দু’ঈদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

Table of Contents

দু’ঈদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী ২য় খণ্ড

দু'ঈদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
দু’ঈদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৯০১ – দু’ঈদ ও এতে সুন্দর পোষাক পরা।

আবুল ইয়ামান রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বাজারে বিক্রি হচ্ছিল এমন একটি রেশমী জুব্বা নিয়ে উমর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি এটি কিনে নিন। ঈদের সময় এবং প্রতিনিধি দলের সংগে সাক্ষাতকালে এটি দিয়ে নিজেকে সজ্জিত করবেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন : এটি তো তার পোষাক, যার (আখিরাতে) কল্যাণের কোন অংশ নেই। এ ঘটনার পর উমর রা. আল্লাহর যতদিন ইচ্ছা ততদিন অতিবাহিত করলেন। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট একটি রেশমী জুব্বা পাঠালেন, উমর রা. তা গ্রহণ করেন এবং সেটি নিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি তো বলেছিলেন, এটা তার পোষাক যার (আখিরাতে) কল্যাণের কোন অংশ নেই। অথচ আপনি এ জুব্বা আমার নিকট পাঠিয়েছেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন : তুমি এটি বিক্রি করে দাও এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থে তোমার প্রয়োজন মিটাও।

বুখারি হাদিস নং ৯০২ – ঈদের দিন বর্শা ও ঢালের খেলা।

আহমদ ইবনে ঈসা রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন তখন আমার নিকট দুটি মেয়ে বুআস যুদ্ধ সংক্রান্ত কবিতা আবৃত্তি করছিল। তিনি বিছানায় শুয়ে পড়লেন এবং চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে রাখলেন। এ সময় আবু বকর রা. এলেন, তিনি আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, শয়তানী বাদ্যযন্ত্র (দফ) বাজান হচ্ছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ! তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, তাদের ছেড়ে দাও। তারপর তিনি যখন অন্যদিকে ফিরলেন তখন আমি তাদের ইঙ্গিত করলাম এবং তারা বের হয়ে গেল। আর ঈদের দিন সুদানীরা বর্শা ও ঢালের দ্বারা খেলা করত। আমি নিজে (একবার) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আরয করেছিলাম অথবা তিনি নিজেই বলেছিলেন, তুমি কি তাদের খেলা দেখতে চাও ? আমি বললাম, হ্যাঁ, তারপর তিনি আমাকে তাঁর পিছনে এমনভাবে দাঁড় করিয়ে দিলেন যে, আমার গাল ছিল তাঁর গালের সাথে লাগান। তিনি তাদের বললেন, তোমরা যা করতে ছিলে তা করতে থাক, হে বনু আরফিদা ! পরিশেষে আমি যখন ক্লান্ত হয়ে পড়লাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, তোমার কি দেখা শেষ হয়েছে ? আমি বললাম, হ্যাঁ, তিনি বললেন, তাহলে চলে যাও।

বুখারি হাদিস নং ৯০৩ – মুসলিমগণের জন্য উভয় ঈদের রীতিনীতি।

হাজ্জাজ (ইবনে মিনহাল) রহ……….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খুতবা দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন : আমাদের আজকের এ দিনে আমরা যে কাজ প্রথম শুরু করব, তা হল সালাত আদায় করা। এরপর ফিরে আসব এবং কুরবানী করব। তাই যে এরূপ করে সে আমাদের রীতিনীতি সঠিকভাবে পালন করল।

হাদীস নং ৯০৪

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদিন আমার ঘরে) আবু বকর রা. এলেন তখন আমার নিকট আনসার দুটি মেয়ে বুআস যুদ্ধের দিন আনসারীগণ পরস্পর যা বলেছিলন সে সম্পর্কে কবিতা আবৃত্তি করছিল। তিনি বলেন, তারা কোন পেশাগত গায়িকা ছিল না। আবু বকর রা. বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে শয়তানী বাদ্যযন্ত্র। আর এটি ছিল ঈদের দিন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হে আবু বকর ! প্রত্যেক জাতির জন্যই আনন্দ উৎসব রয়েছে আর এ হলো আমাদের আনন্দ।

বুখারি হাদিস নং ৯০৫ – ঈদুল ফিতরের দিন বের হওয়ার আগে আহার করা।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহীম রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন কিছু খেজুর না খেয়ে বের হতেন না। অপর বর্ণনায় আনাস রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তা বেজোড় সংখ্যক খেতেন।

বুখারি হাদিস নং ৯০৬ – কুরবানীর দিন আহার করা।

মুসাদ্দাদ রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সালাতের আগে যে যবেহ করবে তাকে আবার যবেহ (কুরবানী) করতে হবে। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, আজকের এদিন গোশত খাওয়ার আকাংখ্যা করা হয়। সে তার প্রতিবেশীদের অবস্থা উল্লেখ করল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন তার কথার সত্যতা স্বীকার করলেন। সে বলল, আমার নিকট এখন ছয় মাসের এমন একটি মেষ শাবক আছে, যা আমার কাছে দুটি হৃষ্টপুষ্ট বকরীর চাইতেও বেশী পছন্দনীয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেটা কুরবানী করার অনুমতি দিলেন। অবশ্য আমি জানি না, এ অনুমতি তাকে ছাড়া অন্যদের জন্যও কি না ?

বুখারি হাদিস নং ৯০৭ – কুরবানীর দিন আহার করা।

উসমান রহ……….বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহার দিন সালাতের পর আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দান করেন। খুতবায় তিনি বলেন : যে আমাদের মত সালাত আদায় করল এবং আমাদের মত কুরবানী করল, সে কুরবানীর রীতিনীতি যথাযথ পালন করল। আর যে ব্যক্তি সালাতের আগে কুরবানী করল তা সালাতের আগে হয়ে গেল, কিন্তু এতে তার কুরবানী হবে না। বারা-এর মামা আবু বুরদাহ ইবেন নিয়ার রা. তখন বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমার জানামতে আজকের দিনটি পানাহারের দিন। তাই আমি পছন্দ করলাম যে, আমার ঘরে সর্বপ্রথম যবেহ করা হোক আমার বকরীই। তাই আমি আমার বকরীটি যবেহ করেছি এবং সালাতে আসার পূর্বে তা দিয়ে নাশতাও করেছি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমার বকরীটি গোশতের উদ্দেশ্যে যবেহ করা হয়েছে । তখন তিনি আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাদের কাছে এমন একটি ছয় মাসের মেষ শাবক আছে যা আমার কাছে দুটি বকরীর চাইতেও পছন্দনীয়। এটি (কুরবানী দিলে) কি আমার জন্য যথেষ্ট হবে ? তিনি বললেন : হ্যাঁ, তবে তুমি ব্যতীত অন্য কারো জন যথেষ্ট হবে না।

বুখারি হাদিস নং ৯০৮ – মিম্বর না নিয়ে ঈদগাহে গমন।

সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ঈদগাহে গমন করে সেখানে তিনি প্রথম যে কাজ শুরু করতেন তা হলে সালাত। আর সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন এবং তাঁরা তাদের কাতারে বসে থাকতেন। তিনি তাদের নসীহত করতেন, উপদেশ দিতেন এবং নির্দেশ দান করতেন। যদি তিনি কোন সেনাদল পাঠাবার ইচ্ছা করতেন, তবে তাদের আলাদা করে নিতেন। অথবা যদি কোন বিষয়ে নির্দেশ জারী করার ইচ্ছা করতেন, তবে তা জারী করতেন। তারপর তিনি ফিরে যেতেন। আবু সাঈদ রা. বলেন, লোকেরা বরাবর এ নিয়মই অনুরসরণ করে আসছিল। অবশেষে যখন মারওয়ান মদীনার আমীর হলেন, তখন ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিতরের উদ্দেশ্যে আমি তাঁর সঙ্গে বের হলাম। আমরা যখন ঈদগাহে পৌঁছলাম তখন সেখানে একটি মিম্বর দেখতে পেলাম সেটি কাসীর ইবনে সালত রা. তৈরী করেছিলেন। মারওয়ান সালাত আদায়ের আগেই এর উপর আরোহণ করতে উদ্যত হলেন। আমি তাঁর কাপড় টেনে ধরলাম। কিন্তু তিনি কাপড় ছাড়িয়ে খুতবা দিলেন। আমি তাকে বললাম, আল্লাহর কসম ! তোমরা (রাসূলের সুন্নাত) পরিবর্তন করে ফেলেছ ।

সে বলল, হে আবু সাঈদ ! তোমরা যা জানতে, তা গত হয়ে গিয়েছে। আমি বললাম, আল্লাহর কসম ! আমি যা জানি, তা তার চেয়ে ভাল, যা আমি জানি না। সে তখন বলল, লোকজন সালাতের পর আমাদের জন্য বসে থাকে না, তাই আমি খুতবা সালাতের আগেই দিয়েছি।

বুখারি হাদিস নং ৯০৯ – পায়ে হেটে বা সাওয়ারীতে আরোহণ করে ঈদের জামাআতে যাওয়া এবং আযান ও ইকামত ছাড়া খুতবার পূর্বে সালাত আদায় করা।

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের সালাত আদায় করতেন। আর সালাত শেষে খুতবা দিতেন।

হাদীস নং ৯১০

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন বের হতেন। এরপর খুতবার আগে সালাত শুরু করেন। রাবী বলেন, আমাকে আতা রহ. বলেছেন যে, ইবনে যুবাইর রা. এর বায়আত গ্রহণের প্রথম দিকে ইবনে আব্বাস রা. এ বলে লোক পাঠালেন যে, ঈদুল ফিতরের সালাতে আযান দেওয়া হত না এবং খুতবা দেওয়া হত সালাতের পরে। আতা রহ. ইবনে আব্বাস ও জাবির ইবনে আবদুল্লাহ সূত্রে বর্ণিত তাঁরা বলেন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সালাতে আযান দেওয়া হত না।জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে এ-ও বর্ণিত আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে প্রথমে সালাত আদায় করলেন, এবং পরে লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন। যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা শেষ করলেন, তিনি (মিম্বর থেকে) নেমে মহিলাগণের (কাতারের) কাছে আসলেন এবং তাদের নসীহত করলেন। তখন তিনি বিলাল রা. -এর হাতে ভর করেছিলেন এবং বিলাল রা. তাঁর কাপড় জড়িয়ে ধরলে, মহিলাগণ এতে সাদকার বস্তু দিতে লাগলেন। আমি আতা রহ. কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি এখনো জরুরী মনে করেন যে, ইমাম খুতবা শেষ করে মহিলাগণের নিকট এসে তাদের নসীহত করবেন ? তিনি বললেন, নিশ্চয় তা তাদের জন্য অবশ্যই জরুরী। তাদের কি হয়েছে যে, তাঁরা তা করবে না ?

আবু আসিম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর, উমর এবং উসমান রা.-এর সঙ্গে সালাতে হাজির ছিলাম। তাঁরা সবাই খুতবার আগে সালাত আদায় করতেন।

দু'ঈদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
দু’ঈদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদীস নং ৯১২

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর এবং উমর রা. উভয় ঈদের সালাত খুতবার পূর্বে আদায় করতেন।

হাদীস নং ৯১৩

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরে দু’রাকাআত সালাত আদায় করেন। এর আগে ও পরে কোন সালাত আদায় করেননি। তারপর বিলাল রা. কে সঙ্গে নিয়ে মহিলাগণের কাছে এলেন এবং সাদকা প্রদানের জন্য তাদের নির্দেশ দিলেন। তখন তাঁরা দিতে লাগলেন। কেউ দিলেন আংটি, আবার কেউ দিলেন গলার হার।

হাদীস নং ৯১৪

আদম রহ……….বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আজকের এ দিনে আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে সালাত আদায় করা। এরপর আমরা (বাড়ী) ফিরে আসব এবং কুরবানী করব। কাজেই যে ব্যক্তি তা করল, সে আমাদের নিয়ম পালন করল। যে ব্যক্তি সালাতের আগে কুরবানী করল, তা শুধু গোশত বলেই গন্য হবে, যা সে পরিবারবর্গের জন্য আগেই করে ফেলেছে। এতে কুরবানীর কিছুই নেই। তখন আবু বুরদা ইবনে নিয়ার রা. নামক এক আনসারী বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি তো (আগেই) যবেহ করে ফেলেছি। এখন আমার নিকট এমন একটি মেষ শাবক আছে যা এক বছর বয়সের মেষের চাইতে উৎকৃষ্ট। তিনি বললেন, সেটির স্থলে এটাকে যবেহ করে ফেল । তবে তোমার পর অন্য কারো জন্য তা যথেষ্ট হবে না।

বুখারি হাদিস নং ৯১৫ – ঈদের জামাআতে এবং হারাম শরীফে অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ।

যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আবু সুকাইন রহ………..সাঈদ ইবনে জুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর রা.-এর সঙ্গে ছিলাম যখন বর্শার অগ্রভাগ তাঁর পায়ের তলদেশে বিদ্ধ হয়েছিল। ফলে তাঁর পা রেকাবের সাথে আটকে গিয়েছিল। আমি তখন নেমে সেটি টেনে বের করে ফেললাম। এ ঘটে ছিল মিনায়। এ সংবাদ হাজ্জাজের নিকট পৌঁছলে তিনি তাকে দেখতে আসেন। হাজ্জাজ বলল, যদি আমি জানতে পারতাম কে আপনাকে আঘাত করেছে, (তাকে আমি শাস্তি দিতাম)। তখন ইবনে উমর রা. বললেন, তুমিই আমাকে আঘাত করেছ। সে বলল, তা কিভাবে ? ইবনে উমর রা. বললেন, তুমিই সেদিন (ঈদের দিন) অস্ত্র ধারণ করেছ, যে দিন অস্ত্র ধারণ করা হত না। তুমিই অস্ত্রকে হারাম শরীফে প্রবেশ করিয়েছ, অথচ হারাম শরীফে কখনো অস্ত্র প্রবেশ করা হয় না।

হাদীস নং ৯১৬

আহমদ ইবনে ইয়াকুব রহ………সাঈদ ইবনে আস রা.-এর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে উমর রা.-এর নিকট হাজ্জাজ এলো। আমি তখন তাঁর কাছে ছিলাম। হাজ্জাজ জিজ্ঞাসা করলো, তিনি কেমন আছেন ? ইবনে উমর রা. বললেন, ভাল। হাজ্জাজ জিজ্ঞাসা করলো, আপনাকে কে আঘাত করেছে ? তিনি বললেন, আমাকে সে ব্যক্তি আঘাত করেছে, যে সে দিন অস্ত্র ধারণের আদেশ দিয়েছে, যে দিন তা ধারণ করা বৈধ নয়। অর্থাৎ হাজ্জাজ।

বুখারি হাদিস নং ৯১৭ – ঈদের সালাতের জন্য সকাল সকাল রওয়ানা হওয়া।

সুলাইমান ইবনে হাবর রহ…………বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দেন। তিনি বলেন, আজকের দিনে আমাদের প্রথম কাজ হল সালাত আদায় করা। তারপর ফিরে এসে কুরবানী করা। যে ব্যক্তি এরূপ করবে সে আমাদের নিয়ম পালন করল। যে ব্যক্তি সালাতের আগেই যবেহ করবে, তা শুধু গোশতের জন্যই হবে, যা সে পরিবারের জন্য তাড়াতাড়ি করে ফেলেছে। কুরবানীর সাথে এর কোন সম্পর্কে নেই। তখন আমার মামা আবু বুরদা ইবনে নিয়ার রা. দাঁড়িয়ে বললেন ,ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি তো সালাতের আগেই যবেহ করে ফেলেছি। তবে এখন আমার নিকট এমন একটি মেষ শাবক আছে যা ‘মুসিন্ন’ মেষের চাইতেও উত্তম। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তার স্থলে এটিই (কুরবানী) করে নাও। অথবা তিনি বললেন : এটিই যবেহ । তবে তুমি ব্যতীত আর কারো জন্যই মেষ শাবক যথেষ্ট হবে না।

বুখারি হাদিস নং ৯১৮ – তাশরীকের দিনগুলোতে আমলের ফজিলত।

মুহাম্মদ ইবনে আরআরা রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের আমল, অন্যান্য দিনের আমলের তুলনায় উত্তম। তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন, জিহাদও কি (উত্তম) নয় ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তির কথা স্বতন্ত্র, যে নিজের জান ও মালের ঝুকি নিয়েও জিহাদ করে এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না।

বুখারি হাদিস নং ৯১৯ – মিনা-এর দিনগুলোতে এবং সকালে আরাফায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলা।

আবু নুআইম রহ………..মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সাকাফী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা সকাল বেলা মিনা থেকে যখন আরাফাতের দিকে যাচ্ছিলাম, তখন আনাস ইবনে মালিক রা. এর নিকট তালবিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কিরূপ করতেন ? তিনি বললেন, তালবিয়া পাঠকারী তালবিয়া পড়ত, তাকে নিষেধ করা হতো না। তাকবীর পাঠকারী তাকবীর পাঠ করত, তাকেও নিষেধ করা হতো না।

দু'ঈদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
দু’ঈদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদীস নং ৯২০

মুহাম্মদ রহ………উম্মে আতিয়্যা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ঈদের দিন আমাদের বের হওয়ার আদেশ দেওয়া হত। এমন কি আমরা কুমারী মেয়েদেরকেও অন্দর মহল থেকে বের করতাম এবং ঋতুমতী মেয়েদেরকেও। তারা পুরুষদের পিছনে থাকতো এবং তাদের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলতো এবং তাদের দুআর সাথে দু’আ করত- তারা আশা করত সে দিনের বরকত এবং পবিত্রতা।

বুখারি হাদিস নং ৯২১ – ঈদের দিন বর্শা সামনে পুতে সালাত আদায়।

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, ঈদুল ফিতর ও কুরবানীর দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে বর্শা পুতে দেওয়া হত। তারপর তিনি সালাত আদায় করতেন।

বুখারি হাদিস নং ৯২২ – ঈদের দিন ইমামের সামনে বল্লম অথবা বর্শা বহন করা।

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………ইবনে উমর রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সকাল বেলায় ঈদগাহে যেতেন, তখন তাঁর সামনে বর্শা বহন করা হত। এবং তাঁর সামনে ঈদগাহে তা স্থাপন করা হত এবং একে সামনে রেখে তিনি সালাত আদায় করতেন।

বুখারি হাদিস নং ৯২৩ – মহিলাদের এবং ঋতুমতীদের ঈদগাহে গমন।

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব রহ………..উম্মে আতিয়্যা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (ঈদের সালাতের উদ্দেশ্যে) যুবতী ও পর্দানশিন মেয়েদের নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের আদেশ করা হত। আইয়্যূব রহ. থেকে হাফসা রা. সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে এবং হাফসা রা. থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতে অতিরিক্ত বর্ণনা আছে যে, ঈদগাহে ঋতুমতী মহিলাগণ আলাদা থাকতেন।

বুখারি হাদিস নং ৯২৪ – বালকদের ঈদগাহে গমন।

আমর ইবনে আব্বাস রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ঈদুল ফিতর বা আযহার দিন বের হলাম। তিনি সালাত আদায় করলেন। এরপর খুতবা দিলেন। তারপর মহিলাগণের কাছে গিয়ে তাদের উপদেশ দিলেন, তাদের নসীহত করলেন এবং তাদেরকে সাদকা দানের নির্দেশ দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৯২৫ – ঈদের খুতবা দেওয়ার সময় মুসল্লীগণের দিকে ইমামের মুখ করে দাঁড়ানো।

আবু নুআইম রহ………..বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহার দিন বাকী (নামক কবরস্থানে) গমন করেন। তারপর তিনি দু’রাকাআত সালাত আদায় করেন। এরপর আমাদের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন এবং তিনি বলেন, আজকের দিনের প্রথম ইবাদত হল সালাত আদায় করা। এরপর (বাড়ী) ফিরে গিয়ে কুরবানী করা। যে ব্যক্তি এরূপ করবে সে আমাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করবে। আর যে এর পূর্বেই যবেহ করবে তাহলে তার যবেহ হবে এমন একটি কাজ, যা সে নিজের পরিবারবর্গের জন্যই তাড়াতাড়ি করে ফেলেছে, এর সাথে কুরবানীর কোন সম্পর্ক নেই । তখন এক ব্যক্তি (আবু বুরদা ইবনে নিয়ার রা. দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি (তো সালাতের পূর্বেই) যবেহ করে ফেলেছি। এখন আমার নিকট এমন একটি মেষ শাবক আছে যা পূর্ণবয়স্ক মেষের চাইতে উত্তম। (এটা কুরবানী করা যাবে কি ?) তিনি বললেন, এটাই যবেহ কর। তবে তোমার পর আর কারো জন্য তা যথেষ্ট হবে না।

বুখারি হাদিস নং ৯২৬ – ঈদগাহে চিহ্ন রাখা।

মুসাদ্দাদ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনি কি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে কখনো ঈদে উপস্থিত হয়েছেন ? তিনি বললেন হ্যাঁ। যদি তাঁর কাছে আমার মর্যাদা না থাকত তাহলে কম বয়সী হওয়ার কারণে আমি ঈদে উপস্থিত হতে পারতাম না। তিনি বের হয়ে কাসীর ইবনে সালতের গৃহের কাছে স্থাপিত নিশানার কাছে এলেন এবং সালাত আদায় করলেন। এরপর খুতবা দিলেন। তারপর তিনি মহিলাগণের নিকট উপস্থিত হলেন। তখন তাঁর সংগে বিলাল রা. ছিলেন। তিনি মহিলাগণের উপদেশ দিলেন, নসীহত করলেন এবং দান সাদকা করার জন্য নির্দেশ দিলেন। আমি তখন মহিলাগণের নিজ নিজ হাত বাড়িয়ে বিলাল রা.-এর কাপড়ে দান সামগ্রী ফেলতে দেখলাম। এরপর তিনি এবং বিলাল রা. নিজ বাড়ীর দিকে চলে গেলেন।

বুখারি হাদিস নং ৯২৭ – ঈদের দিন মহিলাগণের প্রতি ইমামের উপদেশ দেওয়া।

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ইবনে নাসর রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন, পরে খুতবা দিলেন। খুতবা শেষে নেমে মহিলাণের নিকট আসলেন এবং তাদের নসীহত করলেন। তখন তিনি বিলাল রা.-এর হাতের উপর ভর দিয়ে ছিলেন এবং বিলাল রা. তাঁর কাপড় প্রসারিত করে ধরলেন। মহিলাগণ এতে দান সামগ্রী ফেলতে লাগলেন (আমি ইবনে জুরাইজ) আতা রহ.কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ কি ঈদুল ফিতরের সাদকা ? তিনি বললেন, না, বরং এ সাধারণ সাদকা যা তাঁরা ঐ সময় দিচ্ছিলেন। কোন মহিলা তাঁর আংটি দান করলে অন্যান্য মহিলাগণও তাদের আংটি দান করতে লাগলেন। আমি আতা রহ. কে (আবার) জিজ্ঞাসা করলাম, মহিলাগণকে উপদেশ দেওয়া কি ইমামের জন্য জরুরী ? তিনি বললেন, অবশ্যই, তাদের উপর তা জরুরী। তাদের (ইমামগণ) কি হয়েছে যে, তাঁরা এরূপ করবেন না ? ইবনে জুরাইজ রহ. বলেছেন, হাসান ইবনে মুসলিম রহ. তাউস রহ. এর মাধ্যমে ইবনে আব্বাস রা. থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর, উমর ও উসমান রা -এর সংগে ঈদুল ফিতরে আমি উপস্থিত ছিলাম।

তাঁরা খুতবার আগে সালাত আদায় করতেন, পরে খুতবা দিতেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন, আমি যেন দেখতে পাচ্ছি তিনি হাতের ইশারায় (লোকদের) বসিয়ে দিচ্ছেন। এরপর তাদের কাতার ফাক করে অগ্রসর হয়ে মহিলাদের কাছে এলেন। বিলাল রা. তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের এ আয়াত পাঠ করলেন : “হে নবী ! যখন ঈমানদার মহিলাগণ আপনার নিকট এ শর্তে বায়আত করতে আসেন………..(সূরা মুমতাহিনা : ১২)। এ আয়াত শেষ করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা এ বায়আতের উপর আছ ? তাদের মধ্যে একজন মহিলা বলল, হ্যাঁ, সে ছাড়া আর কেউ এর জবাব দিল না। হাসান রহ. জানেন না, সে মহিলা কে ? এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা সাদকা কর। সে সময় বিলাল রা. তাঁর কাপড় প্রসারিত করে বললেন, আমার মা-বাপ আপনাদের জন্য কুরবান হোক, আসুন , আপনারা দান করুন। তখন মহিলাগণ তাদের ছাট-বড় আংটি গুলো বিলাল রা. -এর কাপড়ের মধ্যে ফেলতে লাগলেন। আবদুর রাজ্জাক রহ. বলেন ‘আল-ফাতখ’ হলো বড় আংটি যা জাহেলী যুগে ব্যবহৃত হত।

বুখারি হাদিস নং ৯২৮ – ঈদের সালাতে যাওয়ার জন্য মহিলাগণের ওড়না না থাকলে।

আবু মামার রহ………..হাফসা বিনতে সীরীন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ঈদের দিন আমাদের যুবতীদের বের হতে নিষেধ করতাম। একবার জনৈক মহিলা এলেন এবং বনু খালাফের প্রাসাদে অবস্থান করলেন। আমি তাঁর নিকট গেলে তিনি বললেন, তাঁর ভগ্নিপতি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বারটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, এর মধ্যে ছয়টি যুদ্ধে স্বয়ং তাঁর বোনও স্বামীর সাথে অংশগ্রহণ করেছেন, (মহিলা বলেন) আমার বোন বলেছেন, আমরা রুগ্ণদের সেবা করতাম, আহতদের শুশ্রূষা করতাম। একবার তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! যদি আমাদের কারো ওড়না না থাকে, তখন কি সে বের হবে না ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এ অবস্থায় তার বান্ধবী যেন তাকে নিজ ওড়না পরিধান করতে দেয় এবং এভাবে মহিলাগণ যেন কল্যাণকর কাজে ও মুমিনদের দু’আয় অংশগ্রহণ করেন। হাফসা রা. বলেন, যখন উম্মে আতিয়্যা রা. এলেন, তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আপনি কি এসব ব্যাপারে কিছু শুনেছেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, হাফসা রা. বলেন, আমার পিতা, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য উৎসর্গিত হোক এবং তিনি যখনই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম উল্লেখ করতেন, তখনই এ কথা বলতেন। সালাতের স্থান থেকে সরে থাকেন। তারা সকলেই যেন কল্যাণকর কাজে ও মুমিনদের দু’আয় অংশগ্রহণ করেন। হাফসা রা. বলেন আমি তাকে বললাম, ঋতুমতী মহিলাগণও ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, ঋতুমতী মহিলা কি আরাফাত এবং অন্যান্য স্থানে উপস্থিত হয় না ?

দু'ঈদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
দু’ঈদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৯২৯ – ঈদগাহে ঋতুমতী মহিলাগণের পৃথক অবস্থান।

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……….উম্মে আতিয়্যা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (ঈদের দিন) আমাদেরকে বের হওয়ার জন্য নির্দেশ হয়েছিল। তাই আমরা ঋতুমতী, যুবতী এবং তাঁবুতে অবস্থানকারীনী মহিলাগণকে নিয়ে বের হতাম। ইবনে আওন রহ. এর এক বর্ণনায় রয়েছে, অথবা তাঁবুতে অবস্থানকারীনী যুবতী মহিলাগণকে নিয়ে হতাম। অতঃপর ঋতুমতী মহিলাগণ মুসলমানদের জামাআত এবং তাদের দু’আয় অংশগ্রহণ করতেন। তবে ঈদগাহে পৃথকভাবে অবস্থান করতেন।

বুখারি হাদিস নং ৯৩০ – কুরবানীর দিন ঈদগাহে নাহর ও যবেহ।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে নাহর করতেন কিংবা যবেহ করতেন।

বুখারি হাদিস নং ৯৩১ – ঈদের খুতবার সময় ইমাম ও লোকদের কথা বলা এবং খুতবার সময় ইমামের নিকট কোন প্রশ্ন করা হলে।

মুসাদ্দাদ রহ……….বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরবানীর দিন সালাতের পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে খুতবা দিলেন। খুতবায় তিনি বললেন, যে আমাদের মত সালাত আদায় করবে এবং আমাদের করবানী করবে তার কুরবানী যথার্থ বলে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে কুরবানী করবে তার সে কুরবানী গোশত খাওয়া ছাড়া আর কিছু হবে না। তখন আবু বুরদাহ ইবনে নিয়ার রা. দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আল্লাহর কসম ! আমি তো সালাতে বের হবার পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। আমি ভেবেছি যে, আজকের দিনটি তো পানাহারের দিন। তাই আমি তাড়াতাড়ি করে ফেলেছি। আমি নিজে খেয়েছি এবং আমার পরিবারবর্গ ও প্রতিবেশীদের আহার করিয়াছি। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ওটা গোশত খাওয়ার বকরী ছাড়া আর কিছুই হয়নি। আবু বুরদা রা. বলেন, তবে আমার নিকট এমন একটি মেষ শাবক আছে যা দুটো (গোশত খাওয়ার) বকরীর চেয়ে ভাল। এটা কি আমার পক্ষে কুরবানীর জন্য যথেষ্ট হবে ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তবে তোমার পরে অন্য কারো জন্য যথেষ্ট হবে না।

হাদীস নং ৯৩২

হামিদ ইবনে উমর রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন সালাত আদায় করেন, তারপর খুতবা দিলেন। এরপর নির্দেশ দিলেন, যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে কুরবানী করেছে সে যেন পুনরায় কুরবানী করে। তখন আনসারগণের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার প্রতিবেশীরা ছিল উপবাসী অথবা বলেছেন দারিদ্র। তাই আমি সালাতের পূর্বেই যবেহ করে ফেলেছি। তবে আমার নিকট এমন মেষশাবক আছে যা দুটি হৃষ্টপুষ্ট বকরীর চাইতেও আমার নিকট অধিক পছন্দ সই। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেটা কুরবানী করার অনুমতি প্রদান করেন।

হাদীস নং ৯৩৩

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………জুনদাব ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন সালাত আদায় করেন, এরপর খুতবা দেন। তারপর যবেহ করেন এবং তিনি বলেন : সালাতের পূর্বে যে ব্যক্তি যবেহ করবে তাকে তার স্থলে আর একটি যবেহ করতে হবে এবং যে যবেহ করেনি, আল্লাহর নামে তার যবেহ করা উচিৎ ।

বুখারি হাদিস নং ৯৩৪ – ঈদের দিন ফিরার সময় যে ব্যক্তি ভিন্ন পথে আসে।

মুহাম্মদ রহ……….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন (বাড়ী ফেরার সময়) ভিন্ন পথে আসতেন। ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ রহ. আবু হুরায়রা রা. থেকে হাদীস বর্ণনায় আবু তুমাইল ইয়াহইয়া রহ. এর অনুসরণ করেছেন। তবে জাবির রা. থেকে হাদীসটি অধিকতর সহীহ।

বুখারি হাদিস নং ৯৩৫ – কেউ ঈদের সালাত না পেলে সে দু’রাকাআত সালাত আদায় করবে।

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, আবু বকর রা. তাঁর নিকট এলেন। এ সময় মিনার দিবসগুলোর এক দিবসে তাঁর নিককট দুটি মেয়ে দফ বাজাচ্ছিল, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদর আবৃত অবস্থায় ছিলেন। তখন আবু বকর রা. মেয়ে দুটিকে ধমক দিলেন। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে নিয়ে বললেন, হে আবু বকর ! ওদের বাঁধা দিও না। কেননা, এসব ঈদের দিন। আর সে দিনগুলো ছিল মিনার দিন। আয়িশা রা. আরো বলেছেন, হাবশীরা যখন মসজিদে (এর প্রাঙ্গণে) খেলাধুলা করছিল, তখন আমি তাদের দেখছিলাম এবং আমি দেখেছি, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আড়াল করে রেখেছেন। উমর রা. হাবশীদের ধমক দিলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওদের ধমক দিও না। হে বণূ আরফিদা ! তোমরা যা করছিলে তা নিশ্চিন্তে কর।

বুখারি হাদিস নং ৯৩৬ – ঈদের সালাতের পূর্বে ও পরে সালাত আদায় করা।

আবুল ওয়ালীদ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল রা.-কে সঙ্গে নিয়ে ঈদুল ফিতরের দিন বের হয়ে দু’রাকাআত সালাত আদায় করেন। তিনি এর আগে ও পরে কোন সালাত আদায় করেননি।

দু'ঈদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
দু’ঈদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

মন্তব্য করুন