বন্ধক অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বন্ধক অধ্যায়

বন্ধক অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বন্ধক অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৪৩ – আবাসে থাকা অবস্থায় বন্ধক রাখা।

হাদীস নং ২৩৪৩

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যবের বিনিময়ে তাঁর বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন।

আমি একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে যবের রুটি এবং দুর্গন্ধযুক্ত চর্বি নিয়ে গেলাম, তখন তাকে বলতে শুনলাম, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পরিবার পরিজনের কাছে কোন সকাল বা সন্ধ্যায় এক সা’ এর অতিরিক্ত (কোন খাদ্য) দ্রব্য থাকে না।

(আনাস রা. বলেন) সে সময়ে তারা মোট নয় ঘর (নয় পরিবার) ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৩৪৪ – নিজ বর্ম বন্ধক রাখা।

হাদীস নং ২৩৪৪

মুসাদ্দাদ রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ইয়াহুদীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট মিয়াদে খাদ্যশস্য খরিদ করেন এবং নিজের বর্ম তার কাছে বন্ধক রাখেন।

বন্ধক অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৪৫ – অস্ত্র বন্ধক রাখা।

হাদীস নং ২৩৪৫

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : কা’আব ইবনে আশরাফকে হত্যা করার দায়িত্ব কে নিতে পারবে?

আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সে তো কষ্ট দিয়েছে। মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা রা. তখন বললেন, আমি । পরে তিনি তার কাছে গিয়ে বললেন, আমরা তোমার কাছে এক ওসাক অথবা দুই ওসাক (খাদ্য) ধার চাচ্ছি। সে বলল, তোমাদের মহিলাদেরকে আমার কাছে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন : তুমি হলে আরবের সেরা সুন্দর ব্যক্তি।

তোমার কাছে কিভাবে মহিলাদের বন্ধক রাখতে পারি? সে বলল, তাহলে তোমাদের সন্তানদের আমার কাছে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, কিভাবে সন্তানদের তোমার কাছে বন্ধক রাখি।

পরে এই বলে তাদের নিন্দা করা হবে যে, দু’ এক ওসাকের জন্য তারা বন্ধক ছিল, এটা আমাদের জন্য হবে বিরাট কলংক। তার চেয়ে বরং আমরা তোমার কাছে আমাদের অস্ত্র বন্ধক রাখতে পারি।

রাবী সুফিয়ান রহ. ‘আল-লামাতু’ অর্থ করেছেন অস্ত্র। তারপর তিনি তাকে পরে আসার প্রতিশ্রুতি দিলেন এবং (পরে এসে) তাকে হত্যা করলেন এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৩৪৬ – বন্ধক রাখা প্রাণীর উপর আরোহণ করা যায় এবং দুধ দোহন করা যায়।

হাদীস নং ২৩৪৬

আবু নুআইম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : বন্ধকী প্রাণীর উপর তার খরচ পরিমাণ আরোহণ করা যাবে। তদ্রূপ দুধেল প্রাণী বন্ধক থাকলে (খরচ পরিমাণ) তার দুধ পান করা যাবে।

বন্ধক অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৪৭

হাদীস নং ২৩৪৭

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ…….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : বাহনের পশু বন্ধক থাকলে তার খরচের পরিমাণে তাঁতে আরোহণ করা যাবে।

তদ্রুপ দুধেল প্রাণী বন্ধক থাকলে তার খরচের পরিমাণে দুধ পান করা যাবে। (মোট কথা) আরোহণকারী এবং দুধ পানকারীকেই খরচ বহন করতে হয়।

বুখারি হাদিস নং ২৩৪৮ – ইয়াহুদী ও অন্যান্যদের কাছে বন্ধক রাখা।

হাদীস নং ২৩৪৮

কুতাইবা রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ইয়াহুদী থেকে কিছু খাদ্যদ্রব্য কিনেছিলেন এবং তার কাছে নিজের বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৩৪৯ – বন্ধকদাতা ও বন্ধক গ্রহীতার মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে বা অনুরূপ কোন কিছু হলে বাদীর দায়িত্ব সাক্ষী পেশ করা আর বিবাদীর কসম করা।

হাদীস নং ২৩৪৯

খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ফায়সালা দিয়েছেন যে, (বাদী সাক্ষী পেশ করতে ব্যর্থ হলে) কসম করা বিবাদীর কর্তব্য।

বন্ধক অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৫০

হাদীস নং ২৩৫০

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……..আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মিথ্যা কসম করে যে ব্যক্তি অর্থ-সম্পদ হস্তগত করে সে (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে এ অবস্থায় যে, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন।

তারপর আল্লাহ তা’আলা (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর) উক্ত বাণী সমর্থন করে আয়াত নাযিল করলেন : “নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে………..মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে।

(৩:৭৭) (রাবী বলেন) পরে আশআস ইবনে কায়স রা. আমাদের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, আবু আবদুর রাহমান (ইবনে মাসউদ) তোমাদের কি হাদীস শুনালেন (রাবী বলেন) আমরা তাকে হাদীসটি শুনালে তিনি বললেন, তিনি নির্ভুল হাদীস শুনিয়েছেন। আমাকে কেন্দ্র করেই তো আয়াতটি নাযিল হয়েছিল।

কুয়া (এর মালিকানা) নিয়ে আমার সাথে এক লোকের ঝগড়া চলছিলো। পরে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে বিরোধটি উত্থাপন করলাম।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাকে বললেন, তুমি দুজন সাক্ষী উপস্থিত করবে, নতুবা সে হলফ করবে। আমি বললাম, তবে তো নির্দ্বিধায় হলফ করে বসবে।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যে ব্যক্তি মিথ্যা হলফ করে অর্থ-সম্পদ হস্তগত করবে, সে (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে এ অবস্থায় যে, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন। তিনি (আশআস) বলেন, তখন আল্লাহ তা’আলা এর সমর্থনে আয়াত নাযিল করলেন।

তারপর তিনি (আশআস) إن الذين يشترون بعهد الله الآية এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন।

আরও পড়ুনঃ

ওয়াকালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

যামিন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

মন্তব্য করুন