মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায়

মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

Table of Contents

মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬৬৪ – উশায়রা বা উসায়রার যুদ্ধ।

হাদীস নং ৩৬৬৪

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু ইসহাক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যায়েদ ইবনে আরকামের পাশে ছিলাম। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়ছি যুদ্ধ করেছেন? তিনি বললেন, উনিশটি।

পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হল আপনি তাঁর সাথে কতটি যুদ্ধে শরীক ছিলেন? তিনি বললেন, সতেরটিতে। (আবু ইসহাক বলেন) আমি বললাম, এসব যুদ্ধের মধ্যে সর্বপ্রথম সংঘটিত হয়েছিল কোনটি?

তিনি বললেন, উশায়রা বা উসায়রা। (বর্ণনাকারী বলেন) বিষয়টি আমি কাদাতা রা.-এর কাছে আলোচনা করলে তিনিও বললেন, উশায়রা (এর যুদ্ধই সর্বপ্রথম সংঘটিত হয়েছিল)।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৬৫ – বদর যুদ্ধে নিহতদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভবিষ্যৎ বাণী।

হাদীস নং ৩৬৬৫

আহ্‌মাদ ইব্‌ন উসমান(রহঃ) সা‘দ ইব্‌ন মু‘ইয়ায (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন। তাঁর ও উমাইয়া ইব্‌ন খালফের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল।

উমাইয়া মদিনায় আসলে সা‘দ ইব্‌ন মু’আযের অতিথি হত এবং সা‘দ (রাঃ) মক্কায় গেলে উমাইয়ার আতিথেয়তা গ্রহণ করতেন। রাসূল (সাঃ) মদিনায় হিজতর করার পর একদা সা‘দ (রাঃ) উমরা করার উদ্দেশ্যে মক্কা গেলেন এবং উমাইয়ার বাড়ীতে অবস্থান করলেন।

তিনি উমাইয়াকে বললেন, আমাকে এমন একটি নিরিবিলি সময়ের কথা বল যখন আমি (শান্তভাবে) বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারব। তাই দ্বি-প্রহরের সময় একদিন উমাইয়া তাঁকে সাথে নিয়ে বের হল, যখন তাঁদের সাথে আবূ জেহেলের দেখা হল।

তখন সে ( আবূ জেহেল উমাইয়াকে লক্ষ্য করে) বলল, হে আবূ সাফ্‌ওয়ান! তোমার সাথে ইনি কে? সে বলল, ইনি সা’দ (ইব্‌ন মু’আয)।

তখন আবূ জেহেল তাকে (সা’দ ইব্‌ন মু‘আযকে) লক্ষ্য করে বলল, আমি তোমাকে নিঃশঙ্ক চিত্তে ও নিরাপদে মক্কায়(বায়তুল্লাহর)তাওয়াফ করতে দেখেছি অথচ তোমরা ধর্মত্যাগীদের আশ্রয় দান করেছ এবং তাদেরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করে চলেছ।

আল্লাহর কসম, (এ মুহূর্তে) তুমি আবূ সাফওয়ানের (উমাইয়া) সঙ্গে না থাকলে তোমার পরিজনদের কাছে নিরাপদে ফিরে যেতে পারতে না। সা’দ (রাঃ) এর চেয়েও অধিক উচ্চস্বরে বললেন, আল্লাহর কসম, তুমি এতে যদি আমাকে বাঁধা দাও তাহলে আমিও এমন একটি ব্যাপারে তোমাকে বাঁধা দেব যা তোমার জন্য এর চেয়েও ভীষণ কঠিন হবে।

আর তা হল, মদিনার উপকন্ঠ দিয়ে তোমার(ব্যবসা বাণিজ্যের বৃহত্তম কেন্দ্র সিরিয়ার) যাতায়তের রাস্তা (বন্ধ করে দেব)। তখন উমাইয়া তাকে বলল, হে সা’দ (রাঃ) এ উপত্যাকার প্রধান সর্দার আবূল হাকওমের( আবূ জেহেল) সাথে এরূপ উচ্চস্বরে কথা বলিও না।

তখন সা’দ (রাঃ) বললেন, হে উমাইয়া! তুমি চুপ কর। আল্লাহর কসম, আমি রাসুল্লুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি যে, তারা তোমার হত্যাকারী। উমাইয়া জিজ্ঞাসা করল, মক্কার বুকে? সা’দ (রাঃ) বললেন, তা জানিনা।

উমাইয়া এতে ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল। এরপর উমাইয়া বাড়ী গিয়ে তার(স্ত্রীকে ডেকে) বলল, হে উম্মে সাফওয়ান সা’দ আমার সম্পর্কে কি বলছে জানো? সে বলল, সা’দ তোমাকে কি বলেছে? উমাইয়া বলল, সে বলেছে যে, রাসূল (সাঃ) তাদেরকে জানিয়েছে যে, তারা আমার হত্যাকারী।

তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তা কি মক্কায়? সে(সা’দ) বলল, তা আমি জানিনা। এরপর উমাইয়া বলল, আল্লাহর কসম, আমি কখনো মক্কা থেকে বের হব না।

কিন্তু বদর যুদ্ধের দিন সমাগত হলে আবূ জেহেল সর্বস্তরের জনসাধারণকে সদলবলে বের হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলল, তোমরা তোমাদের কাফেলা রক্ষা করার জন্য অগ্রসর হও। উমাইয়া(মক্কা ছেড়ে) বের হওয়াকে অপছন্দ করলে আবূ জেহেল এসে তাকে বলল, হে আবূ সাফওয়ান।

তুমি এ উপত্যাকার আধিবাসিদের(একজন) নেতা, তাই লোকেরা যখন দেখবে(তুমি যুদ্ধ যাত্রায়) পেছনে বয়ে গেছ তখন তারাও তোমার সাথে এ বলে পেছনেই থেকে যাবে।

এ বলে আবূ জেহেল তার সাথে পীড়াপীড়ি করতে থাকলে সে বলল, তুমি যেহেতু আমাকে বাধ্য করে ফেলেছ তাই খোদার কসম অবশ্যই আমি এমন একটি উষ্ট্র ক্রয় করব যা মক্কার সবচাইতে ভাল।

এরপর উমাইয়া(তার স্ত্রীকে) বলল, হে উম্মে সাফওয়ান; আমার সফরের ব্যবস্থা কর। তখন তার স্ত্রী তাকে বলল, হে আবূ সাফওয়ান! তোমার মদিনাবাসী ভাই যা বলেছিলেন তা তুমি ভূলে গিয়েছ কি? সে বলল, না।

আমি তাদের সাথে কিছু দূর যেতে চাই মাত্র। রওয়ানা হওয়ার পর রাস্তায় যে মন্‌যিলেই উমাইয়া কিছুক্ষণ অবস্থান করেছে সেখানেই সে তার উট বেঁধে রেখেছে, গোটা পথেই এরূপ সে করল পরিশেষে বদর প্রান্তরে আল্লাহর হুকুমে সে মারা গেল।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৬৬ – বদর যুদ্ধের ঘটনা।

হাদীস নং ৩৬৬৬

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে কাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কাব ইবনে মালিক রা.-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তন্মধ্যে তাবুকের যুদ্ধ ব্যতীত অন্য সব যুদ্ধে আমি শরীক ছিলাম।

তবে বদর যুদ্ধেও আমি শরীক হইনি। কিন্তু বদর যুদ্ধে যারা যোগদান করেননি তাদেরকে কোন প্রকার দোষারূপ করা হয়নি।

কারণ প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশ কাফেলার পশ্চাদ্বাবন করার উদ্দেশ্যেই যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু পূর্বনির্ধারিত সময় ছাড়া আল্লাহ তায়ালা তাদের (মুসলমানদের) সাথে তাদের শত্রু দের মুখামুখী করিয়ে দেন।

মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬৬৭ – মহান আল্লাহর বানী: স্মরণ কর, যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে; তিনি তা কবুল করেছিলেন এবং বলেছিলেন…

হাদীস নং ৩৬৬৭

আবু নুআইম রহ…………ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মিকদাদ ইবনে আসওয়াদকে এমন একটি ভূমিকায় পেয়েছি যে, সে ভূমিকায় যদি আমি হতাম, তবে যা দুনিয়ার সব কিছুর তুলনায় আমার নিকট প্রিয় হত।

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আসলেন, তখন তিনি মুশরিকদের বিরুদ্ধে দু’আ করছিলেন। এতে তিনি (মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ) বললেন, মূসা আ. এর কওম যেমন বলেছিল যে, “তুমি (মূসা) আর তোমার প্রতিপালক যাও এবং যুদ্ধ কর”।

(আমরা তেমন বলল না, বরং আমরা তো আপনার ডানে, বামে সম্মুখে, পেছনে সর্বদিক থেকে যুদ্ধ করব। ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমি দেখলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হয়ে উঠল এবং (একথা) তাকে খুব আনন্দিত করল।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৬৮

হাদীস নং ৩৬৬৮

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাওশাব রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদরের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, হে আল্লাহ ! আমি আপনার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পূরণ করার জন্য প্রার্থনা করছি।

হে আল্লাহ ! আপনি যদি চান (কাফিররা আমাদের উপর জয়লাভ করুক) আপনার ইবাদত করার লোক আর থাকবে না। এমতাবস্থায় আবু বকর রা. তাঁর হাত চেপে বললেন, আপনার জন্য এ যথেষ্ট।

তখন তিনি এ আয়াত পড়তে পড়তে বের হলেন। “শত্রু দল শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে”। (৫৪ ক্বামার ৪৫)

বুখারি হাদিস নং ৩৬৬৯ – পরিচ্ছেদ ২১৬৭

হাদীস নং ৩৬৬৯

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুমিনদের মধ্যে (যারা অক্ষম) অথচ ঘরে বসে থাকেন তারা সমান নন। অর্থাৎ বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এবং যারা বদরের যুদ্ধ থেকে বিরত রয়েছেন তারা সমান নন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৭০ – বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা।

হাদীস নং ৩৬৭০

মুসলিম রহ. মাহমূদ রহ………..বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদরের দিন আমাকে ও ইবনে উমরকে ছোট মনে করা হয়েছিল, এ যুদ্ধে মুহাজিরদের সংখ্যা ছিল ষাটের বেশী এবং আনসারদের সংখ্যা ছিল দুইশ চল্লিশেরও কিচু বেশী।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৭১

হাদীস নং ৩৬৭১

আমর ইবনে খালিদ রহ………..বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে সব সাহাবী বদরে অংশগ্রহণ করেছেন তারা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তাদের সংখ্যা তালুতের যেসব সঙ্গী (জিহাদে শরীক হওয়ার নিমিত্তে তাঁর সাথে) নদী পার হয়েছিলেন তাদের সমান ছিল।

তাদের সংখা ছিল তিনশত দশেরও কিছু বেশী। বারা রা. বলেন, আল্লাহর কসম, ঈমানদার ব্যতীত আর কেউই তাঁর সাথে নদী অতিক্রম করেনি।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৭২

হাদীস নং ৩৬৭২

আবদুল্লাহ ইবনে রাজা রহ………বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবাগণ পরস্পর আলোচনা করতাম যে, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের সংখ্যা তালুতের সঙ্গে অতিক্রমকারী লোকদের সমানই ছিল এবং তিনশত দশ জনের অধিক ঈমানদার ব্যক্তিই কেবল তাঁর সাথে নদী পার হয়েছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৭৩

হাদীস নং ৩৬৭৩

আবদুল্লাহ ইবনে আবদু শায়বা রহ. ও মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা পরস্পর আলোচনা করতাম যে, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের সংখ্যা তালুতের সঙ্গে অতিক্রমকারী লোকদের সমানই ছিল।

আর তিনশত দশ জনের অধিক ঈমানদার ব্যক্তিই কেবল তাঁর সাথে নদী পার হয়েছিলেন।

মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬৭৪ – কুরাইশ কাফের তথা শায়বা,উতবা, ওয়ালীদ এবং আবু জেহেল ইবনে হিশামের বিরুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’আ এবং এদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া।

হাদীস নং ৩৬৭৪

আমর ইবনে খালিদ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার দিকে মুখ করে কুরাইশ গোত্রীয় কতিপয় লোক তথা- শায়বা,উতবা, ওয়ালীদ এবং আবু জেহেল ইবনে হিশামের বিরুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’আ করেন।

(আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন) আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি, অবশ্যই আমি এ সমস্ত লোকদেরকে (বদরের রণাঙ্গনে) নিহত হয়ে বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকতে দেখেছি।

রৌদ্রের প্রচণ্ডতা তাদের দেহগুলোকে বিকৃত করে দিয়েছিল। বস্তুতঃ সে দিনটি ছিল প্রচণ্ড গরম।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৭৫ – আবু জেহেল নিহত হওয়ার ঘটনা।

হাদীস নং ৩৬৭৫

ইবনে নুমাইর রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, বদর যুদ্ধের দিন আবু জেহেল যখন মৃত্যুর মুখোমুখি তখন তিনি (আবদুল্লাহ) তার কাছে গেলেন। তখন আবু জেহেল বলল, (আজ) তোমরা তোমাদের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছ এতে আমি কি আশ্চর্যবোধ করব।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৭৬

হাদীস নং ৩৬৭৬

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ. ও আমর ইবনে খালিদ রহ……..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, (বদরের দিন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু জেহেলের কি অবস্থা কেউ তা দেখে আসতে পার কি?

তখন ইবনে মাসউদ রা. তার খোঁজে বের হলেন এবং দেখতে পেলেন যে, আফরার দুই পুত্র তাকে এমনিভাবে প্রহার করেছে যে, মুমূর্ষু অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে।

রাবী বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. তার দাঁড়ি ধরে বললেন, তুমিই কি আবু জেহেল? আবু জেহেল বলল, যাকে (অর্থাৎ আবু জেহেল) তোমরা অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তার গোত্রের লোকেরা হত্যা করল তার চেয়ে বেশী আর কি?

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ. বলেন, তুমিই কি আবু জেহেল।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৭৭

হাদীস নং ৩৬৭৭

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, (বদরের দিন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু জেহেল কি করল, কে তা খোঁজে নিয়ে আসতে পারে? (এ কথা শুনে) ইবনে মাসউদ রা. চলে গেলেন এবং তিনি দেখতে পেলেন, আফরার দুই পুত্র তাকে এমনিভাবে প্রহার করেছে যে, সে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছে।

তখন তিনি তার দাঁড়ি ধরে বললেন, তুমি কি আবু জেহেল? উত্তরে সে বলল, এক ব্যক্তিকে তার গোত্রের লোকেরা হত্যা করল অথবা (রাবীর সন্দেহ) যাকে তোমরা হত্যা করলে ! এর চাইতে বেশী আর কি?

ইবনে মুসান্না রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে অনুরূপ একটি রেওয়ায়েত বর্ণিত আছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৭৮

হাদীস নং ৩৬৭৮

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..ইবরাহীমের দাদা থেকে বদর তথা আফরার দুই ছেলের সম্পর্কে এক রেওয়ায়ত বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৭৯

হাদীস নং ৩৬৭৯

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ রুকাশী রহ………..আলী ইবনে আবু তালিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যে কিয়ামতের দিন দয়াময়ের সামনে বিবাদের (মিমাংসার) জন্য হাঁটু গেড়ে বসব।

কায়েস ইবনে উবাদ রা. বলেন, এদের সম্পর্কেই কুরআন মজীদের هذان خصمان اختصموا في ربهم ‘এর দুটি বিবাদমান পক্ষ তাঁরা তাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্ক করে’।

আয়াতটি নাযিল হয়েছে। তিনি বলেন, (মুসলিম পক্ষের) তারা হল হামযা, আলী ও উবায়দা অথবা (রাবীর সন্দেহ) আবু উবায়দা ইবনুল হারিস (কাফের পক্ষের) শায়বা ইবনে রাবীআ, উতবা এবং ওয়ালীদ ইবনে উতবা।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৮০

হাদীস নং ৩৬৮০

কাবীসা রহ……….আবু যার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, خصمان اختصموا في ربهم ‘এর দুটি বিবাদমান পক্ষ তাঁরা তাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্ক করে’।

আয়াতটি কুরাইশ গোত্রীয় ছয়জন লোক (এদের তিনজন মুসলিম এবং তিনজন মুশরিক) সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে। তারা হলেন (মুসলিম পক্ষে) আলী, হামযা, উবায়দা ইবনুল হারিস রা. ও (কাফের পক্ষে) শায়বা ইবনে রাবীআ, উতবা ইবনে রাবীআ এবং ওয়ালীদ ইবনে উতবা।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৮১

হাদীস নং ৩৬৮১

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম সাওয়াফ রহ………..কায়েস ইবনে উবাদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী রা. বলেছেন, আয়াতটি আমাদের সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে। خصمان اختصموا في ربهم ‘এর দুটি বিবাদমান পক্ষ তাঁরা তাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্ক করে’।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৮২

হাদীস নং ৩৬৮২

ইয়াহইয়া ইবনে জাফর রহ………..কায়েস ইবনে উবাদ রহ. থেকে বর্ণিত, (তিনি বলেছেন) আমি আবু যার রা.-কে কসম করে বলতে শুনেছি যে, উপরোক্ত আয়াতগুলো উল্লেখিত বদরের দিন ঐ ছয় ব্যক্তি সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল।

মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬৮৩

হাদীস নং ৩৬৮৩

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ………..কায়েস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বলেছেন, আমি আবু যার রা..-কে কসম করে বলতে শুনেছি যে, خصمان اختصموا في ربهم ‘এর দুটি বিবাদমান পক্ষ তাঁরা তাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্ক করে’।

আয়াতটি বদরের দিন দ্বন্দ্বযুদ্ধে হামযা, আলী ও উবায়দা অথবা আবু উবায়দা ইবনুল হারিস, রাবীআর দুই ছেলে শায়বা উতবা এবং ওয়ালীদ ইবনে উতবার সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৮৪

হাদীস নং ৩৬৮৪

আহমদ ইবনে সাঈদ আবু আবদুল্লাহ রহ………..আবু ইসহাক রহ. থেকে বর্ণিত যে, আমি শুনলাম, এক ব্যক্তি বারা রা.-কে জিজ্ঞাসা করল, আলী রা. কি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন?

তিনি বললেন, আলী তো নিঃসন্দেহে মুকাবিলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং দুইটি লৌহ পোশাক পরিধান করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৮৫

হাদীস নং ৩৬৮৫

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..আবদুর রাহমান ইবনে আউফ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমাইয়া ইবনে খালফের সাথে একটি চুক্তি করেছিলাম।

যখন বদর দিবস উপস্থিত হল, এরপর তিনি উমাইয়া ইবনে খালফ ও তার পুত্রের নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করলেন। সেদিন বিলাল রা. বললেন, যদি উমাইয়া ইবনে খালফ প্রাণে বেঁচে যায় তাহলে আমি সফল হব না।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৮৬

হাদীস নং ৩৬৮৬

আবদান ইবনে উসমান রহ………..আবদুল্লাহ রা. সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি সূরা নাজম তিলাওয়াত করলেন এবং (সাথে সাথে) সিজদা করলেন।

এক বৃদ্ধ ব্যতীত নবীজীর নিকট যারা উপস্থিত ছিলেন তারা সকলেই সিজদা করলেন। সে বৃদ্ধ এক মুষ্টি মাটি উঠিয়ে কপাল লাগিয়ে বলল, আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। আবদুল্লাহ রা. বলেন, কিছুদিন পর আমি তাকে কাফের অবস্থায় নিহত হতে দেখেছি।

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ……….হিশামের পিতা (উরওয়া) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (তার পিতা) যুবাইরের শরীরে তিনটি মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল।

এর একটি ছিল তার কাঁধে। উরওয়া বলেন, আমি আমার আঙ্গুলগুলো ঐ ক্ষতস্থানে ঢুকিয়ে দিতাম, বর্ণনাকারী উরওয়া বলেন, ঐ আঘাত তিনটির দুটি ছিল বদর যুদ্ধের এবং একটি ছিল ইয়ারমুক যুদ্ধের।

উরওয়া বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর শহীদ হলেন তখন আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান আমাকে বললেন, হে উরওয়া, যুবাইরের তরবারি খানা তুমি কি চিন?

আমি বললাম, হ্যা, চিনি। আবদুল মালিক বললেন, এর কি কোন চিহ্ন (তোমার জানা) আছে? আমি বললাম, এর ধার পাশে এক জায়গায় ভাঙ্গা আছে যা বদর যুদ্ধের দিন ভেঙ্গে ছিল তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ তুমি সত্য বলেছ, (তারপর তিনি একটি কবিতাংশ আবৃত্তি করলেন) بهن فلول من قراع الكتائب সে তরবারীর ভাঙ্গন ছিল শত্রু সেনাদের আঘাত করার কারণে।

এরপর আবদুল মালিক তরবারী খানা উরওয়ার নিকট ফিরিয়ে দিলেন, হিশাম বলেন, আমরা নিজেরা এর মূল্য নির্ধারণ করেছিলাম তিন হাজার দেরহাম।

এরপর আমাদের এক ব্যক্তি তা (উত্তররাধিকারী সূত্রে) নিয়ে নিল। আমার মনে বাসনা জাগল যে যদি আমি তরবারীটি নিয়ে নিতাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৮৭

হাদীস নং ৩৬৮৭

ফারওয়া রহ…………হিশামের পিতা (উরওয়া) রা. থেকে বর্ণিত যে, যুবাইর রা.-এর তরবারী রূপার কারুকার্য খচিত ছিল। হিশাম রহ. বলেন, উরওয়া রহ-এর তরবারীটিও রূপার কারুকার্য খচিত ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৮৮

হাদীস নং ৩৬৮৮

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইয়ারমুকের (যুদ্ধের) দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবাগণ যুবাইর রা. কে বলেন যে, (মুশরিকদের প্রতি) আপনি কি আক্রমণ করবেন না তাহলে আমরাও আপনার সঙ্গে আক্রমণ করব।

তখন তিনি বলেন, আমি যদি (তাদের প্রতি) আক্রমণ করি তখন তোমরা পিছে সরে পড়বে। তখন তারা বললেন, আমরা তা করব না। এরপর তিনি তাদের উপর আক্রমণ করলেন।

এমনকি শত্রু দের কাতার ভেদ করে সামনে এগিয়ে গেলেন। কিন্তু (এ সময়) তার সঙ্গে আর কেউই ছিলনা। মুখোমুখি হয়ে ফিরে আসার জন্য উদ্যত হলে শত্রু গণ তাঁর ঘোড়ার লাগাম ধরে ফেলে এবং তার কাঁধের উপর দুটি আঘাত করে, যে আঘাত দুটির মাঝেই বিদ্যমান রয়েছে বদর যুদ্ধের আঘাতের চিহ্নটি।

উরওয়া রহ. বলেন, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন ঐ ক্ষত চিহ্ন গুলোতে আমার সবগুলো আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে আমি খেলা করতাম।

উরওয়া রহ. আরো বলেন, ঐদিন তার সঙ্গে (তার পুত্র) আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. ও শরীক ছিলেন, তখন তার বয়স ছিল দশ বছর। যুবাইর রা. তাকে ঘোড়ার পিঠে উঠিয়ে নিলেন এবং এক ব্যক্তিকে তার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিলেন।

মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬৮৯

হাদীস নং ৩৬৮৯

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………….আবু তালহা রা. থেকে বর্ণিত যে, বদর যুদ্ধের দিন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে চব্বিশজন কুরাইশ সর্দারের লাশ বদর প্রান্তরের একটি কদর্য আবর্জনাপূর্ণ কূপে নিক্ষেপ করা হল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করলে সে স্থানের উপকণ্ঠে তিন দিন অবস্থান করতেন। সে মতে বদর প্রান্তরে অবস্থানের পর তৃতীয় দিন তিনি তাঁর সাওয়ারী প্রস্তুত করার আদেশ দিলেন, সাওয়ারীর জিন কষে বাঁধা হল।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদব্রজে (কিছু দূর) এগিয়ে গেলেন। সাহাবাগণও তাঁর পেছনে পেছনে চলছেন। তাঁরা বলেন, আমরা মনে করছিলাম।

কোন প্রয়োজনে (হয়ত) তিনি কোথাও যাচ্ছেন। অবশেষে তিনি ঐ কূপের কিনারে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং কূপে নিক্ষিপ্ত ঐ নিহত ব্যক্তিদের নাম ও তাদের পিতার নাম ধরে এভাবে ডাকতে শুরু করলেন, হে অমুকের পুত্র অমুক হে অমুকের পুত্র অমুক !

তোমরা কি এখন অনুভব করতে পারছ যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য তোমাদের জন্য পরম খুশীর বস্তু ছিল? আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমরা তো তা সত্য পেয়েছি, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে যা বলেছিলেন তোমরাও তা সত্য পেয়েছ কি?

বর্ণনাকারী বলেন, (এ কথা শুনে) উমর রা. বললেন, হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি আত্মহীন দেহগুলোকে সম্বোধন করে কি কথা বলছেন?

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঐ মহান সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, আমি যা বলছি তা তাদের তুলনায় তোমরা অধিক শ্রবণ করছ না।

কাতাদা রা. বলেন, আল্লাহ তাঁর (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শুনাতে) ধমকি, লাঞ্ছনা, দুঃখ-কষ্ট, আফসোস এবং লজ্জা দেওয়ার জন্য (সাময়িকভাবে) দেহে প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৯০

হাদীস নং ৩৬৯০

হুমাইদী রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি الذين بدلوا نعمة الله كفرا আয়াতাংশ সম্পর্কে বলেছেন, আল্লাহর কসম, এর হল কাফির কুরাইশ সম্প্রদায়।

আমর রহ. বলেন, এরপ হচ্ছে কুরাইশ সম্প্রদায় এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন আল্লাহর নিয়ামত। এবং وأحلو قومهم دار البوار আয়াতাংশের মাঝে বর্ণিত এর البوار অর্থ হচ্ছে النار দোযখ। (অর্থাৎ বদর যুদ্ধের দিন তারা তাদের কাওমকে দোযখে পৌঁছিয়ে দিয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৯১

হাদীস নং ৩৬৯১

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ………..হিশামের পিতা (উরওয়া) রহ . থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার পরিজনদের কান্নাকাটি করার কারণে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়।

ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথাটি আয়েশা রা. -এর নিকট উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো বলেছেন, মৃত ব্যক্তির অপরাধ ও গোনাহর কারণে তাকে (কবরে) শাস্তি দেওয়া হয়।

অথচ তখনও তার পরিবারের লোকেরা তার জন্য ক্রন্দন করছে। তিনি রা. বলেন, এ কথাটি ঐ কথাটিরই অনুরূপ যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ কূপের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, যে কূপে বদর যুদ্ধে নিহত মুশরিকদের নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

তিনি তাদেরকে যা বলার বললেন (এবং জানালেন) যে, আমি যা বলছি তারা তা সবই শুনতে পাচ্ছে। তিনি বললেন, এখন তারা খুব বুঝতে পারছে যে, আমি তাদেরকে যা বলছিলাম তা ছিল যথার্থ।

এরপর আয়েশা রা. إنك لا تسمع الموتى وما أنت بمسمع من في القبور ‘তুমি তো মৃতকে শুনাতে পারবে না) (৩০ রূম ৫২) (এবং তুমি শুনাতে সমর্থ হবেনা তাদেরকে যারা কবরে রয়েছে) (৩৫ ফাতির ২২) আয়াতাংশ দুটো তিলাওয়াত করলেন। উরওয়া রহ. বলেন, (এর অর্থ হল) জাহান্নামে যখন তাঁরা তাদের আসন গ্রহণ করে নেবে।

মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬৯২

হাদীস নং ৩৬৯২

উসমান রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরে অবস্থিত কূপের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, (হে মুশরিকগণ) তোমাদের রব তোমাদের নিকট যা ওয়াদা করেছিলেন তা তোমরা ঠিক মত পেয়েছ?

পরে তিনি বললেন, এ মুহূর্তে তাদেরকে আমি যা বলছি তা সবই শুনতে পাচ্ছে। এ বিষয়টি আয়েশা রা.-এর সামনে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তার অর্থ হল, তারা এখন বুঝতে পারছে যে, আমি তাদেরকে যা বলতাম তাই হক ছিল।

এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন إنك لا تسمع الموتى حتى قرأت الاية‘তুমি তো মৃতকে শুনাতে পারবে না) এভাবে আয়াতটি সম্পূর্ণ তিলাওয়াত করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৯৩ – বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণের মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৬৯৩

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, হারিসা রা একজন নও জওয়ান লোক ছিলেন। বদর যুদ্ধে তিনি শাহাদাত বরণ করার পর তার আম্মা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারিসা আমার কত আদরের আপনি তো তা অবশ্যই জানেন।

(বলুন) সে যদি জান্নাতী হয় তাহলে আমি ধৈর্যধারণ করব এবং আল্লাহর নিকট সাওয়াবের আশা পোষণ করব। আর যদি এর অন্যথা হয় তাহলে আপনি তো দেখতেই পাচ্ছেন, আমি (তার জন্য) যা করছি।

তখন তিনি বললেন, তোমার কি হল, তুমি কি জ্ঞানশূন্য হয়ে গেলে? বেহেশত কি একটি ? (না…….না) বেহেশত অনেকগুলি, সে তো জান্নাতুল ফেরদাউসে অবস্থান করছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৯৪

হাদীস নং ৩৬৯৪

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ…………আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু মারসাদ, যুবাইর ও আমাকে কোথাও পাঠিয়েছিলেন এবং আমরা সকলেই ছিলাম অশ্বারোহী। তিনি আমাদেরকে বললেন, তোমরা যাও।

যেতে যেতে তোমরা ‘রাওয়া খাখা’ নামক স্থানে পৌঁছে তথায় একজন স্ত্রীলোক দেখতে পাবে। তার নিকট (মক্কায়) মুশরিকদের কাছে লিখিত হাতিব ইবনে আবু বালতার একখানা পত্র আছে।

সে পত্রখানা ছিনিয়ে আনবে)। আলী রা. বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশিত স্থানে গিয়ে তাকে ধরে ফেললাম। সে তখন স্বীয় একটি উটের উপর আরোহণ করে পথ অতিক্রম করছিল।

আমরা তাকে বললাম, পত্রখানা আমাদের নিকট অর্পণ কর। সে বলল, আমার নিকট কোন পত্র নেই। আমরা তখন তার উটটিকে বসিয়ে তার তল্লাশী নিলাম। কিন্তু পত্রখানা উদ্ধার করতে পারলাম না। আমরা বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যা বলেনি।

তোমাকে পত্রখানা বের করতেই হবে। নতুবা আমরা তোমাকে উলঙ্গ করে ছাড়ব। যখন (আমাদের) কঠোর মনোভাব লক্ষ্য করল তখন স্ত্রীলোকটি তার কোমরের পরিধেয় বস্ত্রের গিটে কাপড়ের পুটুলির মধ্য থেকে পত্রখানা বের করে দিল।

আমরা তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দরবারে উপস্থিত হলাম (সব দেখে শুনে) উমর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সে তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই।

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হাতিব ইবনে আবু বালতা রা. কে ডেকে) বললেন, তোমাকে একাজ করতে কিসে উদ্ধুদ্ধ করল? হাতিব রা. বললেন, আল্লাহর কসম! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আমি বিশ্বাসী নই, আমি এরূপ নই।

বরং (এ কাজ করার পেছনে) আমার মূল উদ্দেশ্য হল (মক্কার শত্রু) কাওমের প্রতি কিছু অনুগ্রহ করা যাতে আল্লাহ এ উসিলায় (তাদের অনিষ্ট থেকে) আমার মাল এবং পরিবার ও পরিজনকে রক্ষা করেন।

আর আপনার সাহাবীদের সকলেরই কোন না কোন আত্মীয় সেখানে রয়েছে, যার দ্বারা আল্লাহ তার ধন-সম্পদ ও পরিবারবর্গকে রক্ষা করছেন (এ কথা শুনে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে সত্যই বলেছে।

সুতরাং তার ব্যাপারে ভাল ব্যতীত আর কিছু বলো না। তখন উমর রা. বললেন, সে তো আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

সুতরাং আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে কি বদরী সাহাবী নয়?

নিশ্চয়ই বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদেরকে দেখে শুনেই আল্লাহ বলেছেন : ‘তোমাদের যা ইচ্ছা কর’ তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত অথব (রাবীর সন্দেহ) আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি।

(এ কথা শুনে) উমর রা. এর দুচোখ তখন অশ্রু সজল হয়ে উঠল। তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক জ্ঞাত।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৯৫ – পরিচ্ছেদ ২১৭২

হাদীস নং ৩৬৯৫

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল জুফী রহ………..আবু উসাইদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, শত্রু তোমাদের নিকটবর্তী হলে তোমরা তীর নিক্ষেপ করবে এবং তীর ব্যহারে সংযমী হবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৯৬

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাহীম রহ………….আবু উসাইদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তারা (শত্রুরা) তোমাদের নিকটবর্তী হল তোমরা তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করবে এবং ব্যবহারে সংযমী হবে।

মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬৯৭

হাদীস নং ৩৬৯৭

আমর ইবনে খালিদ রহ……….বারা ইবনে আযিব রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইরকে তীরন্দাজ বাহিনীর অধিনায়ক নিযুক্ত করেছিলেন।

(এ যুদ্ধে) তারা (মুশরিক বাহিনী) আমাদের সত্তর জনকে শহীদ করে দেয়। বদর যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণ মুশরিকদের একশ চল্লিশ জনকে নিহত ও গ্রেফতার করে ফেলেছিলেন।

এর মধ্যে সত্তর জন বন্দী হয়েছিল এবং সত্তর জন নিহত (উহুদ যুদ্ধের দিন যুদ্ধ সমাপনান্তে কুফরী অবস্থায়) আবু সুফিয়ান রা বললেন, আজকের এদিন হল বদরের বদলা (বিজয়)। যুদ্ধ কূপের বালতির ন্যায় হাত বদল হয়।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৯৮

হাদীস নং ৩৬৯৮

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ…………আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি স্বপ্নে যে কল্যাণ দেখতে পেয়েছিলাম সে তো ঐ কল্যাণ যা পরবর্তী সময়ে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দান করেছেন।

আর উত্তম প্রতিদান সম্বন্ধে যা দেখেছিলাম তা তো আল্লাহ আমাদেরকে দান করেছেন বদর যুদ্ধের দিন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৯৯

হাদীস নং ৩৬৯৯

ইয়াকুব রহ………..আবদুর রাহমান ইবনে আউফ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, বদরের রণাঙ্গনে সৈন্যদের সারিতে দাঁড়িয়ে আমি এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখলাম, আমার ডানে ও বামে অল্প বয়স্ক দু’জন দাঁড়িয়ে আছে।

পাশে তাদের মত অল্প বয়স্ক দু’জন যুবক দাঁড়িয়ে থাকার ফলে আমি নিজেকে নিরাপদ করে করছিলাম না। এমতাবস্থায় তাদের একজন অপরজন থেকে গোপন করে আমাকে জিজ্ঞাসা করল চাচাজান, আবু জেহেল কোন লোকটি আমাকে তা দেখিয়ে দিন? আমি বললাম, ভাতিজা তাকে চিনে তুমি কি করবে?

সে বলল, আমি আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছি, তার দেখা পেলে আমি তাকে হত্যা করব না হয় (এ চেষ্টায়) নিজেই শহীদ হয়ে যাব।

এরপর দ্বিতীয় যুবকটিও তাঁর সঙ্গীকে গোপন করে আমাকে অনুরূপ জিজ্ঞাসা করল। আবদুর রাহমান ইবনে আউফ রা. বলেন, (তাদের কথা শুনে) আমি এত অধিক সন্তুষ্ট হলাম যে, দু’জন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের মধ্যস্থলে অবস্থানেও আমি ততটুকু সন্তুষ্ট হতাম না।

এরপর আমি তাদের দু’জনকে ইশারা করে আবু জেহেলকে দেখিয়ে দিলাম। তৎক্ষণাৎ তাঁরা বাজ পাখির ন্যায় ক্ষিপ্রতার সাথে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং ভীষণভাবে তাকে আঘাত করল। এরা দুজন ছিল আফরার দু’পুত্র।

বুখারি হাদিস নং ৩৭০০

হাদীস নং ৩৭০০

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসিম ইবনে উমর ইবনে খাত্তাবের নানা আসিম ইবনে সাবিত আনসারীর নেতৃত্বে দশজন সাহাবীর একটি দল গোয়েন্দাগিরির জন্য পাঠালেন।

তাঁরা উসফান ও মক্কার মধ্যবর্তী স্থান হান্দায় পৌঁছলে হুযাইল গোত্রের একটি শাখা বানু লিহয়ানকে তাদের আগমন সম্বন্ধে অবগত করা হয়।

(এ সংবাদ শুনে) তারা প্রায় একশ জন তীরন্দাজ তৈরী হয়ে মুসলমানের বিরুদ্ধে লড়াই করার উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়ে তাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে পথ চলতে আরম্ভ করে। যেতে যেতে তারা এমন স্থানে পৌঁছে যায় যেখানে অবস্থান করে তাঁরা (সাহাবীগণ) খেজুর খেয়েছিলেন।

এত দৃষ্টে তারা (বানু লিহয়ানের লোকেরা) ইয়াসরিবের খেজুর (এর আটি) বলে তাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে তাদেরকে খুঁজতে লাগল। আসিম ও তাঁর সঙ্গীগণ তাদের (আগমন) সম্বন্ধে অনুভব করতে পেরে একটি (পাহাড়ী) স্থানে গিয়ে আশ্রয় নেন। (লিহয়ান) কাওমের লোকেরা তাদেরকে বেষ্টন করে ফেলে।

তারপর তারা মুসলমানদেরকে নিচে অবতরণ করে আত্মসমর্পণের আহবান জানিয়ে বলল, তোমাদেরকে ওয়াদা দিচ্ছি, আমরা তোমাদের কাউকে হত্যা করব না। তখন আসিম ইবনে সাবিত রা. বললেন, হে আমার সাথী ভাইয়েরা, কাফিরের নিরাপত্তায় আশ্বস্ত হয়ে আমি কখনো নিচে অবতরণ করব না।

তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ ! আমাদের খবর আপনার নবীকে জানিয়ে দিন। এরপর তারা মুসলমানদের প্রতি তীর নিক্ষেপ আরম্ভ করল এংব আসমিকে (আরো ছয়জন সহ) শহীদ করে ফেলল।

অবশিষ্ট তিনজন, খুবাইব, যায়েদ ইবনে দাসিনা এবং অপর একজন (আবদুল্লাহ ইবনে তারিক) তাদের ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে তাদের নিকট নেমে আসলেন।

তারা (শত্রু গণ) তাদেরকে কাবু করে নিয়ে নিজেদের ধনুকের তার খুলে তা দিয়ে তাদেরকে বেঁধে ফেলল। এ দেখে তৃতীয়জন বললেন, এটাই প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা।

আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের সাথে যাবনা, আমার জন্য তো এদের (শহীদ সাথীদের) আদর্শই অনুসরণীয়। অর্থাৎ আমিও শহীদ হয়ে যাব। তারা তাকে বহু টানা হেচড়া করল।

কিন্তু তিনি তাদের সাথে যেতে অস্বীকার করলেন। (অবশেষে তারা তাকে শহীদ করে দিল) এরপর খুবাই এবং যায়েদ ইবনে দাসিনাকে (বন্দী করে) নিয়ে গিয়ে তাদেরকে (মক্কার বাজারে) বিক্রি করে দিল।

এটা ছিল বদর যুদ্ধের পরবর্তী ঘটনা। বদরু যুদ্ধে খুবাইব যেহেতু হারিস ইবনে আমিরকে হত্যা করেছিলেন। তাই (প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে) হারিস ইবনে আমির ইবনে নাওফিলের পুত্রগণ তাকে খরীদ করে নিল। খুবাইব তাদের নকিট বন্দী অবস্থায় কাটাতে লাগলেন।

এরপর তারা সবাই তাকে হত্যা করার দৃঢ় সংকল্প করল। তিনি হারিসের কোন এক কন্যার নিকট থেকে ক্ষৌর কর্মের জন্য একটি ক্ষুর চেয়ে নিলেন। তার (হারিসের কন্যা) দেখতে পেল তিনি (খুবাইব) তার বাচ্চাকে কোলে নিয়ে রানের উপর বসিয়ে ক্ষুর খানা হাতে ধরে আছেন।

সে (হারিসের কন্যা) বর্ণনা করেছে, (এ দেখে) আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম, খুবাইব তা বুঝতে পারলাম, তিনি বললেন, আমি তাকে (শিশুটিকে) হত্যা করে ফেলব বলে তুমি কি ভয় পেয়েছ।

আমি কখনো এ কাজ কবর না। সে আরো বলেছে, আল্লাহ কসম, আমি খুবাইবের মত উত্তম বন্দী আর কখনো দেখেনি। আল্লাহর কসম একদিন আমি তাকে আঙ্গুলে গুচ্ছ হাতে নিয়ে আঙ্গুর খেতে দেখেছি। অথচ সে লোহার শিকলে বাঁধা ছিল এবং সে সময় মক্কায় কোন ফলও ছিল না।

সে (হারিসের কন্যা) বলত, ঐ আঙ্গুরগুলো আল্লাহ তায়ালা খুবাইবকে রিযকস্বরূপ দান করেছিলেন। অবশেষে একদিন তারা খুবাইবকে হত্যা করার জন্য যখন হারামের সীমানার বাইরে নিয়ে গেল।

তখন খুবাইব রা. তাদেরকে বললেন, আমাকে দু’রাকআত সালাত আদায় করার সুযোগ দাও, তারা সুযোগ দিলে তিনি দু’রাকআত সালাত আদায়ে করে বললেন, আল্লাহর কসম, আমি (মৃত্যু ভয়ে) ভীত হয়ে পড়েছি, তোমরা এ কথা না ভাবলে আমি সালাত আরো দীর্ঘায়িত করতাম।

এরপর তিনি এ বলে দু’আ করলেন, হে আল্লাহ ! তাদেরকে এক এক করে গুণে রাখ, তাদেরকে বিক্ষিপ্তভাবে হত্যা কর এবং তাদের একজনকও অবশিষ্ট রেখনা।

তারপর তিনি আবৃত্তি করলেন : আমি যখন মুসলমান হিসাবে মৃত্যুবরণ করার সৌভাগ্য লাভ করছি, তাই আমার কোনই ভয় নেই। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যে কোন অবস্থাতেই আমার মৃত্যু হউক। আর তা যেহেতু একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির লাভের জন্যই ।

তাই তিনি ইচ্ছা করলে আমার প্রতিটি কর্তিত অঙ্গে বরকত প্রদান করতে পারেন। এরপর (হারিসের পুত্র) আবু সারুআ উকবা (উকবা ইবনে হারিস) তাঁর দিকে দাঁড়াল এবং তাকে শহীদ করে দিল।

(এভাবেই খুবাইর রা. সে সব মুসলমানের জন্য দু’রাকআত সালাত নিয়ম (সুন্নত) চালু করে গেলেন যারা ধৈর্যের সাথে শাহাদত বরণ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐদিনই সাহাবীদেরকে অবহিত করেছিলেন যে দিন তাঁরা শত্রু কবলিত হয়ে শাহাদত বরণ করেছিলেন।

কুরাইশদের নিকট তাঁর (আসিম রা. এর) নিহত হওয়ার খবর পৌঁছলে তারা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আসিমের শরীরের কোন অঙ্গ কেটে আনার উদ্দেশ্য কতিপয় কুরাইশ কাফেরকে প্রেরণ করল। যেহেতু (বদর যুদ্ধের দিন) আসিম ইবনে সাবিত তাদের (কুরাইশদের) একজন বড় নেতাকে হত্যা করেছিলেন।

এদিকে আল্লাহ আসিমের লাশকে হিফাযাত করার জন্য মেঘখন্ডের ন্যায় এক ঝাঁক মৌমাছি পাঠিয়ে দিলেন। মৌমাছিগুলো আসিম রা. এর লাশকে শত্রু সেনাদের হাত থেকে রক্ষা করল। ফলে তারা তাঁর দেহের কোন অঙ্গ কেটে নিতে সক্ষম হল না।

কাব ইবনে মালিক রা. বলেন, মুরারা ইবনে রাবী আল উমরী এবং হিলাল ইবনে উমাইয়া আল ওয়াকিফী সম্বন্ধে লোকেরা বলেছেন যে, তাঁরা উভয়ই আল্লাহর নেক বান্দা ছিলেন এবং দুজনই বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭০১

হাদীস নং ৩৭০১

কুতাইবা রহ………..নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়ল রা. ছিলেন বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন সাহাবী।

তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ইবনে উমরের নিকট জুমআর দিন এ সংবাদ পৌঁছলে তিনি সাওয়ারীর পিঠে আরোহণ করে তাকে দেখতে গেলেন। তখন বেলা হয়ে গিয়েছে এবং জুমুআর সালাতের সময়ও ঘনিয়ে আসছে দেখে তিনি জুমুআর সালাত আদায় করতে পারলেন না।

(আর এক সনদে) লায়স রহ……….উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা উমর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আরকাম আয যুহরী সুবায়া বিনতে হারিস আসলামিয়্যা রা. এর কাছে গিয়ে তার ঘটনা ও (গর্ভবতী মহিলার ইদ্দত সম্বন্ধে) তার প্রশ্নের উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যা বলেছিলেন সে সম্পর্কে পত্র মারফত জিজ্ঞাসা করে জানতে আদেশ করলেন।

এরপর উমর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আরকাম রা. আবদুল্লাহ ইবনে উতবাকে লিখে জানালেন যে, সুবায়া বিনতুল হারিস তাকে জানিয়েছেন যে, তিনি বানু আমির ইবনে লুয়াই গোত্রের সাদ ইবনে খাওলার স্ত্রী ছিলেন, সাদ রা. বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ছিলেন। তিনি বিদায় হজ্জের বছর ইন্তিকাল করেন।

তখন তাঁর স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন। তার ইন্তিকালের কিছুদিন পরেই তিনি সন্তান প্রসব করলেন। এরপর নিফাস থেকে পবিত্র হয়েই তিনি বিবাহের পয়গাম দাতাদের উদ্দেশ্যে সাজসজ্জা আরম্ভ করলেন।

এ সময় আবদুদ্দার গোত্রের আবুস সানাবিল ইবনে বাকাক নামক এক ব্যক্তি তাকে গিয়ে বললেন কি হয়েছে, আমি তোমাকে দেখতে পাচ্ছি যে, তুমি বিবাহের আশায় পয়গাম দাতাদের উদ্দেশ্যে সাজসজ্জা আরম্ভ করে দিয়েছ? আল্লাহর কসম চার মাস দশদিন অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে তুমি বিবাহ করতে পারবে না।

সুবায়া রা. বলেন, (আবুস সানাবিল আমাকে) এ কথা বলার পর আমি ঠিকঠাক মত কাপড় চোপড় পরিধান করে বিকেল বেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম এবং এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম।

তখন তিনি বললেন, যখন আমি বাচ্চা প্রসব করেছি তখন থেকেই আমি হালাল হয়ে গিয়েছি। এরপর তিনি আমাকে বিয়ে করার নির্দেশ দিলেন যদি আমার ইচ্ছা হয়।

(ইমাম বুখারী রহ. বলেন, আসবাগ ………ইউনুসের সূত্রে লায়সের মতই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। লায়স রহ. বলেছেন, ইউনুস ইবনে শিহাব থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।

ইবনে শিহাব রহ. বলেন, বানু আমির ইবনে লুয়্ই গোত্রের আযাদকৃত গোলাম মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে সাওবান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুহাম্মদ ইবনে ইয়াস ইবনে বুকাইয়ের পিতা তাকে জানিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭০২ – বদর যুদ্ধে ফেরেশতাদের অংশগ্রহণ।

হাদীস নং ৩৭০২

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ……….মুআয ইবনে রিফাআ ইবনে রাফি যুরাকী রহ. তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের একজন।

তিনি বলেন, একদা জিবরাঈল আ. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, আপনারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুসলমানদেরকে কিরূপ গণ্য করেন?

তিনি বললেন, তারা সর্বোত্তম মুসলমান অথবা (রাবীর সন্দেহ) এরূপ বাক্য তিনি বলেছিলেন। জিবরাঈল আ. বললেন, ফেরেশতাগণের মধ্যে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণও তদ্রূপ মর্যাদার অধিকারী।

আরও পড়ুনঃ

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

 

মন্তব্য করুন