নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

Table of Contents

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৩৪১

হাদীস নং ৩৩৪১

সাঈদ ইবনে শুরাহবিল রহ…….উকবা ইবনে আমির রা. থেকে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে মৃত ব্যক্তির সালাতে জানাযার ন্যায় উহুদ যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সাহাবীগণের কবরের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন।

তারপর ফিরে এসে মিম্বরে আরোহণ করে বললেন, আমি তোমাদের জন্য অগ্রগামী ব্যক্তি, আমি তোমাদের পক্ষে আল্লাহর দরবারে সাক্ষ্য প্রদান করব।

আল্লাহর কসম, আমি এখানে বসে থেকেই আমার হাউযে কাওসার দেখতে পাচ্ছি। পৃথিবীর ধন-ভাণ্ডারের চাবি আমার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহর কসম আমার ওফাতের পর তোমরা মুশরিক হয়ে যাবে এ আশংকা আমার নাই। তবে আমি তোমাদের সম্পর্কে এ ভয় করি যে পার্থিব ধন-সম্পদ প্রাচুর্য ও মোহ তোমাদেরকে আত্মকলহে লিপ্ত করে তুলবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৪২

হাদীস নং ৩৩৪২

আবু নুআইম রহ……….উসামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মদীনায় একটি উচু টিলায় আরোহণ করলেন, তারপর (সাহাবায়ে কেরামকে লক্ষ্য করে) বললেন, আমি যা দেখছি, তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ? আমি দেখছি বারি ধারার ন্যায় ফাসাদ ঢুকে পড়ছে তোমাদের ঘরে ঘরে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৪৩

হাদীস নং ৩৩৪৩

আবুল ইয়ামান রহ……….যায়নাব বিনতে জাহাশ রা. থেকে বর্ণিত, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়তে পড়তে তাঁর গৃহে প্রবেশ করলেন এবং বলতে লাগলেন, এতটুকু পরিমাণ ছিদ্র হয়ে গিয়েছে, এ কথা বলে দুটি আঙ্গুল গোলাকৃতি করে দেখালেন।

যায়নাব রা. বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল ! আমরা কি ধ্বংস হয়ে যাব, অথচ আমাদের মাঝে অনেক নেক লোক রয়েছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হ্যাঁ, যখন অশ্লীলতা বেড়ে যাবে।

অন্য একটি বর্ণনায় উম্মে সালামা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগে উঠলেন এবং বলতে লাগলেন, সুবহানাল্লাহ, আজ কি অফুরন্ত ধনভাণ্ডার অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং তারই সাথে অগণিত ফিতনা-ফাসাদ নাযিল করা হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৪৪

হাদীস নং ৩৩৪৪

আবু নুআইম রহ………..আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি আবু সাসাআতকে বললেন, তোমাকে দেখছি তুমি বকরীকে অত্যন্ত পছন্দ করে এদেরকে সর্বদা লালান-পালন কর, তাই তোমাকে বলছি, তুমি এদের যত্ন কর এবং রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা কর।

আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, এমন এক যামানা আসবে, যখন বকরীই হবে মুসলমানদের সর্বোত্তম সম্পদ ইহাকে নিয়ে পর্বত শিখরে বারি বর্ষণের স্থানে চলে যাবে এবং রক্ষা করবে তাদের দীনকে ফিতনা ফাসাদ থেকে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৪৫

হাদীস নং ৩৩৪৫

আবদুল আযীয ওয়াইসী রহ…………আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অচিরেই অসংখ্য সর্বগ্রাসী ফিতনা ফাসাদ আসতে থাকবে।

ঐ সময় বসা ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে উত্তম (নিরাপদ) দাঁড়ানো ব্যক্তি চলমান ব্যক্তি হতে অধিক রক্ষিত আর চলমান ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে অধিক বিপদমুক্ত।

যে ব্যক্তি ফিতনার দিকে চোখ তুলে তাকাবে ফিতনা তাকে গ্রাস করবে। তখন যদি কোন ব্যক্তি তার দীন রক্ষার জন্য কোন ঠিকানা অথবা নিরাপদ আশ্রয় পায়, তবে সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করাই উচিত হবে। ইবনে শিহাব যুহরী রহ………নাওফাল ইবনে মুআবিয়া রা. হতে আবু হুরায়রা রা.-এর হাদীসের অনুরূপই বর্ণনা করেছেন।

তবে অতিরিক্ত আর একটি কথাও বর্ণনা করেছেন যে, এমন একটি সালাত রয়েছে (আসর) যে ব্যক্তির ঐ সালাত কাযা হয়ে গেল, তার পরিবার-পরিজন ধন-সম্পদ সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেল।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৪৬

হাদীস নং ৩৩৪৬

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ………..ইবনে মাসউদ রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অচিরেই স্বজনপ্রীতি প্রকাশ পাবে এবং এমন সব কর্মকাণ্ড ঘটবে যা তোমরা পছন্দ করতে পারবে না।

সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ! এমতাবস্থায় আমাদের কী করতে বলেন ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন কর তোমাদের প্রাপ্যের জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ কর।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৩৪৭

হাদীস নং ৩৩৪৭

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাহীম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরাইশ গোতের এ লোকগুলো জনগণকে ধ্বংস করে দিবে।

সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন, তখন আমাদেরকে আপনি কী করতে বলেন ? তিনি বললেন, জনগণ যদি এদের সংশ্রব ত্যাগ করে দিত তবে ভাল্ই হত।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৪৮

হাদীস নং ৩৩৪৮

ইয়াহইয়া ইবনে মূসা রহ………….হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন আর আমি তাকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম; এ আশংকায় যেন আমি ঐ সবের মধ্যে নিপতিত না হই।

আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা জহেলিয়্যাতে অকল্যাণকর পরিস্থিতিতে জীবন যাপন করতাম এরপর আল্লাহ আমাদের এ কল্যাণ দান করেছেন।

এ কল্যাণকর অবস্থার পর কোন প্রকার অমঙ্গলের আশংকা আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আছে। আমি আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ঐ অমঙ্গলের পর কোন কল্যাণ আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আছে। তবে তা মন্দ মিশ্রিত।

আমি বললাম, যে মন্দ মিশ্রিত কি? তিনি বললেন, এমন একদল লোক যারা আমার আদর্শ ত্যাগ করে অন্যপথে পরিচালিত হবে। তাদের কাজে ভাল-মন্দ সবই থাকবে। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, এরপর কি আরো অমঙ্গল আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ তখন জাহান্নামের দিকে আহবানকারীদের আগমন ঘটবে।

যারা তাদের ডাকে সারা দিবে তাকেই তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এদের পরিচয় বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, তারা আমাদেরই সম্প্রদায়ভূক্ত এবং কথা বলবে আমাদেরই ভাষায়।

আমি বললাম, আমি যদি এ অবস্থায় পতিত হই তবে আপনি আমাকে কি করতে আদেশ দেন? তিনি বললেন, মুসলমানদের (বৃহৎ) দল ও তাদের ইমামকে আকড়িয়ে ধরবে।

আমি বললাম, যাদ মুসলমানদের এহেন দল ও ইমাম না থাকে? তিনি বলেন, তখন তুমি তাদের সকল দল উপদলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে এবং মৃত্যু না আসা পর্যন্ত বৃক্ষ মূল দাঁতে আকড়িয়ে ধরে থাকবে এবং তোমার দীনকে রক্ষা করবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৪৯

হাদীস নং ৩৩৪৯

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………..হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার সঙ্গীগণ কল্যাণ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন আর আমি জানতে চেয়েছি ফিতনা ফাসাদ সম্পর্কে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৫০

হাদীস নং ৩৩৫০

হাকাম ইবনে নাফি রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত এমন দুটি দলের মধ্যে যুদ্ধ না হবে যাদের দাবী হবে এক। অর্থাৎ উভয় পক্ষ নিজেদেরকে সত্য ও ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত বলে দাবী করবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৫১

হাদীস নং ৩৩৫১

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত দুটি দলের মধ্যে যুদ্ধ না হবে।

তাদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। তাদের দাবী হবে অভিন্ন। আর কিয়ামত কায়েম হবেনা যে পর্যন্ত প্রায় ত্রিশজন মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আর্বিভাব না হবে। এরা সবাই নিজ নিজকে আল্লাহর রাসূল বলে দাবী করবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৫২

হাদীস নং ৩৩৫২

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দরবারে উপস্থিত ছিলাম।

তিনি কিছু গনীমতের মাল বণ্টন করছিলেন। তখন বানু তামীম গোত্রের জুলখোয়াইসিরাহ নামে এক ব্যক্তি এসে হাযির হল এবং বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আপনি (বণ্টন) ইনসাফ করুন।

তিনি বললেন, তোমার দুর্ভাগ্য ! আমি যদি ইনসাফ না করি, তবে ইনসাফ করবে কে? আমি তো নিষ্ফল ও ক্ষতিগ্রস্থ হব যদি ইনসাফ না করি। উমর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিন আমি এর গর্দান উড়িয়ে দেই। তিনি বললেন, একে যেতে দাও।

তার এমন কিছু সঙ্গী সাথী আছে তোমাদের কেউ তাদের সালাতের তুলনায় নিজের সালাত এবং সিয়াম তুচ্ছ বলে মনে করবে। এরা কুরআন পাঠ করে, কিন্তু কুরআন তাদের কণ্ঠনালীর নিম্নদেশে প্রবেশ করে না।

তারা দীন থেকে এমনভাবে (দ্রুত) বেরিয়ে যাবে যেমন তীর ধনুক থেকে বেরিয়ে যায়। তীরের অগ্রভাগের লোহা দেখা যাবে কিন্তু (শিকারের) কোন চিহ্ন পাওয়া যাবে না। কাঠের অংশটুকু দেখলে তাতেও কিছু পাওয়া যাবে না। মধ্যবর্তী অংশটুকু দেখলে তাতেও কিছু পাওয়া যাবে না।

তার পালক দেখলে তাতেও কোন চিহ্ন পাওয়া যায় না। অথচ তীরটি শিকারী জন্তুর নাড়িভূড়ি ভেদ করে রক্তমাংস অতিক্রম করে বেরিয়ে গেছে।

এদের নিদর্শন হল এমন একটি কাল মানুষ যার একটি বাহু মেয়ে লোকের স্তনের ন্যায় অথবা মাংস টুকরার ন্যায় নড়াচড়া করবে। তারা লোকদের মধ্যে বিরোধ কালে আত্মপ্রকাশ করবে।

আবু সাঈদ রা. বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে একথা শুনেছি। আমি এ-ও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী ইবনে আবু তালিব রা. এদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন।

আমিও তার সঙ্গে ছিলাম। তখন আলী রা. ঐ ব্যক্তিকে তালাশ করে বের করতে আদেশ দিলেন। তালাশ করে যখন আনা হল। আমি মনোযোগের সহিত লক্ষ্য করে তার মধ্যে ঐ সব চিহ্নগুলি দেখতে পেলাম, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৩৫৩

হাদীস নং ৩৩৫৩

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ………….সুয়াইদ ইবনে গাফালা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী রা. বলেছেন , আমি যখন তোমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন হাদীস বর্ণনা করি, তখন আমার এ অবস্থা হয়ে যে তাঁর উপর মিথ্যা আরোপ করার চেয়ে আকাশ থেকে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া আমার নিকট অধিক পছন্দীয় এবং আমরা পরস্পরে যখন আলোচনা করি তখন কথা হল এই যে, যুদ্ধ ছল-চাতুরী মাত্র।

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, শেষ যামানায় একদল তরুণের আবির্ভাব ঘটবে যারা হবে। স্থূলবুদ্ধির অধিকারী । তারা নীতিবাক্যগুলো আওড়াতে থাকবে। তারা ইসলাম থেকে (এমন দ্রুত গতিতে ও চিহ্নহীনভাবে) বেরিয়ে যাবে যেভাবে ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়।

তাদের ঈমান গলদেশ অতিক্রম করে (অন্তরে প্রবেশ) করবে না। যেখানেই এদের সঙ্গে তোমাদের সাক্ষাত হবে, এদেরকে তোমরা হত্যা করে ফেলবে। এদের হত্যাকারীদের জন্য এই হত্যার প্রতিদান রয়েছে কিয়ামতের দিন।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৫৪

হাদীস নং ৩৩৫৪

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ…………খাব্বাব ইবনে আরত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে (কাফিরদের পক্ষ থেকে যে সব নির্যাতন ভোগ করছিলাম এসবের) অভিযোগ করলাম। তখন তিনি নিজের চাদরকে বালিশ বানিয়ে কাবা শরীফের ছায়ায় বিশ্রাম করছিলেন।

আমরা তাকে বললাম, আপনি কি আমাদের জন্য (আল্লাহর নিকট) সাহায্য প্রার্থনা করবেন না ? আপনি কি আমাদের (দুঃখ দুর্দশা লাঘবের) জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ করবেন না?

তিনি বললেন, তোমাদের পূর্ববর্তী (ঈমানদার) গণের অবস্থা ছিল এই , তাদের জন্য মাটিতে গর্ত খনন করা হত এবং ঐ গর্তে তাকে পুঁতে রেখে করাত দিয়ে তার মস্তক দ্বিখণ্ডিত করা হত। এ (অমানুষিক নির্যাতনও) তাদেরকে দীন থেকে বিচ্যুত করতে পারতনা।

লোহার চিরুণী দিয়ে আচড়িয়ে শরীরের হাড় পর্যন্ত মাংস ও শিরা -উপশিরা সব কিছু ছিন্নভিন্ন করে দিত। এ (লোমহর্ষক নির্যাতন) তাদেরকে দীন থেকে বিমুখ করতে পারেনি।

আল্লাহর কসম, আল্লাহ এ দীনকে অবশ্যই পূর্ণতা দান করবেন (এবং সর্বত্র নিরাপদ ও শান্তিময় অবস্থা বিরাজ করবে)। তখনকার দিনের একজন উষ্ট্রারোহী সানআ থেকে হাযারামাউত পর্যন্ত ভ্রমণ করবে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকেও ভয় করবে না।

অথবা তার মেষপালের জন্য নেকড়ে বাঘের আশংকাও করবে না। কিন্তু তোমরা (ঐ সময়ের অপেক্ষা না করে) তাড়াহুড়া করছ।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৫৫

হাদীস নং ৩৩৫৫

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবিত ইবনে কায়েস রা.-কে (কয়েকদিন) তাঁর মজলিসে অনুপস্থিত পেলেন।

তখন এক সাহাবী বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তার সম্পর্কে জানি। তিনি গিয়ে দেখলেন সাবিত রা. তাঁর ঘরে নত মস্তকে (গভীর চিন্তায়মগ্ন অবস্থায়) বসে আছেন।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হে সাবিত, কি অবস্থা তোমার? তিনি বললেন, অত্যন্ত করুণ। বস্তুত: তার গলার স্বর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গলার স্বর থেকে উঁচু হয়েছিল।

কাজেই (কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী) তার সব নেক আমল বরবাদ হয়ে গেছে। সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেছে।ঐ ব্যক্তি ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানালেন সাবিত রা. এমন এমন বলেছে।

মূসা ইবনে আনাস রহ. (একজন রাবী) বলেন, ঐ সাহাবী পুনরায় এ মর্মে এক মহাসুসংবাদ নিয়ে হাযির হলেন (সাবিতের খেদমতে) যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি যাও সাবিতকে বল, নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভূক্ত নও বরং তুমি জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভূক্ত।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৫৬

হাদীস নং ৩৩৫৬

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সাহাবী (উসায়দ ইবনে হুযায়ব) (রাত্রিকালে) সূরা কাহফ তিলাওয়াত করছিলেন।

তাঁর বাড়ীতে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। ঘোড়াটি তখন (আতংকিত হয়ে) লাফালাফি করতে লাগল। তখন ঐ সাহাবী শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর দরবারে দু’আ করলেন।

তারপর তিনি দেখতে পেলেন, একখণ্ড মেঘ এসে তাকে ঢেকে ফেলেছে। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে বিষয়টি আলোচনা করলেন।

তিনি বললেন, হে অমুক তুমি এভাবে তিলাওয়াত করতে থাকবে। ইহা তো সাকীনা-প্রশান্তি ছিল, যা কুরআন তিলাওয়াতের কারণে নাযিল হয়েছিল।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৩৫৭

হাদীস নং ৩৩৫৭

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ………..বারা ইবন আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আবু বকর রা. আমার পিতার নিকট আমাদের বাড়ীতে আসলেন।

তিনি আমার পিতার নিকট থেকে একটি হাওদা ক্রয় করলেন এবং আমার পিতাকে বললেন, তোমার ছেলে বারাকে আমার সাথে হাওদাটি বয়ে নিয়ে যেতে বল। আমি হাওদাটি বহন করে তাঁর তাঁর সাথে চললাম।

আমার পিতাও উহার মূল্য গ্রহণের জন্য আমাদের সঙ্গী হলেন। আমার পিতা তাকে বললেন, হে আবু বকর দয়া করে আপনি আমাদেরকে বলুন, আপনারা কি করেছিলেন, যে রাতে (হিজরতের সময়) আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথী ছিলেন?

তিনি বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। আমরা (সাওর গুহা থেকে বের হয়ে) সারারাত চলে পরদিন দুপুর পর্যন্ত চললাম। যখন রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ল, রাস্তায় কোন মানুষের যাতায়াত ছিল না।

হঠাৎ একটি লম্বা ও চওড়া পাথর আমাদের নযরে পড়ল, যার পতিত ছায়ায় সূর্যের তাপ প্রবেশ করছিল না। আমরা সেখানে গিয়ে অবতরণ করলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নিজ হাতে একটি জায়গা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে নিলাম, যাতে সেখানে তিনি ঘুমাতে পারেন।

আমি ঐ স্থানে একটি চামড়ার বিছানা পেতে দিলাম এবং বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি শুয়ে পড়ুন। আমি আপনার নিরাপত্তার জন্য পাহারায় নিযুক্ত রইলাম। তিনি শুয়ে পড়লেন।

আর আমি চারপাশের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য বেরিয়ে পড়লাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম, একজন মেষ রাখাল তার মেষপাল নিয়ে পাথরের দিকে ছুটে আসছে। সেও মদীনার কি মক্কার এক ব্যক্তির নাম বলল, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তোমার মেষপালে কি দুগ্ধবতী মেষ আছে?

সে বলল, হ্যাঁ, আছে। আমি বললাম, তুমি কি দোহন করে দিবে? সে বলল, হ্যাঁ। তারপর সে একটি বকরী ধরে নিয়ে এল। আমি বললাম, এর স্তন ধূলা-বালু, পশম ও ময়লা থেকে পরিষ্কার করে নাও।

রাবী আবু ইসহাক রহ. বলেন, আমি বারা রা.-কে দেখলাম এক হাত অপর হাতের উপরে রেখে ঝাড়ছেন। তারপর ঐ যুবক একটি কাঠের বাটিতে কিছু দুধ দোহন করল। আমার সাথেও একটি চামড়ার পাত্র ছিল।

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অজুর পানি ও পান করার পানি রাখার জন্য নিয়ে ছিলাম। আমি দুধ নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। (তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন) তাকে জাগানো উচিত মনে করলাম না। কিছুক্ষণ পর তিনি জেগে উঠলেন। আমি দুধ নিয়ে হাযির হলাম।

আমি দুধের মধ্যে সামান্য পানি ঢেলেছিলাম তাঁতে দুধের নীচ পর্যন্ত ঠাণ্ডা হয়ে গেল। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি দুধ পান করুন।

তিনি পান করলেন, আমি তাঁতে বললাম, হ্যাঁ হয়েছে। পুনরায় শুরু হল আমাদের যাত্রা। ততক্ষণে সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে। সুরাকা ইবনে মালিক (অশ্বারোহণে) আমাদের পশ্চাদ্ধাবন করছিল। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের অনুধাবনে কে যেন আসছে। তিনি বললেন, চিন্তা করোনা, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিরুদ্ধে দু’আ করলেন। তৎক্ষণাৎ আরোহীসহ ঘোড়া তার পেট পর্যন্ত মাটিতে ধেবে গেল, শক্ত মাটিতে।

রাবী যুহায়র এই শব্দটি সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন আমার ধারণা এরূপ শব্দ বলেছিলেন। সুরাকা বললা, আমার বিশ্বাস আপনারা আমার বিরুদ্ধে দু’আ করেছেন।

আমার (উদ্ধারের) জন্য আপনারা দু’আ করে দিন। আল্লাহর কসম, আপনাদের অনুসন্ধানকারীদেরকে আমি ফিরিয়ে নিয়ে যাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য জন্য দু’আ করলেন। সে রেহাই পেল।

ফিরে যাওয়ার পথে যার সাথে তার সাক্ষাত হত, সে বলত (এদিকে গিয়ে পণ্ডশ্রম করো না)। আমি সব দেখে এসেছি। যাকেই পেয়েছে, ফিরিয়ে নিয়েছে। আবু বকর রা. বলেন, সে আমাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করেছে।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৩৫৮

হাদীস নং ৩৩৫৮

মুআল্লাহ ইবনে আসাদ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন অসুস্থ একজন বেদুঈনকে দেখতে (তার বাড়ীতে) গেলেন।

রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভ্যাস ছিল যে, পীড়িত ব্যক্তিকে দেখতে গেলে বলতেন, কোন দুশ্চিন্তার কারণ নেই, ইনশাআল্লাহ (পীড়াজনিত দুঃখকষ্টের কারণে) গোনাহ থেকে তুমি পবিত্র হয়ে যাবে।

ঐ বেদুঈনকেও তিনি বললেন, চিন্তার কারণ নেই গুনাহ থেকে তুমি পবিত্র হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। বেদুঈন বলল, আপনি বলেছেন, গুনাহ থেকে তুমি পবিত্র হয়ে যাবে।

তা তোন নয়। বরং এতো এমন এক জ্বর যা বয়ঃবৃদ্ধের উপর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। তাকে কবরের সাক্ষাৎ ঘটিয়ে ছাড়বে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাই হউক (পরদিন অপরাহ্নে সে মারা গেল)।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৫৯

হাদীস নং ৩৩৫৯

আবু মামার রহ………..আনাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক খৃষ্টান ব্যক্তি মুসলমান হল এবং সূরা বাকারা ও সূরা আলে-ইমরান শিখে নিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য সে অহী লিপিবদ্ধ করত।

তারপর সে পুনরায় খৃষ্টান হয়ে গেল সে বলতে লাগল, আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যা লিখে দিতাম তার চেয়ে অধিক কিছু তিনি জানেন না।

(নাউজুবিল্লাহ) কিছুদিন পর আল্লাহ তাকে মৃত্যু দিলেন। খৃষ্টানরা তাকে যথারীতি দাফন করল। কিন্তু পরদিন সকালে দেখা গেল, কবরের মাটি তাকে বাইরে নিক্ষেপ করে দিয়েছে। তা দেখে খৃষ্টানরা বলতে লাগল-এটা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদেরই কাজ। যেহেতু আমাদের এ সাথী তাদের থেকে পালিয়ে এসেছিল।

এ জন্যই তারা আমাদের সাথীকে কবর থেকে উঠিয়ে বাইরে ফেলে দিয়েছে। তাই যতদূর সম্ভব গভীর করে কবর খুঁড়ে তাতে তাকে পুনরায় দাফন করল।

কিন্তু পরদিন সকালে দেখা গেল, কবরের মাটি তাকে আবার বাইরে ফেলে দিয়েছে। এবারও তারা বলল, এটা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের কাণ্ড।

তাদের নিকট থেকে পালিয়ে আসার কারণে তারা আমাদের সাথীকে কবর থেকে উঠিয়ে বাইরে ফেলে দিয়েছে। এবার আরো গভীর করে কবর খনন করে সমাহিত করল।

পরদিন ভোরে দেখা গেল কবরের মাটি এবারও তাকে বাইরে নিক্ষেপ করেছে। তখন তারাও বুঝতে পারল, এটা মানুষের কাজ নয়। কজেই তারা শবদেহটি বাইরেই ফেলে রাখল।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৬০

হাদীস নং ৩৩৬০

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কিসরা ধ্বংস হবে, তারপর অন্য কোন কিসরার আবির্ভাব হবে না।

যখন কায়সার ধ্বংস হবে তখন আর কোন কায়সারের আবির্ভাব হবে না। (তিনি এও বলেছেন) ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ নিশ্চয়ই এ দুই সাম্রাজ্যের ধন-ভাণ্ডার তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৬১

হাদীস নং ৩৩৬১

কাবীসা রহ…………..জাবির ইবনে সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিসরা ধ্বংস হবে, তারপর অন্য কোন কিসরার আবির্ভাব হবে না।

যখন কায়সার ধ্বংস হবে তখন আর কোন কায়সারের আবির্ভাব হবে না। রাবী উল্লেখ করেন যে, (তিনি এও বলেছেন) নিশ্চয়ই তাদের ধন-ভাণ্ডার তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করা হবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৬২

হাদীস নং ৩৩৬২

আবুল ইয়ামান রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় মুসায়লামাতুল কাযযাব আসল এবং বলতে বলতে লাগল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তাঁর পর আমাকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেন, তাহলে আমি তাঁর অনুসরণ করব।

তার স্বজাতির এক বিরাট বাহিনী সঙ্গে নিয়ে সে এসেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট আসলেন। আর তাঁর সাথী ছিলেন সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শাম্মাস রা.।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে খেজুরের একটি ডাল ছিল। তিনি সাথী দ্বারা বেষ্টিত মুসায়লামার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং বললেন, তুমি যদি আমার নিকট খেজুরের এই ডালটিও চাও, তবুও আমি তা তোমাকে দিবনা। তোমার সম্বন্ধে আল্লাহর যা ফায়সালা তা তুমি লংঘন করতে পারবেনা।

যাদি তুমি কিছু দিন বেচেও থাক তবুও আল্লাহ তোমাকে অবশ্যই ধ্বংস করে দিবেন। নিঃসন্দেহে তুমি ঐ ব্যক্তি যার সম্বন্ধে স্বপ্নে আমাকে সব কিছু দেখান হয়েছে।

(ইবনে আব্বাস রা. বলেন) আবু হুরায়রা রা. আমাকে জানিয়েছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (একদিন) আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখতে পেলাম আমার দু’হাতে সোনার দুটি বালা শোভা পাচ্ছে।

বালা দুটি আমাকে ভাবিয়ে তুলল। স্বপ্নেই আমার নিকট অহী এল, আপনি ফুক দিন। আমি তাই করলাম। বালা দুটি উড়ে অদৃশ্য হয়ে গেল।

আমি স্বপ্নের ব্যাখ্যা এভাবে করলাম, আমার পর দুজন কাযযাব (চরম মিথ্যাবাদী) আবির্ভূত হবে এদের একজন আসওয়অদ আনসী, অপরজন ইয়ামামার বাসিন্দা মুসায়লামাতুল কাযযাব।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৩৬৩

হাদীস নং ৩৩৬৩

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ………..আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, আমি মক্কা থেকে হিজরত করে এমন এক স্থানে যাচ্ছি যেখানে প্রচুর খেজুর গাছ রয়েছে। তখন আমার ধারণা হল, এ স্থানটি ইয়ামামা অথবা হাযর হবে।

পরে বুঝতে পেলাম, স্থানটি মদীনা ছিল। যার পূর্বনাম ইয়াসরিব। স্বপ্নে আমি আরো দেখতে পেলাম যে আমি একটি তরবারী হাতে নিয়ে নাড়াচড়া করছি। হঠাৎ তার অগ্রভাগ ভেঙ্গে গেল।

উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের যে বিপর্যয় ঘটেছিল এটা তা-ই। তারপর দ্বিতীয় বার তরবারীটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করলাম তখন তরবারীটি পূর্বাবস্থার চেয়েও অধিক উত্তম হয়ে গেল।

এর তাৎপর্য হল যে, আল্লাহ মুসলমানগণকে বিজয়ী ও একত্রিত করে দিবেন। আমি স্বপ্নে আরো দেখতে পেলাম, একটি গরু (যা যাবই করা হচ্ছে) এবং শুনতে পেলাম আল্লাহ যা করেন সবই ভাল।

এটাই হল উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের শাহাদত বরণ। আর খায়ের হল—আল্লাহর তরফ থেকে আগত ঐ সকল কল্যাণই কল্যাণ এবং সত্যবাদিতার পুরস্কার যা আল্লাহ আমাদেরকে বদর যুদ্ধের পর দান করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৬৪

হাদীস নং ৩৩৬৪

আব নুআইম রহ………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চলার ভঙ্গিতে চলতে চলতে ফাতিমা রা. আমাদের নিকট আগমন করলেন। তাকে দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার স্নেহের কন্যাকে অনেক অনেক মোবারকবাদ।

তারপর তাকে তার ডানপাশে অথবা বামপাশে বসালেন এবং তাঁর সাথে চুপিচুপি (কি যেন) কথা বললেন। তখন তিনি কেঁদে দিলেন। আমি তাকে বললাম, কাঁদছেন কেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় চুপিচুপি তার সাথে কথা বললেন। তিনি এবার হেসে উঠলেন।

আমি বললাম, আজকের মত দুঃখ ও বেদনার সাথে সাথে আনন্দ ও খুশী আমি আর কখনো দেখিনি। আমি তাকে কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি বলেছিলেন? তিনি উত্তর দিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন কথাকে প্রকাশ করব না।

পরিশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকাল হয়ে যাওয়ার পর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি কি বলেছিলেন?

তিনি বললেন, তিনি প্রথম বার আমাকে বলেছিলেন, জিবরাঈল আ. প্রতি বছর একবার আমার সঙ্গে পরস্পর কুরআন পাঠ করতেন, এ বছর দু’বার এরূপ পড়ে শুনিয়েছেন। আমার মনে হয় আমার বিদায় কাল ঘনিয়ে এসেছে এবং এরপর আমার পরিবারের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সাথে মিলিত হবে।

তা শুনে আমি কেঁদে দিলাম। দ্বিতীয়বার বলেছিলেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, জান্নাতবাসী মহিলাদের অথবা মুমিন মহিলাদের তুমি সরদার হবে। এ কথা শুনে আমি হেসেছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৬৫

হাদীস নং ৩৩৬৫

ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগকালে তাঁর কন্যা ফাতিমা রা.-কে ডেকে পাঠালেন।

এরপর চুপিচুপি কি যেন বললেন। ফাতিমা রা. তা শুনে কেঁদে ফেললেন। তারপর আবার ডেকে তাকে চুপিচুপি আরো কি যেন বললেন। এতে ফাতিমা রা. হেসে উঠলেন।

আয়েশা রা. বলেন, আমি হাসি-কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, (প্রথম বার) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে চুপে চুপে বলেছিলেন, যে রোগে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন এ রোগেই তাঁর ওফাত হবে ; তাই আমি কেঁদে দিয়েছিলাম।

এরপর তিনি চুপিচুপি আমাকে বলেছিলেন, তার পরিবার-পরিজনের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম তাঁর সাথে মিলিত হব, এতে আমি হেসে দিয়েছিলাম।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৩৬৬

হাদীস নং ৩৩৬৬

মুহাম্মদ ইবনে আরআরা রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব রা. ইবনে আব্বাস রা.-কে বিশেষ মর্যাদা দান করতেন।

একদিন আবদুর রাহমান ইবনে আউফ রা. তাকে বললেন, তাঁর মত ছেলে তো আমাদেরও রয়েছে। এতে তিনি বললেন, এর কারণ তো আপনি নিজেও জানেন। তখন উমর রা. ইবনে আব্বাস রা.-কে ডেকে إذ جاء نصر الله والفتح আয়াতের ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করেন।

ইবনে আব্বাস রা. উত্তর দিলেন, এ আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর ওফাত নিকটবর্তী বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। উমর রা. বললেন, আমিও এ আয়াতের এ ব্যাখ্যাই জানি, যা তুমি জান।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৬৭

হাদীস নং ৩৩৬৭

আবু নুআইম রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর (একদিন বৃহস্পতিবার) একটি চাদর পরিধান করে এবং মাথায় একটি কাল কাপড় দিয়ে পট্রি বেঁধে ঘরে থেকে বের হয়ে সোজা মিম্বরের উপর গিয়ে বসলেন।

আল্লাহ তা’আলার হামদ ও সানা পাঠ করার পর বললেন, আম্মা বাদ। লোক সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকবে, আর আনসারদের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকবে।

ক্রমান্বয়ে তাদের অবস্থা লোকের মাঝে এ রকম দাঁড়াবে যেমন খাদ্যের মধ্যে লবণ। তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মানুষকে উপকার বা ক্ষতি করার মত ক্ষমতা লাভ করবে তখন সে যেন আনসারদের ভাল কার্যাবলী কবূল করে এবং তাদের ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমার চোখে দেখে।

এটাই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশেষ মজলিস।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৬৮

হাদীস নং ৩৩৬৮

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন হাসান রা.-কে নিয়ে বেরিয়ে এলেন এবং তাকে সহ মিম্বরে আরোহণ করলেন। তারপর বললেন, এ ছেলেটি (নাতি) সাইয়্যেদ । নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা এর মাধ্যমে বিবদমান দু’দল মুসলমানদের আপোস করিয়ে দিবেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৬৯

হাদীস নং ৩৩৬৯

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফর এবং যায়েদ রা. এর শাহাদত লাভের সংবাদ (আমাদেরকে) জানিয়ে দিয়েছিলেন, (যুদ্ধক্ষেত্র থেকে) তাদের উভয়ের শাহাদত লাভের সংবাদ আসার পূর্বেই। তখন তাঁর চক্ষু যুগল অশ্রু বর্ষণ করছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৭০

হাদীস নং ৩৩৭০

আমর ইবনে আব্বাস রহ……….জাবির রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন? তোমাদের নিকট আনমাত (গালিচার কার্পেট) আছে কি?

আমি বললাম, আমরা তা পা কোথায়? তিনি বললেন, অচিরেই তোমরা আনমাত লাভ করবে। (আমর স্ত্রী যখন আমার শয্যায় তা বিছিয়ে দেয়) তখন আমি তাকে বলি, আমার বিছানা থেকে এটা সরিয়ে নাও।

তখন সে বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা কি তা বলেন নাই যে, অচিরেই তোমরা আনমাত পেয়ে যাবে? তখন আমি তা (বিছানো অবস্থায়) থাকতে দেই।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৩৭১

হাদীস নং ৩৩৭১

আহমদ ইবনে ইসহাক রহ………আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাদ ইবনে মুআয রা. ওমরা আদায় করার জন্য (মক্কা) গমন করলেন এবং সাফওয়ানের পিতা উমাইয়া ইবনে খালাফ এর বাড়ীতে তিনি অতিথি হলেন।

উমাইয়াও সিরিয়ায় গমনকালে (মদীনায়) সাদ রা.-এর বাড়িতে অবস্থান করত। উমাইয়া সাদ রা.-কে বলর, অপেক্ষা করুন, যখন দুপুর হবে এবং যখন চলাফেরা কমে যাবে, তখন আমি যেয়ে তাওয়াফ করে নিবেন। সাদ রা. তাওয়াফ করছিলেন। এমতাবস্থায় আবু জেহেল এসে হাযির হল।

সাদ রা.-কে দেখে জিজ্ঞাসা করল, এ ব্যক্তি কে? যে কাবার তাওয়াফ করছে? সাদ রা. বললেন, আমি সাদ। আবু জেহেল বলল, তুমি নির্বিঘ্নে কাবার তাওয়াফ করছ? অথচ তোমরাই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাথীদেরকে আশ্রয় দিয়েছ? সাদ রা. বললেন, হ্যাঁ।

এভাবে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে গেল। তখন উমাইয়া সাদ রা.-কে বলল, আবুল হাকামের সাথে উচ্চস্বরে কথা না, কেননা সে মক্কাবাসীদের নেতা। এরপর সাদ রা. বললেন, আল্লাহর কসম! তুমি যদি আমাকে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে বাধা প্রদান কর, তবে আমিও তোমার সিরিয়ার সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের রাস্তা বন্ধ করে দিব।

উমাইয়া সাদ রা.-কে তখন বলতে লাগল তোমার স্বর উচু করো না এবং সে তাকে বিরত করতে চেষ্টা করতে লাগল। তখন সাদ রা. ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন, আমাকে ছেড়ে দাও।

আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তারা তোমাকে হত্যা করবে। উমাইয়া বলল, আমাকেই ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। উমাইয়া বলল, আল্লাহর কসম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও মিথ্যা কথা বলেন না। এরপর উমাইয়া তার স্ত্রীর কাছে ফিরে এসে বলল, তুমি কি জান, আমার ইয়াসরিবী ভাই (মদীনা) আমাকে কি বলেছে?

স্ত্রী জিজ্ঞাসা করল কি বলছে? উমাইয়া বলল, সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো মিথ্যা বলেন না। যখন মক্কার মুশরিকরা বদরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হল এবং আহবানকারী আহবান চালাল।

তখন উমাইয়ার স্ত্রী তাকে স্মরণ করিয়ে দিল, তোমার ইয়াসরিবী ভাই তোমাকে যে কথা বলছিল সে কথা কি তোমার স্মরণ নেই? তখন উমাইয়া (বদরের যুদ্ধে) না যাওয়াই সিদ্ধান্ত নিল।

আবু জেহেল তাকে বলল, তুমি এ অঞ্চলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। (তুমি যদি না যাও তবে কেউ-ই যাবে না) আমাদের সাথে দুই একদিনের পথ চল।

(এরপর না হয় ফিরে আসবে)। উমাইয়া তাদের সাথে চলল। আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছায় (বদর প্রান্তে মুসলমানদের হাতে) সে নিহত হল।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৭২

হাদীস নং ৩৩৭২

আবদুর রহমান ইবনে শায়বা রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একদা লোকজনকে একটি মাঠে সমবেত দেখতে পেলাম।

তখন আবু বকর রা. উঠে দাঁড়ালেন এবং এক অথবা দুই বালতি পানি উঠালেন। পানি উঠাতে তিনি দুর্বলতা বোধ করছিলেন। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। তারপর উমর রা. বালতিটি হাতে নিলেন। বালতিটি তখন বৃহদাকার হয়ে গেল।

আমি মানুষের মধ্যে পানি উঠাতে উমরের মত দক্ষ ও শক্তিশালী নিয়ে গেল। হাম্মাম রহ. (একজন রাবী) বলেন, আমি আবু হুরায়রা. রা.-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি আবু বকর দু’বালতি পানি উঠালেন।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৩৭৩

হাদীস নং ৩৩৭৩

আব্বাস ইবনে ওয়ালীদ রহ……..আবু উসমান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে জানানো হল যে, একবার জিবরাঈল আ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন। তখন উম্মে সালামা রা. তাঁর নিকট ছিলেন। তিনি এসে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করলেন।

তারপর উঠে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সালামাকে জিজ্ঞাসা করলেন, লোকটিকে চিনতে পেরেছ কি ? তিনি বললেন, এতো দেহইয়া।

উম্মে সালামা রা. বলেন, জিবরাঈল আ.-এর আগমনের কথা বলতে শুনলাম। (সুলাইমান রা. বলেন) আমি আবু উসমানকে জিজ্ঞাসা করলাম এ হাদীসটি আপনি কার কাছে শুনেছেন? তিনি বললেন, উসামা ইবনে যায়েদ রা.-নিকট শুনেছি।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৭৪ – মহান আল্লাহর বাণী: কাফিরগণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সেরূপ চিনে যেরূপ তারা তাদের সন্তানদেরকে চিনে, এবং তাদের এক দল জেনে শুনেই সত্য গোপন করে থাকে।(২: ১৪৬)

হাদীস নং ৩৩৭৪

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, ইয়াহুদীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে এসে বলল, তাদের একজন পুরুষ ও একজন মহিলা ব্যভিচার করেছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করা সম্পর্কে তাওরাতে কি বিধান পেয়েছে? তারা বলল, আমরা এদেরকে লাঞ্ছিত করব এবং তাদের বেত্রাঘাত করা হবে। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা. বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ।

তাওরাতে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যার বিধান রয়েছে। তারা তাওরাত নিয়ে এসে বাহির করল এবং প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করা সংক্রান্ত আয়াতের উপর হাত রেখে তার পূর্বে ও পরের আয়াতগুলি পাঠ করল। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রহ. বললেন, তোমার হাত সরাও। সে হাত সরাল।

তখন দেখা গেল তথায় প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করার বিধান রয়েছে। তখন ইয়াহুদীরা বলল, হে মুহাম্মদ! তিনি সত্যই বলছেন। তাওরাতে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যার বিধানই রয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্তর নিক্ষেপে দু’জনকে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন।

আবদুল্লাহ রা. বলেন, আমি (প্রস্তর নিক্ষপকালে) ঐ পুরুষটি মেয়েটির দিকে ঝুঁকে পড়তে দেখেছি। সে মেয়েটিকে প্রস্তরের আঘাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৭৫ – মুশরিকরা মুজিযা দেখানোর জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আহবান জানালে তিনি চাঁদ দু’টুকরা করে দেখালেন।

হাদীস নং ৩৩৭৫

সাদাকা ইবনে ফাযল রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সাক্ষী থাক।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৭৬

হাদীস নং ৩৩৭৬

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ও খলীফা রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, মক্কাবাসী কাফিররা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট মুজিযা দেখানোর জন্য দাবী জানালে তিনি তাদেরকে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করে দেখালেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৭৭

হাদীস নং ৩৩৭৭

খালাফ ইবনে খালিদ আল-কুরায়শী রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৭৮ – পরিচ্ছেদ ২০৭৮

হাদীস নং ৩৩৭৮

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’জন সাহাবী (আব্বাদ ইবনে বিশর ও উসাইদ ইবনে হুযাইর রা.)অন্ধকার রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে হতে বের হলেন, তখন তাদের সাথে দুটি বাতির ন্যায় কিছু তাদের সম্মুখভাগ আলোকিত করে চলল।

যখন তারা পৃথক হয়ে গেলেন তখন প্রত্যেকের সাথে এক একটি বাতি চলতে লাগল। অবশেষে তাঁরা নিজ নিজ বাড়ীতে পৌছে গেলেন।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৩৭৯

হাদীস নং ৩৩৭৯

আবদুল্লাহ ইবনে আবুল আসওয়াদ রহ………..মুগিরা ইবনে শুবা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা বিজয়ী থাকবে। এমন কি কিয়ামত আসবে তখনও তারা বিজয়ী থাকবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৮০

হাদীস নং ৩৩৮০

হুমাইদী রহ……….মুআবিয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর দীনের উপর অটল থাকবে।

তাদেরকে যারা সাহায্য না করবে অথবা তাদের বিরোধীতা করবে, তারা তাদের কোন প্রকার প্রকার ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি কিয়ামত আসা পর্যন্ত তাঁরা তাদের অবস্থার উপর মজবুত থাকবে।

উমাইর ইবনে হানী রহ. মালিক ইবনে ইউখামিরের রহ. বরাত দিয়ে বলেন, মুআয রা. বলেছেন, ঐ দলটি সিরিয়ার অবস্থান করবে। মুআবিয়া রহ. বলেন, মালিক রহ.-এর ধারণা যে ঐ দলটি সিরিয়ায় অবস্থান করবে বলে মুআয রা. বলেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৮১

হাদীস নং ৩৩৮১

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….উরওয়া বারিকী রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বকরী ক্রয় করে দেয়ার জন্য তাকে একটি দিনার দিলেন।

তিনি ঐ দীনার দিয়ে দুটি বকরী ক্রয় করলেন। তারপর এক দীনার মূল্যে একটি বকরী বিক্রি করে দিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে একটি বকরী ও একটি দীনার নিয়ে হাযির হলেন। তা দেখে তিনি তার ব্যবসা বাণিজ্যে বরকত হওয়ার জন্য দু’আ করে দিলেন।

এরপর তার অবস্থা এমন হল যে, ব্যবসার জন্য যদি মাটিও তিনি খরীদ করতেন তাতেও তিনি লাভবান হতেন। সুফিয়ান রহ. শাবীব রহ. বলেন, আমি উরওয়া রা.-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ঘোড়ার কপালের কেশগুচ্ছ বরকত ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে কিয়ামত পর্যন্ত।

রাবী বলেন, আমি তার গৃহে সত্তরটা ঘোড়া দেখেছি। সুফিয়ান রহ. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য যে বকরীটি ক্রয় করা হয়েছিল, তা ছিল কুরবানীর উদ্দেশ্যে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৮২

হাদীস নং ৩৩৮২

মুসাদ্দাদ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঘোড়ার কপালের কেশগুচ্ছে কিয়ামত পর্যন্ত কল্যাণ ও বরকত নিহিত রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৮৩

হাদীস নং ৩৩৮৩

কায়স ইবনে হাফস রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঘোড়ার কপালে কল্যাণ ও বরকত নিহিত রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৮৪

হাদীস নং ৩৩৮৪

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘোড়া তিন প্রকার।

(ঘোড়া পালন) একজনের জন্য পূণ্য, আর একজনের জন্য (দারিদ্র্য ঢেকে রাখার) আবরণ ও অন্য আর একজনের জন্য পাপের কারণ।

সে ব্যক্তির জন্য পূণ্য যে, আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদ করার উদ্দেশ্যে) ঘোড়াকে সদা প্রস্তুত রাখে এবং সে ব্যক্তি যখন লম্বা দড়ি দিয়ে ঘোড়াটি কোন চারণভূমি বা বাগানে বেঁধে রাখে তখন ঐ লম্বা দড়ির মধ্যে চারণভূমি অথবা বাগানের যে অংশ পড়বে তত পরিমাণ সাওয়াব সে পাবে।

যদি ঘোড়াটি দড়ি ছিড়ে ফেলে এবং দুই একটি টিলা পার হয়ে কোথাও চলে যায় তার পরে তার লেদাগুলিও নেকী বলে গণ্য হবে। যদি কোন নদী-নালায় গিয়ে পানি পান করে, মালিক যদিও পানি পান করানোর ইচ্ছা করে নাই তাও তার নেক আমলে গণ্য হবে।

আর যে ব্যক্তি নিজের স্বচ্ছলতা দারিদ্র্যের গ্লানি ও পরমুখাপেক্ষিতা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য ঘোড়া পালন করে এবং তার গর্দান ও পিঠে আল্লাহর যে হক রয়েছে তা ভুলে না যায়।

তবে এই ঘোড়া তার জন্য আযাব থেকে আবরণ স্বরূপ। অপর এক ব্যক্তি যে অহংকার, লোক দেখানো এবং আহলে ইসলামের সাথে শত্রু তার কারণে ঘোড়া লালন-পালন করে এ ঘোড়া তার জন্য পাপের বোঝা হবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গাধা (পালন) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বললেন, এ সম্বন্ধে নির্দিষ্ট কোন আয়াত আমার নিকট অবতীর্ণ হয়নি।

তবে ব্যাপক অর্থবোধক অনুপম আয়াতটি আমার নিকট নাযিল হয়েছে : যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ নেক আমল করবে সে তার প্রতিফল অবশ্যই দেখতে পাবে। আর যে ব্যক্তি অণূ পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সেও তার প্রতিফল দেখতে পাবে।(৯৯: ৭৮)।

বুখারি হাদিস নং ৩৩৮৫

হাদীস নং ৩৩৮৫

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব ভোরে খায়বারে পৌঁছলেন।

তখন খায়বারবাসী কোদাল নিয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছিল। তাকে দেখে তারা বলতে লাগল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরা সৈন্যবাহিনী নিয়ে এসে পড়েছে। (এ বলে) তারা দৌড়াদৌড়ি করে তাদের সুরক্ষিত কিল্লায় ঢুকে পড়ল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’হাত উপরে উঠিয়ে বললেন, আল্লাহু আকবার খায়বার ধ্বংস হোক, আমরা যখন কোন জাতির (বিরুদ্দে অভিযান চালিয়ে) তাদের আঙ্গিনায় অবতরণ করি তখন এসব আতংকগস্থ লোকদের প্রভাতটি অত্যন্ত অশুভ হয়।

আবু আবদুল্লাহ (বুখারী রহ.) বলেন, “ফারাআ ইয়াদাইহি” শব্দটি বর্জন করুন। কেননা আমার ধারণা যে, এ শব্দটি বিশুদ্ধ বর্ণনায় পাওয়া যায় না। যদি পাওয়াও যায় তবে তা নিশ্চয়ই অপ্রসিদ্ধ হবে।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৩৮৬

হাদীস নং ৩৩৮৬

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার থেকে অনেক হাদীস আমি শুনেছি, তবে তা আমি ভুলে যাই।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার চাদরটি বিছাও। আমি চাদরটি বিছিয়ে দিলাম। তিনি তার হাত দিয়ে চাদরের মধ্যে কি যেন রাখলেন এবং বললেন, চাদরটি চেপে ধর। আমি (বুকের সাথে) চেপে ধরলাম, তারপর আমি আর কোন হাদীস ভুলি নাই।

আরও পড়ুনঃ

সলম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

পানি সিঞ্চন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

কলহ বিবাদ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

ইতিকাফ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

সহিহ বুখারী

মন্তব্য করুন