মুকাতাব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

মুকাতাব অধ্যায়

 মুকাতাব অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

মুকাতাব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৯১ – মুকাতাবের উপর যে সব শর্তারোপ করা জায়িয এবং আল্লাহর কিতাবে নেই এমন শর্তারোপ করা।

হাদীস নং ২৩৯১

কুতাইবা রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, বারীরা রা. একবার তার মুকাতাবাতের ব্যাপারে সাহায্য চাইতে আসলেন। তখন পর্যন্ত তিনি মুকাতাবাতের অর্থ থেকে কিছুই আদায় করেননি। আয়িশা রা. তাকে বললেন, তুমি তোমার মালিকের কাছে ফিরে যাও। তারা সম্মত হলে আমি তোমার মুকাতাবাতের প্রাপ্য পরিশোধ করে দিবে।

আর তোমার ওয়ালার অধিকার আমার হবে। বারীরা রা. কথাটি তার মালিকের কাছে পেশ করলেন। কিন্তু তারা তা অস্বীকার করল এবং বলল, তিনি যদি তোমাকে আযাদ করে সাওয়াব পেতে চান, তবে করতে পারেন। ওয়ালা আমাদেরই থাকবে।

আয়িশা রা. বিষয়টি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে পেশ করলে তিনি বললেন, তুমি খরিদ করে আযাদ করে দাও। কেননা যে আযাদ করবে, সেই ওয়ালার অধিকারী হবে।

(রাবী বলেন) তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাহাবীগণের সমাবেশ) দাঁড়িয়ে বললেন, মানুষের কি হল, এমন সব শর্তারোপ করে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই।

যে এমন শর্তারোপ করবে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তা তার জন্য প্রযোজ্য হবে না; যদিও সে শতবার শর্তারোপ করে। কেননা আল্লাহর দেওয়া শর্তই সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য।

 মুকাতাব অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৯২

হাদীস নং ২৩৯২

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উম্মুল মুমিনীন আয়িশা রা. আযাদ করার জন্য জনৈকা বাদীকে খরিদ করতে চাইলেন।

কিন্তু তার মালিক পক্ষ বলল, এই শর্তে (আমরা সম্মত) যে, ওয়ালা আমাদেরই থাকবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ শর্তারোপ যেন তোমাকে তা খরিদ করতে বিরত না রাখে। কেননা ওয়ালা তারই জন্য, যে আযাদ করবে।

বুখারি হাদিস নং ২৩৯৩ – মানুষের কাছে মুকাতাবের সাহায্য চাওয়া ও যাচনা করা।

হাদীস নং ২৩৯৩

উবায়দ ইবনে ইসমাঈল রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বারীরা রা. এসে বললেন, আমি প্রতি বছর এক উকিয়া করে নয় উকিয়া আদায় করার শর্তে কিতাবাতের চুক্তি করেছি।

এ ব্যাপারে আপনি আমাকে সাহায্য করুন। আয়িশা রা. বললেন, তোমার মালিক পক্ষ সম্মত হলে আমি উক্ত পরিমাণ এককালীন দান করে তোমাকে আযাদ করতে পারি এবং তোমার ওয়ালা হবে আমার জন্য। তিনি তার মালিকের কাছে গেলেন, তারা তার এ শর্ত মানতে অস্বীকার করল।

তখন তিনি বললেন, বিষয়টি আমি তাদের কাছে উত্থাপন করেছিলাম, কিন্তু ওয়ালা তাদেরই হবে, এ শর্ত ছাড়া তারা মানতে অসম্মতি প্রকাশ করেছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টি শুনে এ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন। আমি ঘটনাটি তাকে খুলে বললাম।

তখন তিনি বললেন, তাকে নিয়ে নাও এবং আযাদ করে দাও। ওয়ালা তাদের হবে, এ শর্ত মেনে নাও, (এতে কিছু আসে যায় না) কেননা, যে আযাদ করে ওয়ালা তারই হবে।

আয়িশা রা. বলেন, এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের সমাবেশে দাঁড়িয়ে আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠ করলেন আর বললেন, তোমাদের কিছু লোকের কি হল ?

এমন শর্ত তারা আরোপ করে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই। এমন কোন শর্ত, যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তা বাতিল বলে গন্য হবে; এমনকি সে শর্ত শতবার আরোপ করলেও।

কেননা আল্লাহর হুকুমই যথার্থ এবং আল্লাহর শর্তই নির্ভরযোগ্য। তোমাদের কিছু লোকের কি হল? তারা এমন কথা বলে যে, হে অমুক! তুমি আযাদ করে দাও, ওয়ালা আমারই থাকবে। অথচ যে আযাদ করবে সে-ই ওয়ালার অধিকারী হবে।

 মুকাতাব অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৯৪ – মুকাতাবের সম্মতি সাপেক্ষে তাকে বিক্রি করা।

হাদীস নং ২৩৯৪

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………আমরা বিনতে আবদুর রহমান রহ. থেকে বর্ণিত যে, বারীরা রা. একবার উম্মুল মুমিনীন আয়িশা রা. -এর কাছে সাহায্য চাইতে আসলেন।

তখন তিনি বললেন, তোমার মালিক পক্ষ চাইলে আমি তাদের এক সাথেই তোমার মূল্য দিয়ে দিব এবং তোমাকে আযাদ করে দিব। বারীরা রা. মালিক পক্ষকে তা বললেন, কিন্তু জবাবে তারা বলল, তোমার ওয়ালা আমাদের থাকবে, এছাড়া আমরা সম্মত নই।

(রাবী) মালিক রহ. বলেন, ইয়াহইয়া রহ. বলেন, আমরা রহ. ধারণা করেন যে, আয়িশা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তা উত্থাপন করেছিলেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, তুমি তাকে খরিদ করে আযাদ করে দাও। কেননা ওয়ালা তারই হবে, যে আযাদ করে।

 মুকাতাব অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৯৫ – মুকাতাবু যদি (কাউকে) বলে, আমকে ক্রয় করে আযাদ করে দিন, আর সে যদি ঐ উদ্দেশ্যে তাকে ক্রয় করে।

হাদীস নং ২৩৯৫

আবু নুআঈম রহ……….আয়মান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রা.-এর কাছে গিয়ে বললাম, আমি উতবা ইবনে আবু লাহাবের গোলাম ছিলাম। সে মারা গেলে তার ছেলেরা আমার মালিক হল।

আর তারা আমাকে ইবনে আবু আমর মাখযুমীর নিকট বিক্রি করেন। ইবনে আবু আমর আমাকে আযাদ করে দিলেন। কিন্তু উতবার ছেলেরা ওয়ালার শর্ত আরোপ করল।

তখন আয়িশা রা. বললেন, মুকাতাব থাকা অবস্থায় বারীরা রা. একবার তার কাছে এসে বললেন, আমাকে ক্রয় করে আযাদ করে দিন। তিনি বললেন, হ্যাঁ।

সে বলল, তাঁরা ওয়ালার শর্ত আরোপ ব্যতিরেকে আমাকে বিক্রি করবে না। তিনি বললেন, আমার তা প্রয়োজন নেই । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে কথা শুনলেন, কিংবা তার কাছে এ সংবাদ পৌঁছল। তখন তিনি আয়িশা রা.-এর কাছে এ ব্যাপারে আলোচনা করলেন। আর আয়িশা রা. বারীরা রা.-কে যা বলেছিলেন তাই জানালেন।

তখন তিনি বললেন, তুমি তাকে ক্রয় করে আযাদ করে দাও, আর তাদেরকে যত ইচ্ছা শর্তারোপ করতে দাও। পরে আয়িশা রা. তাকে খরিদ করে আযাদ করে দিলেন এবং তার মালিকপক্ষে ওয়ালার শর্তারোপ করল।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওয়ালা তারই থাকবে, যে আযাদ করে যদিও তার মালিক পক্ষ শত শর্তারোপ করে থাকে।

আরও পড়ুনঃ

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বন্ধক অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

অংশীদারিত্ব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

জুলুম ও কিসাস অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

 

মন্তব্য করুন