দুআ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

দুআ অধ্যায়

দুআ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

দুআ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

বুখারি হাদিস নং ৫৮৬৬-৫৯৬৯

হাদিস নম্বরঃ ৫৯১২ | 5912 | ۵۹۱۲

পরিচ্ছদঃ ২৬৪৪. শিশুদের জন্য বরকতের দু’আ করা এবং তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া। আবু মুসা (রাঃ) বলেন, আমার এক ছেলে হলে নবী (সাঃ) তার জন্য বরকতের দু’আ করলেন

৫৯১২। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) বর্ণনা করেন। আমার খালা আমাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলেন এবং বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার এ ভাগ্নেটি অসুস্থ।

তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং আমার জন্য বরকতের দু’আ করলেন। এরপর তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলে, আমি তার উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পানি থেকে কিছুটা পান করলাম।

তারপর আমি তার পিঠের দিকে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখন আমি তার উভয় কাঁধের মাঝে মোহরে নবুওয়াত দেখতে পেলাম। সেটা ছিল খাটের চাঁদোয়ার ঝালরের মত।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯১৩ | 5913 | ۵۹۱۳

পরিচ্ছদঃ ২৬৪৪. শিশুদের জন্য বরকতের দু’আ করা এবং তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া। আবু মুসা (রাঃ) বলেন, আমার এক ছেলে হলে নবী (সাঃ) তার জন্য বরকতের দু’আ করলেন
৫৯১৩।

আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ আকীল বর্ণনা করেন। তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম (রাঃ) তাকে নিয়ে তিনি বাজারের দিকে বের হতেন। সেখান থেকে খাদ্রদ্রব্য কিনে নিতেন।

তখন পথে ইবনু যুবায়র (রাঃ) ও ইবনু উমর (রাঃ) এর দেখা হলে, তারা তাকে বলতেন যে, এর মধ্যে আপনি আমাদেরও শরীক করে নিন।

কারণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার জন্য বরকতের দুআ করেছেন। তখন তিনি তাঁদের শরীক করে নিতেন। তিনি বাহনের পিঠে লাভের শস্যাদি পুরোপুরি পেতেন, আর তা ঘরে পাঠিয়ে দিতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯১৪ | 5914 | ۵۹۱٤

পরিচ্ছদঃ ২৬৪৪. শিশুদের জন্য বরকতের দু’আ করা এবং তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া। আবু মুসা (রাঃ) বলেন, আমার এক ছেলে হলে নবী (সাঃ) তার জন্য বরকতের দু’আ করলেন
৫৯১৪।

আব্দুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … ইবনু শিহাব (রহঃ) বর্ণনা করেন। মাহমুদ ইবনু রাবী বর্ণনা করেছেন যে, তিনই ছিলেন সে ব্যাক্তি, শিশুকালে তাদেরই কুপ থেকে পানি মুখে নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার চেহারার উপর ছিটে দিয়েছিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯১৫ | 5915 | ۵۹۱۵

পরিচ্ছদঃ ২৬৪৪. শিশুদের জন্য বরকতের দু’আ করা এবং তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া। আবু মুসা (রাঃ) বলেন, আমার এক ছেলে হলে নবী (সাঃ) তার জন্য বরকতের দু’আ করলেন
৫৯১৫।

আবদান (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে শিশুদের নিয়ে আসা হতো। তিনি তাদের জন্য দুআ করতেন।

একবার একটি শিশুকে আনা হালা। শিশুটি তার কাপড়ের উপর পেশাব করে দিল। তিনি কিছু পানি আনালেন এবং তা তিনি কাপড়ের উপর ছিটিয়ে দিলেন আর তিনি কাপড় ধুলেন না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯১৬ | 5916 | ۵۹۱٦

পরিচ্ছদঃ ২৬৪৪. শিশুদের জন্য বরকতের দু’আ করা এবং তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া। আবু মুসা (রাঃ) বলেন, আমার এক ছেলে হলে নবী (সাঃ) তার জন্য বরকতের দু’আ করলেন
৫৯১৬।

আবূল ইয়ামান (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু সা’আলাবা ইবনু সুয়ায়র (রাঃ), যার মাথায় (শৈশবে) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত বুলিয়েছিলেন, তিনি বর্ননা করেন যে, তিনি সা’দ ইবনু আবূ ওক্কাসকে বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) এক রাকা’আত আদায় করতে দেখেছেন।

দুআ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯১৭ | 5917 | ۵۹۱۷

পরিচ্ছদঃ ২৬৪৫. নাবী (সাঃ) এর উপর দুরুদ পড়া
৫৯১৭। আদম (রহঃ) … আবদুর রাহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) বর্ণনা করেন, একবার আমার সঙ্গে কাব ইবনু উজরাহ (রাঃ) এর সাক্ষাত হলো।

তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে একটি হাদিয়া দেবো না। তা হল এইঃ একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন, তখন আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা আপনাকে কেমন করে সালাম দেব, আমরা আপনার উপর দরুদ কিভাবে পড়বো?

তিনি বললেনঃ তোমরা বলবে, ইয়া আল্লাহ আপনি মুহাম্মাদের উপর ও তার পরিবারবর্গের উপর খাস রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর পরিবারের উপর খাস রহমাত বর্ষণ করেছেন।

নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, উচ্চ মর্যাদাশীল। ইয়া আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদের উপর ও তার পরিবারবর্গের উপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি ইববাহীম (আলাইহিস সালাম) এর পরিবারবর্গের উপর বরকত নাযীল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত উচ্চ মর্যাদাশীল।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯১৮ | 5918 | ۵۹۱۸

পরিচ্ছদঃ ২৬৪৫. নাবী (সাঃ) এর উপর দুরুদ পড়া
৫৯১৮। ইবরাহীম ইবনু হামযা (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। একবার আমরা বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! এই যে ‘আসসালামু আলাইকা’ তা তো আমরা জেনে নিয়েছি।

তবে আপনার উপর দরুদ কিভাবে পড়বো? তিনি বললেনঃ তোমরা পড়বে ইয়া আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও আপনার রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর খাছ রহমত বর্ষণ করুন।

যেমন করে আপনি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর উপর রহমত নাযিল করেছেন। আর আপনি মুহাম্মদ ও তার পরিবারবর্গের উপর বরকত বর্ষণ করুন, যে রকম আপনি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর উপর এবং ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর পরিবারবর্গের উপর বরকত নাযিল করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯১৯ | 5919 | ۵۹۱۹

পরিচ্ছদঃ ২৬৪৬. নাবী (সাঃ) ছাড়া অন্য কারো উপর দরূদ পড়া যায় কিনা? আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ আপনি তাদের জন্য দু’আ করুন। নিশ্চয়ই আপনার দু’আ তাদের জন্য চিত্তস্বস্তিকর (৯ঃ ১০৩)
৫৯১৯।

সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … আবূ আওফা (রাঃ) বর্ণনা করেন, যখন কেউ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তার সাদাকা নিয়ে আসতেন, তখন তিনি দুআ করতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুন।

এভাবে আমার পিতা একদিন সাদাকা নিয়ে তার কাছে এলে তিনি দু আ করলেন ইয়া আল্লাহ! আপনি আবূ আওফার পরিবারবর্গের উপর রহমত করুন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯২০ | 5920 | ۵۹۲۰

পরিচ্ছদঃ ২৬৪৬. নাবী (সাঃ) ছাড়া অন্য কারো উপর দরূদ পড়া যায় কিনা? আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ আপনি তাদের জন্য দু’আ করুন। নিশ্চয়ই আপনার দু’আ তাদের জন্য চিত্তস্বস্তিকর (৯ঃ ১০৩)
৫৯২০।

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … আবূ হুমায়দ সাঈদী (রহঃ) বর্ণনা করেন। একবার লোকেরা বললোঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা আপনার উপর কিভাবে দরুদ পড়বো?

তিনি বললেনঃ তোমরা পড়বে, ইয়া আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদের ও তার সহধর্মিণীগণ এবং তার সন্তান-সন্ততিগণের উপর রহমত নাযিল করুন। যেমন করে আপনি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর উপর রহমত নাযিল করেছেন।

আর আপনি মুহাম্মদ, তার সহধর্মিণীগণ এবং তার আওলাদের উপর বরকত নাযিল করুন, যেমনভাবে আপনি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর পরিবারবর্গের উপর বরকত নাযিল করেছেন। আপনি অতি প্রশংসিত এবং উচ্চ মর্যাদাশীল।

দুআ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯২১ | 5921 | ۵۹۲۱

পরিচ্ছদঃ ২৬৪৭. নাবী (সাঃ) এর বাণীঃ ইয়া আল্লাহ! আমি যাকে কষ্ট দিয়েছি, সে কষ্ট তার পরিশুদ্ধির উপায় এবং তার জন্য রহমাত করে দিন
৫৯২১। আহমাদ ইবনু সালিহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ দু’আ করতে শুনেছেনঃ ইয়া আল্লাহ! যদি আমি কোন মুমিন ব্যাক্তিকে মন্দ বলে থাকি, তবে আপনি সেটাকে কিয়ামতের দিন তার জন্য আপনার নৈকট্য লাভের উপায় বানিয়ে দিন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯২২ | 5922 | ۵۹۲۲

পরিচ্ছদঃ ২৬৪৮. ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া
৫৯২২। হাফস ইবনু উমর (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একবার লোকজন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নানা প্রশ্ন করতে লাগল, এমনকি প্রশ্ন করতে করতে তাকে বিরক্ত করে ফেললো।

এতে তিনি রাগ করলেন এবং মিম্বরে আরোহন করে বললেনঃ আজ তোমরা যত প্রশ্ন করবে আমি তোমাদের সব প্রশ্নেরই বর্ণনা সহকারে জবাব দিব।

এ সময় আমি ডানে ও বামে তাকাতে লাগলাম এবং দেখলাম যে, প্রতিটি লোকই নিজের কাপড় দিয়ে মাথা পেচিয়ে কাঁদছে। এমন সময় একজন লোক, যাকে লোকের সাথে বিবাদের সময় তার বাপের নাম নিয়ে ডাকা হতো না, সে প্রশ্ন করলোঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পিতা কে?

তিনি বললেনঃ হুযায়ফা। তখন উমর (রাঃ) বলতে লাগলেন আমরা আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ কে রাসুল হিসেবে গ্রহণ করেই সন্তুষ্ট।

আমরা ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি ভাল মন্দের যে দৃশ্য আজ দেখলাম, তা আর কখনো দেখিনি।

জান্নাত ও জাহান্নামের দৃশ্য আমাকে এমন স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে যে, যেন এ দুটি এ দেয়ালের পেছনেই অবস্থিত। রাবী কাতাদাহ (রহঃ) হাদীস উল্লেখ করার সময় এ আয়াতটি পড়তেন। (অর্থ) হে মুমিনগণ! তোমরা সে সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯২৩ | 5923 | ۵۹۲۳

পরিচ্ছদঃ ২৬৪৯. মানুষের আধিপত্য থেকে পানাহ (আল্লাহর আশ্রয়) চাওয়া
৫৯২৩। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তালহা (রাঃ) কে বললেনঃ তুমি তোমাদের ছেলেদের মধ্য থেকে আমার খিদমত করার জন্য একটি ছেলে নিয়ে এস।

আবূ তালহা (রাঃ) গিয়ে আমাকে তার সাওয়ারীর পিছনে বসিয়ে নিয়ে এলেন। তখন থেকে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমত করে আসছি।

যখনই কোন বিপদ দেখা দিত, তখন আমি তাঁকে বেশী করে এ দুআ পড়তে শুনতামঃ ইয়া আল্লাহ! আমি দুশ্চিতা, পেরেশানী, অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, ভীরুতা, ঋন এর বোঝা এবং মানুষের আধিপত্য থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি।

আমি সর্বদা তার খিদমত করে আসছি , এমন কি যখন আমরা খায়বার অভিযান থেকে ফিরে আসছিলাম, তখন তিনি সাফিয়্যা বিনত হুয়াইকে সঙ্গে নিয়ে আসলেন, তিনি তাকে গনীমতের মাল থেকে নিজের জন্য বেছে নিয়েছিলেন।

তখন আমি তাকে দেখছিলাম যে, তিনি তাকে একখানা চাঁদর অথবা একখানা কম্বল দিয়ে ঢেকে নিজের পেছনে বসিয়েছিলেন।

যখন আমরা সবাই সাহবা নামক স্থানে পৌছলাম, তখন আমরা (সেখানে থেমে) ‘হাইস’ নামক খাবার তৈরী করে এবং চামড়ার দস্তরখানে রাখলাম।

তিনি আমাকে পাঠালেন, আমি গিয়ে কয়েকজন লোককে দাওয়াত করলাম। তারা এসে খেয়ে গেলেন। এটি ছিল সাফিয়্যার সঙ্গে তার বাসর যাপন।

তারপর তিনি রওয়ানা হলে ওহোদ পর্বত তাঁর সামনে দেখা গেল তখন তিনি বললেনঃ এ এমন একটি পাহাড় যা আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসী।

তারপর যখন মদিনার কাছে পৌছলেন, তখন তিনি বললেন ইয়া আল্লাহ! আমি মদিনার দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম (সম্মানিত) করছি, যে রকম ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) মক্কাকে হারাম (সম্মানিত) করেছিলেন। ইয়া আল্লাহ! আপনি তাদের মুদ্দ ও সা’ এর মধ্যে বরকত দিন।

দুআ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯২৪ | 5924 | ۵۹۲٤

পরিচ্ছদঃ ২৬৫০. কবরের আযাব হতে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া
৫৯২৪। হুমায়দী (রহঃ) … মূসা ইবনু উকবা (রহঃ) বর্ণনা করেছেন।

উম্মে খালিদ বিনত খালিদ (রাঃ) বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কবরের আযাব থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে শুনেছি।

রাবী বলেন যে, এ হাদীস আমি উম্মে খালিদ ব্যতীত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আর কাউকে বলতে শুনি নি।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯২৫ | 5925 | ۵۹۲۵

পরিচ্ছদঃ ২৬৫০. কবরের আযাব হতে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া
৫৯২৫। আদম (রহঃ) … মুসআব (রহঃ) বর্ণনা করেন, সা’দ (রাঃ) পাঁচটি জিনিস থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে নির্দেশ দিতেন এবং তিনি এগুলো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উল্লেখ করতেন।

তিনি এগুলো থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে এ দুআ পড়তে নির্দেশ দিতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি কৃপণতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি।

আমি কাপুরষতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি, আমি অবহেলিত বার্ধক্যে উপনীত হওয়া থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি, আর আমি দুনিয়ার ফিতনা অর্থাৎ দাজ্জালের ফিতনা থেকেও আপনার আশ্রয় চাচ্ছি এবং আমি কবরের আযাব থেকেও আপনার আশ্রয় চাচ্ছি।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯২৬ | 5926 | ۵۹۲٦

পরিচ্ছদঃ ২৬৫০. কবরের আযাব হতে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া
৫৯২৬। উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন একবার আমার নিকট মদিনার দু’জন ইয়াহুদী বৃদ্ধা মহিলা এলেন। তারা আমাকে বললেন যে, কবরবাসীদের তাদের কবরে আযাব দেওয়া হয়ে থাকে।

তখন আমি তাদের একথা মিথ্যা বলে অভিহিত করলাম। আমার বিবেক তাদের কথাটিকে সত্য বলে মানতে চাইল না। তারা দু’জন বেরিয়ে গেলেন। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন।

আমি তাকে বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার নিকট দু’জন বৃদ্ধা এসেছিলেন। তারপর আমি তাকে তাদের কথা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তারা দু’জন সত্যই বলেছে।

নিশ্চয়ই কবরবাসীদের এমন আযাব দেওয়া হয়ে থাকে যা সকল চতুষ্পদ জীবজন্তু শুনে থাকে। এরপর থেকে আমি তাকে সর্বদা প্রত্যেক সালাতে কবরের আযাব থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে দেখেছি।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯২৭ | 5927 | ۵۹۲۷

পরিচ্ছদঃ ২৬৫১. জীবন মৃত্যুর ফিতনা হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া
৫৯২৭।

মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই বলতেন ইয়া আল্লাহ!

নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা এবং বার্ধক্য থেকে। আরও আশ্রয় চাচ্ছি, কবরের আযাব থেকে। আরও আশ্রয় চাচ্ছি জীবন ও মুত্যুর ফিতনা থেকে।

দুআ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯২৮ | 5928 | ۵۹۲۸

পরিচ্ছদঃ ২৬৫২. গুনাহ ও ঋণ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া
৫৯২৮।

মুআল্লা ইবনু আসাদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় চাই অলসতা, অতিরিক্ত বার্ধক্য, গুনাহ আর ঝণ থেকে, আর কবরের ফিতনা এবং কবরের আযাব থেকে।

আর জাহান্নামের ফিতনা এবং এর আযাব থেকে, আর ধনবান হওয়ার পরীক্ষার মন্দ পরিনাম থেকে। আমি আরও আশ্রয় চাই দারিদ্রের অভিশাপ থেকে।

আমি আরও আশ্রয় চাই মসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে। ইয়া আল্লাহ! আমার গুনাহ এর দাগগুলো থেকে আমার অন্তরকে বরফ ও শীতল পানি দ্বারা ধুয়ে পরিস্কার করে দিন এবং আমার অন্তরকে সমস্ত গুনাহ এর ময়লা থেকে এমনভাবে পরিস্কার করে দিন, যেভাবে আপনি সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে সাফ করার ব্যবস্থা করে থাকেন।

আর আমার ও আমার গুনাহগুলোর মধ্যে এতটা দূরত্ব করে দিন, যত দূরত্ব আপনি দুনিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯২৯ | 5929 | ۵۹۲۹

পরিচ্ছদঃ ২৬৫৩. কাপুরুষতা ও অলসতা হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা
৫৯২৯।

খালিদ ইবনু মাখলাদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই-দুশ্চিতা, পেরেশানী, অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, ঋণের বোঝা ও লোকজনের আধিপত্য থেকে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৩০ | 5930 | ۵۹۳۰

পরিচ্ছদঃ ২৬৫৪. কৃপনতা হতে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া
৫৯৩০। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) … সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি পাঁচটি কাজ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেই বর্ণনা করতেন।

তিনি দু’আ-করতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কৃপণতা থেকে, আমি আশ্রয় চাই কাপুরুষতা থেকে, আমি আশ্রয় চাই অবহেলিত বার্ধক্যে উপনীত হওয়া থেকে, আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই দুনিয়ার বড় ফিতনা (দাজ্জালের ফিতনা) থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৩১ | 5931 | ۵۹۳۱

পরিচ্ছদঃ ২৬৫৫. দুঃসহ দীর্ঘায়ু আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া
৫৯৩১। আবূ মা’মার (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি অলসতা থেকে আপনার আশ্রয় চাই এবং আমি আপনার কাছে কাপুরুষতা থেকে আশ্রয় চাই। আমি আপনার কাছে আরও আশ্রয় চাই দুঃসহ দীর্ঘায়ু থেকে এবং আমি কৃপণতা থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৩২ | 5932 | ۵۹۳۲

পরিচ্ছদঃ ২৬৫৬. মহামারি ও রোগ যন্ত্রনা দূর হওয়ার দু’আ করা
৫৯৩২। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেনঃ, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করতেন ইয়া আল্লাহ! আপনি যেভাবে মক্কাকে আমাদের জন্য প্রিয় করে দিয়েছেন, মদিনাকেও সেভাবে অথবা এর চাইতে বেশী আমাদের কাছে প্রিয় করে দিন।

আর মদিনার জ্বর “জুহফা” নামক স্থানের দিকে সরিয়ে দিন। ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদের মাপের ও ওযনের পাত্রে বরকত দিন।

দুআ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৩৩ | 5933 | ۵۹۳۳

পরিচ্ছদঃ ২৬৫৬. মহামারি ও রোগ যন্ত্রনা দূর হওয়ার দু’আ করা
৫৯৩৩। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, বিদায় হাজ্জের (হজ্জ) সময় আমি রোগে আক্রান্ত হয়ে মরণাপন্ন হয়ে পড়েছিলাম।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সময় আমাকে দেখতে এলেন। তখন আমি বললাম আমি যে রোগ-ষন্ত্রনায় আক্রান্ত তাতো আপনি দেখছেন। আমি একজন ধনবান লোক।

আমার একাটি মেয়ে ছাড়া আর কেউ ওয়ারিস নেই। তাই আমি কি আমার দু’তৃতীয়াংশ মাল সাদাকা করে দিতে পারি? তিনি বললেনঃ না।

আমি বললাম তবে অর্ধেক মাল? তিনি বললেনঃ না। এক তৃতীয়াংশ অনেক। তোমার ওয়ারিসদের লোকের কাছে ভিক্ষার হাত প্রসারিত করার মত অভাবী রেখে যাওয়ার চাইতে তাদের ধনবান রেখে যাওয়া তোমার জন্য অনেক উত্তম।

আর তুমি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিটি লাভের জন্য যা কিছুই ব্যয় করবে নিশ্চয়ই তার প্রতিদান দেওয়া হবে। এমন কি (সে উদ্দেশ্যে) তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে লুকমাটি তুলে দিয়ে থাকো তোমাকে এর প্রতিদান দেওয়া হবে।

আমি বললাম তা হলে আমার সঙ্গীগণের পরেও কি আমি বেঁচে থাকবো? তিনি বললেন নিশ্চয়ই তুমি তাদের পরে বেঁচে থাকলে তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য যা কিছু নেক আমল করনা কেন, এর বিনিময়ে তোমার মর্যাদা ও সম্মান আরও বেড়ে যাবে।

আশা করা যায় যে, তুমি আরও কিছু দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকবে। এমন কি তোমার দ্বারা অনেক কাওম উপকৃত হবে। আর অনেক কাওম ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

তারপর তিনি দুআ করলেন ইয়া আল্লাহ! আপনি আমার (মুহাজির) সাহাবীগণের হিজরতকে বহাল রাখুন। আর তাদের পেছনে ফিরে যেতে দিবেন না।

সা’দ ইবনু খাওলাহ (রাঃ) এর দূর্ভাগ্য (কারণ তিনি ইচ্ছা না থাকা সত্তেও বিদায় হাজ্জের সময় মক্কায় মারা যান) সা’দ (রাঃ) বলেন মক্কাতে ওফাতের কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৩৪ | 5934 | ۵۹۳٤

পরিচ্ছদঃ ২৬৫৭. বার্ধক্যের অসহায়ত্ব এবং দুনিয়ার ফিতনা আর জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাওয়া
৫৯৩৪।

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব বাক্য দিয়ে আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন, সে সব বাক্যদ্বারা তোমরাও আশ্রয় চাও।

তিনি বলতেন “ইয়া আল্লাহ! আমি কাপুরুষতা থেকে, আমি কৃপণতা থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আমি বয়সের অসহায়ত্ব থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আর আমি দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের আযাব থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৩৫ | 5935 | ۵۹۳۵

পরিচ্ছদঃ ২৬৫৭. বার্ধক্যের অসহায়ত্ব এবং দুনিয়ার ফিতনা আর জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাওয়া
৫৯৩৫। ইয়াহইয়া ইবনু মূসা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করতেনঃ হে আল্লাহ! আমি অলসতা, অতি বার্ধক্য, ঋণ আর পাপ থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাই জাহান্নামের আযাব, জাহান্নামের ফিতনা, কবরের আযাব, প্রাচুর্যের ফিতনার কুফল, দারিদ্রের ফিতনার কুফল এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে।

ইয়া আল্লাহ! আপনি আমার সমুদয় গুনাহ বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধুয়ে দিন। আমার অন্তর যাবতীয় পাপ থেকে পরিচ্ছন্ন করুন, যেভাবে সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়।

আমার ও আমার গুনাহ সমূহের মধ্যে এতটা ব্যবধান করে দিন যতটা ব্যবধান আপনি পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মধ্যে করেছেন।

দুআ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৩৬ | 5936 | ۵۹۳٦

পরিচ্ছদঃ ২৬৫৮. প্রাচুর্যের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়া
৫৯৩৬। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর আশ্রয় চেয়ে বলতেন ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাই জাহান্নামের ফিতনা, জাহান্নামের আযাব থেকে।

আমি আরও আশ্রয় চাই কবরের ফিতনা থেকে এবং আপনার আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে। আমি আরও আশ্রয় চাই প্রাচুর্যের ফিতনা থেকে, আর আমি আশ্রয় চাই অভাবের ফিতনা থেকে। আমি আরও আশ্রয় চাই মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৩৭ | 5937 | ۵۹۳۷

পরিচ্ছদঃ ২৬৫৯. দারিদ্রের সংকট হতে পানাহ চাওয়া
৫৯৩৭। মুহাম্মদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’আ পাঠ করতেনঃ ইয়া আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে দোযখের সংকট, দোযখের আযাব, কবরের সংকট, কবরে আযাব, প্রাচুর্যের ফিতনা, ও অভাবের ফিতনা থেকে পানাহ চাই।

আয় আল্লাহ! আমি আপনার নিকট মসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে পানাহ চাই। আয় আল্লাহ! আমার অন্তরকে বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধুয়ে দিন।

আর আমার অন্তর গুনাহ থেকে এমনভাবে সাফ করে দিন, যেভাবে আপনি সাদা কাপড়ের ময়লা পরিস্কার করে থাকেন এবং আমাকে আমার গুনাহ থেকে এতটা দূরে সরিয়ে রাখুন, পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তকে পশ্চিম প্রান্ত থেকে যত দুরে রেখেছেন।

আয় আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পানাহ চাই অলসতা, গুনাহ এবং ঋণ থেকে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৩৮ | 5938 | ۵۹۳۸

পরিচ্ছদঃ ২৬৬০. বরকতসহ মালের প্রাচুর্যের জন্য দু’আ করা
৫৯৩৮। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … উম্মে সুলায়ম (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আনাস আপনার খাদিম আপনি আল্লাহর নিকট তার জন্য দুআ করুন। তিনি দুআ করলেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি তার মাল ও সন্তান বাড়িয়ে দিন, আর আপনি তাকে যা কিছু দিয়েছেন তাতে বরকত দান করুন।

হিশাম ইবনু যায়দ (রহঃ) বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৩৯ | 5939 | ۵۹۳۹

পরিচ্ছদঃ ২৬৬০. বরকতসহ মালের প্রাচুর্যের জন্য দু’আ করা
৫৯৩৯। আবূ যায়েদ সাঈদ ইবনু রাবী (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে সুলায়ম বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আনাস আপনার খাদিম।

তখন তিনি দু’আ করলেন ইয়া আল্লাহ! আপনি তার মাল ও সন্তান বাড়িয়ে দিন এবং আপনি তাকে যা দিয়েছেন তাতে বরকত দিন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৪০ | 5940 | ۵۹٤۰

পরিচ্ছদঃ ২৬৬১. ইস্তিখারার সময়ের দু’আ
৫৯৪০। মুতাররিফ ইবনু আবদুল্লাহ আবূ মুসআব (রহঃ) … জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন; নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যাবতীয় কাজের জন্য ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন, যেমনভাবে তিনি কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন।

(আর বলতেন) যখন তোমাদের কারো কোন বিশেষ কাজ করার ইচ্ছা হয়, তখন সে যেন দু’রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে এরূপ দু’আ করে।

(অর্থঃ) ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের দ্বারা আমার উদ্দিষ্ট কাজের মঙ্গলামঙ্গল জানতে চাই এবং আপনার ক্ষমতা বলে আমি কাজে সক্ষম হতে চাই। আর আমি আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করি।

কারণ, আপনি ক্ষমতাবান আর আমার কোন ক্ষমতা নেই এবং আপনি জানেন আর আমি জানিনা। আপনই গায়িব সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন।

ইয়া আল্লাহ! যদি আপনার জ্ঞানে এ কাজটিকে আমার দ্বীনের ব্যাপারে, আমার জীবন ধারণে ও শেষ পরিণতিতে; রাবী বলেন, কিংবা তিনি বলেছেনঃ আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিক দিয়ে মঙ্গলজনক বলে জানেন তাহলে তা আমার জন্য নির্ধারিত করে দিন।

আর যদি আমার এ কাজটি আমার দ্বীনের ব্যাপারে, জীবন ধারণে ও শেষ পরিণতিতে রাবী বলেন কিংবা তিনি বলেছেন দুনিয়ায় আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিক দিয়ে, আপনি আমার জন্য অমঙ্গলজনক মনে করেন, তবে আপনি তা আমার থেকে ফিরিয়ে নিন।

আমাকেও তা থেকে ফিরিয়ে রাখুন। আর যেখানেই হোক, আমার জন্য মঙ্গলজনক কাজ নির্ধারিত করে দিন। তারপর আমাকে আমার নির্ধারিত কাজের প্রতি তৃপ্ত রাখুন। রাবী বলেন, সে যেন এসময় তার প্রয়োজনের বিষয়ই উল্লেখ করে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৪১ | 5941 | ۵۹٤۱

পরিচ্ছদঃ ২৬৬২. ‘উযু করার সময় দু’আ করা
৫৯৪১। মুহাম্মদ ইবনু আলা (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার পানি আনিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন।

তারপর উভয় হাত তুলে দু’আ করলেন ইয়া আল্লাহ! আপনি উবায়দ আবূ আমরকে ক্ষমা করে দিন। আমি তখন তার বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম।

আরও দু’আ করলেন ইয়া আল্লাহ! আপনি তাকে কিয়ামতের দিন অনেক লোকের উপর মর্যাদাবান করুন।

দুআ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৪২ | 5942 | ۵۹٤۲

পরিচ্ছদঃ ২৬৬৩. উঁচু জায়গায় চড়ার সময়ের দু’আ
৫৯৪২। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক সফরে আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম।

যখন আমরা উঁচু জায়গায় উঠতাম তখন উচ্চস্বরে আল্লাহ আল্লাহ বলতাম। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে লোকেরা! তোমরা নিজেদের জানের উপর দয়া করো।

কারণ তোমরা কোন বধির অথবা অনুপস্থিতকে আহবান করছ না বরং তোমরা আহবান করছ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা সত্তাকে।

কিছুক্ষণ পর তিনি আমার কাছে এলেন, তখন আমি মনে মনে পড়ছিলামঃ “লা হাওলা ওলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” তখন তিনি বলেন, হে আবদুল্লাহ ইবনু কায়স! তুমি পড়বে লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।

কারণ এ দু’আ হল বেহেশ্তের রত্ন ভাণ্ডার সমূহের অন্যতম। অথবা তিনি বললেন আমি কি তোমাকে এমন একটি বস্তুর সন্ধান দেব না যে বাক্যটি জান্নাতের রত্ন ভান্ডার? সেটি থেকে একটি রত্নভাণ্ডার হল লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৪৩ | 5943 | ۵۹٤۳

পরিচ্ছদঃ ২৬৬৫. সফরের ইচ্ছা করলে কিংবা সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করার পর দু’আ
بَابُ الدُّعَاءِ إِذَا هَبَطَ وَادِيًا

فِيهِ حَدِيثُ جَابِرٍ

২৬৬৪. পরিচ্ছেদঃ উপত্যকায় অবতরণ করার সময় দু’আ। এ প্রসঙ্গে জাবির (রাঃ) এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

৫৯৪৩। ইসমাঈল (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় হাজ্জ (হজ্জ) কিংবা উমরা থেকে ফিরতেন, তখন প্রতিটি উঁচু জায়গার উপর তিনবার “আল্লাহু আকবার” বলতেন।

তারপর বলতেনঃ আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তার কোন শরীক নেই। রাজত্ব, হামদও তারই জন্য, তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।

আমরা প্রত্যবর্তনকারী, তাওবাকারী, ইবাদতকারী, আপন প্রতিপালকের প্রশংসাকারী, আল্লাহ তা’আলা নিজ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। তিনি তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন, আর দুশমনের দলকে তিনি একাই প্রতিহত করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৪৪ | 5944 | ۵۹٤٤

পরিচ্ছদঃ ২৬৬৬. বরের জন্য দু’আ করা
৫৯৪৪। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান ইবনু আওফের গায়ে হলুদ রং দেখে জিজ্ঞাসা করলেনঃ ব্যাপার কি?

তিনি বললেনঃ আমি একজন মহিলাকে বিয়ে করেছি এক খণ্ড সোনার বিনিময়ে। তিনি দুআ করলেনঃ আল্লাহ তোমাকে বরকত দিন। একটা বকরী দিয়ে হলেও তুমি ওলীমা করো।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৪৫ | 5945 | ۵۹٤۵

পরিচ্ছদঃ ২৬৬৬. বরের জন্য দু’আ করা
৫৯৪৫। আবূ নূমান (রহঃ) … জাবির (রাঃ) বলেন, আমার আব্বা সাত অথবা নয়জন মেয়ে রেখে ইন্তেকাল করেন। তারপর আমি একজন মহিলাকে বিয়ে করি।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি বিয়ে করেছ? আমি বললামঃ হ্যাঁ। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, সে মহিলাটি কুমারী না অকুমারী? আমি বললামঃ অকুমারী।

তিনি বললেন, তুমি একজন কুমারী বিয়ে করলে না কেন? তা হলে তুমি তার সঙ্গে ক্রীড়া-কৌতুক করতে এবং সেও তোমার সঙ্গে ক্রীড়া কৌতুক করত।

আর তুমি তার সাথে এবং সেও তোমার সাথে হাসীখুশী করতো। আমি বললামঃ আমার আব্বা সাত অথবা নয়জন মেয়ে রেখে ইন্তেকাল করেছেন।

সূতরাং আমি এটা পছন্দ করলাম না যে, তাদের মত কুমারী বিয়ে করে আনি। এজন্য আমি এমন একজন মহিলাকে বিয়ে করেছি যে তাদের দেখাশোনা করতে পারবে। তখন তিনি দুআ করলেন আল্লাহ! তোমাকে বরকত দিন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৪৬ | 5946 | ۵۹٤٦

পরিচ্ছদঃ ২৬৬৭. নিজ স্ত্রীর নিকট আসলে যে দু’আ পড়তে হয়
৫৯৪৬।

উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

তোমাদের কেউ স্ত্রীর সঙ্গে সংত হওয়ার ইচ্ছা করলে সে বলবেঃ আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ আপনি আমাদের শয়তান থেকে দূরে রাখুন এবং আপনি আমাদেরকে যা দান করেন তা থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন তারপর তাদের এ মিলনের মধ্যে যদি কোন সন্তান নির্ধারিত থাকে তা হলে শয়তান এ সন্তানকে কখনো ক্ষতি করতে পরবে না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৪৭ | 5947 | ۵۹٤۷

পরিচ্ছদঃ ২৬৬৮. নাবী (সাঃ) এর দু’আঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ইহকালে কল্যাণ দাও
৫৯৪৭। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময়ই এ দুআ পড়তেনঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও এবং আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আমাদের অগ্নিযন্ত্রণা থেকে রক্ষা কর। (২ঃ ২০১)

দুআ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৪৮ | 5948 | ۵۹٤۸

পরিচ্ছদঃ ২৬৬৯. দুনিয়ার ফিতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া
৫৯৪৮। ফারওয়া ইবনু আবূল মাগরা (রহঃ) … সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যেভাবে লেখা শিখানো হতো ঠিক এভাবেই আমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’আ শিখাতেন।

ইয়া আল্লাহ! আমি কৃপণতা থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আর আমি ভীরুতা থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

আর আপনার আশ্রয় চাই আমাদের বার্ধক্যের অসহায়ত্বের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া থেকে। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই দুনিয়ার ফিতনা এবং কবরের আযাব থেকে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৪৯ | 5949 | ۵۹٤۹

পরিচ্ছদঃ ২৬৭০. বারবার দু’আ করা
৫৯৪৯। ইবরাহীম ইবনু মুনযির (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর যাদু করা হলো। এমন কি তার খেয়াল হতো যে, তিনি একটা কাজ করেছেন।

অথচ তিনি তা করেন নি। সে জন্য তিনি আল্লাহর কাছে দুআ করলেন। এরপর তিনি (আয়িশা (রাঃ) কে বললেনঃ তুমি জানতে পেরেছ কি?

আমি যে বিষয়টা আল্লাহর কাছ থেকে জানতে চেয়েছিলাম, তা তিনি আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ তা কি?

তিনি বললেনঃ (স্বপ্নের মধ্যে) আমার নিকট দু’জন লোক আসলেন এবং একজন আমার মাথার কাছে, আরেক জন আমার উভয় পায়ের কাছে বসলেন।

তারপর একজন তার সাথীকে জিজ্ঞাসা করলেন এ ব্যাক্তির রোগটা কি? তখন অপরজন বললেনঃ তিনি যাদুতে আক্রান্ত। আবার তিনি জিজ্ঞাসা করলেন তাকে কে যাদু করেছে?

অপর জন বললেনঃ লাবীদ ইবনু আসাম। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, তা কিসের মধ্যে করেছে? তিনি বললেন, চিরুনী, ছেড়া চুল ও কাঁচা খেজুর গাছের খোশার মধ্যে।

পূনরায় তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ এটা কোথায়? তিনি বললেনঃ যুরাইক গোত্রের ‘মুআরওয়ান’ নামক কুপের মধ্যে।

আয়িশা। (রাঃ) বর্ণনা করেন, অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে গেলেন এবং (তা কূপ থেকে বের করিয়ে নিয়ে) আয়িশার কাছে ফিরে এসে বললেনঃ আল্লাহর কসম! সেই কুপের পানি যেন মেহেন্দি তলানী পানি এবং এর (নিকটস্থ) খেজুর গাছগুলো ঠিক যেন শয়তানের মাথা।

আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এসে তার কাছে কুপের বিস্তারিত অবস্থা জানালেন।

তখন আমি বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি এ ব্যাপারটা লোক সমাজে প্রকাশ করে দিলেন না কেন? তিনি বললেন আল্লাহ তা’আলা তো আমাকে রোগমুক্ত করেছেন। সুতরাং আমি লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিস্তার করা পছন্দ করি না।

ঈসা ইবনু ইউনূস ও লায়স (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যাদু করা হলে তিনি বারবার দুআ করলেন, এভাবে পূর্ন হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৫০ | 5950 | ۵۹۵۰

পরিচ্ছদঃ ২৬৭১. মুশরিকদের উপর বদ দু’আ করা। ইবন মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাকে তাদের মুকাবিলায় সাহায্য করুন।

যেমন দুর্ভিক্ষগ্রস্থ সাত বছর দিয়ে ইউসুফ (আঃ) কে সাহায্য করেছেন। ইয়া আল্লাহ! আপনি আবু জেহেলকে শাস্তি দিন। ইবন উমর (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) সালাতে বদ দু’আ করলেন।

ইয়া আল্লাহ! অমুককে লা’নত করুন ও অমুককে লা’নত করুন। তখন ওহী নাযিল হলঃ তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদের শাস্তি দিবেন এ বিষয়ে আপনার করনীয় কিছুই নেই। (৩ঃ ১২৮)

৫৯৫০। ইবনু সালাম (রহঃ) … ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খন্দকের যুদ্ধে) শত্রু বাহিনীর উপর বদ দু’আ করেছেনঃ ইয়া আল্লাহ! হে কিতাব অবর্তীর্ণকারী! হে ত্বরিৎ হিসাব গ্রহণকারী! আপনি শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করুন। তাদের পরাস্ত করুন। এবং তাদের প্রকিম্পিত করুন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৫১ | 5951 | ۵۹۵۱

পরিচ্ছদঃ ২৬৭১. মুশরিকদের উপর বদ দু’আ করা। ইবন মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাকে তাদের মুকাবিলায় সাহায্য করুন।

যেমন দুর্ভিক্ষগ্রস্থ সাত বছর দিয়ে ইউসুফ (আঃ) কে সাহায্য করেছেন। ইয়া আল্লাহ! আপনি আবু জেহেলকে শাস্তি দিন। ইবন উমর (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) সালাতে বদ দু’আ করলেন।

ইয়া আল্লাহ! অমুককে লা’নত করুন ও অমুককে লা’নত করুন। তখন ওহী নাযিল হলঃ তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদের শাস্তি দিবেন এ বিষয়ে আপনার করনীয় কিছুই নেই। (৩ঃ ১২৮)

৫৯৫১। মুয়ায ইবনু ফাযালা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার সালাত (নামায/নামাজ) এর শেষ রাক’আতে যখন ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলতেন তখন কুনূতে (নাযিলা) পড়তেনঃ ইয়া আল্লাহ! আইয়্যাশ ইবনু আবূ রাবীয়াকে নাযাত দিন।

ইয়া আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে মুক্তি দিন। ইয়া আল্লাহ! সালামা ইবনু হিশামকে মুক্তি দিন। ইয়া আল্লাহ! আপনি দুর্বল মুমিনদের নাযাত দিন।

ইয়া আল্লাহ! আপনি মুযার গোত্রকে কঠোর শাস্তি দিন। ইয়া আল্লাহ! আপনি তাদের উপর ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর সময়ের দুর্ভিক্ষের বছরের ন্যায় দুর্ভিক্ষ দিন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৫২ | 5952 | ۵۹۵۲

পরিচ্ছদঃ ২৬৭১. মুশরিকদের উপর বদ দু’আ করা। ইবন মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাকে তাদের মুকাবিলায় সাহায্য করুন।

যেমন দুর্ভিক্ষগ্রস্থ সাত বছর দিয়ে ইউসুফ (আঃ) কে সাহায্য করেছেন। ইয়া আল্লাহ! আপনি আবু জেহেলকে শাস্তি দিন। ইবন উমর (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) সালাতে বদ দু’আ করলেন।

ইয়া আল্লাহ! অমুককে লা’নত করুন ও অমুককে লা’নত করুন। তখন ওহী নাযিল হলঃ তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদের শাস্তি দিবেন এ বিষয়ে আপনার করনীয় কিছুই নেই। (৩ঃ ১২৮)

৫৯৫২। হাসান ইবনু রাবী (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা সারিয়্যা (ক্ষুদ্র বাহিনী) পাঠালেন। তাদের কুররা বলা হতো।

তাদের হত্যা করা হলো। আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এদের ব্যাপারে যেরূপ রাগাম্বিত দেখেছি অন্য কারণে সেরূপ রাগান্বিত দেখিনি।

এজন্য তিনি ফজরের সালাত (নামায/নামাজ)-এ মাসব্যাপি কুনুত পড়লেন। তিনি বলতেনঃ উসায়্যা গোত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফফরমানী করেছে।

দুআ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৫৩ | 5953 | ۵۹۵۳

পরিচ্ছদঃ ২৬৭১. মুশরিকদের উপর বদ দু’আ করা। ইবন মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাকে তাদের মুকাবিলায় সাহায্য করুন।

যেমন দুর্ভিক্ষগ্রস্থ সাত বছর দিয়ে ইউসুফ (আঃ) কে সাহায্য করেছেন। ইয়া আল্লাহ! আপনি আবু জেহেলকে শাস্তি দিন। ইবন উমর (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) সালাতে বদ দু’আ করলেন।

ইয়া আল্লাহ! অমুককে লা’নত করুন ও অমুককে লা’নত করুন। তখন ওহী নাযিল হলঃ তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদের শাস্তি দিবেন এ বিষয়ে আপনার করনীয় কিছুই নেই। (৩ঃ ১২৮)

৫৯৫৩। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের লোকেরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাম করার সময় বলতো “আসসামু আলাইকা” (ধংস তোমার প্রতি)।

আয়িশা (রাঃ) তাদের এ বাক্যের কুমতলব বুঝতে পেরে বললেন “আলাইকুমুসসাম ওয়াললানত” (ধংস তোমাদের প্রতিও লা’নত)। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আয়িশা থামো! আল্লাহ তা’আলা সমুদয় বিষয়েই নম্রতা পছন্দ করেন।

আয়িশা (রাঃ) বললেন তারা কি বলেছে আপনি কি তা শুনেনি? তিনি বললেন, আমি তাদের প্রতি উত্তরে ‘ওয়াআলাকুম’ বলেছি তা তুমি শুননি? আমি বলেছি তোমাদের উপর।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৫৪ | 5954 | ۵۹۵٤

পরিচ্ছদঃ ২৬৭১. মুশরিকদের উপর বদ দু’আ করা। ইবন মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাকে তাদের মুকাবিলায় সাহায্য করুন।

যেমন দুর্ভিক্ষগ্রস্থ সাত বছর দিয়ে ইউসুফ (আঃ) কে সাহায্য করেছেন। ইয়া আল্লাহ! আপনি আবু জেহেলকে শাস্তি দিন। ইবন উমর (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) সালাতে বদ দু’আ করলেন।

ইয়া আল্লাহ! অমুককে লা’নত করুন ও অমুককে লা’নত করুন। তখন ওহী নাযিল হলঃ তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদের শাস্তি দিবেন এ বিষয়ে আপনার করনীয় কিছুই নেই। (৩ঃ ১২৮)

৫৯৫৪। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) … আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম।

তিনি বললেন, হে আল্লাহ! তাদের গৃহ এবং কবরকে আগুন ভর্তি করে দিন। কেননা তারা আমাদের সালাতুল উস্তা থেকে বিরত রেখেছে। এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে গেল। আর , ‘সালাতুল উস্তা’ হল আসর সালাত (নামায/নামাজ)।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৫৫ | 5955 | ۵۹۵۵

পরিচ্ছদঃ ২৬৭২. মুশরিকদের জন্য দু’আ
৫৯৫৫। আলী ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তুফাইল ইবনু আমর (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন দাওস গোত্র নাফরমানী করেছে ও অবাধ্য হয়েছে এবং ইসলাম গ্রহন করতে অস্বীকার করেছে।

সুতরাং আপনি তাদের উপর বদ দুআ করুন। সাহাবীগণ ধারণা করলেন যে, তিনি তাদের উপর বদ দু’আই করবেন। কিন্তু তিনি (তাদের জন্য) দু’আ করলেন ইয়া আল্লাহ! আপনি দাওস গোত্রকে হিদায়াত করুন। আর তাদের মুসলমান বানিয়ে নিয়ে আসুন।

দুআ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫৯৫৬ | 5956 | ۵۹۵٦

পরিচ্ছদঃ ২৬৭৩. নাবী (সাঃ) এর দু’আঃ হে আল্লাহ! আমার পূর্বের ও পরের গুনাহসমূহ মাফ করে দিন
৫৯৫৬।

মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) তার পিতা থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ দু’আ করতেন হে আল্লাহ! আপনি মাফ করে দিন আমার অনিচ্ছাকৃত গুনাহ, আমার অজ্ঞতা, আমার কাজের সকল বাড়াবাড়ি এবং আমার যেসব গুনাহ আপনি আমার চাইতে বেশী জানেন।

ইয়া আল্লাহ আপনি ক্ষমা করে দিন আমার ভুল-ত্রুটি আমার ইচ্ছাকৃত গুনাহ ও আমার অজ্ঞতা এবং আমার উপহাসমূলক গুনাহ আর এ রকম গুনাহ যা আমার মধ্যে আছে।

ইয়া আল্লাহ আপনি আমাকে মাফ করে দিন; যেসব গুনাহ আমি আগে করেছি। আপনিই আগে বাড়ান আপনই পশ্চাতে ফেলেন এবং আপনই সব কিছুব উপর সর্বশক্তিমান।

আরও পড়ুনঃ

পানীয় দ্রব্যসমূহ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৯ম খণ্ড । পার্ট-১।

পানীয় দ্রব্যসমূহ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

কুরবানী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৯ম খণ্ড

যবাহ, শিকার ও বিসমিল্লাহ বলা অধ্যায়- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৯ম খণ্ড । পার্ট-১।

যবাহ, শিকার ও বিসমিল্লাহ বলা অধ্যায়- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

মন্তব্য করুন