ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-১।

ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায়

ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)

Table of Contents

ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-১।

বুখারি হাদিস নং ৪৬১৪ – ওহী কিভাবে নাযিল হয় এবং সর্বপ্রথম কোন আয়াত নাযিল হয়েছিল।

হাদীস নং ৪৬১৪ – ওহী কিভাবে নাযিল হয় এবং সর্বপ্রথম কোন আয়াত নাযিল হয়েছিল।

উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা রহ………..আবু সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়েশা রা. ও ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেন।

এ সময় তাঁর প্রতি কুরআন নাযিল হয়েছে এবং মদীনাতেও তিনি দশ বছর অবস্থান করেন (এ সময়ও তাঁর প্রতি দশ বছর কুরআন নাযিল হয়েছে)।

বুখারি হাদিস নং ৪৬১৫

হাদীস নং ৪৬১৫

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………….আবু উসমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে অবগত করা হয়েছে যে, একদা জিবরাঈল আ. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর কাছে আগমন করলেন।

তখন উম্মে সালামা রা .তাঁর কাছে ছিলেন। জিবরাঈল আ. তাঁর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সালামা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইনি কে?

অথবা তিনি এ ধরনের কোন কথা জিজ্ঞাসা করলেন। উম্মে সালামা রা. বললেন, ইনি দাহইয়া রা.। তারপর জিবরাঈল আ. উঠে দাঁড়ালেন।

তিনি বললেন , আল্লারহ কসম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণে জিবরাঈল আ.-এর খবর না শুনা পর্যন্ত আমি তাকে সে দাহইয়া রা.-ই মনে করেছি। অথবা তিনি (রাবী) অনুরূপ কোন কথা বর্ণনা করেছেন।

রাবী মুতামির রহ. বলেন, আমার পিতা সুলাইমান বলেছেন, আমি উসমান রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কার থেকে এ ঘটনা শুনেছেন? তিনি বললেন উসামা ইবনে যায়েদের কাছ থেকে।

বুখারি হাদিস নং ৪৬১৬

হাদীস নং ৪৬১৬

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক নবীকে তাঁর যুগের চাহিদা মুতাবিক কিছু মুজিযা দান করা হয়েছে, যা দেখে লোকেরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে।

আমাকে যে মুজিযা দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে, ওহী –যা আল্লাহ পাক আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং আমি আশা করি, কিয়ামতের দিন তাদের অনুসারীদের তুলনায় আমার অনুসারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হবে।

বুখারি হাদিস নং ৪৬১৭

হাদীস নং ৪৬১৭

আমর ইবনে মুহাম্মদ রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর প্রতি ধারাবাহিকভাবে ওহী নাযিল করতে থাকেন এবং তাঁর ইন্তিকালের নিকটবর্তী সময়ে আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি সর্বাধিক পরিমাণ ওহী নাযিল করেন। এরপর তিনি ওফাত প্রাপ্ত হন।

বুখারি হাদিস নং ৪৬১৮

হাদীস নং ৪৬১৮

আবু নুআইম রহ……….জুনদুব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ফলে এক কি দু’রাত তিনি উঠতে পারেননি।

জনৈকা মহিলা তাঁর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মদ ! আমার মনে হয়, তোমার শয়তান তোমাকে পরিত্যাগ করেছে। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন, “শপথ পূর্বাহ্নের, শপথ রজনীর, যখন তা হয় নিঝুম। তোমার প্রতিপালক তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি বিরূপও হননি”।

বুখারি হাদিস নং ৪৬১৯ – কুরআন কুরাইশ এবং আরবদের ভাষায় নাযিল হয়েছে।

হাদীস নং ৪৬১৯ – কুরআন কুরাইশ এবং আরবদের ভাষায় নাযিল হয়েছে।

আবুল ইয়ামান রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,উসমান রা. যায়েদ ইবনে সাবিত রা., সাঈদ আস রা., আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. এবং আবদুর রহমান ইবনে হারিস ইবনে হিশাম রা.-কে পবিত্র কুরআন গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করার জন্য নির্দেশ দিলেন এবং তাদেরকে বললেন, আল কুরআনের কোন শব্দের আরবী হওয়ার ব্যাপারে যায়েদ ইবনে সাবিতের সঙ্গে তোমাদের মতবিরোধ হলে তোমরা তা কুরাইশদের ভাষাষ লিপিবদ্ধ করবে।

কারণ, কুরআন তাদের ভাষায় নাযিল হয়েছে। অতএব তাঁরা তা-ই করলেন।

ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)

বুখারি হাদিস নং ৪৬২০

হাদীস নং ৪৬২০

আবু নুআইম রহ………..ইয়ালা ইবনে উমাইয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, হায়! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওহী নাযিল হওয়ার সময় যদি তাকে দেখতে পারতাম।

যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিরিররানা নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন এবং চাঁদোয়া দিয়ে তাঁর উপর ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন কতিপয় সাহাবী। এমতাবস্থায় সুগন্ধি মেখে এক ব্যক্তি এলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল।

ঐ সম্পর্কে আপনার মত কী, যে সুগন্ধি মেখে জুব্বা পরে ইহরাম বেঁধেছে? কিছু সময়ের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা করলেন, এমনি সময় ওহী এল। উমর রা. ইয়ালা রা.-কে ইশারা দিয়ে ডাকলেন। ইয়ালা রা. এলেন এবং তাঁর মাথা ঐ চাদরের ভেতর ঢোকালেন।

দেখলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ রক্তিম বণৃ এবং কিছু সময়ের জন্য অত্যন্ত জোরে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করছেন।

তারপর তাঁর থেকে এ অবস্থা সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হওয়ার পর তিনি বললেন, প্রশ্নকারী কোথায়? যে কিছুক্ষণ পূর্বে আমাকে উমরা সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল।

লোকটিকে তালাশ করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর কাছে নিয়ে আসা হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে সুগন্ধি তুমি তোমার শরীরে মেখেছ, তা তিনবার ধুয়ে ফেলবে আর জুব্বাটি খুলে ফেলবে।

তারপর তুমি তোমার উমরাতে ঐ সমস্ত অনুষ্ঠান পালন করবে, যা তুমি হজ্বের মধ্যে করে থাক।

বুখারি হাদিস নং ৪৬২১ – কুরআন সংকলন।

হাদীস নং ৪৬২১ – কুরআন সংকলন।

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..যায়েদ ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়ামামার যুদ্ধে বহু লোক শহীদ হবার পর আবু বকর সিদ্দীক রা. আমাকে ডেকে পাঠালেন। এ সময় উমর রা.-ও তাঁর কাছে উপস্থিত ছিলেন।

উমর রা. আমার কাছে এসে বলেছেন, ইয়ামামার যুদ্ধে শাহাদত প্রাপ্তদের মধ্যে ক্বারীদের সংখ্যা অনেক। আমি আশংকা করছি, এমনিভাবে যদি ক্বারীগণ শহীদ হয়ে যান, তাহলে কুরআন শরীফের বহু অংশ হারিয়ে যাবে। অতএব আমি মনে করি যে, আপনি কুরআন সংকলনের নির্দেশ দিন।

উত্তরে আমি উমর রা-কে বললাম, যে কাজ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেন নি, সে কাজ তুমি কিভাবে করবে? উমর রা. এর জবাবে বললেন, আল্লাহর কসম, এটা একটা উত্তম কাজ।

উমর রা. এ কথাটি আমার কাছে বার বার বলতে থাকলে অবশেষে আল্লাহ তায়ালা এ কাজের জন্য আমার বক্ষকে প্রশস্ত করে দিলেন এবং এ বিষয়ে উমর যা ভাল মনে করলেন আমিও তাই করলাম।

যায়েদ রা. বলেন, আবু বকর সিদ্দীক রা. আমাকে বললেন, তুমি একজন বুদ্ধিমান যুবক। তোমার ব্যাপারে আমার কোন সংশয় নেই । অধিকন্তু তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওহীর লেখক ছিলে। সুতরাং তুমি কুরআন শরীফের অংশগুলোকে তালাশ করে একত্রিত কর।

আল্লাহর শপথ ! তারা যদি আমাকে একটি পাহাড় এক স্থান হতে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিত, তাহলেও তা আমার কাছে কুরআন সংকলনের নির্দেশের চাইতে কঠিন বলে মনে হত না। আমি বললাম, যে কাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি, আপনারা সে কাজ কিভাবে করবেন?

তিনি বললেন, আল্লাহর কসম ! এটা একটা কল্যাণকার কাজ। এ কথাটি আবু বকর সিদ্দীক রা. আমার কাছে বার বার বলতে থাকেন, অবশেষে আল্লাহ পাক আমার বক্ষকে প্রশস্ত ও প্রসন্ন করে দিলেন সে কাজের জন্য, যে কাজের জন্য তিনি আবু বকর এবং উমর রা.-এর প্রশস্ত ও প্রসন্ন করে দিয়েছিলেন।

এরপর আমি কুরআন অনুসন্ধান কাজে আত্মনিয়োগ করলাম এবং খেজুর পাতা, প্রস্তরখণ্ড ও মানুষের বক্ষ থেকে আমি তা সংগ্রহ করতে থাকলাম।

এমনকি আমি সূরা তওবার শেষাংশ আবু খুযায়মা আনসারী রা. থেকে সংগ্রহ করলাম। এ অংশটুকু তিনি ব্যতীত আর কারো কাছে আমি পাইন। আয়তগুলো হচ্ছে এই : তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের কাছ এক রাসূল এসেছে। তোমাদের যা বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক।

সে তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। এরপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বল, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই।

আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তিনি মহা আরশের অধিপতি। (১২৮-১২৯) তারপর সংকলিত সহীফাসমূহ মৃত্যু পর্যন্ত আবু বকর রা.-এর কাছে সংরক্ষিত ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর তা উপর রা.-এর কাছে সংরক্ষিত ছিল , যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন। এরপর তা উমর –তনয়া হাফসা রা.-এর কাছে সংরক্ষিত ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৪৬২২

হাদীস নং ৪৬২২

মূসা রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রা. একবার উসমান রা.-এর কাছে এলেন।

এ সময় তিনি আরমিনিয়া ও আযারবাইজান বিজয়ের ব্যাপারে সিরীয় ও ইরাকী যোদ্ধাদের জন্য রণ-প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কুরআন পাঠে তাদের মতবিরোধ হযযায়ফাকে ভীষণ চিন্তিত করল। সুতরাং তিনি উসমান রা. কে বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন ! কিতাব সম্পর্কে ইহুদী ও নাসারাদের মত মতপার্থক্যে লিপ্ত হবার পূর্বে এই উম্মতকে রক্ষা করুন।

তারপর উসমান রা. হাফসা রা.-এর কাছে জনৈক ব্যক্তিকে এ বলে পাঠালেন যে, আপনার কাছে সংরক্ষিত কুরআনে সহীফাসমূহ আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন, যাতে আমরা সেগুলোকে পরিপূর্ণ মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ করতে পারি। এরপর আমরা তা আপনার কাছে ফিরিয়ে দেব।

হাফসা রা. তখন সেগুলো উসমান রা.-এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর উসমান রা. যায়েদ ইবনে সাবিত রা. , আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা., সাঈদ ইবনে আস রা. এবং আবদুর রহমান ইবনে হারিস ইবনে হিশাম রা.-কে নির্দেশ দিলেন।

তাঁরা মাসহাফে তা লিপিবদ্ধ করলেন। এ সময় হযরত উসমান রা. তিনজন কুরাইশী ব্যক্তিকে বললেন, কুরআনের কোন বিষয়ে যদি যায়েদ ইবনে সাবিতের সঙ্গে তোমাদের মতপার্থক্য দেখা দেয়, তাহলে তোমরা তা কুরাইশদের ভাষায় লিপিবদ্ধ করবে। কারণ, কুরআন তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তাঁরা তাই করলেন।

যখন মূল লিপিগুলো থেকে কয়েকটি পরিপূর্ণ গ্রস্থ লিপিবদ্ধ হয়ে গেল, তখন উসমান রা. মূল লিপিগুলো হাফসা রা-এর কাছে ফিরিয়ে দিলেন।

তারপর তিনি কুরআনের লিখিত মাসহাফ –সমূহের এক একখানা মাসহাফ এক এক প্রদেশে পাঠিয়ে দিলেন এবং এতদভিন্ন আলাদা আলাদা বা একত্রে সন্নিবেশিত কুরআনের যে কপিসমূহ রয়েছে তা জ্বালিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন।

ইবনে শিহাব রহ. খারিজা ইবনে যায়েদ ইবনে সাবিতের মধ্যমে যায়েদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমরা যখন গ্রন্থাকারে কুরআন লিপিবদ্ধ করছিলাম তখন সূরা আহযাবের একটি আয়াত আমার থেকে হারিয়ে যায়, অথচ আমি তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে পাঠ করতে শুনেছি।

তাই আমরা অনুসন্ধান করতে লাগলাম। অবশেষে আমরা তা খুযায়মা ইবনে সাবিত আনসাসী রা.-এর কাছে পেলাম। আয়াতটি হচ্ছে এই “মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সঙ্গে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে, তাদের কেউ কেউ শাহাদত বরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে।

তাঁরা তাদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করেনি”। (৩৩: ২৩) তারপর আমরা এ আয়াতটি সংশ্লিষ্ট সূরার সাথে মাসহাফে লিপিবদ্ধ করলাম।

ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)

বুখারি হাদিস নং ৪৬২৩ – নবী (সা.) এর কাতিব।

হাদীস নং ৪৬২৩ – নবী (সা.) এর কাতিব।

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……..যায়েদ ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,আবু বকর রা. আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওহী লিখতে।

সুতরাং তুমি কুরআনের আয়াতগুলো অনুসন্ধান কর। এরপর আমি অনুসন্ধান করলাম। শেষ পর্যন্ত সূরা তাওবার শেষ দুটো আয়াত আমি আবু খুযায়মা আনসারী রা.-এর কাছে গেলাম।

তিনি ব্যতীত আর কারো কাছে আমি এর সন্ধান পায়নি। আয়াত দুটো হচ্ছে এই : “তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের কাছে এক রাসূল এসেছে।

তোমাদের যা বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক। সে তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি সে দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। তারপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বলবে, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।

তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তিনি মহা আরশের অধিপতি”। (৯: ১২৮:১২৯)

বুখারি হাদিস নং ৪৬২৪

হাদীস নং ৪৬২৪

উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা রহ………..বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, لايستوى القاعدون من المؤمنين والمجاهدون في سبيل الله আয়াতটি নাযিল হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যায়েদকে আমার কাছে ডেকে আন এবং তাকে বল যে যেন কাষ্ঠখণ্ড, দোয়াত এবং কাঁধের হাড় রাবী বলেন, অথবা তিনি বলেছেন, কাঁধের হাড় এবং দোয়াত নিয়ে আসে।

এরপর তিনি বললেন, লিখ لا يستوى। এ সময় অন্ধ সাহাবী আমর ইবনে উম্মে মাকতুম রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে বসা ছিলেন।

তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি তো অন্ধ, আমার ব্যাপারে আপনার কি নির্দেশ ?

এ কথার প্রেক্ষিতে পূর্বোক্ত আয়াতের পরিবর্তে নাযিল হল: “মুমিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয়, অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয়”।(৪: ৯৫)

বুখারি হাদিস নং ৪৬২৫ – কুরআন সাত উপ (আঞ্চলিক) ভাষায় নাযিল হয়েছে।

হাদীস নং ৪৬২৫ – কুরআন সাত উপ (আঞ্চলিক) ভাষায় নাযিল হয়েছে।

সাঈদ ইবনে উফাইর রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জিবরাঈল আ. আমাকে একভাবে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন।

এরপর আমি তাকে অন্যভাবে পাঠ করার জন্য অনুরোধ করতে লাগলাম এবং পুনঃ পুনঃ অন্যভাবে পাঠ করার জন্য অব্যাহতভাবে অনুরোধ করতে থাকলে তিনি আমার জন্য পাঠ পদ্ধতি বাড়িয়ে যেতে লাগলেন।

অবশেষে তিনি সাত উপ (আঞ্চলিক) ভাষায় তিলাওয়াত করে সমাপ্ত করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৪৬২৬

হাদীস নং ৪৬২৬

সাঈদ ইবনে উফাইর রহ……….উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হিশাম ইবনে হাকীম রা.-কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় সূরা ফুরকান তিলাওয়াত করতে শুনেছি এবং গভীর মনোযোগ সহকারে আমি তাঁর কিরআত শুনেছি।

তিনি বিভিন্নভাবে কিরাআত পাঠ করেছেন; অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এভাবে শিক্ষা দেননি। এ কারণে সালাতের মাঝে আমি তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য উদ্যত হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু বড় কষ্টে নিজেকে সামলে নিলাম।

তারপর সে সালাম ফিরালে আমি চাদর দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরলাম এবং জিজ্ঞাসা করলাম, তোমাকে এ সূরা যেভাবে পাঠ করতে শুনলাম, এভাবে তোমাকে কে শিক্ষা দিয়েছে? সে বলল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই আমাকে এভাবে শিক্ষা দিয়েছেন।

আমি বললাম, তুমি মিথ্যা বলছ। কারণ, তুমি যে পদ্ধতিতে পাঠ করেছ, এর থেকে ভিন্ন পদ্ধতিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন।

এরপর আমি তাকে জোর করে টেনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে গেলাম এবং বললাম, আপনি আমাকে সূরা ফুরকান যে পদ্ধতিতে পাঠ করতে শিখিয়েছেন এ লোককে আমি এর থেকে ভিন্ন পদ্ধতিতে তা পাঠ করতে শুনেছি।

এ কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। হিশাম, তুমি পাঠ কর শোনাও। তারপর সে সেভাবেই পাঠ করে শোনাল, যেভাবে আমি তাকে পাঠ করতে শুনেছি।

তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এভাবেই নাযিল করা হয়েছে। এরপর বললেন, হে উমর ! তুমিও পড়। সুতরাং আমাকে তিনি যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন, সেভাবেই আমি পাঠ করলাম।

এবারও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এভাবেও কুরআন নাযিল করা হয়েছে। এ কুরআন সাত উপ (আঞ্চলিক) ভাষায় নাযিল করা হয়েছে। সুতরাং তোমাদের জন্য যা সহজতর, সে পদ্ধতিতেই তোমরা পাঠ কর।

ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)

বুখারি হাদিস নং ৪৬২৭ – কুরআন সংকলন ও সুবিন্যস্তকরণ।

হাদীস নং ৪৬২৭ – কুরআন সংকলন ও সুবিন্যস্তকরণ।

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………ইউসুফ ইবনে মাহিক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা.-এর কাছে ছিলাম। এমতাবস্থায় ইরাকী ব্যক্তি এসে তাকে জিজ্ঞাসা করল: কোন্ ধরনের কাফন শ্রেষ্ঠ?

তিনি বললেন, আফসোস তোমার প্রতি ! এতে তোমার কি ক্ষতি? তারপর লোকটি বলল, হে উম্মুল মুমিনীন ! আমাকে আপনি আপনার কুরআন শরীফের কপি দেখান।

তিনি বললেন, কেন? লোকটি বলল, এ তরতীবে কুরআন শরীফকে বিন্যস্ত করার জন্য। কারণ লোকেরা তাকে অবিন্যস্তভাবে পাঠ করে। আয়েশা রা. বললেন, তোমরা এর যে অংশই আগে পাঠ কর না কেন, এতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। মুফাসসাল সূরাসমূহের মাঝে প্রথমত ঐ সূরাগুলো অবতীর্ণ হয়েছে। যার মধ্যে জান্নাত ও জাহান্নামের উল্লেখ রয়েছে।

তারপর যখন লোকেরা দলে দলে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে লাগল তখন হালাল-হারামের বিধান সম্বলিত সূরাগুলো নাযিল হয়েছে।

যদি সূচনাতেই এ আয়াত নাযিল হত যে, তোমরা মদ পান করো না, তাহলে লোকেরা বলত, আমরা কখনো মদপান ত্যাগ করব না। যদি শুরুতেই নাযিল হতো তোমরা ব্যভিচার করো না, তাহলে তারা বলত আমরা কখনো অবৈধ যৌনাচার বর্জন করব না।

আমি যখন খেলাধূলার বয়সী একজন বালিকা তখন মক্কায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি নিম্নলিখিত আয়াতগুলো নাযিল হয়: بل الساعة موعدهم الساعة أدهى وأمرমানে, “অধিকন্তু কিয়ামত তাদের শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং কিয়ামত হবে কঠিনতর ও তিক্ততর”।

বিধান সম্বলিত সূরা বাকারা ও সূরা নিসা আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে থাকাকালীন অবস্থায় নাযিল হয়। রাবী বলেন, এরপর আয়েশা রা. তাঁর কাছে সংরক্ষিত কুরআনের কপি বের করলেন এবং সূরাসমূহ লেখালেন।

বুখারি হাদিস নং ৪৬২৮

হাদীস নং ৪৬২৮

আদম রহ………..ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি সূরা বনী ইসরাঈল, সূরা কাহফ, সূরা মরিয়ম, সূরা তাহা এবং সূরা আম্বিয়া সম্পর্কে বলতেন যে, এগুলো হচ্ছে সূরাসমূহের মাঝে উন্নত এবং এগুলো ইসলামের প্রাথমিক যুগে অবতীর্ণ হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৪৬২৯

হাদীস নং ৪৬২৯

আবুল ওয়ালীদ রহ……….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আসার পূর্বে আমি سبخ اسم ربك الأعلىসূরাটি শিখেছি।

বুখারি হাদিস নং ৪৬৩০

হাদীস নং ৪৬৩০

আবদান রহ………আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সমপর্যায়ের ঐ সূরাগুলো সম্পর্কে আমি খুব অবগত আছি, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাকআতে জোড়া জোড়া পাঠ করতেন।

তারপর আবদুল্লাহ রা. দাঁড়ালেন এবং আলকামা রা. তাকে অনুসরণ করলেন। যখন আলকামা রা. বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলেন তখন আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন, এগুলো হচ্ছে মোট বিশটি সূরা, ইবনে মাসউদ রা.-এর সংকলন মুতাবিক মুফাসসাল থেকে যার শুরু এবং যার শেষ হচ্ছে حواميم অর্থাৎ ‘হামীম’ ‘আদদুখান’ এবং ‘আম্মা ইয়াতাসা আলূন’।

বুখারি হাদিস নং ৪৬৩১ – জিবরাঈল (আ.) নবী (সা.)এর সাথে কুরআন শরীফ দাওর করতেন।

হাদীস নং ৪৬৩১ – জিবরাঈল (আ.) নবী (সা.)এর সাথে কুরআন শরীফ দাওর করতেন।

ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণের কাজে ছিলেন সবচেয়ে বেশি দানশীল, বিশেষভাবে রমযান মাসে।

(তাঁর দানশীলতার কোন সীমা ছিল না) কেননা, রমযান মাসের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাত্রে জিবরাঈল আ. তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তিনি তাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন।

যখন জিবরাঈল আ. তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি কল্যাণের ব্যাপারে প্রবহমান বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল হতেন।

বুখারি হাদিস নং ৪৬৩২

হাদীস নং ৪৬৩২

খালিদ ইবনে ইয়াযীদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রতি বছর জিবরাঈল আ. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে একবার কুরআন শরীফ দাওর করতেন।

কিন্তু যে বছর তিনি ওফাত লাভ করেন সে বছর তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে দুবার দাওর করেন। প্রতি বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে দশ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু যে বছর তিনি ওফাত লাভ করেন সে বছর তিনি বিশ দিন ই’তিকাফ করেন।

ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)

বুখারি হাদিস নং ৪৬৩৩ – রাসূল (সা.)এর যে সব সাহাবী ক্বারী ছিলেন।

হাদীস নং ৪৬৩৩ – রাসূল (সা.)এর যে সব সাহাবী ক্বারী ছিলেন।

হাফস ইবনে উমর রহ………..মাসরূক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আমর আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, আমি তাকে ঐ সময় থেকে ভালবাসি, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি যে, তোমরা চার ব্যক্তি থেকে কুরআন শিক্ষা কর-আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা., সালিম রা., মুআয রা. এবং উবায় ইবনে কাব রা.।

বুখারি হাদিস নং ৪৬৩৪

হাদীস নং ৪৬৩৪

উমর ইবনে হাফস রহ……….শাকীক ইবনে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন এবং বললেন, আল্লাহর শপথ।

সত্তরেরও কিছু অধিক সূরা আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখ থেকে হাসিল করেছি। আল্লাহর কসম ! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীরা জানেন, আমি তাদের চাইতে আল্লাহর কিতাবে সম্বন্ধে সর্বাধিক জ্ঞাত; অথচ আমি তাদের চাইতে উত্তম নই।

শাকীক রহ. বলেন, সাহাবীগণ তাঁর বক্তব্য শুনে কি বলেন এ কথা শোনার জন্য আমি মসলিশে বসেছি, কিন্তু আমি কাউকে তার বক্তব্যে কোন আপত্তি উত্থাপন করতে শুনিনি।

বুখারি হাদিস নং ৪৬৩৫

হাদীস নং ৪৬৩৫

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……….আলকামা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হিমস শহরে ছিলাম। এ সময় ইবনে মাসউদ রা. সূরা ইউসুফ তিলাওয়াত করলেন।

তখন এক ব্যক্তি বললেন, এ সূরা এ ভাবে নাযিল হয়নি। এ কথা শুনে ইবনে মাসউদ রা. বললেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এ সূরা তিলাওয়াত করেছি। তিনি বলেছেন, তুমি সুন্দরভাবে পাঠ করেছ।

এ সময় তিনি ঐ লোকটির মুখ থেকে মদের গন্ধ পেলেন। তাই তিনি তাকে বললেন, তুমি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলা এবং মদ পান করার মত জঘন্যতম অপরাধ এক সাথে করছ? এরপর তিনি তার উপর হদ জারি করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৪৬৩৬

হাদীস নং ৪৬৩৬

উমর ইবনে হাফস রহ………..মাসরূক রহ. থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ রা. বলেন, আল্লাহর কসম ! যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আল্লাহর কিতাবের অবতীর্ণ প্রতিটি সূরা সম্পর্কে আমি জানি যে, তা কোথায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং প্রতিটি আয়াত সম্পর্কে আমি জানি যে, তা কর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।

আমি যদি জানতাম যে, কোন ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আমার চাইতে অধিক জ্ঞাত এবং সেখানে উট গিয়ে পৌঁছতে পারে, তাহলে সাওয়ার হয়ে আমি সেখানে গিয়ে পৌঁছতাম।

বুখারি হাদিস নং ৪৬৩৭

হাদীস নং ৪৬৩৭

হাফস ইবনে উমর রহ………কাতাদা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় কে কে কুরআন সংগ্রহ করেছেন?

তিনি বললেন, চারজন এবং তাঁরা চারজনই ছিলেন আনসারী সাহাবী। তাঁরা হলেন: উবায় ইবনে কাব রা., মুআয ইবনে জাবাল রা., যায়েদ ইবনে সাবিত রা. এবং আবু যায়েদ রা.। (অন্য সনদে) ফাদল রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে অনুরূপ বর্ণনা করছেন।

বুখারি হাদিস নং ৪৬৩৮

হাদীস নং ৪৬৩৮

মুআল্লা ইবনে আসাদ রহ……..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন। তখন চার ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ কুরআন সংগ্রহ করেননি।

তাঁরা হলেন আবুদ দারদা রা., মুআয ইবনে জাবাল রা., যায়েদ ইবনে সাবিত রা. এবং আবু যায়েদ রা.। আনাস রা. বলেন, আমরা আবু যায়েদ রা.-এর উত্তরসুরি।

বুখারি হাদিস নং ৪৬৩৯

হাদীস নং ৪৬৩৯

সাদাকা ইবনে ফাদল রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. বলেছেন, আলী রা. আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম বিচারক এবং উবায় রা. আমাদের মাঝে সর্বোত্তম কারী।

এতদসত্ত্বেও তিনি যা তিলাওয়াত করেছেন, আমরা তার কতিপয় অংশ বর্জন করছি, অথচ তিনি বলছেন, আমি তা আল্লাহর রাসূলের যবান মুবারক থেকে শুনেছি, কোন কিছুর বিনিময়ে আমি তা বর্জন করব না।

আল্লাহ বলেছেন, “আমি কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা বিস্মৃত হতে দিলে তা হতে উত্তম কিংবা তার সমতুল্য কোন আয়াত আনয়ন করি”।

বুখারি হাদিস নং ৪৬৪০ – সূরা ফাতিহার ফযীলত

হাদীস নং ৪৬৪০ – সূরা ফাতিহার ফযীলত

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবু সাঈদ ইবনে মুআল্লা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সালাতরত ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন; কিন্তু আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম না।

পরে আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি সালাতরত ছিলাম তিনি বললেন, আল্লাহ তায়ালা কি বলেননি, “হে মুমিনগণ, আল্লাহ ও রাসূল যখন তোমাদের কে আহবান করেন তখন আল্লাহ ও রাসূলের আহবানে সাড়া দাও”।

(৮: ২৪) তারপর তিনি বললেন, তোমার মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বে আমি কি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা শিক্ষা দেব না? তখন তিনি আমার হাত ধরলেন।

যখন আমরা মসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করলাম তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি তো বলেছেন মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বে আমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরার কথা বলবেন।

তিনি বললেন, তা হল: “আল হামদুলিল্লাহ রাব্বিল আলামীন”। এটা বারবার পঠিত সাতটি আয়াত (সাবআ মাছানী) এবং কুরান আজীম যা আমাকে দেয়া হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৪৬৪১

হাদীস নং ৪৬৪১

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার সফরে চলছিলাম। (পথিমধ্যে) অবতরণ করলাম।

তখন একটি বালিকা এসে বলল, এখানকার গোত্রপ্রধানকে সাপে কেটেছে। আমাদের পুরুষগণ অনুপস্থিত। অতএব, আপনাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি, যিনি ঝাড়-ফুঁক করতে পারেন? তখন আমাদের মধ্য থেকে একজন ঐ বালিকাটির সঙ্গে গেলেন। যদি আমরা ভাবিনি যে সে ঝাড়-ফুঁক জানে।

এরপর সে ঝাড়-ফুঁক করল এবং গোত্রপ্রধান সুস্থ হয়ে উঠল। এতে সর্দার খুশী হয়ে তাকে ত্রিশটি বকরী দান করলেন এবং আমাদের সকলকে দুধ পান করালেন।

ফিরে আসার পথে আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি ভালভাবে ঝাড়-ফুঁক করতে জান (অথবা বারীর সন্দেহ) তুমি কি ঝাড়-ফুঁক করতে পার? সে উত্তর করল, না, আমি তো কেবল উম্মুল কিতাব –সূরা ফাতিহা দিয়েই ঝাড়-ফুঁক করেছি।

আমরা তখন বললাম, যতক্ষণ না আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর কাছে পৌঁছে তাকে জিজ্ঞাসা করি ততক্ষণ কেউ কিছু বলবে না।

এরপর আমরা মদীনায় পৌঁছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ঘটনাটি তুলে ধরলাম। তিনি বললেন, সে কেমন করে জানল যে, তা (সূরা ফাতিহা) চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পাবে ?

তোমরা নিজেদের মধ্যে এগুলো বণ্টন করে নাও এবং আমার জন্যও একাংশ রেখ। আবু মামার……..আবু সাঈদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৪৬৪২-৪৬৯২

পরিচ্ছদঃ সুরা বাকারার ফযীলত
৪৬৪২। মুহাম্মদ ইব্‌ন কাসীর (রহঃ) … আবূ মাসঊদ (রাঃ) সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে দু’টি আয়াত তিলাওয়াত করে।

আবূ নু’আইম (রহঃ) আবূ মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি রাতে সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করে, সেটাই তার জন্য যথেষ্ট। উসমান ইব্‌ন হায়সাম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রমযানে প্রাপ্ত যাকাতের মাল হেফাজতের দায়িত্ব দিলেন। এ সময় জনৈক ব্যাক্তি এসে খাদ্য-দ্রব্য উঠিয়ে নিতে উদ্যত হল।

আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম, আমি তোমাকে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে যাব। এরপর পুরো হাদীস বর্ণনা করে।

তখন লোকটি বলল, যখন আপনি ঘুমাতে যাবেন, তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ করবেন। এর ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন পাহারাদার নিযুক্ত করা হবে এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান আপনার কাছে আসতে পারবে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এ ঘটনা শুনে) বললেন, (যে তোমার কাছে এসেছিল) সে সত্য কথা বলেছে, যদিও সে বড় মিথ্যাবাদী শয়তান।

ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৪৩ | 4643 | ٤٦٤۳

পরিচ্ছদঃ সুরা কাহফের ফযীলত
৪৬৪৩। আমর ইবনু খালিদ (রহঃ) … বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি “সূরা কাহ্ফ” তিলাওয়াত করেছিলেন। তার ঘোড়াটি দু’টি রশি দিয়ে তার পাশে বাঁধা ছিল।

তখন এক খন্ড মেঘ এসে তার উপর ছায়া বিস্তার করল। মেঘখন্ড ক্রমশ নিচের দিকে নেমে আসতে লাগল। আর তার ঘোড়াটি ভয়ে লাফালাফি শুরু করে দিল।

ভোর বেলা যখন লোকটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উক্ত ঘটনার কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, এ ছিল আস্‌সাকিনা (প্রশান্তি), যা কুরআন তিলাওয়াতের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৪৪ | 4644 | ٤٦٤٤

পরিচ্ছদঃ সুরা আল-ফাতহর ফযীলত
৪৬৪৪। ইস্‌মাঈল (রহঃ) … আসলাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সফরে রাতের বেলায় চলছিলেন এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তাঁর সাথে ছিলেন।

তখন উমর (রাঃ) তাঁর কাছে কিছু জিজ্ঞেস করলেন; কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোন উত্তর দিলেন না। তারপর আবার জিজ্ঞেস করলেন; কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিলেন না।

পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, এবারও তিনি কোন উত্তর দিলেন না। এমতাবস্থায়, উমর (রাঃ) নিজকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক! তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তিনবার প্রশ্ন করে কোন উত্তর পাওনি।

উমর (রাঃ) বললেন, এরপর আমি আমার উটকে দ্রুত চালিয়ে সকলের আগে চলে গেলাম এবং আমি শঙ্কিত হলাম, না জানি আমার সম্পর্কে কুরআন অবতীর্ণ হয়।

কিছুক্ষণ পর কেউ আমাকে ডাকছে, এমন আওয়োজ শুনতে পেলাম। আমি মনে আশংকা করলাম যে, হয়তো বা আমার সম্পর্কে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।

তখন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে গেলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম।

তিনি বললেন আজ রাতে আমার কাছে এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে, যা আমার কাছে সূর্যালোক পতিত সকল স্থান হতেও উত্তম। এরপর তিনি পাঠ করলেন, إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا “নিশ্চয় আমি তোমাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি”।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৪৫ | 4645 | ٤٦٤۵

পরিচ্ছদঃ কুল্‌হু আল্লাহু আহাদ (সূরা ইখলাস) এর ফযীলত
৪৬৪৫। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যাক্তি অন্য আরেক ব্যাক্তিকে ‘কুল হুআল্লাহু আহাদ’ পড়তে শুনলেন।

সে বার বার তা মুখে উচ্চারন করছিল। (তিনি মনে করলেন এভাবে বারাবার পাঠ করা যথেষ্ট নয়) পরদিন সকালে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে এ সম্পর্কে বললেন।

তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন। এ সূরা হচ্ছে সমগ্র কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বললেনঃ আমার ভাই- কাতাদা ইবনু নুমান আমাকে বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় এক ব্যাক্তি শেষ রাতে সালাতে শুধুমাত্র “কুল হুআল্লাহু আহাদ” ছাড়া আর কোনো সূরাই তিলাওয়াত করেন নি।

পরদিন সকালে কোন এক ব্যাক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাছে আসলেন। বাকী অংশ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৪৬ | 4646 | ٤٦٤٦

পরিচ্ছদঃ কুল্‌হু আল্লাহু আহাদ (সূরা ইখলাস) এর ফযীলত
৪৬৪৬। উমর ইবনু হাফ্‌স (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে বলেছেন, তোমাদের কেউ কি এক রাতে কুরআনের এ-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতে অসাধ্য মনে কর?

এ প্রশ্ন তাদের জন্য কঠিন ছিল। এরপর তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কার সাধ্য আছে যে, এমনটি পারবে? তখন তিনি বললেন, “কুল হুআল্লাহু আহাদ” অর্থাৎ সূরা ইখ্‌লাস কুরআন শরীফের এক-তৃতীয়াংশ।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৪৭ | 4647 | ٤٦٤۷

পরিচ্ছদঃ মু’আবিযাত (সূরা ফালাক ও সূরা নাস) এর ফযীলত
৪৬৪৭। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখনই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হতেন তখনই তিনি ‘সূরায়ে মু’আবিযাত’ পাঠ করে নিজের উপর ফুঁক দিতেন।

যখন তাঁর রোগ কঠিন আকার ধারন করল, তখন বরকত লাভের জন্য আমি এই সকল সূরা পাঠ করে হাত দিয়ে শরীর মাসেহ্‌ করিয়ে দিতাম।

ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৪৮ | 4648 | ٤٦٤۸

পরিচ্ছদঃ মু’আবিযাত (সূরা ফালাক ও সূরা নাস) এর ফযীলত
৪৬৪৮। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, প্রতি রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শয্যা গ্রহনকালে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করে দু’হাত একত্রিত করে হাতে ফুঁক দিয়ে সমস্ত শরীরে হাত বুলাতেন।

মাথা ও মুখ থেকে শুরু করে তাঁর দেহের সম্মুখভাগের উপর হাত বুলাতেন এবং তিনবার করে এরূপ করতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৪৯ | 4649 | ٤٦٤۹

পরিচ্ছদঃ ২৪০৫. যারা বলে, দুই মলাটের মধ্যে (কুরআন) যা কিছু আছে তাছাড়া নবী (সা) কিছু রেখে যাননি
২৪০৪. অনুচ্ছেদঃ কুরআন তিলাওয়াতের সময় প্রশান্তি নেমে আসে ও ফেরেশতা নাযিল হয়।

লায়স (রহঃ) উসাইদ ইব্‌ন হুদায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা রাতে তিনি সূরা বাকারা পাঠ করছিলেন। তখন তাঁর ঘোড়াটি তারই পাশে বাঁধা ছিল। হঠাৎ ঘোড়াটি ভীত হয়ে লাফ দিয়ে উঠল এবং ছুটাছুটি শুরু করল। যখন পাঠ বন্ধ করলেন তখনই ঘোড়াটি শান্ত হল।

ঘোড়াটি পূর্বের মতো আচরণ করল। যখন পাঠ বন্ধ করলেন ঘোড়াটি শান্ত হলো। পুনরায় পাঠ আরম্ভ করলে ঘোড়াটি পূর্বের মতো করতে লাগল।

এ সময় তার পুত্র ইয়াহইয়া ঘোড়াটির নিকটে ছিল। তার ভয় হচ্ছিল যে, ঘোড়াটি তার পুত্রকে পদদলিত করবে। তখন তিনি পুত্রকে টেনে আনলেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছু দেখতে পেলেন।

পরদিন সকালে তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উক্ত ঘটনা ব্যক্ত করলেন। ঘটনা শুনে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ইব্‌ন হুদায়র! তুমি যদি পাঠ করতে, হে ইব্‌ন হুদায়র! তুমি যদি পাঠ করতে।

ইব্‌ন হুদায়র আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! আমার ছেলেটি ঘোড়ার নিকট থাকায় আমি ভয় পেয়ে গেলাম হয়ত বা ঘোড়াটি তাকে পদদলিত করবে, সুতরাং আমি আমার মাথা উপরে উঠাতেই মেঘের মত কিছু দেখলাম, যা আলোকময় ছিল। আমি যখন বাইরে এলাম তখন আর কিছু দেখ্‌খলাম না।

তখন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি জান, ওটা কি ছিল? তিনি বললেন, না। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা ছিল ফেরেশতামন্ডলী।

তোমার তিলাওয়াত শুনে তোমার কাছে এসেছিল। তুমি যদি ভোর পর্যন্ত তিলাওয়াত করতে থাকতে তারাও ততক্ষন পর্যন্ত এখানে অবস্থান করত এবং লোকেরা তাদেরকে দেখতে পেত। এরপর হাদীসের অন্য একটি সনদ বর্ণিত হয়েছে।

৪৬৪৯। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবদুল আযীয ইবনু রুফাঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং শাদ্দাদ ইবনু মা’কিল ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হলাম।

শাদ্দাদ ইবনু মা’কিল তাকে জিজ্ঞেস করলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু রেখে যাননি? ইবনু আব্বাস (রাঃ) উত্তর দিলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই মলাটের মাঝে যা কিছু আছে অর্থাৎ কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু রেখে যাননি।

আবদুল আযীয বললেন, আমরা মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়ার নিকট গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনিই বললেন যে, দুই মলাটের মাঝে ছাড়া আর কিছু রেখে যাননি।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৫০ | 4650 | ٤٦۵۰

পরিচ্ছদঃ ২৪০৬. সব কালামের উপর কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব
৪৬৫০। হুদ্‌বাত ইবনু খালিদ (রহঃ) … আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি কুরআন তিলওয়াত করে, তার উদাহরণ হচ্ছে ঐ লেবুর ন্যায় যা সুস্বাদু এবং সুগন্ধযুক্ত।

আর যে ব্যাক্তি (মু’মিন) কুরআন পাঠ করে না, তার উদাহরণ হচ্ছে এমন খেজুরের মত, যা সুগন্ধহীন, কিন্তু খেতে সুস্বাদু। আর ফাসিক-ফাজির ব্যাক্তি যে কুরআন পাঠ করে, তার উদাহরণ হচ্ছে রায়হান জাতীয় গুল্মের মত, যার সুগন্ধ আছে, কিন্তু খেতে বিস্বাদযুক্ত (তিক্ত)।

আর ঐ ফাসিক যে কুরআন একেবারে পাঠ করে না, তার উদাহরণ হচ্ছে ঐ মাকাল ফলের মত, যা খেতেও বিস্বাদ (তিক্ত) এবং যার কোনো সুঘ্রানও নেই।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৫১ | 4651 | ٤٦۵۱

পরিচ্ছদঃ ২৪০৬. সব কালামের উপর কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব
৪৬৫১। মুসাদ্দাস (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতীতের জাতিসমূহের সঙ্গে তোমাদের জীবনকালের তুলনা হচ্ছে আসর ও মাগরিব সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যবর্তী সময়কালের মত।

তোমাদের এবং ইহুদী-নাসারাদের উদাহরণ হচ্ছে ঐ ব্যাক্তির ন্যায়, যে শ্রমিকদের কাজে নিযুক্ত করে তাদেরকে বলল, “তোমাদের মধ্যে কে এক কীরাতের বিনিময়ে দ্বি-প্রহর পর্যন্ত কাজ করবে”? ইহুদীরা কাজ করল।

তারপর সেই ব্যাক্তি আবার বলল, তোমাদের মধ্যে কে এক কীরাতের বিনিময়ে দুপুর থেকে আসর পর্যন্ত কাজ করবে? নাসারার কাজ করল। এরপর তোমরা (মুসলামানরা) আসরের সালাত (নামায/নামাজ)-এর পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত প্রত্যেক দু’কীরাতের বিনিময়ে কাজ করেছ।

তারা বলল, আমরা কম মজুরি নিয়েছি এবং বেশী কাজ করেছি। তিনি (আল্লাহ) বলবেন, আমি কি তোমাদের অধিকারের ব্যাপারে জুলুম করেছি? তারা উত্তরে বলবে, না। এরপর আল্লাহ বলবেন, এটা আমার দয়া, আমি যাকে ইচ্ছা দিয়ে থাকি।

ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা)

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৫২ | 4652 | ٤٦۵۲

পরিচ্ছদঃ ২৪০৭. কিতাবুল্লাহর ওসীরত
৪৬৫২। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ‌ ইবনু আবূ আউফ (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কোন ওসীয়ত করে গেছেন?

তিনি বললেন, না। তখন আমি বললাম, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে কোন ওসীয়ত করে যাননি, তখন কি করে মানুষের জন্য ওসীয়ত করাকে (কুরআন মজীদে) বাধ্যতামূলক করা হল এবং তাদেরকে এজন্য নির্দেশ দেয়া হল।

জবাবে তিনি বললেন, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর কিতাব (গ্রহণ) এর ওসীয়ত করে গেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৫৩ | 4653 | ٤٦۵۳

পরিচ্ছদঃ ২৪০৮. যার জন্য কুরআন যথেষ্ট নয়। আল্লাহ্‌র বাণীঃ তাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার নিকট কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদের নিকট পাঠ করা হয়

৪৬৫৩। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ কোন নাবী কে ঐ অনুমতি দেননি, যা আমাকে দিয়েছেন, আর তা হয়েছে কুরআন তিলাওয়াত যথেষ্ট। বারী বলেন, এর অর্থ সুষ্পষ্ট করে আওয়াজের সাথে কুরআন পাঠ করা।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬৫৪ | 4654 | ٤٦۵٤

পরিচ্ছদঃ ২৪০৮. যার জন্য কুরআন যথেষ্ট নয়। আল্লাহ্‌র বাণীঃ তাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার নিকট কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদের নিকট পাঠ করা হয়

৪৬৫৪। আলী ইবন আবদুল্লাহ‌ … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা’আলা অন্য কোন নাবী কে অনুমতি দেননি, যা আমাকে দিয়েছেন যে, কুরআন তিলাওয়াত করাই যথেষ্ট। সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, কুরআনই তার জন্য যথেষ্ট।

আরও পড়ুনঃ

কলহ-বিবাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

জুলুম ও কিসাস অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

অংশীদারিত্ব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বন্ধক অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

মন্তব্য করুন