নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ১ম পার্ট- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ১ম পার্ট

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ১ম পার্ট- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

Table of Contents

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ১ম পার্ট- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২৪৩

হাদীস নং ৩২৪৩

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ‍! মানুষের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান কে ?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে সর্বাধিক মুত্তাকী সে-ই অধিক সম্মানিত। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ! আমরা এ ধরণের কথা জিজ্ঞাসা করিনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে আল্লাহর নবী ইউসুফ আ.।

বুখারি হাদিস নং ৩২৪৪

হাদীস নং ৩২৪৪

কায়স ইবনে হাফস রহ………কুলায়েব ইবনে ওয়ায়েল রহ. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভিভাবকত্বে পালিত আবু সালমার কন্যা যায়নাকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি বলুন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মুযার গোত্রের ছিলেন?

তিনি বললেন, বনু নযর ইবনে কিনান উদ্ভুত গোত্র মুযার ছাড়া আর কোন গোত্র থেকে হবেন? এবং মুযার গোত্র নাযর ইবনে কিনান গোত্রের একটি শাখা ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩২৪৫

হাদীস নং ৩২৪৫

মূসা রহ……….কুলায়েব বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভিভাবকত্বে পালিতা কন্যা বলেন, আর আমার ধারণা তিনি হলেন যায়নাব।

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুদর বাওশ, সবুজ মাটির পাত্র মুকাইয়ার ও মুযাফফাত (আলকাতরা লাগানো পাত্র বিশেষ) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।

কুলায়েব বলেন, আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, বলেন ত দেখি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন গোত্রের ছিলেন? তিনি কি মুযার গোত্রের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন ?

তিনি জবাব দিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযার গোত্র ছাড়া আর কোন গোত্রের হবেন? আর মুযার নাযর ইবনে কিনানার বংশধর ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩২৪৬

হাদীস নং ৩২৪৬

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মানুষকে খনির ন্যায় পাবে।

জাহিলী যুগের উত্তম ব্যক্তিগণ ইসলাম গ্রহণের পরও তারা উত্তম। যখন তারা দীনী জ্ঞান অর্জন করে আর তোমরা শাসন ও নেতৃত্বের ব্যাপারে লোকদের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তিকে পাবে যে এই ব্যাপারে তাদের মধ্যে সবচাইতে অধিক অনাসক্ত।

আর মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ঐ দুমুখী ব্যক্তি যে একদলের সাথে একভাবে কথা বলে অপর দলের সাথে অন্যভাবে কথা বলে।

বুখারি হাদিস নং ৩২৪৭

হাদীস নং ৩২৪৭

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, খিলাফত ও নেতৃত্বের ব্যাপারে সকলেই কুরাইশের অনুগত থাকবে।

মুসলমানগণ তাদের মুসলমানদের এবং কাফেরগণ তাহাদের কাফেরদের অনুগত। আর মানব সমাজ খনির ন্যায় জাহিলী যুগের উত্তম ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পরও উত্তম তারা দীনী জ্ঞানার্জন করে।

তোমরা নেতৃত্ব ও শাসনের ব্যাপারে ঐ ব্যক্তিকেই সর্বোত্তম পাবে যে এর প্রতি অনাসক্ত, যে পর্যন্ত না সে তা গ্রহণ করে।

বুখারি হাদিস নং ৩২৪৮ – পরিচ্ছেদ ২০৫২

হাদীস নং ৩২৪৮

মুসাদ্দাদ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, إلا المودة في القربى এ আয়াতের প্রসঙ্গে রাবী তাউস রহ. বলেন যে, সায়িব ইবনে জুবাইর রা. বলেন, কুরবা শব্দ দ্বারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিটক আত্মীয়কে বুঝান হয়েছে।

তখন ইবনে আব্বাস রা. বলেন, কুরাইশের এমন কোন শাখা-গোত্র নেই যাদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়তা ছিল না। আয়াতখানা তখনই নাযিল হয়। অর্থাৎ তোমরা আমার ও তোমাদের মধ্যকার আত্মীয়তার প্রতি দৃষ্টি রাখ।

বুখারি হাদিস নং ৩২৪৯

হাদীস নং ৩২৪৯

আলী ইবনে আব্দুল্লাহ রহ………আবু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই পূর্বদিক হতে ফিতনা-ফাসাদের উৎপত্তি হবে।

নির্মমতা ও হৃদয়ের কঠোরতা উট ও গরুর লেজের নিকট। পশমী তাঁবুর অধিবাসীরা রাবীআ ও মুযার গোত্রের যারা উট ও গরুর পিছনে চিৎকার করে (হাঁকায়), তাদের মধ্যেই রয়েছে নির্মমতা ও কঠোরতা।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ১ম পার্ট- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২৫০

হাদীস নং ৩২৫০

আবুল ইয়ামান রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি যে, গর্ব-অহংকার পশম নির্মিত তাঁবুতে বসবাসকারী যারা (উট গরু হাঁকাতে চিৎকার করে) তাদের মধ্যে।

আর শান্তভাবে বকরী পালকদের মধ্যে রয়েছে। ঈমানের দৃষ্টতা এবং হিকমত ইয়ামানবাসীদের মধ্যে রয়েছে। ইমাম বুখারী রহ. বলেন, ইয়ামান নামকরণ করা হয়েছে।

যেহেতু ইহা কাবা ঘরের ডানদিকে (দক্ষিণ) অবস্থিত এবং শাম (সিরিয়া) কাবা ঘরের বাম (উত্তর) দিকে অবস্থিত বিধায় তার শাম নামকরণ করা হয়েছে। والمشأمة অর্থ বাম দিক, বাম হাতকে الشؤمى এবং বাম দিককে أشأم বলা হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩২৫১ – কুরাইশ গোত্রের মর্যাদা

হাদীস নং ৩২৫১

আবুল ইয়ামান রহ………মুহাম্মদ ইবনে জুবাইর ইবনে মুতঈম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুআবিয়া রা.-এর নিকট কুরাইশ প্রতিনিধিদের সহিত তার উপস্থিতিতে সংবাদ পৌঁছালো যে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. বর্ণনা করেন, অচিরেই কাহতান বংশীয় একজন বাদশাহর আবির্ভাব ঘটবে।

ইহা শুনে মুআবিয়া রা. ক্রোধান্বিত হয়ে খুতবা দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য হামদ ও সানার পর তিনি বললেন, আমি জানতে পেরেছি, তোমাদের মধ্য হতে কিছু সংখ্যক লোক এমন সব কথাবার্তা বলতে শুরু করছে যা আল্লাহর কিতাবে নেই এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও বর্ণিত হয়নি।

এরাই মূর্খ, এদের থেকে সাবধান থাক এবং এরূপ কাল্পনিক ধারণা হতে সতর্ক থাক যা-এর পোষণকারীকে বিপথগামী করে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি যে, যতদিন তারা দীন কায়েমে নিয়োজিত থাকবে ততদিন খিলাফত ও শাসন ক্ষমতা কুরাইশদের হাতেই থাকবে। এ বিষয়ে যে-ই তাদের সহিত শত্রু তা করবে আল্লাহ তাকে অধোমুখে নিক্ষেপ করবেন (অর্থাৎ লাঞ্ছিত ও অপমানিত করবেন)।

বুখারি হাদিস নং ৩২৫২

হাদীস নং ৩২৫২

আবুল ওলীদ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এ বিষয়ে (খিলাফত ও শাসন ক্ষমতা) সর্বদাই কুরাইশদের হাতে ন্যস্ত থাকবে, যতদিন তাদের দু’জন লোকও বেঁচে থাকবে।

বুখারি হাদিস নং ৩২৫৩

হাদীস নং ৩২৫৩

আবু নুআঈম ও ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কুরাইশ, আনসার, জুহায়না, মুযায়না, আসলাম, আশজা ও গিফার গোত্রগুলো আমার সাহায্যকারী। আল্লাহ তাঁর রাসূল ব্যতীত তাদের সাহায্যকারী আর কেউ নেই।

বুখারি হাদিস নং ৩২৫৪

হাদীস নং ৩২৫৪

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….জুবাইর ইবনে মুতঈম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং উসমান ইবনে আফফান রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে হাযির হলাম।

উসমান রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি মুত্তালিবের সন্তানগণকে দান করলেন এবং আমাদেরকে বাদ দিলেন। অথচ তারা ও আমরা আপনার বংশগতভাবে সমপর্যয়ের।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বনূ হাশিম ও বনূ মুত্তালিব এক ও অভিন্ন। লায়স………উরওয়া ইবনে জুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর রা. বনূ যুহরার কতিপয় লোকের সাথে আয়েশা রা.-এর খেদমতে হাযির হলেন।

আয়েশা রা. তাদের প্রতি অত্যন্ত নম্র ও দয়ার্দ্র ছিলেন। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাদের আত্মীয়তা ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩২৫৫

হাদীস নং ৩২৫৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………উরওয়া ইবনে জুবাইর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকর রা.-এর পর আয়েশা রা.-এর নিকট সকল লোকদের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয়পাত্র ছিলেন এবং তিনি সকল লোকদের মধ্যে আয়েশা রা.-এর সবচেয়ে বেশী সদাচারী ছিলেন।

আয়েশা রা.-এর নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে রিযিক স্বরূপ যা কিছু আসত তা জমা না রেখে সাদকা করে দিতেন। এত আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর রা. বললেন, অধিক দান খায়রাত করা থেকে তাকে বারণ করা উচিত।

তখন আয়েশা রা. বললেন, আমাকে দান করা থেকে বারণ করা হবে? আমি যদি তার সাথে কথা বলি, তাহলে আমাকে কাফফারা দিতে হবে এবং আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর রা. তাঁর নিকট কুরাইশের কতিপয় লোক, বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতৃবংশের কিছু লোক দ্বারা সুপারিশ করালেন। তবুও তিনি তাঁর সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতৃবংশ বনী যুহরার কতিপয় বিশিষ্ট লোক যাদের মধ্যে আবদুর রাহমান ইবনে আসওয়াদ এবং মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. ছিলেন তারা বললেন, আমরা যখন আয়েশা রা.-এর গৃহে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করব তখন তুমি পর্দার ভিতরে ঢুকে পড়বে।

তিনি তাই করলেন। পরে ইবনে জুবাইর রা. কাফফারা আদায়ের জন্য তার কাছে দশটি ক্রীতদাস পাঠিয়ে দিলেন। আয়েশা রা. তাদের সবাইকে আযাদ করে দিলেন।

এরপর তিনি বরাবর আযাদ করতে লাগলেন। এমনকি তার সংখ্যা চল্লিশে পৌঁছে।

আয়েশা রা. বললেন, আমি যখন কোন কাজ করার শপথ করি, তখন আমার সংকল্প থাকে যে আমি যেন সে কাজটা করে দায়িত্ব মুক্ত হয়ে যাই এবং তিনি আরো বলেন, আমি যখন কোন কাজ সম্পাদনের শপথ করি উহা যথাযথ পূরণের ইচ্ছা রাখি।

বুখারি হাদিস নং ৩২৫৬ – কুরআনে কারীম কুরাইশের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে

হাদীস নং ৩২৫৬

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, উসমান রা. যায়েদ ইবনে সাবিত রা., আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর রা., সাঈদ ইবনে আস রা. আবদুর রাহমান ইবনে হারিস রা.-কে ডেকে পাঠালেন।

তাঁরা (হাফসা রা.-এর নিকট) সংরক্ষিত কুরআনকে সমবেতভাবে লিপিবদ্ধ করার কাজ আরম্ভ করলেন।

উসমান রা. কুরাইশ বংশীয় তিন জনকে বললেন, যদি যায়েদ ইবনে সাবিত রা. এবং তোমাদের মধ্যে কোন শব্দে (উচ্চরণ ও লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে) মতবিরোধ দেখা দেয় তবে কুরাইশের ভাষায় তা লিপিবদ্ধ কর। যেহেতু কুরআন শরীফ তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তাঁরা তা-ই করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩২৫৭ – ইয়ামানবাসীর সম্পর্ক ইসমাঈল আ.-এর সঙ্গে ; তন্মধ্যে আসলাম ইবনে আফসা ইবনে হারিসা ইবনে আমর ইবনে আমি ও খুযআ গোত্রের অন্তর্ভূক্ত।

হাদীস নং ৩২৫৭

মুসাদ্দাদ রহ……….সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আসলাম গোত্রের কিছু সঙখ্যক লোক বাজারের নিকটে প্রতিযোগিতামূলক তীর নিক্ষেপের অনুশীলন করছিল।

এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং তাদেরকে দেখে বললেন, হে ইসমাঈল আ.-এর বংশধর। তোমরা তীর নিক্ষেপ কর। কেননা তোমাদের পিতাও তীর নিক্ষেপে পারদর্শী ছিলেন এবং আমি তোমাদের অমুক দলের পক্ষে রয়েছি।

তখন একটি পক্ষ তাদের হাত গুটিয়ে নিল। বর্ণনাকারী বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কি হল?

তারা বলল, আপনি অমুক পক্ষে থাকলে আমরা কি করে তীর নিক্ষেপ করতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তীর নিক্ষেপ কর। আমি তোমাদের উভয় দলের সঙ্গে রয়েছি।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ১ম পার্ট- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২৫৮ – পরিচ্ছেদ ২০৫৬

হাদীস নং ৩২৫৮

আবু মামার রহ………..আবু যার রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, কোন ব্যক্তি যদি নিজ পিতা সম্পর্কে জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও অন্য কাউকে পিতা বলে দাবী করে তবে সে আল্লাহর (নিয়ামতের) কুফরী করল এবং যে ব্যক্তি নিজকে এমন বংশের সাথে নসবী সম্পৃক্ততার দাবী করল যে বংশের সাথে তার কোন নসবী সম্পর্ক নেই, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে তৈরী করে নেয়।

বুখারি হাদিস নং ৩২৫৯

হাদীস নং ৩২৫৯

আলী ইবনে আইয়্যাশ রহ…………ওয়াসিলা ইবনে আসকা রা. বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিঃসন্দেহে ইহা বড় মিথ্যা যে, কোন ব্যক্তি এমন লোককে পিতা বলে দাবি করা যে তার পিতা নয় এবং বাস্তবে যা দেখে নাই তা দেখা দাবি করা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেননি তা তাঁর প্রতি মিথ্যারোপ করা।

বুখারি হাদিস নং ৩২৬০

হাদীস নং ৩২৬০

মুসাদ্দাদ রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আবদুল কায়স গোত্রের এক প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল ! (আমাদের) এ গোত্রটি বাবীআ বংশের। আমাদের এবং আপনার মধ্যে মুযার গোত্রের কাফেরগন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে।

আমরা আশহুরে হারাম ব্যতীত অন্য সময় আপনার খেদমতে হাযির হতে পারি না। খুবই ভাল হত যদি আপনি আমাদিগকে এমন কিছু নির্দেশ দিয়ে দিতেন যা আপনার কাছ থেকে গ্রহণ করে আমাদের পিছনে অবস্থিত লোকদেরকে পৌঁছে দিতাম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাদেরকে চারটি কাজের আদেশ এবং চারটি কাজের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করছি।

(এক) আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই, (দুই) সালাত কায়েম করা, (তিন) যাকাত আদায় করা, (চার) গনীমতের যে মাল তোমরা লাভ কর তার পঞ্চমাংশ আল্লাহর জন্য বায়তুল মালে দান করা।

আর আমি তোমাদেরকে দুব্বা (কদু পাত্র), হান্তম (সবুজ রং এর ঘড়া), নাকীর (খেজুর বৃক্ষের মূল খোদাই করে তৈরী পাত্র), মুযাফফাত (আলকাতরা লাগানো মাটির পাত্র, এই চারটি পাত্রের) ব্যবহার নিষেধ করছি।

বুখারি হাদিস নং ৩২৬১

হাদীস নং ৩২৬১

আবুল ইয়ামান রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বরের উপর উপবিষ্ট অবস্থায় পূর্ব দিকে ইশারা করে বলতে শুনেছি, সাবধান! ফিতনা ফাসাদের উৎপত্তি ঐদিক থেকেই হবে এবং ঐদিক থেকেই শয়তানের শিং-এর উদয় হবে।

বুখারি হাদিস নং ৩২৬২ – আসলাম, গিফার, মুযায়না, জুহায়না ও আশজা গোত্রের আলোচনা।

হাদীস নং ৩২৬২

আবু নুআঈম রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরাইশ, আনসার, জুহায়না, মুযায়না, আসলাম, গিফার এবং আশজা গোত্রগুলো আমার আপনজন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যতীত অন্য কেহ তাদের আপনজন নেই।

বুখারি হাদিস নং ৩২৬৩

হাদীস নং ৩২৬৩

মুহাম্মদ ইবনে গুরায়না যুহরী রহ………..আবদুল্লাহ (ইবনে উমর) রা. বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে উপবিষ্ট অবস্থায় বলেন, গিফার গোত্র, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করুন, আসলাম গোত্র, আল্লাহ তাদেরকে নিরাপদে রাখুন আর উসাইয়া গোত্র, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করেছে।

বুখারি হাদিস নং ৩২৬৪

হাদীস নং ৩২৬৪

মুহাম্মদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আসলাম গোত্র, আল্লাহ তাহাদিগকে নিরাপদে রাখুন। গিফার গোত্র, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করুন।

বুখারি হাদিস নং ৩২৬৫

হাদীস নং ৩২৬৫

কাবিসা ও মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাহাবা কিরামকে লক্ষ্য করে) বলেন, বলত জুহায়না, মুযায়না, আসলাম ও গিফার গোত্র যদি আল্লাহর নিকট বানূ তামীম, বানূ আসাদ, বানূ গাতফান ও বানূ আমের হতে উত্তম বিবেচিত হয়ে তবে কেমন হবে?

তখন জনৈক সাহাবী বললেন, তবে তারা (শেষোক্ত গোত্রগুলো) ক্ষতিগ্রস্ত ও বঞ্চিত হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পূর্বোক্ত গোত্রগুলো বানূ তামীম, বানূ আসাদ, বানূ আবদুল্লাহ ইবনে গাতফান এবং বানূ আমের ইবনে সাসা থেকে উত্তম।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ১ম পার্ট- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২৬৬

হাদীস নং ৩২৬৬

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ…………আবু বাকরা তার পিতা থেকে বর্ণিত যে, আকরা ইবনে হাবিস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আরয করলেন, আসলাম গোত্রের সুররাক হাজীজ, গিফার ও মুযায়না গোত্রদ্বয় আপনার নিকট বায়আর করেছে এবং (রাবী বলেন) আমার ধারণা জুহায়না গোত্রও।

এ ব্যাপারে ইবনে আবু ইয়াকুব সন্দেহ পোষণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি কি জান, আসলাম, গিফার ও মুযায়না গোত্রদ্বয়, (রাবী বলেন) আমার মনে হয় তিনি জুহায়না গোত্রের কথাও উল্লেখ করেছেন

যে বনূ তামীম, বনূ আমির আসাদ এবং গাতফান (গোত্রগুলো) যারা ক্ষতিগ্রস্থ ও বঞ্চিত হয়েছে, তাদের তুলনায় পূর্বোক্ত গোত্রগুলো উত্তম। রাবী বলেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, পূর্বোক্ত গুলো শেষোক্ত গোত্রগুলোর তুলনায় অবশ্যই অতি উত্তম।

বুখারি হাদিস নং ৩২৬৭

হাদীস নং ৩২৬৭

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আসলাম, গিফার এবং মুযায়না ও জুহানা গোত্রের কিয়দংশ অথবা জুহানার কিয়দাংশ কিংবা মুযায়নার কিয়দংশ আল্লাহর নিকট অথবা বলেছেন কিয়ামতের দিন আসাদ, তামীম, হাওয়াযিন ও গাতফান গোত্র থেকে উত্তম বিবেচিত হবে।

বুখারি হাদিস নং ৩২৬৮ – যমযম কূপের কাহিনী

হাদীস নং ৩২৬৮

যায়েদ ইব্‌ন আখযাম (রহঃ) ……. আবূ জামরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদিন) আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) আমাদিগকে বললেন, আমি কি তোমাদিগকে আবূ যার (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহনের ঘটনা সরববিস্তার বর্ণনা করব ? আমার বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই।

তিনি বলেন, আবু যার (রাঃ) বলেছেন, আমি গিফার গোত্রের একজন মানুষ। আমরা জানোতে পেলাম মক্কায় এক ব্যক্তি আত্মপ্রকাশ করে নিজেকে নাবী (সাঃ) বলে দাবী করেছেন। আমি আমার ভাই (উনাইস)-কে বললাম, তুমি মক্কায় গিয়ে ঐ ব্যক্তির সহিত সাক্ষাত ও আলোচনা করে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে এস।

সে রওয়ানা হয়ে গেল এবং মক্কার ঐ লোকটির সহিত সাক্ষাত ও আলাপ আলোচনা করে ফিরে আসলে আমি জিজ্ঞাসা করলাম- কি খবর নিয়ে এলে ? সে বলল, আল্লাহ্‌র কসম ! আমি একজন মহান ব্যক্তিকে দেখেছি যিনি সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেন।

আমি বললাম, তোমার সংবাদে আমি সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। তারপর আমি একটি ছড়ি ও এক পাত্র খাবার নিয়ে মক্কাভিমুখে রওয়ানা হয়ে পড়লাম। মক্কায় পৌছে আমার অবস্থা দাঁড়াল এই- তিনি আমার পরিচিত নন, কারো নিকট জিজ্ঞাসা করাও আমি সমীচীন মনে করি না।

তাই আমি যমযমের পানি পান করে মসজিদে অবস্থান করতে থাকলাম। একদিন সন্ধ্যা বেলায় আলী (রাঃ) আমার নিকট দিয়ে গমন কালে আমার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, মনে হয় লোকটি বিদেশী। আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমার সাথে আমার বাড়িতে চল।

রাস্তায় তিনি আমাকে কোন কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করেন নি। আর আমিও ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন কিছু বলিনি। তাঁর বাড়িতে রাত্রি যাপন করে ভোর বেলায় পুনরায় মসজিদে গমন করলাম যাতে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব। কিন্তু ঐখানে এমন কোন ব্যক্তি ছিল না যে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বলবে।

ঐ দিনও আলী (রাঃ) আমার নিকট দিয়ে গমনকালে বললেন, এখনো কি লোকটি তার গন্তব্যস্থল ঠিক করতে পারেনি ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, আমার সাথে চল। পথিমধ্যে তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, বল, তোমার বিষয় কি ? কেন এ শহরে আগমন ?

আমি বললাম, যদি আপনি আমার বিষয়টি গোপন রাখবেন বলে আশ্বাস দেন তাহলে তা আপনাকে বলতে পারি। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমি গোপনীয়তা রক্ষা করব। আমি বললাম, আমরা জানোতে পেরেছি, এখানে এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব হয়েছে যিনি নিজেকে নাবী (সাঃ) বলে দাবী করেন।

আমি তাঁর সাথে সবিস্তর আলাপ আলোচনার করার জন্য আমার ভাইকে পাঠিয়ে ছিলাম। কিন্তু সে ফেরত গিয়ে আমাকে সন্তোষজনক কোন কিছু বলতে পারেনি। তাই নিজে দেখা করার ইচ্ছা নিয়ে এখানে আগমন করেছি। আলী (রাঃ) বললেন, তুমি সঠিক পথপ্রদর্শক পেয়েছ।

আমি এখনই তাঁর খেদমতে উপস্থিত হওয়ার জন্য রওয়ানা হয়েছি। তুমি আমার অনুসরন করো এবং আমি যে গৃহে প্রবেশ করি তুমিও সে গৃহে প্রবেশ করবে। রাস্তায় যদি তোমার বিপদজনক কোন ব্যক্তি দেখতে পাই তাহলে আমি জুতা ঠিক করার ভান করে দেয়ালের প্বার্শে সরে দাঁড়াব, যেন আমি জুতা ঠিক করতেছি।

তুমি কিন্তু চলতেই থাকবে। (যেন কেউ বুঝতে না পারে তুমি আমার সঙ্গী)। আলী (রাঃ) পথ চলতে শুরু করলেন। আমিও তাঁর অনুসরন করে চলতে লাগলাম। তিনি নাবী (সাঃ) -এর নিকট প্রবেশ করলে, আমিও তাঁর সাথে ঢুকে পড়লাম। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ), আমার নিকট ইসলাম পেশ করুন।

তিনি পেশ করলেন। আর আমি মুসলমান হয়ে গেলাম। নাবী (সাঃ) বললেন, হে আবূ যার। আপাততঃ তোমার ইসলাম গ্রহন গোপন রেখে তোমার দেশে চলে যাও। যখন আমাদের বিজয় সংবাদ জানোতে পারবে তখন এসো। আমি বললাম, যে আল্লাহ্‌ আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম ! আমি কাফির মুশরিকদের সম্মুখে উচ্চস্বরে তৌহিদের বাণী ঘোষণা করব।

[ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) বলেন, ] এই কথা বলে তিনি মসজিদে হারামে গমন করলেন, কুরাইশের লোকজনও সেথায় উপস্থিত ছিল। তিনি বললেন, হে কুরাইশগণ ! আমি নিশ্চিত ভাবে সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিতেছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহ্‌র বান্দা ও তাঁর রাসূল (সাঃ)।

ইহা শুনে কুরাইশগণ বলে উঠল, ধর এই ধর্মত্যাগী লোকটিকে। তারা আমার দিকে এগিয়ে আসল এবং আমাকে নির্মমভাবে প্রহার করতে লাগল ; যেন আমি মরে যাই।

তখন আব্বাস (রাঃ) আমার নিকট পৌছে আমাকে ঘিরে রাখলেন (প্রহার বন্ধ হল)। তারপর তিনি কুরাইশকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমাদের বিপদ অবশ্যম্ভাবী। তোমরা গিফার বংশের একজন লোককে হত্যা করতে উদ্যোগী হয়েছ অথচ তোমাদের ব্যবসা বাণিজ্যের কাফেলাকে গিফার গোত্রের সন্নিকট দিয়ে যাতায়াত করতে হয়।

(ইহা কি তোমাদের মনে নেই ?) একথা শুনে তারা সরে পড়ল। পরদিন ভোরবেলা কাবাগৃহে উপস্থিত হয়ে গেল দিনের মতই আমি আমার ইসলাম গ্রহনের পূর্ণ ঘোষণা দিলাম।

কুরাইশগণ বলে উঠল, ধর এই ধর্মত্যাগী লোকটিকে। পূর্ব দিনের মত আজও তারা নির্মমভাবে আমাকে মারধর করলো। এই দিনও আব্বাস (রাঃ) এসে আমাকে রক্ষা করলেন এবং কুরাইশদিগকে লক্ষ্য করে ঐ দিনের মতো বক্তব্য রাখলেন। ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ইহাই ছিল আবূ যার (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহনের প্রথম ঘটনা।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ১ম পার্ট- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২৬৯ – কাহতান গোত্রের আলোচনা।

হাদীস নং ৩২৬৯

আবদুল আযীয ইব্‌ন আবদুল্লাহ (রহঃ) ……. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত কাহ্‌তান গোত্র থেকে এমন এক ব্যক্তির১ আবির্ভাব না হবে যে মানবজাতিকে তাঁর লাঠি দ্বারা (শক্তিদ্বারা সুশৃংখলভাবে) পরিচালিত করবে।

১. ইয়ামান বাসীদের পূর্বপুরুষ, মাহদী আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পরে তাঁর আবির্ভাব ঘটবে।

বুখারি হাদিস নং ৩২৭০ – জাহেলী যুগের মত সাহায্য প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ।

হাদীস নং ৩২৭০

মুহাম্মদ রহ………..জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিচালনায় যুদ্ধে শামিল ছিলাম। এ যুদ্ধে বহু সংখ্যক মুহাজির সাহাবী অংশগ্রহণ করেছিলেন। মুহাজিরদের মধ্যে একজন কৌতুক পুরুষ ছিলেন। তিনি কৌতুকচ্ছলে একজন আনসারীকে আঘাত করলেন।

তাতে আনসারী সাহাবী ভীষণ ক্রুদ্ধ হলেন এবং উভয় গোত্রের সহযোগিতার জন্য নিজ নিজ লোকদের ডাকলেন। আনসারী সাহাবী বললেন, হে আনসারীগণ ! মুহাজির সাহাবী বললেন, হে মুহাজিরগণ সাহায্যে এগিয়ে আস।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা শুনে বের হয়ে আসলেন এবং বললেন, জাহেলী যুগের হাঁকডাক কেন? অতঃপর বললেন, তাদের ব্যাপার কি? তাকে ঘটনা জানান হল।

মুহাজির সাহাবী আনসারী সাহাবীর কোমরে আঘাত করেছে। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ জাতীয় হাঁকডাক ত্যাগ কর, এ অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। (মুনাফিক নেতা) আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল বলল, তারা আমাদের বিরুদ্ধে ডাক দিয়েছে?

আমরা যদি মদীনায় নিরাপদে ফিরে যাই তবে সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিত ব্যক্তিগণ অবশ্যই বাহির করে দিবে নিকৃষ্ট ও অপদস্ত ব্যক্তিগণকে (মুহাজিরদেরকে) এতে উমর রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি এই খাবীসকে হত্যা করার অনুমতি দিবেন?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (এরূপ করলে) লোকজন বলাবলি করবে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গীদেরকে হত্যা করে থাকে।

বুখারি হাদিস নং ৩২৭১

হাদীস নং ৩২৭১

সাবিত ইবনে মুহাম্মদ রহ…………..আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঐ ব্যক্তি আমাদের দলভূক্ত নয় যে, (বিপদ কালিন বিলাপরত অবস্থায়) গণ্ডদেশে চপেটাঘাত করে, পরিধেয় বস্ত্র ছিন্নভিন্ন করে থাকে এবং জাহিলীয়াতের যুগের ন্যায় হৈ চৈ করে।

বুখারি হাদিস নং ৩২৭২ – খুযাআ গোত্রের কাহিনী।

হাদীস নং ৩২৭২

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমর ইবনে লুহাই ইবনে কামআ ইবনে খিনদাফ খুযাআ গোত্রের পূর্বপুরুষ ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩২৭৩

হাদীস নং ৩২৭৩

আবুল ইয়ামান রহ…………যুহরী রহ. বলেন, আমি সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব রা. বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, বাহীরা বলে দেবতার নামে উৎসর্গীকৃত উটনি যার দুগ্ধ আটকিয়ে রাখা হত এবং কোন লোক তার দুধ দোহন করত না।

সাইবা বলা হয় ঐ জন্তুকে যাকে তারা ছেড়ে দিত দেবতার নামে। ইহাকে বোঝা বহন ইত্যাদি কোন কাজ কর্মে ব্যবহার করা হয় না।

রাবী বলেন, আবু হুরায়রা রা. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি আমর ইবনে আমির খুযআইকে তার বেরিয়ে আসা নাড়ী-ভুষি নিয়ে জাহান্নামের আগুনে চলাফেরা করতে দেখেছি। সেই প্রথম ব্যক্তি যে (দেব-দেবীদের নামে) সাইবা উৎসর্গ করার প্রথা প্রচলন করে।

বুখারি হাদিস নং ৩২৭৪ – আরবের মূর্খতা

হাদীস নং ৩২৭৪

আবুন নু’মান (রহঃ) ……. ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তুমি যদি আরবদের অজ্ঞতা ও মূর্খতা সম্বন্ধে জ্ঞাত হতে আগ্রহী হও, তবে সূরা আন্‌’আমের ১৪০ আয়াতের অংশটুকু মনোযোগের সাথে পাঠ করো।

(ইরশাদ হয়েছে) “নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা অজ্ঞতা ও নির্বুদ্ধিতার কারণে নিজ সন্তানদিগকে (দারিদ্রের ভয়ে) হত্যা করেছে।

এবং আল্লাহ্‌র দেওয়া হালাল বস্তু সমূহকে হারাম করেছে এবং আল্লাহ্‌র প্রতি জঘন্য মিথ্যা আরোপ করেছে, নিশ্চয়ই তারা পথভ্রষ্ট ও বিপথগামী হয়েছে। তারা সুপথগামী হতে পারে নি।

বুখারি হাদিস নং ৩২৭৫ – যে ব্যক্তি ইসলাম ও জাহেলী যুগে পিতৃপুরুষের প্রতি সম্পর্ক আরোপ করল।

হাদীস নং ৩২৭৫

উমর ইবনে হাফস রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াত “তোমার নিকট আত্মীয়গণকে সতর্ক কর” অবতীর্ণ হল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে বনী ফিহর, হে বনী আদি, বিভিন্ন কুরাইশ শাখা গোত্রগুলিকে নাম ধরে ধরে ইসলামের দিকে আহবান করতে লাগলেন।

এবং কাবীসা রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াত “তোমার আত্মীয়গণকে সতর্ক কর” অবতীর্ণ হল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের গোত্র গোত্র করে আহবান করতে লাগলেন।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ১ম পার্ট- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২৭৬

হাদীস নং ৩২৭৬

আবুল ইয়ামান রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, (উপরোক্ত আয়াতের প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবদে মানাফের বংশধরগণ, তোমরা (ঈমান ও নেক আমলে দ্বারা) তোমাদের নিজেদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা কর।

হে আবদুল মুত্তালিবের বংশধরগণ, তোমরা (ঈমান ও আমলের দ্বারা) তোমাদের নিজেদেরকে হিফাযত কর। হে যুবাইরের মাতা- রাসূলুল্লাহ ফুফু, হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা।

তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে (ঈমান ও আমলের দ্বারা) রক্ষা কর। তোমাদেরকে আযাব থেকে বাঁচানোর সামান্যতম ক্ষমতাও আমার নাই আর আমার ধন-সম্পদ থেকে তোমরা যা ইচ্ছা তা চেয়ে নিয়ে যেতে পার (দেওয়ার ইখতিয়ার আমার আছে)।

বুখারি হাদিস নং ৩২৭৭ – ভাগ্নে ও আযাদকৃত গোলাম নিজের গোত্রেরই অন্তর্ভূক্ত।

হাদীস নং ৩২৭৭

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের বললেন, তোমাদের মধ্যে (এই মজলিশে) অপর কেউ আছে কি? তারা বললেন, না অন্য কেউ নেই।

তবে আমাদের একজন ভাগিনা আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন গোষ্ঠীর ভাগ্নে সে গোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত বলে গণ্য হবে।

বুখারি হাদিস নং ৩২৭৮ – হাবশীদের ঘটনা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি হে বনূ আরফিদা।

হাদীস নং ৩২৭৮

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আয়েশা রা. বর্ণনা করেন, মিনায় অবস্থানের দিনগুলোতে আবু বকর রা. আমার গৃহে প্রবেশ করলেন। তখন তাঁর নিকট দুটি বালিকা ছিল।

তারা দফ বাজিয়ে এবং নেচে নেচে গান করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে শুয়ে ছিলেন। আবু বকর রা. এদেরকে ধমকালেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মুখ থেকে চাদর সরিয়ে বললেন, হে আবু বকর এদেরকে গাইতে দাও। কেননা, আজ ঈদের দিন ও মিনার দিনগুলির অন্তর্ভূক্ত।

আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে ছিলেন আর আমি (তাঁর পিছনে থেকে) হাবশীদের খেলা উপভোগ করছিলাম। মসজিদের নিকটে তারা যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলা করছিল।

এমন সময় উমর রা. এসে তাদেরকে ধমকালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উমর তাদেরকে বানূ আরফিদাকে নিরাপদে ছেড়ে দাও।

বুখারি হাদিস নং ৩২৭৯ – যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার বংশকে গালমন্দ দেয়া না হউক।

হাদীস নং ৩২৭৯

উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাসসান রা. কবিতার ছন্দে মুশরিকদের নিন্দা করতে অনুমতি চাইলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার বংশকে কিভাবে তুমি পৃথক করবে?

হাসসান রা. বললেন, আমি তাদের মধ্য থেকে এমনভাবে আপনাকে আলাদা করে নিব যেমনভাবে আটার খামির থেকে চুলকে পৃথক করে নেয়া হয়। উরওয়া রহ. বলেন, আমি হাসসান রা.-কে আয়েশা রা. এর সম্মুখে তিরস্কার করতে উদ্যত হলে, তিনি আমাকে বললেন, তাকে গালি দিও না।

সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে কবিতার মাধ্যমে শত্রু দের বাক্যঘাত প্রতিহত করত। আবুল হায়ছম বলেন, نفحت الدابة (বলা হয়) যখন পশু তার ক্ষুর দ্বারা আঘাত করে আর نفحه بالسيف (বলা হয়) যখন দূর থেকে আঘাত করা হয়।

বুখারি হাদিস নং ৩২৮০ – হযরত রাসূলে করীম (সা.) এর নামসমূহ।

হাদীস নং ৩২৮০

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ…………যুবাইর ইবনে মুতঈম রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার পাঁচটি (প্রসিদ্ধ) নাম রয়েছে, আমি মুহাম্মদ, আমি আহমদ, আমি আল-মাহী (নিশ্চিহ্নকারী) আমার দ্বারা আল্লাহ কুফর ও শিরককে নিশ্চিহ্ন করে দিবেন।

আমি আল-হাশির (সমবেতকারী কিয়ামতের ভয়াবহ দিবসে) আমার চারপাশে মানব জাতিকে একত্রিত করা হবে। আমি আল-আক্বিব (সর্বশেষ আগমনকারী আমার পর অন্য কোন নবীর আগমন হবে না)।

বুখারি হাদিস নং ৩২৮১

হাদীস নং ৩২৮১

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আশ্চর্যান্বিত হওনা?

(তোমরা কি দেখছনা) আমার প্রতি আরোপিত কুরাইশদের নিন্দা ও অভিশাপকে আল্লাহ তা’আলা কি চমৎকারভাবে দূরীভূত করেছেন? তারা আমাকে নিন্দিত মনে করে গালি দিচ্ছে, অভিশাপ করছে অথচ আমি মুহাম্মদ-চির প্রসংশিত। (কাজেই তাদের গাল-মন্দ আমার উপর পতিত হয় না)।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ১ম পার্ট- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২৮২ – খাতামুন-নাবীয়্যীন।

হাদীস নং ৩২৮২

মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ……….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার ও অন্যান্য নবীগণের অবস্থা এমন, যেন কেউ একটি ভবন নির্মাণ করল আর একটি ইটের স্থান শূন্য রেখে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করে গৃহটিকে সুন্দর সুসজ্জিত করে নিল।

জনগণ (উহার সৌন্দর্য দেখে) মুগ্ধ হল এবং তারা বলাবলি করতে লাগল, যদি একটি ইটের স্থানটুকু খালি রাখা না হত (তবে ভবনটি কতাইনা সুন্দর হত)।

বুখারি হাদিস নং ৩২৮৩

হাদীস নং ৩২৮৩

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি এবং পূর্ববর্তী নবীগণের অবস্থা এরূপ, এক ব্যক্তি যেন একটি ভবন নির্মাণ করল; ইহাকে সুশোভিত ও সুসজ্জিত করল, কিন্তু এক কোনায় একটি ইটের জায়গা খালি রয়ে গেল।

অতঃপর লোকজন ইহার চারপাশে ঘুরে বিস্ময়ের সহিত বলতে লাগল ঐ শূন্যস্থানের ইটটি লাগনো হল না কেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমিই সে ইট। আর আমিই সর্বশেষ নবী।

বুখারি হাদিস নং ৩২৮৪ – রাসূল (সা.) এর ওফাত।

হাদীস নং ৩২৮৪

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হয় তখন তাঁর বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর। ইবনে শিহাব বলেন, সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব এভাবেই আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩২৮৫ – রাসূল (সা.) এর উপনামসমূহ।

হাদীস নং ৩২৮৫

হাফস ইবনে উমর রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বাজারে গিয়েছিলেন। তখন এক ব্যক্তি হে আবুল কাসিম! বলে ডাক দিল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিকে ফিরে তাকালেন। (এবং বুঝতে পারলেন, সে অন্য কাউকে ডাকছে)। তখন তিনি বললেন, তোমরা আমার আসল নাম (অন্যের জন্য) রাখতে পার, কিন্তু আমার উপনাম কারো জন্য রেখ না।

বুখারি হাদিস নং ৩২৮৬

হাদীস নং ৩২৮৬

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ………..জাবির রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, আমার আসল নামে অন্যের নাম রাখতে পার, কিন্তু আমার উপনাম অন্যের জন্য রেখ না।

বুখারি হাদিস নং ৩২৮৭

হাদীস নং ৩২৮৭

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবুল কাসিম (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমার নামে নামকরণ করতে পার, কিন্তু আমার কুনিয়্যাতে (উপনাম) তোমাদের নাম রেখ না।

বুখারি হাদিস নং ৩২৮৮ – পরিচ্ছেদ ২০৭১

হাদীস নং ৩২৮৮

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ……….জুআইদ ইবনে আবদুর রাহমান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাইব ইবনে ইয়াযীদকে চুরানব্বই বছর বয়সে সুস্থ-সবল ও সুঠাম দেহের অধিকারী দেখেছি।

তিনি বললেন, তুমি অবশ্যই অবগত আছ যে, আমি এখনও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’আর বরকতেই চক্ষু ও কর্ণ দ্বারা উপকৃত হচ্ছি।

আমার খালা একদিন আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে গেলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার ভাগিনাটি পীড়িত ও রোগাক্রান্ত। আপনি তার জন্য আল্লাহর দরবারে দু’আ করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য দু’আ করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩২৮৯ – মোহরে নবুওয়্যাত।

হাদীস নং ৩২৮৯

মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ রহ…………জুআইদ রহ. বলেন, আমি সাইব ইবনে ইয়াযীদকে বলতে শুনেছি যে, আমার খালা একদিন আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে গেলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার ভাগিনাটি পীড়িত ও রোগাক্রান্ত।

(আপনি তার জন্য আল্লাহর দরবারে দু’আ করুন) তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমার জন্য বরকতের দু’আ করলেন।

তিনি ওযু করলেন, তাঁর ওযুর অবশিষ্ট পানি আমি পান করলাম। এরপর আমি তাঁর পিছন দিকে গিয়ে দাঁড়ালাম তাঁর কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে ‘মোহরে নবুওয়্যাত’ দেখলাম যা কবুতরের ডিমের ন্যায় অথবা বাসর ঘরের পর্দার বুতামের মত।

ইবনে উবাইদুল্লাহ বলেন, الحجلة অর্থ সাদা চিহ্ন, যা ঘোড়ার কপালের সাদা অংশ এর অর্থ থেকে গৃহিত। আর ইবরাহীম ইবনে হামযা বলেন, কবুতরের ডিমের মত। আবু আবদুল্লাহ বুখারী রহ. বলেন, বিশুদ্ধ হল زاء এর পূর্বে را হবে অর্থাৎ رز ।

বুখারি হাদিস নং ৩২৯০ – রাসূল (সা.) এর সম্পর্কে বর্ণনা।

হাদীস নং ৩২৯০

আবু আসিম রহ…………উকবা ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আবু বকর রা. বাদ আসর এর সালাতান্তে বের হয়ে চলতে লাগলেন।

(পথিমধ্যে) হাসান রা.-কে ছেলেদের সাথে খেলা করতে দেখলেন। তখন তিনি তাকে কাঁধে তুলে নিলেন এবং বললেন, আমার পিতা কুরবান হউন। এ-ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাদৃশ্য আলীর সাদৃশ্য নয়। তখন আলী রা. হাসতে ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩২৯১

হাদীস নং ৩২৯১

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ………..আবু জুহায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি। আর হাসান (ইবনে আলী) রা. তাঁরই সাদৃশ্য।

বুখারি হাদিস নং ৩২৯২

হাদীস নং ৩২৯২

আমর ইবনে আলী রহ……….আবু জুহায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি। আর হাসান ইবনে আলী তাঁরই সাদৃশ্য।

(রাবী বলেন) আমি আবু জুহায়ফাকে ভিতর যৎসামান্য সাদা চুলও ছিল। তিনি তেরটি সবল উটনী আমাদিগকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু আমাদের হস্তগত হওয়ার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হয়ে যায়।

বুখারি হাদিস নং ৩২৯৩

হাদীস নং ৩২৯৩

আবদুল্লাহ ইবনে রাজা রহ………..আবু জুহায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি তাঁর নীচের ঠোঁটের নিম্নভাগের দাঁড়িতে সামান্য সাদা চুল দেখেছি।

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ১ম পার্ট- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২৯৪

হাদীস নং ৩২৯৪

ইসাম ইবনে খালিদ রহ…………হারীয ইবনে উসমান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে বুসরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছেন যে, তিনি বৃদ্ধ ছিলেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাচ্চা দাঁড়িতে কয়েকটি চুল সাদা ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩২৯৫

হাদীস নং ৩২৯৫

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….রাবীআ ইবনে আবদুর রাহমান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক রা.-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (দৈহিক গঠন) বর্ণনা দিতে শুনেছি।

তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মধ্যে মাঝারি গড়নের ছিলেন–বেমানান লম্বাও ছিলেন না বা বেঁটেও ছিলেন না। তাঁর শরীরের রং গোলাপী ধরনের ছিল, ধবধবে সাদাও নয় কিংবা তামাটে বর্ণেও নয়। মাথার চুল কুঁকড়ানোও ছিল না আবার সম্পূর্ণ সোজাও ছিল না।

চল্লিশ বছর বয়সে তাঁর উপর ওহী নাযিল হওয়া আরম্ভ হয়। প্রথম দশ বছর মক্কায় অবস্থানকালে ওহী নাযিল হতে থাকে। এরপর দশ বছর মদীনায় অতিবাহিত করেন।

অতঃপর তাঁর ওফাত হয় তখন তার মাথা ও দাঁড়িতে কুড়িটি সাদা চুলও ছিল না। রাবীআ রহ. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি চুল দেখেছি উহা লাল রং-এর ছিল ।

তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, বলা হল যে অধিক সুগন্ধী লাগানোর কারণে উহার রং লাল হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩২৯৬

হাদীস নং ৩২৯৬

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেমানান লম্বাও ছিলেন না বা বেঁটেও ছিলেন না।

তাঁর শরীরের রং গোলাপী ধরনের ছিল, ধবধবে সাদাও নয় কিংবা তামাটে বর্ণেও নয়। মাথার চুল কুঁকড়ানোও ছিল না আবার সম্পূর্ণ সোজাও ছিল না।

চল্লিশ বছর বয়সে তাঁর উপর নবুওয়্যাত প্রাপ্ত হন। তাঁর নবুওয়্যাত কালের প্রথম দশ বছর মক্কায় এবং পরের দশ বছর মদীনায় অতিবাহিত করেন। অতঃপর তাঁর ওফাত হয় তখন তার মাথা ও দাঁড়িতে কুড়িটি সাদা চুলও ছিল না।

আরও পড়ুনঃ

কলহ-বিবাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

পানি সিঞ্চন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বর্গাচাষ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ওয়াকালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ইসলামের ইতিহাস

মন্তব্য করুন