বিয়ে-শাদী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-৩।

বিয়ে-শাদী অধ্যায়

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-৩।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-৩।

বুখারি হাদিস নং ৪৭০১-৪৮০০

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৬৪ | 4764 | ٤۷٦٤

পরিচ্ছদঃ ২৪৬৯. ইয়াতীম বালিকার শাদী দেয়া। আল্লাহ্ তা’আলার বাণী’’ ‘‘যদি তোমরা ভয় কর যে ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি পূর্ণ ইনসাফ করতে পারবে না, তাহলে তোমার পছন্দ মতো অন্য কাউকে শাদী কর।’’

কেউ কোন অভিভাবককে যদি বলে, অমুক মহিলাকে আমার সঙ্গে শাদী দিন এবং সে যদি চুপ থাকে অথবা তাকে বলে তোমার কাছে কি আছে? সে উত্তরে বলে, আমার কাছে এই এই আছে অথবা নীরব থাকে।

এরপর অভিভাবক বলেন, আমি তাকে তোমার কাছে শাদী দিলাম, তাহলে তা বৈধ। এ ব্যাপারে সাহল (রা) নবী (সা) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৪৭৬৪। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … উরওয়া ইবনু আবূ যুবায়র (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করেন, খালাম্মা, “যদি তোমরা ভয় কর যে, ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি ন্যায় বিচার করতে পারবে না তোমাদের দক্ষিন হস্ত যার মালিক …।

এই আয়াত কোন্ প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছে? আয়িশা (রাঃ) বললেন, হে আমার ভাগ্নে! এই আয়াত ঐ ইয়াতীম বালিকাদের প্রসঙ্গে অবর্তর্ণ হয়েছে, যারা তার অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং সেই অভিভাবক তার রূপ ও সম্পদে আকৃষ্ট হয়ে তাকে শাদী করতে চায়; কিন্তু তার মোহরানা কম দিতে চায়।

এই আয়াতের মাধ্যমে উক্ত বালিকাদের শাদী করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের ব্যতীত অন্য নারীদের শাদী করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অবশ্য যদি সে এদের পূর্ণ মোহরানা আদায় করে দেয় তবে সে শাদী করতে পারবে।

আয়িশা (রাঃ) আরো বলেন, পরবর্তী সময়ে লোকেরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ

“তারা তোমার কাছে মহিলাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে এবং তোমরা যাদের শাদী করতে চাও” আল্লাহ তা’আলা এদের জন্য এ আয়াত নাযিল করেন; যদি কোন ইয়াতীম বালিকার সৌন্দর্য এবং সম্পদ থাকে, তাহলে এরা তাদেরকে শাদী করতে চায় এবং এদের স্বীয় আভিজাত্যের ব্যাপারেও ইচ্ছা পোষণ করে এবং মোহর কম দিতে চায়।

কিন্তু সে যদি তাদের পছন্দমতো পাত্রী না হয়, তার সম্পদ ও রূপ কম হওয়ার কারণে এদেরকে ত্যাগ করে অন্য মেয়ে শাদী করে।

আয়িশা (রাঃ) বলেন, যেমনিভাবে এদের প্রতি অনীহার সময় এদের পরিত্যাগ করতে চায় তদ্রুপ যে সময় আকর্ষণ থাকবে, সে সময়েও যেন তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করে পূর্ণ মোহর আদায় করে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৬৫ | 4765 | ٤۷٦۵

পরিচ্ছদঃ ২৪৭০. যদি কোন শাদী প্রার্থী পুরুষ অভিভাবককে বলে, অমুক মেয়েকে আমার কাছে শাদী দিন এবং মেয়ের অভিভাবক বলে, তাকে এত মোহরানার বিনিময়ে তোমার সাথে শাদী দিলাম, তাহলে এই শাদী বৈধ হবে যদিও সে জিজ্ঞেস না করে, তুমি কি রাযী আছ? তুমি কি কবুল করেছ

৪৮৬৫। আবূ নু’মান … সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একজন মহিলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলো এবং নিজকে শাদীর জন্য তাঁর কাছে পেশ করল।

তিনি বললেন, এখন আমার কোন মহিলার প্রয়োজন নেই। এরপর উপস্থিত একজন লোক বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তাকে আমার সাথে শাদী দিন।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি আছে? লোকটি বলল, আমার কিছু নেই। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে একটি লোহার আংটি হলেও দাও।

লোকটি বলল, আমার কাছে কিছুই নেই। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাছে কি পরিমাণ কুরআন আছে? লোকটি বলল, এ পরিমাণ কুরআন শরীফ আছে।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যে পরিমাণ কুরআন শরীফ জানো, তার বিনিময়ে এই মহিলাকে তোমার কর্তৃত্বে দিয়ে দিলাম।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-৩।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৬৬ | 4766 | ٤۷٦٦

পরিচ্ছদঃ ২৪৭১. কোন ব্যক্তির প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দেবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত তার শাদী হবে অথবা আপন প্রস্তাব উঠিয়ে নেবে
৪৭৬৬। মাক্কী ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে এক ভাই কোন জিনিসের দাম করলে অন্যকে তার দরদাম করতে নিষেধ করেছেন এবং এক মুসলিম ভাইয়ের শাদী প্রস্তাবের ওপরে অন্য ভাইকে প্রস্তাব দিতে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না প্রথম প্রস্তাবকারী তার প্রস্তাব উঠিয়ে নেবে বা তাকে অনুমতি দেবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৬৭ | 4767 | ٤۷٦۷

পরিচ্ছদঃ ২৪৭১. কোন ব্যক্তির প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দেবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত তার শাদী হবে অথবা আপন প্রস্তাব উঠিয়ে নেবে
৪৭৬৭। ইয়াহ্ইয়া ইবনু বুকায়ব (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তোমরা কারো প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করো না।

কেননা, খারাপ ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা। একে অপরের ছিদ্রান্বেষণ করো না, একে অন্যের ব্যাপারে মন্দ কথায় কান দিও না এবং একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুতা রোখো না’ বরং পরস্পর ভাই হয়ে যাও।

এক মুসলিম ভাইয়ের প্রস্তাবিত মহিলার কাছে শাদীর প্রস্তাব করো না; বরং ঐ পর্যন্ত অপেক্ষা কর, যতক্ষণ না সে তাকে শাদী করে অথবা বাদ দেয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৬৮ | 4768 | ٤۷٦۸

পরিচ্ছদঃ ২৪৭২. শাদীর প্রস্তাব বাতিলের ব্যাখ্যা
৪৭৬৮। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, উমর (রাঃ) বলেন, হাফসা (রাঃ) বিধবা হলে আমি আবূ বকর (রাঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাত করে তাকে বললাম, আপনি যদি চান তবে হাফসা বিনত উমরকে আপনার কাছে শাদী দিতে পারি।

আমি কয়েকদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। তারপরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শাদীর পয়গাম পাঠালেন।

পরে আবূ বকর (রাঃ) আমার সাথে সাক্ষাত করে বললেন, আপনার প্রস্তাবে উত্তর দিতে কোন কিছুই আমাকে বাধা দেয়নি; তবে আমি জেনেছিলাম যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং আমি কখনও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোপন প্রকাশ করতে পারি না।

তিনি যদি তাকে বাদ দিতেন, তাহলে আমি তাকে গ্রহণ করতাম। ইউনুস, মূসা ইবনু উকবা এবং ইবনু আকিকে যুহরীর সূত্রে উক্ত হাদীসের সমর্থন ব্যক্ত করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৬৯ | 4769 | ٤۷٦۹

পরিচ্ছদঃ ২৪৭৩. শাদীর খুতবা
৪৭৬৯। কাবিস (রাঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, পূর্বাঞ্চল থেকে দু’ব্যাক্তি এসে বক্তৃতা দিল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন কোন বক্তৃতা জাদুমন্ত্রের মতো।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৭০ | 4770 | ٤۷۷۰

পরিচ্ছদঃ ২৪৭৪. বিবাহ অনুষ্ঠানে এবং বিবাহ ভোজে দফ বাজানো
৪৭৭০। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … রুবাই বিনত মুআব্বিয ইবনু আফরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, আমার বাসর রাতের পরের দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং আমার চাঁদরের ওপর বসলেন, যেমন বর্তমানে তুমি আমার কাছে বসে আছ।

সে সময় আমাদের কচি মেয়েরা দফ বাজাচ্ছিল এবং বদরের যুদ্ধে শাহাদাত প্রাপ্ত আমার বাপ-চাচাঁদের শোকগাঁথা হচ্ছিল।

তাদের মধ্যে একজন এ কথা বলে ফেলল যে, আমাদের মধ্যে একজন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আছেন, যিনি আগামী দিনের কথা জানেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ কথা বলা ছেড়ে দাও এবং পূর্বে যা বলেছিলে তাই বল।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৭১ | 4771 | ٤۷۷۱

পরিচ্ছদঃ ২৪৭৫. আল্লাহ্‌র বাণীঃ ‘‘এবং তোমরা তোমাদের স্ত্রীদিগকে সন্তুষ্টচিত্তে মোহরানা পরিশোধ কর।’’ আর অধিক মোহরানা এবং সর্বনিমণ মোহরানা কত এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, ‘‘এবং তোমরা যদি তাদের একজনকে অগাধ অর্থও দিয়ে থাক, তবুও তা থেকে কিছুই প্রতিগ্রহণ করো না।’’

এবং আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেন, ‘‘অথবা তোমরা তাদের মোহরানার পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দাও।’’ সাহ্ল (রা) বলেছেন, নবী (সা) এক ব্যক্তিকে বললেন, যদি একটি লোহার আংটিও হয়, তবে মোহরানা হিসাবে যোগাড় করে দাও।

৪৭৭১। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) কোন এক মহিলাকে শাদী করলেন এবং তাকে মোহরানা হিসাবে খেজুর দানার পরিমাণ স্বর্ণ দিলেন।

যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মুখে শাদীর আনন্দের ছাপ দেখলেন তখন তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন; তখন সে বললঃ আমি একজন নারীকে খেজুরের আটি পরিমাণ স্বর্ণ দিয়ে শাদী করেছি।

কাতাদা আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুর রহমান খেজুরের দানা পরিমাণ স্বর্ণ মোহরানা হিসাবে দিয়ে কোন মহিলাকে শাদী করেন।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-৩।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৭২ | 4772 | ٤۷۷۲

পরিচ্ছদঃ ২৪৭৬. কুরআন শিক্ষা দেয়ার বিনিময় এবং কোন মোহরানা ব্যতীত বিবাহ প্রদান
৪৭৭২। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি অন্যান্য লোকের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসা ছিলাম।

এমন সময় একজন মহিলা দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার কাছে পেশ করছি, এখন আপনার মতামত দিন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন উত্তর দিলেন না।

এরপর মহিলাটি পুনরায় দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আমার জীবনকে আপনার কাছে পেশ করেছি। এতে আপনার মতামত কি?

তিনি কোন প্রতিউত্তর করলেন না। তারপর তৃতীয় বারে দাঁড়িয়ে বলল, আমি আমার জীবন আপনার কাছে সোপর্দ করছি। আপনার মতামত কি? এরপর একজন লোক দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এই মহিলাকে আমার সাথে শাদী দিয়ে দিন।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাছে কিছু আছে? লোকটি বলল, না। তিনি বললেন, যাও তালাশ কর, একটি লোহার আংটি হলেও নিয়ে এসো।

লোকটি চলে গেল এবং খুঁজে দেখল। এরপর এসে বলল, আমি কিছুই পেলাম না; এমনকি একটি লোহার আংটিও না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কি কিছু কুরআন জানা আছে?

সে বলল, অমুক অমুক সূরা আমার মুখস্থ আছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যে পরিমাণ কুরআন মুখস্থ পার, তার বিনিময়ে এ মহিলাকে তোমার সাথে শাদী দিলাম।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-৩।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৭৩ | 4773 | ٤۷۷۳

পরিচ্ছদঃ ২৪৭৭. মোহরানা হিসাবে দ্রব্যসামগ্রী এবং লোহার আংটি
৪৭৭৩। ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে বললেন, তুমি শাদী কর একটি লোহার আংটির বিনিময়ে হলেও।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৭৪ | 4774 | ٤۷۷٤

পরিচ্ছদঃ ২৪৭৮. শাদীতে শর্ত আরোপ করা। হযরত উমর (রা) বলেছেন, কোন চুক্তির শর্ত নির্ধারণ করলেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। মিস্ওয়ার (রা) বলেন, নবী (সা) তাঁর এক জামাতার প্রশংসা করে বলেছেন যে, যখন সে আমার সাথে কথা বলেছে, সত্য বলেছে। যখন সে ওয়াদা করেছে, তখন ওয়াদা রক্ষা করেছে।

৪৭৭৪। আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) … উকবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সকল শর্তের চেয়ে শাদীর শর্ত পালন করা তোমাদের জন্য অধিক কর্তব্য এই জন্য যে, এর মাধ্যমেই তোমাদেরকে মহিলাদের বিশেষ অংশ ভোগ করার অধিকার দেয়া হয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৭৫ | 4775 | ٤۷۷۵

পরিচ্ছদঃ ২৪৭৯. শাদীর সময় মেয়েদের জন্য যেসব শর্ত আরোপ করা বৈধ নয়। ইবন মাসউদ (রা) বলেন, একজন নারীর জন্য তার হবু স্বামীর কাছে এরূপ শর্ত আরোপ করা বৈধ নয় যে, সে তার (মুসলিম) বোনকে (অর্থাৎ হবু স্বামীর আগের স্ত্রীকে) তালাক দেয়ার কথা বলে

৪৭৭৫। উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শাদীর সময় কোন নারীর জন্য এরূপ শর্ত আরোপ করা বৈধ নয় যে, তার বোনের তালাক দাবি করবে, যাতে সে তার পাত্র পূর্ণ করে নেয় (সব কিছুর ওপরে তার একচেটিয়া অধিকার প্রতিষ্ঠা করে) কেননা, তার ভাগ্যে যা আছে তাই ঘটবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৭৬ | 4776 | ٤۷۷٦

পরিচ্ছদঃ ২৪৮০. বরের জন্য সুফরা (হলুদ রঙ্গের সুগন্ধি) ব্যবহার করা। আবদুর রহমান ইবন আউফ (রা) নবী (সা) থেকে বর্ণনা করেছেন
৪৭৭৬। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বণিত যে, আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে এমন অবস্থায় এলেন যে, তার সুফরার চিহ্ন বিদ্যমান ছিল।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চিহ্ন সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) তার উত্তরে বললেন, তিনি এক আনসারী নারীকে শাদী করেছেন।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তাকে কি পরিমাণ মোহরানা দিয়েছে? তিনি বললেন, আমি তাকে খেজুরের আটির সমপরিমাণ স্বর্ণ দিয়েছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওয়ালীমার ব্যবস্থা কর যদি একটি বকরী দিয়েও হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৭৭ | 4777 | ٤۷۷۷

পরিচ্ছদঃ ২৪৮০. বরের জন্য সুফরা (হলুদ রঙ্গের সুগন্ধি) ব্যবহার করা। আবদুর রহমান ইবন আউফ (রা) নবী (সা) থেকে বর্ণনা করেছেন
৪৭৭৭। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যয়নাব (রাঃ) এর শাদীতে ওয়ালীমার ব্যবস্থা করেন এবং মুসলমানদের জন্য উত্তম খাদ্যের ব্যবস্থা করেন।

তারপর তার অভ্যাস মত তিনি বাইরে আসেন এবং উম্মুল মু’মিনীনদের গৃহে প্রবেশ করে তাদের জন্য দোয়া করেন এবং তাঁরাও তাঁর জন্য দোয়া করেন।

এরপরে ফিরে এসে তিনি লক্ষ্য করলেন যে, দু’জন লোক বসে আছে। এরপর তিনি ফিরে গেলেন। বর্ণনাকারী বলে, আমি ঠিক স্মরণ করতে পারছি না যে, আমি তাকে ঐ লোক দু’টি চলে যাওয়ার সংবাদ দিয়েছিলাম, না তিনি নিজেই কারুর দ্বারা খবর পেয়েছিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৭৮ | 4778 | ٤۷۷۸

পরিচ্ছদঃ ২৪৮১. বরের জন্য কিভাবে দোয়া করতে হবে
৪৭৭৮। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) এর দেহে সুফরার চিহ্ন দেখতে পেয়ে বললেন, এ কি?

আবদুর রহমান (রাঃ) বললেন, আমি একজন মহিলাকে একটি খেজুরের আটি সমপরিমাণ স্বর্ণের বিনিময়ে শাদী করেছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা’আলা তোমার এ শাদীতে বরকত দান করুন। তুমি একটি ছাগলের দ্বারা হলেও ওয়ালীমার ব্যবস্থা কর।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৭৯ | 4779 | ٤۷۷۹

পরিচ্ছদঃ ২৪৮২. ঐ নারীদের দোয়া যারা কনেকে সাজায় এবং বরকে উপহার দেয়

৪৭৭৯। ফারওয়া (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শাদী করেন তখন আমার মা আমার কাছে এলেন এবং আমাকে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করালেন, আমি সেখানে কয়েকজন আনসারী মহিলাকে দেখলাম। তারা মঙ্গল, বরকত ও সৌভাগ্য কামনা করে দোয়া করছিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৮০ | 4780 | ٤۷۸۰

পরিচ্ছদঃ ২৪৮৩. জিহাদে যাওয়ার পূর্বে স্ত্রীর সঙ্গে মিলন প্রত্যাশী
৪৭৮০। মুহাম্মদ ইবনু আলা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আম্বিয়ায়ে কিরামের মধ্য থেকে কোন একজন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদের জন্য বের হলেন এবং নিজ লোকদেরকে বললেন, ঐ ব্যাক্তি যেন আমার সাথে জিহাদে না যায়, যে শাদী করেছে এবং স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে ইচ্ছা করে: অথচ এখনও মিলন হয়নি।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৮১ | 4781 | ٤۷۸۱

পরিচ্ছদঃ ২৪৮৪. যে ব্যক্তি নয় বছরের মেয়ের সাথে বাস রাত্রি অতিবাহিত করে
৪৭৮১। কাবিসা ইবনু উকবা (রহঃ) … উরওয়া থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রাঃ) কে শাদী করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর এবং যখন বাসর করেন তখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর এবং (মোট) নয় বছর তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে জীবন যাপন করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৮২ | 4782 | ٤۷۸۲

পরিচ্ছদঃ ২৪৮৫. সফরে স্ত্রীর মিলন সম্পর্কে
৪৭৮২। মুহাম্মদ ইবনু সালাম (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনদিন পর্যন্ত মদিনা এবং খায়বরের মধ্যবর্তী কোন এক স্থানে অবস্থান করেন।

সেখানে তিনি সাফিয়া বিনতে হুয়ায়া (রাঃ) এর সাথে শাদী বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর আমি মুসলমানদেরকে ওয়ালীমার জন্য দাওয়াত করি, তাতে রুটি ও গোশত ছিল না।

 

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চামড়ার দস্তরখানা বিছাবার জন্য আদেশ করলেন এবং তাতে খেজুর, পনির এবং মাখন রাখা হল। এটাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওয়ালীমা।

মুসলমানেরা একে অপরকে বলতে লাগল, সাফিয়া কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী হিসাবে গণ্য হবেন, না ক্রীতদাসী হিসাবে।

সকলে বলল, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তাকে পর্দার ভিতরে রাখেন তাহলে তিনি উম্মুহাতুল মু’মিনীনদের মধ্যে গণ্য হবেন। আর যদি পর্দায় না রাখেন, তাহলে ক্রীতদাসী হিসাবে গণ্য হবে।

এরপর যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওয়ানা হলেন তখন লোকজন এবং তার মধ্যে পর্দার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-৩।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৮৩ | 4783 | ٤۷۸۳

পরিচ্ছদঃ ২৪৮৬. দিনের বেলায় শাদীবন্ধনের পর বাস করা এবং আগুন জ্বালানো ও সওয়ারী ব্যতীত
৪৭৮৩। ফারওয়া ইবনু আবূ মাগরা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শাদী করার পর আমার আম্মা আমার কাছে এলেন এবং আমাকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরে নিয়ে গেলেন। মধ্যাহ্নের সময় আমার কাছে তাঁর আগমন ছাড়া আর কিছুই আমাকে অবাক করেনি।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৮৪ | 4784 | ٤۷۸٤

পরিচ্ছদঃ ২৪৮৭. মহিলাদের জন্য বিছানার চাদর ও বালিশের ওয়ার ব্যবহার করা
৪৭৮৪। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি বিছানার চাঁদর ব্যবহার করেছ? আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কোথায় বিছানার চাঁদর পাব? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অতি সত্বর তুমি এগুলো পেয়ে যাবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৮৫ | 4785 | ٤۷۸۵

পরিচ্ছদঃ ২৪৮৮. যেসব নারী কনেকে বরের কাছে সাজিয়ে পাঠায় তাদের প্রসঙ্গ
৪৭৮৫।

ফযল ইয়াকূব (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কোন এক আনসারীর জন্য এক মহিলাকে শাদীর কনে হিসাবে সাজালে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আয়িশা!

এই শাদী উপলক্ষে তুমি কি কোন রকম আনন্দ ফূর্তির ব্যবস্থা করনি? আনসারদের নিকট এটা খুবই পছন্দনীয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৮৬ | 4786 | ٤۷۸٦

পরিচ্ছদঃ ২৪৯০. দুলহীনের জন্যে কাপড়-চোপড় পোশাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদি ধার করা
২৪৮৯. অনুচ্ছেদঃ দুলহীনকে উপঢৌকন প্রদান।

আবু উসমান বলেন, একদিন আনাস ইবন মালিক (রা) আমাদের বনী রিফা’আর মসজিদের নিকট গমনকালে তাকে এ কথা বলতে শুনেছি যে, যখনই উম্মে সুলায়মের নিকট দিয়ে নবী (সা) যেতেন, তাঁকে সালাম দিতেন।

আনাস (রা) আরো বলেন, নবী (সা) এর যখন যয়নাব (রা) এর সাথে শাদী হয়, তখন উম্মে সুলায়ম আমাকে বললেন, চল আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর জন্য কিছু হাদীয়া পাঠাই।

আমি তাকে বললাম, হ্যাঁ, এ ব্যবস্থা করুন। তখন তিনি খেজুর, মাখন ও পনির এক সাথে মিশিয়ে হালুয়া বানিয়ে একটি ডেকচিতে করে আমার মারফত রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে পাঠালেন।

আমি সেসব নিয়ে তাঁর খিদমতে উপস্থিত হলে তিনি এগুলো রেখে দিতে বলেন, এবং আমাকে কয়েকজন লোকের নাম উল্লেখ করে ডেকে আনার আদেশ করলেন।

আরো বললেন, যার সাথে দেখা হয় তাকেও দাওয়াত দিবে। তিনি যেভাবে আমাকে হুকুম করলেন, আমি সেইভাবে কাজ করলাম।

যখন আমি ফিরে এলাম, তখন ঘরে অনেক লোক দেখতে পেলাম। নবী (সা) তখন হালুয়া (হাইশা) পাত্রের মধ্যে হাত রাখা অবস্থায় ছিলেন এবং আল্লাহ্ তা’আলার মর্জি মোতাবেক কিছু কথা বললেন।

তারপর তিনি দশ দশ জন করে লোক খাবারের জন্য ডাকলেন এবং বললেন, তোমরা ‘বিস্মিল্লাহ্’ বলে খাওয়া শুরু কর এবং প্রত্যেকে পাত্রের নিজ নিজ দিক হতে খাও।

যখন তাদের খাওয়া-দাওয়া শেষ হল তাদের মধ্য থেকে অনেকেই চলে গেল এবং কিছু সংখ্যক লোক কথাবার্তা বলতে থাকল। যা দেখে আমি বিরক্তি বোধ করলাম।

তারপর নবী (সা) সেখান থেকে বের হয়ে অন্য ঘরে গেলেন। আমিও সেখান থেকে বেরিয়ে এলাম। যখন আমি বললাম, তারাও চলে গেছে তখন তিনি নিজের কক্ষে ফিরে এলেন এবং পর্দা ফেলে দিলেন।

তিনি তাঁর কক্ষে থাকলেন এবং এই আয়াত পাঠ করলেনঃ মু’মিনগণ, তোমাদেরকে অনুমতি না দেয়া হলে তোমরা খাবার তৈরির অপেক্ষা না করে নবীগৃহে খাবার জন্য প্রবেশ করো না।

তবে যদি তোমাদেরকে ডাকা হয় তাহলে প্রবেশ কর এবং খাওয়া শেষ করে চলে যাবে। তোমরা কথাবার্তায় মশগুল হয়ে পড়ো না এবং তোমাদের এরূপ আচরণ নবীর মনে কষ্ট হয়।

তিনি তোমাদেরকে উঠিয়ে দিতে সংকোচ বোধ করেন, কিন্তু আল্লাহ্ তা’আলা সত্য বলতে সংকোচ বোধ করেন না। আবু উসমান (রহঃ) বলেন, আনাস (রা) বলেছেন যে, তিনি দশ বছর নবী (সা) এর খেদমত করেছেন।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-৩।

৪৭৮৬। উবায়দ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তিনি আসমা (রাঃ) থেকে গলার একছাড়া হার ধার হিসাবে এনেছিলেন। এরপর তা হারিয়ে যায়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কয়েকজন সাহাবীকে তা খোঁজ করে বের করার জন্য পাঠালেন। এমন সময় সালাত (নামায/নামাজ) এর ওয়াক্ত হয়ে গেলে তারা বিনা উযূ (ওজু/অজু/অযু)তে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে হাযির হয়ে অভিযোগ করলেন, তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হল। উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) বললেন, [হে আয়িশা (রাঃ)!]

আল্লাহ আপনাকে উত্তম পুরস্কার দান করুন! কারণ যখনই আপনার ওপর কোন অসুবিধা আসে, তখনই আল্লাহ তা’আলার তরফ থেকে তা আপনার জন্য বিপদমুক্তির ও উম্মতের জন্য বরকতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৮৭ | 4787 | ٤۷۸۷

পরিচ্ছদঃ ২৪৯১. স্ত্রীর কাছে গমনকালে কি বলতে হবে?
৪৭৮৭। সা’দ ইবনু হাফস (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন স্ত্রী-সহবাস করে, তখন যেন সে বলে, ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনিশ শায়তানা ওয়া জান্নিবিশ শায়তানা মা রাযাকতানা’ আল্লাহর নামে শুরু করছি, হে আল্লাহ!

আমাকে তুমি শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং আমাকে তুমি যা দান করবে তা থেকে শয়তানকে দূরে রাখ। এরপরে যদি তাদের দু’জনের মাঝে কিছু ফল দেয়া হয় অথবা বাচ্চা পয়দা হয়, তাকে শয়তান কখনো ক্ষতি করতে পারবে না।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৮৮ | 4788 | ٤۷۸۸

পরিচ্ছদঃ ২৪৯২. ওয়ালীমা একটি অধিকার। আবদুর রহমান ইব্ন আউফ (রা) বলেছেন, নবী (সা) আমাকে বললেন, ওয়ালীমার ব্যবস্থা কর, যদি একটি মাত্র বকরীর দ্বারাও হয়।

৪৭৮৮। ইয়াহিয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসেন তখন আমার বয়স দশ বছর ছিল।

আমার মা, চাচী ও ফুফুরা আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খাদেম হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছিল। এরপর আমি দশ বছরকাল তাঁর খেদমত করি। যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকাল হয় তখন আমার বয়স ছিল বিশ বছর। আমি পর্দা সম্পর্কে অন্যদের চেয়ে বেশি জানি।

পর্দা সম্পর্কীয় প্রাথমিক আয়াতসমূহ যয়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ) এর সাথে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাসর রাত যাপনের সময় অবতীর্ণ হয়েছিল।

সেদিন সকাল বেলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুলহা ছিলেন এবং লোকদেরকে ওয়ালীমার দাওয়াত করলেন। সুতরাং তাঁরা এসে খানা খেলেন।

কিছুসংখ্যক ছাড়া সবাই চলে গেলেন। তাঁরা দীর্ঘক্ষণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কাটালেন। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে বাইরে গেলেন।

আমি তাঁর পিছু পিছু চলে এলাম, যাতে করে অন্যেরাও বের হয়ে আসে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন, এমনকি তিনি আয়িশা (রাঃ) এর কক্ষের দ্বারপ্রান্তে গেলেন, এরপরে বাকি লোকগুলো হয়ত চলে গেছে এ কথা ভেবে তিনি ফিরে এলেন, আমি তাঁর সাথে ফিরে এলাম।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যয়নব (রাঃ) এর কক্ষে প্রবেশ করে দেখতে পেলেন যে, লোকগুলো বসে রয়েছে- চলে যায়নি।

সুতরাং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বাইরে বের হলেন এবং আমি তাঁর সাথে এলাম। যখন আমরা আয়িশা (রাঃ) এর কক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছলাম, তিনি ভাবলেন যে, এতক্ষণে হয়ত লোকগুলো চলে গিয়েছে। তিনি ফিরে এলেন।

আমিও তাঁর সাথে ফিরে এসে দেখলাম যে, লোকগুলো চলে গেছে। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ও তাঁর মাঝখানে একটি পর্দা টেনে দিলেন। এ সময়ে পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হল।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৮৯ | 4789 | ٤۷۸۹

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৩. ওয়ালীমা বা বিবাহ-ভোজের ব্যবস্থা করা উচিত, যদিও তা একটি বকরীর দ্বারা হয়
৪৭৮৯। আলী (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) একজন আনসারী মহিলাকে শাদী করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, কি পরিমাণ মোহর দিয়েছ?

তিনি উত্তর করলেন, একটি খেজুরের আটির পরিমাণ স্বর্ণ দিয়েছি। আনাস (রাঃ) আরও বলেন, যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবিগণ মদিনায় আগমন করলেন, তখন মুহাজিরগণ আনসারদের গৃহে অবস্থান করতেন। আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) সা’দ ইবনুুর রাবী (রাঃ) এর গৃহে অবস্থান করতেন।

সা’দ (রাঃ) আবদুর রহমান (রাঃ) কে বললেন, আমি আমার বিষয়-সম্পত্তি দু’ভাগ করে আমরা উভয়ে সমান ভাগে ভাগ করে নেব এবং আমি আমার দুই স্ত্রীর মধ্যে একজন তোমাকে দেব।

আবদুর রহমান (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তোমার সম্পত্তি ও স্ত্রীদেরকে বরকত দান করুন। তারপর আবদুর রহমান (রাঃ) বাজারে গেলেন এবং ব্যবসা করতে লাগলেন এবং লাভ হিসাবে কিছু পনির ও ঘি পেলেন এবং শাদী করলেন।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, একটি ছাগল দ্বারা হলেও ওয়ালীমার ব্যবস্থা কর।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৯০ | 4790 | ٤۷۹۰

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৩. ওয়ালীমা বা বিবাহ-ভোজের ব্যবস্থা করা উচিত, যদিও তা একটি বকরীর দ্বারা হয়
৪৭৯০। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন শাদী করেন, তখন ওয়ালীমা করেন, কিন্তু যয়নাব (রাঃ) এর শাদীর সময় যে পরিমাণ ওয়ালীমার ব্যবস্থা করেছিলেন, তা অন্য কারো বেলায় করেননি। সেই ওয়ালীমা ছিল একটি ছাগল দিয়ে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৯১ | 4791 | ٤۷۹۱

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৩. ওয়ালীমা বা বিবাহ-ভোজের ব্যবস্থা করা উচিত, যদিও তা একটি বকরীর দ্বারা হয়
৪৭৯১। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়া (রাঃ) কে আযাদ করে শাদী করেন এবং এই আযাদ করাকেই তাঁর মোহরানা নির্দিষ্ট করেন এবং ‘হাইস’ বা এক প্রকার সুস্বাদু হালুয়ার দ্বারা ওয়ালীমার ব্যবস্থা করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৯২ | 4792 | ٤۷۹۲

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৩. ওয়ালীমা বা বিবাহ-ভোজের ব্যবস্থা করা উচিত, যদিও তা একটি বকরীর দ্বারা হয়
৪৭৯২। মালিক ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক সহধর্মিণীর সাথে বাসর ঘরের ব্যবস্থা করলেন এবং ওয়ালীমার দাওয়াত দেয়ার জন্য আমাকে পাঠালেন।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-৩।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৯৩ | 4793 | ٤۷۹۳

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৪. কোন ব্যক্তি কোন স্ত্রীর শাদীর সময় অন্যদের শাদীর সময়কাল ওয়ালীমার চেয়ে বড় ধরণের ওয়ালীমার ব্যবস্থা করা
৪৭৯৩। মুহাম্মদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যয়নাবের শাদীর আলোচনায় আনাস (রাঃ) উপস্থিত হয়ে তিনি বললেন, যয়নাব বিনতে জাহাশের সাথে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শাদীর সময় যে ওয়ালীমার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তার চেয়ে অধিক ওয়ালীমার ব্যবস্থা কারো শাদীর সময় করতে আমি দেখিনি। এই শাদী অনুষ্ঠানে তিনি একটি ছাগল দ্বারা ওয়ালীমা করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৯৪ | 4794 | ٤۷۹٤

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৫. একটি ছাগলের চেয়ে কম কিছুর দ্বারা ওয়ালীমা করা
৪৭৯৪। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … সাফিয়া বিনত শায়বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন এক স্ত্রীর শাদীতে দুই মুদ (চার সের) পরিমাণ যব দ্বারা ওয়ালীমার ব্যবস্থা করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৯৫ | 4795 | ٤۷۹۵

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৬. ওয়ালীমার দাওয়াত গ্রহণ করা কর্তব্য। যদি কেউ একাধারে সাত দিন অথবা অনুরূপ বেশি দিন ওয়ালীমার ব্যবস্থা করে, কেননা নবী (সা) ওয়ালীমার সময় এক বা দুই দিন ধার্য করেননি
৪৭৯৫।

আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কাউকে ওয়ালীমার দাওয়াত করলে তা অবশ্যই গ্রহণ করবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৯৬ | 4796 | ٤۷۹٦

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৬. ওয়ালীমার দাওয়াত গ্রহণ করা কর্তব্য। যদি কেউ একাধারে সাত দিন অথবা অনুরূপ বেশি দিন ওয়ালীমার ব্যবস্থা করে, কেননা নবী (সা) ওয়ালীমার সময় এক বা দুই দিন ধার্য করেননি

৪৭৯৬। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বন্দীদেরকে মুক্তি দাও, দাওয়াত কবূল কর এবং রোগীদের সেবা কর।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৯৭ | 4797 | ٤۷۹۷

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৬. ওয়ালীমার দাওয়াত গ্রহণ করা কর্তব্য। যদি কেউ একাধারে সাত দিন অথবা অনুরূপ বেশি দিন ওয়ালীমার ব্যবস্থা করে, কেননা নবী (সা) ওয়ালীমার সময় এক বা দুই দিন ধার্য করেননি

৪৭৯৭। হাসান ইবনু রবী (রহঃ) … বারা ইবনু আযিব (রাঃ) বলেছেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতটি কাজ করতে বলেছেন এবং সাতটি কাজ করতে নিষেধ করেছেন।

তিনি আমাদেরকে রোগীর সেবাযত্ন করা, জানাযায় অংশগ্রহণ করা, হাঁচি দিলে তার জবাব দেয়া, কসম পুরা করায় সহযোগিতা করা, মজলুমকে সাহায্য করা, সালামের বিস্তার করা এবং কেউ দাওয়াত দিলে তা কবূল করা- এইসব করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ছাড়া তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন স্বর্ণের আংটি পরতে, রূপার পাত্র ব্যবহার করতে, ঘোড়ার পিঠের ওপরে রেশমী গদি ব্যবহার করতে এবং ‘কাসসিয়া’ বা পাতলা রেশমী কাপড় এবং দ্বীবাজ ব্যবহার করতে।

আবূ আওয়ানা এবং শায়বানী আশ্আস সূত্রে সালামের বিস্তারের কথা সমর্থন করে বর্ণনা করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৯৮ | 4798 | ٤۷۹۸

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৬. ওয়ালীমার দাওয়াত গ্রহণ করা কর্তব্য। যদি কেউ একাধারে সাত দিন অথবা অনুরূপ বেশি দিন ওয়ালীমার ব্যবস্থা করে, কেননা নবী (সা) ওয়ালীমার সময় এক বা দুই দিন ধার্য করেননি

৪৭৯৮। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ উসায়দ আস্ সাঈদী (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার শাদী উপলক্ষে ওয়ালীমার দাওয়াত করেন।

তাঁর নববধু সেদিন খাদ্য পরিবেশন করছিলেন। সাহল বলেন, তোমরা কি জানো, সে দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কি পানীয় সরবরাহ করা হয়েছিল?

সারারাত ধরে কিছু খেজুর পানির মধ্যে ভিজিয়ে রেখে তা থেকে তৈরি পানীয়। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খাওয়া শেষ করলেন, তখন তাঁকে ঐ পানীয়ই পান করতে দেয়া হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৭৯৯ | 4799 | ٤۷۹۹

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৭. যে দাওয়াত কবূল করে না, সে যেন আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল (সা)-কে নাফরমানী করল
৪৭৯৯। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, যে ওয়ালীমায় শুধুমাত্র ধনীদেরকে দাওয়াত করা হয় এবং গরীবদেরকে দাওয়াত করা হয় না সেই ওয়ালীমা সবচেয়ে নিকৃষ্ট। যে ব্যাক্তি দাওয়াত কবূল করে না, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সঙ্গে নাফরমানী করে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০০ | 4800 | ٤۸۰۰

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৮. বকরীর পায়া খাওয়ানোর জন্যও যদি দাওয়াত করা হয়
৪৮০০। আবদান (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাকে যদি কেউ পায়া খেতে দাওয়াত দেয় আমি তা কবূল করব এবং আমাকে যদি কেউ পায়া হাদীয়া দেয়, তবে আমি তা অবশ্যই গ্রহণ করব।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০১ | 4801 | ٤۸۰۱

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৯. শাদী বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে দাওয়াত গ্রহণ করা
৪৮০১।

আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যদি তোমাদেরকে শাদী অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয়, তবে তা গ্রহণ কর।

নাফে বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) এর অভ্যাস ছিল, তিনি রোযাদার হলেও শাদী বা এ ধরণের দাওয়াত পেলে সে দাওয়াত রক্ষা করতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০২ | 4802 | ٤۸۰۲

পরিচ্ছদঃ ২৫০০. বরযাত্রীদের সাথে মহিলা ও শিশুদের অংশগ্রহণ
৪৮০২। আবদুর রহমান ইব’নুল মুবারক (রহঃ) … আনাস ইব’ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, একদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সংখ্যক মহিলা এবং শিশুকে শাদীর অনুষ্ঠান শেষে ফিরে আসতে দেখলেন।

তিনি আনন্দের সাথে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, আমি আল্লা’হর নামে বলছি, তোমরা সকল মানুষের চেয়ে আমার কাছে প্রিয়।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-৩।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০৩ | 4803 | ٤۸۰۳

পরিচ্ছদঃ ২৫০১. যদি কোন অনুষ্ঠানে দীনের খেলাফ বা অপছন্দনীয় কোন কিছু নজরে আসে, তাহলে ফিরে আসবে কি ? ইব’ন মাস ঊদ (রা) কোন এক বাড়ীতে (প্রাণীর) ছবি দেখে ফিরে এলেন।

ইব’ন উমর (রা) আবু আইয়ুব (রা)-কে দাওয়াত করে বাড়িতে আনলেন। তিনি এসে ঘরের দেয়ালের পর্দায় ছবি দেখতে পেলেন। এরপর হযরত ইব’ন উম র (রা) এ ব্যাপারে বললেন, মহিলারা আমাদের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে।

হযরত আবু আইয়ূব (রা) বললেন, আমি যাদের সম্পর্কে আশংকা করেছিলাম, আপনি তাদের মধ্যে হবেন না বলেই মনে করেছিলাম। আল্লাহ’র কসম, আমি আপনার ঘরে কোন খাদ্য গ্রহ ণ করব না । এরপর তিনি চলে গেলেন।

৪৮০৩। ইসমাঈল (রহঃ) … নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি বালিশ বা গদি কিনে এনেছিলাম, যার মধ্যে ছবি ছিল।

যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ছবিটি দেখেলেন, তিনি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে গেলেন; ভিতরে প্রবেশ করলেন না। আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর চোখে এটা অত্যন্ত অপছন্দনীয় ব্যাপার। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আল্লাহর কাছে তওবা করছি এবং তাঁর রাসূলের কাছে ফিরে আসছি।

আমি কী অন্যায় করেছি? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন এই বালিশ কিসের জন্য? আমি বললাম, এটা আপনার জন্য খরিদ করে এনেছি, যাতে আপনি বসতে পারেন এবং হেলান দিতে পারেন।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই ছবি নির্মাতাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি প্রদান করা হবে এবং বলা হবে, যা তুমি সৃষ্টি করেছ তার প্রাণ দাও এবং তিনি আরও বলেন, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে, সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০৪ | 4804 | ٤۸۰٤

পরিচ্ছদঃ ২৫০২. নববধু কর্তৃক শাদী অনুষ্ঠনে খেদমত করা
৪৮০৪।

সাঈদ ইবন আবূ মারয়াম (রহঃ) … সাহাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ উসায়দ আস’সাঈদী (রাঃ) তাঁর ওয়ালীমায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবিগণ কে দাওয়াত দিলেন, তখন তাঁর নববধু উম্মু উসায়দ ছাড়া আর কেউ উক্ত খাদ্য প্রস্তুত এবং পরিবেশন করেনি।

তিনি একটি পাথরের পাত্রে সারা রাত পানির মধ্যে খেজুর ভিজিয়ে বাখেন। যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাওয়া-দাওয়া শেষ করেন, তখন সেই তোহফা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পান করান।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০৫ | 4805 | ٤۸۰۵

পরিচ্ছদঃ ২৫০৩. আন্-নাকী বা অন্যান্য শরবত বা পানীয়, যার মধ্যে মাদক তা নেই। এই রকম শরবত ওয়ালীমাতে পান করানো
৪৮০৫। ইয়াহ্ইয়া ইব’ন বুকায়র (রহঃ) … সাহ’ল ইব’ন সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ উসায়দ আস’সাঈদী (রাঃ) তাঁর ওয়ালীমায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাওয়াত দেন।

তাঁর নববধু সেদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খাদ্য এবং পানীয় পরিবেশন করেন। সাহ’ল (রাঃ) বলেন, তোমরা কি জানো সেই নববধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কি পান করিয়েছেলেন?

তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য একটি পানপাত্রে কিছু খেজুর সারা রাত ধরে ভিজিয়ে রেখেছিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০৬ | 4806 | ٤۸۰٦

পরিচ্ছদঃ ২৫০৪. নারীদের প্রতি সদ্ব্যবহার, আর এই সম্পর্কে নবী (সাঃ) বলেন, নারীরা পাঁজরের হাড়ের মত
৪৮০৬।

আবদুল আযীয ইব’ন আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নারীরা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের ন্যায়।

যদি তোমরা তাকে একেবারে সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। সুতরাং, যদি তোমরা তাদের থেকে লাভবান হতে চাও, তাহলে ঐ বাঁকা অবস্থাতেই লাভবান হতে হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০৭ | 4807 | ٤۸۰۷

পরিচ্ছদঃ ২৫০৫. নারীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার ওসীয়ত
৪৮০৭। ইসহাক ইব’ন নসর (রহঃ) … আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে আল্লাহ এবং আখিরাতের ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন আপন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।

আর তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। কেননা, তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে এবং সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরের ওপরের হাড়।

যদি তুমি তা সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙে যাবে। আর যদি তুমি তা যেভাবে আছে সে ভাবে রেখে দাও তাহলে বাঁকাই থকবে। অতএব, তোমাদেরকে ওসীয়াত করা হল নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার।

বিয়ে-শাদী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)  । পার্ট-৩।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০৮ | 4808 | ٤۸۰۸

পরিচ্ছদঃ ২৫০৫. নারীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার ওসীয়ত
৪৮০৮। নুআয়ম (রহঃ) … ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় আমাদের স্ত্রীদের সাথে কথা-বার্তা ও হাসি-ঠাট্টা থেকে দূরে থাকতাম এই ভয়ে যে, এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক করে কোন ওহী নাযিল হয়ে যায়।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের পর আমরা তাদের সাথে অবাধে কথা-বার্তা ও হাসি-ঠাট্টা করতাম।

 

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০৯ | 4809 | ٤۸۰۹

পরিচ্ছদঃ ২৫০৬. আল্লাহ তা’আলা বলেন, তোমরা নিজ়েকে এবং তোমাদের পরিবারকে দোযখের আগুন থেকে বাঁচাও
৪৮০৯। আবূ নু’মান (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইব’ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক এবং তোমরা প্রত্যেকেই জিজ্ঞাসিত হবে। একজন শাসক সে তার অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।

একজন পুরুষ তার পরিবারের রক্ষক, সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন স্ত্রী তার স্বামীর গৃহের রক্ষক, সে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।

একজন গোলাম তার মনিবের সম্পদের রক্ষক, সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব সাবধান, তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক এবং তোমরা প্রত্যেকেই জিজ্ঞাসিত হবে।

আরও পড়ুনঃ

তাফসীর অধ্যায় – অবশিষ্ট অংশ – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-৪।

তাফসীর অধ্যায় – অবশিষ্ট অংশ – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-৫।

তাফসীর অধ্যায় – অবশিষ্ট অংশ – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-৬।

তাফসীর অধ্যায় – অবশিষ্ট অংশ – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-৭।

তাফসীর অধ্যায় – অবশিষ্ট অংশ – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-৮।

মন্তব্য করুন