তালাক অধ্যায় পার্ট ৩। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

তালাক অধ্যায় পার্ট ৩

তালাক অধ্যায় পার্ট ৩। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

তালাক অধ্যায় পার্ট ৩। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪৮৯৭-৪৯৫৯

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৪০ | 4940 | ٤۹٤۰

পরিচ্ছদঃ ২০৮০. ফাতিমা বিনত কায়েসের ঘটনা এবং মহান আল্লাহর বাণীঃ আর তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্কে ভয় কর, তোমরা তাদের বাসগৃহ থেকে বহিষ্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয়, যদি না তারা স্পষ্ট অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়ে।

এসব আল্লাহর বিধান; যে আল্লাহর বিধান লংঘন করে, সে নিজেরই উপর অত্যাচার করে। তুমি জাননা, হয়ত আল্লাহ্ এরপর উপায় করে দেবেন …… আর তোমরা নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী যে স্থানে বাস কর, তাদেরকে সে স্থানে বাস করতে দাও ….. আল্লাহ্ কষ্টের পর শান্তি দিবেন। (সুরা তালাকঃ ১-৭)

৪৯৪০। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ফাতিমার কি হল? সে কেন আল্লাহকে ভয় করছেনা অর্থাৎ তার এ কথায় যে, তালাকপ্রাপ্তা নারী (তার স্বামীর থেকে) খাদ্য ও বাসস্থান কিছুই পাবে না।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৪১ | 4941 | ٤۹٤۱

পরিচ্ছদঃ ২০৮০. ফাতিমা বিনত কায়েসের ঘটনা এবং মহান আল্লাহর বাণীঃ আর তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্কে ভয় কর, তোমরা তাদের বাসগৃহ থেকে বহিষ্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয়, যদি না তারা স্পষ্ট অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়ে।

এসব আল্লাহর বিধান; যে আল্লাহর বিধান লংঘন করে, সে নিজেরই উপর অত্যাচার করে। তুমি জাননা, হয়ত আল্লাহ্ এরপর উপায় করে দেবেন …… আর তোমরা নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী যে স্থানে বাস কর, তাদেরকে সে স্থানে বাস করতে দাও ….. আল্লাহ্ কষ্টের পর শান্তি দিবেন। (সুরা তালাকঃ ১-৭)

৪৯৪১। আমর ইবনু আব্বাস (রহঃ) … কাসিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উরওয়া ইবনু যুবায়র (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাস করলঃ আপনি কি জানেন না, হাকামের কন্যা অমুককে তার স্বামী তিন তালাক দিলে, সে (তার পিতার ঘরে) চলে গিয়েছিল।

তিনি বললেনঃ সে মন্দ কাজ করেছে। উরওয়া বললঃ আপনি কি তার কথা শুনেন নি? তিনি বললেনঃ এ হাদীস বর্ণনায় তার কোন কল্যান নেই।

ইবনু আবূ যিনাদ হিশাম সুত্রে তার (হিশামের) পিতা থেকে আরও বর্ণনা করেন যে, আয়িশা (রাঃ) এ কথাকে অত্যন্ত দোষনীয় মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, ফাতিমা একটি ভীতিকর স্থানে থাকত, তার উপর আশংকা থাকায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (স্থান পরিবর্তনের) অনুমতি প্রদান করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৪২ | 4942 | ٤۹٤۲

পরিচ্ছদঃ ২০৮১. স্বামীর গৃহে অবস্থান করায় যদি তালাকপ্রাপ্তা নারী তার স্বামীর পরিবারের লোকজনদের গালমন্দ দেয়ার বা তার ঘরে চোর প্রবেশ করা ইত্যাদির আশংকা করে।

৪৯৪২। হিব্বান (রহঃ) … উরওয়া থেকে বর্ণিত যে আয়িশা (রাঃ) ফাতিমার কথাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তালাক অধ্যায় পার্ট ৩। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৪৩ | 4943 | ٤۹٤۳

পরিচ্ছদঃ ২০৮২. মহান আল্লাহর বাণীঃ তাদের জন্য গোপন করা বৈধ হবে না যা আল্লাহ্ তাদের জরায়ুতে সৃষ্টি করেছেন, হায়েয হোক বা গর্ভ সঞ্চার হোক।

৪৯৪৩। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ (হজ শেষে) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রওয়ানা হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন সাফিয়্যা (রাঃ) বিষন্ন অবস্থায় স্বীয় তাবুর দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন।

তিনি তাকে বললেনঃ মহা সমস্যা তো, তুমি তো আমাদের আটকিয়ে রাখবে। আচ্ছা তুমি কি তাওয়াফে যিয়ারত করেছ? তিনি বললেনঃহ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তা হলে এখন চলো।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৪৪ | 4944 | ٤۹٤٤

পরিচ্ছদঃ ২০৮৩. মহান আল্লাহর বাণীঃ তালাকপ্রাপ্তাদের স্বামীরা (ইদ্দতের মধ্যে) তাদের ফিরিয়ে আনার অগ্রাধিকার রাখে এবং এক বা দু’তালাকের পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার পদ্ধতি সম্পর্কে।

৪৯৪৪। মুহাম্মদ (রহঃ) … হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মা’কাল তার বোনকে বিয়ে দিলে, তার স্বামী তাকে এক তালাক প্রদান করে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৪৫ | 4945 | ٤۹٤۵

পরিচ্ছদঃ ২০৮৩. মহান আল্লাহর বাণীঃ তালাকপ্রাপ্তাদের স্বামীরা (ইদ্দতের মধ্যে) তাদের ফিরিয়ে আনার অগ্রাধিকার রাখে এবং এক বা দু’তালাকের পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার পদ্ধতি সম্পর্কে।

৪৯৪৫। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) … হাসান (রহঃ) থেকে বর্নিত যে, মাকাল ইবনু ইয়াসারেব বোন এক ব্যাক্তির বিবাহাধীন ছিল। সে তাকে তালাক দিল।

পুনরায় ফিরিয়ে আনলোনা, এভাবে তার ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে সে আবার তার কাছে বিবাহের প্রস্তাব দেয়। মাকাল (রাঃ) ক্রোধান্বিত হলেন, তিনি বললেনঃ সময় সুযোগ থাকতে ফিরিয়ে নিল না, এখন আবার প্রস্তাব দিচ্ছে।

তিনি তাদের মাঝে (পুনর্বিবাহে) প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ালেন। এরপর আল্লাহ তাআলা এ আয়াতটি অবর্তীর্ন করেনঃ তোমরা যখন স্ত্রীকে তোমরা তালাক দাও এবং তারা তাদের ইদ্দত-কাল পূর্ন করে, তখন তারা নিজেদের স্বামীদেরকে বিবাহ করতে চাইলে তোমরা বাধা দিও না।

(বাকারাঃ ২৩২)। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকলেন এবং তার সামনে আয়াতটি পাঠ করলেন। তিনি তার জিদ পরিত্যাগ করে আল্লাহর আদেশের অনুসরণ করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৪৬ | 4946 | ٤۹٤٦

পরিচ্ছদঃ ২০৮৩. মহান আল্লাহর বাণীঃ তালাকপ্রাপ্তাদের স্বামীরা (ইদ্দতের মধ্যে) তাদের ফিরিয়ে আনার অগ্রাধিকার রাখে এবং এক বা দু’তালাকের পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার পদ্ধতি সম্পর্কে।

৪৯৪৬। কুতায়বা (রহঃ) … নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু উমর (রাঃ) তার স্ত্রীকে ঋতুমতী অবস্থায় এক তালাক দেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আদেশ দিলেন, তিনি যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনেন এবং মহিলা পবিত্র হয়ে পূনরায় ঋতুমতী হয়ে পরবর্তী পবিত্রাবস্থা আসা পর্যন্ত তাকে নিজের কাছে রাখেন।

পবিত্রাবস্থায় যদি তাকে তালাক দিতে চায় তবে দিতে পারেবে কিন্তু তা সংগমের পূর্বে হতে হবে। এটাই ইদ্দত, যে সময় তালাক দেয়ার জন্য আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন।

আবদুল্লাহকে ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তাদের বলেনঃ তুমি যদি তাকে তিন তালাক দিয়ে দাও। তবে মহিলা অন্য স্বামী গ্রহণ না করা পর্যন্ত তোমার জন্য হালাল হবে না।

অন্য বর্ননায় ইবনু উমর (রাঃ) বলতেন, তুনি যদি এক বা দু’ তালাক দিতে কেননা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এরুপই আদেশ দিয়েছেন।

তালাক অধ্যায় পার্ট ৩। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৪৭ | 4947 | ٤۹٤۷

পরিচ্ছদঃ ২০৮৪. ঋতুমতীকে ফিরিয়ে আনা
৪৯৪৭। হাজ্জাজ (রহঃ) … ইউনুস ইবনু জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমরকে (হায়েয অবস্থায় তালাক দেওয়া সম্পর্কে) জিজ্ঞাস করলাম।

তিনি বললেনঃ ইবনু উমব (রাঃ) তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিলে উমর (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন।

তিনি স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য তাকে আদেশ দেন। এরপর বলেনঃ ইদ্দতের সময় আসলে সে তালাক দিতে পারে। রাবী বলেন, আমি বললাম এ তালাক কি হিসাবে ধরা হবে? ইবনু উমর বললেনঃ তবে কি মনে করছ, যদি সে অক্ষম হন বা বোকামী করে। (তাহলে দায়ী কে?)।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৪৮ | 4948 | ٤۹٤۸

পরিচ্ছদঃ ২০৮৫. বিধবা নারী চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। যুহরী (র) বলেন, বিধবা কিশোরীর জন্য খোশবু ব্যবহার করা উচিত হবে না। কেননা, তাকেও ইদ্দত পালন করতে হবে।

৪৯৪৮। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … যায়নাব বিনত আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মীনী উম্মে হাবীবার পিতা আবূ সুফিয়ান ইবনু হারব (রাঃ) মূত্যুবরণ করলে আমি তাঁর কাছে উপস্থিত হই।

উম্মে হাবীবা (রাঃ) যাফরান ইত্যাদি মিশ্রিত হলদে রং এর খোশবু নিয়ে আসতে বললেন। তিনি এক বালিকাকে এ থেকে কিছু মাখলেন! এরপর তার নিজের চেহারার উভয় পাশে কিছু মাখলেন।

এরপর বললেনঃ আল্লাহর কসম! খোশবু ব্যবহার করার কোন প্রয়োজন আমার নেই। তবে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মহিলার জন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা বৈধ হবে না।

কিন্তু স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালন করতে পারবে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ তিন বার বললেন, না।

তিনি আরও বললেনঃ এতো মাত্র চার মাস দশ দিনের ব্যাপার। অথচ বর্বরতার যুগে এক এক মহিলা এক বছরের মাথায় বিষ্ঠা নিক্ষেপ করত। হুমায়দ বলেন, আমি যায়নাবকে জিজ্ঞাসা করলাম।

এক বছরের মাথায় বিষ্ঠা নিক্ষেপ করার অর্থ কি? তিনি বলেন, সে যুগে কোন মহিলার স্বামী মারা গেলে সে অতিক্ষুদ্র একটি কোঠায় প্রবেশ করতো এবং নিকৃষ্ট কাপড় পরিধান করত, কোন খোশবু ব্যবহার করতে পারত না।

এভাবে এক বছর অতিক্রান্ত হলে তার কাছে চতুষ্পদ জন্তু যথা গাধা, বকরী অথবা গাভী আনা হতো। আর সে তার গায়ে হাত বুলাতো। হাত বুলাতে বুলাতে অনেক সময় সেটা মারাও যেত।

এরপর সে (মহিলা বেরিয়ে আসতো। তাকে বিষ্ঠা দেয়া হতো এবং তা তাকে নিক্ষেপ করতে হতো। এরপর ইচ্ছা করলে সে খোশবু ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারতো। মালিক (রহঃ) কে تَفْتَض শব্দের অর্থ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ মহিলারা ঐ প্রানীর চামড়ায় হাত বুলাতো।

তালাক অধ্যায় পার্ট ৩। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৪৯ | 4949 | ٤۹٤۹

পরিচ্ছদঃ ২০৮৬. শোক পালনকারিণীর জন্য সুরমা ব্যবহার করা।
৪৯৪৯। আদম ইবনু আবূ ইয়াস (রহঃ) … উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্নিত আছে যে, জনৈক মহিলার স্বামী মৃত্যু বরণ করলে তার পরিবারের লোকেরা তার চক্ষুযুগল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা করল।

তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে তার সুরমা ব্যবহারের অনুমতি প্রার্থনা করল। তিনি বললেনঃ সুরমা ব্যবহার করতে পারবে না।

তোমাদের অনেকেই (জাহেলী যুগে) তার নিকৃষ্ট কাপড় বা নিকৃষ্ট ঘরে অবস্থান করত। যখন এক বছর অতিক্রান্ত হত আর কোন কুকুর সে দিকে যেত তখন সে বিষ্ঠা নিক্ষেপ করত।

কাজেই চারমাস দশ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যস্ত সুরমা বাবহার করতে পারবে না (বর্ণনাকারী বলেন) আমি যায়নাবকে উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মহিলার জন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা বৈধ নয়। তবে স্বামীর মৃত্যু হলে চারমাস দশদিন শোক পালন করবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৫০ | 4950 | ٤۹۵۰

পরিচ্ছদঃ ২০৮৬. শোক পালনকারিণীর জন্য সুরমা ব্যবহার করা।
৪৯৫০। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … মুহাম্মদ ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) বলেছেন, স্বামী ছাড়া অন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।

তালাক অধ্যায় পার্ট ৩। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৫১ | 4951 | ٤۹۵۱

পরিচ্ছদঃ ২০৮৭. তুহুর (পবিত্রতা) এর সময় শোক পালনকারিণীর জন্য কুস্ত (চন্দন কাঠ) খোশবু ব্যবহার করা।
৪৯৫১। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওহাব (রহঃ) … উম্মে আতিয়্যা থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেনঃ আমাদেরকে নিষেধ করা হত, আমরা যেন কারো মৃত্যুতে তিন দিনের অধিক শোক পালননা করি। তবে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালন করতে হবে এবং আমরা যেন সুরমা খোশবু ব্যবহার না করি আর রঙীন কাপড় যেন পরিধান না করি তবে হালকা রঙের হলে দোষ নেই।

আমাদেরকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, আমাদের কেউ যখন হায়েয শেষে গোসল করে পবিত্র হয় তখন সে (দুর্গন্ধ দুরকরনার্থে) আযফার নামক স্থানের কুস্ত (সুগন্ধি) ব্যবহার করতে পারে। তাছাড়া আমাদেরকে জানাযার পিছে পিছে যেতে নিষেধ করা হতো।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৫২ | 4952 | ٤۹۵۲

পরিচ্ছদঃ ২০৮৮. শোক পালনকারিণী রং করা সুতার কাপড় ব্যবহার করতে পারে।
৪৯৫২। ফাযল ইবনু দুকায়ন (রহঃ) … উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মহিলার জন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ হবে না।

তবে স্বামীর ব্যাপার ভিন্ন। আবার সুরমা ও রঙিন কাপড়ও ব্যবহার করতে পারবে না। তবে সুতাগুলো একত্রে বেঁধে হালকা রং লাগিয়ে পরে তা দিয়ে কাপড় বুনলে তা ব্যবহার করা যাবে।

আনসারী (রহঃ) … উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন শোক পালন কারিনা যেন সুগন্ধি ব্যবহার না করে। তবে হায়েয থেকে পবিত্র হওয়া কালে (দুর্গন্ধ দূরকরণার্থে) “কুস্ত” ও “আযফার” সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৫৩ | 4953 | ٤۹۵۳

পরিচ্ছদঃ ২০৮৯. (মহান আল্লাহর বাণী) তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তাদের স্ত্রীরা চার মাস দশ দিন প্রতীক্ষায় থাকবে। যখন তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করবে, তখন যথাবিধি নিজেদের জন্য যা করবে তাতে তোমাদের কোন অপরাধ নাই। তোমরা যা কর সে সমবন্ধে আল্লাহ্ সবিশেষ অবহিত।

৪৯৫৩। ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) … মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বানীঃ “তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়” তিনি এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, স্বামীর বাড়ীতে অবস্থান করে এ ইদ্দত পালন করা মহিলার জন্য ওয়াজিব ছিল।

পরে মহান আল্লাহ নাযিল করেনঃ তোমাদের মধ্য স্বপত্নীক অবস্থায় যাদের মূত্যু আসন্ন তারা যেন তাদের স্ত্রীদেরকে গৃহ থেকে বহিষ্কার না করে তাদের এক বছরের ভরন-পোষনের ওসিয়্যত করে।

কিন্তু যদি তারা বের হয়ে যায় তবে বিধিমত নিজেদের জন্য তারা যা করবে তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। (আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়)। মুজাহিদ বলেনঃ আল্লাহ তাআলা সাত মাস বিশ দিনকে তার জন্য পূর্ণ বছর সাব্যস্ত করেছেন।

মহিলা ইচ্ছা করলে ওসিয়্যত অনুসারে থাকতে পারে, আবার চাইলে চলেও যেতে পারে। একথাই আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ “বহিষ্কার না করে, তবে যদি সেচ্ছায় বের হয়ে যায় তবে তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই তাই মহিলার উপরইদ্দত পালন করা যথারীতি ওয়াজিবই আছে।

আবূ নাজীহ এ কথাগুলো মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আতা বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ আর আয়াতটি স্বামীর বাড়ীতে ইদ্দত পালন করার হুকুমকে রহিত করে দিয়েছে।

অতএব সে যেখানে ইচ্ছা ইদ্দত পালন করতে পারে। আতা বলেনঃ ইচ্ছা হলে ওসিয়্যত অনুযায়ী সে স্বামীর পরিবারে অবস্থান করতে পারে। আবার ইচ্ছা হলে অন্যত্রও ইদ্দত পালন করতে পাবে।

কেননা, মহান আল্লাহ বলেছেনঃ তারা নিজেদের জন্য বিধিমত যা করবে, তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। আতা বলেন- এরপর মিরাসের আয়াত নায়িল হলে বাসস্থান দেওয়ার হুকুমও রহিত হয়ে যায়। এখন সে যেখানে মনে চায় ইদ্দত পালন করতে পারে, তাকে বাসস্থান দেওয়া জরুরী নয়।

তালাক অধ্যায় পার্ট ৩। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৫৪ | 4954 | ٤۹۵٤

পরিচ্ছদঃ ২০৮৯. (মহান আল্লাহর বাণী) তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তাদের স্ত্রীরা চার মাস দশ দিন প্রতীক্ষায় থাকবে। যখন তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করবে, তখন যথাবিধি নিজেদের জন্য যা করবে তাতে তোমাদের কোন অপরাধ নাই। তোমরা যা কর সে সমবন্ধে আল্লাহ্ সবিশেষ অবহিত।

৪৯৫৪। মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) … উম্মে হাবীবা বিনত আবূ সুফিয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। যখন তার কাছে পিতার মৃত্যু সংবাদ পৌছালো, তখন তিনি সুগন্ধি আনিয়ে তার উভয় হাতে লাগালেন এবং বললেনঃ সুগন্ধি লাগানোর কোন প্রয়োজন আমার নেই।

কিন্তু সেহেতু আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মহিলার জন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ হবে না। তবে স্বামীর মৃত্যুতে চারমাস দশদিন শোক পালন করতে হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৫৫ | 4955 | ٤۹۵۵

পরিচ্ছদঃ ২০৯০. বেশ্যার উপার্জন ও অবৈধ বিবাহ। হাসান (র) বলেছেন, যদি কেউ অজান্তে কোন মুহাররাম মহিলাকে বিয়ে করে ফেলে, তবে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। মহিলা নির্দিষ্ট মোহর ছাড়া অন্য কিছু পাবে না। তিনি পরবর্তীতে বলেছেন, সে মোহরে মিসাল পাবে।

৪৯৫৫। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, গনকের পারিশ্রমিক এবং বেশ্যার উপার্জন গ্রহন করতে নিষেধ করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৫৬ | 4956 | ٤۹۵٦

পরিচ্ছদঃ ২০৯০. বেশ্যার উপার্জন ও অবৈধ বিবাহ। হাসান (র) বলেছেন, যদি কেউ অজান্তে কোন মুহাররাম মহিলাকে বিয়ে করে ফেলে, তবে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। মহিলা নির্দিষ্ট মোহর ছাড়া অন্য কিছু পাবে না। তিনি পরবর্তীতে বলেছেন, সে মোহরে মিসাল পাবে।

৪৯৫৬। আদম (রহঃ) … আবূ জুহায়ফা (রাঃ) এর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন উল্কি অংকনকারিনা উল্কি গ্রহণকারিনা, সুদ গ্রহিতা ও সুদ দাতাকে।

তিনি কুকুরের মূল্য ও বেশ্যার উপার্জন ভোগ করতে নিষেধ করেছেন। চিত্রকরদেরকেও তিনি অভিসম্পাত করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৫৭ | 4957 | ٤۹۵۷

পরিচ্ছদঃ ২০৯০. বেশ্যার উপার্জন ও অবৈধ বিবাহ। হাসান (র) বলেছেন, যদি কেউ অজান্তে কোন মুহাররাম মহিলাকে বিয়ে করে ফেলে, তবে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। মহিলা নির্দিষ্ট মোহর ছাড়া অন্য কিছু পাবে না। তিনি পরবর্তীতে বলেছেন, সে মোহরে মিসাল পাবে।

৪৯৫৭। আলী ইবনু জাদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। অবৈধ পন্থার মাধ্যমে দাসীর উপার্জিত অর্থ ভোগ করতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৫৮ | 4958 | ٤۹۵۸

পরিচ্ছদঃ ২০৯১. নির্জনবাসের পরে মোহরের পরিমাণ, অথবা নির্জনবাস ও স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিলে স্ত্রীর মোহর এবং কিভাবে নির্জনবাস প্রমাণিত হবে সে প্রসঙ্গে।

৪৯৫৮। আমর ইবনু যুরারা (রহঃ) … সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমরকে জিজ্ঞাসা করলামঃ যদি কেউ তার স্ত্রীকে অপবাদ দেয়? তিনি বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজলান গোত্রের এক দম্পতির বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেন।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ জানে তোমাদের দু’ জনের একজন অবশ্যই মিথ্যাবাদী। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কেউ কি তাওবা করতে রাযী আছ? তারা উভয়ে অস্বীকার করল।

তিনি পুনরায় বললেনঃ আল্লাহ অবহিত আছেন তোমাদের একজন অবশ্যই মিথ্যাবাদী। কাজেই তোমাদের মধ্যে কে তাওবা করতে রাযী আছ? তারা কেউ রাযী হল না। এরপর তিনি তাদেরকে পৃথক করে দেন।

আইয়্যুব বলেনঃ আমর ইবনু দীনার আমাকে বললেন, এই হাদীসে আরো কিছু কথা আছে, আমি তা তোমাকে বর্ণনা করতে দেখছি না।

রাবী বলেন, লোকটি তখন বললঃ আমার মাল (স্ত্রীকে প্রদত্ত মোহর) ফিরে পাব না? তিনি বললেনঃ তুমি কোন মাল পাবে না। যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবুওতো তুমি তার সাথে সংগম করেছ। আর যদি মিথ্যাবাদী হও, তাহলে তো কোন প্রশ্নই আসে না।

তালাক অধ্যায় পার্ট ৩। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪৯৫৯ | 4959 | ٤۹۵۹

পরিচ্ছদঃ ২০৯২. তালাকপ্রাপ্তা নারীর যদি মোহর নির্ণিত না হয় তাহলে সে মুত‘আ পাবে। কারণ মহান আল্লাহ্ বলেছেনঃ তোমরা নিজেদের স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করা কিংবা তাদের জন্য মোহর ধার্য করার পূর্বে তালাক দিলে তোমাদের কোন পাপ নেই।

তোমরা তাদের সংস্থানের ব্যবস্থা করো। বিত্তবান তার সাধ্যমত এবং বিত্তহীন তার সামর্থ্যানুযায়ী ….. তোমরা যা কর আল্লাহ্ সে সব দেখেন। আল্লাহ্ আরও বলেছেনঃ তালাকপ্রাপ্তা নারীদেরকে প্রথমত কিছু দেওয়া মুত্তাকীদের কর্তব্য।

আর লি’আনকারিণীকে তার স্বামী তালাক দেওয়ার সময় নবী (সাঃ) তার জন্য মুত‘আর কিছু দিয়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেননি।

৪৯৫৯। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লিআনকারী স্বামী-স্ত্রীকে বলেছিলেন, আল্লাহ তোমাদের হিসাব গ্রহণ করবেন।

তোমাদের একজন মিথ্যুক। তার (মহিলার) ওপর তোমার কোন অধিকার নেই। সে বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার মাল? তিনি বললেনঃ তোমার কোন মাল নাই।

তুমি যদি সত্যই বলে থাক, তাহলে এ মাল তার লজাস্থানকে হালাল করার বিনিময়ে হবে। আর যদি মিথ্যা বলে থাক, তবে এটা চাওয়া তোমার জন্য একান্ত অনুচিত।

আরও পড়ুনঃ

অংশীদারিত্ব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

জুলুম ও কিসাস অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

কলহ-বিবাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

তালাক

মন্তব্য করুন