তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

Table of Contents

তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী ২য় খণ্ড

তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১০৫৪ – রাতে তাহাজ্জুদ (ঘুম থেকে জেগে) সালাত আদায় করা।

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদের উদ্দেশ্যে যখন দাঁড়াতেন, তখন দু’আ পড়তেন “ইয়া আল্লাহ ! আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আপনি আসমান যমীন ও এ দুয়ের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর নিয়ামক এবং আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনি আসমান যমীন ও এ দুয়ের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর মালিক এবং আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনি আসমান যমীন ও এ দুয়ের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর নূর। আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনিই চির সত্য। আপনার ওয়াদা চির সত্য ; আপনার সাক্ষাত সত্য ; আপনার বাণী সত্য ; জান্নাত সত্য ; জাহান্নাম সত্য ; নবীগণ সত্য ; মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য, কিয়ামত সত্য। ইয়া আল্লাহ ! আপনার কাছেই আমি আত্মসমর্পন করলা ; আপনার প্রতি ঈমান আনলাম ; আপননার উপরেই তাওয়াক্কুল করলা, আপনার দিকেই রুজু করলা ; আপনার (সন্তুষ্টির জন্যই) শত্রুতায় লিপ্ত হলাম, আপনাকেই বিচারক মেনে নিলাম। তাই আপনি আমার পূর্বাপর ও প্রকাশ্য গোপন সব অপরাধ ক্ষমা করুন। আপনিই অগ্র পশ্চাতের মালিক। আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, অথবা (অপর বর্ণনায়) আপনি ব্যতীত আর কোন মা’বুদ নেই। সুফিয়ান রহ. বলেছেন, (অপর সূত্রে) আবদুল করীম আবু উমাইয়্যা রহ. তাঁর বর্ণনায় “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি” (অংশটুকু) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান রহ………ইবনে আব্বাস রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১০৫৫ – রাত জেগে ইবাদত করার ফজিলত।

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ও মাহমুদ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জীবিতকালে কোন ব্যক্তি স্বপ্ন দেখলে তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে বর্ণনা করত। এতে আমার মনে আকাঙ্খা জাগল যে, আমি কোন স্বপ্ন দেখলে তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করব। তখন আমি যুবক ছিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে আমি মসজিদে ঘুমাতাম। আমি স্বপ্নে দেখলাম, যেন দুজন ফেরেশতা আমাকে ধরে জাহান্নামের দিকে নিয়ে চলেছেন। তা যেন কুপের পাড় বাঁধানোর ন্যায় পাড় বাঁধানো। তাঁতে দুটি খুটি রয়েছে এবং এর মধ্যে রয়েছে এমন কতক লোক, যাদের আমি চিনতে পারলাম। তখন আমি বলতে লাগলাম, আমি জাহান্নাম থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই। তিনি বলেন, তখন অন্য একজন ফেরেশতা আমাদের সংগে মিলিত হলেন। তিনি আমাকে বললেন, ভয় পেয়ো না। আমি এ স্বপ্ন ((আমার বোন উম্মুল মু’মিনীন) হাফসা রা. -এর কাছে বর্ণনা করলাম। এরপর হাফসা রা. তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেন : আব্দুল্লাহ কতই ভাল লোক ! যদি রাত জেগে সে সালাত (তাহাজ্জুদ) আদায় করত ! এরপর থেকে আবদুল্লাহ রা. খুব অল্প সময়ই ঘুমাতেন।

বুখারি হাদিস নং ১০৫৬ – রাতের সালাতে সিজদা দীর্ঘ করা।

আবুল ইয়ামান রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাহাজ্জুদের) এগার রাকাআত সালাত আদায় করতেন এবং তা ছিল তাঁর (স্বাভাবিক) সালাত। সে সালাতে তিনি এক একটি সিজদা এত পরিমাণ (দীর্ঘয়িত) করতেন যে, তোমাদের কেউ (সিজদা থেকে) তাঁর মাথা তোলার আগে পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারত। আর ফজরের (ফরয) সালাতের আগে তিনি দু’রাকাআত সালাত আদায় করতেন। তারপর তিনি ডান কাতে শুইতেন যতক্ষণ না সালাতের জন্য তাঁর কাছে মুআযযিন আসত।

বুখারি হাদিস নং ১০৫৭ – অসুস্থ ব্যক্তির তাহাজ্জুদ আদায় না করা।

আবু নুআইম রহ……..জুনদাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে এক রাত বা দু’রাত তিনি (তাহাজ্জুদ সালাতের উদ্দেশ্যে) উঠেননি।

হাদীস নং ১০৫৮

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……….জুনদাব ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার সমারিকভাবে জিবরীল আলাইহিস সালাম নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে হাজিরা থেকে বিরত থাকেন। এতে জনৈকা কুরাইশ নারী বলল, তার শয়তানটি তাঁর কাছে আসতে দেরি করছে। তখন নাযিল হল : “শপথ পূর্বাহ্নের ও রজনীর ! যখন তা হয় নিঝুম। আপনার প্রতি পালক আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি বিরূপও হননি”।(সূরা দুহা)

বুখারি হাদিস নং ১০৫৯ – তাহাজ্জুদ ও নফল ইবাদতের প্রতি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উৎসাহ প্রদান, অবশ্য তিনি তা ওয়াজিব করেন নি।

ইবনে মুকাতিল রহ………উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একরাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে বললেন : সুবহানাল্লাহ ! আজ রাতে কত না ফিতনা নাযিল করা হল ! আজ রাতে কত না (রহমতের) ভান্ডারই নাযিল করা হল ! কে জাগিয়ে দিবে হুজরাগুলোর বাসিন্দাদের ? ওহে ! শোন, দুনিয়ার অনেক বস্ত্র পরিহিত আখিরাতে বিবস্ত্রা হয়ে যাবে।

হাদীস নং ১০৬০

আবুল ইয়ামান রহ………..আলী ইবনে আবু তালিব রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে তাঁর কন্যা ফাতিমা রা.-এর কাছে এসে বললেন : তোমরা কি সালাত আদায় করছ না ? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাদের আত্মাগুলো তো আল্লাহ পাকের হাতে রয়েছে। তিনি যখন আমাদের জাগাতে মরযী করবেন, জাগিয়ে দিবেন। আমরা যখন একথা বললাম, তখন তিনি চলে গেলেন। আমার কথার কোন প্রতিউত্তর করলেন না। পরে আমি শুনতে পেলাম যে, তিনি ফিরে যেতে যেতে আপন উরুতে করাঘাত করছিলেন এবং কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন -“মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্ক প্রিয়”।

হাদীস নং ১০৬১

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে আমল করা পছন্দ করতেন, সে আমল কোন কোন সময় এ আশংকায় ছেড়েও দিতেন যে, লোকেরা সে আমল করতে থাকবে, ফলে তাদের উপর তা ফরয হয়ে যাবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো চাশতের সালাত আদায় করেন নি। আমি সে সালাত আদায় করি।

হাদীস নং ১০৬২

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একরাতে মসজিদে সালাত আদায় করছিলেন, কিছু লোক আরো বেড়ে গেল। এরপর তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রাতে লোকজন সমবেত হলেন, কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন না। সকাল হলে তিনি বললেন : তোমাদের কার্যকলাপ আমি লক্ষ্য করেছি। তোমাদের কাছে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে শুধু এ আশংকাই আমাকে বাঁধা দিয়েছে যে, তোমাদের উপর তা ফরয হয়ে যাবে। আর ঘটনাটি ছিল রমযান মাসের (তারাবীহর সালাতের)।

তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১০৬৩ – নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাহাজ্জুদের সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানোর ফলে তাঁর উভয় কদম মুবারক ফুলে যেতো।

আবু নুআইম রহ………মুগীরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রি জাগরণ করতেন অথবা রাবী বলেছেন, সালাত আদায় করতেন, এমন কি তাঁর পদযুগল অথবা তাঁর দু’পায়ের গোছা ফুলে যেত। তখন এ ব্যাপারে তাকে বলা হল, এত কষ্ট কেন করছেন ? তিনি বলতেন, তাই বলে আমি কি একজন শুকরগুজারী বান্দা হব না ?

বুখারি হাদিস নং ১০৬৪ – সাহরীর সময় যে ঘুমিয়ে পড়েন।

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন : আল্লাহ পাকের নিকট সর্বাধিক প্রিয় সালাত হল দাউদ আ.-এ সালাত। আর আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় সিয়াম হল দাউদ আ. -এর সিয়াম। তিনি (দাউদ আ. অর্ধরাত পর্যন্ত ঘুমাতেন, এক তৃতীয়াংশ তাহাজ্জুদ পড়তেন এবং রাতের এক ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন । তিনি একদিন সিয়াম পালন করতেন, একদিন করতেন না।

হাদীস নং ১০৬৫

আবদান রহ………মাসরূক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কোন আমলটি সর্বাধিক প্রিয় ছিল ? তিনি বললেন : নিয়মিত আমল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি কখন তাহাজ্জুদের জন্য উঠতেন ? তিনি বললেন, যখন মোরগের ডাক শুনতে পেতেন।

হাদীস নং ১০৬৬

মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ……….আশআস রা. তাঁর বর্ণনায় বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোরগের ডাক শুনে উঠতেন এর সালাত আদায় করতেন।

হাদীস নং ১০৬৭

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ…………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি আমার কাছে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায়ই সাহরীর সময় হত। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এ কথা বলেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১০৬৮ – সাহরীর পর ফজরের সালাত পর্যন্ত জাগ্রত থাকা।

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যায়েদ ইবনে সাবিত রা. সাহরী খেলেন। যখন তারা দুজন সাহরী সমাপ্ত করলেন,তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। (কাতাদা রা. বলেন) আমরা আনাস ইবনে মালিক রা. -কে জিজ্ঞাসা করলাম, তাদের সাহরী সমাপ্ত করা ও (ফজরের) সালাত শুরু করার মধ্যে কি পরিমাণ সময় ছিল ? তিনি বললেন, কেউ পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারে এ পরিমাণ সময়।

বুখারি হাদিস নং ১০৬৯ – তাহাজ্জুদের সালাত দীর্ঘায়িত করা।

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাতে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে সালাত আদায় করলাম। তিনি এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন যে, আমি একটি মন্দ কাজের ইচ্ছা করে ফেলেছিলাম। (আবু ওয়াইল রহ. বলেন) আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি ইচ্ছা করেছিলেন ? তিনি বললেন, ইচ্ছা করেছিলাম, বসে পড়ি এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইক্তিদা ছেড়ে দেই।

হাদীস নং ১০৭০

হাফস ইবনে উমর রহ………হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা যখন তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য উঠতেন তখন মিসওয়াক দ্বারা তাঁর মুখ (দাঁত) পরিষ্কার করে নিতেন।

বুখারি হাদিস নং ১০৭১ – নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত কিরূপ ছিল এবং রাতে তিনি কত রাকআত সালাত আদায় করতেন ?

আবুল ইয়ামান রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, একজন জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! রাতের সালাতের ((আদায়ের) পদ্ধতি কি ? তিনি বললেন : দু’রাকাআত করে। আর ফজর হয়ে যাওয়ার আশংকা করলে এক রাকাআত মিলিয়ে বিতর আদায় কর নিবে।

হাদীস নং ১০৭২

মুসাদ্দাদ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত ছিল তের রাকাআত অর্থাৎ রাতে। (তাহাজ্জুদ ও বিতরসহ)।

হাদীস নং ১০৭৩

ইসহাক রহ……….মাসরূক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রা.-কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ফজরের দু’রাকাআত (সুন্নাত) ব্যতিরেকে সাত বা নয় কিংবা এগার রাকাআত।

হাদীস নং ১০৭৪

উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা রহ…………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা তের রাকাআত সালাত আদায় করতেন, বিতর এবং ফজরের দু’রাকাআত (সুন্নাত) ও এর অন্তর্ভূক্ত।

বুখারি হাদিস নং ১০৭৫ – নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইবাদতে রাত জাগরণ এবং তাঁর ঘুমানো আর রাত জাগার যতটুকু রহিত করা হয়েছে।

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন মাসে সিয়াম পালন করতেন না। এমন কি আমরা ধারণা করতাম যে, সে মাসে তিনি সিয়াম পালন করবেন না। আবার কোন কোন মাসে সিয়াম পালন করতে থাকতেন, এমন কি আমাদের ধারণা হত যে, সে মাসে তিনি সিয়াম ছাড়বেন না। তাকে তুমি সালাত রত অবস্থায় দেখতে চাইলে তাই দেখতে পেতে এবং ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে চাইলে তাও দেখতে পেতে। সুলাইমান ও আবু খালিদ আহমার রহ. হুমাইদ রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় মুহাম্মদ ইবনে জাফর রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১০৭৬ – রাতের বেলা সালাত আদায় না করলে গ্রীবাদেশে শয়তানের গ্রন্থী বেধে দেওয়া।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার গ্রীবাদেশে তিনটি গিঠ দেয়। প্রতি গিঠ সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত। তারপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে একটি গিঠ খুলে যায়, পরে উযূ করলে আর একটি গিঠ খুলে যায়, তারপর সালাত আদায় করলে আর একটি গিঠ খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয়, প্রফুল্ল মনে ও নির্মল চিত্তে। অন্যথায় সে সকালে উঠে কলুষিত মনে ও অলসতা নিয়ে।

হাদীস নং ১০৭৭

মুআম্মাল ইবনে হিশাম রহ………..সামুরা ইবনে জুনদাব রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর স্বপ্ন বর্ণনার এক পর্যায়ে বলেছেন, যে ব্যক্তির মাথা পাথর দিয়ে বিচূর্ণ করা হচ্ছিল, সে হল ঐ লোক যে কুরাআন শরীফ শিখে তা পরিত্যাগ করে এবং ফরয সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকে।

বুখারি হাদিস নং ১০৭৮ – সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়লে শয়তান তার কানে পেশাব করে দেয়।

মুসাদ্দাদ রহ…………আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এক ব্যক্তির সম্পর্কে আলোচনা করা হল- সকাল বেলা পর্যন্ত সে ঘুমিয়েই কাটিয়েছে, সালাতের জন্য (যথা সময়ে) জাগ্রত হয়নি, তখন তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করলেন : শয়তান তার কানে পেশাব করে দিয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ১০৭৯ – রাতের শেষভাগে দু’আ করা ও সালাত আদায় করা।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মহামহিম আল্লাহ তা’আলা প্রতি রাতে রাতের তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন : কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে ? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমন যে আমার কাছে চাইবে ? আমি তাকে তা দিব । কে আছে এমন, যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে ? আমি তাকে ক্ষমা করব।

বুখারি হাদিস নং ১০৮০ – যে ব্যক্তি রাতের প্রথমাংশে ঘুমিয়ে থাকে এবং শেষ অংশকে (ইবাদত দ্বারা) প্রাণবন্ত রাখে।

আবুল ওয়ালীদ ও সুলাইমান রহ………আসওয়াদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়িশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত কেমন ছিল ? তিনি বললেন, তিনি প্রথমাংশে ঘুমাতেন, শেষাংশে জেগে সালাত আদায় করতেন। এরপর তাঁর শয্যায় ফিরে যেতেন, মুআযযিন আযান দিলে দ্রুত উঠে পড়তেন, তখন তাঁর প্রয়োজন থাকলে গোসল করতেন, অন্যথায় উযূ করে (মসজিদের দিকে) বেরিয়ে যেতেন।

তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১০৮১ – রমযানে ও অন্যান্য সময়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাত জেগে ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি আয়িশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করেন, রমযান মাসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত কেমন ছিল ? তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে এবং অন্যান্য সময় (রাতের বেলা) এগার রাকাআতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। তিনি চার রাকআত সালাত আদায় করতেন। তুমি সেই সালাতের সৌন্দর্য ও দীর্ঘত্ব সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। তারপর চার রাকাআত সালাত আদায় করতেন, এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘত্ব সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। তারপর তিনি তিন রাকাআত (বিতর) সালাত আদায় করতেন। আয়িশা রা. বলেন, (একদিন) আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি কি বিতরের আগে ঘুমিয়ে থাকেন ? তিনি ইরশাদ করলেন : আমার চোখ দুটি ঘুমায়, কিন্তু আমার হৃদয় ঘুমায় না।

হাদীস নং ১০৮২

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………..উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাতের কোন সালাতে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বসে কিরাআত পড়তে দেখিনি। অবশ্য শেষ দিকে বার্ধক্য উপনীত হলে তিনি বসে কিরাআত পড়তেন। যখন (আরম্ভকৃত) সূরার ত্রিশ চল্লিশ আয়াত অবশিষ্ট থাকত, তখন দাঁড়িয়ে যেতেন এবং সে পরিমাণ কিরাআত পড়ার পর রুকু করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১০৮৩ – রাতে ও দিনে তাহারাত (পবিত্রতা) হাসিল করার ফজিলত এবং উযূ করার পর রাতে ও দিনে সালাত আদায়ের ফজিলত।

ইসহাক ইবনে নাসর রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ফজরের সালাতের সময় বিলাল রা. কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে বিলাল ! ইসলাম গ্রহণের পর সর্বাধিক আশাব্যঞ্জক যে আমল তুমি করেছ, তার কথা আমার নিকট ব্যক্ত কর। কেননা, জান্নাতে আমি আমার সামনে তোমার পাদুকার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। বিলাল রা. বললেন, দিন রাতের যে কোন প্রহরে আমি তাহারাত ও পবিত্রতা অর্জন করেছি, তখনই সে তাহারাত দ্বারা সালাত আদায় করেছি, যে পরিমাণ সালাত আদায় করা আমার তাকদীরে লেখা ছিল। আমার কাছে এর চাইতে (অধিক) আশাব্যঞ্জক হয়, এমন কোন বিশেষ আমল আমি করিনি।

বুখারি হাদিস নং ১০৮৪ – ইবাদতে কঠোরতা অবলম্বন অপছন্দনীয়।

আবু মামার রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) প্রবেশ করে দেখতে পেলেন যে, দুটি স্তম্ভের মাঝে একটি রশি টাঙানো রয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ রশিটি কি কাজের জন্য ? লোকেরা বললো, এটি যায়নাবের রশি, তিনি (ইবাদত করতে করতে) অবসন্ন হয়ে পড়লে এটির সাথে নিজেকে বেধে দেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন : না, এটা খুলে ফেল। তোমাদের যে কোন ব্যক্তির প্রফুল্লতা ও সজীবতা থাকা পর্যন্ত ইবাদত করা উচিত। যখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন যেন সে বসে পড়ে। অন্য এক বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ…….উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনু আসাদের এক মহিলা আমার কাছে উপস্থিত ছিলেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আগমন করলেন এবং তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ মহিলাটি কে ? আমি বললাম, অমুক । তিনি রাতে ঘুমান না। তখন তাঁর সালাতের কথা উল্লেখ করা হলে তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : রেখে দাও। সাধ্যানুযায়ী আমল করতে থাকাই তোমাদের কর্তব্য। কেননা, আল্লাহ তা’আলা (সাওয়াব প্রদানে) বিরক্ত হন না, যতক্ষণ না তোমরা বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়।

বুখারি হাদিস নং ১০৮৫ – রাত জেগে ইবাদতকারীর ঐ ইবাদত বাদ দেওয়া মাকরূহ।

আব্বাস ইবনে হুসাইন ও মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল আবুল হাসান রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন : হে আবদুল্লাহ ! তুমি অমুক ব্যক্তির মত হয়ো না, সে রাত জেগে ইবাদত করত, পরে রাত জেগে ইবাদত করা ছেড়ে দিয়েছে। হিশাম রহ………আবু সালামা রা. থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

বুখারি হাদিস নং ১০৮৬ – পরিচ্ছেদ ৭৩৪

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..আবুল আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন : আমাকে কি জানানো হয়নি যে, তুমি রাত ভর ইবাদতে জেগে থাক, আর দিনভর সিয়াম পালন কর ? আমি বললাম, হ্যাঁ, তা আমি করে থাকি। তিনি ইরশাদ করলেন : একথা নিশ্চিত যে, তুমি এমন করতে থাকলে তোমার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে যাবে এবং তুমি ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তোমার দেহের অধিকার রয়েছে, তোমার পরিবার পরিজনেরও অধিকার রয়েছে। কাজেই তুমি সিয়াম পালন করবে এবং বাদও দেবে। আর জেগে ইবাদত করবে এবং ঘুমাবেও।

বুখারি হাদিস নং ১০৮৭ – যে ব্যক্তি রাত জেগে সালাত আদায় করে তাঁর ফজিলত।

সাদাকা ইবনে ফাযল রহ……….উবাদা ইবনে সামিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি রাতে জেগে ওঠে এ দু’আ পড়ে “এক আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই। রাজ্য তাঁরই। যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই। তিনিই সব কিছুর উপরে শক্তিমান। যাবতীয় হামদ আল্লাহরই জন্য, আল্লাহ তা’আলা পবিত্র, আল্লাহ ব্যতীত ইলাহ নেই। আল্লাহ মহান, গুনাহ থেকে বাঁচার এবং নেক কাজ করার কোন শক্তি নেই আল্লাহর তাওফীক ব্যতীত। তারপর বলে, ইয়া আল্লাহ ! আমাকে ক্ষমা করুন। বা (অন্য কোন) দু’আ করে, তাঁর দু’আ কবুল করা হয়। এরপর উযূ করে (সালাত আদায় করলে) তার সালাত কবুল করা হয়।

হাদীস নং ১০৮৮

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………হায়সাম ইবনে আবু সিনান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু হুরায়রা রা. তাঁর ওয়াজ বর্ণনাকালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, তোমাদের এক ভাই অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. অনর্থক কথা বলেননি। “আর আমাদের মাঝে বর্তমান রয়েছেন আল্লাহহর রাসূল, যিনি আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করেন, যখন উদ্ভাসিত হয় ভোরের আলো। গোমরাহীর পর তিনি আমাদের হিদায়েতের পথ দেখিয়েছেন, তাই আমাদের হৃদয় সমূহ, তাঁর প্রতি নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপনকারী যে তিনি যা বলেছেন তা অবশ্য সত্য। তিনি রাত কাটান শয্যা থেকে পার্শ্ব কে দূরে সরিয়ে রেখে, যখন মুশরিকরা শয্যা গুলোতে নিদ্রামগ্ন থাকে”।

আর উকাইল রহ. ইউনুস রহ.-এর অনুসরণ করেছেন। যুবায়দী রহ………আবু হুরায়রা রা. সূত্রেও তা বর্ণনা করেছেন।

হাদীস নং ১০৮৯

আবু নুমান রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে আমি (এক রাতে) স্বপ্নে দেখলাম যেন আমার হাতে একখণ্ড মোটা রেশমী কাপড় রয়েছে এবং যেন আমি জান্নাতের যে কোন স্থানে যেতে ইচ্ছা করছি। কাপড় (আমাকে) সেখানে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অপর একটি স্বপ্নে আমি দেখলাম, যেন দু’জন ফেরেশতা আমার কাছে এসে আমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন। তখন অন্য একজন ফেরেশতা তাদের সামনে এসে বললেন, তোমার কোন ভয় নেই। (আর ঐ দু’জনকে বললেন) তাকে ছেড়ে দাও। (উম্মুল মু’মিনীন) হাফসা রা. আমার স্বপ্ন দ্বয়ের একটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বললেন : আবদুল্লাহ কত ভাল লোক ! যদি সে রাতের বেলা সালাত (তাহাজ্জুদ) আদায় করত। এরপর থেকে আবদুল্লাহ রা. রাতের এক অংশে সালাত আদায় করতেন। সাহাবীগণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট (তাদের দেখা) স্বপ্ন বর্ণনা দিলেন। লাইলাতুল কাদর রমযানের শেষ দশকের সপ্তম রাতে। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি মনে করি যে, (লাইলাতুল কাদর শেষ দশকে হওয়ার ব্যাপারে) তোমাদের স্বপ্নগুলোর মধ্যে পরষ্পর মিল রয়েছে। কাজেই যে ব্যক্তি লাইলাতুল কাদরের অনুসন্ধান করতে চায় সে যেন তা (রমযানের) শেষ দশকে অনুসন্ধান করে।

বুখারি হাদিস নং ১০৯০ – ফজরের (সুন্নাত) দু’রাকাআত নিয়মিত আদায় করা।

আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত আদায় করলেন, এরপর আট রাকআত সালাত আদায় করেন। এবং দু’রাকাআত আদায় করেন বসে। আর দু’রাকাআত সালাত আদায় করেন আযান ও ইকামত-এর মধ্যবর্তী সময়ে। এ দু’রাকাআত তিনি কখনো পরিত্যাগ করতেন না।

বুখারি হাদিস নং ১০৯১ – ফজরের দু’রাকাআত সুন্নাতের পর ডান কাতে শোয়া।

আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’রাকাআত করার পর ডান কাতে শুইতেন।

বুখারি হাদিস নং ১০৯২ – দু’রাকআত (ফজরের সুন্নাত) এর পর কথাবার্তা বলা এবং না শোয়া।

বিশর ইবনে হাকাম রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজরের সুন্নাত) সালাত আদায় করার পর আমি জেগে থাকলে, তিনি আমার সাথে কথাবার্তা বলতেন, অন্যথায় (জামাআতের সময় হয়ে যাওয়ার) অবগতি প্রদান পর্যন্ত ডান কাতে শুয়ে থাকতেন।

বুখারি হাদিস নং ১০৯৩ – ফজরের (সুন্নাত) দু’রাকআতের পর কথাবার্তা বলা।

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজরের আযানের পর) দু’রাকাআত (সুন্নাত) সালাত আদায় করতেন। তারপর আমি সজাগ থাকলে আমার সাথে কথাবার্তা করতেন. অন্যথায় (ডান) কাতে শয়ন করতেন। (বর্ণনাকারী আলী বলেন) আমি সুফিয়ান রহ. কে জিজ্ঞাসা করলাম, কেউ কেউ এ হাদীসে (দু’রাকাআতের স্থলে) ফজরের দু’রাকাআত বর্ণনা করে থাকেন। (এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি ?) সুফিয়ান রহ. বললেন, এটা তা-ই।

বুখারি হাদিস নং ১০৯৪ – ফজরের (সুন্নাত) দু’রাকাআতের হিফাযত আর যারা এ দু’রাকাআতকে নফল বলেছেন ।

বায়ান ইবনে আমর রহ……আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন নফল সালাতকে ফজরের সুন্নাতের ন্যায় অধিক হিফাযত ও গুরুত্ব প্রদানকারী ছিলেন না।

তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১০৯৫ – ফজরের (সুন্নাত) দু’রাকআতে কতটুকু কিরাআত পড়া হবে।

আবদুল্লাহ ইবেন ইউসুফ রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তের রাকাআত সালাত আদায় করতেন, এরপর সকালে (ফজরের) আযান শোনার পর সংক্ষিপ্ত (কিরাআতে) দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন।

হাদীস নং ১০৯৬

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার ও আহমদ ইবনে ইউনুস রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের (ফরয) সালাতের আগের দু’রাকাআত (সুন্নাত) এত সংক্ষিপ্ত করতেন এমনকি আমি (মনে মনে) বলতাম, তিনি কি (শুধু) উম্মুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) তিলাওয়াত করলেন ?

বুখারি হাদিস নং ১০৯৭ – নফল সালাত দু’রাকাআত করে আদায় করা।

কুতাইবা রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সব কাজে ইস্তিখারাহ শিক্ষা দিতেন। যেমন পবিত্র কুরআনের সূরা আমাদের শিখাতেন। তিনি বলেছেন : তোমাদের কেউ কোন কাজের ইচ্ছা করলে সে যেন ফরয নয় এমন দু’রাকাআত (নফল) সালাত আদায় করার পর এ দুআ পড়ে : “ ইয়া আল্লাহ ! আমি আপনার ইলমের ওয়াসীলায় আপনার কাছে (উদ্দীষ্ট বিষয়ের) কল্যাণ চাই এবং আপনার কুদরতের ওয়াসীলায় আপনার কাছে শক্তি চাই এর আপনার কাছে চাই আপনার মহান অনুগ্রহ। কেননা, আপনিই (সব কিছুতে) ক্ষমতা রাখেন, আমি কোন ক্ষমতা রাখি না; আপনিই (সব বিষয়ে) অবগত আর আমি অবগত নই; আপনিই গায়েব সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। ইয়া আল্লাহ ! আমার দীন, আমার জীবন-জীবিকা ও আমার কাজের পরিণাম বিচারে, অথবা বলেছেন, আমার কাজের আশু ও শেষ পরিণতি হিসাবে যদি এ কাজটি আমার জন্য কল্যাণকর বলে জানেন তাহলে আমার জন্য তার ব্যবস্থা করে দিন। আর তা আমার দীন, আমার জীবন-জীবিকা ও আমার কাজের পরিণাম অথবা বলেছেন, আমার কাজের আশু ও শেষ পরিণতি হিসাবে আমার জন্য ক্ষতি হয় বলে জানেন; তাহলে আপনি তা আমার থেকে সরিয়ে নিন এবং আমাকে তা থেকে ফিরিয়ে রাখুন আর আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারিত রাখুন ; তা যেখানেই হোক। এরপর সে বিষয়ে আমাকে রাযী থাকার তৌফিক দিন। তিনি ইরশাদ করেন هذا الأمر এখানে তার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবে।

হাদীস নং ১০৯৮

মাক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ………আবু কাতাদা ইবনে রিবআ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে দু’রাকাআত সালাত (তাহিয়্যাতুল মসজিদ) আদায় করার আগে বসবে না।

হাদীস নং ১০৯৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন, তারপর চলে গেলেন।

হাদীস নং ১১০০

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে যুহরের আগে দু’রাকাআত, যুহরের পরে দু’রাকাআত, জুমুআর পরে দু’রাকাআত, মাগরিবের পরে দু’রাকাআত এবং ইশার পরে দু’রাকাআত (সুন্নাত) সালাত আদায় করেছি।

হাদীস নং ১১০১

আদম রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবা প্রদান কালে ইরশাদ করলেন : তোমরা কেউ এমন সময় মসজিদে উপস্থিত হলে, যখন ইমাম (জুমুআর) খুতবা দিচ্ছেন, কিংবা মিম্বরে আরোহণের জন্য (হুজরা থেকে) বেরিয়ে পড়েছেন, তাহলে সে তখন দু’রাকাআত সালাত আদায় করে নেয়।

হাদীস নং ১১০২

আবু নুআইম রহ……..মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে উমর রা. এর বাড়িতে এসে তাকে খবর দিল, এই মাত্র নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা শরীফে প্রবেশ করলেন। ইবনে উমর রা. বলেন, আমি অগ্রসর হলাম। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা ঘর থেকে বের হয়ে পড়েছেন। বিলাল রা. দরওয়াজার কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আমি বললাম, হে বিলাল ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা শরীফের ভিতরে সালাত আদায় করেছেন কি ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কোন স্থানে ? তিনি বললেন, দুস্তম্ভের মাঝখানে। এরপর তিনি বেরিয়ে এসে কাবার সামনে দু’রাকাআত সালাত আদায় করলেন। ইমাম বুখারী রহ. বলেন, আবু হুরায়রা রা. বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দু’রাকাআত সালাতুয যুহা (চাশতের সালাত) এর আদেশ করেছেন। ইতবান (ইবনে মালিক আনসারী) রা. বলেন, একদিন বেশ বেলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর এবং উমর রা. আমার এখানে আগমন করলেন। আমরা তাঁর পিছনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালাম আর তিনি (আমাদের নিয়ে) দু’রাকআত সালাত (চাশত) আদায় করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১১০৩ – ফরয সালাতের পর নফল সালাত।

মুসাদ্দাদ রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুসরণে আমি যুহরের আগে দু’রাকাআত, যুহরের পর দু’রাকাআত, মাগরিবের পর দু’রাকাআত, ইশার পর দু’রাকাআত এবং জুমুআর পর দু’রাকাআত সালাত আদায় করেছি। তবে মাগরিব ও ইশার পরের সালাত তিনি তাঁর ঘরে আদায় করতেন। ইবনে উমর রা. আরও বলেন, আমার বোন (উম্মুল মু’মিনীন) হাফসা রা. আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর হওয়ার পর সংক্ষিপ্ত দু’রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইবনে উমর রা. বলেন) এটি ছিল এমন একটি সময়, যখন আমরা কেউ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে হাজির হতাম না। (তাই সে সময়ের আমল সম্পর্কে উম্মহাতুল মু’মিনীন অধিক জানতেন)। কাসীর ইবনে ফরকাদ ও আইয়্যূব রহ. নাফি রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় উবাইদুল্লাহ রহ.-এর অনুসরণ করেছেন। ইবনে আবুয যিনাদ রহ. বলেছেন, মূসা ইবনে উকবা রহ. নাফি রহ. থেকে ইশার পরে তাঁর পরিজনের মধ্যে কথাটি বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১১০৪ – ফরযের পর নফল সালাত আদায় না করা।

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে আট রাকাআত একত্রে যুহর ও আসরের এবং সাত রাকাআত একত্রে মাগরিব-ইশার আদায় করেছি। (তাই সে ক্ষেত্রে যুহর ও মাগরিবের পর সুন্নাত আদায় করা হয়নি)। আমর রহ. বলেন, আমি বললাম, হে আবুশ শা’সা ! আমার ধারণা, তিনি যুহর শেষ ওয়াক্তে এবং আসর প্রথম ওয়াক্তে আর ইশা প্রথম ওয়াক্তে ও মাগরিব শেষ ওয়াক্তে আদায় করেছিলেন। তিনি বলেছেন, আমিও তাই মনে করি।

বুখারি হাদিস নং ১১০৫ – সফরে সালাতুয-যুহা (চাশত) আদায় করা।

মুসাদ্দাদ রহ………..মুওয়াররিক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর রা. -কে জিজ্ঞাসা করলাম, আনি কি চাশত-এর সালাত আদায় করে থাকেন ? তিনি বললেন, না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, উমর রা. তা আদায় করতেন কি? তিনি বললেন না। আমি বললাম, আবু বকর রা. ? তিনি বললেন, না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ? তিনি বললেন, আমি তা মনে করি না। (আমার মনে হয় তিনিও তা আদায় করতেন না, তবে এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত কিছু বলতে পারছি না)।

হাদীস নং ১১০৬

আদম রহ………..আবদুর রহমান ইবনে আবু লায়লা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উম্মু হানী রা. (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চাচাত বোন) ব্যতীত অন্য কেউ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে চাশতের সালাত আদায় করতে দেখেছেন, এরূপ আমাদের কাছে কেউ বর্ণনা করেননি। তিনি উম্মে হানী রা. অবশ্য বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন (পূর্বাহ্নে) তাঁর ঘরে গিয়ে গোসল করেছেন। (তিনি বলেছেন যে, আমি আর কখনো (তাকে) অনুরূপ সংক্ষিপ্ত সালাত (আদায় করতে) দেখিনি। তবে কিরাআত সংক্ষিপ্ত হলেও তিনি রুকু ও সিজদা পূর্ণাঙ্গরূপে আদায় করছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১১০৭ – যারা চাশত-এর সালাত আদায় করেন না, তবে বিষয়টিকে প্রশস্ত মনে করেন (বাধ্যতামূলক মনে করেন না)।

আদম রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে চাশত-এর সালাত আদায় করতে আমি দেখিনি। তবে আমি তা আদায় করে থাকি।

বুখারি হাদিস নং ১১০৮ – মুকীম অবস্থায় চাশত- এর সালাত আদায় করা।

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার খলীল ও বন্ধু (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে তিনটি কাজের ওসিয়্যাত (বিশেষ আদেশ) করেছেন, আমৃত্যু তা আমি পরিত্যাগ করব না। (কাজ তিনটি) ১. প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম (পালন করা), ২. সালাতুয-যুহা (চাশত-এর সালাত আদায় করা) এবং ৩. বিতর (সালাত) আদায় করে ঘুমান।

হাদীস নং ১১০৯

আলী ইবনুল জাদ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক স্থুলদেহী আনসারী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমত আরয করলেন, আমি আপনার সংগে (জামাআতে) সালাত আদায় করতে পারি না। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশ্যে খাবার তৈরী করে তাকে দাওয়াত করে নিজ বাড়ীতে নিয়ে এলেন এবং একটি চাটাইয়ের এক অংশে (কোমল ও পরিচ্ছন্ন করার উদ্দেশ্যে) পানি ছিটিয়ে (তা বিছিয়ে) দিলেন। তখন তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপরে দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। ইবনে জারূদ রহ. (নিশ্চিত হওয়ার উদ্দেশ্যে) আনাস ইবনে মালিক রা. কে জিজ্ঞাসা করলেন, (তবে কি) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাশত-এর সালাত আদায় করেছেন ? আনাস রা. বললেন, সেদিন ব্যতীত অন্য সময়ে তাকে এ সালাত আদায় করতে দেখিনি।

বুখারি হাদিস নং ১১১০ – যুহরের (ফরযের) পূর্বে দু’রাকাআত সালাত।

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমি দশ রাকাআত সালাত আমার স্মৃতিতে সংরক্ষণ করে রেখেছি। যুহরের আগে দু’রাকআত পরে দু’রাকাআত, মাগরিবের পরে দু’রাকাআত তাঁর ঘরে, ইশার পরে দু’রাকাআত তাঁর ঘরে এবং দু’রাকাআত সকালের (ফজরের) সালাতের আগে। ইবনে উমর রা. বলেন,) আর সময়টি ছিল এমন, যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে (সাধারণত) কোন ব্যক্তিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হত না। তবে উম্মুল মু’মিনীন হাফসা রা. আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, যখন মুআযযিন আযান দিতেন এবং ফজর (সুবহে-সাদিক) উদিত হত তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’রাকাআত সালাত আদায় করতেন।

হাদীস নং ১১১১

মুসাদ্দাদ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের আগে চার রাকাআত এবং (ফজরের আগে) দু’রাকাআত (কখনো) ছাড়তেন না। ইবনে আবু আদী ও আমর রহ. শুবা রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় ইয়াহইয়া রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১১১২ – মাগরিবের আগে সালাত।

আবু মামার রহ………..আবদুল্লাহ মুযানী রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন : তোমরা মাগরিবের (ফরযের) আগে (নফল) সালাত আদায় করবে ; (এ কথাটি তিনি তিনবার ইরশাদ করলেন

হাদীস নং ১১১৩

আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ রহ……….মারসাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইয়াযানী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উকবা ইবনে জুহানী রা.-এর কাছে গিয়ে তাকে বললাম, আবু তামীম রহ. সম্পর্কে এ কথা বলে কি আমি আপনাকে বিস্মিত করে দিব না যে, তিনি মাগরিবের (ফরয) সালাতের আগে দু’রাকাআত (নফল) সালাত আদায় করে থাকেন। উকবা রা. বলেন, (এতে বিস্মিত হওয়ার কি আছে ?) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে তো আমরা তা আদায় করতাম। আমি প্রশ্ন করলাম, তাহলে এখন কিসে আপনাকে বিরত রাখছে ? তিনি বললেন, কর্মব্যস্ততা।

তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১১১৪ – নফল সালাত জামাআতে আদায় করা।

ইসহাক রহ………ইবনে শিহাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মাহমুদ ইবনে রাবী আনসারী রা. আমকে খবর দিয়েছেন যে, (শৈশবে তাঁর দেখা) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কথা তাঁর ভাল স্মরণ আছে এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বাড়ীর কূপ থেকে (পানি মুখে নিয়ে বরকতের জন্য) তার মুখমণ্ডলে যে দিচ্ছিলেন সে কথাও তার ভাল স্মরণ আছে। মাহমুদ রহ. বলেন, যে, ইতবান ইবনে মালিক আনসারী রা.-কে (যিনি ছিলেন বদর জিহাদে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে উপস্থিত বদরী সাহাবীগণের অন্যতম) বলতে শুনেছেন যে ,আমি আমার কওম বনু সালিমের সালাতে ইমামতি করতাম। আমার ও তাদের (কওমের মসজিদের) মধ্যে বিদ্যমান একটি উপত্যকা। উপত্যকা বৃষ্টি হলে আমার মসজিদ গমনে অন্তরায় সৃষ্টি করত। এবং এ উপত্যকা অতিক্রম করে তাদের মসজিদে যাওয়া আমার জন্য কষ্টকর হত। তাই আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে হাজির হয়ে আরয করলাম, (ইয়া রাসূলাল্লাহ !) আমি আমার দৃষ্টিশক্তির ঘাটতি অনুভব করছি (এ ছাড়া) আমার ও আমার গোত্রের মধ্যকার উপত্যকাটি বৃষ্টি হলে প্লাবিত হয়ে যায়। তখন তা পার হওয়া আমার জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই আমার একান্ত আশা যা আপনি শুভাগমণ করে (বরকত স্বরূপ) আমার ঘরের কোন স্থানে সালাত আদায় করবেন; আমি সে স্থানটিকে মুসাল্লা (সালাতের স্থানরূপে নির্ধারিত) করে নিব।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, অচিরেই তা করব। পরের দিন সূর্যের উত্তাপ যখন বেড়ে গেল, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর রা. (আমার বাড়ীতে) তাশরীফ আনলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঘরে প্রবেশের) অনুমতি চাইলে আমি তাকে স্বাগত জানালাম, তিনি উপবেশন না করেই আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার ঘরের কোন জায়গায় আমার সালাত আদায় করা তুমি পছন্দ কর ? যে স্থানে তাঁর সালাত আদায় করা আমার মনঃপূত ছিল, তাকে আমি সে স্থানের দিকে ইশারা করে (দেখিয়ে) দিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন, আমরা সারিবদ্ধভাবে তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম। তিনি দু’রাকাআত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। তাঁর সালাম ফিরানোর সময় আমরাও সালাম ফিরালাম। এরপর তাঁল উদ্দেশ্যে যে খাযীরা প্রস্তত করা হচ্ছিল তা আহারের জন্য তাঁর প্রত্যাগমনে আমি বিলম্ব ঘটালাম। ইতিমধ্যে মহল্লার লোকেরা আমার বাড়ীতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থানের সংবাদ শুনতে পেয়ে তাদের কিছু লোক এসে গেলেন। এমন কি আমার ঘরে অনেক লোকের সমাগম ঘটলো । তাদের একজন বললেন, মালিক (ইবনে দুখায়শিন) করল কি ? তাকে দেখছি না যে ? তাদের একজন জবাব দিলেন, যে মুনাফিক ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মুহাব্বত করে না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন : এমন কথা বলবে না। তুমি কি লক্ষ্য করছ না, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ উচ্চারণ করেছে। সে ব্যক্তি বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সমধিক অবগত। তবে আল্লাহর কসম ! আমরা মুনাফিকদের সাথেই তার ভালবাসা ও আলাপ-আলোচন দেখতে পাই।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন : আল্লাহ পাক সে ব্যক্তিকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ উচ্চারণ করে। মাহমুদ রা. বলেন, এক যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদল লোকের কাছে বর্ণনা করলাম তাদের মধ্যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবী আবু আইয়্যূব (আনসারী) রা. ছিলেন। তিনি সে যুদ্ধে ওফাত পেয়েছিলেন। আর ইয়াযীদ ইবনে মুআবিয়া রা. রোমানদের দেশে তাদের আমীর ছিলেন। আবু আইয়ূব রা. আমার বর্ণিত হাদীসটি অস্বীকার করে বললেন, আল্লাহ কসম! তুমি যে কথা বলেছ তা যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তা আমি বিশ্বাস করতে পারি না। ফলে তা আমার কাছে ভারী মনে হল। তখন আমি আল্লাহর নামে প্রতিজ্ঞা করলাম যে, যদি এ যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত তিনি আমাকে নিরাপদ রাখেন, তাহলে আমি ইতবান ইবনে মালিক রা.-কে তাঁর কওমের মসজিদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করব, যদি তাকে জীবিত অবস্থায় পেয়ে যাই। এরপর আমি ফিরে চললাম এবং হজ্জ কিংবা উমরার নিয়্যাতে ইহরাম বাঁধলাম। তারপর সফর করতে করতে আমি মদীনায় উপনীত হয়ে বনু সালিম গোত্রে উপস্থিত হলাম। দেখতে পেলাম ইতবান রা. যিনি তখন একজন বৃদ্ধ ও অন্ধ ব্যক্তি কওমের সালাতে ইমামতি করছেন। তিনি সালাত শেষ করলে আমি তাকে সালাম করলাম এবং আমার পরিচয় দিয়ে উক্ত হাদীস সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি প্রথমবারের মতই অবিকল হাদীস খানা আমাকে শুনাইলেন।

বুখারি হাদিস নং ১১১৫ – নফল সালাত আদায় করা।

আবুল আলা ইবনে হাম্মাদ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : তোমরা তোমাদের কিছু কিছু সালাত তোমাদের ঘরে আদায় করবে, তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানাবে না। আবদুল ওহহাব রহ. আইউব রা. থেকে হাদীস বর্ণনায় ওহাইব রহ. এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১১১৬ – মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফের মসজিদে সালাতের ফজিলত।

হাফস ইবনে উমর রহ………কাযআ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ খুদরী রা. কে চারটি (বিষয়) বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। আবু সাঈদ খুদরী রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে বারটি যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন। অন্য সূত্রে আলী রহ. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, মসজিদুল হারাম, মসজিদুর রাসূল এবং মসজিদুল আকসা (রায়তুল মুকাদ্দাস) তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদে (সালাতের) উদ্দেশ্যে হাওদা বাঁধা যাবে না (অর্থাৎ সফর করবে না)।

হাদীস নং ১১১৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মাসজিদুল হারাম ব্যতীত আমার এ মসজিদে সালাত আদায় করা অপরাপর মসজিদে এক হাজার সালাতের চাইতে উত্তম।

বুখারি হাদিস নং ১১১৮ – কুবা মসজিদ।

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ………নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর রা. দু’দিন ব্যতীত অন্য সময়ে চাশতের সালাত আদায় করতেন না, যে দিন তিনি মক্কায় আগমন করতেন, তাঁর অভ্যাস ছিল যে, তিনি চাশতের সময় মক্কায় আগমণ করতেন। তিনি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করার পর মাকামে ইবরাহীম-এর পিছনে দাঁড়িয়ে দু’রাকাআত সালাত আদায় করতেন। আর যে দিন তিনি কুবা মসজিদে গমন করতেন। তিনি প্রতি শনিবার সেখানে গমন করতেন এবং সেখানে সালাত আদায় না করে বেরিয়ে আসা অপছন্দ করতেন। নাফি রহ. বলেন, তিনি (ইবনে উমর রা. হাদীস বর্ণনা করতেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুবা মসজিদ যিয়ারত করতেন – কখনো আরোহী হয়ে, কখনো পায়ে হেটে। নাফি রহ. বলেন, তিনি (ইবনে উমর রা. তাকে বলতেন, আমি আমার সাথীদের যেমন করতে দেখেছি তেমন করব। আর কাউকে আমি দিন রাতে কোন সময়ই সালাত আদায় করতে বাঁধা দেই না, তবে তাঁরা যেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় (সালাত আদায়ের) ইচ্ছা না করে।

বুখারি হাদিস নং ১১১৯ – প্রতি শনিবার যিনি কুবা মসজিদে আসেন।

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি শনিবার কুবা মসজিদে আসতেন, কখনো পায়ে হেটে, কখনো আরোহণ করে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-ও তা-ই করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১১২০ – পায়ে হেটে কিংবা আরোহণ করে কুবা মসজিদে আসা।

মুসাদ্দাদ রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরোহণ করে কিংবা পায়ে হেটে কুবা মসজিদে আসতেন। ইবনে নুমাইর রহ. নাফি রহ. থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে দু’রাকাআত সালাত আদায় করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১১২১ – কবর (রওযা শরীফ) ও (মসজিদে নববীর) মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানের ফজিলত।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ মাযিনী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমার ঘর ও মিম্বর-এর মধ্যবর্তী স্থানটুকু জান্নাতের বাগান সমূহের একটি বাগান।

হাদীস নং ১১২২

মুসাদ্দাদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানে জান্নাতের বাগান সমূহের একটি বাগান আর আমার মিম্বর অবস্থিত (রয়েছে) আমার হাউজ (কাউসার)-এর উপরে।

বুখারি হাদিস নং ১১২৩ – বায়তুল মুকাদ্দাস -এর মসজিদ।

আবুল ওয়ালীদ রহ………যিয়াদের আযাদকৃত দাস কাযাআ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ খুদরী রা. -কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে চারটি বিষয় বর্ণনা করতে শুনেছি, যা আমাকে আনন্দিত ও মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেছেন ; মহিলারা স্বামী কিংবা মাহরাম ব্যতীত দু’দিনের দূরত্বের পথে সফর করবে না। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনগুলোতে সিয়াম পালন নেই। দু’ (ফরয) সালাতের পর কোন (নফল ও সুন্নাত) সালাত নেই। ফজরের পর সূর্যোদয় (সম্পন্ন) হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্তমিত হয়ে যাওয়া পর্যন্ত। এবং ১. মাসজিদুল হারাম, (কাবা শরীফ ও সংলগ্ন মসজিদ) ২. মাসজিদুল আকসা (বায়তুল মুকাদ্দাসের মসজিদ) এবং ৩. আমার মসজিদ (মদীনার মসজিদে নববী) ব্যতীত অন্য কোন মসজিদে (সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে) হাওদা বাঁধা যাবে না। (সফর করা যাবে না।

বুখারি হাদিস নং ১১২৪ – সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ সালাতের মধ্যে হাতের সাহায্যে করা।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি তাঁর খালা উম্মুল মু’মিনীন মায়মূনা রা.-এর ঘরে রাত কাটালেন। তিনি বলেন, আমি বালিশের প্রস্থের দিকে শুয়ে পড়লাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সহধর্মিনী বালিশের দৈর্ঘ্যে শয়ন করলেন। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধ্যরাত তার কিছু আগ বা পর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকলেন। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগে উঠে বসলেন এবং দু’হাতে মুখমণ্ডল মুছে ঘুমের আমেজ দূর করলেন। এরপর তিনি সূরা আল-ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। পরে একটি ঝুলন্ত মশকের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং এর পানি দ্বারা উত্তমরূপে উযূ করে সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমিও উঠে পড়লাম এবং তিনি যেরূপ করেছিলেন, আমিও সেরূপ করলাম। এরপর আমি গিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ালাম। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপরে রেখে আমার ডান কানে মোচড়াতে লাগলেন (এবং আমাকে তাঁর পিছন থেকে ঘুরিয়ে এনে তাঁর ডানপাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন) তিনি তখন দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন, তারপর দু’রাকআত, তারপর দু’রাকাআত, তারপর দু’রাকাআত তারপর দু’রাকাআত, তারপর (শেষ দু’রাকাআতের সাথে আর এক রাকাআত দ্বারা বেজোড় করে) বিতর আদায় করে শুয়ে পড়লেন। অবশেষে (ফজরের জামাআতের জন্য) মুআযিযন এলেন। তিনি দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত (কিরাআতে) দু’রাকাআত (ফজরের জামাআতের জন্য) আদায় করলেন। এরপর (মসজিদের দিকে) বেরিয়ে যান এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১১২৫ – সালাতে কথা বলা নিষিদ্ধ হওয়া।

ইবনে নুমাইর রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁর সালাতরত অবস্থায় সালাম করতাম, তিনি আমাদের সালামের জওয়াব দিতেন। পরে যখন আমরা নাজাশীর নিকট থেকে ফিরে এলাম, তখন তাকে (সালাতরত অবস্থায়) সালাম করলে তিনি আমাদের সালামের জওয়াব দিলেন না এবং পরে ইরশাদ করলেন : সালাতে অনেক ব্যস্ততা ও নিমগ্নতা রয়েছে।

হাদীস নং ১১২৬

ইবনে নুমাইর রহ………আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হাদীস নং ১১২৭

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ…………যায়েদ ইবনে আরকাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে সালাতের মধ্যে কথা বলতাম।আমাদের কেউ তার সংগীর সাথে নিজ দরকারী বিষয়ে কথা বলত। অবশেষে এ আদায় নাযিল হল- “তোমরা তোমাদের সালাতসমূহের সংরক্ষণ কর ও নিয়ামানুবর্তী রক্ষা কর; বিশেষত মধ্যবর্তী (আসর) সালাতে, আর তোমরা (সালাতে) আল্লাহর উদ্দেশ্যে একাগ্রচিত্ত হও”। (২ : ২৩৮) এরপর থেকে আমরা সালাতে নিরব থাকতে আদিষ্ট হলাম।

তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১১২৮ – সালাতে পুরুষদের জন্য যে ‘তাসবীহ’ ও ‘তাহমীদ’ বৈধ।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু আমর ইবনে আওফ এর মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন, ইতিমধ্যে সালাতের সময় উপস্থিত হল। তখন বিলাল রা. আবু বকর রা. -এর কাছে এসে বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আপনি লোকদের সালাতে ইমামতি করবেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি তোমরা চাও। তখন বিলাল রা. সালাতের ইকামত বললেন, আবু বকর রা. সামনে এগিয়ে গিয়ে সালাত শুরু করলেন। ইতিমধ্যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ আনলেন এবং কাতার ফাঁক করে সামনে এগিয়ে গিয়ে প্রথম কাতারে দাঁড়ালেন। মুসল্লীগণ ‘তাসফীহ’ করতে লাগলেন। সাহল রা. বললেন, তাসফীহ কি তা তোমরা জান ? তা হল ‘তাসফীক’ (তালি বাজান) আবু বকর রা. সালাত অবস্থায় এদিক সেদিক লক্ষ্য করতেন না। মুসল্লীগণ অধিক তালি বাজালে তিনি সে দিকে লক্ষ্য করামাত্র নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কাতারে দেখতে পেলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইশারা করলেন, যথাস্থানে থাক। আবু বকর রা. তখন দু’হাত তুলে আল্লাহ তা’আলার হামদ বর্ণনা করলেন এবং পিছু হেটে চলে এলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে অগ্রসর হয়ে সালাত আদায় করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১১২৯ – সালাত যে ব্যক্তি প্রত্যক্ষভাবে কারো নাম নিলো অথবা কাউকে সালাম করল অথচ সে তা জানেও না।

আমর ইবনে ঈসা রহ………আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা সালাতের (বৈঠকে) আত্তাহিয়্যাতু……..বলতাম, তখন আমাদের একে অপরকে সালামও করতাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে ইরশাদ করলেন : তোমার বলবে “যাবতীয় মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহরই জন্য। হে (মহান) নবী ! আপনার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত (বর্ষিত) হোক। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর সালিহ বান্দাদের প্রতি ; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল”। কেননা, তোমরা এরূপ করলে আসমান ও যমীনে আল্লাহর সকল নেক বান্দাকে তোমরা যেন সালাম করলে।

বুখারি হাদিস নং ১১৩০ – সালাতে মহিলাদের ‘তাসফীক’।

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : (ইমামের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য) পুরুষদের বেলায় তাসবীহ-সুবহানাল্লাহ বলা। তবে মহিলাদের বেলায় ‘তাসফীক’।

হাদীস নং ১১৩১

ইয়াহইয়া রহ……..সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সালাতে (দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে) পুরুষদের বেলায় ‘তাসবীহ’ আর মহিলাদের বেলায় ‘তাসফীহ’।

বুখারি হাদিস নং ১১৩২ – উদ্ভূত কোন কারণে সালাতে থাকা অবস্থায় পিছনে চলে আসা অথবা সামনে এগিয়ে যাওয়া।

বিশর ইবনে মুহাম্মদ রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, মুসলিমগণ সোমবার (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের দিন) ফজরের সালাতে ছিলেন, আবু বকর রা. তাদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা রা. -এর হুজরার পর্দা সরিয়ে তাদের দিকে তাকালেন। তখন তাঁর সারিবদ্ধ ছিলেন। তা দেখে তিনি মৃদু হাসলেন। তখন আবু বকর রা. তাঁর গোড়ালির উপর ভর দিয়ে পিছে সরে আসলেন। তিনি ধারণা করলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্য আসার ইচ্ছা করছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখার আনন্দে মুসলিমগণের সালাত ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন তিনি সালাত সুসম্পন্ন করার জন তাদের দিকে হাতে ইশারা করলেন। এরপর তিনি হুজরায় প্রবেশ করেন এবং পর্দা ছেড়ে দেন আর সে দিনই তাঁর ওফাত হয়।

বুখারি হাদিস নং ১১৩৩ – মা তার সালাত রত সন্তানকে ডাকলে।

লাইস রহ……..বলেন, জাফর রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : এক মহিলা তার ছেলেকে ডাকল। তখন তার ছেলে গীর্জায় ছিল। বলল, জুরাইজ ! ছেলে মনে মনে বলল, ইয়া আল্লাহ ! (এক দিকে) আমার মা (এর ডাক) আর (অপর দিকে) আমার সালাত ! মা আবার ডাকলেন, হে জুরাইজ ! ছেলে বলল, ইয়া আল্লাহ ! আমার মা ও আমার সালাত ! মা আবার ডাকলেন, হে জুরাইজ ! ছেলে বলল, ইয়া আল্লাহ ! আমার মা ও আমার সালাত । মা (বিরক্ত হয়ে) বললেন, ইয়া আল্লাহ ! পতিতাদের সামনে দেখা না যাওয়া পর্যন্ত যেন জুরাইজের মৃত্যু না হয়। এক রাখালিনী যে বকরী চরাতো, সে জুরাইজের গীর্জায় আসা যাওয়া করত। সে একটি সন্তান প্রসব করল। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল-এ সন্তান কার ঔরষের ? সে জবাব দিল, জুরাইজের ঔরষের। জুরাইজ তাঁর গীর্জা থেকে নেমে এসে জিজ্ঞাসা করল, কোথায় সে মেয়েটি, যে বলে যে, তার সন্তানটি আমর ? (সন্তানসহ মেয়েটিকে উপস্থিত করা হলে, নিজে নিদোর্ষ প্রমাণের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে লক্ষ্য করে) জুরাইজ বলেন, হে বাবুস ! তোমার পিতা কে ? সে বলল, বকরীর অমুক রাখাল।

বুখারি হাদিস নং ১১৩৪ – সালাতের মধ্যে কংকর সরানো।

আবু নুআইম রহ……….মুআইকীব রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, যে সিজদার স্থান থেকে মাটি সমান করে। তিনি বলেন, যদি তোমার একান্তই করতে হয়, তাহলে একবার।

বুখারি হাদিস নং ১১৩৫ – সালাতে সিজাদর জন্য কাপড় বিছানো।

মুসাদ্দাদ রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করতাম। আমাদের কেউ মাটিতে তার চেহারা (কপাল) স্থির রাখতে সক্ষম না হলে সে তার কাপড় বিছিয়ে উহার উপর সিজদা করত।

বুখারি হাদিস নং ১১৩৬ – সালাতে যে কাজ জায়েয।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত আদায়কালে আমি তাঁর কিবলার দিকে পা ছড়িয়ে রাখতাম, তিনি সিজদা করার সময় আমাকে খোঁচা দিলে আমি পা সরিয়ে নিতাম; তিনি দাঁড়িয়ে গেলে আবার পা ছড়িয়ে দিতাম।

হাদীস নং ১১৩৭

মাহমুদ রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সালাত আদায় করার পর বললেন : শয়তান আমার সামনে এসে আমার সালাত বিনষ্ট করার জন্য আমার উপর আক্রমণ করল। তখন আল্লাহ পাক আমাকে তার উপর ক্ষমতা দান করলেন, আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরলাম। আমার ইচ্ছা হয়েছিল, তাকে কোন স্তম্ভের সাথে বেঁধে রাখি। যাতে তোমরা সকাল বেলা উঠে তাকে দেখতে পাও। তখন সুলাইমান আ.-এর দু’আ আমার মনে পড়ে গেল “ইয়া রব ! আমাকে এমন এক রাজ্য দান করুন যার অধিকারী আমার পরে আর কেউ না হয়”। তখন আল্লাহ তাকে (শয়তানকে) অপমাণিত করে দূর করে দিলেন। নযর ইবনে শুমাইল রহ. বলেন, فذعته শব্দটি ذالসহ অর্থাৎ তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরলাম এবং فدعته আল্লাহর কালাম يوم يدعون থেকে অর্থাৎ তাদেরকে ধাক্কা মেরে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সঠিক হল فدعته তবে ع ও ت অক্ষর দুটি তাশদীদ সহ পাঠ করেছেন।

হাদীস নং ১১৩৮

আদম রহ………আযরাক ইবনে কায়স রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আওয়াজ শহরে হারুরী (খারিজী) সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ছিলাম। যখন আমরা নহরের তীর ছিলাম তখন সেখানে এক ব্যক্তি এসে সালাত আদায় করতে লাগল আর তার বাহনের লাগাম তার হাতে রয়েছে। বাহনটি (ছুটে যাওয়ার জন্য) টানাটানি করতে লাগল, তিনিও তার অনুসরণ করতে লাগলেন। রাবী শুবা রহ. বলেন, তিনি ছিলেন (সাহাবী) আবুবারযাহ আসলামী রা. । এ অবস্থা দেখে এক খারিজী বলে উঠলো, ইয়া আল্লাহ! এ বৃদ্ধকে কিছু করুন। বৃদ্ধ সালাত শেষ করে বললেন, আমি তোমাদের কথা শুনেছি। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছয়, সাত কিংবা আট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং আমি তাঁর সহজীকরণ লক্ষ্য করেছি। আমার বাহনটির সাথে আগপিছ হওয়া বাহনটিকে তার চারণ ভূমিতে ছেড়ে দেওয়ার চাইতে আমার কাছে অধিক প্রিয়। কেননা, তাঁতে আমাকে কষ্টভোগ করতে হবে।

হাদীস নং ১১৩৯

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার সূর্যগ্রহণ হল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সালাতে) দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ সূরা পাঠ করলেন, এরপর রুকু করলেন, আর তা দীর্ঘ করলেন। তারপর রুকু সমাপ্ত করে সিজদা করলেন। দ্বিতীয় রাকাআতেও এরূপ করলেন। তারপর বললেন : এ দুটি (চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ) আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্যতম। তোমরা তা দেখলে গ্রহণ মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে। আমি আমার এ স্থানে দাঁড়িয়ে, আমাকে যা ওয়াদা করা হয়েছে তা সবই দেখতে পেয়েছি। এমন কি যখন তোমরা আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে দেখেছিলে তখন আমি দেখলাম যে, জান্নাতের একটি (আঙ্গুর) গুচ্ছ নেওয়ার ইচ্ছা করছি। আর যখন তোমরা আমাকে পিছনে সরে আসতে দেখেছিলে আমি দেখলাম জাহান্নাম সেখানে আমর ইবনে লুহাইকে যে সারিবাহ প্রথা প্রবর্তন করেছিল।

বুখারি হাদিস নং ১১৪০ – সালাতে থাকাবস্থায় থুথু ফেলা ও ফু দেওয়া।

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের কিবলার দিকে নাকের শ্লেষ্মা দেখতে পেয়ে মসজিদের লোকদের উপর রাগান্বিত হলেন এবং বললেন : আল্লাহ পাক তোমাদের প্রত্যেকের সামনে রয়েছেন, কাজেই তোমাদের কেউ সালাতে থাকাকালে থুথু ফেলবে না বা রাবী বলেছেন, নাক ঝাড়বে না। এ কথা বলার পর তিনি (মিম্বর থেকে) নেমে এসে নিজের হাতে তা ঘষে ঘষে পরিষ্কার করলেন। এবং ইবনে উমর রা. বলেন, তোমাদের কেউ যখন থুথু ফেলে তখন সে যেন তার বা দিকে ফেলে।

হাদীস নং ১১৪১

মুহাম্মদ রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের কেউ যখন সালাতে থাকে, তখন তো সে তার রবের সাথে নিবিড় আলাপে মশগুল থাকে। কাজেই সে যেন তার সামনে বা ডানে থুথু না ফেলে ; তবে (প্রয়োজনে) বাঁ দিকে বা পায়ের নীচে ফেলবে।

বুখারি হাদিস নং ১১৪২ – যে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত সালাতে হাতাতালি দেয় তার সালাত নষ্ট হয় না।

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ………..সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনে, সাহাবীগণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে সালাত আদায় করতেন এবং তাঁরা তাদের লুঙ্গি ছোট হওয়ার কারণে ঘাড়ের সাথে বেঁধে রাখতেন। তাই মহিলাগণকে বলা হল, পুরুষগণ সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত তোমরা (সিজদা থেকে) মাথা তুলবে না।

বুখারি হাদিস নং ১১৪৩ – সালাতে সালামের জবাব দিবে না।

আবদুল্লাহ ইবনে আবু শায়বাহ রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁর সালাত রত অবস্থায় সালাম করতাম। তিনি আমাকে সালামের জওয়াব দিতেন। আমরা (আবিসিনিয়া থেকে) ফিরে এসে তাকে (সালাতরত অবস্থায়) সালাম করলাম। তিনি জওয়াব দিলেন না এবং পরে বললেন : সালাতে অনেক ব্যস্ততা ও নিমগ্নতা রয়েছে।

হাদীস নং ১১৪৪

আবু মামার রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর একটি কাজে পাঠালেন, আমি গেলাম এবং কাজটি সেরে ফিরে এলাম। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাম করলাম। তিনি জওয়াব দিলেন না। এতে আমার মনে এমন খটকা লাগল যা আল্লাহই ভাল জানেন। আমি মনে মনে বললাম, সম্ভবত আমি বিলম্বে আসার কারণে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। আবার আমি তাকে সালাম করলাম, তিনি জওয়াব দিলেন না। ফলে আমার মনে প্রথম বারের চাইতেও অধিক খটকা লাগল। (সালাত শেষে)) আবার আমি তাকে সালাম করলাম।এবার তিনি সালামের জওয়াব দিলেন এবং বললেন : সালাতে ছিলাম বলে তোমার সালামের জওয়াব দিতে পারিনি। তিনি তখন তাঁর বাহনের পিঠে কিবলা থেকে ভিন্নমুখী ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১১৪৫ – কিছু ঘটলে সালাতে হাত তোলা।

কুতাইবা রহ………..সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ সংবাদ পৌঁছল যে, কুবায় বনু আমর ইবনে আওফ গোত্রে কোন ব্যাপার ঘটেছে। তাদের মধ্যে মীমাংসার উদ্দেশ্যে তিনি কয়েকজন সাহাবীসহ বেরিয়ে গেলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েন। ইতিমধ্যে সালাতের সময় হয়ে গেল। বিলাল রা. আবু বকর রা. -এর কাছে এসে বললেন, হে আবু বকর ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্মব্যস্ত রয়েছেন। এদিকে সালাতের সময় উপস্থিত। আপনি কি লোকদের ইমামতি করবেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি তুমি চাও। তখন বিলাল রা. সালাতের ইকামত বললেন এবং কাতার ফাঁক করে সামনে এগিয়ে গিয়ে কাতারে দাঁড়ালেন। মুসল্লীগণ তখন তাসফীহ করতে লাগলেন। সাহল রা. বলেন, তাসফীহ মানে তাসফীক (হাতে তালি দেওয়া) তিনি আরো বললেন, আবু বকর রা. সালাতে এদিক সেদিক তাকাতেন না। মুসল্লীগণ বেশী (হাত চাপড়াতে শুরু) করলে, তিনি লক্ষ্য করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেলেন। তিনি তাকে ইশারায় সালাত আদায় করার আদেশ দিলেন। তখন আবু বকর রা. তাঁর দুহাত তুললেন এবং আল্লাহর হামদ বর্ণনা করলেন। তারপর পিছু হেটে পিছনে চলে এসে কাতারে দাঁড়ালেন। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে এগিয়ে গেলেন এবং মুসল্লীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে তিনি মুসল্লীগণের দিকে মুখ করে বললেন : হে লোক সকল ! তোমাদের কি হয়েছে ? সালাতে কোন ব্যাপার ঘটলে তোমরা হাত চাপড়াতে শুরু কর কেন ? হাত চাপড়ানো তো মেয়েদের জন্য। সালাত রত অবস্থায় কারো কিছু ঘটলে পুরুষরা সুবহানাল্লাহ বলবে। তারপর তিনি আবু বকর রা. -এর দিকে লক্ষ্য করে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবু বকর ! তোমাকে আমি ইশারা করা সত্ত্বেও কিসে তোমাকে সালাত আদায়ে বাঁধা দিল ? আবু বকর রা. বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা ইবনে আবু কুহাফার জন্য সংগত নয়।

তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১১৪৬ – সালাতে কোমরে হাত রাখা।

আবু নুমান রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সালাতে কোমরে হাত রাখা নিষেধ করা হয়েছে। হিশাম ও আবু হিলাল রহ. ইবনে সীরীন রহ.-এর মাধ্যমে আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাদীস নং ১১৪৭

আমর ইবনে আলী রহ…….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোমরে হাত রেখে সালাত আদায় করতে লোকদের নিষেধ করা হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ১১৪৮ – সালাতে মুসল্লীর কোন বিষয় চিন্তা করা।

ইসাহক ইবনে মানসুর রহ……….উকবা ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আসরের সালাত আদায় করলাম। সালাম করেই তিনি দ্রুত উঠে তাঁর কোন এক সহধর্মিণীর কাছে গেলেন, এরপর বেরিয়ে এলেন। তাঁর দ্রুত যাওয়া আসার ফলে (উপস্থিত) সাহাবীগণের চেহারায় বিস্ময়ের আভাস দেখে তিনি বললেন : সালাতে আমার কাছে রাখা একটি সোনার টুকরার কথা আমার মনে পড়ে গেল। সন্ধ্যায় বা রাতে তা আমার কাছে থাকবে আমি এটা অপছন্দ করলাম। তাই তা বন্টন করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ছিলাম।

হাদীস নং ১১৪৯

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ…….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সালাতের আযান হলে শয়তান পিঠ ফিরিয়ে পালায় যাতে সে আযান শুনতে না পায়। তখন তার পশ্চাদ-বায়ু নিঃসরণ হতে থাকে। মুআযযিন আযান শেষে নিরব হলে সে আবার এগিয়ে আসে। আবার ইকামত বলা হলে পালিয়ে যায়। মুআযযিন (ইকামত) শেষ করলে এগিয়ে আসে। তখন সে মুসল্লীকে বলতে থাকে, (ওটা) স্মরণ কর, যে বিষয় তার স্মরণে ছিল না শেষ পর্যন্ত সে কত রাকাআত সালাত আদায় করল তা মনে করতে পারে না। আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান রহ. বলেছেন, তোমাদের কেউ এরূপ অবস্থায় পড়লে (শেষ বৈঠকে) বসা অবস্থায় যেন দুটি সিজদা করে। একথা আবু সালামা রা. আবু হুরায়রা রা. থেকে শুনেছেন।

হাদীস নং ১১৫০

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু হুরায়রা রা বেশী হাদীস বর্ণনা করেছে। এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত হলে আমি জিজ্ঞাসা করলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গতরাতে ইশার সালাতে কোন সূরা পড়েছেন ? লোকটি বলল, আমি জানি না। আমি বললাম, কেন, তুমি কি সে সালাতে উপস্থিত ছিলে না ? সে বলল, হ্যাঁ, ছিলাম। আমি বললাম, কিন্তু আমি জানি তিনি অমুক অমুক সূরা পড়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ১১৫১ – ফরয সালাতে দু’রাকাআতের পর দাঁড়িয়ে পড়লে সিজাদায়ে সাহু প্রসঙ্গে।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে বুহায়না রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সাললাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’রাকাআত আদায় করে না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। মুসল্লীগণ তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলেন। যখন তাঁর সালাত সমাপ্ত করার সময় হল এবং আমরা তাঁর সালাম ফিরানোর অপেক্ষা করছিলাম, তখন তিনি সালাম ফিরানোর আগে তাকবীর বলে বসে বসেই দুটি সিজদা করলেন। তারপর সালাম ফিরালেন।

হাদীস নং ১১৫২

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে বুহায়না রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের দু’রাকাআত আদায় করে দাঁড়িয়ে গেলেন। দু’রাকাআতের পর তিনি বসলেন না। সালাত শেষ হয়ে গেলে তিনি দুটি সিজদা করলেন এবং এরপর সালাম ফিরালেন।

বুখারি হাদিস নং ১১৫৩ – সালাত পাঁচ রাকাআত আদায় করলে।

আবুল ওয়ালীদ রহ…………আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত পাঁচ রাকাআত আদায় করলেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, সালাত কি বৃদ্ধি করা হয়েছে ? তিনি বললেন, এ প্রশ্ন কেন ? (প্রশ্নকারী) বললেন, আপনি তো পাঁচ রাকাআত সালাত আদায় করেছেন। এরপর সালাম ফিরানোর পর দুটি সিজদা করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১১৫৪ – দ্বিতীয় বা তৃতীয় রাকাআতে সালাম ফিরিয়ে নিলে সালাতের সিজদার ন্যায় তার চাইতে দীর্ঘ দুটি সিজদা করা।

আদম রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে যুহর বা আসরের সালাত আদায় করলেন এবং সালাম ফিরালেন। তখন যুল-ইয়াদাইন রা. তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সালাত কি কম হয়ে গেল ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে জিজ্ঞাসা করলেন, সে যা বলছে, তা কি ঠিক ? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি আরও দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। পরে দুটি সিজদা করলেন। সাদ রা. বলেন, আমি উরওয়া ইবনে যুবাইর রা. কে দেখেছি, তিনি মাগরিবের দু’রাআত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন এবং কথা বললেন। পরে অবশিষ্ট সালাত আদায় করে দুটি সিজদা করলেন। এবং বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১১৫৫ – সিজদায়ে সাহুর পর তাশাহুদ না পড়লে।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’রাকাআত আদায় করে সালাত শেষ করলেন। যুল-ইয়াদাইন রা. তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সালাত কি কম করে দেওয়া হয়েছে, না কি আপনি ভুলে গেছেন ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, যুল-ইয়াদাইন কি সত্য বলেছে ? মুসল্লীগণ বললেন, হ্যাঁ। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে আরও দু’রাকাআত সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি সালাম ফিরালেন এবং তাকবীর বললেন, পরে সিজদা করলেন, স্বাভাবিক সিজদার মত বা তার চেয়ে দীর্ঘ। এরপর তিনি মাথা তুললেন।

হাদীস নং ১১৫৬

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….সালামা ইবনে আলকামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ (ইবনে সীরীন) রহ. কে জিজ্ঞাসা করলাম সিজদায়ে সাহুর পর তাশাহুদ আছে কি ? তিনি বললেন, আবু হুরায়রা রা.এর হাদীসে তা নেই।

বুখারি হাদিস নং ১১৫৭ – সিজদায়ে সাহুতে তাকবীর বলা।

হাফস ইবনে উমর রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিকালের কোন এক সালাত দু’রাকাআত আদায় করে সালাম ফিরালেন। মুহাম্মদ রহ. বলেন, আমার প্রবল ধারণা, তা ছিল আসরের সালাত। তারপর মসজিদের একটি কাষ্ঠ খণ্ডের কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং উহার উপর হাত রাখলেন। মুসল্লীগণের ভিতরে সামনের দিকে আবু বকর রা. ও উমর রা.ও ছিলেন। তাঁরা উভয়ে তাঁর সাথে কথা বলতে ভয় পাচ্ছিলেন। তাড়াহুড়া-কারী মুসল্লীগণ বেরিয়ে পড়লেন। তাঁরা বলাবলি করতে লাগলেন, সালাত কি কমিয়ে দেয়া হয়েছে ? কিন্তু এক ব্যক্তি, যাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-ইয়াদাইন বলে ডাকতেন, জিজ্ঞাসা করল আপনি কি ভুলে গেছেন, না কি সলাত কমিয়ে দেওয়া হয়েছে ? তিনি বললেন : আমি ভুলিনি আর সালাতও কম করা হয়নি। তখন তিনি দু’রাকাআত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। তারপর তাকবীর বলে সিজদা করলেন, স্বাভাবিক সিজদার ন্যায় বা তার চেয়ে দীর্ঘ। তারপর মাথা উঠিয়ে আবার তাকবীর বলে মাথা রাখলেন, অর্থাৎ তাকবীর বলে সিজদায় গিয়ে স্বাভাবিক সিজদার মত অথবা তার চাইতে দীর্ঘ সিজদা করলেন। এরপর মাথা উঠিয়ে তাকবীর বললেন।

হাদীস নং ১১৫৮

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে বুহাইনা আসাদী রা. যিনি বনূ আবদুল মুত্তালিবের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তিবদ্ধ ছিলেন তাঁর থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাতে (দু’রাকাআত আদায় করার পর) না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। সালাত পূর্ণ করার পর সালাম ফিরাবার আগে তিনি বসা অবস্থায় ভুলে যাওয়া বৈঠকের স্থলে দু’টি সিজদা সম্পূর্ণ করলেন, প্রতি সিজদায় তাকবীর বললেন। মুসল্লীগণও তাঁর সঙ্গে এ দুটি সিজদা করল। ইবনে শিহাব রহ. থেকে তাকবীরের কথা বর্ণনায় ইবনে জুরাইজ রহ. লায়স রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১১৫৯ – সালাত তিন রাকাআত আদায় করা হল না কি চার রাকাআত, তা মনে করতে না পারলে বসা অবস্থায় দুটি সিজদা করা।

মুআয ইবনে ফাযালা রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যখন সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন শয়তান পিঠ ফিরিয়ে পালায় যাতে আযান শুনতে না পায় আর তার পশ্চাদ-বায়ু সশব্দে নির্গত হতে থাকে। আযান শেষ হয়ে গেলে সে এগিয়ে আসে। আবার সালাতের জন্য ইকামত দেওয়া হলে সে পিঠ ফিরিয়ে পালায়। ইকামত শেষ হয়ে গেলে আবার ফিরে আসে। এমন কি সে সালাত রত ব্যক্তির মনে ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করে এবং বলতে থাকে, অমুক অমুক বিষয় স্মরণ কর, যা তার স্মরণে ছিল না। এভাবে সে ব্যক্তি কত রাকাআত সালাত আদায় করেছে তা স্মরণ করতে পারে না । তাই, তোমাদের কেউ তিন রাকাআত বা চার রাকাআত সালাত আদায় করেছে, তা মনে রাখতে না পারলে বসা অবস্থায় দুটি সিজদা করবে।

বুখারি হাদিস নং ১১৬০ – ফরয ও নফল সালাতে ভুল হলে।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়ালে শয়তান এসে তাকে সন্দেহে ফেলে, এমনকি সে বুঝতে পারে না যে, সে কত রাকাআত সালাত আদায় করেছে। তোমাদের কারো এ অবস্থা হলে সে যেন বসা অবস্থায় দুটি সিজদা করে।

বুখারি হাদিস নং ১১৬১ – সালাতে থাকা অবস্থায় কেউ তার সংগে কথা বললে এবং তা শুনে যদি সে হাত দিয়ে ইশারা করে।

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………কুরাইব রহ. থেকে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস রা. মিসওয়ার ইবনে মাখরামা এবং আবদুর রহমান ইবনে আযহার রা. তাকে আয়িশা রা.-এর কাছে পাঠালেন এবং বলে দিলেন, তাকে আমাদের সকলের তরফ থেকে সালাম পৌঁছিয়ে আসরের পরের দু’রাকাআত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। তাকে একথাও বলবে যে, আমরা খবর পেয়েছি যে, আপনি সে দু’রাকাআত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ইবনে আব্বাস রা. সংবাদ আরও বললেন যে, আমি উমর ইবনে খাত্তাব রা.-এর সাথে এ সালাতের কারণে লোকদের মারধোর করতাম। কুরাইব রহ. বলেন, আমি আয়িশা রা.-এর কাছে গিয়ে তাকে তাদের পয়গাম পৌঁছিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, উম্মে সালামা রা.-কে জিজ্ঞাসা কর। (কুরাইব রহ. বলেন) আমি সেখান থেকে বের হয়ে তাদের কাছে গেলাম এবং তাদেরকে আয়িশা রা. -এর কথা জানালাম। তখন তাঁরা আমাকে আয়িশা রা.-এর কাছে যে বিষয় নিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তা নিয়ে পুনরায় উম্মে সালামা রা.-এর কাছে পাঠালেন। উম্মে সালামা রা. বললেন, আমিও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা নিষেধ করতে শুনেছি। অথচ তারপর তাকে তা আদায় করতেও দেখেছি। একদিন তিনি আসরের সালাতের পর আমার ঘরে তাশরীফ আনলেন। তখন আমার কাছে বনূ হারাম গোত্রের আনসারী কয়েকজন মহিলা উপস্থিত ছিলেন। আমি বাদীকে এ বলে তার কাছে পাঠালাম যে, তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে তাকে বলবে, উম্মে সালামা রা. আপনার কাছে জানতে চেয়েছেন, আপনাকে (আসরের পর সালাতের) দু’রাকাআত নিষেধ করতে শুনেছি ; অথচ দেখছি, আপনি তা আদায় করছেন ? যদি তিনি হাত দিয়ে ইশারা করেন, তাহলে পিছনে সরে থাকবে, বাদী তা-ই করল। তিনি ইশারা করলেন, সে পিছনে সরে থাকল। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, হে আবু উমায়্যার কন্যা ! আসরের পরের দু’রাকাআত সালাত সম্পর্কে তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছ । আবদুল কায়স গোত্রের কিছু লোক আমার কাছে এসেছিল। তাদের কারণে যুহরের পরের দু’রাকাআত আদায় করা থেকে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। এ দু’রাকাআত সে দু’রাকাআত।

বুখারি হাদিস নং ১১৬২ – সালাতের মধ্যে ইশারা করা।

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..সাহল ইবনে সাদ সাঈদী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সংবাদ পৌঁছে যে, বনূ আমর ইবনে আওফ -এ কিছু ঘটেছে। তাদের মধ্যে আপোস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি কয়েকজন সাহাবীসহ বেরিয়ে গেলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েন। ইতিমধ্যে সালাতের সময় হয়ে গেল। বিলাল রা. আবু বকর রা.-এর কাছে এসে বললেন, হে আবু বকর ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এদিকে সালাতের সময় হয়ে গিয়েছে, আপনি কি সালাতে লোকদের ইমামতি করতে প্রস্তুত আছেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি তুমি চাও। তখন বিলাল রা. ইকামত বললেন এবং আবু বকর রা. সামনে এগিয়ে গিয়ে লোকদের জন্য তাকবীর বললেন। এদিকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ আনলেন এবং কাতারের ভিতর দিয়ে হেটে (প্রথম) কাতারে এসে দাঁড়িয়ে গেলেন। মুসল্লীগণ তখন হাততালি দিতে লাগলেন। আবু বকর রা. -এর অভ্যাস ছিল যে, সালাতে এদিক সেদিক তাকাতেন না। মুসল্লীগণ যখন অধিক পরিমাণে হাততালি দিতে লাগলেন, তখন তিনি সেদিকে তাকালেন এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইশারা করে সালাত আদায় করতে থাকার নির্দেশ দিলেন। আবু বকর রা. দু’হাত তুলে আল্লাহর হামদ বর্ণনা করলেন এবং পিছনের দিকে সরে গিয়ে কাতারে দাঁড়ালেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে এগিয়ে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে মুসল্লীগণের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, হে লোক সকল ! তোমাদের কি হয়েছে, সালাতে কোন ব্যাপার ঘটলে তোমরা হাততালি দিতে থাক কেন ? হাততালি তে মেয়েদের জন্য। কারো সালাতের মধ্যে কোন সমস্যা দেখা দিলে সে যেন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে। কারণ, কেউ অন্যকে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলতে শুনলে অবশ্যই সেদিকে লক্ষ্য করবে। তারপর তিনি বললেন, হে আবু বকর ! তোমাকে আমি ইশারা করা সত্ত্বেও কিসে তোমাকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বাধা দিল ? আবু বকর রা. বললেন, কুহাফার ছেলের জন্য এ সমীচীন নয় যে, সে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে।

হাদীস নং ১১৬৩

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ……….আসমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রা.-এর কাছে গেলাম, তখন তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, আর লোকেরাও সালাতে দাঁড়ানো ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, লোকদের অবস্থা কি? তখন তিনি তাঁর মাথা দ্বারা আকাশের দিকে ইশারা করলেন। আমি বললাম, ইহা কি নিদর্শন ? তিনি আবার তাঁর মাথার ইশারায় বললেন, হ্যাঁ।

হাদীস নং ১১৬৪

ইসমাঈল রহ……… নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অসুস্থ অবস্থায় তাঁর ঘরে বসে সালাত আদায় করছিলেন । একদল সাহাবী তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। তিনি তাদের প্রতি ইশারা করলেন, বসে যাও। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুসরণ করার জন্য। কাজেই তিনি রুকু করলে তোমরা রুকু করবে; আর তিনি মাথা তুললে তোমরাও মাথা তুলবে।

তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
তাহাজ্জুদ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

মন্তব্য করুন