যবাহ, শিকার ও বিসমিল্লাহ বলা অধ্যায়- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

যবাহ, শিকার ও বিসমিল্লাহ বলা অধ্যায়

যবাহ, শিকার ও বিসমিল্লাহ বলা অধ্যায়- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড  । পার্ট-২।

যবাহ, শিকার ও বিসমিল্লাহ বলা অধ্যায়- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

বুখারি হাদিস নং ৫০৮০-৫০৭৯

হাদিস নম্বরঃ ৫১১৫ | 5115 | ۵۱۱۵

পরিচ্ছদঃ ২১৯০. নহর ও যবাহ করা। আতা (র) এর উদ্ধৃতি দিয়ে উবন জুবায়জ বলেছেন, গলা বা সিনা ব্যতীত যবাহ কিংবা নহর করা যায় না। (আতা (র) বলেন) আমি বললামঃ যে জন্তুকে যবাহ করা হয় সেটিকে আমি যদি নহর করি, তাহলে যথেষ্ট হবে কি?

তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। কেননা, আল্লাহ তা’আলা গরুকে যবাহ করার কথা উল্লেখ করেছেন। কাজেই যে জন্তুকে নহর করা হয়, তা যদি তুমি যবাহ কর, তবে তা জায়িয। অবশ্য আমার নিকট নহর করাই অধিক পছন্দনীয়। যবাহ অর্থ হচ্ছে রগগুলোকে কেটে দেওয়া। তিনি বললেনঃ আমি তা মনে করি না।

তিনি বললেনঃ নাফি (র) আমাকে অবহিত করেছেন যে, ইবন উমর (রা) ‘নাখ’ থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেনঃ ‘নাখ’ হল হাড়ের ভিতরের সাদা রগ কেটে দেওয়া এবং তারপর ছেড়ে দেওয়া, যাতে জন্তুটি মারা যায়।

আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ স্মরণ কর, মূসা যখন তার সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ আল্লাহ তোমাদের গরু যবাহ করতে আদেশ দিচ্ছেন …… যদিও তারা যবাহ করতে উদ্যত ছিল না তবুএ তারা সেটিকে যবাহ করল”।

(বাকারঃ ৬৭-৭১) পর্যন্ত। সাঈদ (র) ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেনঃ গলা ও সিনার মধ্যে জবাহ করাকে জবাহ বলে। ইবন উমর, ইবন ‌আব্বাস ও আনাস (রা) বলেনঃ যদি মাথা কেটে ফেলে তাতে দোষ নেই।

৫১১৫। ইসহাক (রহঃ) … আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমলে আমরা একটি ঘোড়া যবাহ করেছি। তখন আমরা মদিনায় থাকতাম। পরে আমরা সেটি খেয়েছি।

হাদিস নম্বরঃ ৫১১৬ | 5116 | ۵۱۱٦

পরিচ্ছদঃ ২১৯০. নহর ও যবাহ করা। আতা (র) এর উদ্ধৃতি দিয়ে উবন জুবায়জ বলেছেন, গলা বা সিনা ব্যতীত যবাহ কিংবা নহর করা যায় না। (আতা (র) বলেন) আমি বললামঃ যে জন্তুকে যবাহ করা হয় সেটিকে আমি যদি নহর করি, তাহলে যথেষ্ট হবে কি?

তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। কেননা, আল্লাহ তা’আলা গরুকে যবাহ করার কথা উল্লেখ করেছেন। কাজেই যে জন্তুকে নহর করা হয়, তা যদি তুমি যবাহ কর, তবে তা জায়িয। অবশ্য আমার নিকট নহর করাই অধিক পছন্দনীয়।

যবাহ অর্থ হচ্ছে রগগুলোকে কেটে দেওয়া। তিনি বললেনঃ আমি তা মনে করি না। তিনি বললেনঃ নাফি (র) আমাকে অবহিত করেছেন যে, ইবন উমর (রা) ‘নাখ’ থেকে নিষেধ করেছেন।

তিনি বলেনঃ ‘নাখ’ হল হাড়ের ভিতরের সাদা রগ কেটে দেওয়া এবং তারপর ছেড়ে দেওয়া, যাতে জন্তুটি মারা যায়। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ স্মরণ কর, মূসা যখন তার সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ আল্লাহ তোমাদের গরু যবাহ করতে আদেশ দিচ্ছেন …… যদিও তারা যবাহ করতে উদ্যত ছিল না তবুএ তারা সেটিকে যবাহ করল”।

(বাকারঃ ৬৭-৭১) পর্যন্ত। সাঈদ (র) ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেনঃ গলা ও সিনার মধ্যে জবাহ করাকে জবাহ বলে। ইবন উমর, ইবন ‌আব্বাস ও আনাস (রা) বলেনঃ যদি মাথা কেটে ফেলে তাতে দোষ নেই।

৫১১৬। কুতায়বা (রহঃ) … আসমা বিনত আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমলে আমরা একটি ঘোড়া নহর করেছি। এরপর তা খেয়েছি। নহর কথাটির বর্ণনা এ সঙ্গে হিশামের সূত্র দিয়ে ওয়াকী ও ইবনু উয়ায়না অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

যবাহ, শিকার ও বিসমিল্লাহ বলা অধ্যায়- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড  । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫১১৭ | 5117 | ۵۱۱۷

পরিচ্ছদঃ ২১৯১. পশুর অংগহানি করা, বেঁধে তীর দ্বারা হত্যা করা ও চাঁদমারী করা মাকরূহ
৫১১৭। আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) … হিশাম ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আনাস (রাঃ) এর সঙ্গে হাকাম ইবনু আইয়্যুবের কাছে গেলাম।

তখন আনাস (রাঃ) দেখলেন, কয়েকটি বালক, কিংবা বর্ণনাকারী বলেছেন কয়েকজন তরুণ একটি মুরগি বেঁধে তার প্রতি তীর নিক্ষেপ করছে। আনাস (রাঃ) বললেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবন্তকে বেধে এভাবে তীর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫১১৮ | 5118 | ۵۱۱۸

পরিচ্ছদঃ ২১৯১. পশুর অংগহানি করা, বেঁধে তীর দ্বারা হত্যা করা ও চাঁদমারী করা মাকরূহ
৫১১৮। আহমাদ ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদের কাছে গিয়েছিলেন। এ সময় ইয়াহইয়া পরিবারের একটি বালক একটি মুরগীকে বেঁধে তার প্রতি তীর নিক্ষেপ করছিল।

ইবনু উমর (রাঃ) মুরগীটির দিকে এগিয়ে গিয়ে সেটি মুক্ত করে দিলেন। তারপর মুরগী ও বালকটিকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে গিয়ে বললেনঃ তোমরা তোমাদের বালকদের হত্যার উদ্দেশ্যে এভাবে বেঁধে পাখি মারতে বাধা দিও।

কেননা আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছিঃ তিনি হত্যার উদেশ্যে জন্তু জানোয়ার বেধে তীর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫১১৯ | 5119 | ۵۱۱۹

পরিচ্ছদঃ ২১৯১. পশুর অংগহানি করা, বেঁধে তীর দ্বারা হত্যা করা ও চাঁদমারী করা মাকরূহ
৫১১৯। আবূ নুমান (রহঃ) … সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্নিত।

তিনি বললেনঃ আমি ইবনু উমর (রাঃ) এর কাছে ছিলাম। এরপর আমরা একদল তরুণ, কিংবা তিনি বলেছেন, একদল মানুষের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম, তারা একটি মুরগি বেধে তার প্রতি তীর ছুড়ছে।

তারা যখন ইবনু উমর (রাঃ) কে দেখতে পেল, তখন তারা তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। ইবনু উমর (রাঃ) বললেনঃ এ কাজ কে করেছে? এ কাজ যে করে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর অভিশাপ দিয়েছেন।

শুবা (রহঃ) থেকে সুলায়মান অনুরূপ বর্ননা করেছেন। মিনহাল ইবনু উমার (রাঃ) এর সুত্রে বলেন, যে ব্যাক্তি পশুর অঙ্গহানি ঘটায় তাকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫১২০ | 5120 | ۵۱۲۰

পরিচ্ছদঃ ২১৯১. পশুর অংগহানি করা, বেঁধে তীর দ্বারা হত্যা করা ও চাঁদমারী করা মাকরূহ
৫১২০। হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) এর সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি লুটতরাজ ও অঙ্গহানি ঘটাতে নিষেধ করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫১২১ | 5121 | ۵۱۲۱

পরিচ্ছদঃ ২১৯২. মুরগীর গোশত
৫১২১। ইয়াহইয়া (রহঃ) … আবূ মূসা আশ-আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মুরগীর গোশত খেতে দেখেছি।

আবূ মা’মার (রহঃ) … যাহদাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) এর কাছে ছিলাম। জারমের এ গোত্র ও আমাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ছিল।

আমাদের কাছে খাবার আনা ছিল। তাতে ছিল মোরগের গোশত। দলের মধ্যে লালচে রংয়ের এক ব্যাক্তি বসা ছিল। সে খাবারের দিকে অগ্রসর হল। আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) তখন বলেনঃ এগিয়ে এসো, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মোরগের গোশত খেতে দেখেছি।

সে বললঃ আমি এটিকে এমন কিছু খেতে দেখেছি, যে কারণে তা খেতে আমি অপছন্দ করি। তখন আমি কসম করেছি যে, আমি তা খাব না। তিনি বললেনঃ এগিয়ে এসো, আমি তোমাকে জানাবো। কিংবা তিনি বলেছেন, আমি তোমাদের কাছে হাদীস বর্ননা করবো।

আমি আশআরীদের এক দল সহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম। এরপর আমি তার সামনে এসে উপস্থিত হই যখন তিনি ছিলেন রাগান্বিত।

তখন তিনি বণ্টন করছিলেন সাদাকার কিছু জানোয়ার। আমরা তার কাছে সাওয়ারী চাইলাম। তখন তিনি কসম করে বললেনঃ আমাদের কোন সাওসারী দিবেন না এবং বললেনঃ তোমাদের সাওয়ারীর জন্য দিতে পারি এমন কোন জন্তু আমার কাছে নেই।

তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গনীমতের কিছু উট আনা হল। তিনি বললেনঃ আশআরীগণ কোথায়? আশআরীগণ কোথায়?

আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) বলেনঃ এরপর তিনি আমাদের সাদাচুল বিশিষ্ট বলিষ্ট পাঁচটি উট দিলেন। আমরা কিছু দুরে গিয়ে অবস্থান করলাম।

তখন আমি আমার সঙ্গীদের বললাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কসমের কথা ভুলে গিয়েছিলেন। আল্লাহর কসম যদি আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার কসমের ব্যাপারে গাফিল রাখি, তাহলে আমরা কোনদিন সফলকাম হবো না।

কাজেই আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফিরে গিয়ে তাকে বলা হলঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা আপনার নিকট সাওয়ায়ী চেয়েছিলাম তখন আপনি আমাদের সাওসারী দেবেন না বলে কসম করেছিলেন। আমাদের মনে হয় আপনি আপনার কসমের কথা ভুলে গিয়েছেন।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ নিজেই তো আমাদের সাওয়ারীর জানোয়ার দিয়েছেন। আল্লাহর কসম, আমি যখন কোন ব্যাপারে কসম করি এরপর কসমের বিপরীত কাজ তার চাইতে মঙ্গলজনক মনে করি, তখন আমি মঙ্গলজনক কাজটিই করি এবং কাফফারা দিয়ে হালাল হয়ে যাই।

যবাহ, শিকার ও বিসমিল্লাহ বলা অধ্যায়- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড  । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫১২২ | 5122 | ۵۱۲۲

পরিচ্ছদঃ ২১৯৩. ঘোড়ার গোশত
৫১২২। হুমায়দী (রহঃ) … আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমরা একটি ঘোড়া নহর করলাম এবং সেটি খেলাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫১২৩ | 5123 | ۵۱۲۳

পরিচ্ছদঃ ২১৯৩. ঘোড়ার গোশত
৫১২৩। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খায়বারের দিনে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। আর ঘোড়ার গোশতের ব্যাপারে তিনি অনুমতি দিয়েছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫১২৪ | 5124 | ۵۱۲٤

পরিচ্ছদঃ ২১৯৪. গৃহপালিত গাধার গোশত। এ ব্যাপারে নবী (সাঃ) থেকে সালামা (রা) বর্ণিত হাদীস আছে
৫১২৪ সাদাকা (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, খায়বরের দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫১২৫ | 5125 | ۵۱۲۵

পরিচ্ছদঃ ২১৯৪. গৃহপালিত গাধার গোশত। এ ব্যাপারে নবী (সাঃ) থেকে সালামা (রা) বর্ণিত হাদীস আছে
৫১২৫। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। ইবনু মুবারক, উবায়দুল্লাহ (রহঃ) সুত্রে থেকে অনুরূপ বর্ননা করেছেন। উবায়দুল্লাহ সালিম সুত্রে আবূ উসামা (রহঃ) অনুরূপ বর্ননা করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫১২৬ | 5126 | ۵۱۲٦

পরিচ্ছদঃ ২১৯৪. গৃহপালিত গাধার গোশত। এ ব্যাপারে নবী (সাঃ) থেকে সালামা (রা) বর্ণিত হাদীস আছে
৫১২৬। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খায়বারের বছর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুতআ (স্বল্পকালের জন্য বিয়ে করা) থেকে এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫১২৭ | 5127 | ۵۱۲۷

পরিচ্ছদঃ ২১৯৪. গৃহপালিত গাধার গোশত। এ ব্যাপারে নবী (সাঃ) থেকে সালামা (রা) বর্ণিত হাদীস আছে
৫১২৭। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খায়বারের দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। তবে ঘোড়ার গোশত খেতে অনুমতি দিয়েছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫১২৮ | 5128 | ۵۱۲۸

পরিচ্ছদঃ ২১৯৪. গৃহপালিত গাধার গোশত। এ ব্যাপারে নবী (সাঃ) থেকে সালামা (রা) বর্ণিত হাদীস আছে
৫১২৮। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … বারাআ ও ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫১২৯ | 5129 | ۵۱۲۹

পরিচ্ছদঃ ২১৯৪. গৃহপালিত গাধার গোশত। এ ব্যাপারে নবী (সাঃ) থেকে সালামা (রা) বর্ণিত হাদীস আছে
৫১২৯। ইসহাক (রহঃ) … আবূ সা’লাবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়া হারাম করেছেন। ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে যুবায়দী ও উকায়ল অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

যুহরী (রহঃ) এর বরাত দিয়ে মালিক, মা’মার, মাজিশুন, ইউনুস ও ইবনু ইসহাক বলেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁত বিশিষ্ট সকল হিংস্র জন্তু খেতে নিষেধ করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৩০ | 5130 | ۵۱۳۰

পরিচ্ছদঃ ২১৯৪. গৃহপালিত গাধার গোশত। এ ব্যাপারে নবী (সাঃ) থেকে সালামা (রা) বর্ণিত হাদীস আছে
৫১৩০। মুহাম্মদ ইবনু সালাম (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জনৈক আগন্তুক এসে বললঃ গাধাগুলো খেয়ে ফেলা হচ্ছে।

তারপর আরেকজন আগন্তক এসে বললঃ গাধাগুলো খেয়ে ফেলা হচ্ছে। তারপর আরেকজন আগন্তক এসে বললঃ গাধাগুলোকে নিঃশেষ করে দেওয়া হচ্ছে।

তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণাকারীকে ঘোষণার আদেশ দিলেন। সে লোকদের মধ্যে ঘোষণা দিলঃ আল্লাহ ও তার রাসুল তোমাদের গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। কেননা, এগুলো ঘৃন্য। তখন ডেকচিগুলোকে উলটিয়ে দেয়া হল, অথচ তাতে গোশত টগবগ করছিল।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৩১ | 5131 | ۵۱۳۱

পরিচ্ছদঃ ২১৯৪. গৃহপালিত গাধার গোশত। এ ব্যাপারে নবী (সাঃ) থেকে সালামা (রা) বর্ণিত হাদীস আছে
৫১৩১। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমি জাবির ইবনু যায়দকে জিজ্ঞাসা করলামঃ মনে করে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

তিনি বললেনঃ হাকাম ইবনু আমর গিফারীও বসরায় আমাদের কাছে এ কথা বলতেন। কিন্তু ইবনু আব্বাস (রাঃ) তা অস্বীকার করেছেন। তারপর তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেছেনঃ “বলুন আমার প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়েছে তাতে, লোকজন যা আহার করে তার মধ্যে আমি কিছুই নিষিদ্ধ পাই না … শেষ পর্যন্ত। (সুরা আন-আমঃ ১৪৫)।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৩২ | 5132 | ۵۱۳۲

পরিচ্ছদঃ ২১৯৫. মাংসভোজী সর্বপ্রকার হিংস্র জন্তু খাওয়া
৫১৩২। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ সা’লাবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁত বিশিষ্ট সর্বপ্রকার হিংস্র জন্তু খেতে নিষেধ করেছেন। যুহরী (রহঃ) থেকে ইউনুস, মা’মার ইবনু উয়ায়না ও মাজিশুন অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

যবাহ, শিকার ও বিসমিল্লাহ বলা অধ্যায়- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড  । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৩৩ | 5133 | ۵۱۳۳

পরিচ্ছদঃ ২১৯৬. মৃত জন্তুর চামড়া
৫১৩৩। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি মৃত বকরীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা এটির চামড়াটি কেন কাজে লাগালে না? লোকজন উক্তি করলঃ এটি মৃত জানোয়ার। তিনি বললেনঃ শুধু তার খাওয়া হারাম করা হয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৩৪ | 5134 | ۵۱۳٤

পরিচ্ছদঃ ২১৯৬. মৃত জন্তুর চামড়া
৫১৩৪। খাত্তাব ইবনু উসমান (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি মৃত বকরীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ এটির মালিকের কি হল? যদি এটির চামড়া থেকে তারা উপকার গ্রহণ করত।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৩৫ | 5135 | ۵۱۳۵

পরিচ্ছদঃ ২১৯৭. কস্তুরী
৫১৩৫। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন আঘাত প্রাপ্ত লোক যে আল্লাহর পথে আঘাত পায়, সে কিয়ামতেয় দিন এমতাবস্থায় আসবে যে তার ক্ষত স্থান থেকে টকটকে লাল রক্ত ঝরছে এবং তার সুগন্ধি হবে কস্তুরীর সুগন্ধির ন্যায়।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৩৬ | 5136 | ۵۱۳٦

পরিচ্ছদঃ ২১৯৭. কস্তুরী
৫১৩৬। মুহাম্মাদ ইবনু আলা (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উপমা হল কস্তুরী বহনকারী (আতর বিক্রেতা) ও কামারের হাপরের ন্যায়।

মৃগ-কস্তুরী বহনকারী হযত তোমাকে কিছু দান করবে কিংবা তার কাছ থেকে তুমি কিছু খরিদ করবে কিংবা তার কাছ থেকে তুমি লাভ করবে সুবাস। আর কামারের হাপর হয়ত তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে কিংবা তুমি তার কাছ থেকে পাবে দুর্গন্ধ।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৩৭ | 5137 | ۵۱۳۷

পরিচ্ছদঃ ২১৯৮. খরগোশ
৫১৩৭। আল ওয়ালীদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা ‘মাররুয যাহরান’ নামক স্থানে একটি খরগোশ ধাওয়া করলাম। তখন লোকজনও এর পেছনে ছুটল এবং তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ল। এরপর আমি সেটিকে ধরতে সক্ষম হালাম এবং আবূ তালহার নিকই নিয়ে এলাম।

তিনি এটিকে যবাহ করলেন এবং তার পিছনের অংশ কিংবা তিনি বলেছেন দুই রান নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন এবং তিনি তা গ্রহণ করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৩৮ | 5138 | ۵۱۳۸

পরিচ্ছদঃ ২১৯৯. গুঁই সাপ
৫১৩৮। ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গুই সাপ আমি খাই না, আর হারামও বলিনা।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৩৯ | 5139 | ۵۱۳۹

পরিচ্ছদঃ ২১৯৯. গুঁই সাপ
৫১৩৯। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মায়মুনা (রাঃ) এর গৃহে গেলেন। সেখানে ভুনা করা গুই পেশ করা হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে দিকে হাত বাড়ালেন।

এ সময় জনৈকা মহিলা বললঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানিয়ে দাও, তিনি কি জিনিস খেতে যাচ্ছেন। তখন তারা বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! এটি গুই সাপ।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনে হাত সরিয়ে নিলেন। খালিদ (রাঃ) বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! এটি কি হারাম? তিনি বললেনঃ না, হারাম নয়। তবে আমাদের অঞ্চলে এটি নেই।

তাই আমি একে ঘৃণা করি। খালিদ (রাঃ) বলেনঃ এরপর আমি তা আমার দিকে এনে খেতে লাগলাম। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকিয়ে দেখছিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৪০ | 5140 | ۵۱٤۰

পরিচ্ছদঃ ২২০০. যদি জমাট কিংবা তরল ঘিয়ের মধ্যে ইঁদুর পড়ে
৫১৪০। হুমায়দী (রহঃ) … মায়মুনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একটি ইঁদুর ঘিয়ের মধ্যে পড়ে মরে গিয়েছিল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ ইঁদুরটি এবং তার আশ-পাশের অংশ ফেলে দাও।

এরপর তা খাও। সুফিয়ান (রহঃ) এর কাছে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, মা’মার এ হাদীসটি যুহরী সাঈদ ইবনু মূসাইয়্যাব, আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর সনদে বর্ননা করেন।

তিনি বললেনঃ আমি যুহরী (রহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনু আব্বাস, মায়মুনা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছেন। তিনি আরো বলেন যে, আমি যুহরী থেকে উক্ত সনদে এ হাদীসটি একাধিকবার শুনেছি।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৪১ | 5141 | ۵۱٤۱

পরিচ্ছদঃ ২২০০. যদি জমাট কিংবা তরল ঘিয়ের মধ্যে ইঁদুর পড়ে
৫১৪১। আবদান (রহঃ) … যুহরী (রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয় জমাট কিংবা তরল তৈল বা ঘিয়ের মধ্যে ইঁদুর ইত্যাদি জানোয়ার পড়ে মারা গেলে তার কি হুকুম?

তিনি বললেনঃ আমাদের কাছে উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ সূত্রে হাদীস পৌছেছে যে, ঘিয়ের মধ্যে পড়ে একটি ইদুর মারা গিয়েছিল, সেটির ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ দিয়েছিলেন, ইদুর ও এর সংলগ্ন অংশ ফেলে দিতে, এরপর তা ফেলে দেওয়া হয় এবং খাওয়া হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৪২ | 5142 | ۵۱٤۲

পরিচ্ছদঃ ২২০০. যদি জমাট কিংবা তরল ঘিয়ের মধ্যে ইঁদুর পড়ে
৫১৪২। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … মায়মুনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এমন একটি ইঁদুর সম্পর্কে যা ঘিয়ের মধ্যে পড়েছিল।

তখন তিনি বলেছিলেন ইঁদুরটি এবং তার আশপাশের অংশ ফেলে দাও এবং অবশিষ্ট অংশ খাও।

যবাহ, শিকার ও বিসমিল্লাহ বলা অধ্যায়- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড  । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৪৩ | 5143 | ۵۱٤۳

পরিচ্ছদঃ ২২০১. পশুর মুখে চিহ্ন লাগানো ও দাগানো
৫১৪৩। উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি জানোয়ারের মুখে চিহ্ন লাগানোকে মাকরূহ মনে করতেন।

ইবনু উমর (রাঃ) আরো বলেছেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানোয়ারের মুখে প্রহার করতে নিষেধ করেছেন। আনকাযী (রহঃ) হানযালা সূত্রে কুতায়বা (রহঃ) অনুরূপ বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ تُضْرَبُ الصُّورَةُ অর্থাৎ মুখে প্রহার করতে নিষেধ করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৪৪ | 5144 | ۵۱٤٤

পরিচ্ছদঃ ২২০১. পশুর মুখে চিহ্ন লাগানো ও দাগানো
৫১৪৪। আবুল ওয়ালীদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার এক ভাইকে নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম, যেন তিনি তাকে তাহনীক করেন অর্থাৎ খেজুর বা অন্য কিছু একবার চিবিয়ে তার মুখে দিয়ে দেন।

এ সময়ে তিনি তার উট বাধার স্থানে ছিলেন। তখন আমি তাকে দেখলাম তিনি একটি বকরীর গায়ে চিহ্ন লাগাচ্ছেন। বর্ননাকারী বলেন আমার মনে হয় তিনি (হিশাম) বলেছেন বকরীর কানে চিহ্ন লাগাচ্ছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৪৫ | 5145 | ۵۱٤۵

পরিচ্ছদঃ ২২০২. কোন দল মালে গণীমত লাভ করার পর যদি তাদের কেউ সাথীদের অনুমতি ছাড়া কোন বকরী কিংবা উট যবাহ করে ফেলে তাহলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে বর্ণিত রাফি (রা) এর হাদীস অনুসারে সেই গোশত খাওয়া যাবে না। চোরের যবাহকৃত পশুর ব্যাপারে তাউস ও ইকরিমা (র) বলেছেন, তা ফেলে দাও।

৫১৪৫। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললাম। আগামী দিন আমরা শক্রর মুকাবিলা করবো; অথচ আমাদের সঙ্গে কোন ছুরি নেই। তিনি বললেনঃ সতর্ক দৃষ্টি রাখো কিংবা তিনি বলেছেনঃ জলদি করো।

যে জিনিস রক্ত বহায় এবং যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, সেটি খাও। যতক্ষন না সেটি দাত কিংবা নখ হয়। এ ব্যাপারে তোমাদের জানোাচ্ছি, দাঁত হলো হাড়, আর নখ হল হাবশীদের ছুরি।

দলের দ্রুতগামী লোকেরা আগে বেড়ে গেল এবং গনীমতের মালামাল লাভ করল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন লোকজনের পেছনে। তারা ডেকচি চড়িয়ে দিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তা উল্টিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন, তারপর সেগুলো উল্টিয়ে দেয়া হল।

এরপর তিনি তাদের মধ্যে মালে গনীমত বণ্টন করলেন এবং দশটি বকরীকে একটি উটের সমান গন্য করলেন। দলে অগ্রবর্তীদের কাছ থেকে একটি উট ছুটে গিয়েছিল।

অথচ তাদের সঙ্গে কোন অশ্বারোহী ছিল না। এ অবস্থায় এক ব্যাক্তি উটটির প্রতি তীর নিক্ষেপ করলে আল্লাহ উটটিকে থামিয়ে দিলেন।

তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ সকল চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে বন্য পশুর স্বভাব রয়েছে। কাজেই, তন্মধ্যে কোনটি যদি এরুপ করে, তাহলে তার সঙ্গে অনুরূপ ব্যবহার করবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫১৪৬ | 5146 | ۵۱٤٦

পরিচ্ছদঃ ২২০৩. কোন দলের উট ছুটে গেলে তাদের কেউ যদি সেটিকে তাদের উপকারের উদ্দেশ্যে তীর নিক্ষেপ করে এবং হত্যা করে, তাহলে রাফি (রা) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর হাদীস অনুযায়ী তা জায়েয
৫১৪৬। মুহাম্মাদ ইবনু সালাম (রহঃ) … রাফী ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্নিত।

তিনি বলেন এক সফরে আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তখন উটগুলোর মধ্য থেকে একটি উট পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন তখন এক ব্যাক্তি সেটির প্রতি তীর নিক্ষেপ করলে আল্লাহ সেটিকে থামিয়ে দেন। তিনি বলেন এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ সকল পশুর মধ্যে বন্যপশুর চাঞ্চল্য আছে। সুতরাং তার মধ্যে যেটি তোমাদের উপর প্রবল হয়ে উঠলে সেটির সঙ্গে অনুরূপ ব্যবহার করো।

তিনি বলেন আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা অনেক সময় যুদ্ধ অভিযানে বা সফরে থাকি, যবাহ করতে ইচ্ছা করি কিন্তু ছুরি থাকে না।

তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আঘাত করো এমন জিনিস দ্বারা যা রক্ত প্রবাহিত করে অথবা তিনি বলেছেনঃ এমন জিনিস দ্বারা যা রক্ত ঝরায় এবং যার উপরে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে সেটি খাও, তবে দাঁত ও নখ ব্যতীত। কেননা দাঁত হল হাড়, আর নখ হল হাবশীদের ছুরি।

যবাহ, শিকার ও বিসমিল্লাহ বলা অধ্যায়- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড  । পার্ট-২।

২২০৪. পরিচ্ছেদঃ অনন্যোপায় ব্যক্তির খাওয়া। আল্লাহ তা’আলার বাণী: “হে মু’মিনগণ, তোমাদের আমি সেসব পবিত্র বস্তু দিয়েছি তা থেকে তোমরা আহার কর, এবং আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

যদি তোমরা শুধু তাঁরই ইবাদত কর। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ মৃত জন্তু, রক্ত, শূকর- মাংস এবং যার উপর আল্লাহর নাম ব্যতীত অন্যের নাম উচ্চারিত হয়েছে, তা তোমাদের হারাম করেছেন।

কিন্তু যে অনন্যোপায় অথচ নাফরমান কিংবা সীমালংঘনকারী নয়, তার কোন পাপ হবে না ( ২: ১৭২-১৭৩)। আল্লাহ্‌ আরো বলেন: তোমরা আল্লাহর নিদর্শনে বিশ্বাসী হলে, যে জন্তুর উপর তাঁর নাম নেওয়া হয়েছে, তা আহার কর। তোমাদের কী হয়েছে যে, যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে, তোমরা তা আহার করবে না?

যা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ তা তিনি বিশেষভাবে-ই তোমাদের নিকট বিবৃত করেছেন তবে তোমরা নিরুপায় হলে তা আলাদা। অনেক অজ্ঞানতাবশত: নিজেদের খেয়াল-খুশী দ্বারা অবশ্যই অন্যকে বিপদগামী করে, আপনার প্রতিপালক সীমালংঘনকারীদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত (৬: ১১৮-১১৯)।

আল্লাহ আরো বলেন: “বলুন, আমার প্রতি যে প্রত্যাদেশ হয়েছে তাতে লোকে যা আহার করে তার মধ্যে আমি কিছুই নিষিদ্ধ পাই না, মরা, বহমান রক্ত ও শূকরের মাংস ব্যতীত- কেননা, এটা অবশ্যই অপবিত্র”- অথবা যা অবৈধ, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গের কারণে, “তবে কেউ অবাধ্য না হয়ে এবং সীমালংঘন না করে তা গ্রহণে নিরুপায় হলে, আপনার প্রতিপালক ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (৬: ১৪৫)।

আল্লাহ আরো বলেনঃ আল্লাহ তোমাদের যা দিয়েছেন তার মধ্যে যা বৈধ ও পবিত্র তা তোমরা আহার কর এবং তোমরা যদি কেবল আল্লাহরই ইবাদত কর, তবে তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

আল্লাহ তো কেবল মরা, রক্ত, শূকর-মাংস এবং যা যবাহকালে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যের নাম নেওয়া হয়েছে, তা-ই তোমাদের জন্য হারাম করেছেন। কিন্তু কেউ অন্যায়কারী কিংবা সীমালংঘনকারী না হয়ে অনন্যোপায় হলে, আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়াল (১৬:১১৪-১১৫)।

আরও পড়ুনঃ

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

কলহ-বিবাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

অংশীদারিত্ব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বন্ধক অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

মন্তব্য করুন