মাগাযী পার্ট ২ (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

মাগাযী পার্ট ২ (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায়

মাগাযী পার্ট ২ (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

Table of Contents

মাগাযী পার্ট ২ (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭০৩

হাদীস নং ৩৭০৩

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….মুআয ইবনে রিফাআ ইবনে রাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, রিফাআ রা. ছিলেন বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন সাহাবী আর রাফি রা. ছিলেন বায়আতে আকাবায় অংশগ্রহণকারী একজন সাহাবী।

রাফি রা. তার পুত্র (রিফাআ.) কে বলতেন, বায়আতে আকাবায় শরীক থাকার চেয়ে বদর যুদ্ধে শরীক থাকা আমার কাছে বেশী আনন্দের বিষয় বলে মনে হয় না। কেননা জিবরাঈল আ. এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭০৪

হাদীস নং ৩৭০৪

ইসহাক ইবনে মানসুর রহ……….মুআয ইবনে রিফাআ রহ. থেকে বর্ণিত যে, একজন ফেরেশতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।

(অন্য সনদে) ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত যে, ইয়াযীদ ইবনুল হাদ রহ. তাকে জানিয়েছেন যে, যেদিন মুআয রা. এ হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন সেদিন আমি তার কাছেই ছিলাম। ইয়াযীদ বলেছেন, মুআয রা. বর্ণনা করেছেন যে, প্রশ্নকারী ফেরেশতা হলেন জিবরাঈল আ.।

বুখারি হাদিস নং ৩৭০৫

হাদীস নং ৩৭০৫

ইবরাহীম রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, বদর যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এই তো জিবরাঈল আ. রণ-সজ্জায় সজ্জিত হয়ে ঘোড়ার মাথা (ঘোড়ার লাগাম) হাত দিয়ে ধরে আছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭০৬ – পরিচ্ছেদ ২১৭৪

হাদীস নং ৩৭০৬

খালীফা রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আবু যায়েদ রা. ইন্তিকাল করেন। তিনি কোন সন্তান-সন্ততি রেখে যাননি। তিনি ছিলেন বদরী সাহাবী।

বুখারি হাদিস নং ৩৭০৭

হাদীস নং ৩৭০৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………ইবনে খাব্বাব রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবু সাঈদ ইবনে মালিক খুদরী রা. সফর থেকে বাড়ী ফেরার পর তার পরিবারের লোকেরা তাকে কুরবানীর গোশত থেকে কিছু গোশত খেতে দিলেন।

তিনি বললেন, আমি না জিজ্ঞাসা করে এ গোশত খেতে পারি না। তারপর তিনি তার মায়ের গর্ভজাত ভ্রাতা কাতাদা ইবনে নুমানের কাছে গিয়ে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলেন।

তিনি ছিলেন, একজন বদরী সাহাবী। তখন তিনি তাকে বললেন, তিন দিন পর কুরবানীর গোশত খাওয়ার ব্যাপারে তোমাদের প্রতি যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছিল পরবর্তীতে (অনুমতি সম্বলিত হাদীসের দ্বারা) তা সম্পূর্ণভাবে রহিত করে দেয়া হয়েছে।

মাগাযী পার্ট ২ (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭০৮

হাদীস নং ৩৭০৮

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ………..উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যুবাইর রা. বলেছেন, বদর যুদ্ধের দিন আমি উবায়দা ইবনে সাঈদ ইবনে আস রা. কে এমন অস্ত্রাবৃত অবস্থায় দেখলাম যে, তার দুচোখ ব্যতীত আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।

তাকে আবু যাতুল কারিশ বলে ডাকা হত। সে বলল, আমি আবু যাতুল কারিশ। (এ কথা শুনে) বর্শা দিয়ে আমি তার উপর হামলা করলাম এবং তার চোখ ফুড়ে দিলাম।

সে তৎক্ষণাৎ মারা গেল।হিশাম বলেন, আমাকে জানানো হয়েছে যে, যুবাইর রা. বলেছেন, তার (উবায়দা ইবনে সাঈদ ইবনে আসের) লাশের উপর পা রেখে বেশ বল প্রয়োগ করে ( তার চোখ থেকে) আমি বর্শাটি টেনে বের করলাম। এতে বর্শার উভয় প্রান্তে বাঁকা হয়ে যায়।

উরওয়া রহ. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইরের নিকট বর্শাটি চাইলে তিনি তা তাকে দিয়ে দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর তিনি তা নিয়ে যান। এবং পরে আবু বকর রা. তা চাইলে তিনি তাকে বর্শা খানা দিয়ে দেন।

আবু বকরের ইন্তিকালের পর উমর রা. তা চাইলেন। তিনি তাকে বর্শা খানা দিয়ে দিলেন। কিন্তু উমরের ইন্তিকালের পর যুবাইর রা. পুনরায় বর্শাটি নিয়ে যান। এরপর উসমান রা. তাঁর নিকট বর্শাখানা চাইলে তিনি উসমানকে তা দিয়ে দেন।

তবে উসমানের শাহাদতের পর তা আলীর লোকজনের হস্তগত হওয়ার পর আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. তা চেয়ে যান। এরপর থেকে শহীদ হওয়া পর্যন্ত বর্শাখানা তাঁর নিকটই থাকে।

বুখারি হাদিস নং ৩৭০৯

হাদীস নং ৩৭০৯

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু ইদরীস আয়িযুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ রহ. থেকে বর্ণিত যে, উবাদা ইবনে সামিত রা. বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার হাতে বায়আত গ্রহণ কর। তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

মাগাযী পার্ট ২ (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭১০

হাদীস নং ৩৭১০

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী আবু হুযাইফা রা. এর আনসারী মহিলার আযাদকৃত গোলাম সালিমকে পালকপুত্র হিসাবে গ্রহণ করেন, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদকে পালকপুত্র হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি তাকে তার ভ্রাতুস্পুত্রী হিনদা বিনতে ওয়ালীদ ইবনে উতবার সাথে বিয়ে করিয়ে দেন।

জাহিলিয়্যাতের আমলে কেউ কোন ব্যক্তিকে পালকপুত্র হিসাবে গ্রহণ করলে লোকেরা তাকে তার (পালনকারী) প্রতিই সম্বোধন করত, এবং সে তার পরিত্যক্ত সম্পদের উত্তরাধিকারী হত।

অবশেষে আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত নাযিল করলেন, “তোমরা তাদেরকে ডাক তাদের পিতৃ পরিচয়ে”। এরপর (আবু হুযায়ফার স্ত্রী) সাহলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে হাদীসে বর্ণিত প্রকৃত ঘটনা বর্ণনা করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭১১

হাদীস নং ৩৭১১

আলী রহ………..রুবায়ই বিনতে মুআওয়িয রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমার বাসর রাতের পরদিন সকাল বেলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন এবং তুমি (খালিদ ইবনে যাকওয়ান) যেভাবে আমার কাছে বসে আছে ঠিক সে ভাবে আমার পাশে আমার বিছানায় এসে বসলেন।

তখন কয়েকজন ছোট বালিকা দুফ বাজিয়ে বদর যুদ্ধে নিহত শহীদ পিতাদের প্রশংসা শ্লোক আবৃত্তি করছিল। পরিশেষে একটি বালিকা বলে উঠল, আমাদের মাঝে এমন একজন নবী আছেন, যিনি জানেন, আগামীকাল কি হবে।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এরূপ কথা বলবে না, বরং পূর্বে যা বলতে ছিলে তাই বল।

বুখারি হাদিস নং ৩৭১২

হাদীস নং ৩৭১২

ইবরাহীম ইবনে মূসা ও ইসমাঈল রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী আবু তালহা রা. আমাকে জানিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ঘরে কুকুর কিংবা ছবি থাকে সে ঘরে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। ইবনে আব্বাসের মতে ছবি-এর অর্থ হচ্ছে প্রাণীর ছবি।

বুখারি হাদিস নং ৩৭১৩

হাদীস নং ৩৭১৩

আবদান ও আহমাদ ইবনে সালিহ রহ………..আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের গনীমতের মাল থেকে আমার অংশে আমি একটি উট পেয়েছিলাম।

ফায় থেকে প্রাপ্ত এক পঞ্চামাংশ থেকেও সেদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি উট প্রদান করেন। আমি যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমার সাথে বাসর রাত যাপন করার ইচ্ছা করলাম এবং বানু কায়নুকা গোত্রের একজন ইয়াহূদী স্বর্ণকারকে ঠিক করলাম যেন সে আমার সাথে যায়।

(সেখান থেকে) আমরা ইযখির ঘাস সংগ্রহ করে নিয়ে আসব। পরে ঐ ঘাস স্বর্ণকারদের নিকট বিক্রি করে তা আমি আমার বিয়ের ওয়ালিমায় খরচ করার ইচ্ছা করেছিলাম।

(একদা ঐ কার্যে যাত্রা করার জন্য) আমি আমার উট দুটোর জন্য গদি, বস্তা এবং দড়ি ব্যবস্থা করছিলাম আর উট দুটো এক আনসারী ব্যক্তির ঘরের পার্শ্বে বসানো ছিল।

আমার যা কিছু সংগ্রহ করার তা সংগ্রহ করে নিয়ে এসে দেখলাম উট দুটোর চুট কেটে ফেলা হয়েছে এবং সে দুটির বক্ষ বিদীর্ণ করে কলিজা খুলে নেওয়া হয়েছে। এ দৃশ্য দেখে আমি আমার অশ্রু সংবরণ করতে পারলাম না। আমি (নিকটস্থ লোকদেরকে) জিজ্ঞাসা করলাম, এ কাজ কে করেছে?

তারা বললেন, আবদুল মুত্তালিবের পুত্র হামযা এ কাজ করেছেন। এখন তিনি এ ঘরে আনসারদের কিছ মদ্যপায়ীদের সাথে মদপান করছেন।

সেখানে আছে একদল গায়িকা ও কতিপয় সঙ্গী সাথী।(মদ্যপানের সময়) গায়িকা ও তার সঙ্গীগণ গানের ভেতর বলেছিল, হে হামযা ! মোটা উষ্ট্রদ্বয়ের চুট দুটো কেটে নিল আর তাদের পেট চিরে কলীজা বের করে নিয়ে আসল। আলী রা. বলেন, তখন আমি পথ চলতে চলতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট চলে গেলাম।

তখন তাঁর নিকট যায়েদ ইবনে হারিসা রা. উপস্থিত ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাকে দেখা মাত্রই) আমি যে বিপদের সম্মুখীন হয়েছি তা বুঝে ফেললেন।

তিনি আমাকে বললেন, তোমার কি হয়েছে ? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আজকের মত বেদনাদায়ক ঘটনা আমি কখনো দেখিনি।

মাগাযী পার্ট ২ (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

 

হামযা আমার উট দুটোর উপর খুব যুলুম করেছেন, তিনি উট দুটোর চুট কেটে ফেলেছেন এবং বক্ষ বিদীর্ণ করেছেন। এখন তিনি একটি ঘরে একদল মদ্যপায়ীদের সাথে অবস্থান করছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদরখানা চেয়ে নিলেন এবং তা গায়ে দিয়ে হেটে রওয়ানা হলেন।

(আলী বলেন) এরপর আমি এবং যায়েদ ইবনে হারিস রা. তাকে অনুসরণ করলাম। (হাটতে হাটতে) তিনি যে ঘরে অবস্থান করছিলেন সে ঘরের কাছে পৌঁছে তার নিকট অনুমতি চাইলেন।

তাকে অনুমতি দেয়া হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামযাকে তার কৃতকর্মের জন্য ভৎসনা করতে শুরু করলেন। হামযা তখন নেশাগ্রস্ত। চোক দুটো তার লাল। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং দৃষ্টি উপর দিকে উঠিয়ে তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাটুর দিকে তাকালেন।

এরপর দুষ্টি আরো একটু উপর দিকে উঠিয়ে তিনি তাঁর চেহারার প্রতি তাকালেন। এরপর হামযা বললেন, তোমরা তো আমার পিতার দাস।

(এ কথা শুনে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝলেন যে, তিনি এখন নেশাগ্রস্ত। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছনের দিকে হটে (সেখান থেকে) বেরিয়ে পড়লেন, আমরাও তাঁর সাথে সাথে বেরিয়ে পড়লাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৭১৪

হাদীস নং ৩৭১৪

মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ রহ………..ইবনে মাকিল রা. থেকে বর্ণিত যে, (তিনি বলেছেন) আলী রা. সাহল ইবনে হুনাইফের (জানাযার সালাতে) তাকবীর উচ্চারণ করলেন এবং বললেন, তিনি (সাহল ইবনে হুনাইফ) বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭১৫

হাদীস নং ৩৭১৫

আবুল ইয়ামান রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, (উমর রা. তাকে বলেছেন) উমর ইবনে খাত্তাবের কন্যা হাফসা স্বামী খুনায়স ইবনে হুযাফা সাহামী রা. যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ছিলেন এবং বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন, মদীনায় ইন্তিকাল করলে হাফসা রা. বিধবা হয়ে পড়লেন।

উমর রা. বলেন, তখন আমি উসমান ইবনে আফফানের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর নিকট হাফসার কথা আলোচনা করে তাকে বললাম, আপনি চাইলে আমি আপনার সাথে উমরের মেয়ে হাফসাকে বিয়ে দিয়ে দেব।

উসমান রা. বললেন, ব্যাপরটি আমি একটু চিন্তা করে দেখি। (উমর রা. বলেন, এ কথা শুনে) আমি কয়েকদিন অপেক্ষা করলাম। পরে উসমান রা. বললেন, আমার সুস্পষ্ট অভিমত এই যে, এ সময় আমি বিয়ে করব না।

উমর রা. বলেন, এরপর আমি আবু বকরের সাথে সাক্ষাত করলাম এবং তাকে বললাম, আপনি ইচ্ছা করলে উমরের কন্যা হাফসাকে আমি আপনার নিকট বিয়ে দিয়ে দেব।(এ কথা শুনে) আবু বকর রা. চুপ করে রইলেন এবং আমাকে কোন জবাব দিলেন না।

এতে আমি উসমানের (অস্বীকৃতির) চেয়েও অধিক দুঃখ পেলাম। এরপর আমি কয়েকদিন চুপ করে রইলাম, এমতাবস্থায় হাফসার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই প্রস্তাব দিলেন।

আমি তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বিয়ে দিয়ে দিলাম।এরপর আবু বকর রা. আমার সাথে সাক্ষাত করে বললেন, আমার সাথে হাফসার বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার পর আমি আপনাকে কোন উত্তর না দেওয়ার ফলে সম্ভবত আপনি মনে কষ্ট পেয়েছেন।

(উমর রা. বলেন) আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন আবু বকর রা. বললেন, আপনার প্রস্তাবের জবাব দিতে একটি জিনিসই আমাকে বাঁধা দিয়েছে, আর তাহল এই যে, আমি জানতাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই হাফসা রা. সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন, তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপনীয় বিষয়টি প্রকাশ করার আমার ইচ্ছা ছিল না।

(এ কারণেই তখন আমি আপনাকে কোন উত্তর দেই নি। যদি তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে গ্রহণ না করতেন, অবশ্যই আমি তাকে গ্রহণ করতাম।

মাগাযী পার্ট ২ (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭১৬

হাদীস নং ৩৭১৬

মুসলিম রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ রহ. বদরী সাহাবী আবু মাসউদ রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, স্বীয় আহলের (পরিবার পরিজনের) জন্য ব্যয় করাও সাদকা।

বুখারি হাদিস নং ৩৭১৭

হাদীস নং ৩৭১৭

আবুল ইয়ামান রহ………উরওয়া ইবনে যুবাইর রহ. থেকে বর্ণিত, উমর ইবনুল আবদুল আযীয রহ. তাঁর খিলাফত কালের (একটি ঘটনা) বর্ণনা করেছেন যে,

মুগীরা ইবনে শুবা রা. কুফার আমীর থাকা কালে তিনি (একদা) আসরের সালাত আদায় করতে বিলম্ব করে ফেললে যায়েদ ইবনে হাসানের দাদা বদরী সাহাবী আবু মাসউদ উতবা ইবনে আমর আনসারী রা. তাঁর নিকট গিয়ে বললেন, আপনি তো জানেন যে, জিবরাঈল আ. এসে সালাত আদায় করলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর সাথে) পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করলেন। জিবরাঈল আ. বললেন, আপনি এভাবেই সালাত আদায় করানোর জন্য আদিষ্ট হয়েছেন। (উরওয়া বলেন) বশীর ইবনে আবু মাসউদ তার পিতার নিকট থেকে হাদীসটি এভাবেই বর্ণনা করতেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭১৮

হাদীস নং ৩৭১৮

মূসা রহ………বদরী সাহাবী আবু মাসউদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সূরা বাকারার শেষে এমন দুটি আয়াত রয়েছে যে ব্যক্তি রাতের বেলা আয়াদ দুটো তিলাওয়াত করবে তার জন্য এ আয়াত দুটোই যথেষ্ট।

অর্থাৎ রাত্রে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার যে হক রয়েছে কমপক্ষে সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত তিলাওয়াত করলে তার জন্য তা যথেষ্ট।

আবদুর রাহমান রহ. বলেন, পরে আমি আবু মাসউদের সাথে সাক্ষাত করলাম। তখন তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করছিলেন। (সেখানে) এ হাদীসটি সম্পর্কে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তা আমার নিকট বর্ণনা করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭১৯

হাদীস নং ৩৭১৯

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….ইবনে শিহাব রহ. থেকে বর্ণিত যে, মাহমূদ ইবনে রবী রহ. আমাকে জানিয়েছেন যে, ইতবান ইবনে মালিক রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আনসারী সাহাবী ছিলেন এবং তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭২০

হাদীস নং ৩৭২০

আহমদ রহ………ইবনে শিহাব রহ. থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, আমি বনী সালিম গোত্রের অন্যতম নেতা হুসাইন ইবনে মুহাম্মদকে রহ. ইতবান ইবনে মালিক থেকে মাহমূদ ইবনে রাবী এর বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর তিনি উহার স্বীকৃতি দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭২১

হাদীস নং ৩৭২১

আবুল ইয়ামান রহ…………যুহরী রহ. থেকে বর্ণিত, বনী আদী গোত্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবীআ যার পিতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, আমাকে বর্ণনা করেন যে, উমর রা. কুদামা ইবনে মাযউনকে রা. বাহরাইনের শাসনকর্তা নিয়োগ করেছিলেন।

তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. এবং হাফসা রা.-এর মামা।

বুখারি হাদিস নং ৩৭২২

হাদীস নং ৩৭২২

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসমা রহ……….রাফি ইবনে খাদিজ রা. আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে বলেছেন যে, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তার দু’চাচা তাকে জানিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবাদযোগ্য ভূমি ভাড়া দিতে নিষেধ করেছেন।

(রাবী বলেন) আমি সালিমকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি তো এ ধরনের জমি ভাড়া দিয়ে থাকেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাফি (ইবনে খাদীজ) তো নিজের প্রতি বাড়াবাড়ি করেছেন।

মাগাযী পার্ট ২ (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭২৩

হাদীস নং ৩৭২৩

আদাম রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাম ইবনে হাদ লায়সী রহ . থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রিফাআ ইবনে রাফি আনসারী রা. কে দেখেছি, তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭২৪

হাদীস নং ৩৭২৪

আবদান রহ……….নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী, বনী আমির ইবনে লুওয়াই গোত্রের বন্ধু আমর ইবনে আউফ রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহকে জিযিয়া আনার জন্য বাহরাইন পাঠান।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহরাইন বাসীদের সাথে সন্ধি করে আলা ইবনে হাযরামী রা.-কে তাদের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন।

আবু উবায়দা রা. বাহরাইন থেকে মাল নিয়ে এস পৌঁছলে আনসারগণ তার আগমনের সংবাদ জানতে পেয়ে সকলেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ফজরের সালাত আদায় করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হলেন।সালাত সমাপ্তির ফিরে বসলে তারা সকলেই তাঁর সামনে আসলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে দেখে মুচকি হেসে বললেন, আমার মনে হয়, আবু উবায়দা কিছু মাল নিয়ে এসেছে বলে তোমরা শুনতে পেয়েছ।

তারা সকলেই বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তিনি বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ কর এবং তোমাদের আনন্দদায়ক বিষয়ের আশায় থাক, আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের জন্য দারিদ্রের আশংকা করি না।

বরং আমি আশংকা করি যে, তোমাদের কাছে দুনিয়ার প্রাচুর্য এসে যাবে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের কাছে এসেছিল, তখন তোমরা তা লাভ করতে পরষ্পরে প্রতিযোগিতা করবে যেমনভাবে তারা করেছিল।

আর এ ধন-সম্পদ তাদেরকে যেমনিভাবে ধ্বংস করেছিল তোমাদেরকেও তেমনিভাবে ধ্বংস করে দিবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৭২৫

হাদীস নং ৩৭২৫

আবুন নুমান রহ……..নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর রা. সব ধরনের সাপকে হত্যা করতেন। অবশেষে বদরী সাহাবী আবু লুবাবা রা. তাকে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে বসবাসকারী (শ্বেতবর্ণের) ছোট সাপ মারতে নিষেধ করেছেন। এতে তিনি তা মারা থেকে বিরত থাকেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭২৬

হাদীস নং ৩৭২৬

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, কতিপয় আনসারী সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করলেন।

তারা বললেন, আমাদেরকে আমাদের ভাগিনা আব্বাসের ফিদয়া মাফ করে দেয়ার অনুমতি দিন। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, তোমরা তার (মুক্তিপণ এর) একটি দেরহামও মাফ করবে না।

বুখারি হাদিস নং ৩৭২৭

হাদীস নং ৩৭২৭

আবু আসিম ও ইসহাক রহ………বনী যুহরা গোত্রের হালীফ (মিত্র) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী মিকদাদ ইবনে আমর কিনদী রা. থেকে বর্ণিত যে,

তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলুন, কোন কাফিরের সাথে আমার যদি (যুদ্ধক্ষেত্রে) সাক্ষাৎ হয় এবং আমি যদি তার সাথে লড়াই করি আর সে যদি তলোয়ারের আঘাতে আমার একখানা হাত কেটে ফেলে এবং তারপর আমার থেকে আত্মরক্ষার জন্য গাছের আড়ালে গিয়ে বলে আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে ইসলাম গ্রহণ করলাম, এ কথা বলার পরেও কি আমি তাকে হত্যা করব?

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে হত্যা করবে না। এরপর তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সে তো আমার একখানা হাত কেটে এরপর এ কথা বলেছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বললেন, না তুমি তাকে হত্যা করবে না। কেননা, তুমি তাকে হত্যা করলে হত্যা করার পূর্বে তোমার যে মর্যাদা ছিল সে সেই মর্যাদা লাভ করবে, আর ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয়ার পূর্বে তার যে মর্যাদা ছিল তুমি সেই স্তরে গিয়ে পৌঁছবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৭২৮

হাদীস নং ৩৭২৮

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের দিন বললেন, আবু জেহেলের কি অবস্থা কেউ দেখে আসতে পার কি?

তখন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. তার খোজে বের হলেন। এবং আফরার দুই পুত্র তাকে আঘাত করে মুমুর্ষ করে ফেলে রেখেছে দেখতে পেলেন।

তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি কি আবু জেহেল? (উত্তরে আবু জেহেল বলল) একজন লোককে হত্যা করা ছাড়া তোমরা তোম বেশী কিছু করনি?

সুলাইমান বলেন, অথবা সে (আবু জেহেল) বলেছিল, (এর চেয়ে বেশী কিছু হয়েছে কি যে,) একজন লোককে তার কাওমের লোকেরা হত্যা করেছে?

আবু মিজলায রা. বলেন, আবু জেহেল বলেছিল, কৃষক ব্যতীত অন্য কেউ যদি আমাকে হত্যা করত, (তাহলে কতই না ভাল হত)।

মাগাযী পার্ট ২ (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭২৯

হাদীস নং ৩৭২৯

মূসা রহ……….উমর রা. থেকে বর্ণিত, (তিনি বলেছেন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যখন ওফাত হল তখন আমি আবু বকরকে বললাম, আমাদেরকে আনসার ভাইদের নিকট নিয়ে চলুন।

পথিমধ্যে আমরা আনসারদের দু’জন নেক ব্যক্তির সাক্ষাত পেলাম। যারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। রাবী বলেন, আমি উরওয়া ইবনে যুবাইরের নিকট এ হাদীসখানা বর্ণনা করলে তিনি বললেন, তারা ছিলেন উওয়াম ইবনে সাঈদা এবং মান ইবনে আদী রা.।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৩০

হাদীস নং ৩৭৩০

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ…….কায়েস রা. থেকে বর্ণিত যে, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের (বাৎসরিক) ভাতা পাঁচ হাজার পাঁচ (দেরহাম) করে নির্ধারিত ছিল।

উমর রা. বলেছেন, অবশ্যই আমি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদেরকে পরবর্তী লোকদের চেয়ে অধিক মর্যাদা প্রদান করব।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৩১

হাদীস নং ৩৭৩১

ইসহাক ইবনে মানসুর রহ……….যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাগরিবের সালাতে সূরা তুর পড়তে শুনেছি। এ ঘটনা থেকেই সর্বপ্রথম আমার হৃদয়ে ঈমান বদ্ধমূল হয়।

(অপর এক সনদে) যুহরী রহ………….. মুহাম্মদ ইবনে যুবাইর ইবনে মুতঈমের মাধ্যমে তার পিতা যুবাইর ইবনে মুতঈম রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধবন্দীদের সম্পর্কে সুপারিশ করতেন, তাহলে তার খাতিরে এদেরকে আমি (মুক্তিপণ ব্যতীতই) ছেড়ে দিতাম।

লায়স ইয়াহইয়ার সূত্রে সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, প্রথম ফিতনা অর্থাৎ উসমানের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হবার পর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের আর কেউ অবশিষ্ট ছিলেন না।

দ্বিতীয় ফিতনা তথা হারবার ঘটনা সংঘটিত হলে পরে হুদায়বিয়ার সন্ধিকালীন সময়ের কোন সাহাবীই আর বাকী ছিলেন না। এরপর তৃতীয় ফিতনা সংঘটিত হওয়ার পর তা কখনো শেষ হয়নি, যতদিন মানুষের মধ্যে আকল ও কল্যাণকামিতা বিদ্যমান ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৩২

হাদীস নং ৩৭৩২

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ………যুহরী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উরওয়া ইবনে যুবাইর, সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব, আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস ও উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ রহ. থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশার (প্রতি আরোপিত) অপবাদের ঘটনা সম্পর্কে শুনেছি।

তারা সকলেই হাদীসটির একটি অংশ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আয়েশা রা. বলেছেন। আমি এবং উম্মে মিসতাহ (প্রাকৃতিক প্রয়োজনে) বের হলাম।

তখন উম্মে মিসতাহ চাদরে পেচিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। এতে সে বলল, মিসতাহ এর জন্য ধ্বংস । (আয়েশা রা .বলেন) তখন আমি বললাম, আপনি ভাল বলেন নি।

আপনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিকে মন্দ বলেছেন। এরপর অপবাদ-এর (ইফক) ঘটনাটি উল্লেখ করলেন।

 

মাগাযী পার্ট ২ (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭৩৩

হাদীস নং ৩৭৩৩

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………ইবনে শিহাব রা. থেকে বর্ণিত, (তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জিহাদসমূহের বর্ণনা দেয়ার পর) বলেছেন, এ গুলোই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামরিক অভিযান।

এরপর তিনি (বদর যুদ্ধের) ঘটনা বর্ণনা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নিহত) কুরাইশ কাফিরদের লাশ কূপে নিক্ষেপ করার সময় (সে গুলোকে সম্বোধন করে) বললেন, তোমাদের রব তোমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন তা পেয়েছ তো ?

(রাবী) মূসা নাফির মাধ্যমে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের থেকে কেউ কেউ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি মৃত লোকদের আহবান করছেন।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার কথাগুলো তোমরা তাদের থেকে অধিক শুনতে পাচ্ছনা।

গনীমতের অংশ লাভ করেছিলেন, এ ধরনের যে সব কুরাইশী সাহাবী বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের সংখ্যা হল একাশি।

উরওয়া ইবনে যুবাইর বললেন, যে যুবাইর রা. বলেছেন, (বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী) কুরাইশী সাহাবীদের গনীমতের মালের অংশগুলো বন্টন করা হয়েছিল। তাদের সংখ্যা ছিল সর্বমোট একশ’ আল্লাহই ভাল জানেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৩৪

হাদীস নং ৩৭৩৪

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………….যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, বদরের দিন মুহাজিরদের জন্য (গনীমতের মালের) একশ’ হিসসা দেয়া হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৩৫ – দুই ব্যক্তির দিয়াতের ব্যাপারে আলোচনা করার জন্য রাসূল (সা.) এর বনী নাযীর গোত্রের নিকট যাওয়া এবং রাসূল (সা.) তাঁর সাথে তাদের গাদ্দারি সংক্রান্ত ঘটনা।

হাদীস নং ৩৭৩৫

ইসহাক ইবনে নাসর রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, বনু নাযীর ও বনু কুরায়যা গোত্রের ইয়াহূদী সম্প্রদায় (মুসলমানদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ আরম্ভ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু নাযীর গোত্রকে দেশান্তরিত করে দেন এবং বনু কুরায়যা গোতের প্রতি কৃপা প্রদর্শন করে তাদেরকে (তাদের ঘর বাড়ীতেই) থাকতে দেন।

কিন্তু (পরবর্তীকালে) বনু কুরায়যা গোত্র (মুসলমানদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধে লিপ্ত হলে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দলভূক্ত হবার পর তিনি তাদেরকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন তারা মুসলমান হয়ে গিয়েছিল তারা ব্যতীত অন্য সব পুরুষ লোককে হত্যা করে দেয়া হয় এবং মহিলা, সন্তান-সন্ততি ও সব ধন-সম্পদ মুসলমানদের মাঝে বন্টন করে দেয় হয়।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার সকল ইয়াহূদীকে দেশান্তরিত করলেন। আবদুল্লাহ ইবনে সালামের গোত্র বনু কায়নুকা ও বনু হারিসাহ অন্যান্য ইয়াহূদী সম্প্রদায়কেও তিনি দেশান্তরিত করেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৩৬

হাদীস নং ৩৭৩৬

হাসান ইবনে মুদরিক রহ………..সাঈদ ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাসের নিকট সূরা হাশরকে সূরা হাশর বলে উল্লেখ করলে, তিনি আমাকে বললেন, বরং তুমি বলবে “সূরা নাযীর”। আবু বিশর থেকে হুশাইমও এ বর্ণনায় তার (আবু আওয়ানা) অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৩৭

হাদীস নং ৩৭৩৭

আবদুল্লাহ ইবনে আবুল আসওয়াদ রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারগণ কিছু কিছু খেজুর গাছ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছিলেন।

অবশেষে বনু কুরায়যা ও বনু নাযীর বিজিত হওয়ার পর তিনি ঐ খেজুর গাছগুলো তাদেরকে ফেরত দিয়ে দেন।

মাগাযী পার্ট ২ (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

 

বুখারি হাদিস নং ৩৭৩৮

হাদীস নং ৩৭৩৮

আদম রহ………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুওয়াইরা নামক স্থানে বনু নাযীর গোত্রের যে খেজুর গাছ ছিল তার কিছু জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এবং কিছু কেটে ফেলেছিলেন।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: তোমরা যে খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলেছ অথবা যেগুলো কাণ্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে (হাশর ৫৯ : ৫)।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৩৯

হাদীস নং ৩৭৩৯

ইসহাক রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু নাযীর গোত্রের খেজুর গাছগুলো জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।

ইবনে উমর রা. বলেন, এ সম্বন্ধেই হাসসা ইবন সাবিত রা. বলেছেন: “বনু লুওয়াই গোত্রের নেতাদের (কুরাইশদের) জন্য সহজ হয়ে গিয়েছে বুওয়াইরা নামক স্থানের সর্বত্রই অগ্নিশিখা প্রজ্ব্বলিত হওয়া”।

রাবী ইবনে উমর রা. বলেন, এর উত্তরে আবু সুফিয়ান ইবনে হারিস বলেছিল, “আল্লাহ এ কাজকে স্থায়ী করুন এবং জ্বালিয়ে রাখুন মদীনার আশে পাশে লেলিহান আগুন, অচিরেই জানবে আমাদের মাঝে কারা নিরাপদ থাকবে এবং জানবে দুই নগরির কোনটি ক্ষতিগ্রস্থ হবে”।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৪০

হাদীস নং ৩৭৪০

আবুল ইয়ামান রহ……….মালিক ইবনে আওস ইবনে হাদসান সাসিরী রা. বর্ণনা করেন যে, (একদা) উমর ইবনে খাত্তাব রা. তাকে ডাকলেন। এ সময় তার দ্বাররক্ষী ইয়ারফা এসে বলল, উসমান আবদুর রহমান, যুবাইর এবং সাদ রা. আপনার নিকট আসার অনুমতি চাচ্ছেন।

তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাদেরকে আসতে বল। কিছুক্ষণ পর এসে বলল, আব্বাস এবং আলী রা. আপনার নিকট অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাঁরা উভয়েই ভিতরে প্রবেশ করলেন।

আব্বাস রা. বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন ! আমার এবং তাঁর মাঝে (চলমান বিবাদের) মিমাংসা করে দিন। বনু নাযীরের সম্পদ থেকে আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ফাই (বিন যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) হিসাবে যা দিয়েছিলেন তা নিয়ে তাদের উভয়ের মাঝে বিবাদ চলছিল।

এ নিয়ে তারা তর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন, (এ দেখে আগত) দলের সকলেই বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন ! তাদের মাঝে একটি ফয়সালা করে তাদের পারস্পারিক এ বিবাদ থেকে অব্যাহতি দিন।

তখন উমর রা. বললেন, তাড়াহুড়া করবেন না। আমি আপনাদেরকে আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে বলছি, যার আদেশে আসমান ও যমিন স্থির আছে। আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সম্বন্ধে বলেছেন, আমরা (নবীগণ) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না।

যা রেখে যাই তা সদকা হিসাবেই গণ্য হয়। এর দ্বারা তিনি নিজের কথাই বললেন। উপস্থিত সকলেই বললেন, হ্যাঁ, তিনি একথা বলেছেন। উমর রা. আলী এবং আব্বাসের দিকে লক্ষ্য কর বললেন, আমি আপনাদের উভয়কে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে এ কথা বলেছেন, আপনারা তা জানেন কি?

তারা উভয়েই বললেন, হ্যাঁ, এরপর তিনি (উমর) বললেন, এখন আমি আপনাদেরকে (উত্থাপিত) বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা খুলে বলছি। ফায়ের কিছু অংশ আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসূলের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যা তিনি আর অন্য কাউকে দেননি।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: আল্লাহ ইয়াহূদীদের নিকট হতে তাঁর রাসূলকে যে ফায় দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা অশ্বে কিংবা উষ্ট্রে আরোহণ করে যুদ্ধ করনি; আল্লাহ তো তাঁর রাসূলকে যার উপর ইচ্ছা তার উপর কর্তৃত্ব দান করেন; আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

(৬: ৫৯) অতএব এ ফায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাস ছিল। আল্লাহ কসম! এরপর তিনি তোমাদেরকে বাদ দিয়ে নিজের জন্য এ সম্পদকে সংরক্ষিতও রাখেননি এবং নিজের জন্য নির্ধারিতও করে যাননি।

বরং এ অর্থকে তিনি তোমাদের মাঝে বন্টন করে দিয়েছেন। অবশেষে এ মাল উদ্বৃত্ত আছে। এ মাল থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবার পরিজনের এক বছরের খোরপোশ দিতেন। এর থেকে যা অবশিষ্ট থাকত তা তিনি আল্লাহর পথে খরচ করতে দিতেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় এ রূপই করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর আবু বকর রা. বললেন, এখন থেকে আমিই হলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওলী।

এরপর আবু বকর রা. তা স্বীয় তত্ত্বাবধানে নিয়ে এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে নীতি অনুসরণ করেছিলেন তিনিও সে নীতিই অনুসরণ করে চললেন।

তিনি আলী ও আব্বাসের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, আজ আপনারা যা বলছেন এ বিষয়ে আপনারা আবু বকরের সাথেও এ ধরণের আলোচনা করেছিলেন। আল্লাহ কসম, তিনিই জানেন, এ বিষয়ে আবু বকর রা. ছিলেন সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ এবং হকের অনুসারী এক মহান ব্যক্তিত্ব।

এরপর আবু বকরের ইন্তিকাল হলে আমি বললাম, (আজ থেকে) আমিই হলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকরের ওলী।

এরপর এ সম্পদকে আমি আমার খেলাফতের দুই বছরকাল আমার তত্ত্বাবধানে রাখি এবং এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকরের অনুসৃত নীতিই অনুসরণ করে চলছি। আল্লাহ তায়ালাই ভাল জানেন, এ বিষয়ে নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ ও হকের একনিষ্ঠ অনুসারী।

তা সত্ত্বেও পুনরায় আপনারা দুজনই আমার নিকট এসেছেন। আপনাদের উভয়কেই বলেছিলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমরা (নবীগণ) কাউকে উত্তরাধিকারী করি না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা হিসাবেই গণ্য হয়।

এরপর এ সম্পদটি আপনাদের উভয়ের তত্ত্ববধানে দেওয়ার বিষয়টি যখন আমার নিকট স্পষ্ট হল তখন আমি বলেছিলাম, যদি আপনারা চান তাহলে একটি শর্তে তা আমি আপনাদের নিকট অর্পণ করব।

শর্তটি হচ্ছে, আপনারা আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এমনভাবে কাজ করবেন যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর রা. করেছেন। আমার তত্ত্বাবধানে আসার পর আমি করেছি। অন্যথায় এ বিষয়ে আপনারা আমার সাথে আর কোন আলোচনা করবেন না।

তখন আপনারা বলেছিলেন, এ শর্তেই আপনি তা আমাদের নিকট অর্পণ করুন। আমি তা আপনাদের হাতে অর্পণ করেছি। এখন আপনারা আমার নিকট অন্য কোন ফয়সালা কামনা করেন কি?

আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, যার আদেশে আসমান যমীনে স্থির আছে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত আমি এর বাইরে অন্য কোন ফয়সালা দিতে পারব না। আপনারা যদি এর দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে থাকেন তাহলে আমার নিকট ফিরিয়ে দিন। আপনাদের এ দায়িত্ব পালনে আমিই যথেষ্ট।

রাবী (যুহরী) বলেন, আমি হাদীসটি উরওয়া ইবনে যুবাইরের নিকট বর্ণনা করার পর তিনি (আমাকে) বললেন, মালিক ইবনে আওস রা. ঠিকই বর্ণনা করেছেন।

আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা রা. কে বলতে শুনেছি, (বনী নাযীর গোত্রের সম্পদ থেকে) ফায় হিসাবে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে যে সম্পদ দিয়েছেন তার অষ্টমাংশ আনার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীগন উসমানকে আবু বকরের নিটক পাঠালে (পাঠাতে ইচ্ছা করলে) এই বলে আমি তাদেরকে বারণ করছিলাম যে, আপনারা কি আল্লাহকে ভয় করেন না?

আপনারা কি জানেন না যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন আমরা (নবী রাসূলগণ) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না, আমরা যা রেখে যাই তা সাদকা হিসাবেই থেকে যায়।

এ দ্বারা তিনি নিজেকে উদ্দেশ্য করেছেন। এ সম্পদ থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীগণ বিরত হলেন। রাবী (উরওয়া ইবনে যুবাইর রহ.) বলেন, অবশেষে সাদকার এ মাল আলীর তত্ত্বাবধানে ছিল। তিনি আব্বাসকে তা দিতে অস্বীকার করেন এবং পরিশেষে (এ যমীনের ব্যাপারে) তিনি আব্বাসের উপর জয়ী হন।

এরপর তা যথাক্রমে হাসান ইবনে আলী এবং হুসাইন ইবনে আলীর হাতে ছিল। পুনরায় তা আলী ইবনে হুসাইন এবং হাসান ইবনে হাসানের হস্তগত হয়।

তাঁরা উভয়ই পর্যায়ক্রমে তার দেখা শোনা করতেন। এরপর তা যায়েদ ইবনে হাসানের তত্ত্বাবধানে যায়। ইহা অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাদকা।

মাগাযী পার্ট ২ (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৭৪১

হাদীস নং ৩৭৪১

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, ফাতিমা এবং আব্বাস রা. আবু বকরের কাছে এসে ফাদাক এবং খায়বারের (ভূমির) অংশ দাবী করেন।

আবু বকর রা. বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমরা (নবী রাসূলগণ আমাদের সম্পদের) কাউকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে যাই না।

আমরা যা রেখে যাই সাদকা হিসাবেই রেখে যাই। এ মাল থেকে মুহাম্মদের পরিবার পরিজন ভোগ করবে। আল্লাহর কমস, আমার আত্মীয় স্বজনের সাথে আত্মীয়তা বন্ধনকে সুদৃঢ় করার চেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়তাই আমার নিকট অধিক প্রিয়।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৪২ – কাব ইবনে আশরাফের হত্যা।

হাদীস নং ৩৭৪২

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, (একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কাব ইবনে আশরাফের হত্যা করার জন্য প্রস্তুত আছে কে?

কেননা সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে। মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা রা. দাঁড়ালেন, এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি কি চান যে, আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলাম রা. বললেন, তাহলে আমাকে কিছু (কৃত্রিম) কথা বলার অনুমতি দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ বল। এরপর মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা রা. কাব ইবনে আশরাফের নিকট গিয়ে বললেন, এ লোকটি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাদকা চায়।

এবং সে আমাদেরকে বহু কষ্টে ফেলে। তাই (বাধ্য হয়ে) আমি আপনার নিকট কিছু ঋণের জন্য এসেছি। কাব ইবনে আশরাফ বলল, আল্লাহর কসম পরে সে তোমাদেরকে আরো বিরক্ত করবে এবং আরো অতিষ্ঠ করে তুলবে।

মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা রা. বললেন, আমরা তো তাকে অনুসরণ করছি। পরিণাম ফল কি দাঁড়ায় তা না দেখে এখনই তাঁর সঙ্গ পরিত্যাগ করা ভাল মনে করছিনা। এখন আমি আপনার কাছে এক ওসাক বা দুই ওসাক খাদ্য ধার চাই। রাবী সুফিয়ান বলেন, আমর রা. আমার নিকট হাদীসখানা কয়েকবার বর্ণনা করেছেন।

কিন্তু তিনি এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথাটি উল্লেখ করেননি। আমি তাকে (স্মরণ করিয়ে) বললাম, এ হাদীসে তো এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথাটি বর্ণিত আছে।

তখন তিনি বললেন, মনে হয় হাদীসে এক ওসাক বা দুই ওসাক কথাটি বর্ণিত আছে। কাব ইবনে আশরাফ বলল, ধারতো পেয়ে যাবে তবে কিছু বন্ধক রাখ।

মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা রা. বললেন, আপনি কি জিনিস আপনি বন্ধক চান। সে বলল, তোমাদের স্ত্রীদেরকে বন্ধক রাক। মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা রা. বললেন, আপনি আরবের অন্যতম সুশ্রী ব্যক্তি, আপনার নিকট কি করে, আমাদের স্ত্রীরদেরকে বন্ধক রাখব আমরা? তখন সে বলল, তাহলে তোমাদের পুত্র সন্তানদেরকে বন্ধক রাক।

তিনি বললেন, আমাদের পুত্র সন্তানদেরকে আপনার নিকট কি করে বন্ধক রাখি? (কেননা তা যদি করি তাহলে) তাদেরকে এ বলে সমালোচনা করা হবে যে, মাত্র এক ওসাক বা দুই ওসাকের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে। এটা তো আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর বিষয়।

তবে আমরা আপনার নিকট অস্ত্রশস্ত্র বন্ধক রাখতে পারি। রাবী সুফিয়ান বলেন, লামা শব্দের অর্থ হল অস্ত্রশস্ত্র। অবশেষে তিনি (মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা) তাকে পনুরায় যাওয়ার ওয়াদা করে চলে আসলেন।

এরপর তিনি কাব ইবনে আশরাফের দুধ ভাই আবু নাইলাকে সঙ্গে করে রাতের বেলা তার নিকট গেলেন। কাব তাদেরকে দুর্গের মধ্যে ডেকে নিল এবং সে নিজে (উপর তলা থেকে নিচে নেমে আসার জন্য প্রস্তুত হল। এ সময় তার স্ত্রী বলল, এ সময় তুমি কোথায় যাচ্ছ?

সে বলল, এইতো মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা এবং আমার ভাই আবু নাইলা এসেছে। (তাদের কাছে যাচ্ছি) আমর ব্যতীত রাবীগণ বলেন যে, কাবের স্ত্রী বলল, আমি তো এমনই একটি ডাক শুনতে পাচ্ছি যার থেকে রক্তের ফোটা ঝড়ছে বলে আমার মনে হচ্ছে।

কাব ইবনে আশরাফ বলল, মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা এবং দুধ ভাই আবু নাইলা, (অপরিচিত কোন লোক তো নয়) ভদ্র মানুষকে রাতের বেলা বর্শা বিদ্ধ করার জন্য ডাকলে তার যাওয়া উচিৎ।

(রাবী বলেন) মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা রা. সঙ্গে আরো দুই ব্যক্তিকে নিয়ে (তথায়) গেলেন। সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আমর কি তাদের দুজনের নাম উল্লেখ করেছিলেন?

 

মাগাযী পার্ট ২ (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

উত্তরে সুফিয়ান বললেন, একজনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। আমর বর্ণনা করেন যে, তিনি আরো দু’জন মানুষ সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। এবং তিনি বলেছিলেন যখন সে (কাব ইবনে আশরাফ) আসবে।

আমর ব্যতীত অন্যান্য রাবীগণ (মুহাম্মদ ইবনে মাসলামার সাথীদের সম্পর্কে) বলেছেন যে (তারা হলেন) আবু আবস ইবনে জাবর হারিস ইবনে আওস এবং আব্বদ ইবনে বিশর। আমর বলেছেন, তিনি অপর দুই ব্যক্তিকে সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন।

এবং তাদেরকে বলেছিলেন, যখন সে আসবে তখন আমি (কোন বাহানায়) তার মাথার চুল ধরে শুকতে থাকবে। যখন তোমরা আমাকে দেখবে যে, খুব শক্তভাবে আমি তার মাথা আঁকড়িয়ে ধরেছি, তখন তোমরা তরাবারি দ্বারা তাকে আঘাত করবে।

তিনি (মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা) একবার বলেছিলেন যে, আমি তোমাদেরকেও শুকাব। সে (কাব) চাদর নিয়ে নিচে নেমে আসলে তার শরীর থেকে সুঘ্রাণ বের হচ্ছিল।

তখন (মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা রা. বললেন, আজকের মত এতো উত্তম সুগন্ধি আমি আর কখনো দেখিনি। আমর ব্যতীত অন্যান্য রাবীগণ বর্ণনা করেছেন যে, কাব বলল, আমার নিকট আরবের সম্ভ্রান্ত ও মর্যাদারসম্পন্ন সুগন্ধী ব্যবহারকারী মহিলা আছে। আমর বলেন, মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা রা. বললেন, আমাকে আপনার মাথা শুকতে অনুমতি দেবেন কি?

সে বলল, হ্যাঁ, এরপর তিনি তার মাথা শুকলেন এবং এরপর তার সাথীদেরকে শুকালেন। তারপর তিনি পুনরায় বললেন, আমাকে (আরেকবার শুকবার জন্য) অনুমতি দেবেন কি?

সে বলল, হ্যাঁ। এরপর তিনি তাকে কাবু করে ধরে সাথীদেরকে বললেন, তোমরা তাকে হত্যা কর। তাঁরা তাকে হত্যা করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে এ সংবাদ জানালেন।

আরও পড়ুনঃ

সাহাবাগণের ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ১ম পার্ট- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ২য় পার্ট- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

অসীয়াত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

সহিহ বুখারী

 

মন্তব্য করুন