গোশত খেলে মানুষের বোঝা বহনকারী পশু নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং লোকজনের চলাচলে কষ্টকর হয়ে পড়বে, এ জন্য কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা খেতে নিষেধ করেছিলেন, না খায়বারের দিন এর গোশত (আমাদের জন্য) স্থায়ীভাবে হারাম ঘোষণা দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯১১

হাদীস নং ৩৯১১

হাসান ইবনে ইসহাক রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ার জন্য দুই অংশ এবং পদাতিক যোদ্ধার জন্য এক অংশ হিসেবে (গনীমতের) সম্পদ বণ্টন করেছেন।

রাবী (উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর রা.) বলেন, নাফি হাদীসটির ব্যাখ্যা করে বলেছেন, (যুদ্ধে) যার সঙ্গে ঘোড়া থাকে তার জন্য তিন অংশ এবং যার সঙ্গে ঘোড়া থাকে না, তার জন্য এক অংশ।

বুখারি হাদিস নং ৩৯১২

হাদীস নং ৩৯১২

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………….যুবাইর ইবনে মুতঈম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং উসমান ইবনে আফফান রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে বললাম, আপনি খায়বারের প্রাপ্ত খুমুস থেকে বনী মুত্তালিবকে অংশ দিয়েছেন, আমাদেরকে দেননি। অথচ আপনার সাথে বংশের দিকে থেকে আমরা এবং বনী মুত্তালিব সম-মর্যাদার অধিকারী।

যুবাইর রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী আবদে শামস ও বনী নাওফিলকে (খায়বার যুদ্ধের খুমুস থেকে) কিছুই দেননি।

বুখারি হাদিস নং ৩৯১৩

হাদীস নং ৩৯১৩

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ…………আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইয়ামানে থাকা অবস্থায় আমাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হিজরতে খবর পৌঁছলো। তাই আমি ও দু’ভাই আবু বুরদা ও আবু রুহম এবং আমাদের কাওমের আরো মোট বায়ান্ন কি তিপ্পান্ন কিংবা আরো কিছু লোকজনসহ আমরা হিজরতের জন্য বেরিয়ে পড়লাম।

আমি ছিলাম আমার অপর দু’ভাইয়ের চেয়ে বয়সে ছোট। আমরা একটি জাহাজে আরোহণ করলাম। জাহাজটি আমাদেরকে আবিসিনিয়া দেশের (বাদশাহ) নাজ্জাশীর নিকট পৌঁছিয়ে দিল। সেখানে আমরা জাফর ইবনে আবু তালিবের সাক্ষাত পেলাম এবং তাঁর সাথেই আমরা রয়ে গেলাম।

অবশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খায়বার বিজয়কালে সকলে (হাবশা থেকে) প্রত্যাবর্তন করে এসে তাঁর সঙ্গে একত্রিত হলাম। এ সময় মুসলমানদের কেউ কেউ আমাদেরকে অর্থাৎ জাহাজযোগে আগমনকারীদেরকে বলল, হিজরতে ব্যাপারে আমরা তোমাদের অপেক্ষা অগ্রগামী।

আমাদের সাথে আগমনকারী আসমা বিনতে উমায়স একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী হাফসার সাথে সাক্ষাত করতে এসেছিলেন। অবশ্য তিনিও (তাঁর স্বামী জাফরসহ) নাজ্জাশী বাদশাহর দেশের হিজরতকারীদের সাথে হিজরত করেছিলাম। আসমা রা. হাফসার কাছেই ছিলেন।

এ সময়ে উমর রা. তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন। উমর রা. আসমাকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ইনি কে? হাফসা রা. বললেন, তিনি আসমা বিনতে উমাইস রা.।

উমর রা. বললেন, হ্যাঁ, তখন উমর রা. বললেন, হিজরতের ব্যাপারে আমরা তোমাদের চেয়ে আগে আছি। সুতরাং তোমাদের তুলনায় আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন, তিনি আপনাদের ক্ষুধার্তদের আহারের ব্যবস্থা করতেন, আপনাদের মধ্যকার অবুঝ লোকদেরকে সদুপদেশ দিতেন।

আর আমরা ছিলাম এমন এক এলাকায় অথবা তিনি বলেছেন এমন এক দেশে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহুদূর এবং সর্বদা শত্রু কবলিত–হাবশা দেশে।

আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই ছিল আমাদের এ কুরবানী। আল্লাহর কসম, আমি ততক্ষণ পর্যন্ত কোন খাবার গ্রহণ করব না এবং পানিও পান করব না,যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি যা বলেছেন তা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এসব কথা বলব। এবং তাকে জিজ্ঞাসা করব।

তবে আল্লাহর কসম, আমি মিথ্যা বলব না, ঘুরিয়ে কিংবা এর উপর বাড়িয়েও কিছু বলবো না। এরপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন, তখন আসমা রা. বললেন, হে আল্লাহর নবী ! উমর রা. এসব কথা বলেছেন, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি তাকে কি উত্তর দিয়েছ?

আসমা রা. বললেন, আমি তাকে এরূপ এরূপ বলেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (এ ব্যাপারে) তোমাদের তুলনায় উমর রা. আমার বেশি ঘনিষ্ঠ নয়।

কারণ উমর রা. এবং তাঁর সাথীদের তো মাত্র একটিই হিজরত লাভ হয়েছে, আর তোমরা যারা জাহাজে আরোহণকারী ছিলে তাদের দুটি হিজরত অর্জিত হয়েছে।

আসমা রা. বলেন, এ ঘটনার পর আমি আবু মূসা রা. এবং জাহাজযোগ আগমনকারী অন্যদেরকে দেখেছি যে, তাঁরা দলে দলে এসে আমার নিকট থেকে এ হাদীস শুনতেন।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সম্পর্কে যে কথাটি বলেছিলেন এ কথাটি তাদের কাছে এতই প্রিয় ছিল যে, তাদের কাছে দুনিয়ার অন্য কোন জিনিস এত প্রিয় ছিল না।

আবু বুরদা রা .বলেন যে, আসমা রা. বলেছেন, আমি আবু মূসা (আশআরী রা.) কে দেখেছি, তিনি বারবারই আমার কাছ থেকে হাদীসটি শুনতে চাইতেন।

আবু বুরদা রা……….. আবু মূসা থেকে আরো বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আশআরী গোত্রের লোকজন রাতের বেলায় এলেও আমি তাদেরকে তাদের কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ থেকেই চিনতে পারি।

এবং রাতের বেলায় তাদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে দেখিনি। হাকীম ছিলেন আশআরীদের একজন। যখন তিনি কোন দল কিংবা (রাবী বলেছেন) কোন শত্রুর মুকাবিলায় আসতেন তখন তিনি তাদেরকে বলতেন, আমার বন্ধুরা তোমাদের বলেছেন, যেন তোমরা তাদের জন্য অপেক্ষা কর।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৫ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯১৪

হাদীস নং ৩৯১৪

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ…………আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার জয় করার পরে আমরা তাঁর কাছে গিয়ে পৌঁছলাম।

তিনি আমাদের জন্য গনীমতের মাল বণ্টন করেছেন। আমাদেরকে ছাড়া বিজয়ে অংশগ্রহণ করেনি এমন করুর জন্য তিনি (খায়বারের গনীমতের মাল) বণ্টন করেননি।

বুখারি হাদিস নং ৩৯১৫

হাদীস নং ৩৯১৫

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধে আমরা বিজয় লাভ করেছি কিন্তু গনীমত হিসেবে আমরা সোনা, রূপা কিছুই লাভ করিনি।

আমরা যা পেয়েছিলাম তা ছিল গরু, উট, বিভিন্ন দ্রব্য-সামগ্রী এবং ফলের বাগান। (যুদ্ধ শেষ করে) আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ওয়াদিউ কুরা নামক স্থান পর্যন্ত ফিরে আসলাম।

তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সঙ্গে ছিল মিদআম নামক একটি গোলাম। নবী যুবাইর-এর জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এটি হাদিয়া দিয়েছিল।

এক সময়ে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাওদা নামানোর কাজে ব্যস্ত ছিল আর ঐ মুহূর্তে এক অজ্ঞাত স্থান থেকে একটি তীর ছুটে এসে তার গায়ে পড়ল। ফলে গোলামটি মারা গেল।

এ অবস্থা দেখে লোকজন বলাবলি শুরু করল যে, কি আনন্দদায়ক তার এ শাহাদত ! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাই নাকি?

সেই মহান সত্তার কসম, তাঁর হাতে আমার প্রাণ, বণ্টনের আগে খায়বার যুদ্ধলব্ধ গনীমত থেকে সে যে চাদরখানা তুলে নিয়েছিল সেটি আগুন হয়ে অবশ্যই তাকে দগ্ধ করবে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ কথাটি শোনার পর আরেক ব্যক্তি একটি অথবা দুটি জুতার ফিতা নিয়ে এসে বলল, এ জিনিসটি আমি বণ্টনের আগেই নিয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ কথাটি অথবা দুটি ফিতাও আগুনের ফিতায় রূপান্তরিত হত।

বুখারি হাদিস নং ৩৯১৬

হাদীস নং ৩৯১৬

সাঈদ ইবনে আবু মারিয়াম রহ…………উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মনে রেখো! সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, যদি পরবর্তী বংশধরদের নিঃস্ব ও রিক্ত-হস্ত হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত তাহলে আমি আমার সমুদয় বিজিত এলাকা সেভাবে বণ্টন করে দিতাম যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার বণ্টন করে দিয়েছিলেন।

কিন্তু আমি তা তাদের জন্য গচ্ছিত আমানত হিসেবে রেখে যাচ্ছি যেন পরবর্তী বংশধরগণ তা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিতে পারে।

বুখারি হাদিস নং ৩৯১৭

হাদীস নং ৩৯১৭

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………….উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, পরবর্তী মুসলমানদের উপর আমার আশংকা না থাকলে আমি তাদের বিজিত এলাকাগুলো তাদের মধ্যে সেভাবে বণ্টন করে দিতাম যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার বণ্টন করে দিয়েছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৯১৮

হাদীস নং ৩৯১৮

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………আমবাসা ইবনে সাঈদ রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবু হুরায়রা রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে (খায়বার যুদ্ধের গনীমতের) অংশ চাইলেন। তখন বনূ সাঈদ ইবনে আস গোত্রের জনৈক ব্যক্তি বলে উঠল, না, তাকে দিবেন না।

আবু হুরায়রা রা. বললেন, এ লোক তো ইবনে কাওকালের হত্যাকারী। কথাটি শুনে সে ব্যক্তি বলল, বাঃ ! দান পাহাড় থেকে নেমে আসা অদ্ভুত বিড়ালের কথায় আশ্চর্য বোধ করছি।

যুবায়দী-যুহরী-আমবাসা ইবনে সাঈদ রহ. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি সাঈদ ইবনে আস রা. সম্পর্কে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবান (ইবনে সাইদ রা.) এর নেতৃত্বে একটি সৈন্যদল মদীনা থেকে নাজদের দিকে পাঠিয়েছিলেন।

আবু হুরায়রা রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বা বিজয় করে সেখানে অবস্থানরত ছিলেন তখন আবান রা. ও তাঁর সঙ্গীগণ সেখানে এসে তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) সাথে মিলিত হলেন। তাদের ঘোড়াগুলোর লাগাম ছিল খেজুরের ছালের বানানো।

(অর্থা তাঁরা ছিলেন বড়ই নিঃস্ব) আবু হুরায়রা রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তাদেরকে কোন অংশ দিবেন না। তখন আবান রা. বললেন, আরে বুনো বিড়াল, দান পাহাড় থেকে নেমে আসছ বরং তুমিই না পাওয়ার যোগ্য।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবান, বসো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে (আবান ও তার সঙ্গীদেরকে) অংশ দিলেন না।

বুখারি হাদিস নং ৩৯১৯

হাদীস নং ৩৯১৯

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………….আমর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার দাদা আমাকে জানিয়েছেন যে, আবান ইবনে সাইদ রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে সালাম দিলেন।

তখন আবু হুরায়রা রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এ লোক তো ইবনে কাওকাল রা.-এর হত্যাকারী। তখন আবান রা. আবু হুরায়রা রা. কে বললেন, আশ্চর্য ! দান পাহাড়ের চূড়া থেকে অকস্মাৎ নেমে আসা বুনো বিড়াল !

সে এমন এক ব্যক্তির সম্পর্কে আমাকে দোষারূপ করছে যাকে আল্লাহ আমার হাত দ্বারা সম্মানিত করেছেন (শাহাদত দান করেছেন) আর তাঁর হাত দ্বারা অপমানিত হওয়া থেকে আমাকে রক্ষা করেছেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৫ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯২০

হাদীস নং ৩৯২০

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা রা. আবু বকর রা.-এর নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ত্যাজ্য সম্পত্তি মদীনা ও ফাদকে অবস্থিত ফাই এবং খায়বারের খুমুসের অবশিষ্টাংশ থেকে মিরাসী স্বত্ব চেয়ে পাঠালেন।

তখন আবু বকর রা. উত্তরে বললেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন, আমাদের (নবীদের) কোন ওয়ারিস হয় না, আমরা যা রেখে যাব তা সাদকা হিসেবে পরিগণিত হবে। অবশ্য মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরগণ এ সম্পত্তি কেবল ভোগ করতে পারেন।

আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাদকা তাঁর জীবদ্দশায় যে অবস্থায় ছিল আমি সে অবস্থা থেকে সামান্যতমও পরিবর্তন করব না।

এ কথা বলে আবু বকর রা. ফাতিমা রা.-কে এ সম্পদ থেকে কিছু প্রদান করতে অস্বীকার করলেন। এতে ফাতিমা রা. (মানবোচিত কারণে) আবু বকর রা.-এর উপর নারাজ হয়ে গেলেন এবং তাঁর থেকে নিস্পৃহ হয়ে রইলেন।

পরে তাঁর ওফাত পর্যন্ত তিনি (মানসিক সংকোচের দরুন) আবু বকর রা.-এর সাথে কথা বলেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর তিনি ছয় মাস পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। এরপর তিনি ইন্তিকাল করলে তাঁর স্বামী আলী রা. রাতের বেলা তাঁর দাফন কার্য শেষ করে নেন।

আবু বকর রা.-কেও এ সংবাদ দেননি। এবং তিনি তার জানাযার নামায আদায় করে নেন। ফাতিমা রা. জীবিত থাকা পর্যন্ত লোকজনের মনে আলী রা. -এর বেশ সম্মান ও প্রভাব ছিল। এরপর যখন ফাতিমা রা. ইন্তিকাল করলেন, তখন আলী রা. লোকজনের চেহারায় অসন্তুষ্টির চিহ্ন দেখতে পেলেন।

তাই তিনি আবু বকর রা.-এর সাথে সমঝোতা ও তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণের ইচ্ছা করলেন। (ফাতিমা রা.-এর অসুস্থতা ও অন্যান্য) ব্যস্ততার দরুন এ ছয় মাসে তাঁর পক্ষে বায়আত গ্রহণের অবসর হয়নি। তাই তিনি আবু বকর রা.-এর কাছে লোক পাঠিয়ে জানালেন যে, আপনি আমার কাছে আসুন।

তবে অন্য কেউ যেন আপনার সঙ্গে না আসে। কারণ আবু বকর রা.-এর সঙ্গে উমর রা. ও উপস্থিত হোক—–তিনি তা পছন্দ করেননি।

(বিষয়টি শোনার পর) উমর রা. বললেন, আল্লাহর কসম, আপনি এক একা তাঁর কাছে যাবেন না। আবু বকর রা. বললেন, তাঁরা আমার সাথে খারাপ আচরণ করবে বলে তোমরা আশংকা করছ? আল্লাহর কসম, আমি তাদের কাছে যাব।

তারপর আবু বকর রা. তাদের কাছে গেলেন। আলী রা. তাশাহহুদ পাঠ করে বললেন, আমরা আপনার মর্যদা এবং আল্লাহ আপনাকে যা কিছু দান করেছেন সে সম্পর্কে অবগত আছি। আর যে কল্যাণ (খিলাফত) আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন সে ব্যাপারেও আমরা আপনার সাথে হিংসা রাখি না।

তবে খিলাফতের ব্যাপারে আপনি আমাদের উপর নিজের মতের প্রাধান্য দিয়ে যাচ্ছেন অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটাত্মীয় হিসেবে খিলাফতের কাজে আমাদেরও কিছু অধিকার রয়েছে। এ কথায় আবু বকর রা.-এর চোখ-যুগল থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল।

এরপর তিনি যখন আলোচনা আরম্ভ করলেন তখন বললেন, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আমার কাছে আমার নিকত্মীয় অপেক্ষাও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয় বর্গ বেশি প্রিয়।

আর এসম্পদগুলোতে আমার এবং আপনাদের মধ্যে যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে সে ব্যাপারেও আমি কল্যাণকর পথ অনসরণে কোন কসুর করিনি। বরং এ ক্ষেত্রেও আমি কোন কাজ পরিত্যাগ করিনি যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে করতে দেখেছি।

তারপর আলী রা. আবু বকর রা.-কে বললেন, যুহরের পর আপনার হাতে বায়আত গ্রহণের ওয়াদা রইল। যুহরের নামায আদায়ের পর আবু বকর রা. মিম্বরে বসে তাশাহহুদ পাঠ করলেন, তারপর আলী রা.-এর বর্তমান অবস্থা এবং বায়আত গ্রহণে তার দেরি করার কারণ ও তাঁর (আবু বকরের) কাছে পেশকৃত আপত্তিগুলো তিনি বর্ণনা করলেন।

এরপর আলী রা. দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তাশাহহুদ পাঠ করলেন এবং আবু বকর রা.-এর মর্যাদার কথা উল্লেখ করে বললেন, তিনি বিলম্বজনিত যা কিছু করেছেন তা আবু বকর রা.-এর প্রতি হিংসা কিংবা আল্লাহ প্রদত্ত তাঁর এ সম্মানের অস্বীকার করার মনোবৃত্তি নিয়ে করেননি।

(তিনি বলেন,) তবে আমরা ভেবেছিলাম যে, এ ব্যাপারে আমাদের পরামর্শও দেওয়ার অধিকার থাকবে। অথচ তিনি (আবু বকর রা.) আমাদের পরামর্শ ত্যাগ করে স্বাধীন মতের উপর রয়ে গেছেন।

তাই আমরা মানসিকভাবে ব্যাথা পেয়েছিলাম। (উভয়ের এ আলোচনা শুনে) মুসলমানগণ আনন্দিত হয়ে বললেন, আপনি ঠিকই করেছেন। এরপর আলী রা. আমর বিল মারূফ (অর্থাৎ বায়আত গ্রহণ)-এর দিকে ফিরে এসেছেন দেখে সব মুসলমান আবার তাঁর প্রতি ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠলেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ৫ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৯২১

হাদীস নং ৩৯২১

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বার বিজয় হওয়ার পর আমরা (পরস্পর) বললাম, এখন আমরা পরিতৃপ্ত হয়ে খেজুর খেতে পারব।

বুখারি হাদিস নং ৩৯২২

হাদীস নং ৩৯২২

হাসান রহ…………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বার বিজয় লাভ করার পূর্ব পর্যন্ত আমরা তৃপ্তি সহকারে খেতে পাইনি।

আরও পড়ুনঃ

ইজারা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

সলম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ইতিকাফ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

তারাবীহর সালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

ইসলাম ধর্মে ঈশ্বর

মন্তব্য করুন