যুদ্ধাভিযান পার্ট ১১ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান পার্ট ১১ (অবশিষ্ট অংশ)

যুদ্ধাভিযান পার্ট ১১ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

Table of Contents

যুদ্ধাভিযান পার্ট ১১ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০৭৭ – রাসূল (সা.) এর হিজর বস্তিতে অবতরণ।

হাদীস নং ৪০৭৭ – রাসূল (সা.) এর হিজর বস্তিতে অবতরণ।

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ জুফী রহ………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সামূদ গোত্রের) হিজর বস্তি অতিক্রম করেন, তখন তিনি বললেন, যারা নিজ আত্মার উপর অত্যাচার করছে তাদের আবাস স্থল ক্রন্দনাবস্থা ব্যতীত প্রবেশ কর না।

যেন তোমাদের প্রতিও শাস্তি নিপতিত না হয় যা তাদের প্রতি নিপতিত হয়েছিল। তারপর তিনি তাঁর মস্তক আবৃত করেন এবং অতি দ্রুতবেগে চলে উক্ত স্থান অতিক্রম করেন।

বুখারি হাদিস নং ৪০৭৮

হাদীস নং ৪০৭৮

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজর নামক স্থান দিয়ে অতিক্রমকালে তাঁর সঙ্গীদের বললেন, তোমরা ঐ শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া প্রবেশ কর না—যাতে তোমাদের উপরও সেরূপ বিপদ আপতিত না হয় যেরূপ তাদের উপর আপতিত হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৪০৭৯ – পরিচ্ছেদ ২২৪৫

হাদীস নং ৪০৭৯ – পরিচ্ছেদ ২২৪৫

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………….মুগীরা ইবনে শুবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (প্রকৃতির) প্রয়োজনে বাহিরে গেলেন। (ফিরে এলে) আমি দাঁড়িয়ে তাঁর (অজুর) পানি ঢেলে দিচ্ছিলাম।

(স্থানটি কোথায়) তা আমার স্মরণ নেই। তবে তা ছিল তাবূক যুদ্ধের সময়কার। এরপর তিনি তাঁর চেহারা ধৌত করেন। এবং তাঁর বাহুদ্বয় ধৌত করতে গেলে দেখা গেল যে, তাঁর জামার আস্তিন আটসাট।

তখন তিনি উভয় বাহুকে জামার মধ্য থেকে বের করে আনেন এবং তা ধৌত করেন। তারপর তিনি তাঁর মোজার উপর মাসেহ করেন।

বুখারি হাদিস নং ৪০৮০

হাদীস নং ৪০৮০

খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ……………আবু হুমাইদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাবূক যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করে মদীনাতে পদার্পন করলাম তখন তিনি বললেন, এই মদীনার অপর নাম ত্বাবা (পবিত্র)। এবং এই উহুদ এমন পাহাড় যে, সে আমাদের ভালবাসে আর আমরাও তাকে ভালবাসি।

বুখারি হাদিস নং ৪০৮১

হাদীস নং ৪০৮১

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবূক যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করে মদীনার নিকটবর্তী হলেন, তখন তিনি বললেন, মদীনাতে এমন সম্প্রদায় রয়েছে যারা কোন দূরপথ ভ্রমণ করেনি, এবং কোন উপত্যকাও অতিক্রম করেনি তবুও তারা তোমাদের সাথে (সাওয়াবে) শরীক রয়েছে।

সাহাবায়ে কিরাম রা. আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তারা তো মদীনায়-ই অবস্থান করছিল। তখন তিনি বললেন, তারা মদীনায়ই রয়ে গেছে, তবে ওযর তাদের আটকে রেখেছিল।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ১১ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০৮২ – পারস্য অধিপতি কিসরা ও রোম অধিপতি কায়সারের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্র।

হাদীস নং ৪০৮২ – পারস্য অধিপতি কিসরা ও রোম অধিপতি কায়সারের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্র।

ইসহাক রহ…………..ইবনে আব্বাস রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা সামী রা.-কে তাঁর পত্রসহ কিসরার কাছে প্রেরণ করেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এ নির্দেশ দেন যে, সে যেন পত্রখানা প্রথমে বাহরাইনের গভর্নরের কাছে দেয় এবং পরে বাহরাইনের গভর্নর যেন কিসরার হাতে পত্রটি পৌঁছিয়ে দেয়।

কিসরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পত্রখানা পড়ল, তখন তা ছিড়ে টুকরা করে ফেলল। (রাবী বলেন) আমার যতদূর মনে পড়ে ইবনুল মুসায়্যাব রা. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রতি এ বলে বদদোয়া করেন, আল্লাহ তাদেরকেও সম্পূর্ণরূপে টুকরো টুকরো করে দিন।

বুখারি হাদিস নং ৪০৮৩

হাদীস নং ৪০৮৩

উসমান ইবনে হায়সাম রহ………….আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রুত একটি বাণী আমাকে জঙ্গে জামালের (উষ্টের যুদ্ধ) দিন মহা উপকার করেছে, যে সময় আমি সাহাবায়ে কিরামের সাথে মিলিত হয়ে জামাল যুদ্ধে শরীক হতে প্রায় প্রস্তুত হয়েছিলাম।

আবু বাকরা রা. বলেন, সে বাণীটি হল, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ খবর পৌঁছল যে, পারস্যবাসী কিসরা তনয়াকে তাদের বাদশাহ মনোনীত করেছেন, তখন তিনি বললেন, কখনই সে জাতি সফলতার মুখ দেখবে না যারা স্ত্রীলোককে তাদের প্রশাসক নির্বাচন করে।

বুখারি হাদিস নং ৪০৮৪

হাদীস নং ৪০৮৪

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………….সায়িব ইবনে ইয়াযীদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার স্মৃতিপটে এখনও সে ঘটনা জাগে যে, মদীনার ছেলেপুলের সাথে ছানিয়্যাতুল বিদায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বাগত জানাতে আমি গিয়েছিলাম। সুফিয়ান রা.-রিওয়ায়েতে ‘গিলমান’ এর স্থলে ‘চিবইয়ান’ শব্দের উল্লেখ রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৪০৮৫

হাদীস নং ৪০৮৫

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ…………সায়িব (ইবনে ইয়াযীদ) রা. থেকে বর্ণিত যে, আমি স্মৃতিচারণ করি যে, ছানিয়্যাতুল বিদায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বাগত জানাতে মদীনার ছেলেদের সাথে গিয়েছিলাম যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবূক যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৪০৮৬ – নবী (সা.) এর রোগ ও তাঁর ওফাত।

হাদীস নং ৪০৮৬ – নবী (সা.) এর রোগ ও তাঁর ওফাত।

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………..উম্মুল ফজল বিনতে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাগরিবের নামাযে সূরা ‘ওয়াল মুরসালাতে উরফা’ পাঠ করতে শুনেছি।

তারপর আল্লাহ তায়ালা তাঁর রূহ মুবারক কবজ করা পর্যন্ত তিনি আর আমাদের নিয়ে কোন নামায আদায় করেননি।

বুখারি হাদিস নং ৪০৮৭

হাদীস নং ৪০৮৭

মুহাম্মদ ইবনে আরআরা রহ…………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব রা. ইবনে আব্বাস রা.-কে তাঁর কাছে বসাতেন।

এতে আবদুর রাহমান ইবনে আউফ রা. তাকে বললেন, আমাদেরও তো ইবনে আব্বাস রা.-এর সমবয়সী ছেলেপুলে আছে ! তখন উমর রা. বললেন, সে কিরূপ মর্যাদার লোক তা তো আপনারাও জানেন।

এরপর উমর রা. ইবনে আব্বাস রা.-কে এই إذا جاء نصر الله والفتح আয়াতের প্রকৃত মর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন, এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের খবর (তাকে অবগত করানো হয়েছে) তখন উমর রা. বললেন, আমিও তা-ই মনে করি যা তুমি মনে করছ।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ১১ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০৮৮

হাদীস নং ৪০৮৮

কুতাইবা রহ…………সাঈদ ইবনে জুরাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস রা. বললেন, বৃহস্পতিবার ! বৃহস্পতিবারের ঘটনা কি ?

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ জ্বালা প্রবলভাবে দেখা দেয়। তখন তিনি বললেন, তোমরা আমার কাছে আস, আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দিয়ে যাই যেন তোমরা এরপর কখনও বিভ্রান্ত না হও। তখন তারা পরস্পর মতভেদ করতে থাকে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সান্নিধ্যে মতবিরোধ করা শোভনীয় নয়।

এরপর কিছুসংখ্যক লোক বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থা কেমন? তিনি কি ব্যাপারটি পুনরুত্থাপনের উদ্যেগ নিলেন।

তখন তিনি বললেন, তোমরা আমাকে আমার অবস্থায় ছেড়ে দাও, তোমরা যে কাজের দিকে আমাকে আহবান জানাচ্ছ তার চেয়ে আমি উত্তম অবস্থায় অবস্থান করছি।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের তিনটি নসীহত করলেন (১) আরব উপদ্বীপ থেকে মুশরিকদের বহিষ্কার করে দিবে (২) দূতদের সেরূপ আদর-আপ্যায়ন করবে যেমন আমি করতাম এবং তৃতীয়টি বলা থেকে তিনি নীরব থাকলেন অথবা বর্ণনাকারী বলেন, তৃতীয়টি আমি ভুলে গিয়েছি।

বুখারি হাদিস নং ৪০৮৯

হাদীস নং ৪০৮৯

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের সময় যখন নিকটবর্তী হল এবং ঘরে ছিল লোকের সমাবেশ, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আস আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দেই, যেন তোমরা পরবর্তীতে পথভ্রষ্ট না হও।

তখন তাদের মধ্যকার কিছু লোক বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ-যন্ত্রণা কঠিনতর অবস্থায়, আর তোমাদের কাছে তো কুরআন মওজুদ আছে।

আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট। ইত্যবসরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারের লোকজনের মধ্যে মতানৈক্য শুরু হয়ে যায়, এবং তারা পরস্পর বাক-বিতণ্ডা করতে থাকেন। তাদের কেউ বললেন, তোমরা কাগজ উপস্থিত কর, তিনি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দিন।

যাতে তোমরা তাঁর পরে কোন বিভ্রান্তিতে নিপতিত না হও। আবার কেউ বললেন এর বিপরীত। এরপর যখন বাক-বিতণ্ডা ও মতবিরোধ চরমে পৌঁছল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা উঠে চলে যাও।

উবায়দুল্লাহ রা. বলেন, ইবনে আব্বাস রা. বলতেন, এ ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কিরামের জন্য কিছু লিখে দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের মতবিরোধ ও উচ্চ শব্দই মূলত প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৪০৯০

হাদীস নং ৪০৯০

ইয়াসারা ইবনে সাফয়ান ইবনে জামীল আল লাখমী রহ…………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু-রোগকালে ফাতিমা রা.-কে ডেকে আনলেন এবং চুপে চুপে কিছু বললেন, তখন তিনি হাসলেন।

পরে আমরা এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রোগে আক্রান্ত আছেন এ রোগেই তাঁর ইন্তিকাল হবে।

এ কথাটিই তিনি গোপনে আমাকে বলেছেন। তখন আমি কাঁদলাম। আবার তিনি আমাকে চুপে চুপে বললেন, তাঁর পরিবার-পরিজনের মধ্যে সর্বপ্রথম আমিই তাঁর সঙ্গে মিলিত হব, তখন আমি হাসলাম।

বুখারি হাদিস নং ৪০৯১

হাদীস নং ৪০৯১

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ…………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একথা শুনছিলাম যে, কোন নবী মারা যান যতক্ষণ না তাকে ইখতিয়ার প্রদান করা হয় দুনিয়া বা আখিরাত গ্রহণ করার।

যে রোগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন সে রোগে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মৃত্যু যন্ত্রণায় আক্রান্তাবস্থায় বলতে শুনেছি, তাদের সাথে যাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা নিয়ামত প্রদান করেছেন (তাঁরা হলেন, নবী (আ)-গণ, সিদ্দীকগণ এবং শহীদগণ) (৪: ৭২) তখন আমি ধারণা করলাম যে তিনিও ইখতিয়ার প্রাপ্ত হয়েছেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ১১ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪০৯২

হাদীস নং ৪০৯২

মুসলিম রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুত্যু-রোগে আক্রান্ত হন, তখন তিনি বলিতেছিলেন, ‘ফির রফীকিল আলা’। – মহান ঊর্ধ্বলোকের বন্ধুর সাথে (আমাকে মিলিত করুন)।

বুখারি হাদিস নং ৪০৯৩

হাদীস নং ৪০৯৩

আবুল ইয়ামান রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্থাবস্থায় বলতেন, কোন নবী আ.-এর প্রাণ কখনো কবজ করা হয়নি, যতক্ষণ না তাঁর স্থান জান্নাতে দেখান হয়েছে।

তারপর তাকে জীবিত রাখা হয় অথবা ইন্তিকালের ইখতিয়ার দেয়া হয়। এরপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তাঁর মাথা আয়েশা রা.-এর উরুতে রাখাবস্থায় তাঁর জান কবজের সময় উপস্থিত হল তখন তিনি চৈতন্যহীন হয়ে পড়লেন।

এরপর যখন তিনি চেতনা ফিরে পেলেন তখন তিনি ঘরের ছাদের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বললেন, হে আল্লাহ ! মহান ঊর্ধ্বজগতের বন্ধুর সাথে (আমাকে মিলিত করুন)।

অনন্তর আমি বললাম, তিনি আর আমাদের মাঝে থাকছেন না। এরপর আমি উপলব্ধি করলাম যে, এ ঐ কথাই যা তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করতেন। আর তাই ঠিক।

বুখারি হাদিস নং ৪০৯৪

হাদীস নং ৪০৯৪

মুহাম্মদ রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, আবদুর রাহমান ইবনে আবু বকর রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলেন।

তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার বুকে হেলান দেওয়া অবস্থায় রেখেছিলাম এবং আবদুর রাহমানের হাতে তাজা মিসওয়াকের ডালা ছিল যা দিয়ে সে দাঁত পরিস্কার করছিল।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে বিশেষ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিলেন। আমি মিসওয়াকটি নিলাম এবং তা চিবিয়ে নরম করলাম। তারপর তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দিয়ে দাঁত মর্দন করলেন।

আমি তাকে এর আগে এত সুন্দরভাবে মিসওয়াক করতে আর কখনও দেখিনি। এ থেকে অবসর হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় হাত অথবা আঙ্গুল উপরে উঠিয়ে তিনবার বললেন, ঊর্ধ্বলোকের মহান বন্ধুর সাথে (আমাকে মিলিত করুন)।

তারপর তিনি ইন্তিকাল করলেন। আয়েশা রা. বলতেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুক ও থুতনির মধ্যস্থলে থাকাবস্থায় ইন্তিকাল করেন।

বুখারি হাদিস নং ৪০৯৫

হাদীস নং ৪০৯৫

হিব্বান রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়তেন তখন তিনি আশ্রয় প্রার্থনার দুই সূরা (ফালাক ও নাস) পাঠ করে নিজ দেহে ফুঁক দিতেন এবং স্বীয় হাত দ্বারা শরীর মাসেহ করতেন।

এরপর যখন তিনি মৃত্যু-রোগে আক্রান্ত হলেন, তখন আমি আশ্রয় প্রার্থনার সূরাদ্বয় দ্বারা তাঁর শরীরে দম করতাম, যা দিয়ে তিনি দম করতেন। আমি তাঁর হাত দ্বারা তাঁর শরীর মাসেহ করিয়ে দিতাম।

বুখারি হাদিস নং ৪০৯৬

হাদীস নং ৪০৯৬

মুআল্লাহ ইবনে আসাদ রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পূর্বে যখন তাঁর পিঠ আমার উপর হেলান দেয়া অবস্থায় ছিল, তখন আমি কোন ঝুঁকিয়ে দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহ ! আমাকে মাফ করুন, রহম করুন এবং (ঊর্ধ্বজগতের) মহান বন্ধুর সাথে আমাকে মিলিত করুন।

বুখারি হাদিস নং ৪০৯৭

হাদীস নং ৪০৯৭

সালত ইবনে মুহাম্মদ রহ…………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে রোগ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর সুস্থ হয়ে উঠেননি সে রোগবস্থায় তিনি বলেন, ইহুদীদের প্রতি আল্লাহ লা’নত করেছেন।

তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে সিজদার স্থানে পরিণত করেছে। আয়েশা রা. মন্তব্য করেন, এরূপ প্রথা যদি না থাকত তবে তাঁর কবরকেও খোলা রাখা হত। কারণ তাঁর কবরকেও মসজিদ (সিজদার স্থান) বানানোর আশংকা ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৪০৯৮

হাদীস নং ৪০৯৮

সাঈদ ইবনে উফাইর রহ……….নবী সহধর্মিণী আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রোগ প্রবল হল ও ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করল, তখন তিনি আমার ঘরে সেবা শুশ্রুষা করার ব্যাপারে তাঁর বিবিগণের নিকট অনুমতি চাইলেন।

তখন তাঁরা তাকে অনুমতি দিলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হয়ে ইবনে আব্বাস রা. ও অপর একজন সাহাবীর সাহায্যে জমীনের উপর পা হিচড়ে চলতে লাগলেন।

উবায়দুল্লাহ রা. বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-কে আয়েশা কথিত ব্যক্তি সম্পর্কে অবহিত করলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি সেই দ্বিতীয় ব্যক্তি যার নাম আয়েশা রা. উল্লেখ করেননি তার নাম জান? আমি বললাম, না। ইবনে আব্বাস রা. বললেন, তিনি হলেন আলী রা.।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা রা. বর্ণনা করতেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর ব্যথা বেড়ে গেল, তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন সাত মশক যার মুখ এখনও খোলা হয়নি, তা থেকে আমার শরীরে পানি ঢেলে দাও।

যেন আমি (সুস্থ হয়ে) লোকদের উপদেশ দিতে পারি। এরপর আমরা তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী হাফসা রা.-এর একটি বড় গামলায় বসালাম।

তারপর আমরা উক্ত মশক হতে তাঁর উপর ততক্ষণ পর্যন্ত পানি ঢালা অব্যাহত রাখলাম যতক্ষণ না তিনি তাঁর হাত দ্বারা আমাদের ইশারা করে জানালেন যে, তোমরা তোমাদের কাজ সম্পন্ন করেছ।

আয়েশা রা বলেন, তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের কাছে গিয়ে তাদের সাথে জামাতে নামায আদায় করলেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন।

উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা রহ. আমাকে জানালেন যে, আয়েশা ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. উভয়ে বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগ-যাতনায় অস্থির হতেন তখন তিনি তাঁর কালো চাদর দিয়ে নিজ মুখমণ্ডল ঢেকে রাখতেন।

আবার যখন জ্বরের উষ্ণতা হ্রাস পেত তখন মুখমণ্ডল থেকে চাদর সরিয়ে ফেলতেন। রাবী বলেন, এরূপ অবস্থায়ও তিনি বলতেন, ইহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর লানত, তারা নবীদের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে।

তাদের কৃতকর্ম থেকে সতর্ক করা হয়েছে। উবায়দুল্লাহ রহ. বলেন যে, আয়েশা রা. বলেন, আমি আবু বকর রা.-এর ইমামতির ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বারবার আপত্তি করেছি।

আর আমার তাঁর কাছ বারবার আপত্তি করার কারণ ছিল এই, আমার অন্তরে একথা আসেনি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে তাঁর স্থলে কেউ দাঁড়ালে লোকেরা তাকে পছন্দ করবে।

বরং আমি মনে করতাম যে কেউ তাঁর স্থলে দাঁড়ালে লোকরো তাঁর প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করবে, তাই আমি ইচ্ছা করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দায়িত্ব আবু বকর রা.-এর পরিবর্তে অন্যকাউকে প্রদান করুন।

আবু আবদুল্লাহ বুখারী রহ. বলেন, এ হাদীস ইবনে উমর, আবু মূসা ও ইবনে আব্বাস রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৪০৯৯

হাদীস নং ৪০৯৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় ইন্তিকাল করেন যে, আমার বুক ও থুতনির মধ্যস্থলে তিনি হেলান দেওয়া অবস্থায় ছিলেন।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যু-যন্ত্রণার পর আমি আর কারো জন্য মৃত্যু-যন্ত্রণাকে কঠোর বলে মনে করি না।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ১১ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪১০০

হাদীস নং ৪১০০

ইসহাক রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, আলী ইবনে আবু তালিব রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ হতে বের হয়ে আসেন যখন তিনি মৃত্যুরোগে আক্রান্ত ছিলেন।

তখন সাহাবীগণ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবুল হাসান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ কেমন আছেন? তিনি বললেন, আল-হামদুলিল্লাহ , তিনি কিছুটা সুস্থ। তখন আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রা. তাঁর হাত ধরে তাকে বললেন, আল্লাহর কসম, তুমি তিনদিন পরে অন্যের দ্বারা পরিচালিত হবে।

আল্লাহর শপথ, আমি মনে করি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রোগে অচিরেই ইন্তিকাল করবেন। কারণ আমি আবদুল মুত্তালিবের বংশের অনেকের মৃত্যুকালীন চেহারার অবস্থা লক্ষ্য করেছি।

চল যাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করি যে, তিনি দায়িত্ব কার উপর ন্যস্ত করে যাচ্ছেন। যদি আমাদের মধ্যে থাকে তো তা আমরা জানব।

আর যদি আমাদের ছাড়া অন্যদের উপর ন্যস্ত করে যান, তাহলে তাও আমরা জানতে পারব এবং তিনি এ ব্যাপারে আমাদের তখন অসীয়ত করে যাবেন।

তখন আলী রা. বললেন, আল্লাহর কসম, যদি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমরা জিজ্ঞাসা করি আর তিনি আমাদের নিষেধ করে দেন, তবে তারপরে লোকেরা আর আমাদের তা প্রদান করবে না। আল্লাহর কসম, এজন্য আমি কখনই এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করব না।

বুখারি হাদিস নং ৪১০১

হাদীস নং ৪১০১

সাঈদ ইবনে উফাইর রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, সোমবার সাহাবীগণ ফজরের নামাযে রত ছিলেন। আর আবু বকর রা. তাদের নামাযের জামাতের ইমামতী করছিলেন। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রা.-এর কক্ষের পর্দা উঠিয়ে তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন।

সাহাবীগণ কাতারবন্দী অবস্থায় নামায আদায় করছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসি দিলেন। আবু বকর রা. পেছনে মুক্তদির সারিতে নামায আদায়ের নিমিত্ত পিছিয়ে আসতে মনস্থ করলেন।

তিনি ধারণা করেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে নামায আদায়ের জন্য বেরিয়ে আসার ইচ্ছা করছেন।

আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের আনন্দে সাহাবীগণের নামায ভঙ্গের উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে ইশারায় তাদের নামায পুরা করতে বললেন। তারপর তিনি কক্ষে প্রবেশ করলেনও পর্দা টেনে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৪১০২

হাদীস নং ৪১০২

মুহাম্মদ ইবনে উবায়দা রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তি বলেন প্রায়ই বলতেন, আমার প্রতি আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে আমার পালার দিনে এবং আমার হলকুম ও সিনার মধ্যস্থলে থাকাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকাল হয় এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁর ইন্তিকালের সময় আমার থুথু তাঁর থুথুর সাথে মিশ্রিত করে দেন। এ সময় আবদুর রহমান রা. আমার নিকট প্রবেশ করে এবং তার হাতে মিসওয়াক ছিল।

আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (আমার বুকে) হেলান অবস্থায় রেখেছিলাম। আমি লক্ষ্য করলাম যে, তিনি আবদুর রাহমানের দিকে তাকাচ্ছেন।

আমি অনুভব করতে পারলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াক চাচ্ছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি আপনার জন্য মিসওয়াক আনব?

তিনি তখন মাথার ইশারায় জানালেন যে, হ্যা, আন। তখন আমি মিসওয়াক আনলাম। কিন্তু মিসওয়াক শক্ত ছিল, তাই আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি এটি আপনার জন্য নরম করে দিব? তখন তিনি মাথার ইশারায় হ্যাঁ বললেন। তখন আমি মিসওয়াকটি চিবিয়ে নরম করে দিলাম।

এরপর তিনি মিসওয়াক করলেন। তাঁর সম্মুখে পাত্র অথবা পেয়ালা ছিল (রাবী উমরের সন্দেহ) তাতে পানি ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার স্বীয় হস্তদ্বয় উক্ত পানির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তার দ্বারা তাঁর চেহারা মাসেহ করালেন।

এবং বলছিলেন ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, সত্যিই মৃত্যুযন্ত্রণা কঠিন’। তারপর উভয় হাত উপর দিকে উত্তেলন করে বলছিলেন, আমি ঊর্ধ্বলোকের মহান বন্ধুর সাথে মিলিত হতে চাই। এ অবস্থায় তাঁর ইন্তিকাল হল আর হাত শিথিল হয়ে গেল।

বুখারি হাদিস নং ৪১০৩

হাদীস নং ৪১০৩

ইসমাঈল রহ………….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, যে রোগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন সে অবস্থায় তিনি জিজ্ঞাসা করতেন, আমি আগামীকাল কার ঘরে থাকব।

আগামীকাল কার ঘরে থাকব? এর দ্বারা তিনি আয়েশা রা.-এর ঘরে থাকার পালার প্রতি ইচ্ছা প্রকাশ করতেন। অন্য সহধর্মিণীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যার ঘরে ইচ্ছা সেখানে অবস্থান করার অনুমতি দিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রা.-এর ঘরে অবস্থান করতে থাকেন।

এমনকি তাঁর ঘরেই তিনি ইন্তিকাল করেন। আয়েশা রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য নির্ধারিত পালার দিন আমার ঘরে ইন্তিকাল করেন এবং আল্লাহ তাঁর রূহ কবজ করেন এ অবস্থায় যে, তাঁর মাথা আমার হলকুম ও সীনার মধ্যস্থলে ছিল।

এবং আমার থুথুর সাথে তাঁর থুথু মিশ্রিত হয়ে যায়। তারপর তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রা.-এর হাতে একটি মিসওয়াক ছিল যা দিয়ে সে তার দাঁত মাজছিল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন। আমি তখন তাকে বললাম, হে আবদুল রহমান এই মিসওয়াকটি আমাকে দাও ; তখন সে তা আমাকে দিয়ে দিল।

আমি সেটি চিবিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিলাম। তিনি মিসওয়াকটি দ্বারা দাঁত পরিষ্কার করলেন, আর তিনি তখন আমার বুকে হেলান লাগান অবস্থায় ছিলেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ১১ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪১০৪

হাদীস নং ৪১০৪

সুলাইমান ইবনে হারব রহ…………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পালার দিনে এবং আমার হলকুম ও সীনার মধ্যস্থলে থাকা অবস্থায় ইন্তিকাল করেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অসুস্থ হতেন তখন আমাদের মধ্যকার কেউ দোয়া পড়ে তাকে ঝাড়ফুঁক করতেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঝাড়ফুঁক করার জন্য তাঁর কাছে গেলাম।

তখন তিনি তাঁর মাথা আকাশের দিকে উঠিয়ে বললেন, ঊর্ধ্বলোকের বন্ধুর সাথে (মিলিত হতে চাই), ঊর্ধ্বজগতের মহান বন্ধুর সাথে সাথে (মিলিত হতে চাই)। এ সময় আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রা. আগমন করলেন। তাঁর হাতে মিসওয়াকের একটি তাজা ডাল ছিল।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সেদিকে তাকালেন। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিসওয়াকের প্রয়োজন।

তখন আমি সেটি নিয়ে চিবালাম, ঝেড়ে পরিষ্কার করলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা দিলাম। তখন তিনি এর দ্বারা এত সুন্দরভাবে দাঁত পরিষ্কার করলেন যে, এর আগে কখনও এরূপ করেননি। তারপর তা আমাকে দিলেন।

এরপর তাঁর হাত ঢলে পড়ল অথবা রাবী বলেন তাঁর হাত থেকে ঢলে পড়ল। আল্লাহ তায়ালা আমার থুথুকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর থুথুর সাথে মিলিয়ে দিলেন। দুনিয়ার জীবনের শেষ দিনে এবং আখিরাতের প্রথম দিনে।

বুখারি হাদিস নং ৪১০৫

হাদীস নং ৪১০৫

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর রা. ঘোড়ার উপর সাওয়ার হয়ে তার সুনহের বাড়ি থেকে আগমন করেন।

ঘোড়া থেকে অবতরণ করে তিনি মসজিদে নববীতে প্রবেশ করেন, কিন্তু কারো সঙ্গে কোন কথা না বলে সোজা আয়েশা রা.-এর কাছে উপস্থিত হন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশ্যে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানী চাদর দ্বারা আবৃত ছিলেন।

তখন তিনি চেহারা হতে কাপড় হটিয়ে তাঁর উপর ঝুঁকে পড়েন এবং তাকে চুমু দেন ও কেঁদে ফেললেন। তারপর বললেন, আমার মাতাপিতা আপনার প্রতি কুরবান হোক ! আল্লাহর কসম আল্লাহ তো আপনাকে দু’বার মৃত্যু দিবেন না, যে মৃত্যু ছিল আপনার জন্য নির্ধারিত সে মৃত্যু আপনি গ্রহণ করে নিলেন।

ইমাম যুহরী রহ. বলেন, আমাকে আবু সালামা রা. আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, আবু বকর রা. বের হয়ে আসেন তখন উমর রা. লোকজনের সাথে কথা বলছিলেন।

এ সময় আবু বকর রা. তাকে বলেন, হে উমর রা. বসে পড়। উমর রা. বসতে অস্বীকার করলেন। তখন সাহাবীগণ উমর রা.-কে ছেড়ে আবু বকর রা.-এর প্রতি মনোনিবেশ করলেন।

তখন আবু বকর রা. ভাষণ দিলেন— “এরপর আপনাদের মধ্যে যারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইবাদত করতেন, তিনি তো ইন্তিকাল করেছেন।

আর যারা আপনাদের মধ্যে আল্লাহর ইবাদত করতেন (জেনে রাখুন) আল্লাহ চিরঞ্জীব, চির অমর। মহান আল্লাহ বলেন, “মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন রাসূল মাত্র, তাঁর পুর্বে বহু রাসূত গত হয়েছেন।………কৃতজ্ঞদের পুরস্কৃত করবেন (৩: ১৪৪) ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আল্লাহর কসম, আবু বকর রা.-এর পাঠ করার পূর্বে লোকেরা যেন জানত না যে আল্লাহ তায়ালা এরূপ আয়াত নাযিল করেছেন। এরপর সমস্ত সাহাবী তাঁর থেকে উক্ত আয়াত শিখে নিলেন।

তখন সকলে উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করতে লাগলেন। আমাকে সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব রহ. অবহিত করেন যে, উমর রা. বলেছেন, আল্লাহর কসম, আমি যখন আবু বকর রা.-কে উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করতে শুনলাম, তখন হতভম্ব হয়ে গেলাম, এবং আমার পা দুটি যেন আমাকে আর বহন করতে পারছিল না, আমি জমীনের উপর পড়ে গেলাম।

যখন আমি শুনতে পেলাম যে, তিনি তিলাওয়াত করছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৪১০৬

হাদীস নং ৪১০৬

আবদুল্লাহ ইবনে আবু শায়বা রহ…………..আয়েশা ও ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, আবু বকর রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর তাকে চুমু দেন।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ১১ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪১০৭

হাদীস নং ৪১০৭

আলী (ইবনে মাদিনী) রহ. বলেন, আমার কাছে ইয়াহইয়া রহ. এতদ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন……….আয়েশা রা. বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগাক্রান্ত অবস্থায় তাঁর মুখে ঔষধ ঢেলে দিলাম।

তিনি ইশারায় আমাদেরকে তাঁর মুখে ঔষধ ঢালতে নিষেধ করলেন। আমরা বললাম, এটা ঔষধের প্রতি রোগীর সাধারণ বিরক্তি ভাবে (তাই নিষেধ মানলাম না)। যখন তিনি সুস্থবোধ করলেন তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদের ওষুধ সেবন করাতে নিষেধ করিনি?

আমরা বললাম, আমরা মনে করেছিলাম এটা ঔষধের প্রতি রোগীর সাধারণ বিরক্তিভাব। তখন তিনি বললেন, আব্বাস ব্যতীত বাড়ির প্রত্যেকের মুখে ঔষধ ঢালা তা আমি দেখি।

কেননা সে তোমাদের মাঝে উপস্থিত নেই। এ হাদীস ইবনে আবু যিনাদ……….আয়েশা রা. থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।

বুখারি হাদিস নং ৪১০৮

হাদীস নং ৪১০৮

আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি বলেন, আয়িশা (রাঃ) এর কাছে উল্লেখ করা হল যে, রাসূল ﷺ আলী (রাঃ)-কে ওসীয়াত করে গেছেন।

তখন তিনি বললেন, একথা কে বলেছে? আমার বুকের সাথে হেলান দেওয়া অবস্থায় আমি রাসূল ﷺ কে দেখেছি। তিনি একটি চিলিমচি আনতে বললেন, তাতে থুথু ফেললেন এবং ইন্তেকাল করলেন। অতএব আমি বুঝতে পারছি না তিনি কিভাবে আলী (রাঃ)- কে ওসীয়াত করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৪১০৯

হাদীস নং ৪১০৯

আবু নুআইম রহ………….তালহা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ওসীয়াত করে গেছেন?

তিনি বললেন, না। তখন আমি বললাম, তাহলে কেমন করে মানুষের জন্য ওসীয়াত লিপিবদ্ধ করা হল অথবা কিভাবে এর নির্দেশ দেয়া হল? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন সম্পর্কে ওসীয়াত করে গেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৪১১০

হাদীস নং ৪১১০

কুতাইবা রহ………….আমর ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দীনার, দিরহাম, গোলাম ও বাঁদি রেখে যাননি।

কেবলমাত্র মাদা উষ্ট্রীটি যার উপর তিনি আরোহণ করতেন এবং তাঁর যুদ্ধাস্ত্র আর একখণ্ড (খায়বর ও ফদাকের) জমীন যা মুসাফিরদের জন্য দান করে গেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৪১১১

হাদীস নং ৪১১১

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ প্রকট রূপ ধারণ করে তখন তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়েন।

এ অবস্থায় ফাতিমা রা. বললেন, উহ ! আমার পিতার উপর কত কষ্ট ! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আজকের পরে তোমার পিতার উপর আর কোন কষ্ট নেই। যখন তিনি ইন্তিকাল করলেন তখন ফাতিমা রা. বললেন, হায় ! আমার পিতা ! রবের ডাকে সাড়া দিয়েছেন।

হায় আমার পিতা ! জান্নাতুল ফিরদাউসে তাঁর বাসস্থান ! হায় পিতা জিবরাঈল আ.-কে তাঁর ইন্তিকালে খবর পরিবেশন করছি।

যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সমাহিত করা হল, তখন ফাতিমা রা. বললেন, হে আনাস! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাটি চাপা দিতে কি করে তোমাদের প্রাণ সায় দিল।

বুখারি হাদিস নং ৪১১২ – নবী (সা.) সবশেষে যে কথা বলেছেন।

হাদীস নং ৪১১২ – নবী (সা.) সবশেষে যে কথা বলেছেন।

বিশর ইবনে মুহাম্মদ রহ…………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্থ থাকাকালীন বলতেন, কোন নবীর ওফাত হয়নি যতক্ষণ না তাকে জান্নাতে তাঁর ঠিকানা দেখানো হয়।

তারপর তাকে ইখতিয়ার প্রদান করা হয় (দুনিয়া বা আখিরাত গ্রহণের) যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ বৃদ্ধি পেল তখন তাঁর মাথা আমার উরুর উপর ছিল এ সময় তিনি মূর্ছা যান।

তারপর আবার হুশ ফিরে এলে, ছাদের দিকে তিনি দৃষ্টি উত্তোলন করেন। তারপর বলেন, হে আল্লাহ আমাকে ঊর্ধ্বজগতের মহান বন্ধুর (সান্নিধ্য দান করুন)। তখন আমি বললাম, তাহলে তো তিনি আর আমাদের মাঝে থাকতে চাচ্ছেন না।

আমি বুঝতে পারলাম যে, এটা ঐ কথা যা তিনি সুস্থাবস্থায় আমাদের কাছে বর্ণনা করতেন। আয়েশা রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেষ কথা যা তিনি উচ্চারণ করেছিলেন তাহল ‘ হে আল্লাহ ! ঊর্ধ্বলোকের বন্ধুর সাথে আমাকে মিলিত করুন’।

বুখারি হাদিস নং ৪১১৩ – নবী (সা.)-এর ওফাত।

হাদীস নং ৪১১৩ – নবী (সা.)-এর ওফাত।

আবু নুআইম রহ…………..আয়েশা ও ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নুযুলে কুরআনের দশ বছর মক্কায় বসবাস করেছেন এবং মদীনাতেও দশ বছর কাটান।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ১১ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪১১৪

হাদীস নং ৪১১৪

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তেষট্টি বছর বয়সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হয়। ইবনে শিহাব যুহরী বহ. বলেন, আমাকে সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব এরূপই অবহিত করেন।

বুখারি হাদিস নং ৪১১৫ – পরিচ্ছেদ ২২৫০

হাদীস নং ৪১১৫ – পরিচ্ছেদ ২২৫০

কাবীসা রহ…………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন এমন অবস্থায় যে, তাঁর বর্ম (যুদ্ধাস্ত্র) ইহুদীর কাছে ত্রিশ সা’ যবের বিনিময়ে বন্ধক রাখা ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৪১১৬ – নবী (সা.)-এর মৃত্যু-রোগে আক্রান্ত অবস্থায় উসামা ইবনে যায়েদ রা.-কে যুদ্ধাভিযানে প্রেরণ।

হাদীস নং ৪১১৬ – নবী (সা.)-এর মৃত্যু-রোগে আক্রান্ত অবস্থায় উসামা ইবনে যায়েদ রা.-কে যুদ্ধাভিযানে প্রেরণ।

আবু আসিম যাহহাক ইবনে মাখলাদ রহ…………আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামা ইবনে যায়েদ রা.-কে (একটি যুদ্ধের আমীর) নিযুক্ত করেন।

এতে সাহাবীগণ (নিজেদের মধ্যে) সমালোচনা করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি জানতে পেরেছি যে, তোমরা উসামার আমীর নিযুক্তি সম্পর্কে সমালোচনা করছো, অথচ সে আমার নিকট প্রিয়তম লোক।

বুখারি হাদিস নং ৪১১৭

হাদীস নং ৪১১৭

ইসমাঈল রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সেনাদল প্রেরণ করেন এবং উসামা ইবনে যায়েদ রা.-কে তাদের আমির নিযুক্ত করেন।

তখন সাহাবীগণ নেতৃত্বের সমালোচনা করতে থাকেন। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং বললেন, তোমরা আজ তার নেতৃত্বের সমালোচনা করছ, এভাবে তোমরা তাঁর পিতা (যায়েদ)-এর নেতৃত্বের প্রতিও সমালোচনা করতে।

আল্লাহর কসমসে (যায়েদ) ছিল নেতৃত্বের জন্য যোগ্য ব্যক্তি এবং আর সে আমার কাছে লোকদের মধ্যে প্রিয়তম ব্যক্তি। আর এ (উসামা) তার পিতার পর লোকদের মধ্যে আমার কাছে প্রিয়তম ব্যক্তি।

বুখারি হাদিস নং ৪১১৮ – পরিচ্ছেদ ২২৫২

হাদীস নং ৪১১৮ – পরিচ্ছেদ ২২৫২

আসবাগ রহ…………সুনাবিহী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাকে কেউ জিজ্ঞাসা করেন আপনি কখন হিজরত করেছেন? তিনি বলেন, আমরা ইয়ামান থেকে হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হয়ে জুহফাতে পৌঁছি।

তখন একজন অশ্বরোহীকে পেয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, খবর কি খবর কি? তিনি বললেন, পাঁচদিন অতিবাহিত হল আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সমাহিত করেছি।

তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কি শবেকদর সম্পর্কে কিছু শুনেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুয়াযযিন বিলাল রা. আমাকে জানিয়েছেন যে, তা রমযানের শেষ দশ দিনে সপ্তম দিনে রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৪১১৯ – নবী (সা.) কতটি যুদ্ধ করেছেন।

হাদীস নং ৪১১৯ – নবী (সা.) কতটি যুদ্ধ করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবনে রাজা রহ………….আবু ইসহাক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যায়েদ ইবনে আরকাম রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কতটি যুদ্ধ করেছেন ?

তিনি বলেন, সতেরটি। আমি বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতটি যুদ্ধ করেছেন? তিনি বললেন, উনিশটি।

যুদ্ধাভিযান পার্ট ১১ (অবশিষ্ট অংশ) । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪১২০

হাদীস নং ৪১২০

আবদুল্লাহ ইবনে রাজা রহ………….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে পনেরটি যুদ্ধ করেছি।

বুখারি হাদিস নং ৪১২১

হাদীস নং ৪১২১

আহমদ ইবনে হাসান রহ………….বুরাইদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ষোলটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

শর্তাবলী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

সন্ধি অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

শাহাদাত অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

শাহাদাত অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

ইসলামের ইতিহাস

মন্তব্য করুন