পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায়

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

Table of Contents

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৬৭ – হারিয়ে যাওয়া বকরী ।

হাদীস নং ২২৬৭

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..যায়েদ ইবনে খালিদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, পড়ে থাকা বস্তু সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হলে রাবীর বিশ্বাস যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : থলেটি এবং তার বাঁধন চিনে রাখ।

এরপর এক বছর যাবত ঘোষণা দিতে থাক। ইয়াযীদ রহ. বলেন, যদি এর সনাক্তকারী না পাওয়া যায়, তবে যে এটা উঠিয়ে সে খরচ করবে। কিন্তু সেটা তার কাছে আমানত স্বরূপ থাকবে।

ইয়াহইয়া রহ. বলেন, আমার জনা নেই যে, এ কথাটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসের অন্তর্ভূক্ত ছিল, না তিনি নিজ থেকে বলেছেন। এরপর সে জিজ্ঞাসা করল, হারিয়ে যাওয়া বকরী সম্পর্কে আপনি কি বলেন ?

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এটা নিয়ে নাও। তা তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের অথবা নেকড়ে বাঘের। ইয়াযীদ রহ. বলেন এটাও ঘোষণা দেওয়া হবে।

তারপর আবার সে জিজ্ঞাসা করল, হারিয়ে যাওয়া উট সম্পর্কে আপনি কি বলেন ? বর্ণনাকারী বলেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটা ছেড়ে দাও।

এর সাথেই রয়েছে তার ক্ষুর ও তার পানির পাত্র। সে নিজেই পানি পান করবে এবং গাছ পালা খাবে, যতক্ষণ এর মালিক একে ফিরে পায়।

বুখারি হাদিস নং ২২৬৫ – কুড়ানো বস্তুর মালিক আলামতের বিবরণ দিলে মালিককে ফিরিয়ে দিবে।

হাদীস নং ২২৬৫

আদম ও মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………উবাই ইবনে কাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একটি থলে পেয়েছিলাম, যার মধ্যে একশ দীনার ছিল এবং আমি (এটা নিয়ে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা দাও। আমি তাই করলাম। কিন্তু এটি সনাক্ত করার মত লোক পেলাম না। তখন আবার তাঁর কাছে এলাম।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আরো এক বছর ঘোষণা দাও। আমি তাই করলাম। কিন্তু কাউকে পেলাম না। আমি তৃতীয়বার তাঁর কাছে এলাম।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : থলে ও এর প্রাপ্ত বস্তুর সংখ্যা এবং এর বাঁধন স্মরণ রাখ। যদি এর মালিক আসে (তাকে দিয়ে দিবে) নতুবা তুমি তা ভোগ করবে।

তারপর আমি তা ভোগ করলাম। (শুবা রহ. বলেছেন) আমি এরপর মক্কায় সালামা রা.-এর সঙ্গে দেখা করলাম, তিনি বললেন, তিন বছর কিংবা এক বছর তা আমার মনে নেই।

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৬৬ – হারিয়ে যাওযা উট।

হাদীস নং ২২৬৬

আমর ইবনে আব্বাস রহ……….যায়েদ ইবনে খালিদ জুহানী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন এসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পড়ে থাকা বস্তু গ্রহণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এক বছর যাবত এর ঘোষণা দিতে থাক। এরপর থলে ও তার বাঁধন স্মরণ রাখ। এর মধ্যে যদি কোন ব্যক্তি আসে এবং তোমাকে তার বিবরণ দেয় (তবে তাকে দিয়ে দিবে) নতুবা তুমি তা ব্যবহার করবে।

সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! হারানো বস্তু যদি বকরী হয় ? তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : সেটা তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের অথবা নেকড়ের জন্য।

সে আবার বলল, হারানো বস্তু উট হলে ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারায় রাগের ভাব ফুটে উঠল।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এতে তোমার কি প্রয়োজন ? তার সাথেই (জুতার ন্যায়) ক্ষুর ও পানির পাত্র রয়েছে, সে পানি পান করবে এবং গাছের পাতা খাবে।

বুখারি হাদিস নং ২২৬৮ – এক বছরের পরেও যদি পড়ে থাকা বস্তুর মালিক পাওয়া না যায় তাহলে সেটা যে পেয়েছে তারই হবে।

হাদীস নং ২২৬৮

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….যায়েদ ইবনে খালিদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে পড়ে থাকা জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, তিনি বললেন : থলেটি এবং এর বাঁধন চিনে রাখ।

এরপর এক বছর যাবত ঘোষণা দিতে থাক। যদি মালিক আসে (তবে তাকে তা দিয়ে দাও) আর যদি না আসে তা তোমার দায়িত্ব। সে পুনরায় জিজ্ঞাসা করল, যদি বকরী হারিয়ে যায়?

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তা তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের অথবা নেকড়ে বাঘের। ইয়াযীদ রহ. বলেন এটাও ঘোষণা দেওয়া হবে।

তারপর আবার সে জিজ্ঞাসা করল, হারিয়ে যাওয়া উট সম্পর্কে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এতে তোমার কি ? এর সাথেই রয়েছে তার ক্ষুর ও তার পানির পাত্র। মালিক তাকে না পর্যন্ত পানি পান করবে এবং গাছ পালা খাবে।

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৬৯ – পথে খেজুর পাওয়া গেলে ।

হাদীস নং ২২৬৯

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তায় পড়ে থাকা খেজুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন : আমার যদি আশংকা না হত যে এটি সাদকার খেজুর তাহলে আমি এটা খেতাম।

বুখারি হাদিস নং ২২৭০

হাদীস নং ২২৭০

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমি আমার ঘরে ফিরে যাই, আমার বিছানায় খেজুর পড়ে থাকতে দেখি। খাওয়ার জন্য আমি তা তুলে নেই।

পরে আমার ভয় হয় যে, হয়ত তা সাদকার খেজুর হবে তাই আমি তা রেখে দেই।

বুখারি হাদিস নং ২২৭১ – মক্কাবাসীদের পড়ে থাকা জিনিসের কিভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে।

হাদীস নং ২২৭১

ইয়াহইয়া ইবনে মূসা রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা যখন তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কা বিজয় দান করলেন, তখন তিনি লোকদের সামনে দাঁড়িয়ে আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করলেন।

এরপর বললেন : আল্লাহ তা’আলা মক্কায় (আবরাহার) হস্তি বাহিনীকে প্রবেশ করতে দেননি। এবং তিনি তাঁর রাসূল ও মুমিন বান্দাদেরকে মক্কার উপর আধিপত্য দান করেছেন।

আমার আগে অন্য কারোর জন্য মক্কায় যুদ্ধ করা বৈধ ছিল না, তবে আমার পক্ষে দিনের সামান্য সময়ের জন্য বৈধ করা হয়েছিল, আর তা আমার পরেও কারোর জন্য বৈধ হবে না। কাজেই এখানকার শিকার তাড়ানো যাবে না, এখানকার গাছ কাটা ও উপড়ানা যাবে না, ঘোষণাকারী ব্যক্তি ব্যতীত এখানকার পড়ে থাকা জিনিস তুলে নেওয়া যাবে না।

যার কোন লোক এখানে নিহত হয় তবে দুটির মধ্যে তার কাছে যা ভাল বলে বিবেচিত হয়, তা গ্রহণ করবে। ফিদইয়া গ্রহণ অথবা কিসাস। আব্বাস রা. বলেন, ইযখিরের অনুমতি দিন।

কেননা আমরা এগুলো আমাদের কবরের উপর এবং ঘরের কাজে ব্যবহার করে থাকি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ইযখির ব্যতীত (অর্থাৎ তা কাটা ও ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হল।

তখন ইয়ামানবাসী আবু শাহ রা. দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাকে লিখে দিন। তিনি বললেন : তোমরা আবু শাহকে লিখে দাও। (ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম বলেন) আমি আওযায়ীকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

আমাকে লিখে দিন-তাঁর এ উক্তির অর্থ কি ? তিনি বলেন, এ ভাষণ যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, তা লিখে দিন।

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৭২ – অনুমতি ব্যতীত কারো পশু দোহন করা যাবে না।

হাদীস নং ২২৭২

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : অনুমতি ব্যতীত কারো পশু কেউ দোহন করবে না।

তোমাদের কেউ কি এটা পছন্দ করবে যে, তার তোশাখানায় কোন এক লোক এসে ভাণ্ডার ভেঙ্গে ফেলে এবং ভাণ্ডারের শস্য নিয়ে যায় ? তাদের পশুগুলো স্তন তাদের খাদ্য সংরক্ষিত রাখে। কাজেই কারোর পশু তার অনুমতি ব্যতীত কেউ দোহন করবে না।

বুখারি হাদিস নং ২২৭৩ – কুড়ানো বস্তুর মালিক এক বছর পরে আসলে তার জিনিস তাকে ফিরিয়ে দিবে। কারণ সেটা ছিল তার কাছে আমানত স্বরূপ।

হাদীস নং ২২৭৩

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………যায়েদ ইবনে খালিদ রা. থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি কুড়ানো বস্তু সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করল।

তিনি বললেন : এক বছর যাবত এর ঘোষণা দিতে থাক। এরপর পাত্র ও তার বাঁধন স্মরণ রাখ এবং সেটা খরচ কর। যদি তার মালিক এসে যায়, তবে তাকে দিয়ে দাও।

সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! হারানো বস্তু যদি বকরী হয় তাহলে কি করতে হবে ? তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : তা তুমি নিয়ে নাও।

কেননা, সেটা তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের অথবা নেকড়ে বাঘের। সে আবার বলল, হারানো বস্তু উট হলে কি করতে হবে ?

এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন এমনকি তাঁর উভয় গাল লাল হয়ে গেল অথবা রাবী বলেন, তাঁর মুখমণ্ডল লাল হয়ে গেল।

তিনি বললেন : এতে তোমার কি ? তার সাথেই (জুতার ন্যায়) ক্ষুর ও মশক রয়েছে, শেষ পর্যন্ত মালিক তার সন্ধান পেয়ে যাবে।

বুখারি হাদিস নং ২২৭৪ – পড়ে থাকা বস্তু যাতে নষ্ট না হয় এবং কোন অনুপযুক্ত ব্যক্তি যাতে তুলে না নেয় সে জন্য তা তুলে নিবে কি ?

হাদীস নং ২২৭৪

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….সুওয়াইদ ইবনে গাফালা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সুলাইমান ইবনে রবীআ এবং যায়েদ ইবনে সুহানের সঙ্গে আমি এক যুদ্ধে শরীক ছিলাম।

আমি একটি চাবু পেলাম। তার উভয়ে আমাকে এটা ফেলে দিতে বললেন। আমি বললাম, না , এর মালিক এলে এটা আমি তাকে দিয়ে দিব। নতুবা আমিই এটা ব্যবহার করব।

আমরা ফিরে গিয়ে হজ্জ করলাম; এরপর যখন মদীনায় গেলাম তখন উবাই ইবনে কাব রা.-কে (এ বিষয়ে) জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে আমি একটি থলে পেয়েছিলাম, এর মধ্যে একশ দীনার ছিল।

আমি এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে গেলাম। তিনি বললেন : এক বছর পর্যন্ত তুমি এটার ঘোষণা দিতে থাক। কাজেই আমি এক বছর পর্যন্ত এর ঘোষণা দিলাম।

এরপর আমি তাঁর কাছে এলাম। তিনি আরো এক বছর ঘোষণা দিতে বললেন। আমি আরো এক বছর ঘোষণা দিলাম। এরপর আমি আবার তাঁর কাছে এলাম। তিনি আবার এক বছর ঘোষণা দিতে বললেন।

আমি আরো এক বছর ঘোষণা দিলাম। এরপর আমি চতুর্থবার তাঁর কাছে আসলাম। তিনি বললেন: থলের ভিতরের দীনারের সংখ্যা, বাঁধন এবং থলেটি চিনে রাখ। যদি মালিক ফিরে আসে তাকে দিয়ে দাও। নতুবা তুমি নিজে তা ব্যবহার কর।

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৭৫

হাদীস নং ২২৭৫

আবদান রহ……….সালামা রা. থেকে হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন যে, সুওয়াইদ ইবনে গাফালা রহ. বলেন যে, আমি উবাই ইবনে কাব রা.-এর সঙ্গে মক্কায় সাক্ষাত করলাম।

তখন তিনি (এ হাদীস সম্পর্কে) বললেন, আমার স্মরণ নেই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন বছর যাবত না এক বছর যাবত ঘোষণা দিতে বলেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২২৭৬ – যে ব্যক্তি পড়ে থাকা জিনিসের ঘোষণা দিয়েছে, কিন্তু তা সরকারের কাছে জমা দেয়নি।

হাদীস নং ২২৭৬

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ…………যায়েদ ইবনে খালিদ রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জনৈক বেদুঈন এসে পড়ে থাকা বস্তু গ্রহণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এক বছর যাবত এর ঘোষণা দিতে এর মধ্যে যদি কোন ব্যক্তি আসে এবং তোমাকে তার থলে ও বাঁধন সম্পর্কে বিবরণ দেয় (তবে তাকে দিয়ে দিবে) নতুবা তুমি তা ব্যবহার করবে।

এরপর সে হারিয়ে যাওয়া উট সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। এতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এতে তোমার কি প্রয়োজন ?

তার সাথেই (জুতার ন্যায়) ক্ষুর ও মশক রয়েছে, সে নিজেই পানির কাছে যায় এবং গাছের পাতা খায়।

তারপর সে হারিয়ে যাওয়া বকরী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : সেটা তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের অথবা নেকড়ের জন্য।

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৭৭ – পরিচ্ছেদ ১৫২৩

হাদীস নং ২২৭৭

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আবদুল্লাহ ইবনে রাজা রহ…………আবু বকর রা.থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আম (হিজরত করে মদীনার দিকে) যাচ্ছিলাম।

তখন বকরীর এক রাখালের সাথে দেখা হল। সে তার বকরীগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল । আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কার রাখাল। সে কুরাইশ গোত্রর এক ব্যক্তির নাম বলল।

আমি সে ব্যক্তিকে চিনতাম।আমি তাকে বললাম তোমার বকরীর দুধ আছে কি ? সে বলল, হ্যাঁ, আছে। তখন আমি তাকে বললাম, তুমি আমাকে দুধ দোহন করে দিবে কি ?

সে বলল, হ্যা দিব। তখন আমি তাকে দুধ দোহন করতে বললাম। বকরীর পাল থেকে সে একটি বকরী ধরে নিয়ে এল। আমি তাকে এর ওলান ধুলাবালি থেকে পরিষ্কার করে নিতে এবং তার হাতও পরিষ্কার করে নিতে বললাম।

সে তদ্রূপ করল। এক হাত দিয়ে অপর হাত ঝেড়ে সে এক পেয়ালা দুধ দোহন করল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি পাত্র রেখেছিলাম।

যার মুখে কাপড়ের টুকরা রাখা ছিল। তা থেকে আমি দুধের উপর (পানি) ঢেলে দিলাম। এতে দুধ নীচ পর্যন্ত ঠাণ্ডা হয়ে গেল।

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এই দুধ নিয়ে গেলাম এবং বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি পান করুন। তিনি তা পান করলেন। এতে আমি আনন্দিত হলাম।

আরও পড়ুনঃ

সাওম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

সাওম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

মদীনার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

তারাবীহর সালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

বর্গাচাষ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

 

 

মন্তব্য করুন