মদীনার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

মদীনার ফযীলত অধ্যায়

 মদীনার ফযীলত অধ্যায় (১৭৪৬-১৭৬৯) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

Table of Contents

মদীনার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৪৬ – মদীনা হারম হওয়া।

হাদীস নং ১৭৪৬

আবু নুমান রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মদীনা এখান থেকে ওখান পর্যন্ত হারম (রূপে গণ্য)।

সুতরাং তার গাছ কাটা যাবে না এবং কুরআন-সুন্নাহর খেলাফ কোন কাজ মদীনায় করা যাবে না। যদি কেউ কুরআন-সুন্নাহর খেলাফ কোন কাজ করে তাহলে তার প্রতি আল্লাহর লানত এবং ফেরেশতাদের ও সকল মানুষের।

বুখারি হাদিস নং ১৭৪৭

হাদীস নং ১৭৪৭

আবু মামার রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় এসে মসজিদ নির্মাণের আদেশ দেন। তারপর বলেন : হে বনূ নাজ্জার ! আমার নিকট থেকে মূল্য নিয়ে (ভূমি) বিক্রি কর।

তাঁরা বললেন, আমরা এর মূল্য কেবল আল্লাহর নিকটই চাই । এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ মুশরিকদের কবর খুড়ে ফেলা হল, ধ্বংসাবশেষ সমতল করা হল, খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হল।

কেবল মসজিদের কিবলার দিকে কিছু খেজুর গাছ সারিবদ্ধভাবে রাখা হল।

বুখারি হাদিস নং ১৭৪৮

হাদীস নং ১৭৪৮

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মদীনার দু’ পাথুরে ভূমির মধ্যবর্তী স্থান আমার ঘোষণা মোতাবেক নির্ধারিত করা হয়েছে।

বর্ণনাকারী বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ হারিসার নিকট তাশরীফ আনেন এবং বলেন, হে বনূ হারিসা !

আমার ধারণা ছিল যে, তোমরা হারমের বাইরে অবস্থান করছ, তারপর তিনি সেদিকে দৃষ্টিপাত করে বললেন : (না তোমরা হারমের বাইরে নও) বরং তোমরা হারমের ভিতরেই আছ।

বুখারি হাদিস নং ১৭৪৯

হাদীস নং ১৭৪৯

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আল্লাহর কিতাব এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, এই সহীফা ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি আরো বলেন, আয়ির নামক স্থান থেকে অমুক স্থান পর্যন্ত মদীনা হল হারম।

যদি কেউ এতে কুরআর-সুন্নাহর খেলাফ অসঙ্গত কোন কাজ করে অথবা কুরআর-সুন্নাহর খেলাফ আচরণকারী কে আশ্রয় দেয়, তাহলে তার উপর আল্লাহর লানত এবং সকল ফেরেশতা ও মানুষের।

সে ব্যক্তির কোন নফল এবং ফরয ইবাদত কবুল করা হবে না। তিনি আরো বলেন, মুসলমান কর্তৃক নিরাপত্তা দানের অধিকার সকলের ক্ষেত্রে সমান।

তাই যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দেওয়া নিরাপত্তাকে লংঘন করবে, তার প্রতি আল্লাহর লানত এবং সকল ফেরেশতা ও মানুষের। আর কবুল করা হবে না তার কোন নফল কিংবা ফরয ইবাদত।

যে ব্যক্তি তার মাওলার (মিত্রের) অনুমতি ব্যতীত অন্য কওমের সাথে বন্ধুত্ব করবে, তার প্রতিও আল্লাহ লানত এবং সকল ফেরেশতা ও মানুষের। তার নফল কিংবা ফরয কোন ইবাদতই কবুল করা হবে না। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, ‘আদলুন’ অর্থ বিনিময়।

 মদীনার ফযীলত অধ্যায় (১৭৪৬-১৭৬৯) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৫০ – মদীনার ফজিলত। মদীনা লোকদের বহিষ্কার করে দেয়।

হাদীস নং ১৭৫০

আবদুল্লাহ ইবেন ইউসুফ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আমি এমন এক জনপদে হিজরত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যে জনপদ অন্য সকল জনপদের উপর জয়ী হবে ।

লোকেরা তাকে ইয়াসরিব বলে থাকে। এ হল মদীনা। তা অবাঞ্ছিত লোকদেরকে এমনভাবে বহিষ্কার করে দেয়, যেমনভাবে কামারের অগ্নিচুলা লোহার মরিচা দূর করে দেয়।

বুখারি হাদিস নং ১৭৫১ – মদীনার অপর নাম তাবা।

হাদীস নং ১৭৫১

খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ………আবু হুমায়দ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমরা তাবূক যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করে মদীনার নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছলে, তিনি বললেন : এই হল তাবা।

বুখারি হাদিস নং ১৭৫২ – মদীনার কংকরময় দুটি এলাকা।

হাদীস নং ১৭৫২

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, আমি যদি মদীনাতে কোন হরিণকে বেড়াতে দেখি তাহলে তাকে আমি তাড়াব না। (কেননা) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মদীনার কংকরময় দুই এলাকার মধ্যবর্তী এলাকা হল হারম বা সম্মানিত স্থান।

বুখারি হাদিস নং ১৭৫৩ – যে ব্যক্তি মদীনা থেকে বিমুখ হয়।

হাদীস নং ১৭৫৩

আবুল ইয়ামান রহ……আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, তোমরা উত্তম অবস্থায় মদীনাকে রেখে যাবে ।

আর তখন জীবিকা অন্বেষণে বিচরণকারী অর্থাৎ পশু-পাখি এসে মদীনাকে আচ্ছন্ন করে নেবে। সবশেষে যাদের মদীনাতে একত্রিত করা হবে তারা হল মুযায়না গোত্রের দু’জন রাখাল।

তারা তাদের বকরীগুলোকে হাক-ডাক দিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই, মদীনাতে আসবে । এসে দেখবে মদীনা বন্য পশুতে ছেয়ে আছে। এরপর তারা সানিয়্যাতুল-বিদা নামক স্থানে পৌঁছতেই মুখ থুবড়ে পড়ে যাবে।

 মদীনার ফযীলত অধ্যায় (১৭৪৬-১৭৬৯) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৫৪

হাদীস নং ১৭৫৪

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…….সুফিয়ান ইবনে আবু যুহায়র রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি : ইয়ামান বিজিত হবে, তখন একদল লোক নিজেদের সাওয়ারী হাঁকিয়ে এসে স্বীয় পরিবার-পরিজন এবং অনুগত লোকদেরকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে।

অথচ মদীনাই ছিল তাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তারা জানত। এরপর ইরাক বিজিত হবে তখন একদল লোক নিজেদের সাওয়ারী হাকিয়ে এসে স্বজন এবং অনুগতদেরকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে, অথচ মদীনাই তাদের জন্য ছিল কল্যাণকর, যদি তারা জানত।

বুখারি হাদিস নং ১৭৫৫ – ঈমান মদীনার দিকে ফিরে আসবে।

হাদীস নং ১৭৫৫

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ঈমান মদীনাতে ফিরে আসবে যেমন সাপ তার গর্তে ফিরে আসে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৫৬ – মদীনাবাসীর সাথে প্রতারণাকারীর পাপ ।

হাদীস নং ১৭৫৬

হুসাইন ইবনে হুরায়স রহ………সা’দ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, যে কেউ মদীনাবাসীর সাথে ষড়যন্ত্র বা প্রতারণা করবে, সে লবণ যেভাবে পানিতে গলে যায়, সেভাবে গলে যাবে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৫৭ – মদীনার প্রস্তর নির্মিত দুর্গসমূহ।

হাদীস নং ১৭৫৭

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..উসামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার কোন একটি টিলায় আরোহণ করে বললেন : আমি যা দেখি তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ ?

(তিনি বললেন) বৃষ্টি বিন্দু পতিত হওয়ার স্থানসমূহের মত আমি তোমাদের গৃহসমূহের মাঝে ফিতনার স্থানসমূহ দেখতে পাচ্ছি। মামার ও সুলাইমান ইবনে কাসীর রহ. যুহরী রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় সুফিয়ানের অনুসরণ করেছেন।

 মদীনার ফযীলত অধ্যায় (১৭৪৬-১৭৬৯) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৫৮

হাদীস নং ১৭৫৮

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মদীনাতে দাজ্জালের ত্রাস ও ভীতি প্রবেশ করতে পারবে না। ঐ সময় মদীনার সাতটি প্রবেশ পথ থাকবে। প্রত্যেক পথে দু’জন করে ফেরেশতা (মোতায়ন) থাকবে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৫৯

হাদীস নং ১৭৫৯

ইসমাঈল রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মদীনার প্রবেশ পথসমূহে ফেরেশতা প্রহরায় নিয়োজিত থাকবে । তাই প্লেগ এবং দাজ্জাল মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না।

বুখারি হাদিস নং ১৭৬০

হাদীস নং ১৭৬০

ইয়াহইয়া ইবনে বুকায়র রহ……..আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে দাজ্জাল সম্পর্কে এক দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

বর্ণিত, কথাসমূহের মাঝে তিনি এ কথাও বলেছিলেন যে, মদীনার প্রবেশ পথে অনুপ্রবেশ করা দাজ্জালের জন্য হারাম জন্য হারাম করে দেওয়া হয়েছে। তাই সে মদীনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে মদীনার নিকটবর্তী কোন একটি লোনা জমিতে অবতরণ করবে।

তখন তার নিকট এক ব্যক্তি যাবে যে উত্তম ব্যক্তি হবে বা উত্তম মানুষের একজন হবে এবং সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমিই হলে সে দাজ্জাল যার সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে অবহিত করেছেন।

দাজ্জাল বলবে, আমি যদি তাকে হত্যা করে পুনারায় জীবিত করতে পারি তাহলেও কি তোমরা আমার ব্যাপারে সন্দেহ করবে ? তারা বলবে, না। এরপর দাজ্জাল লোকটিকে হত্যা করে পুনরায় জীবিত করবে। জীবিত হয়েই লোকটি বলবে, আল্লাহর শপথ !

আজকের চেয়ে অধিক প্রত্যয় আমার আর কখনো ছিলনা। তারপর দাজ্জাল বলবে, আমি তাকে হত্যা করে ফেলব। কিন্তু সে লোকটিকে হত্যা করতে আর সক্ষম হবে না।

বুখারি হাদিস নং ১৭৬১

হাদীস নং ১৭৬১

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মক্কা ও মদীনা ব্যতীত এমন কোন শহর নেই যেখানে দাজ্জাল অনুপ্রবেশ করবে না।

মক্কা এবং মদীনার প্রত্যেকটি প্রবেশ পথেই ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে পাহারায় নিয়োজিত থাকবে। এরপর মদীনা তার অধিবাসীদেরক নিয়ে তিনবার কেঁপে উঠবে। এভাবেই আল্লাহ তা’আলা সমস্ত কাফির এবং মুনাফিকদের কে বের করে দিবেন।

 মদীনার ফযীলত অধ্যায় (১৭৪৬-১৭৬৯) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৬২ – মদীনা অপবিত্র লোকদেরকে বহিষ্কার করে দেয়।

হাদীস নং ১৭৬২

আমর ইবনে আব্বাস রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন বেদুঈন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে ইসলামের উপর বায়আত গ্রহণ করল।

পরদিন সে জ্বরাক্রান্ত অবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বলল, আমার (বায়আত) ফিরিয়ে নিন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা প্রত্যাখ্যান করলেন।

এভাবে তিনবার হল। তারপর বললেন : মদীনা কামারের হাঁপরের মত, যা তার আবর্জনা ও মরিচাকে দূরীভূত করে এবং খাঁটি ও নির্ভেজাল কে পরিচ্ছন্ন করে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৬৩

হাদীস নং ১৭৬৩

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………যায়েদ ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে উহুদ যুদ্ধে যাত্রা করে তাঁর কতিপয় সাথী ফিরে আসলে একদল লোক বলতে লাগল, আমরা তাদেরকে হত্যা করব, আর অন্য দলটি বলতে লাগল, না, আমরা তাদেরকে হত্যা করব না।

এ সময়ই (তোমাদের হল কি, তোমরা মুনাফিকদের সম্পর্কে দু’দল হয়ে পড়েছ ?) আয়াতটি নাযিল হয়। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : মদীনা লোকদেরকে বহিষ্কার করে দেয়, যেমনভাবে আগুন লোহার মরিচাকে দূর করে দেয়।

বুখারি হাদিস নং ১৭৬৪ – পরিচ্ছেদ ১১৮০

হাদীস নং ১৭৬৪

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ…….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : হে আল্লাহ ! মক্কাতে তুমি যে বরকত দান করেছ, মদীনাতে এর দ্বিগুণ বরকত দাও। উসমান ইবনে উমর রা. ইউনুস রহ. থেকে হাদীসটি জাবির রা.-এর মতই বর্ণনা করেছেন।

 মদীনার ফযীলত অধ্যায় (১৭৪৬-১৭৬৯) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৬৫

হাদীস নং ১৭৬৫

কুতাইবা রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর থেকে ফিরে আসার পথে যখন তিনি মদীনার প্রাচীরগুলোর দিকে তাকাতেন, তখন তিনি উটকে দ্রুত চালাতেন আর তিনি অন্য কোন জন্তুর উপর থাকলে তাকেও দ্রুত চালিত করতেন, মদীনার ভালবাসার কারণে।

বুখারি হাদিস নং ১৭৬৬ – মদীনার কোন এলাকা পরিত্যাগ করা বা জনশূন্য করা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপছন্দ করতেন।

হাদীস নং ১৭৬৬

ইবনে সালাম রহ……..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনু সালিমা গোত্রের লোকেরা মসজিদে নববীর নিকটে চলে যাওয়ার সংকল্প করল।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাকে জনশূন্য করা অপছন্দ করলেন, তাই তিনি বললেন : হে বনু সালিমা ! মসজিদে নববীর দিকে তোমাদের হাঁটার সওয়াব কি তোমরা হিসাব করা না ? এরপর তারা সেখানেই রয়ে গেল।

বুখারি হাদিস নং ১৭৬৭ – পরিচ্ছেদ ১১৮২

হাদীস নং ১৭৬৭

মুসাদ্দাদ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি হল জান্নাতের বাগানের একটি বাগান, আর আমার মিম্বরটি হল আমার হাউজের উপর অবস্থিত।

 মদীনার ফযীলত অধ্যায় (১৭৪৬-১৭৬৯) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৬৮

হাদীস নং ১৭৬৮

উবায়দ ইবনে ইসমাঈল রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় শুভাগমন করলে আবু বকর ও বিলাল রা. জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়লেন।

আবু বকর রা. জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়লে তিনি এ কবিতা অংশটি আবৃত্তি করতেন : “প্রত্যেক ব্যক্তিই তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন, অথচ মৃত্যু তার জুতোর ফিতার চেয়েও অধিক নিকটবর্তী”।

আর বিলাল রা. জ্বর উপশম হলে উচ্চস্বরে এ কবিতা অংশ আবৃত্তি করতেন : “হায়, আমি যদি মক্কার প্রান্তরে একটি রাত কাটাতে পারতাম এমনভাবে যে, আমার চারদিকে থাকবে ইযখির এবং জালীল নামক ঘাস।

মাজান্না ঝর্ণার পানি কোন দিন পান করার সূযোগ পাব কি ? শামা এবং তাফীল পাহাড় আবার প্রকাশিত হবে কি ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : হে আল্লাহ ! তুমি শায়বা ইবনে রাবীআ উতবা ইবনে রাবীআ এবং উমায়্যা ইবনে খালফের প্রতি লানত বর্ষণ কর;

যেমনিভাবে তারা আমাদেরকে আমাদের মাতৃভূমি থেকে বের করে মহামারির দেশে ঠেলে দিয়েছে। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করলেন : হে আল্লাহ ! মদীনাকে আমাদের নিকট প্রিয় বানিয়ে দাও যেমন মক্কা আমাদের জন্য স্বাস্থ্যকর বানিয়ে দাও।

স্থানান্তরিত করে দাও জুহফাতে এর জ্বরের প্রকোপ বা মহামারীকে। আয়িশঅ রা. বলেন, আমরা যখন মদীনা এসেছিলাম তখন তা ছিল আল্লাহর যমীনে সর্বাপেক্ষা অধিক মহামারীর স্থান।

তিনি আরো বলেন, সে সময় মদীনায় বুতহান নামক একটি ঝর্ণা ছিল যার থেকে বিকৃত বর্ণ ও বিকৃত স্বাদের পানি প্রবাহিত হত।

 মদীনার ফযীলত অধ্যায় (১৭৪৬-১৭৬৯) - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৭৬৯

হাদীস নং ১৭৬৯

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এ বলে দুআ করতেন, হে আল্লাহ ! আমাকে তোমার পথে শাহাদাত বরণ করার সুযোগ দান কর এবং আমার মৃত্যু তোমার রাসূলের শহরে দাও।

ইবনে যুবায়ই রহ…….হাফসা বিনতে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর রা.-কে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি।

হিশাম রহ. বলেন, যায়েদ তাঁর পিতার সূত্রে হাফসা রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি উমর রা.-কে বলতে শুনেছি। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, রাওই তাঁর মায়ের সূত্রে এরূপ বলেছেন।

আরও পড়ুনঃ

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

মন্তব্য করুন