বর্গাচাষ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বর্গাচাষ অধ্যায়

 বর্গাচাষ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

Table of Contents

বর্গাচাষ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২১৬৯ – আহারের জন্য ফসল ফলানো এবং ফলবান বৃক্ষ রোপণের ফযীলত।

হাদীস নং ২১৬৯

কুতাইবা ইবনে সাঈদ ও আবদুর রাহমান ইবনে মুবারক রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে কোন মুসলমান ফলবান গাছ রোপণ করে কিংবা কোন ফসল ফলায় আর তা থেকে পাখি কিংবা মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু খায় তবে তা তার পক্ষ থেকে সাদকা বলে গণ্য হবে।

মুসলিম রহ……..আনাস রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২১৭০ – কৃষি যন্ত্রপাতি নিয়ে ব্যস্ত থাকার পরিণতি সম্পর্কে সতর্কীকরণ ও নির্দেশীত সীমা অতিক্রম করা প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ২১৭০

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু উমামা বাহিলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লাঙ্গলের হাল এবং কিছু কৃষি যন্ত্রপাতি দেখে বললেন,

আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি এটা যে সম্প্রদায়ের ঘরে প্রবেশ করে, আল্লাহ সেখানে অপমান প্রবেশ করান। রাবী মুহাম্মদ (ইবনে যিয়াদ রহ.) বলেন, আবু উমামা রা.-এর নাম হল সুদাই ইবনে আজলান।

বুখারি হাদিস নং ২১৭১ – খেত-খামার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কুকুর পোষা।

হাদীস নং ২১৭১

মুআয ইবনে ফাযালা রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি শস্য খেতের পাহাড়া কিংবা পশুর হিফাযতের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে কুকুর পোষে, প্রতিদিন তার নেক আমল থেকে এক কীরাত পরিমাণ কমতে থাকবে।

ইবনে সীরীন ও আবু সালিহ রহ. আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। বকরী অথবা ক্ষেতের হিফাযত কিংবা শিকারের উদ্দেশ্য ছাড়া ।

আবু হাযিম রহ. আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, শিকার ও পশুর হিফাযত করার কুকুর।

বুখারি হাদিস নং ২১৭২

হাদীস নং ২১৭২

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………সুফিয়ান ইবনে আবু যুহাইর রা. থেকে বর্ণিত, যিনি আযদ-শানুআ গোত্রের লোক, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী ছিলেন।

তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এমন কুকুর পোষে যা ক্ষেত ও গবাদী পশুর হিফাযতের কাজে লাগে না, প্রতিদিন তার নেক আমল থেকে এক কীরাত পরিমাণ কমতে থাকে।

আমি বললাম, আপনি কি এটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এ মসজিদের রবের কসম (আমি তাঁর কাছেই শুনেছি)।

 বর্গাচাষ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২১৭৩ – হাল-চাষের কাজে গরু ব্যবহার করা।

হাদীস নং ২১৭৩

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এক ব্যক্তি একটি গরুর উপর সাওয়ার ছিল, তখন গরুটি সে ব্যক্তির দিকে লক্ষ্য করে বলল, আমাকে এ কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি।

আমাকে চাষাবাদ তথা ক্ষেতের কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি আবু বকর ও উমর রা. এটা বিশ্বাস করি।

তিনি আরো বললেন : এক নেকড়ে বাঘ একটি বকরী ধরেছিল, রাখাল তাকে ধাওয়া করল। নেকড়ে বাঘটা তাকে বলল, সেদিন হিংস্র জন্তুর প্রাধান্য হবে, যেদিন আমি ছাড়া কেউ তার রাখাল থাকবে না, সেদিন কে তাকে রক্ষা করবে?

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি আবু বকর ও উমর রা. এটা বিশ্বাস করি। আবু সালামা রা. বলেন, তারা দু’জন (আবু বকর ও উমর রা.) সেদিন মজলিসে হাযির ছিলেন না।

বুখারি হাদিস নং ২১৭৪ – যখন কোন ব্যক্তি বলে যে, তুমি খেজুর ইত্যাদির বাগানে কাজ কর, আর তুমি উৎপাদিত ফলে আমার অংশীদার হও।

হাদীস নং ২১৭৪

হাকাম ইবনে নাফি রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসাররা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আমাদের এবং আমাদের ভাই (মুহাজির)-দের মধ্যে খেজুরের বাগান ভাগ করে দিন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : না। তখন তাঁরা (মুহাজিরগণকে) বললেন, আপনারা আমাদের বাগানে কাজ করুন, আমরা আপনাদেরকে ফলে অংশীদার করব। তাঁরা বললেন, আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম।

বুখারি হাদিস নং ২১৭৫ – খেজুর গাছ ও অন্যান্য গাছ কেটে ফেলা।

হাদীস নং ২১৭৫

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ নাযির গোত্রের বুওয়াইরা নামক (স্থানে অবস্থিত বাগানটির খেজুর গাছ জ্বালিয়ে দিয়েছেন এবং বৃক্ষ কেটে ফেলেছেন।

এ সম্পর্কে হাসসান রা. (তাঁর রচিত কবিতায়) বলেছেন, বুওয়াইরা নামক স্থানে অবস্থিত বাগানটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে আর বনূ লূয়াই গোত্রের সর্দাররা তা সহজে মেনে নিল।

বুখারি হাদিস নং ২১৭৬ – পরিচ্ছেদ ১৪৫১

হাদীস নং ২১৭৬

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ………রাফি ইবনে খাদিজ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনাবাসীদের মধ্যে বেশী যমীন আমাদের ছিল। আমরা ভাগে যমীনে চাষ করতে দিতাম এবং সে ক্ষেতের এক নির্দিষ্ট অংশ জমির মালিকের জন্য নির্ধারিত করে দিতাম।

তিনি বলেন, কখনো এ অংশের উপর দুর্যোগ আসতো, অন্য অংশ নিরাপদ থাকতো।

আবার কখনো অন্য অংশের উপর দুর্যোগ আসতো আর এ অংশ নিরাপদ থাকতো। আমাদের এরূপ করতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছিল। আর সে সময় সোনা রূপার (বিনিময়ে জমি চাষ করার) প্রচলন ছিল না।

বুখারি হাদিস নং ২১৭৭ – অর্ধেক বা এর কাছাকাছি পরিমাণ ফসলের শর্তে ভাগে চাষাবাদ করা।

হাদীস নং ২১৭৭

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারবাসীদের উৎপাদিত ফল বা অর্ধেক ভাগের শর্তে জমি বর্গা দিয়েছিলেন।

তিনি নিজের সহধর্মিণীদেরকে একশ ওসক দিতেন, এর মধ্যে আশি ওসক খুরমা ও বিশ ওসক যব। উমর রা. (তাঁর খিলাফতকালে খায়বারের) জমি বন্টন করেন।

তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীদের ইখতিয়ার দিলেন যে, তাঁরা জমি ও পানি নিবেন, না কি তাদের জন্য ওটাই চালু থাকবে, যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় ছিল।

তখন তাদের কেউ জমি নিলেন আর কেউ ওসক নিতে রাযী হলেন আয়িশা রা. জমিই নিয়েছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২১৭৮ – বর্গাচাষে যদি বছর নির্দিষ্ট না করে।

হাদীস নং ২১৭৮

মুসাদ্দাদ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উৎপাদিত ফল কিংবা ফসলের অর্ধেক শর্তে খায়বরের জমি বর্গা দিয়েছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২১৭৯

হাদীস নং ২১৭৯

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..আমর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তাউস রহ.-কে বললাম, আপনি যদি বর্গাচাষ ছেড়ে দিতেন, (তাহলে খুব ভাল হত) কেননা, লোকদের ধারণা যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিষেধ করেছেন।

তাউস রহ. বললেন, হে আমর ! আমি তো তাদেরকে বর্গাচাষ করতে দিই এবং তাদের সাহায্য করি এবং তাদের মধ্যে সবচাইতে জ্ঞানী অর্থাৎ ইবনে আব্বাস রা. আমাকে বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্গাচাষ নিষেধ করেননি।

তবে তিনি বলেছেন, তোমাদের কেউ তার ভাইকে জমি দান করুক, এটা তার জন্য তার ভাইয়ের কাছ থেকে নির্দিষ্ট উপার্জন গ্রহণ করার চাইতে উত্তম।

 বর্গাচাষ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২১৮০ – ইয়াহুদীদেরকে জমি বর্গা দেওয়া।

হাদীস নং ২১৮০

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের জমি ইয়াহুদীদেরকে এ শর্তে বর্গা দিয়েছিলেন যে, তারা তাঁতে পরিশ্রম করে কৃষি কাজ করবে এবং উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তারা পাবে।

বুখারি হাদিস নং ২১৮১ – বর্গাচাষে যে সব শর্ত করা অপছন্দনীয়।

হাদীস নং ২১৮১

সাদাকা ইবনে ফাযল রহ………রাফি রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনাবাসীদের মধ্যে ফসলের জমি আমাদের বেশী ছিল।

আমাদের মধ্যে কেউ তার জমি ইজারা দিত এবং বলত, জমির এ অংশ আমার আর এ অংশ তোমার। কখনো এক অংশে ফসল হত আর অন্য অংশে হত না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২১৮২ – যদি কেউ অন্যদের মাল দিয়ে তাদের অনুমতি ছাড়া কৃষি কাজ করে এবং তাঁতে তাদের কল্যাণ নিহিত থাকে।

হাদীস নং ২১৮২

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : একবার তিনজন লোক পথ চলছিল, তারা বৃষ্টিতে আক্রান্ত হল।

তারপর তারা এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিল। হঠাৎ পাহাড় থেকে এক খণ্ড পাথর পরে তাদের গুহার মুখ বন্ধ হয়ে গেল। তখন একে অপরকে বলল, নিজেদের কৃত কিছু সৎকাজের কথা চিন্তা করে বের করো, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়েছে এবং তার ওয়াসীলা করে আল্লাহর নিকট দু’আ কর।

তাহলে হয়ত আল্লাহ তোমাদের উপর থেকে পাথরটি সরিয়ে দিবেন। তাদের একজন বলতে লাগল, ইয়া আল্লাহ ! আমার অতিবৃদ্ধ পিতামাতা ছিলেন এবং আমার ছোট ছোট সন্তানও ছিল।

আমি তাদের ভরণ-পোষণের জন্য পশু পালন করতাম। সন্ধ্যায় যখন আমি বাড়ি ফিরতাম তখন দুধ দোহন করতাম। এবং এ দুধ আমার সন্তানদের আগে পিতা-মাতাকে পান করতাম। একদিন দেরি হয় এবং সন্ধ্যা হওয়ার আগে আসতে পারলাম না।

তারপর আমি যখন এলাম তখন তাঁরা দু’জনে ঘুমিয়ে পড়েছেন। তখন আমি দুধ দোহন করলাম যেমন প্রতিদিন দোহন করি। তারপর আমি শিয়রে দাঁড়িয়ে রইলাম। আমি তাদের জাগানো পছন্দ করলাম না এবং তাদের আগে বাচ্চাদের কে পান করানোও অসঙ্গত মনে করি।

অথচ বাচ্চাগুলো আমার পায়ের কাছে পড়ে কান্নাকাটি করছিল। এ অবস্থায়ই ভোর হল। ইয়া আল্লাহ ! তুমি যদি জান তা আমি শুধুমাত্র তোমার সন্তুষ্টি লাভের আশায় করেছিলাম। তাহলে তুমি আমাদের থেকে পাথরটি খানিক সরিয়ে দিন যাতে আমরা আকাশ দেখতে পারি।

বর্ণনাকারী বলেন, তখন আল্লাহ পাক পাথরটি একটু সরিয়ে দিলেন এবং তারা আসমান দেখতে পেল। আরেকজন বলল, ইয়া আল্লাহ ! তুমি জান যে, আমি আমার এক চাচাতো বোনকে এত চরম ভালবাসতাম, যা একজন পুরুষ নারীকে ভালবাসে থাকে।

একদিন আমি তার কাছে চেয়ে বসলাম (অর্থাৎ খারাপ কাজ করতে চাইলাম) কিন্তু সে অস্বীকার করল, যতক্ষণ না আমি তার জন্য একশত দীনার নিয়ে আসি। আমি চেষ্টা করে তা সংগ্রহ করি।

তারপর যখন আমি তার পদদ্বয়ের মাঝে উপবেশন করি, তখন সে বলল, হে আল্লাহর বান্দা, আল্লাহকে ভয় কর। অন্যায়ভাবে মাহর (পর্দা) ছিড়ে দিয়োনা। এতে আমি তাকে ছেড়ে উঠে পড়ি।

(হে আল্লাহ) তুমি যদি জান আমি তা তোমারই সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে করেছি, তবে আমাদের থেকে পাথরটি সরিয়ে দিন। তখন পাথরটি কিছু সরে গেল। তৃতীয় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ ! আমি ফারাক (পরিমাণ) চাউলের বিনিময়ে একজন মজুর রেখেছিলাম।

যখন সে তার কাজ শেষ করল আমাকে বলল, আমার পাওনা দিয়ে দাও। আমি যখন তাকে তা দিতে গেলে সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল।

বর্গাচাষ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

তারপর আমি সে এক ফারাক শস্য দানা দিয়ে চাষ করে ফসল উৎপন্ন করি এবং তা দিয়ে গরু খরিদ করি ও রাখাল নিযুক্ত করি। কিছুকাল পরে সে মজুর এসে বলল আল্লাহকে ভয় কর (আমার মুজরী দাও)।

আমি বললাম, এই গরুগুলো ও রাখাল নিয়ে যাও। সে বলল, আল্লাহকে ভয় কর তুমি আমার সাথে উপহাস করোনা। আমি বললাম, আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না বরং এসব তোমার।

তখন সে তা নিয়ে গেল। হে আল্লাহ ! তুমি যদি জান আমি তা তোমারই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করছি, তবে আমাদের থেকে পাথরের বাকিটুকু সরিয়ে দিন। তখন আল্লাহ পাথরটিকে সরিয়ে দিলেন। আবু আবদুল্লহ রহ. বলেন, ইবনে উকবা রহ. নাফি রহ. فبغيت এর স্থলে فسعيت বর্ণনা করেছেন।

 

বুখারি হাদিস নং ২১৮৩ – মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের ওয়াকফ ও খাজনার জমি এবং তাদের বর্গাচাষ ও চুক্তি ব্যবস্থা।

হাদীস নং ২১৮৩

সাদাকা রহ……….আসলাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. বলেছেন, পরবর্তী যুগের মুসলমানদের বিষয়ে যদি আমরা চিন্তা না করতাম, তবে যে সব এলাকা জয় করা হত, তা আমি মুজাহিদদের মধ্যে বন্টন করে দিতাম, যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার বন্টন করে দিয়েছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২১৮৪ – অনাবাদী জমি আবাদ করা।

হাদীস নং ২১৮৪

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি এমন কোন জমি আবাদ করে, যা কারো মালিকনায় নয়, তাহলে সেই (মালিক হওয়ার) বেশী হকদার। উরওয়া রহ. বলেন, উমর রা. তাঁর খিলাফতকালে এরূপ ফায়সালা দিয়েছিলেন।

 বর্গাচাষ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২১৮৫ – পরিচ্ছেদ ১৪৬০

হাদীস নং ২১৮৫

কুতাইবা রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফার উপত্যকায় শেষরাতে বিশ্রাম করছিলেন।

তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে, তাকে বলা হল, আপনি বরকতময় উপত্যকায় রয়েছেন।

মূসা রহ. বলেন, সালিম আমাদের সাথে সে জায়গাতেই উট বসিয়েছিলেন যেখানে আবদুল্লাহ রা. উট বসাতেন এবং সে জায়গা লক্ষ্য করতেন, যে জায়গায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষরাতে অবতরণ করেছিলেন।

সে জায়গা ছিল উপত্যকায় মধ্যেখানে অবস্থিত মসজিদ থেকে নীচে এবং মসজিদ ও রাস্তার মধ্যখানে।

বুখারি হাদিস নং ২১৮৬

হাদীস নং ২১৮৬

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ…………উমর রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, গতরাতে আমার নিকট আমার রবের দূত এসেছিলেন।

এ সময় তিনি আকীক উপত্যকায় অবস্থান করছিলেন। (এসে) তিনি বললেন, এই মুবারক উপত্যকায় সালাত আদায় করুন, আর তিনি বললেন, হজ্জের সাথে উমরারও থাকবে।

বুখারি হাদিস নং ২১৮৭ – যদি জমির মালিক বলে যে, আমি তোমাকে ততদিন থাকতে দিব যতদিন আল্লাহ তোমাকে রাখেন এবং কোন নির্দিষ্ট সময়ের উল্লেখ করল না। তখন তারা উভয়ে যতদিন রাযী থাকে, ততদিন এ চুক্তি কার্যকর থাকবে।

হাদীস নং ২১৮৭

আহমদ ইবনে মিকদাম ও আবদুর রাযযাক রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব রা. ইয়াহুদী ও নাসারাদের হিজায থেকে নির্বাসিত করেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বার জয় করেন, তখন ইয়াহুদীদের সেখান থেকে বের করে দিতে চেয়েছিলেন। যখন তিনি কোন স্থান জয় করেন, তখন তা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুসলিমদের জন্য হয়ে যায়। কাজেই ইয়াহুদীদের সেখান থেকে বহিষ্কার করে দিতে চাইলেন।

তখন ইয়াহুদীরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুরোধ করল, যেন তাদের সে স্থানে বহাল রাখা হয় এ শর্তে যে, তারা সেখানে চাষাবাদে দায়িত্ব পালন করবে আর ফসলেন অর্ধেক তাদের থাকবে।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন : আমরা এ শর্তে তোমাদের এখানে বহাল থাকতে দিব যতদিন আমাদের ইচ্ছ। কাজেই তারা সেখানে বহাল রইল। অবশেষে উমর রা. তাদেরকে তাইমা ও আরীহায় নির্বাসিত করে দেন।

বুখারি হাদিস নং ২১৮৮ – মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ রা. কৃষিকাজ ও ফল-ফসল উৎপাদনে একে অপরকে সহযোগিতা করতেন।

হাদীস নং ২১৮৮

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ……….যুহাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি কাজ আমাদের উপকারী ছিল, যা করতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিষেধ করলেন।

আমি বললাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, তাই সঠিক। যুহাইর রা. বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা তোমাদের ক্ষেত-খামার নির্দিষ্ট কয়েক ওসাক প্রদানের শর্তে জমি ইজারা দিয়ে থাকি।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা এরূপ করবে না। তোমরা নিজেরা তা চাষ করবে অথবা অন্য কাউকে দিয়ে চাষ করাবে অথবা তা ফেলে রাখবে। রাফি রা. বলেন, আমি শুনলাম ও মেনে নিলাম।

বুখারি হাদিস নং ২১৮৯

হাদীস নং ২১৮৯

উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা রহ……….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা এক-তৃতীয়াংশ, এক-চতূর্থাংশ ও অর্ধেক ফসলের শর্তে বর্গা চাষ করত।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যে ব্যক্তির নিকট জমি রয়েছে, সে যেন নিজে চাষ করে অথবা তা কাউকে দিয়ে দেয়।

যদি তা না করে তবে সে যেন তার জমি ফেলে রাখে। রবী ইবনে নাফি আবু তাওবা রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যার নিকট জমি রয়েছে, সে যেন নিজে চাষ করে অথবা তার ভাইকে দিয়ে দেয়। যদি তা না করতে চায়, তবে সে যেন তার জমি ফেলে রাখে।

বুখারি হাদিস নং ২১৯০

হাদীস নং ২১৯০

কাবীসা রহ……..আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (বর্গাচাষ সম্পর্কিত) এ হাদীসটি তাউস রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, চাষাবাদ করতে দেওয়া হোক।

ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা (বর্গাচাষ) নিষেধ করেননি। তবে তিনি বলেছেন যে,, তোমাদের নিজের ভাইকে জমি দান করে দেওয়া উত্তম, তার কাছ থেকে নির্দিষ্ট কিছু গ্রহণ করার চাইতে।

বর্গাচাষ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২১৯১

হাদীস নং ২১৯১

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে এবং আবু বকর, উমর, উসমান রা. মুআবিয়া রা-এর শাসনের শুরু ভাগে নিজের ক্ষেত বর্গাচাষ করতে দিতেন।

তারপর রাফি ইবনে খাদিজের বর্ণিত হাদীসটি তাঁর নিকট বর্ণনা করা হয় যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষেত ভাগে ইজারা দিতে নিষেধ করেছেন।

তখন ইবনে উমর রা. রাফি রা.-এর নিকট গেলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে গেলাম। তিনি (ইবনে উমর) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি (রাফি রা.) বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষেত ভাগে ইজারা দিতে নিষেধ করেছেন।

তখন ইবনে উমর রা. বললেন, আপনি তো জানেন যে, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় নালার পার্শ্বস্থ ক্ষেতের ফসলের শর্তে এবং কিছু ঘাসের বিনিময়ে আমাদের ক্ষেত ইজারা দিতাম।

বুখারি হাদিস নং ২১৯২

হাদীস নং ২১৯২

ইয়াতহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….সালিম রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেছেন, আমি জানতাম যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় ক্ষেত বর্গাচাষ করতে দেয়া হত।

তারপর আবদুল্লাহ রা.-এর ভয় হল, হয়ত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে এমন কিছু নতুন নির্দেশ দিয়েছেন, যা তাঁর জানা নেই। তাই তিনি ভাগে জমি ইজারা দেওয়া ছেড়ে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২১৯৩ – সোনা-রূপার বিনিময়ে জমি ইজারা দেওয়া।

হাদীস নং ২১৯৩

আমর ইবনে খালিদ রহ……..রাফি ইবনে খাদীজ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে আমার চাচারা বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় লোকেরা নালার পার্শ্বস্থ ফসলের শর্তে কিংবা এমন কিছু শর্তে ভাগে জমি ইজারা দিত, যা ক্ষেতের মালিক নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে নিত।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এরূপ করতে নিষেধ করেন। রাবী বলেন, আমি রাফি রা.-কে বললাম, দীনার ও দিরহামের শর্তে জমি (ইজারা দেওয়া) কেমন ?

রাফি রা. বললেন, দীনার ও দিরহামের বিনিময়ে ইজারা দেওয়াতে কোন দোষ নেই। (লায়ছ রহ. বলেন, আমার মনে হয়, যে বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে, হালাল ও হারাম বিষয়ে বিজ্ঞজনেরা সে সম্পর্কে চিন্তা করলেও তারা তা জায়িয মনে করবেন না।

কেননা, তাঁতে (ক্ষতির) আশংকা রয়েছে। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী রহ.) বলেন, আমার মনে হয় যে, বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে-এখান থেকে লাইছ রহ.-এর উক্তি শুরু হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২১৯৪ – পরিচ্ছেদ ১৪৬৪

হাদীস নং ২১৯৪

মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলছিলেন, তখন তাঁর নিকট গ্রামের একজন লোক বসা ছিল।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন যে, জান্নাতবাসীদের কোন একজন তার রবের কাছে চাষাবাদের অনুমতি চাইবে।

তখন আল্লহ তা’আলা তাকে বললেন, তুমি কি যা চাও, তা পাচ্ছ না? সে বলবে, হ্যাঁ নিশ্চয়ই। কিন্তু আমার চাষ করার খুবই আগ্রহ।।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তখন সে বীজ বুনবে এবং তার চারা হওয়া, গাছ বড় হওয়া ও ফসল কাটা সব কিছু পলকের মধ্যে হয়ে যাবে। আর তা (ফসল) পাহাড় সমান হয়ে যাবে। তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, হে আদম সন্তান !

এ গুলো নিয়ে নাও। কোন কিছুই তোমাকে তৃপ্তি দেয় না। তখন গ্রাম্য লোকটি বলে উঠল, আল্লাহর কসম, এই ধরনের লোক আপনি কুরাইশী বা আনসারদের মধ্যেই পাবেন।

কেননা তাঁরা চাষী। আর আমরা তো চাষী নই। (আমরা পশু পালন করি) এ কথা শুনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেঁসে দিলেন।

বর্গাচাষ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২১৯৫ – বৃক্ষ রোপণ প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ২১৯৫

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জুমুআর দিন আসলে আমরা আনন্দিত হতাম এ জন্য যে, আমাদের (প্রতিবেশী) এক বৃদ্ধা ছিলেন, তিনি আমাদের নালার ধারে লাগানো বীট গাছের মূল তুলে এনে তার ডেকচিতে রাখতেন এবং তার সাথে যবের দানাও মিশাইতেন।

(বর্ণনাকারী বলেন) আমার যতটুকু মনে পড়ে তিনি (সাহল) বলেছেন যে, তাঁতে কোন চর্বি বা তৈলাক্ত কিছু থাকতো না। আমরা জুমুআর সালাতের পর বৃদ্ধার নিকট আসতাম এবং তিনি তা আমাদের সামনে পরিবেশন করতেন।

এ কারণে জুমুআর দিন আমাদের খুব আনন্দ হত। আমরা জুমুআর সালাতের পরই আহার করতাম এবং কায়লুলা (বিশ্রাম) করতাম।

বুখারি হাদিস নং ২১৯৬

হাদীস নং ২১৯৬

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকজন বলে যে, আবু হুরায়রা রা. বেশী হাদীস বর্ণনা করে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছেই সবার প্রত্যাবর্তন।

এবং তারা আরো বলে, মুহাজির ও আনসারদের কি হল যে, তারা আবু হুরায়রা মত এতো হাদীস বর্ণনা করেন না। (আবু হুরায়রা রা. বলেন) আমার মুহাজির ভাইদেরকে বাজারে বেচা-কেনা এবং আনসার ভাইদেরকে তাদের ক্ষেত-খামার ও বাগানের কাজ-কর্ম ব্যতিব্যস্ত রাখত।

আমি ছিলাম একজন মিসকীন লোক। পেটে যা জুটে, খেয়ে না খেয়ে তাতেই তুষ্ট থেকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পড়ে থাকতাম। তাই লোকেরা যখন অনুপস্থিত থাকত, আমি হাযির থাকতাম। লোকেরা যা ভুলে যেত আমি তা স্মরণ রাখতাম।

একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমাদের যে কেউ আমার কথা শেষ হওয়া পর্যন্ত তার চাদর বিছিয়ে রাখবে এবং আমার কথা শেষ হলে চাদরখানা তার বুকের সাথে মিলাবে, তাহলে সে আমার কোন কথা ভুলবে না।

আমি আমার পশমী চাদরটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিছিয়ে রাখলাম। সে চাদর ছাড়া আমার গায়ে আর কোন চাদর ছিল না।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কথা শেষ হওয়ার পর আমি তা আমার বুকের সাথে মিলালাম। সে সত্তার কসম, যিনি তাকে সত্য দিয়ে প্রেরণ করেছেন, আজ পর্যন্ত আমি তাঁর একটি কথাও ভুলিনি। আল্লাহর কসম !

যদি আল্লাহর কিতাবের এ দুটি আয়াত না থাকত, তবে আমি কখনো তোমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করতাম না। (তা এই) “যারা আমার নাযিলকৃত নিদর্শনসমূহ গোপন করে………….আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু” পর্যন্ত।

আরও পড়ুনঃ

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

মন্তব্য করুন