বুখারি হাদিস -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)-১ম খণ্ড

Table of Contents

সহিহ বুখারী ১ -বুখারি হাদিস

বুখারি হাদিস -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)-১ম খণ্ড
বুখারি হাদিস -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)-১ম খণ্ড

হাদিস ১৫৭

আহমদ ইবন মুহাম্মদ আল-মক্কী (র)… আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলে আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। আর তিনি এদিক ওদিক তাকাতেন না। যখন আমি তাঁর নিকটবর্তী হলাম তখন তিনি আমাকে বললেন, ‘আমাকে কিছু পাথর কুড়িয়ে দাও, আমি তা দিয়ে ইসতিনজা করব।’ (বর্ণনাকারী বলেন), বা এ ধরনের কোন কথা বললেন, আর আমার জন্য হাড় বা গোবর আনবে না।’ তখন আমি আমার কাপড়ের কোচায় করে কয়েকটি পাথর এনে তাঁর পাশে রাখলাম এবং আমি তাঁর থেকে সরে গেলাম। তিনি প্রয়োজন শেষে সেগুলো ব্যবহার করলেন।

 

হাদিস ১৩৭

ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল-হানযালী (র)… আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলাল্লাহ বলেছেনঃ ‘যে ব্যক্তির হাদস হয় তাঁর সালাত কবুল হবে না, যতক্ষন না সে উযূ করে। হাযরা-মাওতের এক ব্যক্তি বলেন, ‘হে আবূ হুরায়রা! হাদস কী?’ তিনি বলেন, ‘নিঃশব্দে বা সশব্দে বায়ু বের হওয়া।’

হাদিস ১৩৮

ইয়াহিয়া ইবন বুকায়র (র)… নু‘আয়ম মুজমির (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আবূ হুরায়রা (রা)- এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। তারপর তিনি উযূ করে বললেনঃ ‘আমি রাসূলুল্লাহ কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে, উযূর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল থাকবে উজ্জ্বল। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে, সে যেন তা করে।’

হাদিস ১৩৯

‘আলী (র)… ‘আব্বাদ ইবন তামীম (র)- এর চাচা থেকে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ- এর কাছে এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হল যে, তার মনে হয়েছিল যেন সালাতের মধ্যে কিছু হয়ে হিয়েছিল। তিনি বললেনঃ সে যেন ফিরে না যায়, যতক্ষণ না শব্দ শোনে বা গন্ধ পায়।

বুখারি হাদিস -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)-১ম খণ্ড
বুখারি হাদিস -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)-১ম খণ্ড

হাদিস ১৪০

‘আলী ইবন আবদুল্লাহ (র)… ইবন ‘আব্বাদ (রা) থেকে বর্ণিত, একবার নবী ঘুমিয়েছিলেন, এমনকি তাঁর নিঃশ্বাসের শব্দ হতে লাহল। এরপর তিনি সালাত আদায় করলেন। সুফিয়ান (র) আবার কখনো বলেছেন, তিনি শুয়ে পড়লেন, এমনকি তাঁর নিঃশ্বাসের শব্দ হতে লাহল। এরপর তিনি সালাত আদায় করলেন। অন্য সূত্রে সুফিয়ান (র)ইবন ‘আব্বাদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আমি এক রাতে আমার খালা মায়মূনা (রা)- এর কাছে রাত কাটালাম। রাতে নবী ঘুম থেকে উঠলেন এবং রাতের কিছু অংশ চলে যাবার পর রাসূলুল্লাহ একটি ঝুলন্ত মসক থেকে হাল্কা উযূ করলেন। রাবী ‘আমর (র) বলেন, তখন তিনি যেভাবে উযূ করেছেন আমিও সেভাবে উযূ করলাম এবং এসে তাঁর বাঁয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। সুফিয়ান (র) কখনো (বাম) শব্দের স্থলে বলতেন। তারপর তাসূলুল্লাহ আমাকে ঘুরিয়ে তাঁর ডান দিকে দাঁড় করালেন। এরপর আল্লাহর যতক্ষণ ইচ্ছা ততক্ষণ তিনি সালাত আদায় করলেন। এরপর কাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন, এমনকি তাঁর নাক ডাকতে থাকল। এরপর মুয়াযযিন এসে তাঁকে সালাতের কথা জানিয়ে দিলেন। তিনি তাঁর সঙ্গে সালাতের জন্য রওয়ানা হলেন এবং সালাত আদায় করলেন, কিন্তু উযূ করলেন না। আমরা ‘আমর (রা) –কে বললামঃ লোকে বলে যে, রাসূলুল্লাহ – এর চোখ ঘুমায় কিন্তু তাঁর অন্তর ঘুমায় না। তখন ‘আমর (রা) বলেন, ‘আমি উবায়দ ইবন ‘উমায়র (র) – কে বলতে শুনেছি, নবীগনের স্বপ্ন ওহী। এরপর তিনি তিলাওয়াত করেন- ‘আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে যবেহ করছি। (৩৭ঃ১০২)

হাদিস ১৪১

‘আবদুল্লাহ ইবন মাসলামা (র)… উসামা ইবন যায়দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ ‘আরাফার ময়দান থকে রওয়ানা হলেন। গিরিপথে গিয়ে তিনি সওয়ারি থেকে নেমে পেশাব করলেন। এরপর উযূ করলেন কিন্তু উত্তমরূপে করলেন না। আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! সালাত আদায় করবেন কি?’ তিনি বললেনঃ ‘সালাতের স্থান তোমার সামনে।’ তারপর তিনি আবার সওয়ার হলেন। এরপর মুযদালিফায় এসে সওয়ারি থেকে নেমে উযূ করলেন। এবার পূর্ণরূপে উযূ করলেন। তখন সালাতের জন্য ইকামাত দেওয়া হল। তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। তারপর সকলে তাঁদের অবতরণ স্থলে নিজ নিজ উট বসিয়ে দিল। পুনরায় ঈশার ইকামাত দেওয়া হল। তিনি ঈশার সালাত আদায় করলেন এবং উভয় সালাতের মধ্য অন্য কোন সালাত আদায় করলেন না।

হাদিস ১৪২

মুহাম্মদ ইবন ‘আবদুর রহীম (র)… ইবন ‘আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি উযূ করলেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল খুলেন। এক আঁজলা পানি দিয়ে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন। এরপর আর এক আঁজলা পানি দিয়ে এরূপ করলেন অর্থ্যাত আরেক হাতের সাথে মিলিয়ে মুখমণ্ডল ধুলেন। এরপর আর এক আঁজলা পানি দিয়ে ডান হাত ধুলেন। এরপর আর এক আঁজলা পানি দিয়ে বাম হাত ধুলেন। এরপর মাথা মসেহ করলেন। এরপর আর এক আঁজলা পানি দিয়ে ডান পায়ের উপর ঢেলে দিয়ে তা ধুয়ে ফেললেন। এরপর আর এক আঁজলা পানি দিয়ে বাম পা ধুলেন। তারপর বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ কে এভাবে উযূ করতে দেখেছিল’

বুখারি হাদিস -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)-১ম খণ্ড
বুখারি হাদিস -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)-১ম খণ্ড

হাদিস ১৪৩

‘আলী ইবন ‘আবদুল্লাহ (র)… ইবন ‘আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম বলেছেন, তোমাদের কেউ তাঁর স্ত্রীর সাথে মিলনের পূর্বে যদি বল, (আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। আল্লহ! তুমি আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং যা আমাদেরকে দান করবে তাকেও শয়তান থেকে দূরে রাখ)- তারপর (এ মিলনের দ্বারা) তাদের কিসমতে কোন সন্তান থাকলে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

হাদিস ১৪৪

আদম (র)… আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী যখন প্রকৃতির ডাকে শৌচাগারে যেতেন তখন বলতেন, (হে আল্লাহ! আমি মন্দ কাজ ও শয়তান থেকে আপনার শরণ নিচ্ছি।)” ইবন ‘আর’আর (র) শু‘বা (র) সূত্রেও অনুরূপ বর্ণনা করেন। গুনদার (র) শু‘বা (র) থেকে বর্ণনা করেন, (যখন শৌচাগারে যেতেন)। মূসা (র) হাম্মাদ (র) থেকে বর্ণনা করেন, ‘যখন প্রবেশ করার ইচ্ছা করতেন।’

হাদিস ১৪৫

‘আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (র)… ইবন ‘আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, একবার নবী শৌচাগারে গেলেন, তখন আমি তাঁর জন্য উযূর পানি রাখলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ ‘এটা কে রেখেছে?’ তাঁকে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘ইয়া আল্লাহ! আপনি তাকে দীনের জ্ঞান দান করুন।’

হাদিস ১৪৬

আদম (র)… আবূ আইয়ূব আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন শৌচাগারে যায়, তখন সে যেন কিবলার দিকে মুখ না করে এবং তার পিঠও না করে, বরং তোমরা পূর্ব দিক এবং পশ্চিম দিকে ফিরে বসবে (এই নির্দেশ মদীনার বাসিন্দাদের জন্য)।

হাদিস ১৪৭

‘আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র)… ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘লোকে বলে মল-মূত্র ত্যাগের সময় কিবলার দিকে এবং বায়তুল মুকাদ্দাসের দেকে মুখ করে বসবে না।’ ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘উমর (রা) বলেন, ‘আমি এক দিন আমাদের ঘরের ছাদের উপর উঠলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ কে দেখলাম বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে দুই ইটের উপর তাঁর প্রয়োজনে বসেছেন। তিনি [ওয়াসি (র)- কে] বললেন, তুমি বোধ হয় তাদের মধ্যে শামিল, যারা নিতম্বের ওপর ভর করে সালাত আদায় করে। আমি বললাম, ‘আল্লাহর কসম! আমি জানি না।’ মালিক (র) বলেন, (নিতম্বের উপর ভর করার অর্থ হল) যারা সালাত আদায় করে এবং মাটি থেকে নিতম্ব না তুলে সিজদা করে।

হাদিস ১৪৮

ইয়াহইয়া ইবন বুকায়র (র)… ‘আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম – এর পত্নীগণ রাতের বেলায় প্রাকৃতিক প্রয়োজনে খোলা ময়দানে যেতেন। আর ‘উমর (রা) নবী – কে বলতেন, ‘আপনার সহধর্মিণীগণকে পর্দায় রাখুন।’ কিন্তু রাসূলুল্লাহ তা করেন নি। এক রাতে ঈশার সময় নবী- এর পত্নী সাওদা বিনত যাম‘আ (রা) প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলেন। তিনি ছিলেন দীর্ঘকায়া। ‘উমর (রা) তাঁকে ডেকে বললেন, ‘হে সাওদা! আমি কিন্তু আপনাকে চিনে ফেলেছি।’ পর্দার হুকুম নাযিল হওয়ার আগ্রহে তিনি এ কথা বলেছিলেন। তারপর আল্লাহ তা‘আলা পর্দার হুকুম নাযিল করেন।

হাদিস ১৪৯

‘যাকারিয়্যা (র)…‘আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী বলেন, ‘তোমাদের প্রয়োজনের জন্য বের হবার অনুমতি দেয়া হয়েছে।’ হিশাম (র) বলেন, অর্থ প্রাকৃতিক প্রয়োজনে।

হাদিস ১৫০

ইবরাহীম ইবন মুনযির (র)… ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত, নবী বলেন, ‘আমি আমার বিশেষ এক প্রয়োজনে হাফসা (রা) – এর ঘরের ছাদে উঠলাম। তখন দেখলাম, রাসূলুল্লাহ কিবলার দিকে পিঠ দিয়ে শাম-এর দিকে মুখ করে তাঁর প্রয়োজনে বসেছেন।’

হাদিস ১৫১

ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (র)… আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ‘একদিন আমি আমাদের ঘরের উপর উঠলাম। আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ দু ইটের উপর বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বসেছেন।

হাদিস ১৫২

আবুল ওলীদ হিশাম ইবন ‘আবদুল মালিক (র)… আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হতেন তখন আমি ও আরাকটি ছেলে পানির পাত্র নিয়ে আসতাম। অর্থ তিনি তা দিয়ে ইসতিনজা করতেন।

হাদিস ১৫৩

সুলায়মান ইবন হারব (র)… আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হতেন তখন আমি ও আরেকটি ছেলে তাঁর পিছনে পানির পাত্র নিয়ে যেতাম।

হাদিস ১৫৪

মুহাম্মদ ইবন বাশশার (র) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী যখন শৌচাগারে যেতেন তখন আমি ও আরাকটি ছেলে পানির পাত্র এবং ‘আনাযা নিয়ে যেতাম। তিনি পানি দ্বারা ইসতিনজা করতেন।

হাদিস ১৫৫

মু‘আয ইবন ফাযালা (র)… আবূ কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ বলেন, তোমাদের কেউ যখন পান করে, তখন সে যেন পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস না ছাড়ে। আর যখন শৌচাগারে যায় তখন তার পুরূষাঙ্গ যেন ডান হাত দিয়ে স্পর্শ না করে এবং ডান হাতে ইসতিনজা না করে।

হাদিস ১৫৬

মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ (র)…আবূ কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন পেসাব করে তখন সে যেন কখনো ডান হাত তার পুরূষাঙ্গ না ধরে এবং ডান হাত দিয়ে ইসতিনজা না করে এবং পান করার সময় যেন পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস না ছাড়ে।

হাদিস ১৫৮

আবূ নু‘আয়ম (র)… ‘আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী একবার শৌচ কাজে যাবার সময় তিনটি পাথর কুড়িয়ে দিতে আমাকে আদেশ দিলেন। তখন আমি দু’টি পাথর পেলাম এবং তৃতীয়টির জন্য খোঁজাখুঁজি করলাম কিন্তু পেলাম না। তাই একখণ্ড শুকনো গোবর নিয়ে তাঁর কাছে গেলাম। তিনি পাথর দু’টি নিলেন এবং গোবর খণ্ড ফেলে দিয়ে বললেন, এটা অপবিত্র।

হাদিস ১৫৯

মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ (র)… ইবন ‘আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ‘নবী এক উযূতে একবার করে ধুয়েছেন।’

হাদিস ১৬০

হুসায়ন ইবন ‘ঈসা (র)… ‘আবদুল্লাহ ইবন যায়দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ‘নবী উযূতে দু’বার করে ধুয়েছেন।’

হাদিস ১৬১

আবদুল আযীয ইবন আবদুল্লাহ আল-উওয়ায়সী (র)…হুমরান (র) থেকে বর্ণিত, তিনি উসমান ইবন আফ্‌ফান (রা)-কে দেখেছেন যে, তিনি পানির পাত্র আনিয়ে উভয় হাতের তালুতে তিনবার ঢেলে তা ধুয়ে নিলেন। এরপর ডান হাত পাত্রের মধ্যে ঢুকালেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর হাঁত মুখমন্ডল তিনবার ধুয়ে এবং দু’হাত তিনবার কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিলেন। এরপর মাথা মসেহ করেলন। তারপর উভয় পা গিরা পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিলেন। পরে বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ ‘যে ব্যক্তি আমার মত এ রকম উযূ করবে, তারপর দু’রাক’আত সালাত আদায় করবে, যাতে দুনিয়ার কোন খেয়াল করবে না, তার পেছনের গুনাহ্‌ মাফ করে দেওয়া হবে।’
ইবরাহীম (র)… ইবন শিহাব (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘উরওয়া হুমরান থেকে বর্ণনা করেন, ‘উসমান (রা) উযূ করে বললেন, আমি তোমাদেরকে একটি হাদীস বর্ণনা করব। যদি একটি আয়াতে কারীমা না হত, তবে আমি তোমাদেরকে এ হাদীস বর্ণনা করতাম না। আমি নবী – কে বলতে শুনেছি, যে কোন ব্যক্তি সুন্দর করে উযূ করবে এবং সালাত আদায় করবে, পরের সালাত আদায় করা পর্যন্ত তার মখ্যবর্তী যত গুনাহ আছে সব মাফ করে দেওয়া হবে। ‘উরওয়া (র) বলেন, সে আয়াতটি হলঃ
আমি যে সব স্পষ্ট নিদর্শন অবতীর্ণ করেছি তা যারা গোপন করে… (২ঃ১৫৯)

বুখারি হাদিস -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)-১ম খণ্ড
বুখারি হাদিস -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)-১ম খণ্ড

হাদিস ১৬২

‘আব্দান (র)… আবূ ইদরিস (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি আবূ হুরায়রা (রা) – কে বলতে শুনেছেন, নবী ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি উযূ করে সে যেন নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করে। আর যে ইসতিনজা করে সে যেন বেজোড় সংখ্যক ঢিলা কুলুখ ব্যবহার করে।

বুখারি হাদিস ১৬৩

‘আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র)… আবূ হুরায়রা (র) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উযূ করে তখন সে যেন নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করে। আর যে ইসতিনজা করে সে যেন বেজোড় সংখ্যক ঢিলা কুলুখ ব্যবহার করে। আর তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে তখন সে যেন উযূর পানিতে হাত ঢুকানোর আগে তা ধুয়ে নেয়; কারণ তোমাদের কেউ জানে না যে, ঘুমন্ত অবস্থায় তার হাত কোথায় থাকে।

বুখারি হাদিস ১৬৪

মূসা (র)… ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর (র) থেকে বর্ণিত যে, নবী এক সফরে আমাদের পিছনে রয়ে গিয়েছিলেন, এরপর তিনি আমাদের কাছে পৌঁছে গেলেন। তখন আমরা আসরের সালাত শুরু করতে দেরী করে ফেলেছিলাম। তাই আমরা উযূ করছিলাম এবং (তাড়াতাড়ির কারণে) আমাদের পা মাসেহ করার মতো হালকাভাবে ধুয়ে নিচ্ছিলাম। তখন তিনি উচ্চস্বরে বললেনঃ ‘পায়ের গোড়ালীগুলোর জন্য জাহান্নামের আযাব রয়েছে।’ দু’বার অথবা তিনবার তিনি একথা বললেন।

বুখারি হাদিস ১৬৫

আবুল ইয়ামান (র)… ‘উসমান ইবনে ‘আফফান (রা)- এর আযাদকৃত গোলাম হুমরান (র) থেকে বর্ণিতঃ তিনি ‘উসমান (রা)- কে উযূর পানি আনাতে দেখলেন। তারপর তিনি সে পাত্র থেকে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে তা তিনবার ধুয়ে ফেললেন। এরপর তাঁর ডান হাত পানিতে ঢুকালেন। এরপর কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক ঝেরে ফেললেন। এরপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার এবং উভয় হাত কুনই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন, এরপর মাথা মাসেহ করলেন। এরপর প্রত্যেক পা তিনবার ধোয়ার পর বললেনঃ আমি নবী কে আমার এ উযূর ন্যায় উয়ূ করতে দেখেছি এবং রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ ‘যে ব্যক্তি আমার এ উযূর ন্যায় উযূ করে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করবে এবং তার মধ্য কোন বাজে খেয়াল মনে আনবে না, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর অতিতের সব গুনাহ মাফ করে দিবেন।’

বুখারি হাদিস ১৬৬

আদম ইবন আবূ ইয়াস (র)… মুহাম্মদ ইবন যিয়াদ (র) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা (রা) আমাদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকেরা সে সময় পাত্র থেকে উযূ করছিল। তখন তাঁকে বলতে শুনেছি, তোমারা উত্তমরূপে উযূ কর। কারন আবুল কাসিম বলেছেনঃ পায়ের গোড়ালীগুলোর জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে।

বুখারি হাদিস ১৬৭

‘আবদুল ইবন ইউসুফ (র)… ‘উবায়দ ইবন জুরায়জ (র) থেকে বর্ণিতঃ তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘উমর (রা)- কে বললেন, ‘হে আবূ ‘আবদুর রহমান! আমি আপনাকে এমন চারটি কাজ করতে দেখি, যা আপনার অন্য কোন সঙ্গীকে করতে দেখিনা।’ তিনি বললেন, ‘ইবন জুরায়জ, সেগুলো কি?’ তিনি বললেন, আমি দেখি, (১) আপনি তাওয়াফ করার সময় রুকনে ইয়ামানী দুটি ব্যতীত অন্য রুকন স্পর্শ করেন না। (২) আপনি ‘সিবতী’ (পশমবিহীন) চপ্পল পরিধান করেন; (৩) আপনি (কাপড়ে) হলুদ রং ব্যবহার করেন এবং (৪) আপনি যখন মক্কায় থাকেন লোকে চাঁদ দেখে ইহরাম বাঁধে; কিন্তু আপনি তারবিয়ার দিন (৮ ই যিলহজ্জ) না এলে ইহরাম বাঁধেন না। ‘আবদুল্লাহ (রা) বললেনঃ রুকনের কথা যা বলেছ, তা এজন্য করি যে আমি রাসূলুল্লাহ কে ইয়ামানী রুকনদ্বয় ছাড়া আর কোনটি স্পর্শ করতে দেখিনি। আর ‘সিবতী’ চপ্পল, আমি রসূলুল্লাহ কে পশমবিহীন চপ্পল পরতে এবং তা পরিহিত অবস্থায় উযূ করতে দেখেছি, তাই আমি তা করতে ভালবাসি। আর হলুদ রং, আমি রাসূলুল্লাহ কে তা দিয়ে কাপড় রঙিন করতে দেখেছি, তাই আমিও তা দিয়ে রঙিন করতে ভালবাসি। আর ইহরাম, রাসূলুল্লাহ কে নিয়ে তাঁর সওয়ারি রওনা না হওয়া পর্যন্ত আমি তাঁকে ইহরাম বাঁধতে দেখিনি।

বুখারি হাদিস ১৬৮

মুসাদ্দাদ (র)… উম্মু আতিয়্যা (র) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী তাঁর কন্যা [যয়নাব (রা)] কে গোসল করানোর সময় তাঁদের বলেছিলেনঃ তোমরা তার ডানদিক এবং উযূর স্থান থেকে শুরু কর।

বুখারি হাদিস ১৬৯

হাফস ইবন ‘উমর (র)… ‘আয়িশা (র) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী জুতা পরা, চুল আঁচড়ানো এবং পবিত্রতা অর্জন করা তথা প্রত্যেক কাজই ডান দিক থেকে শুরু করতে ভালবাসতেন।

বুখারি হাদিস ১৭০

‘আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র)… আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ কে দেখলাম, তখন আসরের সালাতের সময় হয়ে গিয়েছিল। আর লোকজন অযূর পানি তালশ করতে লাগল কিন্তু পেলনা। তারপর রাসূলুল্লাহ এর কাছে কিছু পানি আনা হল। রাসূলুল্লাহ সে পাত্রে তাঁর হাত রাখলেন এবং লোকজনকে সে পাত্র থেকে উযূ করতে বললেন। আনাস (রা) বলেন, সে সময় আমি দেখলাম, তাঁর আঙ্গুলের নীচ থেকে পানি উথলে উঠছে। এমনকি তাঁদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত তা দেয়ে উযূ করল।

বুখারি হাদিস ১৭১

মালিক ইবন ইসমা‘ঈল (র)… ইবন সীরীন (র) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি আবীদা (র) কে বললাম, আমাদের কাছে নবী এর কেশ রয়েছে যা আমরা আনাস (রা) এর কাছ থেকে কিংবা আনাস (রা) এর পরিবারের কাছ থেকে পেয়েছি। তিনি বললেন, তাঁর একটি কেশ আমার কাছে থাকাটা দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তা পাওয়ার চাইতে বেশী পছন্দনীয়।

বুখারি হাদিস ১৭২

মুহাম্মদ ইবন ‘আবদুর রহীম (র)… আনাস (র) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ তাঁর মাথা মুড়িয়ে ফেললে আবূ তালহা (রা) –ই প্রথম তাঁর কেশ সংগ্রহ করেন।

বুখারি হাদিস ১৭৩

‘আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র)… আবূ হুরায়রা (র) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর পান করে তবে তা সাতবার ধুইবে।

বুখারি হাদিস ১৭৪

ইসহাক (র)… আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী বলেছেন, (পূর্ব যুগে) এক ব্যক্তি একটি কুকুরকে পিপাসার তাড়নায় ভিজা মাটি চাটতে দেখতে পাল। তখন সে ব্যক্তি তাঁর মোজা নিল এবং কুকুরটির জন্য কুয়া থেকে পানি এনে দিতে লাগল। এভাবে সে ওর তৃষ্ণা মিটাল। আল্লাহ এর বিনিময় দিলেন এবং তাকে জান্নাতে দাখিল করলেন।
আহমদ ইবন শাবীব (র)…আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সা)-এর যামানায় কুকুর মসজিদের ভিতর দিয়া আসা-যাওয়া করত অথচ এজন্য তাঁরা কোথাও পানি ছিটিয়ে দিতেন না।

বুখারি হাদিস ১৭৫

হাফস ইবন ‘উমর (রা)… ‘আদী ইবন হাতিম (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর সম্পর্কে) নবী কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, তুমি যখন তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকার করতে ছেড়ে দাও, তখন সে হত্যা করলে তা তুমি খেতে পার। আর সে তার কিছু অংশ খেয়ে ফেললে তুমি তা খাবে না। কারণ সে তা নিজের জন্যই ধরেছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কখনো কখনো আমি আমার কুকুর (শিকারে) পাঠিয়ে দেই, এরপর তার সাথে অন্য এক কুকুরও দেখতে পাই (এমতাবস্থায় শিকারকৃত প্রানীর কি হুকুম)? তিনি বললেন, তাহলে খেও না। কারন তুমি বিসমিল্লাহ বলেছ কেবল তোমার কুকুরের বেলায়, অন্য কুকুরের বলায় বিসমিল্লাহ বলনি।

 

বুখারি হাদিস ১৭৬

আদম ইবন আবূ ইয়াস (র)… আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, বান্দা যে সময়টা মসজিদে থেকে সালাতের অপেক্ষায় থাকে, তার সে পুরো সময়টাই সালাতের মধ্যে গণ্য হয় যতক্ষণ না সে হাদাস করে। এক অনারব ব্যক্তি বলল, ‘হাদাস কি, আবূ হুরায়রা’? তিনি বললেন, ‘শব্দ করে বায়ূ বের হওয়া।’

বুখারি হাদিস ১৭৭

আবুল ওয়ালীদ (র)… ‘আব্বাস ইবন তামীম (র), তাঁর চাচার সূত্রে বর্ণনা করেন, নবী বলেছেনঃ (কোন মুসল্লি) সালাত থেকে ফিরবে না যতক্ষণ না সে শব্দ শুনে বা গন্ধ পায়।

বুখারি হাদিস ১৭৮

কুতায়বা (র) মুহাম্মদ ইবনুল হানফিয়্যা (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, ‘আলী (রা) বলেছেন, আমার বেশী বেশী মযী বের হতো। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ এর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, এতে শুধু উযূ করতে হয়। হাদিসটি শু‘বা (র) আ‘মাশ (র) থেকে বর্ণিত।

বুখারি হাদিস ১৭৯

সা‘দ ইবন হাফস (র)… যায়দ ইবন খালিদ (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, তিনি ‘উসমান ইবন ‘আফফান (রা) কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘সে উযূ করে নেবে যেমন উযূ করে থাকে সালাতের জন্য এবং তার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে। উসমান (রা) বলেন, আমি একথা রাসূলুল্লাহ থেকে শুনেছি। (যায়দ বলেন) তারপর আমি এ সম্পর্কে ‘আলী (রা), যুবায়র (রা), তালহা (রা) ও উবাই ইবন কা‘ব (রা)- কে জিজ্ঞাসা করেছি। তাঁরা আমাকে এ নির্দেশই দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস ১৮০

ইসহাক ইবন মনসূর (র)… আবূ সা‘য়ীদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এক আনসারীর কাছে লোক পাঠালেন। তিনি চলে এলেন। তখন তাঁর মাথা থেকে পানির ফোঁটা পড়ছিল। নবী বললেনঃ ‘সম্ভবত আমরা তোমাকে তাড়াতাড়ি করতে বাধ্য করেছি।’ তিনি বললেন, ‘জী।’ রাসূলুল্লাহ বললেন, যখন ত্বরার কারণে মনী বের না হয় (অথবা বললেন), মনীর অভাবজনিত কারণে তা বের না হয় তবে তোমার উপর কেবল উযূ করা জরুরী। ওয়াহব (র) শু‘বা (র) সূত্রে এ রকমই বর্ণনা করেন। তিনি [শুবা (র)] বলেন, আবূ আবদুল্লাহ (র) বলেছেন, গুনদর (র) ও ইয়াহইয়া (র) শু‘বা (র)- এর সূত্রে বর্ণনায় উযূর কথা উল্লেখ করেন নি।

বুখারি হাদিস ১৮১

ইবন সালাম (র)… উসামা ইবন যায়দ (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ যখন আরাফাত থেকে ফিরছিলেন, তখন তিনি একটি গিরিপথের দিকে গিয়ে তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে এলেন। উসামা (রা) বলেন, পরে আমি তাঁকে পানি ঢেলে দিচ্ছিলাম আর তিনি উযূ করছিলেন। এরপর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি সালাত আদায় করবেন? তিনি বললেন, ‘সালাতের স্থান তোমার সামনে।’

বুখারি হাদিস ১৮২

‘আমর ইবন ‘আলী (র)… মুগীরা ইবন শু‘বা (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, তিনি এক সফরে রাসূলুল্লাহ এর সঙ্গে ছিলেন। এক সময় তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে গেলেন। (প্রয়োজন সেরে আসার পর) মুগীরা তাঁকে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন এবং তিনি উযূ করছিলেন। তিনি তাঁর মুখমণ্ডল এবং দু হাত ধুলেন এবং তাঁর মাথা মসেহ করলেন ও উভয় মোজার উপর মসেহ করলেন।

বুখারি হাদিস ১৮৩

ইসমাইল (র)… ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি একবার নবী এর স্ত্রী মায়মূনা (রা) এর ঘরে রাত কাটান। তিনি ছিলেন ইবন ‘আব্বাস (রা) এর খালা। ইবন ‘আব্বাস (রা) বলেনঃ এরপর আমি বিছানার চওড়া দিকে শয়ন করলাম এবং রাসূলুল্লাহ ও তাঁর স্ত্রী বিছানার লম্বা দিকে শয়ন করলেন; এরপর রাসূলুল্লাহ ঘুমিয়ে পরলেন। এমনিভাবে রাত যখন অর্ধেক হয়ে গেল তার কিছু পূর্বে কিংবা কিছু পরে রাসূলুল্লাহ জেগে উঠলেন। তিনি বসে হাত দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন। তারপর সূরা আল-‘ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করলেন। এরপর দাঁড়িয়ে একটি ঝুলন্ত মশক থেকে উযূ করলেন। তিনি সুন্দরভাবে উযূ করলেন। তারপর সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। ইবন ‘আব্বাস (রা) বলেন, আমিও উঠে তিনি যেরূপ করেছিলেন তদ্রুপ করলাম। তারপর গিয়ে তাঁর বাঁ পাশে দাঁড়ালাম। তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার ডান কান ধরে একটু নাড়া দিলেন (এবং তাঁর), ডান পাশে এনে দাঁড় করালেন। তারপর তিনি দু রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তারপর দু রাক‘আত, তারপর দু রাক‘আত, দু রাক‘আত, তারপর দু রাক‘আত, তারপর দু রাক‘আত, তারপর বিতর আদায় করলেন। তারপর শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর কাছে মুয়াযযিন এলেন। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে হাল্কাভাবে দু রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তারপর বেরিয়ে গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন।

বুখারি হাদিস ১৮৪

ইসমাইল (র)… আসমা বিনত আবূ বকর (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি একবার নবী এর স্ত্রী ‘আয়িশা (রা) এর কাছে এলাম। তখন সুর্য গ্রহণ লেগেছিল। দেখলাম সব মানুষ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছে এবং ‘আয়িশা (রা)- ও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম লোকদের কী হয়েছে? তিনি তাঁর হাত দিয়ে আকাসের দিকে ইঙ্গিত কের বললেন, ‘সুবহান আল্লাহ’! আমি বললাম এটা কি কোন আলামত? তিনি ইশারা করে বললেন, ‘হাঁ’। এরপর আমিও সালাতে দাঁড়িয়ে গেলাম। এমনকি আমাকে সংজ্ঞাহীনতায় আচ্ছন্ন করে ফেলল এবং আমি আমার মাথায় পানি দিতে লাগলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (মুসল্লিদের দিকে) ফিরে আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করে বললেন, “যেসব জিনিস আমি ইতিপূর্বে দেখিনি সেসব আমি আমার এই স্থানে আমি দেখতে পেয়েছি, এমনকি জান্নাত এবং জাহান্নামও। আর আমার কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, কবরে তোমাদের পরীক্ষা করা হবে দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় অথবা তার কাছাকাছি।” বর্ণনাকারী বলেন, আসমা (রা) কোনটি বলেছিলেন, আমি জানি না। তোমাদের প্রত্যেকের কাছে (ফিরিশতা) উপস্থিত হবে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, “এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কি জ্ঞান আছে?” –তারপর ‘মু’মিন, বা ‘মু’কিন’ ব্যক্তি বলবে- আসমা ‘মুমিন’ বলেছিলেন না ‘মুকিন’ তা আমি জানি না- ইনি মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ। তিনি আমাদের কাছে মু‘জিযা ও হিদায়ত নিয়ে এসেছিলেন। আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছি, তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি। তারপর তাকে বলা হবে নিশ্চিতে ঘুমাও। আমরা জানলাম যে, তুমি মু’মিন ছিলে। আর ‘মুনাফিক’ বা ‘মুরতাব’ বলবে,- আমি জানি না। আসমা এর কোনটি বলেছিলেন তা আমি জানি না- লোকজনকে এঁর সম্পর্কে কিছু একটা বলতে শুনেছি আর আমিও তা-ই বলেছি।

 

বুখারি হাদিস ১৮৫

‘আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র)… ইয়াহিয়া আল-মাযিনী (র) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি ‘আবদুল্লাহ ইবন যায়দ (রা)- কে (তিনি আমর ইবন ইয়াহিয়ার দাদা) জিজ্ঞাসা করলঃ আপনি কি আমাদেরকে দেখাতে পারেন, কিভাবে রাসূলুল্লাহ উযূ করতেন? ‘আবদুল্লাহ ইবন যায়দ (রা) বলেনঃ ‘হাঁ।’ তারপর তিনি পানি আনালেন। হাতের উপর সে পানি ঢেলে দু’বার তাঁর হাত ধুইলেন। তারপর কুলি করলেন এবং তিনবার নাকে পানি দিয়ে ঝেড়ে পরিস্কার করলেন। এরপর চেহারা তিনবার ধুইলেন। তারপর দু’ হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার করে ধুইলেন। তারপর দু হাত দিয়ে মাথা মসেহ করলেন। অর্থ হাত দু’টি সামনে ও পিছনে নিলেন। মাথার সম্মুখ ভাগ থেকে শুরু করে উভয় হাত গর্দান পর্যন্ত নিলেন। তারপর আবার যেখান থেকে নিয়েছিলেন, সেখানেই ফিরিয়ে আনলেন। তারপর দু’পা ধুইলেন।

 

বুখারি হাদিস ১৮৬

মূসা (র)… ‘আমর ইবন আবূ হাসান (র) থেকে বর্ণিতঃ তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবন যায়দ (রা)- কে নবী –এর উযূ সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। তখন তিনি এক পাত্র পানি আনালেন এবং তাঁদের (দেখাবার) জন্য নবী –এর মত উযূ করলেন। তিনি পাত্র থেকে দু’হাতে পানি ঢাললেন। তা দিয়ে হাত দুটি তিনবার ধুইলেন। তারপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তিন আঁজলা পানি দিয়ে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। তারপর আবার হাত ঢুকালেন। তিনবার তাঁর চেহারা মুবারক ধুইলেন। তারপর আবার হাত ঢুকিয়ে (পানি নিয়ে) দুই হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার ধুইলেন। তারপর আবার হাত ঢুকিয়ে উভয় হাত দিয়ে সামনে এবং পেছনে একবার মাথা মসেহ করলেন। তারপর দু’ পা গিরা পর্যন্ত ধুইলেন।

বুখারি হাদিস ১৮৭

আদম (র)… আবূ জুহায়ফা (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, একবার দুপুরে নবী আমাদের সামনে বেরিয়ে এলেন। তাঁকে উযূর পানি এনে দেওয়া হল। তখন তিনি উযূ করলেন। লোকে তাঁর উযূর তাঁর উযূর ব্যবহৃত পানি নিয়ে গায়ে মাখতে লাগল। এরপর নবী যোহরের দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। আর তাঁর সামনে ছিল একটি লাঠি।
আবূ মূসা (রা) বলেনঃ নবী একটি পাত্র আনালেন যাতে পানি ছিল। তারপর তিনি তার মধ্যে উভয় হাত ও চেহারা মুবারক ধুইলেন এবং তার মধ্যে কুলি করলেন। তারপর তাঁদের দু’জন [আবূ মুসা (রা) ও বিলাল (রা)] –কে বললেন, ‘তোমরা এ থেকে পান কর এবং তোমাদের মুখমণ্ডল ও বুকে ঢাল।’

বুখারি হাদিস ১৮৮

‘আলী ইবন ‘আবদুল্লাহ (র)… মাহমুদ ইবনুর-রবী (রা) থেকে বর্ণত, বর্ণনাকারী বলেনঃ তিনি সে ব্যক্তি, যার মুখমণ্ডলে রাসূলুল্লাহ তাঁদের কুয়া থেকে পানি নিয়ে কুলির পানি দিয়েছিলান। তিনি তখন বালক ছিলেন। ‘উরওয়া (র) মিসওয়া (র) প্রমুখের কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। এ উভয় বর্ণনা একটি অন্যটির সত্যায়ন করে। নবী যখন উযূ করতেন তখন তাঁর ব্যবহৃত পানির উপর তাঁরা (সাহাবায়ে কিরাম) যেন হুমড়ি খেয়ে পড়তেন।

বুখারি হাদিস ১৮৯

‘আবদুর রহমান ইবন ইউনুস (র)… সায়িব ইবন ইয়াযীদ (রা) বলেনঃ আমার খালা আমাকে নিয়ে নবী –এর খিদমতে হাযির হলেন এবং বললেনঃ ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ভাগ্নে অসুস্থ’। রাসূলুল্লাহ আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং বরকতের দু‘আ করলেন। তারপর উযূ করলেন। আমি তাঁর উযূর (অবশিষ্ট) পানি পান করলাম। তারপর তাঁর পেছনে দাঁড়ালাম। তখন আমি তাঁর উভয় কাঁধের মধ্যস্থলে মোহরে নুবূওয়াত দেখতে পেলাম। তা ছিল নওশার ঘুন্টির মত।

বুখারি হাদিস ১৯০

মুসাদ্দাদ (র)… ‘আবদুল্লাহ ইবন যায়দ (রা) থেকে বর্ণত, একবার তিনি পাত্র থেকে উভয় হাতে পানি ঢেলে দু’হাত ধৌত করলেন। তারপর এক আঁজলা পানি দিয়ে (মুখ) ধুইলেন বা কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলান। তিনবার এরূপ করলেন। তারপর দু’ হাত কনুই পর্যন্ত দু’- দু’বার ধুইলেন এবং মাথার সামনের অংশ এবং পেছনের অংশ মসেহ করলেন। আর গিরা পর্যন্ত দু’ পা ধুইলেন। এরপর বললেনঃ “রাসূলুল্লাহ –এর উযূ এরূপ ছিল।”

বুখারি হাদিস ১৯১

সুলায়মান ইবন হারব (র)… ইয়াহইয়া (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি একবার ‘আমার ইবন আবূ হাসান (রা) –এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবন যায়দ (রা) – কে নবী – এর উযূ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারপর তিনি পানির একটি পাত্র আনালেন এবং উযূ করে তাঁদের দেখালেন। তিনি পাত্রটি কাত করে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে তিনবার তা ধুয়ে ফেলেন। তারপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকালেন এবং তিন আঁজলা পানি দিয়ে তিনবার করে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে তা ঝেড়ে ফেললেন। তারপর আবার পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকালেন (এবং পানি দিয়ে) তিনবার মুখমণ্ডল ধুইলেন। তারপর আবার পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকালেন। তাঁর মাথায় হাত দিয়ে সামনে এবং পেছনে মসেহ করলেন। তারপর আবার পাত্রের মধ্যে তাঁর হাত ঢুকালেন এবং উভয় পা ধুইলেন।

বুখারি হাদিস ১৯২

উহায়ব (র) সুত্রে মূসা (র) বর্ণনা করেন যে, মাথা একবার মসেহ করেন।

বুখারি হাদিস ১৯৩

‘আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র)… ইবন ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ এর যামানায় পুরুষ এবং মহিলা একত্রে উযূ করতেন।

বুখারি হাদিস ১৯৪

আবুল ওলীদ (র)… জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমার পীড়িত অবস্থায় একবার রাসূলুল্লাহ আমার খোঁজ-খবর নিতে এলেন। আমি তখন এতই অসুস্থ ছিলাম যে আমার জ্ঞান ছিল না। তারপর তিনি উযূ করলেন এবং তাঁর উযূর পানি আমার ওপর ছিটিয়ে দিলেন। তখন আমার জ্ঞান ফিরে এল। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমার) ‘মীরাস’ কে পাবে? আমার একমাত্র ওয়ারিস হল কালালা (অর্থ পিতামাতা ও সন্তান-সন্ততি ছাড়া অন্যেরা)। তখন ফারায়েযের আয়াত নাযিল হল।

বুখারি হাদিস ১৯৫

‘আবদুল্লাহ ইবন মুনীর (র)…আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার সালাতের সময় উপস্থিত হলে যাঁদের বাড়ী নিকটে ছিল তাঁরা (উযূ করার জন্য) বাড়ী চলে গেলেন। আর কিছু লোক রয়ে গেলেন (তাঁদের কোন উযূর ব্যবস্থা ছিল না)। তখন রাসূলুল্লাহ –এর জন্য একটি পাথরের পাত্রে পানি আনা হল। পাত্রটি এত ছোট ছিল যে, তার মধ্যে তাঁর উভয় হাত মেলে দেওয়া সম্ভব ছিল না। তা থেকেই কওমের সকল লোক উযূ করলেন। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আপনারা কতজন ছিলেন?’ তিনি বললেন, ‘আশিজন বা আরো বেশী।’

বুখারি হাদিস ১৯৬

মুহাম্মদ ইবনুল ‘আলা (র)… আবূ মূসা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার নবী একটি পানি ভর্তি পাত্র আনালেন। তাতে তাঁর উভয় হাত ও মুখমণ্ডল ধুইলেন এবং কুলি করলেন।
আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন