যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড

Table of Contents

যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী ৩য় খণ্ড

যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড
যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৩৬৯ – যার উপর বিনতে মাখায যাকাত দেওয়া ওয়াজিব হয়েছে অথচ তার কাছে তা নেই।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর রা. তাঁর কাছে আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যাকাত সম্পর্কে যে বিধান দিয়েছেন তা লিখে পাঠান : যে ব্যক্তির উপর উটের যাকাত হিসাবে জাযা’আ ফরয হয়েছে, অথচ তার কাছে জাযা’আ নেই বরং তার নিকট হিক্কা রয়েছে, তখন হিক্কা গ্রহণ করা হবে । এর সাথে সম্ভব হলে (পরিপূর্ণরূপে) দুটি বকরী দিবে, অথবা বিশটি দিরহাম দিবে। আর যার উপর যাকাত হিসেবে হিক্কা ফরয হয়েছে, অথচ তার কাছে হিক্কা নেই বরং জাযা’আ রয়েছে, তখন তার থেকে জাযা’আ গ্রহণ করা হবে। আর যাকাত উসুলকারী (ক্ষতিপূরণ স্বরূপ) মালিককে বিশটি দিরহাম বা দুটি বকরী দিবে। যার উপর হিক্কা ফরয হয়েছে, অথচ তার নিকট বিনতে লাবূন রয়েছে, তখন বিনতে লাবূনই গ্রহণ করা হবে। তবে মালিক দুটি বকরী বা বিশটি দিরহাম দিবে। আর যার উপর বিনতে লাবূন ফরয হয়েছে, কিন্তু তার কাছে হিক্কা রয়েছে, তখন তার থেকে হিক্কা গ্রহণ করা হবে এবং আদায়কারী মালিককে বিশটি দিরহাম বা দুটি বকরী দিবে। আর যার উপর বিনতে লাবূন ফরয হয়েছে কিন্তু তার নিকট তা নেই বরং বিনতে মাখায রয়েছে, তবে তাই গ্রহণ করা হবে, অবশ্য মালিক বিশটি দিরহাম বা দুটি বকরী দিবে।

বুখারি হাদিস নং ১৩১৩ – যাকাত ওয়াজিব হওয়া।

আবু আসিম যাহহাক ইবনে মাখলাদ রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয রা.কে (শাসকরূপে) ইয়ামান অভিমুখে প্রেরণ কালে বলেন, সেখানের অধিবাসীদের কে আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং আমি (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল- এ কথার সাক্ষ্যদানের দাওয়াত দিবে। যদি তারা এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দিবে, আল্লাহ তাদের উপর প্রতিদিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। তারা যদি এ কথা মেনে নেয়, তবে তাদেরকে জানিয়ে দিবে, আল্লাহ তাদের সম্পদের উপর সাদকা (যাকাত) ফরয করেছেন। তাদের মধ্যকার (নেসাব পরিমাণ) সম্পদশালীদের নিকট থেকে (যাকাত) উসুল করে তাদের দরিদ্রদের বিতরণ করে দেওয়া হবে।

হাদীস নং ১৩১৪

হাফস ইবনে উমর রহ……….আবু আইয়্যূব রা. থেকে বর্ণিত যে, এক সাহাবী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলল, আমাকে এমন আমল বলে দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিনি বললেন, তার কি হয়েছে, তার কি হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তার প্রয়োজন রয়েছে তো। তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবে না, সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে। (ইমাম বুখারী রহ. বলেন) বাহয রহ. শুবা রহ.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, মুহাম্মদ ইবনে উসমান ও তাঁর পিতা উসমান ইবনে আবদুল্লাহ উভয়ে মূসা ইবনে তালহা রা. আবু আইয়্যূব রা. সুত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি অনুরূপ বর্ণনা করেন। আবু আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী রহ. বলেন, (শুবা রহ. রাবীর নাম বলতে ভুল করেছেন) আমার আশংকা হয় যে, মুহাম্মদ ইবনে উসমান -এর উল্লেখ সঠিক নয়, এবং এখানে রাবীর নাম হবে আমর ইবনে উসমান।

হাদীস নং ১৩১৫

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাহীম রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, এক মরুবাসী সাহাবী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এ দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন, আমাকে এমন আমলের পথনির্দেশ করুন যা আমল করলে জান্নাতে প্রবেশ করতে পরব। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবে না, (পাঁচ ওয়াক্ত) ফরয সালাত আদায় করবে, ফরয যাকাত আদায় করবে ও রমযানের সাওম পালন করবে। সাহাবী বললেন, আমার প্রাণ যার হাতে তাঁর কসম, আমি এর উপর বৃদ্ধি করব না। তিনি যখন ফিরে গেলেন তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : কেউ যদি জান্নাতী লোক দেখতে আগ্রহী হয় সে যেন তার দিকে তাকিয়ে দেখে।

হাদীস নং ১৩১৬

মুসাদ্দাদ রহ……….আবু যুরআ রহ.-এর মাধ্যমে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

হাদীস নং ১৩১৭

হাজ্জাজ ইবনে মিনহার রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরয করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা রাবীআ গোত্রের লোক, আমাদের ও আপনার (মদীনার) মাঝে মুযার গোত্রের কাফিররা প্রতিবন্ধক হয়ে রয়েছে। আমরা আপনার নিকট কেবল নিষিদ্ধ মাস (যুদ্ধ বিরতির মাস) ব্যতীত নির্বিঘ্নে আসতে পানি না। কাজেই এমন কিছু আমলের নির্দেশ দিন যা আমরা আপনার নিকট থেকে শিখে (আমাদের গোত্রের) অনুপস্থিতদের কে সেদিকে দাওয়াত দিতে পারি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমাদেরকে চারটি বিষয়ের আদেশ করছি ও চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি। (পালনীয় বিষয়গুলো হল: ) আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা তথা সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। (রাবী বলেন) এ কথা বলার সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )একক নির্দেশক) তাঁর হাতের অঙ্গুলী বন্ধ করেন, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা ও তোমরা গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ আদায় কবে এবং আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি যে,( الدباء) শুস্ক কদু খোলস,( الحنتم) সবুজ রং প্রলেপযুক্ত পাত্র,( النقير) খেজুর কাণ্ড নির্মিত পাত্র,( المزفت) তৈলজ পদার্থ প্রলেপযুক্ত মাটির পাত্র ব্যবহার করতে। সুলাইমান ও আবু নুমান রহ. হাম্মাদ রহ. থেকে বর্ণিত হাদীসে الإيمان بالله شهادة أن لا إله إلا الله এরূপ বর্ণনা করেছেন واو ব্যতীত।

যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড
যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড

হাদীস নং ১৩১৮

আবুল ইয়ামান হাকাম ইবনে নাফি রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিন বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর, আবু বকর রা. -এর খিলাফতকালে আরবের কিছু সংখ্যক লোক মুরতাদ হয়ে যায়। তখন উমর রা.(আবু বকর রা. -কে লক্ষ্য বললেন, আপনি (সে সব) লোকদের বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করবেন (যারা সম্পূর্ণ ধর্ম ত্যাগ করেনি বরং যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছেন মাত্র) ? অথচ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন বলার لا إله إلا الله বলার পূর্ব পর্যন্ত মানুষের বিরদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ আমাকে দেওয়া হয়েছে, যে কেউ তা বলল, সে তার সম্পদ ও জীবন আমার পক্ষ থেকে নিরাপদ করে নিল। তবে ইসলামের বিধান লঙ্ঘন করলে (শাস্তি দেওয়া যাবে), আর তার অন্তরের গভীরে (হৃদয়াভ্যন্তরে কুফরী বা পা লুকানো থাকলে এর হিসাব-নিকাশ আল্লাহর জিম্মায়। আবু বকর রা. বললেন, আল্লাহর কসম! তাদের বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই আমি যুদ্ধ করব যারে সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, কেননা যাকাত হল সম্পদের উপর আরোপিত হক। আল্লাহর কসম ! যদি তার একটি মেষ শাবক যাকাত দিতেও অস্বীকার করে যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে তারা দিত, তাহলে যাকাত না দেওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আমি অবশ্যই যুদ্ধ করব। উমর রা. বলেন, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আবু বকর রা. -এর হৃদয় বিশেষ জ্ঞানালোকে উদ্ভাসিত করেছেন বিধায় তাঁর এ দৃঢ়তা, এতে আমি বুঝতে পারলাম তাঁর সিদ্ধান্তই যথার্থ।

হাদীস নং ১৩১৯

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর রহ………জারীর ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট সালাত কায়েম করা, যাকাত দেয়া ও সকল মুসলমানের কল্যাণ করার উপর বায়আত করি।

বুখারি হাদিস নং ১৩২০ – যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারীর গুনাহ।

আবুল ইয়ামান হাকাম ইবনে নাফি রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের উটের (উপর দরিদ্র, বঞ্চিত, মুসাফিরের) হক আদায় না করবে, (কিয়ামত দিবসে) সে উট দুনিয়া অপেক্ষ অধিক শক্তিশালী হয়ে খুর দিয়ে আপন মালিককে পিষ্ট করতে আসবে এবং যে ব্যক্তি নিজের বকরীর হক আদায় না করবে, সে বকরী দুনিয়া অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হয়ে এসে মালিককে খুর দিয়ে পদদলিত করবে ও শিং দিয়ে আঘাত করবে। উট ও বকরীর হক হল পানির নিকট (জনসমাগম স্থলে) ওদের দোহন করা (ও দরিদ্র বঞ্চিতদের মধ্যে দুধ বন্টন করা)। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন : তোমাদের কেউ যেন কিয়ামত দিবসে (হক অনাদায়জনিত কারণে শাস্তিস্বরূপ) কাঁধের উপর চিৎকার রত বকরী বহন করে (আমার নিকট) না আসে এবং বলেন, হে মুহাম্মদ ! (আমাকে রক্ষা করুন) । তখন আমি বলব : তোমাকে রক্ষা করার ব্যাপারে আমার কোন ক্ষমতা নেই। আমি তো (হক অনাদায়ের পরিণতির কথা) পৌঁছে দিয়েছি। আর কেউ যেন চিৎকার রত উট কাঁধের উপর বহন করে এসে না বলে, হে মুহাম্মদ ! (আমাকে রক্ষা করুন)। তখন আমি বলব : তোমাকে রক্ষা করার ব্যাপারে আমার কোন ক্ষমতা নেই। আমি তো (শেষ পরিণতির কথা) পৌঁছে দিয়েছি।

হাদীস নং ১৩২১

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন, কিন্তু সে এর যাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে (বিষের তীব্রতার কারণে) টেকো মাথা বিশিষ্ট বিষধর সাপের আকৃতি দান করে তার গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হবে। সাপটি তার মুখের দু’পার্শ্ব কামড়ে ধরে বলবে, আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার জমাকৃত মাল। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করেন : “আল্লাহ যাদেরকে সম্পদশালী করেছেন অথচ তার সে সম্পদ নিয়ে কার্পণ্য করছে, তাদের ধারণা করা উচিত নয় যে, সেই সম্পদ তাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে, বরং উহা তাদের জন্য অকল্যাণকর হবে। অচিরেই কিয়ামত দিবসে, যা নিয়ে কার্পণ্য করছে তা দিয়ে তাদের গলদেশ শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হবে”।(৩ : ১৮০)

বুখারি হাদিস নং ১৩২২ – যে সম্পদের যাকাত আদায় করা হয় তা কানয (জমাকৃত সম্পদ)-এর অন্তর্ভূক্ত নয়, পাঁচ উকিয়া-এর কম পরিমাণ সম্পদের উপর যাকাত নেই।

আহমদ ইবনে শাবীব ইবনে সাঈদ রহ……..খালিদ ইবনে আসলাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর সাথে বের হলাম। এক মরু বাসী তাকে বলল, আল্লাহ তা’আলার বাণী : “যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে-এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। ইবনে উমর রা. বললেন, যে ব্যক্তি সম্পদ জমা করে রাখে আর এর যাকাত আদায় করে না, তার জন্য রয়েছে শাস্তি-এ তো ছিল যাকাত বিধান অবতীর্ণ হওয়ার আগের কথা। এরপর যখন যাকাত বিধান অবতীর্ণ হল তখন একে আল্লাহ সম্পদের পবিত্রতা লাভের উপায় কারে দিলেন।

হাদীস নং ১৩২৩

ইসহাক ইবনে ইয়াযীদ রহ………..আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পাঁচ উকিয়া পরিমাণের কম সম্পদের উপর যাকাত নেই এবং পাঁচ উটের কমের উপর যাকাত নেই। পাঁচ ওসাকের কম উৎপন্ন দ্রব্যের উপর যাকাত নেই।

হাদীস নং ১৩২৪

আলী ইবনে আবু হাশিম রহ……….যায়েদ ইবনে ওহব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাবাযা নামক স্থান দিয়ে চলার পথে আবু যার রা. -এর সাথে আমার সাক্ষাত হল। আমি তাকে বললাম, আপনি এখানে কি কারণে আসলেন ? তিনি বললেন, আমি সিরিয়ার অবস্থানকালে নিম্নোক্ত আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে মুআবিয়া রা.-এর সাথে আমার মতানৈক্য হল : “যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে এবং আল্লাহর রাস্তায় তা ব্যয় করে না……..”। মুআবিয়া রা. বলেন, এ আয়াত কেবল আহলে কিতাবদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আমি বললাম আমাদের ও তাদের সকলের সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়েছে। এ নিয়ে আমাদের উভয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এক সময় মু’আবিয়া রা. উসমান রা.-এর নিকট আমার নামে অভিযোগ করে পত্র পাঠালেন। তিনি পত্রযোগে আমাকে মদীনায় ডেকে পাঠান। মদীনায় পৌঁছলে আমাকে দেখতে লোকেরা এত ভিড় করল যে, এর পূর্বে যেন তারা কখনো আমাকে দেখিনি। উসমান রা.-এর নিকট ঘটনা বিবৃত করলে তিনি আমাকে বললেন, ইচ্ছা করলে আপনি মদীনার বাইরে নিকটে কোথাও থাকতে পারেন। এ হল আমার এ স্থানে অবস্থানের কারণ। খলীফা যদি কোন হাবশী লোককেও আমার উপর কর্তৃত্ব প্রদান করেন তবুও আমি তাঁর কথা শুনব এবং আনুগত্য করব।

হাদীস নং ১৩২৫

আয়্যাশ ও ইসহাক ইবনে মানসুর রহ……..আহনাফ ইবনে কায়স রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি কুরাইশ গোত্রীয় একদল লোকের সাথে বসেছিলাম, এমন সময় রুক্ষ্ম চুল, মোটা কাপড় ও খসখসে শরীর বিশিষ্ট এক ব্যক্তি তাদের নিকট এসে সালাম দিয়ে বলল, যারা সম্পদ জমা করে রাখে তাদেরকে এমন গরম পাথরের সংবাদ দাও, যা তাদেরকে শাস্তি প্রদানের জন্য জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হচ্ছে। তা তাদের স্তনের বোঁটার উপর স্থাপন করা হবে আর তা কাঁধের পেশী ভেদ করে বের হবে এবং কাঁধের উপর স্থাপন করা হবে, তা নড়াচড়া করে সজোরে স্তনের বোঁটা ছেদ করে বের হবে। এরপর লোকটি ফিরে গিয়ে একটি স্তম্ভের পাশে বসল। আমিও তাঁর অনুগমন বক্তব্য লোকেরা পছন্দ করেনি। তিনি বললেন, তারা কিছুই বুঝে না। কথাটি আমাকে আমার বন্ধু বলেছেন। রাবী বলেন, আমি বললাম, আপনার বন্ধু কে ? সে বলল, তিনি হলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন) হে আবু যার ! তুমি কি উহুদ পাহাড় দেখেছ ? তিনি বলেন, তখন আমি সূর্যের দিকে তাকিয়ে দেখলাম দিনের কতটুকু অংশ বাকি রয়েছে। আমার ধারণা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন প্রয়োজনে আমাকে পাঠাবেন। আমি জওয়াবে বললাম, জী-হ্যাঁ। তিনি বললেন : তিনটি দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) ব্যতীত উহুদ পাহাড় সমান স্বর্ণ স্তূপ আমার কাছে আসুক আর আমি সেগুলো দান করে দেই তাও আমি নিজের জন্য পছন্দ করি না। (আবু যার রা. বলেন) তারা তো বুঝে না, তারা শুধু দুনিয়ার সম্পদই একত্রিত করছে। আল্লাহর কসম, না ! না ! আমি তাদের নিকট দুনিয়ার কোন সম্পদ চাই না এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করা পর্যন্ত দীন সম্পর্কেও তাদের নিকট কিছু জিজ্ঞাসা করব না।

বুখারি হাদিস নং ১৩২৬ – সম্পদ যথাস্থানে ব্যয় করা।

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্ন রহ………ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কেবল মাত্র দু’ধরনের ব্যক্তির প্রতি ঈর্ষা রাখা যেতে পারে, একজন এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং ন্যায় পথে তা ব্যয় করার মত ক্ষমতাবান বানিয়েছেন। অপরজন এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ দীনের জ্ঞান দান করেছেন সে অনুযায়ী ফয়সালা দেন ও অন্যদেরকে তা শিক্ষা দেন।

বুখারি হাদিস নং ১৩২৭ – হালাল উপার্জন থেকে সাদকা করা।

আবদুল্লাহ ইবনে মুনীর রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি হালাল উপার্জন থেকে একটি খেজুর পরিমাণ সাদকা করবে, (আল্লাহ তা কবুল করবেন) এবং আল্লাহ কেবল পবিত্র মাল কবুল করেন আর আল্লাহ তাঁর কুদরতী ডান হাত দিয়ে তা কবুল করেন। এরপর আল্লাহ দাতার কল্যাণার্থে তা প্রতিপালন করেন যেমন তোমাদের কেউ অশ্ব শাবক প্রতিপালন করে থাকে, অবশেষে সেই সাদকা পাহাড় বরাবর হয়ে যায়। সুলাইমান রহ. ইবনে দীনার রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় আবদুর রহমান রহ. এর অনুসরণ করেছেন এবং ওয়ারকা রহ……..আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং মুসলিম ইবনে আবু মারয়াম, যায়েদ ইবনে আসলাম ও সুহাইল রহ. আবু সালিহ রহ.-এর মাধ্যমে আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি বর্ণনা করেন।

বুখারি হাদিস নং ১৩২৮ – ফেরত দেওয়ার পূর্বেই সাদকা করা।

আদম রহ……..হারিসা ইবনে ওহব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমরা সাদকা কর, কেননা তোমাদের উপর এমন যুগ আসবে যখন মানুষ আপন সাদকা নিয়ে ঘুরে বেড়াবে কিন্তু তা গ্রহণ করার মত কাউকে পাবে না। (যাকে দাতা দেওয়ার ইচ্ছা করবে সে) লোকটি বলবে, গতকাল পর্যন্ত নিয়ে আসলে আমি গ্রহণ করতাম। আজ আমার কোন প্রয়োজন নেই।

হাদীস নং ১৩২৯

আবুল ইয়ামান রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমাদের মধ্যে সম্পদ বৃদ্ধি পেয়ে উপচে না পড়বে, এমনকি সম্পদের মালিকগণ তা সাদকা কে গ্রহণ করবে তা নিয়ে চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়বে। যাকেই দান করতে চাইবে সে-ই বলবে, প্রয়োজন নেই।

হাদীস নং ১৩৩০

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………আদী ইবনে হাতিম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-এর কাছে ছিলাম, এমন সময় দু’ জন সাহাবী আসলেন, তাদের একজন দারিদ্র্যের অভিযোগ করছিলেন আর অপরজন রাহাজানির অভিযোগ করছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন বললেন : রাহাজানির অবস্থা এই যে, কিছু দিন পর এমন সময় আসবে যখন কাফেলা মক্কা পর্যন্ত বিনা পাহারায় পৌছে যাবে। আর দারিদ্র্যের অবস্থা এই যে, তোমাদের কেউ সাদকা নিয়ে ঘুরাফেরা করবে, কিন্তু তা গ্রহণ করার মত কাউকে পাবে না। এমন সময় না আসা পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না। তারপর (বিচার দিবসে) আল্লাহর নিকট তোমাদের কেউ এমনভাবে খাড়া হবে যে, তার ও আল্লাহর মাঝে কোন আড়াল থাকবে না বা কোন ব্যাখ্যাকারী দোভাষীও থাকবে না। এরপর তিনি বলবেন, আমি কি তোমার নিকট রাসূল প্রেরণ করিনি ? সে অবশ্যই বলবে হ্যাঁ, তখন সে ব্যক্তি যান দিকে তাকিয়ে শুধু আগুন দেখতে পাবে, তেমনিভাবে বাম দিকে তাকিয়েও আগুন দেখতে পাবে। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকের উচিত এক টুকরা খেজুর (সাদকা) দিয়ে হলেও যেন আগুন থেকে আত্মরক্ষা করে। যদি কেউ তা না পায় তবে যেন উত্তম কথা দিয়ে হলেও।

হাদীস নং ১৩৩১

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ………আবু মূসা (আশআরী) রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মানুষের উপর অবশ্যই এমন এক সময় আসবে যখন লোকেরা সাদকার সোনা নিয়ে ঘুরে বেড়াবে কিন্তু একজন গ্রহীতা ও পাবে না । পুরুষের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় এবং নারীর সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে চল্লিশজন নারী একজন পুরুষের অনুগমন করবে এবং তার আশ্রয়ে আশ্রিতা হবে।

বুখারি হাদিস নং ১৩৩২ – জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষা কর, এক টুকরা খেজুর অথবা সামান্য কিছু সাদকা করে হলেও।

আবু কুদামা উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ রহ………আবু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন সাদকার আয়াত অবতীর্ণ হল তখন আমরা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বোঝা বহন করতাম। এক ব্যক্তি এসে প্রচুর মাল সাদকা করল। তারা (মুনাফিকরা) বলতে লাগল, এ ব্যক্তি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে দান করেছে, আর এক ব্যক্তি এসে এক সা’ পরিমান দান করলে তারা বলল, আল্লাহ তো এ ব্যক্তির এক সা’ থেকে অমুখাপেক্ষী। এ প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয় : “মুমিনগণের মধ্যে যার নিজ ইচ্ছায় সাদকা দেয় এবং যারা নিজ শ্রম ব্যতিরেকে কিছুই পায় না তাদেরকে যারা দোষারোপ করে……….। (৯ : ৭৯)

হাদীস নং ১৩৩৩

সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া রহ………..আবু মাসউদ আনাসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাদকা করতে আদেশ করলেন তখন আমাদের কেউ বাজারে গিয়ে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বোঝা বহন করে মুদ পরিমাণ অর্জন করত (এবং তা থেকেই সাদকা করত) অথচ আজ তাদের কেউ লাখপতি।

হাদীস নং ১৩৩৪

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..আদী ইবনে হাতিম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমরা জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষা কর এক টুকরা খেজুর সাদকা করে হলেও।

হাদীস নং ১৩৩৫

বিশর ইবনে মুহাম্মদ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ভিখারিণী দুটি শিশু কন্যা সংগে করে আমার নিকট এসে কিছু চাইল। আমার নিকট একটি খেজুর ব্যতীত অন্য কিছু ছিলনা। আমি তাকে তা দিলাম। সে নিজে না খেয়ে খেজুরটি দু’ ভাগ করে কন্যা দুটিকে দিয়ে দিল। এরপর ভিখারিণী বেরিয়ে চলে গেলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন। তাঁর নিকট ঘটনা বিবৃত করলে তিনি বললেন, যাকে এরূপ কন্যা সন্তানের ব্যাপারে কোনরূপ পরীক্ষা করা হয় তবে সে কন্যা সন্তান তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে পর্দা হয়ে দাঁড়াবে।

বুখারি হাদিস নং ১৩৩৬ – সুস্থ কৃপণের সাদকা দেওয়ার ফজিলত।

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সাহাবী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! কোন সাদকার সওয়াব বেশী পাওয়া যায় ? তিনি বললেন : কৃপণ অবস্থায় তোমার সাদকা করা যখন তুমি দারিদ্যর আশংকা করবে ও ধনী হওয়ার আশা রাখবে। সাদকা করতে দেরি করবে না। অবশেষে যখন প্রাণবায়ু কন্ঠাগত হবে আর তুমি বলতে থাকবে, অমুকের জন্য এতটুকু, অমুকের জন্য একটুকু, অথচ তা অমুকের জন্য হয়ে যাচ্ছে।

বুখারি হাদিস নং ১৩৩৭ – পরিচ্ছেদ ৮৯৩

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, কোন নবী-সহধর্মিণী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আমাদের মধ্য থেকে সবার আগে (মৃত্যুর পর) আপনার সাথে কে মিলিত হবে ? তিনি বললেন : তোমাদের মধ্যে যার হাত দীর্ঘতর। তাঁরা একটি বাঁশের কাঠির সাহায্যে হাত মেপে দেখতে লাগলেন। সাওদার হাত সকলের হাতের চেয়ে দীর্ঘতর বলে প্রমাণিত হল। পরে আমরা অনুধাবন করতে পারলাম যে, সাদকার আধিক্য তাঁর হাত দীর্ঘ করে দিয়েছিল। আমাদের মাঝে তিনিই সবার আগে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মিলিত হন। তিনি সাদকা করা ভালবাসতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৩৩৮ – সাদকাদাতা অজান্তে (ফকীর মনে করে) কোন ধনী ব্যক্তিকে সাদকা দিলে।

আবুল ইয়ামান রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : (পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্যে) এক ব্যক্তি বলল, আমি কিছু সাদকা করব। সাদকা নিয়ে বের হয়ে (ভুলে) সে এক চোরের হাতে তা দিয়ে দিল। সকালে লোকেরা বলাবলি করতে লাগল, চোরকে সাদকা দেওয়া হয়েছে। এতে সে বলল, হে আল্লাহ ! সকল প্রশংসা আপনারই, আমি অবশ্যই সাদকা করব। সাদকা নিয়ে বের হয়ে তা এক ব্যভিচারিণীর হাতে দিল। সকালে লোকেরা বলাবলি করতে লাগল, রাতে এক ব্যভিচারিণীর হাতে সাদকা দেওয়া হয়েছে। লোকটি বলল, হে আল্লাহ ! সকল প্রশংসা আপনারই, (আমার সাদকা) ব্যভিচারিণী হাতে পৌঁছল। আমি অবশ্যই সাদকা করব। এরপর সে সাদকা নিয়ে বের হয়ে কোন এক ধনী ব্যক্তির হাতে দিল। সকালে লোকেরা বলতে লাগল, ধনী ব্যক্তিকে সাদকা দেওয়া হয়েছে। লোকটি বলল, হে আল্লাহ ! সকল প্রশংসা আপনারই, (আমার সাদকা) চোর, ব্যভিচারিণী ও ধনী ব্যক্তির হাতে গিয়ে পড়লো ! পরে স্বপ্নযোগে তাকে বলা হল, তোমারা সাদকা চোর পেয়েছে, সম্ভবত সে চুরি করা হতে বিরত থাকবে, তোমার সাদকা ব্যভিচারিণী পেয়েছে সম্ভবত এজন্য যে, সে তার ব্যভিচার থেকে পবিত্র থাকবে আর ধনী ব্যক্তি তোমার সাদকা পেয়েছে, সম্ভবত সে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং আল্লাহর দেওয়া সম্পদ থেকে সাদকা করবে।

বুখারি হাদিস নং ১৩৩৯ – অজান্তে কেউ তার পুত্রকে সাদকা দিলে।

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ……..মা’ন ইবনে ইয়াযীদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতা (ইয়াযীদ) ও আমার দাদা (আখনাস) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বায়আত হলেন। তিনি আমার বিবাহের প্রস্তাব করেন এবং আমার বিবাহ সম্পন্ন করে দেন। আমি তাঁর কাছে (একটি বিষয়ে) বিচার প্রার্থী হই। তা হল, একদা আমার পিতা ইয়াযীদ কিছু স্বর্ণমুদ্রা সাদকা করার নিয়্যাতে মসজিদে এক ব্যক্তির নিকট রেখে (তাকে তা বিতরণ করার সাধারণ অনুমতি দিয়ে) আসেন। আমি সে ব্যক্তির নিকট থেকে তা গ্রহণ করে পিতার নিকট আসলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম ! তোমকে দেওয়ার ইচ্ছা আমার ছিলনা। বিষয়টি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পেশ করলাম। তিনি বললেন : হে ইয়াযীদ ! তুমি যে নিয়্যাত করেছ, তা তুমি পাবে আর হে মা’ন ! তুমি যা গ্রহণ করেছ তা তোমারই ।

বুখারি হাদিস নং ১৩৪০ – সাদকা ডান হাতে প্রদান করা।

মুসাদ্দাদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে দিন আল্লাহর (আরশের) ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবে না সে দিন আল্লাহ তা’আলা সাত প্রকার মানুষকে সে ছায়ায় আশ্রয় দিবেন। ১. ন্যয়পরায়ণ শাসক। ২. যে যুবক আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থেকে যৌবনে উপনীত হয়েছে। ৩. যার অন্তরের সম্পর্ক সর্বদা মসজিদের সাথে থাকে । ৪. আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যে দু’ ব্যক্তি পরস্পর মহব্বত রাখে, উভয়ে একত্রিত হয় সেই মহব্বতের উপর আর পৃথক হয় সেই মহব্বতের উপর। ৫. এমন ব্যক্তি যাকে সম্ভ্রান্ত সুন্দরী নারী (অবৈধ মিলনের জন্য) আহবান জানিয়েছে। তখন সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি। ৬. যে ব্যক্তি গোপনে এমনভাবে সাদকা করে যে, তার ডান হাত যা দান করে বাম হাত তা জানতে পারে না। ৭. যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাঁতে আল্লাহর ভয়ে তার চোখ থেকে অশ্রু বের হয়ে পড়ে।

যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড
যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড

হাদীস নং ১৩৪১

আলী ইবনে জা’দ রহ……….হারিসা ইবনে ওহব খুযায়ী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমরা সাদকা কর। কেননা অচিরেই তোমাদের উপর এমন সময় আসবে, যখন মানুষ সাদকার মাল নিয়ে ঘুরে বেড়াবে, তখন গ্রহীতা বলবে, গতকাল নিয়ে এলে গ্রহণ করতাম কিন্তু আজ এর কোন প্রয়োজন আমার নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৩৪২ – যে ব্যক্তি নিজ হাতে সাদকা না দিয়ে খাদেমকে তা দিয়ে দেওয়ার আদেশ করে।

উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : স্ত্রী যদি তার ঘর থেকে বিপর্যয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যতিরেকে খাদ্যদ্রব্য সাদকা করে তবে এ জন্য সে সওয়াব পাবে আর উপার্জন করার কারণে স্বামীও সওয়াব পাবে এব খাজাঞ্চীও অনুরূপ সওয়াব পাবে। তাদের একজনের কারণে অন্যজনের সওয়াবে কোন কম হবে না।

বুখারি হাদিস নং ১৩৪৩ – প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকা ব্যতীত সাদকা না করা।

আবদান রহ………আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে সাদকা করা উত্তম। যাদের ভরণ-পোষণ তোমার দায়িত্বে, প্রথমে তাদেরকে দিবে।

হাদীস নং ১৩৪৪

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………হাকীম ইবনে হিযাম রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উপরের হাত (দাতার হাত) নীচের হাত (গ্রহীতার হাত) অপেক্ষা উত্তম। প্রথমে তাদেরকে দিবে যাদের ভরণ-পোষণ তোমার দায়িত্বে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে সাদকা করা উত্তম। যে ব্যক্তি (পাপ ও ভিক্ষা করা থেকে) পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন এবং যে পরমুখাপেক্ষিতা থেকে বেচে থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে স্বাবলম্বী করে দেন। ওহাব রহ. আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

হাদীস নং ১৩৪৫

আবু নুমান রহ. ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার মিম্বরের উপর থাকা অবস্থায় সাদকা করা ও ভিক্ষা করা থেকে বেচে থাকা ও ভিক্ষা করা সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন : উপরের হাত নীচের হাত অপেক্ষা উত্তম। উপরের হাত দাতার, আর নীচের হাত হল ভিক্ষুকের।

বুখারি হাদিস নং ১৩৪৬ – যে ব্যক্তি যথাশীঘ্র সাদকা দেওয়া পছন্দ করে।

আবু আসিম রহ………উকবা ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত আদায় করে তাড়াতাড়ি ঘরে প্রবেশ করলেন। তারপর দেরি না করে বের হয়ে আসলেন। আমি বললাম বা তাকে বলা হল, তখন তিনি বললেন : ঘরে সাদকার একখণ্ড সোনা রেখে এসেছিলাম কিন্তু রাত পর্যন্ত তা ঘরে থাকা আমি পছন্দ করিনি। কাজেই তা বন্টন করে দিয়ে এলাম।

বুখারি হাদিস নং ১৩৪৭ – সাদকা দেওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান ও সুপারিশ করা।

মুসলিম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন বের হলেন এবং দু’রাকাআত সালাত আদায় করলেন, এর আগে ও পরে কোন সালাত আদায় করেননি। এরপর তিনি বিলাল রা.-কে সাথে নিয়ে মহিলাদের কাছে গেলেন। তাদের উপদেশ দিলেন এবং সাদকা করার নির্দেশ দিলেন। তখন মহিলাগণ কানের দুল ও হাতের কংকন ছুড়ে মারতে লাগলেন।

হাদীস নং ১৩৪৮

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..আবু মূসা (আশআরী) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কেউ কিছু চাইলে বা প্রয়োজনীয় কিছু চাওয়া হলে তিনি বলতেন : তোমরা সুপারিশ কর সওয়াব পাবে, আল্লাহ যেন তাঁর ইচ্ছা তাঁর রাসূলের মুখে চূড়ান্ত করেন।

হাদীস নং ১৩৪৯

সাদাকা ইবনে ফাযল রহ………আসমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন : তুমি এরূপ করলে তোমার জন্য (আল্লাহর দান) (সম্পদ কমে যাওয়ার আশংকায় সাদকা দেওয়া বন্ধ করবে না) বন্ধ করে দেওয়া হবে।

হাদীস নং ১৩৫০

উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ………আবদা রহ. থেকে বর্ণিত, (পূর্বোক্ত সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন) তুমি (সম্পদ) জমা করে রেখো না, (এরূপ করলে) আল্লাহ তোমার রিযক বন্ধ করে দিবেন।

বুখারি হাদিস নং ১৩৫১ – সাধ্যানুসারে সাদকা করা।

আবু আসিম রহ. ও মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাহীম রহ………আসমা বিনতে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এক সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি তাকে বললেন : তুমি সম্পদ জমা করে রেখো না, এরূপ করলে আল্লাহ তোমার থেকে তা আটকে রাখবেন। কাজেই সাধ্যানুসারে দান করতে থাক।

বুখারি হাদিস নং ১৩৫২ – সাদকা গুনাহ মিটিয়ে দেয়।

কুতাইবা রহ……….হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার উমর ইবনে খাত্তাব রা. বললেন, তোমাদের মধ্যে কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ফিতনা সম্পর্কিত হাদীস স্মরণ রেখেছ ? হুযায়ফা রা. বলেন, আমি আরয করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে বলেছেন, আমি ঠিক সে ভাবেই তা স্মরণ রেখেছি। উমর রা. বললেন, তুমি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে) বড় দুঃসাহসী ছিলে, তিনি কীভাবে বলেছেন (বলত)? তিনি বলেন, আমি বললাম, (হাদীসটি হল 🙂 মানুষ পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি ও প্রতিবেশী নিয়ে ফিতনায় পতিত হবে আর সালাত, সাদকা ও নেক কাজ সেই ফিতনা মিটিয়ে দিবে। সুলাইমান (অর্থাৎ আমাশ রহ. বলেন, আবি ওয়াইল কোন কোন সময় ‘নামায’ ‘সাদকা’ এরপর ‘সৎকাজ’ শব্দের স্থলে ‘সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ’ বলতেন। উমর রা. বলেন, আমি এ ধরনের ফিতনার কথা জানতে চাইনি, বরং যে ফিতনা সাগরের ঢেউয়ের ন্যায় প্রবল বেগে ছুটে আসবে। হুযায়ফা রা. বলেন, আমি বললাম, আমীরুল মু’মিনীন ! আপনার জীবনকালে ঐ ফিতনার কোন আশংকা নেই। সেই ফিতনা ও আপনার মাঝে বদ্ধ দরজা রয়েছে। উমর রা. প্রশ্ন করলেন, দরজা কি ভেঙ্গে দেওয়া হবে না কি খুলে দেওয়া হবে ? হুযায়ফা রা. বলেন, আমি বললাম, না, বরং ভেঙ্গে দেওয়া হবে। উমর রা. বললেন, দরজা ভেঙ্গে দেওয়া হলে কোন দিন তা আর বন্ধ করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, আমি বললাম, সত্যই বলেছেন। আবু ওয়াইল রা .বলেন, দরজা বলতে কাকে বুঝানো হয়েছে ? এ কথা হুযায়ফা রা.-এর নিকট প্রশ্ন করে জানতে আমর কেউ সাহসী হলাম না। তাই প্রশ্ন করতে মাসরূককে অনুরোধ করলাম। মাসরূক রহ. হুযায়ফা রা. -কে প্রশ্ন করায় তিনি উত্তর দিলেন : দরজা হলেন উমর রা. আমরা বললাম, আপনি দরজা বলে যাকে উদ্দেশ্য করেছেন, উমর রা. কি তা উপলব্ধি করতে পেরেছেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আগামীকালের পূর্বে রাতের আগমন যেমন সুনিশ্চিত (তেমনি নিঃসন্দেহে তিনি তা উপলব্ধি করতে পেরেছেন) এর কারণ হল, আমি তাকে এমন হাদীস বর্ণনা করেছি, যাতে কোন ভুল ছিলনা।

যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড
যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৩৫৩ – মুশরিক থাকাকালে সাদকা করার পর যে ইসলাম গ্রহণ করে (তার সাদকা কবুল হবে কি না )।

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….হাকীম ইবনে হিযাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! ঈমান আনয়নের পূর্বে (সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে) আমি সাদকা প্রদান, দাসমুক্ত করা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার ন্যায় যত কাজ করেছি সেগুলোতে সওয়াব হবে কি ? তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তুমি যে সব ভাল কাজ করেছ তা নিয়েই ইসলাম গ্রহণ করেছ (তুমি সেসব কাজের সওয়াব পাবে)।

বুখারি হাদিস নং ১৩৫৪ – মালিকের আদেশে ফাসাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত খাদিমের সাদকা করার সওয়াব।

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : স্ত্রী তার স্বামীর খাদ্য থেকে বিপর্যয়ের উদ্দেশ্য ব্যতীত সাদকা করলে সে সাদকা করার সওয়াব পাবে, উপার্জন করার কারণে স্বামীও এর সওয়াব পাবে এবং অনুরূপ সওয়াব পাবে।

হাদীস নং ১৩৫৫

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ……….আবু মূসা রা. সুত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে বিশ্বস্ত মুসলিম খাজাঞ্চী (আপন মালিক কর্তৃক) নির্দেশীত পরিমাণ সাদকার সবটুকুই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সানন্দচিত্তে আদায় করে, কোন কোন সময় তিনি (বাস্তবায়িত করে) শব্দের স্থলে (আদায় করে) শব্দ বলেছেন, সে খাজাঞ্চীও নির্দেশদাতার ন্যায় সাদকাদানকারী হিসেবে গণ্য।

বুখারি হাদিস নং ১৩৫৬ – ফাসাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত স্ত্রী তার স্বামীর ঘর থেকে কিছু সাদকা করলে বা কাউকে আহার করালে স্ত্রী এর সওয়াব পাবে।

আদম ও উমর ইবনে হাফস রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ফাসাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত স্ত্রী তার স্বামীর ঘর থেকে কাউকে কিছু সাদকা করলে বা আহার করালে স্ত্রী এর সওয়াব পাবে, স্বামীও সমপরিমাণ সওয়াব পাবে এবং খাজাঞ্চী সেই পরিমাণ সওয়াব পাবে। স্বামী উপার্জন করার কারণে আর স্ত্রী দান করার কারণে সওয়াব পাবে।

হাদীস নং ১৩৫৭

ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া রহ………আয়িশা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ফাসাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের খাদ্য সামগ্রী থেকে সাদকা করলে সে এর সওয়াব পাবে। উপার্জন করার কারণে স্বামীও সওয়াব পাবে এবং খাজাঞ্চীও সেই পরিমাণ সওয়াব পাবে।

বুখারি হাদিস নং ১৩৫৮ – মহান আল্লাহর বাণী : যে ব্যক্তি দান করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করে আমি তার জন্য সহজ পথ সুগম করে দেব। আর যে ব্যক্তি কার্পণ্য করে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে……….(৯২ : ৫-৮)। হে আল্লাহ ! তার দানে উত্তম প্রতিদান দিন।

ইসমাঈল রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : প্রতিদিন সকালে দু’ জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাদের একজন বলেন, হে আল্লাহ ! দাতাকে তার দানের প্রতিদান দিন আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ ! কৃপণ কে ধ্বংস করে দিন।

বুখারি হাদিস নং ১৩৫৯ – সাদকা দানকারী ও কৃপণের দৃষ্টান্ত।

মূসা রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : কৃপণ ও সাদকা দানকারীর দৃষ্টান্ত এমন দু’ ব্যক্তির মত, যাদের পরিধানে দুটি লোহার বর্ম রয়েছে। অপর সনদে আবুল ইয়ামান রহ. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, কৃপণ ও সাদকা দানকারীর দৃষ্টান্ত এমন দু’ ব্যক্তির মত, যাদের পরিধানে দুটি লোহার বর্ম রয়েছে যা তাদের বুক থেকে কাঁধ পর্যন্ত বিস্তৃত। দাতা ব্যক্তি যখন দান করে তখন বর্মটি তার সম্পূর্ণ দেহ পর্যন্ত প্রশস্ত হয়ে যায়। এমনকি হাতের আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত ঢেকে ফেলে ও (পায়ের পাতা পর্যন্ত ঝুলন্ত বর্ম) পদচিহ্ন মুছে ফেলে। আর কৃপণ ব্যক্তি যখন যৎসামান্যও দান করতে চায়, তখন যেন বর্মের প্রতিটি আংটা যথাস্থানে সেটে যায়, সে তা প্রশস্ত করতে চেষ্টা করলেও তা প্রশস্ত হয় না। হাসান ইবনে মুসলিম রহ. তাউস রহ. থেকে في الجبتين বর্ণনায় ইবনে তাউস রহ.-এর অনুসরণ করেছেন। আর হানযালা রহ. তাউস রহ. থেকে جنتان উল্লেখ করেছেন। লায়স রহ. আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে جنتان (ঢাল) শব্দের উল্লেখ রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ১৩৬০ – প্রত্যেক মুসলিমের সাদকা করা উত্তম। কারো নিকট সাদকা দেওয়ার মত কিছু না থাকলে সে যেন সৎকাজ করে।

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………আবু মূসা আশআরী রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : প্রত্যেক মুসলিমের সাদকা করা উচিত। সাহাবীগণ আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! কেউ যদি সাদকা দেওয়ার মত কিছু না পায় ? (তিনি উত্তরে) বললেন : সে ব্যক্তি নিজ হাতে কাজ করবে এতে নিজেও লাভবান হবে, সাদকাও করতে পারবে। তাঁরা বললেন, যদি এরও সামর্থ্য না থাকে ? তিনি বললেন : কোন বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করবে। তাঁরা বললেন, যদি এতটুকুও সামর্থ্য না থাকে ? তিনি বললেন : এ অবস্থায় সে যেন নেক আমল করে এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকে। এটা তার জন্য সাদকা বলে গণ্য হবে।

বুখারি হাদিস নং ১৩৬১ – যাকাত ও সাদকা কি পরিমান দিতে হবে এবং যে বকরী সাদকা করে।

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ……….উম্মে আতিয়্যাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নুসায়ব নাম্নী আনসারী মহিলার জন্য একটি ববকরী (সাদকা স্বরূপ) পাঠানো হল। তিনি বকরীর কিছু অংশ আয়িশা রা.-কে (হাদিয়া স্বরূপ) পাঠিয়ে দিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমাদের কাছে (আহার্য) কিছু আছে কি ? আয়িশা রা. বললেন, নুসায়বা কর্তৃক প্রেরিত সেই বকরীর গোশত ব্যতীত আর কিছুই নেই। তখন তিনি বললেন : তাই নিয়ে এসো, কেননা বকরী (সাদকা) যথাস্থানে গেছে (সাদকা গ্রহীতার নিকট)।

বুখারি হাদিস নং ১৩৬২ – রূপার যাকাত।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন বলেছেন : পাঁচ যাওদ (পাঁচটি) উটের সংখ্যকের উপর যাকাত নেই, পাঁচ উকিয়া-এর কম পরিমাণ রূপার উপর যাকাত নেই এবং পাঁচ ওয়াসক-এর কম পরিমাণ উৎপন্ন দ্রব্যের উপর সাদকা (উশর / নিসফে উশর) নেই।

হাদীস নং ১৩৬৩

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……..আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন থেকে এ হাদীসটি শুনেছি।

বুখারি হাদিস নং ১৩৬৪ – পণ্যদ্রব্য দ্বারা যাকাত আদায় করা।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর রা. আনাস রা.-এর কাছে আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন -কে যাকাত সম্পর্কে যে বিধান দিয়েছেন সে সম্পর্কে লিখে জানালেন, যে ব্যক্তির উপর যাকাত হিসেবে বিনতে মাখায ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে তা নেই বরং বিনতে লাবুন রয়েছে, তাহলে তা-ই (যাকাত স্বরূপ) গ্রহণ করা হবে। এ অবস্থায় যাকাত আদায়কারী যাকাতদাতাকে বিশটি দিরহাম বা দুটি বকরী দিবে। আর যদি বিনতে মাখায না থাকে বরং ইবনে লাবুন থাকে তাহলে তা-ই গ্রহণ করা হবে। এমতাবস্থায় আদায়কারীর যাকাতদাতাকে কিছু দিতে হবে না।

হাদীস নং ১৩৬৫

মুআম্মাল রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা প্রদানের পূর্বেই (ঈদের) সালাত আদায় করেন, এরপর বুঝতে পারলেন যে, (সকলের পিছনে থাকা বিধায়) মহিলাগণকে খুতবার আওয়াজ পৌঁছাতে পারেননি। তাই তিন মহিলাগণের নিকট আসলেন, তাঁর সাথে বিলাল রা. ছিলেন। তিনি একখণ্ড বস্ত্র প্রসারিত করে ধরলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে উপদেশ দিলেন ও সাদকা করতে আদেশ করলেন। তখন মহিলাগণ তাদের (অলংকারদি) ছুড়ে মারতে লাগলেন। (রাবী) আইয়্যূব রহ. তার কান ও গলার দিকে ইঙ্গিত করে (মহিলাগণের অলংকারাদি দান করার বিষয়) দেখালেন।

বুখারি হাদিস নং ১৩৬৬ – পৃথক গুলো একত্রিত করা যাবে না। আর একত্রিত গুলো পৃথক করা যাবে না।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত সম্পর্কে যে বিধান দিয়েছেন তা আবু বকর রা. তাঁর নিকট লিখে পাঠান, যাকাতের (পরিমাণ কম-বেশী হওয়ার) আশংকায় পৃথক (প্রাণী)-গুলোকে একত্রিত করা যাবে না এবং একত্রিত গুলোকে পৃথক করা যাবে না।

বুখারি হাদিস নং ১৩৬৭ – দুই অংশীদার (এর একজনের নিকট থেকে সমুদয় মালের যাকাত উসুল করা হলে) একজন অপরজন থেকে তার প্রাপ্য অংশ আদায় করে নিবে।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত সম্পর্কে যে বিধান দিয়েছেন আবু বকর রা. তা তাকে লিখে জানালেন, এক অংশীদার অপর অংশীদারের নিকট থেকে তার প্রাপ্য আদায় করে নিবে।

বুখারি হাদিস নং ১৩৬৮ – উটের যাকাত ।

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন এক বেদুঈন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হিজরত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন : তোমার তো বড় সাহস ! হিজরতের ব্যাপারটি কঠিন, বরং যাকাত দেওয়ার মত তোমার কোন উট আছে কি ? সে বলল, জী হ্যাঁ, আছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : সাগরের ওপারে হলেও (যেখানেই থাক) তুমি আমল করবে। তোমার সামান্যতম আমলও আল্লাহ নষ্ট করবেন না।

বুখারি হাদিস নং ১৩৭০ – বকরীর যাকাত।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুসান্না আনসারী রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর রা. তাকে বাহরাইন পাঠানোর সময় এই বিধানটি তাঁর জন্য লিখে দেন : বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। এটাই যাকাতের নিসাব যা নির্ধারণ করেছেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসালিমদের প্রতি এবং যা আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূলকে নির্দেশ দিয়েছেন। মুসলিমদের মধ্যে যার কাছ থেকে নিয়ামানুযায়ী চাওয়া হয়, সে যেন তা আদায় করে দেয় আর তার চেয়ে বেশী চাওয়া হলে তা যেন আদায় না করে। চব্বিশ ও তার চাইতে কম সংখ্যক উটের যাকাত বকরী দ্বারা আদায় করা হবে। প্রতি পাঁচটি উটে একটি বকরী এবং উটের সংখ্যা পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত হলে একটি মাদী বিনতে মাখায। (এক বছর বয়স্কা উষ্ট শাবক)। ছত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি মাদী বিনতে লাবূন (দু’ বছর বয়স্কা উটের শাবক)। ছয়চল্লিশ থেকে ষাট পর্যন্ত ষাড়ের পালযোগ্য একটি হিক্কা (তিন বছর পূর্ণ হয়েছে এমন উট), একষট্রি থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত একটি জাযা’আ (চার বছর পূর্ণ দাতাল উট(, ছিয়াত্তর থেকে নব্বই পর্যন্ত দুটি বিনতে লাবূন, একানব্বইটি থেকে একশ বিশ পর্যন্ত ষাড়ের পালযোগ্য দুইটি হিক্কা। সংখ্যায় একশ বিশের অধিক হলে (অতিরিক্ত) প্রতি চল্লিশটিতে একটি করে বিনতে লাবূন এবং (অতিরিক্ত) প্রতি পঞ্চাশটিতে এক করে হিক্কা। যার চারটির বেশী উট নেই, সেগুলোর উপর কোন যাকাত নেই, তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে দিতে পারবে। কিন্তু যখন পাঁচে পৌছে তখন একটি বকরী ওয়াজিব। আর বকরীর যাকাত সম্পর্কে : সায়েমা বকরী চল্লিশটি থেকে একশ বিশটি পর্যন্ত একটি বকরী। এর বেশী হলে দুশতটি পর্যন্ত দুটি বকরী। দুইশর অধিক হলে তিনশত পর্যন্ত তিনটি বকরী। তিনশর অধিক হলে প্রতি একশতে একটি করে বকরী। কারো সায়েমা বকরীর সংখ্যা চল্লিশ থেকে একটিও কম হলে তার উপর যাকাত নেই । তবে স্বেচ্ছায় দান করলে তা করতে পারে। রূপার যাকাত চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। একশ নব্বই দিরহাম হলে তার যাকাত নেই, তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দান করলে করতে পারে।

যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড
যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৩৭১ – অধিক বয়েসে দাঁত পড়া বৃদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ বকরী এবং পাঠা যাকাত হিসেবে গ্রহণ করা হবে না, তবে উসূলকারী যা ইচ্ছা করেন।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ তাঁর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি যাকাতের যে বিধান দিয়েছেন তা আবু বকর রা. তাঁর নিকট লিখে পাঠান তাঁতে রয়েছে : অধিক বয়সে দাঁত পড়া বৃদ্ধি ও ত্রুটিপূর্ণ বকরী এবং পাঠা যাকাত হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না, তবে উসুলকারী যা ইচ্ছা করেন।

বুখারি হাদিস নং ১৩৭২ – বকরীর (চার মাস বয়সের মাদী) বাচ্চা যাকাত হিসেবে গ্রহণ করা।

আবুল ইয়ামান ও লায়স রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর রা. বলেছেন, আল্লাহর কসম ! তারা যদি (যাকাতের) ঐ রূপে একটি ছাগল ছানাও দিতে অস্বীকার করে যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে দিত, তবুও তাদের বিরুদ্ধে যাকাত না দেওয়ার কারণে আমি লড়াই করব। উমর রা. বলেন, আমি স্পষ্ট বুঝেছি যে, যুদ্ধের ব্যাপারে আল্লাহ আবু বকরের হৃদয় খুলে দিয়েছেন, তাই বুঝলাম তাঁর সিদ্ধান্তই যথার্থ।

বুখারি হাদিস নং ১৩৭৩ – যাকাতের ক্ষেত্রে মানুষের উত্তম মাল নেওয়া হবে না।

উমায়্যা ইবনে বিসতাম রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুআযা (ইবনে জাবাল) রা.-কে ইয়ামনের শাসনকর্তা হিসেবে পাঠান, তখন বলেছিলেন : তুমি আহলে কিতাব লোকদের কাছে যাচ্ছ। কাজেই প্রথমে তাদের আল্লাহর ইবাদতের দাওয়াত দিবে। যখন তারা আল্লাহর পরিচয় লাভ করবে, তখন তাদের তুমি বলবে যে, আল্লাহ দিন-রাতে তাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করে দিয়েছেন। যখন তারা আদায় করতে থাকবে, তখন তাদের জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন, যা তাদের সম্পদ থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া হবে। যখন তারা এর অনুসরণ করবে তখন তাদের থেকে তা গ্রহণ করবে এবং লোকের উত্তম মাল গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে।

বুখারি হাদিস নং ১৩৭৪ – পাঁচ উটের কমে যাকাত নেই ।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পাঁচ ওসাক-এর কম পরিমাণ খেজুরের যাকাত নেই। পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ রূপার যাকাত নেই এবং পাঁচটির কম উটের যাকাত নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৩৭৫ – গরুর যাকাত।

উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস রহ……..আবু যার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলাম। তিনি বললেন : কসম সেই সত্তার যাঁর হাতে আমার প্রাণ (বা তিনি বললেন) কসম সেই সত্তার, যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, অথবা অন্য কোন শব্দের শপথ করলেন, উট, গরু বা বকরী থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এদের হক আদায় করেনি সেগুলো যেমন ছিল তার চেয়ে বৃহদাকার ও মোটা তাজা করে কিয়ামতের দিন উপস্থিত করা হবে এবং তাকে পদপিষ্ট করবে এবং শিং দিয়ে গুতো দিবে। যখনই দলের শেষটি চলে যাবে তখন পালাক্রমে আবার প্রথমটি ফিরিয়ে আনা হবে। মানুষের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সাথে এরূপ চলতে থাকবে। হাদীসটি বুকাইর রহ. আবু সালিহ রহ.-এর মাধ্যমে আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৩৭৬ – নিকটাত্মীয়দের কে যাকাত দেওয়া।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনার আনসারীগণের মধ্যে আবু তালহা রা. সবচেয়ে অধিক খেজুর বাগানের মালিক ছিলেন। মসজিদে নববীর নিকটবর্তী বাযরুহা নামক বাগানটি তাঁর কাছে অধিক প্রিয় ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাগানে প্রবেশ করে এর সুপেয় পানি পান করতেন। আনাস রা. বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল : “তোমরা যা ভালবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করবে না” (৩ : ৯২) তখন আবু তালহা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আল্লাহ বলছেন : তোমরা যা ভালবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করবে না। আর বাযরুহা নামক বাগানটি আমার কাছে অধিক প্রিয়। এটি আল্লাহর নামে সাদকা করা হল, আমি এর কল্যাণ কামনা করি এবং তা আল্লাহর নিকট আমার জন্য সঞ্চাররূপে থাকবে। কাজেই আপনি যাকে দান করা ভাল মনে করেন তাকে দান করুন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমাকে ধন্যবাদ, এ হচ্ছে লাভজনক সম্পদ, এ হচ্ছে লাভজনক সম্পদ। তুমি যা বলেছ তা শুনলাম। আমি মনে করি, তোমার আপনজনদের মধ্যে তা বন্টন করে দাও। আবু তালহা রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি তাই করব। তারপর তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজন, আপন চাচার বংশদরের মধ্যে তা বন্টন করে দিলেন। রাবী রাওহ রহ. (রাবেহ) শব্দে আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ.-এর অনুসরণ করেছেন। আর রাবী ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া রহ. ও ইসমাঈল রহ. মালিক রহ. থেকে (রায়েহ) শব্দ বলেছেন।

হাদীস নং ১৩৭৭

ইবনে আবু মারয়াম রহ………..আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিতর দিনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে গেলেন এবং সালাত শেষ করলেন। পরে লোকদের উপদেশ দিলেন এবং তাদের সাদকা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন আর বললেন : লোক সকল ! তোমরা সাদকা দিবে। তারপর মহিলাগণের নিকট গিয়ে বললেন : মহিলাগণ ! তোমরা সাদকা দাও। আমাকে জাহান্নামে তোমাদেরকে অধিক সংখ্যক দেখানো হয়েছে। তারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এর কারণ কি ? তিনি বললেন : তোমরা বেশী অভিশাপ দিয়ে থাক এবং স্বামীর অকৃতজ্ঞ হয়ে থাক। হে মহিলাগণ ! জ্ঞান ও দীনে অপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দৃঢ়চেতা পুরুষের বুদ্ধি হরণকারিণী তোমাদের মত কাউকে দেখিনি। যখন তিনি ফিরে এসে ঘরে পৌছালেন, তখন ইবনে মাসউদ রা.-এর স্ত্রী যায়ানাব রা. তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। বলা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! যায়নাব এসেছেন। তিনি বললেন, কোন যায়নাব ? বলা হল, ইবনে মাসউদের স্ত্রী। তিনি বললেন : হ্যাঁ, তাকে আসতে দাও। তাকে অনুমতি দেওয়া হল। তিনি বললেন, ইয়া নবীয়াল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ আপনি সাদকা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমার অলংকার আছে। আমি তা সাদকা করব ইচ্ছা করছি। ইবনে মাসউদ রা. মনে করেন, আমার এ সাদকায় তাঁর এবং তাঁর সন্তানদেরই হক বেশী। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইবনে মাসউদ রা. ঠিক বলেছে। তোমার স্বামী ও সন্তানই তোমার এ সাদকায় অধিক হকদার।

বুখারি হাদিস নং ১৩৭৮ – মুসলিমের উপর তার ঘোড়ার কোন যাকাত নেই।

আদম রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মুসলিমের উপর তার ঘোড়া ও গোলামের কোন যাকাত নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৩৭৯ – মুসলিমের উপর তার গোলামের যাকাত নেই।

মুসাদ্দাদ ও সুলাইমান ইবনে হারব রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মুসলিমের উপর তার গোলাম ও ঘোড়ার কোন যাকাত নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৩৮০ – ইয়াতীমকে সাদকা দেওয়া।

মুআয ইবনে ফাযালা রহ………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে বসলেন এবং আমরা তাঁর আশেপাশে বসলাম। তিনি বললেন : আমার পরে তোমাদের ব্যাপারে আমি যা আশংকা করছি তা হল এই যে দুনিয়ার চাকচিক্য ও সৌন্দর্য (ধন-সম্পদ) তোমাদের সামনে খুলে দেওয়া হবে। এক সাহাবী বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! কল্যাণ কি কখনো অকল্যাণ বয়ে আনে ? এতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরব রইলেন। প্রশ্নকারীকে বলা হল, তোমার কি হয়েছে ? তুমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর কথা বলছ, কিন্তু তিনি তোমাকে জওয়াব দিচ্ছেন না ? তখন আমরা অনুভব করলাম যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর ওহী নাযিল হচ্ছে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি তাঁর ঘাম মুছলেন এবং বললেন : প্রশ্নকারী কোথায় ? যেন তা প্রশ্নকে প্রশংসা করে বললেন, কল্যাণ কখনো অকল্যাণ বয়ে আনে না। অবশ্য বসন্ত মৌসুম যে ঘাস উৎপন্ন করে তা (সবটুকুই সুস্বাদু ও কল্যাণকর বটে তবে) অনেক সময় হয়ত (ভোজনকারী প্রাণীর) জীবন নাশ করে অথবা তাকে মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে যায়। তবে ঐ তৃণভোজী জন্তু, যে পেট ভরে খাওয়ার পর সূর্যের তাপ গ্রহণ করে এবং মল ত্যাগ করে, প্রস্রাব করে এবং পুনরায় চরে (সেই মৃত্যু থেকে রক্ষা পায় তেমনি) এই সম্পদ হল আকর্ষনীয় সুস্বাদু। কাজেই সে-ই ভাগ্যবান মুসলিম, যে এই সম্পদ থেকে মিসকীন, ইয়াতীম ও মুসাফিরকে দান করে অথবা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ বলেছেন, আর যে ব্যক্তি এই সম্পদ অন্যায়ভাবে উপার্জন করে, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে খেতে থাকে এবং তার পেট ভরে না। কিয়ামত দিবসে ঐ সম্পদ তা বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে ।

বুখারি হাদিস নং ১৩৮১ – স্বামী ও পোষ্য ইয়াতীমকে যাকাত দেওয়া।

উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস রহ……….আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা.-এর স্ত্রী যায়নাব রা. থেকে বর্ণিত, (রাবী আমাশ রহ. বলেন) আমি ইবরাহীম রহ.-এর সাথে এ হাদীসের আলোচনা করলে তিনি আবু উবায়দা সূত্রে আমর ইবনে হারিস রহ.-এর মাধ্যমে আবদুল্লাহ রা.-এর স্ত্রী যায়নাব রা. থেকে হুবহু বর্ণনা করেন। তিনি (যায়নাব রা.) বলেন, আমি মসজিদে ছিলাম। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলাম তিনি বলছেন : তোমরা সাদকা দাও যদিও তোমাদের অলংকার থেকে হয়। যায়নাব রা. আবদুল্লাহ রা. ও তাঁর পোষ্য ইয়াতীমের প্রতি খরচ করতেন। তখন তিনি আবদুল্লাহকে বললেন, তুমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জেনে এসো যে, তোমার প্রতি এবং আমার পোষ্য ইয়াতীমদের প্রতি খরচ করলে আমার পক্ষ থেকে সাদকা আদায় হবে কি ? তিনি (ইবনে মাসউদ রা.) বললেন, বরং তুমিই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জেনে এসো। এরপর আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম। তাঁর দরজায় আরো একজন আনসারী মহিলাকে দেখলাম, তার প্রয়োজনও আমার প্রয়োজনের অনুরূপ। তখন বিলাল রা.-কে আমাদের পাশ দিয়ে যেতে দেখে বললাম, আপনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞাসা করুন, স্বামী ও আপন (পোষ্য) ইয়াতীমের প্রতি সাদকা করলে কি আমার পক্ষ থেকে তা যথেষ্ট হবে ? এবং এ কথাও বলেছিলাম যে ,আমাদের কথা জানাবেন না। তিনি প্রবেশ করে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তারা কে ? বিলাল রা. বললেন, যায়নাব। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, কোন যায়নাব ? তিনি উত্তর দিলেন, আবদুল্লাহর স্ত্রী। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তার জন্য দুটি সাওয়াব রয়েছে, আত্মীয়কে দেওয়ার সাওয়াব আর সাদকা দেওয়ার সাওয়াব।

হাদীস নং ১৩৮২

উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ……….উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! (আমার স্বামী) আবু সালমার সন্তান, যারা আমারও সন্তান, তাদের প্রতি ব্যয় করলে আমার সাওয়াব হবে কি ? তিনি বললেন : তাদের প্রতি ব্যয় কর। তাদের প্রতি ব্যয় করার সাওয়াব তুমি অবশ্যই পাবে।

বুখারি হাদিস নং ১৩৮৩ – আল্লাহর বাণী : দাসমুক্তির জন্য, ঋণ ভারাক্রান্তদের জন্য ও আল্লাহর পথে (৯ : ৬০)।

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত দেওয়ার নির্দেশ দিলে বলা হল, ইবনে জামীল, খালিদ ইবনে ওয়ালিদ ও আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রা. যাকাত প্রদানে অস্বীকার করছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ইবনে জামীলের যাকাত না দেওয়ার কারণ এ ছাড়া কিছু নয় যে, সে দরিদ্র ছিল, পরে আল্লাহ অনুগ্রহে ও তাঁর রাসূলের বরকতে সম্পদশালী হয়েছে। আর খালিদের ব্যাপারে হল তোমরা খালিদের উপর অন্যায় করেছ, কারণ সে তার বর্ম ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র আল্লাহর পথে আবদ্ধ রেখেছছে। আর আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রা. তো আল্লাহর রাসূলের চাচা। তাঁর যাকাত তাঁর জন্য সাদকা এবং সমপরিমাণও তার জন্য সাদকা। ইবনে আবুয যিনাদ রহ. তাঁর পিতা থেকে হাদীস বর্ণনায় শুআইব রহ.-এর অনুসরণ করেছেন। আর ইবনে ইসহাক রহ. আবুয যিনাদ রহ. থেকে হাদীসের শেষাংশে ‘সাদকা’ শব্দের উল্লেখ করেননি। ইবনে জুরাইজ রহ. বলেন, আরাজ রহ. থেকে অনুরূপ হাদীস আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ১৩৮৪ – যাচনা থেকে বিরত থাকা।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত যে, কিছুসংখ্যক আনসারী সাহাবী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু চাইলে তিনি তাদের দিলেন, পুনরায় তাঁরা চাইলে তিনি তাদের দিলেন। এমনকি তাঁর নিকট যা ছিল সবই শেষ হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন : আমার নিকট যে মাল থাকে তা তোমাদের না দিয়ে আমার নিকট জমা রাখিনা। তবে, যে যাচনা থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রাখেন আর যে পরমুখাপেক্ষী না হয়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত রাখেন। যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তাকে সবর দান করেন। সবরের চাইতে উত্তম ও ব্যাপক কোন নিয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।

হাদীস নং ১৩৮৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যার হাতে আমার জীবন, সেই সত্তার কসম ! তোমাদের মধ্যে কারো রশি নিয়ে কাঠ সংগ্রহ করে পিঠে করে বয়ে আনা, কোন লোকের কাছে এসে যাচনা করার চাইতে অনেক ভাল, চাই সে দিক বা না দিক।

হাদীস নং ১৩৮৬

মূসা রহ………..যুবাইর ইবনে আওয়াম রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : তোমাদের মধ্যে কেউ রশি নিয়ে তার পিঠে কাঠের বোঝা বয়ে আনা এবং তা বিক্রি করা, ফলে আল্লাহ তার চেহারাকে (যাচনা করার অপমান থেকে) রক্ষা করেন, তা মানুষের কাছে সাওয়াল করার চাইতে উত্তম, চাই তারা দিক বা না দিক।

হাদীস নং ১৩৮৭

আবদান রহ……….হাকীম ইবনে হিযাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন, আবার চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন, আবার চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন। তারপর বললেন : হে হাকীম, এই সম্পদ শ্যামল সুস্বাদু। যে ব্যক্তি প্রশস্ত অন্তরে (লাভ ছাড়া) তা গ্রহণ করে তার জন্য তা বরকতময় করা হয় । আর যে ব্যক্তি অন্তরের লোভসহ তা গ্রহণ করে তার জন্য তা বরকতময় করা হয় না। যেন সে এমন ব্যক্তির মত, যে খায় কিন্তু তার ক্ষুধা মেটে না। উপরের হাত নিচের হাত থেকে উত্তম। হাকীম রা. বলেন, আমি বললাম, যিনি আপনাকে সত্য সহ পাঠিয়েছেন, তাঁর কসম ! ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনার পর মৃত্যু পর্যন্ত (সাওয়াল করে) আমি কাউকে সামান্যতমও ক্ষতিগ্রস্থ করব না। এরপর আবু বকর রা. হাকীম রা.-কে অনুদান গ্রহণের জন্য ডাকতেন, কিন্তু তিনি তাঁর কাছ থেকে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করতেন। তারপর উমর রা. (তাঁর যুগে) তাকে কিছু দেওয়ার জন্য ডাকলেন। তিনি তাঁর কাছ থেকেও কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। উমর রা. বললেন, মুসলিমগণ ! হাকীম রা. -এর ব্যাপারে আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি। আমি তাঁর কাছে এই গনীমত থেকে তাঁর প্রাপ্য পেশ করেছি, কিন্তু সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। (সত্য সত্যই) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর হাকীম মৃত্যু পর্যন্ত কারো নিকট কিছু চেয়ে কাউকে ক্ষতিগ্রস্থ করেননি।

যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড
যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৩৮৮ – যাকে আল্লাহ সাওয়াল ও অন্তরের লোভ ছাড়া কিছু দান করেন।

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর রা.-কে বলতে শুনেছি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কিছু দান করতেন, তখন আমি বলতাম যে, আমার চাইতে বেশী অভাবগ্রস্ত, তাকে দিন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন : তা গ্রহণ কর। যখন তোমার কাছে এসব মালের কিছু আসে অথচ তার প্রতি তোমার অন্তরের লোভ নেই এবং তা গ্রহণ কর। যখন তোমার কাছে এসব মালের কিছু আসে অথচ তার প্রতি তোমার অন্তরের লোভ নেই এবং তার জন্য তুমি যাচনাকারীও নও, তখন তা তুমি গ্রহণ করবে। (এরূপ না হলে তুমি তার প্রতি অন্তর ধাবিত করবে না।

বুখারি হাদিস নং ১৩৮৯ – সম্পদ বাড়ানোর জন্য যে মানুষের কাছে সাওয়াল করে।

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি সব সময় মানুষের কাছে চাইতে থাকে, সে কিয়ামতের দিন এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার চেহারায় কোন গোশত থাকবে না। তিনি আরো বলেন : কিয়ামতের দিন সূর্য তাদের অতি কাছে আসবে, এমনকি ঘাম কানের অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছবে। যখন তারা এই অবস্থায় থাকবে, তখন তারা সাহায্য চাইবে আদম আ.-এর কাছে, তারপর মূসা আ.-এর কাছে, তারপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। আবদুল্লাহ রহ. লায়স রহ.-এর মাধ্যমে ইবনে আবু জাফর রহ. থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টের মধ্যে ফয়সালা করার জন্য সুপারিশ করবেন। তিনি যেতে যেতে জান্নাতের ফটকের কড়া ধরবেন। সেদিন আল্লাহ তাকে মাকামে মাহমুদে পৌছে দিবেন। হাশরের ময়দানে সমবেত সকলেই তাঁর প্রশংসা করবে। রাবী মুআল্লা রহ……….ইবনে উমার রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যাচনা করা সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৩৯০ – মহান আল্লাহর বাণী : তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে যাচনা করে না।

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সে ব্যক্তি প্রকৃত মিসকীন নয়, যাকে এক দু’ লোকমা ফিরিয়ে দেয় (যথেষ্ট হয়) বরং সে-ই প্রকৃত মিসকীন যার কোন সম্পদ নেই, অথচ সে (চাইতে) লজ্জাবোধ করে অথবা লোকদেরকে আকড়ে ধরে সাওয়াল করে না।

হাদীস নং ১৩৯১

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ…….শাবী রহ. থেকে বর্ণিত যে, মুগীরা ইবনে শু’বা রহ.-এর কাতিব (একান্ত সচিব) বলেছেন, মুআবিয়া রা. মুগীরা ইবনে শু’বা রা.-এর কাছে লিখে পাঠালেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে আপনি যা শুনেছেন তার কিছু আমাকে লিখে জানান। তিনি তাঁর কাছে লিখলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তোমাদের তিনটি কাজ অপছন্দ করেন, ১. অনর্থক কথাবার্তা, ২. সম্পদ নষ্ট করা এবং ৩. অত্যাধিক সাওয়াল করা।

হাদীস নং ১৩৯২

মুহাম্মদ ইবনে গুরাইর যুহরী রহ………সা’দ ইবনে আবু ওক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল লোককে কিছু দান করলেন। আমি তাদের মধ্যে বসা ছিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মধ্যে থেকে এক ব্যক্তিকে দিলেন না। অথচ সে ছিল আমার বিবেচনায় তাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে চুপে চুপে বললাম, অমুক সম্পর্কে আপনার কি হল ? আমি তো তাকে অবশ্য মু’মিন বলে মনে করি। তিনি বললেন : বরং মুসলিম (বল) সা’দ রা. বলেন, এরপর আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। আবার তার সম্পর্কে আমর ধারণা প্রবল হয়ে উঠলে আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অমুক সম্পর্কে আপনার কি হল ? আল্লাহর কসম ! আমি তো তাকে মুমিন বলে মনে করি। তিনি বললেন : বরং মুসলিম। এবারও কিছুক্ষণ নিরব রইলাম। আবার তার সম্পর্কে আমার ধারণা প্রবল হয়ে উঠলে আমি বললাম, অমুক সম্পর্কে আপনার কি হল ? আল্লাহর কসম ! আমি তো তাকে মু’মিন বলে মনে করি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : অথবা মুসলিম ! এভাবে তিনবার বললেন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি একজনকে দিয়ে থাকি অথচ অন্য ব্যক্তি আমার কাছে অধিক প্রিয় ই আশংকায় যে, তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অপর সনদে ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ রহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে এভাবে বলতে শুনেছি, তিনি হাদীসটি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন, তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাঁধে হাত রাখলেন, এরপর বললে, হে সা’দ ! অগ্রসর হও। আমি তো এক ব্যক্তিকে দিয়ে থাকি……..। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, فكبكبوا অর্থ উল্টিয়ে দেওয়া হয়েছে। مكبا আরবী বাগধারা অনুসারে أكب الرجل থেকে গৃহীত হয়েছে অর্থাৎ কর্তার কর্ম যখন কারো প্রতি না বর্তায় তখনই এরূপ বলা হয়ে থাকে। আর যদি কর্ম কারোর উপর বর্তায়, তখন বলা হয় كبه الله لوجهه ও كببته أنا আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, সালিহ ইবনে ফায়সাল রহ. যুহরী রহ. থেকে বয়সে বড় ছিলেন আর তিনি ইবনে উমর রা.-এর সাক্ষাত পেয়েছেন।

হাদীস নং ১৩৯৩

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রকৃত মিসকীন সে নয়, যে মানুষের কাছে ভিক্ষায় জন্য ঘুরে বেড়ায় এবং এক-দু’ লুকমা অথবা এক-দুটি খেজুর পেলে ফিরে যায় বরং প্রকৃত মিসকীন সে ব্যক্তি, যার এতটুকু সম্পদ নেই যাতে তার প্রয়োজন মিটাতে পারে এবং তার অবস্থা সেরূপ বোঝা যায় না যে, তাকে দান খয়রাত করা যাবে আর সে মানুষের কাছে যাচনা করে বেড়ায় না।

হাদীস নং ১৩৯৪

উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে সূত্রে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের কেউ যদি রশি নিয়ে সকালবেলা বের হয়, (রাবী বলেন) আমার ধারণা যে, তিনি বলেছেন, পাহাড়ের দিকে, তারপর লাকড়ী সংগ্রহ করে এবং তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে এবং দানও করে, তা তার পক্ষে লোকের কাছে যাচনা করার চাইতে উত্তম।

বুখারি হাদিস নং ১৩৯৫ – খেজুরের পরিমাণ আন্দাজ করা।

সাহল ইবনে বাক্কার রহ………আবু হুমাইদ সাঈদী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাবুকের যুদ্ধে শরীক হয়েছি। যখন তিনি ওয়াদিল কুরা নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন এক মহিলা তার নিজের বাগানে উপস্থিত ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের লক্ষ্য করে বললেন : তোমরা এই বাগানের ফলগুলোর পরিমাণ আন্দাজ কর। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে দশ ওসাক পরিমাণ আন্দাজ করলেন। তারপর মহিলাকে বললেন : উৎপন্ন ফলের হিসাব রেখো। আমরা তাবুক পৌঁছলে, তিনি বললেন : সাবধান ! আজ রাতে প্রবল ঝড় প্রবাহিত হবে। কাজেই কেউ যেন দাঁড়িয়ে না থাকে এবং প্রত্যেকেই যেন তার উট বেঁধে রাখে। তখন আমরা নিজ নিজ উট বেঁধে নিলাম। প্রবল ঝড় হতে লাগল। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে গেলে ঝড় তাকে তায় নামক পর্বতে নিক্ষেপ করল। আয়লা নগরীর শাসনকর্তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি সাদা খচ্চর ও চাদর হাদিয়া দিলেন। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেখানকার শাসনকর্তারূপে বহাল থাকার লিখিত নির্দেশ দিলেন। (ফেরার পথে) ওয়াদিল কুরা পৌছে সেই মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলেন : তোমার বাগানে কি পরিমাণ ফল হয়েছে ? মহিলা বলল, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুমতি পরিমাণ, দশ ওসাকই হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি দ্রুত মদীনায় পৌঁছতে ইচ্ছুক। তোমাদের কেউ আমার সাথে দ্রুত যেতে চাইলে জলদী কর। ইবনে বাক্কার রহ. এমন একটি বাক্য বললেন, যার অর্থ, যখন তিনি মদীনা দেখতে পেলেন তখন বললেন : ইহা ত্বাবা (মদীনার অপর নাম) এরপর যখন তিনি উহুদ পর্বত দেখতে পেলেন তখন বললেন : এই পর্বত আমাদেরকে ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি। আনসারদের সর্বোত্তম গোত্রটি সম্পর্কে আমি তোমাদের খবর দিব কি ? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন : বনু নাজ্জার গোত্র, তারপর বনু আবদুল আশহাল গোত্র, এরপর বনু সাঈদা গোত্র অথবা বনু হারিস ইবনে খাযরাজ গোত্র। আনসারদের সকল গোত্রই কল্যাণ রয়েছে। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, যে বাগান দেয়াল দ্বারা বেষ্টিত তাকে বলা হয় (হাদীকাতুন) এবং যা দেয়াল দ্বারা বেষ্টিত নয় তাকে (হাদীকাতুন) বলা হয় না। সাহল ইবনে বাক্কার রহ. সুলাইমান ইবনে বিলাল সুত্রে আমর রহ. থেকে বর্ণনা করেন : এরপর বনু হারিস ইবনে খাযরাজ গোত্র, এরপর বনু সায়িদা গোত্র। এবং সুলাইমান রহ…….. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ পর্বত আমাদেরকে ভালবাসে, আমরাও তাকে ভালবাসি।

বুখারি হাদিস নং ১৩৯৬ – বৃষ্টির পানি ও প্রবাহিত পানি দ্বারা সিক্ত ভূমির উৎপাদিত ফসলে উপর উশর।

সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : বৃষ্টি ও প্রবাহিত পানি দ্বারা সিক্ত উৎপাদিত ফসল বা সেচ ছাড়া উর্বরতার ফলে উৎপন্ন ফসলের উপর উশর ওয়াজিব হয়। আর সেচ দ্বারা উৎপাদিত ফসলের উপর অর্ধ উশর। ইমাম বুখারী রহ. বলেন, এই হাদীসটি প্রথম হাদীসের ব্যাখ্যা স্বরূপ। কেননা, প্রথম হাদীস অর্থাৎ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে উশর বা অর্ধ উশর-এর ক্ষেত্র নির্দিষ্টরূপে বর্ণিত হয়নি। আর এই হাদীসে তার নির্দিষ্ট ক্ষেত্র বর্ণিত হয়েছে। রাবী নির্ভরযোগ্য হলে তাঁর বর্ণনায় অন্য সূত্রের বর্ণনা অপেক্ষা বর্ধিত অংশ থাকলে গ্রহণযোগ্য হয় এবং এ ধরনের বিস্তারিত বর্ণনা অস্পষ্ট বর্ণনার ফয়সালাকারী হয়। যেমন, উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ফাযল ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবাগৃহে সালাত আদায় করেননি। বিলাল রা. বলেন, সালাত আদায় করেছেন। এ ক্ষেত্রে বিলাল রা.-এর বর্ণনা গৃহীত হয়েছে আর ফাযল রা.-এর বর্ণনা গৃহীত হয়নি।

বুখারি হাদিস নং ১৩৯৭ – পাঁচ ওসাক-এর কম উৎপন্ন দ্রব্যের যাকাত নেই।

মুসাদ্দাদ রহ………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পাঁচ ওসাক-এর কম উৎপন্ন দ্রব্যের যাকাত নেই এবং পাঁচটির কম উটের যাকাত নেই। এমনিভাবে পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ রৌপ্যেরও যাকাত নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৩৯৮ – খেজুর সংগ্রহের সময় যাকাত দিতে হবে এবং শিশুকে যাকাতের খেজুর নেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে কি ?

উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান আসাদী রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খেজুর কাটার মৌসুমে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে (সাদকার) খেজুর আনা হত। অমুকে তার খেজুর নিয়ে আসত, অমুকে এর খেজুর নিয়ে আসত। এভাবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে খেজুর স্তুপ হয়ে গেল। হাসান ও হুসাইন রা. সে খেজুর নিয়ে খেলতে লাগলেন, তাদের একজন একটি খেজুর নিয়ে তা মুখে দিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন এবং তার মুখ থেকে খেজুর বের করে বললেন, তুমি কি জান না যে, মুহাম্মদের বংশধর (বনু হাশিম) সাদকা খায় না।

বুখারি হাদিস নং ১৩৯৯ – এমন ফল বা খেজুর গাছ অথবা (ফসল) সহ জমি কিংবা শুধু ফসল বিক্রয় করা যেগুলোর উপর যাকাত বা উশর ফরয হয়েছে আর ঐ যাকাত বা উশর অন্য ফল বা ফসল দ্বারা আদায় করা বা এমন ফল বিক্রয় করা যেগুলোর উপর সাদকা ফরয হয়নি।

হাজ্জাজ রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর ব্যবহারযোগ্য না হওয়া পর্যন্ত বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। যখন তাকে ব্যবহারযোগ্যতা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হল, তখন তিনি বললেন: ফল নষ্ট হওয়া থেকে নিরাপদ হওয়া।

যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড
যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড

হাদীস নং ১৪০০

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফল ব্যবহারযোগ্য না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

হাদীস নং ১৪০১

কুতাইবা রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রং ধরার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এর অর্থ লালচে হওয়া।

বুখারি হাদিস নং ১৪০২ – নিজের সাদকাকৃত বস্তু কেন যায় কি ? অন্যের সাদকাকৃত বস্তু ক্রয় করতে কোন দোষ নেই।

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করতেন যে, উমর ইবনে খাত্তাব রা. আল্লাহর রাস্তায় তাঁর একটি ঘোড়া সাদকা করেছিলেন। পরে তা বিক্রয় করা হচ্ছে জেনে তিনি নিজেই তা ক্রয় করার ইচ্ছা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তাঁর মত জানতে চাইলেন। তিনি বললেন : তোমার সাদকা ফিরিয়ে নিবে না। সে নির্দেশের কারণে ইবনে উমর রা.-এর অভ্যাস ছিল নিজের দেওয়া সাদকার বস্তু কিনে ফেললে সেটি সাদকা না করে ছাড়তেন না।

হাদীস নং ১৪০৩

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় দান করলাম। যার কাছে ঘোড়াটি ছিল সে এর হক আদায় করতে পারল না। তখন আমি তা ক্রয় করতে চাইলাম এবং আমার ধারণা ছিল যে, সে সেটি কম মূল্যে বিক্রি করবে। এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন : তুমি ক্রয় করবে না এবং তোমার সাদকা ফিরিয়ে নিবে না, সে তা এক দিরহামের বিনিময়ে দিলেও। কেননা, যে ব্যক্তি সাদকা ফিরিয়ে নেয় সে আপন বমি পুনরায় গলাধঃকরণ করে।

বুখারি হাদিস নং ১৪০৪ – নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর বংশধরদের সাদকা দেওয়া সম্পর্কে আলোচনা।

আদম রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাসান ইবনে আলী রা. সাদকার একটি খেজুর নিয়ে মুখে দিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ফেলে দেওয়ার জন্য কাখ কাখ (ওয়াক ওয়াক) বললেন। তারপর বললেন : তুমি কি জান না যে, আমরা সাদকা খাইনা।

বুখারি হাদিস নং ১৪০৫ – নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণীদের আযাদকৃত দাস-দাসীদেরকে সাদকা দেওয়া ।

সা’ই ইবনে উফাইর রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মায়মূনা রা. কর্তৃক আযাদকৃত জনৈক দাসীকে সাদকা স্বরূপ প্রদত্ত একটি বকরীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা এর চামড়া দিয়ে উপকৃত হও না কেন ? তারা বললেন :এটা তো মৃত। তিনি বললেন : এটা কেবল খাওয়া হারাম করা হয়েছে।

হাদীস নং ১৪০৬

আদম রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বারীরা নাম্নী দাসীকে আযাদ করার উদ্দেশ্যে কিনতে চাইলেন, তার মালিকরা বারীরার ‘ওয়ালা’ (অভিভাবকত্বের অধিকার)-এর শর্ত আরোপ করতে চাইল। আয়িশা রা.(বিষয়টি সম্পর্কে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উল্লেখ করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন : তুমি তাকে ক্রয় কর। কারণ যে (তাকে) আযাদ করবে ‘ওয়ালা’ তারই। আয়িশা রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একটু গোশত হাজির করা হল। আমি বললাম, এ বারীরাকে সাদকা স্বরূপ দেওয়া হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বারীরা’র জন্য সাদকা, আর আমাদের জন্য হাদিয়া।

বুখারি হাদিস নং ১৪০৭ – সাদকার প্রকৃতি পরিবর্তন হলে।

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………উম্মে আতিয়্যা আনসারীয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা রা.-এর নিকট গিয়ে বললেন : তোমাদের কাছে (খাওয়ার) কিছু আছে কি ? আয়িশা রা. বললেন : না, তবে আপনি সাদকা স্বরূপ নুসায়বাকে বকরীর যে গোশত পাঠিয়েছিলেন, সে তার কিছু পাঠিয়ে দিয়েছিল (তা ছাড়া কিছু নেই)। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : সাদকা তার যথাস্থানে পৌছেছে।

হাদীস নং ১৪০৮

ইয়াহইয়া ইবনে মূসা রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, বারীরা রা.-কে সাদকাকৃত গোশতের কিছু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেওয়া হল । তিনি বললেন, তা বারীরার জন্য সাদকা এবং আমাদের জন্য হাদীয়া। আবু দাউদ রহ.বলেন যে, শু’বা রহ. কাতাদা রহ. সূত্রে আনাস রা.-এর মাধ্যমে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪০৯ – ধনীদের থেকে সাদকা গ্রহণ করা এবং যে কোন স্থানের অভাবগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা।

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুআয ইবনে জাবাল রা.-কে ইয়ামানের (শাসক নিয়োগ করে) পাঠানোর সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন : তুমি আহলে কিতাবের কাছে যাচ্ছ। কাজেই তাদের কাছে যখন পৌঁছবে তখন তাদেরকে এ কথার দিকে দাওয়াত দিবে তারা যেন সাক্ষ্য দিয়ে বলে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। যদি তারা তোমার এ কাথা মেনে নেয় তবে তাদের বলবে যে, আল্লাহ তাদের উপর দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। যদি তারা এ কথাও মেনে নেয় তবে তাদের বলবে যে, আল্লাহ তাদের উপর সাদকা (যাকাত) ফরয করেছেন যা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং অভাবগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া হবে। তোমার এ কথা যদি তারা মেনে নেয়, তবে (কেবল) তাদের উত্তম মাল গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে এবং মজলুমের বদদু’আকে ভয় করবে। কেননা, তার (বদদু’আ) এবং আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা থাকে না।

হাদীস নং ১৪১০

হাফস ইবনে উমর রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকজন যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিজেদের সাদকা নিয়ে উপস্থিত হত তখন তিনি বলতেন : আল্লাহ ! অমুকের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। একবার আমার পিতা সাদকা নিয়ে হাজির হলে তিনি বললেন : হে আল্লাহ ! আবু আওফার বংশধরের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।

বুখারি হাদিস নং ১৪১১ – রিকাযে এক-পঞ্চমাংশ ওয়াজিব।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : চতুষ্পদ জন্তুর আঘাত দায়মুক্ত, কূপ (খননে শ্রমিকের মৃত্যুতে মালিক) দায়মুক্ত, খনি (খননে কেউ মারা গেলে মালিক) দায়মুক্ত। রিকাযে এক-পঞ্চমাংশ ওয়াজিব।

বুখারি হাদিস নং ১৪১২ – মহান আল্লাহর বাণী : “এবং যে সব কর্মচারী যাকাত উসুল করে” এবং যাকাত উসুলকারীর ইমামের নিকট হিসাব প্রদান।

ইউসুফ ইবনে মূসা রহ……….আবু হুমাইদ সাঈদী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আসদ গোত্রের ইবনে লুতবিয়া নামক জনৈক ব্যক্তিকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু সুলাইম গোত্রের যাকাত উসুল করার কাজে নিয়োগ করেন। তিনি ফিরে আসলে তার নিকট থেকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিসাব নিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪১৩ – যাকাতের উট ও তার দুধ মুসাফিরের জন্য ব্যবহার করা।

মুসাদ্দাদ রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উরাইনা গোত্রের কতিপয় লোকেরা মদীনার আবহাওয়া প্রতিকুল হওয়ায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে যাকাতের উটের কাছে গিয়ে উটের দুধ পান করার ও পেশাব (ব্যবহার করার) অনুমতি প্রদান করেন। তারা রাখালকে (নির্মমভাবে) হত্যা করে এবং উট হাঁকিয়ে নিয়ে (পালিয়ে) যায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের পশ্চাদ্ধাবনে লোক প্রেরণ করেন, তাদেরকে ধরে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাদের হাত পা কেটে দেন এবং তাদের চোখে তপ্ত শলাকা বিদ্ধ করেন আর তাদেরকে হাররা নামক উত্তপ্ত স্থানে ফেলে রাখেন। তারা (যন্ত্রণায়) পাথর কামড়ে ধরে ছিল। আবু কিলাবা, সাবিত ও হুমাইদ রহ. আনাস রা. থেকে হাদীস বর্ণনায় কাতাদা রহ-এর অনুসরণ করেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪১৪ – ইমাম নিজ হাতে যাকাতের উটে চিহ্ন দেওয়া।

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবু তালহাকে সাথে নিয়ে আমি একদিন সকালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাকে তাহনীক করানোর উদ্দেশ্যে গেলাম। তখন আমি তাকে নিজ হাতে একটি শলাকা দিয়ে যাকাতের উটের গায়ে চিহ্ন লাগাতে দেখলাম।

বুখারি হাদিস নং ১৪১৫ – সাদকাতুল ফিতর ফরয।

ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাকান রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, প্রত্যেক গোলাম, আযাদ, পুরুষ, নারী, প্রাপ্ত বয়স্ক, অপ্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিমের উপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদকাতুল ফিতর হিসাবে খেজুর হোক অথবা যব হোক এক সা’ পরিমাণ আদায় করা ফরয করেছেন এবং লোকজনের ঈদের সালাতে বের হওয়ার পূর্বেই তা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪১৬ – মুসলিমের গোলাম ও অন্যান্যের পক্ষ থেকে সাদকাতুল ফিতর আদায় করা।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, মুসলিমদের প্রত্যেক আযাদ, গোলাম পুরুষ ও নারীর পক্ষ থেকে সাদকাতুল ফিতর হিসাবে খেজুর অথবা যব-এর এক সা’ পরিমাণ আদায় করা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪১৭ – সাদকাতুল ফিতর এক সা’ পরিমাণ যব।

কাবীসা ইবনে উকবা রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক সা’ পরিমাণ যব দ্বারা সাদকাতুল ফিতর আদায় করতাম।

বুখারি হাদিস নং ১৪১৮ – সাদকাতুল ফিতর এক সা’ পরিমাণ খাদ্য।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক সা’ পরিমাণ খাদ্য অথবা এক সা’ পরিমাণ যব অথবা এক সা’ পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা’ পরিমাণ পনির অথবা এক সা’ পরিমাণ কিসমিস দিয়ে সাদকাতুল ফিতর আদায় করতাম।

বুখারি হাদিস নং ১৪১৯ – সাদকাতুল ফিতর এক সা’ পরিমাণ খেজুর।

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদকাতুল ফিতর হিসাবে এক সা’ পরিমাণ খেজুর বা এক সা’ পরিমাণ যব দিয়ে আদায় করতে নির্দেশ দেন। আবদুল্লাহ রা. বলেন, তারপর লোকেরা যবের সমপরিমাণ হিসেবে দু’ মুদ (অর্ধ সা’) গম আদায় করতে থাকে।

বুখারি হাদিস নং ১৪২০ – (সাদকাতুল ফিরত) এক সা’ পরিমাণ পরিমাণ কিসমিস।

আবদুল্লাহ ইবনে মুনীর রহ…….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এক সা’ খাদ্যদ্রব্য বা এক সা’ খেজুর বা এক সা’ যব বা এক সা’ কিসমিস দিয়ে সাদকাতুল ফিতর আদায় করতাম। মুআবিয়া রা.-এর যুগে যখন গম আমদানী হল তখন তিনি বললেন, এক মুদ গম (পূর্বোক্তগুলোর) দু’ মুদ-এর সমপরিমাণ বলে আমার মনে হয়।

বুখারি হাদিস নং ১৪২১ – ঈদের সালাতের পূর্বেই সাদকাতুল ফিতর আদায় করা।

আদম রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে ঈদের সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই সাদকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দেন।

বুখারি হাদিস নং ১৪২২ – ঈদের সালাতের পূর্বেই সাদকাতুল ফিতর আদায় করা।

মুআয ইবনে ফাযালা রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ঈদের দিন এক সা’ পরিমাণ খাদ্য সাদকাতুল ফিতর হিসাবে আদায় করতাম। আবু সাঈদ রা. বলেন, আমাদের খাদ্যদ্রব্য ছিল যব, কিসমিস, পনির ও খেজুর।

বুখারি হাদিস নং ১৪২৩ – আযাদ গোলামের পক্ষ থেকে সাদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।

আবু নুমান রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক পুরুষ, মহিলা, আযাদ ও গোলামের পক্ষ থেকে সাদকাতুল ফিতর অথবা (বলেছেন) সাদকা-ই রমাযান হিসাবে এক সা’ খেজুর বা এক সা’ যব আদায় করা ফরয করেছেন। তারপর লোকেরা অর্ধ সা’ গমকে এক সা’ খেজুরের সমপরিমাণ দিতে লাগল। (রাবী নাফি রহ. বলেন) ইবনে উমর রা. খেজুর (সাদকাতুল ফিতর হিসাবে) দিতেন। এক সময় মদীনায় খেজুর দুর্লভ হলে যব দিয়ে তা আদায় করেন। ইবনে উমর রা. প্রাপ্ত বয়স্ক ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সকলের পক্ষ থেকেই সাদকাতুল ফিতর আদায় করতেন, এমনকি আমার সন্তানদের পক্ষ থেকেও সাদকার দ্রব্য গ্রহীতাদের কে দিয়ে দিতেন এবং ঈদের এক দু’ দিন পূর্বেই আদায় করে দিতেন। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, আমার সন্তান অর্থাৎ নাফি রহ.-এর সন্তান। তিনি আরও বলেন, সাদকার মাল একত্রিত করার জন্য দিতেন, ফকিরদের দেওয়ার জন্য নয়।

বুখারি হাদিস নং ১৪২৪ – অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও প্রাপ্ত বয়স্কদের পক্ষ থেকে সাদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।

মুসাদ্দাদ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপ্রাপ্ত বয়স্ক, প্রাপ্ত বয়স্ক, আযাদ ও গোলাম প্রত্যেকের পক্ষ থেকে এক সা’ যব অথবা এক সা’ খেজুর সাদকাতুল ফিতর হিসাবে আদায় করা ফরয করে দিয়েছেন।

যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড
যাকাত অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৩য় খণ্ড

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন