বিয়ে-শাদী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-১।

বিয়ে-শাদী অধ্যায়

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-১।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-১।

বুখারি হাদিস নং ৪৬৯৩-৪৭০০

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৯৩ | 4693 | ٤٦۹۳

পরিচ্ছদঃ শাদী করতে উৎসাহ দান। আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ ‘তোমরা শাদী করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে’
৪৬৯৩। সাঈদ ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, তিন জনের একটি দল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবিগণের গৃহে আগমন করল।

যখন তাঁদেরকে এ সম্পর্কে অবহিত করা হল, তখন তারা এ ইবাদতের পরিমাণ যেন কম মনে করল এবং বলল, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমকক্ষ হতে পারি না। কারণ, তার আগে ও পরের সকল গুনাহ্ মাফ করে দেয়া হয়েছে।

এমন সময় তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, আমি সারা জীবন রাতে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে থাকব। অপর একজন বলল, আমি সারা বছর রোযা পালন করব এবং কখনও বিরতি দিব না। অপরজন বলল, আমি নারী বিবর্জিত থাকব-কখনও শাদী করব না।

এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট এলেন এবং বললেন, “তোমরা কি ঐ সকল ব্যাক্তি যারা এরূপ কথাবার্তা বলেছ? আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহকে তোমাদের চেয়ে বেশী ভয় করি এবং তোমাদের চেয়ে তাঁর প্রতি আমি বেশি আনুগত্যশীল; অথচ আমি রোযা পালন করি, আবার রোযা থেকে বিরতও থাকি।

সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করি এবং ঘুমাই ও বিয়ে-শাদী করি। সুতরাং যারা আমার সুন্নাতের প্রতি বিরাগ ভাব পোষণ করবে, তারা আমার দলভুক্ত নয়।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-১।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৯৪ | 4694 | ٤٦۹٤

পরিচ্ছদঃ শাদী করতে উৎসাহ দান। আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ ‘তোমরা শাদী করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে’
৪৬৯৪। আলী (রহঃ) … যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, উরওয়া (রহঃ) আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি আয়িশা (রাঃ) কে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ তোমরা যদি আশংকা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে শাদী কর নাদীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে- দুই, তিন অথবা চার।

কিন্তু তোমাদের মনে যদি ভয় হয় যে, তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকে। এতে পক্ষপাতিত্ব না করার অধিকতর সম্ভাবনা”।

আয়িশা (রাঃ) বলেন, হে ভাগ্নে! একটি ইয়াতীম বালিকা এমন একজন অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে ছিল, যে তার সম্পদ ও রূপের প্রতি আকৃষ্ট ছিল।

সে তাকে তার সমকক্ষ মহিলাদের চেয়ে কম মোহর দিয়ে শাদী করার ইচ্ছ করে তখন লোকদেরকে নিষেধ করা হল। ঐসব ইয়াতীমের শাদী করার ব্যাপারে; তবে যদি তারা তোমাদের ব্যাপারে সুবিচার করে ও পূর্ণ মোহর আদায় করে (তাহলে পারবে)। যদি না পারে, তাহলে তোদের ব্যতীত অন্য নারীদের শাদী করার আদেশ করা হল।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৯৫ | 4695 | ٤٦۹۵

পরিচ্ছদঃ ২৪২৭. রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর বাণী “ তোমাদের মধ্যে যাদের শাদীর সামর্থ্য আছে, সে যেন শাদী করে। কেননা, শাদী তার দৃষ্টিকে অবনমিত রাখতে সাহায্য করবে এবং তার লজ্জাস্থান রক্ষা করবে”। এবং যার দরকার নেই সে শাদী করবে কি না?
৪৬৯৫। উমর ইবনু হাফস (রহঃ) … আলকামা থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, যখন আমি আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) এর সাথে ছিলাম, উসমান (রাঃ) তাঁর সাথে মিনাতে দেখা করে বলেন, হে আবদুর রহমান! আপনার কাছে আমার কিছু প্রয়োজন আছে।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-১।

এরপর তারা উভয়েই এক পার্শ্বে গেলেন। তারপর উসমান (রাঃ) বললেন, হে আবদুর রহমান! আমি আপনার সাথে এমন একটি কুমারী মেয়ের শাদী দেব, যে আপনাকে আপনার অতীত দিনকে স্মরণ করিয়ে দিবে? আবদুল্লাহ যখন দেখলেন, তার এ শাদীর প্রয়োজন নেই তখন তিনি আমাকে ‘হে আলকামা’ বলে ডাক দিলেন।

আমি তাঁর কাছে গিয়ে বলতে শুনলাম, আপনি যখন আমাকে একথা বলেছেন (তখন আমার স্মরনে এর চেয়ে বড় কথা আসছে আর তা হচ্ছে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, হে যুবকের দল!

তোমাদের মধ্যে যে শাদীর সামর্থ্য রাখে, সে যেন শাদী করে এবং যে শাদীর সামর্থ্য রাখে না, সে যেন ‘রোযা’ পালন করে। কেননা, রোযা যৌন ক্ষমতাকে অবদমন করবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৯৬ | 4696 | ٤٦۹٦

পরিচ্ছদঃ ২৪২৮. যে শাদী করার সামর্থ্য রাখে না, সে সওম পালন করবে
৪৬৯৬। উমর ইবনু হাফ্‌স ইবনু গিয়াস (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, আমরা যুবক বয়সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম; অথচ আমাদের কোনো কিছু (সম্পদ) ছিল না।

এমনি অবস্থায় আমাদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা শাদী করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন শাদী করে।

কেননা, শাদী তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং যৌনতাকে সংযমী করে এবং যাদের শাদী করার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোযা পালন করে। কেননা, রোযা তার যৌনতাকে দমন করবে।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-১।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৯৭ | 4697 | ٤٦۹۷

পরিচ্ছদঃ ২৪২৯. বহুবিবাহ
৪৬৯৭। ইব্‌রাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) … আতা (রহঃ) বলেন, আমরা ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর সঙ্গে ‘সারিফ’ নামক স্থানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী মায়মূনা (রাঃ) এর জানাযায় উপস্থিত ছিলাম।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, ইনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী। সুতরাং যখন তোমরা তাঁর জানাযা উঠাবে তখন ধাক্কা-ধাক্কি এবং জোরে নাড়া-চাড়া করো না; বরং ধীরে ধীরে নিয়ে চলবে।

কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নয়জন বিবি ছিলেন। তিনি আট জনের সাথে পালাক্রমে রাত্রি যাপন করতেন। কিন্তু একজনের সাথে রাত্রি যাপনের পালা ছিল না।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৯৮ | 4698 | ٤٦۹۸

পরিচ্ছদঃ ২৪২৯. বহুবিবাহ
৪৬৯৮। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একই রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সকল বিবির নিকট গমন করতেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ন’জন স্ত্রী ছিল। অন্য সনদে “মুসাদ্দাদ” এর স্থলে খলীফা নাম উল্লেখ আছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৯৯ | 4699 | ٤٦۹۹

পরিচ্ছদঃ ২৪২৯. বহুবিবাহ
৪৬৯৯। আলী ইবনু হাকাম (রহঃ) … সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি শাদী করেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, শাদী কর। কেননা, এই উম্মতের মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠ ব্যাক্তি, তাঁর অধিক সংখ্যক বিবি ছিল।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-১।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭০০ | 4700 | ٤۷۰۰

পরিচ্ছদঃ ২৪৩০. যদি কেউ কোন নারীকে শাদী করার উদ্দেশ্যে হিজরত করে অথবা কোন সৎ কাজ করে তবে তার নিয়্যত অনুসারে (ফল) পাবে।

৪৭০০। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু কাযা’আ (রহঃ) … উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিয়্যতের ওপরেই কাজের ফলাফল নির্ভর করে এবং প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিয়্যত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে।

সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য তার হিজরত আল্লাহ্ এবং তাঁর বসূলের জন্যই। আর যার হিজরত পার্থিব স্বার্থের জন্য অথবা কোন মহিলাকে শাদী করার জন্য, সে তাই পাবে, যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।

বুখারি হাদিস নং ৪৭০১-৪৮০০

হাদিস নম্বরঃ ৪৭০১ | 4701 | ٤۷۰۱

পরিচ্ছদঃ ২৪৩১. এমন দরিদ্র ব্যক্তির সাথে শাদী যিনি কুরআন ও ইসলাম সম্পর্কে অবহিত। সাহল ইব্ন সা’দ নবী (সা) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৪৭০১। মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) … ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে জিহাদে অংশ গ্রহণ করি। আমাদের সাথে আমাদের স্ত্রীগণ থাকত না।

তাই আমরা বলেছিলাম, ইয়া রাসূলল্লাহ! আমরা কি খাসি হয়ে যাব? তিনি আমাদেরকে তা থেকে বিরত থাকার আদেশ দিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭০২ | 4702 | ٤۷۰۲

পরিচ্ছদঃ ২৪৩২. যদি কেউ তার (মুসলমান) ভাইকে বলে, আমার স্ত্রীগণের মধ্যে যাকে তুমি চাও, আমি তোমার জন্য তাকে তালাক দেব। এ প্রসঙ্গে আবদুর রহমান ইব্ন আউফ (রা) একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৪৭০২। মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) মদিনায় এলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এবং সা’দ ইবনু রাবী আল আনসারী (রাঃ) এর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে দেন। এ আনসারীর দু’জন স্ত্রী ছিল।

সা’দ (রাঃ) আবদুর রহমান (রাঃ) কে বললেন, আপনি আমার স্ত্রী এবং সম্পদের অর্ধেক নিন। তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহ আপনার স্ত্রী ও সম্পদের বরকত দিন।

আপনি আমাকে বাজার দেখিয়ে দিন। এরপর তিনি বাজারে গিয়ে পনির ও মাখনের ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করলেন। কিছুদিন পরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শরীরে হলুদ রং-এর ছিটা দেখতে পেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, হে আবদুর রহমান। তোমার কি হয়েছে?

তিনি উত্তরে বললেন, আমি জনৈকা আনসারী রমণীকে শাদী করেছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তাকে কত মোহর দিয়েছ।

তিনি উত্তরে বললেন, একটি খেজুরের আটির সমপরিমাণ স্বর্ণ। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওয়ালীমার (বিবাহ ভোজ) ব্যবস্থা কর, যদি একটি বকরি দিয়েও হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭০৩ | 4703 | ٤۷۰۳

পরিচ্ছদঃ ২৪৩৩. শাদী না করা এবং খাসি হয়ে যাওয়া অপছন্দনীয়।

৪৭০৩। আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) … সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান ইবনু মাজ’উনকে শাদী থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করেছেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে যদি অনুমতি দিতেন, তাহলে আমরাও খাসি হয়ে যেতাম।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-১।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭০৪ | 4704 | ٤۷۰٤

পরিচ্ছদঃ ২৪৩৩. শাদী না করা এবং খাসি হয়ে যাওয়া অপছন্দনীয়।

৪৭০৪। আবূল ইয়ামন (রহঃ) … সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান ইবনু মাজ’উনকে শাদী থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করেছেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলে, আমরাও খাসি হয়ে যেতাম।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭০৫ | 4705 | ٤۷۰۵

পরিচ্ছদঃ ২৪৩৩. শাদী না করা এবং খাসি হয়ে যাওয়া অপছন্দনীয়।

৪৭০৫। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে জিহাদে অংশ নিতাম; কিন্তু আমাদের কোন কিছু ছিল না।

সুতরাং আমরা রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বললাম, আমরা কী খাসি হয়ে যাব? তিনি আমাদেরকে খাসি হতে নিষেধ করলেন এবং কোন মহিলার সাথে একখানা কাপড়ের বিনিময়ে হলেও শাদী করার অনুমতি দিলেন এবং আমাদেরকে এই আয়াত পাঠ করে শোনালেনঃ হে মু’মিনগণ!

আল্লাহ যে পবিত্র জিনিসগুলো তোমাদের জন্য হালাল করেছেন তোমরা তা হারাম করো না এবং সীমালংঘন করো না। আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের পছন্দ করেন না।

আসবাগ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বললাম, ইয়া রাসূলল্লাহ! আমি একজন যুবক।

আমার ভয় হয় যে, আমার দ্বারা না জানি কোন গুনাহর কাজ সংঘটিত হয়ে যায়; অথচ আমার শাদী করার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। এই কথা শুনে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ রইলেন।

আমি আমার প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করলাম। তিনি চুপ রইলেন। আমি আবারও অনুরূপভাবে বললাম। তিনি চুপ থাকলেন।

আবারও অনুরূপভাবে বললে তিনি উত্তর করলেন, হে আবূ হুরায়রা! যা কিছু তোমার ভাগ্যে আছে, তা লেখার পর কলমের কালি শুকিয়ে গেছে। তুমি খাসি হও বা না হও, তাতে কিছু আসে যায় না। [১]

[১] খাসি হও বা না হও তোমার ভাগ্যে যা আছে, তা অবশ্যই ঘটবে। সুতরাং খাসি হওয়ার দরকার নেই।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭০৬ | 4706 | ٤۷۰٦

পরিচ্ছদঃ ২৪৩৪. কুমারী মেয়ের শাদী সম্পর্কে। ইবন আবী মুলায়কা (র) বলেন, ইবন আব্বাস (রা) আয়েশা (রা)-কে বললেন, আপনাকে ছাড়া নবী (সা) আর কোন কুমারী মেয়ে শাদী করেননি।

৪৭০৬। ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি বললাম, ইয়া রাসূলল্লাহ! মনে করুন আপনি এমন একটি ময়দানে গিয়ে পৌঁছলেন, যেখানে একটি গাছের কিছু অংশ খাওয়া হয়ে গেছে। আর এমন কটি গাছ পেলেন, যার কিছুই খাওয়া হয়নি।

এর মধ্যে কোন গাছের পাতা আপনার উটকে খাওয়াবেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন, যে গাছ থেকে কিছুই খাওয়া হয়নি। এ কথার দ্বারা আয়িশা (রাঃ) এর উদ্দেশ্য ছিল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ছাড়া অন্য কোন কুমারীকে শাদী করেননি।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭০৭ | 4707 | ٤۷۰۷

পরিচ্ছদঃ ২৪৩৪. কুমারী মেয়ের শাদী সম্পর্কে। ইবন আবী মুলায়কা (র) বলেন, ইবন আব্বাস (রা) আয়েশা (রা)-কে বললেন, আপনাকে ছাড়া নবী (সা) আর কোন কুমারী মেয়ে শাদী করেননি।

৪৭০৭। উবায়দুল্লাহ্ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু’বার করে আমাকে স্বপ্নযোগে তোমাকে দেখানো হয়েছে।

এক ব্যাক্তি রেশমী কাপড়ে জড়িয়ে তোমাকে নিয়ে যাচ্ছিল, আমাকে দেখে বলল, এই হচ্ছে তোমার স্ত্রী। তখন আমি পর্দা খুলে দেখি, সে তুমিই। তখন আমি বললাম, এ স্বপ্ন যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তবে তিনি বাস্তবে পরিণত করবেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭০৮ | 4708 | ٤۷۰۸

পরিচ্ছদঃ ২৪৩৫. তালাকপ্রাপ্তা অথবা বিধবা রমণীকে শাদী করা (প্রসঙ্গে)। উম্মে হাবীবা (রা) বলেন, নবী (সা) আমাকে বললেন, আমাকে তোমাদের কন্যা বা বোনকে আমার সঙ্গে প্রস্তাব দিও না।

৪৭০৮। আবূ নু’মান (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক জিহাদ থেকে ফিরছিলাম। আমি আমার দুর্বল উটটি দ্রুত চালাতে চেষ্টা করছিলাম।

এমন সময় কে একজন আরোহী আমার পিছন থেকে এসে আমার উটটিকে ছড়ি দ্বারা খোঁচা দিলে উটটি দ্রুত চলতে লাগল। পিছনে ফিরে দেখি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, জাবির, তোমার এত তাড়াতাড়ি করার কারণ কী? আমি উত্তর দিলাম, আমি নতুন শাদী করেছি।

তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কুমারী শাদী করেছ, না বিধবাকে? আমি উত্তর দিলাম বিধবাকে। তিনি বললেন, তুমি কেন কুমারী মেয়েকে শাদী করলে না?

যার সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করতে আর সেও তোমার সাথে খেল-তামাসা করত। বর্ণনাকারী বলেন, যখন আমরা মদিনায় প্রবেশ করব এমন সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি অপেক্ষা কর এবং রাতে প্রবেশ কর, যেন (তোমার মহিলাটি স্ত্রী) (যার স্বামী এতদিন কাছে ছিল না) নিজের অগোছালো কেশরাশি বিন্যাস করে নিতে পারে এবং ক্ষৌরকার্য করতে পারে।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-১।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭০৯ | 4709 | ٤۷۰۹

পরিচ্ছদঃ ২৪৩৫. তালাকপ্রাপ্তা অথবা বিধবা রমণীকে শাদী করা (প্রসঙ্গে)। উম্মে হাবীবা (রা) বলেন, নবী (সা) আমাকে বললেন, আমাকে তোমাদের কন্যা বা বোনকে আমার সঙ্গে প্রস্তাব দিও না।

৪৭০৯। আদম (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শাদী করলে, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেমন মেয়ে শাদী করেছ?

আমি বললাম, পূর্ব বিবাহিতা রমণীকে বিয়ে করেছি। তিনি বললেন, কুমারী মেয়ে এবং তাদের কৌতুকের প্রতি তোমার আগ্রহে নেই? (রাবী বলেন) আমি এ ঘটনা আমর ইবনু দীনার (রহঃ) কে অবগত করালে তিনি বলেন,

আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, তুমি কেন কুমারী মেয়েকে শাদী করলে না, যাতে তুমি তার সাথে এবং সে তোমার সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করতে পারত?

হাদিস নম্বরঃ ৪৭১০ | 4710 | ٤۷۱۰

পরিচ্ছদঃ ২৪৩৬. বয়স্ক পুরম্নষের সাথে অল্প বয়স্কা মেয়ের শাদী
৪৭১০। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … উরওয়া (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ) এর কাছে আশেয়া (রাঃ)-এর শাদীর পয়গাম দিলেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমি আপনার ভাই।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আমার আল্লাহর দ্বীনের এবং কিতাবের ভাই। তবে, সে আমার জন্য হালাল।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭১১ | 4711 | ٤۷۱۱

পরিচ্ছদঃ ২৪৩৭. কোন্ প্রকৃতির মেয়ে শাদী করা উচিত এবং কোন্ ধরনের মেয়ে উত্তম এবং নিজের ঔরসের জন্য কোন্ ধরনের মেয়ে পছন্দ করা মুস্তাহাব।

৪৭১১। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উষ্ট্রারোহী মহিলাদের মধ্যে কুরাইশ বংশীয় মহিলারা সর্বোত্তম। তারা শিশুদের প্রতি স্নেহশীলা এবং স্বামীর মর্যাদা রক্ষার্থে উত্তম হেফাজতকারিণী।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭১২ | 4712 | ٤۷۱۲

পরিচ্ছদঃ ২৪৩৮. দাসী গ্রহণ এবং আপন দাসীকে মুক্ত করে শাদী করা
৪৭১২। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে আপন ক্রীতদাসীকে উত্তম শিক্ষা দান করে এবং শিষ্টচার শিক্ষা দেয়। এরপর তাকে মুক্ত করে শাদী করে তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব।

ঐ আহলে কিতাব, যে তার নাবীর ওপর ঈমান আনে এবং আমার ওপর ঈমান এনেছে, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে। আর ঐ গোলাম, যে তার প্রভুর হক আদায় করে এবং আল্লাহরও হক আদায় করে তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭১৩ | 4713 | ٤۷۱۳

পরিচ্ছদঃ ২৪৩৮. দাসী গ্রহণ এবং আপন দাসীকে মুক্ত করে শাদী করা
৪৭১৩। সাঈদ ইবনু তালীদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) তিনবার ব্যতীত কোন মিথ্যা কথা বলেন নি। [১] অত্যাচারী বাদশাহর দেশে তাকে যেতে হয়েছিল এবং তার সাথে ‘সারা’ (রাঃ) ছিলেন। এরপর রাবী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। (সেই বাদশাহ) হাজেরাকে তাঁর সেবার জন্য তাঁকে দান করেন।

তিনি ফিরে এসে বললেন, আল্লাহ কাফের থেকে আমাকে নিরাপত্তা দান করেছেন এবং আমার খেদমতের জন্য আজেরা (হাজেরা) কে দিয়েছেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, ‘‘হে আকাশের পানির সন্তানগণ (কুরাইশ)! এ হাজেরাই তোমাদের মা।

[১] প্রকৃতপক্ষে . ইব্রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিথ্যা বলেননি’ বরং প্রয়োজনবশত দ্ব্যর্থবোধক বাক্য ব্যবহার করেছিলেন।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-১।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭১৪ | 4714 | ٤۷۱٤

পরিচ্ছদঃ ২৪৩৮. দাসী গ্রহণ এবং আপন দাসীকে মুক্ত করে শাদী করা
৪৭১৪। কুতায়বা (রাঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার এবং মদিনার মাঝখানে তিন দিন অবস্থান করলেন এবং হুয়ায়্যার কন্যা সাফীয়ার সাথে রাতে বাসর যাপনের ব্যবস্থা করলেন।

আমি মুসলমানদের ওয়ালীমার দাওয়াত দিলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দস্তরখানা বিছাবার নির্দেশ দিলেন এবং সেখানে গোশত ও রুটি ছিল না। খেজুর, পনির, মাখন ও ঘি রাখা হল।

এটাই ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওয়ালীমা। উপস্থিত মুসলমানরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল। তিনি (সাফীয়া) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীদের মধ্যে গণ্য হবেন অথবা ক্রীতদাসীদের মধ্যে গণ্য হবেন।

এরপর তাঁরা ধারণা করলেন যে, যদি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফীয়ার জন্য পর্দার ব্যবস্থা করেন, তাহলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী হিসাবে গণ্য করা হবে।

আর যদি পর্দা না করা হয়, তাহলে তাঁর ক্রীতদাসী হিসাবে মনে করা হবে। যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে অন্যত্র যাওয়ার ব্যবস্থা করলেন, তখন সাফীয়ার জন্য উটের পিছনে জায়গা করলেন এবং তাঁর লোকদের মাঝখানে পর্দার ব্যবস্থা করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭১৫ | 4715 | ٤۷۱۵

পরিচ্ছদঃ ২৪৩৯. ক্রীতদাসীকে আযাদ করাকে মোহর হিসাবে গণ্য করা
৪৭১৫। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফীয়াকে আযাদ করলেন এবং এই আযাদীকে তার শাদীর মোহরানা হিসাবে ধার্য করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭১৬ | 4716 | ٤۷۱٦

পরিচ্ছদঃ ২৪৪০. দরিদ্র ব্যক্তির শাদী করা বৈধ। যেহেতু আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন, যদি তারা দরিদ্র হয়, আল্লাহ্ তার মেহেরবানীতে সম্পদশালী করে দেবেন।
৪৭১৬। কুতায়বা (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন মহিলা রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার জীবনকে আপনার হাতে সমর্পণ করতে এসেছি।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন এবং সতর্ক দৃষ্টিতে তার আপাদমস্তক লক্ষ্য করলেন। তারপর তিনি মাথা নিচু করলেন।

যখন মহিলাটি দেখলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে কোন ফয়সালা দিচ্ছে না, তখন সে বসে পড়ল।

এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্যে একজন দাঁড়ালেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আপনার শাদীর কোন প্রয়োজন না থাকে, তবে আমার সাথে একে শাদী দিয়ে দিন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কি আছে? সে উত্তর করলো- না, আল্লাহর কসম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার কাছে কিছুই নেই।

রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে দেখ। কিছু পাও কিনা।

এরপর লোকটি চলে গেল। ফিরে এসে বলল, আল্লাহর কসম! আমি কিছুই পাইনি।

এরপর রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবার দেখ, লোহার একটি আংটিও যদি পাও। তারপর লোকটি আবার ফিরে গেল। এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাও পেলাম না, কিন্তু এই যে আমার তহবন্দ (শুধু আছে)।

(রাবী) সাহল (রাঃ) বলেন, তার কাছে কোন চাঁদর ছিল না। লোকটি এর অর্ধেক তাকে দিতে চাইলেন। তখন রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে তোমার তহবন্দ দিয়ে কি করবে?

তুমি যদি পরিধান কর, তাহলে তার কোন কাজে আসবে না আর সে যদি পরিধান করে, তবে তোমার কোন কাজে আসবে না। তারপর বেশ কিছুক্ষণ লোকটি নীরবে বসে থাকল। তারপর উঠে দাঁড়াল।

সে যেতে উদ্যত হলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে আনলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি পরিমাণ কুরআন শরীফ মুখস্থ আছে? সে বলল, আমার অমুক অমুক সূরা মুখস্থ আছে এবং সে হিসাব করল।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এগুলো কি তোমার মুখস্থ আছে? সে বলল, হাঁ। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে পরিমাণ কুরআন তোমার মুখস্থ আছে তার বিনিময়ে তোমার কাছে এই মহিলাটিকে (শাদী) দিলাম।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-১।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭১৭ | 4717 | ٤۷۱۷

পরিচ্ছদঃ ২৪৪১. স্বামী এবং স্ত্রীর একই দীনভুক্ত হওয়া। আল্লাহ্‌র বাণী, ‘‘এবং তিনিই পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তিনি তার বংশগত ও বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করেছেন। তোমার প্রতিপালক সর্বশক্তিমান।’’

৪৭১৭। আবূল ইয়ামন (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুযায়ফা (রাঃ) ইবনু উতবা ইবনু রাবিয়া ইবনু আবদে শামস, যিনি বদরের যুদ্ধে রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে উপস্থিত ছিলেন, তিনি সালিমকে পালক পুত্র হিসাবে গ্রহণ করেন এবং তার সাথে তিনি তাঁর ভাতিজী, ওয়ালীদ ইবনু উতবা ইবনু রাবিয়ার কন্যা হিন্দাকে শাদী দেন।

সে ছিল জনৈকা আনসারী মহিলার আযাদকৃত দাস। যেমন নাকি যায়দকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালক-পুত্র হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন।

জাহিলী যুগের রীতি ছিল যে, কেউ যদি অন্য কোন ব্যাক্তি পালক-পুত্র হিসাবে গ্রহণ করত, তবে লোকেরা তাকে ঐ ব্যাক্তির পুত্র হিসাবে ডাকত এবং মৃত্যুর পর ঐ ব্যাক্তির উত্তরাধিকারী হত।

যতক্ষণ না পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ‘তাদেরকে (পালক পুত্রদেরকে) তাদের জন্মদাতা পিতার নামে ডাক তারা তোমাদের মুক্ত করা গোলাম। এরপর থেকে তাদেরকে পিতার নামেই শুধু ডাকা হত। যদি তাদের পিতা সম্পর্কে জানানা যেত, তাহলে তাকে মাওলা বা দ্বীনী ভাই হিসাবে ডাকা হত।

তারপর [আবূ হুযায়ফা ইবনু উতবা (রাঃ) এর স্ত্রী] সাহলা বিনতে সুহায়ল ইবনু আমর আল কুরাইশী আল আমিরী নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা সালিমকে আমাদের পুত্র হিসাবে মনে করতাম’ অথচ এখন আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা তো আপনই ভাল জানেন। এরপর তিনি পুরো হাদীস বর্ণনা করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭১৮ | 4718 | ٤۷۱۸

পরিচ্ছদঃ ২৪৪১. স্বামী এবং স্ত্রীর একই দীনভুক্ত হওয়া। আল্লাহ্‌র বাণী, ‘‘এবং তিনিই পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তিনি তার বংশগত ও বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করেছেন। তোমার প্রতিপালক সর্বশক্তিমান।’’

৪৭১৮। উবায়দা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবা’আ বিন্তে যুবায়র এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন।

তোমার হাজ্জে (হজ্জ) যাওয়ার ইচ্ছা আছে কি? সে উত্তর দিল, আল্লাহর কসম! আমি খুবই অসুস্থবোধ করছি (তবে হাজ্জে (হজ্জ) যাওয়ার ইচ্ছা আছে।)

তার উত্তরে বললেন, তুমি হাজ্জের (হজ্জ) নিয়্যতে বেরিয়ে যাও এবং আল্লাহর কাছে এই শর্ত আরোপ করে বল, হে আল্লাহ! যেখানেই আমি বাধাগ্রস্থ হব, সেখানেই আমি আমার ইহরাম শেষ করে হালাল হয়ে যাব। সে ছিল মিকদাদ ইবনু আসওয়াদের স্ত্রী।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭১৯ | 4719 | ٤۷۱۹

পরিচ্ছদঃ ২৪৪১. স্বামী এবং স্ত্রীর একই দীনভুক্ত হওয়া। আল্লাহ্‌র বাণী, ‘‘এবং তিনিই পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তিনি তার বংশগত ও বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করেছেন। তোমার প্রতিপালক সর্বশক্তিমান।’’

৪৭১৯। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে শাদী করা যায়- তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দীনদারী। সুতরাং তুমি দীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে। অন্যথায় তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭২০ | 4720 | ٤۷۲۰

পরিচ্ছদঃ ২৪৪১. স্বামী এবং স্ত্রীর একই দীনভুক্ত হওয়া। আল্লাহ্‌র বাণী, ‘‘এবং তিনিই পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তিনি তার বংশগত ও বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করেছেন। তোমার প্রতিপালক সর্বশক্তিমান।’’

৪৭২০। ইব্রাহীম ইবনু হামযা (রহঃ) … সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট দিয়ে গমন করছিল, তখন তিনি বললেন, তোমাদের এর সম্পর্কে কি ধারণা?

তারা উত্তর দিলেন, ‘‘যদি কোথাও কোন মহিলার প্রতি এ লোকটি শাদীর প্রস্তাব করে, তার সাথে বিয়ে দেয়া যায়। যদি সে সুপারিশ করে, তাহলে সুপারিশ গ্রহণ করা যায়, যদি কথা বলে, তবে কান লাগিয়ে শোনা উচিত।

তারপর সেখান দিয়ে একজন গরীব মুসলমান অতিক্রম করতেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যাক্তি সম্পর্কে তোমাদের কি ধারণা?

তারা জবাব দিলেন, যদি এ ব্যাক্তি কোথাও শাদীর প্রস্তাব করে, তো বিবাহ দেয়া ঠিক হবে না। যদি কারও সুপাশি করে, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। যদি কোন কথা বলে, তবে তা শোনার প্রয়োজন নেই।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সমস্ত পৃথিবীতে ঐ ব্যাক্তির চেয়ে এ উত্তম (ধনীদের চেয়ে গরীবরা উত্তম)।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-১।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭২১ | 4721 | ٤۷۲۱

পরিচ্ছদঃ ২৪৪২. শাদীর ব্যাপারে ধন-সম্পদের সামঞ্জস্য প্রসঙ্গে এবং ধনী মহিলার সাথে গরীব পুরুষের শাদী
৪৭২১। ইয়াহ্ইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, আমার কাছে উরওয়া (রহঃ) বলেছেন যে, তিনি আয়িশা (রাঃ) এর কাছে ‘তোমরা যদি ভয় কর যে ইয়াতীমদের প্রতি ইনসাফ করতে পাবে না’-এই আয়াতের মর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, হে ভাগ্নে! এই আয়াত ঐসব ইয়াতীম বালিকাদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, যারা কোন অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে আছে।

আর অভিভাবক তার ধন-সম্পদ ও সৌন্দর্যের প্রতি আসক্ত; কিন্তু শাদীর পর মোহর দিতে অনিচ্ছুক। এই রকম অভিভাবককে ঐ ইয়াতীম বালিকাদের শাদী বন্ধনে আবদ্ধ করতে নিষেধ করা হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা ইনসাফের সাথে পূর্ণ মোহর তাদেরকে দিয়ে দেয় এবং এদেরকে ছাড়া অন্যদের শাদী করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আয়িশা (রাঃ) বলেন, পরবর্তীকালে লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত নাযিল করেন, “লোকেরা তোমার নিকট স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে বল, আল্লাহ তাদের সম্পর্কে তোমাদের প্রতি এই নির্দেশ দিচ্ছেন এবং সেই সঙ্গে এই হুকুমগুলো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যা অনেক পূর্ব থেকেই তোমাদেরকে শোনানো হয়েছে।

সেই হুকুমগুলো যা এই ইয়াতীম মেয়েদের সম্পর্কে। যাদের হক তোমরা সঠিক মত আদায় কর না। যাদেরকে শাদী বন্ধনে আবদ্ধ করার কোন আগ্রহ তোমাদের নেই।”

ইয়াতীম বালিকারা যখন সুন্দরী এবং ধনবতী হয়, তখন অভিভাবকগণ তার বংশমর্যদা রক্ষা এবং শাদী বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করতঃ তারা এদের পূর্ণ মোহর আদায় না করা পর্যন্ত শাদী করতে পারে না।

আর তারা যদি এদের ধন-সম্পদ এবং সৌন্দর্যের অভাবের কারণে শাদী বন্ধনে আবদ্ধ করতে আগ্রহী না হত, তাহলে তারা এদের ছাড়া অন্য মহিলাদের শাদী করত।

সুতরাং যখন তারা এদের মধ্যে স্বার্থ পেতো না তখন তাদের বাদ দিত। এ কারণে তাদেরকে স্বার্থের বেলায় পূর্ণ মোহর আদায় করা ব্যতীত শাদী করতে নিষেধ করা হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭২২ | 4722 | ٤۷۲۲

পরিচ্ছদঃ ২৪৪৩. অশুভ স্ত্রীলোকদের থেকে দূরে থাকা। আলস্নাহ্ বলেন, নিশ্চয়ই তোমাদের স্ত্রীগণ এবং সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে তোমাদের শত্রু রয়েছে
৪৭২২। ইসমাঈল (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই তোমাদের স্ত্রী, বাড়িঘর এবং ঘোড়ার ভিতরে অশুভের লক্ষণ আছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭২৩ | 4723 | ٤۷۲۳

পরিচ্ছদঃ ২৪৪৩. অশুভ স্ত্রীলোকদের থেকে দূরে থাকা। আলস্নাহ্ বলেন, নিশ্চয়ই তোমাদের স্ত্রীগণ এবং সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে তোমাদের শত্রু রয়েছে

৪৭২৩। মুহাম্মদ ইবনু মিনহাল (রহঃ) … উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট লোকেরা অশুভ স্ত্রীলোক সম্পর্কে আলোচনা করলে তিনি বলেন, কোন কিছুর মধ্যে যদি অপয়া থাকে, তা হলঃ বাড়ি-ঘর, স্ত্রীলোক এবং ঘোড়া।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭২৪ | 4724 | ٤۷۲٤

পরিচ্ছদঃ ২৪৪৩. অশুভ স্ত্রীলোকদের থেকে দূরে থাকা। আলস্নাহ্ বলেন, নিশ্চয়ই তোমাদের স্ত্রীগণ এবং সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে তোমাদের শত্রু রয়েছে
৪৭২৪। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি কোন কিছুর মধ্যে কুলক্ষণ থাকে, তা হচ্ছে, ঘোড়া, স্ত্রীলোক এবং বাসগৃহ।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭২৫ | 4725 | ٤۷۲۵

পরিচ্ছদঃ ২৪৪৩. অশুভ স্ত্রীলোকদের থেকে দূরে থাকা। আলস্নাহ্ বলেন, নিশ্চয়ই তোমাদের স্ত্রীগণ এবং সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে তোমাদের শত্রু রয়েছে
৪৭২৫। আদম (রহঃ) … উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পুরুষের ওপরে মেয়েলোকের অপেক্ষা অন্য কোন বড় ফিতনা আমি রেখে গেলাম না।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭২৬ | 4726 | ٤۷۲٦

পরিচ্ছদঃ ২৪৪৪. ক্রীতদাসের সঙ্গে মুক্ত মহিলার শাদী
৪৭২৬। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রারীরা’ থেকে তিনটি বিষয় জানা গেছে যে, যখন তাকে মুক্ত করা হয় তখন তাকে ইখতিয়ার দেয়া হয় (সে ক্রীতদাস স্বামীর সাথে থাকবে কিনা)?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্রীতদাসের আল ওয়ালার* অধিকার মুক্তকারী ব্যাক্তির। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করে চুলার ওপরে ডেকচি দেখতে পেলেন।

কিন্তু তাকে রুটি এবং তরকারী দেয়া হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, চুলার ওপরের ডেকচির তরকারী দেখতে পাচ্ছি না যে?

উত্তর দেয়া হল, ডেকচিতে রারীরার জন্য দেয়া সা’দকার গোশত রয়েছে। আর আপনি তো সা’দকার গোশত খান না। তখন তিনি বললেন, এটা রারীরার জন্য সাদকা এবং আমাদের জন্য হাদিয়া।

* মুক্ত দাস-দাসীর ব্যাপারে যে অধিকার জন্মে তাকে ‘ওয়ালা’ বলা হয়।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-১।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭২৭ | 4727 | ٤۷۲۷

পরিচ্ছদঃ ২৪৪৫. চারের অধিক শাদী না করা সম্পর্কে। আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ তোমরা শাদী কর দু’জন, তিনজন অথবা চারজন। আলী ইব্ন হুসায়ন (র) বলেন, এর অর্থ হচ্ছে দু’জন অথবা তিনজন অথবা চারজন।

আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, (ফেরেশতাদের) দু’ অথবা তিন অথবা চারখানা পাখা আছে-এর অর্থ দু’ দু’খানা, তিন তিনখানা এবং চার চারখানা।

৪৭২৭। মুহাম্মদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ‘যদি তোমরা ভয় কর ইয়াতীমদের মধ্যে পূর্ণ ইনসাফ কায়েম করতে পারবে না’ এই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই আয়াত ঐ সমস্ত ইয়াতীম বালিকাদের সম্পর্কে নাযিল করা হয়েছে, যাদের অভিভাবক তাদের সম্পদের লোভে শাদী করে।

কিন্তু তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এবং তাদের সম্পত্তিকে ইনসাফের সাথে রক্ষণাবেক্ষণ করে না। তার জন্য সঠিক পন্থা এই যে, ঐ বালিকাদের ব্যতীত মহিলাদের মধ্য থেকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী দুইজন অথবা তিনজন অথবা চারজনকে শাদী করতে পারবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭২৮ | 4728 | ٤۷۲۸

পরিচ্ছদঃ ২৪৪৬. আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন, তোমাদের জন্য দুধমাতাকে হারাম করা হয়েছে। রক্তের সম্পর্কের কারণে যাদের সাথে শাদী হারাম, দুধের সম্পর্কের কারণেও তাদের সাথে শাদী হারাম

৪৭২৮। ইসমাঈল (রহঃ) … রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে ছিলেন। এমন সময় শুনলেন এক ব্যাক্তি হাফসা (রাঃ) এর ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি চাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! লোকটি আপনার ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলেন, আমি জানি, সে ব্যাক্তি হাফসার দুধের সম্পর্কে চাচা।

আয়িশা (রাঃ) বলেন, যদি অমুক ব্যাক্তি বেঁচে থাকত সে দুধ সম্পর্কের থেকে আমার চাচা হত (তাহলে কি আমি তার সাথে দেখা করতে পারতাম)?

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হাঁ, রক্তের সম্পর্কের কারণে, যাদের সাথে যাদের শাদী নিষিদ্ধ, দুধের সম্পর্কের কারণে তাদের সঙ্গে শাদী নিষিদ্ধ।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭২৯ | 4729 | ٤۷۲۹

পরিচ্ছদঃ ২৪৪৬. আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন, তোমাদের জন্য দুধমাতাকে হারাম করা হয়েছে। রক্তের সম্পর্কের কারণে যাদের সাথে শাদী হারাম, দুধের সম্পর্কের কারণেও তাদের সাথে শাদী হারাম

৪৭২৯। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলল, আপনি কেন হামযা (রাঃ) এর মেয়েকে শাদী করছেন না? তিনি বললেন, সে আমার দুধ সম্পর্কের ভাইয়ের মেয়ে। পরে হাদীসের অন্য একটি সনদ বর্ণিত হয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৩০ | 4730 | ٤۷۳۰

পরিচ্ছদঃ ২৪৪৬. আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন, তোমাদের জন্য দুধমাতাকে হারাম করা হয়েছে। রক্তের সম্পর্কের কারণে যাদের সাথে শাদী হারাম, দুধের সম্পর্কের কারণেও তাদের সাথে শাদী হারাম

৪৭৩০। হাকাম ইবনু নাফি … উম্মে হাবীবা বিনতে আবূ সুফিয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমার বোন আবূ সুফিয়ানের কন্যাকে শাদী করুন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি এটা পছন্দ কর?

তিনি উত্তর করলেন হাঁ। এখন তো আমি আপনার একা স্ত্রী নই এবং আমি চাই যে, আমার বোনও আমার সাথে উত্তম কাজে অংশীদার হোক।

তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, এটা আমার জন্য হালাল নয়। আমি বললাম, আমরা শুনতে পেলাম, আপনি নাকি আবূ সালমার মেয়েকে শাদী করতে চান। তিনি বললেন, তুমি বলতে চাচ্ছ যে, আমি উম্মে সালমার মেয়েকে শাদী করতে চাই। আমি বললাম, হ্যাঁ।

তিনি বললেন, যদি সে আমার প্রতিপালিতা কন্যা না হত, তাহলেও তাকে শাদী করা হলাল হত না। কেননা, সে দুধ সম্পর্কের দিক দিয়ে আমার ভাতিজী।

কেননা, আমাকে এবং আবূ সালমাকে সুওয়াইবা দুধ পান করিয়েছেন। সুতরাং, তোমরা তোমাদের কন্যা ও ভগিনীদেরকে শাদীর জন্য পেশ করো না।

উরওয়া (রাঃ) বর্ণনা করেন, সুওয়াইবা ছিল আবূ লাহাবের দাসী এবং সে তাকে আযাদ করে দিয়েছিল। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দুধ পান করায়।

আবূ লাহাব যখন মারা গেল, তার একজন আত্মীয় তাকে স্বপ্নে দেখল যে, সে ভীষণ কষ্টের মধ্যে নিপতিত আছে। তাকে জিজ্ঞেস করল, তোমার সাথে কিরূপ ব্যবহার করা হয়েছে।

আবূ লাহাব বলল, যখন তোমাদের থেকে দূরে রয়েছি, তখন থেকেই ভীষণ কষ্টে আছি। কিন্তু সুওয়াইবাকে আযাদ করার কারণে কিছু পানি পান করতে পারছি।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-১।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৩১ | 4731 | ٤۷۳۱

পরিচ্ছদঃ ২৪৪৭. যারা বলে দু’বছরের পরে দুধপান করালে দুধের সম্পর্ক স্থাপন হবে না। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, ‘‘পিতামাতা যারা সন্তানের দুধ পান করানো পুরা করতে চায়, তাদের সময়সীমা পূর্ণ দু’বছর।’’ কম-বেশি যে পরিমাণ দুধ পান করুক না কেন, তাতে সম্পর্ক হারাম হবে না।

৪৭৩১। আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এলেন। সে সময় একজন লোক তার কাছে বসা ছিল।

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা মুবারকে ক্রোধের ভাব প্রকাশ পেল, যেন তিনি এ ব্যাপারে অসন্তুষ্ট হয়েছেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এ আমার ভাই।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যাচাই করে দেখ, তোমাদের ভাই কারা? যথন দুধই একমাত্র পানীয়, যা খেয়ে শিশুরা প্রাণ রক্ষা করে। [১]

[১] সন্তানের দু’বছর বয়সের মধ্যে যদি দুধপান করে থাকে, তবে দুধের সম্পর্ক হবে, নতুবা হবে না।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৩২ | 4732 | ٤۷۳۲

পরিচ্ছদঃ ২৪৪৮. যে সন্তান যে মহিলার দুধ পান করে, সে সন্তান ঐ মহিলার স্বামীর দুধ-সন্তান হিসাবে গণ্য হবে
৪৭৩২। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, পর্দার আয়াত নাযিল হবার পর তাঁর [আয়িশা (রাঃ)] দুধ সম্পর্কীয় চাচা আবূল কু’আয়াসের ভাই ‘আফলাহ্’ তাঁর ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইল।

আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি অনুমতি দিতে অস্বীকার করলাম। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন। আমি তার সাথে যে ব্যবহার করেছি, সে সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলাম। তিনি তাকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়ার জন্য আমাকে বললেন।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-১।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৩৩ | 4733 | ٤۷۳۳

পরিচ্ছদঃ ২৪৪৯. দুধমাতার সাক্ষ্য গ্রহণ
৪৭৩৩। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … উকবা ইবনু হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, আমি শাদী করলাম। এরপর একজন কালো মহিলা এসে বলল, আমি তোমাদের দু’জনকে দুধ পান করিয়েছি। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললাম, আমি অমুকের কন্যা অমুককে শাদী করেছি।

এরপর জনৈকা কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা এসে আমাদেরকে বলল যে, আমি তোমাদের দু’জনকে দুধ পান করিয়েছি; অথচ সে মিথ্যাবাদিনী। এই কথা শোনার পর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।

আমি আবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে এসে বললাম, সে মিথ্যাবাদী। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কেমন করে তোমার সাথে শাদী হল; অথচ তোমাদের উভয়কে ঐ মহিলা দুধ পান করিয়েছে- এ কথা বলছে।

অতএব, তোমার স্ত্রীকে ছেড়ে দাও। রাবী ইসমাঈল শাহাদাত এবং মধ্যমা আঙ্গুলীদ্বয় উত্তোলন করে ইশারা করেছে যে, তার উর্ধ্বতন রাবী আইউব এইরূপ করে দেখিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ

ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-১।

ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-২।

তাফসীর অধ্যায় – অবশিষ্ট অংশ – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-১।

তাফসীর অধ্যায় – অবশিষ্ট অংশ – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-২।

তাফসীর অধ্যায় – অবশিষ্ট অংশ – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-৩।

মন্তব্য করুন